আসহাবে কাহাফ এর ঘটনা

আসহাবে কাহাফ এর ঘটনা

আল্পাহতাআলা বলেন :

তুমি কি মনে কর যে গুহা ও বড়াকীম (পর্বত বা ফলক) এর অধিবাসীরা আমার
নির্দশনাদির মধ্যে বিস্ময়কর? যখন যুবকরা গুহড়ায় আশ্রয় নিল তখন তারা রলেছিল হে
আমাদের প্ৰতিপালক ! আপনি নিজ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের জন্যে
আমাদের কাজকর্ম সঠিক ভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন ৷ অতঃপর আমি ওদেরকে গুহায়
কয়েক বছর ঘুমন্ত অবস্থায় রাখলাম ৷ পরে আমি ওদেরকে জাগরিত করলাম জানার জন্যে যে ,
দু’দলের মধ্যে কোনটি ওদের অবস্থিতি কাল সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে ৷ আমি তোমার
নিকট ওদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি ৷ ওরা ছিল কয়েকজন যুবক ৷ ওরা ওদের
প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি ওদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম ৷

এবং আমি ওদের চিত্ত দৃঢ় করে দিলাম ৷ ওরা যখন উঠে দীড়াল তখন রলল আমাদের
প্রতিপালক আকাশরাজি ও পৃথিবীর প্ৰতিপালক ৷ আমরা কখনই তার পরিবতে অন্য কোন
ইলাহকে আহ্বান করব না ৷ যদি করে বলি তবে তা অত্যন্ত গহিত হবে ৷ আমাদেরই এই
স্বজাতিরা তার পরিবর্তে অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে ৷ তারা এ সকল ইলাহ সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমাণ
উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তার চাইতে অধিক জালিম আর
কে ?

তোমরা যখন বিচ্ছিন্ন হলে ওদের থেকে এবং ওরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করে
তাদের থেকে তখন তোমরা গুহড়ায় আশ্রয় গ্রহণ কর ৷ তোমাদের প্ৰতিপালক তোমাদের জন্য
তার দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্ৰসু করার
ব্যবস্থা করবেন ৷

তুমি দেখতে পেতে-ওরা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত, সুর্য উদয়কালে ওদের গুহার দক্ষিণ
পার্ণে (হলে যায় এবং অস্তকালে ওদেরকে অতিক্রম করে বামপার্শ্ব দিয়ে ৷ এ সমস্ত আল্লাহর
নিদর্শন আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, যে সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট
করেন, তুমি কখনই তার কোন পথ প্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না ৷ তুমি মনে করতে ওরা
জাগ্রত, কিভু ওরা ছিল নিদ্রিত ৷ আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্জা করাতাম ডান দিকে ও বামে
এবং ওদের কুকুর ছিল সম্মুখের পা দুটো গুহাদ্বারে প্রসারিত করে ৷ তাকিয়ে ওদেরকে দেখলে
তুমি পেছনে ফিরে পলায়ন করতে ও ওদের ভয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়তে ৷ এবং এভাবেই আমি
ওদেরকে জাগরিত করলাম যাতে ওরা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৷ ওদের একজন
বলল, তোমরা কতকাল অবস্থান করেছা কেউ কেউ বলল, একদিন অথবা একদিনের কিছু
অংশ ৷ কেউ কেউ বলল, তোমরা কতদিন অবস্থান করেছ তা তোমাদের প্রতিপালকই ভাল
জানেন ৷

এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ নগরে প্রেরণ কর সে যেন দেখে কোন
খাদ্য উত্তম এবং তা হতে যেন কিছু তোমাদের জন্যে নিয়ে আসে ৷ সে যেন বিচক্ষণতার সাথে
কাজ করে ও কিছুতেই যেন তোমাদের সম্বন্ধে কাউকেও কিছু জানতে না দেয় ৷ ওরা যদি
তোমাদের বিষয় জানতে পারে তবে তোমাদেরকে প্রস্তবাঘাতে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে
ওদের ধর্মে ফিরিয়ে নিবে এবং যে ক্ষেত্রে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না ৷ এবং এভাবে
আমি মানুষকে তাদের বিষয় জানিয়ে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য
এবং কিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই ৷

যখন তারা তাদের কর্তব্য বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করছিল তখন অনেকে বলল
ওদের ওপর সৌধ নির্মাণ কর ৷ ওদের প্রতিপালক ওদের বিষয়ে ভাল জানেন ৷ তাদের কর্তব্য
বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল তারা বলল, আমরা তো নিশ্চয়ই ওদের পার্শে মসজিদ নির্মাণ
করব ৷ কেউ কেউ বলবে, ওরা ছিল তিনজন, ওদের চতুর্থটি ছিল ওদের কুকুর এবং কেউ কেউ
বলবে ওরা ছিল পদ্বচজন, ওদের ষষ্ঠটি ছিল ওদের কুকুর ৷ অজানা বিষয়ে অনুমানের ওপর
নি৩রি করে ৷ আবার কেউ কেউ বলবে, ওরা ছিল সাত জন, ওদের অষ্টমটি ছিল ওদের কুকুর ৷
বল, আমার প্রতিপালকই ওদের সংখ্যা ভাল জানেন, ওদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে ৷
সাধারণ আলোচনা ব্যতীত আপনি ওদের বিষয়ে বিতর্ক করবেন না এবং ওদের কাউকে ওদের
বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না ৷ কখনই তুমি কোন বিষয়ে বলবে না আমি এটি আগামীকাল
করব ৷ আল্লাহ ইচ্ছা করলে’ এ কথা না বলে ৷ যদি ভুলে যাও তবে তোমার প্রতিপালককে স্মরণ
করবে এবং বলবে, সম্ভবত আমার প্রতিপালক আমাকে ওটি অপেক্ষা সতেম্বর নিকটতর
পখনির্দেশ করবেন ৷ ওরা ওদের গুহায় ছিল তিনশ’ বছর আরও নয় বছর ৷ তুমি বল তারা
কতকাল ছিল তা আল্লাহই ভাল জানেন, আকম্পোরাজি ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান তারই ৷
তিনি কত সুন্দর স্রষ্টা ও শ্রোতা ! তিনি ব্যতীত ওদের অন কোন অভিভাবক নেই ৷ তিনি কাউকে
তার কর্তৃত্বে শরীক করেন না ৷ (১ ৭, কাহাফ : ৯-২৬ )

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ২৮

আসহাবে কাহাফ ও যুল-কারনাইন সম্পর্কে আয়াত নাযিল হওয়ার পটভুমি সম্বন্ধে মুহাম্মদ
ইবন ইসহাক ও অন্যরা সীরাত ৩গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কুরায়শগ ং৷ মদীনার ইয়াহ্দীদের
নিকট একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছিল ৷ উদ্দেশ্য এই যে ইয়াহৃন্নী ন্ণ তাদেরকে কতক প্ৰশ
শিথিয়ে দিবে ৷ কুরায়শগণ সেগুলো রাসুলুল্লাহ (না)-কে জিজ্ঞেস করবে এবং এরদ্বার৷ তারা
তাকে পরীক্ষা ৷করবে ৷ ইয়াহুদীগণ বলেছিল যে তোমরা তাকে এমন এক সম্প্রদায় সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করবে, যারা অতীতে ই বিলীন হয়ে গিয়েছে ৷ যার ফলে ত্রিভ্রয়াকলাপ সম্পর্কে জানা
যায় না ৷ আর প্রশ্ন করবে পৃথিবী প্রদক্ষিণকারী একজন লোক সম্পর্কে ৷ এবং জিজ্ঞেস করবে
রুহ সম্পর্কে ৷

এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনং , বুওে ৷ ৷ তারা
আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে তারা আপনাকে
যুলক৷ রন৷ ৷ইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে আর এখানে বললেন ং

তুমি কি মনে কর যে, গুহ৷ ও রার্কীমের অধিবাসীরা আমার নিদশ্নািদির মধ্যে বিস্ময়কর?

অর্থাৎ আমি আপনাকে যেসব অভুতপুর্ব আশ্চর্যজনক বিষয়াদি উজ্জ্বল নির্দশনাদি ও
বিস্ময়কর ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করেছি, যে সবেরত তুলনায় গুহ৷ ও রাকীমের অধিবাসীদের
সংবাদ ও ঘটনা মোটেই আশ্চর্যজনক নয় ৷

এখানে কাহফ অর্থ পর্বত গুহ৷ ৷ ওআয়ব আল জুবাঈ বলেন গুহাটির নাম হায়যুম ৷ রাকীম
শব্দ সম্পর্কে হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেন, রাকীম দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, তা আমার
জানা নেই ৷

কেউ কেউ বলেন, রাকীম অর্থ লিখিত ফলক-যাতে সেখানে আশ্রয় গ্রহণকারীদের নাম এবং
তাদের ঘটনাবলী লিখিত রয়েছে ৷ পরবর্তী যুগের লোকজন এটি লিখে রেখেছিল ৷ ইবন জারীর
ও অন্যানগেণ এ অভিমত সমর্থন করেন ৷ কেউ কেউ বলেন, রাকীম হল সেই পর্বতের নাম যে
পর্বতের গুহায় তারা তা ৷শ্রয় নিয়েছিলেন ৷

ইবন আব্বাস (রা) ও শু’আয়ব আল জুব ই বলেন, ঐ পর্বতের নাম বিনাজলুস ৷ কারো

কারো মতে, রাকীম হচ্ছে ঐ গুহার পাশে অবস্থিত একটি উপত্যকা ৷র নাম ৷ অন্য কারো কারো
মতে, এটি ঐ এলাকার একটি জনপদের নাম ৷

শু’আয়ব আল জুবাঈ বলেন, তাদের কুকুরের নাম ছিল হামরান ৷ কতক তাফসীরকার
বলেছেন যে, তারা ছিলেন হযরত ঈসা (আ) এর পরবর্তী যুগের লোক এবং তারা খৃষ্টান
ছিলেন ৷ কিত্তু তাদের সম্পকে ইয়াহুদীদের গুরুতু আরোপ এবং তাদের সম্পর্কে স বাদ সংগ্রহের
আগ্রহ দ্বার বাপ্রমাণিত হয় যে, তারা হযরত ঈস৷ (আ) এর পুর্ববর্তী যুগের লোক ৷ আঘাতের
বাচনভঙ্গি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাদের সম্প্রদায়ের লোকজন ছিল মুশরিক ৷ তা ব্৷ শুর্তিপুজা

করত ৷ বহু তাফসীরকার ও ইতিহাসবিদ অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, তারা বাদশাহ
দাকরানুমের সময়ের অভিজাত বংশীয় লোক ছিলেন ৷ কারো কারো অভিমত যে , তারা রাজপুত্র
ছিলেন ৷

ঘটনাচক্রে তারা সম্প্রদায়ের উৎসবের দিনে একত্রিত হয় ৷ তাদের সম্প্রদায়ের লোকেরা
সেখানে যে মুর্তিদেরকে সিজদা করছে এবং প্রতিমাগুলোকে সম্মান প্রদর্শন করছে, তা তারা
প্রত্যক্ষ করে ৷ তখন তারা গভীর মনোযোগের সাথে তা পর্যালোচনা করেন ৷ আল্লাহ তাআলা
তাদের অম্ভরের উদ৷ সীনতা ৷র পর্দা ৷ছিন্ন করে দেন এবং তাদের মনে সত্য ও হিদায়াদ্ধৃ৩ তর উন্মেষ
ঘটান ৷ ফলে তারা উপলব্ধি করেন যে, তাদের সম্প্রদায়ের এসব কাজকর্ম সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন ৷
যুবকগণ তাদের ওই ধম পরিত্যাগ করেন এবং এক অ ল্লা৷হর ইবাদতে আ ৷ত্মনিয়োগ করেন ৷

