রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

পরিচ্ছেদ

পরিচ্ছেদ

পরিচ্ছেদ
আল্লাহ তাআলা বলেন »
অর্থাৎ — আল্লাহই উর্ধ্বদেশে অড়াকম্পোমণ্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ন্য৩া৩ তো ৷র৷ তা
দেখতে পাও ৷ তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন এবং সুর্য ও চন্দ্রকে নিয়ম ধীন করেন ; প্ৰতোক
নির্দিষ্টকাল পর্যত অবের্তন করে ৷ তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমুহ বিশদভাবে
বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন
করতে পার ৷

তিনি ভুতলকে বিন্তুত করেছেন এবং তাতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতেষ্কে
প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় ৷ তিনি দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন ৷ এতে
অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য

পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভুখণ্ড তাতে তাঙ্গুর বাগনে শস্য (,ক্ষত্র একাধিক
শিরবিশিষ্ট অথবা এক শিরবিশিষ্ট থেজ্বর গাছ সিঞ্চিত একই পানিতে এবং ফল হিসেবে
এগুলোর কতক কতকের উপর আমি গ্রেষ্ঠতৃ দিয়ে থাকি ৷ অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের
জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন ৷ ( ১৩ : ২-৪ )

আল্লাহ তাআলা বলেন
অর্থাৎ বরং তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন আকম্পেমশুলী ও পৃথিবী এবং আকাশ থেকে
তোমাদের জন্য রর্ষণ করেন বৃষ্টি; তারপর আমি তা দিয়ে মনােরম উদ্যান সৃষ্টি করি তার
গাছপালা উদাত করবার ক্ষমতা ভেমােদের নেই ৷ আল্লাহর সাথে অন্য £কন ইলাহ্ আছে কি?
তবুও তারা শৃএমন এক সম্প্রদায় যারা সত্য-ৰিচ্যুত হয় ৷

বরং তিনিৰু যিনি পৃথিবীভ্রুক করেছেন বাসােপযােগী এবং তার মাঝে মাঝে প্রবাহিত করেছেন
নদী-নালা এবং তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বত ও দু সমুদ্রের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন অত্তরায়
আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কিং তবুওণ্ড ৩দের অনেকেই জানে না ৷ ২ ৭ ৬০ ৬১ )

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন
অর্থাৎ-তিনিই আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন; তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে পানীয় এবং

তা থেকে জন্মার উদ্ভিদ যাতে তোমরা গশুচারণ করে থাক ৷ তোমাদের জন্য তিনি তা দিয়ে
জন্মান শস্য যায়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর সব ধরনের ফলফলারি ৷ অবশ্যই এতে ঢিম্ভাশীল
সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন ৷

তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত : দিন সুর্য এবং চন্দ্র আর
নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে জারই ৰিধানে ৷ অবশ্যই এতে বোঞ্চাক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য
রয়েছে নিদর্শন ৷ ( ১৬ : ১০-১২)

এ আয়াতণ্ডলােতে আল্লাহ তাঅলাে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন
যেমন : ণহোড়-পর্কত গাছ-গাছড়া , ফলঘুল, নরম ও শক্ত ভুমি এবং জলে-স্থুলে সৃষ্ট নানা
প্রকার জড়পদার্থ ও প্রাণীকুল যা তীর মাহাত্ম্য ও কুদরত, হিকমত ও রহমতের প্রমাণ বহন
করে আবন্নে সাথে সাথে সৃষ্টি করেছেন তুপৃষ্ঠে ৰিচরণকারী সকল প্রাণীর জীবিকা ৷ দিনে রাতে
শীতে গ্রীষ্মে ও সকাল সন্ধ্যয়ে তারা যার যুখাণেক্ষী ৷

অর্থাৎ ভুপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িতু আল্লাহ্রই ৷ তিনি তাদের
স্থায়ী-অস্থায়ী অবন্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিভাবে সবই আছে ৷ (১১ : ৬)
হাফিজ আবু ইয়ালা বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ
(না)-কে বলতে শুনেছি যে,

অর্থাৎ আল্লাহ তা জানা এক হাজারটি প্রজাতি সৃষ্টি করেছেন ৷ তন্মধ্যে ছশ্ হলো
জলভাগে আর চারশ স্থল ভাগে ৷ আর এ প্রজাতিসমুহের যেটি সর্বপ্রথম ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, তা
হলো পঙ্গপাল ৷ পঙ্গপাল ধ্বংস হয়ে গেলে অপর পর প্রজাতি মালার সু৩ তা ছিড়ে গেলে দানাগুলাে
যেভাবে পর পর পড়তে থাকে ঠিক সেভাবে একের পর এক ধ্বং স হতে শুরু করবে ৷

এ হাদীসের সনৰুদ উল্লেখিত ৩একজন রাবী অত্যন্ত দুর্বল ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন০ :
ভুপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কে ন জীব নেই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কে ন পাখি
উড়ে না, যাও তাঘাদের মত একটি উম্মত ৩নয় ৷ কিভাবে কোন কিছুই আমি বাদ দেইনি ; তারপর
৷ ৩াদেব প্রতিপা ৷লকেব দিকে তাদের সকলকেই একত্র করা হবে ৷ (৬ : ৩৮ )
আকাশসমুহ ও তন্মধ্যন্থ নিদশ্নািবলীর সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা
উপরে আমরা একথা বলে এসেছি যে, পৃথিবী সৃষ্টি আকাশ সৃষ্টির আগে হয়েছিল ৷ যেমন
আল্লাহ তাআলা বলেনং :

অর্থাৎ তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন,৩ তারপর তিনি আকাশের
দিকে মনাে ৎযোগ করেন এবং তাকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করেন; তিনি সর্ববিষয়ে সবিশেষ
অবহিত ৷ (২ : ২৯)
আল্লাহ তা আলা বলেন০ :

অর্থাৎ-বল, তামরা কি তাকে অস্বীকার করবেই, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু দিনে এবং
তোমরা তার সমকক্ষ দীড় করাতে চাও ? তিনি তো জগ৩ তসমুহের প্রতিপালক
তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্ব৩ মড়ালা ভুপৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার
দিনের মধ্যে এতে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের, সমভারে যাচনাকারীদের জন্য ৷ তারপর তিনি
আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন ৷ যা ছিল ধুম্রপুঞ্জ বিশেষ, তারপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে
বললেন, তোমরা উভয়ে এসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় ৷ তারা বলল, আমরা আসলাম অনুগত হয়ে ৷

তারপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে দৃদিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রতেব্লক
আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করলেন, এবং আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করলাম
প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত ৷ এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা ৷
(৪ ১ : ৯ ১২)

আল্লাহ তাআলা বলেন০
অর্থাৎ তােমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি ? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন;
তিনিই একে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন ৷
তিনি রাতকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করেছেন সুর্যালােক ; এবং পৃথিবীকে
এরপর বিন্তুত করেছেন ৷ (৭৯ : ২৭৩০)

আল্লাহ তা আলা বলেন০
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ১২-

অর্থাৎ মহা মহিমত্ত্বন্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃতৃ যীর করায়ত্ত; তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান ৷ যিনি
সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য কে তোমাদের মধ্যে কর্মে
উত্তম ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল ৷ যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আকাশ ৷ দয়াময়
আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কে ন খুত দেখতে পারে না; আবার তাকিয়ে দেখ, কে ন ত্রুটি দেখতে পাও কি?
তারপর তুমি বার বার দৃষ্টি ফিরাও, সে দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তে ড়ামাদের দিকে ফিরে
আসবে ৷ আমি নিকটবর্তী আকাশকে সৃশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং তাদেরকে
করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলম্ভ অগ্নির
শাস্তি ৷ (৬ ৭ ১ ৫)

আল্লাহ তা জানা

অর্থাৎ আর আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের উর্ধ্বদেশে ৷সুন্থিত সাত আকাশ ৷এবং সৃষ্টি
করেছি প্রোজ্জ্বল দীপ ৷ (৭৮ : ১ ২ ১৩)

আল্লাহ্তাআল ৷ লবলেন ?
অর্থাৎ তোমরা কি লক্ষ্য করনি ? আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করেছেন সাত স্তরে বিনম্ভে
আকাশমণ্ডলী ? এবং সেখানে চন্দ্রকে স্থাপন করেছেন আলোরুপে ও সুর্যকে স্থাপন করেছেন
প্রদীপরুপে ৷ (৭১ : ১৫-১৬)

আল্লাহ্ তা আলা বলেনং
অর্থাৎ আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবীও ৷ তাদের অনুরুপভারে তাদের
মধ্যে নেমে আসে তার নির্দেশ; ফলে তোমরা বুঝতে পায় যে, আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান
এবং জ্ঞানে আল্লাহ সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন ৷ (৬৫ : ১ ২)

