নবী করীম (সা)- এর বয়স সম্পর্কিত আলোচনা:

একটি তাত্তিক আলোচনা : আর রাওযগ্রন্থে আবুল কাসিম আসৃ সুহায়লী (র) বলেছেন,
তার সারমর্ম হলো এই যে, একাদশ হিজরী বর্ষের বারই রবীউল আউয়াল সোমবারে নবী
কবীম (না)-এর ওফাত হওয়ার ব্যাপারটি এক অকল্পনীয় ব্যাপার ৷ কেননা, দশম বর্ষের বিদায়
হজে নবী করীম ণ্প্(সা) আরাফায় উকুফ করেছিলেন শুক্রবারে, যা ছিল যিলহজ মাসের নয়
তারিখ ৷ সুতরাং যিলহজ মাসের প্রথম তারিখ ছিল অনিবার্যত বৃহস্পতিবার ৷ আর সে হিসাবে
পরবর্তী মাসগুলি সব কটি পুর্ণাত্গ ত্রিশ দিন কিৎবা সব কটি উনত্রিশ দিন ধরা হলে কিৎবা
কোন কোন মাস ত্রিশ দিনের ও অন্যান্য মাস উনত্রিশ দিনের ধরা হলে এর কোন হিসাবেই
রবীউল আউয়ালের বার তারিখ সোমবার হওয়া সাব্যস্ত হয় না ৷ আর বার তারিখের অভিমতটি
যেমন প্রসিদ্ধ তার প্রতিকুলে এ প্রশ্নটিও তেমনই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে ৷ অনেকে অনেক ভাবে
এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন ৷ তবে সুষ্ঠু জবাব হতে পারে মাত্র একটি পন্থায় ৷
তা হল মক্কা ও মদীনায় চীদ দেখার ব্যবধান মােন নেয়া ৷ অর্থাৎ এ ভাবে যে, মক্কাবাসীরা
দশম হিজরীর যিলহভ্রুজ্জ্বর র্চাদ দেখছিলেন বৃহস্পতিবার রাতে ৷ ১ কিন্তু মদীনাবাসীগণ
শুক্রবারের (পুর্ববর্তী) সন্ধ্যড়ার আগে তা দেখতে পাননি ৷ আইশড়া (বা) প্রমুখের বর্ণনায় এ
বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় ৷ (তিনি বলেছেন) রড়াসুলুল্লাহ (সা) যিলকদ মাসের পাচ দিন
অবশিষ্ট থাকাকালে বিদায় হফ্তের উদ্দেশ্যে মদীনা হতে প্রস্থান করলেন ৷ আমাদের পুর্ব
আলোচনা সুত্রে তার প্ৰস্থান দিবস ছিল শনিবার ৷ ইবন হড়াঘৃম (র)-এর ধারণা অনুযায়ী
বৃহস্পতিবার হতে পারে না ৷ কেননা, তাতে সন্দেহাতীতভাবে পড়াচ দিনের অধিক অবশিষ্ট
থাকা অনিবার্য হয়ে পড়ে ৷ আবার প্রস্থান দিবস শুক্রবারও হতে পারে ন্ না ৷ কেননা, আনাস
(রা)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) যুহরের সালাত আদায় করলেন মদীনায় চার
রাকআত আর আসৃর আদায় করলেন ঘুলু-হুলায়ফোয় দুই রাকআত ৷ যেটি কথা, এ কথা
প্রমাণিত যে, তিনি মাসের পাচ দিন বাকী থাকা কালে শনিবার প্রস্থান করেছিলেন ৷ এ হিসাব
অনুসারে মদীনাবাসীগণ যিলহজের চীদ দেখেছিলেন শুক্রবার পুর্ববর্তী সন্ধ্যড়ায় ৷ তা হলে
মদীনাবাসীগণের কাছে যিলহজের প্রথম দিন ছিল শুক্রবার ৷ পরবর্তী মাসওলি (যিলহজ ১০ হি
ও যুহড়াররম, সফর ১১ হিজরী) পুর্ণাৎগ ত্রিশ দিনের ধরা হলে পহেলা রবীউল আউয়াল হবে
বৃহস্পতিবার ৷ সুতরাং বারই রবীউল আউয়াল হয়ে সোমবার ৷ আল্লাহ সমধিক অবগত ৷

