ঊমাইয়া ইবন আবুস সালত ছাকাফী

উমাইয়া ইবন আবুস সাল্ত ছাকাফী

হাফিজ ইবন আসাকির বলেন, উমাইয়া ইবন আবুসৃ স্যলত-এর বংশ লতিকা নিম্নরুপঃ
উমাইয়া ইবন আবুস সালত আব্দুল্লাহ ইবন আবী রবীয়া ইবন আওফ ইবন আক্দ ইবন আয্যা
ইবন আওফ ইবন ছাকীফ ইবন মুনাব্বিহ ইবন বাক্ব ইবন হড়াওয়াযিন আবু উছমান, তাকে
আবুল হাকাম ছাকাফী বলা হত ৷ তিনি জাহিলিয়তের যুগের একজন কবি ৷ ইসলামের পুর্বে
তিনি দামেশকে আগমন করেন ৷ কেউ কেউ বলেন, তিনি সরল পথের অনুসারী এবং জীবনের
শুরু থেকেই ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ৷ পরবর্তীতে তার ঈন্মস্টনবিচ্যুতি ঘটে ৷ পবিত্র
কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার কথাটি উল্লেখ করেহ্যেহু ! আয়াতটি হল :

তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শোনাও, যাকে আমি দিয়েছিলাম নিদর্শন,

তারপর যে তা বর্জন করে ও শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত
হয় ৷ (৭ আরাফ : ১৭৫)

যুবাইব ইবনে বাক্কার বলেন, এর কন্যা হচ্ছে রুকাইয়া আবদ শাম্স ইবন আবদ মানড়াফ
করি উমাইয়া ইবন আবুস্ সাল্ত এর মা ৷ আবুসৃ সালত এর মুল নাম রবীয়া ইবন ওহ্ব
ইবন আল্লাজ ইবন আবু সালামা ইবনে ছাকীফ ৷

অন্যরা বলেন, উমাইয়ার পিতা ছিলেন তায়েফের বিখ্যাত কবিদের একজন ৷ উমাইয়া ছিল
এদের মধ্যে সর্বাধিক খ্যাতিমান ৷

আব্দুর রাঘৃযাক ছাওরী সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন আমর (বা) উপরোক্ত
আয়াতের ব্যাখ্যার বলেছেন, এই আয়াতে উমাইয়া ইবনে আবুস্ সাল্তের প্রতিই ইঙ্গিত করা
হয়েছে ৷

আবু বকর ইবনে মরদুইয়া নাফে’ ইবনে আসিম ইবনে মাসউদ হতে বর্ণনা করেন যে,
তিনি বলেন, আমি একদিন এমন একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, যেখানে আব্দুল্লাহ ইবন
আমরও ছিলেন ৷ সেই মজলিসে এক ব্যক্তি সুরা আরাফের পুর্বোক্ত আয়াত পাঠ করলে
আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি জান, লোকটি কে? উত্তরে কেউ
বলল, লোকটি হচ্ছে সাইফী ইবন রাহিব ৷ কেউ বলল, বালআম নামক বনী ইসরাঈলের জনৈক
ব্যক্তি ৷ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বললেন, না ৷ প্রশ্ন করা হল, তবে লোকটি কে? তিনি

বললেন, সােকটি হচ্ছে উমাইয়া ইবন আবুসৃ সাল্ত ৷ আবু সালেহ্, কড়ালবী ও কাতাদা প্রমুখ
অনুরুপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ৷

তাবারড়ানী বর্ণনা করেন যে, আবু সুফিয়ান বলেন, আমি এবং উমাইয়া ইবন আবুস্ সাল্ত
ছাকাফী একবার বাণিজ্য উপলক্ষেদ্র সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই ৷ পথে কোথাও যাত্রা বিরতি
দিলে উমাইয়া আমাকে একটি লিপিকা পাঠ করে শুনাতো ৷ এইভাবে আমরা খৃষ্টানদের একটি
গ্রামে গিয়ে পৌছি ৷ তখন গ্রামের খৃষ্টানরা এসে উমাইয়াকে স্বাগত জানায় এবং উমাইয়া তাদের
সাথে তাদের বাড়ীতে যায় ৷ দুপুরে ফিরে এসে সে পরনের পোষাক খুলে ফেলে দুটি কালো
কাপড় পরে নেয় এবং পরে আমাকে বলল, আবু সুফিয়ানৰু এই অঞ্চলে একজন বিজ্ঞ খৃষ্টান
আলেম আছেন, আপনি ইচ্ছা করলে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন ৷ আমি বললাম , না,
আমার কোন প্রয়োজন নেই ৷ আল্লাহ্র শপথ! যদি ণ্ণ্ব্ আমাকে আমার মনঃপুত কোন কথা
বলে, তাতে আমি তার প্রতি আস্থা স্থাপন করতে পারব না ৷ আর যদি সে আমার দৃষ্টিতে
অপ্রীতিকর কোন কথা বলে , তা হলে আমি অবশ্যই তার প্ৰতি ক্ষুব্ধ হবো ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এর পর উমইিয়া চলে যায় এবং জনৈক প্রবীংল্কি খৃষ্টানের সাথে কথা
বলে ৷ আবার আমার নিকট ফিরে আসে ৷ এসে বলল, আচ্ছা এই প্রবীণ লোকটির নিকট যেতে
আপনার বাধা কোথায়ঃ আমি বললাম, আমি তো তার ধর্মের অনুসারী নই! উমাইয়া বলল, তা
সত্বেও তা থেকে কিছু বিস্ময়কর কথা তো শুনতে পারবেন এবং তাকে দেখতে পারবেন ৷

তারপর সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা আপনি কী ছাকীফ বংশীয়ঃ আমি বল্লাম , না ৷
বরং আমি কুরাইশী ৷ উমাইয়া বলল, তবে লোকটির কাছে যেতে আপনার অসুবিধাটা কোথায়?
আল্লাহর শপথ ৷ অবশ্যই তিনি আপনাদেরকে ভালােবাসেন ও আপনাদের মঙ্গল কামনা করেন ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এ কথা বলে উমাইয়া আমার নিকট থেকে চলে গিয়ে তাদের নিকট
রয়ে যায় ৷ পরে রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর এসে কাপড় ছেড়ে সে সটান
বিছানায় শুয়ে পড়ে ৷ আল্লাহর শপথ ! সারাটা রাত সে ঘুমায় নি বা উঠেও যায়নি ৷ ভোরে তাকে
ক্লান্ত শ্রান্ত ও চিস্তিত অবস্থায় দেখা যায় ৷ সারাদিন যে আমাদের সাথে কোন কথাও বলেনি,
আমরাও তার সাথে কোন কথা বললাম না ৷

অতঃপর সে বলল, এবার কি আমরা রওয়ানা হতে পারি? আমি বললাম, তোমার নিকট
বাহন আছে কি? যে বলল, ইভ্রা আছে ৷ আমরা রওয়ানা হলাম ৷ টানা দুই রাত পথ চললাম ৷
তৃতীয় রাতে উমাইয়া আমাকে বলল, আবু সুফিয়ান ! কথা বলছেন না যে ! আমি বললড়াম , তুমিই
তো কথাবার্তা ছেড়ে দিয়েছ ৷ আল্লাহর শপথ! আমি বললাম, তোমার আবার প্রত্যাবর্তন স্থল
আছে নাকি হো সেদিন তুমি তোমার বন্ধুর নিকট থেকে আসা অবধি আমি তোমাকে যেমন
দেখছি, তেমনটি তোমাকে আমি কখানাে দেখিনি ৷ উমাইয়া বলল, ব্যাপারটির হেতু আপনি
নন ৷ আমি আমার প্রত্যাবর্তন স্থল সম্পর্কে ভীত ৷ আল্লাহর শপথ ৷ আমি একদিন মৃত্যুবরণ
করব ৷ তারপর আমাকে জীবিত করা হবে ৷ আমি বললাম, তুমি কি আমার আমানত গ্রহণ

করতে পার? উমাইয়া বলল, কোন শর্তে আমি আপনার আমানত গ্রহণ করব? আমি বললাম,
এই শর্তে যে, পুনরায় উথিত করা হবে না এবং তোমার কোন হিসাব-নিকাশও নেওয়া হবে না ৷
এ কথা শুনে উমাইয়া হেসে দিল এবং বলল, আবু সুফিয়ান ! আমরা অবশ্যই পুনরুথিত হবো ৷
তারপর আমাদের হিসাব-বিকাশ নেওয়া হবে ৷ পরিশেষে একদল জান্নাতে প্রবেশ করবে আর
এক দল জাহান্নামে যাবে ৷ আমি বললাম, তা তুমি এই দুটার কােনটায় যাবে বলে তোমার
বন্ধুটি তোমাকে জানানো? উমাইয়া বলল, আমার বন্ধুর এ ব্যাপারে আদৌ কোন জ্ঞান নেই ৷
আমার ব্যাপারে তো নয়ই, তার নিজের ব্যাপারেও নয় ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এভাবে আমরা আরও দুই রাত ণ্কাটালাম ৷ সে আমাকে
আজব-আজব কথা শোনার আর আমি হেসে খুন হই ৷ এক সময়ে আমরা দামেশকের গােতা
অঞ্চলে এসে পৌছি ৷ এখানে আমরা আমাদের পণ্য সম্ভার বিক্রয় করি এবং দুই মাস অবস্থান
করি ৷ তারপর রওয়ানা হয়ে আমরা একটি খৃষ্টান পল্লীতে ণিদ্বুয় উপনীত হই ৷ সেখানকার
লোকেরা উমাইয়াকে দেখে এগিয়ে আসে এবং৩ তাকে উপচৌকনদ্দো দেয় ৷ উমাইয়া তাদের
সাথে তাদের গীর্জায় যায় এবং দুপুরের পরে ফিরে এসে কাপ্ ৷ড় পান্টিয়ে আবার চলে যায় ৷
এইবার সন্ধ্য৷ রাতে র পর ফিরে এসে কাপড় ছেড়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে আল্লাহর শপথ
সারাটা রাত্র সে একদণ্ড ঘুমাল না ৷ চিস্তিত ও ভারাক্রাম্ভ মনে এপাশ-ওপাশ করে ক টাল ৷
সে-ও আমাদের সাথে কোন কথা বলল না, আমরাও তার সাথে কথা বললাম না ৷

অতঃপর সে বলল, এবার আমরা রওয়ানা হই ৷ আমি বললাম, ইচ্ছা হলে চল ! আমরা
রওয়ানা হলাম ৷ কয়েক রাত কেটে গেল ৷ উমাইয়া তেমনি-ই দুঃখ ভারাক্রাম্ভ রয়ে গেল ৷ তার
পর সে বলল, আবু সুফিয়ান! আসুন, আমরা দ্রুত আঃসুর হয়ে সৎগীদের আগে চলে যাই ৷
আমি বললাম, কেন? কোন প্রয়োজন আছে নাকি? সে বললাে, আছে বৈ কি! তখন আমরা

দুইজন সৎগীদের পেছনে ফেলে খানিকটা সামনে এগিয়ে গেলাম ৷ এবার উমাইয়া বললাে,

আচ্ছা উতব৷ ইবনে রবীয়া সম্পর্কে বলুন৫ ৷,তিনি কি অন্যায় অবিচার এবং বৈধ অবৈধ
বিবেচনা করে চলেন?

আমি বললাম, ইা, আল্লাহর শপথ! উমাইয়া বলল, তিনি কি আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায়
রাখেন এবং বজায় রাখতে আদেশ করেন?

আমি বললাম, হীা, আল্লাহর শপথ ৷ উমাইয়া বলল, পিতা-মাতা উভয় দিক থেকেই কি
তিনি কুলীন-সমাজে শ্রদ্বেয় ব্যক্তি? আমি বললাম, ই৷ ৷

উমাইয়া বলল, আচ্ছা, আপনার জানামতে কুরাইশ বংশে তার চাতইয়ু ৩সম্রাম্ভ ব্যক্তি আর
কেউ আছেন কি ?

আমি বললাম, না, আল্লাহর শপথ তার চাইতে সক্সাম্ভ আর কেউ আছে বলে আমি
জা লি না ৷

উমাইয়া বলল, তিনি কি দরিদ্র? আমি বললাম, না ৷ বরং তিনি প্রচুর সম্পদের অধিকারী ৷
উমাইয়া বলল, তার বয়স কত, বলতে পারেন?

আমি বললাম, একশ’ পেরিয়ে গেছে ৷ উমাইয়া বলল, আচ্ছা বৎশ-মর্যাদা, সম্পদ এবং
বয়স কি র্তাকে বিপথগামী করেছে?

