Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

তাবুক থেকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন

তাবুক থেকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন

পেশ করেছিলেন ৷ তার বর্ণনায় আরো রয়েছে যে, আয়লা প্রধান ইয়াহান্না ইবন রুবা

উকায়র্দিরের পর্বিণর্ডির কথা শুনে সব্ধিবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায়ই রাসুলুল্লাহ (সা)এর
দরবারে হাযির হয়েছিলেন ৷ ফলে তাকুক রাসুলুল্লাহ (না)-এর সযীপে তাদের দুজনের
একত্রিত আগমন ঘটেছিল ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷

ইউনুস ইবন বুকায়র (র)বিলাল ইবন ইয়াহয়া (র) থেকে দুমাতুল জড়ানৃদাল অভিযানে
আবু বকর সিদ্দীক (রা) যুহাজিরদের সেনাপতি ছিলেন, আর খালিদ ইবনৃল ওয়ালীদ (রা)
যেদুইনদের দায়িত্বে ছিলেন ৷ অল্লোহ্ই সমধিক অবগত ৷

তাবুক থেকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন

ইবন ইসহাক (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) উনিশ রাতের মত (অর্থাৎ বিশ দিনের কম)
সময় তাবুকে অবস্থান করার পরে মদীনায় উদ্দেশ্যে ফিরতি সফর শুরু করলেন ৷ বর্ণনাকারী
বলেন, পথে ওয়াদি আল মুশাক্কাক নামক উপত্যকায় পাথর ফেটে নিপর্ত ক্ষীণ ধারার
প্রবহমান একটি ফোরারা ছিল ৷ যার পানি একজন দুজন কিৎবা তিনজন পথিকের পিপাসা
মেটাতে পারত ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন-

“যারা ঐ ফোয়ারার কাছে আমাদের আগে পৌছবে, তারা আমাদের পৌছা পর্যন্ত তার পানি
একটুও তুলবে না ৷ ”

বর্পনাকারী বলেন, ঘুনাফিকদের একটি ছোট দল তার পুর্বে সেখানে পৌছে তার সব পানি
তুলে নিল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) সেখানে পৌছে ফোয়ারার কাছে র্দাড়ালেন ৷ কিন্তু তাতে পানির
কোন চিহ্ন দেখতে না পেয়ে বললেন, এ ফোয়ারার কাছে আমাদের আগে কে পৌছেছে ?’
তাকে বলা হল, ইয়া রাসুলল্লোহ! অমুক অমুক ৷ তিনি বললেন, আমার আগমনের পুর্বে তার
পানি তুলতে আমি কি তাদের নিষেধ করিনি ? তখন তিনি তাদের অভিসম্পাদ দিলেন ও
তাদের জন্য বদদুআ করলেন ৷ তারপর সেখানে অবতরণ করে ক্ষীণ ধারাঢির কাছে হাত
রেখে আল্লাহ্ মালুম তিনি কি যেন তার হাতে ঢড়ালতে থাকলেন ৷ তারপর তা ধারামুখে ছিটিয়ে
দিলেন এবং ফোয়ারা মুখটি হাত দিয়ে মুছে দিলেন ৷ পরে দীর্ঘ সময় ধরে দুআ করলেন ৷
ফলে পাথর বিদীর্ণ করে পানি বেরুতে লাগল ৷ দর্শক শ্রোতাদের মনে হচ্ছিল, বড্রের গুমগুম
আওয়াঘের ন্যায় আওয়ড়ায করে পানি বেরিয়ে আসছে ৷ লোকেরা পানি পান করল এবং যার
যার প্রয়োজন মত তুলে রাখল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন

“ তোমরা অনেক দিন বেচে থাকলে কিৎবা (বর্ণনা সন্দেহ) তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে

যারা অনেক দিন বেচে থাকবে তারা শুনতে পারে যে, এ পানির আশপাশে এ উপত্যকায় সবুজ
শ্য“ামলের সমারােহ ঘটছে ৷”

ইবন ইসহাক (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম ইবনৃল হারিছ আত-তায়ষী (র)
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) সুত্রে বর্ণনা করতেন যে, মাঝ রাতে আমি জেগে উঠলাম, তখন