নবী করীম (না)-এর বয়স সম্পর্কিত আলোচনা : সহীহ্ ৰুখারী মুসলিম গ্রন্থদ্বয়ে মালিক
(র), আনাস (বা) সনদের হাদীস সাব্যস্ত হয়েছে যে, আনাস ইবন মালিক (বা) বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) অতি দীর্ঘও ছিলেন না, আবার অতি খর্বকায়ও ছিলেন না ৷ একেবারে ধবধবে
সাদাও ছিলেন না, আবার শ্যামলাও ছিলেন না ৷ তার কেশ অতিশয় ফৌকড়ানােও ছিল না,
আবার একেবারে সেজােও ছিলো না ৷ চল্লিশ বছরের মাথায় মহান মহীয়ান আল্লাহ র্তাকে
নৰুয়তে ভুষিত করলেন ৷ পরে মক্কায় দশ বছর অবস্থান করলেন এবং মদীনায় দশ বছর
অবস্থান করলেন এবং ষাট বছরের মাথায় আল্লাহ তাকে ওফাত দান করলেন ৷ তখন তার মাথা
ও দাড়ির কুড়িটাও সাদা হয়নি ৷ ইবন ওয়াহ্ব (র)-ও উরওয়া (র) (একাধিক সনদে) আনাস

১ অর্থাৎ র্চড়াদের নিয়মড়ানুসারে বুধবার দিন শেষের বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার সন্ধ্যড়ায় ৷ অনুবাদক

(বা) থেকে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ হ ৷ফিয় ইবন আসা ৷কির বলেছেন, আনাস (বা) হতে
যুহ্য়ী সুত্রের সনদটি বিরল ৷

তবে আনাস থেকে রাবীআ সুত্রের আরো অনেকে এরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এরপর ইবন
আসাকির একটি সনদে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, সুলায়মান ইবন বিলাল (র) (ইয়াহ্য়৷ ইবন
সাঈদ ও রাবীআ সুত্রে) আনাস (বা) থেকে এ মর্মে যে, আনাস বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)
ইনতিকাল করলেন ভেষট্টি বছর বয়সে ৷ অনুরুপ, ইবনুল বারবারী ও নাফি ইবন আবু নৃআয়ম
(র)ও ও(রাবীআ সুত্রে) আনাস (বা) হতে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইবন আসাকির (র)
বলেন, তবে আনাস (বা) হতে রা ৷ৰী আ সুত্রে স রক্ষিত বিবরণ হল ষটি’ বছর ৷ এ মন্তব্যের
পরে ইবন আসাকির (র) হাদীসটি মালিক, আওযাঈ মিস আর, ইব্রাহীম, ইবন তড়াহ্মান,
আবদুল্লাহ ইবন উমর, সুলায়মান ইবন বিলাল, আনাস ইবন বিলাল, আনাস ইবন ইয়ায,
দারাওয়ারদী ও মুহাম্মদ ইবন কায়স আল-মাদনী (র) প্রমুখ হতে সকলেই (রাবীআ সুত্রে)
ানাস (বা) হতে বর্ণনা করেছেন ৷ আনাস (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করলেন,
তখন তার বয়স ছিল ষটি বছর ৷ বায়হাকী (র) বলেন, আবুল হুসায়ন ইবন বুশৃরান (র) আবু
পানির আল রাহিলী (র) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে
বললাম, আল্লাহ্র রাসুল (সা) যখন নবুওতের দায়িতৃপ্রাপ্ত হলেন তখন তার কত বয়স ছিল ?
তিনি বললেন, চল্লিশ বছর ৷

আবু গালিব (র) বললেন, তারপরে কী কী হল? আনাস (রা) বললেন, মক্কায় ছিলেন দশ
বছর এবং মদীনায় দশ বছর ৷ ফলে মহান মহীয়ান আল্লাহ যে দিন র্তাকে তুলে নিলেন সে দিন
তার ষটি বছর পুর্ণ হয়েছিল ৷ তখনও তিনি ছিলেন সরল, সুঠাম, সুন্দর সুগঠিত পুরুষ ৷ ইমাম
আহমদ (র) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন, আবদুস সামাদ ইবন আবদুল ওয়ারিছ (র) থেকে
ঐ সনদে ৷ পক্ষাতরে মুসলিম (র) রিওয়ায়াত করেছেন, আবু :া৷সুসান, আনাস ইবন মালিক
(যা) থেকে; তিনি বলেন, নবী করীম (সা)-কে তুলে’ নেয়া হল যখন তিনি তেযট্টি বছরের ;
উমর (রা)-কেও তুলে নেয়া হয়েছে তার তেযট্টি বছর বয়সে ৷