আল্লাহ্ তা আলা বলেন০
অর্থাৎ কত মহান৩ তিনি যিনি নতােমণ্ডলে সৃষ্টি করেছেন রাশিচক্র এবং তাতে স্থাপন
করেছেন প্রদীপ ও জ্যোতির্ময় চন্দ্র এবং যায়৷ উপদেশ গ্রহণ করতে ও কৃতজ্ঞ হতে চায় তাদের
জন্য তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত এবং দিন পরস্পরের অনৃগামীরুপে ৷ ( ২৫ : ৬ ১ ৬২)

আল্লাহ্ তাআলা বলেন ?
অর্থৎ আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষম৷ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং রক্ষা
করেছি গ্রতেকে বিদ্রোহী শয়তান থেকে ৷ ফলে তারা উর্ধ্বজাতের কিছু শু-ফভে পায় না এবং
তাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক থেকে ৰিতাড়নের জন্য এবং তাদের জন্য আছে
অবিরাম শাস্তি ৷ তবে কেউ হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে জ্বলম্ভ উল্কাপিণ্ড তার পিছু খ্যাঃয়া করে ৷ (৩ ৭ ও ৬ ১ : )

অল্লাহ্
৩ার্থৎ-তাক্যেশে আমি গ্রহ নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে করেছি সৃণেভিত দর্শকদের জন্য ;
প্ৰণ্তরুৰু অভিশপ্ত শয়তন্যে থেকে আমিও তারুক রক্ষা করে থাকি তারে চ্ৰুউ চুরি করে সং স্বাদ
শুণ্াতে চাইলে তার পশ্চাদ্ধাবন করে প্ৰদীপ্ত শিখা ৷ ( ১ ৫ ১ ৬ ১৮ )

আল্লাহ তা আল৷
অর্থাৎ আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার হ্মম-স্রাবলে এর আমি অাশাই মহা
সম্প্রসারণকারী ৷ ( ৫ ১ : : ৭
আল্লাহ্ তা ৩ল্যে বলেন০

অর্থাৎ এবং আকম্পোকে করেছি সুরক্ষিত ৩ছাদ ঝিন্তু তক্লো আকড়াশস্থিত নিদর্শনাবলী থেকে
মুখ ফিরিয়ে নেয় ৷ আল্লাইে সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সুর্য ও চন্দ্রকে; প্রা৩ কেই নিজ
নিজ কক্ষপথে সীতার কাটে ৷ ( ২ ১ ঘ্র ৩২-৩)
অল্লোহ্তা ত্মালা বলেন :
অর্থাৎ তাদের জন্য এক নিদর্শন রাত্রি, তা থেকে আমি দিবালোক অপসারিত করি,
সকলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ৷ এবং সুর্য ভ্রমণ করে তার নিল্টিপ গন্তব্যের দিকে, এটা
পরাত্রুমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ এবং চক্তন্দ্রর জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মনযিল, অবশেষে
তা শুষ্ক বক্র পুরাতন খেজুর শাখার আকার ধারণ করে ৷

সুর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চরুন্দ্রর নাপাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম
করা এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষ পথে সীতার কাটে ৷ (৩৬ : ৩ ৭-৪ : )

আল্লাহ্ তাআলা বলেন :
অর্থাৎতিনিই উষার উন্মেষ ঘটান, তিনিই বিশ্রামের জন্য রাত্রি এবং গণনার জন্য সুর্য ও
চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন; এসবই পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিরুপণ ৷ তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্র সৃষ্টি
করেছেন যেন তা দ্বারা ন্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমরা পথ পাও; জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য
আমি নিদর্শনসমুহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি ৷ (৬ : ৯৬ ৯ ৭ )
অ আল্লাহ্ তাআল৷ বলেন ং

অর্থাৎ-তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশসমুহ ও পৃথিবী ছদিনে সৃষ্টি করেন;
তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন ৷ তিনিই দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, যাতে তাদের
একে অন্যকে দ্রুত গতিতে ৩অনুসরণ করে আর সুর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি যা তারই আজ্ঞাধীন,ত
তিনিই সৃষ্টি করেছেন ৷ জেনে রেখ, সৃজন ও আদেশ ৷তারই ৷ মহিমময় বিশ্বজপণ্ডে র প্রতিপালক
আল্লাহ্ ৷ (৭৪ ৫৪)

উল্লেখ্য যে, এ ব্যাপারে প্রচুর আয়াত রয়েছে ৷ এই তাফসীরে আমরা তার প্ৰতিটির উপর
আলোকপাত করেছি ৷ মোটকথা, আল্লাহ্ তা আলা আকাশসমুহ সৃষ্টি, তার বিশাল ও উচ্চতা
সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করছেন, আরো সং বাদ দিচ্ছেন যে, তা যারপর নাই রুপ ও সৌন্দর্য ও
সুষমড়ামণ্ডিত ৷ যেমন : আল্লাহ্ তাআল৷ বলেন : ণ্া ৷ ৷ শুা১ ন্র্তুন্থ:৷ ৷, অর্থাৎ শপথ !
সুষমামণ্ডিত আকৃতি বিশিষ্ট আকাশের ’
অন আয়াতে আল্লাহ্ তা আলা বভ্রুলুন

অর্থাৎ আকাশে আমি প্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি এবৎ৩ তাকে করেছি সুশোভিত দর্শকদের
জন্য; প্রত্যেক অভিশপ্ত৷ ৷য়তান থেকে আমি তাকে রক্ষা করে থাকি ৷ (১৫০ ১৬ ১ ৭)
এ আয়াতে আল্লাহ্ তা আলা একথা ব্যক্ত করেছেন যে,৩ তিনি আকাশের দৃশ্যকে স্থির ও
গতিশীল গ্রহরাজি৷ দ্বা রা সুশোভিত করেছেন ৷ যেমন০ সুর্য, চন্দ্র ও উজ্জ্বল নক্ষত্রমাল৷ এবং৩ তিনি
তার সীমাম্ভকে শয়তানের অনুপ্রবেশ থেকে সংরক্ষণ করেছেন ৷ আর এক অর্থে এও এক প্রকার
শোভা ৷ এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেছেন :

অর্থাৎ আর আমি তাকে প্রা৩ ত্যক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি ৷
যেমন আল্লাহ্ তা আলা বলেন০

অর্থাৎ আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং রক্ষা
করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে ৷ ফলে তারা উর্ধ্বজগতে র কিছু শুনতে পড়ায় না ৷(৩ ৭ : ৬-৯)
ইমাম বুখারী (র) সৃষ্টির সুচনা অধ্যায়ে বলেছেন০
আয়াতের ব্যাখ্যার কাতাদা (র) বলেন, এ তিন নক্ষত্রকে আল্লাহ্ তা আলা
আকা র্বশর দে ৷৷ভ৷ শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং পথের দিশ৷ লাভের চিহ্নরুপে সৃষ্টি
করেছেন ৷ কেউ এর ভিন্ন ব্যাখ্যা করলে সে ভুল করবে, নিজের৩ ৷গ্য নষ্ট করবে এবং যে বিষয়ে
তার জ্ঞান নেই যে বিষয়ে পণ্ডশ্রম করবে ৷ কাতাদা (র) এর এ বক্তব্য নিচের আয়াত দুটো
সুস্পষ্ট বিবৃত হয়েছে :

অর্থাৎ নিকটবর্তী আকাশকে আমি প্রদীপমালা দ্দারা সুশেভিত করেছি এবং তাদেরকে
করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ ৷ (৬ ৭ ৫ )

অর্থাৎ তিনিই৫ আমাদের জন্য নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন যেন তদ্দার৷ স্থলের ও সমুদ্রের
অন্ধকারে তোমরা পথের দিশা পাও ৷ (৬৪ ৯৭)

অতএব, যদি কেউ এ তিনটির বাইরে এর অন্য কোন মর্ম বের করার :চষ্টা করে তাহলে সে
মারাত্মক ভুল করবে ৷ যেমন এগুলোর চলাচল ও একটির সঙ্গে আরেকটির মিলন ঘটলে কী
হবে সে জ্ঞান আহরণ করা এবং এ বিশ্বাস করা যে, এগুলো পৃথিবীতে কোন অঘটন ঘটার
প্রমাণ দেয় ৷ এ সং ক্রান্তে তাদের অধিকাংশ বক্তব্যই ভিত্তিহীন, মিথ্যা ধারণা ও তারা স্তব দাবি ৷

আবার আল্লাহ তা আলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি স্তরে স্তরে অর্থাৎ একটির উপর একটি
করে সাত আকাশ সৃষ্ট করেছেন কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে
যে, সেগুলো কি পরস্পর মিশ্রিত নাকি বিচ্ছিন্ন, মধ্যে ফীক৷ রয়েছে ৷ তবে দ্বিতীয় অভিমতটিই
সঠিক ৷ তার প্রমাণ পার্বত্য ছাগল এ ৷ প্রু: ৷ সং ক্রাম্ভ হাদীসে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা )
থেকে আহনাফ সুত্রে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবন উমায়বার হাদীস যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেছেন :

অর্থাৎ তোমরা কি জান যে, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ব্যবধান কতটুকু ? আমরা বললাম ,
আল্লাহ্ ও তার রাসুলই সম্যক অবহিত ৷ তিনি বললেন : উভয়ের মধ্যে পাচশ বছরের দুরতু
এবং এক আকাশ থেকে আরেক আকাশ পর্যন্ত দুরতু পাচশ বছর আর প্রত্যেক আকাশের স্থুলতু
হলো পাচশ বছর ৷

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও তিরিমিযী (ব) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷
ইমাম তিরমিঘী হ৷ ৷দীসটি হাসান বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ৷

সহীহ বুখ৷ ৷রী ও মুসলিমে মি রাজ সং ক্রাম্ভ হাদীস আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি
বলেন, এবং৩ তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সা ) নিকটবর্তী আকাশে আদম (আ) কে পান, খনত জিবরাঈল
(আ) তাকে বললেন, ইনি আপনার পিতা আদম (আ) ৷ ফলে তিনি তাকে সালাম করেন এবং
তিনি সালামের জবাব দেন ও বলেন, (মারহাবা
স্বাগতম হে আমার পুত্র, আপনি কতই না উত্তম পুত্র !) আনাস (বা) এভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয়
চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আকাশে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এব আরোহণ ও এর কথা উল্লেখ করেন,

তা আকাশসমুহের মধ্যে বিস্তর ব্যবধানের প্রমাণ বহন করে ৷ আবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজেও
বলেছেন ;
অর্থাৎ তারপর সে ( বোরাক) আমাদেরকে নিয়ে উপরে আরোহণ করে ৷ এমনকি আমরা
দ্বিতীয় আকাশে এসে উপনীত হই ৷ তিনি (জিবরাঈল) দরজা খুলতে বললে জিজ্ঞাসা করা
হলো, ইনি কে? এ হাদীস আমাদের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ বহন করে ৷ আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ ৷

ইবন হাযম, ইবনুল মুনীর ও আবুল ফায়জ ইবনুল জাওযী (র) প্রমুখ এ ব্যাপারে
আলিমগণের ঐকমতেব্রর কৰু৷ বর্ণনা ৷করেছেন §, আকাশমণ্ডলী হলো একটি গোলাকার বল
স্বরুপ ৷ আল্লাহর বাণী ঠুক্ট্রর্মুছুছু ¢fi §& ১র্দুও (প্রত্যেকে আপন আপন কক্ষপথে সম্ভরণ
করো) এ আয়াত দ্বারা তার সপক্ষে প্রর্যাণ দেয়৷ হয়েছে ৷

হাসান (র) বলেন, গ্লু,প্রু ; অর্থ ( ,দ্বুদ্বু দ্বু;ৰু অর্থাৎ চক্রাকারে ঘুরে ৷ ইবন আব্বাস (বা)
বলেন, প্রতিটি চক্রে চরকার ন্যায় বৃত্ত আছে ৷ আলিমগণ বলেন, প্রতি রাতে পশ্চিম আকাশে
সুর্যের অন্ত যাওয়া এবং শেষে পুর্ব আকাশে আবার উদয় হওয়াও এর প্রমাণ বহন করে ৷ যেমন
উমাইয়া ইবন আবৃসৃসাল্ত বলেন :

অর্থাৎ সুর্য প্রতি রাতের শেষে লাল হয়ে উদয় হয় ৷৩ তার উদয় স্কুলের রঙ হলো দ্বো৷লাপী ৷

আমাদের জন্য আত্মপ্রকাশ করতে সুর্য ইতস্তত করে ৷ অবশেষে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে
শাস্তিদানকারী অথবা কশাঘাতকারী রুপে ৷

ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন যে, আবুযর (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) একদিন সুর্যাস্তের
সময় আমাকে বললেন : তুমি কি জান যে, সুর্য কোথায় যায়? বললাম, আল্লাহ এবং তার
রাসুলই সম্যক অবগত ৷ তিনি বললেন : সুর্য গিয়ে আরশের নিচে সিজদায় পড়ে যায় ৷ তারপর
অনুমতি প্রার্থ্যা৷ করলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় ৷ কিন্তু একটি সময় এমন আসবে, যখন সুর্য
সিজদা করবে কিন্তু তা কবুল হবে না এবং সে অনুমতি প্রার্থনা করবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া
হবে না ৷ তাকে বলা হবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও, ফলে সে পশ্চিম দিক থেকে
উদয় হবে ৷ গ্লুা৷শু৷ ৷ জ্যো^ প্রু,^; মোঃ ৷ এ এ আয়াতে আল্লাহ্ তা আলা এ কথাটিই
বলেছেন ৷

এ হলো সৃষ্টির সুচনা অধ্যায়ে ইমাম বুখারী (র) এর ভাষ্য ৷ কিতাবুত তাফসীরেও তিনি
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন; আবার তাওহীদ অধ্যায়ে আমাশ এর হাদীস থেকেও তা বর্ণনা
করেছেন ৷ ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ (র) হাদীসটি ভিন্ন ভিন্ন সুত্রে বর্ণনা করছেন ৷
ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন ৷
উপরে আমরা আকাশসমুহের চক্রাকারে আবর্তিত হওয়ার ব্যাপারে যা বলে এসেছি, এ
হাদীসটি তার পরিপন্থী নয় এবং হাদীসটিতে আরশের গোলাকার হওয়ারও প্রমাণ মিলে না ৷
যেমন কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন ৷ ইতিপুর্বে আমরা তাদের বক্তব্য ভুল প্রমাণ করে
এসেছি ৷ আব৷ ৷র তা এ কথাও প্রমাণ করে না যে, সুর্য আমাদের দিক থেকে গিয়ে আকাশমণ্ডলীর

উপরের দিকে উঠে আরশেৱ নিচে সিজদায় লুটে পড়ে ৷ বরং নিজ কক্ষে সম্ভরণ অবস্থাতে
আমাদের দৃষ্টি থেকে অন্তমিত হয়ে যায় ৷ একা ৷ধিক তাফসীর বিশেষজ্ঞের মতে সুর্যের কক্ষ পথ
হলো চতুর্থ আকাশ ৷ শরীয়তেও এর বিরোধী কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না বরং বাস্তবে এর
পক্ষে প্রমাণ রয়েছে ৷ যেমন সুর্যগ্রহণে তা প্রত্যক্ষ করা যায় ৷ মোটকথা , সুর্য দুপুর বেলায়
আরশেৱ সর্ব নিবল্টবর্তী স্থানে অবস্থান করলেও, মধ্য রাতে ভর ও দক্ষিণ যেরুর ঠিক মধ্যবর্তী
স্থানে পৌছে-আরশ থেকে দুরবর্তী ন্থ ন এটাই সুর্যের সিজদার স্থান ৷ এখানে গিয়ে সে
পুর্বদিক থেকে উদয় হওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা আলার নিকট অনুমতি প্রাহ্নাি করে ৷ অনুমতি
পেয়ে সে পুর্বদিক থেকে আত্মপ্রকাশ করে ৷ কিন্তু এতদসরুত্ত্বও সে নাফরমান বনী আদমের উপর
উদিত হওয়াকে অপছন্দ করে ৷ আর এজন্যই উমাইয়া বলেছিল :

অর্থাৎ-আমাদের উপর উদয় হতে সুর্য ইতস্তত করে ৷ শেষ পর্যন্ত উদয় হয় শাস্তি
দানকারীরুপে বা কশাঘাতকারীরুপে ৷

তারপর যখন সে সময়টি এসে যাবে, যে সময়ে আল্লাহ পশ্চিম দিক থেকে সুর্যকে উদিত
করতে মনন্থ করবেন; তখন সুর্য তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী সিজদা করবে এবং
নিয়ম অনুযায়ী উদিত হওয়ার অনুমতি প্রাছিল করবে, কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়৷ হবে না ৷
ফলে সে আবারো সিজদায় পড়ে অনুমতি চাইবে কিন্তু অনুমতি দেয়৷ হবে না ৷ পুনরায় সে
সিজদা করে অনুমতি প্রার্থনা করবে কিন্তু এবারও তাকে অনুমতি দেয়৷ হবে না এবং সে
রাতটি দীর্ঘ হয়ে যাবে, যেমন আমরা তাফসীরে উল্লেখ করেছি ৷ তারপর সুর্য বলবে হে
আমার বব! প্রভাত তে৷ ঘনিয়ে এলো, অথচ পাড়ি অনেক দুর ৷ জবাবে তাকে বলা হবে, তুমি
যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও ৷ ফলে সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে ৷ তা
দেখে তখন সকলে ঈমানদার হয়ে যাবে কিন্তু ইতিপুর্বে যে ব্যক্তি ঈমান আনেনি কিৎবা
ঈমান এনে র্চুকড়ান কল্যাণ অর্জন করেনি তার সে সময়ের ঈমান কোন কাজে আসবে না ৷
আলিমগণ মোঃ ৰু ট্রুপ্রুষ্^ ১ও মোঃ ৷ এ এর এ ব্যাখ্যাই করেছেন ৷

কেউ কেউ বলেন এ আয়াতে তর অর্থ হলো, পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আদেশ প্রাপ্তির
পুর্ব পর্যন্ত সুর্য এভ৷ ৷বেই চলতে থাকবে ৷

