চুক্তিনামা বিনষ্টকরণ

হযরত অইিশা (রা) বলেন, এরপর ইবন দাগিন্নড়া আবু বকর (রা)-এর নিকট এসে বলে, হে
আবু বকর! আপনি তো জানেন, কুরায়শগণ আপনার প্রতি কী শর্ত আরোপ করেছিল ৷ আপনি
হয় ওই শর্ত মুতাবিক আপনার কাজকর্ম সীমাবদ্ধ রাখবেন, নতুবা আমার আশ্রয়দান জনিত
যিম্মড়াদারী আমাকে ফিরিয়ে দিবেন ৷ কারণ, কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার পর ওই যিম্মাদারী
পালনে আমি ব্যর্থ হয়েছি আরবরা এমন কথা শুনুক ও বলাবলি করুক আমি তা পসন্দ করি না ৷
হযরত আবু বকর (রা) বললেন, আমি বরং তোমার যিষ্মদোরী তোমার নিকট ফিরিয়ে দিচ্ছি
এবং মহান আল্লাহ্র আশ্রয় নিয়েই আমি সন্তুষ্ট ৷

এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গী হয়ে হযরত আবু বকর (রা)এর মদীনায় হিজরতের পুর্ণ
ঘটনা তিনি বর্ণনা করেন ৷ যা একটু পরেই বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আবদুর রহমান ইবন কাসিম আমার নিকট তার পিতা সুত্রে বর্ণনা
করেছেন ৷ তিনি বলেন যে, ইবন দাগিন্নড়ার আশ্রয় থেকে হযরত আবু বকর (রা) বেরিয়ে আসার
পর কুরায়শের এক অজ্ঞ ও মুর্থ ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাত হয় ৷ হযরত আবু বকর (রা) তখন
কাৰাপৃহের দিকে যাচ্ছিলেন ৷ ওই দোকটি হযরত আবু বকর (রা)-এর মাথায় ধুলা নিক্ষেপ
করে ৷ এরপর ওয়ালীদ ইবন মুপীরা কিৎবা আস ইবন ওয়াইল সে পথে যাচ্ছিল ৷ আবু বকর
(রা) তাকে বললেন, এ মুর্থটি কি করলো দেখেছ কি : ওয়াশীদ ইবন মুপীরা কিত্বা আস ইবন
ওয়াইল বলল, ওত্তো নয় বরং তুমিই এজন্যে দায়ী ৷ তখন হযরত আবু বকর (রা) বলছিলেন,
হে প্রতিপালকা আপনি কতইনা ধৈর্যশীল! হে প্রতিপালক, আপনি কতই না ধৈর্যশীল ৷ হে
প্রতিপালক, আপনি কতই না ধৈর্যশীল !

পরিৰেদ

ইবনইসহাক (র) বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিবের বিরুদ্ধে কুরায়শদের অঙ্গীকারাবদ্ধ
হওয়া, অন্যায় চুক্তি সম্পাদন, তাদেরকে আবু তালিব গিরিসঙ্কটে অবরুদ্ধ রাখা এবং ওই
চুক্তিপত্র ভঙ্গ করার মাঝে একান্তই প্রাসঙ্গিকভাবে উপরেক্তে বংনািগুলাে উল্লেখ করেছেন ৷
এজন্যে ইমাম শাফিঈ (র) বলেছেন, ইসলামের যুদ্ধের ইতিহাস জানতে যে আগ্রহী সে ইবন
ইসহাকের উপর নির্ভরশীল না হয়ে পারে না ৷

চুক্তিনামা বিনষ্টকরণ

ইবন ইসহাক বলেন, বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিবের লোকেরা সেই স্থানেই অবস্থান
করছিল যেখানে অবস্থানের কথা কুরায়শের দোবেরাে লিখিত চুক্তিনামায় উল্লেখ করেছিল ৷
তারপর কুরায়শ বংশেরই কতক লোক ঐ চুক্তিনামা ভঙ্গ করতে উদ্যোগী হন ৷ এই লক্ষ্য
বাস্তবায়নে হিশাম ইবন আমর ইবন হারিছ ইবন হাবীব ইবন নাসর ইবন মালিক ইবন হাসান
ইবন আমির ইবন লুওয়ইি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন ৷ হিশাম ছিলেন নাযলা ইবন হিশাম
ইবন আবৃদ মানাফ-এর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ৷ বনু হাশিম গোত্রের সাথে তার সুসম্পর্ক
ছিল ৷ নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যেও তিনি অন্যতম প্রভাবশালী লোক ছিলেন ৷ আমার নিকট বর্ণনা
পৌছেছে যে, বনু হাশিম ও বনু আবদ্মল মুত্তালিব গিরিসঙ্কটে অস্তৰীণ থাকা অবস্থায় হাশিম উট

বোঝাই করে খাদ্য নিয়ে তাদের নিকট আসতেন ৷ গিরিসঙ্কটের মুখে এসে তিনি উটের লাগাম
খুলে নিয়ে উটটির দু ’পাশে আঘাত করতেন যার ফলে উটটি সোজা ৷গিরিসঙ্কটের মধ্যে ঢুকে
অম্ভরীণ লোকদের নিকট চলে যেত ৷ হাশিম মাঝে মাঝে উট বোঝাই করে গমও নিয়ে
আসতেন এবং একই ভাবে উটটি ভেতরে পাঠিয়ে দিতেন ৷

