দ্বিতীয় হিজরীতে বদর যুদ্ধের পূর্বে রমাযান মাসের রােযা ফরয হওয়া প্রসঙ্গে

আলী ইবন আসিম আইশা (রা) সুত্রে বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন (আর্থাৎ) আহ্লে
কিতাব সম্পর্কে তারা আমাদেরকে জুমুআর দিন এবং কিবলার চাইতে অন্য কোন জিনিসের
জন্য বেশী হিৎ না করে না আল্লাহ আমাদেরকে জুমুআর দিন দান করেছেন ৷ আর ইয়াহ্রদীরা
এ সম্পর্কে গােমরাহ হয়েছে ৷ আল্লাহ আমাদেরকে কিবলার দিকে হিদায়াত করেছেন ইয়াহ্রদীরা
কিবলা সম্পর্কে গােমরাহ ৷ ইমামের পিছনে আমীন বলার জন্যও চারা আমাদেরকে হিংসা
করে ৷

দ্বিতীয় হিজরীতে বদর যুদ্ধের পুর্বে রমাযান
মাসের রোয৷ ফরম হওয়া প্রসঙ্গে

ইবন জারীর বলেন : এই সনে রমাযানের রােয়৷ ফরম করা হয় ৷ কেউ কেউ বলেন যে ,
এবইি বছর শাবান মাসে রোযা ফরম করা হয় ৷ এরপর তিনি বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সা )
মদীনায় আগমন করে দেখতে পান যে ইয়াহুদীর৷ আশুরার দিন রােযা পালন করছে ৷
সম্পর্কে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে৪ এ এমন একটা দিন যেদিন আল্লাহ মুসএা
(আ)-কে নাজাত দেন (এবং এ দিনে ফিরআওনের লোকজনকে ডুবিয়ে মারেন ), তখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তোমাদের চাইতে আমরাই বরং মুসার বেশী ঘনিষ্ঠ ৷ তাই তিনি
নিজে আশুরার রােযা রাখেন এবং লোকজনকে এ দিনে রোয৷ রাখার নির্দেশ দেন ৷ বুখারী এবং
মুসলিম শরীফে ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে হাদীছটি বর্ণিত আছে ৷ আল্লাহ তাআল৷ বলেন :

হে ঈমানদ৷ ৷রগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হলো, যেমন বিধান দেয়া হয়েছিল
তোমাদের পুর্ববর্তিগণকে, যাতে করে তে ড়ামরা মুত্তাকী হতে পার (সিয়াম) স্বল্প
কয়েকদিনের তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ স০ খ্যা পুরণ
করে নিতে হবে ৷ এটা যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া-
একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা ৷ যদি কেউ স্বত৪স্ফুর্তভাবে সৎকার্য করে তবে তা তার
পক্ষে অধিক কল্যাণকর ৷ আর সিয়ড়াম পালন করাই তে ৷মাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর-
যদি তোমরা জানতে ৷ রমযান মাস, এ মাসে মানুষের দিশারী, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও
সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরুপে কুরআন নাযিল হয়েছে ৷ সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস
পাবে তারা যেন এতে রোযা পালন করে ৷ আর কেউ পীড়িত থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য
সময় এ স০ খ্যা পুরণ করবে ৷ আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টকর তা চান না
এ জন্য যে তোমরা স০ খ্যা পুর্ণ করবে এবং৫ তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য
তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় করতে পার (২ :
১৮৩-১৮৫) ৷

এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীছ আর বর্ণিত রিওয়ায়াত এবং এ থেকে সংগৃহীত বিধান সম্পর্কে
আমরা তাফসীর গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য ৷
ইমাম আহমদ (র) আবু নসর, আম্র ইবন মুররা সুত্রে মুআয ইবন জাবাল থেকে বর্ণনা
করে বলেন : সালাতের উপর তিনটা অবস্থা অতিবাহিত হয় সিয়ামের উপরও তিনটা অবস্থা
অতিক্রান্ত হয়েছে ৷ তারপর তিনি সালা তে তর অবস্থা উল্লেখ করেন সিয়ামের অবস্থা সম্পর্কে
তিনি বলেনং : রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করে নামে তিন দিন সিয়াম পালন করতেন ৷ এ
সময় তিনি আশুরার রোযাও রাখতেন ৷ তারপর আল্লাহ ন্গুার উপর রােয়৷ ফরয় করে আয়াত
নাযিল করেন :

থেকে ১ ৷ ; পর্যন্ত ৷ তখন্য যার ইচ্ছা রোযা রাখতো

আর যার ইচ্ছা একজন মিসকীনকে খাবার দান করলেত তার জন্য আ ই যথেষ্ট হতো ৷ অতঃপর

আল্লাহ অপর আয়াত নাযিল
পর্যন্ত ৷ এতে সুস্থ মুকীমের জন্য সিয়াম পালন অবধারিত করেন
এবং পীড়িত আর মুসাফিরের জন্য রুখসত বা রাখা না রাখার অবকাশ দেন ৷ যে বয়োবৃদ্ধ
ব্যক্তি সিয়াম পালন করতে সক্ষম নয়, তার জন্য রােযা পালন না করার এ অবকাশ বা
অনুমতি ৷ এ হলো দুটো অবস্থা ৷ তিনি বলেন০ : তারা পানাহার এবং ত্রীগমন করতে৷ যাবত না
ঘুমাতে৷ ৷ ঘৃমালে এ (সব থেকে) বিরত থাকতে ৷ ৷ আনসারের এক ব্যক্তি যাকে বলা হতে তা
ছুরমা, লোকটি সারাদিন রােযা রেখে কায়িক শ্রম দেয় অর্থ ৎ শ্রমিকের কাজ করে এবং গৃহে
ফিরে ইশার নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে পানাহার না করেই এবং এ অবস্থায়ও পরদিন বোযা
রাখে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (স) তাকে দেখলেন যে, বেশ পরিশ্রম করছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে
বললেনঃ

“কি ব্যাপার, আমি তোমাকে কষ্টের পরিশ্রম করতে দেখছি ৷ লোকটি তাকে এ ব্যাপারে
অবহিত করলো ৷ বর্ণনাক৷ রী বলেন০ ং একদিন উমর (রা) নিদ্রার পর ত্রীগমন করেন ৷ পরে তিনি
রাসুলুল্লাহ্ (স) এর নিকট আগমন করে তাকে এ সম্পর্কে জানালে আল্লাহ তা আলা ষ্কঠুধু ; ৷
পর্যন্ত আয়াত নাযিল করেন ৷

আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে এবং হাকিম তার মুস্তাদরাকে মাসউদীর হাদীছ থেকে অনুরুপ
হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ আর বুখারী-মুসলিমে যুহ্রী সুত্রে আইশা (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন : আশুরায় রােযা রাখা হতো; কিন্ডু রমাযানের বোয়ার আয়াত নাযিল হলে যার ইচ্ছা
রোযা রাখভো যার ইচ্ছা না রাখতো ৷ ইমাম বুখারী (র ) ইবন উমর এবং ইবন মাসউদ (বা)

থেকে অনুরুপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷ এ বিষয়ে লিখার জন্য তাফসীর এবং আহকামুল কড়াবীর’
এ ভিন্ন মওকা রয়েছে ৷ আল্লাহ্র নিকট সাহায্য কাম্য ৷

