জিনদের রাদ্বিদ্বুষ্ট্রশ্বহ্ (সা) – এর কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ

ইমাম আহমদ আবদুর রহমান ইবন খালিদ ইবন আবু জাবাল উদওয়ানী তার পিতা
থেকে বর্ণনা করেছেন যে , তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে ছাকীফ গোত্রের পুর্ব প্রান্তে একটি লাঠি
কিংবা ধনৃকে ভর করে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন ৷ তখন তিনি সাহায্য লাভের আশায় তাদের
নিকট আগমন করেছিলেন ৷ আমি তাকে বলতে শুনেছি ; এই সুরা শেষ
পর্যন্ত ৷ বর্ণনাকারী বলেন, আমি জাহিলী যুগে এই সুরা মুখস্থ করে কেলেছিলাম ৷ তখনও আমি
মুশরিক ছিলাম ৷ এরপর ইসলাম গ্রহণের পরে আমি তা তিলাওয়াত করি ৷ বর্ণনাকারী বলেন,
ছাকীফ পােত্রর লোকেরা তখন আমাকে ডেকে বলেছিল, এই লোকের মুখ থেকে তুমি কী
শুনেছ ? তার মুখ থেকে শোনা সুরাটি আমি ওদের নিকট তিলাওয়াত করলাম ৷ ওদের সাথে
কুরা য়শী লোক যারা ছিল তারা বলল, আমাদের এই লোক সম্পর্কে আমরা অধিক অবগত ৷

সে যা বলছে, আমরা যদি তা সত্য বলে জানতাম, তাহলে আমরা অবশ্যই তার অনুসরণ
করতাম ৷

সহীহ্ বৃখারী ও মুসলিমে আছে, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহড়াবেৰু বরাৰ্ঢুত আইশা (রা)
থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, উহুদ দিবস কি
অপেক্ষা অধিক কঠিন কোন দিবস আপনার জীবনে এসেছে ? উত্তরে তিনি বললেন, তোমার
সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আমি যে নির্যাতন ভোগ করেছি তার চেয়েও কঠিন নির্যাতন ভোগ
করেছি আকবাে দিবসে ৷ সেদিন আমি নিজেকে আবৃদ ইয়ালীল ইবন আবৃদ কিলড়ালের পুত্রদের
নিকট পেশ করেছিলাম ৷ আমি যা চেয়েছিলাম সে মতে তারা সাড়া দেয়নি ৷ তখন আমি ফিরে
আসছিলাম ৷ আমি তখন দুঃখে ব্যথায় জর্জরিত ৷ শ্রাম্ভ-ক্লান্ত ৷ কারণ আল ছাআলিব নামক স্থানে
এসে আমি সন্বিৎ ফিরে পাই ৷ আমি আমার মাথা উঠিয়ে দেখলাম একখণ্ড যেঘ আমাকে ছায়া
দিয়ে যাচ্ছিল ৷ তাকিয়ে দেখি, সেখানে জিবরাঈল (আ) ৷ তিনি আমাকে ডেকে বললেন,
আপনার সম্প্রদায় আপনাকে কী বল্যেছ এবং কী প্রভ্যুত্তর দিয়েছে তা আল্লাহ্ তাআলা
শুনেছেন ৷ তিনি আপনার সাহায্যে পাহাড়ের দায়িতৃপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন ৷ ওদেরকে
আপনি যে শাস্তি দিতে চান ফেরেশতাকে তা করার নির্দেশ দিন ৷ সে তা করে দেবে ৷ এরপর
পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে সালাম দিয়ে ঢেকে বললেন হে মুহাম্মদ (সা ) ! আল্লাহ্ তা আলা
আমাকে পাঠিয়েছেন ৷ আপনার গোত্রের লোকেরা আপনাকে কী উত্তর দিয়েছে তা তিনি
শুনেছেন ৷ আমি পাহাড়ের দায়িতৃপ্রাপ্ত ফেরেশতা ৷ আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার নিকট
প্রেরণ করেছেন ৷ আপনি ওদেরকে যে শাস্তি দিতে চান, সে মতে আপনি আমাকে নির্দেশ দিন ৷
আপনি যদি চান তবে এই দুই পাহাড় দিয়ে তাদেরকে চাপা দেয়া হবে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)
বললেন, না, তা নয় ৷ আমি বরং আশা করছি যে, তাদের বৎশে আল্লাহ্ তাআলা এমন লোক
দিবেন, যারা আল্লাহর ইরাদত করবে তার সাথে কাউকে শরীক করবে না ৷

পরিচ্ছেদ

জিনদের রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কুরআন তিলাওয়ড়াত শ্রবণ

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক এ ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ্ (না ) এর
তাইফ থেকে ফিরে আসার সময় ৷ নাখলা নামক স্থানে রাত্রি যাপনের পর সাহাবীগণসহ তিনি

ফজ্যরর নামায আদায় করছিলেন ৷ সেখানে জিনেরা তার কুরআন৩ তিলাওয়াত শুনেছিল ৷ ইবন
ইসহাক বলেন, ওই জিনদের সংখ্যা ছিল সাত ৩৷ ওদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা
নাযিল করলেন ;;

স্মৃরণ কর, আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম একদল জিনা:ক, যারা কুরআন পাঠ
শুনছিল (৪৬ ও ২৯) ৷
তাফসীর গ্রন্থে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ তার কিছুটা এই গ্রন্থে
ইণ্ডে তাপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷ আল্লাহ্ই ভ ল জানেন ৷

তাইফ থেকে প্ৰতদ্রাবর্তনের পথে রাসুলুল্লাহ্ (সা) মু৩ তঈম ইবন আদীর দায়িত্বে মক্কায়
প্রবেশ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সম্প্রদায়ের লোকজন এবার আরো কঠোর ভাবে তার প্রতি
হিৎসা বিদ্বেষ, শত্রুত৷ ও বিদ্রোহ শুরু করে দিল ৷ মহান আ ৷হ্ই সাহায় ৷৷কাে ৷রী এবং তার উপরই
ভরসা ৷

উমাবী তার মাগাযী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় র্তাকে আশ্রয় দেয়ার
প্রস্তাব সহকারে আরীকাত না৷মের এক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন আখনাস ইবন শুরায়কের
নিকট ৷ সে বলল, আমরা কুরায়শ গোত্রের মিত্র ! কুরায়শ বৎশে বিপর্যয় ও অশান্তি সৃষ্টিকারী
কোন লোককে আমরা আশ্রয় দিতে পারি না ৷ এরপর আশ্রয় কামনা করে তিনি দুত পাঠালেন
সুহায়ল ইবন আমরের নিকট ৷ সে বলল, আমরা আমির ইবন লুওয়াই-এর বংশধর ৷ ইবন
লুওয ই এর বিরুদ্ধাচরণকারী কাউকে আমরা আশ্রয় দিতে পারব না ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
প্রস্ত৷ ৷ব পাঠালেন মুতঈম ইবন আদীর নিকট ৷ যুতঈম বললেন তাই হয়ে তাকে আসতে বল
রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তা ৷র নিকট গেলেন এবং সেখানে বা ৷ত্রি যাপন করলেন ৷ সকাল বেলা রাসুলুল্লাহ্
(সা) কে সাথে নিয়ে মু৩ তঈম বের হলেন ৷ মু৩ তঈমের সংগী হল৩ তার পুত্ররা ৷ ওরা ছয়জন কি
সাতজন ৷ সব৷ ৷ই তরবারি সজ্জিত ৷ তারা মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) এর
উদ্দেশ্যে মু৩ তঈম বললেন, যান তাওয়াফ করুন ৷ ওরা সকলে তরবারি উঠিয়ে তাওয়াফের
এলাকায় পাহারা দিচ্ছিল ৷ কিছুক্ষ্যণর মধ্যে আবু সুফিয়ান এলেনমু তঈমের নিকট ৷ তিনি
বললেন, আপনি কি ওর আশ্রয়দা৩ তা নাকি তার অনুসারী ? মু৩ তঈম বললেন, আমি ওর
আশ্রয়-দাতা ৷ আবু সুফিয়ান বললেন, তবে আপনার আশ্রয়দানকে অবমাননা করা হবে না ৷
আবু সুফিয়ান কিছুক্ষণ মুতঈমের নিকট বললেন ৷ ইতোমধ্যে রাসুলুল্পাহ (সা) তাওয়াফ শেষ
করলেন ৷ তিনি ঘরে ফিরে এলেন ৷ ওরাও ফিরে এল ৷ আবু সুফিয়ান চলে গেলেন তার
সাথীদের নিকট ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কয়েক দিন ওখানে অবস্থান করলেন; এরপর মদীনায়
হিজরত করার অনুমতি এল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর মদীনায় হিজরৰ৩ র অল্প কিছু দিন পর
মুতঈম ইবন আদীর ওফাত হয় ৷ তখন কবি হাসৃসান ইবন ছাবিত বললেন আল্লাহর কসম
আমি অবশ্যই তার গোকাগাথা গা ৷ইব ৷

মানব জাতির কে ন ব্যক্তি যদি এককভাবে চিরদিনের জন্যে মর্যাদাবান হয়, তবে সেই
একক ব্যক্তি হল মুতঈম ৷ সে তার মর্যাদা ৷কে সমুন্নত করেছে ৷

(হে মুতঈম শত্রুদের হাত থেকে আপনি তা ৷ল্লাহ্র রাসুলকে আশ্রয় দিয়েছেন ৷ ফলে শত্রুরা

সব ই চিরদিনের জন্যে তথা যত দিন হাজী সাহেবান ইহরাম ব৷ ৷ধা ও খোলার জন্যে৩ তালবিয়া
পাঠ করবেন ততদিনের জন্যে আপনার গোলামে পরিণত হল ৷

মা দ গোত্র, কাহতান গোত্র এরং জুরহুম গোত্রের অবশিষ্ট লেক্যেদরকে যদি তার সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করা হয় —

তবে তারা সকলে বলবে যে, তিনি প্ৰতিবেশীর নিরাপত্তা যিধানকারী, দায়িত্ব পালনকারী
এবং অঙ্গীকার রক্ষাকারী ৷

যাদের উপর সুর্য উদিত হয় তাদের মধ্যে তার মত সম্মানী ও মর্যাদবােন দ্বিতীয়টি নেই ৷
তিনি যখন কিছু প্রত্যাখ্যান করেন তখন প্রত্যাখ্যান করেনই ৷ স্বডাব চরিত্রে তিনি নম্র ও
ভদ্র ৷ অন্ধকার রাতে তিনি প্রতিবেশীর নির্বিব্ল ঘুমের নিশ্চয়তা দানকারী ৷
আমি বলি, মৃত তঈম ইবন আদীর এই অবদানের প্রেক্ষিতে বদর যুদ্ধের বন্দীদের সম্পর্কে

রাসুলুল্লড়াহ্ (সা) বলেছিলেন যে, এখন যদি মুতঈম ইবন আদী জীবিত থাকতেন এবং এই
নেতাদের মুক্তির আবেদন করতেন, তার তার সম্মানে আমি এদের সবাইকে যুক্তি দিয়ে দিতড়াম ৷

দীনের দাওয়াত নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না) এর আরব গোত্রসমুহ গমন

ইবন ইসহাক বলেন এরপর রাসুলুল্পাহ্ (সা) মক্কা আগমন করলেন ৷ তার সমাজের
লোকজন এখন র্ত ৷র ৷বিরােধিতা ও তার দীন প্রত ক্লাখ্যানে জঘন্য ষড়য়ন্ত্রকারী ৷ মাত্র অল্প সং খ্যক
দুর্বল ও শক্তিহীন ঈম৷ ৷ানদ র লোক তার পক্ষে ছিল ৷ হক্কজ্জর মওসুমে৩ তিনি বিভিন্ন আরব গোত্রের
মধ্যে উপস্থিত হতেন এবং তাদেরকে বলতেন যে, তিনি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত পুরুষ
প্রেরিত রাসুল ৷ তারা যেন তাকে সত্য বলে মেনে নেয় এবং বিরোধী পক্ষের অত্যাচার-নির্যাতন
থেকে যেন তাকে রক্ষা করে তিনি তাদের পতি সেই অনুরোধ জানাতেন ৷ যাতে করে আল্লাহ্
তাআলা যা নিয়ে তাকে প্রেরণ করেছেন তা সকলের নিকট পৌছিয়ে দিতে পারেন ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন রাবীঅ৷ ইবন আববাদ বলেন, আমি আমার পিতার সাথে
মিনাতে অবস্থান করছিলাম ৷ তখন আমি বয়সে নবীন যুবক ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন আরবের

বিভিন্ন গোত্রের তাবুতে উপস্থিত হচ্ছিলেন আর বলছিলেন, “হে অমুক গোত্র ৷ আমি তোমাদের
প্ৰতি আল্লাহ্র রাসুল ৷ আমি তােমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর ৷
তার সাথে কাউকে শয়ীক করো না ৷ তোমরা যে সব দেবদেবীর পুজা করছ, তা বর্জন কর ৷
তোমরা আমার প্রতি ঈমান আনয়ন কর এবং আমাকে সত্য বলে মেনে নাও ৷ আর তোমরা
আমার শত্রুদেরকে প্রতিহত কর যাতে করে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন
আমি তা সকলের নিবল্ট পৌছাতে পারি ৷ বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পিছে পিছে
একজন লোক উপস্থিত ৩হত ৷ সে ছিল ফর্স৷ মুখ, কুয়াের মত বড় বড় চোখ বিশিষ্ট, তবে টেরা
চোখের লোক ৷ তার পরিধানে ছিল আদনী জামা ও চাদর ৷ রাসৃলুল্লাহ, (না) তার বক্তব্য শেষ
করলে ওই ব্যক্তিটি দাড়িয়ে বল৩ ,“হে অমুক গোত্র! এই লোক ণ্তামাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছে
যাতে তোমরা লাভ ও উয্য৷ দেবীকে বত্ত-নি কর ৷ আর বনু মালিক ইবন আকিয়াশ গোত্রের জিন
মিত্রদেরকে ছেড়ে তোমরা যেন তার নব উদ্ভাবিত গোমরাহীর পথে যাও ৷ খবরদার ৷ তোমরা
তার আ ৷নুগত্য করে৷ না এবং তার কথা শ্রবণ করে৷ না ৷ বর্ণনাকবী বলেন আমি তখন আমার
পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, পিতা ! এই যে লোকটি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পিছে পিছে ছুটছে আর

তার বিরোধিতা করে চলেছে সে লোকটি কে ? আমার পিতা বললেন যে হল আবদুল
ঘুত্তা ৷লিবের পুত্র আবদুল উঘৃযা আবু লাহাব ৷ সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর চাচা

ইমাম আহমদ রাবীআ ইবন আব্বাদ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি জাহিলী যুগের লোক
ছিলেন ৷ পরে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ তিনি বললেন, আমি জাহিলী যুগে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
যুল-মাজায বাজারে দেখেছিলাম ৷ তিনি তখন বলছিলেন :
“হে লোক সকল! তোমরা “লা ইলাহ৷ ইল্লা ৷ল্লাহ্ বল, তাহলে সফলকাম হবে ৷” লোকজন
তার নিবল্ট সমবেত ছিল ৷৩ তার পেছনে ছিল বড় বড় চােখওয়ালা ফর্স৷ ৷চেহারার একজন টেরা
লোক ৷ তার দুটি ঝু টি ছিল ৷ সে বলছিল, ওই লোকটি ধর্মত্যাপী ও মিথ্যাবাদী ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) যেখানেই যাচ্ছিলেন, লোকটিও সেখানে উপস্থিত হচ্ছিল ৷ আমি লোকঢির পরিচয় জিজ্ঞেস
করলাম ৷ উত্তরে বলা হল যে, সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর চাচা আবু লাহাব ৷

বায়হাকী রাবীআ দুওয়ালী থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
দেখোছিলাম যুল ম-াজায বাজারে ৷ তিনি লোকজনের তাবুত্তে তাবুতেগ্ গিয়ে গিয়ে তাদেরকে
আল্লাহর দিকে আহ্বান করছিলেন ৷৩ তার পেছনে পৌর বর্ণের একজন টের৷ চোখের লোক ছিল;
সে বলছিল হে লোকসকল! এই মানৃষটি যেন ( ৷মাদেরকে নিজ নিজ ধর্ম ও পিতৃধর্য সম্পকে
প্রভাবিত করতে না পারে ৷ আ ৷মি বললাম এই লোকটি কে ? উপস্থিত লোকেরা বলল, যে আবু
লাহাব ৷ আবু নুআয়ম “আদ-দালাইল” গ্রন্থে ইবন আবু যি’ ব সাঈদ ইবন সালাম৷ সুত্রে

মুহাম্মদ ইবন ঘুনকাদির থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন
এরপর বায়হাকী শুবা কিনানা গোত্রের এক লোক থেকে বর্ণনা করেছেন, যে বলেছে
যে, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখেছিলাম যুল-মাজায বাজারে ৷ তিনি বলছিলেন, হে লোক

সকল তোমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বল, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে ৷” তখন আমি
দেখতে পাই যে, অন্য একজন মানুষ তার পেছনে দাড়িয়ে তার প্রতি ধুলি নিক্ষেপ করছে ৷ সে
ছিল আবু জাহ্ল ৷ আবু জাহ্ল বলছিল, হে লোক সকল! এই মানুষটি যেন তোমাদেরকে
তোমাদের দীনের ব্যাপারে প্রভাবিত করতে না পারে ৷ সে চায় যে, তোমরা লাভ ও উবৃযার
উপাসনা ত্যাগ কর ৷ এ বর্ণনায় আছে যে, পেছনের ব্যক্তিটি ছিল আবু জাহ্ল ৷ এটি
বর্ণনাকারীর ভ্রান্তিও হতে পারে ৷ অথবা এমনও হতে পরে যে, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিরুদ্ধে
অপপ্রচারের জন্যে তার পেছনে কখনো থাকত আবুজাহ্ল আর কখনো থাকত আবু লাহাব ৷
উভয়ে পালা করে তাকে কষ্ট দিত ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, ইবন শিহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দীনের আহ্বান নিয়ে
রাসুলুল্পাহ্ (সা) কিন্দা গোত্রের র্তাবুতে উপস্থিত হন ৷ সেখানে তাদের দলপতি মালীহ্ উপস্থিত
ছিল ৷ তিনি ওদেরকে আল্লাহ্র দিকে ভাকলেন এবং নিজেকে তাদের নিকট পেশ করলেন ৷
তারা তার ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানাল ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন, হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা
করেছেন যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) কালব গোত্রের বড়ানু আবদুল্লড়াহ্ নামক উপগােত্রের র্তাবুতে উপস্থিত
হয়ে তাদেরকে আল্লাহ্র প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাকে নিরাপত্তা দানের অনুরোধ জানালেন ৷
তিনি বললেন, হে বনু আবদুল্লাহ্! আল্পাহ্ তাআলা তো তোমাদের গোত্রীয় পিতাকে একটি
সুন্দর নাম দিয়েছেন ৷ তারা তার দাওয়ত গ্রহণ করেনি এবং তার অনুরোধ রক্ষা করেনি ৷
আমাদের এক সঙ্গী আবদুল্লাহ ইবন কাআব ইবন মালিকের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাকে বলেছেন যে ,
রাসুলুল্লাহ্ (না) বনু হানীফা গোত্রের তাবুতে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান
জানিয়েছিলেন এবং তাকে নিরাপত্তা দানের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন ৷ উত্তরে তারা যে কদর্য
ভাষা ব্যবহার করে আরবের অন্য কেউ তা করেনি ৷

