Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

আবূ তালহা আনসারী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে আপ্যায়ন

আবূ তালহা আনসারী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে আপ্যায়ন

তিনি নিজেকে নবী করীম (না)-এর উপযুক্ত ভাবলেন না ৷ তিনি বললেন, তার চেয়ে বরং
আপনার পছন্দের কারো সাথে আমার বিবাহ কাি ৷ তখন তিনি হযরত যায়দের সাথে তার
বিবাহ দিলেন এবং মােহরানা স্বরুপ তাকে তিরিশ সা (বব) প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং
বললেন, তা থেকে তোমরা খেতে থাক, মাপামাপি করো না ৷ আর তার সাথে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর জন্য হাদিয়া স্বরুপ একটি ঘিয়ের বয়াম ছিল ৷ তখন তিনি তার পরিচারিকাকে
নির্দেশ দিলেন তা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে পৌছিয়ে দিতে ৷ এরপর বয়ামটি খালি করা হল
এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার মুখ না বেধে তা ঝুলিয়ে রাখতে নির্দেশ দিলেন ৷ এরপর উম্মু
শুরায়ক এসে সেই পাত্রটিকে পুর্ণ দেখতে পেয়ে তার পরিচারিকাকে বললেন, আমি কি
তোমাকে তা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে পৌছিয়ে দিতে বলিনি ? তখন সে বলল, আমি তা
পৌছিয়ে দিয়েছি ৷ এরপর তারা বিষয়টি নবীজীর কাছে উল্লেখ করলে তিনি তাদেরকে তার মুখ
না বাধার নির্দেশ দিলেন, এভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর উম্মু শুরায়ক তার মুখ র্বড়াধলেন,
এরপর তারা সেই যব মেপে দেখলেন, তা ত্রিশ সা’ই রয়েছে, একটুওহ্রাস পায়নি ৷

এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস

ইমাম আহমদ, হাসান জাবির (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, উম্মু মালিক আল
বাহ্যিয়্যা নবী করীম (না)-কে তার একটি বয়ামে ঘি হাদিয়া পাঠাতেন ৷ একবার তার
সন্তানেরা তার কাছে ব্যঞ্জন চাইল, বিক্ষ্ম সে সময় তার কাছে কিছুই , কাি না ৷ তখন তিনি তার
ঐ ঘিয়ের বয়ামটি নিংড়ে তাদেরকে দিলেন যাতে তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে হাদিয়া
পাঠাতেন ৷ তখন নবীব্জী তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি তা নিংড়ে ফেলেছো ? তখন আমি
বললাম , জী হা ৷ তিনি বললেন, তুমি যদি তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিতে তাহলে তার ঘি
প্রদান অব্যাহত থাকত ৷ তারপর ইমাম আহমদ এই সনদে জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে,
একবার তার কাছে এসে এক ব্যক্তি খাবার চাইল, তখন তিনি তাকে অর্ধওয়াসাক যব দান
ৰল্মলেন ৷ এরপর সেই ব্যক্তি তার শ্রী এবং তাদের একজন অতিথি তা থেকে দীর্ঘদিন খেল ৷
অবশেষে তারা একদিন তা পরিমাপ করার তা নিঃশেষ হয়ে গেল ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, তোমরা যদি তা না মাপতে তাহলে তোমরা অব্যাহতভাবে তা খেতে পারতে এবং তা
তোমাদের জন্য স্থায়ী হত ৷ মুসলিম, আবুঘৃ যুবায়র থেকে ডিন্নসুত্রে এই হাদীস দুটি রিওয়ায়াত
করেছেন ৷

আবু তালহা আনসারী কর্তৃক রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে আপ্যায়ন

বুখারী, আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবু তালহা সুত্রে
বর্ণনা করেন যে, তিনি জানান ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুন্যেছন-একবার আবু তালহা
টমু সুলায়মকে বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ক্ষীণ স্বরে আমি ক্ষুধার আভাস পাচ্ছি, তোমার
কাছে কি খাওয়ার মত কিছু আছে ? জবাবে তিনি বললেন, হী ৷ এ কথা বলে তিনি কয়েকটি
ৰ্বের চাকতি রুটি বের করলেন, তারপর তার একটি ন্ওড়না বের করে তার একাত্শ দিয়ে
ৰুটিশুলি পেচিয়ে আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন আর একাংশ দিয়ে আমার হাত পেচিয়ে দিলেন ৷
ৰ্তঃপর আমাকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে পাঠালেন ৷ আনাস বলেন, তখন আমি তা নিয়ে