আমি বল্লাম , না, কেন এ সব র্তাকে বিপথগামী করবেঃ বরং এ সব তার কল্যাণ আরো
বৃদ্ধি করেছে ৷ উমাইয়া বলল, আ ই বটে ! এখন কি ঘুমাবেঃ আমি বললাম, ইক্ত৷ ৷ তারপর আমি
শয়ন করলাম আর উমাইয়া তার সড়ামান পত্রের নিকট চলে গেল ৷ কিছুক্ষণ ৰিশ্রামের পর
আমরা আবার যাত্রা শুরু করলাম ৷ কিছুদুর অগ্রসর হয়ে এক স্থানে অবতরণ করে রাত
কাটালাম ৷ তারপর আবার রওয়ানা হলাম ৷ আমরা দুইটি থােরাসানী উটনীতে সওয়ার হয়ে
চলতে লাগলাম ৷ আমরা একটি খোলা ময়দানে গিয়ে পৌছলাম ৷ তখন উমাইয়া বলল, উতবা
ইবনে রবীয়া সম্পর্কে বলুন, তিনি কি অবৈধ কাজ ও জুলুম-অত্যচাের পরিহার করে চলেনঃ
তিনি কি আত্মীয়তা বজায় রাখেন এবং তা বজায় রাখার জন্য আদেশ করেন?

আমি বললাম, হীড়া, আল্লাহর শপথ ! তিনি তা’ করেন ৷ উমাইয়া বলল, তিনি কি
সম্পদশালী ৷ উমাইয়া বলল, কুরাইশ গোত্রে তার চেয়ে ষ্ম্ভাম্ভ আর কেউ আছে বলে আপনি
জানেন কি? আমি বললাম , না ৷

উমাইয়া বলল, তার বয়স কত হবো আমি বললাম, একশ’র উপরে ৷ উমাইয়া বলল,
বয়স, বংশ-মর্যাদা এবং সম্পদ তাকে বিপথগামী করেছে কি? আমি বললাম, না, আল্লাহর
শপথ ! এইসব তাকে বিপথগামী করেনি ৷

আমি বললাম , তুমি যা বলতে চাচ্ছ, তা বলে ফেল ৷

উমাইয়া বলল, আমি যা বলছি তুমি তা’ কারো কাছে তা প্রকাশ করবে না ৷ উতব৷ ইবন
রবীয়ার ব্যাপারে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে ৷ তারপর সে বলল, আমি এ খৃষ্টান পণ্ডিতকে
কয়েকটি কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম ৷ তার একটি ছিল এই যে, এই প্ৰডীক্ষিত নবী সম্পর্কে
আপনার অভিমত কি? বললেন, তিনি তো আরবের লোক হবেন ৷ আমি বললাম , তিনি যে
আরবের লোক হবেন তা তো আমি জানি ৷ আমার প্রশ্ন হল, তিনি আরবের কোন গোত্রের লোক
হবেন? ঐ খ্রীক্টান পণ্ডিত বললেন, তিনি আরবের হজ্জ তত্ত্বড়াবধানকারী পরিবারের লোক হবেন ৷
আমি বললাম, ইড়া, আমাদের এমন একটি ঘর আছে, যাকে কেন্দ্র করে আরবরা হজ্জ করে
থাকে ৷ এবার পণ্ডিত বললেন, তিনি হবেন কুরায়শ বংশের লোক ৷ এ কথাটি শোনার পর আমি
এমন ব্যথিত হয়ে পড়লাম, যেমনটি এর আগে কখনো হইনি ৷ যেন দুনিয়া ও আখিরাতের
তাবৎ সাফল্য হাতছাড়া হয়ে গেল ৷ আমি আশা করতাম যে, সেই প্রভীক্ষিত নবী আমিই হবো ৷

তারপর আমি বললাম, আমাকে লোকটির আরো কিছু বিবরণ দাও ! জবাবে সে বললাে :
যৌবন অতিক্রম করে যখন তিনি প্রোঢ়ত্বে পদাপর্ণ করবেন , তখন তার প্রথম কাজ হবে এই যে ,
তিনি অন্যড়ায়-অবিচার এবং হারাম কাজ থেকে বিরত থাকবেন ৷ নিজে আত্মীয়তার বন্ধন বজায়
রাখবেন এবং অন্যদেরকেও তড়া’ বজায় রাখতে আদেশ করবেন ৷ তিনি হবেন পিতা-মাতা
উভয় কুল থেকে সস্ত্রাম্ভ, বিত্তহীন, সমাজে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র ৷ র্তার বাহিনীর অধিকাংশ
হবেন ফেরেশৃতা ৷

আমি বললড়াম, তার লক্ষণ কিং তিনি বললেন, ঈসা ইবন মারয়াম (আ)-এর দুনিয়া
ত্যাগের পর থেকে সিরিয়ার এ পর্যন্ত আশিটি ভুমিকম্প ঘটেছে ৷ তার প্রতিটিতে একটি করে
বিপদ ছিল ৷ এখনো এমন একটি ব্যাপক ভুমিকম্প অবশিষ্ট আছে যাতে একাধিক বিপদ
থাকবে ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এই কথা শুনে আমি বললাম, আল্লাহর শপথ ! এটা মিথ্যা কথা ৷
আল্লাহ যদি একান্তই রাসুল পাঠান তাহলে বয়স্ক ও সস্রান্ত লোক ছাড়া কাউকেও রাসুল করে
পাঠাবেন না ৷ জবাবে উমাইয়া বলল, তুমি যার নামে শপথ করেছ, আমিও তারই নামে
শপথ করে বলছি যে, ঘটনাটি এরুপই হবে, হে আবু সুফিয়ান ! খৃষ্টান পণ্ডিতের কথা
নিঃসন্দেহে সত্য ৷

এই আলোচনার পর আমরা শুয়ে রাত কাটালাম ৷ অতঃপর ত তল্পা নিয়ে আবার যাত্রা
শুরু করলাম ৷ অগ্রসর হতে হতে যখন আমাদের এবং মক্কার মাঝে মাত্র দুই দিনের পথ বাকী
থাকলো, ঠিক এমন সময় পেছন থেকে এক আরোহী এসে অড়ামাদের সঙ্গে মিলিত হল ৷ পরিচয়
জিজ্ঞেস করতেই সে বলতে শুরু করল যে, আপনাদের চলে আসার পরক্ষ্যণই সিরিয়ার এক
ভুমিকম্প হয়ে সব তছনছ করে ফেল্যেছ, ফলে তার অধিবাসীদের উপর নানা রকম মহা বিপদ
নেমে এসেছে ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এ কথা শুনে উমাইয়া আমার কাছে এসে বলল, আবু সুফিয়ড়ান ! খৃষ্টান
পণ্ডিতের কথাটা তোমার এখন কেমন মনে হচ্ছে?

আমি বললাম, এখন তো আমার মনে হচ্ছে যে, তোমার সৎগী তোমাকে যা বলেছিল,
সত্যই বলেছে ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, তারপর আমি মক্কা এসে কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করে আবার
বাণিজ্য উপলক্ষে ইয়ড়ামানে চলে যাই ৷ সেখানে আমি পড়াচ মাস অবস্থান করি ৷ অতঃপর মক্কায়
ফিরে আসি ৷ মক্কায় আসার পর লোকেরা আমার ঘরে এসে প্রত্যেকে নিজ নিজ পণ্য সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করতে শুরু করল ৷ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহও আসলেন ৷ হিন্দ তখন আমার অদুরে
বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করছিল ৷ মুহড়ামদ এসে আমাকে সালাম দিলেন কুশলাদি জিজ্ঞেস
করলেন, এবং আমার সফরের খোজখবব নিলেন ৷ কিন্তু তার পণ্যসম্ভার সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞেস
করলেন না ৷ তারপর উঠে চলে গেলেন ৷

আমি তখন হিন্দকে লক্ষ্য করে বললাম, আল্লাহর শপথ ! বিষয়টা আমার নিকট অদ্ভুত
ঠেকছে ৷ কুরায়শের য়ত লোকের আমার কাছে পণ্য আছে, তারা একে একে প্রত্যেকে নিজ নিজ
পণ্যের খোজখবর নিল ৷ কিন্তু মুহাম্মদ নিজের পণ্য সম্পর্কে একটি কথাও জিজ্ঞেস করলেন না ৷
জবাবে হিন্দ আমাকে বলল, আপনি কি তার ঘটনা জানেন না? আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস
করলাম, কী ঘটনা? জবাবে হিন্দ বলল, যে দাবি করে যে, সে নাকি আল্লাহর রাসুল! সঙ্গে সঙ্গে
আমার খৃষ্টান পণ্ডিতের কথাটা মনে পড়ে গেল এবং আমার সমস্ত শরীর শিউরে উঠলো ৷ অবস্থা
দেখে হিন্দ আমাকে বলল, তোমার আবার কী হলো ? আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম এবং বললাম ,

তুমি যা বললে ৷ সব মিথ্যা কথা ৷ মুহাম্মদ এত নির্বোধ নয় যে, এ রকম কথা বলবে ৷ হিন্দ
বলল, আল্লাহর শপথ, অবশ্যই মুহাম্মদ তা বলছে এবং একথা রীতিম ব্র :পচার করে বেড়াচ্ছো
এতদিনে তো এই মতের পক্ষে তার বেশ ক’জন সঙ্গী সাথীও জুটে পিংহ্ব্রছ ৷ আমি বললাম ,
এইসব বাজে কথা ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, অতঃপর আমি ঘর থেকে বের হয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে শুরু
করলাম ৷ হঠাৎ মুহাম্মদের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল ৷ আমি বললাম, (তামার পণ্য (তা এত দামে
বিক্রয় হয়েছে ৷ তুমি বেশ লাভবান হয়েছ ৷ লোক পাঠিয়ে টাকাগুলো নিয়ে নও ৷ তবে অন্যদের
থেকে যে হারে আমি লভ্যাৎশ নিয়েছি, তোমার নিকট থেকে তা নেব ন: র্কিন্তু তিনি তাতে
রাজী হলেন না এবং বললেন, তাহলে আমি আমার অংশ গ্রহণই করব না ৷ মামি বললাম, ঠিক
আছে, আপনি লোক পাঠিয়ে দিন ৷ আমি অন্যদের নিকট থেকে যে হারে লাভ নিয়েছি, আপনার
থেকেও সে হারেই নেবাে ৷ এরপর মুহাম্মদ লোকানািয় তার টাকা নিয়ে নেন ৷ এবং আমিও
তার নিকট থেকে সেই হারে লাভ গ্রহণ করি, যে হারে অন্যদের নিকট থেকে নিয়েছি ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এই ঘটনার অল্প পরেই আমি ইয়ামানে যাই ৷ তারপর তায়েফ গিয়ে
উমাইয়া ইবনে আবুল সড়ালত-এর নিকট যাই ৷ উমাইয়া বলল, হে আবু সুফিয়ান ৷ খৃষ্টান
পণ্ডিতের কথাটা কি তোর মনে পড়ে? আমি বললাম, মনে পড়ে বৈ কিং সে ব্যাপারটি তো
বাস্তবায়িত হয়ে গিয়েছে ৷ উমাইয়া জিজ্ঞেস করল, কে সেই লোকঃ আমি বললাম, আবদৃল্লাহর
পুত্র মুহাম্মদ ৷ উমাইয়া বলল, আবদুল মুত্তালিব-এর ছেলে আবদুল্লাহর পুত্র? আমি বললাম, ই৷ ,
তা-ই ৷ এই বলে আমি হিন্দের মুখে শ্রুত ঘটনাটি বিস্তারিত বিবৃত করলাম ৷ শুনে উমাইয়া
ঘর্মসিক্ত হয়ে গেল এবং বলল, আল্লাহই ভালো জানেন ৷ তারপর সে বলল, হে আবু সুফিয়ান
খৃষ্টান পন্ডিত যে বিবরণ দিয়েছিলেন, যতদুর মনে হয় মুহাম্মদের মধ্যে তার সবই বিদ্যমান ৷
আমার জীবদ্দশায় যদি মুহাম্মদ তার দাবিতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান তাহলে তার সাহায্য না করার
জন্য আমি আল্লাহর নিকট ওযরখাহী করব ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, অতঃপর আমি পুনরায় ইয়ামান চলে গেলাম ৷ ইয়ামান পৌছামাত্র
জানতে পারলাম যে, মুহাম্মদের সংবাদ এখানেও পৌছে গেছে ৷ পুনরায় তব্বয়েফ গিয়ে
উমাইয়াকে বললাম, আবু উছমান ৷ মুহাম্মদের সংবাদ তো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে ৷ এবার তু
কী করবে, সিদ্ধান্ত নাও ৷ উমাইয়া বলল, আল্লাহর শপথ! আমি ছাকীয় গোত্র ব্যতীত অন্য
গোত্রের নবীর প্রতি কিছুতেই ঈমান আনব না ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, অতঃপর আমি মক্কায় চলে আসি ৷ এসে দেখতে পেলাম যে ,
জনতার হাতে মুহাম্মদের সংগীরা প্রহৃত ও লাঞ্ছিত হচ্ছে ৷ তা দেখে আমি মনে মনে বলতে
লাগলাম, তার ফেরেশতা বাহিনী এখন কোথায় গেল? আমি মনে মনে পর্ব বো ধ করলাম ৷