রাবী বলেন, যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমির ইবন
সা’সাআহ গোত্রের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং
তাকে নিরাপত্তা দানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন ৷ বুহায়রা ইবন ফিরাস নামের তাদের একজন
প্রত্যুত্তরে বলেছিল, আল্লাহ্র কলম, কুরায়শের এই যুবকটিকে যদি আমি আমার অধীনস্থ করতে
পারতাম, তবে তার মাধ্যমে আমি সমগ্র আরব ভুখণ্ডে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারব ৷ তারপর সে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে বলল, আচ্ছা আমরা যদি আপনার মতাদর্শ মেনে আপনার অনুসরণ করি,
তারপর আপনি আপনার বিরোধীদের উপর বিজয় লাভ করেন, তাহলে আপনার পর আমরা কি
রাজত্বের মালিক হব ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, কর্তৃত্ব ও রাজত্ব মুলত আল্লাহ্র হাতে ৷ তিনি
যাকে চান তা দান করেন ৷ তখন বুহায়রা বলল, এ কেমন কথা যে, আপনাকে রক্ষার জন্যে
আমরা অড়ারবদের আক্রমণের মুখে বুক পেতে দেব আর আপনি বিজয়ী হলে রাজত্ব যাবে
অন্যের হাতে ! যাকগে আপনার অনুসরণ করার আমাদের কোন প্রয়োজন নেই ৷ তারা তার
অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল ৷

হভ্রুজ্জর মওসুম শেষে লোকজন নিজ নিজ দেশে ফিরে গেল ৷ বনু আমির গোত্রের লোকেরা
তাদের এক বয়ােবৃদ্ধ নেতৃস্থানীয় লোকের নিকট উপস্থিত ৩হল ৷ বার্ধক্যের কারণে তিনি হরুজ্জ
যেতে পারেননি ৷ প্রতিবছর হজ্জ থেকে ফিরে গিয়ে তারা ওই বছর মক্কায় সং ঘটিত বিষয়সমুহ
তাকে জ নাতে৷ ৷ এবার তার নিকট উপস্থিত হওয়ার পর এই মওসুমে সংঘটিত ঘটনাবলী
সম্পর্কে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন ৷ তারা বলল, কুরায়৷ বংশের বনী আবদুল
যুত্তালিবের এক যুবক আমাদের নিকট এসেছিল ৷ সে দাবী করে যে, সে নবী ৷ তাকে রক্ষা
করার জন্যে, তাকে সাহায্য করার জন্যে এবং তাকে আমাদের দো৷ নিয়ে আসার জন্যে সে
আমাদেরকে অনুরোধ করে ৷ একথা শুনে বৃদ্ধ লোকটিত ৷র মাথায় হাত দিয়ে বললেন হে
আমির গোত্র! তোমাদের জন্যে কি ধ্বৎ স এসে গেল ? যে সুযোগ তোমরা হাতছাড়া করেছ তা
কি আর ফিরে পাবে ? অমুকের প্রাণ যার হাতে তার কসম করে বলছি ৷ ইসমাঈলের বৎশধরেরা
তো এমন বানােয়াট কথা বলে না ৷ তিনি যা এসেছেন তা তো নিশ্চিত সত্য ৷ তোমাদের
বিবেক-বিবেচনা তখন কোথায় ছিল ?

মুসা ইবন উকব৷ যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, ওই বছরগুলোতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) প্রতি হজ্জ
মওসুমে আরব গোত্রদের নিকট উপস্থিত হতেন ৷ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকদের
সাথে তিনি কথা বলতেন ৷ আল্লাহ্র প্রতি দাওয়াত দেয়ার সাথে তাদের নিকট তিনি তার
নিজের নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব পেশ করতেন ৷ তিনি বলতে ন যে আমি তােমাদেরকে কোন
বিষয়ে জবরদস্তি করব না ৷ আমার পেশকৃত করা যার ভাল লাগবে, যে তা গ্রহণ করবে ৷ যার
ভাল লাগবে না, আমিত তার উপর তা চাপিয়ে দেবো না ৷ আমি চাই যে, আমাকে হত্যার যে
ষড়যন্ত্র চলছে তোমরা তা থেকে আমাকে রক্ষা করবে যাতে আমি আমার প্রতিপালকের
ব্রিসালাত সকলের নিকট পৌছিয়ে দিতে পারি এবং আমার ব্যাপারে এবং আমার সাথীদের
ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সাল৷ পুর্ণ হয় ৷ কিন্তু তাদের কেউই তার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ৷ যে
গোত্রের নিকটই তিনি উপস্থিত তহয়েছেন, সে গোত্রই বলেছে যে, একজন মানুষ সম্পর্কে তার
স্বগােত্রীয় লোকজনইভ ৷ল জানে ৷ তোমরা কি মনে করছ যে, যে লােকটি নিজের সম্প্রদায়ের
মধ্যে অশাস্তি সৃষ্টি করেছে যার ফলে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে সে কী করে আমাদেরকে
সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করবে ? মুলতত তাকে আশ্রয় দেয়ার দায়িতু টি আল্লাহ্ তা জানা
আনসারদের জন্যে নির্ধারিত করে রেখেছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে মর্যাদাবান
করেন ৷

হাফিয আবু নুআয়ম আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
আমাকে বলেছিলেন, আমি তো আপনার নিকট এবং আপনার স্বগােত্রীয়দের নিকট আশ্রয় ও
নিরাপত্তা পাচ্ছি না ৷ আপনি কি আমাকে আগাষীকাল বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন যাতে করে
আমি অন্য গোত্রের লোকজনের নিকট গিয়ে থাকতে পারি ? বাজার ছিল আরবদের
মিলন মেলা ৷ বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি তাকে নিয়ে গেলাম এবং বললড়াম, এটি কিন্দাহ
গোত্রের তাবু ৷ ইয়ামান থেকে যারা হজ্জ করতে আসে, তাদের মধ্যে এরা শ্রেষ্ঠ ৷ এটি বকর
ইবন ওয়াইল গোত্রেরত তাবু ৷ আর এগুলো হলো আমির ইবন সা স আ গোত্রের তাবু ৷ এগুলো

থেকে যে কোন একটি তুমি নিজের জন্যে বেছে নাও ৷ তিনি প্রথমে কিন্দা গোত্রের নিকট
গেলেন ৷ বললেন আপ-ণর৷ কোন দেশের লোক ? তারা বলল, আমরা ইয়ামানের অধিবাসী ৷
ইয়ামানের কোন গোত্র ? তিনি জিজ্ঞেস করলেন ৷ তারা বলল, কিন্দা গোত্রের লোক ৷ তিনি
বললেন, কিন্দা গোত্রের কােনৃ শাখার অন্তর্ভুক্ত আপনারা ? তারা বলল, “আমির ইবন মুআবিয়াহ
শাকার অন্তর্ভুক্ত ৷ তিনি বললেন, “আপনারা কি কল্যাণ চান ? তারা বলল, কেমন কল্যাণ ?
তিনি বললেন, আপনারা এই সাক্ষ্য দিবেন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, আর নামায
আদায় করবেন এবং আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যা এসেছে তাতে বিশ্বাস করবেন ৷

আবদুল্লাহ ইবন আজলাহ্ বলেছেন যে, আমার পিতা তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়
লোকদের বরাতে আমাকে জানিয়েছেন যে, কিন্দা গোত্রের ণ্লড়াত্ব;ণ্কর৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
বলেছিল, “আপনি যদি বিজয়ী হন, তাহলে আপনার পর রাজত্ব আমাদেরকে দেবেন তো ?
তিনি বললেন :

“রাজত্ব আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা ৷তা দান করবেন ৷” তখন তারা বলল, যদি তাই
হয়, তবে আপনি যা নিয়ে এসেছেনত ৩াদিয়ে আমাদের কোন দরকার নেই ৷ কালবী বলেছেন
যে, তারা বলেছিল, আপনি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে
আরবদের মুক৷ ৷বিলায় আমাদেরকে যুদ্ধে জড়াতে এসেছেন ? আপনি বরং আপনার সম্প্রদায়ের
নিকট ফিরে যান, আপনার আনীত দীনে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই ৷ তিনি তাদের নিকট
থেকে ফিরে এলেন ৷

এরপর তিনি গেলেন বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের লোকজনের নিকট ৷ আপনারা কোন
গোত্রের লোক ? তিনি জিজ্ঞেস করলেন৷ তারা বলল, বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের লোক ৷ তিনি
বললেন, বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের কোন শাখার আপনারা অন্তর্ভুক্ত? তারা বলল, কা য়স ইবন
ছালাবা শাখার ৷ তিনি বললেন, আপনাদের সংখ্যা কেমন ? তারা বলল, প্রচুর ধুলোবালির
ৎখ্যার ন্যায় ৷ তিনি বললেন, আপনাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেমন ? তারা বলল, আমাদের
নিজস্ব কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই ৷ পারস্য সম্রাট আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন ৷ সুতরাং
ওদেরকে বাদ দিয়ে আমরা কাউকে রক্ষা করতে পারব না এবং ওদেরকে ডিঙ্গিয়ে আমরা
কাউকে আশ্রয় দিতে পারব না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তবে আপনারা আল্লাহর সাথে এই
ওয়াদায় আবদ্ধ হন যে, তিনি যদি আপনড়াদেরকে র্বাচিয়ে রাখেন, তারপর আপনারা ওই
পারসিকদের স্থান দখল করতে পারেন, তাদের ত্রীদেরকে বিবাহ করতে পারেন এবং তাদের
ছেলেদেরকে ক্রীতদাসে পরিণত করতে পারেন, তাহলে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে ৩৩ বার
সৃবহড়ানাল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদৃ লিল্লাহ্ এবং ৩৪ বার আল্পাহু আকবার পাঠ করবেন ৷ ওরা
বলল, আপনি কে ? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল ৷ এরপর তিনি সেখান থেকে চলে
গেলেন ৷ তার চলে যাবার পর আবু লাহাব সেখানে উপস্থিত হল ৷ কালবী বলেন, তার চাচা
আবুলাহাব তার পেছনে লেগে থাকত এবং লোকজনকে বলত ৷ তোমরা তার কথা গ্রহণ করো
না ৷ বন্তুত আবু লাহাব ওখানে উপস্থিত হওয়ার পর লোকজন তাকে বলল, আপনি কি ওই

লোকটিকে চিনেন ? আবু লাহাব বলল, হী৷ আমি ভাবে তিনি ৷ যে আমাদের মধ্যে সস্রান্ত
ব্যক্তি ৷ তোমরা তার সম্পর্কে কি জানতে চ্চ্ছে ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওদেরকে যে বিষয়ে
ন্ দাওয়াত দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে তারা আবু লাহাবকে জানাল এবং তারা বলল যে,
সে নিজেকে আল্লাহর রাসুল বলে দাবী করে ৷ আবু লাহাব বলল, তার কথা গ্রহণ করে তোমরা
তাকে উপরে তুলে দিও না ৷ সে একজন পাগল, মাথায় যা আসে তাই বলতে থাকে ৷ তারা
বলল, তা বটে, আমরা তাকে পাগল বলেই মনে করেছি, যখন সে পারসিকদের বিরুদ্ধে
আমাদের বিজয়ের কথা বলেছে ৷
কালবী বলেন, আবদুর রহমান মুঅইিরী তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকদের বরাতে
আমার নিকট বর্ণনা করেছে যে, তারা বলেছে, আমরা উকায মেলায় ছিলাম ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা) আমাদের নিকট উপস্থিত হলেন ৷ তিনি বললেন, আপনারা কোন সম্প্রদায়ের লোক ?
আমরা বললাম , আমরা আমির ইবন সাসাআ গোত্রের লোক ৷ তিনি বললেন, আপনারা আমির
ইবন সাসাআ গোত্রের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত ৷ তারা বলল, বনু কাআব ইবন রাবীআ শাখার ৷
তিনি বললেন, আপনাদের মধ্যে নিরাপত্তা লাভের পরিবেশ কেমন ? আমরা বললাম, আমরা যা
বলি, তার প্রতিবাদ করার কথা কেউ চিস্তাও করতে পারে না আর মেহমানদের আপ্যায়নের
জন্যে আমাদের জ্বালানাে আগুন কখনো নিভানাে হয় না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “আমি
আল্লাহ্র প্রেরিত রাসুল ৷ আমি আপনাদের নিকট এসেছি এ জন্যে যে, আপনারা আমাকে আশ্রয়
দেবেন যাতে করে আমি আমার প্রতিপালকের দেওয়া রিসালাতের বাণী মানুষের নিকট পৌছিয়ে
দিতে পারি ৷ আপনাদের কারো উপর আমি কোন বিষয়ে জবরদস্তি করব না ৷ তারা বলল,
আপনি কুরায়শের কোন শাখার লোক ? তিনি বললেন, বনু আবদুল মুত্তালিব শাখার ৷ তারা
বলল, তা হলে আবৃদ মানাফ গোত্রের লোকদের মধ্যে আপনার অবস্থান কেমন ৷ তিনি বললেন,
তারাই তো সর্বপ্রথম আমাকে প্রত্যাখ্যান করে তাড়িয়ে দিয়েছে ৷ তারা বলল, আমরা আপনাকে
তাড়িয়ে দেবাে না ৷ আবার আপনার প্ৰতি ঈমানও আনব না ৷ আমরা আপনাকে নিরাপত্তা দেবাে
যাতে করে আপনি আপনার প্ৰতিপালকের রিসলোঃতর বাণী পৌছিয়ে দিতে পারেন ৷ বন্তুত তিনি
তাদের সাথে বসবাস করতে লাগলেন ৷ তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করছিল ৷ ইতোমধ্যে
বুহায়রা ইবন ফিরাস কুশায়রী তাদের নিকট আগমন করে ৷ সে বলল, তোমাদের মধ্যে এই
লোকটি কে ৷ আমি তো তাকে চিনতে পারছি না ৷ ওরা বলল, তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবন
আবদুল্লাহ কুরায়শী ৷ সে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের সাথে তার সম্পর্ক কী ৷ তারা বলল, সে তো
নিজেকে আল্লাহ্র রাসুল বলে দাবী করে ৷ সে আমাদেরকে অনুরোধ জানিয়েছে আমরা যেন
তাকে নিরাপত্তা দিই যাতে সে তার প্রতিপালকের দেয়া রিসালাতের বাণী প্রচার করতে পারে ৷
বুহায়রা বলল, তোমরা তাকে কি উত্তর দিয়ে ছ ৷ তারা বলল, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি ৷
আমরা তাকে আমাদের দেশে নিয়ে বার এবং তাকে নিরাপত্তা দেবাে যেমন করে আমরা
নিজেদের নিরাপত্তা বিধান করি ৷ বুহায়রা বলল, এই মেলা থেকে তোমরা যে কঠিন দায়িতু নিয়ে
যাচ্ছে অন্য কেউ তত কঠিন কিছু নিয়ে যাচ্ছে বলে আমার জানা নেই ৷ তোমরা তাকে সাথে
করে নিয়ে গিয়ে বিপর্যয়ের সুচনা করছো ৷ তারপর তোমরা অন্যান্য মানুষের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত
হবে শেষপর্যন্ত আরবরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে তোমাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে ৷ সবাই তোমাদের

বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ৷ তার সম্প্রদায় তার সম্পর্কে অধিকতর ওয়াকিফহা ৷ল ৷ সে যদি কোন কল্যাণ
নিয়ে আসে তবে তা গ্রহণ করে ওরা শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্যের অধিকারী হবে ৷ তোমরা কি একজন
অবাঞ্ছিত লোককে সাথে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ৷করছে৷ যার সম্প্রদায় তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং
তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ৷ তোমরা কি তাকে আশ্রয় দিতে ও সাহায্য করতে চাও ? তোমাদের
মনোভাব কতইনা মন্দ !

বুহায়রা এবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দিকে ফিরে তাকাল ৷ সে বলল “তুমি তোমার
সম্প্রদায়ের নিকট চলে যাও ৷ আল্লাহর কসম এখন তুমি যদি আমাণ্ ৷ব সম্প্রদায়ের নিকট না হয়ে
অন্য কোথাও হতে, তবে আমি ণ্৩ ৷মার গর্দান উড়িয়ে দিতাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা৩ তার উটনীর
পিঠে সওয়ার হলেন ৷ খবীছ বুহায়রা এসে উটনীটির চলার পথ বোধ করে দেয় ৷ ফলে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে নিয়ে উটনীটি লাফিয়ে উঠে এবং তাকে পিঠ থােক ফেলে দেয় ৷

বনু আমির গোত্রের নিকট তখন আমির ইবন কুরাত-এর কন্য৷ দাবাআ অবস্থান করছিল ৷
মক্কায় যে সকল মহিলা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি ঈমান এসেছিলেন তিনি ছিলেন তাদের
একজন ৷ গোষ্ঠীর লোকদের সাথে দেখা করার জন্যে তিনি এখানে এসেছিলেন ৷ তিনি বললেন,
হে আমিরের বং শধর এখন তো আমির জীবিত নেই ৷ তোমাদের সামনে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে অথচ তোমরা ৷কেউ তাকে রক্ষ৷ করছ না ? এবার তার
তিন চাচাত ই বুহায়রাকে আক্রমণ করার জন্যে উঠে দাড়াল ৷ অপর দু জন প্রস্তুত হল
বুহায়রাকে সাহায্য করার জন্যে ৷ ফলে উভয়পক্ষের একেকজন তার প্রতিপক্ষকে আক্রমণ
করল ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর পক্ষের প্রত্যেক লোক তার প্রতিপক্ষকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার
বুকের উপর উঠে বসল এবং তাদেরকে চপেটাঘাত করতে থাকে ৷ রাসুলুল্লাহ্ ( সা ) দু আ করে
বললেন হে আল্লাহ এই তিনজনকে বরকত দিন আর ওই তিনজনকে লা নত দিন ৷ এই তিন
জন যারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে সাহায্য করেছিলেন তারা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং
যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন ৷৩ তারা হলেন সাহ্লের দু’ পুত্র গাতীফ এবং পাতফান আর তৃভীয়জন
হলেন আবদুল্লাহ ইবন সালামা-এর পুত্র উরওয়৷ কিৎব৷ উযরা ৷

হাফিয সাঈদ ইবন ইয়াহ্ইয়৷ ইবন সাঈদ উমড়াবী তার মাপাষী গ্রন্থে তার পিতার বরাতে
উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন ৷ অপর তিনজন ধ্বংস হয়েছিল ৷ ওরা হল বুহায়রা ইবন ফিরাস ,
হড়াযান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সালাম৷ ইবন কুশায়র এবং আকীল গোত্রের মুআবিয়৷ ইবন
উবদাে ৷ তাদের প্রতি আল্লাহর লানত ৷ এটি একটি বিরল বর্ণনা ৷ সে জন্যে আমরা এটি উদ্ধৃত
করলাম ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন

