বারসীসা এর ঘটনা

বারসীসা এর ঘটনা

এটি জুরায়জের ঘটনার বিপরীত ৷ জুরায়জ ছিলেন পুতঃপবিত্র আর বারসীসা ছিল
পথ-ভ্রষ্ট ৷ আল্লাহ তাআলার বাণী :

“এরা শয়তানের মত সে মানুষকে বলে, কুফরী কর”, তারপরহু শুশোন স কুফরী করে তখন
সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি তো জগতসমুহের প্ৰতিপালক
আল্লাহকে ভয় করি ৷ ফলে উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম ৷ সেথায় তারা স্থায়ী হবে ৷ আর
এটাই জালিমদের কর্মফল ৷ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইবন জারীর আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা ) সুত্রে
বলেন, একজন মহিলা বকরী চরাত ৷ তার ছিল চার ভাই ৷ রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের
উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত ৷

একদিন যাজক এসে তার সাথে কুকর্ম করে ৷ তাতে সে অন্তঃস্বত্ত্ব৷ হয়ে পড়ে ৷ শয়তান
এসে প্ররোচণ৷ দিয়ে বলে, মহিলাকে খুন করে মাটি চাপা দিয়ে দাও ৷ লোকে তো তোমাকে
বিশ্বাস করে ৷ তারা তোমার কথা শুনবে ৷ শয়তানের প্ররোচণায় সে মহিলাটিকে খুন করে এবং
মাটি চাপা দিয়ে দেয় ৷ এবার শয়তান স্বপ্নে মহিলার ভাইদের নিকট উপস্থিত হয় ৷ তাদেরকে
বলে যে, উপসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সাথে কুকর্ম করেছে এবং সে অন্তঃস্বত্ত্ব৷ হয়ে
পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে ৷ সকাল হলে ভাইদের একজন
বললো, আল্লাহর কলম গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি , , সেটি তোমাদেরকে বলব
কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না ৷

অন্যরা বলল, তুমি বরং ঐ স্বপ্নের কথা আমাদেরকে বল ৷ যে তা বর্ণনা করলো ৷ অন্যজন
বললো, আল্লাহর কসম, আমিও স্বপ্রে৩ তাই দেখেছি৷ তৃতীয়জন বললো, আমিও তাই দেখেছি ৷
তখন তারা ৷বলাবলি করে যে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন রহস্য আছে ৷ তারা সবাই তাদের
শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্ৰতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে ৷ তারপর সবাই যাজকের নিকট
যায় এবং তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে ৷ এ সময়ে শয়তান যাজকের নিকট উপ ত
হয়ে বলে, আমিই তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি ৷ আমি৷ ছাড় ডাকেউ ওে ৷মাকে এখান থেকে উদ্ধার
১ ৫৯ হাশর ক্কু৬-১ ৭
করতে পারবে না ৷ সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা কর; আমি ওে ৷মাকে যে বিপদে
ফেলেছি ত৷ থেকে উদ্ধার করব ৷ সে মতে সে৩ তাকে সিজদা ৷করল ৷৩ তারপর শাস্তি বিধানের
জন্যে যখন শাসনকর্তার নিকট তাকে নিয়ে গেল তখন শয়তান সেখান থেকে কেটে পড়ে তখন
তাকে নিয়ে হত্যা করা হয় ৷ ইবন আব্বাস (বা) সুত্রেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷

আমিরুল মুমিনীন আলী ইবন আলী তালিব (রা) থেকে অন্য এক সনদে এ ঘটনাটি বর্ণিত
হয়েছে ৷ ইবন জারীর আবদুল্লাহ ইবন নাহীদকে উদ্ধৃত করে বলেন, আমি আলী (রা) কে বলতে
শুনেছি ৷ তিনি বলছিলেন, এক ধর্মযাজক দীর্ঘ ষাট বছর ধরে ইবাদত করেছিল ৷ শয়তান তাকে
জব্দ করতে ফন্দি আটে ৷ অতঃপর সে এক মহিলার ওপর আছর করে ৷ সে মহিলার কয়েকটি
ভাই ছিল ৷ ভাইদেরকে সে বলল, ওকে চিকিৎসার উদ্দেশেষ্ যাজকের কাছে নিয়ে যাও ৷
ভাইয়েরা মহিলাটিকে যাজকের নিকট নিয়ে যায় ৷৩ তার চিকিৎসা করল ৷ মহিলাটি কয়েকদিন
তার ওখ৷ ৷নে ছিল ৷ একদিনের কথা ৷ মহিলার প্রতি আসক্ত হয়ে সে তার সাথে কুকমে লিপ্ত হয় ৷

খোজে যাজকের নিকট আসে ৷ এ দিকে শয়তানও ৷রত কাছে ৷ উপস্থিত হয়ে বললেন, এক
সময় তুমি আমাকে ব্যর্থ করে দিয়েছিলে ৷ এখন আমিই তোমাকে দিয়ে এসব কা ও ঘটিয়েছি ৷
অতএব এখন তুমি আমার আনুগ৩ কর ৷ আমি তোমাকে উদ্ধার করব ৷ তুমি আমাকে একটি
সিজদা কর ৷ যাজকটি তাকে সিজদা ৷করল ৷ তখন শয়তান বলল এখন তোমার সাথে আমার
কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমি বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি ৷ এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা জানা
ইরশাদ করেন :

এরা শয়তানের মত সে মানুষকে বলে কুফরী কর ৷ অতঃপর যখন সে কুফরী করে
তখন সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমি জগত তসমুহের প্রতিপালক
আল্লাহকে ভয় করি”৷ ১

গুহায় আশ্রয় গ্রহণকারী তিন ব্যক্তির ঘটনা

পুর্বেকড়ার যামানার তিন ব্যক্তি একদা একটি গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন ৷ গুহার মুখটি
অকম্মাৎ রুদ্ধ হয়ে যায় ৷ তখন তারা নিজেদের সৎকর্মের উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া
করেন ৷ আল্লাহ তাদেরকে বিপন্মুক্ত করেন ৷

ইমাম বুখারী (র) ইবন উমার (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন
তোমাদের পুর্বেকার যুগের তিনজন লোক পথ চলছিল ৷ হঠাৎ তারা ঝড়ে পতিত হয় ৷ তারা
একটি গুহায় আশ্রয় নেয় ৷ তখন অকম্মাৎ গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায় ৷ তারা পরস্পরে বলাবলি
১ ৫৯ হাশর ১৬

করতে থাকে, আল্লাহর কসম৷ এই বিপদটি থেকে যে কোন পুণ্যকর্মের উসিলা ব্যতীত তোমরা
মুক্তি পাবে না ৷ এখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ উত্তম কর্মের উসিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া
কর ৷ তাদের একজন এ বলেন, দোয়া শুরু করল, হে আল্লাহ’ আপনি তো জানেন, আমার
এক শ্রমিক ছিল ৷ এক ফুরক১ ধান পারিশ্রমিক ধার্য করে সে আমার কাজে নিয়োজিত হয়েছিল ৷
কাজ শেষে পারিশ্রমিক না নিয়েই যে চলে যায় ৷ অতঃপর তার যে ধান আমি জমিতে বপন
করে ফসল উৎপন্ন করি ৷ ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷ অবশেষে তা দিয়ে আমি একটি
পাভী ক্রয় করি ৷ একদিন সে আমার নিকট তার পারিশ্রমিক নেয়ার জন্যে আসে ৷ আমি বলি,
ওই যে পাভী তা তুমি নিয়ে যাও ৷ সে আমাকে বলে, আমার তো আপনার নিকট শুধু এক ফুরক
ধানই পাওনা ৷ আমি বলি, তোমার সে ধান থেকেই এই পাভী তুমি তা দিয়ে যাও ৷ সে তখন ঐ
পাভীটি নিয়ে চলে যায় ৷ হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ডয়েই আমি এরুপ
করেছি, তবে আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন ৷ এতে পাথর একটুখানি ফীক হয়ে
যায় ৷

অপর একজন বলেন, হে আল্লাহ ! আপনি তো জানেন, আমার ঘরে বৃদ্ধ মাতা পিতা
ছিলেন ৷ প্রতি রাতে আমি তাদেরকে রকরীর দুধ পান করাতাম ৷ এক রাতে আমার আসতে
বিলম্ব হয়ে যায় ৷ আমি যখন আমি, তখন আমার পিতামাতা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ৷ আমার
পরিবার-পরিজন ও ছেলে মেয়েরা তখনও ক্ষুধায় ছটফট করছিল, কান্নাকাটি করছিল ৷ আমার
পিতামাতা দুধ পান না করা পর্যন্ত আমি পরিবারের কাউকেই দুধ পান করতে দিতাম না ৷ এ
সময়ে আমি পিতামাতাকে ঘুম থেকে আগত করা সমীচীন মনে করিনি ৷ আবার তাদেরকে রেখে
পরিবারের অন্যদেরকে দুধ খেতে দেয়াও পছন্দ করিনি ৷ আমি তাদের জগ্রোত হওয়ার অপেক্ষায়
থাকি ৷ এভাবে ভোর হয়ে যায় ৷ হে আল্লাহ ! আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ভয়ে আমি
এরুপ করেছি তাহলে আমাদের বিপদ দুর করে দিন! অতঃপর গুহড়ার মুখের পাথর আরেকটি
ফীক হয়ে যায়, যাতে আকাশ দেখতে পাওয়া যায় ৷ তাদের অপরজন বলেন, হে আল্লাহ !
আপনি তো জানেন, আমার এক চাচাত বোন ছিল ৷ সে ছিল আমার সৰ্বাধিক প্রিয় ৷ আমি তাকে
কুকর্মের জন্য প্ৰরোচিত করি ৷ একশ’টি স্বর্ণ মুদ্রা না দেওয়া পর্যন্ত যে তাতে অস্বীকৃতি জানায় ৷
আমি যে পরিমাণ স্বর্ণ মুদ্রা অর্জনের চেষ্টা চালাই ৷ আমি তা সংগ্রহ করে তা তার হাতে তা
অর্পণ করি ৷ তখন সে আমাকে সুযোগ দেয় ৷ আমি যখন চুড়ান্ত মুহুর্তে উপনীত হই তখন সে
বলে ওঠে, আল্লাহকে ভয় করুন ৷ বৈধ পন্থায় ব্যতীত আমার শ্লীলতাহানি করবেন না ৷ তখনই
আমি উঠে আসি এবং আমার একশ’ স্বর্ণ মুদ্রাও রেখে আসি ৷ হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে
করেন যে, আপনার ভয়েই আমি তা করেছি, তবে আমাদের বিপদ দুর করে দিন ৷ অতঃপর
আল্লাহ তাআলা তাদের বিপদ দুর করে দিলেন ৷ তারা গুহা থেকে বেরিয়ে আসে ৷

ইমাম মুসলিম (র) ইমাম আহমদ (র) নিজ নিজ সনদে অনুরুপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন ৷
ইমাম আহমদের একটি বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত কথাও রয়েছে ৷ বাঘৃষারও অনুরুপ বর্ণনা উদ্ধৃত
করেছেন ৷

১ মদীনা শরীফে প্রচলিত তিন না বা দশ কেজি বিশিষ্ট মাপপাত্র ৷

অন্ধ, কুষ্ঠ ও টড়াক মাথাওয়ালা তিন ব্যক্তির ঘটনা

ইমাম বুখারী (র) ও মুসলিম (ব) একাধিক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আবু হরায়র৷ (রা)
রাসুলুল্লাহ (না)-কে বলতে শুনেছেন যে, বনী ইসরাইরুলর তিন ব্যক্তি একজন কুষ্ঠ বোগী,
একজন অন্ধ, একজন টাক মাথা বিশিষ্ট ছিল ৷ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পরীক্ষা করতে
চাইলেন ৷ তাদের নিকট আল্লাহ তাআলা একজন ফিরিশতা পাঠালেন ৷ তিনি প্রথম কুষ্ঠরোগীর
নিকট উপস্থিত হন ৷

ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার প্রিয় বস্তু কি ? সে বলে, সুন্দর রং ও সুন্দর তৃক ৷
লোকজন এখন আমাকে ঘৃণা করে ৷ ফিরিশতা তার গায়ে হাত বুলিয়ে দেন ৷ ফলে তার রোগ
যিদুরিত হয় ৷ তাকে সুন্দর রং ও সুন্দর তুক দান করা হয় ৷ ফিরিশতা আবার বলেন, কোন
সম্পদ তােমারনিকট প্রিয়? সে বলে, উট ৷ অথবা সে বললাে, গাভী ৷ (কুষ্ঠ রোপীও টেকে৷ মাথা
বিশিষ্ট এ দৃ’জনের একজন উট চেয়েছিল অপরজন চোহৃছিল গাভী ৷ তাদের কে উট চেয়েছিল
আর কে পাভী চেয়েছিল তা নিয়ে রাবীর সন্দেহ রয়েছে ৷) ফিঘিশতা একটি দশ মাসের গর্ভরতী
উটনী তাকে প্রদান করেন এবং বলেন, এতে আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন ৷

রাসুলুল্লাহ বলেন, অতঃপর ফিরিশতা আসেন টেকাে মাথা বিশিষ্ট ব্যক্তির নিকট ৷ তিনি
তাকে জিজ্ঞেস করেন ৷ কোন বন্তুপ্প্ণ্তামার প্রিয়? জবাবে সে বলে ৷ আমার প্রিয় হল সুন্দর চুল,
আর এই টাক যেন দুরীভুত হয় ৷ লোকজন ,তাে এখন আমাকে ঘৃণা করে ৷ ফিরিশতা তার
মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন ৷ টাক দুরীভুত হয় এবং তার মাথায় সুন্দর চুল গজায় ৷ আবার
ফিরিশতা বলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট প্রিয়? সে বলে, গরু ৷ ফিরিশতা তাকে একটি
গর্ভবতী পাভী দান করেন এবং বলেন, আল্লাহ এতে তোমাকে বরকত দিন ৷

এবার ফিরিশতা আসেন অন্ধ ব্যক্তির নিকট ৷ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার প্রিয় বস্তু
কি? যে বললাে, আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেন ৷ আমি যেন লোকজনকে দেখতে
পাই ৷ ফিরিশতা তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন ৷ আল্লাহ তাআলা তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে
দিলেন ৷ ফিরিশতা বললেন, কোন সম্পদ তোমার প্রিয়? সে বলে, ছাগল ৷ তিনি তাকে একটি
গর্ভরভী বকরী দান করেন ৷

ইতিমধ্যে উটনী, গাভী ও বকরী বাচ্চা দিতে থাকে ৷ ক্রমে ক্রমে উট ওয়ালার মাঠ উটে
ভর্তি হয়ে যায় ৷ গাভীওয়ালার মাঠ পুর্ণ হয়ে যায় গরুতে ৷ আর বকরী ওয়ালার মাঠ পরিপুর্ণ হয়
বকরীতে ৷

এরপর একদিন ফেরেশত৷ কুষ্ঠরোগীর নিকট তার পুর্বের আকৃতি নিয়ে উপস্থিত হন ৷ তিনি
বললেন, আমি একজন মিসকিন ৷ সফরে এসে আমার যা ছিল সব ফুরিয়ে গেছে ৷ আল্লাহর
সাহায্যৰুএরং অতঃপর আপনার সহযোগিতা ব্যতীত আমার দেশে ফেরার কোন উপায় নেই ৷ যে
আল্লাহ আপনাকে সুন্দর দেহ, বর্ণ ও সুন্দর ত্বক দান করেছেন তার দােহাই দিয়ে আপনার নিকট
আমি একটি উট ভিক্ষা চাইছি ৷ আমার সফর কালে সেটি কাজে লাগবে ৷ সে বলল, মানুষের
চাহিদার শেষ নেই ৷ ফেরেশতা বলেন, আপনাকে আমার চেনা চেনা মনে হচ্ছে ৷ আপনি না কুষ্ঠ
রােগী ছিলেন? মানুষ আপনাকে ঘৃণা করত ৷ আর আপনি ছিলেন দরিদ্র ৷ আল্লাহই তো

আপনাকে সব সম্পদ দান করেছেন ৷ সে বলল, আমি তো বংশ্ ৷৷নুত্রুমে উত্তরাধিকার সুত্রে এ
সম্পদের মালিক হয়েছি ৷ ফেরেশ৩ ৷ বললেন, তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে৷ তাহলে আল্লাহ
যেন তোমাকে পুর্বাবন্থড়ায় ফিরিয়ে দেন!

এরপর ফেরেশতা ণ্টকে৷ মাথা লোকের নিকট তার আকৃতি ৩নিয়ে আসলেন ৷ কুষ্ঠরোগীকে
যেরুপ বলেছিলেন, তাকেও সেরুপ বললেন ৷ সেও ঐ কুষ্ঠরোপ র মত উত্তর দিল ৷ ফেরেশতা
বললেন, তুমি মিথ্যাবাদী হলে আল্লাহ যেন তোমাকে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে ণ্দনা

এরপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট তার আকৃতিতে আসলেন ৷ তিনি বললেন, আমি
মিসকিন ও মুসফির ব্যক্তি ৷ সফরে এসে আমার সহায় সম্বল ফুরিয়ে পািয়ছে ৷ আল্লাহর সাহায্য
ও তারপর আপনার সহায়তা ব্যতীত আমার বাড়ি ফিরে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই ৷ যে মহান
আল্লাহ আপনাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন তার দােহ ই দিয়ে আমি আপনার নিকট একটি
বকারী যড়াপ্লো করছি ৷ ওটি দ্বারা আমার সফরের প্রয়োজনীয় খরচ ৷মটাবাে ৷ বকরী ওয়ালা বলল,
আমি ছিলাম অন্ধ ৷ আল্লাহ আমাকে দৃষ্টিশ ৷ক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন ৷ মাম ছিলাম দরিদ্র ৷ আল্লাহ
আমাকে ধনী বানিয়েছেন ৷ তোমার যেটা পছন্দ সেটা নিয়ে যাশুৰ ৷ আল্লাহর নামে তুমি আজ
যেটিই নিয়ে আমি তাতে দুঃখ পাব না ৷ ফিরিশত৷ বললেন, আপনার মাল আপনি রেখে দিন!
বন্তুত আল্লাহ আপনাদের তিনজনকে পরীক্ষা করলেন ৷ আপনার প্রতি আল্লাহর রাজী হয়েছেন ৷
পক্ষান্তরে আপনার অপর দুই সাথীর প্রতি আল্লাহ নারাজ ও অসন্তুষ্ট হয়েছেন ৷

এটি ইমাম বুখারী (র)-এর ভাষ্য ৷ বনী ইসরাঈল বিষয়ক হাদীসসমুহে তিনি এটি উদ্ধৃত
করেছেন ৷

এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার নিয়ে তা পরিশোধের ঘটনা

ইমাম আহমদ (র) বলেন, হযরত হুরায়র৷ (যা) থেকে বর্ণিত ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বনী
ইসরাঈলের এক লোকের ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷ উক্ত লোক বনী ইসরাঈলের অন্য এক ব্যক্তি
থেকে এক হাজ জার স্বর্ণ মুদ্রা ধার ঢেয়েছিল ৷ ঋণ ৷দাত৷ বললাে কয়েকজন সাক্ষী নিয়ে আস ৷ সে
বললাে, সাক্ষীরুপে আল্লাহই যখেষ্ট’ ৷ ঋণদ৷ তা বলেছিল, একজন জ মিন নিয়ে আসুন ৷ সে
বলল, জামিন হিসেবে অ৷ ৷ল্লাহই যথেষ্ট ৷ ঋণদাতা তখন বলে,তু মি যথাংইি বল্যেছা

সে মতে সে তাকে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা দিল ৷ ঋণ গ্রহিত৷ এরপর এক সমুদ্র যাত্রায় বের
হয় ৷ তার কাজ শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ে যে ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে ঋণ দাতার নিকট
পৌছার জন্যে একটি বাহন খুজতে থাকে ৷ বিক্ষ্ম কোন বাহন সে খুজে পায়নি ৷ তখন সে একটি
কাষ্ঠখণ্ড সংগ্রহ করে ৷ সেটিকে ছিদ্র করে ৷ এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা এবং ঋণদাতার উদ্দেশ্যে
লিখিত একটি চিঠি যে ঐ ছিদ্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় ৷ অতঃপর ভাল করে ছিদ্রের স্থানটি বন্ধ
করে দেয় ৷ অতঃপর ঐ কাষ্ঠখণ্ডটি নিয়ে সে উপস্থিত হয় সমুদ্রের তীরে ৷ সে বলে, হে আল্লাহ !
আপনি তো জানেন অমুক ব্যক্তি থেকে আমি এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা ধার নিয়েছিলাম ৷ সে আমার
নিকট জামিন দাবি করে ৷ আমি তাকে বলেছিলাম যে , জামিন রুপে আল্লাহই যথেষ্ট ৷ সে আমার
নিকট সাক্ষী দাবি করে ৷ আমি বলি সাক্ষীরুপে আল্লাহই যথেষ্ট ৷ এতে যে রাজী হয় ৷ আমি তো
যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি একটি বাহন যােগাড় করার জন্যে ৷ যাতে যথাসময়ে আমি তার টাকা

পৌছিয়ে দিতে পারি ৷ কিন্তু আমি কোন বাহন পেলাম না ৷ এখন সেই এক হাজার মুদ্রা
আপনার নিকট আমানত রাখছি ৷ এ বলে ঐ কাষ্ঠখণ্ডটি সে সমুদ্র ভাসিয়ে দেয় ৷ কাঠ ভেসে যায়
সমুদ্রে ৷ সে ফিরে যায় এবং নিজ দেশে পৌছার জন্যে বাহন খুজতে থাকে ৷ ঋণ গ্রহীতা তার
সম্পদ নিয়ে আগমনকায়ী বাহনের অপেক্ষায় থাকে ৷ হঠাৎ সেই সম্পদ সম্বলিত কাঠটি তার
নজরে পড়ে ৷ পরিবারের জ্বালানি কাঠ রুপে ব্যবহারের জন্যে সে কাঠটি বাড়ি নিয়ে যায় ৷ সেটি
কাটতে গিয়ে যে উক্তার্ণ মুদ্রা ও চিঠিটি পড়ায় ৷ পরবর্তীতে একদিন ঋণ গ্রহীতা তার নিকট
এক হাজারার্ণ মুদ্রা নিয়ে এসে উপস্থিত হয় ৷ সে বলে, আমি বাহন সংগ্রহ করার জন্যে
যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি ৷ যাতে করে পাওনা টাকা নিয়ে যথাসময়ে আপনার নিকট আসতে
পারি ৷ কিন্তু যে বাহনে করে আমি আপনার নিকট এসেছি সেটির পুর্বে কোন বাহন পাইনি ৷
ঋণদাতা বললো, তুমি ইতিপুর্বে আমার নিকট কোন কিছু প্রেরণ করেছিলো সে বললো, আমি
তো আপনাকে বলেছি-ই যে, এ বাহনের পুর্বে আমি কোন বাহন পাইনি ৷ ঋণ দাতা বললো,
তোমার কাঠের ভেতরে রাখার্ণ মুদা আল্লাহ তাআলা আমার নিকট পৌছিয়ে দিয়েছেন ৷ যে
এক হাজারার্ণ মুদ্রা সাথে করে এন্যেছা তা নিয়ে তুমি ফিরে যাও ৷

ইমাম আহমদরে সনদ সহকারে হড়াদীসটি এভাবে উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম বুখারী (র) তার
সহীহ গ্রন্থের একাধিক স্থানে সনদ ছাড়াই নিশ্চয়তা প্রকাশক শব্দ দ্বারা লাইছ ইবন সাদ সুত্রে
এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার কাতিব আবদুল্লাহ ইবন সালিহ সুত্রে সনদ সহকারে উল্লেখ
করেছেন ৷ এতদসংত্ত্বও হাকিম বায্যার যে তার মুসনাদ গ্রন্থে হাদীসটি একক বর্ণনা বলে মন্তব্য
করেছেন, তাতে বিস্মিত হতে হয় ৷

সততা ও অড়ামানতেয় আরও দৃষ্টান্ত ঘটনা

ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু হুরায়রা (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, বাসুলুল্লাহ
(সা) বলেছেন এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট থেকে একখণ্ড জমি ক্রয় করেছিল ৷ যে
ব্যক্তি জমি ক্রয় করে সে ঐ জমিতে একটিার্ণভর্তি কলসী পায় ৷ সে বিক্রেতাকে বলে যে,
আপনারার্ণ আপনি নিয়ে নিন ৷ আমি তো আপনার নিকট থেকে শুধু জমিই ক্রয় করেছি ৷ার্ণ
ক্রয় করিনি ৷

জমির মালিক বলে, আমি জমি এবং জমির অভ্যম্ভরস্থ সবকিছু আপনার নিকট বিক্রয়
করেছি ৷ তারা দৃ’জনে মীমাংসার জন্যে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে সালিশ নির্ধারণ করে ৷ সে ব্যক্তি
বলে, আপনাদের কোন ছেলে যেয়ে আছে কি? একজন বললো, আমার একটি পুত্র সন্তান
আছে ৷ অন্যজন বললো, আমার আছে একটি কন্যা সন্তান ৷ মীমাংসাকারী ব্যক্তিটি বললো , ঐ
মেয়েকে ঐ ছেলেটির নিকট বিয়ে দিয়ে দিন ৷ ঐার্ণ দৃ’জনের জন্যে ব্যয় করুন এবং ঐ
দৃ’জনকে দান করে দিন ৷

বনী ইসরাঈলের বর্ণনায় ইমাম বৃখারী (র) এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম মুসলিম
(র)-ও হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, বাদশাহ যুলকারনাইন-এর
যুগে এ ঘটনাটি ঘটেছিল ৷ যুলকারনাইনের যুগ তো বনী ইসরাঈলের যুগের বহু পুর্বে ছিল ৷
আল্লাহই ভাল জানেন ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহড়ায়া (২য় খণ্ড) ৩৫

ইসহ৷ ক ইবন বিশররে তার আল মুরতাদা গ্রন্থে সাঈদ ইবন আবী আরুবড়াহ–হ ৷সান (ব )
থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যুলকাবনাইন নিজেও তার অধীনস্থ রাজা-বাদশাহ এবং কর্মচারীদের
অবস্থা ৷পর্যবেক্ষণ করতেন ৷ কারো সম্পর্কে কোন বিশ্বাস ভঙ্গের ঘত্টনাণ্ড তার গোচরে এলে তিনি
সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন ৷ নিজে সরাসরি অবগত না হয়ে কাংন্ র৷ অভিযোগের প্রেক্ষিতে
কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন না ৷