রাসুলুল্লাহ (না)-এর সাথে তাবুক অভিযানে ছিলাম ৷ দেখলাম, বাহিনীর এক প্রান্তে একটি
আগুনের শিখা জ্বলছে ৷ সেটা কি তা দেখার জন্য আমি যে দিকে এগিয়ে গেলাম ৷ দেখি কি,
সেখানে রয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা), আবু বকর (রা) ও উমর (রা) ৷ আরো দেখলাম, যুল
বিজাদায়ন (দুই কম্বলওয়ালা) আব্দুল্লাহ ইনতিকাল করেছেন এবং তারা তার জন্য কবর খনন
করেছেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) কবরের মাঝে দাড়িয়ে আর আবু বকর ও উমর (রা) লাশ তার
দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন ৷ তিনি তখন বলছিলেন, “তোমাদের ভাইকে আমার
কাছে এগিয়ে দাও ৷” র্তার৷ দু’জন লাশ কবরে নামিয়ে দিলেন ৷ তাকে কিবলামুথী করে শুইয়ে
দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, ইয়া আল্লাহ !
আমি এ যাবত তার উপর তুষ্ট ছিলাম ৷ আপনিও তার উপর তুষ্ট হোন ৷ ” বর্ণনাকারী বলেন,
বর্ণনার এ পর্যায়ে ইবনু মাসউদ (বা) তার মনােবাঞ্চা প্রকাশ করে বলতেন, হায় আমি যদি এ
কবরের বাসিন্দা হতাম ৷ প্

ইবন হিশাম (র) বলেন, যুল ৰিজাদায়ন’ নামকরণের কারণ হল ইসলাম গ্রহণ করার পর
তিনি হিজরত করতে মনস্থ করলে তার গোত্র তাকে বাধা দিল এবং তার জন্য সংকট সৃষ্টি
করল ৷ এ সুযোগে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ৷ তখন তার পারে একটি মোটা কম্বল ব্যতিরেকে
আর কোন বস্ত্র ছিল না ৷ তিনি সেটিকে দুই ভাগ করে এক অংশ দিয়ে লুৎগি রুপে পরলেন
এবং অপর অংশ চাদর রুপে গায়ে দিলেন ৷ এভাবে রাসুলুল্লাহ (না)-এর খিদমতে হাযির হলে
তার নাম পড়ে গেল যুল বিজাদায়ন-দুই কম্বলধারী ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, ইবনৃ শিহাব যুহরী (র) আবু রুহ্ম কুলছুম ইবনুল হুসায়ন
আল-গিফারী (রা) ইনি হ্পারধিয়ার নুষ্মন্ ৩লে বায়আত গ্রহণকারী সাহাবীগণের অন্যতম ৷
তিনি বলতেন, তাবুক অভিযানে আমি রাসুলুল্লাহ (সা)এর সাথে ছিলাম ৷ এক রাতে আমি
তার সহ্যাত্রী হলাম ৷ তখন আমরা অড়াখমার অঞ্চলে সফর করছিলাম ৷ আমার ভীষণ তন্দ্রা
পেল ৷ আমি সযত্নে জাগ্রত থাকার প্রয়াস পাচ্ছিলাম ৷ কেননা, আমার বাহন নবী করীম (সা)-
এর বাহনের পাশাপাশি চলছিল ৷ আর এ নিবল্টবর্তী অবস্থানের কারণে পা-দনীিতে তার পায়ের
সাথে আমার ছেড়ায়া লেগে যাওয়ার আশংকা ছিল ৷ তাই আমি আমার বাহনটি সতর্ক নিয়ন্ত্রণে
রেখে চলছিলাম ৷ কিন্তু পথিমধ্যে একসময় নিদ্রা আমাকে পরাভুত করে ফেললে আমার বাহন
তার বাহনকে ধাক্কা দিল এবং পাদানীতে তার পায়ের উপর চাপ লাগল ৷ তখন তার ইস’
আওয়ড়াজে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ৷ আমি বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ৷ আমার জন্য ইসতিগফার
করুন ৷ তিনি বললেন, এগিয়ে চল ৷

তারপর তিনি তাবুক অভিযান থেকে পশ্চাতে অবস্থানকারীদের গিফার গোত্রের লোকদের
সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন এবং আমি তাকে সে বিষয়ে বলতে থাকলাম ৷ এক
পর্যায়ে তিনি আমাকে বললেন-

“লাল বর্ণের চেহড়ারায় দীর্ঘকড়ার মড়াকুন্দ লোকদের খবর কি ? আমি তাদের পিছিয়ে থাকার
বিষয় র্তাকে বর্ণনা করলাম ৷

