দারুল উলূম দেওবন্দ ও মদীনা ইউনিভার্সিটির কিছু মৌলিক পার্থক্য

বিশ্বব্যাপী সো কল্ড সালাফীজম প্রচারের বৃহত্তম কেন্দ্র কথিত মদীনা ইউনিভার্সিটির সাথে এমনকি আশআরী, মাযহাবী ও ছূফিবাদী চিন্তার পৃষ্টপোষক ঐতিহ্যবাহী আল-আযহারের সাথেও দারুল উলূম দেওবন্দের বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এর আগে বলা দরকার, আমার জানা মতে কথিত মদীনা ইউনিভার্সিটির অবস্থান প্রকৃত মদীনা মুনাওয়ারাতে তথা আল-হারামুল মাদানীতে নয়; বরং মদীনার সীমার বাইরে। তবে এটি সৌদি সরকারের প্রশাসনিক ‘মদীনা অঞ্চল’ منطقة المدينة المنورة বা প্রদেশের মধ্যে পড়েছে। তাছাড়া মদীনার সীমার মধ্যেও যদি এ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত হতো, তাহলে পাশ্চাত্য স্টাইলের এ প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোনো মর্যাদা থাকতো না; বরং এটি আছহাবে ছুফ্ফার শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সাংঘর্ষিকই থেকে যেতো। যাই হোক, নীচে দারুল উলূম দেওবন্দ ও কথিত মদীনা ইউনিভার্সিটির মধ্যে কিছু পার্থক্য তুলে ধরছি।

১. দারুল উলূম দেওবন্দ বৃটিশ বিরোধী মুজাহিদ আলিমদের হাতে প্রতিষ্ঠিত। বিপরীতে মদীনা ইউনিভার্সিটি বৃটিশদের সেবাদাস ও পশ্চিমাদের মিত্র সৌদি সরকারের হাতে প্রতিষ্ঠিত।
২. দারুল উলূম দেওবন্দ দীনদার মুসলমানদের সাহায্যে পরিচালিত হয়। বিপরীতে মদীনা ইউনিভার্সিটি #হাজী ও #শ্রমিকদের থেকে নেওয়া অবৈধ #ইকামা ট্যাক্স এবং মুসলমানদের #খনিজ সম্পদ থেকে লুট করা অর্থে #রাজতন্ত্র বান্ধব ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
৩. দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষা পদ্ধতি ও স্তর বিন্যাস হাজার বছরের মুসলিম ঐতিহ্যের অনুসরণে নির্ধারিত। বিপরীতে মদীনা ইউনিভার্সিটির শিক্ষা পদ্ধতি ও স্তর বিন্যাস সম্পূর্ণ পশ্চিমা স্টাইলের অনুকরণে নির্ধারিত।
৪. দারুল উলূম দেওবন্দ ক্ষমতাসীন তাগুতদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে। বিপরীতে মদীনা ইউনিভার্সিটি ক্ষমতাসীন তাগুতদের চাকুরেদের مؤظفين দ্বারা পরিচালিত হয়।
৫. দারুল উলূম দেওবন্দ ফিকহী মাযাহেব المذاهب الفقهية ও আত্মশুদ্ধির তছউফকে تصوف التزكية স্বীকৃতি দেয়। বিপরীতে মদীনা ইউনিভার্সিটিতে মাযহাব ও তছউফের প্রতি নেতিবাচক ধারণা দেওয়া হয়। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর মত উদার ব্যক্তিকেও ‘তছউফ’ সংশ্লিষ্টতার কারণে মদীনা ইউনিভার্সিটির উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
৬. দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় মদীনা ইউনিভার্সিটির শতবছর পূর্বে ১৮৬৬ সালে। বিপরীতে মদীনা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে ।

৭. দারুল উলূম দেওবন্দে ইলমের সাথে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের উপর আমলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠান মদীনা ইউনিভার্সিটিতে এসবের উপর আমলের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; ঐচ্ছিক।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের সর্বপ্রাচীন নিয়মতান্ত্রিক النظامي ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো ১৮৭৪ সালে দেওবন্দী আলেম ও বৃটিশ বিরোধী মুজাহিদ মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানবী রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদে হারাম সংলগ্ন ছৌলতিয়া মাদ্রাসা (এটিতে বর্তমানে দাওরায়ে হাদীছ পর্যন্ত পড়াশোনা রয়েছে। পরবর্তী পোস্টে এটি নিয়ে কথা হবে ইনশা-আল্লাহ। অতঃপর সৌদি আরব ও ইয়েমেনের খ্যাতিমান কিছু নন-সালাফী ওলামায়ে ও মাশায়েখের পরিচয়ও তুলে ধরা হবে)।

মহান রব আমাদেরকে সর্বাধিক সত্য ও সুন্দরের পক্ষে অবস্থান নেবার তৌফীক দান করুন।

আবুল হুসাইন আলেগাজী
১০.২.২০১৮, চট্টগ্রাম।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.