অপেক্ষাকৃত সংক্ষেপে বর্ণনাটি বায়হাকীর কিতাবুদ দালাইলে’ও বর্ণিত হয়েছে,
তড়াবারানীর অন্য এক বর্ণনায় আবু সুফিয়ান ও উমাইয়া ইবনে আবুস্সালত-এর কথোপকথনে
অতিরিক্ত আছে :

উমাইয়া বলল, আমি আমার কাছে রক্ষিত বিভিন্ন কিভাবে পড়েছি যে, আমাদের এ
কঙ্করময় অঞ্চল থেকে একজন নবী প্রেরিত হবেন ৷ ফলে আমি ধারণা করতাম, বরং আমার
দৃঢ় বিশ্বাসই ছিল যে, আমিই হবো সেই ব্যক্তি ৷ কিন্তু পরে বিভিন্ন পণ্ডিতের সঙ্গে
আলাপ-আলোচনা করে জানতে পারলাম যে, তিনি হবেন আবদে মানাফের বংশের লোক ৷
চিন্তা-ভাবনা করে আমি আবদে মানাফের বংশে উতবা ইবনে রবীয়া ছাড়া আর কাউকে এর
উপযুক্ত বলে খুজে পেলাম না ৷ কিন্তু আপনার মুখে তার বয়সের কথা শুনে বুঝতে পারলাম যে,
তিনিও সেই ব্যক্তি নন ৷ কারণ, তিনি অনেক আগেই চল্লিশ পেরিয়ে গেছেন, অথচ তার প্রতি
ওহী নাযিল হয়নি ৷

আবু সুফিয়ান বলেন, এর কিছুদিন পর বাসুলুল্লাহ (না)-এর প্ৰতি ওহী অবতীর্ণ হয় ৷ আমি
কুরাইশের এক বণিক কড়াফেলার সঙ্গে ইয়ামানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম ৷ পথে উমাইয়ার
সাথে দেখা হলে উপহাস করে তাকে বললাম, উমাইয়া! তুমি যে নবীর কথা বলতে, তার
আবির্ভাব তো ঘটে গেছে ৷ উমাইয়া বলল, তিনি অবশ্যই সত্য নবী, তুমি তার অনুসারী হয়ে
যাও ! আমি বললাম, তার অনুগামী হতে তোমাকে কে বাধা দেয়? উমাইয়া বলল, আমাকে শুধু
ছার্কীফ গোত্রের নারীদের লজ্জা দেওয়ার ভয়ই বাধা দিচ্ছে ৷ আদর কাছে আমি বলে রেড়াতাম
যে, আমিই হবো সেই ব্যক্তি ৷ এখন যদি তারা আমাকে আবদে মানাফের গোত্রের এক নবীর
অনুসরণ করতে দেখে তবে তারা আমাকে লজ্জা দিবে ৷ উমাইয়া বলল : আমি যেন দিব্যি
দেখতে পাচ্ছি, হে আবু সুফিয়ান ! তুমি তার বিরোধিতা করছো ৷ তারপর ছাগল ছানার মত
রজ্জ্ববদ্ধ অবস্থায় তুমি তার নিকট নীত হচ্ছে৷ ৷ আর তিনি তোমার ব্যাপারে তার ইচ্ছামত
ফয়সালড়া দিচ্ছেন ৷

আবদুর রাযযাক কালবী থেকে বর্ণনা করেন যে, কালবী বলেন, উমাইয়া একদিন শুয়ে
ছিল ৷ সঙ্গে তার নিজের দুই কন্যা ৷ হঠাৎ তাদের একজন ভয়ে চীৎকার করে উঠল ৷ চীৎকার
শুনে উমাইয়া জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার, তোমার কি হয়েছে? কন্যাটি বলল, আমি দেখলাম,
দুটি শকুন ঘরের ছাদ ফীক করে ফেলল এবং একটি শকুন আপনার কাছে এসে আপনার পেট
চিরে ফেলল ৷ অপরটি ঘরের চালের ওপর দাড়িয়ে ছিল ৷ চালের উপরের শকুনটি নিচেরটিকে
ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করল, যে কি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন? অপরটি বলল, হী৷ ৷ প্রথমটি আবার জিজ্ঞেস
করল, যে কি তীক্ষধী? অপরটি বলল, না ৷ এ ঘটনা শুনে উমাইয়া বলল, তোমাদের পিতার
কল্যাণই কামনা করা হয়েছে ৷

ইসহাক ইবনে বিশর সাঈদ ইবন মুসায়ব্রাব থেকেও বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ সাঈদ ইবনে
মুস্যায়াব (র) বলেন, মক্কা বিজয়ের পর উমাইয়৷ ইবন আ বুস সালত এর বোন ফারিআ একদিন
রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট আগমন করে ৷ ফারিআ ছিলেন অ৩ ম্ভে বুদ্ধিমভীও সুন্দরী ৷
রাসুলুল্লাহ (স ) তাকে খুব পছন্দ করতেন ৷ একদিন তিনি তাকে বললেন, ফারিআ! তোমার
ভাইয়ের কোনো কবিতা কি তোমার স্মরণ আছে? ফারিআ বললেন, জী হীা, আছে বৈকি ৷ তবে
আমার দেখা একটি ঘটনা তার চেয়েও বিস্ময়কর ৷ ষ্ন্থাটনাটি হলো এই যে, আমার ভাই একবার
সফরে গিয়েছিলেন ৷ সফর থেকে ফিরে এসে আমার কাছে আসেন এবং আমার খাটে শয়ন
করেন ৷ আমি তখন একটি চামড়ার পশম খসাচ্ছিলাম ৷ হঠাৎ দেখতে পেলাম যে, সাদা রঙের
দু’টি পাখি অথবা পাখির দু’টি প্রাণী এগিয়ে আসে এবং দুটির একটি জানালার ওপর বসল
আর অপরটি আমার ভাইয়ের পায়ে এসে পড়লাে ৷ এবং তার বুক থেকে শান্তির নিচ পর্যন্ত চিরে
ফেলল ৷ তারপর তার পেটে হাত ৩ঢুকিয়ে তার হৃৎগ্রিশ ন্ বের করে হাতে নিয়ে তার ঘ্রাণ নিল ৷
তখন অপরটি জিজ্ঞেস করল, ওকি স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন? জবাবে দ্বিতীয়টি বলল, ইড়া৷ ৷ আবার
জিজ্ঞেস করল, ওকি তীক্ষ্ণধী? বলল, না ৷ তারপর হৃৎপিণ্ডটি য়থান্থানে রেখে দিল ৷ পরক্ষণে
পলকের মধ্যে জখম শুকিয়ে গেল ৷ প্রাণী দু’টি চলে যাওয়ার পর আমি আমার ভাইয়ের কাছে
গিয়ে তাকে সাড়া দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ব্যথা অনুভব করছেন?;৩ তিনি বললেন, না ৷
কেবল শ্ ৷রীরটা একটু দুর্বল লাগছে ৷ অথচ ঘটনা দেখেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম ৷ তখন
ভাই বললেন, কি ব্যাপার, তুমি কাপছো কেন? ফারিআ বলেন, তখন আমি তাকে ঘটনাটি
বিবৃত করলাম ৷ শুনে ভাই বললেন, আমার কল্যাণই কামনা করা হয়েছে ৷৩ তারপর তিনি আমার
নিকট থেকে চলে গেলেন এবং নিম্বো ৷ক্ত পংক্তিগুলাে আবৃত্তি করেন ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৫৪

— দৃশ্চিন্তা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে ৷ আমি আমার চক্ষুকে স বরণ করতে চেষ্টা
করি ঠিক, জ্যি অশ্রু তার আগেই ঝরে পড়ে ৷ কারণ, আমার নিকট মৃত্যুর পরোয়ানা এসে
গেছে ৷ অথচ, আমাকে এমন কোন মুক্তির ঘোষণা দেয়৷ হয়নি, যা ভাষ্যকার বর্ণনা করে
শোনাবে ৷

আমি অবগত নই যে, আমি কি ঐ ব্যক্তির মত হব, যার ওপর অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে
এবং আগুন তাকে বেষ্টন করে রাখার ৷

নাকি আমি সেই জান্নাতে স্থান পার, করে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সৎকর্মশীলদেরকে , যার
বালিশগুলো সাজানো থাকবে সারি সারি করে ৷

ঐ আবাস দুটো সমান নয়, এক নয় কর্মের ধারাও ৷৩ তারা দল হবে দু টি ৷ একটি প্রবেশ
করবে জান্নড়াতে, যা বেষ্টিত থাকবে বাগ ৷-বাপিচ৷ দ্বারা ৷ অপর দলকে প্রবেশ করানো হবে
জাহান্নামে ৷ তার সব সামগ্রী হয়ে তাদের জন্য অকল্যাণকর ৷

এই হৃদয়গুলাে যেন প্রতিশ্রতিবদ্ধ হয়েছে যে, যখনই এগুলো কোন কল্যাণের র্সৎকল্প
করবে, বিপদাপদ তার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে ৷ আর দুর্ভাগ্যবশত জ ন্নাতেব অনুসন্ধান
থেকে বিরত রাখবে সে দুনিয়া, যাকে আল্লাহ নিশ্চিহ্ন করে দেবেন ৷

এক ব্যক্তি নিজেকে ভর্ধসন৷ করেছে ৷ কারণ, সে আসে যে, সর্বদ্রষ্ট৷ (আল্লাহ) তাকে
অবলোকন করছেন ৷ সে নিজেকে আজীবন বেচে থাকার প্ৰতি উৎসাহিত করেনি ৷ অল্প ক’দিন
বেচে থাকলেও একদিন তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতেই হবে ৷

যে ব্যক্তি মৃত্যু থেকে পলায়ন করবে, হঠাৎ একদিন মৃত্যু তার সামনে এসে র্দাড়াবেই ৷

যৌবনে মৃতু তা না হলে বার্ধকেব্রু হবে অবশ্যই ৷ মৃত্যু একটি পেয়ালা ৷ মানুষ তার স্বাদ
আস্বাদনক৷ রী ৷ বর্ণনাক৷ রী বলেন, তারপর উম৷ ইয়৷ নিজ অঞ্চলে ফিরে যায় ৷

সংবাদ পেয়ে আমি তার নিকট গিয়ে দেখলাম, যে মৃত্যুশ্ ৷য্যায় শায়িত ৷ সমস্ত শরীর কাপড়
দিয়ে ঢাকা ৷ আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম ৷ আমাকে দেখে সে কুাপয়ে কেদে উঠে এবং

বিম্ফারিত নয়নে ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে উচ্চশব্দে বলে উঠে৪

আমি হাজির, আমিও আমাদের সামনে হাজির ৷ এমন কোন বিত্তবান নেই যে পণ দিয়ে
আমাকে মুক্ত করবে, আমার আপনজন কেউ নেই, যে আমাকে রক্ষা করবে!

-তারপর সে অজ্ঞান হয়ে পড়ল ৷ কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে আবার কুপিয়ে র্কাদতে
শুরু করল ৷ অবস্থা দেখে আমি বললাম, লোকটি (তা শেষ হয়ে গেল ৷ তারপর সে আবার
বিক্ষারিত নয়নে ওপর দিকে তাকিয়ে উচ্চ৪স্বরে বলল হ;
ক্ষ হাজির, আমি ওে আমাদের সামনে হাজির ৷ ক্ষম করার কেউ নেই যে আমি তার কাছে
মাপ্রার্থনা করব, এমন কোন আত্মীয়-স্বজন নেই, যার সাহায্যে আমি আত্মরক্ষ৷ করতে পারিঃ

এই বলে আবার সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল ৷ কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে বিক্ষারিত নয়নে
ওপর দিকে দৃষ্টিপাত করে আবার বলল :

হাজির আমি, তোমাদের সামনে হাজির ৷ বিত্ত-বৈভব থাকলে মানুষ সেবা পায় ৷ আর
পাপের পরিণতিতে ধ্বংস হয় ৷

এরপর আবার সে বেহুশ হয়ে পড়ে ৷ ভুশ ফিরে পেয়ে বলল :

হাজির আমি, তোমাদের সামনে হাজির! ক্ষমাই যদি কর আল্লাহ ! অপরাধই ক্ষমা করে
দাও ৷ তোমার কোন বান্দাই তো অপরাধযুক্ত নয় ৷ এই বলে আবার সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল ৷

কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে কুপিয়ে কেদে উঠে বলল;

সকল অড়ারাম-আয়েশ, ভোগ ৷গ-ৰিলাস তা যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক, একদিন না একদিন তা
নিঃশেষ হরেই ৷

হায়, আমার এই গােচনীয় অবস্থা সৃষ্টির আগে যদি আমি পাহাড় চুড়ায় গিয়ে ছাগল
চরাতাম !

