চাচা আবু তালিবের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা) এর সিরিয়া সফর এবং পাদ্রী বাহীরার সঙ্গে সাক্ষাত প্রসঙ্গ

চাচা আবু তালিংবর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা) এর
সিরিয়া সফর এবং পাদ্রী বাহীরার সঙ্গে সাক্ষাত প্রসঙ্গ

ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর আবু তালিব বড়াণিজােপলক্ষে একটি কাফেলার সঙ্গে সিরিয়া
রওয়ানা হন ৷ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যেই মাত্র তিনি রওয়ানা হন, ঠিক তখনি রাসুলুল্লাহ (না)
তাকে জড়িয়ে ধরেন ৷ এতে তার প্রতি আবু তালিব বিগলিত হয়ে পড়েন এবং বলে ওঠেন,
আল্লাহর শপথ ! একে আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাব ৷ আমিও তাকে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করব না,
সেও কখনো আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না ৷

যা হোক, রাসুলুল্লাহ (সা)-কে সঙ্গে করে আবু তালিব রওয়ানা হন ৷ কাফেলা সিরিয়ার
বুসরা নামক এক স্থানে যাত্রা বিরতি করে৷ সেখানকার একটি গীর্জায় এক পাদ্রী অবস্থান
করেন ৷ তার নাম ছিল বাহীরা ৷

খৃষ্টীয় ধর্মের তিনি বড় পণ্ডিত ছিলেন ৷ পাদ্রীতু গ্রহণ অবধি তিনি ঐ পীর্জায়ই সব সময়
থাকতেন ৷ খৃষ্টানদের ধারণা মতে, খ্রীষ্টীয় ধর্মগ্রন্থে তিনিই ছিলেন শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিত ৷
উত্তরাধিকার সুত্রে এই জ্ঞান তারা পেয়ে থাকেন ৷

মক্কার এই বণিক কাফেলা এর আগেও বহুবার এ পথ চলাচল করেছে ৷ কিন্তু পাদ্রী বাহীরা
এতকাল পর্যন্ত কখনো তাদের সঙ্গে কথাও বলেন নি এবং তাদের প্রতি ফিরেও তাকান নি ৷
কিত্তু এই যাত্রায় কাফেলা পাদ্রীর গীর্জার নিকটে অবতরণ করলে পাদ্রী তাদের জন্য খাবারের
আয়োজন করেন ৷ কাফেলার লোকজনের ধারণা মতে, পাদ্রী তার গীর্জায় বলে কিছু একটা লক্ষ্য
করেই এমনটি করেছিলেন ৷ তাদের ধারণা, পাদ্রী কাফেলার মাঝে রাসুলুল্পাহ (সা)-কে দেখে
ফেলেছিলেন ৷ ফলে তখন একখণ্ড মেঘ দলের মধ্য থেকে শুধু রাসুলুল্লাহ (না)-কেই ছায়া ণ্
দিচ্ছিল ৷ কাফেলার লোকেরা আরও সামনে অগ্রসর হয়ে পাদ্রীর কাছাকাছি একটি গাছের ছায়ায়
অবস্থান নেয় ৷ পাদ্রী রাসুলুল্লাহ (না)-কে মেঘের ছায়া প্রদান এবং তার প্রতি গাছের ডাল-পালা
ঝুকে থাকছে লক্ষ্য করেন ৷ এসব দেখে পাদ্রী তার পীর্জা হতে বেরিয়ে আসেন ৷ এদিকে তার
আদেশে খাবার প্ৰন্তুত করা হয় ৷ এবার তিনি কাফেলার নিকট লোক প্রেরণ করেন ৷ কাফেলার
প্রতিনিধি দল পাদ্রীর নিকট উপস্থিত হলে পাদ্রী বলেন, ওহে কুরাইশ সম্প্রদায়! আমি তোমাদের
জন্য খাবারের আয়োজন করেছি ৷ আমার একান্ত কামনা তোমরা প্রতেব্রুকে আমার এই
আয়োজনে উপস্থিত হবে, বড় ছোট,গােলাম-আযাদ সকলে ৷ জবাবে একজন বলল, আজ
আপনি ব্যতিক্রম কিছু করছেন দেখছি ৷ ইতিপুর্বে ক্খনাে তো আপনি আমাদের জন্য এরুপ
আয়োজন করেন নি ৷ অথচ এর আগেও বহুবার আমরা এই পথে যাতায়াত করেছি ৷ আজ এমন