তিনি আবার ৷শুগু “ক্ষুদে কােকড়ানাে চুল কালো
লোকদের খবর কি ? আমি বললাম, আল্লাহর কলম! আমাদের মাঝে এ ধরনের লোকদের
পরিচয়-অবস্থিতি তাে আমার জানা নেই ৷ তিনি বললেন,
“নিশ্চয়ই আছে ৷ শাবাকাসাদাখ কুয়াের এলাকায় যারা পশু চরায় ৷ ” আমি তখন গিফাবীদের
মাঝে তাদের অবস্থান স্মরণ করার চেষ্টা করে প্রথমে ব্যর্থ হলাম ৷ কিন্তু তখনই আবার আমার
মনে পড়ল যে, ওরা তো আসলাম গোত্রের একটি শাখা ৷ যারা আমাদের (পিফারীদের) সাথে
মিত্রতা বদ্ধ ৷ তখন আমি বললাম, হা, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ৷ ওরা আনলামীদের একটি শাখা গোত্র ৷
আমাদের সাথে মিত্রতাবদ্ধ ৷ রাসুলুল্পাহ (সা) বললেন, “তাদের উটপালের মধ্য হতে একটি
উটের পিঠে একজন স্বতং র্ত মুজাহিদকে আল্লাহর রাস্তায় পাঠিয়ে দিতে কোন জিনিস
তাদেরকে বিরত রাখল ? আমার আপন জ্যাদর মাঝে যাদের পশ্চ৷ ৷তবর্তিতা আমার জন্য
অধিকতর পীড়াদায়ক-ত ৷র৷ হল যুহাজির আনসার গিফার ও আসলাম গোত্রের লোকজন ৷

ইবনৃ লাহী আ (র) ফরওয়াহ্ ইবনুবৃ ৰুবারর (র) থেকে বর্ণনা করেন ৷ কারণ, বাসুলুল্লাহ
(সা) তাবুক থেকে মদীনায় উদ্দেশ্যে জ্যিতি সফরে রওয়ানা করলেন ৷ য়ুনাফিকদের একটি দল
পথে অবস্থিত কোন গিরিপথে তার উপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে তাকে খঃাদে ফেলে দেওয়ার
চক্রাত করল ৷ তিনি তাদের এ অ্যাংর খবর পেয়ে গেলেন ৷ তাই তিনি মুল বাহিনীকে
সমতলের পথ ধরে চলার হুকুম দিয়ে নিজে পাহাড়ী পথ অবলম্বন করলেন ৷ ষড়যন্ত্রকারীরাও
মুখােশাবৃত হয়ে তার সাথে পাহাড়ী পথ ধ্রল ৷ রাসৃলুল্লাহ (সা) আম্মার ইবন ইয়াসির (বা) ও
হুযায়ফা ইবনৃল ইয়ামান (রা)-কে তীর সাথে পায়ে হেটে স্কোর হুকুম দিলেন ৷ আম্মার (বা) তার
বাহনের লাগাম হাতে এবং হষায়ফ্৷ (বা) পিছন থেকে উট ছুাকাতে হীকাতে চলতে লাগলেন ৷
চলতে চলতে রাংতঃ আধারে র্তীরা নিকটেই ঢক্রাম্ভকারীদের কােলাহল শুনতে পেলেন ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) এর মেযাজে বিরক্তি ও অসন্তুষ্টি দেখা দিল ৷ হুযায়ফা (রা)৩ তা উপলব্ধি করে
পিছনে ফিরে কে ৷৷লাহলক ৷রীদের কাছে পৌছলেন ৷ তখন তার হাতে ছিল একটি ণ্ক ৷কড়া মাথা
লাঠি ৷ তিনি ওদের বাহনওলির মাথায় তার লাঠি ঠুকতে লাগলেন ৷ হুযায়ফা (বা) কে দেখে
তাদের ধারণা হল যে, ৷ ও তা দেব ৩য়ং কর য়৬য়প্রের কথা জেনে ফেলেছেন ৷ তাই৩ ৷র৷ দ্রুত
হটে গিয়ে মুল বাহিনীর সাথে মিশে গেল ৷ হুযায়ফা (বা) এগিয়ে এসে রাসুলুল্লাহ ( সা)-এর সাথে
মিলিত হলেন ৷ তিনি দ্রুত চলার হুকুম দিলে তারা দ্রুতগতিতে গিরিপথটি অতিক্রম করে
সমতলের লোকদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ (সা) হুযায়ফা (বা) কে
বললেন, ঐ লোকগুলিকে তুমি চিনতে পেরেছ ? তিনি বললেন, রাতের আমারে ওদের বাহনওলি
ছাড়া কাে ন বা৷ওনক পাব৷ আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি ৷ ৩ারপর ৷ ৩ ৷ ন বলণেন, €তষ্মেরা
দুজন এই দলটির ব্যাপারে জা ন কি ? তারা বললেন, ত্মী ন৷ ৷ তখন তিনি তার উপরে তাদের
আক্রমণের চক্রাস্তের কথা এ দু জনকে অবহিত করলেন এবং৩ তাদের নাম ব্যক্ত করে তাদের
দুজনকে তা গোপন রাখতে বললেন ৷ ৩ার৷ বল ণে ন ইয়৷ রাসুলাল্লাহভ্র আপনি কি তাদের কভ্রল
করার হুকুম দেবেন ন৷ ? তিনি বললেন,