কেউ কেউ বলেন, ৷শ্গ্লুপ্রুন্নুওৰু বলতে আরশেৱ নিচে সুর্যের সিজদার স্থানকেই বুঝানো
হয়েছে ৷ কারো কারো মতে, ৷শ্প্রুক্ট্র;;শু অর্থ গো:ৰু অর্থাৎ সুর্যের সর্বশেষ পম্ভব্যস্থল যা
পৃথিবীর শেষ প্রান্ত ৷

ইবন আব্বাস (রা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি শু ,দ্বু;এ ;);; স্পো ৷
তিলাওয়াত করে এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ সুর্য অবিরাম ভ্রমণ করে কখনো ক্ষতি হয় না ৷ এ
অর্থে সুর্য চলন্ত অবন্থায়ই সিজদা ৷করে নেয় ৷ আর এ জন্য আল্লাহ বলেনং :

অর্থাৎ সুর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চভ্রুন্দ্রর নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে
অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সম্ভরণ করে ৷ (৩৬ং : ৪০)

অর্থাৎ — সুর্য চদ্রের নাপাল পায় না ৷ ফলে সে নিজ রাজোই উদিত হয় আর চন্দ্রও সুর্যকে
ধরতে পারে না ৷ রাত দিনকে অতিক্রম করতে পারে না ৷ অর্থাৎ রাত এমন গতিতে অতিক্রম
করে না যে, দিনকে হটে গিয়ে তাকে স্থান করে দিতে হয় ৷ বরৎ নিয়ম হলো দিন চলে গেলে
তার অনুগামীরুপে তার পেছনে রাতে র আগমন ঘটে ৷ যেমন অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্

তাআলাবলেন০ ং

অর্থাৎ তিনি দিবসকে রাত্র দ্বারা আচ্ছাদিত করেন যাতে তাদের একে অন্যকে দ্রুত গতিতে
অনুসরণ করে আর সুর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি যা তারই আজ্ঞাধীন, তা তিনি সৃষ্টি করেছেন ৷ জেনে
রাখ , সৃজন ও আদেশ তারই; মহিমময় যিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্ ৷ (৭ : ৫৪)

আল্লাহ্ তা আলা বলেনং :

অর্থাৎ-শ্ এবং যারা উপদেশ গ্রহণ করতে ও কৃতজ্ঞ হতে চায় তাদের জন্য তিনিই
সৃষ্টি করেছেন রাত এবৎ দিনকে পরস্পরের অনুগামী রুপে ৷ (২৫৪ ৬২)

অর্থ ৎ রাত ও দিনকে তিনি এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, একটির পর অপরটি
পর্যায়ক্রমে আগমন করে থাকে ৷ যেমন রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন০ ং

অর্থাৎ-একদিকে রাত ঘনিয়ে এলে অপরদিকে দিনের পরিসমাপ্তি ঘটলে এবং সুর্য
ডুবে পেলে রোযাদার যেন ইফতার করে নেয় ৷

যেটিকথা, সময় রাত ও দিন এ দু’ভাগে বিভক্ত ৷ এ দৃ’য়ের মাঝে অন্য কিছু নেই ৷
আর এজন্যই আল্লাহ তা আলা বলেনঃ

আল্লাহ বা তবে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিণত করেন ৷ তিনি চন্দ্র সুর্যকে করেছেন
নিয়মাধীন, প্রত্যেকে বিচরণ করে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ৷ (৩১ং ২৯)

অর্থাৎ রাত ও দিনের একটির কিছু অংশকে তিনি অপরটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন
অর্থাৎ একটির দীর্ঘায়তন থেকে কিছু নিয়ে অপরটি ক্ষুদ্রায়তনে ঢুকিয়ে দেন ৷ ফলে দ টো
সমান সমান হয়ে যায় ৷ যেমন বসন্তকালের প্রথম দিকে হয়ে থাকে যে, এর আগে রাত
থাকে দীর্ঘ আর দিন থাকে খাটো ৷ তারপর ধীরে ধীরে রাতহ্রাস পেতে থাকে আর দিন
বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷ এভাবে এক সময় উভয়ে সমান হয়ে যায় ৷ তাহলাে বসন্তের প্রথম
অংশ ৷ তারপর দিন দীর্ঘ ও রাত খাটো হতে থাকে ৷ এভাবে পুনরায় হেমন্তের শুরুতে
উভয়ই সমান হয়ে যায় ৷ তারপর হেমন্তের শেষ পর্যন্ত রাত বৃদ্ধি থেকে এবং দিন হ্রাস
পেতে থাকে ৷ তারপর একটু একটু করে দিন প্রাধান্য লাভ করতে থাকে এবৎর রাত ক্রমে

আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ১৩-

ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে ৷ এভাবে বসন্তের শুরুতে এসে রাত-দিন দুটো সমান হয়ে যায় ৷ আর
প্রতি বছরই এরুপ চলতে থাকে ৷ এ জন্যই আল্লাহ তড়াআল৷ বলেছেন :

এবং র্তারই অধিকারে রাত ও দিনের পরিবর্ত্য৷ ৷ (২৩ : ৷ন্০) ’
অর্থাৎ এ সব কিছু আল্লাহরই হাতে ৷ তিনি এমন এক শাসক, যীর বিরুদ্ধাচরণ করা কিৎবা
যাকে বাধা প্রদান করা যায় না ৷ এ জন্যই তিনি আকাশসমুহ, নক্ষত্ররাজি ও রাত দিনের

আলোচনার সময় আয়াতের শেষে বলেছেন০ অর্থাৎ-এসবই
পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণ ৷ (৬৪ ৯৬) ’

ও১৷ ৷ অর্থ সবকিছুর উপর যিনি পুর্ণ ক্ষমতাবান এবং সবই যার অনুগত ৷ ফলে তাকে
ঠেকানাে যায় না, পরাস্ত করা যায় না ৷ আর ক্রো ৷ অর্থ যিনি সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ ৷ ফলে
সব কিছুকে তিনি যথারীতি একটি অপরিবতন্সীয় ও অলংঘনীয় নিয়মে নিয়ন্ত্রণ করেন ৷

সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা)
বলেছেন :

অর্থাৎ-শ্আল্লাহ বলেন, আদমের সন্তানরা আমাকে কষ্ট দেয় ৷ তারা সময়কে পালাপাল

করে ৷ অথচ আমিই সময়, আমার হাতেই সব ক্ষমতা ৷ রাত ও দিনকে আমিই আবর্তিত করে
থাকি ৷

অন্য বর্ণনায় আছে : গ্রাৰুগ্লু
অর্থাৎ আমিই কাল ৷ তার রাত ও দিনকে আমিই আবর্তিত করে থাকি ৷

ইমাম শাফেঈ ও আবু উবায়দ কাসিম (র) প্রমুখ আলিম এওে৷ ৷ এর ব্যাখ্যার
বলেন : মানুষ বলে থাকে যে, কাল আমাদের সঙ্গে এরুপ আচরণ করেছে কিংবা বলে যে , হায়
কালের করাল গ্রাস! যে আমাদের সন্তানদেরকে ইয়াতীম বানিয়ে দিল, নারীদেরকে বিধবা
করল ৷ আল্লাহ্ তড়াআলা বলেন : )এ্যা ৷ ৷াএ অর্থাৎ প্রকৃত পক্ষে আমিই সে কাল যাকে
উদ্দেশ করে মানুষ এসব বলে থাকে ৷ কেননা কালের প্ৰতি আরোপিত কর্মকাণ্ডের কর্তা তিনিই;
আর কাল হলো র্তারই সৃষ্ট ৷ আসলে যা ঘটেছে আল্লাহই তা ঘটিয়েছেন ৷ সুতরাং সে কর্তাকে
পাল দিচ্ছে আর ধারণা করছে যে, এ সব কালেরই কাণ্ড ৷ কর্তা মুলত আল্লাহ যিনি সবকিছুর স্রষ্টা
ও সর্ববিষয়ে ক্ষমতড়াবান ৷ যেমন তিনি বলেছেন : আমিই কাল ৷ আমার হাতেই সব
কিছ ৷ তার রাত ও দিবসকে আমিই পরিবর্তন করি ৷
কুরআনে করীমে অ ৷ল্লাহ্ তড়াআলা বলেন :

অর্থাৎ-বল, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং
যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও; যাকে ইচ্ছা সম্মান দাও, আর যাকে ইচ্ছা তুমি হীন
কর ৷ কল্যাণ তোমার হাতেই ৷ তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান ৷

তুমিই রাতকে দিনে পরিণত কর এবং দিনকে রাতে পরিণত কর; তুমিই মৃত থেকে
জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও ৷ ভুমি যাকে ইচ্ছা
অপরিমিত জীবনােপকরণ দান কর ৷ (৩ : ২৬-২৭)

অন্য আয়াতে অন্ল্লৰুহ তা জানা বলেন০ ং

অর্থাৎ-তিনিই সুর্যকে তেজষ্কর ও চন্দ্রকে জ্যেড়াতির্ময় করেছেন এবং তার মনযিল নির্দিষ্ট