একদিন তিনি ছদ্মবেশে এক শহরে ঘুবছিলেন ৷ একাদিক্রাম কয়েকদিন তিনি এক
বিচারকের আদালতে বসেন ৷ তিনি দেখলেন, কেউই বিচার প্রার্থী হয়ে ঐ বিচারকের আদালতে
আসে না ৷ বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত এ অবস্থা লক্ষ্য করার পর যুলকারনাইন যখন এ বিচারক
সম্বন্ধে কিছুই জানতে পারলেন না ৷ তখন তিনি ওখান থেকে ফিরে যেতে মনস্থ করেন ৷ সেদিনই
তিনি লক্ষ্য করলেন, দু’জন লোক বিচারপ্রার্থী হয়ে উক্ত বিচারকের নিকট এসেছে ৷ একজন
আরজি পেশ করে বলে যে, মাননীয় বিচ৷ রক আমি ঐ ব্যক্তি থেকে একটি বাড়ি ক্রয় করে তা
আবড়াদ করি ৷ ঐ বাড়িতে আমি গুপ্ত ধনের সন্ধান পাই ৷ আমি তাকে এটি নিয়ে যেতে তবলি ৷
বিক্ষ্ম যে তা নিয়ে যেতে অম্বীক৷ ৷র করে ৷

অপরজনকে উদ্দেশ ৷ করে বিচারক বলেন, এ ব্যাপারে তুমি কি বল? জবাবে সে বললাে,
আমি কখনো এ মাটির নিচে কোন সম্পদ লুকিয়ে রাখিনি এবং এ গুপ্তধন সম্পর্কে আমি কিছুই
জানি না ৷ সুতরাং এটি আমার নয় ৷ আমি তা ৷গ্রহণ করব না ৷ বাদী বলে, মাননীয় বিচারক !
কাউকে আমার নিকট থেকে তা নিয়ে আসতে আদেশ করুন ৷৩ তা পর আপনার যেখানে খুশী
তা ব্যবহার করবেন ৷ বিচারক বললেন, তুমি নিজে যে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে চাও আমাকে
তার মধ্যে জড়াতে চাচ্ছো৷ তুমি আমার প্রতি সুৰিচার করনি ৷ আমি মনে করি, দেশের আইনেও
এরুপ বিধান নেই ৷ বিচারক আরও বললেন, আচ্ছা, আমি কি এমন একটি ব্যবস্থা করব যাতে
তোমাদের উভয়ের প্রতি ইনসাফ হয় ৷ তারা বললাে , অবশ্যই ৷

বিচারক বাদীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার কি কোন পুত্র সন্তান আছেঃ সে বলল :

জী হব্রু৷ ৷ অপরজনকে বললেন, তোমার কি কোন কন্যা সন্তান আছেঃ সে বললাে জী হী৷ ৷

তিনি বললেন, দৃ’জনেই যাও তোমার মেয়েকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দিয়ে দাও ৷ এ সম্পদ

থেকে তাদের বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করবে ৷ আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা তাদেরকে দিয়ে দেবে ৷

সেটি দ্বারা তারা তাদের সংসার চালাবে ৷ তাহলে দুজনেই এ বনের লাভ-ক্ষতির সমান
ৎশীদার হবে ৷

বিচারকের রায় শুনে বাদশাহ যুলকারনইিন মুগ্ধ হলেন ৷ তারপর বিচারককে ডেকে
বললেন, আপনার মত এমন চমৎর্কার করে বিচার অন্য কেউ করতে পারে বলে আমার মনে হয়
না ৷ অন্য কোন বিচারক এমন ফয়সালা দিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না ৷ বিচারক
বাদশাহকে চিনেননি ৷ তিনি বললেন, কেউ কি এছাড়া অন্য কোন রায় দিতে পারো
ষুলকারনাইন বললেন, হীা, দেয়ই তো ৷ বিচারক বললেন, তারপরও ওদের দেশে কি বৃষ্টি
বর্ধিত হয়? একথা শুনে বিস্মিত হলেন যুলকারনাইন ৷ তিনি মন্তব্য করলেন, এরুপ লোকের
বদৌলতেই আসমানযমীন এখনও টিকে রয়েছে ৷

আরেকটি শিক্ষণীয় ঘটনা

ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (না) বলেছেন,
বনী ইসরাঈলের এক লোকের ঘটনা ৷ সে ৯৯ জন মানুষ খুন করেছিল ৷ তারপর কোন বুযর্গ
ব্যক্তির খোজে বের হয় ৷ সে একজন ইয়াহুদী ধর্মযাজকের নিকট এসে পৌছে বলে, আমার
তাওবা কবুল হবে কি? ধর্মযাজক বলেন, না, তোমার কোন তাওবা কবুল হবে না ৷ তখন যে ঐ
ধর্মযাজককেও হত্যা করে ৷

এরপর যে অন্য বুয়র্গ লোকের সন্ধান করছিল ৷ একজন বলল, অমুক জনপদে যাও ৷ পথে
তার মৃত্যুর সময় হয় ৷ তার বক্ষদেশ তখন ঐ জনপদ অভিমুখী ঝুকে রয়েছিল ৷ তখন রহমতের
ফিরিশতা ও আযাবের ফিরিশতা উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয় ৷ আল্লাহ তাআলা
সম্মুখ ভাগের ভুমিকে নির্দেশ দিলেন সংকুচিত ও কাছাকছি হয়ে যেতে ৷ পেছনে রেখে আসা
ভুমিকে নির্দেশ দিলেন সম্প্রসারিত ও দুরে সরে যেতে ফিরিশতড়াদেরকে নির্দেশ দিলেন উভয়
দিকে ভুমি মেপে দেখতে ৷ দেখা গেল, সম্মুখের গন্তব্য স্থল পেছনের ছেড়ে আসা স্থান থেকে
এক বিঘত নিকটে ৷ অতঃপর তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় ৷

ইমাম বুখারী (র) এরুপ সংক্ষিপ্ত-ই-বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম মুসলিম (র) তা বিশদভাবে
বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু হুরায়রা (বা) সুত্রে একাধিক সনদে বর্ণনা করেন, একদিনের
কথা, রাসুলুল্লাহ (না) ফজরের নামায শেষে মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বললেন ৷ তিনি বললেন,
একজন লোক একটি গরু নিয়ে যাচ্ছিল ৷ এক সময় সে পরুটির পিঠে চড়ে বসে এবং সেটিকে
প্ৰহার করে ৷ গরুটি বলে উঠে, আমাকে তো এ কাজের জন্যে সৃষ্টি করা হয়নি ৷ আমাকে সৃষ্টি
করা হয়েছে জমি চাষ করার জন্যে ৷ তখন লোকজন অবাক হয়ে বলে , সুবহানাল্লাহ, গরু আবার
কথা বলে! রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, আমি নিজে এ ঘটনাটি বিশ্বাস করি ৷ আবু বকর (বা) এবং
উমর (রা)-ও এ ঘটনা বিশ্বাস করেন ৷ এ আলোচনার সময় আবু বকর ও উমর (রা) কিন্তু
সেখানে ছিলেন না ৷

অতঃপর রাসুলুল্লাহ (না) বললেন, এক ব্যক্তি বকরী চরাচ্ছিল ৷ এমন সময় একটি নেকড়ে
বাঘ হামলা চালিয়ে একটি বকরী নিয়ে যায় ৷ বকরী ওয়ালা তার পিছু পিছু ছুটতে থাকে ৷ শেষ
পর্যন্ত যে বকরী নেকড়ের হাত থেকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় ৷ নেকড়েটি বললো, আজ তৃ
এটিকে আমার হাত থেকে উদ্ধার করে নিলে তবে হিংস্র জীবদের রাজত্বের দিনে, কে তাকে
রক্ষা করবেঃ সেদিন তো আমি ব্যতীত কোন রাখাল থাকবে না ৷ এটি শুনে লোকজন বলে ওঠে,
সুবহানাল্পাহ! সেকড়েও আবার কথা বংলঃ রড়াসুলুল্লাহ (সা) বলেন, আমি আবু বকর (বা) ও
উমর (রা) আমরা সবাই এটি বিশ্বাস করি ৷ সেখানে আবু বকর (রা) ও উমর (রা) উপস্থিত
ছিলেন না ৷

ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি হাসান, সহীহ্ বলে অভিহিত করেছেন ৷ ইমাম মুসলিম (র)
সহীহ্ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
তোমাদের পুর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে অনেক ইলহামপ্রাপ্ত লোকও ছিলেন ৷ এই উষ্মতের মধ্যে যদি
এরুপ কেউ থেকে থাকেন তবে তিনি হবেন উমর ইবনুল খড়াত্তাব (রা) ৷ ইমাম মুসলিম (র)
ভিন্নসুত্রে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) মুয়াবিয়া (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন, যে বছর তিনি হজ্জ করেন সে বছর
জনৈক পাহারাদারের হাত থেকে এক গোছা পরচুলা নিয়ে বললেন, হে মদীনাবাসীগণ!
তোমাদের আলিমগণ কােথায়ঃ আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে বলতে শুনেছি, তিনি এ ধরনের চুল
ব্যবহার করতে ধারণ করে বলেছেন, “বনী ইসরাঈলের মহিলাগণ যখন এরুপ কৃত্রিম চুলের

ব্যবহার করতে শুরু করে তখন তারা ৎস হয় ৷

ইমাম মুসলিম (র) এবং আবু দাউদ (র) এ হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী (র)
হড়াদীসটিকে সহীহ্ বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷

ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন, মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান শেষ বার যখন মদীনা শরীফ
এলেন তখন তিনি খুৎবা দানকালে তার আন্তীন থেকে এক গোছা পরচুলা বের করেন এবং
বলেন, ইয়াহুদী ব্যতীত অন্য কেউ এ কাজ করে বলে তা আমি মনে করতাম না ৷ রাসুলুল্লাহ
(সা) এ কর্মকে মিথ্যাচার রুপে আখ্যায়িত করেছেন ৷ অর্থাৎ কৃত্রিম চুল লাগানো ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
ইরশাদকরেছেন, একটি কুকুর একটি কুয়ার পাড়ে ইাপাচ্ছিল ৷ তৃষ্ণায় তার প্রাণ যায় যায় ৷ বনী
ইসরাঈল বংশের একজন ব্যভিচারিণী মহিলা এ বিষয়টি লক্ষ্য করে ৷ অতঃপর সে তার মােজা
খুলে নেয় এবং তার সাহায্যে কুকুরটিকে পানি পান করার ৷ এর উসিলায় আল্লাহ তাআলা উক্ত
ব্যভিচারিণীকে ক্ষমা করে দেন ৷ ইমাম মুসলিম (র) ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ
(সা) ইরশাদ করেছেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের ব্যাপারে আযাব দেয়া হয়েছে ৷ সে

বিড়ালটি বেধে রেখেছিল ৷ শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি মারা যায় ৷ এ কারণেই তাকে শান্তি দেয়া হয় ৷
বেধে রাখা অবস্থায় সে ওটিকে কিছু থেতে দেয়নি এবং সেটিকে ছেড়েও দেয়নি যে, সে
পােকা-মাকড় ধরে খাবে ৷ ইমাম মুসলিম (র)-ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম আহমদ (ব) বলেন, আবু সাঈদ (বা) থেকে বর্ণিক্টন্দ্রন্ ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, বনী
ইসরাঈলেয় একজন ঘেটে মহিলা ছিল ৷ সে কাঠের সুদীর্ঘ দুটো পা তৈরি করে এবং সেটিতে
পা রেখে দু’জন খাটো মহিলার মধ্যে থেকে সে চলতে থাকে ৷ একদিন সে একটি সোনার আৎটি
প্রস্তুত করে রাখে ৷ তার আত্টির নপীনার নিচে সে তীব্র সুগন্ধি ও মিশক লুকিয়ে রেখেছিল ৷
অতঃপর কোন মজলিসে গেলে সে আত্টিটি একটু নাড়াচাড়া করে দিত আর তার হাত থেকে
খুশবু ছড়িয়ে পড়ত ৷ ইমাম মুসলিম (ব) মুসতড়ামির খালীদ ইবন জাফর থেকে মারফু সুত্রে এটি
বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী (ব) বলেন এটি সহীহ হাদীস ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) বলেন, ইবন মাসউদ (বা) থেকে বর্ণিত ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
অতীত যুগের যে সব নবুওতী বাণী লোকজনের কাছে পৌছেছে তার, একটি এই যে,
“লজ্জা না থাকলে তুমি যা ইচ্ছা করতে পার ৷”

ইমাম বুখারী (র) এককভাবে এটি উল্লেখ করেছেন ৷

অন্য একটি হিহাদীস

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
অতীত কালের এক ব্যক্তি ও তার শ্রী নিঃস্ব অবস্থায় ছিল ৷ তাদের কিছুই করার সামর্থ্য ছিল না ৷
একদিন ল্যেকটি বাড়ি ফিরে এসে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত অবস্থায় তার ত্রীকে বলে, তোমার
কাছে কোন খাবার আছে কি? যে বলে, ইা, আছে ৷ সুসংবাদ নিন, আপনার জন্য আল্লাহর পক্ষ
থেকে রিযিক এসেছে ৷ স্বামী ত্রীকে তাগিদ দিয়ে বলল, আমি চাচ্ছি এখনই তোমার নিকট কিছু
থাকলে নিয়ে এসো ৷ শ্রী বললো, হ্যা, একটু অপেক্ষা করুন, আমরা আল্লাহর রহমতের আশায়
আছি ৷ বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সে ত্রীকে বললো, আল্লাহ রহম করুন ৷ খুজে
দেখ তো তোমার কাছে কোন খাবার আছে কিনা? থাকলে নিয়ে এসো ৷ আমার ভীষণ ক্ষুধা
পেয়েছে ৷ আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি ৷ সে বলল, হীা, খাবার আছে, চুলায় রান্না হচ্ছে ৷ একটু
অপেক্ষা করুন ৷ কিছুক্ষণ উভয়ে নীরব থাকার পর শ্রী মনে মনে বলল, আমি যদি উঠে গিয়ে
চুলাটা একটু দেখে আসতড়াম ! এরপর মহিলাটি নিজেই গেল এবং চুলায় গিয়ে দেখল সে বকরীব

সিনায় ডেগচী ভর্তি এবং একটি যাতার অটো পেষমা হচ্ছে ৷ মহিলাটি নিকটে গেল এবং মাতার
আটা ঢেলে নিলে তা এবং চুলার উপরের বকরীর সিনা নিয়ে আসল ৷

রাসুলুল্পাহ (না)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আবুল কাসেম (সা) এর
প্রাণ র্যার হাতে সেই পবিত্র সত্তার শপথ করে বলছি! মহিলার্টি যদি মাতা থেকে আটাগুলাে
নিয়ে চাক্কি উপুড় না করত, তবে ঐ চাক্কিতে আটা পেষা কিয়ামত পন্ান্ত চলতে থাকত ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোকের
ঘটনা ৷ সে তার পরিবারের নিকট উপস্থিত হয় ৷ তাদের অভাব-অনটন দেখে সে মাঠের দিকে
রওয়ানা হয় ৷ এ অবস্থা দেখে তার শ্রী আটা পেষার চাক্কির নিকট যায়, এবং তা চালু করে
দেয় ৷ তারপর ম্পোর নিকট গিয়ে চুলা জ্বালিয়ে দেয় ৷ তারপর আল্লাহর নিকট দোয়া করে বলে,
“হে আল্লাহ ! আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিন’ হঠাৎ সে দেশে আবার–তড়াদের পামলা ভর্তি
হয়ে গিয়েছে ৷ চুলার নিকট গিয়ে দেখে চুলা ভর্তি হয়ে রয়েছে ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর স্বামী ফিরে আসে এবং বলে, তোমরা কিছু পেয়েছ কি? তার শ্রী
বলে , হ্যা, আমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে পেয়েছি ৷ অতঃপর তার চাক্কির নিকট যায় ৷ এ
ঘটনা রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট বর্ণনা করা হয় ৷ তিনি বলেন, যদি ঐ চাক্কি উঠানাে না হত ,
তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তা ঘুরতে থাকত ৷

বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট এ সময় তিনি বলছিলেন, আল্লাহর কসম ,
কারো কাছে এসে ভিক্ষা চাওয়া অপেক্ষা কাঠের বোঝা বাহন করে এনে তা বিক্রি করে নিজের
মর্যাদা রক্ষা করা তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণকর ৷

তওবাকারী দু’রজোর ঘটনা

ইমাম আহমদ (র) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
তোমাদের পুর্ববর্তী জনৈক রাজার কথা ৷ একদা তিনি তার রাজতু নিয়ে গভীরভাবে চিত্তামগ্ন
হলেন ৷ তাতে তিনি উপলব্ধি করলেন যে, একদিন না একদিন তাকে এই রাজত্বের মায়া ছাড়তে
হবে ৷ অথচ তখন এটাই র্তাকে আপন প্রতিপালকের ইবাদত থেকে গাফিল করে রেখেছে ৷

একরাতে তিনি চুপিসারে নিজের প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে পড়েন ৷ তিনি অন্য এক রাঃজ্য
এসে পৌছেন এবং সাগর তীরে আস্তানা স্থাপন করেন ৷ সেখানে তিনি ইট তৈরির কাজ শুরু
করেন ৷ এতে বা আর হত তা দিয়ে প্রয়োজন মাফিক খাদ্য দ্রব্যের ব্যবস্থা করতেন এবং উদ্বুত্ত
অর্থ সাদকা করে দিতন ৷ এভাবে তার দিন কাটছিল ৷ ঐ দেশের রাজার নিকট তার সংবাদ
পৌছে ৷ রাজা তাকে ডেকে পাঠান ৷ তিনি যেতে অস্বীকার করেন ৷ রাজা তখন নিজেই তার
কাছে চলে আসেন ৷ রাজাকে দেখেই ঐ রাজা পালাতে শুরু করেন ৷ রাজা ও ঘোড়া নিয়ে তার
পিছু নেন ৷ কিন্তু তিনি তার নাপাল পেলেন না ৷

অবশেষে রাজা চিৎকার করে বলেন, হে আল্লাহর বান্দা ! আমার পক্ষ থেকে আপনার কোন
ক্ষতির আশংকা নেই ৷ তখন ঐ রাজা থামলেন, ফলে উভয়ের সাক্ষাৎ হলো ৷ রাজা বললেন,

আল্লাহ তা আলা আপনাকে দয়া করুন, আপনার পরিচয় কি? তিনি বললেন আমি অমৃকের পুত্র
অমুক ৷ অমুক রাজ্যের রাজা ৷ আমার রাজত্ব নিয়ে আমি একদিন গভীরতা ৷বে চিন্তা করেছিলাম ৷
তাতে আমি উপলব্ধি করেছি যে, শেষ পর্যন্ত আমি এ রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হবই ৷ আর তখন এ
রাজ্যই আমাকে আমার প্রতিপালকের ইবাদত থেকে গাফিল করে রেখেছে ৷ তাই আমি ঐ রাজ্য
ত্যাগ করে এখানে এসে আমার প্রতিপালকের ইবাদত করছি ৷ রাজা বললেন, আপনি যা
করছেন এ ব্যাপারে আমি আপনার চাইতে কম মুখাপেক্ষী নই ৷ এ বলে রাজা বাহন থেকে
নেমে পড়েন এবং সেটিকে ছেড়ে দেন ৷ তিনি পুর্ববর্তী রাজার পথ অনুসরণ করেন ৷ এবার তারা
দৃ’জনে একসাথে আল্লাহর ইবাদত করতে লাগলেন ৷ তারা দৃ’জনে আল্লাহর নিকট এক সাথে
মৃত্যু কামনা করলেন এবং পরে দৃ’জনেই মারা গেলেন ৷

হাদীস বর্ণনাক৷ রী আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আমি যদি তখন মিসরের রমনিয়ায়
থাকতাম, রাসুলুল্লাহ (না) আমাদের নিকট তাদের যে পরিচয় বর্ণনা করেছেন ৷ তার আলোকে
আমি কবর দুটো চিনিয়ে দিতাম ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) সুত্রে নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা
করেন ৷ তোমাদের পুর্ববর্তী যুগে এক লোক ছিল ৷ আল্লাহ তাঅ ৷লা তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান
করেছিলেন ৷ তার মুল সময় উপস্থিত হওয়ায় সে তার পুত্রদেরকে কাছে ডাকে ৷ তাদেরকে
বলে বৎসপণ! আমি তোমাদের পিতা রুপে কেমন ছিলাম? তারা বলে, আপনি খুবই ভ ৷ল পিতা
ছিলেন ৷ অতঃপর যে ব্যক্তি বলে, আমি কখনো কে ৷নাে পুণ্যকর্ম করিনি ৷ সুতরাং আমার মৃত্যুর
পর তোমরা আমাকে পুড়িয়ে ফেলবে ৷৩ তারপর পিষে চুর্ণ বিচুর্ণ করে ফেলার এবং প্রচণ্ড বেগে
প্রবাহিত বাতাসে নিক্ষেপ করবে ৷ সে মতে পুত্ররা তাই করল ৷ অতঃপর আল্লাহ তাআল৷ সে সব
একত্রিত করে জিজ্ঞেস করলেন ৷ তোমার এরুপ করার হেতু কী? যে বলল, প্ৰভাে আপনার

ভয়ে এরুপ করেছি ৷ তখন আল্লাহ তা জানা তাকে তার রহমত দান করলেন ৷ ইমাম মুসলিম
(র) ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বৃখারী (র) আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে নবী করীম (না) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি
বলেছেন, এক ব্যক্তি লোকজনকে প্রায় ঋণ দিত ৷ নিজের কর্মচ৷ রীকে সে নির্দেশ দিত যে কোন
অভ৷ ৷বী ব্যক্তি এলে৩ তার ঋণ মাফ করে দিবে ৷ এর উসিলায় হয়ত আল্লাহ তা জানা আমাদেরকে
মাফ করে দিবেন ৷ ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর সে আল্লাহর নিকট পৌছলে আল্লাহ তা আল৷ তাকে
মাফ করে দেন ৷ ইমাম মুসলিম (র) ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বৃখারী (র) সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি হযরত
উসাম৷ ইবন যায়দ (রা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, প্নেগ রোগ সম্পর্কে আপনি রাসুলুল্লাহ
(না)-এর মুখে কী শুন্যেছনঃ হযরত উসাম৷ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন,

প্নেগ রোগ হল শান্তি বিশেষ ৷ বনী ইসরাঈলের একটি গোত্রের ওপর আল্লাহ তাআলা এটি
প্রেরণ করেছিলেন ৷ আর তোমাদের পুর্ববর্তী লোকদের উপরও এ শাস্তি এসেছিল ৷ কোন
এলাকায় প্লেগ রোগের প্রাদৃর্ডাব ঘটেছে শুনলে তোমরা ঐ এলাকার দিকে অগ্রসর হয়াে না ৷
আর তোমরা যেখানে অবস্থান করছ সেখানে এ রোগের প্রকোপ দেখা দিলে রোগে আক্রান্ত
হওয়ার ভয়ে তোমরা সেখান থেকে পালিয়ে যেয়াে না ৷

ইমাম মুসলিম (র) হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি প্লেগ
রোগ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ৷ তিনি আমাকে জানালেন যে, এটি
একটি শাস্তি বিশেষ ৷ বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি আল্লাহ ইচ্ছা করেন তাদের নিকট এটি প্রেরণ
করেন ৷ আল্লাহ তাআলা এটিকে ঈমানদারদের জন্যে রহমত ও কল্যাণরুপে নির্ধারণ করেছেন ৷
কোন এলাকায় প্লেগ রোগের প্রকােপ দেখা দিলে কোন ব্যক্তি যদি পুর্ণ ধৈর্য সহকারে, সওয়াবের
আশায় এবং এ বিশ্বাস নিয়ে তথায় অবস্থ ন করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের অন্যথা
করে কোন বিপদ তার ওপর আসবে না, অতঃপর সে যদি সেখানে মারা যায় তবে সে শহীদের
মর্যাদা পাবে ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) হযরত আয়েশা (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ মাখযুম গোত্রীয় যে মহিলাটি
চুরি করেছিল৩ ৷৩ ৷র ব্যাপারটি কুরায়শদেরকে উদ্বিগ্ন করে তোলে ৷ তা ৷র৷ বলাবলি করছিল যে,
তা তার বিষয়ে কে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট সুপারিশ করবো তারা বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর
একান্ত প্রিয় উসামা, ইবন যায়দ (রা) ব্যতীত আর কে এ সাহস করবেঃ সে মতে হযরত উসামা
(বা) এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (না)-এর সাথে আলাপ করলেন ৷ অটল রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন,
আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ড বাতিলের জন্যে তুমি সুপারিশ করছ? এরপর তিনি উঠে র্দাড়ালেন এবং
খুৎব৷ দিতে গিয়ে বললেন :

“তোমাদের পুর্বে যারা ধ্বংস হয়েছে তাদের ধ্বংসের কারণ হলো, তাদের কোন সম্রান্ত
লোক চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত ৷ আর কোন দুর্বল শ্রেণীর কেউ চুরি করলে তাকে
তারা শাস্তি দিত ৷ আল্লাহর কসম , মুহাম্মদের (সা) কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত তবে অবশ্যই
আমি তার হাত কেটে দিতাম ৷

অন্যান্য সহীহ হাদীস গ্রহুসমুহেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷
অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, একদা আমি এক
লোককে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুনলাম ৷ আমি কিত্তু রাসুলুল্লাহ (সা) কে তা অন্যভাবে

পাঠ করতে শুনেছি ৷ তাকে ধরে এনে আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর দরবারে উপস্থিত করি এবং
তার ভিন্ন রকম কুরআন পাঠ সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করি ৷ এতে আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর
চেহারা কিছুটা অসত্তুষ্টির চিহ্ন লক্ষ্য করি ৷ তিনি বললেন, তোমাদের দু’জনই তো যথার্থ ও শুদ্ধ
পাঠকারী ৷ তোমরা মতভেদ করো না ৷ কারণ তোমাদের পুর্বে যারা ছিল তারা পরস্পর
বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছিল ফলে তারা ধ্বংস হয়েছে ৷ ইমাম বুখারী (র) হাদীসটি এককভাবে
বর্ণনা করেন ৷