এ বর্ণনা একাকী মুসলিম (র) এর ৷ তবে পুর্ববর্তী বর্ণনার সাথে এ বর্ণনার বৈপরীত্য নেই ৷
কেননা, আ ৷রবরাসীর৷ সংখ্যা বর্ণনায় প্রায়শ দশকের মধ্যবর্তী একক সংখ্যা উহ্য করে দিয়ে
থাকে ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে লায়ছ ইবন সা দ (র) ’আ ৷ইশা (বা) সনদে হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে,
রাসুলুল্পাহ (সা) ওফাত বরণ করেছিলেন ৫তযট্টি বছর বয়সে ৷ যুহ্য়ী (র) বলেছেন, সাঈদ
ইবনুল মুসাব্যিব (র) আমাকে অনুরুপ বলেছেন ৷ মুসা ইবন উক্বা, উকায়ল, ইউনুস ইবন
ইয়াষীদ ও ইবন জুরায়জ (র) যুহ্য়ী (র) হতে, আইশা (রা) সনদে রিওয়ায়াত করেছেন ৷
আইশা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করলেন যখন তার বয়স হয়েছিল তেষ ট্টি
বছর ৷ যুহ্য়ী (র) আরো বলেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসায়িব্রুব (র)-ও আমাকে অনুরুপ খবর
দিয়েছেন ৷

বুখারী (র) বলেছেন, আবু নু’আয়ম (র) সুত্রে আইশা ও ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত
হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করলেন, তার উপরে কুরআন নাযিল
হচ্ছিল ৷ আর মদীনায় দশ বছর ৷ ! মুসলিম (র) এ হাদীস উদ্ধৃত করেন নি ৷

আবু দাউদ আত্-তায়ালিসী (র) র্তার মুসনাদে বলেছেন ৷ শুবড়া (র) ঘুঅড়াবিয়ড়া ইবন আবু
সৃফিয়ান (না) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, নবী করীম (সা) কে তুলে নেয়া হল যখন
তিনি তেয়ট্টি বছর বয়সের, আবু বকর (রড়া)-কেও যখন তিনি তেষট্টি বছর বয়সের এবং উমর
(রা)-কেও যখন তিনি তেবট্টি বছর বয়সের ছিলেন ৷ মুসলিম (র)-ও হড়াদীসটি গুনদার শুবড়া
(র) সনদে অনুরুপ রিওয়ড়ায়াত করেছেন এবং তা একাকী মুসলিম (র) এর রিওয়ড়ায়াত; বখড়ারী
(র) তা বর্ণনা করেন নি (আবু দাউদ-এর এ সনদে) ৷ কেউ কেউ আমির ইবন সড়াদ (সরাসরি)
ঘুআৰিয়া থেকে বলেছেন ৷ তার সঠিক সনদ হবে যা আমরা উদ্ধৃত করেছি, অর্থাৎ আমির
ইবন সাদ, জারীর সুত্রে মুআবিয়ড়া থেকে ৷ অনুরুপ, আমির ইবন শারাহীল (র) (জারীর সুত্র)
মুআবিয়া (রা) সনদেও হাদীসটি আমরা বর্ণনা করে এসেছি ৷ হাফিয ইবন আসাকির (র)-ও
কাযী আবু ইউসুফ (র) আনাস (রা) সনদে হাদীসটি রিওয়ড়ায়ড়াত করেছেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করলেন তেবট্টি বছর বয়সে; আবু বকর (রা) এর ওকাত হল
তেবট্টি বছর বয়সে এবং উমর (রা) এরও ওফাত হল তেবট্টি বছর বয়সে ৷