ফারিআ বলেন, এরপর আমার ভাই মৃত্যুবরণ করেন ৷ ঘটনা ওপ্ন রাসুলুল্লাহ (স৷ )
বললেন :

-ফারিআ ! তোমার ভাইয়ের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির ন্যায়, যাকে আল্লাহ তার নিদশ্নি দিয়ে

দিয়েছেন; কিন্তু সেসব দেশে যে তা বর্জন করে ৷ খাত্তাবী এই বণনিড়াটিকে গরীব পর্যায়ের বলে
উল্লেখ করেছেন ৷

হাফিজ ইবনে আসাকির যুহরী থেকে বর্ণনা করেন যে, যুহরী বলেন, উমাইয়া ইবনে
আবৃসৃসালত একবার বলেছিল :

আমাদেরই মধ্য হতে আমাদের এমন একজন রাসুল আছেন, যিনি আমাদেরকে
সবকিছুর আনুপুর্বিক সংবাদ প্রদান করেন ৷

তারপর উমাইয়া বাহরাইন চলে যায় ৷ এ সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা) নবুওত প্রাপ্ত হন ৷
উমাইয়া বাহরাইনে আট বছর অবস্থান করে, তারপর সে তায়েফ চলে আসে ৷ এসে
তায়েফবাসীদেরকে জিজ্ঞেস করে যে, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ কী বলে? লোকেরা বলল,
মুহম্মদ দ ৷বী করছে যে, সেই ন ৷কি সেই, যা হওয়ার কা মনা তুমি করতে ৷

যুহরী বলেন, এ কথা শুনে উমাইয়া মক্কায় চলে আসে এবং নবী করীম (সা ) এর সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে বলে, হে আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র ! এসব তুমি কী বলছ? নবী করীম (সা )
বললেন, আমি বলছি যে, আমি আল্লাহর রাসুল আর আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ৷ উমাইয়া
বলল, আমিতোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই, আগামী দিন সময় দাও ! জবাবে তিনি বললেন,
ঠিক আছে, আগামীকালই কথা হবে ৷ উমাইয়া বলল, হয়ত আমিও একা আসর, তুমিও একা
আসবে ৷ অথবা আমি আমার দলবল নিয়ে আসর, তুমিও তোমার দলবল নিয়ে আসবে; (কানৃটা
তোমার পছন্দ? নবী করীম (সা) বললেন, তোমার যেমন খুশী ৷ উমাইয়া বলল, ঠিক আছে,
আমি আমার দলবল নিয়েই আসর, তুমিও ওে তামার দলবল নিয়ে এসো

পরদিন উমাইয়া কুরায়শ বংশীয় একদল লোক নিয়ে এবং রাসুলুল্লাহ (সা)-ও কতিপয়
সাহড়াবা সঙ্গে নিয়ে সমবেত হন এবং সকলে কাবার ছায়ায় বসেন ৷

বর্ণনাকারী বলেন, প্রথমে উমাইয়া তার বক্তব্য পেশ করে এবং স্বরচিত কবিতা শুনায় ৷
আবৃত্তি শেষ করে সে বলল, হে আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র ৷ এবার তুমি আমার জবাব দাও!
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন :

তার তিলাওয়ড়াত শেষ হলে উম৷ ইয়াতার দু ’প৷ টেনে টেনে ছুটে পালাতে শুরু করল ৷ তার
সঙ্গী কুরাইশরাও তা ৷র অনুসরণ করল ৷ তারা জানতে ৷ইল, উম ইয়া ! তোমার মতামত কী?
উম ৷ইয়া বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ন্৷ সঙ্গীরা জিজ্ঞাসা করল,
তবে কি তুমি তার অনুসারী হয়ে যা বে? উমইিয়া বলল, আমি একটু চিন্তা তা ৷বন৷ করে দেখি

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর উমইিয়া সিরিয়ার চলে যায় এবং রাসুলুল্লাহ (সা) মদীনায়
হিজরত করেন ৷ বদর যুদ্ধের পর উমইিয়া সিরিয়া থেকে ফিরে এসে বদর প্রান্তরে অবতরণ
করে ৷ পরে রাসুল (না)-এর নিবল্ট যেতে উদ্যত হলে একজন তাকে লক্ষ্য করে বলল, আবৃস
সালত তুমি কি করতে যাচ্ছো? উম৷ ইয়া বলল, যাচ্ছি মুহাম্মদের সঙ্গে দেখা করতে ৷ লোকঢি
জিজ্ঞা ৷স৷ করল, মুহাম্মদের কাছে তুমি কি করবেঃ উমইিয়া বলল, তার প্রতি আমি ঈমান আনেন
এবং সব ক্ষমতা তার হাতে ছেড়ে দিব ৷ ণ্লা ৷কটি বলল তুমি কি জানাে , বদরের এই কুপে যার;
আছে, তারা কারা? উমইিয়া বলল, না, তা তো বলতে পারি না ৷ লোকঢি বলল, তোমার দুই
মামাতে৷ ভাই উতব৷ ইবনে রবীয়া ও শায়বা ইবনে রবীয়া ৷ আর তাদের না রবীয়া বিনাত
আবদে শামস ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এ সংবাদ শো৷নাম ত্র উমইিয়া তার উদ্রীর উভয় কান ও লেজ কেটে
ফেলল ৷ তারপর কুপের পাড়ে দাড়িয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করল ৷ সঙ্গে সঙ্গে যে মক্কা
হয়ে তায়েফ চলে গেল এবং ইসলাম গ্রহণের পরিকল্পনা ত্যাগ করল ৷ সে কবিতাটির প্রথম
পংক্তিটি ছিল :

গোটা কবিতাটির বদর যুদ্ধের বর্ণনায় উল্লেখিত হবে ৷ ইমাম যুহরী অতঃপর দুই পাখির
ঘটনা, এবং উমাইয়ার মৃত্যুর কাহিনী বর্ণনা করেন, যা ইতিপুর্বেই বিবৃত হয়েছে ৷ মৃত্যুকালে
উম৷ ইয়৷ যে কবিতাগুলি আবৃত্তি করেছিল, তা ও তিনি উল্লেখ করেছেন ৷ তাহলোং :

সব আরাম আয়েশ-যতই তা দীর্ঘস্থায়ী হোক, একদিন না ৷একদিন নিং শেষ হবেই ৷ হায় ,
আমার এই দশা সৃষ্টি হওয়ার আগেই যদি আমি পর্বত চুড়ায় গিয়ে ছাগল চরাতাম ! অতঃএব

মৃত্যুই হোক তোমার দৃ’চোখের লক্ষ্য ৷ আর যুগের করাল গ্রাস থেকে তুমি নিজেকে রক্ষা করে
চল ৷ মনে রেখ, সিংহই হোক বা ষাড়ই হোক, পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থানকারী পাখিটি হোক
কিংবা হরিণই হোক, অথবা উটপাথীর শাবকটি হোক, ছোট বড় (কোনো কিছুই মৃত্যুর হাত
থেকে রক্ষা পড়ায় না ৷ ছোটকে ছোট বলে এবং বড়কে বড় বলেও মৃত্যু রেহ্াই দেয় না ৷ খাত্তাবী
এই বর্ণনাকে গরীব পর্যায়ের বলে উল্লেখ করেছেন ৷

সুহায়লী তার আত তা’রীফ ওয়াল ইলাম গ্রন্থে লিখেছেন যে, উমাইয়া ইবনে আবুল
সালত-ই প্রথম ব্যক্তি, যে বলেছিল ৷

এ প্রসংগে তিনি একটি আশ্চর্য কাহিনী বর্ণনা করেন ৷ কাহিনীটি হলো, কুরাইশের একদল
লোকসহ উমাইয়া একবার সফরে বের হয় ৷ আবু সুফিয়ানের পিতা হারবৃ ইবন উমাইয়াও
তাদের সঙ্গে ছিল ৷ পথে এক জায়গায় একটি সাপ দেখতে পেয়ে সাপটিকে তারা মেরে ফেলে ৷
যখন সল্যা হলো, তখন একটি মহিলা জিন এসে সাপ হত্যা করার কারা’-শ্ তাদেরকে ভর্বৃসনা
করে ৷ তার হাতে ছিল একটি লাঠি ৷ লাঠিটি দ্বারা সে সজোরে মাটিতে একটি আঘাত করে ৷
ফলে, কাফেলার উটগুলাে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করে ৷ জিনটি চলে যন্য় ৷
কাফেলার লোকেরা চতুর্দিব্ৰু খোজার্থোজি করে কোথাও মহিলাটিকে গেল না ৷ কিন্তু খানিক পরে
আবারো মহিলাঢি এসে পুনরায় লাঠি দ্বারা মাটিতে আঘাত করে সঙ্গে সঙ্গে উধাও হয়ে যায় ৷
উটগুলাে এদিকওদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করে ৷ এবার মহিলাকে খোজার্থোজি করে ক্লান্ত হয়ে
লোকেরা উমাইয়াকে জিজ্ঞাসা করে যে, এ বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার মত কোন বুদ্ধি কি
আপনার আছেঃ উমাইয়া বলল, আমি তো কোন বুদ্ধি দেখছি না ৷ তবে চিন্তা করে দেখি কী
করা যায় ৷

অতঃপর তারা যে মহল্লায় ঘুরে-ফিরে দেখল যে, এমন কাউকে পাওয়া যায় কি না যার
কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ নেওয়া যায় ৷ হঠাৎ তারা বেশ দুরে আগুন দেখতে পায় ৷ কাছে গিয়ে
দেখল, একটি র্তাবুর দবজায় এক বৃদ্ধ লোক আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে ৷ আরো কাছে গিয়ে
দেখতে পেল, আসলে সে ভয়ঙ্কর আকৃতির এক জিন ৷ তারা তাকে, সালাম করে তাদের
সমস্যার কথা জানানো ৷ জবাবে সে বলল, মহিলা জিনটি তোমাদের কাছে আবার আসলে
বলবে, (;¢ ’ ;াৰুা,) দেখবে সে পালিয়ে কুল পাবে না ৷ এরপর লোকেরা আবার একত্রিত
হলো ৷ মহিলা জিনটি তৃতীয়বার মতাম্ভরে চতুর্থবারের মত আবারো তাদের কাছে আসল ৷ সঙ্গে
সঙ্গে উমাইয়া ইবনে আবুসৃ সাল্ত তার মুখের উপর বলে ফেলল, (ণ্গ্লুা’৷ ;াশুৰু) মহিলা
জ্বিনটি তখন সত্যি সত্যি ছুটে পালালো ৷ একটুও র্দাড়ালো না ৷ তবে জিনেরা সাপ হত্যার দায়ে
হারব ইবনে উমাইয়ার উপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে, তার সঙ্গীরা জনমানবহীন সে
অঞ্চলেই তাকে কবর দিয়ে আসে ৷ এ প্রসঙ্গই জিনরা বলে রেড়াত :

“হারবের সমাধি জনমানবহীন এক মরুভুমিতে অবস্থিত ৷ হারবের কবরের কাছে আর
কোন কবর নেই ৷ ”

কেউ কেউ বলেন, উমাইয়া ইবনে আবুসৃ সালত মাঝে-মধ্যে পশু-পাখিদের ভাষা নিয়ে
গবেষণা করত ৷ চলার পথে কোন পাখির ডাক শুনতে পেলে সাথীদেরকে বলত, দেখ এই
পাখিটি এই এই বলছে ৷ সাথীরা বলত, হতে পারে; তবে আমরা এর সত্যাসত্য কিছু বুঝতে
পারছি না ৷ একদিন সে একটি বকরীর পালের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল ৷ পালের একটি
বকরী বাচ্চাসহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল ৷ সেই বকরীটি তার বাচ্চার দিকে তাকিয়ে র্ত্য৷ র্ডা৷ শব্দ
করল, যেন বকরীটি দ্রুত পালের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য বাচ্চাকে উদ্বুদ্ধ করছে ৷ শুনে উমাইয়া
সাথীদেরকে বলল, তোমরা কি বুঝতে পারছ যে, বকরীটি কী বলছে? তারা বলল, না , আমরা
তো কিছুই বুঝতে পারছি না ৷ উমাইয়া বলল, বকরীটি তার বাচ্চাকে বলছে, তুমি আমাদের
সঙ্গে দ্রুত দৌড়াও ৷ অনথোয় নেকড়ে এসে নির্ঘাত তোমাকে খেয়ে ফেলবে যেমনটি গত বছর
তোমার ভাইকে খেয়ে ফেলেছিল ৷

উমাইয়ার এ ব্যাখ্যা শুনে কাফেলার লোকেরা রাখালের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, গত
বছর কি কোন নেকড়ে অমুক জায়গায় তোমার কোন ছাগল ছানাকে থেয়েছিল? রাখাল
বলল , হী৷ ৷