আমির ইবন সাসাআ-এর ঘটনা বর্ণনা এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি ওদের অশালীন
প্ৰত্যুত্তর বর্ণনা উপলক্ষে হাফিয আবু নুআয়ম কাআব ইবন মালিক (বা) থেকে উক্ত হাদীছের
সমর্থক একটি হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷ অন্যদিকে আবু নুআয়ম, হাকিম ও বায়হাকী (র) প্রমুখ
৩া৷বান ইবন আবদুল্লাহ রাজালী আলী ইবন আবু৩ তালিব সুত্রে যেটি বর্ণনা করেছেন সেটি
এর চেয়েও দীর্ঘ এবং আশ্চর্যজ নক ৷ আলী ইবন আবু৩ তালিব বলেছেন আল্লাহ তা আলা তার
রাসুলকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আরবের বিভিন্ন গোত্রের নিকট গিয়ে ইসলামের দাওয়াত

দেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিনার পথে বের হলেন ৷ সাথে আবু বকর (বা) এবং আমি ৷ আমরা

আরবদের এক মজলিসে উপস্থিত হই ৷ আবু বকর (বা ) এগিয়ে গিয়ে ওদেরকে সালাম দিলেন ৷

সকল ভাল কাজে হযরত আবু বকর (বা) আমাদের মধ্যে অগ্রগামী থাকতেন ৷ ব০ শ পরিচিতি

সম্পর্কে তার ব্যাপক জ নাশুন ৷ছিল ৷ তিনি বললেন, আপনারা কোন সম্প্রদায়ের লোক ? তারা

বলল, রাবীআ সম্প্রদায়ের লোক ৷ তিনি বললেন, মুল রাবীআ গোত্রের, না শাখা গোত্রের ? তারা

বলল, মুল রাবীআ গোত্রের ৷ আবু বকর (বা) বললেন, তবে কোন মুল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ? তারা

বলল, যুহল-ই-আকবর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ৷ আবু বকর (বা) বললেন, তোমাদের মধ্যে কি

আওফ আছেন, যীর সম্পর্কে বলা হয় যে আওফের উপত্যকায় উক্তাপ নেই ? তারা বলল, না ৷

আবু বকর (বা) বললেন, তোমাদের মধ্যে কি বুস৩ তাম ইবন্ ৷ কায়স আছে, হাড়ার উপাধি

পতাকাবাহী এবং যিনি গোত্রের উৎস ৷ তারা বলল, না, সেই ৷ আবু বকর (রা) বললেন,

তোমাদের মধ্যে কি হাওফাযান ইবন শুরায়ক আছে যার উপাধি রাজার হম্ভা ও আত্মরক্ষাকারী ?
তারা বলল, না, সেই ৷ আবু বকর (রা) বললেন তোমাদের মধ্যে কি জাসসাস ইবন মুবৃরা ইবন

যুহ্ল আছে, যার উপাধি হল আত্মসং যমী ও প্রতিবেশীদের হিফায়তকারী ? তারা বলল না,
নেই ৷ আবু বকর (রা) বললেন,রু তোমাদের মধ্যে কি মুযদালিফ আছেন, যিনি তুলনাহীন একক
শিরস্ত্রাণেব অধিকারী ? তারা বলল, না, ত ৷ই তিনি বললেন তবে তোমরা কি কিনদা-রাজাদের
মাভুল বং শ ? তারা বলল, না, তা নয় ৷ তিনি বললেন, তবে তোমরা কি লাখামী রাজাদের স্খাশুর

গোত্র ? তারা বলল, না ৷ তা নয় ৷ এবার হযরত আবু বকর (রা) তাদেরকে বললেন, তবে
তোমরা উর্ধ্বতন যুহলের গোত্রভুক্ত নও, বরং তোমরা অধস্তন যুহলের বংশধর ৷

বর্ণনাকারী বলেন, তখনই দাপফাল ইবন হানযালা যুহালী নামের এক যুবক লাফিয়ে এসে
হযরত আবু বকর (রা) এর উষ্টীর লাগাম চেপে ধরল এবং বলল :

যিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন আমরা নিশ্চয়ই তাকে তার বংশ পরিচয় সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করব ৷ পোশাক দেখে আমরা তাকে চিনতে পারছি না কি০ বা তার সম্পর্কে আমরা
অজ্ঞ ৷

হে আগত্তুক৷ আপনি তো আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা আপনাকে জানালাম ৷
আমাদের কিছু আমরা গোপন রাখিনি ৷ এবার আমরা আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই ৷
আপনার পরিচয় কি ? হযরত আবু বকর (বা) বললেন, আমি কুরায়শ ৎশের লোক ৷ যুবকটি
বলল , বাহ্ বাহ্ আপনি তো নেতৃতু দানকারী আরবের অগ্রগাযীও শীর্ষ স্থানীয় বংশের অন্তর্ভুক্ত ৷
সে এবার বলল , আপনি কুরায়শের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন ৷ তায়ম ইবন মুররা
শাখার অন্তর্ভুক্ত ৷ সে বলল, আপনি কি শত্রুপক্ষেব বক্ষ লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করতে
পারেন ? কুসা ৷ই ইবন কিলাব কে আপনাদের গো ৷ত্রভুক্ত ? যিনি মক্কা দখলকারীদের অধিকাং শকে
হত্যা আর অবশিষ্টদেরকে দেশাম্ভরিত করেছিলেন ? নিজের সম্প্রদায়ভুক্ত লোকদেবকে
বিভিন্নন্থান থেকে এনে মক্কায় পুনর্বাসন করেছিলেন ৷ তারপর ওই জনপদের কর্তৃতু গ্রহণ

করেছিলেন ? কুরায়শ বৎশকে মর্যাদা ৷র আসনে আসীন করেছিলেন ৷ এ জন্যে আরব জাতি র্তাকে
মুজা ৷’ম্মি বা “একত্রকা ড়ারী” নামে আখ্যা ৷য়িত করেছে ৷৩ তার সম্পর্কে জনৈক ক বৃ বলেছেন :

“তোমাদের পুর্বপুরুষ কি একত্রকারী উপাধিতে ভুষিত ছিলেন না ? তার মাধ্যমে আল্লাহ্
তাআল৷ ফিহ্র গোত্রের সকল শাখাকে একত্রিত করেছেন ৷”

হযরত আবু বকর (বা) বললেন, না তা নয় ৷ যুবক বলল, আপনাদের মধ্যে কি আব্দ
মানাফ আছেন, যিনি সকল ওসীয়াণ্ডে র কেন্দ্রবিন্দু এবং সকল নেতার নেতা ? আবু বকর (রা)
বললেন না, সেই ৷ যুবক বলল,৩ তবে আপনাদের মধ্যে কি আমর ইবান আব্দ মানড়াফ হাশিম
আছেন, যিনি নিজ গোত্র ও মক্কাবাসীদের জন্যে রুটি ছারীদ থাওয়াতেন ? তার সম্পর্কে কবি
বলেছেন :

উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আমর নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের ছারীদ দিয়ে আপ্যায়িত করেছেন ৷
মক্কার লোকেরা তখন ছিল ক্ষুধার্ত, নিরন্ন ও শীর্ণকায় ৷
তারা শীত ও গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে তার নিকট অ ৷সার জনােই ক ৷ফেলা পরিচালনা করত ৷
কুরায়শ বংশ ছিল একটি শিরস্ত্রাণের ন্যায় ৷ এরপর সেটি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল ৷
সেটির শীর্ষ অংশ নির্ধারিত থাকল একান্ত ভাবে আব্দ মানাফ গোত্রের জন্যে ৷

আব্দ মানাফ গোত্রের লোকেরা সকলেই সৎকর্মশীল ৷৩ তাদের ন্যায় সৎকর্মণীল লোক

সচরাচর দেখা যায় না ৷ তারা মেহমা নদের উদ্দেশ্যে বলে থাকে আসুন আসুন আতিথ্য গ্রহণ
করুন ৷

চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক রং য়ের ভেড়াকে তারা বিনা দ্বিধায় যেহমানদের জন্যে যবাহ্
করে দেয় ৷ তরবারি দ্বারা শত্রুপক্ষকে প্রতিহত করে তারা নিজেদের শিরস্ত্রাণ ৷ও ঘুকুট রক্ষা
করে ৷ ১
এ এএ এএ
থােশ আমদেদ, আপনি য়দি তাদের মহল্লায় যান তবে, তারা সকল প্রকারের
অপমান-লাঞ্চুন৷ ও মিথ্যা অপবাদ থেকে আপনাকে রক্ষা করবে ৷ ২

১ সাদা লোমের মধ্যে কালো চুল ৷ ২ ৰু১৷ সংকট, বিপদ, উপবাস

হযরত আবু বকর (বা) বললেন, না, তিনি আমাদের লোক নন ৷ যুবক বলল, আপনাদের
মধ্যে কি আবদুল মুত্তা ৷লিব আছেন, যিনি শায়বাতুল হামৃদ বা সকল সুনামের যোগ্য পাত্র, যিনি
মকী ক ৷৷ফেল র নে৩ তা, যিনি শুন্যে বিচরণকা রী পাথী এবং মাঠে-প্রা ৷ন্তরে বিচরণকারী জীব জত্তুকে
খাদ্য দ ৷নকারী, যার মুখমওল অন্ধকার রাতে চকচক করে মোতি বিকিরণ করতো ৷ হযরত আবু
বকর (বা) বললেন, না তিনি আমাদের পােত্রভুক্ত নন ৷ যুবকটি বলল, তাহলে কি আপনারা
আরাফাতের অধিবাসী ? হযরত আবু বকর (বা) বললেন, না তা নয় ৷ সে বলল আপনি কি
বায়তৃল্লাহ্শ ৷রীফের তত্ত্বাবধানকারীদের গোত্র ? তিনি বললেন না, তা নয় ৷ সে বলল তবে
আপনি কি নাদওয়৷ ও পরামর্শদাতা ৷সদস্যদের দলভুক্ত ?৷ তিনি বললেন, না, তাও নয় ৷ সে
বলল , তবে কি হাজীদের পানি পরিবেশনকাবীদের গোত্রভুক্ত? তিনি বললেন, না, তাও নয় ৷ সে
বলল, তবে কি হাজীদের সেবাকারীদের দলভুক্ত ? তিনি বললেন, না, তাও নয় ৷ সে বলল,
তবে কি আপনি হাব্জীদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ? তিনি
বললেন, না ৷ তা নয় ৷ এবার হযরত আবু বকর (রা) যুবৰ্ড়াপ্ক্কর হাত থেকে তার উটের লাগান
টেনে নিলেন ৷ যুবকটি তাকে লক্ষ্য করে বলল :

“বন্যায় ভেসে আসা ঝিনুক প্রতিযোগিতায় নেমেছে অপর ঝিনুকের সাথে ৷ প্রবাহ কখনো
এটিকে উপরে উঠার কখনো বা নীচে নামায় ৷ ” তারপর সে বলল , আল্লাহর কসম , হে কুরাযশ
বংশীয় লোক! আপনি যদি একটু অপেক্ষা করেন, তবে আমি আপনাকে সম্যক বলে দিতে
পারবো যে, আপনি কুরায়শের মুল বংশের অন্তর্ভুক্ত-শাখা গোত্রের নয় ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদের দিকে তাকালেন মুচকি হেসে ৷ হযরত
আলী (বা) বলেন, আমি বললাম, হে আবু বকর ৷ বেদৃঈন আরব যুবকের সম্মুখে আপনি এক
-মস্ত ঝামেলায় পড়েছিলেন বটে ৷ তিনি বললেন, হে হাসানের পিতা ! তা-ই, বিপদের উপর বড়
বিপদ এবং ৎকটের উপর মহাসংকট থাকে ৷ কথায় বিপদ টেনে আংন ৷

বর্ণনাকারী হযরত আলী (বা) বলেন, তারপর আমরা একটি মজলিসে উপস্থিত হলাম ৷
সেটি একটি গুরু-গন্তীর ও শান্ত মজলিস ৷ সেখানে ব্যক্তিতৃসম্পন্ন নেতৃস্থানীয় লোকজন উপ
ছিলেন ৷ হযরত আবু বকর (রা) এগিয়ে গিয়ে ওদেরকে সালাম দিলেন ৷ বন্তুত সকল ভাল
কাজেই হযরত আবু বকর অগ্রগামী ৷ হযরত আবু বকর (বা) বললেন, আপনারা কোন
সম্প্রদায়ের লোক ? ওরা বলল, বনু শাযবান ইবন ছালড়াবা গোত্রের লোক ৷ আবু বকর (বা)
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে কুরবান হোন,
ওদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ওদের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন কেউ নেই ৷ এক বর্ণনায় আছে যে,
ওদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ওরা ছাড়া এমন কেউ নেই, যাদের ওযর গ্রহণ করা যায় ৷ এরাই
তাদের সম্প্রাদয়ের শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় ৷ ওই মসলিসে মাফরুক ইবন আমর, হানী ইবন কুবায়সা,
মুছান্ন৷ ইবন হারিছা, নুমান ইবন শুরায়ক প্রমুখ নেতা ছিলেন ৷ মাফরুক ইবন আমরের সাথে
হযরত আবু বকর (বা) এর অধিকতর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ৷ বাগাি৩ ৷ ও ভাষা সৌকর্যে মাফরুক
ছিল তাদের মধ্যে অগ্নণী ৷৩ তার চুলের দুটো বেণী ঝুলে থাকত ৩বুক পর্যন্ত ৷ সে বসেছিল হযরত

আবু বকর (রা)-এর নিকটে ৷ আবু বকর (রা) বললেন, তোমাদের সংখ্যা কত ? সে বলল,
আমাদের লোকসংখ্যা এক হাজারের উপরে ৷ এ সংখ্যাকে কম মনে করো না ৷ আমাদের হাজার
লোকের এই দল কখনো পরাজিত হয় না ৷ আবু বকর (বা) বললেন, (তামাদের নিরাপত্তা
পদ্ধতি কেমন ? সে বলল, আমরা অভাব-অনটনে আছি ৷ তবে আমাদের প্ৰতেব্রুকেই কঠোর
পরিশ্রমী এবং নিজ নিজ নিরাপত্তা রক্ষায় সচেষ্ট ৷ আবু বকর (বা) বললেন, তোমাদের মাঝে
এবং তোমাদের শত্রুদের মাঝে যুদ্ধ বিগ্রহের ফলাফল কেমন ? মাফরুক বলল, আমরা যখন
ক্রদ্ধ হই, তখন আমরা প্রচণ্ডভাবে শত্রুর যুকাবিলা করি ৷ আমরা ছেলে ণ্মযেদের চাইতে বলিষ্ঠ
অশ্বদলকে প্রাধান্য দেই ৷ দুগ্ধবতী উদ্রীর চাইতে যুদ্ধাস্ত্রকে সাহায্য তো আসে আল্লাহর পক্ষ
থেকে ৷ কখনো আমরা বিজয়ী হই, কখনো হই পরাজিত ৷ আমার মনে হয় আপনি কুরায়শ
গোত্রের লোক ৷ হযরত আবু বকর (বা) বললেন, তোমরা শুনে থাকতে পাব যে, আল্লাহর রাসুল
এস্যেছন ৷ এই যে, ইনি সেই রাসুল ৷ মাফরুক বলল, আমরা অবশ্য শুনেছি যে তিনি তা বলে
থাকেন ৷ এবার সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দিকে তাকাল ৷ রাসুলুল্লাহ (না) বলে পড়লেন ৷ আবু
বকর (রা) নিজ কাপড় দ্বারা ৩ারে১ ছায়া দিওে লাগণেন ৷ রাসুপুল্লাহ ৷ সা) বললেন, “আমি
তোমাদেরকে আহ্বান করছি যাতে তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই ৷
তিনি একক-লা শরীক ৷ আর একথা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসুল ৷ তোমরা আমাকে
যেন আশ্রয় দাও এবং সাহায্য কর যাতে আল্লাহ আমাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন আমি তা
সোকজনের নিকট প্রচার করতে পারি ৷ কুরায়শরা আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে র্দড়াড়িয়েছে ৷ তারা
আল্লাহর রাসুলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সত্য বাদ দিয়ে মিথ্যার মধ্যে ডুবে আছে ৷ আল্লাহ
কারো মুখাপেক্ষী নন ৷ তিনি প্রশংসাহ ৷

মাফরুক বলল, হে কুরায়শী ভাই ! আপনি আর কোন বিষয়ে দাওয়াত দেন ? উত্তরে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) তিলাওয়াত করলেন :

বল, এসো, তোমাদের প্ৰতিপালক তোমাদের জন্যে যা নিষিদ্ধ করেছেন তোমাদেরকে তা
পাঠ করে শুনাই ৷ তা এই?, তোমরা তার কোন শরীক নির্ধারণ করবে না ৷ পিতামাতার প্রতি
সদ্ব্যবহার করবে ৷ দারিদ্রোর আশংকায় তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না ৷
আমিই তোমাদেরকে এবং তাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি ৷ প্রকাশ্য হোক কিৎবা গোপন হোক
অশ্লীল আচরণের নিকটেও যাবে না, আল্লাহ যা হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ
ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করবে না ৷ তোমাদেরকে তিনি এই নির্দেশ দিলেন যাতে তোমরা
অনুধাবন কর ৷ ইয়াতীম বয়প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সুদুদ্দেশ্য ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হবে
না এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যতাবে পুরোপুরি দেবে ৷ আমি কাউকে তার সাধ্যাভীত তার
অর্পণ করি না ৷ যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায় কথা বলবে স্বজনের সম্পর্কে হলেও
এবং আল্লাহ প্রদত্ত অংগীকার পুর্ণ করবে ৷ এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন

তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর এবং এ পথই আমার সরল পথ ৷ সুতরাং এরই অনুসরণ করবে এবং
ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না ৷ করলে সেটি তোমাদেরকে তার পথ হতে বিচ্ছিন্ন ক্রবে ৷ এভাবে
আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও” (৬ : ১ ৫ ১ ১ ৫৩ ) ৷

মাফরুক বলল, হে কুরায়শী লোক ! আপনি আর কোন কোন বিষয়ের প্রতি আহ্বান করেন ?
আল্লাহর কলম, এটি তো দৃনিয়ায় বসবাসকারী কারো কথা নয় ৷ তাদের কারো কথা হলে
আমরা অবশ্যই তা জানতাম ৷ এবার রাসুলুল্পাহ্ (সা) তিলত্ত্বওয়াত করলেন :