ইবন লাহীআ (র) বলেছেন, আবুল আসৃওয়াদ (র) আইশা (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (না) ও আবু বকর (বা) আমার কাছে ভীদের জন্মকাল সম্পর্কে আলোচনা
বন্মলেন ৷ তাতে দেখা গেল যে, রাসুলুল্লাহ (সা) আবু বকর (রা)-এর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন ৷
পরে রড়াসুলুল্লাহ (সা) তেযট্টি বছর বয়সে ওফাত বরণ করলেন এবং জরপরে আবু বকরও
তেয়ট্টি বছর বয়সের সময় ইনতিকাল বল্মলেন ৷ ছড়াওরী (র) বলেছেন, আমাশ (র) কাসিম
ইবন আবদুর রহমান (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ কাসিম বলেন, রড়াসুলুল্লাহ (না) এবং আবু বকর
ও উমর (রা) প্রত্যেকে ইনতিকাল করেছিলেন ণ্:তয়ট্টি বছর বয়সে ৷

হাবল (র) বলেন, ইমাম আহমদ (র) সাঈদ ইবনৃল মুসায়িব্রব (র) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, নবী করীম (সা) এর উপরে ( ওহী) নাযিল করা হল, যখন তার বয়স তেতাল্লিশ বছর ৷
পরে তিনি মক্কায় অবস্থান করলেন দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর ৷ এ বংনাি বিরল সুত্রীয়;
তবে সনদটি বিশুদ্ধ ৷ আহমদ (র) বলেন, হুশায়ম (র) শাবী (র) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) নবুয়তপ্রাপ্ত হলেন, যখন তার বয়স চল্লিশ বছর ৷ পরে তিনি তিন বছর অবস্থান
করলেন ৷ তারপর জিবরীল (আ) কে র্তার নিকটে পাঠানো হল রিসালাত সহকারে ৷ এরপর
দশ বছর তিনি (মক্কায়) অবস্থান করলেন ৷ এরপর মদীনায় হিজরত করলেন এবং তেবট্টি বছর
বয়সে তিনি ইনতিকাল করলেন ৷ ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবন হাবল (র) বলেছেন,
আমাদের কাছে যা প্রমানিত হয়েছে, তা হল, তেযট্টি বছর ৷

গ্রস্থকাংরর অভিমত : মুজাহিদ (র) শাবী (র) থেকে অনুরুপ রিওয়ড়ায়ড়াত করেছেন ৷
ইসমাঈল ইবন আবু খড়ালিদ (র) সুত্রের হড়াদীসও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে রড়াওহ্
ইবন উবড়াদা (র) ইবন আব্বাস (বা) সনদের হাদীসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) (নবুয়ড়াত
প্রাপ্তির পরে) মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে তিনি ইনতিকাল
করেন ৷ আর বৃখড়ারী শরীফে রাওহ্ ইবন উবড়াদা (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে এরুপ অন্য
একটি সনদে রয়েছে ৷ ইবন আব্বাস (বা) বলেন, রড়াসুলুল্লাহ (সা) নবুয়তপ্রাপ্ত হলেন চল্লিশ
বছর বয়সে ৷ পরে মক্কায় তের বছর অবস্থান করলেন, এরপর হিজরত করার আদেশ প্রাপ্ত