একদিন তিনি যুহায়র ইবন আবু উমাইয়া ইবন মুগীর৷ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন
মাখবুম এর নিকট এসে উপস্থিত হন ৷ যুহড়ায়রের মা ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের কন্যা আতিকা ৷
হিশাম বললেন, হে ষুহায়র! তুমি কি এতে স্বাচ্ছন্দা বোধ করছো যে, তুমি পেট পুরে থাচ্ছ,
জামা-কাপড় পরিধান করছ এবং বিয়ে-শাদী করছ আর অন্যদিকে ন্কুতামায় মাতুল গোত্রের
লোকেরা কোন প্রকারের বেচা-কেনা ও বিয়ে-শাদী দিতে যা করতে পারছে না? আমি তো
আল্লাহর কসম করে বলতে পারি ত্বোমার মাতুল গোত্রের স্থলে হ্নদি আবুল হাকাম ইবন
হিশামের মাতুল গোত্র হত এবং এরা তোমাকে যে অমানবিক অবরোধে অংশগ্রহণের আহ্বান
জানিয়েছে তুমি যদি তাদেরকে তাদের মাতুল গোত্রের বিরুদ্ধে এ প্রকারের আহ্বান জানাতে
তবে তারা কখনো তোমার আহ্বানে সাড়া দিত না ৷ যুহায়র বললেন, আফসােস হে হিশাম ৷
আমি এখন কী করতে পারি ? আমি তো একা ৷ আল্লাহর কসম, আমি যদি একজন সহযােপীও
পেতাম, তবে ওই চুক্তি ভঙ্গ করার জন্যে উদ্যোপী হ৩াম ৷ হিশাম বললেন একজন সহযোগী
তো তুমি পেয়েই গেছে৷ ৷ ষুহায়র বললেন, কে যে ব্যক্তি? হিশাম বললেন আমি ৷ যুহায়র
বললেন, আমাদের সাথী হিসেবে তৃভীয় একজনের খোজ কর ৷ তৃতীয় ব্যক্তির খোজে হিশাম
হাযির হলেন মৃত ৩ঈম ইবন আদীর নিকট ৷ তিনি বললেন, হে মু৩ ৩ঈম! কুরায়শদের প্রতি
আপনার সমর্থ্যনর কারণে আপনার চোখের সামনে বনু আবৃদ মানাফ গোত্রের দুটো শ৷ ৷খ৷ ধ্বংস
হয়ে যাবে আর চেয়ে চেয়ে তা দেখলে তাতে কি আপনি স্বাচ্ছন্দাবোধ্ করছেন ? কুরায়শ
সম্পুদায়কে যদি আপনি ওই সুযোগ দেন, তবে গোত্র দুটোকে ধ্বং স করে দিতে তারা আপনার
চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে ৷ মুতঈম বললেন, হায় আমি কীই-বা করতে পারি ? আমি তো একা ৷
হিশাম বললেন, আপনার সহযোপীরুপে আপনি দ্বিভীয়জন পেয়ে গেছেন ৷ তিনি বললেন ওই
ব্যক্তিটি কে ? হিশ্া৷ম বললেন, আমি ৷ মুতঈম বললেন, তবে তৃতীয় একজনের খোজ কর ৷
হিশাম বললেন, তৃভীয়জনের ব্যবন্থাও আমি করে ব্লেখেছি ৷ মুতঈম বললেন, ঐ তৃতীয় ব্যক্তিঢি
কে ? হিশাম বললেন, যুহায়র ইবন আবু উম ইায়া ৷ মু৩ ৩ঈম বললেন, তাহলে চতুর্থ একজন খুজে
নাও ৷ এবার হিশাম উপস্থিত হলেন আবুল বৃখতারী ইবন হিশামের নিকট ৷ মু৩ ৩ঈমকে যা
বলেছিলেন তাকেও তিনি তা বললেন ৷ সে বলল, তুমি অন্য কাউকে কি পারে, যে এ ব্যাপারে
সাহায্য করবে ? হিশাম বললেন, হা পাব ৷ আবুল বৃখতারী বলল, কে সে ? হিশাম বললেন,
যুহায়র ইবন আবী উমাইয়া, ঘু৩ ৩ঈম ইবন আদী এবং আমি আছি আপনার সাথে ৷ সে বলল,
তবে পঞ্চম ব্যক্তির খোজ কর ৷ পঞ্চম ব্যক্তির খোজে হিশাম গেলেন ইবন আসওয়াদ ইবন
ঘুত্তালিব ইবন আমাদের নিকট ৷ সে অবরুদ্ধ লোকদের সাথে? তার আত্মীয়ত৷ এবং তাদের প্রতি
তার দায়িত্ব ও কতবাের কথা তিনি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন ৷ সে বলল আপনি আমাকে যে
কাজের প্রতি ৩আহ্বান করছেন ওই কাজে সহযােগিরু৷ ৷করার জন্যে অন্য কেউ আছে কি ? হিশাম
বললেন হী৷ আছে এবং তিনি উপরোক্ত ব্যক্তিদের নাম বললেন ৷ এরপর তারা সকলে মক্কার

উচ্চভুমি হাতম আলহাজুন নামক স্থানে রাতের বেলা সমবেত হওয়ার জন্যে অঙ্গীকারাবদ্ধ
হলেন ৷ যথা সময়ে তারা সকলে সেখানে সমবেত হলেন ৷ সবাই একমত হয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ
হলেন যে ওই চুক্তিনাম৷ বিনষ্ট করা র জন্যে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ৷

যুহায়র বললেন আমি সর্বাগ্রে কথা বলব ৷ সকাল বেলা তব তাদের মজলিসে উপস্থিত

হন ৷ যুহায়র ইবন আবু উমাইয়৷ উপস্থিত হন বিশেষ একটি পোশাক পরিধান করে ৷ তিনি
সাতবাব বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করেন তারপর লোক সমক্ষে উপস্থিত হন ৷ তিনি
বলেন হে মক্কার অধিবা সিপণ৷ আমরা কি এভাবে আহার্য গ্রহণও জান কাপড় পরিধান করতে
থাকবাে, আর বনু হাশিম গোত্র ধ্বংস হয়ে যাবে ?৩ তারা কোন কিছু ক্রয় বিক্রয় করতে পারছে
না ৷ আল্লাহর কসম, এই আত্মীয়ত ৷ছেদনকারী জুলুমমুলক চুক্তিনাম৷ ছিডে না ফেলা পর্যন্ত আমি

ক্ষান্ত হয় ন ৷ মসজিদের একপাশে বসে থাক ৷আবু জাহ্ল বলে উঠল, আল্লাহর কসম,তু মি
সেটি ছিড়তে পারবে না ৷ এবার যামআ ইবন আসওয়াদ বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম, তুমি