“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয় স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি
নিষেধ করেন অশ্লীলত ৷, অসৎ কার্য ও সীমাল০ মনে, তিনি ণ্ত ৷মাদেরকে উপদেশ দেন যাতে
তোমরা শিক্ষাগ্নহণ কর ৷ (১৬ : ৯০)
মাফরুক বলল, হে কুরায়শী ভাই! আপনি তো বড় সুন্দর চরিত্র এবং মহৎ কাজের দিকে
আহ্বান করেন ৷ যারা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আপনার ৰিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারা
নিশ্চয়ই আপনার প্রতি অপবাদ দিয়েছে ৷ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল যে , হানী ইবন কাবাসীকে
সে এই আলোচনায় শামিল করতে চাচ্ছিল ৷ বস্তুত সে বলল, ইনি হানী ইবন কাবীসাহ্ ৷
আমাদের বয়োজ্যষ্ঠ ও ধর্মীয় প্রধান ৷ হানী বলল, হে কুরায়শী ভাই আমি আপনার বক্তব্য
শুনেছি ৷ আপনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন ৷ তবে শুধু একটি মজলিসে বসেই আপনার
পেশকৃত বিষয় যাচাই-কাছ ই না করে আমরা যদি আপনার এবং আপনার ধর্মের অনুসরণ শুরু
করি, তবে তা হবে আমাদের পদস্থালন ও ত্রুঢিপুর্ণ মতামত প্রদান তা হবে আমাদের স্থুলবুদ্ধি
ও অপরিণামদর্শিতার পরিচায়ক ৷ চট জলদি কাজ করলে ত্রুটিই হয় ৷ আমরা ছাড়া আমাদের
নিজ এলাকায় অনেক লোক আছে ৷ ওদের উপর কোন সিদ্ধ ত চাপিয়ে দিতে আমরা চাই না ৷
বরং এবারের মত আমরাও ফিরে য ৷ই, আপনিও ফিরে যান ৷ আপনিও অপেক্ষা করুন, আমরাও
অপেক্ষা করি ৷ দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয় ৷ মনে হচ্ছিল যে, সে মুছান্ন৷ ইবন হারিছাকে
আলোচনায় শরীক করতে চায় ৷ সে বলল, ইনি ঘুছান্ন৷ আমাদের প্রবীণ ব্যক্তি ও সামরিক
নেতা ৷ মুছান্ন৷ বলল, হে কুরায়শী লোক ৷ আপনার বক্তব্য আমি ওনেছি ৷ তা আমাকে মুগ্ধ
করেছে ৷ হানী ইবন কড়া ৷বীসা আপনাকে যে উত্তর দিয়েছে আমার উত্তরও তাই ৷ আপনার সাথে
একটি বৈঠক করেই যদি আমরা আমাদের দীন-ধর্ম ত্যাগ করে আপনার অনুসরণ শুরু করি,
তবে তা হবে আমাদের নির্বৃদ্ধিত ৷ ৷ আমাদের অবস্থান দুটো জনপদের মধ্যখানে ৷ একটি
ইয়ামামা অপরটি সামাওয়া ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন ওই দুটো কী ? সে বলল, একটি উন্মুক্ত
মরু প্রাম্ভর ও আরব ভুখণ্ড আর অপরটি পারস্য সাম্রাজ্য ও তথাকার জলাভুমি, আমরা এখন
পারসিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ রয়েছি ৷ পারস্য সম্রাটের সাথে আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে যে,
আমরা যেন নতুন কোন পক্ষের সাথে যোগ না সেই এবং নতুন মতবাদ প্রচারকারী কাউকে যেন
আমরা আশ্রয় না দিই ৷ আপনি যে মতামত প্রচার করছেন, তার অনুসরণকারীরা নিশ্চয়ই

রাজা-বাদশাহদের কোপানলে পড়বে ৷ বন্তুত আরব অঞ্চল স লগ্ন এলাকা য় কেউ এ ক জ করলে
সে দােষের ক্ষমা পাবে এবং তার ওযর গ্রহণ করা হবে ৷ পক্ষান্তরে পারসিক অঞ্চল স লগ্ন
এলাকায় যে আপনার ধর্যমতের অনুসরণ করবে তার অপরাধ ক্ষমা করা হবে না এবং তার
ওমর-আপত্তি গ্রহণ করা হবে না ৷ আপনি যদি চান, তবে আরব অঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় আমরা
আপনাকে সাহায্য করব এবং আপনার নিরাপত্তা বিধান করব ৷

রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, সত্য কথা বলে আপনারা মন্দ করেননি ৷ বন্তুত যে ব্যক্তিই
আল্লাহর দীন প্রচারে নেমােছ, তার উপর চারিদিক থেকে নির্যাতন নেমে এসেছে ৷ এরপর
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আচ্ছা আপনারা বলুন তো অল্পকিছু দিন পর আল্লাহ ত৷ আলা যদি
ওদের ধন-সম্পদওলাে আপনাদের হাতে দিয়ে দেন এবং ওদের কম্যাদেরকে আপনাদের
শয্যাসঙ্গিণী বানিয়ে দেন, তবে কি আপনারা মহান আল্লাহ্র তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রত৷ বর্ণনা
করবেন ? নুমান ইবন শুরায়ক বলল, হে কুরায়শী লোক! তেমন পরিস্থিতি কী আর হবে ?
রাসুলুল্লাহ (সা) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন :

“হে নবী! আমি তে৷ আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরুপে এবং সুস০ বাদদাতা ও সতর্ককারী-
রুপে ৷ আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে তার দিকে আহ্বানকারীরুপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরুপে (৩৩ :
৪৬) ৷

“এরপর হযরত আবু বকর (রা) এর হাত ধরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে উঠে
গেলেন ৷ আলী (বা) বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদের প্ৰতি তাকিয়ে বললেন হে
আলী! জাহিলী যুগে আরবরা কোন মহান চরিত্রের মাধ্যমে পরস্পর দ্বন্দু-সহুঘাত থেকে
নিজেদেরকে রক্ষা করত ? এবার আমরা আওস ও খাযরাজ গোত্রের মজলিসে উপস্থিত হলাম ৷
তারা কালবিলম্ব না করে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর হাতে বায়আত গ্রহণ করল ৷ আলী (রা ) বলেন,
ওরা ছিলেন স৩ ত্যবাদী ও ধৈর্যশীল ৷ ওই সকল লোকদের বংশ ৷পরিচয় সম্পর্কে হযরত আবু
বকর (রা ) অবগত ছিলেন বলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) খুশী হলেন ৷ এর কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তার সাহাবীণণের নিকট ফিরে গেলেন ৷ তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা বেশী বেশী আল্লাহ
তাআলার প্রশংসা কর ৷ কারণ, আজ রাবীআর বংশধবগণ পারসিকদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ
করেছে ৷ তারা ওদের রাজা বাদশাহদেরকে অবিলম্বে হত্যা করবে, তাদের সৈন্যদের রক্তপাত
বৈধ জ্ঞ ন করবে এবং আমার বদৌলতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এ ঘটনা
ঘটেছিল য়ুকারের পার্শ্ববর্তী কারাকির নামক স্থানে ৷ এ সম্পর্কে করি আ শা ৷বলেন :

বনু বুহল ইবন শায়বান গো ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছে, তার
জন্যে আমার উন্থী ও উষ্টীর আরোহী তাদের প্রতি উৎসর্গ হোক ৷

শত্রুপক্ষকে তারা আক্রমণ করেছে কারাকির অঞ্চলে ৷ শত্রুদের নেতৃত্বে ছিল হামরুয ৷ শেষ
পর্যন্ত তারা পালিয়ে গিয়েছে ৷ >

ওদের পালিয়ে যাওয়৷ র সময় যুহল ইবন শায়বানের মত অশ্বারােহীকে যারা দেখেছে তাদের
দু’ চোখ সার্থক বটে ৷

ওরাও আক্রমণ করেছে আমরাও আক্রমণ করেছি ৷ আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়েছে ৷
এক সময় আমাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছিল ৷ এখন যে অবস্থা দুর হয়েছে ৷

এটি একটি অত্যন্ত বিরল বর্ণনা ৷ এটি আমরা এজন্যে উল্লেখ করলাম যে, এতে রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর নবুওয়াতের প্রমাণ, তার অনুপম চরিত্র অনিন্দাসুন্দর আদর্শ এবং আরবদের ভাষা
সৌকর্যের অনেক তথ্য রয়েছে ৷

অন্য সনদেও এটি বর্ণিত হয়েছে ৷ তাতে আছে যে, ত্ম্যওস ও খাযরাজ গোত্র যখন
পারসিকদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হল এবং ফুরাত নদীর নিকটবর্তী কা ৷রাকির অঞ্চলে যুদ্ধ অব্যাহত
ছিল, তখন তারা মুহাম্মদ (সা) নামটিকে তাদের পতাকা বানাল ৷ ফলে তারা পারসিকদের
বিরুদ্ধে বিজয় না ৩ করল ৷ পরবর্তীকালে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন ৷

ওয়াকিদী বলেন, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াবিস আবাসীর তার পিতার বরা তার দাদা থেকে
বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিনার আমাদের র্তাবুতে এসেছিলেন ৷
আমাদের র্তাবু ছিল মাসজিদের খায়ফ-এর পাশে জামরাতুল উলা-এর বিপরীতে ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) এলেন তার সওয়ারীতে আরোহণ করে ৷ পেছনে বসিয়েছিলেন যায়দ ইবন হারিছা
(রা)-কে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে দাওয়াত দিলেন এবং আল্লাহর প্রতি আমার জন্যে
আহ্বান জানালেন ৷ আল্লাহ্র কসম , আমরা তার ডাকে সাড়া দেইনি ৷ হায় আমাদের কল্যাণ
আমাদের ভাগ্যে নেই ৷ তার কথা এবং তার আহ্বান আমরা হব্লুজ্জর মওসুমে শুনেছি ৷ তিনি
আমাদের নিকট এসে র্দাড়িয়েছিলেন এবং আমাদেরকে আল্লাহর প্ৰতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ৷
আমরা র্তার আহ্বানে সাড়া দেইনি ৷ মায়সারা ইবন মাসরুক আবাসী আমাদের সাথে ছিলেন ৷
মায়সারা বললেন, আমরা যদি এই ব্যক্তিকে সত্য বলে মেনে নিই এবং আমাদের সাথে করে
স্বদেশে নিয়ে যাই, তবে তা হবে আমাদের বিচক্ষণতার পরিচায়ক ৷ আমি আল্লাহর কসম করে
বলছি, তার দীন ছড়িয়ে পড়বে এবং অবশ্যই সর্বত্র পৌছে যাবে ৷ লোকজন বলল, থাক বড়াপু,
র্যাকে আয়ত্তে আনার সামর্থ আমাদের নেই, র্তাকে আপনি আমাদের সাথে জড়াবেন না ৷
রাসুলুল্পাহ্ (সা) মায়সারার প্রতি আকৃষ্ট হলেন এবং তার সাথে কথা বললেন ৷ মায়সারা বলল,
আপনার কথা কতই না সুন্দর ৷ কতই না দীপ্তিময় ৷ কিন্তু আপনার বিষয়ে আমার স্বজাতি আমার
বিরোধিতা করছে ৷ বন্তুত স্বজাতির লোকজনকে নিয়েই ব্যক্তির অবস্থান ৷ সম্প্রদায়ের লোকজন
সহযোগিত্০ ৷ না করলে ব্যক্তি হয়ে পড়ে সমাজচুক্তে একঘরে ৷

১ এই পংক্তি এবং পরবর্তী পংক্তি করি আশার কাব্য গ্রন্থে পাওয়া যায়নি ৷
এরপর বাসুলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে চলে গেলেন ৷ লোকজন নিজ নিজ পরিবারের নিকট
ফিরে গেল ৷ মায়সারা ওদেরকে বললেন, চল, সকলে ফাদাক নামক স্থানে যাই ৷ সেখানে কতক
ইয়াহুদী আছে ৷ এই লোক সম্পর্কে আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করি ৷ তারা ইয়াহ্রদীদের নিকট
গেল ৷ ইয়াহ্রদীরা তাদের সম্মুখে একটি লিপি পেশ করে তা পাঠ করতে লাগল ৷ তাতে
বাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর উল্লেখ ছিল যে, তিনি উঘী ও আরব বংশীয় নবী ৷ তিনি পাধাব পৃষ্ঠে
আরোহণ করবেন ৷ সামান্য খাবারে সত্তুষ্ট থাকবেন ৷ খুব লম্বাও নন, একেবারে বেটেও নন ৷
তার চুল খুব কােকড়ানােও নয়, একেবারে সােঝাও নয় ৷ তার দুচোখে সুর্যোদয়কালীন লালিমা ৷
ইয়াহ্রদীরা এও বলে দিল যে, তােমাদেরকে যিনি আহবান জানাচ্ছেন তিনি যদি এই লিপিতে
বর্ণিত ব্যক্তি হন, তবে তোমরা তার ডাকে সাড়া দাও এবং তার দীন গ্রহণ কর ৷ আমরা তাকে
হিংসা করি ৷ আমরা তার অনুসরণ করব না ৷ তার কারণে আমরা ন্প্াড় বিপদগ্নস্ত ৷ আরবের
লোক দুভাগে বিভক্ত হবে ৷ একদল তার অনুসরণ করবে ৷ অপর দল তার বিরুদ্ধে লড়াই
করবে ৷ তোমরা অনুসরণকারীদের দলে থেকাে ৷

এবার মায়সারা বললেন, হে আমার সম্প্রদায় ৷ জেনে রেখো , এ বিষয়টি এখন সুস্পষ্ট ৷ তার
লোকজন বলল, তবে আগামী হজ্জ মওসুমে আমরা আবার মক্কায় যাব এবং তার সাথে সাক্ষাত
করব ৷ তারা তাদের দেশে ফিরে গেল ৷ মায়সারা তাদের এই আচরণ সমর্থন করলেন না ৷
বন্তুত তাদের কেউই এ যাত্রার বাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর অনুসরণ করেনি বা ইসলাম ও গ্রহণ করেনি ৷

এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) হিজরত করে মদীনায় এলেন ৷ পরে বিদায় হজ্জ সম্পাদন করলেন ৷
তারপর একদিন তার সাথে মায়সারা-এর সড়াক্ষাত হয় ৷ বাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন তাকে চিনতে
পারেন ৷ মায়সারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আল্লাহর কসম, যেদিন আপনি আমাদের নিকট
এসেছিলেন সেদিন থেকে আমি আপনার অনুসরণ করার জন্যে উদগ্রীব হয়ে আছি ৷ কিন্তু যা
হবার তা হয়ে গেছে ৷ আমার ইসলাম গ্রহণে বিলম্ব হয়ে গেল ৷ আমার সাথে তখন যারা ছিল
তাদের শেষ বাসস্থান কোথায় হবে ইয়া রাসুলাল্লাহ্৷ বাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “ইসলাম ধর্ম
ছাড়া অন্য ধর্মানুসারী হয়ে যাব মৃত্যু হবে সে জাহান্নামে যাবে ৷ মায়সারা বললেন, সকল প্রশংসা
আল্লাহর, যিনি আমাকে রক্ষা করেছেন ৷ এরপর মায়সারা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সুন্দর
ভাবে ইসলামী জীবন যাপন করলেন ৷ হযরত আবু বকর (বা) তাকে বিশেষ মর্যাদার চোখে
দেখতেন ৷

ওয়াকিদী পৃথক পৃথক ভাবে সকল গোত্রের আলোচনা করেছেন ৷ বনু আমির গোত্র,
গাস্সান গোত্র, বনু ফাযারা, বনু মুরবা, বনু হানীফা, বনু সুলায়ম , বনু আবাস, বনু নাযর ইবন
হাওয়াযিন, বনু ছালাবা ইবন ইকাবা কিনদাহ, কাল্ব, বনু হারিছ ইবন কাআব, বনু আযরা, বনু
কায়স ইবন হাতীম ও অন্যান্য গোত্রের নিকট বাসুলুল্লাহ্ (সা) উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ ওয়াকিদী
তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন ৷ তা থেকে কতক বিশুদ্ধ বর্ণনা আমরা উদ্ধৃত করেছি ৷ সকল
প্রশংসা আল্লাহর ৷

ইমাম আহমদ বলেন, আসওয়াদ জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, হরুজ্জর মওসুমে আবাফার ময়দানে গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) দীনের দাওয়াত দিয়ে বলতেন

এমন কেউ আছ কি, যে আমাকে তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে যাবে ? কুরায়শর৷ তো আমাকে
আমার প্রতিপালকের বাণী প্রচারে বাধা দিচ্ছে ৷ একদিন হামাদান অঞ্চলের এক লোক তীর
নিকট এল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন “আপনি কোন অঞ্চলের লোক ? সে বলল আমি
হামাদান অঞ্চলের লোক ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আপনার সম্প্রদায়ের লোকজন কি আমার
নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে ? যে বলল, জী ইব্রুড়া পারবে ৷ পরক্ষণে লোকটির আশংকা
হলো, না আমি তার সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপত্তা-চুক্তি ভঙ্গ করে ৷ তাই সে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট ফিরে এসে বলল, এ যাত্রা আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট গিয়ে
আপনার কথা বলি ৷ তারপর আগামী বছর আমি আপনার নিকট ৰুভ্রপ্লোব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, তবে তাই হোক ৷ লোকটি চলে গেল ৷ এদিকে রজব মাসে আনসারদের প্রতিনিধিদল
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হল ৷

সুনানে আরবাআ তথা প্রসিদ্ধ চারটি সুনড়ান হাদীছ গ্রন্থের সংকলকগণ ইসরাঈলের বরাতে
এ হাদীছটি উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটির সনদ হাসান ও সহীহ্ ৷

আনসায়দের মক্কায় আগমন এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ

এ ঘটনার বর্ণনাকারী হলেন সুওয়াইদ১ ইবন সামিত ইবন আতিয়্যা ইবন হাওত ইবন
হাবীব ইবন আমর ইবন আওফ ইবন মালিক ইবন আওস ৷ তার মাতার নাম লায়লা বিনৃত
আমর নাজ্জারিয়্যা ৷ লায়লা ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের মা সালমা বিনত আমরের বোন ৷ এ
হিসাবে সুওয়াইদ হলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের খালাত ভাই ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়ড়াসার বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এভাবেই কাজ চালিয়ে
যাচ্ছিলেন যে, হরুজ্জর মওসুমে লোকজন একত্রিত হলে তিনি তাদের নিকট যেতেন এবং তার
নিকট আগত হিদায়াত ও রহমতের কথা তাদের নিকট পেশ করতেন ৷ আরবের কোন
নামী-দামী ও গুরুত্বপুর্ণ লোক মক্কায় এসেছে শুনলে তিনি তার নিকট উপস্থিত হতেন এবং
তাকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, আসিম ইবন উমর তার
সম্প্রদায়ের বয়ােজ্যেষ্ঠদের থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তারা বলেছেন যে, বনু আমর ইবন আওফ
গোত্রের সুওয়াইদ ইবন সামিত হজ্জ কিংবা উমরা উপলক্ষে মক্কায় এসেছিলেন ৷ আপন
সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি সুওয়াইদ “আল কামিল” নামে পরিচিত ছিলেন ৷ তার শক্তি-সামর্থ,
বুদ্ধি , বিবেচনা এবং মর্যাদার নিরিখে তারা র্তাকে এ নামে ডাকত ৷ তিনি বলেন :
সাবধান, এমন বহু লোক আছে তুমি যাকে সত্যবাদী বলে মনে কর ৷ তার গোপন
কথাবার্তা যদি তুমি জানতে , তবে তার মিথ্যাচার তোমাকে পীড়া দিত ৷
তার কথা শুনে মনে হয় সে যেন উপস্থিত, আসলে (স উপস্থিত নয় ৷ আর তার অনুপস্থিতি
কালে তার কথাবার্তা যেন বক্ষে ছুরিকাঘাত ৷