হলে দশ বছর মদীনায় অতিবাহিত করলেন ৷ এরপর তেষট্টি বছর বয়সে তিনি ইনতিকাল
করলেন ৷ ইমাম আহমদ (র)ও রাওহ্ ইবন উৰাদা, ইয়াহ্য়া ইবন সাঈদ ও ইয়াযীদ ইবন
হারুন (র) সকলে ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে হাদীসটি অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আবু
ইয়ালা আল-মাওসিলী (র) হাদীসটি রিওয়ড়ায়াত করেছেন ৷ হাসান ইবন উমর ইবন শাকীক
(র) ইবন আব্বাস (রা) সনদে; অনুরুপ উল্লেখ করেছেন ৷ পরে তিনি ইবন আব্বাস (না) থেকে
একাধিক সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ মুসলিম (র) হাদীসটি রিওয়ড়ায়াত করেছেন হস্ফোদ
ইবন সালামা (র)ইবন আব্বাস (বা) সনদে এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় অবস্থান
করলেন তের বছর-তীর কাছে ওহী পাঠানো হাচ্ছিল, (আর) মদীনায় দশ বছর এবং
ইনতিকাল করলেন ণ্,তষট্টি বছর বয়সে ৷ হাফিয ইবন আসাকির (র) মুসলিম ইবন জুনাদা (র)
সুত্রে ইবন আব্বাস (র) হতে পুর্ণ সনদে বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন আব্বাস (রা) বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেন তেষট্টি বছর বয়সে এবং আবু নাবরা (র) ইবন আব্বাস (রা)
সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তেষট্টি বছরের এ অভিমতটি অধিক প্রসিদ্ধ এবং অধিকাংণের
আনুকুল্য সমৃদ্ধ ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, ইসমাঈল (র) ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেন পয়ষট্টি বছর বয়সে ৷ মুসলিম (র)ও হাদীসটি
খালিদ আলু হাবযা (র) সুত্রে ঐ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) আরো
বলেছেন, হাসান ইবন মুসা (র) ইবন আব্বাস (রা) থেকে এ মর্মে যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) মক্কায় ণ্
অবস্থান করলেন পনের বছর ৷ অটি কিৎবা সাত বছর (শুধু) জোড়াতি দেখতে পােতন ও
আওয়াজ শুনতে (পত্তন এবং আট কিৎবা সাত বছর তার কাছে ওহী পাঠানো হচ্ছিল ৷ আর
মদীনায় অবস্থান করলেন দশ বছর ৷ মুসলিম (র)-ও হড়াম্মাদ ইবন সালামা (র) সুত্রে ঐ সনদে
এটি বর্ণনা করেছেন ৷ আহমদ (র) আরো বলেছেন, আফ্ফান (রা) বনু হড়াশিমের আযাদকৃত
গোলাম আশার (র) থেকে তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম,
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইনতিকালের দিন তার বয়স কত হয়েছিল ? তিনি বললেন, কোন
কওমের মাঝে তোমার ন্যায় ব্যক্তির কাছে এ বিষয়টি অজ্ঞাত রয়েছে বলে আমি তো ধারণা
করতড়াম না ৷ আম্মার (র) বলেন, আমি বললাম, আমি বিষয়টি অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি;
কিন্তু ফলে ব্যাপারটি মতভেদপুর্ণ পেয়েছি ৷ তাই এ বিষয় আপনার অভিমত সম্পর্কে অবগত
হওয়া বাঞ্চনীয় মনে করলাম ৷ তিনি বললেন, তুমি হিসাব করতে জান তাে ? আমি বললাম, জী
হী ৷ তিনি বললেন, (প্রথমে) ধর, চল্লিশ বছর, যার মাথায় নবুয়তপ্রাপ্ত হলেন, পরে পনর বছর
মক্কায় অবস্থান করলেন কখানা নিরাপদ, কখনো নিরাপত্তাহীন এবং দশ বছর মুহাজিররুপে
মদীনায় ৷ মুসলিম (র) এভাবেই হাদীসটি অনুরুপ রিওয়ায়ত করেছেন ইয়াযীদ ইবন যুরায় ও
গুবা ইবনুল হাজ্জাজ (র) ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইবন নুমায়র
(র) সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রা)-এর
কাছে এসে বলল, নবী করীম (না)-”এর উপর দশ বছর ওহী নাযিল করা হয়েছিল মক্কায় দশ
বছর এবং মদীনায় দশ বছর; তিনি বললেন, এ কথা কে বলল ? মক্কায় তীর উপরে নাযিল
করা হয়েছে পরের বছর এবং মদীনায় দশ বছরমােট পয়ষট্টি বছর এবং আরো কিছুদিন ৷
এ হাদীসের সনদ ও মুল পাঠ (মতন) একাকী আহমদ (র) বর্ণিত ৷ ইমাম আহমদ (র) আরো