তো জঘন্য মিথ্যাবাদী তুমি যখন এ চুক্তিনামা তৈরী করেছিলে তখন আমরা তাতে রাযী ছিলাম
না ৷ আবুল বুখতারী বললেন, যাম আ ঠিকই বলেছে, ওই চুক্তিনামায় যা লেখা রয়েছে আমরা
তাতে সম্মত নই-আমরা তা সমর্থন করি না ৷ মুতঈম ইবন আদী বললেন, আপনারা দুজনে
সত্য বলেছেন, আপনাদের কথার বিপরীত কথা যে বলে, সে মিথ্যাবাদী ৷ ওই চুক্তিপত্র ও তাতে
উল্লিখিত বিষয়ের ব্যাপারে আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছি ৷ হিশাম
ইবন আমরও অনুরুপ বক্তব্য রাখলেন ৷ আবু জ হল বলল, এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ৷
নিশ্চয়ই রাতের বেলা অন্যত্র এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ৷ এ ঘটনা স ঘটিত হওয়ার সময়
আবু তালিব মসজিদের এক প্রান্তে বসা ছিলেন ৷ চুক্তিনামা ছিড়ে ফেলার জন্যে মুতঈম ইবন
আদী এগিয়ে গেলেন ৷ তিনি চুক্তিপত্রটি এমতাবস্থায় পেলেন যে ষ্টুছু,াএ্ ৷াং৮ হে আল্লাহ
আপনার নামে শুরু করছি) অংশ ছাড়া অন্য সব লেখা পােকায় খেয়ে যেচ্লেছে ৷ চুক্তিনামার
লেখক ছিল মানসুর ইবন ইকরিম৷ ৷ কথিত আছে যে, পরবর্তীকালে তার হাত অবশ হয়ে
গিয়েছিল ৷

ইবন হিশাম বলেন, কতক জ্ঞানী ওণী লোক উল্লেখ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা) আবু
তালিবকে বলেছিলেন, চাচা! কুরায়শদের চুক্তিপত্রের প্রতি আল্লাহ তা আল৷ উইপোকা লাগিয়ে
দিয়েছেন ৷ তাতে আল্লাহর নামগুলো অবশিষ্ট ছিল ৷ আর জুলুম-অন্যায় , আত্মীয়তাছেদনকা রী, ও
মিথ্যা বিবরণগুলো ৷সব খেয়ে নিংশেষ করে দিয়েছে ৷ আবু তালিব বললেন, তোমার প্ৰতিপালক
কি তোমাকে এ স বাদ দিয়েছেন ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ইা৷ ৷ আবৃত তালিব বললেন,
আল্লাহর কসম, আপাতত কেউ যেন তোমার নিকট না আসে ৷ আবৃত তালিব কুরায়শদের নিকট
ছুটে গিয়ে বললেন, “হে কুরায়শ বৎশীয়র৷ ! আমার তা ৷তিজা আমাকে এরুপ সংবাদ দিয়েছে ৷
তোমরা তোমাদের চুক্তিনড়ামা এখানে নিয়ে এসো দেখি ৷ আমার ভাতিজা যা বলেছে চুক্তিনামার
অবস্থা যদি তাই হয়, তবে আমাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের এ অপকর্ম থেকে তোমরা বিরত
থাকবে এবং ওই চুক্তি থেকে সরে দাড়াবে ৷ আর যদি তার কথা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় তবে
আমার তা নিজ কে আমি তোমাদের হাতে তুলে দিব’ ৷ উপস্থিত সকলে বলল, ঠিক আছে,

আপনার প্রস্তাবে আমরা সবাই রাযী ৷ এরপর এ বিষয়ে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় ৷ তারপর তারা
চুক্তিনামড়াটি এনে দেখল যে, সেটির অবস্থা ঠিক তাই যেমনটি রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন ৷
কুরায়শরা তাতে অপ্রন্তুত হয়ে যায় ৷ সে পরিস্থিতিতে কুরায়শদের উপারাল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ
চুজািমো ছিড়ে ফেলেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ওই চুক্তিনামা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া এবং তাতে বর্ণিত বিষয়াদি
অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পর আবু তালিব একটি কবিতা আবৃত্তি করেন ৷ চুক্তিনমো বিনষ্ট করে
দেয়ার জন্যে যারা ঐতিহাসিক ভুমিকাপ ড়ালন করেন কবিতায় তিনি তাদের প্রশংসা করেন ৷

ওহে, আমাদের সমুদ্র অভিযাত্রী আবিসিনিয়ায় অবস্থানকারী ভাইগণ দুর দেশে অবস্থান করা

সত্বেও তাদের প্রতি আমাদের প্ৰতিপালকের দয়া অবতীর্ণ হয়েছে কি রু বন্তুত মহান আল্লাহ
মানব জাতিকে বহু অবকাশ দান করেন ৷

মহান আল্লাহ্ তাদেরকে অবগত করিয়েছেন যে, চুক্তিনামা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে এবং
আল্লাহ যা পসন্দ করেন না তা বিনষ্ট হয়ই ৷

সেটিতে একাধারে মিথ্যা ও জাদু সন্নিবেশিত হয়েছে ৷ জাদু ও ইন্দ্রজাল শেষ পর্যন্ত উচ্চগামী
থাকে না ৷

সেটির জন্যে এমন লোকেরা পরস্পরকে আহ্বান করেছে যারা সুশ্রী নয় ৷ ফলে সেটির
দুর্ভাগ্য তার মাথ র উপরই চক্কর দিচ্ছে ৷

এই চুক্তিপত্রের জন্মই হয়েছিল পাপের গর্ভে ৷ এটির উদ্দেশ্য ছিল পরস্পর সহষোগিতড়াকারী
ও আনুগত্য প্রদর্শনকারী গোত্রীয় ভাইদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা ৷

মক্কাবাসিগণ যেন সফর করে অন্যত্র পালিয়ে যায় ৷ অকল্যাণ ও অনিষ্টের আশংকায় তাদের
বুক যেন সদা থরথর করে র্কাপছে ৷

এটি প্রস্তুত করা হয়েছিল এ জন্যে যে, যেন মক্কায় রেখে যাওয়া হয় একজন কৃষককে যে
ওখানকার কাজকর্ম পরিচালনা করবে ৷ সে হবে তখন সেখানে পলায়নকারীদের পক্ষ থেকে
নিদর্শন ও চিহ্ন ৷ সেই সব কাজ করবে ৷

পলায়নরত লোকগুলাে যেন দলবদ্ধভাবে দু’টি ঢিলার মধ্যখানে আরোহণ করে ৷ তীরেব
আক্রমণ, ধনুক নিক্ষেপ এবং অগ্নিদাহন যেন তাদেরকে তড়াে করে ফেরে ৷

কোন অনিষ্টকারী ব্যক্তি যদি মক্কায় সম্মানিত ও মর্যাদাবান হতে চায়তো তবে এটা
সকলেরই জানা উচিত যে, মক্কাভুমি আমরা প্রাচীনকাল থেকেই মর্যাদাবান ও সম্মানিত বংশ ৷