১ সুহায়লী বলেছেন সুওয়াইদ ইবন সাল;ত ইবন হাওত ৷

তার প্রকাশ্য অবস্থান ৫তামাকে আনন্দ দান করে ৷ কিন্তু তার চামড়ার নীচে রয়েছে
প্রত ৷রণার মাদুলী, যা৫ তামার পিঠকে ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়ে ৷

অন্তরে সে যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে তার হিংস্র দৃষ্টির মাধ্যমে তার দ,পু চক্ষু তা
প্রক কা ৷ করে দেয় ৷

তুমি তো দীঘদিন আমাকে ক্ষতবিক্ষত করেছ, এবার একটু ম ৷মার কল্যাণ সাধন কর ৷
উত্তম বন্ধু তো নেই যে কল্যাণ সাধন করে ক্ষতবিক্ষত করে না ৷

বন্তুত তার মক্কায় আগমনের সংবাদ শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার নিকট গেলেন এবং তাকে
আল্লাহর প্রতি ও ইসলামের প্রতি আহ্বান জানালেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (,সা) এর উদ্দেশ্যে সুওয়াইদ
বললেন, আমার নিকট যা আছে আপনার নিকটও সম্ভব৩ ৩তাই আছে ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন
তোমার নিকট কী আছে ? সে বলল, আমার নিকট লুকমানের লিপি অর্থাৎ লুকমানের প্রজ্ঞাময়
বাণী আছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তা আমার নিকট পেশ কর ৷ সুওয়াইদ তাই করলেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এ তো চমৎকার বাণী ৷৩ তবে আমার নিকট যা আছে তা এর চাইতে
উত্তম ৷ আমার নিকট আছে কুরআন মজীদ ৷ আল্লাহ তা জানা সেটি আমার প্রতি নাযিল
করেছেন ৷ সেটি ৫জ্যাতি ও পথ-প্ৰদর্শক ৷ এ পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তার নিকট কুরআনের কিছু
ংশ পাঠ করলেন এবং তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন ৷ তখনই সুওয়৷ ৷ইদ বললেন,
এটি ৫৩ তা সুমহান বাণী ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) চলে এলেন ৷ সুওয়াইদ ফিরে গেলেন মদীনায়
তার নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ৷ তার তার কিছু দিনের মধ্যে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা তাকে
হত্যা করে ৷ তার সম্প্রদায়ের লোকজন বলত যে, আমরা দেখেছি সুওয়াইদ মুসলমান অবস্থায়
নিহত হয়েছেন ৷ বুআছ যুদ্ধের পুর্বে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ৷ বায়হাকী (র) হাকিম
ইবন ইসহাক সুত্রে এই বর্ণনাটি আরো সংক্ষিপ্ত আকারে উদ্ধৃত করেছেন ৷

ইয়াস ইবন মুআয-এৱ ইসলামগ্রহণ

ইবন ইসহাক বলেন, হুসাইন ইবন আবদুর রহমান মাহমুদ ইবন লাবীদ সুত্রে বর্ণনা
করেন, তিনি বলেন, এক সময় আবুল হায়সার আনাস ইবন রাফি’ মক্কায় আগমন করে ৷
আবদুল আশআল গোত্রের একদল যুবক ছিল তার সাথে ৷ তাদের একজন ইয়াস ইবন মুআ য ৷
তারা এসেছিল খাযরাজ গোত্রের আক্রমণ থােক নিজেদের সম্পুদায়কে রক্ষার ল৫ক্ষ্য
কুরায়শদের সাথে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করতে ৷ তাদের আগমনের স বাদ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
নিকট পৌছে ৷ তিনি তাদের নিকট এসে বসেন এবং বলেন, ৫৩ আেরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছ
তার চাইতে অধিক ভ ৷ল একটি ব্যবস্থা কি৫ তামরা গ্রহণ করবে ? ওরা বলল, সেটা কী?
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রতি আমি তার প্রেরিত রাসুল ৷

আমি তাদেরকে আহ্বান জানাই তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তার সাথে কাউকে শরীক না
করে ৷ আল্লাহ তাআলা আমার প্ৰতি কিতাব নাযিল করেছেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা ) তাদের
নিকট ইসলামের পরিচয় তুলে ধরেন এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন ৷ তখন
ইয়াস ইবন মুআয বললেন, তিনি তখন একজন নবীন যুবক) হে আমার সম্প্রদায়, আপনারা যে
উদ্দেশ্যে এসেছেন তার চাইতে এটি অধিকতর উত্তম ও কল্যাণকর ৷ একথা শুনে দলনেতা
আবুল হায়সার আনাস ইবন রাফি’ এক মুঠো র্কাকরযুক্ত মাটি নিয়ে ইয়াস ইবন মুআয-এর মুখে
নিক্ষেপ করে ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর উদ্দেশ্যে সে বলে, আপনি চলে মনে আপনার সাথে
আমাদের কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমরা অন্য কাজে এসেছি ৷ ইয়ান চুপ হয়ে গেল ৷ রাসুল (সা)
উঠে এলেন ৷ ওরা মদীনায় ফিরে গেল ৷ ইতোমধ্যে আওস ও খাযরাজ <:গড়াত্রের মধ্যে বুআছ যুদ্ধ
সংঘটিত হল ৷ অল্প কিছু দিনের মধ্যে ইয়াস-এর মৃত্যু হয় ৷ মাহমুস ইবন লাবীদ বলেন
ইয়াসের সম্প্রদায়ের লোকজন আমাকে বলেছে যে, ওরা তাকে দেখেছে যে , সে সব সময়
সুবহড়ানাল্লাহ্, আলহামদৃ লিল্লাহ্, আল্লাহ আকবর ও লা-ইলাহা ইল্লল্লাহ্ পাঠ করতো ৷ আমৃত্যু
সে নিয়মিত এগুলো পাঠ করেছে ৷ সে যে মুসলমান রুপে মৃত্যুবরণ করোচ্চু তাতে কারো সন্দেহ
নেই ৷ ওই মজলিসে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মুখে সে যা শুনেছে তার্তেহ সে ইসলামের মর্ম
উপলব্ধি করে এবং ইসলামের প্ৰতি আকৃষ্ট হয় ৷

বুআছ যুদ্ধের ব্যাখ্যায় আমি বলি যে, মদীনায় একটি স্থানের নাম বুআছ ! সেখানে একটি
প্রচণ্ড ও ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয় আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে ৷ উভয় গোত্রের বহু সড্রান্ত
ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ওই যুদ্ধে নিহত হয় ৷ মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন নেতা জীবিত ছিল ৷
ইমাম বুখড়ারী (র) তার সহীহ্ গ্রন্থে উবায়দ ইবন ইসমাঈল আইশা (রা) থেকে বর্ণনা
করেছেন যে , তিনি বলেছেন, বুআছ যুদ্ধের দিনটি একটি উল্লেখষেগ্যে দিন ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা)এর মিশনের সাফল্যের পটভুমিরুপে আল্লাহ তাআল ওই দিনটি দান করেছেন ৷ এই
যুদ্ধের পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেন ৷ যুদ্ধের ফলে তখন মদীনায় নেতারা১
পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন ছিল ৷ ইতোমধ্যে ওদের বড় বড় নেতারা নিহত হয়েছিল ৷

পরিচ্ছেদ
আনসারগণের ইসলামগ্রহণের সুচনা

ইবন ইসহড়াক বলেন , যখন আল্লাহ তাআলা তার দীনকে বিজয়ী করার , নবীকে সম্মানিত
করার এবং নবীকে দেয়া তীর প্রতিশ্রুতি পুরণ করার ইচ্ছা করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা)
হহুজ্জর মওসুমে কতক আনসড়ারী লোকের সঙ্গে সাক্ষাত করলেন ৷ তখনও তিনি অন্যান্য বারের
ন্যায় নিজেকে আরব পােত্রগুলোর নিকট পেশ করলেন ৷ এক সময় তিনি আকারায় এসে
উপস্থিত হলেন ৷ সেখানে খাযরাজ গোত্রের কিছু লোকের সাথে তার সাক্ষাত হয় ৷ আল্লাহ
তাআলা ওই লোকগুলোর কল্যাণ চেয়েছিলেন ৷ নিজ সম্প্রদায়ের বয়োবৃদ্ধ লোকদের সুত্রে
আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তাদের সাথে যখন
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাক্ষাত হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, আপনারা কোন গোত্রের লোক ?
তারা বললেন, আমরা খাযরাজ গোত্রের লোক ৷ তিনি জিজ্ঞেস করলেন ইয়াহুদীদের মিত্র ? র্তারা

বললেন হীা, তা বটে ৷ তিনি বললেন, তবে একটু বসবেন কি ? আমি কিছু কথা বলতে চাই ৷
তারা বললেন, ছুৰু৷ , বসতে পারি ৷ র্তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বসলেন ৷ তিনি তাদেরকে
আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং ইসলামগ্রহণের অনুরোধ জানালেন ৷ তিনি তাদেরকে
কুরআন তিলাওয়াত করে শুনালেন ৷ বর্ণনড়াকারী বলেন, তাদের ইসলামগ্রহণের পরিবেশ আল্লাহ
তাআলা এভাবে তৈরী করলেন যে, তাদের দেশে এক সাথে ইয়াহুদীরা বসবাস করত ৷
ইয়াহুদীরা আসমানী কিতাবধারী এবং জ্ঞান-সমৃদ্ধ লোক ছিল ৷ আর খাযরাজ গোত্রের লোকেরা
ছিল ঘুশব্রিক ও মৃর্তিপুজারী ৷ ইয়াহুদীদের সাথে প্রায়ই মুশরিকদেব যুদ্ধ-বিপ্রহ সংঘটিত হত ৷
দ্বন্দু-সংথ্যাতর সময় ইয়াহ্রদীরা এ বলে ওদেরকে ভয় দেখাত যে, অবিলম্বে একজন নবী প্রেরিত
হবেন ৷ আমরা তার অনুসরণ করব এবং তার সাথী হয়ে তােমাদ্যোৱক হত্যা ও ধ্বংস করব ৷
যেমন ধ্বংস হয়েছিল আদ ও ছামুদ সম্প্রদায় ৷ এ মাত্রায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন খাযরাজী
লোকদের সাথে আলাপ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন, তখন তারা
নিজেরা বলাবলি করলো, হে লোক সকল, তোমরা বুঝতেই পারছধ্ যে, ইনি সেই নবী-
ইয়াহ্রদীরা যার কথা বলে তােমড়াদেরকে ভয় দেখাত ৷ শুনে নাও, ওরা যেন তোমাদের আগে এই
নবীর ঘনিষ্ঠ হতে না পারে ৷ ফলে তারা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আহ্বানে সাড়া দিলেন, তার প্রস্তাব
গ্রহণ করলেন, তাকে সতবােদী রুপে মেনে নিলেন এবং ইসলামে দীক্ষিত হলেন ৷ তারা
বললেন, আমরা তো আমাদের কতক লোককে দেশে রেখে এসেছি ৷ আমাদের লোকজনের
মধ্যে পরস্পর যেরুপ শত্রুতা রয়েছে সচরাচর সেরুপ শত্রুতা অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায়
না ৷ আমরা আশা করছি যে, আপনার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা
করে দিবেন ৷ আমরা অবিলম্বে তাদের নিকট ফিরে বার এবং আমরা যে দীন গ্রহণ করলাম ওই
দীন গ্রহণের জন্যে আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাবাে ৷ আল্লাহ তাআলা ওদেরকেও যদি
আপনার সাথে জোটবদ্ধ করে দেন, তবে আপনার চাইতে শক্তিশালী অন্য কেউ থাকবে না ৷
বস্তুত ঈমান আনয়ন করে এবং সত্য লাভ করে তারা নিজ দেশে ফিরে পেলেন

ইবন ইসহাক বলেন, আমি যতটুকু জানতে পেয়েছি, সে অনুযায়ী ওই দলে ছিলেন ছয় জন
লোক ৷ তারা সকলে খাযরাজ গোত্রের লোক ৷ তারা হলেন( ১ ) আবু উমামা আসআদ ইবন
যুরারাহ ইবন আদ্দাস ইবন উবায়দ ইবন ছালাবা ইবন গানাম ইবন মালিক ইবন নাজ্জার ৷ আবু
নৃআয়ম বলেন, কারো কারো মতে আবু উমামা হলেন খাযরাজ গোত্রের প্রথম ইসলাম প্রহণকারী
আনসাবী ব্যক্তি ৷ আর আওস গোত্রের প্রথম ইসলাম প্রহণকারী ব্যক্তি হচ্ছেন আবুল হায়ছাম
ইবন তায়হান ৷১ মতাম্ভরে আওস গোত্রের প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন রাফি’ ইবন মালিক ও
মুআয ইবন আফরা (রা) ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷( ২) আওস ইবন হড়ারিছ ইবন রিফাআ ইবন
সাওয়াদ ইবন মালিক ইবন পানাম ইবন মালিক ইবন নাজ্জার ৷ ইনিও আফরার পুত্র ৷ দু’জনই
নাজ্জার গোত্রভুক্ত ৷ (৩) রাফি’ ইবন মালিক ইবন আজলান ইবন আমর ইবন যুরায়ক যুরাকী ৷
(৪ ) কুতরা ইবন আমির ইবন হাদীদা ইবন আমর ইবন গনোম ইবন সাওয়াদ ইবন পানাম ইবন
কাআব ইবন সালামা ইবন সাআদ ইবন আলী ইবন আসাদ ইবন সারিদা২ ইবন তাযীদ ইবন

১ মুল আরবী গ্রন্থে এখানে তাহ্য়ান মুদ্রিত রয়েছে ;
২ মুল কিভাবে রয়েছে সাওয়াহ ইবন যায়দ ৷ সেটি ভুল ৷ সীরাতে ইবন হিশামে আছে সারিদা ইবন ইয়াষীদ ৷

জাশাম ইবন খাযরাজ সুলামী সাওয়াদী ৷ (৫) উকবা ইবন আমির ইবন নাবী ইবন যায়দ ইবন
হারাম ইবন কাআব ইবন সালামা সুলামী আল হারামী ৷ (৬) জাবির ইবন আবদুল্লাহ ইবন
রিআব ইবন নু’মান ইবন সিনান ইবন উবায়দ ইবন আদী ইবন গানড়াম ইবন কাআব ইবন
সালামা সুলামী উবায়দী ৷ র্তাদের সকলের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন ৷ ইমাম শাবী ও যুহরী প্রমুখ
এরুপ বলেছেন যে, ওই রাতে ইসলাম গ্রহণকারী ছয়জনই খাযরাজ গোত্রের লোক ছিলেন ৷

মুসা ইবন উকবা যুহরী ও উরওয়া ইবন যুবায়র সুত্রে উল্লেখ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় তারা ছিলেন ৮জন ৷ ( ১ ) মৃআয ইবন আফরা (২)
আসআদ ইবন যুরারা (৩ ) রাফি’ ইবন মালিক (৪) যাকওয়ান ইবন আবদ কায়স (৫ ) উবাদা
ইবন সামিত (৬) আবু আবদুর রহমান ইয়াযীদ ইবন ছালাবা ( ৭) অবু হায়ছাম ইবন তায়হান ৷
(৮) উওয়ায়ম ইবন সাইদা (রা) ৷ র্তারা ওই মজলিসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরের
বছর পুনরায় আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ৷ এরপর তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে
গেলেন এবং ওদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানালেন ৷ মুআব ইবন আফরা ও রাফি ইবন
মালিককে তারা এ মর্মে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট পাঠালেন যে, আমাদের নিকট একজন
শিক্ষক প্রেরণ করুন যিনি আমাদেরকে দীন শিক্ষা দিবেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসআব ইবন
উমায়র (রা)-কে পাঠালেন ৷ তিনি আসআদ ইবন যুরারা (রা)-এর বাড়িতে গিয়ে উঠলেন ৷
অবশিষ্ট ঘটনা তাই, যা মুসা ইবন উকবা সুত্রে ইবন ইসহড়াক অবিলম্বে বর্ণনা করবেন ৷ আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন র্তারা মদীনায় নিজ সম্প্রদায়ের নিকট এলেন ৷ তাদের নিকট
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কথা আলোচনা করলেন এবং তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন ৷ ফলে
মদীনায় ব্যাপক ভাবে ইসলাম প্রচারিত হল ৷ কোন বাড়ি-ই রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আলোচনা
থেকে খালি ছিল না ৷ পরবর্তী বছর হব্লুজ্জর মওসুমে ১২ জন আনসারী লোক রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট উপস্থিত হন ৷ তারা হলেন (১) পুর্বোল্লিখিত আবু উমামা আসআদ ইবন
যুরারাহ, (২) পুর্বোক্ত আওফ ইবন হারিছ, (৩) তার ভাই মুআয, র্তারা দু’জনে আফরার পুত্র,
(৪ ) পুর্বোক্ত রাফি’ ইবন মালিক, (৫) যাকওয়ান ইবন আবদুল কায়স ইবন খালদা ইবন
মাখলাদ ইবন আমির ইবন যুরায়ক যুরাকী ৷ ইবন হিশাম বলেন, ইনি একই সাথে আনসারী
এবং মুহাজির , (৬) উবাদা ইবন সামিত ইবন কড়ায়স ইবন আসরাম ইবন ফিহ্র ইবন ছা’লাবা
ইবন পানাম ইবন আওফ ইবন আমর ইবন আওফ ইবন থায়বাজ, (৭) র্তাদের মিত্র আবু
আবদুর রহমান ইয়াযীদ ইবন ছা’লাবা ইবন খাযামা ইবন আসরাম আল বালাভী, (৮ ) আব্বাস
ইবন উবাদা ইবন নাযলা ইবন মালিক ইবন আজলান ইবন ইয়াযীদ ইবন গানাম ইবন সালিম
ইবন আওফ ইবন আমর ইবন আওফ ইবন খাযরাজ আজলানী ৷ (৯) উকবা ইবন আমির ইবন
নাবী পুর্বোল্লিখিত ৷ (১০) কুতবা ইবন আমির ইবন হাদীদা পুর্বোল্লিখিত ৷ এই দশজন ছিলেন
খাযরাজ ৫গাংত্রর ৷ আওস গোত্রের ছিলেন দুজন ৷ তারা হলেন ( ১ ) উওয়াইম ইবন সাইদা এবং

১ মুল কিভাবে রয়েছে সাওয়াহ ইবন যায়দ ৷ সেটি ভুল ৷ সীরাতে ইবন হিশামে আছে সারিদা ইবন ইয়াযীদ :

(২) আবুল হায়ছাম মালিক ইবন তায়হান ৷ ইবন হিশাম বলেন, তায়হান এবং তাখ্যিহান
দু’ভাবেই পাঠ করা যায় যেমন মায়তুন ও মাব্যিতুন

সুহায়লী বলেন, আবুল হায়ছাম ইবন তায়হানের নাম হল মালিক ইবন মালিক ইবন
আভীক ইবন আমর ইবন আব্দুল আলাম ইবন আমির ইবন যাউন ইবন জাশাম ইবন হারিছ
ইবন খাযরাজ ইবন আমর ইবন মালিক ইবন আওস ৷ তিনি বলেন কারো মতে তিনি ইরাশী
আবার কারো মতে তিনি বালাভী ৷ ইবন ইসহাক এবং ইবন হিশাম কেউই ওই ব্যক্তির বংশ
তালিকা উল্লেখ করেননি ৷ সুহায়লী বলেন, হায়ছাম শব্দের অর্থ ছোট্ট ঈগলছানা এবং এক
প্রকারের ঘাস ৷