করেছেন যাতে তোমরা সাল গণনা ও হিসাব জানতে পড়ার ৷ আল্লাহ এটা নিরর্থক সৃষ্টি করেননি ৷

জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি এসব নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন ৷ দিন ও রাতের পরিবর্তনে

এবং আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে বা সৃষ্টি করেছেন তাতে নিদর্শন রয়েছে মুত্তাকী

সম্প্রদায়ের জন্য (১০ : ৫-৬)

অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআল৷ আলো, আকার-আকৃতি, সময় ও চলাচলের ক্ষেত্রে সুর্য ও চদ্রের
মাঝে ব্যবধান করেছেন ৷ সুর্যের কিরণকে করেছেন তেজষ্কব জ্বলন্ত প্রমাণ ও দীপ্ত আলো আর
চন্দ্রকে বানিয়েছেন নুর অর্থাৎ জ্বলত্ত সুর্যের প্রমাণের তুলনায় নিম্পুভ এবং তার আলো সুর্যের
আলো থেকে প্রাপ্ত ৷

আবার তিনি চদ্রের মনৃযিলসমুহও নির্ধারণ করে দিয়েছেন ৷ অর্থাৎ চন্দ্র সুর্যের নিকটে থাকার
কারণে এবং উভয়ের মুখোমুখিতা কম হওয়ার ফলে মাসের প্রথম রাতে চন্দ্র দুর্বল ও স্বল্প
আলােকময় হয়ে উদিত হয় ৷ চরুন্দ্রর আলো তার সুর্যের মুখোমুখিতা অনুপাতে হয়ে থাকে ৷ তাই
দ্বিতীয় রাতে চন্দ্র প্রথম রাতের তুলনায় সুর্যের দ্বিগুণ দুরবর্তী হওয়ার কারণে তার আলোও প্রথম
রাতের দ্বিগুণ হয়ে যায় ৷ তারপর চন্দ্র সুর্যের যত দুরে আসতে থাকে তার আলোও তত বাড়তে
থাকে ৷ এভাবে পুর্ব আকাশে উভয়ের মুখোমুখি হওয়ার রাতে চদ্রের আলো পরিপুর্ণতা লাভ
করে ৷ আর তাহলো মাসের চৌদ্দ তারিখের রাত ৷ তারপরে অপরদিকে চন্দ্র সুর্যের নিকটে চলে
আসার কারণে মাসের শেষ পর্যন্ত তা হ্রাস পেতে থাকে ৷ এভাবে এক পর্যায়ে তা অদৃশ্য হয়ে

দ্বিতীয় মাসের শুরুতে আবার পুর্বের ন্যায় উদিত হয় ৷ এভাবে চন্দ্র দ্বারা মাস ও বছরের এবং
সুর্য দ্বারা রাত ও দিনের পরিচয় পাওয়া যায় ৷ এ জন্যই আল্লাহ তাআলা বলেনং :

অর্থাৎ-তিনিই সুর্যকে তেজস্কর এবং চন্দ্রকে ৫জ্যাতির্ময় করেছেন এবং তার মনৃযিলসমুহ
নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তোমরা সাল গণনা ও হিসাব জানতে পার ৷ ( ১ : : ৫)

অন্য আয়াতে অন্ল্লাহ্ তা জানা বলেনং ং

অর্থাৎ-আমি রাত ও দিনকে করেছি দু টি নিদর্শন; রাতে র নিদর্শনকে অপসারিত করেছি
এবং দিবসের নিদর্শনকে করেছি আলোকপ্রদ যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ
সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বর্ষসৎখ্যা ও হিসাব স্থির করতে পার এবং আমি সবকিছু
বিশদভাবে বর্ণনা করেছি ৷ (১ ৭ : ১২)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন :

অর্থাৎ লোকে তোমাকে নতুন চাদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে; বল, তা মানুষ এবং হরুজ্জর জন্য
সময় নির্ধারক ৷ (২ : ১৮৯)

তাফসীরে আমরা এসব প্রসংভৈগ বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ মোটকথা, আকাশে যেসব
গ্রহ আছে, তন্মধ্যে কিছু হলো গতিশীল ৷ তাফসীরবিদদের পরিভাষায় এগুলোকে মুতাখায়্যারা
বলা হয় ৷ এ এমন এক বিদ্যা যার বেশির ভাগই সঠিক ৷ কিন্তু ইলমুল আহকাম অর্থাৎ এগুলোর
অবস্থানের ভিত্তিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অবাস্তব এবং অমুলক দাবি
মাত্র ৷

গ্রহ মোট সাতটি ৷ (১) চন্দ্র, প্রথম আকাশে (২) বুধ, দ্বিতীয় আকাশে (৩) শুক্র, তৃতীয়
আকাশে (৪) সুর্য, চতুর্থ আকাশে (৫) মঙ্গল, পঞ্চম আকাশে (৬) বৃহস্পতি, ষষ্ঠ আকাশে এবং
(৭) শনি, সপ্তম আকাশে ৷

অবশিষ্ট গ্রহগুলো স্থির, গতিহীন ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে তা অষ্টম আকাশে অবস্থিত ৷ পরবর্তী
যুগের বহু সংখ্যক আলিমের পরিভাষায় যাকে কুরসী বলা হয় ৷ আবার অন্যদের মতে , সবক’টি
গ্রহই নিকটবর্তী আকাশে বিরাজমান এবং সেগুলোর একটি অপরটির উপরে অবস্থিত হওয়া
বিচিত্র নয় ৷ নিচের দৃ’টো আয়াত দ্বারা এর সপক্ষে প্রমাণ দেওয়া হয়ে থাকে ৷

অর্থাৎ-আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমাল৷ দ্বারা এবং তাদেরকে
করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ ৷ (৬ ৭ ৫ )

অর্থাৎ-তারপর তিনি আকাশমগুলীকে দৃদিনে সাত আকাশে পরিণত করেন এবং প্রত্যেক
আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করেন এবং আমি প্রদীপমালা দ্বারা আকাশকে সৃশোভিত ও সুরক্ষিত

করেছি ৷ এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা ৷ (৪ ১ : ১২)

এ আয়াতদ্বয়ে সবক’টি আকাশের মধ্যে শুধুমাত্র নিকটবর্তী আকাশবেইি নক্ষত্র শোভিত বলে
আখ্যা দেয়৷ হয়েছে ৷ এর অর্থ যদি এই হয় যে, নক্ষত্রসমৃহকে নিকটবর্তী আকাশে পেথে রাখা
হয়েছে; তাহলে কোন কথা নেই ৷ অন্যথায় ভিন্নমত পােষণকারীদেব অভিমত সঠিক হওয়ায় ৰু
কোন বাধা নেই ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাত আকাশ বরং অষ্টম আকাশও তাদের মধ্যস্থিত গতিহীন ও
গতিশীল গ্রহসমুহসহ পশ্চিম থেকে পুর্বে ঘুরে বেড়ায় ৷ চন্দ্র এক সালে তার কক্ষপথ অতিক্রম
করে এবং সুর্য তার কক্ষপথ তথা চতুর্থ আকাশ অতিক্রম করে এক বছরে ৷

সুতরাং দৃ’গতির মাঝে যখন কোন তারতম্য নেই এবং উভয়ের গতিই যখন সমান তাই
প্রমাণিত হয় যে, চতুর্থ আকাশের পরিমাপ প্রথম আকাশের পরিমাপের চারগুণ ৷ আর শনিঃাহ
ত্রিশ বছরে একবার তার কক্ষপথ সপ্তম আকাশ অতিক্রম করে ৷ এ হিসেবে সপ্তম আকাশ প্রথম
আকাশের তিনশ’ ষাট গুণ বলে প্রমাণিত হয় ৷

বিশেষজ্ঞগণ এসব নক্ষত্রের আকার ও গতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ৷
এমনকি তারা ইলমুল আহকামের পর্যন্ত শরণাপন্ন হয়েছেন ৷ ঈসা (আ)-এর বহু যুগ আগে
সিরিয়ার যে গ্রীক সম্প্রদায়ের ণ্লাকজন বসবাস করত, এ বিষয়ে তাদের বিশদ বক্তব্য রয়েছে ৷
তারাই দামেশৃক নগরী নির্মাণ করে তার সাতটি ফটক স্থাপন করে এবং প্রতিটি ফটকের
শীর্ষদেশে সাতটি গ্রহের একটি করে প্রতিকৃতি স্থাপন করে সেগুলোর পুজা পার্বণ এবং সেগুলোর
কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো ৷ একাধিক ঐতিহাসিক এবং আরও অনেকে এসব তথ্য বর্ণনা
করেছেন ৷ আস্সিররুল মাকতুম ফী মাখাতাজতিশ শামসে ওয়াল কামারে ওয়ান
নুজুম ( ৷ ) গ্রন্থের লেখক
হাররানের প্রাচীনকালের দার্শনিক মহলের বরাতে এসব উল্লেখ করেছেন ৷ তারা ছিল
পৌত্তলিক ৷ তারা সাত গ্রহের পুজা করত ৷ আর তারা সাবেয়ীদেরই একটির অন্তর্ভুক্ত সম্প্রদায় ৷