অন্য একটি হাদীস
ইমাম বুখারী (র) হযরত আবুহুরায়রা (রা) সুত্রে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
৷ :, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানগণ চুল দীড়িতে রং
ব্যবহার করে না ৷ তোমরা তাদের বিপরীত করবে ৷ ইমাম বুখারী (র) এককভাবে এ রিওয়াতটি
বর্ণনা করেছেন ৷ আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে, তোমরা পাদুকাসহ সালাত আদায় করবে
এবং এভাবে ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করবে ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখাৰী (ব) হযরত ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বলেন, আমি হযরত উমর (রা)-কে
বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা অমুক ব্যক্তিকে ধ্বংস করুন ৷ সে কি জানে না যে, রাসুলুল্লাহ
(সা) বলেছেন, আল্লাহ লানত করুন ইয়াহুদীদের ওপর, তাদের জন্যে চর্বি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল
কিত্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করতো ৷ ইমাম মুসলিম (র ) ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, নামাষের সময়ের ঘোষণারুপে লোকজন আগুন জ্বালানাে এবং সিঙ্গায় কুৎকার দেওয়ার
প্রস্তাব করেছিল ৷ তখন এও আলোচনা হয়েছিল যে, এগুলো তো ইয়াহুদী ও নাসারাদের
প্রতীক ৷ অতঃপর হযরত বিলাল (না)-কে জোড় শব্দে আযান এবং বেজােড় শব্দে ইকামত
দিতে নির্দেশ দেয়া হল ৷ এর উদ্দেশ্য হল, সকল কর্মে ইয়াহুদী নাসারাদের বিপরীত কাজ করা ৷
কারণ রাসুলুল্লাহ (না) যখন মদীনায় পদার্পণ করেন, তখন নামাষের প্রতি আহ্বানকারী কোন
আহ্বান ব্যতিরেকেই মুসলমানগণ নামাষের সময়ে উপস্থিত হত ৷ এরপর তাদের মধ্যে জনৈক
ঘোষককে নামাষের সময় হলে ইট্রু ৷টু ক্ট্রপ্রুাশুা৷ নামাষের জামাত আসন্ন বলে ঘোষণা দেয়ার
নির্দেশ দেয়া হল ৷ অতঃপর জামার্বুতর সময়ের প্রতীকরুপে র্তারা এমন কোন বিষয় নির্ধারণের
ইচ্ছা করলেন, না দেখে মানুষ বুঝবে ভৈয, জামাতের সময় আসন্ন ৷ তখন কেউ কেউ প্রস্তাব
দিলেন যে, আমরা তখন সিঙ্গায় কুৎকার দিব ৷ অপর কেউ প্রস্তাব করলেন যে, আমরা বরং
যথাসময়ে আগুন প্রজ্বলিত করব ৷

কিন্তু এগুলোতে ইয়াহুদী-নাসারাদের সাথে সামঞ্জস্য হয়ে যায় ৷ বিধায় দুটো প্রস্তাবই
অগ্রাহ্য হয় ৷ অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন আবদ রাব্বিহী (বা) কে তার ঘুমের মধ্যে
আযান দেখানো হলো ৷ তিনি এসে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (না)-কে জানালেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা)

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৩৬-

উক্ত নিয়মে আযান দেয়ার জন্যে হযরত বিলাল (রা)-কে নির্দেশ দিলেন ৷ হযরত বিলাল আমান
দিলেন ৷

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বুখারী (র) হযরত আয়েশা ও ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বলেন, রাসুলুল্লাহ
(সা) যখন ইন্তিকালের সময়ে উপনীত হলেন, তখন তিনি একটি চাদর টেনে তার মুখে ঢাকতে
শুরু করলেন ৷ আর যখন তিনি অস্বস্তিবােধ করছিলেন, তখন তা মুখ থেকে সরিয়ে
ফেলছিলেন ৷ এমতাবস্থায় তিনি বলে উঠলেন :

ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ধিত ছুউক কারণ তারা তাদের নবীদ্যো

কবরগুলোকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে ৷ তিনি তাদের কার্যকলাপ থেকে সতর্ক
করছিলেন ৷

অন্য একটি হাদীস
ইমাম বুখারী (র) আবু সাঈদ (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ নবী করীম (যা) বলেন :

“তোমরা এক সময় তোমাদের পুর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে ৷ একেবারে বিঘতে
বিঘতে, হাতে হাতে (সমানে-সমান) এমনকি তারা যদি কোন গুইসাপের গর্ভে ঢুকে থাকে
তেদ্বমরাও তাতে ঢুকবে ৷ আমরা বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহা পুর্ববর্তীগণ বলে কি আপনি
ইয়াহুদী-নাসারাদেরকে বৃঝিয়েছেনঃ তিনি বললেন, তা না হলে আর কারা?

হাদীসটি ইমাম মুসলিম (র) ও বর্ণনা করেছেন ৷

ইহুদী খ্রীষ্টা ৷নদের আচার আচরণের সাথে সামঞ্জস্যশীল, ইসলামী শরীযতে নিষিদ্ধ, পরবর্তী
যুগে অনুষ্ঠিতব্য এসব কথা ও কর্ম সম্পর্কে অবগত করানোর পেছনে উদ্দেশ্য এই যে, মহান
আল্লাহ ও তীর রাসুল ঈমানদারদেরকে ইয়াহুদী-খ্রীষ্টানদের সাথে সামঞ্জস্যশীল কথা ও কর্ম
থেকে বারণ করেছেন ৷ এ প্রকার কথা ও কাজের পেছনে কোন মুমিনের উদ্দেশ্য সৎ থাকলেও
এটি মুলত ওদেরই অনুকরণ ৷ সুতরাং এরুপ কর্ম স্পষ্টত তাদের কর্ম ৷

এভাবে ঈমানদারদেরকে সুর্যোদয় ও সুর্যড়ান্তের সময় নামায পড়তে নিষেধ করা হর্থোছ,
যাতে করে মুশরিকদের সাথে সামঞ্জস্য না হয় ৷ কেননা তারা এ সময়ে সুর্যের উপাসনা করত
যদিও ঈমানদারের মনে সুর্যের উপাসনার কোন কল্পনাও না থাকে ৷

অনুরুপভাবে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন

তোমরা রাসুলকে সম্বোধন করে বলো না বরং ;টুা ৷ (আমাদের প্রতি তাকান)
বলবে, আর তোমরা শোন, কাফিরদের জন্যে রয়েছে মর্যস্তুদ শাস্তি ৷ আলোচ্য আঘাতের
প্রেক্ষাপট এই যে, ক ফিবগণ রাসুলুল্লাহ (সা) এর সাথে কথা বলার সময় “আমাদের দিকে
তাকান এবং আমাদের কথা শুনুন” বুঝানোর জন্যে বলত ৷শ্রোটু ৷ শব্দটি মুলত
দ্ব্যর্থবোধক উপরোক্ত অর্থ ছাড়া ও মুর্থ অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়)৷ শব্দ ব্যবহার করে
তারা “ হে আমাদের মুর্থ ব্যক্তির” অর্থ বুঝাত ৷ ঈমানদারগণে ৷ৱ কেউ উক্ত শব্দ ব্যবহার করলে
কখনোই তাদের মনে উক্ত অর্থের লেশ ম এ থাকবে না; তবুও তাদেরকে এরুপ বলতে নিষেধ
করা হয়েছে ৷

ইমাম আহমদ ও তিরমিযী (র) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) সুত্রে নবী কৰীম (সা) থেকে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেনং :

“কিয়ামণ্ডে র নিকটবর্তী কালে আমি প্রেরিত হয়েছি তররাবি সহকারে, যতক্ষণ না

সামগ্রিকভা ৷বে একক লা-শরীক আল্লাহর ইবাদত করা হবে, আমার বর্শার ছ যায় আমার রিয্ক

নিহিত ৷ লাঞ্চুনা ও হীনত৷ সে ব্যক্তির জন্যে, যে আমার নির্দেশের বিরোধিতা করবে ৷ যে ব্যক্তি
যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ৷

সুতরাং ইয়াহুদী-খ্রীষ্টানদের সাথে সামঞ্জস্য রাখা কোন মুসলমানের জন্যে মোটেই সমীচীন
নয় ৷ তাদের আনন্দ উৎসব, মেলা পার্বন কিৎব৷ পুজা-অর্চনা কোন ক্ষেত্রেই তাদের সাথে
সামঞ্জস্য রাখা উচিত নয় ৷ কারণ আল্লাহ তাআ ৷ল৷ এই উম্মতকে সর্বশেষ নবী দ্বারা ৷মহিমাম্বিভ
করেছেন ৷ তিনি তার জন্যে পরিপুর্ণ, সামগ্রিক সুদৃঢ় ও মহান দীন ও শরীয়ত দান করেছেন ৷
এমন যে তাওরাতপ্রাপ্ত হযরত মুসা ইবন ইমরান এবং ইনজীলপ্রাপ্ত হযরত ঈস৷ ইবন মারয়াম
(আ) যদি জীবিত থাকতেন তবে এই পবিত্র শরীয়ণ্ডে র বর্তমানে তাদের কো ন শরীয়ত থাকতো

সম্মানিত ও পবিত্র শরীয়ভ্রুতর অনুসরণ ছাড়া তাদের গত্যম্ভর থাকতো না ৷

আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে হযরত মুহাম্মদ (না)-এর অনুসারী বানিয়ে অনুগৃহীত
করেছেন, তাই যে সম্প্রদায় ইতিপুর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং পােমরাহ ও পথভ্রষ্ট করেছে এবং

নিজেরা সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করা কী করে আমাদের জন্যে
সমীচীন হবে? ঐ সম্প্রদায় তো তাদের দীনকে পরিবর্তিত করেছে, বিকৃত করেছে এবং তার ভুল
ব্যাখ্যা দিয়েছে ৷ শেষে তারা এমন এক পর্যায়ে নেমে এসেছে যেন কখনো তাদের প্রতি কোন
শরীয়ত নাযিলই হয়নি ৷ পরবত ড এ শরীয়ত তো রহিতই হয়ে গিয়েছে ৷ রহিত এবং
বাতিলকৃত দীনের অনুসরণ করা হারাম ৷ কেউ তা অনুসরণ করলে তার ছোট-বড় কোন আমল
আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না ৷ যা আদৌ শরীয়তরুপে নির্ধারিত হয়নি, তার মধ্যে আর এ
বাতিলকৃত শরীয়তের মধ্যে কােন পার্থক্য নেই ৷ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথপ্ৰদর্শন করেন

অন্য একটি হাদীস

ইমাম বৃখারী ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ রাসুলুল্লাহ ( সা ) বলেছেন, তোমাদের
পুর্ববর্তী উম্মতদের মেয়াদের তুলনায় তোমাদের মেয়াদ হল আসরের নামায থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত
সময়ের ন্যায় ৷ তোমাদের এবং ইয়াহুদী-নাসারাদের উদাহরণ হল এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে
কতক কর্মচারী নিয়ােগের ইচ্ছা করল ৷ সে বলল, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রত্যেকে এক
কীরাত করে পাবে ৷ প বিএমিকেব বিনিময়ে আমার কাজ করার কেউ আছে কী? এ প্রেক্ষিতে
এক কীরাণ্ডে তর বিনিময়ে ইয়াহুদীগণ ৷৷সক ল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করল ৷৩ তারপর ওই লোক
বলল, দুপুর থেকে আসরের নামায়ের সময় পর্যন্ত এক কীরাত ৷ এক কীরাত পারিশ্রযিকের
বিনিময়ে আমার কাজ করার কেউ আছে কী ? এ প্রেক্ষিতে নাসারাগণ এক কীরাতের বিনিময়ে
দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত কাজ করল ৷

তারপর ঐ ব্যক্তি বলল, আসরের নামায়ের সময় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত প্রণ্ডে তাকে দু কীবা
পরিশ্রমিকের বিনিময়ে আমার কাজ করার কেউ আছে কী? জেনে রেখ, হে আমার উম্মত
তোমরা এখন আসর থেকে মাগবিব পর্যন্ত দু র্কীবাভ্রু তর বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছ ৷ জেনে ব্লেখ,
তোমাদের পারিশ্রমিক হল ওদের দ্বিগুণা

তাতে ইয়াহুদী ও নাসড়ারাগণ ক্ষুব্ধ হলো এবং বলল, আমরা কাজ করলাম বেশী আর
পারিশ্রমিক পেলাম কম ! আল্লাহ তাআলা বললেন, “আমি কিন্তু আমাদের পাওন৷ পরিশোধের
ব্যপারে জুলুম করেছি? তারা বলল, না’ ৷ আল্লাহ তা জানা বললেন, ওদেরকে যে দ্বিগুণ দিচ্ছি
তা আমার অনুগ্রহ ৷ আমি যাকে চাই, আমার অনুগ্রহ দান করি ৷”

আলোচ্য হাদীস থানা প্রমাণ করে যে, অতীত উম্মতদের মেয়াদের তুলনায় এ উম্মতের
মেয়াদকম হবে ৷ কারণ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন
৷মাদের পুর্ববর্তী উন্মতদের মেয়াদের অনুপাতে তোমাদের মেয়াদ হল আসর থেকে

মাগরিব পর্যন্ত সময়ের ন্যায় ৷ ” অবশ্য পুর্ববর্তী উস্মতদের সাকুল্য মেয়াদ কত টুকু ছিল,ত
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জানা নেই ৷ তদ্রাপ এই উম্মন্ব তর সাকুল্য মেয়াদ কতটুকু হবে

তা-ও আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ জানেন না ৷ তবে এটা ঠিক যে, পুর্ববর্তী উম্মতের
মেয়াদের তুলনায় এ উম্মতের মেয়াদ কম ৷ কিন্তু ঐ মেয়াদের কতটুকু এখনও অবশিষ্ট আছে,
তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন ৷

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন শুধু তিনিই যথাসময়ে তা
প্রকাশ করবেন ৷ ’ ’ ’

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন :

“ওরা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত সম্পর্কে, <নটি কখন ঘটবো এটির আলোচনার
সাথে আপনার কী সম্পর্ক? এটির চরম জ্ঞান আছে আপনার প্রতিপালকের নিকট ৷ রাসুলুল্লাহ
(না)-এর পরে পৃথিবী হাজার বছর আবু পাবে না বলে যে ক্রাশ্রুতি মশহুর রয়েছে, তা আদৌ
কোন হাদীস নয় ৷

, এ বিষয়ে অবশ্য অন্য একটি হাদীস রয়েছে ৷ সেটি হল ) ৷
! দুনিয়া হল আখিরাতের জুমা সমুহের মধ্যকার একটি জুমাশ্(সপ্তাহ) বরাবর মাত্র ৷
তার এ হাদীসের বিশুদ্ধতায় সন্দেহ রয়েছে ৷ উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত উদাহরণ প্রদানের উদ্দেশ্য
হল তাদের হওয়ার ও পারশ্রমিকের তারতম্য বর্ণনা করা এবং এটাও জানিয়ে দেয়া যে,
ছওয়াবের প্রাচুর্য ও কমতি কর্মের পরিমাণের উপর নির্জাশীল নয়; বরং এটি নির্ভর করে অন্য
বিষয়ের উপর, যা আল্লাহ্র নিকট অত্যন্ত গুরুতুপুর্ণ ৷ এমন অনেক ক্ষেত্র আছে, যেখানে স্বল্প
আমল দ্বারা এমন প্রচুর ছওয়াব অর্জন করা যায়, যা অন্যখানে বেশী আমল দ্বারা অর্জন করা যায়
না ৷ যেমন লায়লাতুল কদর ৷ এই রাতে ইবাদত করা লাইলাতুল কদর বিহীন হাজার মাস
ইবাদত করা অপেক্ষা উত্তম ৷ অরুপ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (না)-এর সাহাবীগণ ৷ তারা এমন
এক সময়ে আল্লাহ্র পথে দান করেছেন যে, অন্যরা উহুদ পর্বত সমান স্বর্ণ আল্লাহ্র পথে দান
করলেও সাহাবীগণের ঐ পরিমাণ বা তার অর্ধেক দানেরও সমান হবে না ৷ আর রাসুলুল্লাহ্
(না)-কে তার ৪০ বছর বয়সে আল্লাহ তাআলা নবুওত দান করেন এবং ৬৩ বছর বয়সে র্তাকে
দুনিয়া থেকে তুলে নেন, এটাই প্রসিদ্ধ মত ৷

২৩ বছরের এই স্বল্প মেয়াদে তিনি কল্যাণকর জ্ঞান ও সৎকর্মে সকল নবী (আ)-কে
অতিক্রম করে গিয়েছেন ৷ এমন কি নুহ (আ) যিনি দীর্ঘ ৯৫০ বছর তার সম্প্রদায়কে লা-শরীক
আল্লাহ্র ইরাদতের প্রতি দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং দিনে-রাতে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ্র
ইৰাদতে নিয়োজিত ছিলেন; তার উপরও রাসুলুল্লাহ (সা) শ্রেষ্ঠতৃ অর্জন করেছেন ৷ তার সকল
নবীর উপর সালাত ও সালাম বর্ধিত হোক ৷ এই উষ্মত, তারা গৌররাম্বিত হয়েছে এবং দ্বিগুণ
ছওয়াবের অধিকারী হয়েছে তাদের নবীর শ্রেষ্ঠতৃ, মাহড়াত্ম্য ও সম্মানের বরকতে ৷ এ প্রসৎগে
আল্লাহ তাআলা বলেন :

,
“হে ঈমানদারগণ ! আল্লাহ্কে ভয় কর এবং তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তিনি
র্তারঅনুগ্নহে তােমাদেরকে দিবেন দ্বিগুণ পুরস্কার এবং তিনি তােমাদেরদ্বহুক দিবেন আলো , যার
সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি ভোমাদেরকে ক্ষমা করবেন ৷ আল্লাহ ক্ষমড়াশীল, পরম দয়ালু ৷
এটি এজ্যন্য যে, কিতাবীগণ যেন জানতে পারে , আল্লাহ্র সামান্যতম অনুপ্রহের উপরও তাদের
কোন অধিকার নেই ৷ অনুগ্রহ আল্লাহ্রই ইখতিয়ড়ারে , যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি তা দান করেন ৷
আল্লাহ মহা অনুগ্নহশীল ৷

অধ্যায় : কুরআন করীমে এবং রাসুলুল্লাহ (না)-এর হাদীসে বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বহু
বিবরণ রয়েছে ৷ তার সবগুলো যদি আমরা উল্লেখ করতে যাই তবে গ্রন্থটির কলেবর বেড়ে
যাবে ৷ ইমাম বুখাবী (বা) যা উল্লেখ করেছেন আমরা সেগুলেইি এই কিভাবে উল্লেখ করলাম ৷
এতটুকুই যথেষ্ট, এ অধ্যায়ের জন্যে এগুলো স্মারক ও নমুনা ৷ আল্লাহ্ই সম্যক অবগত ৷ (৫ ৭
হাদীদ : ২৮ ২৯ )
ইসরাঈলীদের থেকে বর্ণিত তাদের বর্ণনা, যেগুলো অনেক তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ

উল্লেখ করেছেন, তার সংখ্যা তো বহু, এগুলোর কিছু কিছু সঠিক এবং প্রকৃত ঘটনার অনুকুল

বটে; কিংল্লু অধিকাৎশ হল মিথ্যা, অসত্য ও বানােয়াট ৷ তাদের পথভ্রষ্ট ও সতাত্যাগী লোকেরা
এগুলো রটনা করেছে এবং তাদের কাহিনীকাররা প্রচার করেছে ৷

ইসরাঈলী বর্ণনাগুলো তিন প্রকার ৷ (১) কতক বর্ণনা সঠিক ৷ আল্পাহ্র কুরআনে বর্ণিত
এবং রাসুলুল্লাহ (না)-এর হাদীসে বিবৃত ঘটনাসমুহের অনুরুপ (২) কতক বর্ণনা এরুপ যে,
কুরআন ও হড়াদীসের সরাসরি বিপরীত হওয়ার কারণে এগুলোর অসত্য ও বানোয়াট হওয়া
সুস্পষ্ট (৩) কতক এমন যে, এগুলো সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে ৷ এ জাতীয়
বর্ণনাগুলাে সম্পর্কেই আমাদেরকে নীরব থাকতে বলা হয়েছে যে, আমরা এগুলোকে সত্যও
বলব না, মিথ্যাও বলব না ৷ বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন,

ইয়াহুদী-নাসারাগণ যখন তেড়ামাদের নিরুট (কান কথা পেশ করে তখন ণ্তামরা তাদেরকে

সত্যবাদীও সব্যস্ত করো না; মিথ্যাবাদীও সাব্যস্ত করো না ৷ বরং তোমরা বল : আমরা যে
সবের প্রতি ঈমান এসেছি, যেগুলো আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং তোমাদের প্রতিও

নাযিল করা হয়েছে ৷ ইতিপুর্বে উল্পেখি হাদীস
তোমরা ইসরাঈলীদের থেকে হাদীস বর্ণনা কর, তাতে দোষ (নই-এর প্রেক্ষিতে এ প্রকারের
উদ্ধৃতিগুলো বর্ণনা করা বৈধ ৷

ইয়াহুদী-নাসারাদের দীন বিকৃতির বিবরণ

ইয়াহুদী জাতি ৷ আল্লাহ্ তাআলা হযরত মুসা ইবন ইমরানের প্ৰতি তাদের জন্যে তা ওবাত
নাযিল করেন ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ্ তাআলা বলেন৪ ৷ৰু০াট্রু০১ ছু০ৰুন্নু ৷ ছুএ০ র্চুট্রু৷ ন্র্মুট্র

“এবং মুসাক্লে দয়েছিলাম কিতাব, যা সৎকর্ম
পরায়ণদের জন্যে সম্পুর্ণ, যা সমস্ত কিছুর বিশ দ বিবরণ ৷

আল্লাহ্ ত আলা আরো বলেন :

৷ ৷ এট্রু “বল তবে মুসার আনীত কিতাব যা মানুষের
জন্যে আলো ও পথনির্দেশ ছিল, তা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করে কিছু প্রকাশ কর ও
যার অনেকাৎ গোপন রাখ ৷

আল্লাহ্ তা আলা আরও বলেন : ট্র’৷“আমি তো মুসাও হারুনকে দিয়েছিলাম কুরআন, জ্যোতি ও উপদেশ

মুত্তাকীদের জন্যে ৷ আল্লাহ্ তা আলা অন্যত্র বন্সেছেনষ্ক ( ৷ এ
) “আমি উভয়কে দিয়েছিলাম বিশদ কিতাব ৷ আমি
উভয়কে পরিচালিত করেছিলাম সৎপথে ৷ (৩৭ সাফ্ফাত ১১ ৭)

আল্লাহ্ তাআলা অন্য এক আয়াতে বলেন $

“আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম, তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো, নবীগণ যারা
আল্লাহ্র অনুগত ছিল, তারা ইয়াহুদীদেরকে তদনুসারে বিধান দিত আরও বিধান দিত
রাব্বানীগণ ৷এবং বিদ্ব৷ ৷নগণ কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল এবং তারা
ছিল সেটির সাক্ষী ৷ সুতরাং মানুষকে ভয় করে৷ না, আমাকেই ভয় কর এবং আমার আয়াত তুচ্ছ

মুল্যে বিক্রয় করো না আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন ৷ সে আনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই
সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ৷ (৫ মায়িদা : ৪৪)

দীর্ঘকাল পর্যন্ত ইয়াহুদীরা তাওরাত কিতাব অনুযায়ী ফয়সাল করেছিল এবংসু সুদৃঢ়ভাবে
সেটিকে গ্রহণ করেছিল ৷ তারপর তারা সেটিকে পরিবর্তন করতে , বিকৃত করতে ভুল ব্যাখ্যা
দিতে ও যা তার মধ্যে নেই তা প্রচার করতে শুরু করল ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ্ তাআলা বলেন :
এট্রি গ্রাই

“তাদের মধ্যে এক দল লোক আছেই, যারা কিতাবকে ৷জহ্বা দ্বারা বিকৃত করে যাতে
তোমরা সেটিকে আল্লাহ্র কিতাবের অংশ মনে কর; কিন্তু সেটি কিতাবের অংশ নয়, এবং তারা
বলে; এটি আল্লাহ্র পক্ষ হতে,কিন্তু সেটি মুলত আল্লাহ্র পক্ষ হতে প্রেরিত নয় ৰু তারা
(জলে-শুনে আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা বলে ৷” (৩ আল ইমরান : ৭৮)

আলোচ্য আয়াত দ্বারা আল্লাহ্ তাআলা জানিয়ে দিলেন যে, তারা তাওরাতেব অসত্য,
মিথ্যা ও অপ্রাসংগিক ব্যাখ্যা করে ৷ তারা যে এরুপ অপকর্মে জড়িত, তাতে আলিমপণের মধ্যে
কোন দ্বিমত নেই ৷ র্তারা এ ব্যাপারে একমত যে, তারা তাওরাতেব বিকৃত অর্থ প্রকাশ করে
এবং মুল মর্মের সাথে সস্পর্কহীন ভিন্ন অর্থ বুঝানাের জন্যে সংশ্লিষ্ট বাণী ব্যবহার করে ৷ যেমন
উক্ত কিতাবে রজম বা প্রস্তর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান বিদ্যমান থাকা সত্তেও তারা
উক্ত বিধানকে বেত্রাঘাত ও মুখে চুনক লি মেখে দেয়ার’ বিধান দ্বারা পরিবর্তন করেছে ৷
অনুরুপভাবে চুরির শাস্তি কার্যকর এবং আশরাফ-আত রাফ নির্বিশেষে সকল চোরের হাত কাটার
জন্যে তারা আদিষ্ট হওয়া সত্বেওত তাদের কোন সভ্রাম্ভ ব্যক্তি চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে
দিত ৷ আর নিম্নশ্রেণী ও দুর্বল কেউ চুরি করলে তার উপর দও কার্যকর করত ৷

অবশ্য তারা তাওরাত তারের মুল শব্দ পরিবর্তন করেছে কি-না, এ বিষয়ে একদল
বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন যে, তারা পুরো তাওরাতেব সকল শব্দই পরিবর্জা করে ফেলেছে ৷
অপর একদল বলেন যে, তাওরাতেব মুল শব্দ পরিবক্তা করা হয়নি ৷ প্রমাণ স্বরুপ তারা এই

আয়াত পেশ করেন
“তারা আপনার উপর কিভাবে বিচার তার ন্যস্ত কররে যখন তাদের নিকট রয়েছে
তাওরাত’ যাতে আল্লাহ্র আদেশ আছে ৷ (৫ মাযিদাং : ৪৩)

এবং আল্পাহ্ তাআলার বাণী ঘ্র

“যে উঘী নবীর উল্লেখ তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইনজীলে রয়েছে ৷ তাতে তারা
লিপিবদ্ধ পায় যে তাদেরকে সৎকার্যের নির্দোণ দেয় ও অসৎকাঘে বাধা দেয়, যে তাদের জন্যে
পবিত্র বস্তু বৈধ করে ৷ ( ৭ আরাফ : ১৫৭) নীচের আয়াতাঃ তাদের প্রমাণ

বল, তোমরা তাওরাত নিয়ে আস, সেটি পাঠ কর, যদি তোমরা সতাবাদী হও ৷ (৩ আল
ইমরান : ৯৩)