আমরা মক্কায় লালি৩ পালিত হচ্ছি সেই কাল থেকে যখন সেখানে মানব বসতি ছিল
নিতান্ত কম ৷ এরপর আমরা অনবরত কল্যাণ অর্জনকারী ও প্রশংসা লাভকারী হয়ে জীবন যাপন
করে আসছি ৷

আমরা লোকজনকে খাদ্য দান করতে থাকি যতক্ষণ না দানশীলতার সম্মান অন্যদের থেকে
খসে পড়ে একমাত্র আমাদের জন্যে হয়ে যায় ৷ আমরা তখনও দান করি যখন (দরিদ্র হয়ে
যাওয়ার আশংকায়) নামী-দামী দানশীলদের হাত র্কাপতে শুরু করে ৷

ওই মানবগােষ্ঠীকে আল্পাহ্ তা জানা পুরস্কার দান করুন যারা হুজুন এলাকায় একত্রিত
হয়েছিল একটি সুমহান লক্ষ্য নিয়ে ৷ আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার পথ
নির্দেশ করুন ৷

তারা আলোচনায় বলেছিলেন হাতম আল-হুজুন’ নামক স্থানে ৷ তারা যেন এক একজন
নেতা ৷ বন্তুত তারা সর্বাধিক সম্মানিত ও মর্যাদাবান ৷
ওই চুক্তিনামা ছিড়ে ফেলতে সহযোগিতা করেছিল প্রত্যেক ৰুদ্ধবাজ ভীরন্দাজ ব্যক্তি, যে
আত্মরক্ষার্থে এমন মযবুত লৌহবর্ম পরিধান করে যে, চলাফেলার সময় বর্ষের ভাবে যেন সে
নুয়ে যায় ৷
কঠিন সমস্যা এবং বিপদ উত্তরণে তাদের প্ৰতেকে পারদর্শী ও সাহসী ৷ মশালধারীর
দু হাতে একেক জন যেন দেদীপ্যমান অগ্নিমশা ল ৷

তিনি (রাসুলুল্লাহ্) লুওয় ই ইবন গালিব গোত্রের স্জ্রান্ত লোকদের অন্যতম অপমান ও
লাঞ্চুনার মুভ্রুখড়ামুখি হলে৩ তার চেহারা মলিন হয়ে যায় ৷

তিনি দীর্ঘাঙ্গী মানুষ ৷ পায়ের পােছার অর্ধেক পােশাকের বাইরে থাকে ৷ তার ঢেহারার
ওসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা ও সৌভাগ্য কামনা করা হয়ে থাকে ৷

তিনি মহান দানশীল পুরুষ ৷ তিনি নেতা এবং নেতার পুত্র ৷ অতিথি আপ্যায়নে তিনি
অপরকে উৎসাহিত করেন এবং নিজেও অতিথি আপ্যায়নে নিয়োজিত থাকেন ৷

আমরা যখন দেশে ৷বিদেশে ভ্রমণরত থাকি তখন স্বগােত্রীয়দের পবিৰার পবিজনের প্ৰতি
সদাচরণ করেন এবং তাদের জন্য সুব্যবন্থা করে দেন ৷

সম্পাদিত চুক্তিনামা বিনষ্টকরণে এই চুক্তি প্রত্যাখড়ানকারী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ছিলেন
অড়াপোসহীন ৷ এ কাজে তারা প্রশংসা লাভ করেছেন ৷

তাদের যা সিদ্ধান্ত নেয়ার তারা রাতেই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৷ এরপর ভোর বেলা তারা
ধীরে ধীরে যথাস্থানে উপস্থিত হন ৷ অথচ লোকজন তখনও ন্ডিড়ামগ্ন ৷
তারা সাহল ইবন বায়যার নিকট ফিরে গেলেন ৷ তাদের কর্মকাণ্ডে সে সন্তুষ্ট ছিল ৷ একাজে
আবু বকর এবং মুহাম্মাদও আনন্দিত হন ৷

যখনই আমাদের কোন সমস্যা সমাধানে লোকজন এগিয়ে এসেছেন তখনই প্রমাণিত হয়েছে
যে, প্রাচীনকাল থেকে আমরা সবার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রক্ষা করে এসেছি ৷
প্রাচীনকাল থেকেই আমরা কখনো অন্যায়-অবিচার সমর্থন করিনি ৷ আমরা যা ইচ্ছা করি তা
অর্জন করি ৷ কিন্তু জোর-জবরদস্তি করি না ৷

হে কুস ই গোত্র! নিজেদেরকে রক্ষা করার কোন চিন্তা ভাবনা কি তোমাদের আছে ?
ভবিষ্যতে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে তার সাথে ত ল মিলিয়ে চলার কোন প্রস্তুতি কি তোমাদের
রয়েছে ?

বস্তুত আমার আর তোমাদের অবস্থা এখন যে ব্যক্তির ন্যায়, যে ব্যক্তি বলেছিল হে
আসওয়াদ পাহাড় ৷ নিহত ব্যক্তির হত্যাকারীকে সনাক্ত করার সুযোগ£ত তােমারই আছে যদি তুমি
কথা বলতে পার ৷

(সুহায়লী বলেন, আসওয়াদ একটি পাহাড়ের নাম ৷ সেখানে এক ব্যক্তি খুন হয়েছিল কিভু
তার ঘাতকের খোজ পাওয়া যায়নি ৷ তখন নিহত ব্যক্তির লোকজন বলেছিল যে হে আসওয়াদা
তুমি যদি কথা বলতে পারতে, তবে তুমিই প্রকাশকবে দিতে (ক প্ৰবৃ১ত খুনী ৷)

এরপর ইবন ইসহাক হযরত হাসসান (রা) এর কবিতাটি উল্লেখ করেছেন ৷ ওই পাপে পুর্ণ
অত্যাচারী চুক্তিনামা বিনষ্টকরণে ভুমিকা রাখার জন্যে তিনি ঐ কবিতায় মুতঈম ইবন আদী এবং
হিশাম ইবন আমরের প্রশংসা করেছেন ৷