এ জন্যই আল্লাহ তা জানা বলেন০ ং

অর্থাৎ-র্তার নিদর্থাংাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সুর্য ও চন্দ্র ৷ তোমরা সুর্যকে সিজদা
করো না চন্দ্রকেও না, সিজদা কর অ ল্লাহকে যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তারই
ইবাদত করে থাকে৷ ৷ (৪ ১ : ৩৭)

আবার আল্লাহ তাআলা হুদহুদ সম্পর্কে বলেছেন যে, সে সুলায়মান (আ )-কে ইয়ামড়ানের
অন্তর্গত সাবার রাণী বিলকীস তার বাহিনী সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করতে গিয়ে বলেছিলং :

অর্থাৎ-আমি এক নারীকে দেখলাম তাদের উপর রাজত্ব করছে ৷ তাকে সবকিছু থেকে
দেয়৷ হয়েছে এবং তার আছে এক বিরাট সিংহাসন ৷ আমি তাকেএবং তার সম্পুদায়কে দেখলাম
তারা আল্লাহর পরিবর্তে সুর্যকে সিজদা করছে ৷ শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের নিকট শোভন
করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, ফলে তারা সৎপথ পায় না ৷

নিবৃত্ত করেছে এ জন্য যে, তারা যেন সিজদা না করে আল্লাহকে যিনি আকাশমণ্ডলী ও
পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা
ব্যক্ত কর ৷ আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ সেই, তিনি মহা আরশের অধিপতি ৷ (২৭ :
২৩ ২৬ )

অন্যত্র আল্লাহ্ তাআলা বলেনং :

অর্থাৎ-তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ্কে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে ও
পৃথিবীতে সুর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলী , পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীব-জংঢু’ এবং মানুষের মধ্যে অনেকে ?
আবার অনেকের প্রতি অবধারিত হয়েছে শাস্তি ৷ আল্লাহ যাকে হেয় করেন তার সম্মানদাতা
কেউই নেই ৷ আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন তা করেন ৷ (২২ং ষ্ ১৮)

অন্যত্র আল্লাহ্ ত৷ আলা বলেনং

অর্থাৎ-তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যার ছায়া দক্ষিণে ও বামে ঢলে
পড়ে আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয়? আল্পাহকেই সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে
পৃথিবীতে যত জীব-জত্তু আছে সে সমস্ত এবং ফেরেশতাগণও; তারা অহংকার করে না ৷ তারা
ভয় করে তাদের উপর পরাক্রমশালী তাদের প্রতিপা ৷লককে এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয়
তারা তা করে ৷ (১৬ : ৪৮-৫০)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনং :

অর্থাৎ-আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয় আওকাশমণ্ডলী ন্পৃথিবীতে যা কিছু আছে ইচ্ছার
অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল-সন্ধ্যায় ৷ (১৩০ : ১৫)
অন্যত্র৩ তিনি বলেনং

অর্থাৎ-সাত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু তারই পবিত্রতা ও মহিমা
ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষ্যাড়া না করে কিন্তু
তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পড়ার না; তিনি সহনশীল,
ক্ষমাপরায়ণ ৷ (১৭ : ৪৪)

এ প্রসংগে আরো প্রচুর সংখ্যক আয়াত রয়েছে ৷ আর যেহেতু আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে
দৃশ্যমান বন্তু নিচয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো গ্রহ-নক্ষত্রাদি আবার এগুলোর মধ্যে দর্শনীয় ও শিক্ষণীয়
হিসাবে সেরা হলো সুর্য ও চন্দ্র ৷ সেহেতু ইব্রাহীম খলীল (আ)-এর কােনটিই উপাসনার

যোগ্য না হওয়ার প্রমাণ পেশ করেছিলেন ৷ নীচের আয়াতে তার বিবরণ রয়েছে০ :

অর্থাৎ-তারপর রাতের অন্ধকার যখন তাকে আচ্ছন্ন করল তখন সে নক্ষত্র দেখে বলল, এ
আমার প্রতিপালক তারপর যখন তা অস্তমিত হলো, তখন সে বলল, যা অস্তমিত হয় তা আমি
পছন্দ করি না ৷

তারপর যখন সে চন্দ্রকে সমুজ্জ্বল রুপে উদিত হতে (দখল তখন সে বলল, এ আমার
প্রতিপালক ৷ যখন তাও অস্তমিত হলো তখন সে বলল, আমার প্রতিপালক আমাকে সৎপথ
প্রদর্শন না করলে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হবে৷ ৷

তারপর যখন সে সুর্যকে দীপ্তিমানরুপে উদিত হতে (দখল তখন সে বলল, এ আমার
প্রতিপালক, এ সর্ববৃহৎ; যখন তাও অস্তমিত হলো, তখন সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় !
তোমরা যাকে আল্লাহর শরীক কর, তার সাথে আমার কোন সং শ্রব নেই ৷ আমি একনিষ্ঠভাবে
তার দিকে আমার মুখ ফিরাই যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি
মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই ৷ (৬১’ ৭৬ ৭৯)
মোটকথা, ইব্রাহীম (আ) অকাট্য প্রমাণ দ্বারা পরিষ্কারভাবে একথা বুঝিয়ে দিলেন যে,
নক্ষত্ররাজি, চন্দ্র ও সুর্য প্রভৃতি দৃশ্যমান বস্তু নিচয়ের কােনটিই উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে
না ৷ কারণ এর সবঢিই সৃষ্ট বস্তু , অন্যের দ্বারা প্রতিপালিত , নিযত্রিত এবং চলাচলের ক্ষেত্রে
অন্যের আজ্ঞাধীন, যাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে এতটুকু নড়চড় হওয়ার শক্তি
কারো নেই ৷ এগুলো প্রতিপালিত, সৃষ্ট ও অন্যের আজ্ঞাধীন হওয়ার এটাই প্রমাণ ৷ আর এ
জন্যই আল্লাহ তা জানা বলেন০ ং
ঠুৰুদ্ভু

অর্থাৎ-তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সুর্য ও চন্দ্র ৷ তোমরা সুর্যকে সিজদা
করো না, চন্দ্রকেও না ৷ সিজদা কর আল্লাহকে যিনি এগুলো সুষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তারই
ইবাদত করে থাকে৷ ৷ (৪ ১ : ৩৭)
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইবন উমর, ইবন আব্বাস (রা ) ও আয়েশা (রা ) প্রমুখ
সাহাবী থেকে সালাতুল কুসুফ (সুর্য গ্রহণের নামায) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা)

একদিন তার ভাষণে বলেন :
অর্থাৎ “সুর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমুহের দুটো নিদর্শন ৷ কারো জীবন বা মৃত্যুর
কারণে এগুলোতে গ্রহণ লাগে না ৷”

ইমাম বুখারী (র) সৃষ্টির সুচনা অধ্যায়ে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (বা) বলেন,

রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : ৰ্প্রু ৷ ৷ ৷ ণ্প্রু ;, ৷ ,প্রুষুৰু পৌ ৷ এ স্পো ৷ অর্থাৎ-“সুর্য ও
চন্দ্র কিয়ামতের দিন নিম্প্রভ হয়ে যাবে ৷”
ইমাম বুখারী (ব) এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ তবে হাফিজ আবু বকর বায্যার
(র) এর চেয়ে আরো বিস্তারিতভ ৷বে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ তাহলাে০ ং

আবুদল্লাহ ইবন দানাজ বলেন, আমি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমানকে খালিদ ইবন
আবদুল্লাহ আল-কাসবী-এর আমলে কুফার এ মসজিদে হাসান-এর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি
যে, আবুহুরায়রা (বা) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

অর্থাৎ-“সুর্য ও চন্দ্র কিয়ামতের দিন জাহড়ান্নামে দৃটো র্ষাড় হবে ৷”

একথা শুনে হাসান (র) বললেন, ওদের কােন্ কর্মফলের দরুন? জবাবে আবু সালামা
বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা)এর হাদীস তোমার নিকট বর্ণনা করছি আর তুমি কি না বলছ
ওদের কোন কর্মফলের দরুন? তারপর বায্যার (র) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) থােক এ সুত্র

ব্যতীত হাদীসটি বর্ণিত হয়নি ৷ আর আবদুল্লাহ দানাজ আবু সালামা (বা) থেকে এ হাদীসটি
ব্যতীত অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করেননি ৷
হাফিজ আবু ইয়ালা আল-মুসিলী য়াযীদ আর রুকাশী নামক একজন দুর্বল রাবী সুত্রে
আনাস (রা) থােক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ (সা) বলেছেন :

অর্থাৎ “সুর্য ও চন্দ্র জ ৷হান্নামে দু টো ভীত সস্ত্রস্ত র্ষাড় হবে ৷”
ইবন আবু হ তিম (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস (রা) ;,ওপ্রুহ্র ৷ এর
ব্যাখ্যার বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা জানা সুর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রসমুহকে সমুদ্রে ফেলে
নিম্প্রভ করে দেবেন ৷ তারপর আল্লাহ পশ্চিমা বায়ু প্রেরণ করবেন, তা সেগুলোকে আগুনে
ইন্ধনরুপে নিক্ষেপ করবে ৷