মােদ্দাকথা, এই বারজন লোক ওই বছর হভ্রুজ্জর মওসুমে মক্কায় উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ র্তারা
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে সাক্ষাত করার জন্যে সিদ্ধান্ত (নন ৷ অনম্ভর আকাবা নামক স্থানে
র্তারা রাসুলুল্পাহ্ (সা )-এর সাথে সাক্ষাত করেন এবং তার হাতে বায়আত করেন ৷ এই বায়আত
ছিল মহিলাদের বায়আত গ্রহণ সম্পর্কে নাযিল হওয়া আয়াতের নিমমানুসারে ৷ এই বায়আত
“আকাবার প্রথম শপথ” নামে পরিচিত ৷

আবু নৃআয়ম বলেন, এ প্রসংগে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সুরা ইব্রাহীম-এর এ আয়াত তাদের
সম্মুখে পাঠ করলেন :

“যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার প্ৰতিপালক৷ এ শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং
আমাকে ও আমার সন্তান–সন্ততিদেরকে মুর্তিপুজা থেকে দুরে রাখুন ৷ সুরা ইব্রাহীম : ৩৫ ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াযীদ ইবন আবু হাবীব উবাদা ইবন সামিত (রা) সুত্রে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি আকাবায়ে উলা বা আকাবার প্রথম শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম ৷
আমরা ছিলাম বারজন ৷ মহিলাদের অঙ্গীকার গ্রহণের জন্যে আল্লাহ্ তাআলা যে বিষয়গুলো
নির্ধারিত করে দিয়েছেন আমরা সেই বিষয়গুলোর অঙ্গীকার করেছি বায়আত করেছি ৷ এটি
ছিল যুদ্ধ ও জিহাদ ফরয হওয়ার পুর্বের ঘটনা ৷ আমরা বায়আত করেছি যে, আল্লাহ্র সাথে
কাউকে শরীক করব না, চুরি করব না, যেনা করব না, সন্তান হত্যা করব না, অপবাদ রটনা
করব না এবং সৎকর্মে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর অবাধ্য হব না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেছেন, তোমরা
যদি অঙ্গীকার পালন কর , তবে জান্নাত পাবে ৷ আর যদি এর কােনটিতে সত্য গোপন কর, তবে
তোমাদের ফায়সালা আল্লাহ্র হাতে ৷ তিনি চাইলে শাস্তি দিবেন , চাইলে ক্ষমা করবেন ৷ ইমাম
বুখারী ও মুসলিম (র) এই হাদীছ এভাবে বর্ণনা করেছেন লায়ছ ইবন সাআদ সুত্রে ইয়াযীদ
ইবন আবু হাবীব থেকে ৷

ইবন ইসহাক বলেন ইবন শিহাব যুহরী উবদো ইবন সামিত সুত্রে বলেছেন, আকাবার
প্রথম শপথের রাতে আমরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে বায়আত করেছি যেৰু আমরা আল্লাহর

সাথে কাউকে শরীক করবো না,চুরি করবো না, যেনা করবো না সন্তান হত্যা করবো না
অপবাদ রটাবাে না এবং সৎকর্মে তার অবাধ্য হবো না ৷ তিনি বলেছেন, তোমরা যদি এগুলো
পরিপুর্ণভাবে পালন কর, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে জ ন্নাত ৷ আর এর কে নটি অমান্য
করলে যদি দুনিয়াতে তার শাস্তি ভোগ করে থাক, তবে তা হবে তার কাফ্ফারা স্বরুপ ৷ আর
যদি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তা গোপন রয়ে যায়, তবে তার ফায়সালা আল্লাহ্র হাতে, তিনি
চাইলে শান্তি দেবেন চাইলে ক্ষমা করবেন ৷ সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীছ
গ্রন্থে এহাদীছ যুহরী থেকে এরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷

হাদীছে ৷৷ ৷ া; (মহিলাদের বায়আত প্রসঙ্গে) দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়েছে
যে, আকড়াবার শপথের পরে হুদায়বিয়ার বছরে মহিলাদের বায়আত নেয়ার যে বিধান আল্লাহ
তা আলা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি নাযিল করেছেন আকাবার শপথ সে অনুযায়ী অনুষ্ঠিত
হয়েছিল ৷ ৰন্তুত আকাবার শপথের নিয়ম ও বিষয় অনুযায়ী পরে মহিলাদের বায়আতের নিয়ম
বিষয়ক বিধান নাযিল হয়েছে ৷ পুর্বে অনুষ্ঠিত বায়আতের বিষয় অনুযায়ী পরে কুরআনের আয়াত
নাযিল হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয় ৷ কা ৷রণ, একাধিকবার হযরত ৩উমর (বা ) এর আগ্রহের সপক্ষে
কুরআন নাযিল হয়েছে ৷ হযরত উমর (রা) এর জীবনী গ্রন্থ এবং কুরআনের৩ তাফসীর গ্রন্থে
আমরা তা আলোচনা করেছি ৷ বন্তুত ৩আকাবার আলোচ্য বায়অড়াত ওহী পাইর মাত তলু (অপঠিত
ওহী) এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ আ ৷ল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে সাক্ষাত শেষে লোকজন যখন মদীনায় ফিরে
যায়, তখন তিনি তাদের সাথে মুসআব ইবন উমায়র ইবন হাশিম ইবন আবদ মানাফ ইবন

আবদুদ্দার ইবন কুস ই কে পাঠান ৷ ওদেরকে কুরআন পড়ানো, ইসলাম শিক্ষা দেয়৷ এবং
দীনের জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্যে তিনি তাকে নির্দেশ দেন ৷ বায়হাকী (র) ইবন ইসহাক থেকে
বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন যে, আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদ৷ ৷আমার নিকট বর্ণনা
করেছেন যে, মদীনাবাসিগণ একজন প্রশিক্ষক পাঠানোর জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট চিঠি
দেয়ার পর তিনি মুসআব ইবন উমায়র (রা)-কে,পাঠান ৷ মুসা ইবন উকবাও সেরুপ বর্ণনা
করেছেন, যেমনটি ইতোপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷ অবশ্য তিনি দ্বিতীয় বার প্রেরণকে প্রথম বার
প্রেরণ বলে উল্লেখ করেছেন ৷ বায়হাকী বলেন, ইবন ইসহাকের সনদ পুর্ণাঙ্গ ৷ ইবন ইসহাক
বলেন, আবদুল্লাহ ইবন অড়াবুবকর (রা ) বলতে ন, আকাবার প্রথম শপথ কি, তা আ ৷মি জানি না ৷
এরপর ইবন ইসহাক বলেন, হ্যা, আমি শপথ করে বলতে পারি, আকাবার শপথ একাধিকবার
অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৷ সকল বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মুসআর ইবন উমায়র গিয়ে উঠেন আসআদ
ইবন যুরড়ারাহ-এর নিকট ৷ মদীনায় তিনি মুক্রী (প্রশিক্ষক) নামে পরিচিত ছিলেন ৷ ইবন
ইসহাক বলেন, আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদ৷ আমাকে জানিয়েছেন যে, মুসআব ইবন
উমায়র নামাযে তাদের ইমামতি করতেন ৷ কারণ, আসে এবং খাযরড়াজ গোত্র চাইভাে না যে,
তাদের এক গোত্রের লোক অন্য গোত্রের ইমামতি করুক ৷ মহান আল্লাহ্ তাদের সকলের প্রতি
সন্তুষ্ট হোন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবু উমামা আবদুর রহমান ইবন কাআব ইবন
মালিক ববুলন, আমার পিতার দৃষ্টিশক্তি হারানাের পর আমি তাকে নিয়ে জুমুআয় যেতাম ৷
জুমুআর জামাআবুত উপস্থিত হলে তিনি যখন আযান শুনতেন, তখন আবু উমামা আসআদ
ইবন যুরারার জবুন্য দু আ করতেন ৷ বহু সময় তার এভাবে কেটে ছে যে, জুমুআর আযান
শুনবুলই তিনি আবু উমামার জবুন্য দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন ৷ আমি মনে মনে বললাম এর
কারণট৷ কি আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে পারি না ? একদিন আমি বললাম, আব্বাজান! আপনি
জুমুআর আযান শুনবুল আবু উমামার জবুন্য দু আ করেন, তার কারণট৷ কি? উত্তরে তিনি
বললেন, বৎস ৷ তিনি মদীনায় সর্বপ্রথম আমাদেরকে নিয়ে জুমৃআর নামায আদায় করেছেন ৷ বনু
বিয়াদাহ গোত্রের পাথুরে অঞ্চল হাযযুন নাবীত নামক পাহাড়ে তিনি আমাদেরকে নিয়ে জুমআ
আদায় করেছেন ৷ ওই স্থানটিবুক১ “বাকী আল-খাদামাত” বল হয় ৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম,
তখন আপনারা কতজন ছিলেন ? তিনি বললেন : :জন ছিলাম ৷ ইমাম আবু দ উদ এবং ইবন
মাজাহ (র) মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে উক্ত হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম দারাকুতনী (র)
হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বনাি করেছেন যে , রাসুলুল্লাহ্ (সা) জুমুআ আদায়ের নির্দেশ
দিয়ে মুসআব ইবন উমায়রকে (রা) চিঠি লিখেছিলেন ৷ অবশ্য এই হাদীছটি একক ভাবে
বর্ণিত ৷ আল্পাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক ববুলন উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুগীরা ইবন মুআয়কীব ও আবদুল্লাহ ইবন আবু
বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম বলেছেন আসআদ ইবন যুরারা (রা) )মুসআব ইবন
উমায়র (রা)-বুক সাথে নিয়ে বনু আবদুল আশহাল এবং বনী যুফার গোত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা
করলেন ৷ সাআদ ইবন মৃআয (রা) ছিলেন আসআদ ইবন যুরারা (রা)-এর খালড়াত ভাই ৷ তারা
দু’জবুন বনু যুফার গোত্রের প্রাচীরঘের৷ এক বাগানের মধ্যে মারাক নামের কুবুয়ার নিকট গিয়ে
বললেন ৷ ইসলাম গ্রহণকারী লোকজন ওখানে গিয়ে তাদের নিকট জমায়েত হয়েছিলেন ৷
সাআদ ইবন যুআয এবং উসায়দ ইবন হুযায়র তখন তাদের সম্প্রদায় আবদুল আশহাল গোত্রের
নেতা ৷ছিবুলন দু জবুনই তখন মুশরিক ছিলেন ৷ তাদের আগমন স বাদ শুনে সাআদ উসায়দকে
বললেন, আমাদের এলাকায় আদমনকারী ওই লোক দু জবুনর নিকট যাও তো! তার৷ এসেছে
আমাদের দুর্বল লোকদেরকে বোকা বানানোর জন্যে ৷ তুমি তাদেরকে ধমক দিয়ে দিবে এবং
আমাদের এলাকায় আসতে ধারণ করে দেবুব ৷ আসআদ ইবন যুরারা আমার খালাত৩ ই না
হলে আমি নিজেই তা করতাম, তোমাকে বলতাম না ৷ সে তো আমার খা ৷লাত ভাই ৷ আমি তার
উপর মাতব্বরী করতে পারি না ৷ উসায়দ ইবন হুযায়রত তার বর্শ৷ ৷হাতে ৩তুবুল নিলেন এবং ওই
দুজনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন ৷ত ৷তবুক বুদবুখ আসআদ ইবন যুরারা ঘুসআব (র) বুক বলবুলন
ইনি তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ৷ তিনি আপনার নিকট এসেছেন, আল্লাহর সত ব্র পরিচয়
আপনি তার নিকট বর্ণনা করুন ৷ মুসআব (রা) বলবুলন তিনি বসলে আমি তার সাথে
কথা বলব ৷২ পালমন্দ করতে করতে উসায়দ ৩াপের নিকট র্দা৬াণেন এবং বল বুলন , আমাদের

১ সীরাবুত ইবন হিশাবুম আছে নাকী আল খাদামাত ৷
গালি-গালাজকারী ৷

দুর্বল লোকদেরকে বোকা বানানোর জন্যেই কি তোমরা দু’জন এসেছ ? প্রাণে বাচতে চাইলে
তাড়াতাড়ি আমাদের এলাকা ছেড়ে যাও ৷ রর্ণনাকারী মুসা ইবন উকবা বলেন , এরপর আসআদ
ইবন যুরারাহকে বলল, আমাদের দুর্বল লোকদেরকে বোকা বানানোর জন্যে এবং বাতিলের
দিকে ডেকে নেয়ার জন্যে তুমি এই সমাজচ্যুত ৩পরদেশী লোকটিকে নিয়ে কেন এসেছো ?

জবাবে মুসআব (বা) বললেন, আপনি কি একটু বলবেন এবং আমার কথা শুনবেন ?
বিষয়টি আপনার পসন্দ হলে আপনি গ্রহণ করবেন, অনথােয় আপনি তা থেকে নিজেকে দুরে
রাখবেন ৷ উসায়দ বললেন ঠিক আছে তুমি ইনসাফের কথ বলেছে৷ ৷ এবার তিনি আপন
বর্শাটি মাটিতে গেড়ে দাড় করিয়ে তাদের দু’ জনের নিকট বসে পড়লেন ৷ এবার মুসআব (বা)
তার নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন এবং কুরআন প্ ন্যে করলেন ৷ তারা দু জনে
বললেন আল্লাহর কলম, ইসলাম সম্পর্কে তার নমনীয় মনে ৷ভাব ব ভ করার পুর্বেই আমরা তার
চোখে মুখে ইসলামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম ৷ তিনি বললেন কত ই না সুন্দর, কত ই না
ভাল এটি ! এই দীনে প্রবেশ করার জন্যে কী করতে হয় ? ত ৰা বললেন, ইসলাম গ্রহণ করতে
হলে আপনি গোসল করবেন, পবিত্র হবেন, আপনার জামা-কাপড় পাক করবেন এবং তারপর
কালেমায়ে শাহাদত উচ্চারণ করবেন এবং নামায আদায় করবেন ৷ তাদের কথা মত উসায়দ
ইবন হুযায়র উঠে দাড়ালেন, গোসল করলেন তার পরনের জামা-কাপড় পাক করলেন,
কালেমা শাহাদত উচ্চারণ করলেন, তারপর দ,ট্রু রাকআত নামায আদায় করলেন ৷ তারপর তিনি
ওই দু’জনকে বললেন, আমার পেছনে একজন লোক আছে সে যদি আপনাদের অনুসরণ করে,
তবে তার সম্প্রদায়ের কেউই আপনাদের অনুসরণ করা ব্যতীত থাকবে না ৷ অবিলম্বে তাকে
আমি আপনাদের নিকট পাঠাচ্ছি ৷ তিনি হলেন সাআদ ইবন মুআয ৷ উসায়দ ইবন হুযায়র তার
বর্শা হাতে সাআদ ইবন মুআয ও নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট ফিরে গেলেন ৷ তারা
সবাই মজলিসে বসা ছিলেন ৷ তাকে আসতে দেখে সাআদ ইবন মুআয তার দিকে তাকিয়ে
বললেন, আল্লাহ্র কসম, উসায়দ যে চেহারা নিয়ে তোমাদের নিকট থেকে গিয়েছিল এখন অন্য
চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছে ৷ মজলিসে উপস্থিত হওয়ার পর সাআদ ইবন মুআয হযরত উসায়দ
(রা)-কে লক্ষ্য করে বললেন, কী সংবাদ ? তিনি বললেন, আমি ওই দু’জন লোকের সাথে কথা
বলেছি ৷ আল্লাহর কসম, আমি তাদের মাধ্য দুষণীয় কিছু দেখিনি ৷ আমি ওদেরকে ওই কাজে
বারণ করেছি ৷ তারা বলল , ঠিক আছে আপনি যা ভাল মনে করেন, আমরা তাই করব ৷ তবে
আমি জানতে পেয়েছি যে, বনু হারিছ৷ গোত্রের লোকজন আসআদ ইবন যুরারাহকে হত্যা করার
জন্যে পথে নেমেছে ৷ আর তার কারণ হল তারা জানতে পেয়েছে যে, সে তোমার খালাত ভাই ৷
তাকে হত্যার মাধ্যমে তারা তোমাকে অপমানিত করতে চায় বনু হারিছ৷ গোত্র সম্পর্কে এই
সংবাদ শুনে রাগে-ক্ষোভে অগ্নিশর্ম৷ হয়ে সাআদ ইবন মুআয বেরিয়ে পড়লেন ৷ তার হাতে ছিল
বর্শা ৷ তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি আমার কোন উপকার করতে পেরেছ বলে আমি মনে
করি না ৷ স আদ আসআদ ইবন যুরারাহ্ ও মুসআব ইবন উমায়র (রা) এর উদ্দেশ্যে রওনা
হলেন ৷ সেখানে পৌছে তাদেরকে শান্ত ও নিরুদ্বেগ দেখে তিনি বুঝতে ৩পারলেন যে, ওই
দু’ জনের কথা শোনার জন্যে উসায়দ (বা) এমন স বাদ দিয়েছেন ৷ পালমন্দ ও বকাঝকা
করতে করতে তিনি তাদের সম্মুখে দাড়ালেনঃ ৷ তারপর আসআদ ইবন যুরারাহ্ (রা)-কে লক্ষ্য

করে বললেন, আল্লাহর কসম হে আবু উমামাহ্! আল্লাহর কসম, আমার আর তোমার মাঝে যে
আত্মীয়ত৷ তা যদি না থাকত, তবে তুমি আমার থেকে যা আশা করছ তা করতে পারতে না ৷
আমরা যা ঘৃণা করি তা প্রচার করার জন্যে তুমি আমাদের এলাকায় এসেছ ? আসআদ ইবন
যুরারাহ্ (রা) মুসআব ইবন উমায়র (রা)-কে বললেন, আল্লাহর কসম, ইনি আপনার নিকট
এসেছেন, ইনি তার কওমের নেতা ৷ তার পেছনে তার পুরো সম্প্রদায় রয়েছে ৷ ইনি যদি
আপনার অনুসরণ করেন, তবে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দু’জন ল্যেকও থাকবে না, যারা
আপনার বিরোধিতা করবে ৷ বরং সকলেই আপনার অনুসরণ করবে ৷