কেউ কেউ বলেন যে, যুবকদের প্রত্যেকের মনে অল্লহ্ তাআলা তা ৷ওহীদ ও হিদায়াতের
অনুভুতি ৩সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন ৷ তারপর তারা সকলেই লোকজনের সং সর্গ ত্যাগ করে এক
নিত্তনি এলাকায় এসে উপস্থিত হন ৷ সহীহ বুখারীতে এ রন্ যে একটি বিশুদ্ধ হাদীছ উদ্ধৃত
হয়েছে ৷ সেটি এই :

রুহগুলাে সুবিন্যস্ত বাহিনী স্বরুপ ৷৩ তাদের মধ্যে যেগুলো পুর্ব পরিচিত সেগুলো বন্ধুত্বের
বন্ধনে আবদ্ধ হয় ৷ আর যারা পরস্পর অপরিচিত তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয় ৷ তখন
তারা একে অপরের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে ৷ প্রতেব্রুকে নিজ নিজ অবস্থান বর্ণনা করে ৷
তখন জানা যায় যে, ত ৷রা সবাই নিজ নিজ গোত্র ছেড়ে এসেছে এবং ওদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন
করে আপন দীন রক্ষার্থে পালিয়ে এসেছে ৷ ফিতনা, বিশৃৎখলা ও পাপাচারের বিন্তুতিকালে
এইভাবে সমাজ ত্যাগ করা শরীয়ত সম্মত ৷

আল্লাহ তা’আলা বলেন ব্লি

আমি৫ তামার নিকট ওদের বৃত্তা ম্ভ সঠিকতারে বর্ণনা করছি ৷ ওরা ছিল কয়েকজন যুবক ৷
ওরা ওদের প্ৰতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি ওদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি
করেছিলাম ৷ এবং আমি ওদের চিত্ত দৃঢ় করে দিলাম, ওরা যখন ওঠে দাড়াল তখন বলল
আমাদের প্রতিপালক আকাশরাজি ও পৃথিবীর প্রতিপালক আমরা কখনই তার পরিবর্তে অন্য
কে ন ইলাহকে আহ্বান করব না, যদি করে বলি তবে তা অত্যন্ত গর্হিত হবে ৷ আমাদের এই

স্বজাতিগণ তার পরিবর্তে অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে ৷ এরা এ সকল ইলাহ সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমাণ
উপ তকরে না কেনা অর্থ ৎ তারা যে পথ অবলম্বন করেছে এবং যে অভিমত অনুসরণ
করেছে তার যথা র্থতা সম্পর্কে প্রকাশ্য দলীল উপন্থা পন করে না কেন?

যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তার চাইতে অধিক জ্যলিম আর কে? তোমরা
যখন তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হলে এবং ওরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইরাদত করে তাদের থেকে
অর্থাৎ দীনের প্রশ্নে তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলে এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত
যেগুলোর উপাসনা করে সেগুলোকে ত্যাগ করলে ৷ কারণ তারাঅ আল্লাহর সাথে শরীক সাবম্ভে
করত ৷ যেমন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ বলেছিলেন :

তোমরা যেগুলোর পুজা কর তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই সম্পর্ক আছে
শুধু তারই সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন ৷ তিনিই আমাকে সৎপথ দেখারেন ৷ এ
যুবকরাও অনুরুপ বলেছিলেন ৷ (৪৩ যুখরুফ ২৬ ২৭ ) আয়্যাত্ণ্ তর ব্যাখ্যার কেউ কেউ বলেন
যে, দীনের প্রশ্নে তোমরা যেমন তোমাদের সম্প্রদায় থােক পৃথক হয়ে গিয়েছ দৈহিকভাবেও
তোমরা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও যাতে ওদের অনিষ্ট থেকে তামর৷ নিরাপদ
থাকতে পার ৷

তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর ৷ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে তার দয়া
বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্ৰসু করার ব্যবস্থা
করবেন ৷ অর্থ ৎ তার রহমতের পর্দা দ্বারা তোমাদেরকে ঢেকে দিবেন ৷ তোমরা তার নিরাপত্তা
ও আশ্রয়ে থাকবে ৷ এবং তিনি তোমাদের পরিণাম কল্যাণময় করে দিবেন ৷ যেমন হাদীছ
শরীফে এসেছে :

হে আল্লাহ ! সকল কর্মে আমাদেরকে কল্যাণময় পরিণতি দান করুন এবং দুনিয়ার লাঞ্চুনা
ও অড়াখিরাতের আমার থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন ৷

এরপর তারা যে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সম্পর্কে আল্লাহ তা’ আলা বলেন যে গুহাটি
উত্তরমুথী ছিল ৷ তার পশ্চিম দিকে চালু ছিল ৷ কিবলার দিকে ঢালু উত্তরযুখী স্থান অধিক
কল্যাণকর স্থান রুপে বিবেচিত হয়ে থাকে ৷

আল্লাহ তা ’আলা বলেন :

তুমি দেখতে পেতে, ওরা গুহার চত্বরে অবস্থিত ৷ সুর্য উদয়তালে ওদের গুহার ডান দিকে
হোল যায় এবং অস্তকালে ওদেরকে অতিক্রম করে বাম পার্শ্ব দিয়ে ৷ অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে সুর্য উদিত
হওয়ার সময় তাদের গুহার পশ্চিম দিকে আলো ছড়ায়, তারপর সুর্য যতই উপরে উঠতে থাকে,
ক্রমান্বয়ে ততই ঐ আলো গুহ৷ থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে ৷ এদি এ হল সুয়ের ডান দিক দিয়ে
অতিক্রম করা ৷ অতঃপর সুর্য মধ্য আকাশে উথিত হয় এবং গুহ থেকে ঐ আলো বেরিয়ে যায় ৷
তারপর যখন অস্ত যেতে ওরু করে তখন পুর্ব পাশ দিয়ে অল্প অল্প করে আলো প্রবেশ করতে
থাকে ৷ অবশেষে সুর্য অস্ত যায় ৷ এ ধরনের স্থানে এরুপই দেখা যায় ৷ তাদের গুহায় মাঝে
মধ্যে সুর্যের আলো প্রবেশের এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল যাতে ঐ গুহার আবহাওয়া দুযিত না

হয়

ওরা ওহার প্রশস্ত চতুবে অবস্থিত ৷ এ সব আল্লাহর নিদর্শন ৷ অর্থ ৎ তাদের পান৷ ৷র না

করে, খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ না করে শতশত রৎসরএ এঅরস্থায় বিদ্যমান থাক টা আল্লাহ তা আলার
নিদর্শনাদির অন্যতম এবং তার মহা ৷শক্তির প্রমাণ স্বরুপ ৷

আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন যে সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন

তুমি কখনই তার কোন পথ প্রদর্শনকারী অভিভা ৷বক পাবে না ৷ তুমি মনে করতে তারা ঘুমম্ভ

অথচ তারা জাগ্রত ৷ এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেন, তা এ জন্যে যে, তাদের চোখ খোলা
ছিল, যাতে সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকার ফলে চক্ষু নষ্ট হয়ে না যায় ৷

আমি ওদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতড়াম ডানে, বামে-এর ব্যাখ্যার কেউ কেউ বলেন
রৎসরে একবার করে ত দেব পার্শ্ব পরিবতন করানো হত ৷ এ পাশ থেকে ও পাশে ফেরানো
হত ৷ হতে পারে রৎসরে একা ৷৷ধিকর ৷রও তা ঘটতে৷ ৷ আল্লাহই সম্যক অবগত ৷

তাদের কুকুর ছিল সম্মুখের পা দুটো গুহার মুখের দিকে প্রসারিত করে ৷ শুআয়ব আল
জুবাই বলেন, তাদের কুকুরের নাম ছিল হামরান ৷ অন্য এক তাফসীরকার বলেন,াট্রু এে’প্রু অর্থ
দরজার চৌব ঠ ৷ অর্থ ৎ যুবকগণ যখন নিজ নিজ গোত্র থেকে একাকী বেরিয়ে এসেছিলেন
তখন যে কুকুরটি তাদের সাথে এসেছিল সেটি শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে থেকে যায় ৷ এটি ওহার
মধ্যে প্রবেশ করেনি ৷ বরং দু হা ত গুহামুখে রেখে গুহার প্রবেশ পথে ন্ৱসেছিল ৷ এটি ঐ কুকুরের
অনুপম শিষ্টাচার এবং যুবকদের প্রতি সন্ত্রমবােধের নিদর্শন ৷ কারণ সাধারণত যে ঘরে কুকুর
থাকে সে ঘরে রহমতের ফিরিশতা প্রবেশ করেন না ৷ সাহচর্য ও আদ্ভুন্াভৈতব্রর স্বভাবতই একটা
প্রভাব থাকে ৷ তাই যুবকদের অনুসরণ করতে গিয়ে কুকুরটিও তাদের সাথে অমর হয়ে থাকে ৷
কারণ যে যাকে ভালবাসে সে তার সৌভাগ্যের অৎশীদ৷ ৷র হয় ৷ একটি কুকুরের ব্যাপারে যখন
এমন হল তখন সম্মানের পাত্র কোন পুণ্যবানের অনুসরণকারার :ক্ষত্রে কী হতে পারেত
সহজেই অনুমেয় ৷

বহু ধর্মীয় বক্তা ও তাফসীরকাব উক্ত কুকুর সম্পর্কে অনেক ম্পো চওড়৷ কাহিনীর উল্লেখ
করেছেন ৷ এগুলোর অধিক৷ ৎশই ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে নেয়া এবং এর অধিকাৎশ নির্জলা
মিথ্যা ৷ এতে কোন ফায়দাও নেই ৷ যেমন কুকুরটির নাম ও রঙ বিষয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা ৷

এ গুহাটি কোথায় অবস্থিত, এ নিয়ে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে ৷ তাদের
অনেকে বলেন, এটি আয়লা অঞ্চলে অবস্থিত ৷ কেউ বলেন, এটির অবস্থান নিনােভা এলাকায় ৷
কারো মতে, কলকা অঞ্চলে এবং কারো মতে রােমকদের এলাকায় ৷ শেষ অভিমতটিই অধিক
যুক্তিসৎগত ৷

আল্লাহ তা’আলা তাদের কাহিনীর অধিক কল্যাণকর অংশটি এমন প্রাঞ্জলভাষায় বর্ণনা
করলেন এবং যেন শ্রবণকারী তা প্রত্যক্ষ করছে এবং নিজের চোখে তাদের গুহার অবস্থা, গুহার
মধ্যে তাদের অবস্থান, ওদের পার্শ্ব পরিবর্তন এবং তাদের গুহা মুখে হাত প্রসারিত করে উপরিষ্ট
কুকুর স্বচক্ষে দেখছে ৷ এরপর আল্লাহ তা’আলা বলেন :

তুমি যদি ওদেরকে তাকিয়ে দেখতে৩ তবে পিছনে ফিরে পালাতে এবং ওদের ভয়ে
আতৎকগ্রন্ত হয়ে পড়তে অর্থ ৎ ত ৷র৷ যে পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে এবং যে গুরুগন্তীর ও ভীতিকর
অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্য ৷ সম্ভবত এ সম্বোধনটি সকল মানুষের জন্যে, শুধুমাত্র প্রিয় নবী
ছুট্রুব্লুব্লুঠু এে সুতরাং
এর পরে কিসে তোমাকে কর্মফল সম্বন্ধে অবিশ্বাসী করে? এ আয়াতে তােমাকে’ বলতে
সাধারণভাবে অবিশ্বাসী মানবদেরকে বুঝানো হয়েছে ৷ নবী করীম (সা) কে নয় ৷ কারণ , মানুষ
সাধারণত ভীতিকর দৃশ্য দেখলে পালিয়ে যায় ৷ এ জন্যেই আল্লাহ তা’আলা বলেছেন :
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২২৩

এতে বুঝা যায় যে, শোনা আর দেখা এক কথা নয় ৷ যেমন হাদীসেও এ বিষয়ে সমর্থন
রয়েছে ৷ কারণ, আলোচ্য ঘটনায় গুহাবাসীর ভীতিকর সংবাদ শুনে কেউ পালায়নি রা ভীতও
হয়নি

তারপর আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তিনি তাদেরকে জাগ্রত করলেন তাদের ৩০৯ বছর
ফ্লিামগ্ন থাকার পর ৷ জাগ্রত হওয়ার পর তাদের একে অন্যকে বলল :

তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? কেউ কেউ বলল একদিন অথবা এক দিনের কিছু
অংশ ৷ অপর কেউ বলল তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ তাশু তামাদের প্রতিপালকই ভাল
জানেন ৷ তখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহু নগরে প্রেরণ কর ৷ অর্থাৎ তাদের
সাথে থাক রৌপ্য মুদ্রার দিকে ইঙ্গিত করে তা নিয়ে নগরে যাে ভ্র বলেছিল !