উমাবী অবশ্য এ প্ৰসৎগে আরো অনেক কবিত ৷র উল্লেখ করেছেন ৷ আমরা শুধু ইবন
ইসহাকের কবিত ৷ই উল্লেখ করলাম ৷ ওয়াকিদী বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবন সা ৷লিহ্ এবং আবদুর
রহমান ইবন আবদুল আযীযকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে বনু হাশি ৷ম গোত্র গিরিসঙ্কট থেকে বের
হয়ে এসেছিল কোন সময়ে ? জবাবে তারা বলেন, নবুওয়াতের দশম বছরে ৷ অর্থাৎ হিজরতের
তিন বছর পুর্বে ৷ আমি বলি, গিরিসঙ্কট থেকে তাদের বেরিয়ে আসার বছরেই রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর চাচা আবু তালিব এবং সহধর্মিণী হযরত খাদীজা বিনৃত খুওয়ায়লিদ (রা) ইনতিকাল
করেন ৷ এ বিষয়ে আলোচনা অবিলম্বে আসবে ইনশাআল্লাহ্ ৷

পবিছেদ
চুক্তিনামা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করার পর ইবন ইসহাক আরও বহু ঘটনা বর্ণনা
করেছেন ৷ এ ঘটনাগুলােতে বিবৃত হয়েছে রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর প্রতি কুরায়শদের শত্রুত৷ এবং
হজ্জ, উমর৷ ও অন্যান্য কাজে মক্কায় আগমনকারী সােকদেরকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সংস্পর্শ
থেকে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টার বর্ণনা ৷৷ সেগুলােতে আরো রয়েছে এমন সব মু জিয়ার বর্ণনা ৷যা
তার নিকট আগত হিদায়াত ও দিক নির্দেশনার সত্যতা প্রমাণ করে এবং তার প্রতি ঘুশরিকদের
আরোপিত সত ব্রদ্রোহী সীমালংঘনকারী প্রতারক, উন্মাদ, জাদুকর, গণক, মিখ্যাবাদী ইত্যাকার
অপবাদের অসারতা ও ভিত্তিহীনত৷ প্রমাণ করে ৷ আল্লাহ্ তা আলার ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়েই থাকে ৷
এ প্রসং গে ইবন ইসহাক মুরসালরুপে তৃফ৷ য়ল ইবন আমর দাওসীর ঘটনা উল্লেখ করেছেন ৷
তৃফায়ল দাওসী দাওস গোত্রের একজন সর্বজন মান্য ও সণ্ড্রাম্ভ নেত তা ছিলেন ৷ এক সময় তিনি
মক্কায় আগমন করেন ৷ মক্কার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ তার নিকট একত্রিত হয় ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
সম্পর্কে তারা তাকে সতর্ক করে দেয় ৷ তবে নিকট যেতে এবং তার কথা শুনতে তার৷ তাকে
ধারণ করে ৷

তৃফায়ল বলেন, তারা অনবরত আমাকে এ ব্যাপারে বুঝিয়েছিল ৷ ফলে আমি সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলাম যে, আমি কোন কথা শুনব না এবং তার সাথে কোন আলাপও করব না ৷ এমনকি
তার কোন কথা আমার কানের মধ্যে প্রবেশ করার আশংকায় কানের মধ্যে তুলা ঢুকিয়ে দিয়ে
মসজিদে প্রবেশ করি ৷ তার কোন বক্তব্য শোনার ইচ্ছা আমার ছিল না ৷ তৃফায়ল বলেন, পরের
দিন আমি মসজিদে প্রবেশ ৷কবি ৷ তখন রাসুলুল্লাহ (সা) কাব৷ গৃহের নিকট দাড়িয়ে র্দাড়িয়ে
নামায আদায় করছিলেন ৷ আমি তার কাছাক কাছি এক স্থানে দা ড়ালাম ৷ আল্লাহ তা জানা তার
কিছু পাঠ আমাকে না শুনিয়ে থাকতে দিলেন না ৷ আমি তার মুখ নিং সৃত কিছু সুন্দর বাণী
শুনলাম ৷ তখন আমি মনে মনে বললাম, আল্লাহর কসম, আমার মায়ের দৃর্ভোগ, আমি একজন
সুবিবেচক ও বুদ্ধিমান করি মানুষ ৷ কোনটা ভাল, কে নট৷ মন্দ তাতে তা আমার নিকট গোপন
থাকে না ৷ তাহলে ওই ব্যক্তি বা বলছেন, তা শুনতে আমার বাধা কোথায় ? তিনি যা বলেন, তা
যদি ভাল হয় আমি তা গ্রহণ করব ৷ আর মন্দ হলে তা বর্জন করব ৷ এরপর আমি অপেক্ষা
করতে লাগলাম ৷ নামায শেষে রাসুলুল্লাহ (সা) যখন গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন আমিও তার
গৃহে প্রবেশ করলাম ৷ আমি বললাম, হে মুহাম্মাদ (সা) ! আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে
এরুপ এরুপ বলেছে ৷ ওরা যা বলেছে, তার সবই তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)-কে জানালেন ৷ তারা
অনবরত আমাকে আপনার বিষয়ে ভয় দেখিয়েছে ৷ ফলে আপনার কথা যেন শুনতে না পাই
সেজন্যে আমি তুলা দিয়ে আমার কান বন্ধ করে দিয়েছি ৷ কিন্তু আল্লাহ তা জানা আমাকে
আপনার কথা না শুনে থাকতে দিলেন না ৷ আমি আপনার সুন্দর বাণী শুনেছি ৷ এখন আপনার
লক্ষ্য ও কর্ম আমার নিকট বর্ণনা করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইসলামের দাওয়াত আমার নিকট
পেশ করলেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করে আমাকে শুনালেন ৷

আল্লাহর কসম, এর চাইতে সুন্দর ও মধুর বাণী আমি ইতে৷ ৷পুর্বে কখনও শুনিনি ৷ এর
চাইতে অধিক ভারসামাপুর্ণ কোন বিষয়ের কথাও আমার শ্রুতিগােচর হয়নি ৷

তৃফায়ল (রা) বলেন, তখনই আমি ইসলাম গ্রহণ করি এবং স৩ সাক্ষ্য প্রদান করি ৷
এরপর আমি বললাম , ইয়৷ রাসুলাল্লাহ! আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি সর্বজন মান্য ব্যক্তি বটে ৷
আমি এখন তাদের নিকট ফিরে যাব এবং তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো ৷ আপনি
আল্লাহর নিকট দুআ করুন তিনি যেন এমন একটি নিদর্শন আমাকে দান করেন, যা ওদের প্রতি
আমার দাওয়াতের সহায়ক হবে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :
হে আল্লাহ ওর জন্যে একটি নিদর্শনের ব্যবস্থা করে দিন !
তৃফায়ল (রা) বলেন, এরপর আমার সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে আমি যাত্রা কবি ৷ ছানিয়া পাহাড়ে
আরোহণ করার পর আমি যখন গোত্রীয় লোকদের প্রায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তখন আমার
দুচােখের মাঝখানে প্রদীপের ন্যায় জ্যোতি ফুটে উঠল ৷ আমি বললাম , হে আল্লাহ! এ জ্যোতি
আমার যুখমণ্ডল ব্যতীত অন্য কোন স্থানে সৃষ্টি করে দিন ৷ কারণ, আমি আশংকা করছি যে,
আমার যুখমওলে জোাতি দেখে লোকজন বলবে, ধর্ম ত্যাগের ফলে আমার মুখমণ্ডল বিকৃত করা
হয়েছে ৷ তখন ওই জ্যোতি স্থানান্তরিত হয়ে আমার ছড়ির মাথায় জ্বলে উঠল ৷ আমার গোত্রের