বর্ণনাকারী বলেন, আরেকদিন উমাইয়া একটি উট দেখতে পেল ৷ উটের পিঠে সওয়ার
ছিল এক মহিলা ৷ উটটি মহিলার দিকে মাথা তুলে শব্দ করছিল ৷ শুনে উমাইয়া বলল, উটঢি
মহিলাকে বলছে যে, তুমি তো আমার পিঠে সওয়ার হয়েছ, কিন্তু তোমার হাওদায় একটি পুই
আছে ৷ ফলে উমাইয়ার সঙ্গীরা মহিলাকে উটের পিঠ থেকে নামিয়ে হাওদা খুলে দেখতে পেল ,
ঠিকই একটি পুই পড়ে আছে ৷

ইবনুসৃ সাকীত বলেন, উমাইয়া ইবনে আবুসৃ সালত একদিন পানি পান করছিল ৷ ঠিক এ
সময়ে একটি কাক এসে কা কা করে ডেকে উঠে ৷ শুনে উমাইয়া বলল, ভোর মুখে মাটি পড়ুক
কথাটি সে দৃ’বার বলল ৷ জিজ্ঞাসা করা হল, কেন , কাকটি কী বলছে ? উমাইয়া বলল , কাকটি
বলছে, তুমি তোমার হাতের পেয়ালার পানিটুকু পান করা মাত্রই মারা যাবে ৷ অতঃপর কাকটি
আবারো বা বা করে উঠল ৷ উমাইয়া বলল, কাকটি বলছে যে, এর প্রমাণ হলো, আমি এই
আবর্জ্যম্ব৷ তুপে নেমে সেখান থেকে কিছু যায়, আর গলায় হাডিদ্র আটকে যাবে ৷ ফলে আমি
মারা যার ৷ এই বলে কাকটি আবর্জ্য৷ ন্তুপে নেমে কিছু একটা থেল এবং গলায় হাডিদ্র আটকে
সত্যি সত্যি সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল ৷ ঘটনা দেখে উমাইয়া বলল, কাকটি নিজের বেলায় যা
বলেছে, তা তাে সত্য বলে প্রমাণিত হলো ৷ এইবার দেখি, আমার ব্যাপারে যা বলেছে, তা সত্য
কিনা ৷ এই বলে সে হাতের পেয়ালার পানিটুকু যেয়ে ফেলে হেলড়ান দিয়ে বলল আর সত্যি সত্যি
মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ৷

বুখারী শরীফে হযরত আবু ছরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে ,রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

“কবিদের উক্তিসমুহের মধ্যে লাবীদের একটি উক্তিই সর্ব৷ ৷ধক সঠিক ৷ লাবীদ বলেছিল,
আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে সবই মিথ্যা ৷ আর উমাইয়৷ ইবনে আবুল সালত মুসলমান হওয়ার
উপক্রম হয়েছিল ৷

ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে , শারীদ বলেন, আমি (একদিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
পেছনে সওয়ার ছিলাম ৷ এক পর্যায়ে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি উমাইয়া
ইবনে আবুসৃ সালত তর কোন কবিতা ৷জান৷ আছে ? আমি বললাম, ইা৷, আছে ৷ নবী করীম (সা)
বললেন, তা হলে তা আবৃত্তি কর ৷ আমি একে একে অন্ততঃ একাটি পংক্তি৩ তাকে আবৃত্তি
করে শুনালাম ৷ অবশেষে তিনি আর কিছু বললেন ন, ৷আমিও থেমে (ন্ ৷লাম ৷ ইমাম মুসলিমেরও
অনুরুপ একটি বর্ণনা রয়েছে ৷ কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, উমাইয়ার কবিতা শুনে নবী করীম
(সা) বলতেন, আসলে তো সে ইসলাম গ্রহণের কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল ৷

ইয়াহইয়৷ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেন যে, শারীদ হামদানী যার মাতুলগণ ছাকীফ গোত্রীয়
তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে আমরা বিদায় হরুজ্জর উদ্দেশ্যে রওয়ান৷ হলাম ৷
আমি হেটে অগ্রসর হচ্ছি ৷ হঠাৎ পেছনে উটের শব্দ শুনতে পেলাম ৷ তাকিয়ে দেখি রাসুলুল্লাহ্
(সা) আসছেন ৷ তিনি বললেন, কে, শারীদা আমি বললাম, জী ছুা৷ , আমি শারীদ ৷ নবী করীম
(সা) বললেন, আমি কি তোমাকে আমার উটের পিঠে তুলে নেবন্ আমি বললড়াম , জী হী৷ , তবে
ক্লাস্তির দরুন নয়, বরং রাসুলুল্লাহ্র সহ-আরােহী হওয়ার সৌভাগ্য লাভের উদ্দেশ্যে ৷ তখন
নবী করীম (সা) উট থামিয়ে আমাকে তুলে নিলেন ৷ কিছুদুর অগ্রসর হওয়ার পর তিনি
আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা, তোমার কি উমাইয়৷ ইবনে আবৃস্ সালণ্ডে তর কোন কবিতা
জানা আছেঃ আমি বললাম, ত্মী হ্যা, আছে ৷ তিনি বললেন,ত তা হলে আবৃত্তি কর ৷ শারীদ
বলেন, মনে হয় যেন আমি একশ’র মতো পং ক্তি আবৃত্তি করে শোনালাম ৷ শুনে তিনি বললেন,
উমাইয়৷ ইবনে আবুসৃ সালত এর বিষয়টা আল্লাহ ই৩ ৷লো জানেন ৷ রাবী বলেন, এই
হাদীছটি গরীব’ পর্যায়ের ৷ আর যে বলা হয়ে থাকে- রাসুলুল্লাহ্ (সা) উমাইয়৷ সম্পর্কে
বলেছিলেন, তার কবিতা ঈমানদা ৷র কিন্তু অন্তর কাফির এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই ৷
আল্লাহইভ ৷লো জানেন ৷

ইমাম আহমদ (র) ইবনে আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনন্
রাসুলুল্লাহ (সা) উমাইয়ার কয়েকটি পংক্তির বক্তব্য যথার্থ বলে অভিহিত করেছেন ৷
সেগুলে৷ হলে৷ :

অর্থাৎ তার ডান পায়ের নীচে আছে শনি গ্রহ ও বৃষরাশি আর অপর পায়ের নীচে আছে
একটি ঈগল ও ওত পেতে থাকা সিংহ ৷
প্রতি রাতে সুর্য রক্তিম বর্ণ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ৷ ক্রমশ সাল হতে থাকে রং ৷
সুর্য উদিত হতে অস্বীকৃতি জানায় ৷ তাকে বাধ্য করে উদিত করাতে হয় ৷
উমাইয়ার এই পংক্তি ক’টি শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, উমাইয়া যথার্থই বলেছে ৷

আবু বকর হুযালীর বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, ইবনে আব্বাস
(রা) বলেছেন : সত্তর হাজার ফেরেশতা উদ্বুদ্ধ না করা পর্যন্ত সুর্য উদিত হয় না ৷ ফেরেশতারা
সুর্যকে বলেন, “উদিত হও, উদিত হও!” সুর্য বলে , এমন জাতির জন্য আমি উদিত হয় না ,
যারা আল্লাহকে ছেড়ে আমার ইবাদর্ত করে ৷ অবশেষে উদয় হওয়ার উপক্রম হলে শয়তান
এসে সুর্যকে উদয় হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে ৷ কিত্তু সুর্য শয়তানের শিংদ্বয়ের মধ্য
দিয়ে উদিত হয়ে যায় এবং শয়তানকে পুড়িয়ে দেয় ৷ সন্ধ্যার সময় যখন সুর্যের অস্ত যাওয়ার
সময় হয় এবং আল্লাহর সত্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অস্ত যেতে তা’ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়, শয়তান আবার
এসে সুর্যকে সিজদা দান হতে বিরত রাখার চেষ্টা করে ৷ ফলে সুর্য শয়তানের শিংদ্বয়ের ম ধ্যখান
দিয়ে অস্ত যায় এবং শয়তানকে পুড়িয়ে দেয় ৷ হ্বন আসাকির এর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন ৷

আরশ বহনকায়ী কােরশতাদের সম্পর্কে উমাইয়া ইবনে আবুসৃ সালতের দু’টি
পংক্তি নিম্নরুপ :

অর্থাৎ র্তারা আল্লাহর আরশের খুটি ধারণ করে আছেন ৷ সৃষ্টির কোন না বুদ না থাকলে
তারা ক্লাস্ত-শ্রাস্ত হয়ে পড়তেন ৷ আরশের নীচে তারা ঠায় দাড়িয়ে আছেন ৷ ভীতির আতিশয্যে
তাদের পার্শ্বদেশ ও র্কাধের মধ্যন্থল থরথর করে র্কাপে ৷ এটি ইবন আসাকিরের বর্ণনা ৷
আসমায়ী সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি উমাইয়ার নিম্নোক্ত পংক্তিগুলো আবৃত্তি করতেন ৩

আস-ৰিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খ্ণ্ড) ৫৫-

অর্থাৎ আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা কর, তিনিই তো সাহায্যের অধিকারী ৷ সুউচ্চ আকাশে মহান
আমাদের প্রভু, মানুষের বহু উধের্ব আকাশে তার আসনে রয়েছেন ৷ চোখে দৃশ্যমান তার আরশ
নতশিরে যা ফেরেশতারা বহন করছেন ৷

আব্দুল্লাহ ইবনে জাদআন তায়যীর প্রশংসামুলক উমাইয়া ইবনে আবুসৃ সালত-এর
কয়েকটি পং :

ব্লু

অর্থাৎ আমি কি আমার প্রয়োজনের কথা উত্থাপন করব, নাকি আপনার নাজুকতাই আমার
জন্য যথেষ্ট? নিশ্চয় নাজুক৩ তাই আপনার বৈশিষ্ট্য ৷

সকলের অধিকার সম্পর্কে আপনি সম্যক অবহিত ৷ আপনি স্ম্রাম্ভ, কুলীন, ভদ্র ও
সৌন্দর্যের আ যায় ৷

আপনি এমন-ই সস্রাম্ভ যে, সকাল বা সন্ধ্যপািার সুন্দর চরিত্রের মাঝে কোন পরিবর্তস্ম সাধন
করতে পারে না ৷

আপনি এমন এক ব্যক্তি, যে উদারত৷ ও বদান্য৩ ৷য় তখনো বাতাসের সাথে প্রতিযোগিতা
করেন, যখন শৈত্য প্রবাহ কুকুরকে পর্যন্ত ঘরে আবদ্ধ করে রাখে ৷ আপনার বাসভুমি হল

দানশীল৩ ৷র ভুমি, যা’ প্রতিষ্ঠা করেছে বনু তায়ীম ৷ আপনি হলেন তার আকাশ ৷ আপনি কারো
ৎসার মুখাপেক্ষী নন ৷ আপনি স্বনাম ধন্য ৷

আব্দুল্লাহ ইবন জা ৷দআন তায়যীর প্রশংসামুলক উমাইয়া ইবনে আবুসৃ সালত এর আরো
কতগুলো কবিতা আছে ৷ এই আব্দুল্লাহ ইবনে জ ৷দআ ন একজন সজ্রাম্ভ ও দানশীল ব্যক্তিরুপে
বিখ্যাত ছিলেন ৷৩ তার একটি ডেগ ছিল, যা সব সময় মধু ও ঘি মাথা রুটিতে পরিপুর্ণ থাকত ৷
তা’ সকলের জন্য ছিল উম্মুক্ত ৷ যে কে ন আরোহী বাহনের উপর থেকেই তা থেকে আহার
করতে প৷ রাত ৷ তিনি গোলাম আযাদ করতে তেন ৷ বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তা করতেন ৷ হযরত
আয়েশা (রা) একদিন নবী করীম (সা) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে
জাদআ নের এসব মহৎ কর্ম কি তার কোন উপকারে আসবে ? জবাবে নবী করীম (সা)
বললেন, জীবনে একদিনও সে একথা বলেনি যে, হে আল্লাহ ! কিয়ামতের দিন তুমি আমার
পাপসমুহ ক্ষমা করে দিও ৷

পাদ্রী বাহীরা
যে মনীষী পুর্বাহ্নেই রাসুলুল্লাহ (সা)-এর মধ্যে নবী হওয়ার লক্ষণ ধরতে পেয়েছিলেন,
তিনি হচ্ছেন পাদ্রী বাহীরা ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তখন মক্কার বনিক কাফেলাসহ চাচা আবু তালিবের
সঙ্গে সিরিয়া যাচ্ছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা)-এর বয়স তখন বার বছর ৷ বাহীরা একটি মেঘখণ্ডকে
সকলের মধ্যে শুধু র্তাকেই ছায়া দিতে লক্ষ্য করেন ৷ তখন তিনি তাদের জন্য আহার্য প্রস্তুত
করে কাফেলার সকলকে দাওয়াত করেন ৷ সীরাত অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা আসছে ৷ ইমাম
তিরমিযী এ বিষয়ে একটি হাদীছবর্ণনা করেছেন ৷ যথাস্থানে আমরা তার উপর বিশদ আলোচনা
করেছি ৷ হাফিজ ইবনে আসাকির বাহীরার জীবনী আঃ লাচনা প্রসঙ্গে উক্ত হড়াদীসের সমর্থনে

বেশ ক ’টি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন ৷ কিন্তু ইমাম তিরমিযী বর্ণিত হাদীছটি উদ্ধৃত করেননি ন্ এটি
আশ্বর্যজনক ব্যাপার বৈকি ?