রজম (প্রস্তরড়াঘাতে মৃত্যুদণ্ড) সম্পর্কিত যটনাটিও তাদের প্রমাণ ৷ সহীহ বুখড়ারী ও সহীহ
মুসলিমে ইবন উমর (রা) থেকে, সহীহ মুসলিমে বাবা ইবন আযিব ও জাবির ইবন আব্দুল্লাহ
থােক এবং সুনান গ্রস্থসমুহে আবু হুরায়রা (বা) প্রমুখ থেকে বর্ণিত যে , এক ইহুদী পুরুষ ও
ইহুদী মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তাদের বিচারের জন্যে রানুৰল্লাহ (সা) এর নিকট উপস্থিত
করা হয় ৷ রড়াসুলুল্লাহ (সা) বললেন, রজম কার্যকর করা সম্পর্কে তোমাদের তাওরাতে কী নির্দেশ
পাও? তারা, বলল, এ জাতীয় লোকদেরকে আমরা অপমান ও বেইজ্জত করে দেই এবং
বেত্রাঘাত করি ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তাদেরকে তাওরাত উপস্থিত করতে নির্দেশ দিলেন ৷ তাওরাত
নিয়ে এসে তারা যখন পাঠ শুরু করল তখন রজমের আয়াত তারা গোপন করছিল৷ আব্দুল্লাহ
ইবন সুরিয়া তার হাত দিয়ে রজমের আয়াত ঢেকে রেখেছিল এবং ঐ আঘাতের পুর্বের ও পরের
অংশ পাঠ করছিল ৷

রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, হে কানা ! তোমার হাত উঠাও ৷ সে তার হাত তৃলল , তখন দেখা
গেল সেখানে রজমের আয়াত রয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ (স) ওদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন ৷
রাসুলুল্লাহ (স) তখন বললেন :

“হে আল্লাহা আমিই৫ তা প্রথম ব্যক্তি, তারা অকার্যকর করার পর যে আ পনার নির্দেশকে
পুনর্জীবিত করল ৷”

আবু দাউদ (র)-এর বর্ণনায় আছে, তারা যখন তাওরাত নিয়ে আসলো তখন তিনি তার
নীচ থেকে বান্সিশ টেনে এনে তাওরাতের নীচে রাখলেন এবং বললেন “আমি তোমার প্রতি
ঈমান এসেছি এবং যিনি তোমাকে নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান এসেছি ৷” কেউ কেউ
বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) তাওরাতের সষ্মড়ানার্থে উঠে দাড়িয়েছিলেন ৷ এই সনদ সম্পর্কে আমি
অবগত নই ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷

অনেক কালাম শাস্ত্রবিদ যারা বলেন যে, রাজা বুখত নসরের সময়ে তাওরাত কিতড়াবের
তাওয়াতৃর বা সন্দেহাতীত প্রসিদ্ধি বিলুপ্ত হয়ে যায়, উপরোক্ত দলীল-প্রমড়াণ তাদের বক্তব্যের
গ্রহণযােগ্যতাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলে ৷ তারা বলেন যে, সে সময়ে একমাত্র উযায়র (আ)
ব্যতীত অন্য কারো নিকট তাওরাত সংরক্ষিত ছিল না ৷ এ প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যদি তা-ও

আল-ৰিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৩৭-

হয় এবং উক্ত উযায়র নবী হয়ে থাকেন তবে তাতে তাওয়াতুর বা সন্দেহাত্তীত প্ৰসিদ্ধি বিনষ্ট
হবে না ৷ কারণ নবী নিম্পাপ ৷ নিষ্পাপ ব্যক্তি পর্যন্ত যথাযথভ৷ ৷বে পৌছাই যথেষ্ট ৷ অবশ্য, যদি
কেউ বলেন যে, তার নিকট থেকেত তাওয়াতুর বা স্যান্দহাভীত প্ৰসিদ্ধি সুত্রে পৌছেস্লি, তাহলে
সমস্যা থেকে যাবে ৷ এই সমস্যা নিরসনে এ-ও বলা যায় যে, বুখত নসরের শাসনামলের পর
যাকাবিয়্যা, ইয়াহয়া ও ঈসা (আ) প্রমুখ নবীগণ এসেছেন ৷ তারা সবাই তাওরাতের অনুসরণ
করেছেন তাওরাত যদি বিশুদ্ধরুপে বিদ্যমান ও আমলযোপ্য না থাকত তবে তারা সেটির উপর
নির্ভর করতেন না ৷ত তারা তো নিম্পাপ নবী ৷

ইহুদীগণ যা সত্য বলে বিশ্বাস করতো কুমতলব হাসিলের উদ্দেশ্য তা থেকে তারা সরে
যেত ৷ বিচার মীমাত্সার জন্যে৩ তাদেরকে অনিবার্যভাবে রাসৃলুল্লাহ (সা) এর নিকট যেতে
আদেশ দেয়া সত্বেও তারা রাসুলের আনীত বিধানকে প্রত্যাখ্যান করত ৷ অবশ্য তাদের
বানােয়াট ও স্বরচিত কিছু কিছু বিষযকে তারা সত্য বলে বিশ্বাস করুত ৷ যা মুলত আল্লাহর
নির্দেশের পবিপন্থী ৷ যেমন ব্যভিচারের শাস্তি স্বরুপ বেত্রাঘাত ও মুখে চ্নকালি (মখে দেয়া ৷
এটি অবশ্যই আল্লাহর নির্দেশে ৷র সরাসরি বিরোধী ৷৩ তারা বলেছিল তোমাদের জন্যে বিধান হল
বেত্রাঘাত ও মুখে কালি যেখে দেয়া, তামর৷ এটি গ্রহণ কর, কিয়ামণ্ডে র দিনে আল্লাহর নিকট
এ বলে তোমরা ওযর পেশ করতে পারবে যে, তোমরা একজন নবীর হুকুম পালন করেছ ; আর
যদি এই নবী তোমাদের জন্যে বেত্রাঘাত ও মুখে কালি মাখা’ শাস্তির নির্দেশ না দিয়ে রজম
(প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের) নির্দেশ দেন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে ৷ সত্য
দীনের বিপরীতে তাদের দুষ্ট মনের প্ররােচণ৷ ও কু-প্ৰবৃত্তির অনুসরণের এই অসৎ উদ্দেশ্য
প্রত্যাখ্যান করে ৷

আল্লাহ তাআলা বলেন :

“তারা ওে ৷মার উপর কীভা ৷বে বিচ৷ ৷রভা র ন্যস্ত করবে অথচ তাদের নিকট রয়েছে তাওরাত

যাতে আল্লাহর আদেশ আছে, এরপরও তারা মুখ ফিরিয়ে নয় এবং তারা মু মিন নয় ৷ নিশ্চয়

আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি ৷ তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো ৷ নবীগণ, যারা আল্লাহর

অনুগত ছিল তারা ইহুদীদেরকে সে অনুযায়ী বিধান দিত রব্বানীগণ এবং বিদ্বানগণ কারণ
তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল ৷ ” (৫ মায়িদ৷ : ৪ : : ৫ )

এ প্রেক্ষিতেই রাসুলুল্লাহ (সা) ঐ ব্যভিচারীদের জন্যে রজম-এর রায় দিয়েছিলেন ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন, হে আল্লাহ ! আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে আপনার নির্দেশ পুনরুজ্জীবিত
করেছে, যখন তারা তা মৃত করে ফেলেছিল ৷

পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা)ত তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কেন তারা এরুপ আল্লাহর
নির্দেশ বর্জন করেছিলঃ উত্তরে তারা বলেছিল৪ আমাদের স্ন্তুাম্ভ লোকদের মধ্যে ব্যভিচার
ব্যাপকভাবে সংঘটিত হচ্ছে ৷ তাদের উপর দণ্ড প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে ন ৷ দুর্বল ও নিম্ন শ্রেণীর
যারা ব্যভিচ৷ ৷র করে, শুধু তাদের উপরই আমরা রজম দণ্ড প্রয়াে প করে থাকি ৷ তারপর আমরা
পরামর্শ করে বললাম যে, ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে আমরা এমন একটি মাঝামাঝি দণ্ড নির্ধারণ
করি, যা আশরাফ-আত রাফ সকলের উপর কার্যকর করা চলে ৷ ফলে আমরা সমঝোতার
ভিত্তিতে রেত্রাঘাত ও মুখে কা ৷লি যেখে দেয়া র দণ্ড নির্ধা ৷রণ ৷করি ৷ এটি তাদের তাওরাত বিকৃতি,
পরিবর্তন ও ভুল ব্যাখ্যার একটি উদাহরণ ৷ কিতাবে রজা মর শ্ণ্ব্দ অক্ষুগ্ন রেখে তারা তার ভুল
ব্যাখ্যা দিয়েছে ৷ উপরোক্ত হাদীস তা প্রমাণ করে ৷ এ জন্যে ন্াদ্রুতক লোক বলেন যে, ত বা শুধু
অর্থের বিকৃতি ও ভুল ব্যাখা প্রদান করেছে শব্দগুলো সব কিতারে যথাযথ বিদ্যমান রয়েছে ৷ এই
প্রকারের লোকদের বিরুদ্ধে এই যুক্তি দেয়৷ যায় যে, তারা যদি তাদের কিতাবের সকল কিছু
পালন করতো তাহলে তা অবশ্যই তাদেরকে সত্যের অনুসরণ ও রাসুল মুহাম্মদ (সা) এর প্রতি
আনুগত্য প্রদর্শনের দিকে পরিচালিত করত ৷

যেমন আল্লাহ তা জানা বলেন :

“যায়৷ অনুসরণ করে বাতাবাহক উমী নবীর, যাব উল্লেখ ত ৷ওরাত ও ইনৃজীল যা তাদের

নিকট আছে তাতে লিপিবদ্ধ পায় ৷ যে তাদেরকে সৎ কার্যের নির্দেশ দেয় ও অসৎকার্যে বাধা

দেয়, যে তাদের জন্যে পবিত্র বন্তু বৈধ করে ও অপবিত্র বন্তু অবৈধ করে এবং যে মুক্ত করে
তাদেরকে তাদের গুরুভার হতে ও শৃৎখল হতে যা তাদের উপর ছিল ৷ ” (৮ আনফাল : ১৫ ৭)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন
তারা যদি ত ৷ওরাত, ইনৃজীল ও তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তা ৷দের প্রতি যা অবতীর্ণ

হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তাহলে তারা তাদের উপর ও পদতল হতে আহার্য লাভ করত ৷
তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা মধ্যপন্থী ৷ (৫ মায়িদা : ৬৫)

আল্লাহতাআল! আরে! বলেন :

বল, হে কিতাবীবা ! ত!ওরাত, ইনৃজীল ও য! তোমাদের প্র!তপ!লকের পক্ষ হতে আমাদের
প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, তোমরা ৩! প্রতিষ্ঠিত না কর! পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তি নেই ৷
(৫ মায়িদা : ৬৮)

ত!ওরাতের শব্দে বিকৃতি ৩ঘটেনি বরং অর্থেই বিকৃতি ৩ঘটানো হয়েছে এই অভিমত হযরত
ইবন আব্বাস (রা) ও পোষণ করতেন বলে ইমাম বুখারী (র)৩ ভীর সহীহ গ্রন্থের শেষ দিকে
উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম বুখারী (র) নিজেও এই অভিমত সমর্থন করেছেন ৷ আল্লামা ফখরুদ্দীন
রাযী তার তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ কালাম শ!স্ত্রবিদ এই অভিমত পোষণ
করতেন ৷

নাপাক ব্যক্তির জন্যে ত!ওরড়াত স্পর্শ কর! জায়েয নেই

হ!ন!ফী ফিকহ্ বিদদের মতে নাপাক অবস্থায় ও বিন! উয়ুতে ত!ওর!ত স্পর্শ কর! জায়েয
নেই ৷ আল্লামা হ ন!তী তার ফা৩ !ওয়! গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কতক শাফিঈ পন্থী আলিমও
উপরোক্ত মত পোষণ করেন ৷ এই মত টি একটি বিরল মত ৷ কতক উলাম! উভয় অভিমতের
মাঝামাঝি অভিমত পোষণ করেন ৷ তাদের মধ্যে শায়খ ইমাম আল্লাম! আবুল আব্বাস ইবন
ত!য়মিয়্যা অন্যতম ৷ তিনি বলেন, যায়! এ মত পোষণ করে যে, ত!ওর!ত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
সম্পুইি পরিবর্তন করে ফেল! হয়েছে এবং এর একটি অক্ষরও আসল অবস্থায় নেই, তাদের এ
অভিমত কােনমতেই গ্রহণযোগ্য নয় ৷ ড্ডাপ যার! এ অভিমত পোষণ করে যে, ত!ওর!ত আদৌ
পরিবর্তন কর! হয়নি, তাদের অভিমতও গ্রহণযোগ্য নয় ৷ সত্য ও বাস্তবতা এই যে, ত!ওরাতের
কতক শব্দেহ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্ত্য!, বিকৃতি ও রুপান্তর সংঘটিত হয়েছে; যেমন বিকৃতি
ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এর মর্ম ও ব্য!খ্যায় ৷ ভালভাবে চিন্তা করলে এটি অবগত হওয়!
যায় ৷ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

তাদের তাওর!ত বিকৃতির একটি উদাহরণ হযরত ইব্রাহীম (আ) এর পুত্র কুরব!নীর
ঘটনা ৷ সেখানে আছে একক পুত্রকে কুরব!নী কর ৷
৷ তোমার একক
শিশু পুত্র ইসহাককে কুরব!নী কর ৷ এসব কপিতে বর্ণিত এা! শব্দটি নিঃসন্দেহে তাদের
নিজেদের সংযোজন ৷ কারণ তখন হযরত ইব্রাহীমের একক ও প্রথম শিশু পুত্র ছিলেন হযরত
ইসমাঈল (অ!) ৷ হযরত ইসহ!ক (অ!)-এর জন্মের ১৪ বছর পুর্বে ইসমাঈল (অ!)-এর জন্ম
হয় ৷ তাহলে ইসহ!ক (অ!) একক শিশু পুত্র হন কীভাবাে আরবদের প্রতি তাদের বিদ্বেষের
প্রেক্ষিতে আরবদের পুর্ব পুরুষ হযরত ইসমাঈল (অ!)-এর জন্যে কুরব!নী বিষয়ক সামান

নির্ধারণের জন্যেত তারা আল্লাহ ও রাসুল (সা) সম্বন্ধে মিথ্যা আরোপ করে এ ৷ ৷ শব্দ
সংযোজন করে দিয়েছে ৷

তাদের এই সংযোজনের প্রেক্ষিতে পুর্বের ও পরের অনেক লোক প্রতাবিত হয়েছে এবং
তাদের সাথে এ মত পোষণ করেছেন যে, কুরবানী বিষয়ক পুত্র হলেন ইসহাক (আ) ৷ সঠিক
মতামত এই যে, কুরবানী বিষয়ক পুত্র ছিলেন হযরত ইসমাঈল (আ) ৷ ইতিপুর্বে আমরা তা
বর্ণনা করেছি ৷ আল্লাহ্ইতাল জানেন ৷ সামিরা সম্পাদিত তা ওবাতেব দশম বাকে৷ নামাযে তুর
পর্বতের দিকে মুখ করার নির্দেশটিত তাদের অতিরিক্ত সংযোজন ৷ ইয়াহুদী ও নাসারাদের অন্যান্য
কপিতে এটুকু নেই ৷ হযরত তদাউদ (আ) এর নামে প্রচলিত তযাবুরের কপিতে প্রচুর অসংপতি
পাওয়া যায় ৷ তাতে এমন সব অতিরিক্ত ও সংযুক্ত বিষয়াদি পাওয়া যায়, যা মুলত যাবুরের ভাষ্য
নয় ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইয়াহুদীদের নিকট এখন যাবুরের যে আরবী অনুবাদ রয়েছে, তার মধ্যে যে প্রচুর বিকৃতি
পরিবর্তন, সংযোজন ঘটনা ৷র মিথ্যাচাবিতা ৷ও স্পষ্টহ্রাস বৃদ্ধি রয়েছে, তাতে কোন বিবেকবান
মানুষেরই সন্দেহ থাকতে পারে না ৷ এ কপিতে সুস্পষ্ট ৷মথ্যা চার ও প্রচুর মারাত্মক ভ্রান্তি
রয়েছে ৷ তারা নিজেদের ভাষায় যা পাঠ করে এবং নিজেদের কলমে যা লিখে সে সম্পর্কে অবশ্য
আমাদের জানা নেই ৷ তবে তারা যে মিথ্যাবাদী, বিশ্বাস তঙ্গকারী এবংঅ ৷ল্লাহ তার রাসুল ও
তার কিতাব সম্পর্কে মিথ্যা আরোপক৷ ৷রী এরুপ ধারণা করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে ৷ নাসারাদের
ইনজীল চ তুষ্টয় যা মার্ক, লুক, মথি ও যে হন থেকে বর্ণিত সেগুলো তওরাভের তুলনায় আরো
বেশী পরস্পর বিরোধী ও অসংগতিপুর্ণ

নাসারাগণ কোন কোন ক্ষেত্রে তাওরাত ও ইনজীল উভয়ের বিধানের বিরোধিতা করে ৷ এ
সকল ক্ষেত্রে তারা নিজেরা নিজেদের জন্যে নতুন বিধান তৈরী করে নেয় ৷ এ জা ৷ভীয় বিধান
সমুহের একটি হলত তাদের পুর্বযুখী হয়ে নামায আদায় করা ৷ ইনজীল চতুষ্টয়ের কােনটিতে
সরাসরি এ বিধান নেই এবং এ বিষয়ে তারা আদিষ্ট নয় ৷ অনুরুপ তাদের উপাসনালয়ে মুতি
স্থাপন, খতন৷ বত্তনি, রোজার সময়কে বসন্তকালে সরিয়ে দেয়া এবং রোযার মেয়াদ ৫০ দিন
পর্যন্ত বর্ধিত করণ, শুকরের গোশৃত খাওয়া, ক্ষুদ্র একটি খিয়ানতকে বড় আমানত বলে গ্রহণ
করা, সন্যাব্রেতের প্রচলন করা, সন্যাসব্রত হল ইবাদাত আগ্রহী ব্যক্তির বিয়ে শাদী বর্জন করা
এবং তার জন্যে বিয়ে শাদী হারাম বলে গণ্য করা এবং ৩১৮ জন ধর্মযাজক কর্তৃক রচিত
বিধি বিধানগুলেড়া লিপিবদ্ধ কর১ এসবই হচ্ছেত তাদের বানানো ও স্বরচিত বিধান ৷
কনক্টান্টিননােপল রাজের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট কনষ্টান্টিন ইবন কন্তুন এর শাসনামলে তারা
এগুলো ভৈত বি করে ও তার প্রচলন ঘটায় ৷ রাজা কনক্টাস্টের সময়কাল ছিল হযরত ঈসা
(আ)-এর ৩০০ বছর পর ৷ তার পিতা ছিলেন রোমের একজন রাজা ৷ তার পিতা হারবান
অঞ্চলে শিকারের উদ্দেশ্যে এক সফরে গিয়ে তার মাতা হায়লানাকে বিবাহ করেন ৷ এই
মহিলাটি প্রাচীন সন্যাম্প্রভী খৃষ্টান সম্প্রদায়তুক্ত ছিলেন ৷

কনন্টান্টিন তার বাল্যকালে দর্শনশাস্ত্র শিক্ষা করেন এবং তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন ৷
তিনি তার মায়ের ধর্ম খৃষ্টবাদের প্রতি কিছুটা ঝুকে পড়েন ৷ নিজে দর্শনের অনুসারী হয়েও

খৃষ্টবাদ অবলম্বীদেরকে তিনি মোটামুটি শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন ৷ তার পিতার মৃত তুর পর তিনি

ভালবাসতে থাকে ৷ তিনি তা ৷দের মধ্যে নেতৃতৃ অর্জন করেন এবং সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্বীপ
সমুহসহ সমগ্র সিরিয়া জয় করে নেন ৷ এতে তার সম্মান ও মর্যাদা বহুলাং শ বৃদ্ধি পায় ৷ তিনিই
ছিলেন সর্বপ্রথম কায়সার ৷ তার শাসনামলে ত্রিমুখী ধমীয়ি সংঘাত সৃষ্টি হয় ৷ একদিকে
নাসারাগণ একদিকে আলেকজাদ্রিয়ার আক্সান্দরুস অন্য দিকে তা৷দরই জনৈক পণ্ডিত ব্যক্তি
নাম আব্দুল্লাহ ইবন আরইউস ৷ আকসন্দরুস এর মতে হযরত ঈস৷ (আ) ছিলেন আল্লাহর
পুত্র ৷ আল্লাহ তাআলার শা তার এ মতের অনেক উর্ধে ৷

ইবন আরইউসের মতে, ঈসা (আ) ছিলেন আল্লাহর বান্দাও ওরাসুল ৷ নাসারাদের একটি
ছোট দল৩ তার অনুসরণ করেছিল ৷৩ তাদের অধিকাংশ লোক তাদের ধর্ম যাজকের অভিমত
গ্রহণ করে ৷ তারা ইবন আরইউস ওত তার অনুসারীদেরকে তাদোর মায়ের দুধ্ পান ছাড়ার পর
তাকে পানীয় দিতে পারছিল না ৷

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক তার সীরাত গ্রন্থে লিখেছেন, বীধ ভাঙ্গা প্লাবনের পুর্বে সর্বপ্রথম যিনি
ইয়ামন থেকে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন অমর ইবন আমির লাখমী ৷ লাখম হলেন
লাখম ইবন আদী ইবন হারিছ ইবন মুররা ইবন আয়দ ইবন যায়দ ইবন মাহ৷ আবৃন আমর ইবন
আবীর ইবন ইয়াশজুব ইবন যায়দ আবৃন কাহলান ইবন সাবা ৷ কেউ কেউ তার বংশ তালিকা
এরুপ বলেছেন, লাখম ইবন আদী ইবন আমর ইবন সাবা ৷ এটি ইবন হিশাম (র) এর বর্ণনা ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আমর ইবন আ’মিরের সাবা থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের কারণ সম্পর্কে
আবু যায়দ আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর একদিন দেখলেন যে, বীধ তাদের
জন্যে পানি ধরে রাখে এবং তারা প্রয়োজন মাফিক নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী ওখান থেকে পানি
সরবরাহ করেন একটি জংলী ইদুর সেই ৰ্বাধের মধ্যে একটি গর্ত খুড়ছে ৷ এতে তিনি বুঝে
নিলেন যে, এই বাধ আর বেশী দিন টিকবেনা ৷ তাই তিনি ইয়ামন ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত
নিলেন ৷ কিন্তু তার সম্প্রদায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্থে লিপ্ত হয় এবং তাকে চলে যেতে বাধা দেয় ৷
তিনিও একটি কৌশল অবলম্বন করেন ৷ তিনি তার ছোট ছেলেকে বলেন যে, আমি তোমার
প্রতি রেগে গিয়ে তোমাকে চড় মারলে তৃমিও আমার মুখে চড় মারবে ৷ তার ছেলে
নিঃর্কানুযায়ী তাই করল ৷

এরপর আমর বললেন, যে শহরের এমন পরিবেশ যে , আমার ছোট ছেলে আমার মুখে চড়
মারতে পারল, আমি আর সেই শহরে থাকর না ৷ তিনি র্তার ধন-সম্পদ বেচে দেয়ার ঘোষণা
দিলেন ৷ সে শহরের সম্রাম্ভ লোকেরা বলল, আমরের রাপকে কাজে লাপাও , এ সুযোগে র্তার ধন
সম্পদ কিনে নাও ৷ অতঃপর আমর তার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাজ্জী সবাইকে নিয়ে নানা এলাকা
ত্যাপ করেন ৷ এটা দেখে আযদ গোত্রের লোকেরা বলল, আমর চলে গেলে আমরা এখানে
থাকর না ৷ তারাও নিজেদের ধন-সম্পদ বিক্রি করে দেয় এবং আমরের সাথে বেরিয়ে পড়ে ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) :

যেতে যেতে তারা আক এর অঞ্চলে উপস্থিত হয় ৷ যে দেশ অতিক্রম করে যেতে চাইলে আক
গোত্রীয়রা তাদেরকে বাধা দেয় এবং যুদ্ধ শুরু করে ৷ যুদ্ধের ফলাফল কখন পক্ষে আবার কখনো
বিপক্ষে যায় ৷ এ প্রসংগে আব্বাস ইবন মিরদাস বলেনঃ
আক ইবন আদনান যুদ্ধ খেলা থেলেছ পাসসানী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ৷ শেষে তাদেরকে
সদল বলে বিতাড়িত করেছে ৷

বর্ণনাকারী বলেন ,অতঃপর তারা আক এর এলাকা অতিক্রম করে বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে
পড়ে ৷ জাফনা ইবন আযর ইবন আমিরের পরিবার বসবাস করতে থাকে সিরিয়ার ৷ আউস ও
খাযরাজ গোত্র অবতরণ করেন ইয়াছরিবে (মদীনা শরীফে ) ৷ খুযা আ গোত্র পেল মুর আঞ্চলে ৷
আযদ গোত্রের লোকজন ভিন্ন ভিন্ন উপগােত্রে বিভক্ত হয়ে তাদের কেউ কেউ সারাতে এবং কেউ
কেউ ওমানে বসতি স্থাপন করে ৷ এরপর আল্লাহ তা’আলা মারিব র্বীধে সর্বনাশা প্নাবন প্রেরণ
করেলেন ৷ প্লাবনের তােড়ে ভেঙ্গে চুরে ধ্বংস হয় মারিব বীধ্ ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ্ তাআলা
উপরোক্ত আয়াতগুলো নাযিল করেন ৷

তাফসীরকার সুদ্দী (র) থেকেও প্রায় এরকম বর্ণনা এসেছে ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের
একটি বর্ণনা এরুপ এসেছে যে, আযর ইবন আ ৷মির নিজে জ্যোতিষী ছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেন
আযর নিজে নয়, বরৎ৩ তার শ্রী তারিফা বিনৃত খায়র হিময়ারীই ৰুজ্যাতিষী ছিলেন ৷ তিনি
তাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, অতি ৩সত্ত্বর এ জনপদ ধ্বংস হয়ে যাবে ৷ তারা যেন মারিব বাধে
ইদুরের ধ্বংস লীলা দেখতে পেয়েছিল ৷ তাই তারা যা করার তা করে ৷ আল্লাহ্ই ভাল
জানেন ৷ ইবন আবী হাতিম তাফসীর গ্রন্থে ইকরামা থেকে এ ঘটনাটিও বিশদভাবে উল্লেখ
করেছেন ৷