বলেন, হুশায়ম (র) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, নবী করীম (সা)কে তুলে
নেয়া হল-যখন তার বয়স পয়ষট্টি বছর ৷ এ হাদীসও আহমদ (র) একাকী বর্ণনা করেছেন ৷
তিরমিষী (র) কিতাবুশৃ শামাইল-এ এবং আবু ইয়ালা আল; মাওসিলী (র)-ও বায়হাকী (র)
কাতাদা (র) সুত্রেনসব ও বংশধারা বিশারদ দড়াগৃফাল ইবন হানৃযালা (না) থেকে বর্ণনা
করেন যে, নবী করীম (না)-কে তুলে নেয়া হয়েছে যখন তিনি পয়ষট্টি বছরের ৷ পরে তিরমিযী
(র) মন্তব্য করেছেন ৷ নবী করীম (না) থেকে দাপফাল (রা)-এর হাদীস শ্রবণ’ পরিচিত নয়,
তবে তিনি নবী করীম (সা)-এর সময়ে পুর্ণ বয়স্ক পুরুষ ছিলেন ৷ বায়হাকী (র) বলেছেন, এ
বর্ণনা ইবন আব্বাস (রা) থেকে অড়াহরিত আশার (বা) ও তার অনুগামী বর্ণনা কারীদের
অনুকুল ৷ তবে ইবন আব্বাস (রা) থেকে তেষট্টি বছর সম্পর্কিত জ্যমাআতের (ছয় ইমামের)
রিওয়ায়াত অধিকতর বিশুদ্ধ এবং তারা অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও সংখ্যাবিচারে অধিক ৷ তাহীড়া
তাদের রিওয়ায়াত আইশা (বা) হতে উরওয়া (র)-এর রিওয়ায়াত আনড়াস (রা)-এর একটি
রিওয়ায়াত এবং মুআবিয়া (বা) হতে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ রিওয়ায়াতের অনৃকুলে ৷ সাঈদ ইবনুল
মুসায়িবে, আমের নারী ও আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলী (রা) এর অভিমতও অনুরুপ ৷

গ্রস্থকারের মত : আবদুল্লাহ ইবন উকবা, কাসিম ইবন আবদুর রহমান, হাসান বিসবী,
আলী ইবনৃল হুসায়ন এবং অন্য অনেকে অনুরুপ অভিমত পোষণ করেছেন ৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরল অভিমতসমুহ

এক : খলীফা ইবন খায়্যাত (র) কাতাদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইনতিকাল করেছেন তার বাষট্টি বছর বয়সে ৷ ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান (র)-ও
কাতাদা (র) হতে বিষয়টি অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ যায়দ আল আন্সী (র)-ও আনাস
(রা) সনদে এরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷

দুই : মুহাম্মদ ইবন আবিদ (র) মড়াকহুল (র) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) যখন ষ্ ইনতিকাল করেন তখন র্তার বয়স ছিল বাষট্টি বছর কয়েক মাস ৷
ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান (র) ও আবদুল হাযীদ ইব ন বাককার (র) মাকহুল (র) সনদে এরুপ
রিওয়ায়াত করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা) যখন ইনতিকাল করলেন তখন তার বয়স বাযট্টি বছর
সাড়ে ছয় মাস ৷

তিন : উল্লিখিত বর্ণনাসমুহের তুলনায় অধিকতর নিকটবর্তী অর্থাৎ কম বয়স যুক্ত বিবরণ
ইমাম আহমদ (র)-এর রিওয়ায়াত, রাওহ (র) (কাতাদা) হাসান (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-এর উপরে কুরআন নাযিল হয়েছিল মক্কায় আট বছর এবং হিজরত
করার পরে দশ বছর ৷ এ ক্ষেত্রে নৰুয়ত প্রাপ্তির ব্যাপারে যদি হাসান (রা) সংখ্যা গরিষ্ঠের ন্যায়
চল্লিশ বছরের অভিমত পােষণকাবী হন তবে তার বর্ণনা অনুসারে এ কথাই সাব্যস্ত হবে যে,
তিনি ওফাত কালে নবী করীম (না)-এর বয়স আটান্ন বছর হওয়ার অভিমত পোষণ করতেন ৷
এ বর্ণনাটি অভিনয় বিরল ধরনের এবং মুসাদ্দাদ (র) সুত্রে এ হাসান (বা) হতেই আমরা
রিওয়ায়াত করেছি যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেছেন ষাট বছর বয়সে ৷

তার : খালীফা ইবন খায়্যাত (র) বলেন, আবু আসিম (র)হড়াসান (রা) হতে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) নবুয়তপ্রাপ্ত হলেন পয়তাল্লিশ বছর বয়সে ৷ পরে মক্কায়

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.