লোকজন আমার ছড়ির মাথায় ঝুলন্ত ঝাড়বাতির ন্যায় ওই আলো দেখতে পাচ্ছিল ৷ আমি
ছানিয়া পাহাড় থেকে ধীরে ধীরে তাদের দিকে অবতরণ করছিলাম ৷ অবশেষে আমি তাদের
নিকট গিয়ে পৌছি ৷

বাড়ী পৌছার পর আমার পিতা আমার নিকট আসলেন ৷ তিনি ছিলেন বয়ােবৃদ্ধ সম্মানিত
ব্যক্তি ৷ আমি বললাম, “বাবা! আপনি আমার নিকট থেকে দুরে থাকুন ৷ আমার সাথে আপনার
এবং আপনার সাথে আমার এখন কোন সম্পর্ক নেই ৷” তিনি বললেন, “বৎস ! তা কেন ? ” আমি
বললাম, “তা এ জন্যে যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মাদ (সা)-এর ধর্ম মেনে
নিয়েছি ৷ তিনি বললেন, হে বৎস ! তোমার ধন্ইি আমার ধর্ম ৷ তাহলে আপনি, গোসল করে এবং
জামা-কাপড় পাক-সাফ করে আমার নিকট আসুন ৷ আমি যা শিখেছি আপনাকে তা শিখাব ৷
আমার পিতা গেলেন, গোসল করলেন এবং জামা-কাপড় পাকসাফ করে আমার নিকট ফিরে
এলেন ৷ আমি তার নিকট ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলাম ৷ তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷
এরপর আমার শ্রী এল আমার নিকট ৷ আমি বললাম, তুমি আমার নিকট থেকে দুরে থাক ৷
তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ সে বলল, আমার মাতা-পিতার কসম, তা কেন ?
আমি বললাম ইসলাম আমার আর তোমার মাঝে অস্তরাল সৃষ্টি করে দিয়েছে এবং আমি
মুহাম্মাদ (না)-এর ধর্ম মেনে নিয়েছি ৷ আমার শ্রী বলল, আপনার ধর্মই আমার ধর্ম ৷ আমি
বললাম, তাহলে তুমি যুশৃশিরা ঝর্ণায় যাও এবং গোসল করে পাক-সাফ হয়ে এসো ৷ যুশশিরা
ছিল দাওস ৫গাংত্রর একটি মুর্তি ৷ সেটির চারিদিকে বাধ বেধে তারা পাহাড় থেকে নেমে আসা
পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল ৷ সে বলল, যুশশিরা মুর্তি আমাদের বাচ্চাদের কোন ক্ষতি
করবে আপনি কি তেমন কোন আশংকা করছেন ? আমি বললাম, না ৷ আমি তার দায়-দায়িতু
গ্রহণ করলাম ৷ আমার শ্রী চলে গেল এবং গোসল করে আমার নিকট ফিরে এল ৷ আমি তাকে
ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলাম ৷ সে ইসলাম গ্রহণ করল ৷

এরপর আমি দাওস সম্প্রদায়কে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালাম ৷ তারা আমার
দাওয়াতে সাড়া দিতে বিলম্ব করল ৷ তারপর আমি মক্কায় এলাম রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট ৷
আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! দাওস সম্প্রদায়ের ব্যভিচার প্রবণতার আমাদের দাওয়াত
ফলপ্রসু হচ্ছে না ৷ আপনি ওদের বিরুদ্ধে বদ দুআ করুন ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন :
৷ ৰুঠুঠুাং৷ ন্ট্রুাঠ্৷ (হে আল্লাহ দাওস সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করুন!) তিনি আমাকে
বললেন, তুমি নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দাও আর
ওদের প্রতি নম্র আচরণ করবে ৷ এরপর থেকে আমি অৰিরাম দাওস অঞ্চলে অবস্থান করে
তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকি ৷ অবশেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) হিজরত করে মদীনায়
এলেন ৷ বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) খায়বার অভিযানে বের হলে আমি
আমার স্বগােত্রীয় দাওস সম্প্রদায়ের ইসলাম গ্রহণকারী ৭০ থেকে ৮০টি পরিবারের লোকজন
নিয়ে মদীনায় উপস্থিত হই ৷ সেখান থেকে যাত্রা করে আমরা খায়বার গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর
সাথে মিলিত হই ৷ অন্যান্য মৃজাহিদের সাথে তিনি আমাদেরকেও খায়বার যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমতের
অংশ দান করেন ৷ এরপর থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথেই ছিলাম ৷

মক্কা বিজয়ের পর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আমাকে আপনি আমর ইবন হামামাহ্
গোত্রের যুল কাফ্ফায়ন মুর্তিটি ভস্বীভুত করে দিয়ে আমার জন্য প্রেরণ করুন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, এরপর তুফায়ল বের হলেন ওই মুর্তি পােড়ানাের জন্যে ৷ তিনি
মুর্তিতে আগুন ধরাচ্ছিলেন আর বলছিলেন :

হে যুল-কাফ্ফায়না আমি তোমার উপাসক নই ৷ আমাদের জন্য তোমার জন্মের পুর্বে
হয়েছে ৷ আমি তোমার অভ্যন্তরে আগুন পুরে দিচ্ছি ৷