কথিত আছে যে, ওই নগরীর নাম ছিল দাফমুম
গিয়ে দেখুক কোন খাদ্য উত্তম ৷ অর্থাৎ কোনটি উৎকৃষ্টমানের ৷
তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্যে ৷ অর্থাৎ যা তোমরা
থেতে পারবে ৷ এটি ছিল তাদের সংযম ও নির্লোভ মনোভারের পবিচায়ক ৷ এ্যা ব্লু সে
যেন বিচক্ষণতার সাথে কাজ করে ৷ নগরে প্রবেশ করার সময়

এবং কিছুতেই যেন৫ তামাদের সম্বন্ধে কাউকে কিছু টের পেতে নাদেয় ৷ ওরা যদি

তোমাদের বিষয় জানতে পারে তবে তোমাদেরকে প্রস্তরা ঘাতে হত্যা করবে অথবা তােমাদেরকে
ওদের ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না

অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে ওদের বাতিল ধর্ম থেকে উদ্ধার করার পর তোমরা যদি পুনরায়
ওদের মধ্যে ফিরে যাও তবে আ র৫ তোমাদের সাফল্য নেই ৷ তারা এ জাভীয় কখাবা৩া এ জন্য
বলেছিল যে, তারা মনে করেছিল৩ তারা একদিন, একদিনের কতকাত্শ কিৎবা তার চাইতে
কিঞ্চিতাধিক সময় ঢিদ্বোমগ্ন ছিল ৷৩ তারা যে ৩০০ বছরের অধিককাল ধরে নিদ্রামগ্ন ছিল এবং
ইতিমধ্যে যে রাষ্ট্রক্ষমতার বহুবার হাত বদল হয়েছে, নগর ও নপরবাসীর পরিবর্তন সাধিত
হয়েছে, তাদের প্রজন্মের লোকদের যে মৃত্যু হয়েছে, অন্য প্রজন্ম এসেছে এবং তারাও চলে
গিয়েছে, অতঃপর অন্য আরেক প্রজন্মের আবির্ভাব হয়েছে; তার কিছুই তারা তখনও তাচ করে
উঠতে পারেনি ৷ এজন্যে৩ তাদের একজন অর্থ ৎ তীবুসীস যখন নিজের পরিচয় গোপন রাখার
উদ্দেশ্যে ছদ্মবেশে গুহা থেকে বের হন এবং নগরে প্রবেশ করেন তখন তা তার নিকট

অপরিচিত ঠেকে ৷ নগববাসীরা যেই তাকে দেখে অপরিচিত বোধ করে ৷ তার আকার আকৃতি

কথাবার্তা এবং ত ৷র মুদ্রা সবই নগরবাসীর নিকট অপরিচিত তও আশ্চর্যজনক ঠেকে ৷

কথিত আছে যে তার তাকে তাদের রাজার নিকট নিয়ে যায় এবং তারা তাকে গুপ্তচর
বলে সন্দেহ করে ৷ কেউ কেউ তাকে শক্তিশালী শত্রু মনে করেত তার ক্ষতিকর আক্রমণেরও
আশংকা করেছে ৷ কতক ঐতিহাসিকেরৰু মতে তিনি তখন তাদের ৷নকট থেকে পালিয়ে যান ৷
আর কতক ঐতিহাসিকের মতে তিনি নগরবাসীকেতার নিজের ও সাথীদের অবস্থার বিবরণ
দেন ৷ অতঃপর তারা তায় সাথে তাদের অবস্থান ক্ষেত্রের দিকে রওযানা হয় যাতে তিনি
তাদেরকে নিজেদের অবস্থানস্থল দেখিয়ে দেন ৷ নগরবাসী গুহার নিকট এসে পৌছার পর
তীযুসীস সর্বাগ্রেতারাসাথীদের নিকট প্রবেশ করেন ৷ তিনি নিজেদের প্রকৃত অবস্থা এবং নিদ্রার
মেয়াদ সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করেন ৷ তখন তারা উপলব্ধি করে নেয় যে মুলত এটি মহান
অ আল্লাহব নির্ধারিত একটি বিষয় ৷ কথিত আছে যে, এরপর তা,রা আবার নদ্রামপ্ন হয়ে পড়েন ৷
মতান্তরে এরপর তাদের ইন্তিকাল হয়ে যায় ৷

ঐ নগরবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা ঐ গুহাটি খুজে পায়নি ৷ গুহাবাসীদের
অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে অনবহিত রেখে দেন ৷ কেউ কেউ বলেন যে,
গুহাবাসীদের ব্যাপারে তাদের মনে ভীতির সৃষ্টি হওয়ার দরুণ ওহায় প্রবেশ করতে পারেনি ৷
গুহাবাসীদের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে নগরবাসীদের মধ্যে মতভেদ দেখা
দেয় ৷ তাদের একদল বলল fi£ £; স্পোা; !র্দুপ্রুছুট্রু৷ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ করে দাও ৷
অর্থাৎ গুহামুখ বন্ধ করে দাও যাতে তারা সেখান থেকে বের হতে না পারে ৷ বা কেউ তাদেরকে
কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের নিকট যেতে না পারে ৷

অপর দল বলল, আর এদের মতই প্রবল ছিল আমরা
অবশ্যই ওদের উপর মসজিদ নির্মাণ করব ৷ অর্থাৎ ইবাদতর্খানা তৈরি করব ৷ এসকল পুণ্যবান
লোকদের পাশাপাশি থাকার কারণে তা বরকতময় হয়ে থাকবে ৷ পুর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এরুপ
মসজিদ নির্মাণের রেওযাজ প্রচলিত ছিল ৷ আমাদের শরীয়তে এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা হল, এ
হাদীস যা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা) ইবশাদ করেন :

আল্লাহ তা’আলার লা নত ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের ওপর তারা তাদের নবীদের কবর
সমুহকে মসজিদে পরিণত করেছে ৷ ওরা যা করেছে রাসুলুল্লাহ (সা) তার উম্মতদেরকে তা না
করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন ৷

আল্লাহ তাআলা বলেন

এবং আমি মানুষকে এভাবে তাদের বিষয় জানিয়ে দিলাম-যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে,
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই ৷ ১৫:২১

বহু তাফসীরকার বলেছেন যে, এর অর্থ হল যাতে লোকজন জানতে পারে যে, পুনরুথান
সত্য এবং কিয়ামত অনুষ্ঠানে কোন সন্দেহ নেই ৷ মানুষ যখন অবগত হবে যে, গুহাবাসিগণ
তিনশ বছরেরও অধিককাল ধরে দিদ্বোমগ্ন ছিল তারপর কোন প্রকারের ৰিকৃতি ছাড়া যে অবস্থায়
ছিলেন ঠিক যে অবন্থায়ই জাগ্রত হয়ে উঠেন ৷ তখন তারা উপলব্ধি করতে পারবে যে, মহান
সত্তা তাদেরকে কোন পরিবর্তন ছাড়া অক্ষুন্ন রাখার ক্ষমতা রাখেন, তিনি নিশ্চয়ই কীটদষ্ট ও
বিচুর্ণ অস্থি বিশিষ্ট মানবদেহকে মৃত্যুর পর পুনরুথিত করার ক্ষমতা রাখেন ৷ এটি এমন একটি
বিষয় যাতে ঈমানদারগণ কােনই সন্দেহ পোষণ করে না ৷

র্তার ব্যাপার শুধু এই, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তিনি সেটিকে বলেন হও , ফলে
তা হয়ে যায় ৷ (৩৬ : ইয়াসীন : ৮ ২ )

অবশ্য আঘাতের ব্যাখ্যা এমনও হতে পারে যে, যাতে তারা জানতে পারে বলতে গুহা
বাসীগণকে বুঝানো হয়েছে ৷ কারণ তাদের নিজেদের সম্পর্কে তাদের অবগত হওয়াট৷ তাদের
সম্পর্কে অন্যের অবগত হওয়া অপেক্ষা ৷অধিকতর প্রভাব বিস্তারকারী ৷ আবার এমনও হতে পারে
যে, আয়াতে তারা জানতে পারে বলতে সকলকেই বুঝানো হয়েছে ৷ এরপর আল্লাহ তাআলা
বলেন০ ং

কেউ বলবে ওরা ছিল তিনজন, ওদের চতুর্থটি ছিল ওদের কুকুর এবং কেউ বলে ওরা ছিল
পাচজন, ওদের ষষ্ঠটি ছিল ওদের কুকুর ৷ অজানা বিষয়ে অনুমানের উপর নির্ভর করে ৷ আবার
কেউ কেউ বলবে, ওরা ছিল সাতজন, ওদের অষ্টমটি ছিল ওদের কুকুর ৷ (সুরা কাহফ : ২২)
তাদের সংখ্যা সম্পর্কে মানুষের তিনটি অভিমতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ প্রথম দুটো
অভিমত দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তৃতীয়টিকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে ৷ এতে
বুঝা যায় তৃতীয় অভিমতটিই যথার্থ ৷ এছাড়া অন্য কোন মত থাকলে তাও উল্লেখিত হতো ৷ এ
তৃতীয় মতটি যথার্থ না হলেত তাও দুর্বল বলে চিহ্নিত করা হতো ৷ তাই তৃতীয় মতটিই সঠিক !
এ জাতীয় বিষয়ে বিতর্কে যেহেতু কোন উপকারিতা নেই সেহেতু আল্লাহ তা আলা তার রাসুল
(স)-কে এই আদর শিক্ষা দিয়েছেন যে, মানুষ যখন এ জাতীয় বিষয়ে মতভেদ করবে তখন
তিনি যেন বলেন, আল্লাহই ভাল জানেন ৷ ’ এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেন,
“বল আমার প্রতিপালকই ওদের সংখ্যা ভাল
জানেন ৷ ওদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে “সাধারণ

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ২৯-

আলোচনা ব্যতীত তুমি ওদের বিষয়ে বিতর্ক করবে না ৷” অর্থাৎ সহজ ও স্বাভাবিক আলোচনা
করুন ৷ এ জ ৷তীয় বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হবেন না ৷ আর তাদের সম্বন্ধে কোন মানুষকে
কিছু জিজ্ঞেস করবেন না ৷ এ কারণে শুরুতে আল্লাহ তা আলা তাদের সংখ্যা অস্পষ্ট রেখেছেন ৷

আল্লাহ তাআলা বলেছেন“ওরা ছিল কয়েকজন যুবক, ওরা
ওদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল ৷” তাদের সং থ্যা বর্ণনা যদি সমধিক গুরুতৃপুর্ণ হত

তবে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সকল বিষয়ে অবগত মহান আল্লাহ তাআল৷ সুরার প্রারম্ভেই ওদের
সংখ্যার বিবরণ দিতেন ৷