মুহাম্মদ (সা) তার সহচরদের হত্যা করে’ এমন কথা লোকেরা রলড়াবলি করুক তা আমি
পসন্দ করি না ৷ ’

ইবনু ইসহাক (র) এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন ৷ তবে তার বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী করীম
(সা) শুধু হুযায়ফা ইবনুল য়ামান (বা) কেই তাদের নড়াম-ধাম জানিয়ে দিয়েছিলেন এবং এটাই
অধিকতর যুক্তি সংগত ৷ আল্লাহই সর্বজ্বধিক অবগত৷ ’

আবুদ দারদা (রা) এর একটি উক্তিও এ বক্তব্য সমর্থন করে ৷ কেননা, কোনও প্রসং গে
তিনি ইবনু মাসউদ (রা) এর সাগিরদ আলকামা (র) কে বলেছিলেন-“তোমাদের মাঝে
অর্থাৎ কুফাবাসীদের মাঝে কি রাসুল (সা) ইবণু মাসউদ (রা) নেই ?
তোমাদের মাঝে কি রাসুল (সা) এর রহস্যের ধারক-যা একমাত্র সে ব্যতিরেকে আর কেউ
জড়ানেনন্, অর্থাৎ হুযারফা (রা) যেই? তোমাদের মাঝে কি সেই ব্যক্তি যেই যাকে আল্লাহ
পাক মুহাম্মদ ( না) এর জবানীতে শ দ্বয়৩ ড়ান থেকে পড়ানড়াহ দিয়েছেন অর্থাৎ আত্মার (রা)
এছাড়া আমরা আযীরুল মু ’মিনড়ান উমর (রা) থেকেও এরুপ ৰিওয়ায়াত বর্ণনা করছি যে,
তিনি হুযায়ফা (রা) কে বলেছিলেন, “ তোমাকে আল্লাহর নামে কসম দিয়ে বলছি, আমার
নাম কি তাদের মাঝে রয়েছে ?” তিনি বললেন, জী না ৷ তবে আপনি ব্যতীত আর কাউকে
সম্ভাব্য অভিযোগ থেকে মুক্ত ঘোষণা করব না ৷ (অর্থাৎ আর কেউ এভাবে জিজ্ঞাসা করলে তাকে
হী বা না জবাব দিব না ৷ যাতে প্রকারান্তরে রাসুল (না)-এর রহস্য ফীস না হয়ে
যায় ৷ অনুরাদক) ৷

আমার মতে তাদের স০ খ্যা ছিল চৌদ্দ জন ৷ তবে কেউ কেউ বলেছেন বারো জন ৷ ইবনু
ইসহাক (র) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুযায়ফা (রা) কে৩ তাদের কাছে পাঠালে
তিনি তাদেরকে তার কাছে সমবেত করলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ (সা) তাদেরকে তাদের
কর্মকাণ্ড ও তার বিরুদ্ধে তাদের চক্রান্তের কথা অবহিত করলেন ৷ এ পর্যায়ে ইবনু ইসহড়াক
(র) তাদের নামের পুর্ণাঙ্গ তালিকা পেশ করে মন্তব্য করেছেন যে, এদের সম্বন্ধেই মহীয়ানঃ
পরীয়ান আল্লাহ নাযিল করলেন, “তারা বা সংকল্প করেছিল তা করতে
পারে নি (৯ : ৭৪) ৷