গেলাম এবং তাকে লোকদের সাথে মসজিদে পেলাম ৷ তখন আমি (ণ্লাকজানর) সরে যাওয়ার
প্রর্তীক্ষায় থাকলাম ৷ আমাকে দেখতে পেয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) প্রশ্নঢুবল্মলেন, তোমাকে কি আবু
তালহা পাঠিয়েছে ? আমি বললাম, জী ছুা ৷ তিনি বললেন, খাবার দিয়ে ? আমি বললাম, জী
হী ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে যারা ছিলেন তাদেরকে বললেন, তোমরা সবইি ওঠো ! এ
কথা বলে তিনি সকলকে নিয়ে অগ্রসর হলেন ৷ আমিও তাদের সামনে সামনে এসে আবু
তালহার কাছে এসে তাকে বিষয়টি অবহিত করলাম ৷ তখন আবু তালহা বললেন, হে উম্মু
সুলায়ম ৷ এই যে আল্লাহ্র রাসুল সাথীদের নিয়ে হাযির; অথচ তাদেরকে খাওয়ানাের মত
আমাদের কাছে কিছু নেই ৷ তখন উম্মু সুলায়ম বললেন, আল্লাহ্ ও তার রাসুলই ভাল জানেন ৷
এ কথা বলে আবু তালহা অগ্রসর হয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন ৷ এরপর
আবু তালহাকে সাথে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আগমন করলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
হে উম্মু সুলায়ম ! তোমার কাছে কি আছে আন দেখি ! তখন তিনি সেই রুটি আনলেন ৷ এরপর
আল্লাহ্র রাসুলের নির্দেশে তা টুকরো-টুকরো করা হল এবং উম্মু সুলায়ম একটি ঘিয়ের পাত্র
নিংড়ে ব্যঞ্জন স্বরুপ তাতে যোগ করলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) আল্লাহর ইচ্ছার যা বলার তা
বললেন (অর্থাৎ কিছু একটা দুআ করলেন) ৷ এরপর বললেন, দশজনকে ভিতরে আসতে বল ৷
তখন আবু তালহা তাদের (দশজ্যাকে) ভিতরে আসতে বললেন এবং তারা খেয়ে তৃপ্ত হয়ে
বেরিয়ে আসলেন ৷ তারপর বললেন, আরো দশজনকে আসতে বল ৷ তখন তারাও এসে খেলেন
এবং তৃপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসলেন ৷ এভাবে দশজন দশজন করে সকলেই খেয়ে তৃপ্ত হলেন ৷ আর
তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর কিৎবা, আশি জন ৷ যুখারী তার সহীহ্ গ্রন্থে অন্য কয়েকস্থানে এবং
মুসলিম একাধিক সুত্রে ইমাম মালিক থেকে তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷

আনাস (না) থেকে অন্য একটি সুত্র

আবু ইয়ালা, হুদ্বা ইবন খড়ালিদ আনাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, একবার
রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে ক্ষুধার্ত দেখে তার শ্রী উম্মু সুলায়মের কাছে এসে বললেন, আমিভাে
আল্লাহর রাসুলকে ক্ষুধার্ত দেখে আসলাম ৷ তোমার কাছে কি খাওয়ার মত কিছু আছে ? তিনি
বললেন, এক পরিমাণ ময়দা ও বব ব্যতীত আর কিছুই নেই ৷ আবু তালহা বললেন,
তাহলে তুমি তা খামীর করে প্রস্তুত করে রেখো ৷ এখনই আমি আল্লাহ্র রাসুলকে ডেকে
আনছি, তিনি আমাদের গৃহে খাবেন ৷ আনাস বলেন, তখন তিনি তা ছানলেন এবং রুটির
আকৃতি দিলেন, তখন একটি রুটির গোলক প্রস্তুত হল ৷ তখন আবু তালহা বললেন, হে
আনাস! আল্লাহ্র রাসুলকে ডেকে নিয়ে এসো ৷ আমি তৎক্ষণাৎ তার কাছে গেলাম ৷ এ সময়
তার সাথে তার সাথীরাও ছিলেন ৷ এই সনদের মধ্যস্থ রাবী মুবারক বলেন, আমার ধারণা,
তিনি আশির বেশি বলেছেন ৷ আনাস বলেন, তখন আমি গিয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আবু
তালহা আপনাকে আহ্বান করেছেন ৷ তখন তিনি তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বললেন, আবু
তালহার আহ্বানে সাড়া দাও ৷ আমি তখন তটস্থু হয়ে তাকে জানালাম যে, তিনি তার সকল
সহচর নিয়ে এসেছেন ৷

১ শস্যের পরিমাপ বিশেষ ৷

Leave a reply