আল্লাহ তা জানা বলেন, ছুএেট্রু ৷ ,
ণ্এ৷ ৷ “কখনও তমি কোন বিষয়ে বলবে না, আমি এটি আগামীকাল কবর ” অ অল্লা৷হ ইচ্ছা করলে’
কথাটি না বলে ৷ এটি একটি উচ্চস্তরের শিষ্টাচ৷ ৷র যা আল্লাহ এ আয়াতে শিক্ষা দিয়েছেন এবং
আপন সৃষ্টিকুলকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন ৷ অর্থাৎ কেউ যদি বলতে চায় যে, অবিলম্বে
আমি এ কাজটি করব তবে তার জন্যে শরীয়তে র বিধান এই যে, সে ইনশাআল্লাহ বলবে ৷
যাতে এতে তার সৃদৃঢ় সৎক কল্প প্রকাশ পায় ৷ কারণ আগামীকাল কি হবে তা তো বান্দা জানে না ৷
সে এটাও জানে না যে, সে যে কা ৷জটি করার সৎকল্প কটিরেছে তা তার তাকদীরে আছে কিনা ৷
এই ইনশাআ ৷ল্লাহ শব্দটি শর্ত বলে গণ্য হবে না, বরৎএ তার দৃঢ় সৎকল্প বলেই গণ্য হবে ৷ এ
জন্যে হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেন, বাক্যে ইনশাঅহুল্লাহ শব্দটি এক বছর মেয়াদের মধ্যে
যুক্ত করা চলে ৷ তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এটি শীঘ্রত৷ জ্ঞাপক অর্থেও ব্যবহৃত হয় ৷ যেমন
ইতিপুর্বে হযরত সুলায়মান (আ) এর ঘটনায় আলোচিত হয়েছে ৷ তিনি বলেছিলেন, আজ রাতে
আমি ৭০ জন শ্রীর সাথে মিলিত হবে৷ ৷ তারা প্রত্যেকে একটি করে ছেলে সন্তান প্রসব করবে,
যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে ৷ তখন নেপথ্যে তাকে বলা হয়েছিল, ইনশাআল্লাহ বলুন!
তিনি তা বলেন নি ৷ অ৩ ংপর তিনি সহবাস করলেন ৷ তাতে মাত্র একজন শ্রী একটি
অসম্পুর্ণদেহী ছেলে প্রসর করেন ৷

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন০ :

সে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ, হযরত সুলায়মান (আ) যদি ইনশাআল্লাহ
বলতেন, তবে তার শপথ ভঙ্গ হত না এবং তার মনোবাছাও পুর্ণ হত ৷
আল্লাহ তাআলার বাণী “যদি ভুলে যাও তবে তোমার
প্রতিপালককে স্মরণ কর!” কারণ ভুলে যাওয়াটা কোন কোন সময় শয়তানের প্রভাবে হয়ে

থাকে ৷ তখন আল্লাহর স্মরণ অন্তর থেকে প্রভাব বিদুরিত করে দেয় ৷ ফলে যা ভুলে গিয়েছিল

তা স্মরণে আসে ৷

বল সম্ভবত আমার প্রতিপালক আমাকে এটি অপেক্ষা সত্যের নিকটত র পথ নির্দেশ করবেন ৷”

অর্থাৎ যখন কোন বিষয়ে অস্পষ্টতা এসে যায় এবং ল্যেকজনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয় তবে
আপনি আল্লাহ অভিমুখী হোন, তিনি বিষয়টিকে আপনার জন্যে সহজ ও স্বাভাবিক করে
দিবেন ৷ এরপর আল্লাহ তাআল৷ বলেন, এ
!;ৰুদ্াএপ্রুাপ্রুএ এ “তারা তাদের গুহায় ছিল তিনশ বছর, আরও নয় বছর ৷ তাদের সুদীর্ঘ

কাল গুহায় অবস্থানের কথা উল্লেখ তাৎপর্যবহ ৷ ত ৷ই আল্লাহ৩ তাআলা এর উল্লেখ করেছেন ৷
এখানে অতিরিক্ত নয় বছর হল চা ন্দ্র মাসের হিসাবে ৷ সৌর বছরের ৩০০ বছর পুর্ণ করতে চান্দ্র
মাসের হিসেবে অতিরিক্ত নয় বছরের প্রয়োজন হয় ৷ কারণ প্রতি ১০০ সৌর বছর থেকে ১ : :
চান্দ্র বছরের সময়কাল তিন বছর কম হয়ে থাকে ! “বল তারা
কতক৷ ল ছিল তা আল্লাহই ভাল জানেন ৷” অর্থাৎ এ জা ৷ভীয় কোন বিষয়ে যদি আপনাকে কেউ
জিজ্ঞেস করে আর আপনার নিকট সে বিষয়ে কোন লিখিত প্রমাণ না থাকে তবে বিষয়টি মহান
আল্লাহর প্রতি সোপর্দ করে দিন ৷

ব্লু “আকাশরাজিও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান
তারই ৷” অর্থাৎ অদৃশ্য বিষয়ে অবগত তিনিই তার সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে তা অবগত
করান, অন্য ক উকে নয় ৷এ “তিনি কত সুন্দর স্রষ্টা ও শ্রোতা ৷” অর্থাৎ
তিনি সবকিছুকে যথাস্থানে স্থাপন করেন ৷ কারণ তার সৃষ্টি সম্পর্কে এবং সেগুলোর চাহিদা ও
প্রয়োজন সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ৷

তারপর আল্লাহ তাআল৷ বললেন

৷ মোঃ “তিনি ব্যভীত ওদের অন্য কোন অভিভাবক নেই ৷ তিনি কাউকে নিজ কর্তত্বে
শরীক র্করেন না ৷ অর্থাৎ বাজং৩ , ক্ষমতায় ও কর্তত্বে আপনার প্রতিপালক একক, অনন্য ৷ তীর
কোন শরীক ও অংশীদার নেই ৷

একজন ঈমানদার একজন কাফিরের বিবরণ
সুরা কাহফ-এ গুহাবাসীদের ঘটনা বর্ণনার পর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :

“তুমি ওদের নিকট পেশ কর দুই ব্যক্তির উপমা ৷” তাদের একজনকে আমি দিয়েছিলায়

দুটি আঙ্গুরের বাগান এবং এ দুটোকে আমি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলাম এবংএ
দুয়ের মধ্যবর্তী স্থানকে করেছিলাম শস্যক্ষেত্র ৷ উভয় উদ্যানই ফল দান করত এবং তাতে কোন
ত্রুটি করত না ৷ এবং উভয়ের ফাকে ফাকে প্রবাহিত করেছিলাম নহর এবং তার প্রচুর ধন

সম্পদ জ্জি ৷ ,

তারপর কথা প্রসঙ্গে সে তার বন্ধুকে বলল, ধন সম্পদে আমি তােমা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং
জনবলে তােমা অপেক্ষা শক্তিশালী ৷ এভাবে নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার উদ্যানে প্রবেশ
করল ৷ সে বলল, আমি মনে করি না যে, এটি কখনো ধ্বংস হয়ে যাবে ৷ আমি মনে করি না যে,
কিয়ামত হবে, আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হইই, তবে আমি তো
নিশ্চয়ই এটি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ন্থ ন পা ৷ব ৷ উত্তরে তার রন্ধু৩ তাকে বলল, তুমি কি তাকে অস্বীকার
করছ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি ও পরে শুক্র থেকে এবং তারপর পুর্ণাঙ্গ করেছেন মানব
আকৃতিতে? কিভু আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাউকে আমার প্রতিপালকের শরীক
করি না ৷ তুমি যখন তোমার উদ্যানে প্রবেশ করলে তখন কেন বললে না, আল্লাহ যা চান তা-ই
হয়, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই?

তুমি যদি ধনে ও সন্তানে আমাকে৫ তামা অপেক্ষা নিকৃষ্টতর মনে কর, তবে হয়তো আমার
প্রতিপালক আমাকে তোমার উদ্যান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন ৷ এবং তোমার উদ্যানে
আকাশ থেকে নির্ধারিত বিপর্যয় প্রেরণ করবেন, যার ফলে সেটি উদ্ভিদশুন্য ময়দানে পরিণত
হবে ৷ অথবা সেটির পানি ভুগর্ভে অম্ভর্হিত হবে এবং তুমি কখনও সেটির সন্ধান লাভে সক্ষম
হবে না ৷ তার ফল সম্পদ বিপর্যয়ের রেষ্টিত হয়ে গেল এবং যে তাতে যা ব্যয় করেছিল তার
জন্যে আক্ষেপ করতে লাগল, যখন সেটি মাচানসহ ভুমিসাৎ হয়ে গেল ৷ সে বলতে লাগল, হায়,
আমি যদি কাউকে আমার প্রতিপালকের শরীক না করতাম ! আর আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য

করার কোন লোকজন ছিলনা এবং সে নিজেও প্রতিকারে সমর্থ হল না ৷ এ ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব
আল্লাহরই, যিনি সত্য ৷ পুরস্কার সালে ও পরিণাম নির্ধারণে তিনিই শ্রেষ্ঠ ৷ ১৮ কাহফ : ৩২-৪ :

কতক তাফসীরকার বলেন, এটি একটি উদাহরণ মাত্র ৷ বাস্তবে এমনটা ঘটেই ছিল তা নাও
হতে পারে ৷ তবে জমহুর তাফসীরকারের অভিমত এই যে , এটি একটি বাস্তব ঘটনা ৷ আল্লাহ
তাআলার বাণী (“তাদের নিকট পেশ কর একটি উপমা ৷ ” অর্থাৎ কুরায়শ
ৎশীয় ক ফিবপণ যে দুর্বল ও দরিদ্র মুসলমানদের সাথে মিলিত হয় না বরং তাদেরকে
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এবং ঈমানদারদের ওপর অহৎ কার করে তা ৷র প্রেক্ষিতে ঐ কাফিরদের নিকট
এই উদাহরণ বর্ণনা করুন ৷ যেমন অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ব,
“ওদের নিকট পেশ কর এক জনপদ
অধিবাসীদের দৃষ্টাম্ভ৩ তাদের নিকট তো এসেছিল রাসুলগণ ৷ ” > মুসা (আ) এর ঘটনা বর্ণনার

পুর্বে আমরা জনপদ বাসীদের ঘটনা উল্লেখ করেছি ৷

প্রসিদ্ধ অভিমত এই যে, আলোচ্য ব্যক্তিদ্বয় পরস্পর বন্ধু ছিল, একজন ঈমানদার,
অপরজন কাফির ৷ কথিত আছে যে, তাদের উভয়ের ধনসম্পদ ছিল ৷ ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহর
সভুষ্টি অর্জনের লক্ষে তার ধনসম্পদ আল্লাহর আনুগত্যে ও তার পছন্দনীয় খাতে ব্যয় করে
দেয় ৷ পক্ষান্তরে কাফির ব্যক্তি তার সম্পদ ব্যয় করে দুটো বাগান তৈরী করে ৷ আলোচ্য আয়াতে
বর্ণিত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বাগান দ্বারা তার বাগানদ্বয়কে বুঝানো হয়েছে ৷ সেই দুটোতে ছিল আঙ্গুর
খেজুর এবং শস্য ক্ষেত্র ৷ পানি সিঞ্চনের জন্য ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যে তার স্থানে স্থানে নহর
প্রবাহিত ছিল ৷ বাগানে ফল এসেছিল প্রচুর, নদীগুলোতে নয়নাভিরাম ঢেউ থেলত এবং
ফল-ফসল ছিল মনােমুগ্ধকর ৷ এগুলো নিয়ে বাগানের মালিক তার ঈমানদার দরিদ্র বন্ধুর
মুকাবিলড়ায় গর্ব প্রকাশ করে বলে ( “ধন সম্পদে আমি
তোমার চাইতে শ্রেষ্ঠ এবং জনবলে তোমার চাইতে শক্তিশালী ৷”২ অর্থাৎ বিশাল বাগানের
মালিক ৷ এ কথা দ্বারা সে বুঝিয়েছে যে, সে ঈমানদার অপেক্ষা উত্তম ৷ তার উদ্দেশ্য হল, বন্ধু
তোমার যে ধন সম্পদ ছিল তা তুমি যে পথে ব্যয় করেছ তাতে তোমার কী লাভ হলঃ তোমার
বরং উচিত ছিল তা-ই করা যা আমি করেছি ৷ তাহলে তুমি আমার সমান হয়ে যেতে পারতে ৷
এসব বলে সে ঈমানদার বন্ধুটির মুকাবিলায় অহংকার করতে থাকে ৷