কি হলো বলুন তো? বাহীরা বললেন, ঠিকই বলেছ! তোমার কথা যথার্থ ৷ ব্যাপার তেমন কিছু
নয় ৷ তোমরা মেহমান ৷ একবেলা খাবার খাইয়ে তোমাদের যেহমানদারী করতে আশা
করেছিলাম আর কি ৷

কুরাইশ বণিক কাফেলার সকলেই পদ্রীর নিকট সমবেত হন ৷ বয়সে ছোট হওয়ার কারণে
রাসুলুল্লাহ (সা) গাছের নিচে তাদের মালপত্রের নিকট থেকে যান ৷ পাদ্রী যখন দেখলেন যে,
কাফেলার সব লোকই এসেছে ৷ কিন্তু তিনি যে গুণ ও লক্ষণের কথা জানতেন, তা কারো মধ্যে
দেখা যাচ্ছে না ৷ তখন তিনি বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায় ৷ আমার খাবার থেকে তোমাদের
একজনও যেন বাদ না যায় ৷ লোকেরা বলল, হে বাহীরা ৷ আপনার নিকট যাদের আসা উচিত
ছিল, তাদের একজনও অনুপস্থিত নেই ৷ কেবল বয়সে আমাদের সকলের ছোট একটি বালক
র্তাবুতে রয়ে গেছে ৷ পাদ্রী বলল, “না, তা করো না ৷ ওকেও ডেকে পাঠাও, যেন সেও
তোমাদের সঙ্গে এই খাবাবে শরীক হতে পারে ৷” বর্ণনাকারী বলেন এর জবাবে কাফেলার এক
কুরাইশ সদস্য বলে উঠল, লাত-ওজ্জার শপথ ! মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব
এই খাবারে আমাদের মধ্য থেকে অনুপস্থিত থাকা আমাদের জন্য দৃর্তাগ্যই বটে ৷ অতঃপর সে
উঠে গিয়ে মুহাম্মদ (না)-কে কোলে করে এনে সকলের সঙ্গে আহারে বসিয়ে দেয় ৷ বাহীরা
তাকে দেখে গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং তার দেহে সেসব লক্ষণ দেখার
চেষ্টা করেন, যা তিনি তার কিভাবে ইতিপুর্বে পেয়েছিলেন ৷

আহার পর্ব শেষে সকলে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ল ৷ এই সুযোগে বাহীরা রাসুলুল্লাহ
(না)-এর কাছে গিয়ে বললেন, “হে বালক! আমি তোমাকে লাত-ওজ্জার শপথ দিয়ে জানতে
চাচ্ছি, আমি তোমাকে যা জিজ্ঞেস করবো, তার যথার্থ জবাব দিবে কিং” বাহীরা লাভ ওজ্জার
নামে এই জন্যই কসম থেয়েছিলেন যে, তিনি মুহাম্মদ (না)-এর সম্প্রদায়কে এ দুই নামের শপথ
করতে অভ্যস্ত বলে শুনেছিলেন ৷ যা হোক, জবাবে রাসুলুল্পাহ (সা) বললেন, আপনি আমাকে
লাতওজ্জার নামে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না ৷ আল্লাহর শপথ! আমি এই দু’টোর মত অন্য
কিছুকেই এত ঘৃণা করি না ৷ বাহীরা বললেন, আল্লাহর শপথ ৷ আমি তোমাকে যা যা জিজ্ঞেস
করবো, তার যথাযথ জবাব তু দিবে কি? রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, আপনার যা ইচ্ছে হয়
জিজ্ঞেস করুন ৷ বাহীরা রাসুলুল্লাহ (না)-কে তার ঘুম, আকার-আকৃতি ইত্যাদি সব বিষয়ে
জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (না) এক এক করে সব প্রশ্নের জবাব দিলেন ৷ তার
প্রদত্ত সব বিবরণ বাহীরার পুর্ব থেকে জানা নবীর গুণাবলীর সঙ্গে হুবহু মিলে যায় ৷ তারপর
বাহীরা তার পিঠে দৃষ্টিপাত করে পুর্ব থেকে জানা বিবরণ অনুযায়ী তার দৃ’স্কন্ধের মধ্যবর্তী স্থানে
নবুওতের মহর দেখতে পান ৷

