কওমী মাদরাসায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা

কওমী মাদরাসায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা : ভাবনা ও নির্দেশনা

মাওলানা আহমদ মায়মূন

কুরআন ও হাদীসের দ্ব্যর্থহীন ভাষ্য ও মুমিনের বিশ্বাস মুতাবেক প্রধানত জগৎ দুটি: ইহজগৎ ও পরজগৎ। মানুষসহ সকল সৃষ্টিজীব এ পৃথিবীতে জন্মে, বেড়ে ওঠে এবং অনেক অনুকূলতা ও প্রতিকূলতার চড়াই-উৎরাইয়ের মাঝ দিয়ে অগ্রসর হতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ে প্রত্যেকের আপন আপন জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। সকল সৃষ্টিজীব এ নিয়ম-নিগড়ে বাঁধা হলেও সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য বিচারে জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানুষের যে স্বাতন্ত্রিক অবস্থান রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। মানুষ এ জীবনে হাসি-কান্না, আনন্দ-আহ্লাদ, স্নেহ-মায়া, প্রীতি-ভালবাসা, বিরহ-যাতনা, দুঃখ-দুর্দশা, জরা-পীড়া, সুখ-সমৃদ্ধিসহ হাজারো রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। একসময় সকল লীলা সাঙ্গ করে নিমীলিত চোখে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়। এরই নাম ইহজীবন বা ইহজগৎ। ‘ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ নামে সমাজে যা প্রচলিত, তার সম্পর্ক কেবলই এ জগতের সাথে। মানুষ যে অবস্থানে আছে, কি করে তার চেয়ে ভাল অবস্থানে উঠবে, ভাল খাবে, ভাল পরবে, কি করে আরও উন্নতি ও সমৃদ্ধি আসবে, কিভাবে আনন্দ ও সুখের মাত্রাগুলো আরও পরিপূর্ণ ও প্রবৃদ্ধি করা যায়, স্থায়ী ও অফুরন্ত করে রাখা যায়, এ জগতের যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশাকে কিভাবে এড়িয়ে থাকা যায় বা কত দ্রুত প্রতিহত করা যায়, জরা-পীড়া কি করে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা যায়, এক কথায় কি করে শান্তিকে চিরদিনের জন্য হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যায়, এসব ভাবনার তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক চর্চার নামই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। চিরদিনের জন্য চক্ষু নিমীলিত করার পূর্ববর্তী সুখ-দুঃখে আন্দোলিত এ নশ্বর পৃথিবীকে ঘিরেই এসব স্বপ্ন ও ভাবনা আবর্তিত।

সৃষ্টির শুরু থেকে, যখন থেকে মানুষের ব্যক্তিক ও সামষ্টিক কল্যাণের ভাবনার সূচনা হয়েছে, কিংবা বলব, যখন থেকে মানুষের সামনে আসা সকল অভাব ও সংকট দূরীভূত করে নিজের প্রভুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখার মনোবৃত্তি মানুষের মনে সৃষ্টি হয়েছে তখন থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক চর্চা শুরু হয়েছে। হাজার হাজার বছরের পথ-পরিক্রমা পেছনে ফেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আজ কত উন্নত ও সমৃদ্ধ তা সবার চোখের সামনে ভাস্বর। বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ জয় করেছে এ পৃথিবীর দুর্গম গিরি-কান্তার, গহীন অরণ্য, সমুদ্রের তলদেশ, মহা অন্তরীক্ষ, সৌরজগতের নানা গ্রহ-উপগ্রহ। অনুসন্ধিৎসার দৃষ্টি সম্প্রসারিত করেছে এ সৌরজগতের বাইরের দিকে। সমগ্র বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয় এবং দৃষ্টির আওতায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বদৌলতে মানুষ হাজারো রকমের দুর্জয়কে জয় করে অভাবিত সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

তবে সুদূর অতীত থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের সকল প্রচেষ্টা-প্রয়াসের ফলাফল ও তার ব্যবহার সর্বাংশে মানুষের কল্যাণে এসেছে, তা হয়ত কোন বিবেকবানের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানবতাবিরোধী ব্যবহার কি আমরা কেবল হিরোশিমা-নাগাসাকিতে দেখেছি? চেচনিয়া, বসনিয়া, হারজেগোভিনা, ইরাক, ইরান, আফগানিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানবতাবিধ্বংসী ব্যবহার কি কম হয়েছে? আজকের আকাশ সংস্কৃতির অপ্রতিরোধ্য জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয়া তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় যে মাত্রায় পৌছেছে তাও তো এ বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষেরই অবদান। এভাবে আরও কিছুদিন চলতে থাকলে মানবতা ও পাশববৃত্তির ব্যবধান ঘুচে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তার উৎকর্ষের চরম মাত্রা পাবে, তাতে সন্দেহের কি আছে?