রায়হাকী (র) বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন মাসলামড়া (র) হুযায়ফা ইবনৃল য়ামান (বা)
থেকে-তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর বাহন উটনীর লাপাম ধরে তার আগে আগে
চলছিলাম ৷ আর আম্মার (রা) পিছন থেকে উট হাকাচ্ছিলেন ৷ কিৎবা আমি পিছন থেকে
হাকাচ্ছিলাম আর আত্মার (বা) তার আগে আগে লাপাম টেনে চলছিলেন ৷ আমরা পাহা,
মাটির কাছাকাছি পৌছলে বারো জন আরোহীকে তার পথ বোধ করে দাড়িয়ে থাকতে
দেখলাম ৷ বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না) এর মনোযোগ আকর্ষণ করলাম ৷ তিনি
তাদেরকে চ্যালেঞ্চ করলে তারা পালিয়ে পা ঢাকা দিল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে বললেন,
লোকগুলিকে তোমরা চিনতে পােরছ ? আমরা বললাম, জী না, ইয়া রড়াসুলাল্লাহা তারা তো
মুখোশাবৃত ছিল ৷ তবে আমরা তাদের রাহনগুলো চিনতে পেরেছি ৷ তিনি বললেন,

১ এ ধরনের গোপন বিষয়াদি একমাত্র হুযায়ফা (বা) র কাছেই সং রক্ষিত থাকত ৷-ন্ অনুবাদক

“এরা কিয়ামত পর্যন্ত চলমান মুনাফিক পােষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ৰু আর ওদের সংকল্পের কথা কি
তোমরা অনুধাবণ করেছ ?
আমরা বললড়াম ,জী না ৷ তিনি বললেন,
“তাদের ইচ্ছা ছিল গিরিপখে আল্লাহর রাসুলকে আক্রমণ করে তাকে সেখানে ফেলে
দেওয়া ৷ ”
আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তাদের গোত্রের কাছে কেন করমানঃ পাঠাচ্ছেন না,
যাতে করে প্রতি গোত্র তাদের অভিযুক্ত ব্যক্তির ছিন্ন মস্তক আপনার কাছে পাঠিয়ে দেয় ? তিনি
বললেন-

আরবরা পরস্পরে এমন কথা বলাবলি করবে যে, মুহাম্মদ তার দলের সহায়তায় লড়াই
করে করে অবশেষে আল্লাহ তাকে বিজয়ী করলে তাদের বিপক্ষে হত্যাযজ্ঞ চালাতে শুরু
করেছে ৷ তা আমি পসন্দ করি না ৷ ” তারপর বললেন, ইয়া আল্লাহ !
তাদের পায়ে দৃবায়লা নিক্ষেপ করুন ৷ আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুবায়লা কি ? তিনি
বললেন-

“তা হল অজােনর শিষ্য, যা তাদের প্রত্যঙ্গের মর্মমুলে মৃত্যুবান রুপে আঘাত হানরে, তাতে
সে হলোক হার যাবে ৷

সাহীহ মুসলিমে রয়েছে শুবা (র)কায়স ইবন উবাদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি
বলেন, আমি আত্মার (রা)কে বললাম, আচ্ছা, আলী (রা) এর ব্যাপারে আপনারা যে কর্মপন্থা
অনুসরণ করলেন, বলুন তো, তা কি আপনাদের নিজস্ব (ইজতিহাদী) অভিমত ছিল, নাকি
এমন কোন বিষয় ছিল যার অংগীকার আল্লাহর রাসুল (না) আপনাদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন
? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসুল (না) আমাদের নিকট থেকে এমন কোন বিষয় অংপীকার নেন
নি, যা আপামর মুসলিম জনতার কাছ থেকে যেন নি ৷ তবে হুযায়ফা (রা) রাসুলুল্লাহ (না)
থেকে আমাকে খবর দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন,

“আমার আলহড়ারের মাঝে এমন বার জন ঘুনাফিক রয়েছে, যাদের আট জন ততক্ষণ পর্যন্ত
জাপ্লাওে প্ররেশ করতে পারবে না ৷ যতক্ষণ না কোন উট সুইয়ের ছিদ্র দিয়ে প্ৰৰিষ্ট হয় ৷ ”

কাতাদা (র) থেকে অন্য একটি সুত্রের রিওয়ায়াতে রয়েছে ; আমড়ার উম্মতের মাঝে বার
জন যুনাফিক রয়েছে, যারা সুইয়ের ছিদ্র দিয়ে প্ৰবিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত জান্নড়াতে প্রবেশ করবেঃ

৪৮ আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া

ন৷ ৷” তাদের মাঝে আট জনের জন্য দৃবায়লা ই যথেষ্ট হয়ে, তা হল আগুনের শিখা, যা
তাদের স্কন্ধ সন্ধি দিয়ে ঢুকে বুক ফুড়ে (বর হয়ে ৷ ”