ইবনে আসাকির লিখেছেন যে, বাহীরা কুফ্র নামে পরিচিত একটি গ্রামে বাস করতেন ৷ সে
গ্রাম থেকে বুসরাৱ দুরতু ছিল ছয় মাইল ৷ এটাই বাহীরার গীর্জা ( ৷ , ন্ ,ৰু১) সালে
বিখ্যাত ৷ কারো কারো মতে, বাহীরা যে গ্রামে বাস করতেন তার নাম মানফাআ ৷ যায়রার
অপর দিকে বালকা নামক স্থানে এটি অবস্থিত ৷ আল্লাহই সম্যক অবগত ৷

কাস্ ইবনে সাঈদা আল-ইয়াদী

হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে সাহ্ল খারায়েতী র্তার হাওয়াতিফুল জান
গ্রন্থে উবাদা ইবনে সামিত (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন ইয়াদের একটি
প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট আগমন করলে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা ৷করলেন,
কাসৃ ইবনে সাঈদ ইয়াদীর খবর কি? তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা)! তিনি তো মারা
গেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, উকাজের মেলায় একদিন অমি তাকে দেখেছিলাম ৷ একটি
লাল উটের পিঠে বসে তখন তিনি কিছু চমৎকার কথা বলছিলেন, এখন আমার তা স্মরণ নেই ৷
এমন সময় ঐ দলের পেছন থেকে জনৈক বেদৃঈন দাড়িয়ে বলল, আমার তা’ মনে আছে, হে
আল্লাহর রাসুল ! বর্ণনাকারী বলেন,এ কথা শুনে নবী করীম (সা) আনন্দিত হন ৷ বেদৃঈনটি

বলল, কাসৃ ইবনে সাঈদা আল-ইয়াদী উকাজ মেলায় সেদিন একটি লাল উটের পিঠে বসে
বলছিলেন :

অর্থাৎ হে লোক সকল! তোমরা সমবেত হও ৷ শুনে ণ্রখ, যারা গত হওয়ার তারা গত হয়ে
গেছে ৷ যা আগমন করার, তা অবশ্যই আসবে ৷ অন্ধকার রাত, কক্ষবিশিষ্ট আকাশ, বিক্ষুব্ধ
সমুদ্র, উজ্জ্বল তারকারাজি, সুদৃঢ় পর্বত ও প্রবহমান নদ-নদী ৷ আকাশে সংবাদ আছে, আর
পৃথিবীতে আছে উপদেশ গ্রহণের উপকরণ ৷ ব্যাপার কি, মানুষ কেবল চলেই যাচ্ছে, ফিরে তো
আর আসছে না ৷ ওখানে রয়ে যাওয়াই কি তাদের পছন্দ, নাকি ত বা ঘৃমিয়ে পড়েছে ৷ কাস্
আল্লাহর নামে শপথ করে বলছে যে, আল্লাহর দেওয়া একটি র্দীন আছে, যা তোমাদের দীন
আপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয় ৷ তারপর তিনি কবিতা আবৃত্তি করলেন শুষ্রু

যারা আমাদের আগে অতীত হয়েছেন , তাদের মধ্যে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে ৷
কারণ আমি দেখালাম যে, মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কারোরই কোন উপায় নেই ৷
আরো দেখালাম যে, আমার সম্প্রদায়েরও গত হয়ে যাচ্ছে-ছোট-বড় সকলে ৷

যারা গত হয়ে গেছে, তারা তোমার নিকট ফিরে আসার নয় ৷ আর যারা বেচে আছে
তারাও আজীবন বেচে থাকবার নয় ৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আরো দশজন লোকের ন্যায়
আমিও একদিন চলে যাব ৷ বর্ণনাটির সনদ গরীব’ পর্যায়ের ৷

তাবারানী তার মু’জামে কাবীর গ্রন্থে ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি
বলেছেন, আব্দুল কায়স গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট আগমন
করলে রাসুলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তেড়ামাদের কেউ কি কাস্ ইবনে সায়িদ
আল-ইয়াদীকে চেনো” তারা বলল, আমরা তো সকলেই তাকে চিনি, হে আল্লাহ্র রাসুল ! নবী
করীম (সা) বললেন, “তার খবর কী? তারা বলল, তিনি তো মারা গেছেন ৷ নবী করীম (সা)
বললেন, আমার মনে আছে যে, এক ম্হাররম মাসে উক৷ ৷জের মেলায় একটি লাল উটের পিঠে
বলে তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন ৷ তিনি বলছিলেন :

“লোক সকল! তোমরা সমবেত হও, কান দিয়ে শ্রবণ কর ও স্মরণ রাখ ৷ যে জীবন লাভ
করেছে, সে মরবেই ৷ যে মরবে সে গত হয়ে যাবে ৷ যা কিছু অগেমন করার, তা অবশ্য
আসবে ৷ আকাশে গুরুত্পুর্ণ খবর আছে, যমীনে আছে শিক্ষা গ্রহণের উপকরণ ৷ শয্যা প্রস্তুত ,
ছাদ সুউচ্চ, নক্ষত্ররাজি আবর্তনশীল, সমুদ্রের পাখি সম্ভার অফুরম্ভ ৷ কাস্ সত্য-সতা শপথ করে
বলছে, এখন যাতে সন্তোষ আছে, পরে অবশ্যই তাতে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে ৷ আল্লাহ্র এমন
একটি দীন আছে, যা তার নিকট তোমাদের দীন অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় ৷ ব্যাপার কি আমি
দেখতে পাচ্ছি যে, মানুষ চলেই যাচ্ছে, আর ফিরে আসছে না! তবে কি তারা ওখানে রয়ে
যাওয়ইি শ্রেয় মনে করেছে? নাকি তারা ঘুমিয়ে পড়েছে?

তঃপর রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে৩ তার কবিতা
উদ্ধৃত করতে পারবো জবাবে একজন পুর্বোক্ত পংক্তি আবৃত্তি করে :

অতীতে গত হওয়া লোকদের মধ্যে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে ৷ আমি দেখতে
পেলাম যে, মৃত্যুর মুখে একবার যে পতিত হয়, তার আর সেখান থেকে ফিরে আসার উপায়
থাকে না ৷ আরো দেখলাম যে, আমার সম্প্রদায়ের ছোট-বড় সকলেই মৃত্যুর পানে ধাবিত
হচ্ছে ৷ যারা অতীত হয়ে গেছে, আমার কাছে তারা আর ফিরে আসবে না ৷হাফিজ বায়হাকী

তার কিতাব দালাইলু নুবুওত’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবন হাসৃসান সুলামী থেকে বর্ণনাটি উদ্ধৃত
করেছেন

আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন,
বকর ইবনে ওয়ড়ায়েল গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট আগমন করলে
রাসুলুল্পাহ (সা) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, €তামাদের মিত্র কাস্ ইবনে সায়িদা
আল-অইয়াদীর খবর কি? এভাবে ইবনে আব্বাস (রা) ঘটনাটি আনুপুর্বিক বর্ণনা করেন ৷

আহমদ ইবনে আবু তড়ালিব হাসান ইবনে আবুল হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
হাসান ইবনে আবুল হাসান বলেন, জারুদ ইবনে মুআল্লা ইবনে হানাশ ইবনে মুআল্লা
আল-আবৃদী নামক একজন খৃষ্টান ব্যক্তি ছিলেন ৷ আসমানী কিতাব সমুহের ব্যাখ্যার তিনি
পারদর্শী ছিলেন ৷ তিনি দর্শন, চিকিৎসা ও আরবী সাহিত্যে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন ৷ সর্বোপরি
তিনি ছিলেন সুদর্শন ও বিত্তবান ৷ একদিন তিনি আব্দুল কায়সের বিচক্ষণ ও বাকপটু কয়েকজন

লোক নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট আগমন করেন ৷ এসে নবীজির সামনে বাস নবীজিকে
উদ্দেশ করে আবৃত্তি শুরু করেন :

“হে হিদায়াতের নবী ! আপনার নিকট কিছু লোক বিজন মরু প্রাম্ভর ও গোত্রের পর গোত্র

অতিক্রম করে এসেছে ৷৩ তারা বিস্তীর্ণ সমতল ভুমি অতিক্রম করে এসেছে আপনার সাক্ষাতের
আশায় ৷ এতে তারা ক্লান্তিকে ক্লাস্তি মনে করেনি ৷

প্রাণীকুল যে বিজন মরু ভুমি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমাদের উষ্ট্রগুলাে সেসব অতিক্রম
করে এসেছে ৷ শক্তিশালী দুঃসাহসী অশ্বগুলাে আরোহীদের নিয়ে উজ্জ্বল তারকার ন্যায় সে সব
অতিক্রম করে এসেছে ৷

এমন ভয়াবহ ও কঠিন দিনের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশায় যেদিন আতঙ্ক হৃদয়কে
আচ্ছন্ন করে (ফলবে ৷ সকল সৃষ্টিকে সমবেত করার দিনের পাথেয় প্ৰত্যাশায় আর ঐ ব্যক্তির
ভয়ে, যে গোমরাহীর মাঝে ঘুরপাক থেয়েছে ৷ আমরা এসেছি আল্লাহর নুরের দিকে প্রমাণ
পুণ্য ও নিয়ামতের দিকে, তা অর্জন করার আশায় ৷

হে আমেনার সন্তান ! আল্লাহ আপনাকে এমন কল্যাণ দান করেছেন,যা আপনার নিকট
একের পর এক আসতে থাকবে ৷ হে আল্লাহ্র নিদর্শন! আপনার দ্বারা আল্লাহ আমাদেরকে
উপকৃত করুন,ঐ ব্যক্তিদের ন্যায় নয়, যারা পশ্চাতে রয়ে গেছে ৷

শুনে রাসুলুল্লাহ (না) তাকে নিজের কাছে এনে বসালেন এবং বললেন : হে জারুদ ! ভুমি
এবং তোমার সম্প্রদায় আমার নিকট আসতে বিলম্ব করে ফেলেছ ৷ জারুদ বললেন, আমার
পিতা-মড়াতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন ! আপনার পথ ধরতে যে বিলম্ব করবে, সে হবে দৃর্তাগা ৷
তার পরিণামও হবে মর্মস্তুদ৷ যারা আপনাকে দেখে, আপনার কথা শুনে আপনাকে ত্যাগ করে

অন্য পথ ধরেছে, আমি তাদের দলে নই ৷ আমি এতকাল যে ধর্মের অনুসরণ করতাম , তা ত্যাগ
করে আপনার ধর্ম গ্রহণ করতে যাচ্ছি ৷ এতে কি আমার পুর্বের যাবতীয় পাপ মোচন হবে না?
এতে কি আল্লাহ্ আমার প্রতি সস্তুষ্ট হবেন না ? জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, তোমার সে
সব দায়-দায়িতু আমার, তুমি এক্ষুণি এক আল্লাহর প্র ত ঈমান আন এবং খৃষ্টধর্ম ত্যাগ কর ! ”
জারুদ বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই ৷ তিনি এক,
অদ্বিতীয় ৷ আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি মুহাম্মদ আল্লাহর বড়ান্দা ও তার রাসুল ধ্”

বর্ণনাকারী বলেন, এই বলে জারুদ মুসলমান হয়ে যান এবং তার সঙ্গে তার সম্প্রদায়ের
বেশ কিছু লোকও ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) এতে বেশ আনন্দিত হন এবং
তাদেরকে সম্বর্ধিত করেন যাতে তারা যারপর নেই আনন্দিত হন ৷