এসব বর্ণনা প্রমাণ করে যে, সুর্য ও চন্দ্র আল্লাহর সৃষ্টিসমুহের অন্তর্ভুক্ত ৷ আল্লাহ বিশেষ
উদ্দেশ্যে এগুলো সৃষ্টি করেছেন ৷ তারপর আবার একদিন এগুলোর ব্যাপারে তীর যা ইচ্ছা তাই
করবেন ৷ তিনি অকাট্য প্রমাণ ও নিখুত হিকমতের অধিকারী ৷ ফলে তার প্রজ্ঞা, হিকমত ও
কুদরতের কারণে তিনি যা করেন তাতে কারো কোন প্রশ্নের অবকাশ নেই এবং তার কর্তৃতুকে
প্রতিরোধ বা প্রতিহত করার ক্ষমতা কারো নেই ৷ ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) তীর সীরাত
গ্রন্থের শুরুতে যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল আকাশ, পৃথিবী, সুর্য ও চন্দ্র ইত্যাদি সৃষ্টি
সম্পর্কিত যে পংক্তিগুলাে উল্লেখ করেছেন৩ তা কতই না সুন্দর ৷ ইবন হিশাম বলেন, পং ক্তিগুলাে
উমায়্যা ইবন অড়াবুস সালত-এর ৷ পংক্তিগুলাে এইং
আল বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ১৪-

অর্থাৎ-আমার যাবতীয় প্রশংসা, ন্তুতি ও প্রেম র্গাথা অনন্তকালের জন্য আল্লাহর সমীপেই
আমি উৎসর্গ করছি, যিনি রাজাধিরাজ যার উপরে কোন উপাস্য এবং র্যার সমকক্ষ কোন রব
নেই ৷

ওহে মানব জাতি ! ৎসের হাত থেকে তুমি বেচে থাক ৷ আল্লাহর থেকে কিইে গোপন
রাখার সাধ্য তোমার নেই ৷ আর আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে অংশীদার স্থাপন করা থেকে বেচে থাকা
তোমার একান্ত প্রয়োজন ৷ হেদায়াতের পথ আজ একেবারেই সুস্পষ্ট ৷

প্রভাে! তোমার রহমতই আমার কাম্য; তৃমিই তো আমার উপাস্য ৷

হে আল্লাহ ! তােমাকেই আমি রব বলে গ্রহণ করে নিয়েছি; তোমাকে ছাড়া অপর কারো
উপাসনা করতে তুমি আমায় দেখবে না ৷

তুমি তো সে সত্তা, যিনি আপন দয়া ও করুণায় মুসাকে আহবানকারী রাসুল বানিয়ে প্রেরণ
করেছে৷ ৷ আর র্তাকে বলে দিয়েছ হারুনকে নিয়ে তুমি অবাধ ফিরআউনের নিকট যাও এবং
তাকে আল্লাহর প্রতি আহবান কর ৷ আর তাকে জিজ্ঞেস কর; তুমি কি স্থির করেছ এ পৃথিবীকে
কীলক ব্যভীতা তুমিই কি উরুর্ধ্ব স্থাপন করেছ আকাশমণ্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতিরোক ? রাতের আ ধারে
পথের দিশারী এ উজ্জ্বল চন্দ্রকে আকাশের মাঝে স্থাপন করেছ কি তুমিইঃ প্রভাতকালে সুর্যকে

কে প্রেরণ করে, যা উদয় হয়ে পৃথিবীকে করে দেয় আলোকময়ঃ বল, কে মাটির মধ্যে বীজ
অৎকুরিত করে উৎপন্ন করে তাজা শাক-সবজি ও তরিতরকারি? এতে বহু নিদর্শন রয়েছে তার
জন্য যে বুঝতে চায় ৷

আর তুমি নিজ অনুগ্নহে মুক্তি দিয়েছ ইউনুসকে ৷ অথচ সে মাছের উদরে কাটিয়েছিল বেশ
কটি রাত ৷

প্রভাে! আমি যদি তোমার মহিম৷ ও পবিত্রত৷ ঘোষণা করতে যাই তা হলে তো তোমার
অনেক অনেক মহিমার কথা বলতে হয়, তবে তুমি যদি মাফ করে দাও,৩ তা৩হলে ভিন্ন কথা

ওহে মানুষের প্রণ্ডু ৷ আমার উপর বর্যণ কর তুমি তোমার অপার দয়া ও করুণার বারিধারা
আর বরকত দাও আমার সন্তান-সন্ততি ও ধন-দৌলতে ৷

যাহোক, এতটুকু জানার পর আমরা বলতে পারি যে, আকাশে স্থির ও চলমান যেসব নক্ষত্র
আছে, তা সবই মাখলুক, অ ৷ল্লাহ তাঅ ৷লা তা সৃষ্টি করেছেন ৷ যেমন তিনি বলেনঃ

অর্থাৎ এবং তিনি প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করলেন, এবং আমি নিকটবর্তী
আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত ৷ এটা পরাক্রমশালী , সর্বজ্ঞ
আল্লাহর ব্যবস্থাপনা ৷ (৪১ : ১২)

পক্ষাস্তরে, হারুত ও মারুতের কা ৷হিনী সম্পর্কে অনেক মুফাসৃসির যে কথাটি বলে থাকেন,
যুহরা (শুক্রগ্রহ) ছিল এক মহিলা, তার কাছে তারা অসৎ প্রস্তাব দিলে র্তারা৩ ৷কে ইসমে আজম
শিক্ষা দেবে এ শর্তে যে তাতে সম্মত হয় ৷ শর্তমত হারুত ও মারুত তাকে ইসমে আজম
শিখিয়ে দিলে তা উচ্চারণ করে সে নক্ষত্র হয়ে আকাশে উঠে যায় ৷ আমার ধারণা, এটা
ইসরাঈলীদের মনগড়৷ কাহিনী ৷ যদিও কাব আলআহবার তা বর্ণনা করেছেন এবং তার বরাতে
পুর্ববর্তী যুগের একদল আলিম বনী ইসরাঈল-এর কাহিনী হিসাবে বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম আহমদ এবং ইবন হিব্বান (র)ত তার সহীহ গ্রন্থে এ প্ৰসৎগে একটি রিওয়ায়েত
করেছেন, আহমদ উমর (রা) সুত্রে নবী করীম (না) থেকে কাহিনীটি সবিস্তাবে বর্ণনা করেছেন ৷

তাতে রয়েছে যে, যুহরাকে (শুক্রগ্নহ) পরম৷ সুন্দরী এক নারী রুপে হারুতমারুতের সম্মুখে
উপস্থিত করা হয় ৷

মহিলাটি তাদের কাছে এলে তারা তাকে প্ররো ৷চিত করে ৷ এভাবে বর্ণনাকারী কাহিনীটি শেষ
পর্যন্ত বর্ণনা করেন ৷

হাদীসবিদ আবদুর রায্যাক তার তাফসীর অধ্যায়ে কাব আল-আহবার (রা) সুত্রে কাহিনীটি
বর্ণনা করেছেন ৷ আর এটিই সর্বাপেক্ষা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ৷

আবার হাকিম (র০ তার মুসতাদরাকে এবং ইবন আবু হাতিম (র) তার তাফসীরে ইবন
আব্বাস (রা) থেকে কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন ৷ তাতে তিনি বলেছেন, যে যুগে এক রমণী

ছিল ৷ মহিলাদের মধ্যে তার রুপ ছিল ঠিক নক্ষত্রকুলে যুহরার রুপের ন্যায় ৷ এ কাহিনী সম্পর্কে
বর্ণিত পাঠসমুহের মধ্যে এটিই সর্বোত্তম পাঠ ৷

ইবন উমর (রা) সুত্রে বর্ণিত হাফিজ আবু বকর বায্যার (র)-এর হড়াদীসটিও একইরুপ ৷
তাহলো, রাসুলুল্লাহ (সা) সুহায়ল সম্পর্কে বলেছেন :

অর্থাৎ-“সুহায়ল কর আদায়ের ব্যাপারে অত্যন্ত জালেম ছিল ৷ ফলে আল্লাহ তাকে
উল্কাপিণ্ডে রুপান্তরিত করে দেন ৷

আবু বকর বায্যার (র) এ রিওয়ায়াতের সনদে দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছেন বলে উল্লেখ করা
সত্বেও এ ব্যাপারে অন্য কোন সুত্রে বর্ণনাটি না পাওয়ার কারণে এ সুত্রেই বর্ণনাটি উপস্থাপিত
করলাম ৷ বলাবাহুল্য যে, এ ধরনের সনদ দ্বারা একদম কিছুই প্রমাণিত হয় না ৷ তাছাড়া তাদের
ব্যাপারে সুধারণা রাখলেও আমাদের বলতে হবে যে, এটি বনী ইসরাঈলের কাহিনী ৷ যেমনটি
ইবন উমর (রা) ও কাব আল-আহবার (রা)-এর বর্ণনা থেকে পুর্বে আমরা বলে এসেছি ৷ এসব
তাদের মনগড়া অলীক কাহিনী যার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই ৷