সাআদ ইবন মুআয়ের উদ্দেশ্যে মুসআব (রা) বললেন, আপনি একটু বসুন, আমার বক্তব্য
শুনুন, আপনার ভাল লাগলে গ্রহণ করবেন নতুবা আপনার অপসন্দের বিষয় আমরা আপনার
থেকে সরিয়ে রাখব ৷ সাআদ বললেন, আপনি ন্যায্য কথা বলেছেন ৷ এরপর মাটিতে বর্শাটি
পেড়ে দীড় করিয়ে তিনি বসে পড়েন ৷ হযরত মুসআব (বা) তার নিকট ইসলাম গ্রহণের প্রস্তাব
পেশ করেন এবং কুরআন পাঠ করে শুনান ৷ মুসা ইবন উক্বা উৱক্রক্ট্রাখ করেছেন যে, তার নিকট
সুরা যুখৃরুফ-এর প্রথম দিকের আয়াত পাঠ করা হয়েছিল ৷ তারা বলেন, ইসলাম গ্রহণে তার
নমনীয় মনোভাব ব্যক্ত করার পুর্বেই আমরা তার চেহারায় ইসলামের প্ৰতিচ্ছবি দেখতে পাই ৷
তারপর তিনি বললেন, আপনারা যখন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দীনে প্রবেশ করেন, তখন কী
করেন ? তারা দুজনে বললেন, তাহলে আপনাকে গোসল করতে হবে, পবিত্রতড়া অর্জন করতে
হবে, কাপড় দুটো পাক করে নিতে হবে এবং সত্য সাক্ষোর ঘোষণা দিতে হবে ৷ তারপর দু’
রাকআত নামায আদায় করতে হবে ৷ সাআদ উঠে দীড়ালেন ৷ গোসল করলেন ৷ জামা কাপড়
পাক করলেন, কালেমা শাহাদত উচ্চারণ করলেন এবং দু’রাকআত নামায আদায় করলেন ৷
তারপর বর্শা হাতে তার সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট ফিরে গেলেন ৷ উসায়দ ইবন হুযায়র
(বা) তার সাথে ছিলেন ৷ র্তাকে এগিয়ে আসতে দেখে তার সম্প্রদায়ের লোকজন বলল, সাআদ
যে চেহারা নিয়ে তোমাদের কাছ থেকে গিয়েছিলেন এখন ভিন্ন চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছেন ৷
তাদের নিকট এসে সাআদ (রা) বললেন, হে বনু আবৃদ আশহাল গোত্র, তোমাদের মধ্যে
আমার অবস্থান ও গুরুতৃ কেমন বলে মনে কর ? তারা বলল, আপনি তো আমাদের নেতা,
সর্বাধিক বিচক্ষণ ও সর্বোত্তম পরিচালক ৷ তিনি বললেন, তোমরা যতক্ষণ আল্লাহর প্রতি এবং
তার রাসুলেব প্রতি ঈমান না আসবে, ততক্ষণ তোমাদের নারী-পুরুষ সকলের সাথে আমার
কথা বলা হারাম ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সন্ধ্য৷ নাগাদ বনু আশহাল গোত্রের সকল পুরুষ ও
মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে ৷ সাআদ (রা) ও মুসআব (রা) ফিরে আসেন আসআদ ইবন যুরারাহ্
(রা)-এর বাড়িতে ৷ তারা সেখানে অবস্থান করে লোকজনকে ইসলামের দিকে ডাকতে থাকেন ৷
শেষ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি গোত্র ব্যতীত আনসড়ারদের সকল গােত্রই ইসলাম গ্রহণ করে ৷
যে সকল শাখা গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেনি, সেগুলো হল বনু উমাইয়া ইবন যায়দ গোত্র,
থুতামাহ গোত্র, ওয়াইল গোত্র এবং ওয়াকিফ গোত্র ৷ এরা সকলে আওস গোত্রভুক্ত ৷ তারা
আওস ইবন হারিছার বংশধর ৷ তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি ৷ কারণ, তাদের মধ্যে আবু কায়স
ইবন আসলাত নামে এক করি ছিল ৷ সে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল ৷ তার
মুল নাম সায়ফী ৷ যুবায়র ইবন বাক্কার বলেন, তার নাম ছিল হারিছ ৷ কেউ বলেছেন তার নাম

ছিল উবায়দুল্লাহ্ ৷৩ তার পিতার নাম ছিল আসলাত আমির ইবন জাশাম ইবন ওয়াইল ইবন
যায়দ ইবন কা য়স ইবন আমির ইবন মুবৃরা ইবন মালিক ইবন আওস ৷ ঐতিহাসিক কালবীও
তার এই বংশপবিচয় বর্ণনা করেছেন ৷ সে ছিল ওই সব গোত্রর কবি ও নেতা ৷ ওরা তার কথা
শুনত ও তাকে মান্য করত ৷ সে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল ৷ খন্দক যুদ্ধের
পর পর্যন্ত যে তাদেরকে ইসলাম থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল ৷ আমি বলি, ইবন ইসহাক
আলোচ্য আবু কা য়স ইবন আসলাণ্ডে র কতগুলো কবিতা উল্লেখ করেছেন ৷ সেগুলো “বা ( ন্ )
অন্ত্যমিল বিশিষ্ট ৷ উমা ইয়৷ ইবন সালত ছাকাফীব কবিতার সাথে সেগুলোর সাদৃশ্য রয়েছে ৷

ইবন ইসহাক বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দীনের দাওয়াত আরবে ছড়িয়ে পড়ল ৷ শহরে
শহরে তা পৌছে গেল ৷ তখন মদীনাতেও তার কথা আলোচিত হতে লাগল ৷ তবে আওস ও
খাযরাজ গোত্র রাসুলুল্লাহ্ (না) সম্পর্কে যত বেশী অবগত ছিল আরবের অন্য কোন গোত্র
ততটুকু ছিল৷ না ৷ ইয়াহুদী পণ্ডিতদের মুখে তারা রাসুলুল্লাহ্ (সা); এর বিবরণ শুনত ৩বলে এমনটি
হয়েছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর আলোচনা যখন মদীনায় গিাহ পৌছল এবং কুরায়শদের সাথে
তার মত বিরোধের ঘটনা যখন মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল, তথ্যা বানৃ ওয়াকিফ গোত্রের করি
আবু কায়স ইবন আসলাত নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিল ৷ আবু কায়সের পরিচয় বর্ণনা করে
সুহায়লী বলেন, যে হল আবু কা য়স সারম৷ ইবন আবু আনাস কায়স ইবন সারম৷ ইবন মালিক
ইবন আদী ইবন আমর ইবন গনোম ইবন আদী ইবন নাজ্জা র ৷ তিনি আরো বলেন হযরত উমর
(রা) এবং এই আবু কায়সকে উপলক্ষ করে
( ২ ১৮ ৭) আয়৷ ৷ত না ৷যিল হয়েছিল ৷

ইবন ইসহাক বলেন, যে কুরায়শ সম্প্রদায়কে ভালবাসত ৷ ওদের সাথে তার বৈবাহিক
সম্পর্ক ছিল ৷ আরনাব বিন্ত আসাদ ইবন আবদুল উয্য৷ ইবন কুসাই ছিল তার শ্রী ৷ নিজের
শ্ৰীকে নিয়ে সে বহু বছর মক্কায় বসবাস করেছে ৷ কুরায়শ্ারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিরোধিতা
করছে এ সংবাদ পেয়ে সে হারাম শরীফের মর্যাদা বর্ণনা করে তাদেরকে সেখানে যুদ্ধ বিগ্রহ
সৃষ্টি থেকে ধারণ করে একটি ক সীদা রচনা করে ৷ ওই ক সীদায় সে কুরায়শদের সম্মান ও
বুদ্ধিমত্তা র কথা, তাদের উপর প্রেরিত আল্লাহর দেয়৷ ৷বিপদাপদের কথা, তাদেরকে হস্তী বাহিনী
থেকে রক্ষা করার কথা এবং মহান আল্লাহ্র কর্ম কৌশলের কথা উল্লেখ করে ৷৩ তদুপরি ওই
কাসীদ যে সে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতি অত্যাচার ৷ব-নির্যা তন থেকে বিরত থাকার জন্যে তাদেরকে
পরামর্শ দেয় ৷ সে বলেছেশু ং
হে সওয়ারী! তুমি যদি কখনাে তার নিকট পৌছতে পার, তবে লুওয়াই ইবন পালিবের
গোত্রকে আমার পক্ষ থেকে একটি চিঠি পৌছিয়ে দিও ৷

হে সওয়৷ ৷রী তুমি এমন এক লোকের দুত হিসেরে৩ ৷দের নিকট গমন কর, যে ওদের থেকে
দুরে অবস্থান করছে ৷ ওদের পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ তাকে ৬ ত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে এবং
তাদের এই অবস্থার কারণে সে দুশ্চিম্ভাগ্রস্ত ও অসুস্থ ৷

যুদ্ধে লিপ্ত হলে তোমরা মিশৃক ও কপুরের পরিবর্তে বিশাল আকারের বালিন্তুপ পাবে ৷ ওই
বালি প্রবাহ যেন লবণের ঝর্ণাধারা ৷
সুতরাং তোমরা যুদ্ধ থেকে দুরে থাক ৷ যুদ্ধ যেন তোমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে না
পারে ৷ তোমরা দুরে থাক এমন কুয়াে থেকে যার পানি দুযিত, যার পানি তিক্ত ৷

যুদ্ধ নিজেকে সুসজ্জিত ও অল ৎকৃত করে লোকজনের নিক ৷ শেষ পর্যন্ত রাত্রি যাপনকালে
তার৷ সেটিকে নিজের মায়ের ন্যায় দেখতে পড়ায় অর্থাৎ৷ হ রাম ও নিষিদ্ধ বলে দেখতে পায় ৷
এই যুদ্ধ দৃর্বলদেরকে ভাজ৷ করে ছেড়ে দেয় না বরং পুড়িয়ে শুপ্াই করে দেয় আর মর্যড়াদাবান
ও শক্তিশালীদেরকে গলা ঢিপে হত্যা করে ৷

দাহিস যুদ্ধে কী ভয়ানক বিপর্যয় ঘটেছে তা কিব্ব তামাদের জানা নেই ?৩ ৷থেকে তোমরা
শিক্ষা গ্রহণ কর ৷ হাতির যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কথা ৷টাও বিবেচনা কর ৷

কত কত শরীফ ও সম্মানিত লোক এই যুদ্ধের বলি হয়েছে ! যারা ছিল সমাজের উচ্চস্তরের
নেতা , ৷যার৷ ছিল অতিথি-পরায়ণ ৷ যাদের দরজা থেকে যেহমান ঘুসাফির কখনো নিরাশ হয়ে
ফিরে যায়নি ৷
এই যুদ্ধের শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এমন সব লোককে যাদের
ছাইয়ের দ্ভুপ অনেক বড় বড় ৷ যাদের কাজকর্ম সদা প্রশংসাযােগ্য ৷ যায়৷ চরিত্রবান ও প্রচুর
দানশীল ৷
যুদ্ধে বিনষ্ট হয়েছে বহু পানির কুয়ে৷ ৷ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়৷ হয়েছে ওই পানি লক্ষ্যহীন
ভাবে ৷ উত্তরা ও দক্ষিণী হাওয়া যেন ওই পানিকে উড়িয়ে নিয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে ৷

যুদ্ধ সম্পর্কে যুদ্ধের অবস্থা সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভকারী একজন লোক তােমাদেরকে যুদ্ধ
সম্পর্কে অবগত করাচ্ছে ৷ বন্তুত অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানই প্রকৃত জ্ঞান ৷

সুতরাং তোমাদের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করে দাও অন্যান্য যুদ্ধবাজ লোকদের নিকট ৷ আর
নিজেদের হিসাব দেয়ার কথা স্মরণ কর ৷ মহান আল্লাহ উত্তম হিসাব গ্রহণকাবী ৷
আল্লাহ তাআলা হলেন মানুষের সাহায্যকারী ৷ তিনি একটি দীন মা;নানীত করেছেন ৷ সে
দীন গ্রহণ করলে নক্ষত্ররাজির মালিক আল্লাহ ছাড়া ণ্তামাদের কোন প্রভু থাকবে না ৷

আপনারা আমাদের জন্যে একটি দীন ই হানীফ ও সরল দীন প্রতিষ্ঠা করে যান এবং
আমাদেরকে এমন চুড়ান্ত অগ্রগতির সাথে সম্পৃক্ত করে যান যা শুধুমাত্র নে৩ তৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ
পেয়ে থাকেন ৷
আপনারা তো এই জনসাধারণের জন্যে আলে৷ ও প্রতিরম্ফকারী ৷ নেতৃস্থানীয় এবং
ধৈর্যশীল ব্যক্তিবর্গ কখনো লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় না ৷

মানুষের কৃতিতৃ যখন হিসেব করা হয়, তখন আপনারা তাদের মধ্যে মণি-মৃক্তা বলে গণ্য
হন ৷ আরবের নেতৃতৃ ও গ্রেষ্ঠতৃ আপনাদের জন্যেই সংরক্ষিত ৷

মর্যাদাবান সুপ্রাচীনকাল থেকে আভিজাত্যপুর্গ ও কুলীন বং শ-মর্যাদা আপনারা রক্ষা করে
চলেছেন ৷ আপনাদের বংশ, স্ন্তুম্ভে, ভদ্র এবং নির্ভেজাল ৷ কোন প্রকারের অভদ্র মিশ্রণ
আপনাদের বংশে নেই ৷

অভাবী ও সাহায্যপ্রার্থী লোকজন দেখতে পায় যে , অসহায় ও দুর্বল লোকজন সাহায্যের

আশায় আপনাদের বাসস্থানের প্ৰতি অগ্রসর হচ্ছে ৷ তাদেরকে দেখে অন্যান্য সাহায্যণ্প্রার্থীরাও
আপনাদের বাড়ির পথ খুজে পায় ৷

সব লোক জানে যে , আপনাদের গোত্রগুলো সর্বাবস্থায় সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ৷

কুজ ৷
কালো কাপড় ৷

আপনাদের লোকজন সর্বোত্তম রায় প্রদানকারী, সর্বশেষ্ঠ রীতিনীতির অনুসারী, সর্বাধিক
সত্য বক্তব্য প্রদানকারী এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ৷

সুতরাং আপনারা উঠুন, আপনাদের প্ৰতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং মক্কায়
পর্বতদ্বয়ের মাঝে অবস্থিত এই ৷হের স্তম্ভগুলো চুম্বন করুন, স্পর্শ করুন ৷

আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি নিআমত ও অনুগ্রহ রয়েছে ৷ আপনাদের প্রতি বিপদ

নেমে এসেছে ৷ বিশেষত সেদিন, যেদিন সেনাবাহিনীর নেতৃতৃ প্রদান করে সেনাপতি আবু
ইয়াকসুম আপনাদের উপর আক্রমণ করেছিল ৷

তার সাধারণ সেনাবাহিনী সম৩ ল ভুমি অতিক্রম করছিল ৷ আর তার পদাতিক বাহিনী ছিল
পর্বতের চুড়ায় পাহাড়ী পথে ৷

যখন আপনাদের নিকট আরশের মালিক মহান আল্লাহর সাহায্য এল তখন মহান
মালিকের সেনাবাহিনী আবু ইয়াকসুমের অনুসারীদের পরাজিত করে দিল ৷ ফলে ওদের কতক
ধ্বংস হল আর কতক দ্রুত পালিয়ে গেল ৷
ওরা সকলে দ্রুত পলায়ন করে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলো ৷ মাত্র কয়েকজন ছাড়া ওই হাবশী
লোকদের কেউই নিজ পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে আসতে পারেনি ৷
-;রু১ব্লে ৷১’ওাওএ ১ও
এখন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ-বিয়হ করে যদি আপনারা ধ্বংস হয়ে যান, তার আমরাও ধ্বং
হয়ে যাব এবং মক্কায় অনুষ্ঠিত হজ্জ সমাবেশ ও অন্যান্য যেলাগুলে৷ লণ্ডভও হয়ে যাবে ৷ এসব
হল একজন সত্যবাদী লোকের কথা যে মিথ্যাবাদী নয় ৷
আবু করেন তার কবিতায় যে দাহিস যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছে সেটি জাহিলী যুগের
একটি প্রসিদ্ধ যুদ্ধ ৷ আবু উবায়দ মা ’মার ইবন ঘৃছান্ন৷ ও অন্যান্যদের বর্ণনা অনুযায়ী সেটির
করণ এই কায়স ইবন যুহায়র ইবন জুযায়ম৷ ইবন রাওয়াহা গাতফ৷ ৷নীর একটি ঘোড়া ছিল ৷
সেটির নাম ছিল দাহিস ৷ অপরদিকে হুয়ায়ফ৷ ইবন বদর ইবন আমর ইবন জুবা পা৩ ফানীর
একটি ঘোড়া ছিল ৷ সেটির নাম ছিল গাবর৷ ৷ একদিন উভয় ঘোড়ার মাঝে দৌড় প্রতিযোগিতা
অনুষ্ঠিত ৩হয় ৷ প্ৰতিযোগি৩ ৷য় বিজয়ী হয় দাহিস ৷ ক্ষোভেদুঃখে হুযায়ফা৩ তার প্রতিপক্ষ ঘোড়া
দাহিসকে থাপ্পড় মারার জন্যে নির্দেশ দেয় ৷ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মালিক ইবন যুহায়র উঠে
হুযায়ফার ঘোড়া “গাবরার” মুখে চপেটাঘাত করে ৷

হুযায়ফার ভাই হামল ইবন বদর এস মালিকের মুখে চপেটাযাত করে ৷ পরে এক সময়ে
আবু জুনদৃব আবাসী হুযায়ফার পুত্র আওফকে বাগে পেয়ে খুন করে ৷ বনু ফাযার৷ গোত্রের এক
লোক কায়সের ভাই মালিককে খুন করে ৷ এরপর বনু আবস ও বনু ফাযার৷ গোত্রের মধ্যে
নিয়মিত যুদ্ধ চলতে থাকে ৷ যুদ্ধে হুযায়ফা ইবন বদরত রে ভাই হামল ইবন বদরসহ বহু লোক
নিহত হয় ৷ এ যুদ্ধ নিয়ে তারা বহু কবিতা রচনা করেছে যা এখানে উল্লেখ করলে গ্রন্থের
কলেবর বেড়ে যাবে ৷

ইবন হিশাম বলেন, কায়স দাহিস ও গাবর৷ নামক দুটো ঘোড়া প্রেরণ করেছিল আর
হুযায়ফ৷ প্রেরণ করেছিল থাতার ও হানাফ৷ নামক ঘোড়া দুটো ৷ তার প্ৰথমােক্ত বর্ণনা বিশুদ্ধ ৷

হাতিবের যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন যে, হাতির ইবন হারিছ ইবন কায়স ইবন হায়শা ইবন
হারিছ ইবন উমাইয়া ইবন মুআবিয়া ইবন মালিক ইবন আওস ইবন আমর ইবন আওফ ইবন
মালিক ইবন আওফ একদিন এক ইয়াহুদীকে হত্যা করেছিল ৷ ওই; ইয়াহুদী ছিল খাযরাজ
গোত্রের প্রতিবেশী ৷ হত্যাকারী হাতিবকে খুন করার জন্যে খাযরাত্ত৷ ৷;গাত্রের একদল লোক নিয়ে
পথে বের হয় যায়দ ইবন হারিছ ইবন কায়স ইবন মালিক ইবন আহমার ইবন হারিছ৷ ইবন
ছা’লাবা ইবন কাআব ইবন মালিক ইবন কাআব ইবন খাযরাজ ইবন হারিছ ইবন খাযরাজ ৷
যায়দ ইবন হারিছের ডাকনাম ছিল ইবন কাসহাম ৷ নিজ দলের ণ্লাকদেরকে নিয়ে সে হাতিবকে
খুন করে ৷ ফলে আওস এবং খাযরাজ গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায় ৷ উভয় গোত্রের মধ্যে প্রচণ্ড
যুদ্ধ হয় ৷ শেষ পর্যন্ত খাযরাজরা বিজয়ী হয় ৷ এই যুদ্ধে আসওয়াদ ইবন সামিত আওসী নিহত
হয় ৷ তাকে হত্যা করে বনু আওফ ইবন খাযরাজ গোত্রের মিত্র ঘুজাযযর ইবন যিয়াদ ৷ এরপর
দীর্ঘদিন যাবত তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলেছিল ৷ মাে ৷ট কথা প্রচুর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সত্বেও তা দ্বারা
আবু ক য়স ইবন আসলাত নিজে উপকৃত হতে পারেনি ৷ সে নিজে ঈমান আনয়ন করেনি ৷
হযরত মুসআব ইবন উমায়র (রা) যখন মদীনায় এলেন এবং মদীনায় অধিবাসীদেরকে
ইসলামের দাওয়াত দিলেন, তখন বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ এমন কোন পাড়া ও মহল্লা
ছিল না যেখানে অন্তত ৩দু’চার জন মুসলিম নারী পুরুষ ছিলেন ন৷ ৷ কিন্তু আবু কায়সের গোত্র
বনু ওয়াকিফের মহল্লা ছিল এর ব্যতিক্রম ৷ সে তার যহল্লার লোকদেরকে ইসলাম গ্রহণ থেকে
বিরত রেখেছিল ৷ সে বলেছিল :