তারপর রাসুলুল্লাহ (সা) তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে
কি , যে কাস্ ইবনে সড়ায়িদা আল ইয়াদিকে চিনে ; জারুদ বললেন, আমার বাপ-মা আপনার
জন্য কুরবান হোন ! আমরা প্রত্যেকেই তাকে চিনি ৷ আমি তো তাকে বেশ ভালো করেই জানি ৷
তিনি আরবেরই একটি গোত্রের লোক ছিলেন ৷ ছয়শ’ত বছর আযু পেয়েছিলেন ৷ এর মধ্যে পশ্বচ
প্রজন্মের আয়ুষ্কাল পর্যন্ত ঈসা (আ)-এর ন্যায় বনে-জঙ্গলে অতিবাহিত করেন ৷ এ সময় নির্দিষ্ট
স্থানে অবস্থান করতেন না এবং তার দ্বারা কেউ উপকৃতও হতে পারত না ময়লা কাপড়
পরিধান করতেন ৷ বৈরাগ্য অবলম্বনে তিনি কোন অশান্তি অনুভব করতেন না ৷ বন্য প্রাণীদের
সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন ৷ অন্ধকারে অবস্থান করা পছন্দ করতেন ৷ গভীর জ্ঞানের অধিকারী
ছিলেন তিনি ৷ এ কারণে তিনি এক অনন্য ব্যক্তি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন ৷ তার প্রজ্ঞা দ্বারা
মানুষ উপমা পেশ করত এবং তার উসিলড়ায় বিপদাপদ দুর হত ৷

তিনিই আরবের প্রথম ব্যক্তি, যিনি এক আল্লাহর বিশ্বাস স্থাপন করেন ৷ ঈমান আনেন,
পুনরুথান ও হিসাব-কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন, জনগণকে অগুভ পরিণতি সম্পর্কে
সতর্ক করেন এবং ঘৃভ্যুর আগে আমল করে যাওয়ার আদেশ দেন ৷ মৃত্যু সম্পর্কে উপদেশ দেন
এবং তাকদীরের ৰুপ্রতি আত্মসমর্পণ করেন ; কবর যিয়ারত করেন, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত
হওয়ার কথা প্রচার করেন ৷ কবিতা আবৃত্তি করেন, তাকদীর সম্পর্কে চিভা-ভাবনা করেন এবং
আকাশের সংবাদ সম্পকে অবহিত হন ৷ তিনিই সর্বপ্রথম সমুদ্র ও পানির বিশদ বিবরণ দেন,
আরোহী অবস্থায় বক্তৃতা দেন, নসীহত করেন, বিপদাপদ ও আযড়াব-গজব থেকে সতর্ক করেন ৷

কুফরী ত্যাগ করে সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন এবং এক আল্লাহর

প্রতি আহ্বান করেন ৷ উকাজের বাজারে একদিন তিনি বললেন :

পুর্ব ও পশ্চিম, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, শান্তি ও যুদ্ধ, শুষ্ক ও আর্দ্র, সোনা ও মিষ্ট, সুর্য ও চন্দ্র
বায়ু ও বৃষ্টি, রাত ও দিন, নারী ও পুরুষ, স্থল ও সমুদ্র, বীজ ও শস্য, পিতা ও মাতা, সমবেত ও
বিক্ষিপ্ত, নিদর্শনের পর নিদর্শন, আলো ও অন্ধকার, স্বচ্ছতা ও সংকট, বর ও দেবতা, নিশ্চয়
মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে গেছে ৷

নবজাতকের দৈহিক বৃদ্ধি, হারিয়ে যাওয়া, গোপন বন্তু, গরীব ও ধনী, সৎ ও অসৎ,
অলসতড়ায় বিভাের লোকদের জন্য ধ্বংস ৷ আমলকারীরা অবশ্যই তাদের আমল ঠিক করে
নিয়ে ৷ আমল না করেই যারা বুকে আশা নিয়ে বসে আছে, তারা অবশ্যই নিরাশ হবে ৷ মানুষ
বা বিশ্বাস করে বসে আছে, ঘটনা আসলে তা নয় বরং আল্লাহ এক ও একক ৷ তিনি কারো
সন্তান নন, পিতাও নন ৷ তিনি চিরঞ্জীব ৷ মৃত্যু ও জীবন দান করেন ৷ নয় ও নারী তিনিই সৃষ্টি
করেছেন ৷ তিনি পরজগত ও ইহজগতের বব ৷ শোন হে ইয়াদের সম্প্রদায় !

ছামুদ ও আদ জাতি এখন কোথায় ? কোথায় তোমাদের পুর্ব পুরুষগণ ? কোথায় বোপী ও
বোপী পরিদর্শনকারীরা? প্রত্যেকেই একদিন পুনরায় জীবিত হবে ৷ কাসৃ মানুষের বরের শপথ
করে বলছে যে, এক একজন করে তোমরা প্রতেদ্রকে একদিন পৃনরুজ্জিবিত হবে ৷ ভাকাডাকি
করার দিন, যখন শিংপায় ফুৎকার দেয়া হবে ও পৃথিবী আলোকােজ্জ্বল হবে ৷ সুতরাং ত্স
সেই ব্যক্তির, যে সুস্ষ্ষ্টি সত্য ও ঝলমলে আলোক হতে বিমুষ্খ হয়েছে ৷ মীমাংসার দিনে,
ন্যায় বিচারের দিনে যখন মহা ক্ষমতাধর বিচার করবেন ও সতককারীরা সাক্ষ্য প্রদান
করবেন, সাহায্যকারীরা দুরে সরে যাবে ও পরস্পর সষ্পর্কহীনতা প্রকাশ পাবে ৷ অবশেষে
একদল জান্নড়াতে আর একদল জাহান্নড়ামে স্থান পাবে ৷ তারপর তিনি কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি
করেন ৷

বর্ণনাকারী বলেন, শুনে রাসুলুল্লড়াহ (সা) বললেন, আমারও মনে আছে যে, একদিন তিনি
উকাজ বাজারে একটি লাল উর্টের পিঠের উপর দাড়িয়ে বক্তৃতা করছিল ৷ বলছিলেন :

“হে লোক সকল ! তোমরা সমবেত হও, শ্রবণ কর ৷ শুনে কথাগুলো মনে রেখ ৷ পরে
সেই অনুযায়ী কাজ করে নিজের উপকার সাধন করবে ৷ আর সত্য কথা বলবে ৷ যে লোক
জীবন লাভ করল, যে মৃত্যুবরণ করবে ৷ যে লোক জীবন লাভ করল, যে শেষ হয়ে গেল ৷ যা
আসৰার তা এসে গেছে ৷”

বৃষ্টি ও শস্য, জীবিত ও মৃত, অন্ধকার রাত, কক্ষবিশিষ্ট আকাশ, উজ্জ্বল নক্ষত্র, বিক্ষুব্ধ
সমুদ্র, আলো ও অন্ধকার, রাত ও দিন, পুণ্য ও পাপ ; নিশ্চয় আকাশে ৎবাদ আছে ৷ যমীনে
আছে শিক্ষার উপকরণ ৷ পাতানাে বিছানা, উচু ছাদ, দীপ্ত নক্ষত্র, ঠাণ্ডা সমুদ্র ও পাল্লার ওজন ৷
কাসৃ আল্লাহর নামে সত্য কসম করে বলছে, যাতে মিথ্যার লেশ মাত্র নেই; সংসারে যদি সন্তুষ্টি
বলতে কিছু থেকে থাকে তা হলে অসন্তষ্টিও আছে নিশ্চয়ই ৷

অতঃপর তিনি বললেন, লোক সকল ৷ নিশ্চয় আল্লাহ্র দেয়া এমন একটি দীন আছে,
যা তার নিকট তোমাদের এই দীন, ধর্ম অপেক্ষা প্রিয় ৷ সেই দীন আগমন করার সময়
ঘনিয়ে এসেছে ৷

অতঃপর তিনি বলিলেন ব্যাপার কি, আমি দেখতে পাচ্ছি যে, মানুষ কেবল চলেই
যাচ্ছে ফিরে কেউ আসছে না ৷ ওরা কি ওখানে থেকে যাওয়ইি মেনে নিয়েছে, নাকি ঘুমিয়ে
পড়েছে ৷

অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা) উপস্থিত সাহাবীদের প্রতি মুখ করে বললেন, তোমাদের কে
আমাকে কড়াস:এর কবিতা বর্ণনা করতে পারবো আবু বকর (বা) বললেন, আমার
পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোন, সেইদিন আমি ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলাম ৷ কড়াস্
তখন বলছিলেন :

— যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের মধ্যে আমাদের শিক্ষা গ্রহণের অনেক উপকরণ
আছে ৷ কারণ, আমি দেখতে পেয়েছি যে, একবার যে মৃত্যুযুখে পতিত হয় সেখান থেকে আর
সে ফিরে আসে না ৷ আর আমার সম্প্রদায়কেও দেখেছি যে, ছোট বড় নির্বিশেষে এক এক করে
তারাও চলে যাচ্ছে ৷ তাতে আমার বিশ্বাস জন্মেছে যে, অন্য দশজনের মত আমিও একদিন
চলে যাব ৷

বংনািক৷ রী বলেন অতংপর আব্দুল কা য়স সম্প্রদায়ের বড় ম ৷৷থাওয়ল ৷দীর্ঘকায় এক প্রবীণ
ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (না)-এর কাছে এসে বললেন, আমার বাবা-ম৷ আপনার জন্য উৎসর্পিত হোন !
আমি কাস্ এর একটি বিস্ময়কর ঘটনা দেখেছি ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, কী দেখেছ হে বনু
আব্দুল কায়স-এর ভাই ? সে বলল, যৌবন কালে আমি বসস্তের চারণভুমি থেকে আমার এক
অবাধ উটের সন্ধানে তার পিছু পিছু ছুটছিলাম , যা র্কাটাগুল্ম ও ছোট ছোট টিলায় ও মনােরম
উদ্ভিদে পরিপুর্ণ ৷ সেখানে অসংখ্য উটপাখি ও সাদা বনগরু নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ৷ ছুটতে
ছুটতে আমি একটি উচু ও সমতল ভুমিতে গিয়ে পৌছলাম ৷ সেখানে সবুজ-শ্যামল পিলু গাছের
ছড়াছড়ি ৷ সেগুলোর ডাল-পালা নুয়ে আছে ৷ সেগুলোর ফল যেন গোলমরিচ ৷ হঠাৎ সেখানে
আমি পানি পড়া অবস্থায় একটি ঝর্ণা ও একটি সবুজ বাগান দেখতে পেলাম ৷

হঠাৎ দেখতে পেলাম, কাস্ ইবনে সায়িদ৷ একটি গাছের নীচে বসে আছেন ৷ তার হাতে
একটি লাঠি ৷ আমি তার কাছে পেলাম এবং বললাম, আপনার কল্যাণ হোক ! তিনি বললেন,
আপনারও কল্যাণ হোক ! তার সাথে আরো একজন লোক ৷ পার্শে একটি কুয়া ৷ বিপুল সংখ্যক
হিংস্র জন্তু সেই কুয়৷ থেকে পানি পান করছে এবং চলে যাচ্ছে ৷ এগুলোর কোনটি যদি কুয়া
থেকে অন্যাটিকে ডিঙ্গিয়ে পানি পান করতে চাইল ৷ কাস্ তাকে এই বলে হাতের লাঠি দ্বারা
আঘাত করতেন যে, থাম , তোমার আগেরটি আগে পানি পান করে নিক, তুমি পরে পান
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়৷ (২য় খণ্ড) ৫৬-

করবে ৷ এ দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত ভীত হলাম ৷ আমার প্রতি তাকিয়ে তিনি বললেন, “তোমার
ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই ৷ হঠাৎ দুইটি কবর দেখতে পেলাম ৷ কবর দুইটির মাঝে একটি
মসজিদ ৷ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এগুলো কাদের কবর? বললেন দুই ভাইয়ের ৷ এই জায়গায়
তারা আল্লাহর ইবাদত করত ৷ আমি ৩াদের সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত এখানে অবস্থান করে
আল্লাহর ইবাদাত করব ৷ ’আমি বললাম, কেন নিজ সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে তাদের সৎকর্মে
সহযোগিতা এবং অন্যায় কাজে বাধা দান করবেন না ? ৷তিনি বললেন তোমার মায়ের অকল্যাণ
হোক, তুমি কি জানাে না যে, ইসমাঈলীদের বংশধর তাদের পিত ৷র দীন ধর্ম পরিত্যাগ করে

অসংখ্য দেব-দেবীর পুজা শুরু করেছে? এই বলে তিনি কবর দু টোর কাছে গিয়ে কয়েকটি
পংক্তি আবৃত্তি করেন ?,

ওগাে বন্ধুদ্বয় ! তোমাদের ল্ডিং৷ তো অনেক দীর্ঘ হলো ৷ মনে হচ্ছে, তোমাদের এই নিদ্রা
কখনো শেষ হবে না ৷ তোমাদের চামড়া ও হাডিদ্রর মাঝের নিদ্রা দেখে আমার মনে হচ্ছে,
খেজুর বীথিতে পানি সিঞ্চনকা রীই (ত তামাদেরও পিপাসা নিবারণ করেছেন ৷ দীর্ঘ নিদ্রার কারণে ৷ই
কি তোমরা কোনো আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিচ্ছ না ? তোমরা কি জান না যে নাজরানে
আমি একা ৷ তোমবা দুজন ব্যতীত আমার কে ন বন্ধু নেই ? ৫৩ ৷মাদের কবরের পাশ্বেই এখন
আমার অবস্থান ৷ এখান থেকে সরকার আমার ইচ্ছা নেই ৷ আমি কি জীবন ভরই তোমাদের জন্য
ক্রন্দন করব? কেউ যদি কারো জন্য উৎসর্ণিত হতে পারে, তা হলে আমি আমাকে তোমাদের