ইবন ইসহাক বলেন, তারপর তুফায়ল মদীনায় ফিরে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে অবস্থান
করতে থাকেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইনতিকাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন ৷
আরবের কতক লোক যখন ধর্মত্যাপী হয়ে যায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে অন্যান্য
মুসলমানের সাথে তুফায়ল বেরিয়ে পড়েন এবং একের পর এক তুলায়হার ও নজদ অঞ্চলের
বিদ্রোহসমুহ দমন করেন ৷ তারপর মুসলিম সৈনিকদের সাথে ইয়ামামা অভিমুখে যাত্রা করেন ৷
তার পুত্র আমর ইবন তুফায়ল তার সাথে ছিলেন ৷ ইয়ামামা যাওয়ার পথে তিনি এক তাৎপর্যপুর্ণ
স্বপ্ন দেখেন ৷ সাথীদেরকে তিনি বলেন, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি আপনারা আমাকে তার
ব্যাখ্যা বলে দিন ৷ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার মাথা মুণ্ডন করে দেয়া হয়েছে এবং আমার
মুখ থেকে একটি পাখি উড়ে বেরিয়ে গিয়েছে ৷ একজন মহিলা আমার সাথে সাক্ষাত করে
আমাকে তার যৌনাঙ্গের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছে ৷ আমি দেখছিলাম যে, আমার পুত্র আমাকে
হন্তদন্ত হয়ে খুজছে ৷ তারপর তাকে আমার নিকট থেকে দুরে সরিয়ে রাখা হয়েছে ৷ সকলে
বলল, উত্তম স্বপ্ন ৷ তিনি বললেন, অবশ্য আমি নিজে তার ব্যাখ্যা করে নিয়েছি ৷ তারা বললেন,
কী যে ব্যাখ্যা ? তিনি বললেন, আমার মাথা মুণ্ডন হল আমার মাথা মাটিতে নেতিয়ে পড়া ৷ মুখ
থেকে বেরিয়ে যাওয়া পাখি হল আমার প্রাণ ৷ যে মহিলা আমাকে তার যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে ফেলেছে
তা হল ভুমি ৷ আমার জন্যে কবর খনন করা হবে এবং আমি তার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাব ৷
আমার পুত্র কর্তৃক আমাকে খোজ করা এবং পরে তার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাখ্যা হল আমি যে
পথে অগ্রসর হয়েছি এবং যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি সেও সে পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা
করবে ৷

এরপর তুফায়ল (রা) ইয়ড়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন ৷ তার পুত্র মারাত্মকভাবে আহত হন ৷
অবশ্য পরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন ৷ এরপর হযরত উমর (রা)-এর শাসনামলে ইয়ারমুকের
যুদ্ধে তিনি শাহাদতবরণ করেন ৷ আলোচ্য বর্ণনাটি ইবন ইসহাক মুরসালরুপে বর্ণনা করেছেন ৷
অবশ্য এর সমর্থনে সহীহ্ হাদীছ রয়েছে ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন ওয়াকী আবু
হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন তুফায়ল (বা) ও তার সাথীগণ রাসৃলুল্লাহ্
(না)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন দাওস সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়েছে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :
হে আল্লাহ ! দাওস সম্প্রদায়কে হিদায়াত করুন এবং তাদেরকে এখানে উপস্থিত করে দিন ৷
হড়াদীছটি ইমাম বুখারী (র ) আবু নুআয়ম সুত্রে সুফিয়ান ছাওরী (র) থেকে বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইয়াযীদ আবু হরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি
বলেন, তাফায়ল ইবন আমর এবং তার সাথীপণ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে
বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্৷ দাওস সম্প্রদায় নাফরমানী করেছে এবং ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি
জানিয়েছে ৷ আপনি ওদের বিরুদ্ধে বদ দুআ করুন ৷ আবু হুরায়র৷ (রা ) বলেন, এরপর
রাসুলুল্লাহ্ (সা) দু’হাত তুললেন ৷ আমি বললাম, এবার দাওস সম্প্রদায়ের ধ্বংস নিশ্চিত ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেনৰু হে আল্লাহ্ৰু দাওস সম্প্রদায়কে হিদায়াত করুন’ এবং ওদেরকে এখানে
নিয়ে আসুন ৷ এটি একটি উত্তম সনদ ৷ অন্যান্য হাদীছবেত্তারা এটি উল্লেখ করেননি ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, সুলায়মড়ান ইবন হারব জাৰির (র) থেকে বর্ণনা করেন
তুফায়ল ইবন আমর দাওসী (বা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট উপস্থিত হলেন ৷ তিনি বললেন
ইয়া রাসুলড়াল্লাহ্ ! একটি সুরক্ষিত দুর্গটি আপনি দখল করবেন ? এই দুর্গটি জাহিলী যুগে দাওস
গোত্রের অধিকারে ছিল ৷ আল্লাহ তাআলা আনসারদের জন্যে এটি সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন ৷
এজন্যে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) তখনকার মত এটি দখলে নিতে অস্বীকার করলেন ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তুফায়ল ইবন আমর (রা)-ও
মদীনায় হিজরত করেন ৷ তার গোত্রের একজন লোক তার সাথে ছিল ৷ মদীনায় আবহাওয়া
তাদের প্রতিকুলে ছিল ৷ ফলে সাথী লোকটি রোগাক্রাম্ভ হয়ে পড়ে এবং যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে
উঠে ৷ এক পর্যায়ে সে একটি তীক্ষ্ণধার র্কাচি নেয় এবং হাতের আঙ্গুলের গিটগুলো কেটে
ফেলে ৷ ফলে দু’হাত থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে ৷ রক্ত আর বন্ধ হয়নি যে মারা
যায় ৷ একদিন তুফায়ল ইবন আমর তাকে উত্তম অবস্থায় স্বপ্নে দেখেন ৷ কিন্তু তার হাত দুটো
ছিল কাপড়ে ঢাকা ৷ তুয়ায়ল বললেন তোমার প্রতিপালক তোমার সাথে কী আচরণ করলেন ?
লোকটি বলল, হিজরত করে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আমার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা
আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ৷ তুফায়ল (রা ) বললেন, তোমার দুহাত ঢাকা কেন ? সে বলল
আমাকে বলা হয়েছে যে , তুমি তোমার নিজের যে অঙ্গহানি করেছ তা আর ফিরিয়ে দেয়া হবে
না ৷ তুফায়ল (বা) এ ঘটনা রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে জানালেন ৷

রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :
হে আল্লাহ ! তার হাত দুটিকেও ক্ষমা করে দিন! ’ ’
ইমাম মুসলিম এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবু শায়বা এবং ইসহাক ইবন