হাফিজ বায়হাকী (র) বলেন, হুযায়ফা (রা) থেকে আমরা এরুপ রিওয়ারাত ও পেয়েছি যে,
তারা ছিল চৌদ্দ জন কিৎব৷ পনের জন ৷ আর আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে,
তাদের মাঝে বার জন ইহকাল ও পরকালে আল্লাহ এবং তীর রাসুলের সাথে যুদ্ধ ঘোবণাকায়ী
সাব্যস্ত হয়ে ৷ অবশিষ্ট তিন জনের ওয়র কবুল করা হয়েছে ৷ কেননা,৩ তারা বলেছিলেন যে,
আমরা ঘোবকের ঘোষণা শুনতে পাইনি এবং নবী করীম (সা) এর ইচ্ছা সম্পর্কেও আমরা
জানতাম না ৷ ইমাম আহমাদ (র)৩ তার ঘুসনাদ গ্রন্থে এ হাদীলটি রিওরায়াত করেছেন ৷

ইয়াযীদ ইবন হারুন (র) আবৃ৩ তুফায়ল (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন,
রাস্ফুপুল্লাহ (সা) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন কালে একজন ঘোষককে হুকুম দিলে সে এরুপ
ঘোষণা দিল “র ৷ সুলুল্লাহ্ (সা) পাহাড়ী পথ ধরে চলবেন, সৃতরাৎ অন্য কেউ সে পথে যাবে
না ৷ পরে যখন হুযায়ফা (রা) সামনে থেকে রাসুলের বাহন টেনে নিচ্ছিলেন আর আত্মার (রা)
পিছন থেকে হাকিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন একদল মুখোশধাবী লোক দ্রুত গতিতে এগিয়ে এলে
অন্মোর (রা)শ্ কে ঘিরে ফেলল ৷ আত্মার (রা) ঘুরে দাড়িয়ে বাহনগুলোর মুখে আঘাত করতে
লাগলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) হুযায়ফা (রা)কে বললেন, হয়েছে, হয়েছে, চল এবং রাসুলুল্লাহ
(সা) উপত্যকা থেকে সমতলে অবতরণ করলেন ৷ ততক্ষণ আত্মার (রা) ফিরে এলে তিনি
বললেন, ও আত্মার! তুমি লোকগুলোকে চিনতে পেয়েছি কি ?’ তিনি বললেন, প্রায় সব কটি
বাহন আমি চিনেছি, কিন্তু আরােহীরা ছিল যুখেশোবৃত৷ ৷তিনি বললেন, ওদের উদ্দেশ্য কি ছিল,
তা কি তুমি জান ? তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসুলই সর্বাধিক অবগত ৩৷ তিনি বললেন,
তাদে র উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর রাসুলকে আক্রমণ করে তাকে ঠেলে ফেলে দেওয়া ৷ বচ্নািকারী
বলেন, এ বর্ণনা প্রসংগে একবার আত্মার (রা) নবী কয়ীম (সা) এর একজন সাহাবীর সাথে
কানাঘুব৷ করলেন ৷ লোকটিকে তিনি বললেন, আল্লাহর দোহ ই দিয়ে ওে তামাকে বলছিতু
জান, গিরিপথের ঘটনায় লোক সং থ্যা কত ছিল ? সে বলল, চৌদ্দ জন ৷ আত্মার (রা) বললেন,
তুমিও যদি তাদের একজন হয়ে থাক,৩ তাহলে তারা ছিল পরের জন ৷ তিনি বললেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) তাদের মাঝে তিন জনের ওমর গ্রহণ করেছিলেন ৷ কেননা, তারা বলেছিল যে,
আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) এর ঘোষকের ঘোষণা শুনতে পাইনি এবং ঐ দলটির উদ্দেশ্যও
আমলের জানা ছিল না ৷ আত্মার (রা) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবগ্রিষ্টি বার জন দুনিয়া
ও আখেরাতে আল্লাহ এবং তার রাসুলের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোবণক্যেরী রুপে সাবম্ভে হয়ে ৷

মসজিদে যিরার এর ঘটনা
আল্লাহ তাআল৷ ইরশাদ করেন

“এবং যারা মসজিদ নির্মাণ ”করেছে ক্ষতিসাবন, কুফরী ও যু মিনদের মাঝে বি ৬দ সৃষ্টির
উদ্দেশ্যে এবং ইতােপুভৈর্ব আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি যুদ্ধ করেছে, তার গোপন

Leave a reply