আমার এ লেখা পড়ে হয়ত কেউ ভাবতে পারেন যে, আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিরোধী। তা কখনই নয়। আমি আজ বিদ্যুতের আলোতে আর বিদ্যুৎ চালিত পাখার নিচে বসে এ লেখাটি লিখছি তাও তো বিজ্ঞানের সুফল ভোগ করছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হোক তাতো সকলেরই দাবী, সকলের কথা। তবে কল্যাণের সংজ্ঞা কি তা ভেবে দেখা উচিৎ। আজকে মানব কল্যাণের নামে যা বলা বা করা হচ্ছে তা কল্যাণ না অকল্যাণ তা যদি নির্ণয় করতে না পারি তাহলে মানুষের অকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার কি করে রোধ করা সম্ভব হবে?

এ জগতের বাইরে আর একটি জগৎ আছে। তার নাম পরজগৎ। পরজগতের জীবন অনন্ত ও অসীম। তার সুখ-দুঃখও অনন্ত ও অসীম। সেই জীবন নিয়ে বিজ্ঞানের কোন মাথা ব্যথা নেই। বিজ্ঞান সেখানে অচল। প্রযুক্তির চাকা সেদিকে অগ্রসর হয় না। মানুষের ইহজগতের শান্তি ও কল্যাণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার এবং ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কেউ অস্বীকার করে না। অগণিত অজস্র লোক তা করছেও, আরও করুক, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই; বরং উৎসাহিত করার আগ্রহ আছে। তবে কি মানুষের পরকালীন অনন্ত জীবনের শান্তি ও জীবনের অভিপ্রায় কামনা-বাসনাগুলোকে সমৃদ্ধ করতে কিংবা দেশ ও জাতিকে উন্নতির শিখরে উন্নীত করতে শ্রেণী-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় আত্মনিয়োগ করতে হবে এমন নয়; বরং এজন্য একদল উদ্যমী প্রতিভার প্রয়োজন এবং তাই যথেষ্ট।

পক্ষান্তরে পরকালের শান্তি ও কল্যাণ অর্জনের প্রচেষ্টা সর্বস্তরের সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের জন্যই আবশ্যক। যারা এ কাজে সর্বস্তরের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে, এ পৃথিবীতে বসে পরকালের জীবনকে সুন্দর ও শান্তিময় করতে যারা মানুষকে করণীয় ও বর্জনীয় কর্মের শিক্ষা দীক্ষা দেবে, এমন একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর অহর্নিশ মনোনিবেশ জরুরী যাদের সংখ্যার মাত্রা হওয়া উচিৎ অন্তত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চাকারীদের চেয়ে শতগুণ বেশী। অথচ তা করছে হাজারে হয়ত বা একজন, যাদেরকে আমরা কওমী মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক হিসাবে চিনি। এদের কাজ মানুষকে সভ্যতা-ভদ্রতা, নীতি-নৈতিকতা, শালীনতা, ন্যায়পরায়ণতা, সৎকর্ম ও নিষ্ঠার শিক্ষা দিয়ে মানুষের ইহকালীন জীবনকে পরকালীন শান্তিময় জীবন লাভের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রয়াস চালানো। এজন্য কত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর এ কাজে আত্মœনিয়োগ করা প্রয়োজন, তা অনুমান করা যেতে পারে। যারা এ খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন তাদের সংখ্যা যে, প্রয়োজনের তুলনায় এক সহস্রাংশ বলে অনুমিত তা পূর্বেই বলা হয়েছে।