ইররাহীম থেকে ৷ তারা দু’জনে বর্ণনা করেছেন সুলড়ায়মান ইবন হারব থেকে ৷ যদি প্রশ্ন করা হয়
যে এই হাদীছ এবং সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ ঘুসলিমে উল্লিখিত জুনদুব ( রা ) এর হাদীছের মধ্যে

দৃশ্যমান দ্বন্দু নিরসন করা যাবে কিভাবে ? কারণ জুনদুবের (রা) হাদীছে আছে তিনি বলেছেন
যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন-

তোমাদের পুববর্তী উম্মতের একজন লোক মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল ৷ যন্ত্রণায়
সে অস্থির হয়ে উঠে ৷ তখন সে একটি ছবি নিয়ে হাত কেটে ৷:ফলে ৷ এরপর তার রক্ত বন্ধ
হয়নি ৷ তাতে সে মারা যায় ৷ র্তা ড়ার সম্পর্কে আ ৷ল্লাহ্ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আগেই নিজে
নিজের প্রাণ সং হার করেছে ৷ সুতরাং ড়াআমি তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দিয়েছি ৷
বিভিন্নভাবে উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায় ৷ প্রথমত পুর্ববর্তী উম্মতে র লোকটি হয়ত
মুশরিক ছিল আর আলোচ্য লোকটি ছিল ঈমানদার ৷ শিবৃকই ছিল ওই লোকটির জাহান্নামে
প্রবেশের হেতু ৷ তবু উম্মতের সতর্কতা ও শিক্ষার জন্যে তার আত্মহত্যাকে জাহান্নামে প্রবেশের
কারণ রুপে আখ্যায়িত করা হয়েছে ৷ ’
দ্বিভীয়ত পুর্ববর্তী উম্মতভুক্ত লোকটি আত্মহত্যা হারাম ও নিষিদ্ধ জানা সত্বেও সে পথে
জীবনহানি ঘটিয়েছে ৷ আর এ উম্মতের লোকটি নও-ঘুসলিম হওয়ার কারণে জানত না যে,
আত্মহত্যা হারাম ৷
তৃতীয়ত পুর্ববর্তী লোকটি আত্মহত্যার ন্যায় হারাম কাজকে হালাল ও বৈধ জ্ঞানে স্বেচ্ছায়
সজ্ঞানে করেছে আর এ উম্মতে র লোকটি সেটিকে হালাল জ্ঞানে করেনি বরং ভুলক্রমে তা
করেছে ৷

চতুর্থত ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য ছিল হাত কর্তনের মাধ্যমে প্রাণহানি ঘটানো ৷ আর আব্দুল
কর্তনের মাধ্যমে প্রাণহানি ঘটানো এই ব্যক্তির লক্ষ্য ছিল না বরং এতে তার অন্য কোন
উদ্দেশ্য ছিল ৷

আত্মহত্যার মহাপাপকে অতিক্রম করতে পারেনি ৷ ফালে সে জ হান্নামে প্রবেশ করেছে ৷ আর
এই উম্মতে র লোকটির নেক আমল বেশী ছিল ৷ যার ফলে তার লেক আমল তার আব্দুল
কর্তনের পাপকে অতিক্রম করতে পেরেছে ৷ ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করেনি ৷
বরং নবী করীম (সা)এর নিকট হিজরত করে যাওয়ার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া
হয়েছে ৷ তবে তার হাতের ত্রুটি অবশিষ্ট থেকে যায় এবং অন্য অঙ্গসমুহ সুন্দর হয়ে উঠে ৷ সে
তার ওই ত্রুটি ঢেকে রেখেছিল ৷ স্বপ্নে তার হাত ঢাকা দেখে তুফায়ল (রা) তাকে বললেন
তোমার কী হয়েছে ? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে যে, “তুমি নিজে নিজের যে ক্ষতি সাধন
করেছ তা আর পুরণ করা হবে না ৷ তৃফায়ল (রা) যখন এ ঘটনা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট
বর্ণনা করলেন, তখন তিনি এ বলে দুআ করলেন :

হে আল্লাহ তার হাত দু খানাকেও ক্ষমা করে দিন ৷ অর্থাৎ হাতে যে ত্রুটি আছে৩ তা সাবিয়ে
দিন ৷ বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কিরামের অভিমত যে,তু ফায়ল ইবন আমরের (রা ) সাথীর
ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দুআ আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই কবুল করেছেন ৷
আ ’শা ইবন কায়সের ঘটনা

ইবন হিশাম বলেন, খাল্লাদ ইবন কুররা প্রমুখ বকর ইবন ওয়ইিলের উস্তাদগণের সুত্রে
হাদীছ বিশারদদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আশা ইবন কায়স (ইবন ছা’লাবাহ্ ইবন ইকাবাহ্
ইবন সা’ব ইবন আলী ইবন বকর ইবন ওয়াইল) ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সাথে সাক্ষাতের জন্যে যাত্রা করেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রশংসায় তিনি নিম্নোক্ত
কবিতাটি আবৃত্তি করেন ঘ্র

চোখের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে গত রাতে তুমি কি চোখ বন্ধ করতে পারােনিঃ আর তাই কি
রাত্রি যাপন করেছো সুস্থ অথচ নিদ্রাহীন ব্যক্তির ন্যায় ৷

এই নিদ্রাহীনতা তো নারীপ্রেমের কারণে নয়, বরং অনেক পুর্বেই তুমি মুহাদ্দাদ নামক
রমণীর কথা ভুলে গিয়েছো ৷
আমি বিশ্বাসঘাতক যুগকে দেখেছি যে, আমার দুহাত যখন কোন কিছু শুধরিয়ে দেয় ওই
যুগ তখ্যা পুনরায় সেটিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সেটিকে নষ্ট করে দেয় ৷
ৰুাহ্রস্থুৰুৰু
এই যুগের ঘুর্ণিপাকে আমি অনেক প্রোঢ় লোক, নওজেড়ায়ানকৃক এবং অনেক ধন-সম্পদ
হারিয়েছি ৷ হায় আল্লাহ্ ৷ এ যুগ কী ভাবে ওলট-পালট হয় ৷

আমি অবিরাম ধন-সম্পদ অর্জনে ব্যস্ত ছিলাম ৷ শৈশব, যৌবন এবং পৌঢ়তৃ সকল বয়সে
তাই করেছি ৷

— fi
এখন আমি আমার খাকী রঙের দ্রুতগামী অশ্ব ছুটিয়েছি নাজীর ও মারখাদ অঞ্চলের
মধ্যবর্তী দুরতৃ অতিক্রম করার লক্ষে ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.