পাদ্রী বাহীরা এবার নবীজির চাচা আবু তালিব-এর দিকে ফিরে বললেন এই বালক
আপনার কী হয় ? আবু তালিব বললেন, আমার পুত্র ৷ বাহীরা বলবেন, না যে আপনার পুত্র নয় ৷
এই বালকের পিতা জীবিত থাকতে পারে না ৷ আবু তালিব বললেন, ও আমার ভাতিজা ৷ পদ্রী
বললেন, ওর পিতার কি হয়েছে? আবু তালিব বললেন, ও যখন তার মায়ের গর্ভে তখন ওর
পিতা মারা যান ৷ পাদ্রী বললেন, ঠিক বলেছেন ৷ ভাতিজাকে নিয়ে আপনি দেশে ফিরে যান ৷

আর ওর ব্যাপারে ইহুদীদের থেকে সতর্ক থাকবেন ৷ আল্লাহর শপথ ! ইহুদীরা যদি ওকে দেখতে
পায় আর আমি ওর ব্যাপারে যা কিছু বুঝতে পেয়েছি, যদি তারা তা বুঝতে পারে, তাহলে ওরা
ওর অনিষ্ট করবে ৷ আপনার এই তাজিতাটি ভবিষ্যতে বিশিষ্ট মর্যাদার অধিকারী হবেন ৷ আপনি
ওকে নিয়ে শীঘ্র দেশে ফিরে যান ৷ আবু তালিব সিরিয়ার বাণিজ্য ৷:ণষ করে রাসুল্লাহ (না)-কে
নিয়ে তাড়াতাড়ি মক্কায় ফিরে আসেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, যারীরা, ছামামা ও দারিসমা আহলে কিতাবের এই তিন ব্যক্তিও
বাহীরার মত উক্ত সফরে রাসুলুল্পাহ (সা)-কে দেখেছিল এবং তাকে সনাক্ত করতে পেয়েছিল ৷
তারা রাসুল (না)-এর ক্ষতিসা ধন করার চেষ্টাও করে ৷ বাহীরা তাদেরকে নিবৃত্ত করেন ৷ তিনি
তাদেরকে আল্লাহর কথা এবং তাওরাতে মুহাম্মদ (সা ) সম্পর্কে যে বিবরণ আংছ, সে সবের কথা
স্মরণ করিয়ে দেন ৷ তারা তার বক্তব্য বুঝে ফেলে এবং তাকে সত্য বলে মেনে নেয় ৷ ফলে
তারা মুহাম্মদ (সা) কে ছেড়ে দিয়ে ফিরে যায় ৷

ইউনুস ইবন বুকায়র ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু তালিব উক্ত ঘটনার
বিবরণ দিয়ে তিনটি কাসীদা আবৃত্তি করেছিলেন ৷ এতো গেল ইবন ইসহাক এর বর্ণনা ৷ অন্য
এক মুসনাদেও মারফু সুত্রে অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷

হাফিজ আবু বকর আল-খারায়েতী বর্ণনা করেন যে, আবু বকর ইবন আবু মুসা তার পিতা
থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালিব সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ৷ তার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ
(সা)সহ আরও কয়েকজন কুরাইশী ব্যক্তি ৷ পাদ্রী বাহীরার এলাকায় গিয়ে তারা যাত্রা বিরতি
করে ৷ তাদেরকে দেখে পাদ্রী বেরিয়ে আসেন ৷ এর আগেও তারা এই পথে চলাচল করত; কিত্তু
পাদ্রী কখনো বেরিয়ে আসেন নি, তাদের প্রতি ফিরেও তাকান নি ৷ যা হোক কুরাইশ কাফেলা
অবতরণ করে আর পাদ্রী বেরিয়ে তাদের নিকটে চলে আসেন ৷ এসেই তিনি নবীজি (সা) এর
হাত ধরে ফেলে বলেন, “ইনি বিশ্বজগতের সরদার ৷” বায়হাকীর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে,
“ইনি বিশ্বজগতের প্রভুর রাসুল! আল্লাহ তাকে ৰিশ্বজগতের জন্য রহমত বানিয়ে প্রেরণ
করেছেন ৷ একথা শুনে কুরায়শের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি বলে উঠল, আপনি তার সম্পর্কে কী
জানেনঃ পাদ্রী বললেন, তোমরা পেছনের ঐ পাহাড়ের পাদদেশ অতিক্রম করার সময় প্রতিটি
গাছ, প্রতিটি পাথর তার প্ৰতি সিজদায় লুটিয়ে পড়েছিল ৷ আর এগুলো নবী ছাড়া অন্য কাউকেই
সিজদা করে না ৷ আর আমি তাকে তার র্কাধের সামান্য নিচে অবস্থিত মহরে নবুওত দেখে
সনাক্ত করতে পেরেছি ৷

অতঃপর পাদ্রী ফিরে গিয়ে তাদের জন্য খাবার প্রন্তুত করেন এবং খাবার নিয়ে এসে
দেখতে পেলেন যে, একটি মেঘখণ্ড নবীজি (না)-কে ছায়া প্রদান করছে ৷ তিনি তখন উটের
দেখাশোনা করছিলেন ৷ কাফেলার কাছে এসে তিনি বললেন, ঐ দেখ মেঘ ওকে ছায়া দিচ্ছে ৷
লোকেরা নবীজিকে গাছের ছায়া তলে নিয়ে আসে ৷ নবীজি (সা) গাছের ছায়ায় বসা মাত্র ছায়া
তার প্রতি ঝুকে পড়ে ৷ পাদ্রী বললেন, “লক্ষ্য কর, গাছের ছায়া ওর প্রতি ঝুকে পড়েছে ৷”
বর্ণনাকারী বলেন, পাদ্রী তখন কাফেলার লোকদেরকে শপথ দিয়ে বললেন, যেন তারা নবীজি
(না)-কে নিয়ে রােমে না যায় ৷ কারণ রোমবাসী তাকে দেখলে লক্ষণ দেখে চিনে ফেলবে এবং

হত্যা করে ফেলবে ৷ এ কথা বলেই পাদ্রী মুখ ফিবিয়েই দেখতে পেলেন যে, সাতজন রােমক
এগিয়ে আসছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, দেখে পাদ্রী তাদের প্রতি এগিয়ে গয়ে জিজ্ঞেস করলেন

তোমাদের আগমনের উদ্দেশ্য কী? জবাবে তার৷ বলল, আসলাম, কারণ আমরা জানতে
পেয়েছি যে, এই নগরীতে এ মাসেই এই নবীর আগমন ঘটতে যাচ্ছে ৷ তাই প্রতিটি রাস্তায়
লোক প্রেরণ করা হয়েছে ৷ আর আমরা আপনার এ পথ দিয়ে তার আগমনের সংবাদ পেয়েছি ৷
পাদ্রী বললে, আচ্ছা, তোমাদের পেছনে কি কেউ আছে তোমাদের চাইতে উত্তম? তারা বলল,
না ৷ আমরা কেবল নবীর এই পথে আগমনের সং বাদ পেয়েই এসেছি ছ৷ পাদ্বী বললেন, আচ্ছা,
বলতো, আল্লাহ যে কাজ সম্পাদন করার ইচ্ছা করেন, তাপ্রতিরােধ করার ক্ষমতা কি কোন
মানুষের আছে? তারা বলল, না’ ৷ বর্ণনাক ৷রী বলেন, একথার পর তা ৷রা পাদ্রীর শিষ্যতু গ্রহণ
করে এবং তার সাহচর্য অবলম্বন করে ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর পাদ্রী কুরাইশ কাফেলাকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করেন, আমি
তােমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, বল তো, এই বালকের অভিভাবক কে?
জবাবে তারা বলল, আবু তালিব ৷ পাদ্রী নবীজির ব্যাপারে পুনঃপুনঃ অনুরোধ করায় আবু বকর
ও বিলালকে সাথে দিয়ে নবীজিকে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দেন ৷ পাদ্রী পাথেয় হিসাবে কিছু পিঠা
ও যয়তুন তেল তীর সঙ্গে দিয়ে দেন ৷