ছায়াপথ ও রংধনু

আবুল কাসিম তাবারানী (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস (বা) বলেন, সম্রাট
হিরাক্লিয়াস মুআবিয়া (রা)এর নিকট পত্র লিখেন এবং এ সময় তিনি বলেন যে, যদি তাদের
অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে নবুওতের শিক্ষার কিছুটাও অবশিষ্ট থাকে তবে অবশ্যই তারা
আমাকে আমার প্রশ্নের জবাব দেবে ৷ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, পত্রে তিনি মুআবিয়া (রা)-কে
ছায়াপথ, রংধনু এবং ঐ ভুখণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করেন যাতে স্বল্প সময় ব্যতীত কখনো সুর্য
পৌছেনি ৷ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, পত্র ও দুত এসে পৌছলে মুআবিয়া (রা) বললেন, এ
তো এমন একটি বিষয় যে ব্যাপারে প্রশ্নের সম্মুখীন হবো বলে এ য়াবত কখনো আমি কল্পনাও
করিনি ৷ কে পারবেন এর জবাব দিতে? বলা হলো, ইবন আব্বাস (রা) পারবেন ৷ ফলে
মুআবিয়া (রা) হিরাক্লিয়াসের পত্রটি গুটিয়ে ইবন আব্বাসের নিকট পাঠিয়ে দেন ৷ জবাবে ইবন
আব্বাস (বা) লিখেন : রংধনু হলো, পৃথিবীবাসীর জন্য নিমজ্জন থেকে নিরাপত্তা ৷ ছায়াপথ
আকাশের সে দরজা, যার মধ্য দিয়ে পৃথিবী বিদীর্ণ হবে আর যে ভুখণ্ডে দিনের কিছু সময়
ব্যতীত কখনো সুর্য পৌছেনি; তাহলো সাগরের সেই অংশ যা দৃ’ভাপ করে বনী ইসরাঈলদেরকে
পার করানো হয়েছিল ৷ ইবন আব্বাস (রা) পর্যন্ত এ হড়াদীসের সনদটি সহীহ ৷

তাবারানী বর্ণনা করেন যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :
“হে মুআয ! তোমাকে আমি কিতাবীদের একটি সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করছি ৷ যখন তুমি
আকাশস্থিত ছায়াপথ সম্পর্কে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তখন বলে দেবে যে, “তা আরশের নীচে
অবস্থিত একটি সাপের লালা ৷

এ হড়াদীছটি অতিমাত্রায় মুনকার বরং এটা মওঘু বা জাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ৷ এর রাবী
ফায্ল ইবনুমুখতার হলেন আবু সাহ্ল বসরী ৷ পরে তিনি মিসরে চলে য়ান ৷ তার সম্পর্কে আবু
হাতিম রাযী বলেছেন, লোকটি অজ্ঞাত পরিচয়, বাজে কথা বলার অভ্যস্ত ৷ হাফিজ আবুল
ফাত্হ আযদী বলেছেন, লোকটি অতি মাত্রায় ঘুনকারুল হাদীস ৷ আর ইবন আদী (র)
বলেছেন, মতন ও সনদ কোন দিক থেকেই তার হাদীস অনুসরণযােগ্য নয় ৷

আল্লাহ তা জানা বলেনঃ

অর্থাৎ তিনিই তােমাদেরকে দেখান বিজলী৷ যা ভর ও ভরসা সঞ্চার করে এবং তিনিই
সৃষ্টি করেন ঘন মেঘ ৷ বজ্রনির্যোষ ও ফেরেশতাগণ সভয়ে তার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা
ঘোষণা করে এবং তিনি বজপাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা
আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে, যদিও তিনি মহাশক্তিশালী ৷ (১৩ : ১ ২ ১৩)

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেনং :

অর্থাৎ অড়াকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে দিন ও রাতের পরিবর্তন, যা মানুষের হিত সাধন
করে তা সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমুহে আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে
তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীব-ত্তস্থের বিস্তারণে, বায়ুর
দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়স্তিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন
রয়েছে ৷ (২ : ১৬৪)

ইমাম আহমদ (র) যথাক্রমে ইয়াযীদ ইবন হারুন, ইব্রাহীম ইবন মধ্যে ও সাদ সুত্রে
গিফার গোত্রের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্পাহ
(সা) কে বলতে শুনেছি :

অর্থাৎ “আল্লাহ মেঘ সৃষ্টি করেন, ফলে তা উত্তমভাবে কথা বলে ও উত্তম হাসি হাসে ৷”
মুসা ইবন উবায়দা ইবন সাদ ইব্রাহীম (র) বলেন, মেঘের কথা বলা হলো বজ্র আর
হাসি হলো বিজলী ৷ ইবন আবুহাতিম বর্ণনা করেন যে , মুহাম্মদ ইবন মুসলিম বলেন, আমাদের
নিকট সংবাদ পৌছেছে যে, এ,শুএ ! এমন একজন ফেরেশতা, যার চারটি মুখ আছে, মানুষের

মুখ, র্ষড়াড়ের মুখ, শকুনের মুখ ও সিংহের মুখ ৷ সে তার লেজ নাড়া দিলেই তা থেকে বিজলী
সৃষ্টি হয় ৷
ইমাম আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও বুখারী (র) কিতাবুল আদবে এবং হাকিম তার
মুসতাদরাকে হাজ্জা জ ইবন আরতাহ (র) বর্ণিত হাদীসটি সালিমের পিতার সুত্রে বর্ণনা করেন
যে, রড়াসুলুল্লাহ (না) যখন বজ্রধ্বনি শুনতেন তখন বলতেন :

অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদেরকে তুমি তোমার গযব দ্বারা বধ কর না ও তোমার আমার
দ্বারা ধ্বংস কর না এবং এর আগেই তুমি আমাদেরকে নিরাপত্তা দান কর ৷
ইবন জারীর (র) আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সা) বজের
অন্ওয়ন্জ শুনলে বলৰুতন০ : অর্থাৎ-পবিত্র সেই
মহান সত্তা, বজ্র যার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে ৷

আলী (বা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতে ন৪ ণ্এ ন্ ১ ,ষ্ ইবন আব্বাস,

আস্ওয়াদ ইবন ইয়াযীদ ও তাউস প্রমুখ থেকেও এরুপ বর্ণিত আছে ৷ মালিক আবদুল্লাহ ইবন
উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বরুজ্রর আওয়ড়ায শুনলে কথা-বার্তা ত্যাগ
করে বলতেন

অর্থাৎ পবিত্র সেই মহান সত্তা, বজ্র ও ফেরেশতাগণ সভয়ে যার সপ্রশৎস মহিমা ও
পবিত্রতা ঘোষণা করে ৷

তিনি আরো বলতেন :
অর্থাৎ নিশ্চয় এটা পৃথিবীবাসীর জন্য এক কঠোর ছুশিয়ারি ৷
ইমাম আহমদ (র) আবুহুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

অর্থাৎ তোমাদের রব বলেছেন : আমার বান্দারা যদি আমার আনুগত্য করতো, তাহলে
আমি তাদের জন্য রাতে বৃষ্টি দিতাম আর দিনে সুর্য উদিত করতাম আর তাদেরকে বজের
নিনাদ শুনাতাম না ৷ অতএব, তোমরা আল্লাহর যিকির কর ৷ কারণ যিকিরকারীর উপর তা’
আপতিত হয় না ৷

আমার তাফসীর গ্রন্থে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে ৷ প্রশংসা সব আল্লাহরই প্রাপ্য ৷

ফেরেশত৷ সৃষ্টি ও তাদের ওণাবলীর আলোচনা
আল্লাহ্ তা আলা বলেন০ ং

অর্থাৎ-তা ৷রা বলে, দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন ৷ তিনি পবিত্র, মহান! তারা তো র্তার
সম্মানিত বান্দ৷ ৷ তারা আগে বাড়িয়ে কথা বলে না, তারা তাে আদেশ অৰুসারেই কাজ করে
থাকে ৷

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত ৷ তারা সুপারিশ করে শুধু
তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তার ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত ৷ তাদের মধ্যে যে বলবে,
আমিই ইলাহ তিনি ব্যতীত; তাকে আমি প্রতিফল দেব জাহান্নাম ; এভাবেই আমি জালিমদেবকে
শান্তি দিয়ে থাকি ৷ (২১ং ২৬ ২৯)

অর্থাৎ আকাশমণ্ডলী উর্ধ্বদেশ থেকে ভেঙ্গে পড়বার উপক্রম হয় এবং ফেরেশতাপণ
তাদের প্রতিপ৷ ৷লকের সপ্ৰশংস পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা করে এবং পৃথিবীবাসীদের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করে; জেনে রেখ, আল্পাহ্, তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷ (৪২ং ৫)

অর্থাৎ যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারদিক ঘিরে আছে, তারা তাদের
প্রতিপালকের পবিত্র৩ ৷ ও মহিমা ঘোষণা করে প্রাণ সার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে
এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার দয়া ও জ্ঞান

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.