তবু পরাশ্রয়ী লতিকার ন্যায় পরজীবী কিছু লোক, যারা নিজেদের জীবনের সঠিক গতি-গন্তব্যের ব্যাপারে উদাসীন হলেও নিজেদেরকে প্রগতিবাদী বলে পরিচয় দিতে তৃপ্ত বোধ করে, তারা এ দরদী মাতম (?) তুলে আকাশ পাতাল এক করে ফেলতে চাইছে যে, কওমী মাদ্রাসায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা হয় না। এ শ্রেণীর লোক নিজেদের কর্তব্যকর্ম ভুলে নিজেদের ভুলত্রুটি দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত না করে অন্যদের ত্রুটি খুজতে অভ্যস্ত। সেটি আদৌ ত্রুটি বলে বিবেচিত হওয়ার মত কিনা সে কথা ভিন্ন। ‘চালনি না কি সুই কে বলে তোর মার্গে ছিদ্র’ এ সব প্রগতিবাদী কয়জন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন? যারা করেন তাদের কয়জন তাদের প্রতি সৃষ্টিকর্তার কি কি আদেশ বা নিষেধ আছে, তা জানেন বা মানেন? তাদের কয়জনের শরীয়তসম্মতভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জ্ঞান আছে? তাদের কয়জন অন্যায় অবিচার, মিথ্যা প্রতারণা ইত্যাদি থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখেন? তাদের কয়জন নিজেদের হীন স্বার্থে নীতি নৈতিকতাকে শিকেয় তুলে রাখেন না? মোটকথা, তাদের কয়জন নিজেদেরকে অন্যায় অপকর্ম এবং অসৎ ও অবৈধ কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করে সৎপথে পরিচালিত করেন?

তাদের হেদায়েতের পথে আনার জন্য, সঠিক পথের দিশা দেওয়ার জন্য এবং তাদেরকে শরীয়তের বিধি বিধান শিক্ষা দেওয়ার জন্য গভীর ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন একদল লোকের আত্মনিবেদিত থাকা উচিৎ নয় কি? দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কওমী মাদরাসায় কুরআন, হাদীস ফিকাহ চর্চায় একদল লোক একনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত না থাকলে সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে দ্বীনের দীক্ষা দানকারী বিজ্ঞ আলেমসমাজ কোথা থেকে গড়ে উঠবে?

আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করার জন্য হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন আছে। খাবারে লবণ সমতুল্য এ স্বল্প সংখ্যক আলেম সমাজকেও আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় লাগিয়ে দিলে তাদের যে, আম ও ছালা দুটোই যাবে, তা কি বুঝিয়ে বলার দরকার আছে?

এখানে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, মাদরাসা শিক্ষার্থী-শিক্ষাপ্রাপ্ত তথা আলেমসমাজ সংখ্যায় যত নগণ্যই হোক না কেন, তারা কি তবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে বঞ্চিত থাকবেন? তাদের এ প্রশ্নের উত্তরে বলব, সাধারণ জ্ঞানের কলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা যেমন নিম্ন মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ জ্ঞান অর্জন করার পর প্রত্যেকের রুচি ও মেধা মাফিক আপন আপন ভুবনে অগ্রসর হয়, তেমনি কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নিচের শ্রেণীগুলোতে নিম্নমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ জ্ঞান অর্জন করে তারপর ধর্মীয় জ্ঞানে পা-িত্য অর্জনের জন্য অগ্রসর হতে পারে। অনেক কওমী মাদরাসার সচেতন কর্ণধারগণ সে ব্যবস্থা রেখেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও সেভাবে গড়ে উঠেছে। আর যে সব কওমী মাদরাসার কর্তৃপক্ষের এদিকটি নিয়ে ভাববার সুযোগ হয়নি তারাও হয়ত অনতিবিলম্বে এদিকে দৃষ্টিপাত করবেন বলে আশা করি। দারুল উলূম দেওবন্দ এক্ষেত্রেও আমাদের অনুকরণীয়।

কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বাইরে যে বিশাল জনগোষ্ঠী আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় নিযুক্ত রয়েছে, তারা তাতে নিমগ্ন থাকুক, আরও বেশী করে আত্মনিয়োগ করুক, তাদের নিজেদের এবং সমগ্র দেশ ও জাতির কাক্সিক্ষত উন্নতি অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখুক, তার প্রতি আমরা কেবল সর্বান্তকরণে নৈতিক সমর্থনই জানাই না; বরং এ চেতনাকে সর্বতোভাবে উৎসাহিত করি। রাসূল সা. বলেছেন, ‘জ্ঞানের কথা জ্ঞানীজনের হারানো সম্পদ। সে যেখানে তা পাবে সেখান থেকে কুড়িয়ে নেবে।’ [তিরমিযী. হাদীস: ২৬৮৭]

একটি জাতিকে এ পৃথিবীতে মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতে হলে, একটি সভ্য জাতিরূপে বাঁচতে ও টিকে থাকতে হলে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি সহকারে জীবন যাপন করতে হলে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার কোন বিকল্প নেই। একটি সমৃদ্ধ জাতির জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, দক্ষ বিজ্ঞানী, বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদ, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, রসায়নবিদসহ আরও কত ধরনের প-িত ও গুণীজনদের প্রয়োজন তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে? তবে এর পাশাপাশি এসব বহুবিদ গুণবিদদের ধর্মীয় জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তাও কি অস্বীকার করা যাবে?

ঈমান-আকীদা ঠিক রাখতে হলে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করতে হলে, হালাল-হারাম বুঝতে হলে, সঠিক ও সহীহ শুদ্ধভাবে ইবাদত বন্দেগী করতে হলে, মোটকথা সৃষ্টিকর্তা মাবুদকে চিনে তাঁর আদেশ নিষেধ এবং শরীয়তের অনুশাসন জেনে ও মেনে চলতে হলে যে ন্যূনতম ধর্মীয় জ্ঞানের প্রয়োজন আছে, তা এদের এবং সমগ্র জাতির জন্য আবশ্যক নয় কি? উত্তর তো হ্যাঁ বাচকই হবার কথা। তাহলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভিভাবক মুসলিম সরকারের প্রতি, যারা প্রয়োজনের সময় নিজেদেরকে ‘ধর্মপ্রাণ’ বলে পরিচয় দিতে আনন্দ বোধ করেন, আমাদের জোর দাবি থাকবে, নিম্ন মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলমানদের সন্তানদের জন্য সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান সিলেবাসে সংযুক্ত করে তার পাঠদান ও পাঠগ্রহণের বাধ্যতামূলক করা হোক। যাতে তারা হালাল-হারামের পার্থক্য করে, সঠিকভাবে ইবাদত বন্দেগী করে এবং শরীয়তের অনুশাসন জেনে ও মেনে চলতে সমর্থ হয়। অন্যথা মুসলিম জাতি হিসাবে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার এবং মুসলমান বলে পরিচয় দেওয়ার কোন অধিকার তাদের থাকবে না। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

পরিশেষে যারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করে কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা ও তার উৎকর্ষ সাধনের আবশ্যকতা অনুভব করে চিৎকার করে থাকেন তাদের উদ্দেশ্য করে বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক ও বিজ্ঞান-মনস্ক কবি ইকবালের একটি কবিতার কয়েকটি চরণ উদ্ধৃত করছি।

ڈھونڈنے والا ستاروں كي گذرگاہوں كا
اپنے افکار کی دنیا میں سفرکر نہ سکا

اپنی حکمت کی خم و پیچ میں الجھا ایسا
آج تک فیصلہ نفع و ضرر کر نہ سکا

جس نے سورج کی شعاعوں کو گرفتار کیا
‌زندگی کی شب تاریک سحر کر نہ سکا

‘নক্ষত্রপুঞ্জের গতিপথ অনুসন্ধানকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ নিজের চিন্তা ও ভাবনার জগৎ পরিভ্রমণ করতে সমর্থ হয়নি। সে নিজের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল গ্রন্থির ফাপরে এভাবে জড়িয়ে পড়েছে যে, আজও তার নিজের জন্য কোনটি উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর, তার চূড়ান্ত হিসাব চুকাতে সক্ষম হয়নি। যে বিজ্ঞানী সূর্যের রশ্মিকে বন্দি ও নিয়ন্ত্রণ করেছে সে নিজের জীবনের অন্ধকার রাতকে ভোরের আলোয় উদ্ভাসিত করতে সমর্থ হয়নি।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা