ফারওয়া ইবন আমর আল জুযামী মআন অঞ্চলের শাসক-এর দূত-এর আগমন

বেরিয়ে পড়বে ৷ তারপর বলল, বায়সান’ খেজুর বাগানের খবর কী ? তাতে কি ফল ধরতে শুরু
করেছে? আমরা বললাম, হী, তা ফল দিতে শুরু করেছে ৷ সে আগের বারের মত জোরে
লাফিয়ে উঠল ৷ তারপর বলল, শুনে রেখাে ৷ আমাকে বেরিয়ে আসার অবকাশ দেয়া হলে
তায়বা’ ব্যতীত সারা দুনিয়া আমি মাড়িয়ে দেব ৷ রাবী ফাতিমা (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তামীম (রা)-কে ঘরের বাইরে নিয়ে আসলে তিনি লোকদের এ ঘটনা শেনোংলন ৷ নবী করীম
(সা) তখন বললেন, এ (মদীনা) হল তায়বা’ (পবিত্র ভুমি) আর ঐ লোকটি হল দাজ্জাল’ ৷

ইমাম আহমদ, মুসলিম ও অন্যান্য সুনান সৎকলকগণ এ হাদীসখানি একাধিক সুত্রে
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) আবু হুরায়রা (রা) ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত আইশা
(বা) থেকে এ হাদীসের সমর্থক রিওয়ায়াত বিবৃত করেছেন, কিতাবুল ফিতান’ ফিতনা :
অধ্যায়ে এ হাদীসের’ বিশদ বিবরণ উল্লিখিত হবে ৷

বনু আসাদ গোত্রের প্রতিনিধিদল প্রসঙ্গ

(এ পর্যায়ে ওয়াকিদী (র) লাখমী’দের শাখা দারিস’ উপগােত্রের দশ সদস্য বিশিষ্ট
প্রতিনিধি দলের আগমনী বিবরণ দিয়েছেন) ৷

বিবরণটি নিম্নরুপ নবম হিজয়ীর প্রথমভাগে বনু আসাদ প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ্ (সা)
সকড়াশে উপস্থিত হয়, তাদের সদস্য সংখ্যা ছিল দশ ৷ এদের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলেন যিরার
ইবনুল আঘৃওয়ার, ওয়াবিসা ইবন মাবাদ, তুলায়হা ইবন খুওয়ায়লিদ (পরবর্তীতে নৰুয়তের
মিধ্যা দাবীদার এবং আরো পরে মুসলমান হয়ে র্খাটি ইসলামী জীবন যাপনকারী) ও নাফাযা
(মতান্তরে নাকাদা) ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন খালাফ ৷ দল নেতা হাদরামী ইবন আমির রাসুলুল্পাহ্
(সা)কে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! নিঝুম রাতের বর্য পরিধান করে এক খরা পীড়িত বছরে
আমরা আপনার কাছে এসেছি আপনি আমাদের বিরুদ্ধে কোন বাহিনীও পাঠাননি (অর্থাৎ
স্বেচ্ছায় এসেছি) ৷ তখন তাদের সম্পর্কে নাযিল হল

“তারা আত্মসমর্পণ করেছে ৰ্ৰুল (তামাকে ধন্য করেছে ম্ৰুন করে বল, (তামাদের

আত্মসমর্পণ আমাকে ধন্য করেছে, মনে করো না ৷ বরং আল্লা ইে ঈমানের দিকে পথ দেখিয়ে
তোমাদের প্ৰতি করুণা করেছেন; যদি তোমরা সত্যব্যদী হও (৪৯ : ১৭) ৷

এদের মাঝে বনুর-রাতিয়্যাহ (আভিধানিক অর্থে কঠোরতা সম্পন্ন) নামে একটি উপগােত্র
ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের নাম পরিবর্তন করে বললেন, “তোমরা বাবুর রুশৃদা :
(সুমতিপ্রাপ্ত পরিবার) ৷ নবী করীম (সা) নাফাদা, ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ধ্লােফ্এর কাছ
একটি উটনী হাদিয়াস্বরুপ চেয়েছিলেন, যা সহজ আরোহনীয় ও তার সাখে তার বক্ষো না
থাকলেও সহজে দোহনযোগ্য হয় ৷ কিন্তু নাফাদা অনেক খুল্লেও এমন জো গেল না ৷
অবশেষে তার এক জ্ঞাতি ভাইয়ের কাছে তা পাওয়া গেল ৷ সেটি নিম্নে অ্যাষ্ক হলে রাসুলুল্লাহ্
(সা) র্তীকে সেটি দােহন করতে বললেন ৷ তিনি নিজে সে দুধ পান ন্সেলন অবশিষ্ট দুধ
দোহনকারীকে পান করালেন ৷ তারপর তিনি বললেন-

হে আল্লাহা এ উদ্রীতে এবং যে তা দড়ান’ করেছে তাকে
বরকত দিন! তখন নাফাদা (বা) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! “আর যে এটি নিয়ে এসেছে
তাকেও তিনি বললেন “এবং যে এটি নিয়ে এসেছে তাকেও (বরকত
দিন)

বনু আবাস প্রতিনিধি দল প্রসঙ্গ

ওয়াকিদী (র) উল্লেখ করেছেন, এ দলের সদস্য সংখ্যা ছিল নয় ৷ ওয়াকিদী (র) তাদের
নামের তালিকা উল্লেখ করেছেন ৷ নবী করীম (সা) তাদের বললেন ণ্ন্থ) “আমি
তোমাদের দশম ব্যক্তি ৷” নবী করীম (সা) তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা)-কে হুকুম করলে
তিনি তাদের (প্রতীকী) পতাকা’ বেধে দিলেন এবং তাদের শিআর ও সাংকেতিক পরিচিতি
(ঈড়ফব) সাব্যস্ত করা হল “ইয়া আশরা ৷

ওয়াকিদী (র) আরো উল্লেখ করেছেন যে, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের কাছে খালিদ ইবন সিনান
আল আবড়াসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন (জাহিলিয়্যাত যুগের অধ্যায়ে আমরা তার জীবন
চরিত আলোচনা করে এসেছি) ৷ তারা বলল যে, তার কোন বংশধর নেই ৷ ওয়াকিদী (র)-এর
বর্ণনার আরো রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এ দলটিকে সিরিয়া (নাম) প্রত্যাগত কুরায়শী
(তেজারতী) কাফেলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে পাঠিয়েছিলেন ৷ এ বর্ণনা দ্বারা অবশ্য মক্কা বিজয়ের
আগেই তাদের প্রতিনিধিরুপে আগমনের কথা প্রতীয়মান হয় ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷

বনুফাষারা প্রতিনিধি দল প্রসঙ্গ

ওয়াকিদী (র) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন উমর আল-জুমড়াহী (র)আবু
ওয়াজনাঃ আস সাদী (র) থেকে, তিনি বলেছেন, ৱাসুলুল্লাহ্ (সা) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন
ব্লো সে ছিল হিজরী নবম সনে দশের অধিক সংখ্যক সদস্যের বনু ফাযরাে প্রতিনিধি দল
আগমন করল ৷ দলের সদস্যদের মাঝে ছিলেন খারিজ্যহ ইবন হিসৃন ও হারিছ ইবন কায়স
ইবন হিসৃন দলের কনিষ্ঠতম সদস্য ৷ তারা এসেছিলেন দুর্বল শীর্ণ বাহনে করে (পথের দুরত্ব
৩ দৃর্ভিক্ষের কারণে) ৷ জদের আগমনের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মের প্রতি স্বীকৃতি ঘোষণা
প্সা৷ ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের কাছে তাদের জনপদের অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন ৷ তাদের
স্ফো বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! দেশ সশ্য ফসলহীন হয়ে গিয়েছে, পশুপাল মরে যাচ্ছে,
ৰ্গ্ান ৰ্রামস্ত হয়ে পাতাশুন্য হয়ে পড়েছে আর আমাদের পরিবার-পরিজন অনাহারে রয়েছে;
আ আমাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে দুআ করুন! রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিম্বারে উঠে দুআ
৷ দৃআর তিনি বললেন-

হ্ষ্ ল্মহ্! আপনার পৃথিবীকে এবং আপনার পশুপালকে বর্যণসিক্ত করুন! আপনার
আপনার মৃত ক্রাপদকে জীবন দান করুন ! হে আল্লাহ্ ! আমাদের সিক্ত

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.