হে মানব জাতির প্রতিপালক ! এ কি ঘটনা ঘটল ? এমন কিছু বিষয় নেমে এল যেখানে
কঠোরত৷ আর কােমলত৷ একাকার হয়ে যায় ৷
৷ গ্লুা

হে মানব জাতির প্রতিপালক ৷ আমরা যদি পথভ্রষ্ট হয়ে থাকি তবে আমাদের জন্যে সুপথ
সুগম করে দিন ৷

আমাদের প্রতিপালক না থাকলে আমরা ইয়াহুদী হয়ে যেত ৷ম ইযাহুদী ধর্ম বহুরুপীও
জগাখিচুড়ি নয় ৷
আমাদের প্রতিপালক না থাকলে আমরা খৃক্টান হয়ে যেতাম আর অরণ্যচারী হয়ে
যাজকদের সাথে পাহাড়ে পর্বতে ঘুরে বেড়াতাম ৷

তবে আমাদের যখন সৃষ্টি করা হয়েছে তখন সত্যপন্থী ও সরলপন্থীরুভ্রুপ সৃষ্টি করা হয়েছে ৷
আমাদের দীন ধর্ম সকল প্রকারের বক্রত৷ ও ভেজাল থেকে মুক্ত ৷

আমরা মিনাতে যবাহ্ করার জন্যে পশু নিয়ে যইি ৷ সেগুলো অনুগত ভাবে এগিয়ে যায়
দুর্গম পথে ও সেগুলো ঘাড় উচু করে চলতে থাকে ৷

তার বক্তব্যের মুল কথা হল, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর আবির্ভাবের সংবাদ শুনে সে কিৎকর্তব্য-
বিমুঢ় হয়ে পড়েছিল ৷৩ ৩াই নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সত্বেও সে ইসলামগ্রহণ থেকে বিরত থাকে ৷
প্রথমত, আবদুল্লাহ ইবন উবইি ইবন সালুলত তাকে ইসলামগ্রহণে বাধা দেয় ৷ আবু কায়স নিজে
আবদুল্লাহ ইবন উবাইকে বলেছিল যে, এ রাসুলওে তো সেই রাসুল ইয়াহ্দীরা যার আগমনের

সংবাদ দাি৩ ৷ ৷ ইবন উবাই কৌশলে তাকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখে ৷ ইবন ইসহাক
বলে, মক্কা বিজয়ের দিবস পর্যন্ত আবু কায়স ও তার ভাই ইসলামগ্রহণ করেনি ৷ সে শেষ পর্যন্ত
ইসলাম গ্রহণ করেছে এমন মন্তব্য যুবায়র ইবন বাক্কার প্ৰ৩ ব্রুাখ্যান করেন ৷ ওয়াকিদীর
অভিম৩ ও অনুরুপ ৷ ওয়াকিদী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ প্রথম তাকে যখন ইসলামের দাওয়াত দেন,
তখন সে ইসলামগ্রহণের সং কল্প করেছিল ৷ এরপর আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই এরুপ সংকল্পের
জন্যে তাকে তহ্সন৷ করে ৷ তখন সে শপথ করে যে, এক বছর পর্যন্ত যে ইসলাম গ্রহণ করবে
না ৷ ওই য়্লকা’দা সালে তার মৃত্যু ঘটে ৷

ইবনুল আহীর তীর উসদুল গাবা গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, কেউ কেউ বলেছেন যে, আবু
কায়সের মৃত্যু যখন ঘনিয়ে আসে, তখন রাসুলুল্লাহ্ তাকে ইসলামগ্রহণের দাওয়াত দেন ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ্ তাকে বলতে শুন্যেছন যে, সে বলছে ল৷ ইলাহ৷ ইল্লাল্লাহ্’ ৷

ইমাম আহমদ, আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এক
অসুস্থ আনসারী লোককে দেখতে গেলেন ৷ তিনি বললেন, মামা বলুন, “লা ইলাহ৷ ইল্লাল্লাহ্” ৷
সে বলল, আপনি কি আমাকে চাচা ডাকেন, নাকি মামা ডাকেন ? রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন
মামা-ই তো ৷ সে বলল, “লা ইলাহ৷ ইল্পাল্লাহ্ বলা কি মামার জন্যে অধিক কল্যাণকর হবে ?
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হীা, তা কল্যাণকর হবে৷ ইমাম আহমদ এককভাবে এ হাদীসঢি বর্ণনা
করেছেন ৷ ইকরামা ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, আবু কায়সের মৃত্যুর পর তার পুত্র আবু

কায়সের বিধবা শ্রী ম৷ ন ইবন আ ৷সিমের কন্যা কা ৷বীসাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল ৷ কাবীসা তখন
বিষয়টি রাসুলুল্পাহ্কে জানায় ৷ তখন আল্লাহ তা ভালো না ৷যিল করলেন :

“নারীদের মধ্যে ৫৩ামাদের পি৩ তৃপুরুষ যাদেরকে বিয়ে করেছে তোমরা তাদেরকে বিয়ে
করো না ৷ পুর্বে যা হয়েছে হয়েছেই ৷ এটি অশ্লীল,অতিশয় ঘৃণা এবং নিকৃষ্ট আচরণ ৷

ইবন ইসহাক এবং মাগাযী গ্রন্থের লেখক সাঈদ ইবন ইয়াহ্য়া উমাভী উল্লেখ করেছেন যে ৰু
আলোচ্য আবু কায়স জাহিলী যুগে সন্নব্রাসব্র৩ গ্রহণ করেছিল ৷ সে চট পরিধান করাতা ৷
মুর্তি পুজা বর্জন করে চলং৩ তা ৷ নাপাকী থেকে পবিত্রতা অজনের জন্যে গোসল করতো ৷
মহির্লাদের জন্যে হ ইয ও ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের ব্যবস্থা করতো ৷ খৃন্টধর্ম গ্রহণের
পরিকল্পনা করেছিল ৷ কিন্তু তারপর তা থেকে বিরত থাকে ৷ সে৩ার একটি গৃহে প্রবেশ করে
এবং সেটিকে মসজিদ রুপে নির্ধারণ ৷করে ৷ কে ন ঋতুমভী মহিট্রুৎলাএবং কোন নাপাক ব্যক্তির
সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল না ৷ সে বলেছিল, আমি ইব্রাহীম (আ)-এর মা’বুদ ও ইলাহ্-এর
ইবাদত করব ৷ তিনি মুর্তিপুজাকে ত্যাগ করেছিলেন এবং তার প্ৰতি ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন ৷
সে এভাবেই ইবাদত করে যাচ্ছিল ৷ অবশেষে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) মদীনায় আগমন করলেন ৷ সে
ইসলাম গ্রহণ করল এবং সে নিষ্ঠার সাথে ইসলামী জীবন যাপন করে ৷ সে ছিল বয়ােবৃদ্ধ
ব্যক্তি ৷ সদা সর্বদা স৩া কথা ব্যক্তকারী ৷ জাহিলী যুগেও যে তাল্লাহ্র প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান নিবেদন
করত ৷ এসব বিষয়ে যে কতক সুন্দর কবিতা রচনা ও আবৃত্তি করেছেং :

আল্লাহ্যুথী হয়ে আবু কায়স বলছে, তোমাদের সাধ্য মুতাবিক তোমরা আমার উপদেশ
কার্যকর কর ৷

আমি৫ আমাদেরকে আল্লাহ্ সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছি ৷ আরো উপদেশ দিচ্ছি সৎকর্মের
থোদাভীতির এবং অন্যায় থেকে দুরে থাক কার আর সর্বাগ্রে মহান অাল্লাহ্র আনুগত্য করার ৷

তোমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন নেতা মনোনীত হলে৫ তোমরা ওদেরকে হিং সা করো না ৷
আর তোমরা নিজেরা নে৩ তত্বের আসনে আসীন হলে তোমরা ন্যায়বিচার করো ৷

তোমাদের সম্প্রদায়ের উপর কোন বিপদ নেমে এলে নিজেদের সম্প্রদায়ের লোককে রক্ষা
করার জন্যে নিজেরা ই৩ ধ্া ৩মুকাবিলা করবে ৷

( আমাদের সম্প্রদায়ের উপর যদি ঋণের বোঝা এসে পচ্ড়, তবে তোমরা তৰুাদের প্রতি ৩সদয়

ও নম্র আচরণ করবে ৷ আর তোমাদের উপর যদি কোন দায় চাপিয়ে দেয়া হয় , তবে তোমরা
সেই দায় দায়িৎ গ্রহণ করো ৷

যদি তোমরা দরিদ্র ও অভাবী হয়ে যাও তবে৩ ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিজেকে রক্ষা কর ৷ যদি
তোমাদের কোন সম্পদ থাকে, তার তোমরা তা থেকে দান করবে ৷

আবু কড়ায়স আরো বলেছে :
তোমরা আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা করো-তার তাসবীহ পাঠ কর প্ৰতি সকালে যখন সুর্য
উঠে এবং প্রতি সন্ধ্যায় যখন চন্দ্র উদিত হয় ৷
মহান আল্পাহ্ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ে অবগত ৷ আমাদের প্রতিপালকের কোন বাণী
ও কথাই অসতা নয় ৷
পক্ষীকুল র্তারই ৷ সেগুলো বেরিয়ে যায় আর সন্ধ্য৷ বেলায় পর্বতের নিরাপদ স্থানে নিজ নিজ
কুলায় ফিরে আসে-আশ্রয় নেয় ৷

প্রান্তরের বন্য জন্তু তারই ৷ তুমি দেখতে পারে যে, সেগুলো মাঠে-ময়দানে,
প্রান্তরে-উপত্যকায় বিচরণ করে এবং বালি পাহাড়ের ছায়ায় অবস্থান করে ৷

ইয়াহ্রদিরা গুারই অভিমুখী হয়েছে এবং সকল প্রকারের অকল্যাণের আশৎকড়ায় অকল্যাণ
থেকে বাচার জন্যে পরিপুর্ণভা বে দীনের অনুসরণ করেছে ৷

খৃন্টানরা৩ তারই জন্যে রৌদ্র দিবস উদ্য়াপন করে এবং তাদের সকল ঈদ-উৎসব ও
সমাবেশ তারই উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে ৷

তুমি দেখতে পাও আত্মসৎযমী সৎসারত্যাগী খৃক্টান ধর্ময়াজককে ৷ সে দীন-হীন ভাবে দুঃখ
কষ্টে জীবন যাপন করে ৷ বন্তুত পুর্বে সে ছিল বিলাসবহুল জীবন যা ৷পনকারী ৷

হে আমার আত্মীয়গণ আত্মীয়৩ ৷ ছিন্ন করে৷ না ৷ (ছ ট বড় সকল আত্মীয় রক্ষা করো ৷
আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুপ্ল যায় ৷

অসহায় ইয়াতীমদের অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে, তাদের হক আদায়ের ক্ষেত্রে তোমরা
আল্লাহ্কে ভয় কর ৷ তোমরা তাদের সাথে সেই আচরণ করো, যা হালাল ও বৈধ ৷ অবৈধ ও
হারাম আচরণ করে৷ না ৷

স্মরণ রেখো , ইয়াতীমদের একজন অভিভাবক আছেন, যিনি সব বিষয়ে অবগত ৷ কাউকে
জিজ্ঞেস মাত্র না করেই তিনি যথাযোগ্য কাজটি করেন ৷
তোমরা ইয়াভীমের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে৷ না ৷ একজন শক্তিমান তত্ত্বাবধায়ক
ইয়াভীমের সম্পদের তত্ত্বাবধান করেন ৷
হে প্রতিবেশী পুত্ররা, প্রতিবেশীৎ কে লাঞ্ছিত করে৷ না, অপমানিত করে৷ না ৷ যে ব্যক্তি
প্রতিবেশীতু রক্ষা করে, প্রতিরেশীর হক আদায় করে নিঃসন্দেহে সে বুদ্ধিমান ব্যক্তি ৷

হে কাজের সম্ভানরা ! যুগ-চক্রকে নিরাপদ মনে করে৷ না, যুগের বিপদ সম্পর্কে শংকাহীন
থেকে৷ না ৷ তার চাল সম্পর্কে সজাগ থেকে৷ ৷

স্মরণ রেখো যে, যুগের কাজই হল জগত ধ্বংস করা , পুরাতন নতুন, সব কিছুকে সে শেষ
করে দেয়
তোমরা তোমাদের কাজগুলােকে গুছিয়ে নাও এবং পরিচালিত কর সৎকর্মের ভিত্তিতে ৷
তাকওয়া অর্জন, পাপাচার বর্জন ও হালাল গ্রহণের ভিত্তিতে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আল্লাহ্ তা জানা ইসলাম প্রদানের মাধ্যমে এবং তাদের মধ্যে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে প্রেরণের মাধ্যমে কুরায়শদের প্রতি যে কৃপা ও অনুগ্রহ দান করেছেন,
তাদেরকে সম্মানিত করেছেন আবু কায়স সারমাহ্ সেগুলো উল্লেখ করে আরো কবিতা রচনা
করেন ৷

তিনি (রাসুলুল্লাহ্) দশ বছরের অধিক সময় কুরায়শ গোত্রের মধ্যে অবস্থান করেছেন ৷ এই
সময়ে তিনি উপদেশ প্রদান করতে ন ৷ যদি কোন বন্ধুর বা আগত্তুকের দেখা পেতেন ৷ পরের
দিকে পুর্ণ কবিতা উল্লেখ করা হবে ইনশাঅ৷ ৷ল্লাহ্ ৷

আকাৰার দ্বিতীয় শপথ

ইবন ইসহাক বলেন, তারপর মুসআব ইবন উমায়র মক্কায় ফিরে এলেন ৷ তার সাথে
আনসারী হাজীগণ এবং তাদের সম্প্রদায়ের মুশরিক হজ্জ সম্পাদনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরাও ৷ র্তারা
সকলে মক্কায় উপস্থিত হলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে তাদের কথাবার্তা হল যে, আইয়ামে
তাশরীকের মধ্যবর্তী দিবসে অর্থাৎ ১ ২ই যিলহাজ্জ তারিখে র্তারা আকাবা নামক স্থানে একত্রিত
হবেন ৷ “তাদেরকে মহিমাম্বিত করার জন্যে, নবী (সা) কে সাহায্য করার জন্যে এবং ইসলাম ও
মুসলমানদেরকে বিজয়ী করার জন্যে আল্লাহ তাআলা এই সময়উি র্তীদের জন্যে নির্ধারিত
করেছিলেন ৷

মাবাদ ইবন কাআব ইবন মালিক আমাকে জানিয়েছেন যে, তার ভাই আবদুল্লাহ ইবন
কাআব তাকে জানিয়েছেন ৷ এই আবদুল্লাহ ছিলেন আনসারীদের একজন বড় আলিম ৷ বন্তুত
আবদুল্লাহ বলেছেন যে, তার পিতা র্তাকে জানিয়েছেন, তিনি আকত্থার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত
ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর হাতে তখন বড়ায়আত হয়েছিলেন ৷ তিনি বলেছেন, আমাদের
সম্প্রদায়ের মুশরিক হড়াজীদেরকে নিয়ে আমরা সবাই মক্কায় রওনা হলাম ৷ আমরা তখন নামায
পড়তাম এবং দীনের জ্ঞান অত্তনি করতাম ৷ আমাদের সাথে ছিলেন আমাদের বয়ােজেষ্ঠে ও
নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বারা ইবন মারুর ৷ মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে আমরা যখন যাত্রা করলাম,
তখন বাবা (রা) বললেন, হে লোক সকল আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমরা আমার
সাথে একমত হবে কিনা আমি জানি না ৷ আমরা বললাম , “সিদ্ধাস্তটা কী ?” তিনি বললেন
আমি সিদ্ধান্ত গিয়েছি যে , এই গৃহকে অর্থাৎ কাবাগৃহকে আমি পেছনে রাখতে পারব না আমি
বরং ওই কাবাগৃহের দিকে মুখ করেই নামায আদায় করব ৷ আমরা বললাম, আমরা তো আমি
যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) সিরিয়ার দিকে (বায়তৃল মুকাদ্দামের দিকে) মুখ করেই নামায আদায়
করেন ৷ সুতরাং আমরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিপরীত কাজ করব না ৷ বারা’ (রা) বললেন, আমি
কাবাগৃহের দিকে মুখ করেই নামায আদায় করব ৷ আমরা বললাম, আমরা কিন্তু তা করব না ৷
এরপর নামাযের সময় হলে আমরা নামায পড়তড়াম সিরিয়ার (বাযতুল মুকাদ্দাসের) দিকে মুখ
করে আর তিনি নামায আদায় করতেন কাবার দিকে মুখ করে ৷ এভাবে আমরা মক্কা এসে
পৌছি ৷

মক্কায় এসে তিনি আমাকে বললেন, ভাতিজা! তুমি আমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
নিকট চল ৷ সফরে আমি যা করেছি সে সম্পর্কে আমি তার কাছে জানতে চইিব ৷ কারণ, আমি
যা করেছি সে সম্পর্কে আমার মনে একটু খটকা সৃষ্টি হয়েছে এজন্যে যে, আমি তোমাদের
সকলের উল্টেড়া কাজ করেছি ৷ বর্ণনাকারী কাআব (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) থেকে বিষয়টি
জানার জন্যে আমরা তার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম ৷ আমরা কিন্তু তখনও র্তাকে চিনতড়াম না এবং
ইতোপুর্বে তাকে কোন দিন দেখিনি ৷ পথে মক্কার এক লোকের সাথে আমাদের দেখা হয় ৷
আমরা তাকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি ৷ সে বলল, আপনারা কি র্তাকে চিবুনন ?
আমরা বললাম, না, র্তাকে আমরা চিনি না ৷ সে বলল, তবে তার চাচা আব্বাস ইবন আবদুল
মুত্তালিবকে চিনেন ? আমরা বললাম, “ইক্রা , আমরা তাকে চিনি ৷ আব্বাস নিয়মিত ব্যবসায়িক

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.