ইবন জারীর বলেন এ বছর লোকজনকে যাকাতুল ফিত্র তথা সাদাকাতুল ফিতরের
নির্দেশ দেয়া হয় ৷ কথিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঈদুল ফিতরের একদিন বা দু’দিন পুর্বে
লোকজনের উদ্দেশ্যে থুত্বা দেন এবং তিনি সাদাকা ফিত্র আদায় করার জন্য ল্যেকজনকে
নির্দেশ দেন ৷ রাবী বলেন : এ বছর রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঈদের নামায পড়েন এবং লোকজনকে
নিয়ে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বহির্গত হন ৷ আর এ ছিল প্রথম ঈদের নামায, যা রাসুলুল্লাহ (সা)
আদায় করেন ৷ লোকেরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সম্মুখে একটা বল্লম নিয়ে র্দাড়ায় ৷ এটা ছিল
যুবায়র (রা)-এর ৷ হাব্শার বাদশাহ তাকে এ বল্লম দান করেছিলেন ৷ ঈদে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
সম্মুখে এটি স্থাপন করা হতো ৷

আমি (ইবন কাহীর) বলি : পরবভীকািলের একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেন যে, এ বছর
সম্পদের যাকাত ফরয করা হয় ৷ বদর যুদ্ধের ঘটনা আলোচনা করার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্ তাআলা ৷ তার প্ৰতিই তো আস্থা আর তার উপরই ভরসা ৷
লা হাওলা ওয়া লা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিব্যিল আযীম ৷

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ

সে দিন ছিল মীমাংসারদিন যে দিন দু’দল পরস্পরের মুখোমুখি হন (৮ : ৪ ১) ৷
আল্লাহর বাণী ৷ৰু

“এবং বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে আল্লাহ র্দুন্ভ্র৷ তোমাদেরকে সাহায্য

করেছিলেন ৷ সুতরাং তেড়ামরা আল্লাহ্কে ভয় কর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর ৷, (৩ :
১ ২৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :

“এটা এরুপ, যেমন তোমার প্রতিপালক তোমাকে ন্যাযভােবে তোমার গৃহ হতে বের
করেছিলেন, অথচ বিশ্বাসীদের এক দল এটা পসন্দ করেনি ৷ সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার
পরও তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় ৷ মনে হচ্ছিল তারা যেন মৃত্যুর দিকে চালিত হচ্ছে
আর তারা যেন এটা প্রত্যক্ষ করছে ৷ স্মরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে,
দু’দলের একদল তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে; অথচ তোমরা চাচ্ছিলে যে, নিরস্ত্র দলটি
তোমাদের আয়ত্তাধীন হোক আর আল্লাহ চাচ্ছিলেন যে, তিনি সত্যকে তীর বাণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
করেন এবং কাফিরদেরকে নির্মুল করেন ৷ এটা এ জন্যে যে, তিনি সত্যকে সত্য ও অসত্যকে
অসত্য প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধীরা এটা পসন্দ করে না ৷ (৮ : ৫৮ ) ৷ এ ভাবে বদর
যুদ্ধের বর্ণনা সুরা আনফালে যে পর্যন্ত করা হয়েছে তার বিস্তারিত আলোচনা আমরা তাফসীর
গ্রন্থে যথাস্থানে করেছি ৷ এখানে প্রয়োজন অনুযায়ী তার পুনরাবৃত্তি করা হবে ৷

ইবন ইসহাক আবদুল্লাহ ইবন জাহড়াশের অভিযান সম্পর্কে আলোচনার পর লিখেন : এর
কিছু দিন পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) জানতে পারলেন যে, আবু সুফিয়ান সাখর ইবন হার্ব
কুরায়শদের বিশাল এক কাফেলা নিয়ে সিরিয়া থেকে রওনা হয়েছে ৷ তার সাথে রয়েছে বিভিন্ন
প্রকার সম্পদ ও বাণিজ্য-সভার ৷ তিনি আরও জানলেন যে, এই কাফিলায় ত্রিশ অথবা চল্লিশ জন
লোক রয়েছে, যাদের মধ্যে মাখরামা ইবন নাওফিল এবং আমর ইবন আসও আছে ৷ মুসা ইবন
উক্বা ইমাম ষুহ্রী থেকে বর্ণনা করেন যে, এটা ছিল ইবন হাযরামীর হত্যাকাণ্ডের দুমাস পরের

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.