“এভাবে নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল ৷ ’ অর্থাৎ অশোভন পন্থায়

সে বাগানে প্রবেশ করে এবং বলে :

১ ৩৬ ইয়াসীন ১৩ ৷
২ ১৯ মারইয়াম আয়াত ৭৮
৩ : ১ , হা-মীম সাজদা ৫০

“আমি মনে করি না যে, এটি কখনও ধ্বংস হয়ে ৷ ” > প্রশস্ত বাগান, পর্যাপ্ত পানি এবং সুদৃশ্য
লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি দেখে তার এ ধারনা জন্যে ৷ সে ভেবেছিল যে, এই বৃক্ষরাজির কোনটি
নষ্ট হলে তার স্থলে তার চাইতে সুন্দর নতুন বৃক্ষ জন্ম নিয়ে এবং পর্যাপ্ত পানি বিদ্যমান থাকায়
শস্য ও ফসলাদি সর্বদা উৎপাদিত হতে থাকবে ৷

এরপর সে বলল, “এবং আমি এও মনে করি না যে,
কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে ৷ ”২ পা ৷র্থিব জীবনের ধ্বং সশীল বিলাস বৈভরের প্রতি সে আস্থাশীল হয়ে
পড়ে ৷ এবং চিরস্থায়ী আখিরাতকে সে অস্বীকা ৷র করে ৷ তারপর সে বলল,
তবে আমি তো নিশ্চয়ই এটি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব ৷” “অর্থাৎ আাখরাত ও পুনরুথান যদি
একান্তই ঘটে তাহলে সেখানে আমি এখানকার চাতইত্ত ৩উৎকৃষ্ট স্থান পাব ৷ এটি যে এ কারণে
বলেছে যে দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে যে ধোকায় পড়েছে এবং সে ৰুবশ্বাস করেছে যে, তার প্রতি

আল্লাহর ভালবাসা ও আল্লাহর নিকট তার প্রাপ্য অংশ হিসেবে আল্লাহ তা’ জানা তাকে এসব

দিয়েছেন ৷ আস ইবন ওয়াইল কাফিরও এরুপ বলেছিল ৷

লক্ষ্য করেছ তাকে যে আমার আয়াতসমুহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে আমাকে ধন সম্পদ ও
সন্তান সন্ততি দেয়৷ হবেই ৷ সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে

প্রতিশ্রুতি লাভ করে ৷”৩ এ আয়াতসমুহে আল্লাহ তাআলা আশ ইবন ওয়াইল ও খাব্বাব ইবন
আয়িত (রা)-এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷

আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রাপ্তির পর কতক মানুষের পরিণাম কি হয় তার
বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন :

“সে অবশ্যই বলে যে, এটি আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করি না যে কিয়ামত সংঘটিত

হবে ৷ আর যদি আমার প্রতিপালকের নিকট একান্তই প্র৩ ৷৷বর্তিত হই তার নিকট তা আমার
জন্যে কল্যাণই থাকবে ৷ ষ্শ্৪ এ জা ৷তীয় লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তা আলা বলেন :

“কাফিরদেরর্কে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবগত করব এবং ওদেরকে আস্বাদন
করার কঠোর শাস্তি ৷ ” ৫

১ ২৮ কাসাস ৭৮

২ ২৮ কাসাস ৭৮

৩ ৩৪ সাবাহ ৩৭

৪ ২৩ মুমিনুন ৫৫

৫ ৪১ স্থানীয সাজদা-৫ :

কারুন বলেছিল “এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞান বলে
প্রাপ্ত হয়েছি ৷ অর্থাৎ আল্লাহ জানেন যে, আমি ঐ ধন সম্পদ পাওয়ার হকদাব ৷ এ সম্পর্কে
আ ল্লাহতাআলা বলেন :
সে কি জানত না আল্লাহ৩ তার পুর্বে বহু মানব গোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছেন যারা তার অপেক্ষা
শক্তিতে ছিল প্রবল, সংখ্যায় ছিল অধিক? অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা
হবে না?২ ইতিপুর্বে হযরত মুসা (আ)-এর ঘটনা বর্ণনাকালে আমরা কারুনের ঘটনা আলোচনা
করেছি ৷

অন্ধুল্লশুহ্ তঅন্লত্ত্ব এ
তোমাদের ধ্ন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি এমন কিছু নয় যা তেমােদেরকে আমার

নিকটবর্তী করে দিয়ে ৷ তবে যারা ৷ঈমা ন আসে ও সৎকর্ম করে তা ৷রাই তাদের কর্মের জন্যে পাবে
বহুগুণ পুরস্কার ৷ আর তারা প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে ৷ ণ্ণ্৩

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন০ ং

“ তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরুপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান সন্ততি দান
করেছি তার দ্বারা তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে ৫ ৷ ৪

আয়াতে উক্ত মুর্থ ব্যক্তিটি পার্থিব ধনৈশ্বর্য পেয়ে ঘেড়াকায় পতিত হয় ৷ তাই সে অস্বীকার
করে আখিরাতকে এবং সে যখন দাবি করে যে, আখিরাত যদি সংঘটিত হয়ই তবে সেখানে
প্রভুর নিকট সে এখানকার তুলনায় উৎকৃষ্ট স্থান পাবে আর তার সাথী ঈমানদার ব্যক্তি যখন

এসব কথা শুনল তখন ঈমানদার ব্যক্তিটি তাকে বলল, স্পোটু অর্থাৎ যুক্তি পেশ

করৰুলম্ব এ তুমি কি তত্বকে
অস্বীকড়ার করছ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে ও পরে শুক্র থেকে এবং তারপর

পুর্ণাৎগ করেছেন মানুষের অ ৷কৃতিতে? অর্থাৎ তুমি কি পুনরুথান অস্বীকার করছ অথচ ভুমি জন
যে, আল্লাহ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র থেকে ৷ তারপর পর্যায়ক্রমে
তোমাকে আকৃতি দিয়েছেন ৷ অবশেষে তুমি পরিণত হয়েছ শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন

১ ২৮ কাসাস ৭৮
২ ২৮ কাসাস ৭৮
৩ ৩৪ স্যবাহ ৩৭
৪ ২৩ মু’মিনুন ৫৫

পরিপুর্ণ পুরুষে ৷ ফলে তুমি জ্ঞান লাভ করতে পারছ, হাতে ধারণ করতে পারছ এবং হৃদয়ে
উপলব্ধি করতে পারছ ৷ তাহলে কি করে তুমি পুনরুথান অস্বীকার করছহ্ব অথচ নতুন করে সৃষ্টি
করতেও আল্লাহ তাআলা ক্ষমতড়াবান ৷
“কিত্তু আল্লাহই আমার প্রতিপালক” অর্থাৎ আমি কিন্তু বলি
৫তামার বলার বিপরীত এবং বিশ্বাস করি তোমার বিশ্বাসের বিপরীত যে,
৷ “আল্লাহই আমার প্ৰতিপ লক এবং আমি কাউকে আমার প্রতিপালকের
শরীক কবিনা ৷”১ অর্থাৎ তিনি ব্যতীত ৩অন্য কারো ইবাদত করি না ৷ আমি বিশ্বাস করি যে,
দেশগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তিনি সেগুলোকে পুনরুথান করবেন এবং মৃতদেরকে
পুনরুজ্জীবিত করবেন ৷ চুর্ণ বিচুর্ণ হাতগুলোকে একত্রিত করবেন ৷ আমি এও জানি যে, আল্লাহর
সৃষ্টি জগতে এবং তার রাজত্বে তীর কোন শরীক নেই এবং তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ৷

এরপর ঈমানদার ব্যক্তিটি তার সাথীকে সে আচরণ শিখিয়ে দিচ্ছে বাগানে প্রবেশের সময়
তার যা করা উচিত ছিল ৷ এ সুত্রে সে বলল,
চা ৷ “তুমি যখন তোমার উদ্যানে প্রবেশ করলে তখন :কন বললেনা আল্লাহ যা
চান তইি হয় আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কো ন শক্তি নেই?” এ জন্যে কারো নিকট তা র ধন সম্পদ

ৎবা পরিবার পবিজন কিত্ব৷ ব্যক্তিগত কোন অবস্থা পছন্দসই ও আনন্দদায়ক মনে হলে তার
জন্যে এর একটি
মরফু হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ অবশ্য হাদীসটির বিশুদ্ধতা প্রশ্নাতীত নয় ৷

আবু ইয়ালা মুসিলী বর্ণনা করেন যে, হযরত আনাস (বা) থেকে বর্ণিত আছে যে ,
রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন :

“আল্লাহ কোনৃ বড়ান্দাকে পরিবারে, ধন-সম্পদে কিংবা সম্ভান-সস্তনিতে কোন নিয়ামত দান
করলে সে যদি বলে, তবে সে মৃত্যু ব্যতীত নিয়ামতের
ধ্বংস প্রত্যক্ষ করবে না ৷ তিনি ঐ আঘাতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি এ কথাটি বলেন ৷ হাফিজ
আবুল ফাতহ আবদী এই সনদ বিশুদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ৷ এরপর ঈমানদার সােকটি

তার ক ফির সাথীকে বলল৪ “আমি আশা করি
আমার প্রতিপালক আমাকে তামার উদ্যান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দিবেন ৷ ” অর্থাৎ

আখিরাতে ৷ ; “আর তোমার উদ্যানে আকাশ থেকে

নির্ধারিত বিপর্যয় প্রেরণ করবেন ৷” হযরত ইবন আব্বাস (রা) যাহ্হাক ও ক ৷তাদ৷ (র) বলেন,
অর্থাৎ আকাশ থেকে আবার প্রেরণ করবেন ৷ এখানে বুঝান হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা প্রচণ্ড

বৃষ্টি বর্যণ করবেন যা সকল ক্ষোভ ও বৃক্ষকে উৎপাটিত করে দিয়ে ৷

“ফলে সেটি উদ্ভিদ শুন্য ময়দানে পরিণত হবে “অথবা উহার

পানি ভুগর্ভে অন্তর্হিত হবে ৷ এটি প্রবহমান প্রবনের বিপরীত অতঃপর
তুমি কখনও সেটির সন্ধান লাভে সক্ষম হবে না ৷ অর্থাৎ ঐ পানি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে
সক্ষম হবে না ৷

আল্লাহ তা জানা বলেন “তার সকল সম্পদ বিপর্যয়ে বেষ্টিত হয়ে
গেল ৷ অর্থ ৎ এমন এক বিপর্যয় নেমে এল যে, যা তার সকল ফল ফসল পরিবেষ্টন করে
ফেলল এবং তার উদ্যান ধ্বংস ও বিনষ্ট করে দিল ৷

“এবং যে তাতে যা ব্যয় করেছিল তার জন্য আক্ষেপ করতে লাগল, যখন সেটি মাচানসহ
ভুমিস্যাৎ হয়ে গেল ৷’ ’অর্থাৎ সম্পুর্ণরুপে ধ্বংস হয়ে গেল যার পুনঃ আবাদেব কোন অবকাশই
থাকল না ৷ এটি হল তা র প্রত্যাশার সম্পুর্ণ বিপরীত

যখন সে বলেছিল, ( এ “আমি মনে করি না যে, এটি
কখনও ধ্বং স হয়ে যাবে ৷ অবশেষে সে মহান আল্লাহর সম্পর্কে তার ইতিপুর্বেকার কুফরী
মন্ত্যব্যর জন্য অনুতপ্ত হল এবং বলতে লাগল, “হায়!
আমি যদি কা ৷উকেও আম৷ ৷র প্রতিপালকের শরীক না করতাম ! ’