পরিচ্ছেদ

বীধ ভাঙ্গ৷ প্লাবনে আক্রান্ত হওয়ার পর সাবার সকল গোত্র ইয়ামন ছেড়ে চলে যায়নি ৷
তাদের অধিকাংশই সেখানে বসবাস করেছে ৷ এলাকায় অবস্থানকারী মারিবাসিগণ বিভিন্ন স্থানে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলে গিয়েছিল ৷ ইতিপুর্বে বর্ণিত হযরত ইবন আব্বাস (রা) এর হাদীসের মর্মও
এই যে, সাবার সকল গোত্র ইয়ামন ছেড়ে চলে যায়নি এবং তাদের চারটি গোত্র অন্যত্র চলে
যায় ইয়ামানেই থেকে যায় এবং ছয়টি গোত্র তারা হলো মুযহিজ, ফিন্দা, আনমার (আবু
খাসআম) আশঅড়ারী, বুজায়লা ও হিময়ার গোত্র ৷ সাবা সম্প্রদায়ের এই ছয়গােত্র ইয়ামনেই
বসবাস করতে থাকে ৷ বংশানুক্রমে তাদের মধ্যে রাজতু ও তুব্বা পদ চলে আসছিল ৷ অতঃপর
এ সময় ইথিওপিয়ার রাজা তার সেনাপতিদ্বয় আবরাহা ও আরইয়াত-এর নেতৃত্বে অভিযান
প্রেরণ করে ওদের হাত থেকে বছর রাজতু ইথিওপীয়দের হাতে থাকে ৷ অবশেষে সায়ফ ইবন
যী ইয়ামীন হিময়ারী ওদের হাত থেকে রাজতু পুনরুদ্ধার করে ৷ এই পুনরুদ্ধার সম্পন্ন হয় প্রিয়
নবী (না)-এর আবির্ভাবের অল্প কিছু দিন পুর্বে ৷ এর বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্পাহ্ পরে
আমরা উল্লেখ করব ৷

পরবর্তীতে নবী করীম (সা) ইয়ামানের অধিাসীদের নিকট হযরত আলী (রা) ও হযরত
খালিদ ইবন ওলীদ (না)-কে প্রেরণ করেন ৷ তারও পরে তিনি আবু মুসা আশঅড়ারী ও মৃআয
ইবন জাবাল (রা)-কে সেখানে প্রেরণ করেন ৷ তারা লোকজনকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিতে
এবং তাওহীদী, ঈমান ও ইসলামের যুক্তি প্ৰমাণগুলো তাদের নিকট স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেন ৷

এক সময় ভণ্ড নবী আসওয়াদ আনাসী ইয়ামানে প্রভাব সৃষ্টি ও প্রধান বিস্তার করে ৷ সে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতিনিধিকে সেখান থেকে বের করে দেয় ৷ আসওয়াদ আনসী নিহত
হওয়ার পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফতকালে সেটি পুনরায় মুসলমানদের
কবজায় এসে যায় এবং ইসলামের বিজয় নিশান উড়তে শুরু করে ৷ রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) এর সীরাত
ও ইতিহাস বর্ণনার পর আমরা ইয়ামানে ইসলামী বিজয়ের বিবরণ উল্লেখ করব ইমৃশা আল্লাহ ৷

রবীআ আবন নাসর লাখমীর বিবরণ

এই রবীআ পুর্বোল্পেখিত রবীআ লাখৃমী বলে ইবন ইসহাক বলেছেন ৷ সুহড়ায়লী বর্ণনা
করেন, ইয়ামানের বংশ বিশাৱদগণ বলেন, ইনি হলেন নাসর ইবন রবী’আ ইবন নাসর ইবন
হারিক ইবন নুমারা ইবন লাখম ৷ যবিয়ান ইবন ৰাক্কার বলেন, ইনি হলেন রষী’আ ইবন নাসর
ইবন মালিক ইবন শুউয ইবন মালিক ইবন আজম ইবন আমর ইবন নুমারা ইবন লাখৃম ৷
লাখম ছিলেন জুবায়ের ভাই ৷

লাখম শব্দটির অর্থ হচ্ছে চপেটাঘাত করা ৷ আপন ভাইকে চপেটাঘাত করায় তার নাম
পড়ে দিয়েছিল লাখম ৷ আর চপেটাঘাতকারীর হাত কামড়ে ধরেছিল বলে অপর ভাইয়ের নাম
হল জুযাম ৷ জুযাম মানে দংশন করা ৷

রবীআ ছিলেন তুব্বা উপাধিধারী হিমইয়ারী সম্রাটদের অন্যতম ৷ শাক্ ও সাতীহ নামের
দুজন গণকও রাসুলুল্লাহ (না)-এর আগমন সম্পর্কে তাদের নিকট সতর্কবাগী উচ্চারণ
করেছিলেন ৷ ণণক সাতীহ এর নাম ও বংশ পরিচয় হল রাবী ইবন রাবী’আ ইবন মাস’উদ
ইবন মাযিন ইবন যি’ব ইবন আদী ইবন মাযিম গাসৃসান ৷ আর শাক্ এর বংশ পরিচয় হল;
শাক ইবন সাব ইবন ইয়াশকুর ইবন রুহ্ম ইবন আকরক ইবন কায়স ইবন আবকর ইবন
আনমার ইবন নেযার ৷ মত ৷ন্তরে আনমার ইবন আরাশ ইবন লিহয়ান ইবন আমর ইবন গাওছ
ইবন নাবিত ইবন মালিক ইবন যায়দ ইবন ক ৷হলান ইবন সারা ৷

কথিত আছে যে, সাভীহ লোকটির কোন অঙ্গ প্রত ত্যঙ্গ ছিল না ৷ সে ছিল ছাদের ন্যায়
সমান ৷ তার মুখমন্ডল হিল পিঠের উপর ৷ ৫ক্রাধ এলে সে ফুলে যেত এবং বসে যেত ৷ শাক্
ণ্লাকটি ছিল সাধারণ মানুষের অর্ধাৎশ ৷ বলা হয় যে, খালিদ ইবন আবদুল্লাহ বিননুল কাসরী
তারই অধংস্তন পুরুষ ৷

সুহড়ায়লী বলেন, ওরা দুজন একই দিন জন্মগ্রহণ করেছিল ৷ দিনটি ছিল তরীফা বিমৃত
খায়র হিমইয়ারীর মৃত্যু দিবস ৷ বর্ণিত আছে যে, তাদের জন্মের পর সে তাদের প্রত্যেকের মুখে
থুথু ছিঢিয়েছিল ৷ তাতে তারা তার জ্যোতিষ বিদ্যার উত্তরাধিকার পেয়েছিল ৷ তরীফা ছিল
পুর্বোল্পেখিত আমর ইবন আমিরের শ্রী ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, রবী আ ইবন নাসর ছিলেন ইয়ামানের তুব্বা উপাধিধারী
সম্রাটদের অন্যতম ৷ একদা তিনি এক ভয়ংকরাপ্ন দেখে আতংকগ্নস্ত ও অস্থির হয়ে পড়েন ৷
অতঃপর তার রাজোর সকল জ্যোতিষী য়াদৃকর ও জ্যোতির্বিদকে তার দরবারে একত্রিত করে
বললেন, আমি এক ভয়ংকর,াপ্ন দেখেছি, যা আমাকে ডীত ওশাঙ্কত করে তৃলেছে ৷ আপনারা
আমাকোপ্ন ও তার তাৎপর্য বলে দিন ৷ তারা বলল, আপনিাপ্নড়া;ণ্ ’ আমাদেরকে বলুন; আমরা
তার ব্যাখ্যা বলে দিব ৷ সম্রাট বললেন, “না তা নয়, আমি যদিাপ্ন বলে দিই তারপর আপনারা
তার ব্যাখ্যা দেন, সেই ব্যাখ্যার আমি আস্থা রাখতে পারব না ৷ কারণ এাপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা
সেই ব্যক্তিই দিতে পারবে, আমার বলা ছাড়া যোপ্নট৷ জানতে পারবে ৷ একজন বলল, ঠিক
আছে, সম্রাট যদি তাই৷ চান তবে ব্যাখ্যার জন্যে শাক ও সাতীহের নিকট লোক পাঠিয়ে দেয়া
হোক ৷ এই শাম্ভেত ৷দের চেয়ে অভিজ্ঞ কেউ নেই ৷ তারাই সম্রাবট হ্৷ ইচ্ছা মুতাৰিক ব্যাখ্যা
বলতে পারবে ৷ লোক পাঠিয়ে তাদেরকে আনা হল ৷ শাকের পুর্বে সাতীহের সাথে কথা বললেন
সম্রাট ৷ তিনি বললেন, আমি এক ভয়ংকরাপ্ন দেখেছি, যা আমাকে বাতিব্যস্তও অস্থির করে
তৃলেছে ৷ আগে বল, সোপ্নটি কি? তুমি যদিাপ্নটি ঠিক ঠিক বলতে পার তবে তোমার
ব্যাখ্যাও সঠিক হবে ৷ সাতীহ বলল, ঠিক আছে, আমি তাই করছি ৷ আপনি একটি কালো বস্তু
দেখেছেন যা অন্ধকার থেকে বের হয়েছে ৷ অতঃপর সমৃদ্রউপকুলবর্তী নিচু ভুমিতে গিয়েছে
এবং যেখানে মাথা ভুমিতে গিয়েছে এবং সেখানে মাথা বিশিষ্ট বা পেয়েছে তার সব কিছু খেয়ে
ফেলেছে ৷ সম্রাট বললেন, সাতীহ ! তুমি একটুও ভুল বলনি ৷ এখন বল দেখি তোমার মতে এর
ব্যাখ্যা কী ?

সে বলল ;; দৃ’শিলা ভুমির মাঝে অবস্থিত সকল পশু-পাথীর শপথ করে বলছি, হাবশি
জাতি আপনাদের রাজে৷ অবতরণ করবে এবং আবয়ান থেকে জারশ পর্যন্ত এলাকায় রাজতু
করবে ৷ সম্রাট বললেন, সাতীহ ৷ এতো এক অনাকাৎখিত ও বেদনাদায়ক ব্যাপার, করে নাগাদ
তা ঘটবে; আমার রাজত্বকালে, না আরও পরে? সে বলল, আপনার পিতার শপথ, বরং
আপনার পরে আরো ৬০৭০ বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ৷ সম্রাট বললেন,
তাদের রাজত্ব কি চিরস্থায়ী হবে ? না কি পতন ঘটবে ? সে বলল, ৭৩ থেকে ৭৯ বছরের মধ্যে
তাদের পতন ঘটবে ৷ তারপর তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং তারা সেখান থেকে পালিয়ে
যাবে ৷ তিনি বললেন, কে তাদেরকে হত্যা ও বিতাড়িত করবে? সে বলল, ইরামসী ইয়াযিন ৷
এডেন থেকে সে আসবে এবং ওদের কাউকে ইয়ামানে অবশিষ্ট রাখবে না ৷

সম্রাট বললেন, তার রাজতু কি চিরস্থায়ী হবে ? নাকি তার পতন ঘটবে ? সে বলল, বরং
পতন ঘটবে ৷ সম্রাট বললেন, কার হাতে তার পতন ঘটবে ? সে বলল, একজন পুণ্যবান নবীর
হাতে উর্ধাকাশ থেকে তার নিকট ওহী আসবে ৷ সম্রাট বললেন, নবী কোন ৷ বংশের সন্তান
হলে? সে বলল, গালিব ইবন ফিহর ইবন মালিক ইবন নজরের অণঃস্তন পুরুষ ৷ আখেরী যামানা
পর্যন্ত রাজত্ব তার সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকবে ৷ সম্রাট বললেন, যুগেরও কি আবার শেষ আছে? সে
বলল, হা৷ যুগের শেষ হল এমন একটি দিন, যেদিনে পুর্ববর্তী ও পরবর্তী সবাইকে একত্রিত করা
হবে ৷ সৎকর্মশীলগণ হবে ভাগ্যবান আর পাপাচারীগণ হবে ভাগ্যাহত ৷ সম্রাট বললেন, তুমি যা
বলছ তা কি ঠিক? যে বলল, অস্তরাগ, অন্ধকার এবং উদ্ভাসিত প্রত্যুষের শপথ করে বলছি,
আমি আপনাকে যা জা ৷নিয়েছি তা অবশ্যই সত্য ৷

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর ওজ্যড়াতিষী শাক সম্রাটের নিকট আসল ৷ সাতীহকে যা
বলেছিলেন তিনি তাকেও তাই বললেন ৷ উভয়ের বক্তব্য একরুপ হয়, নাকি ভিন্ন ভিন্ন , তা
দেখার জন্যে সাভীহের বক্তব্য তিনি শাকের নিকট প্রকাশ করলেন না ৷ শাক বলল, আপনি
দেখেছেন একটি কালো বস্তু ৷ সেটি বেরিয়ে এসেছে অন্ধকার থেকে ৷ তারপর উদ্যান ও
ফলবাপানে গিয়ে পতিত হয়েছে ৷ অতঃপর সেখানে যত প্রাণী ছিল সব খেয়ে ফেলেছে ৷ এতটুকু
বলার পর সম্রাট বৃঝলেন যে, উভয়ের বক্তব্য অভিন্ন ৷ সম্রাট বললেন, হে শাক ! তুমি একটুও
ভুল বলনি ৷ এখন তোমাদের এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কী? সে বলল, দুশিলা ভুমির মাঝে অবস্থিত
মানব সম্প্রদায়ের শপথ করে বলছি, আপনাদের রাজ্যে অবশ্যই কৃষ্ণাঙ্গরা অবতরণ করবে ৷
সকল অধিবাসীর উপর তারা বিজয় লাভ করবে এবং আলড়ায়্যান থেকে নজরান পর্যন্ত তাদের
শাসনাধীন হবে ৷ সম্রাট বললেন, হে শাক ! তোমার পিতার শপথ, এটি তো আমাদের জন্যে
ক্ষোভ ও দুঃখের ব্যাপার ৷ তবে এটি কবে ঘটবে? আমার ন্মামলে , নাকি এর পরবর্তী যুগে? সে
বলল, না, বরং এর কিছুকাল পরে ৷

তারপর একজন প্রতাপশালী ব্যক্তি আপনাদেরকে ওদের হাত থেকে ক্ষুক্ত করবে এবং
ওদেরকে চরম অপমান ও লাঞ্ছিত করবে ৷ তিনি বললেন, ঐ প্ৰতাপশালী ব্যক্তিটি কােপ্ সে
বলল, একটি বালকশ্গামবাসীও নয়, শহ্রবাসীও নয় ৷ ষী ইয়াযান-এর বংশ থেকে বেরিয়ে সে
তাদের উপর আক্রমণ করবে ৷ তিনি বললেন, তার রাজত্ব কি চিরস্থায়ী হবে, নাকি তার পতন
ঘটবেঃ সে বলল, বরং তার রাজত্বের পতন ঘটবে জনৈক রাসুন্সের হাতে, যিনি দীনের প্রচারক
ও মর্ষাদাশীল হবেন এবং সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে আসবেন ৷ বিচার দিবস পর্যন্ত রাজত্
তার সম্প্রদায়ের হাতে থাকবে ৷

সম্রাট বললেন, বিচার দিবস আবার কী? যে বলল, যে দিবসে সকল কর্মের প্রতিদান দেয়া
হবে ৷ সেদিন আকাশ থেকে ঘোষণা দেয়া হবে ৷ জীবিত মৃত সবাই সে ঘোষণা শুনবে ৷ নির্দিষ্ট
স্থানে তখন লোকজন সমবেত হবে ৷ যারা তাকওয়া ও সংযম অবলম্বন করেছে, তারা তখন
সফলতা ও কল্যাণ লাভ করবে ৷ তিনি বললেন, তুমি যা বলছ, তা কি সত্যা সে বলল, হীা,
আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ এবং এ উভয়ের মাঝে উচু-নীচু যা কিছু আছে, তার
সবওলোর শপথ, আমি যা’ বলছি তা সত্য ৷ তাতে কোন বত্যেয় নেই ৷ ইবন ইসহাক বলেন,
সাতীহ শাক-এর বক্তব্য রড়াবীআ ইবন নাসরের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে ৷ তিনি তার
হেলে-যেয়ে ও পরিবার-পরিজনকে ইরাকে পাঠিয়ে দিলেন এবং সাবুর ইবন খারজাম নামের
জনৈক পারসিক রাজাকে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা লিখে দিলেন ৷ সে তাদের হীরা
রাজ্যে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিল ৷ ইবন ইসহাক বলেন, রবীআ ইবন নাসরের অধ৪স্তন
বংশধর হলেন নুমান ইবন মুনযির ইবন নুমান ইবন ঘুনযির ইবন আমর ইবন আদী ইবন
রবীআ ইবন নাসর ৷ এই নুমান পারস্য রাজ্যের প্রতিনিধিরুপে হীরা শাসন করতেন ৷ আরবগণ
তার নিকট যেত এবং তার প্রশংসা করত ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক যা বলেছেন যে, নুমান ইবন
মুনযির রবীআ ইবন নড়াসরের অখঃস্তন পুরুষ, অধিকাংশ ঐতিহাসিক তা সমর্থন করেছেন ৷

ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে, নুমান ইবন ঘুনযিরের তরবারী হযরত উমর ইবন খাত্তাবের
(রা) নিকট আনয়ন করা হলে তিনি জুবায়র ইবন মুতইম (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন যে, সে
কার বংশধরঃ জুবায়র (বা) বললেন, যে কানাস ইবন মাআদ ইবন আদনানের বংশধর ৷ ইবন
ইসহাক বলেন, সে যে কোন বংশের ছিল তা’ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

মদীনা অধিবাসীদের সাথে তুলা সম্রাট আবু কুরাবের ঘটনা

বায়তুল্লাহ শরীফের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রয়াস এবং পরবতীচ্চিত সম্মানার্থে বড়ায়তুব্লাহ
শরীফে গিলাফ হড়ান প্রসঙ্গে

ইবন ইসহাক বললেন, রবীআ ইবন নাসরের মৃত্যুর পর সমগ্র ইয়ড়ামান হাস্সান ইবন
তৃব্বান আসআদ আবু কুরাবের করতলপত হয় ৷ তুব্বান আসআদ ছিলেন সর্বশেষ তুব্বা ৷ ইনি
ছিলেন কাসর্কীরের ইবন যায়দ,যায়দ ছিলেন সর্বপ্রথম তুব্বা তিনি ছিলেন আমর যিল আযআর
ইবন আবরাহা যিল মানার ইবন রাইশ ইবন আদী ইবন সায়ফী ইবন সবাে আল আসপর ইবন
কাব কাহকুয যুলাম ইবন জায়দ ইবন আহল ইবন আমর ইবন কুস্ ইবন মু’আবিয়া ইবন
জাসম ইবন আবদে শামস ইবন ওয়াইল ইবন পাওছ ইবন কুতান ইবন আরিব ইবন যুহায়র
ইবন আনাস ইবন হড়ামাইসি ইবন আরবাহাজ ৷ এই আরবাহাজ হচ্ছেন হিমইয়ার ইবন সাবা
আল আকবার ইবন ইয়ারুব ইবন ইয়াশজুয ইবন কাহতড়ান ৷ ইবন ইসহাক বলেন, এই তুব্বাল
আসআদ আবু কুরাব সেই ব্যক্তি যে মদীনায় এসেছিলেন এবং দু’জন ইহ্রদী ধর্মযাজককে তার
সাথে ইয়ামানে নিয়ে গিয়েছিলেন ৷ তিনি বায়তুল্লাহ শরীরুফ্যা সংস্কার সাধন ও তাতে সর্বপ্রথম
গিলাফ চড়িয়েছিলেন তার শাসন কাল ছিল রবীআ ইবন নাসরের শাসনকালেব পুর্বে ৷ পুর্ব
দেশীয় রাজ্যগুলো জয় করে তিনি মদীনা হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করছিলেন ৷ অভিযানের
শুরুতেও তিনি মদীনা হয়ে গিয়েছিলেন ৷ মদীনায় অধিবাসীদেরকে তিনি উচ্ছেদ করেন নি ৷ তার
এক পুত্রকে তিনি তাদের শাসকরুপে রেখে গিয়েছিলেন ৷ গুপ্তঘাতকের হাতে১ তার ওই পুত্র
সেখানে নিহত হন ৷ এ কারণে তিনি মদীনা ধ্বংস, তার অধিবাসীদেরকে উচ্ছেদ এবং
উদ্যানরাজি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্য মদীনায় ফিরে আসল ৷ তাদের নেতৃত্বে ছিল নাজ্জার বংশীয়
আমর ইবন তাশহা ৷ তিনি বানু আমর ইবন মড়াববুলেরও একজন মাবয়ুলের নাম আমির ইবন
মালিক ইবন নাজ্জার ৷ নাজ্জারের নাম তায়মুল্লাহ ইবন ছালাবা ইবন আমর ইবন খাযরাজ ইবন
হারিছা ইবন ছালাবা ইবন আমির ৷

ইবন হিশাম বলেন, আমর ইবন তালহা ৷ আমর ইবন মুআৰিয়া ইবন আমর ইবন আমির
ইবন মালিক ইবন নাজ্জার ৷ তালহা তার মায়ের নাম ৷ তালহড়া ছিলে আমির ইবন যুরায়ক
খায়রাজি এর কন্যা ৷

ইবন ইসহাক বলেন বানু আদী ইবন নাজ্জার গোত্রের “আলমার নামে জনৈক ব্যক্তি
তৃব্বার দলের এক ব্যক্তির উপর আক্রমণ করে বসে ৷ লােকটি আহমারের খেজুর গাছ থেকে
খেজুরকাটছিল ৷ কাচির আঘাতে আহমর তাকে হত্যা করেন এবং বলেন খেজুর সে পারে যে

১ অর্থ ৰিশ্বাসঘাতকতা ৷

তার যত্ন করে ৷ ’ এ ঘটনায় তৃব্বা তাদের প্রতি ভীষণ ক্ষুব্ধ হন ৷ ফলে উভয়পক্ষে যুদ্ধ শুরু হয় ৷
আনসারগণের ধারণা তাদের পুর্বপুরুষরা দিনে তৃব্বা পক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন আর রাতে
তাদের মেহমানদারী করতেন ৷ তাদের আচরণে তুব্বা খুব খুশী হন এবং বলেন হায় ৷ আমাদের
সম্প্রদায় তো অলস ৷ আনসারদের সুত্রে ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে, তৃব্বা ক্ষেপে ছিলেন
ইহ্রদী জাতির বিরুদ্ধে ৷ কারণ তারা আনসারদের হয়ে তার বিরুদ্ধে লড়েছিল ৷

সুহারলী বলেন, কথিত আছে যে, তৃব্বা এসেছিলেন ইহুদীদের বিরুদ্ধে আনসারদেরকে
সাহায্য করতে ৷ আনসারপণ ছিলেন তার চাচার বংশধর ৷ ইহ্রদীগণ শর্ত সাপেক্ষে মদীনায়
বসবাসের অনুমতি পেয়েছিল ৷ পরে তারা শর্তগু লো পুরণ করেনি ৷ বরং আনসারদের বিরুদ্ধে
শক্তি প্রদর্শন করেছিল ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, তুব্বা যখন যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন তখন রানু কুরায়যা গোত্রের দু’জন
ইহুদী ধর্যযাজক শ্র্তার নিকট আসেন ৷ তারা জেনেছিলেন যে , তৃব্বা মদীনা ধ্বংস ও
মদীনাবাসীদের মুলােৎপাটনের জন্যে এসেছেন ৷ তারা তাকে বললেন রাজনছু আপনি এরুপ
করবেন না ৷ এরপরও যদি আপনি আপনার পরিকল্পনা কার্যকর করতে চান তবে আপনি তাতে
ব্যর্থ হলে এবং আপনার উপর আল্পাহ্র ণযব নাযিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৷ তিনি বললেন,
কেন এরুপ হবো তারা বললেন, কারণ, এই মদীনা হল আখেরী যামানায় এই কুরায়শীয় হারাম
শরীফ থেকে আবির্ভুত নবীর হিজরত স্থল ৷ এটি হবে তার বাসস্থান ও অবস্থান স্থল ৷ এতে
তুব্বা যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হলেন ৷ তিনি বুঝতে পারলেন যে, এই দু’জন গভীর জ্ঞানের অধিকারী ৷
তাদের কথা তার খুব ভাল লেগেছে ৷ ফলে, তিনি মদীনাবাসীদের ধর্মে হস্তক্ষেপ না করেই
মদীনা ত্যাগ করেন ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, তৃব্বার সম্প্রদায় মুর্তিপুজ্যরী ছিল ৷ তারা দেব দেবীর পুজা করত ৷
তৃব্বা মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন ৷ এটা ছিল ইয়ামানের পথে ৷ উসফান ও আমাজের মধ্যবর্তী
স্থানে আসার পর হুযায়ল (ইবন মুদারিকা ইবন ইলিয়াছ ইবন মুযার ইবন নেযার ইবন মাদ
ইবন আদনান) গোত্রের একদল লোক তার নিকট এল ৷ তারা বলল, হে রাজন ৷ আমরা কি
আপনাকে একটি গৃহের সন্ধান দিব, যেটি পুরাতন হয়ে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে ৷ আপনার
পুর্ববর্তী রাজা বাদশাহ্ ঐ গৃহ সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল ছিলেন না ৷ সেখানে রয়েছে মনি-ম্যনিক্য,
স্বর্ণ-রৌপ্য ও মহামুল্য ইয়াকুত পাথর ৷ তিন বললেন, হ্যা ঠিক আছে ৷ তারা বলল, সেটি মক্কায়
অবস্থিত একটি গৃহ ৷ তার ভক্তবৃন্দ সেখানে ইবাদত করে এবং সেখানে প্রার্থনা করে ৷ ’ হুযায়ল
গোত্রীয়পণ এর দ্বারা তুব্বার ধ্বংসের চক্রাম্ভ করেছিল ৷ কারণ তারা জানত যে, কোন রাজা এ
গৃহে ধ্বংস করা কিংবা এটির নিকট ঔদ্ধতা সেখানে তার ধ্বংস অনিবার্য, তারা যা বলেছিল তা
করার সংকল্প করে তৃব্বা এ ব্যাপারে পরামর্শের জন্যে পুর্বোক্ত যাজকদ্বয়ের নিকট লোক
পাঠালেন ৷ তারা বললেন, এ লোকেরা আপনার নিজের ও আপনার সৈন্য-সামত্তের ধ্বংসই
চেয়েছে ৷ আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে এই পবিত্র গৃহ ব্যতীত অন্য কোন গৃহকে নিজের জন্যে
নির্দিষ্ট রেখেছেন বলে আমাদের জানা নেই ৷ তারা আপনাকে যা করতে বলেছে, আপনি যদি তা
করেন তবে আপনিও ধ্বংস হবেন, আপনার সাথে যারা আছে তারাও ৷ তিনি বললেন, আমি