তিরমিযী, হাকিম, বায়হাকী ও ইবন আসাকির এবং আরও বহু হাদীসবেত্তা ভিন্ন ভিন্ন সুত্রে
অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ এই হাদীসটির সনদ গরীব পর্যায়ের ৷ ইমাম তিরমিযী বলেছেন,
বর্ণনাটি হাসান ও গরীব ৷ বায়হাকী ও ইবন আসাকিরও এটি উদ্ধৃত করেছেন ৷

আমার মতে, এ বংনিাটিতে কয়েকটি গারাবাত বিদ্যমান ৷ প্রথমত, এটি সাহাবীগণের
মুরসা ল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত ৷ কারণ আবু মুসা আশআরী আরবে আগমন করেছেন খায়বারের বছর
অর্থাৎ হিজরতের সপ্তম বছর ৷ ইবন ইসহাক যে তাকে মক্কা থেকে হাবশায় হিজরত কারী
অভিহিত করেছেন, যে তথ্য গ্রহণযোগ্য নয় ৷ অতএব বর্ণনাটি মুরসাল ৷ কারণ, ঘটনাটি যখন
ঘটে, তখন রাসুল (না)-এর বয়স ছিল বার বছর ৷ সম্ভবত আবু মুসা এ প্রসিদ্ধ ঘটনাটি অন্য
কারো মুখে শুনেই বর্ণনা করেছেন ৷

দ্বিতীয়ত, এর চেয়ে বিশুদ্ধ৩ র হাদীসেও মেঘের কথা উল্লেখ নেই ৷৩ তৃভীযত, এই যে বলা
হল, আবু বকর তার সঙ্গে বিলালকে প্রেরণ করলেন, কথাটাও গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ, সে
সময়ে রাসুলুল্লাহ (না)-এর বয়স ছিল বার বছর, তাহলে আবু বকর এর বয়স ছিল নয় কি দশ
বছর ৷ আর বিলালের বয়স তার চেয়েও কম ৷ এমতাবস্থায় প্রশ্ন জাগে, ঘটনাটি যখন ঘটে,
তখন আবু বকরই বা কোথায় ছিলেন, বিলালই বা ছিলেন কোথায়? দৃ’জনই তো তখন
ঘটনান্থলে অনুপস্থিত ৷ তবে, একথা বলা যায় যে, ঘটনাটি এরুপ ঘটেছিল ঠিকই ৷ তবে এটি
অন্য কোন ঘটনা কিৎব৷ তখন রাসুলুল্পাহ (না)-এর বয়স বার বছর হওয়ার বর্ণনাটি সঠিক নয় ৷
করণ, ওয়াকিদী ছাড়া আর কেউ বার বছরের কথা উল্লেখ করেন নি ৷ সুহায়লী বর্ণনা করেছেন
যে, সে সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা) এর বয়স ছিল নয় বছর ৷ আল্লাহই৩ ৷লাে জানেন ৷