আল্লাহ তাআলা বলেন৪ এব্লে এ এ
“এবং আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কেউ ছিল না ৷ এবং সে
নিজেও প্রর্তিকারে সমর্থ হল না সেখানে” অর্থাৎ যে দোষ সে করেছে৩ তার ক্ষতিপুরণ করে
দেয়ার মত কেউ ছিল না আর তা র নিজেরও তা করার ক্ষমতা ছিল না ৷ যেমন অন্যত্র আল্লাহ
তা আল৷ বলেন, এণ্১!ছু ১! এ ,ংএে এশু এ ৷ৰুট্র কােন শক্তিও নেই, সাহায্যকারীও নেই ৷

আল্লাহ তা জানা বলেন, ;,;fi এ৷ <১াএপু৷ “সাহায্য করার অধিকার একমাত্র
আল্পাহরই ৷ কতক তাফসীরকার থেকে নতুন বাক্য শুরু
করেন ৷ এরুপ পাঠ করাও উত্তম বর্টে যেমন আল্লাহ তা আলা বলেন,
“সেদিন প্রকৃত কর্তৃতু হবে দয়াময়ের
এবংক কাফিরর্দের জন্য সেদিন হবে কঠিন ৷ তখন কোন অবস্থাতে তা তার নির্দেশ রদ করা যাবে
না, বাধা দেয়া যাবে না ৷ এবং কেউ তা লংঘন করতে পারবে না আর সর্বাবস্থায়ই যথার্থ কতৃতৃ
আল্লাহরই ৷ অবশ্য কত তক তাফসীরকার এ! ! শব্দকে ম্বু১াএ!! শব্দের বিশেষণরুপে পেশ

যুক্তভাবে পাঠ করেছেন ৷ এ দুটো পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত ৷

আল্লাহ তাআলার বাণী “পুরস্কার সালে ও পরিণাম
নির্ধারণে তিনিই শ্রেষ্ঠ ৷ ১ অর্থাৎ ছওয়াব তথা প্ৰতিদানের দিক থেকে এবং পরিণাম তথা দুনিয়া
ও আখিরাতে শেষ ফল রুপে তার আচরণ উদ্যান মালিকের জন্যে উত্তম ও কল্যাণকব ৷

১ ১৮ কাহফ ৪৪

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৩০-

এ ঘটনার অন্তর্নিহিত শিক্ষা এই যে, দুনিয়ার জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং এর বোকড়ায়
পড়া এবং এর প্ৰতি ভরসা করা কারো জন্যে উচিত নয় ৷ বরং সর্বাবন্থায় আল্লাহর আনুগত্য
এবং তার ওপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা রাখাকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য রুপে নির্ধারণ করবে ৷
নিজের হাতে যা আছে তার প্রতি নয় বরং আল্লাহর নিকট যা আছে তার প্রতিই অধিকতর
আস্থাশীল থাকা উচিত ৷ উক্ত ঘটনায় এ শিক্ষা ও রয়েছে যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য ও
তার পথে ব্যয় করা র বিপরীত ৩অন্য কিছুকে তগােধিক৷ ৷র দিলে তার জন্যে তাকে শাস্তি ভোগ
করতে হবে ৷ কখনো কখনো তার আশা আক কাগ্রার বিপরীতে তার ওই ধন-সম্পদ উঠিয়ে নেয়া
হবে ৷

আলোচ্য ঘটনায় এ শিক্ষাও রয়েছে যে, সহানুভুতিশীল ও কল্যাণকামী ভাইয়ের উপদেশ
মেনে চলা কর্তব্য ৷ তার বিরোধিতা ঐ নসীহত প্রত্যাখ্যানকারীর জন্যে দুঃখ ও ধ্বংস ডেকে
আনে ৷ এতে এ ইঙ্গিতও রয়েছে যে, নির্ধারিত শেষ সময় যখন এসে যাবে এবং নির্দেশ যখন
কার্যকর হয়ে যাবে তখন অনুতপ্ত হলেও কোন লাভ হবে না ৷ আল্লাহই সাহায্যকারী তার উপরই
ভরসা

উদ্যান মালিকদের ঘটনা
আল্লাহ তা আলা বলেন :

“আমি ওদেরকে পরীক্ষা করেছি যেভাবে পরীক্ষা কয়েছিলাম উদ্যান মালিকদেরবুক ৷ যখন
তারা শপথ করেছিল যে, ওরা প্রত্যুষে আহরণ করবে বাগানের ফল, এবং তারা ইনশাআল্লাহ
বলেনি ৷ অতঃপর আপনার প্ৰতিপালকের নিকট থেকে এক বিপর্যয় হলো দিল সেই উদ্যানে,
যখন তারা ছিল নিদ্রিত ৷ ফলে সেটি দগ্ধ হয়ে কাল বর্ণ ধারণ করল ৷ প্রত্যুষে ওরা একে

অপরকে ডেকে বলল, তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তবে সকাল সকাল বাগানে চল ৷
অতঃপর ওরা চলল নিম্নস্বরে কথা বলতে বলতে ৷ অদ্য যেন তোমাদের নিকট কোন অভাবগ্রস্ত
এতে প্রবেশ করতে না পারে ৷ তারপর ওরা নিবৃত্ত করতে সক্ষম এ বিশ্বাস নিয়ে প্রভাতকালে
বাগানে যাত্রা করল ৷ ওরা যখন বাগানের অবস্থা প্রত্যক্ষ করল ৷ তখন বলল আমরা তো দিশা
হারিয়ে ফেলেছি ৷ বরং আমরা ৫ত তা বঞ্চিত ৷ ওদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল আমি কি তোমাদের
বলিনি, এখনও তোমরা আল্লাহর পবিত্রত ৷ ও মহিম৷ ঘোষণা করছ না কেনা তখন ওরা বলল,

আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্র৩ ৷ ও মহিম৷ ঘোষণা করছি আমরা ৫৩ তা সীমালৎঘনকারী
ছিলাম ৷৩ তারপর ওরা একে অপরের প্রতি দােষারােপ করতে লাগল ৷ ওরা বলল, হায়! দুর্ভোগ
আমাদের ৷ আমরা তো ছিলাম সীমালৎঘনকারী ৷ সম্ভবত আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে
দিবেন উৎকৃষ্টতর বিনিময় ৷ আমরা আমাদের প্রতিপা ৷লকের অভিমুখী হলাম ৷ শাস্তি এরুপই হয়ে
থাকে এবং আখিরারুত র শাস্তি কঠিনতর ৷ যদি তারা জানত ৷”১ এটি একটি উপম৷ ৷ কৃরায়শ
বংশীয় কা ৷ফিরদের জন্যে আল্লাহ তাআল৷ এ উপমাটি বর্ণনা ৷করেছেন ৷ কারণ আল্লাহ তাআলা
সম্মানিত রাসুল প্রেরণ করে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ কিন্তু এর বিপরীতে ত ৷রা রাসুলকে
প্রত্যাখ্যান ও তার বিরোধিতা করেছে ৷ যেমন আল্লাহ তা আলা বলেন :

“তুমি কি ওদের লক্ষ্য করে৷ না যারা আল্লাহর অনুগ্রহের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে
এবং ওরা ওদের সম্প্রদায়কে নামিয়ে আনে ধ্বংসের ক্ষেত্রে ৷ জাহান্নামে যার মধ্যে ওরা প্রবেশ
করবে, কত নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল ৷” ২

হযরত ইবন আব্বাস (রা) বলেন, এখানে কৃরায়শ বংশীয় কড়াফিরদেরকে বুঝানো হয়েছে ৷
তাদেরকে আল্লাহ তাআল৷ একটি উদ্যানের মালিকের সাথে তুলনা করেছেন ৷ এমন একটি
উদ্যান যার মধ্যে রয়েছে নানা জাত ও নানা রঙের ফলমুল ও শস্য ৷ সেগুলো পরিপক্ক ও কর্তন
যোগ্য হয়ে উঠেছিল ৷

এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাঅ৷ লার বর্ণনা ৷প্রুট্রু;ছু ৷ ১ ৷ “যখন তারা শপথ করেছিল” নিজেদের
মধ্যে ৷শুৰুস্পোপ্রু “তারা আহরন করবে বাগানের ফল” অর্থাৎ ফল কেটে ঘরে তুলবে তথা
শস্য স ৎপ্রহ করবেঅর্থ ৎ ভোর বেলায়” যাতে কো ন ফকীর কিৎব৷ অভাবী লোক
তাদেরকে দেখতে না পায়, এবং ওদেরকে কিছু দিতে না হয় ৷৩ তারা এ বিষয়ে শপথ করেছে
বটে কিত্তু তাতে নশাআল্লাহ বলেনি ৷ ফলে আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ করে দিলেন ৷
তাদের বাগানে প্রেরণ করলেন আপদ ও দুর্যোগ ৷ ঐ দুর্যোপে উদ্যানটি বিরান হয়ে যায় ৷ ঐ
আপদটি ছিল জ্বলম্ভ আগুন ৷ এটি বাগানকে সম্পুর্ণরুপে ধ্বংস করে দেয় ৷ ফলে কাজে আমার
মত কিছুই অবশিষ্ট থাকল না ৷

১ ৬৮ কালাম ১ ৭-৩৩
২ ১৪ ইব্রাহীম ২৭৮-২৯

এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা
“ফলে সেটি পুড়ে গিয়ে কালো বর্ণ ধারণ করল অর্থ ৎ অন্ধকার রত্রির মত কাল হয়ে গেল ৷
এটি হল৩ তাদের আশা আকাগ্রার বিপরীত ৷ “প্রত্যুষে তারা একে
অপরকে ডেকে বলল অর্থ ৎ তারা খুব তো রে ঘুম থেকে উঠল এবং একে অপরকে ডেকে বলল

তবে সকাল সকাল বাগানে চল” এবং বেলা বাড়ার এবং ফকীরের সংখ্যা বৃদ্ধির পুর্বেই ফল
সংগ্রহের কাজ শেষ কর ৷ “তারপর অর্থাৎ তারা চুপি চুপি এ
কথা বলতে বলতে যাত্রা করল” ( অর্থাৎ তারা সবাই
এ বিষয়ে পরামর্শ করে যে ফকীররা যেন কােনমঙ্গু তই ঢুকতে না পারে ৷ একমত হল ৷
বাগানে

যাত্রা করল অর্থাৎ তারা এই অসৎ মতলব মনে মনে এটে তা বাস্তৰয়নে সক্ষম মনে করে যাত্রা
করল তাফসীরকার ইকরম ও শাবী (র) বলেন, অয়তের অর্থ হল , ফকীব-মিসকীনদেব
প্রতি ক্রুদ্ধ মনোভাব নিয়ে তারা রওয়না করল ৷ তাফসীরকার সুদ্দী (র) বলেছেন যে, ওদের
বাগানের নাম ছিল হরদ (১, ) ৷ তবে তার এ বক্তব্য কষ্টকল্পিত ও বাস্তবতা বর্জিত

অর্থাৎ বাগানে গিয়ে পৌছল বাগানের অবস্থা প্রত্যক্ষ করল এবং নিজেদের
মন্দ নিয়াতে র প্রেক্ষিতে সুদৃশা, সবুজ শ্যামল ও মনেরম বাগান যে দুঃখজনক পরিণতি লাভ
করেছে তা দখল তখন তারা বলল, আমরা তো দিশ হারিয়ে ফেলেছি
আমরা আমাদের বাগানে পৌছতে ব্যর্থ হয়েছি এবং অন্য পথে চলে এসেছি ৷

তারপর তারা বলল “বরং আমরা তো বৰ্বা৩ ” অর্থাৎ আমাদের
অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য আমরা শাস্তি প্রাপ্ত হয়েছি এবং ফসলের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়েছি ৷
ণ্ট্রু ন্ঠুট্রু ট্রুঞে “ওদের মধ্যম ব্যক্তি বলল” হযরত ইবন আব্বাস (বা) মুজাহিদ ও অন্যান্য
তাফসীরকা বের মতে এর অর্থ তাদের সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ ও গ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি বলল,“আমি কি তে আমাদেরকে বলিনিঃ এখনও তে মর আল্লাহর পবিত্রত ও
মহিম ঘোষণা করছ না কেন?” কতক৩ তাফসীরকার বলেন, এর অর্থ তোমরা ইনশাঅল্লাহ
বলছ না কেনা মুজাহিদ (র) সুদ্দী (র) ও ইবন জারীর (র)-এর মতে ৷ অন্য কতক
তাফসীরকার বলেন, তোমরা ইতিপুর্বে যে মন্দ কথা বলেছ তার পরিবর্তে এখন ভাল কথা বলছ
না কেন?