জন্য উৎসর্গ করছি ৷ আমার আত্মা যেন তোমাদের কবরে, তোমাদের কাছে চলেই গিয়েছে ৷
মৃত্যু যেন আমার অতি নিকটে ৷

বর্ণনাকারী বলেন শুনে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন “আল্লাহ কাসৃকে রহম করুন ৷
কিয়ামতের দিন একাই সে একটি উম্ম৩ রুপে উথি ৩ হবে ৷

বর্ণনাঢি একান্তই গবীব পর্যায়ের এবং এটি মুবসালও বটে , যদি না হাসান তা স্বয়ং জারুদ
থেকে শুনে থাকেন ৷ রায়হড়াকী এবং ইবনে অড়াসাকিরও ভিন্ন এক সুত্রে বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন ৷
তাতে এও আছে যে, যে লোকটির উট হারিয়ে গিয়েছিল, উটটি খুজতে খুজতে এক বিপদ
ৎকুল উপত্যকায় তার রাত হয়ে যায় ৷ রাত গভীর হলো , চতুর্দিক গাঢ় অন্ধকারে হেরে গেল ৷
লোকটি বলেন, ঠিক এমন সময় আমি শুনতে পেলাম, কে যেন বলছে ং

“ ওহে আ ধাব রাতে ঘুমম্ভ ব্যক্তি পবিত্র মক্কায় আল্লাহ মহা ড়ান হাশেমী বংশ থেকে
একজন নবী প্রেরণ করেছেন, র্ষার উসিলায় দুর ন্হ;£৷ থ্যাচ্ছ সব বিকট অন্ধকার ৷”
লোকটি বলেন, শব্দ শুনে চোখ তুলে তাকিয়ে আমি কিছুই দেখতে পেলাম না এবং আর
কোন সাড়া-শব্দও পেলাম না ৷ ফলে আমি নিজেই আবৃত্তি করতে শুরু করলাম :

“ওহে সেই ব্যক্তি, যে ঘোর জধোয়ে কথা বলছ তোমায় স্বাগতম ৷ আল্লাহ তোমাকে
হিদায়াত দিন ৷ তুমি পরিষ্কার করে বল যার প্রতি তুমি আহ্বান করছ ৷ তা’ জানালে সাদরে
গৃহীত হবে ৷

লোকটি বলেন, কিছুক্ষণ পর আমি শুনতে পেলাম, কে যেন বলছে, আলো উদ্ভাসিত
হয়েছে, মিথ্যার অবসান ঘটেছে, আল্লাহ মুহাম্মদকে প্রজ্ঞা সহ প্রেরণ করেছেন; যিনি অত্যন্ত
বিচক্ষণ বুদ্ধিমান, মুকুট ও শিরস্ত্রাণধারী, উজ্জ্বল মুখমণ্ডল , সুদর্শন ভ্রাযুগল ও আয়ত নেত্রের
অধিকারী, লা-ইলাহা ইল্লাহল্লাহ যার সাক্ষ্য ৷ তিনি হলেন মুহাম্মদ, সাদা-কালাে , শহর প্ৰতাম্ভ
এলাকার সকলের নিকট যীকে প্রেরণ করা হয়েছে ৷

অতঃপর সে কবিতা আবৃত্তি করল ং

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্র, যিনি বিশ্বজপত অযথা সৃষ্টি করেননি ৷ যিনি ঈসা (আ)-এর
পরে এক দিনের জন্যও আমাদেরকে এমনি ছেড়ে দেননি ৷ আমাদের মাঝে তিনি আহমাদকে
প্রেরণ করেছেন, যিনি সকলের সেরা নবী ৷ আল্লাহ তার প্রতি রহমত বর্ষণ করুক, যতদিন পর্যন্ত
লোকজন তার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং অনুপ্রেরণা লাভ করবে ৷

এ প্রসঙ্গে কাস ইবনে সায়িদা নিম্নোক্ত পংক্তিগুলো আবৃত্তি করেন

–হে মৃত্যুর ঘোষণাকারী ! সমাধিস্থ বাক্তি তাে সমাধিতে বিদ্যমান ৷ তাদের বিরুদ্ধে বর্ণিত
অবশিষ্ট কথাগুলো সব মিথ্যা ৷

তাদের কথা ছেড়ে দাও ৷ কারণ, একদিন তাদের জাগ্রত হওয়ার জন্য আহ্বান করা হবে ৷
তখন তারা তাদের ঢিদ্রা থেকে জাগ্রত হলে তাদের ঘুম উড়ে যাবে ৷

তখন তারা অন্য অবস্থায় ফিরে যাবে ৷ য়েমনিভাবে তাদের পুর্বে সৃষ্টি করা হয়েছিল,
তেমনিভাবে তাদেরকে নতুন করে সৃষ্টি করা হবে ৷

তাদের কেউ হবে বিবস্ত্র ৷ কেউ থাকবে বস্ত্রাবৃত ৷ কিছু বস্ত্র হয়ে নতুন আর কিছু হবে
পুরাতন ও জীর্ণ ৷

বায্হড়াকী ইবনে আব্বাস (রা) সুত্রে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে উক্ত পংক্তির
কথাও উল্লেখ করেছেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা তার শিয়রে একটি লিপি পেয়েছিল ৷
তাতে ঈষৎ শাব্দিক পরিবর্ত্যাসহ উক্ত পংক্তিগুলোই লিখিত ছিল ৷

শুনে রাসুলুল্পাহ (সা) বললেন, সেই সত্তার শপথ, যিনি আমাকে সতাসহ প্রেরণ করেছেন,
কাস অবশ্যই পুনরুথানে বিশ্বাসী ছিলেন ৷ বর্ণনার মুল বক্তব্য প্রসিদ্ধ ৷ তবে সনদগুলো দুর্বল
হলেও মুল ঘটনা প্ৰমাণে সহায়ক ৷

বায়হড়াকী (র) বর্ণনা করেন যে, হযরত আনাস ইবন মালিক (বা) বলেন, ইয়াদের একটি
প্রতিনিধিদল নবী কারীম (না)-এর নিকট আগমন করলে রাসুলুল্লাহ (না) জিজ্ঞাসা করলেন,
কাস ইবনে সায়িদড়ার খবর কী ? তারা বলল, সে তো মারা গিয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ (না) বললেন,
তার মুখ নিঃসৃত কয়েকটি কথা শুনেছিলড়াম, না এ মুহুর্তে আমি মনে করতে পারছি না ৷ শুনে

উপস্থিত এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মনে আছে ৷ নবী করীম (সা) বললেন,
তা হলে তা’ শুনাও তো! লােকটি বলল, আমি উকাজের বাজারে দাড়িয়ে আছি ৷ এমন সময়ে
কাস ইবন সায়িদা বলল, ওহে লোক সকল ৷ কান পেতে শোন ও মনে রাখ , যে জীবন লাভ
করে, সে অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে ৷ আর যে মৃত্যুবরণ করেছে, সে শেষ হয়ে গেছে ৷ যা কিছু
আমবড়ার, তা এসে গেছে ৷ আধার রাত ৷ কক্ষ বিধিষ্টি আকাশ ৷ উজ্জ্বল নক্ষত্র ৷ বিক্ষুব্ধ সমুদ্র
সুদৃঢ় পর্বত ৷ প্রবহমান নদী ৷ নিশ্চয় আকাশে খবর আছে ৷ পৃথিবীতে আছে শিক্ষা গ্রহণের
উপকরণ ৷ আমি দেখছি যে, মানুষ মরে যাচ্ছে আর ফিরে আসছে না ৷ তাহলে কি মানুষ

ওখানেই থেকে যাওয়া মেনে নিয়েছে, নাকি সব ত্যাগ করে ঘুমিয়ে পড়েছে? কাস্ আল্লাহর
শপথ করে বলছে, সত্য শপথ, নিশ্চয় আল্লাহর একটি দীন আছে যা তোমাদের রীতিনীতির
চেয়ে বহু উত্তম ৷ অতঃপর সে কবিতা আবৃত্তি করল ;;

বিগত লেকাদের মধ্যে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছেঃ আমাকে একদিন চলে
যেতে হবে ৷

যায়দ ইবনে আমর ইবন নুফায়ল (রা)

পুর্ণ পরিচয় যায়দ ইবন আমর ইবনে নুফায়ল ইবন আব্দুল উয্যা ইবনে বিবাহ ইবনে কারয
ইবনে রিযাহ্ ইবন আদী ইবন কাব ইবনে লুওয়াই আল-কুরশী আল আদাবী ৷ উমর
(রা) এর পিতা খাত্তা ব ছিলত তার চাচা ও বৈপেত্রিয় ভাই ৷ কারণ পিতার মৃত্যুর পর আমর ইবনে
নুফায়ল তার বিমাতাকে বিবাহ করেছিলেন ৷৩ তারই গর্ভে ইতিপুর্বে পিতা নুফায়লের ঔরসে তার
ভাই খাত্তাবের জন্ম হয়েছিল ৷ যুবায়র ইবন বাক্কার ও মুহাম্মদ ইবন ইসহাক এরুপ বলেছেন :

যায়দ ইবনে আমর শুরু জীবনেই মুর্তিপুজা ত্যাগ ও পৌত্তলিক ধম বন্লাগ করেছিলেন ৷ এক
আল্লাহ্র নাম নিয়ে যবাহ করা পশু ব্যতীত কোনো পশু তিনি যেতেন না ৷ আসৃমা বিনতে আবু
বকর বলেন, আমি একদিন যায়দ ইবনে আমরকে কাবার দেয়ালে হেলান দিয়ে বলা অবস্থায়
বলতে শুনেছি যে, হে করা ৷ইশ গো ত্র যার হাতে যা য়েদের জীবন, আমি তার শপথ করে বলছি
বর্তমানে আমি ব্যতীত তোমাদের আর কেউ ইবরাহীমের দীনের উপর বহাল নেই ৷ অতঃপর
তিনি বলেন, হে আল্লাহ ৷ তোমাকে পাওয়ার এর চেয়ে উত্তম পন্থা আছে বলে যদি আমি
জানতাম, তবে তা-ই করতাম ৷ কিত্তু অন্য কোনো পন্থা আমার জানা নেই ৷ এরুপ বলে
তিনি বাহনের উপরই সিজদড়ায় চলে যেতেন ৷ অন্য বর্ণনায় আছে যে, তিনি কাবার দিকে মুখ
করে নামায পড়তেন এবং বলতেন, ইবরাহীমের যিনি ইলাহ, তিনিই আমার ইলাহ ৷
ইবরাহীমের দীন যা আমার দীনও ত-৷ ই ৷ জীবন্ত কবর দেয়৷ মেয়েদের তিনি তাদের জীবন
বাচাতেন ৷ কেউ নিজের কন্যা সন্তানকে হত্যা করতে ৩চাইলে তিনি বলতেন, খুন না করে একে
তুমি আমার কাছে দিয়ে দাও ৷ আমি একে লালন-পালন করব ৷ বড় হলে ইচ্ছা করলে তুমি একে
নিয়েও নিতে পারবে আবার আমার কাছেই রেখেও দিতে পারবে ৷ নাসাঈ এ বর্ণনা উদ্ধৃত
করেছেন ৷

লাইছ হিশাম ইবনে উরওয়৷ সুত্রে এবং ইউনুস ইবনে বুকায়র মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক সুত্রে
বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশের তাওহীদবাদী বেশ কয়েকজন ছিলেনত ৷র৷ হচ্ছেন৪ যায়দ ইবনে
আমর ইবন নুফায়ল, ওয়ারাকা ইবনে নওফল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল ওয্য়৷ ,উছমান ইবন
হুয়ায়রিছ ইবনে আসাদ ইবন আব্দুল ওযয়৷ ও আব্দুল্লাহ ইবন জাহ শ,আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা
উমাইয়৷ ছিলেন তার মা ৷ উম্মুল মুমিনীন যয়নাব বিনতে জাহ্শ হলেন তার বোন ৷

একদা মক্কার কুরাইশ বা তাদের একটি প্ৰতিমার নিকট সমবেত হয় ৷ যে কোন উৎসবে
তারা ঐ প্রতিমার কাছে পংং বলি দিত ৷ এক পর্য যে তাদের কেউ কেউ বলাবলি করতে শুরু
করে যে, তোমরা পরস্পর সত্য কথা বলবে ৷ মনের কথা গোপন রাখবে না ৷ একজন বলল,

তোমরা তো অবশ্যই জা ন যে, ৷ সরল সঠিক দীনে ইব্রাহীম

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>