মুহাম্মদ ইবন সালিহ সুত্রে ওয়াকিদী বর্ণনা করেছেন যে, বাসুলুল্লাহ (সা ) এর বয়স যখন
বার বছর, তখন তিনি চাচা আবু তালিব এর সাথে একটি বণিক কাফেলার সাথে সিরিয়া সফর
করেন ৷ পথে তারা পাদ্রী বাহীরার যেহমান হন ৷ তখন বাহীরা আবু তড়ালিবের কানে কানে কী
যেন বললেন ৷ নবীজি (না)-এর প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জনটু৷ বলেন ৷ ফলে আবু তালিব
র্তাকে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দেন ৷

মহান আল্লাহর হেফাজতে আবু তালিবের নিকট থেকে রাসুলুল্লাহ (সা) যৌবনপ্রাপ্ত হন ৷
এ সময়ে আল্লাহ তাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাবতীয় জাহিলী কর্মকাণ্ড ও দোষ-ক্রটি থেকে মুক্ত
রাখেন ৷ ফলে তিনি সমাজে ব্যক্তিত্বে সকলের শ্রেষ্ঠ, চরিত্রে সর্বোত্তম, আলাপে-ব্যবহাবে,
উঠার-বসার সবচাইতে ড্ড, সহনশীলতা-বিশ্বস্ততায় সবচাইতে মহান, কথাবার্তায় সত্যবাদী,
সমস্ত অশ্লীলতা ও নােৎরামী থেকে মুক্ত ৷ কখনো ভীকে নিন্দাবাদ করতে বা কারো সাথে
কলহ-বিবাদ করতে দেখা যায়নি ৷ সব দেখে তীর স্বজা ত তার নাম দেয় আল-আমীন’ ৷
আল্লাহ প্রদত্ত এসব গুণাবলি দেখে আবু তালিব নিজের এৰু পর্যন্ত তার রক্ষণাবেক্ষণ ও
সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন ৷

মুহাম্মদ ইবন সাদ আবু মুজলিয থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ’র মৃত্যুর পর আবু
তালিব মুহাম্মদ (না)-এর প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হন ৷ নবীজি (না)-কে সঙ্গে না নিয়ে তিনি
সফর করতেন না ৷ একবার (নবীজিকে সঙ্গে নিয়ে) তিনি সিরিয়ার অভিমুখে রওয়ানা হন ৷
পথে এক স্থানে যাত্রা বিরতি দেন ৷ এক পাদ্রী সেখানে এসে বলেন, তোমাদের মধ্যে একজন
পুণ্যবান ব্যক্তি আছেন ৷ অতঃপর বললেন, এই বালকের পিতা কােথড়ায়ঃ জবাবে আবু তালিব
বললেন, এই (তা আমিই তার অ ভভাবক ৷ পাদ্রী বললেন, এই বালকের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য
রাখবেন ৷ একে নিয়ে সিরিয়া যাবেন না ৷ ইহুদীরা বড় হিংসাপরায়ণ ৷ সুযোগ পেলে তারা এর
ক্ষতি করবে বলে আমি আশংকা করছি ৷ আবু তালিব বললেন, একথা শুধু আপনিই বলছেন না,
এটা অড়াল্লাহরও কথা ৷ অতঃপর আবু তালিব র্তাকে মক্কা ফেরতে পাঠান এবং বলেন, হে
আল্লাহ! মুহাম্মদকে আমি তোমার হাতে সােপর্দ করলাম ৷ আবু তালিব মৃত্যু পর্যন্ত মুহাম্মদ
(না)-এর দেখাংন্যে করেন ৷

বাহীরার কাহিনী

সুহায়লী যুহরীর সীরাত গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করেন যে, বাহীরা একজন ইহুদী পণ্ডিত ছিলেন ৷
আমার মতে, উপরের কাহিনী থেকে যা বুঝা যায়, তা হলো, বাহীরা ছিলেন খৃষ্টান পাদ্রী ৷
আল্লাহই সম্যক অবহিত ৷ মাসউদী থেকে বর্ণিত বাহীরা আবদুল কায়স গোত্রের লোক ছিলেন ৷
তীর আসল নাম ছিল জারজীস ৷