“তখন ওরা বলল, আমরা আমাদের প্ৰতিপলকের পবিত্র৩ ও মহিম ঘোষণা করছি ৷
আমরা তো সীমলৎঘনকরী ছিলাম তারপর ওরা একে অপরের প্রতি দােষরােপ করতে
লাগল ওরা বলল, হার ! দুর্ভেগ আমাদের, আমরা তো ছিলাম সীমা ৎঘনকারী ৷ ” তারা তাদের

কৃতকর্মের জন্যে এমন সময় লজ্জিত হল ও অনুতপ্ত হল যখন অনুতপ্ত হওয়ায় তাদের কোন
লাভ হলো না ৷ শাস্তি ভোপের পর তারা দোষ স্বীকার করল ৷ তখন দোষ স্বীকারে কোন কাজ
হয় না “

কথিত আছে যে, ওরা পরস্পরে ভাই ছিল ৷ পিতার মৃত্যুর পর তারা এ বাগানের মালিকানা
লাভ করে ৷ তাদের পিতা এ বাগান থেকে প্রচুর ফলমুল সাদকা করতেন ৷ তারা এটির মালিক
হওয়ার পর পিতার কাজকে তারা বোকামী মনে করল এবং দরিদ্রদেরকে না দিয়ে সম্পুর্ণ ফল
নিজেরইি ঘরে তোলার ইচ্ছা করেছিল ৷ ফলে আল্লাহ তাআল৷ তাদেরকে ঐ কঠিন শাস্তি প্রদান
করলেন ৷ এ কারণেই আল্লাহ তাআল৷ ফলের সাদকা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফল
কাটার দিবসে সাদকা প্ৰদা নে উৎসাহিত করেছেন ৷

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যখন সেটি ফলবান হয় তখন সেটির ফল আহরণ করবে এবং ফসল তাের্লার দিনে সেটির হক
আদায় করবে ৷ এ কতক ভ্রাফসীরকার বলেন এই উদ্যানের মালিকগণ ইয়ামানের যারওয়ান
নামক জনপদের অধিবাসী ছিল ৷ অন্য কতক তাফসীরকারেয় মতে, তারা ছিল আবিসিনিয়ার
অধিবাসী ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন , ৷ “শাস্তি এরুপই হয়ে
থাকে” অর্থাৎ যে আমার বিদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং সুষ্টি জগতের অভাবীদের প্রতি দয়া
প্রদর্শন না করে তাঃক আমি এভাবেই শান্তি দিয়ে থাকি ৷ এদ্বু ৷ ১ এর্মু১৷ ৷ ৷ ষ্৷ এ “এবং
আখিরাতের ৷৷ন্তি কঠিনতর” অর্থাৎ দুনিয়া র আমার অপেক্ষা অধিক ভয়াবহ ও স্থায়ী ৷
“যদি তারা জানত ৷”

আলোচ্য উদ্যান মালিকদের ঘটনা আল্লাহ তাআলার বাণী আয়াত দ্বয়ে বর্ণিত ঘটনার
অনুরুপ ৷ আল্লাহ তাঅ ৷লা উক্ত আয়াতদ্বয়ে বলেছেন :

“আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিত, যেখানে আসত সব দিক
থেকে প্রচুর জীবনােপকরণ : তারপর তারা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করল ৷ ফলে তারা বা
করত তার জন্যে আল্লাহ তাদেরকে আস্বাদ গ্রহণ করালেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের ৷ তাদের
নিকট তো এসেছিল এক রাসুল,৩ তাদেরই মধ্য হতে কিভু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল

ফলে সীমা লংঘন করা অবস্থায় শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল ৷”২ কোন কোনাফসীরকার
বলেছেন, এটি একটি উপম৷ ৷ মক্কাবাসীদের নিকট এই উপমাটি পেশ করা হয়েছে ৷ অপর

১ ৬ আনআম ১৪১
২ ১৬ নাহল ১১২-১১৩

কতক তাফসীরকার বলেন,আলােচ্য দৃষ্টান্ত দ্বারা মক্কাবাসীদেরকেই বুঝানো হয়েছে ৷ তাদেরকে
এবং তাদের কাজ কর্মবেইি তাদের নিকট দৃষ্টান্ত রুপে পেশ করা হয়েছে ৷ এ উভয় মতের মধ্যে
কোন বিরোধ নেই ৷ আল্লাহই সঠিক জানেন ৷

সাবুত১ বিষয়ক সীমা লংঘনকারী আয়লা অধিবাসীদের ঘটনা
সুরা আরাফে মহান আল্লাহ তাঅ ৷লা বলেন,

“তাদেরকে সমুদ্র তীরবর্তী জনপদবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস কর, তা ৷র৷ শনিবারে সীমালংঘ
করত ৷ শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানিতে ভেসেত তাদের নিকট আসত ৷ কিংম্বু যেদিন৩ ৷ ৷রা
শনিবার উদযাপন করত ৩ন৷ ৷ সেদিন মাছগুলাে৩ তাদের নিকট আসত না ৷ এভাবে তাদেরকে
পরীক্ষা করেছিলাম, যেহেতু তারা সত্য ত্যাগ করত ৷

স্মরণ কর, তাদের একদল বলেছিল, আল্লাহ যাদেরকে ধ্বংস করবেন : কিংবা কঠোর শাস্তি
দিবেন, তোমরা তাদেরকে সদৃপদেশ দা ও কেনা তারা ৷ব,লেছিল তোমাদের প্রতিপালকের নিকট
দায়িতৃ মুক্তির জন্য এবং যাতে তারা সাবধান হয় এ জন্যে ৷ যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া
হয়েছিল তারা যখন সেটি বিস্মৃত হয় তখন যারা অসৎ কার্য থেকে নিবৃত্ত করত৩ ৩তাদেরকে আমি
উদ্ধার করি এবং যারা জুলুম করে তারা কুফরী করত বলে আমি তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেই ৷
তারা যখন নিষিদ্ধ কার্য ঔদ্ধতা সহকারে করতে লাগল তখন তাদেরকে বললাম , ঘৃণিত বানর
হও

সুরা বাকারাতে আল্লাহ বলেন

১ সাবৃত শব্দের অর্থ শনিবার ৷ ঐটি ইয়াহুদীদের সাপ্তাহিক ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট ছিল ৷
২ ৭ আরাফ ১৬৩-১৬৬
৩ ২ বাকার৷ ৬৫

স্পোট্রু৷ ৰুা ; প্রুটুৰুট্রু তোমাদের মধ্যে যারা শনিবার সম্পর্কে সীমালংঘন করেছিল তাদেরকে
তোমরা নিশ্চিতভ৷ ৷বে জা ন ৷ আ ৷মি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা ঘৃণিত বানর হও ৷ আমি এটি
তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীগণের শিক্ষা গ্রহণের জন্য দৃষ্টান্ত ও মুত্তাকীদের জন্যে উপদেশ
স্বরুপ করেছি ৷ ”৩
অন্যত্র ৯আল্লাহ তাআল৷ বলেন থবা সাবৃতওয়ালাদেরকে যেরুপ লানত করেছিলাম যেরুপ তা
অদেরকে লানত
করার পুর্বে ৷ আল্লাহর আদেশ কার্যকরী হয়েই থাকে ৷”

ইবন আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরীমা, কাতাদা, সুদ্দী (র) ও তানা৷ন্য মুফাসসিরগণ বলেছেন,
এরা ছিল আয়লা বা ঈলা (দ্রা৪া৷া) অধিবাসী ৷ ইবন আব্বাস (বা) এও বলেছেন যে, স্থানটি
মাদয়ান ও তুর এর মধ্যস্থলে অবস্থিত ৷৩ তাফসীরকারগণ বলেন, যে যুগে তাওরাতের শিক্ষা
অনুযায়ীতার৷ শনিবারে পার্থিব কাজকর্ম হারাম জ্ঞান করত ন্া১লে মাছ এ দিবসে তাদের পক্ষ
থেকে নিরাপদ ও স্বস্তিরু৩ থাকত ৷ কারণ ঐ দিন মাছ শিকার করা তাদের জন্যে হারাম ছিল ৷
সকল প্রকারের কাজ-কর্ম ব্যবসা বাণিজ্য ও আর উপার্জন সেদিনের জন্যে হারাম ছিল ৷
শনিবারে প্রচুর মাছ তাদের সমুদ্র তীরবর্তী আবাসিক এলাকার কাছাকাছি চলে আসত এবং
নির্ভয়ে-নিরাপদে এদিক-ওদিক ঘোরাফের৷ করত ৷ তারা ওগুলো ধরতও না ওগুলোকে ভীতি
প্রদর্শনও করতো না ৷

৷ ১’ “যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করত ৩ন৷ সেদিন
তাদের নিকট মাছও আসত না’ এ জন্যে যে, শনিবার ব্যতীত অন্যান্য দিনে৩ রা৷ মাছ শিকার
করত ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন “এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা
করেছিলাম ৷” অর্থ৷ ৷ৎ শনিবারে প্রচুর মাছের আনাগােনার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে তাদেরকে যাচাই

করেছিলাম ঠুটুড়ুরব্লুৰু ৷প্রু১াহ্র ৷; “যেহেতু তারা সত্য তাগ করত ৷” অর্থাৎ তাদের
ইতিপুর্বেকার সত্যত্যাগের কারণে ৷

তারা শনিবারে প্রচুর মাছের সমাহার দেখে শনিবারেই তারা মাছ শিকারের ফন্দি ঘোজে ৷
তারা রশি, জাল ও বড়শী তৈরি করে এবং খালও খনন করে রাখে ৷ ঐ খাল হয়ে পানি যেন
তাদের তৈরি শিকার ক্ষেত্রে পৌছে ৷ পানির সাথে মাছ তাদের প্রন্তুতকৃত শিকার ক্ষেত্রে গিয়ে
পৌছলে যেন বের হতে না পারে ৷

পরিকল্পনা মুতাবিক৩ারা সব কিছু তৈরি করে নেয় ৷ শুক্রবারে তারা যন্ত্রপাতি ও সকল
কৌশল কার্যকর করত ৷শনিবারে নির্ভয়ে মাছগুলো যখন উপস্থিত হত তখন শিকার ক্ষেত্রের
মুখ বন্ধ করে দেয়৷ হত ৷ শনিবার চলে গেলে তারা মাছগুলো ধরে আনত ৷

আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অসত্তুষ্ট হলেন এবং৩ তাদেরকে লানত দিলেন ৷ কারণ তারা
আল্লাহর নিদেশের বিরুদ্ধে এমন কৌশল অবলম্বন করেছিল বাহ্যিকভাবে তা কোন লই মনে হবে
কিন্তু মুলত ৩সেটি ছিল আল্লাহর নিদােশর স্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ ৷

তাদের একদল এ সকল কাজ করার পর যারা তা করেনিত ৷রা দু দলে বিভক্ত হয়ে যায় ৷
একদল ওদের এ অপকর্ম এবং আল্লাহর নির্দেশের ও তার শরীয়ব্লুৎ তর বিরোধিতা করাকে
প্রত্যাখ্যান করে ৷ অপর দল নিজেরা ঐ অপকর্মে লিপ্ত হয়নি, আবার অপকর্মে লিপ্তদেরকে
বাধাও দেয়নি ৷ বরং যারা বাধা দিয়েছিলতারা তাদেরকে তিরস্কার করেছিল ৷ এবং বলেছিলং :