ইবন কুতায়বার মাআবিফ’ কিভাবে আছে, ইসলামের সামান্য পুর্বে জাহেলী যুগে এক
ব্যক্তি শুনতে পেয়েছিলেন যে, কে যেন বলছে, পৃথিবীর সেরা মানুষ তিনজন ৷ বাহীরা, রিআব
ইবন বারা আশ-শান্নী এবং তৃডীয়জনের আগমন এখনও ঘটেনি ৷ সেই তৃতীয়জন ছিলেন
প্রভীক্ষিত রাসুলুল্লাহ (সা) ৷ ইবন কুতায়বা বলেন, এই ঘোষণা শ্রবণের পর বিআব ইবন শান্নী
এবং তার পিতার করবে অবিরাম হালকা বৃষ্টিপাত হতে দেখা গিয়েছিল ৷

সায়ফ ইবন যী-ইয়াযান-এর বর্ণনা এবং
নবী করীম (সা) সম্পর্কে তার সুসংবাদ প্রদান

হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন সাহ্ল খারাইতি তার হড়াওয়াতিফুল জান’
নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আলী ইবন হারব আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা ) সুত্রে বর্ণনা
করেন, সায়ফ ইবন ষী-ইয়াযান এক সময় হাবশার (ইথিওপিয়া)-এর শাসন ক্ষমতা লাভ
করেন ৷ ইবন মুনযিরের মতে সায়ফ ইবন যী-ইয়াযানের নাম নুমান ইবন কায়স ৷ এটি ছিল
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর জন্মের দৃ’বছর পরের ঘটনা ৷

এ উপলক্ষে আরবের প্রতিনিধি ও কবিপণ র্তাকে অভিনন্দন জানাতে এবং তার
জনকল্যাণমুলক কর্যতৎপরতায় প্রশংসা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তার নিকট হাজির হন ৷ কুরায়শ
বংশীয় প্রতিনিধি দলে অন্যান্য নেতার মধ্যে আব্দুল মুত্তালিব ইবন হাশিম, উমাইয়া ইবন আবদ
শামৃস আবু আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ্ ইবন জাদআন এবং খুওয়াইলিদ ইবন আসাদ প্রমুখও ছিলেন ৷
তারা সানৃআয় গিয়ে সায়ফ-এর সাথে সাক্ষাত করেন ৷ তখন তিনি পামাদান পর্বতের চুড়ায়
নির্মিত রাজপ্রাসাদে অবস্থান করছিলেন ৷ করি উমাইয়া ইবন আবী সালুত তার নিম্নোক্ত কবিতায়
পামাদান পর্বতের কথা উল্লেখ করেছেন :

আপনি তৃপ্তি সহকারে পান করুন, আপনার মাথায় আছে সুউচ্চ মুকুট ৷ আপানার অবস্থান
হলো পামাদান পর্বতের চুড়ায় অবস্থিত রাজপ্রাসাদে ৷”

রাজপ্রহরী রাজার নিকট গিয়ে আগন্তুকদের অবস্থান সম্পর্কে র্তাকে অবহিত করলো ৷ রাজা
তাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন ৷ তীর নিকটবর্তী হয়ে আব্দুল মুত্তালিব কথা বলার অনুমতি

চাইলেন ৷ রাজা বললেন, আপনি যদি আমার সম্মুখে দীড়িয়ে কথা বলার যোগ্যতা রাখেন তবে
আপনাকে অনুমতি দিলাম ৷ আপনি কথা বলুন ৷

আব্দুল মুত্তালিব বলতে শুরু করলেন, হে রাজন ৷ আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে এমন একটি
উচ্চ স্থানে বসিয়েছেন যা অর্জন ক্যাদৃৰ্ার, যা সুরক্ষিত এবং সুমহান ৷ তিনি আপনাকে এমন
বংশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার উৎস পবিত্র, মুল সুমিষ্ট, শিকড় সুদৃঢ় এবং যার শাখ প্রশাখা
বিন্তুত হয়েছে সর্বাধিক মর্যাদাবান স্থানে ও মোঃ ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>