“আল্লাহ যাদেরকে ধ্বংস করবেন কিৎবা কঠোর শাস্তি দিবেন তোমরা তাদেরকে সদৃপদেশ
দাও কেন?’ অর্থাৎ তাদেরকে বাধা দানে লাভ কিন্তারা নি তত ৷বে শাস্তি ভোগের উপযুক্ত
হয়েছে ৷ বাধাদানকারী দল উত্তর দিল যে,, তোমাদের প্ৰতিপালকের
নিকট৷ দ ৷য়িতু মুক্তির জন্যে ৷” অর্থাৎ আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের বাধাদানের
যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আল্লাহর শাস্তির ভয়ে আমরা যে দ যিষ্হুই পালন করছি ৷
এবৎ যাতে তারা সাবধান হয় অর্থাৎ এমনও হতে পারে যে তারা তাদের অপকর্ম
থেকে বিরত হবে ৷ ত রা যদি আমাদের উপদেশ গ্রহণ করে এবং অপকর্ম থেকে ফিরে আসে

তবে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং তার আমার থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন ৷

আল্পাহ্তাআলা বলেন ৷ “যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয়েছিল
তারা যখন তা বিস্মৃত হয় ৷” অর্থাৎ যারা এ গর্হিত অপকর্ম থেকে বারণ করেছিল তাদের প্রতি
কর্ণপাত করেনি ৷ ন্ট্রুশুপু ৷ ব্লু ৷ তখন যারা অসৎকর্ম থেকে নিবৃত্ত
করত আমি তাদেরকে উর্দ্ধার করি ৷” এরা হল সৎ কাজে আদেশ দানকারী ও অসৎকাজে
নিবৃত্তকারী দল ৷ ৷ এ “এবং যারা জুলুম করে অর্থাৎ
দুষ্কর্ম করেছে আমি তাদেরকে কঠিন শাস্তি র্দিহ ৷” অর্থাৎ যস্ত্রণাদায়ক শাস্তি ৷ ৷এ;দ্বু ৷ং

ওেদ্বুব্লু তারা সীমড়ালঙ্ঘন করত বলে তারপর আল্লাহ তা জানা তাদের উপর আপতিত

শাস্তির বিবরণ দিচ্ছেন এই বলে
ট্রু ন্ৰু পু;া যখন তারা নিষিদ্ধ কার্য ঔদ্ধত্য সহকারে করতে লাগল তখন তাদেরকে বললাম,
ঘৃর্ণির্ত বানর হয়ে যাও” এ সম্পর্কে আরও যে সকল আয়াত এসেছে একটু পরেই আমরা
সেগুলো উল্লেখ করব ৷

ষোদ্দাকথা, আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিলেন যে, যারা জালিম ছিল তিনি তাদেরকে ধ্বংস
করেছেন আর তাদের অপকর্ম প্রতাথ্যানকারী ঈমানদারদেরকে তিনি রক্ষা করেছেন ৷ কিন্তু
নিরবতা অবলম্বনকড়ারী ঈমানদারগণের ব্যাপারে কিছু বলেননি ৷ ফলে নীরবতা অবলম্বনকারী
ঈমানদারগণের পরিণতি সম্পর্কে আলিমগণের দু’টি মত রয়েছে, একদল বলেন, এরা উদ্ধার
প্রাপ্তদের সাথে উদ্ধার লাভ করেছেন, আর অপর দল বলেন, তারা ধ্বংস প্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস
হয়েছে ৷ মুহাক্কিক আলিমগণের মতে প্রথম অভিমতটিই সঠিক ৷ শ্রেষ্ঠ তাফসীরকার হযরত ইবন
আব্বাস (রা) শেষ পর্যন্ত এ অভিমতটিই গ্রহণ করেছেন ৷ তীর আযাদকৃত দাস ইকরামার সাথে
যুক্তি তর্কেব প্রেক্ষিতে তিনি এ সিদ্ধান্তে পৌছেন ৷ এজন্যে ইকরামা (না)-কে তিনি এক জোড়া
উচ্চ মুল্যের পোশাক দানে সম্মানিত করেন ৷

আমার মতে, নীরবতা অবলম্বনকারী দলকে নাজাত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করা হয়নি এ
জন্যে যে, তারা অম্ভরে ওদের অশ্লীলতাকে অপছন্দ করেছিল বটে, কিন্তু তাদের উচিত ছিল
বাহ্যিক দিকটাকেও অস্তরের দিকের ন্যায় মৌখিকভাবে প্রত্যাখ্যানের স্তরে উন্নীত করা ৷ এটি
অবশ্য মধ্যম স্তরের অবস্থান ৷ সর্বোচ্চ স্তর হল অন্যায় কাজকে সরাসরি শক্তি প্রয়োগে বাধা
দান, এর পরের স্তর হল মুখে প্রতিবাদ করা এবং তুউায় স্তর হল অম্ভরে ঘৃণা করা ৷

আলোচ্য নীরবতা অবলম্বনকারী লোকদের কথা যখন স্পষ্টভারে উল্লেখ করা হয়নি তখন
নিশ্চয়ই তারা নাজাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ৷ কারণ তারা অশ্লীল কাজে অংশ গ্রহণ করেনি বরং
অশ্লীলতাকে ঘৃণা করেছিল ৷

আবদুর রাজ্জাক আতা থুরাসানী (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ;য যারা উল্লেখিত অপকর্ম ও
পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল শহরের অন্য অধিবাসীরা তাদের ক সমাজচ্যুত করেছিল এবং কেউ
কেউ তাদেরকে ঐ অপকর্মে বাধাও দিয়েছিল ৷ কিম্বু তারাঐ উপদেশ গ্রহণ করেনি ৷

বাধা দানকারীরা একটি পৃথক স্থানে রাত্রি যাপন করত এবং অপরাধী ও নির্দোষদের মাঝে
অম্ভরায় স্বরুপ স্থাপিত দরজাগুলো রাতে বন্ধ করে রাখত ৷ কারণ, তারা অপকর্মকারীদের
ধ্বংসের অপেক্ষায় ছিলেন ৷ একদিন ভোরবেলা দেখা গেল ওদের দিককার দরজা বন্ধ ৷ ওরা
দরজা থােলেনি ৷ অনেক বেলা হয়ে গেল ৷ শহরের অধিবাসিগণ একজন লোককে ওদের
সিড়িতে ওঠে ওপর থেকে তাদের অবস্থা জেনে নিতে নির্দেশ দিল ৷ উপরে উঠে সে দেখতে
পেল যে, ওরা সবা ৷ই লেজ বিশিষ্ট বানরে পরিণত হয়ে রয়েছে ৷ তারা লাফালাফি ও দৌড়াদৌড়ি
করছিল ৷ শেষে ওদের দরজা খোলা হল ৷ বানরেরা তাদের আত্মীয় স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সােকদেরকে
চিনতে পেয়েছিল কিন্তু আত্মীয় স্বজনেরা ওদেরকে চিনতে পারেনি ৷ ওরা অসহায়ভারে আত্মীয়
স্বজনের নিকট আশ্রয় চাচ্ছিল ও কাকুতি মিনতি করছিল ৷ অপকর্মে বাধা দা৷নকারী লোকেরা
ভৎসনার স্বরে বলছিল, আমরা ৷কি ওে আমাদেরকে অপকর্মে নিষেধ করিনিঃ মাথা নেড়ে বানরেরা
সায় দিচ্ছিল যে, হ্যা , নিষেধ করেছিলে ৷

এতটুকু বলে হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) কেদে ফেললেন ৷ তিনি বললেন
আমরা তো এখন বহু অন্যায় ও গর্হিতক কাজ দেখছি কিন্তু তা প্ৰতিরোধও করছি না এবং ঐ
বিষয়ে কোন কথাও বলছি না ৷ আওফী (র) হযরত ইবন আব্বাস (রা)-এর উদ্ধৃতি ৩দিয়ে বলেন,
ঐ জনপদের যুবকরা বানরে পরিণত হয়েছিল, আর বৃদ্ধরা পরিণত হয়েছিল শুকরে ৷

ইবন আবী হাতিম ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তারা
অল্প সময় জীবিত থেকেই মরে গিয়েছিল ৷ ওদের আর কোন বংশধর হয়নি ৷

যাহ্হাক (র) হযরত ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, বানরে রুপান্তরিত
মানুষগুলাে৩ তিনদিনের বেশি জীবিত থাকেনি ৷ এদের খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের কোন সুযোগ
হয়নি ৷ ওদের কোন বংশধরও হয়নি ৷ সুরা বাকাব৷ ও সুরা আরাফের৩ তাফসীরে আমরা এ
সম্পর্কিত বর্ণনাগুলাে বিস্তারিত আলোচনা ৷করেছি ৷

আল-বিদড়ায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৩১-

ইবন আবি হাতিম ও ইবন জারীর মুজাহিদ (র) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন
মুলত ঐ লোকগুলোর অন্তঃকরণ সমুহ বিকৃত করে দেয়া হয়েছিল ৷ দৈহিকভাবে বাবর ও শুকরে
তারা পরিণত হয়নি ৷ বরং এটি একটি রুপক উদাহরণরুপে আল্লাহ তাআলা এটা বর্ণনা
করেছেন ৷ যেমন অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
“তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে পুস্তক বহনকারী গর্দভের মত ৷ তার এ বর্ণনার র্সনদ বিশুদ্ধ হলেও
বর্ণনাটি অত্যন্ত গরীব পর্যায়ের ৷ এটি কুরআন মজীদের প্রকাশ্য বর্ণনার বিপরীত এবং এ
বিষয়ে বহু প্রাচীন ও আধুনিক উলামা-ই-কিরামের স্পষ্ট বক্তব্যের বিরোধী ৷ আল্লাহই ভাল
জানেন ৷

জনপদ অধিবাসীদের ঘটনা ৷ “যখন তাদের নিকট এসেছিল
রাসুলগণ ৷” হযরত মুসা (আ) এর ঘটনা বর্ণনা ৷র পুর্বে ঐ জনপদ অধিবাসীদের ঘটনা আলোচিত
হয়েছে ৷ সাবা অঞ্চলের অধিবাসীদের ঘটনা ৷ অড়ারবদের ইতিহান্ব্ অধ্যায়ে সাবার অধিবাসীদের
কথা আলোচিত ৩,হবে ইনৃশাআল্লাহ ৷

থিযির (আ) ফিরআওন ও যাদুকরগণ সম্পর্কে মুসা (আ) এর বর্ণনা প্রসঙ্গে আলোচনা করা
হয়েছে ৷ গাভীর ঘটনাটিও মুসা (আ)এর বর্ণনায় আলোচিত হয়েছে ৷ মৃত্যু তার যে কয়েক
হাজার লোক নিজেদের বাসস্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল ৷ তাদের কথা হিযকীল’ এর বর্ণনায়
আলোচিত হয়েছে ৷ মুসা (আ) এর পর আগত বনী ইসরাইলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্পের কথা
শামুয়েল (আ)-এর বর্ণনায় আলোচিত হয়েছে ৷ আর জনপদ অতিক্রমকারী ব্যক্তির কথা
আলোচিত হয়েছে হযরত উযায়র (আ) এর বর্ণনায় ৷

হযরত লুকমান (আ)-এর ঘটনা

“আমি লুকমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে, আল্লাহর প্ৰতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ কর ৷ যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তা করে নিজেরই জন্যে এবং কেউ অকৃতজ্ঞ
হলে আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্ৰশংসার্চু ৷ স্মরণ কর, যখন লুকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে
বলেছিল, হে বৎসৰু আল্লাহর কোন শ্ারীক করে৷ না, নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম ৷ আমি তো
মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি ৷ মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ
করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছ ডান হয় দুবছরে ৷ সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার
পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও ৷ প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট ৷ তোমার ৷পতামা৩ ৷ যদি
তোমাকে পীড়াপীড়ি করে আমার সমকক্ষ দী ড় করাতে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>