গৃহের নিকট পৌছলে আপনারা আমাকে কী করতে পরামর্শ দিচ্ছেন? তারা বলল, আপনি তা-ই
করবেন যা ওখানকার লোকজন করে ৷ ঐ গৃহের তাওয়াফ করবেন, সেটির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা
নিবেদন করবেন ৷ সেখানে মাথা মুণ্ডন করবেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত
সেটির প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করতে থাকবেন ৷ তিনি বললেন, আপনারা তা করতে বাধা কোথায়?
তারা বলল, সেটি হল আমাদের পিতা ইবরাহীমের (আ) গৃহ ৷ এ গৃহ সেরুপই যা আমরা
আপনার নিকট বর্ণনা করেছি, কিণ্ডু ওখানকার লোকজন ঐ গৃহের আশে-পাশে প্রতিমা স্থাপন
করে এবং খুনাখুনি ও বক্তা ৷রক্তি করে আমাদের মাঝে এবং ঐংদু গৃদু হয় মাঝে অতরায় সৃষ্টি করে
ব্লেখেছে ৷ তারা শিরকবাদী, তারা অপৰিত্র ৷ তৃব্বা৩ তাদের উপদেশ উপলব্ধি করলেন এবং
তাদের কথায় সত্যতা অনুধাবন করলেন ৷ হুযায়ল গোত্রের কিছু লোক তার নিকটে এলে তিনি
তাদের হাত-পা কেটে দিলেন ৷ তারপর তিনি মক্কায় আসলেন ৷ বায়তৃল্লাহ শরীফের তাওয়াফ
করলেন, সেখানে পশু কুরবানী দিলেন, মাথা মুণ্ডন করলেন এবং মক্কায় ছয়দিন অবস্থান
করলেন ৷

কথিত আছে যে, এই সময়ে তিনি সেখানে পশু জবাই দিতেন এবং সেখানকার
লোকজনকে আখ্যায়িত করতেন এবং তাদেরকে মধু পান করাতেন ৷ তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে,
তিনি কাব৷ শরীফে গিলাফ চড়িয়ে দিচ্ছেন ৷ ফলে তিনি কাব৷ শরীফে মোটা কাপড়ের গিলাফ
চড়িয়ে দিলেন ৷ তারপর তিনি স্বপ্নে দেখলেন, যেন তিনি তার চেয়ে ভাল পিলাফ চড়ান, তখন
তিনি মুআফিরী বষ্কস্ত্র গিলাফ চড়ালেন ৷ আবার স্বপ্ন দেখলেন, যেন তার চাইতেও ভাল গিলাফ
চড়ান ৷ তখন তিনি মালা এবং নক্সাদার ইয়ামানী বঙ্গের গিলাফ্ চড়িয়ে দিলেন ৷ ঐতিহাসিকদের
ধারণা যে, তুব্বাই সর্বপ্রথম কাবা শরীফে গিলাফ চড়িয়ে ছিলেন ৷ তিনি জুরহুম গােত্রকে কাবা
শরীফের৩ তত্ত্বাবধান করা, সেটি পবিত্র রাখা, রক্ত, মৃত প্রাণী এবং ঋতৃস্রাবের বন্ত্রাদি থেকে
পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিলেন ৷ তিনি বা বা শরীফের একটি দরজা তৈরী করে তাতে
তালা-চাবির ব্যবস্থা করলেন ৷ তৃব্বার এ সকল খেদমত ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে
সুবাইআ ৰিনত আহাব তার পুত্র খালিদ ইবন আবদ মানাফ ইবঘুকবি ইবন কাব ইবন সাদ
ইবন তায়ম ইবন মুররা ইবন কাব ইবন লুআয় ইবন গালিব)-কে উপদেশ দিয়ে এবং মক্কায়
কোন প্রকারের সীমালংঘন ও বিদ্রোহ না করার নির্দেশ দিয়ে বলেহিল০ ং

হে বৎস মক্কড়াতে ছোট-বড় কোন জুলুম বা পাপাচার করবে না ৷

হে বৎস ! এর মর্যাদা রক্ষা করে৷ এবং এ ব্যাপারে কোন ধোকায় পড়াে না যেন ৷

হে বৎস, মক্কায় যে জন জুলুম করে, অকল্যাণ আর দৃর্তোগ তার জন্যে অবধারিত ৷

হে বৎস ! মুখে আর গালে জানান্নামের আগুন আঘাত করবে

হে বৎস ৷ আমার অভিজ্ঞতা যে , এখানে জুলুমকারী সুনািশ্চতভাবেই ধ্বংস হয় ৷

আল্লাহ তা আলাই তার এবং তার প্রাঙ্গণস্থ দালা ৷ন কো ৷ঠার হেফাজতকারী ৷

আল্লাহই এর পাখীগুলো এবং শ্বেত হরিণকে ছাবীর পর্বতে নিরড়াপদে রাখেন ৷

তুব্বা যুদ্ধ করতে আসল এবং কা বা গৃহে গিলাফ চড়ান ৷

আল্লাহ তাআলা তাকে থামিয়ে দেন তিনি তার মানত বুম্নো করেনা

তিনি নগ্ন পারে তার দিকে হেটে আসেন ৷ এবং তার প্রাঙ্গণে হাজারো উট কুরবানী
করেন ৷

ছোট বড় উটের গোশতের দ্বারা তিনি মক্কবাসীদের আখ্যায়িত করেন ৷

তিনি তাদেরকে খাটি মধু পান করান এবং৩ ভ ল রুটি আহার করান ৷

তাতে হাতী বাহিনী ধ্বংস হয়, তাদের প্রতি পাথর বর্ষিত হয় ৷

তার (আল্লাহর) কর্তৃতু সর্বস্থানে, আরবে আর অনারবে ৷

যখন কিছু বলা হয়, তখন তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং ভালভাবে বুঝে নিয়ে যে
শেষ পরিণতি কেমন হয় ৷

ইবন ইসহাক বলেন অতঃপর তৃব্বা তার সৈন্য সামন্ত ও ইহুদী ধর্ম যাজকদ্বয়কে সাথে নিয়ে
স্বদেশ ইয়ামানের দিকে যাত্রা করলেন ৷ সেখানে পৌছে তার সম্প্রদায়কে৩ তিনি তার নবদীক্ষিত
ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানালেন ৷ ইয়ামানে অবস্থিত বিশেষ অগ্নিকুণ্ডের মাধ্যমে ফয়সালা না
হওয়া ৷ব্যভীত৩ ৷ ৷রা নতুন ধর্ম গ্রহণে অস্বীকৃতিন জান ৷য় ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহড়ায়া (২য় খণ্ড) : ১-

ইবন ইসহাক বলেন, আবু মালিক ইবন ছালাবা ইবন আবী মালিক কুরাযী আমার নিকট
বর্ণনা করে বলেছেন যে, আমি ইবরা হীম ইবন মুহা ম্মদ ইবন৩ তালহা ইবন উবাইদৃল্লাহকে বলতে
শুনেছি যে,াদেশাপ্রত্যাবর্তনকালে তুব্বা যখন ইয়ামানের কাকাছি খ্ পীছলেন এবং ইয়ামানে
প্রবেশ করতে যাবেন তখন হিমইয়ারী গোত্রের লোকজন তাকে বাধা দিল এবং বলল, আপনি
এদেশে প্রবেশ করবেন না, আপনি আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছেনা তিনি তাদেরকে তার
নবদীক্ষিত ধর্মের দাওয়াত দিয়ে বললেন, এটি তোমাদের ধর্ম অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ধর্ম ৷ তারা বলল,
আমরা অগ্নিকুণ্ডের মাধ্যমে ফয়সালা করব ৷ তিনি বললেন হীা, তাই হোক ৷

ইয়ামানবাসীদেরা ধারণা যে, তাদের একটি অগ্নিকুণ্ড রয়েছো বিরে ধ্পুর্ণ বিষয়গুলোতে এই
অগ্নিকুগু তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয় ৷ অ৩াচারী টেনে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলে আর
অত্যাচারিতে র কোন ক্ষতি করে না৷ লোকজন তাদের দেব দেবী এবং ধর্মমত অনুযায়ী
সুপারিশযোগ্য বন্তুগুলাে নিয়ে বের হল ৷ আর ধর্মযাজক দু’জন ন্ন্ালায় কিতাব ঝুলিয়ে রওয়ানা
হলেনা সেখান থেকে আগুন বের হচ্ছিল সেখানে গিয়ে সবাই যন্ণ্;ল, আগুন বেরিয়ে এলে
ইয়ামানবাসীদের দিকে যখন এগিয়ে আসতে লাগল, তখন তারা অন্যদিকে ভয়ে সরে যেতে
লাগল, উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ধমক দেয়ায় এবং স্থির থাকতে নির্দেশ দেয়ায় তারা স্থির
থাকল ৷ অবশেষে আগুন এসে তাদেরকে ঢেকে ফেলল এবং তাদের দেব-দেবী এবং এতগুলো
বহনকারী হিমইয়ারী লোকজন সবাইকে গ্রাস করে ফেলল ৷ ধর্মযাজক দু’জন গলায় কিতাবসহ
াভাবিকভাবে বেরিয়ে আসলেনা তাদের কপালে ঘাম দেখা দিয়েছিল ৷ আগুন তাদের কোন
ক্ষতি করলো না, তখন হিমইয়ারী দৃঢ়ভাবে যাজকদ্বয়ের ধর্ম গ্রহণ করল ৷ তখন থেকে ইয়ামানে
ইহুদী ধর্মের সুচনা হয় ৷

ইবন ইসহাক বলেন, র্জ্যনক শাস্ত্রবিশারদ আমাকে বলেছেন যে, যাজকদ্বয় এবং
হিমইয়ারীগণ আগুনকে তার উৎসন্থলে ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে আগুনের পেছনে-পেছনে ছুটলেনা
তারা বলেছিলেন যে, যে পক্ষ আগুনকে ফিরিয়ে দিতে পারবে সে পক্ষই সত্যপন্থীা হিমইয়াবর
লোকজন তাদের প্রতিমাসমুহ নিয়ে আগুনের নিকট এগিয়ে গেল তাদেরকে গ্রাস করার জন্যা
আগুন তাদের নিকট এগিয়ে এলত তারা পালিয়ে যেতে চ ইলা আগুনকে ফিরিয়ে দিতে পারল
না অতঃপর যাজকদ্বয় আগুনের নিকটবর্তী হলেনা৩ তারা অবিরাম তাওরাত পাঠ করছিলেন
আর আগুন ক্রমে ক্রমে তাদের থেকে দুরে সরে যাচ্ছিল ৷ শেষ পর্যন্ত আগুন যেখান থেকে উঠে
এসেছিল তারা তাকে সেখানেই ফিরিয়ে দিলেন ৷ তখন হিমইয়ারীগণ তাদের ধর্মে আস্থাশীল
হলা আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, রাছাম নামে তাদের একটি উপাসনালয় ছিল ৷ তারা সেটিকে ভক্তি
করত ৷ সেখানে পশু কােরবানী করতো ঐ গৃহের মধ্যে কথাবার্তা বলত ৷ তখন তারা মুশরিক
ছিল ৷ যাজকদ্বয় তুব্বাকে বললেন, শয়তান এটি দ্বারা তাদেরকে বিপথে পরিচালিত করছে ৷
আমাদেরকে অনুমতি দিন আমরা একটু দেখিা তুব্বা বললেন, আপনারা যা ইচ্ছা করুন ৷
ইয়ামানীদের ধারণা, তারা ঐ গৃহ থেকে একটি কালো কুকুর বের করে আগে এবং সেটি জবাই

করে দেয় ৷ তারপর উক্ত ঘর ভেঙ্গে ফেলে ৷ আমার জানা মতে, ঐ গৃহের পাশে বলিদানের রক্ত
চিহ্ন তখনও তার স্মৃতি বহন করছে ৷

নবী কৰীম (সা) থেকে বর্ণিতঃ ণ্াঠু ৷দ্বু ৰুাট্রুদ্ব৷ হুট্রু£ ৮ প্রুছু: ১৷ তােমরা তুব্বাকে
পালি দিও না, কারণ তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৷ এ ভ্রচাফসীরগ্নন্থে এ হাদীসটির ব্যাখ্যার
আমরা উল্লেখ করেছি যে, সুহায়লী বলেছেন, বর্ণনাকা রী না যায় হ ম্মাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে
এবং তিনি হযরত আবু হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলাল্লাহ (সা ) বলেছেন :

তোমরা আসআদ হিমইয়ারীকে পালি দিও না ৷ কারণ, তিনি সর্বপ্রথম কাব৷ শরীফে গিলাফ
চড়ান ৷

সুহায়লী বলেন, যাজকদ্বয় যখন তুব্বাকে রাসুলুল্লাহ (সা) সম্পর্কে অবহিত করলেন, তখন
তিনি কবিতার ছন্দে বলেন :

সাক্ষ্য দিচ্ছি আমি আসআদ-সৃষ্টিকর্তার রাসুল আহমদ (সা )

৩৩দিন যদি বেচে থা ৷কতাম, তার উজীর ও না ৷থী হতাম ৷
তরবারী দিয়ে শায়েস্তা করতাম, যতই হতো শত্রু তার
দুর করতাম দুঃখ যত জন্ম নিত বক্ষে তার ৷

বর্ণনাকাবী বলেন, বংশানুক্রমে এ কবিতা আনসারদের মধ্যে সুরক্ষিত ছিল ৷ তারা যতু
সহকারে এটি সংরক্ষণ করতেন ৷ সর্বশেষ প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু আইয়ুব আনসারী
(রা)-এর নিকট এটি সংরক্ষিত ছিল ৷

সুহায়লী বলেন, ইবন আবিদ দুনিয়া র্তার কিতাবুল কুবুরে উল্লেখ করেছেন যে, সানাআ
অঞ্চলে একটি কবর খননের পর তাতে দু’জন মহিলার লাশ পাওয়া যায় ৷৩ তাদের সাথে ছিল
একখণ্ড বৌপ্যলিপি ৷৩ তাতে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত ছিল এ হল তুব্বার দুই কন্যা লামীস ও হিব্বার
কবর ৷ তারা সাক্ষ্য দিত যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনি একক তার কোন
শরীক নেই, এ বিশ্বাস সহকারে তাদের মৃত্যু হয়েছে ৷ তাদের পুর্ববর্তী নেককার লেড়াকগণ এ
বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৷

অতঃপর রাজতু এল তুব্বান আসআদের পুত্র হাস্সানের হাতে ৷ তিনি ছিলেন ইয়ামামা-ই
যুরাকা-এর ভাই ৷ জাও নগরীর প্রবেশ পথে ইয়ামামাকে শুলিতে চড়ানাে হয়েছিল ৷ সেদিন
থেকে শহরটির নাম পড়ে যায় আল-ইয়ামামা ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আবু করার তুব্বান আসআদের পুত্র হাসসান সিংহাসনে বসে
ইয়ামানের অধিবাসীদেরকে নিয়ে আরব ও অনারব ভুমি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ৷ ইরাক
পৌছে হিমইয়ার ও ইয়ামানের কতক গোত্র তার সাথে যেতে তন্সেম্মতি জানায় ৷ তারা স্বদেশে
নিজেদের পরিবারের নিকট ফিরে যেতে চাইল ৷ আমর নামে তার এক ভাইয়ের নিকট তার
নিজেদের ইচ্ছা জন ল ৷ সে কাফেলার সাথে ছিল ৷ তারা আমরকে বলল, আপনি আপনার ভাই
হাস্সানকে হত্যা করুন তাহলে আমরা আপনাকে রাজা বানাব ৷ আপনি আমাদেরকে নিয়ে
স্বদেশে ফিরে যাবেন ৷ সে তাদের আহবানে সাড়া দিল ৷ য়ু-রুআইন জনৈক হিমইয়াবী ছাড়া
তারা সবাই এ ষড়যম্ভে একমত হল ৷ সে য়ু-রুআইন আমরকে অপকর্মে বাধা দিয়েছিল যে তা
শোনেনি ৷ তখন সে আমরের উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লিখল ৷ তাতে নিম্নোক্ত পংক্তি দুটো
লিখিত ছিল ৷

চিদ্রা দিয়ে বিনিদ্র৷ কিনে কো নজন; ভ ৷স্বা৷বান সেইজন প্ৰশান্ত রজনী যে করে যাপন ৷
করেছে হিমইয়ারী গোত্র বিশ্বাসভঙ্গ ও পাদ্দারী
প্রকাশ করে ঘু-রুআঈন তার ব্যক্তিগত রেজারী ৷

তারপর চিরকুটটি সে আমরের নিকট জমা রাখল ৷ আপন ভাই হাসৃসানকে হত্যা করে
আমর দেশে ফেরার পর থেকে তার আর ঘুম হয় না ৷ রাতের পর রাত সে বিনিদ্র রজনী যাপন
করতে থাকে ৷ ডাক্তার, কবিরাজ, জোাতিষী-গণক এবং রেখাবিশেষজ্ঞদের নিকট যে এর কারণ
জানতে চাইল ৷ তাকে বলা হল যে, আল্লাহর কলম, কেউ যদি তার ভাই কিৎব৷ কোন ঘনিষ্ঠ
আত্মীয়কে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, তবে তা যে ঘুম হারাম হয়ে যায় এবং অনিদ্র৷ তার নিত্য সাথী
হয় ৷ যারা আমরকে ভ্রাতৃ হত্যার ইন্ধন যুপিয়েছিল, এবার সে একে একে তাদেরকে হত্যা
করতে শুরু করলো ৷ য়ু-রুআইনের পালা আসলে সে বলল, আপনার কাছে আমার একটি
মুক্তিসনদ আছে ৷ আমর বলল সেটি কি? য়ু রুআইন বলল, আপনাকে আমি যে চিরকুটটি
দিয়েছিলাম তা ৷ সে চিরকুটটি বের করল ৷ খুলে দেখল তাতে উক্ত পংক্তি লিখিত রয়েছে ৷
তখন সে য়ু-রুআইনকে মুক্তি দিল এবং আমর উপলব্ধি করতে পারল যে, য়ু-রুআইন তাকে
যথার্থ উপদেশ দিয়েছিল ৷ অবশেষে আমরের মৃত্যু হয় এবং হিমইয়ারীদের মধ্যে অনৈক্য১ ,
বিশৃত্খলা ও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়ে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ৷

লাখনীআ হ ঘুশানাতির এর ইয়ামান আএ মণ

উপরোক্ত রাজা ২৭ বছর সেখানে রাজতৃ করেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, এরপর হিমইয়ার
গোত্রের এক ব্যক্তি ইয়ামানীদের উপর আক্রমণ চালায় ৷ সে মুলত রাজবংশীয় ছিলেন তার নাম
ছিল লাখনী আহ ইয়ানুফযু শানাতির ৷ ইয়ামড়ানের সন্ত্রাস্ত সােকদেরকে সে হত্যা করে এবং রাজ
পরিবারের অন্তঃপুরবাসীদেরকে নিয়ে রস কৌতুক করে ৷ তার সাথে ছিল একজন অসৎ লোক ৷

সে ছিল লুত সম্প্রদায়ের অপকর্য সমকামি৩ ৷য় অভ্যস্ত ৷ সে রাজ পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্ক
বালকদেরকে তুলে আনতে নির্দেশ দিত ৷ পরে ঐ ছেলেকে নিষ্কে ঘৃণিত সমকামিতা ৷সস্পাদনের
জন্যে নির্মিত একটি কক্ষে গিয়ে৩ তার অসদৃদ্দেশ্য চবি৩ ৷র্থ কর৩ ৷ যাতে রাজ পরিবারের কেউ
পরবত্মীত রাজা হতে না পারে ৷ অপকর্য €শ্ ৷ষে নিজের মুখে একটি দা তন গুজে দিয়ে সে তার
প্রহরী ও উপস্থিত সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে দেখত, তখন ত ৷য়৷ বুঝে নিত যে, সে তার অপকর্য
শেষ করেছে ৷ শেষ পর্যন্ত যে লোক পাঠায় হাসৃসানের ভাই যুরআ ঘুনুওয়াস ইবন তুব্বান
আসআদকে ধরে নিতে ৷ তার ভাই হাসৃসান যখন নিহত হয় তখন সে ছিল ছোট্ট শিশু
পরবর্তীতে সে সুদর্শন, রুপবান ও ব্যক্তিতু সম্পন্ন যুবক হিসেবে বেড়ে উঠে ৷ পাপাচারী
লোকটির প্রতিনিধিকে দেখে যে ঐ ব্যক্তির কুমতলব আচ করতে পারে ৷ সে তখন পাতলা,
নতুন ও সুতীক্ষ্ণ একটি ছবি তার দু’পায়ের মাঝখানে জুভোর ভেতর লুকিয়ে রাখে এবং
পাপাচারীর নিকট উপস্থিত হয় ৷ এক সময় উভয়ে নিজন কক্ষে পৌছায় পর সে যুনুওয়াসকে
সাপটে ধরে ৷ সাথে সাথে যু নুওয়৷ স৩ তার লুকিয়ে রাখা ছবি নিয়ে তার উপর বাপিয়ে পড়ে এবং
আঘাতে আঘাতে তাকে হত্যা করে ৷ তারপর তার মাথা ণ্কটে ;নয়ে সেই বাতায়নে রাখে যেখান
দিয়ে সে বাহিরে তাকাত ৷ তার মুখের মধ্যে পুজে দেয় তার র্দাতন ৷ অতঃপর লোকজনের
নিকট বেরিয়ে আসে ৷

লোকজন বলল, হে যু নুওয়াস, ব্যাপার কি? তাজা না শুকনো; সে বলে ওকে জিজ্ঞেস
কর, কোন অসুবিধা ৷নেই ৷ তখন৩ ৷রা ঐ বাতায়নের দিকে ত কায তারা লাখনী আহ্ এর
কর্তিত মুণ্ড দেখতে পায় ৷ এরপর য়ু-নুওয়াসের খোজে তারা বের হয় ৷ শেষে তারা তাকে খুজে
পড়ায় ৷ য়ু-নুওয়াসকে আর বরুল আপনিই আমাদের রাজা হওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি ৷ আপনিই সক্ষম
হয়েছেন আমাদেরকে এই ঘৃণ্য ব্যক্তি কবল থেকে উদ্ধার করতে ৷

তঃপর য়ু নুওয়াস তাদের রাজা হন ৷ হিমাইয়ারীদের সকল লোক এবং ইয়ামানী সকল

গোত্রঅ তার নেতৃত্ব মেনে নেয় ৷ সে সর্বশেষ হিমইয়৷ রী রাজা ৷৩ তাকে ইউসুফ নামে অতি ত করা

হয় ৷ দীর্ঘক ল তিনি ওখানে রাজতৃ করেন ৷ হযরত ঈসা (আ ) এর দীন অনুসারী আসমানী

কিতাব ইঞ্জিল আমলকারী ক৩ ক লোক তখন নাজরানে বসবাস করছিল ৷ তাদের জনৈক
ধর্মগুরু ছিল ৷ তার নাম আব্দুল্লাহ ইবন ছামুর ৷

অতঃপর ইবন ইসহাক (র) নাজরানবাসীগণ কিভাবে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করল, তার বর্ণনা
দেন ৷ তারা “ফাইমিউন নামের জনৈক খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী লোকের হাতে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করে ৷
তিনি একজন নিষ্ঠাবান ইবাদতকারী লোক ছিলেন ৷ সিরিয়ার কোন এক এলাকায় ছিল তার
আস্তানা ৷ তার দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হত ৷ সালিহ নামে এক লোক তার সাথী হয় ৷ রবিবারে
দু ’জনে ইৰাদতে মশগুল থাকতেন ৷ সপ্তা ৷হের অবশিষ্ট দিনগুলোতে ফাইমিউন নিজ ঘরের মধ্যে
আমল করতেন ৷ রোপী ও বিপদগ্রস্ত লোকদের জন্যে তিনি দোয়া করতেন ৷ তার দােয়ার
বরকতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সুস্থ ও বিপদ মুক্ত হত ৷

একদিন এক বেদুইন তাদের দু’জনকে বন্দী করে নিয়ে যায় এবং নাজরান প্রদেশে নিয়ে
তাদেরকে বিক্রি করে দেয় ৷ যে ব্যক্তি ফাইমিউনকে খরিদ করেছিল যে লক্ষ্য করে যে

ফাইমিউন যে ঘরে নামায আদায় করে তার রাত্রিকালীন নামাযের সময় সমগ্র ঘর ণ্জা৷তিতে
জ্যোতির্ময় হয়ে উঠে ৷ এতে সে অবাক হয় ৷ সে যুগে নাজরানের লোকজন একটি সুদীর্ঘ খেজুর
গাছের পুজা করত ৷ মহিলাদের গহনা-পত্র এসে তারা ঐ গাছে ঝুলিয়ে দিত এবং ওখানে
অবস্থান করতো ৷

একদিন ফাইমিউন তার মালিককে বলেন, আমি যদি আল্লাহ তা আলার দরবারে এই গাছটি
ধ্বংসের জন্যে দোয়া করি এবং এটি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে কি আপনারা একথা মেনে নিবেন

যে, আপনারা যে মতবাদ পোষণ করেন তা বাতিল? মালিক বলল, অবশ্যই আমরা তা মেনে
নিব ৷

অতঃপর সে নাজরানবাসীদেবকে ফাইমিউনের নিকট একত্রিত করে ৷ ফাইমিউন নামায়ে
দীড়ান এবং খেজুর বৃক্ষ ধ্বংসের জন্যে আল্লাহর নিকট দােয়৷ করেন ৷ আল্লাহ্ তাআলা প্রচণ্ড
ঝড় প্রেরণ করেন ৷ প্রচণ্ড ঝঞা এসে গাছটি উপড়ে ফেলে দাে৷ ৷ এই প্রেক্ষিতে নাজরানের
অধিবাসীগণ থ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয় এবং তিনি তাদেরকে আসন্নী কিতাব ইনজীল ভিত্তিক
শরীয়ত পালনে উৎসাহিত করেন ৷ এভাবেই তারা খ্রিষ্টধর্ম পালন করে আসছিল ৷ অবশেষে
বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্ট ধর্মে যে আনাচার প্রবেশ করে তাদের ক্ষেত্রেও তাই হয় ৷ উপরোক্ত প্রেক্ষাপটেই
আরব অঞ্চল নাজরানে খ্রিস্ট ধর্মের সুত্রপাত হয় ৷

এরপর ইবন ইসহাক (র) ফাইমিউনের হাতে ৩আন্দুল্লাহ্ ইবন ছামুরের খ্রিষ্টধর্য গ্রহণ এবং
ফাইমিউন ও তার অনুসারীদেরকে অপ্লিকুপে নিক্ষেপ করে রাজা ঘু নুওয়াস কিভাবে হত্যা করে
এসব বিবরণ উল্লেখ করেছেন ৷

ইবন হিশাম বলেন, ওদের জন্যে যে অগ্নিকুপ খনন করা হয়েছিল সেটি ছিল আয়তকার
গর্তের ন্যায় ৷ ঐ গর্ভে আগুন জ্বালানাে হয়েছিল এবং ওদেরকে ঐ আগুনে পুড়িয়ে মারা হয় ৷
অবশিষ্ট লোকদেরকে হত্যা করা হয় ৷ তখন প্রায় বিশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল ৷
ইসরাঈলীদের ঘটনা প্ৰসংগে আমরা তা উল্লেখ করেছি ৷ আমাদের তাফসীর গ্রন্থে সুরা বুরুজেও
তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে ৷ সকল প্রশংসা আল্লাহর ৷

ইয়ামানের রাজত্ব হিময়ার গোত্র থেকে সুদানী হাবশীদের
করলে আসা প্রসঙ্গ

পুর্বোল্লেখিত দুই ৫জ্যাতিষী শাক এবং সাভীহ যেমন বলেছিলেন তা ই ঘটলো ৷ বন্তুত
ঘু-নাওয়াসের আক্রমণে সকল নাজরানবাসী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ৷ মাত্র একজন লোক প্রাণে
বেচেছিল ৷ তা ৷র নাম দা ওস ঘুছ লা৷বা ন ৷ সে ছিল ঘোড়সওয়ার বালুকাময় রাস্তায় ঘোড়া ছুটিয়ে
সে পালিয়ে যায় ৷ শত্রুগণ তাকে ধরতে ব্যর্থ হয় ৷ সে ছুটতে ছুটতে রোমান সম্রাট কায়সারের
দরবড়ারেল্ গিয়ে উপস্থিত হয় ৷ ঘু নুওয়াস ও তার সৈন্যদের বিরুদ্ধে সে তার কাছে সাহায্য কামনা
করে এবংত তাদের অত্যাচার নির্যাতনের বিবরণ প্রদান করে ৷

কায়সার ছিলেন তাদের মতই থ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী তিনি বললেন, আমার এখান থেকে তোমার
দেশ তো অনেক দুরে ৷ আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি আবিসিনিয়ার রাজাকে তোমাকে সাহায্য করার

জন্যে লিখে দিচ্ছি ৷ সেও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী এবং তার রাজ্য তোমার রাজ্যের কাছাকাছি ৷ অতঃপর
তিনি আবিসিনীয় রাজাকে দাওসকে সাহায্য করতে ঘু-নুওয়াসের অত্যাচারের প্ৰতিশোধ নিতে
নির্দেশ দিলেন ৷ রোমান সম্রাটের পত্র নিয়ে নাজাসীর নিকট উপস্থিত হলো ৷ তিনি তাকে সাহায্য
করার জন্যে ৭০,০০০ হাবশী সৈন্য প্রেরণ করলেন এবং আরয়াত নামের এক ব্যক্তিকে
সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত করলেন ৷ সেনাপতি সৈন্যদলের মধ্যে অবরাহ৷ আশরামও ছিল ৷ সেনাপতি
আরয়াত তার সেনাবাহিনী নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইয়ামানের সমুদ্রতীরে ঘীটি স্থাপন করে ৷

দাওস তার সাথেই ছিল ৷ ওদিক থেকে হিময়াবী (লাকজন ও ইয়ামানের অনুগত গোত্রগুলাে
নিয়ে মুক৷ ৷বিল৷ করা র জন্যে এগিয়ে আসে অত ব্রাচারী রাজা ঘু নুওয়াস ৷ উভয় পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ
হয় ৷ অবশেষে য়ু-নুওয়াস ও তার সৈন্যগণ পরাজিত হয় ৷

স্বপক্ষীয় সৈন্যদের এ শোচনীয় পরিণতি দেখে য়ু নুওয়াস সমুদ্রের দিকে তার ঘোড়া ইাকায়
এবং ঘোড়া কে চা বুক ৷ঘাত করে৩ তীব্র গতিতে এসে সমুদ্রে বা৷ ৷প দেয় ৷ সমুদ্রের খর স্রোত তাকে
তলদেশে ডুবিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এভাবেত তার মৃত্যু হয় ৷ সেনাপতি আরয়াত বিজয়ীবেশে
ইয়ামান প্রবেশ করে এবং রাজ্যত তর অধিকারী হয় ৷ স ন্া৷ময়িককালে স০ ঘটিত এসব
আশ্চর্যজনক ঘটনা সম্পর্কে রচিত আরবদের কতক কবিতা ইবন ইসহাক এ প্রসং গে উল্লেখ
করেছেন ৷ এগুলো যেমন বিশুদ্ধ ও অলংকার সমৃদ্ধ, তেমনি শ্রুতিমধুর ৷ আলোচনা দীর্ঘ হয়ে
যাবে এবং পাঠকগণ বিরক্তি বোধ করবেন এ আশংকায় আমরা সেগুলো উল্লেখ থেকে বিরত
বইলাম ৷

আরয়াতের বিরুদ্ধে আররাহ৷ অড়াশরামের বিদ্রোহ

ইবন ইসহাক বলেন, আরয়াত বেশ কয়েক বছর ইয়ামানে একচ্ছত্রভাবে রাজতৃ করে ৷
তারপর তার অধীনস্থ সৈনিক আবরাহাত তার বিরুদ্ধে বিদ্রে৷ ৷হ করে ৷ হাবশী সৈনিকগণ অতঃপর
দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ৷ একদল আবরাহার পেছনে এবং অপর দল আবিয়াতের পেছনে
সমবেত হয় ৷ উভয় পক্ষ যুদ্ধের জন্যে অগ্রসর হয় ৷ উভয় দল যখন প্রায় মুখোমুখি তখন
আবরাহা এই বলে আরয়াত কে চিঠি লিখে যে, হাবশীদের এক দলকে অপর দলের বিরুদ্ধে
লেলিয়ে দিয়ে এবং যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে ক্রমান্বয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়৷ আপনার জন্যে
সমীচীন নয় ৷ বরং এক কাজ করুন ৷ আমরা দু’জনে দ্বন্দুযুদ্ধে অবতীর্ণ হই ৷ আমাদের মধ্যে যে
জয়ী হয়ে হাবশী সৈন্যরা তার প্ৰতি ৩আনুগতা প্রকাশ করবে ৷ উত্তরে আরয়াত বলে যে, তুমি
সঙ্গত কথা ৷ই বলেছ ৷ এরপর আবরাহ৷ যুদ্ধের ময়দানে বেরিয়ে আসে ৷ সে ছিল একজন খাটো
হৃষ্টপুষ্ট ও খ্রিষ্ট ধর্মানুসারী ব্যক্তি ৷ তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে এল আরয়াত ৷ সে ছিল সুদর্শন, দীর্ঘাঙ্গী
ও মোটা মানুষ ৷ তার হাতে ছিল একটি বর্শা ৷ আবরাহার পেছনে আতুদ৷ নামে এক যুবক ছিল
সে আবরাহার পেছনে দিক পাহারা দিত ৷ আরয়াত তার বর্শা নিক্ষেপ করে আবরাহার মাথার
খুলি লক্ষ্য করে ৷ সেটি গিয়ে পড়ে তার কপালে ৷ কেটে কেটে ক্ষতবিক্ষত হয় তার ভ্রা, চোখ,
নাক ও ঠোট ৷ এজন্যেই৩ ৷ ৷র আবরাহ৷ আশরাম তথা ঠে ট কাটা আবরাহ৷ নাম পড়ে যায় ৷

আবরাহার পশ্চাত দিক থেকে তার প্রহরী আতুদ৷ আরয়াতের উপর আক্রমণ চালায় এবং
তাকে হত্যা করে ৷ ফলে আরয়াতের অনুগামী সৈন্যরা আবরাহার দলে যোগ দেয় ৷ ইয়ামানে

সকল হাবশী সৈন্য আবরাহার নেতৃত্বে ঐক্যৰদ্ধ হয় এবং আবরাহা আরয়াতের স্থলাভিষিক্ত হয় ৷
আবিসিনিয়ার রাজা নড়াজাশীর দরবারে এই সংবাদ পৌছে ৷ তিনি আবরহার উপর ভীষণ ক্ষুদ্ধ
হয় ৷ তিনি বলেন, “সে আমার নিযুক্ত সেনাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং আমার অনুমতি
ব্যতীত তাকে হত্যা করেছে ! তিনি শপথ করলেন যে, আররহোর রজে’া পদানত না করে এবং
তার মাথা ন্যাড়া না করে তিনি তাকে ছাড়বেন না ৷ নাজাশীর এই ক্রুদ্ধ মন্তব্য ও শপথের সংবাদ
পৌছে যায় আবরাহার নিকট ৷ সে নিজে তার মাথা ন্যাড়া করে ফেলে এবং এক থলে ভর্তি
ইয়ামানের মাটি নেয় ৷ তারপর তা নাজাশীর নিকট প্রেরণ করে ৷ সাথে এ মর্মে চিঠি লিখে যে,
মহারাজা সেনাপতি আরয়ড়াত আপনার আজ্ঞাবহ ছিল ৷ আমিও আপনার আজ্ঞাবহ ৷ আপনার
নির্দেশ শাসন করতে গিয়ে আমাদ্দের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় ৷ উভয়ের কর্ম তৎপরতা ছিল
আপনার প্ৰতি আনুগত্য নির্ভর ৷ তবে এখানকার হাবশীদের নেতৃত্বের জন্যে আমি তার চেয়ে
অধিকতর শক্তিশালী উপযুক্ত ও দক্ষ ৷

মহারাজের শপথের কথা শুনে আমি নিজে আমার মাথা ন্যাড়ৰু করে ফেলেছি এবং আমার
রাজ্যের এক থণে মাটি রাজদরৰারে প্রেরণ করেছি, যাতে তা আপনার পদতলে রাখতে
পারেন ৷ তাহলে আমার সম্বন্ধে মহারাজ যে শপথ করেছেন যে শপথ পুর্ণ হবে ৷

পত্রটি পেয়ে নাজ্জাশী আবরাহার প্রতি সন্তুষ্ট হন ৷ তিনি তার নিকট লিখে পাঠান যে, আমার
পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্বত তুমি ইয়ামান রাজ্যে রাজত্ব করে যাও ৷ এভাবে আরবাহা ইয়ামানের
শাসন ক্ষমতার অধিষ্ঠিত হয় ৷

কাৰা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে মক্কায় আবরাহার হাতি বাহিনী প্রেরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন :

“তুমি কি ৫দথনি, তোমার প্ৰতিপালক হড়াতিওয়ড়ালাদের প্রতি কী করেছিলেনঃ তিনি কি
ওদের কৌশল ব্যর্থ করে দেননিঃ ওদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাকে ঝাকে পাখি প্রেরণ করেন ৷
সেগুলো ওদের উপর পাথুরে কংকর নিক্ষেপ করে ৷ অতঃপর তিনি ওদেরকে তক্ষিত খড়ের মত
করেন

কথিত আছে যে , যাহ্হাকের হত্যাকায়ী আফরীদুন ইবন আছফিয়ান সর্বপ্রথম হাতিকে পােষ
মানিয়েছিলেন ৷ তাবারী (র) এরুপ বলেছেন ৷ ঘোড়ার পিঠে র্জীনও তিনিই প্রবর্তন করেন ৷
অবশ্য সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি ঘোড়াকে পােষ মানায় এবং ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় সে হল ফাতহা
মুরছ ৷ তিনি গোটা পৃথিবীতে রাজতুকারী তৃতীয় সম্রাট ৷ কারো কারো মতে, যে সর্বপ্রথম
ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর পুত্র ইসমাঈল (আ) ৷ এর ব্যাখ্যা
এমনও হতে পারে যে , আরবদের মধ্যে সর্বপ্রথম ঘোড়ার পিঠে আরোহণকারী ছিলেন ৷ হযরত
ইসমাঈল (আ) ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷

কথিত আছে যে, হাতি বিশাল দেহী জভু হওয়া সত্বেও বিড়াল দেখে ভড়কে যায় ৷
ভারতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে কতক সেনাপতি যুদ্ধের ময়দানে বিড়াল উপস্থিত
করেন ৷ প্রচণ্ড যুদ্ধের সময় বিড়াল দেয়া হলে সেগুলোর ভয়ে হাতি বাহিনী ময়দান ছেড়ে
পালিয়ে যায় ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, অতঃপর আবরাহা সানআ নগরীতে কুলায়স নামে একটি গীর্জা
নির্মাণ করে ৷ ঐ যুগে এমন উন্নতমানের প্রাসাদ দ্বিতীয়টি ছিল না ৷ সে নাজ্জাশীর নিকট এ মর্মে
পত্র লিখে যে, আপনার জন্যে আমি একটি গীর্জা নির্মাণ করেছি ৷ আপনার পুর্বে কোন রজাের
জন্যে এমন প্রাসাদ নির্মিত হয়নি ৷ আরবদের হজ্জ এখানে স্থানান্তরিত না করা পর্যন্ত আমি ক্ষাম্ভ
হয় না ৷

সুহায়লী বলেন, এই ঘৃণ্য উপাসনালয় নির্মাপ করতে গিয়ে আবরাহা ইয়ামানের
অধিবাসীদেরকে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করেছে ৷ কেউ সুার্ঘদয়ের পুর্ব থেকে কাজ শুরু না করলে
সে তার হাত কেটে ফেলত ৷ বিলকীসের শাহী প্রাসাদ :’-রুকে শ্বেত পাথর, মর্মর ও অন্যান্য
অমুল্য রত্যুবলী খুলে এনে ঐ গীর্জায় সংযোজন করে ৷ তার মিম্বার ছিল পজদণ্ড ও আবলুস কাঠে
তৈরী ৷ এর ছাদ ছিল অনেক উচু আয়তন, বিশাল বিন্তুত ৷

আবরাহা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর হড়াবশীগণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ৷ এরপর
কোন ব্যক্তি ঐ গীর্জার আসবাব পত্র কিৎবা ঘর দরজা খুলে নিতে চাইলে সে জিনদের
আক্রমণের শিকার হত ৷ কারণ ঐ পীর্জা নির্মিত হয়েছিল দৃ’টো প্ৰতিমার নামে ৷ প্ৰতিমাণ দুটি
ছিল আয়ব ও তার ত্রীর ৷ এ দুটো প্ৰতিমড়ার প্রত্যেকটির উচ্চতা ছিল ৬০ গজ করে ৷ অতঃপর
ইয়ামানবাসিগণ পীর্জাটিকে ঐ অবস্থায় রেখে দেয় ৷ প্রথম আব্বাসী খলীফা সাফ্ফাহ্র এর
সময় পর্যন্ত সেটি ঐ অবন্থায়ই ছিল ৷ সাফ্ফাহ একদল সাহসী, বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী গুণী লোক
পাঠালেন ৷ তারা একে একে সকল পাথর খুলে নিয়ে সেটি ভেঙ্গে ফেলেন ৷ অতঃপর তা’
নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, নাজাশীর প্রতি প্রেরিত আবরাহার পত্র সম্পর্কে আরবদের মধ্যে
আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় ৷ কিনানা গোত্রের জনৈক লোক একথা শুনে ভীষণভাবে ক্ষেপে
যায় ৷ যারা যুদ্ধ নিষিদ্ধ মাসগুলােকে যুদ্ধ সিদ্ধ মাসের দিকে ঠেলে দিতে এসেছিল, যে ঐ
দলভুক্ত এই যে, মাসকে পিছিয়ে দেয়া কেবল কুফরীই
বৃদ্ধি করে ’ (৯ তওবর্ট ৩ ৭ ) উক্ত আঘাতের ব্যখ্যিড়ায় আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি ৷ ইবন
ইসহাক (র) বলেন, অতঃপর কিনান বংশীয় ল্যেকটি পথে বের হয় ৷ সে এসে পৌছে
উপরোক্ত কুলায়স গীর্জায় ৷ যে সকলের আগােচরে গীর্জার ভেতরে মলত্যাগ করে ৷ এরপর বের
হয়ে সে নিজ দেশে ফিরে আসে ৷ এ সংবাদ আবরাহার কানে পৌছে ৷ কে এই অঘটন
ঘটিয়েছে সে জানতে চায় ৷ তাকে জানানো হয় যে, মক্কায় অবস্থিত কাব৷ গৃহের যারা হজ্জ করে
তাদের একজন এ কর্মটি করেছে ৷ আপনি আরবদের হজ্জাক ঐ ঘর থেকে ফিরিয়ে এ ঘরের
দিকে আসবেন শুনে সে রেগে এমনটি করেছে ৷ সে বুঝতে পেয়েছে যে, এ ঘরটি হজ্জ করার
উপযুক্ত নয় ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) : ২-

এ কথা শুনে আবরাহা ক্রোধে ফেটে পড়ে ৷ সে শপথ করে, মক্কা গিয়ে কা“বা গৃহ ধ্বংস
করবেই ৷ সে হাবশীদেরকে মক্কা পমনে প্রন্তুতির নির্দেশ দেয় ৷ হাতি বাহিনীসহ সে সদল বলে
মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করে ৷ আরবগণ তার অগ্ৰাভিযান সম্পর্কে অবগত হয় ৷ তারা এটিকে
ভয়ানক বিপদ মনে করে এবং তাতে বিচলিত হয়ে পড়ে ৷ আল্লাহর সম্মানিত ঘর কারা শরীফ
ধ্বংসের কথা শুনে তারা আবরাহার বিরুদ্ধে জিহাদ করা অনিবার্য জ্ঞান করে ৷

ইতিমধ্যে ইয়ামানবাসী রাজবংশীয় ও সন্থান্ত একলোক মক্কায় আগমন করে ৷ তার নাম ছিল
যুনর ৷ সে তার সম্প্রদায় ও আরবদেরকে আবরাহায় বিরুদ্ধে জিহড়াদে অংশ গ্রহণের আহবান
জানায় ৷ কারণ সে আল্লাহ্র ঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে ৷ যারা সাড়া দেবার তারা তার
তাকে সাড়া দেয় ৷ তারা আবরাহায় সম্মুখে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যায় ৷ যু-নফর
ও তার সাথীগণ পরাজিত হয় ৷ বন্দী অবস্থায় যু-নফরকে নেয়া হয় আবরাহার নিকট ৷ আবরাহা
যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হয় তখন সে বলে , “ মহারাজা আমাকে হত্যা করবেন না ৷
আমাকে হত্যা করার চেয়ে আমাকে জীবিত রাখা হযরত আপনার জানা অধিক কল্যাণকর
হবে ৷ ফলে সে হত্যা থেকে রেহাই পায় এবং কারারুর্দ্ধ থাকে ৷ আবরন্হব্লু ছিল অত্যন্ত ধৈর্যশীল
লোক ৷ অতঃপর সে তার উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষেদ্র সম্মুখে অগ্রসর হয় ৷ খাছআম এলাকায়
পৌছে সে বাধাপ্রাপ্ত হয় ৷ শাহরান ও নড়াহিস গোত্রদ্বয় এবং অনৃপামী আরবদেরকে নিয়ে তার
নুফারল ইবন হাবীব খাছআমী তার গতিরোধ করে ৷ সেখানে যুদ্ধ হয় ৷ আবরাহা তাকে
পরাজিত করে ৷ বন্দী অবস্থায় তাকে আবরাহার নিকট নিয়ে আসা হয় ৷ আবরাহা যখন তাকে
হত্যা করতে উদকুত হয় তখন সে বলে, “মহারাজা আমাকে হত্যা করবেন না ৷ আমি আপনাকে
আরবের পখগুলো চিনিয়ে দিব ৷ আপনার প্ৰতি আমার থাছআমী শাহরান ও নাহিস গোত্র
দ্বয়-এর আনুগত্যের প্রতীকরুপে এই আমি আমার দু’হাত আপনার সযীপে নিবেদন করছি ৷
রাজা তাকে মুক্তি দেয় এবং সে রাজাকে আরবের পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায় ৷ তায়েফ
পৌছলে ছাকীফ গোত্রের একদল লোক নিয়ে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়, মাসউদ ইবন মুতাব
(ইবন মালিক কবি ইবন আমর ইবন সাদ ইবন আওফ ইবন ছাকীফ ) তারা বলে মহারাজ
আমরা আপনার গোলাম ৷ আপনার নির্দেশ পালনকড়ারী ও আনুগত্য প্রদর্শনকারী আমরা আপনার
বিরোধিতা করব না ৷

আপনি যে উপাসনালয় ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন সেটি আমাদের উপাসনালয় নয় ৷
অর্থাৎ সেটি লাত দেবীর উপাসনালয় নয় ৷ আপনি যাচ্ছেন মক্কায় অবস্থিত উপাসনালয় ধ্বংসের
উদ্দেশে ৷ আপনাকে ঐ উপাসনালয়ের পথ দেখড়াবার লোক আমরা আপনার সাথে দিচ্ছি ৷
অতঃপর সে তাদেরকে অতিক্রম করে এগিয়ে যায় ৷ ইবন ইসহাক বলেন, লাত হল তায়েফে
অবস্থিত তাদের একটি উপাসনালয় ৷ তারা সেটিকে কাবাকে সম্মান করার ন্যায়ই সম্মান করত ৷
ইবন ইসহড়াক বলেন, অতঃপর তারা কা’বারই পথ দেখিয়ে দেয়ার জন্যে আবু রেগালকে তার
সাথে প্রেরণ করে ৷ আবু রেগালসহ আবরাহা বাহিনী সম্মুখের দিকে অগ্রসর হয়ে মাগমাস
নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করে ৷ সেখানে আবু রেপালের মৃত্যু হয় ৷

আরবগণ আবু রেপালের কবরে পাথর ছুড়ে ৷ মাগমাসে যে কবরে পাথর নিক্ষেপ করা হয়
সেটি এই আবু রেপালের কবর ৷ ইতিপুর্বে ছামুদ সম্প্রদায়ের আলোচনায় এসেছে যে, আবু
রেগাল তাদের সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল ৷ সে হারাম শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করে , নিজেকে রক্ষা করত ৷
একদিন সে হারাম শরীফ এলাকা ছেড়ে বের হয় ৷ তখনই একটি পাথর তাকে আঘাত করে
এবং তাতে তার মৃত্যু হয় ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাহাবীদেরকে বলেছেন, “তার নিদর্শন হল
তার সাথে স্বর্ণের দৃ’টো কাঠি দাফন করা হয়েছে ৷ সাহাবীগণ ঐ কবর খনন করেন এবং
সেখানে স্বর্ণের দৃ’টো কাঠি পান ৷ তিনি বলেন, আবু রেপাল ছাকীফ গোত্রের আদি পুরুষ ৷

আমি বলি, এই বর্ণনা ও ইবন ইসহাকের বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা যায় যে,
আবরাহার সাথী আবু রেগাল ছামুদ সম্প্রদায়ের আবু রেগাংলর অধ৪স্তন পুরুষ ৷ আলোচ্য আবু
রেপাল ও তার পুর্বপুরুষ আবু রেপালের নাম অভিন্ন; ৷ উভয় আবু রেপালের কবরেই লোকজন
পাথর ছুড়ে মারভাে ৷ আল্পাহ্ই ভাল জানেন ৷

করি জায়ীর বলেন :

ফরযদকের মৃত্যু পরে তার কবরে পাথর ছুড়ে মড়ারবে ৷

যেমনটি পাথর মেরেছিল আবু রেপালের কবরে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আবরাহা মাগমাসে এসে আসওয়াদ ইবন মড়াকসুদ নামের জনৈক
হাবশী লোককে একদল অশ্বারোহীসহ মক্কায় প্রেরণ করে ৷ তারা মক্কায় আসে এবং
কুরড়ায়শদের তেহামা অঞ্চলে লুটপাট চালায় ৷ তারা সেখানকার কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রের
সমস্ত ধন সম্পদ নিয়ে আবরাহার নিকট পেশ করে ৷ লুষ্ঠিত মালামালের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিব
ইবন হাশিমের ২০০ উট ছিল ৷ তিনি ছিলেন কুরায়শদের দলপতি ৷ এতে কুরায়শ, কিনানা
হুযায়ল এবং হারাম শরীফে অবস্থানকারী অন্যান্য গোত্রের লোকজন আবরাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধে
অবতীর্ণ হওয়ায় সংকল্প করে ৷ পরে তার বিরুদ্ধে বিজয় লাভে সক্ষম হবে না বুঝতে পেরে তারা
এ পরিকল্পনা ত্যাগ করে ৷

এদিকে আবরাহা হিনাতা হিমায়ারী নামের এক লোককে মক্কায় প্রেরণ করে ৷ সে তাকে
বলে যে, তুমি মক্কায় গিয়ে উক্ত নগরীর নগরপত্যিক খুজে বের করবে এবং তাকে বলবে যে,
আমরা আপনাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসিনি ৷ আমরা এসেছি ঐ উপাসনালয়টি ধ্বংস করার
জন্যে ৷ ঐ উপাসনালয় রক্ষাকল্পে আপনারা যদি আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করেন, তবে
আপনাদের রক্তপাত আমাদের প্রয়োজন নেই ৷ তাদের সর্দার আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করতে
সম্মত হলে তাকে আমার নিকট নিয়ে আসবে ৷ হিনাতা মক্কায় এসে সেখানকার নগরপতিকে তা
জিজ্ঞেস করে ৷ তাকে জানানো হয় যে, আব্দুল মুত্তালিব এ নগরপতি ৷ সে আব্দুল মুত্তালিবের
সাথে সাক্ষাত করে এবং আবরাহা বা বলতে নির্দেশ দিয়েছিল তা বলে ৷ তখন আব্দুল মুত্তালিব
বলেন, আল্লাহ্র কসম আমরা আবরাহড়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই না ৷ আমাদের সেই শক্তি
নেই ৷ এটি আল্লাহর সম্মানিত গৃহ এবং আল্লাহর খলীল ইবরাহীম (আ)-এর গৃহ ৷ আব্দুল
মুত্তালিব এটা বা এ মর্মের কোন কথা তিনি বলেছিলেন ৷ আরও বলেন, আল্লাহ যদি আবরড়াহার

হাত থেকে এ গৃহকে রক্ষা করেন, তবে তা তারই সম্মানিত স্থান ও গৃহ আর তিনি যদি
আবরাহাকে তা করতে দেন, তবে আল্লাহর কসম, তাকে বাধা দেয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই ৷

হিনা তা বলল, ঠিক আছে, আপনি আমার সাথে তার নিকট চলুন তিনি আপনাকে নিয়ে
যেতে বলেছেন ৷ হিনতো তার সাথে আব্দুল মুত্তালিব রওয়ানা হলেন ৷ তার কয়েকজন হেলেও তার
সাথে যায় ৷ তিনি আবরাহার সৈন্যবাহিনীর নিকট এসে ওদের কাছে যুনফর আছে কি-না
জানতে চান ৷ যুনফর ছিল আবদুল মুত্তালিবের বন্ধু ৷ অনুমতি নিয়ে আবদুল মুত্তালিব গিয়ে
যুনফরের বন্দীখানায় পৌছেন ৷ তিনি বললেন, যুনফর ! আমাদের উপর যে বিপদ এসেছে, তা
থেকে মুক্তি লাভের কোন পথ তোমার জানা আছে কি? যে বলল রাজার হাতে বন্দী
সকাল-সন্ধ্যড়ায় মৃত্যুর প্রতীক্ষারত একজন মানুষের কী-ই বা করার থাকাত পারে?

আপনাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার কোন ক্ষমতা আমার সেই ৷৩ তবে আনিস নামে
জনৈক ব্যক্তি আছে, সে হস্তি বাহিনীর পরিচালক এবং আমার বন্ধুও বটে ৷ আমি৩ ৷র নিকট
সংবাদ পাঠ৷ ৷ব এবং আপনাকে সাহায্য করার অনুরোধ জানার ৷ তার নিকট আপনার গুরুতৃ তুলে
ধ্রব ৷ আমি তাকে অনুরোধ করব, সে যেন আপনাকে রাজার নিকট নিয়ে যায় ৷ অতঃপর
আপনি সরাসরি রাজ ব সাথে কথা বলবেন ৷ সক্ষম হলে সে রাজার নিকট আপনার জন্যে
সুপারিশ করবে ৷ এটা শুনে আবদুল মুত্তালিব বলেন, এ৩ তটুকুই আমার জন্যে যথেষ্ট ৷ যুনফর
আনীসের নিকট এ বা৩ ৷ নিয়ে লোক পাঠায যে, আবদুল মুত্তালিব কুরায়শ বংশের নেতা এবং
মক্কার যমযম কুপের তত্ত্বাবধানকারী ৷ তিনি সমতলের লোকজন এবং পাহাড়ের পশুদেরকে
আহায দিয়ে থাকেন ৷ রাজা তার ২০ :টি উট ছিনিয়ে এন্যেছন ৷ রাজার সাথে দেখা করার জন্যে
তুমি তাকে অনুমতি নিয়ে দাও এবং যথাসম্ভব তা ৷র উপকার করে৷ ৷ আনীস বলল, ঠিক আছে
আমি তাই করব ৷

আনীস তখন আবরাহার সাথে আলাপ করে ৷ সে বলে, মহারাজা এই কুরায়শ প্রধান
আপনার দ্বারে উপস্থিত ৷ আপনার সাথে দেখা করার অনুমতি চাচ্ছেন ৷ তিনি মক্কার যমযম
কুপের তত্ত্বাবধাযক ৷ তিনি সমতলে লোকজনের এবং পাহাড়ে পশুদের আহার্যের ব্যবস্থা করে
থাকেন ৷ তাকে আপনার নিকট আসার অনুমতি দিন ৷ যাতে তিনি তার সমস্যার কথা আপনাকে
জানাতে পারেন ৷ আবরাহ৷ অনুমতি দিল ৷ আবদুল মৃত্তালিব ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন ও সুপুরুষ ৷

আবরাহ৷ তাকে দেখে তার অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে আচ করতে পারলাে এবং তাকে
যেঝেতে বসতে দিতে কুষ্ঠাবােধ্ করল ৷ অন্যদিকে আবদুল মুত্তালিবকে রাজ সিংহাসনে
বসিয়েছে হাবশীগণ এট৷ দেথুক৩ তাও তার মনপুত ছিল না ৷ ফলে আৰরাহাও তার সিংহাসন
থেকে নেমে বিছানায় বলে এবং আবদুল মুত্তালিবকে পাশে বসায় ৷ তারপর তার দোভাষীকে
বলে , তার সমস্যার কথা পেশ করতে বল ৷ দোভাষী আবদুল মুত্তালিবকে তার কথা পেশ করতে
বললে তিনি বলেন, আমার যে দু’শটি উট রাজার নিকট নিয়ে আসা হয়েছে সেগুলো ফেরত
দেয়া হোক ৷

আবরাহা তার দোভাষীকে বলল, আমার এ বক্তব্য তাকে বল যে, আপনাকে দেখে আমি
খুব খুশী হয়েছিলাম কিন্তু আপনার কথা শুনে আমি হতাশ হয়েছি ৷ হায় ৷ আপনি আমার হাতে
আসা এই সামান্য দু’শোটি উটের কথা বলছেন অথচ আপনার নিজের ধর্মের প্রতীক এবং
আপনার পুর্ব-পুরুষের ধর্মের প্রতীক উপাসনালয়টি সম্পাট্টর্ক কিছুই বললেন না ৷ আমরা তো
সেটি ধ্বংস করতে এসেছি ৷ সেটি সম্পর্কে আপনি কি আমাকে কিছুই বলবেন না? আবদুল
মুত্তালিব বললেন, আমি তো কেবল উটেরই মালিক ৷ ঐ গৃহের একজন মালিক আছেন ৷ তিনিই
সেটি রক্ষা করবেন ৷ আবরাহা বলে, “তিনি তো আমার হাত থেকে সেটি রক্ষা করতে পারবেন
না ৷” আবদুল মুত্তালিব, বলেন, সেটি আপনার ও তার ব্যাপার ৷ তখন আবরাহা আবদুল
মুত্তালিহ্বর উটগুলো ফ্রেরত দিয়ে দেয় ৷

ইবন ইসহাক বলেন, বর্ণিত আছে যে, আবদুল মুত্তালিবের সাথে বনী বকর গোত্রের প্রধান
ইয়ামার ইবন নাকাহু (ইবন আদী ইবন দায়ল ইবন বকর ইবন আবদ মানাত ইবন কিনানাহ্)
এবং হুযায়ল গোত্রের প্রধান কুওয়ালিদ ইবন ওয়াছিলা অববাহার নিকট গিয়েছিলেন ৷ গুহ্বরা
প্রস্তাব করেছিলেন যে, আবরাহা যদি তাদের এখান থেকে চলে যায় এবং আল্লাহর ঘর ধ্বংস না
করে তবে তারা তাকে তিহামাহ্ আঞ্চলের সমগ্র ধন সম্পদের এক তৃতীয়ড়াৎশ দিয়ে দিবেন ৷
আবরাহা তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ৷ মুলত তা কতটুকু সত্য তা আল্লাহ্ই ভাল
জানেন ৷

আবরাহাব দরবার থেকে তাদের প্রত্যাবর্তনের পর আবদুল মুত্তালিব কুরায়শদের নিকট
উপস্থিত হন“ এবং সকল বিষয় তাদেরকে অবহিত করেন ৷ তিনি তাদেরকে মক্কা ছেড়ে পাহাড়ের
উপর নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের নির্দেশ দেন ৷ এরপর আবদুল মুত্তালিব নিজে কুরায়শদের একটি
জামাতকে সাথে নিয়ে কাবা শরীফের দরজার কড়া ধরে দীড়ান এবং আল্লাহ্র নিকট দোয়া
করতে থাকেন ৷ তারা আবরাহা ও তার সৈন্যদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন ৷

কাবা শরীফের দরজা ধরে আবদুল মুত্তালিব বলেন :
“হে আল্লাহ ! বান্দা তার নিজের ঘরের হেফাজত করে সুতরাং আপনি আপনার ঘর রক্ষা
করুন ৷

আগামী সকালে যেন তাদের ক্রুশ চিহ্ন কােনক্রযেই বিজয়ী না হয় ৷ আর আপনার গৃহের
উপর তাদের গৃহ প্রাধান্য না পায় ৷
আর আপনি যদি আমাদের কেবলাকে তাদের হাতে ছেড়েই দেন তরে আপনার মা ইচ্ছা

তাই করুন ৷ ইবন হিশাম বলেন, আবদুল মুত্তালিব এ কবিতাগুলো বলেছিলেন বলে বিশুদ্ধ
সনদে বর্ণিত হয়েছে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, এরপর আবদুল মুত্তালিব কাবা শরীফের দরজার কড়া ছেড়ে দিয়ে
কুরাযশদেরকে নিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় উঠে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং আববাহ৷ ও তার সৈন্যরা কী
করে, তা অবলােকন করতে থাকেন ৷

পরদিন সকালে আবরাহা মক্কা প্রবােশর প্রস্তুতি নেয় ৷ তার হাতি বাহিনীকে সজ্জিত করে
এবং সৈন্যদেরকে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করে ৷ তার হাতির নাম ছিল মাহমুদ ৷ হাতিটিকে মক্কা
অভিমুথী করলে মুহুর্তে নুফায়ল ইবন হাবীব সেখানে উপস্থিত হয় ৷ সে হাতিটির পাশে এসে
দাড়ায় ৷ হাতির কান ধরে সে বলে, হে মাহমুদ! তুমি মাটিতে বসে যাও এবং যেদিক থেকে
এসেছে সোজা সে দিকে ফিরে যাও ৷ কারণ, তুমি আল্লাহ্র সম্মানিত শহশৃর এসেছে ৷ এই বলে
সে হাতিটির কান ছেড়ে দেয় ৷ হাতিটি ভুাটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ে ৷ সুহায়লী বলেন হাতি
মাটিতে পড়ে যায় ৷ কারণ, হাতি ইাটু থেড়ে বসতে পারে না ৷ অবশ্য, কেউ কেউ বলেন যে,
এক প্রজাতির হাতি উটের ন্যায় হাটু গেড়ে বসতে পারে ৷

এ পরিস্থিতিতে নুফায়ল ইবন হাবীব দৌড়ে গিয়ে পাহাড়ে ওচুঠ ৷ আবরাহার সৈন্যরা
হাতিটিকে দাড় করানো জন্যে প্রহার করতে থাকে ৷ হাতি কোন মতেই উঠলাে ৷না, তারা তার
মাথায় কুঠারাঘাত করে ৷ তবুও সে উঠলাে না ৷ এরপর তারা তার চামড়ার বীক৷ আকশি ঢুকিয়ে
দেয় এবং চামড়া ছিড়ে ফেলে তারপরও সে উঠলাে না ৷ তারা এবার ইয়ামানের দিকে তার মুখ
ফিরিয়ে দেয় ৷ ক লবিলম্ব না করে হাতিটি দাড়িয়ে যায় এবং দ্রুত হ টতে শুরু করে ৷ এরপর
তারা তাকে সিরিয়ার দিকে মুখ করে দেয় ৷ যে ঐ দিকে দ্রুত হাটতে থাকে ৷ এরপর তারা
তাকে পুর্বমুথী করে দেয় ৷ সে একইভাবে দ্রুত সেদিকে হাটতে থাকে ৷ এবার তারা পুনরায়
তাকে মক্কা অভিমুথী করে দেয় ৷ সে পুনরায় মাটিতে বসে পড়ে ৷ আল্লাহ তাআলা সমুদ্রাঞ্চল
থেকে তাদের প্রতি এক ঝাক পাথী প্রেরণ করেন ৷ এগুলো ছিল এক প্রকার ছোট পাথী ৷ প্রতিটি
পাথী তিনটি করে কঙ্কর নিয়ে এসেছিল ৷ একটি ঠোটে আর দৃ’টো দৃ পায়ে ৷ কঙ্করগুলো ছিল
ছোলা ও মশুর ডালের ন্যায় ৷ যার উপর কঙ্কর পড়লো সে-ই ধ্বংস হয়ে গেল ৷

অবশ্য আবরাহার সকল সৈন্যের গায়ে কঙ্কর লাগেনি ৷ যাদের পারে তা পড়েনি তারা
পালিয়ে প্রাণে বেচে যায় ৷ যে পথে এসেছিল তারা যে পথেই ফিরে যেতে থাকে ৷ ইয়ামানের
পথ চিনিয়ে দেয়ার জন্যে তারা নুফায়ল ইবন হাবীবকে তালাশ করতে থাকে ৷ এ প্রসঙ্গে

তুমি কি আমাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন পাওনি হে রুদায়নাঃ আমরাতে৷ তােমাদেরকে
সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছি ৷
হে রাদীন৷ মুহাসসাব অঞ্চলে আমরা যা দেখেছি তুমি যদি তা দেথতেত তবে তুমি যে দিকে
ফিরে ত ৷কাতে না ৷

তখন তুমি আমার ওযর গ্রহণ করতে এবং আমার কাজের প্রশংসা করতে ; যা হারিয়ে
গেছে তার জন্যে তুমি আক্ষেপ করতে না ৷

যখন আমি পক্ষীকুল দেখেছি তখন আমি তা ৷ল্লাহ্র প্ৰশং সা করেছি ৷ আবার আমাদের উপর
পাথর রর্ষিত হয় নাকি তার ভয়ও করেছি ৷

সবাই নুফায়লকে ঘেড়াজ করছে যেন আমার নিকট সকল হাবশী লোকের পাওনা রয়েছে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর আবরাহার সৈন্যরা সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে যেদিকে পারে
পালিয়ে প্রাণ বাচাতে লাগল ৷ পক্ষীকুলের নিক্ষিপ্ত কঙ্কর অব্রাহার দেহেও বিদ্ধ হয় ৷ তারা
নিজেদের সাথে আররাহাকেও টেনে নিয়ে যায় ৷ কিন্তু কষ্কর বিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তার দেহ
থেকে ক্রমে ক্রমে এক আঙ্গুল এক আঙ্গুল করে খসে পড়তে শুরু করে ৷ একটি আঙ্গুলের পর
আরেকটি আঙ্গুল ঝরে পড়ছিল ৷ এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয় ৷ এভাবে তার রক্ত ও
পুজ নিঃশেষিত হয়ে যায় ৷ তারা তাকে সানাআতে নিয়ে আসে ৷ তখন সে যেন একটি পাখির
ছানা ৷

কথিত আছে যে, তার মৃত্যুর সময় তার বুক ফেটে হৃৎপিণ্ড বের হয়ে পড়ে ৷ ইবন ইসহাক
বলেন, ইয়াকুব ইবন উতবা আমাকে বলেছেন যে, জনশ্রুতি ছিল যে, আরব দেশে সর্বপ্রথম
হাম এবং রসস্তরোগ দেখা যায় সেই বছরই ৷ সেখানে তিক্ত বৃক্ষ হারমাল, হানযাল ও আশার
দেখা যায় সেই একই বছরে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, হযরত মুহাম্মদ (স) কে রাসুলরুপে প্রেরণ করার পর আল্লাহ
তা জানা কুরায়শদের প্রতি তার যে সকল নেয়ামত ও অনুগ্নহের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর

অন্যতম হল তাদের অবস্থান ও অস্তিত্বের লক্ষে তাদের থেকে হাবশীদের আক্রমণ প্রতিহত
করা ৷

এ প্রসংগে আল্লাহ তা আলা বলেন :

তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক হা ৷তিওয়ালাদের প্রতি কী করেছিলেন? তিনি কি ওদের

কৌশল ব্যর্থ করে দেননিঃ ওদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাকে ঝাকে পাখী প্রেরণ করেন ৷ সেগুলো

ওদের উপর পাথুরে কঙ্কর নিক্ষেপ করে ৷ তারপর তিনি ওদেরকে ভক্ষিত খড়ের মত করেন ৷
(১০৫ ফীলু ১ ৫)

ইবন ইসহাক ও ইবন হিশাম অতঃপর এই সুরা ও তৎপরবর্তী সুরাগুলােরত তাফসীর শুরু
করেন ৷ আমার তাফসীর গ্রন্থে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ আগ্রহী ব্যক্তিদের
জন্যে তাই যথেষ্ট হবে ৷ সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার ৷

ইবন হিশাম বলেন, ট্রুাট্রু চু৷ শব্দের অর্থ বাক বা দল ৷ আমার জানা মতে আরবরা এ
শব্দের একবচন ব্যবহার করে না ৷ তিনি বলেন পুশ্ ৷ব্দ সম্পর্কে ব্যাকরণবিদ ইউনুস ও
আবু উবায়দা বলেছেন যে, এটি দ্বারা আরবগণ সুকঠির্ন অর্থ বুঝায় ৷ কোন কোন তাফসীরকার
বলেছেন যে, , ৰু শব্দটি মুলত ৩দুটো ফা ৷রসী শব্দের সমষ্টি ৷ আরবর৷ এটিকে এক শব্দরুপে
ব্যবহার করে ৷ ফারসী শব্দ দুটো হল এ্ এবং ,হ্র অর্থ পাথর এধু অর্থ কাদা ৷ তারা
বলেন যে, পাথর ও কাদ৷ র তৈ রী কঙ্কব ই ওদের প্রতি নিক্ষেপ করা হয়েছিল ৷

ইবন হিশাম আরও বলেন যে, প্ছু অর্থ উদ্ভিদ ও তৃণলতার পাতা ৷

কাসাই বলেন জনৈক ব্যাকরণবিদকে আমি বলতে গুনেছি যে, , এর একবচন
প্রাচীনকালের অনেক ভাযাবিদ বলেন, আবাবীল হলো পাখি শাবষ্ণের বাক , যেগুলো এখানৈ
সেখানে একদল অন্য দলের পেছন পেছন ছুটে ৷

হযরত ইবন আব্বাস (বা) বলেন, আবরাহ৷ বাহিনীর উপর কঙ্কর নিক্ষেপকারী পাখীগুলাের
চঞ্চু ছিল সাধা৷রণ পাখির মত ৷ পাগুলো ছিল কুকুরের খাবার মত ৷ ইকরামা ( রা ) বলেন, যে
গুলোর মাথা ছিল হিংস্র প্রাণীর মাথার মত ৷ এগুলো সমুদ্র থেকে উড়ে এসেছিল এবং এগুলোর
রঙ ছিল সবুজ ৷ উবায়দ ইবন উমায়ব বলেন, সেগুলো ছিল সামুদ্রিক কাল পাখি ৷ সেগুলোর
চঞ্চু ও পায়ে করে কঙ্কর নিয়ে এসেছিল ৷

হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, পাখিগুলোর আকৃতি ৩ছিল কল্পনার আনক৷ পাখির
মত ৷ তিনি আরও বলেন যে, তাদের আনীত কঙ্করগুলোর ক্ষুদ্রত তম কঙ্কর ছিল মানুষের মাথার
সমান ৷ কতক ছিল উর্টের সমান ৷ ইবন ইসহাক থেকে ইউনুস ইবন বুকায়র এরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ কেউ কেউ বলেছেন যে, ঐ কঙ্করগুলো ছিল ক্ষুদ্রাকৃতির ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন
বিবরণগুলোর কোনটি যথার্থ ৷

ইবন আবী হাতিম উবায়দ ইবন উমায়ব সুত্রে বলেন, হাতি বাহিনীকে যখন আল্লাহ তাআলা

ৎস করার ইচ্ছা করলেন তখন ওগুলোর প্রতি পাখির বাক প্রেরণ করলে সেগুলো এসেছিল

ন্ সমুদ্র থেকে ৷ আকৃতি ছিল বাজ পাখির মত ৷ প্রতিটি পাখি তিনটি করে কঙ্কর নিয়ে এসেছিল ৷

দৃ’টো দু’পায়ে একটি চঞ্চুতে ৷ সেগুলো এসে আবরাহা বাহিনীর মাথার উপর সারিবদ্ধভাবে

অবস্থান নেয় ৷ তারপর বিকট আওয়াজ করে এবং পায়ের ও চঞ্চুর কঙ্করগুলো নিক্ষেপ করে ৷

যাবই মাথায় কঙ্কর পড়েছে তা তার মলদ্বার ভেদ করে বেরিয়ে এসেছে ৷ যার দেহের একদিকে

পড়েছে তার অন্য দিক দিয়ে তা বেরিয়ে গিয়েছে ৷ আল্লাহ তা আলা তখন প্রচণ্ড বায়ু প্রেরণ

করেছিলেন ৷ সেটি কঙ্করগুলােকে আঘাত করে ৷ এতে কঙ্করগুলে৷ আরও প্ৰচগুভাবে তাদের
উপর নিক্ষিপ্ত হয় ৷ ফলে৩ ৷রা সবাই ধ্বংস হয়ে যায় ৷

ইতিপুর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে, ইবন ইসহাক বলেছেন, আবরাহা বাহিনীর সকলের
পায়ে পাথর লাগেনি ৷ বরং তাদের কতক লোক ইয়ামেনে ফিরে যেতে সক্ষম হয় ৷ তারা
সেখানে গিয়ে তাদের সাথীদের ধ্বংস ও ৰিপদের কথা ওখঃপ্নেকাব লোকদেরকে জানায় ৷ কতক
ঐতিহাসিক বলেন যে, আবরাহাও ফিরে এসেছিল ৷ তবে তার দেহ থেকে এক আঙ্গুল এক
অড়াঙ্গুল করে ঝরে পড়ছিল ৷ ইয়ামানে পৌছার পর তার বুক ফেটে যায় এবং তার মৃত্যু হয় ৷
তার প্রতি আল্লাহ্র লানত ৷

ইবন ইসহাক হযরত আয়েশা (রা) সুত্রে বলেন

দু জনকেই আমি মক্কায় দেখেছি ৷ দৃ’জনই তখন অন্ধ এবং চলৎশক্তিহীন ৷ মানুষের নিকট
খাবার ভিক্ষা করছে ৷ উপরে বর্ণিত হয়েছে যে হ্যাট্ট ওব সহিসের নাম আনীস৷ বাহিনীর
পরিচালকের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায় না ৷ আল্লাহ্ই ভাল ণ্ডানেন ৷

তাফসীরকার নাক্কাশ তার তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, প্লাবন এসে তাদের মৃত
দেহ্গুলাে ভাসিয়ে নিয়ে সাগরে নিক্ষেপ করে ৷ সুহায়লী বলেন, হাতি বাহিনীর এ ঘটনা ঘটেছিল
যুল-কারনাইন বাদশড়াহের যুগ থেকে ৮৮৬ বছর পর, মুহাররম মাসের পয়লা তারিখে

আমি বলি, ঐ বছরই রাসুল্লাহ্ (না)-এর জন্ম হয় ৷ এটিই প্রসিদ্ধ অভিমত ৷ কেউ কেউ
বলেন যে, এটি রাসুলুল্লাহ (র্সা)-এর জন্মের কয়েক বছর পুর্বের ঘটনা ৷ এ বিষয়ে আমরা
পরবর্তীতে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ ৷

এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপুর্ণ ঘটনা উপলক্ষে আরবদের রচিত কবি৩ গুলো ইবন ইসহাক
উল্লেখ করেছেন ৷ এ ঘটনায় অ ল্লাহ তা আশা তার সেই সম্মানিত পৃহকে রক্ষা করেছেন হযরত
মুহাম্মদ (না)-কে প্রেরণের মাধ্যমে ৷ তিনি যে গৃহকে মর্ষাদাময় ও পবিত্র করতে ইচ্ছে
করেছিলেন ৷ তিনি হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর জন্যে প্রথম এক সুদৃঢ় দীন ও ধর্ম নির্ধারণ
করেছেন যার অন্যতম রুকন হল সালাত ৷ বরং এই ধর্মের মুল স্তম্বই হচ্ছে সালাত ৷ এই ধর্মের
কিৰলা হিসেবে তিনি কাবা শরীককে নির্ধারণ করার ব্যবস্থা করেছেন ৷ হাতি বাহিনীকে ধ্বংস
করার পেছনে মুলত কুরায়শদের সাহায্য অভীষ্ট ছিল না ৷ কারণ, ধ্বংস ও আমার আপতিত
হয়েছিল ন্থীষ্ট ধর্মাবলম্বী হাবশীদের উপর ৷ কুরায়শীয় মুশরিকদের তুলনায় হাবশীগণ তার
অধিকতর হকদার ছিল ৷ এই সাহায্য ছিল সম্মানিত গৃহের সাহড়ায্যার্থে এবং হযরত মুহাম্মদ
(না)-কে প্রেরণের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষো, এ প্রসংপে আবদুল্লাহ ইবন যাবআরী সাহ্সী
বলেন :

ন্
তারা ফিরে গিয়েছে মক্কা ভুমি থেকে শাস্তি পেয়ে শঙ্কিত মনে ৷ প্রাচীনকাল থেকেই এর
অধিবাসীদেরকে লাঞ্ছিত করার কথা কেউ ভাবতে পারতো না ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৪৩-
যে সময়ে উক্ত এলাকাকে হারাম শরীফ তথা সম্মানিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে সে

সময়ে শিরা নক্ষত্র সৃষ্টি করা হয়নি ৷ কোন প্রতাপশালী ব্যক্তিই উক্ত স্থানের মর্যাদা বিনষ্টের
অপপ্রয়াস চালাতে পারে না ৷ কারণ কোন প্রতাপশালী ব্যক্তিই এটির মানহানির চেষ্টা করত না ৷

সেনাধ্যক্ষাকে জিজ্ঞেস করুন যে কী দেখেছে এ ঘটনা সম্পর্কে ৷ ওদের মধ্যে যার অবগতি
আছে সে অবগতিহীন ব্যক্তিদেরকে জানিয়ে দিবে ৷

তাদের ষ৷ ট হ জোর লোক পুনরায় নিজেদের বাস ভুমিতে ফিরে মো ত পারেনি ৷
অসুস্থ দু একজন ফিরে গেলেও অতঃপর তারা জীবিত থাকেনি ৷

তাদের পুর্বে সেখানে বসবাস করেছিল আদ ও জুবহুম গোত্র, সকল বান্দার উপরে থােদ
আল্লাহ তা আলা সেটিকে কায়েম রাখেন ৷

এ প্রসংগে আবু কায়স ইবন আসৃলত আনসারী আল মাদানী বলেন :

তার (আল্লাহ তা আলার) কুদরতের একটি নিদর্শন হল হাবশীদের হাতি বাহিনী প্রেরণের
দিবসের ঘটনা,যখনই তারা হাতি পাঠানোর চেষ্টা করেছিল তখনই সে আর্ত-চীৎকার করেছিল ৷

তাদের লোহার আকলী তার পেটের চামড়ার নীচে তার ঢুকিয়ে দিয়েছিলত তবার নাকটি
চিরে দিয়েছিল ফলে তা বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল ৷

তাদের চাবুকের মাথায় তারা লোহার পেরেক জুড়ে দিয়েছিল হাতির ঘাড়ে আঘাতের সাথে
সাথে তা ক্ষত সৃষ্টি করে দিয়েছিল ৷

অবশেষে তারা পিছু হটে গিয়েছিল সে পথে, যে পথে তারা এসেছিল এবং সেখানে যারা
ছিল তারা অন্যায় ও অপরাধের শাস্তি পেয়েছিল ৷

তাদের উপরওয়াল৷ আল্লাহ তা জানা তাদের প্রতি কস্কর ৰুপ্ররণ করেছিলেন এবং তাদের
লাশগুলোকে থরে থরে ফেলে ব্লেখেছিলেন ভীরু ণ্লাকদের লাশের ন্তুপের ন্যায় ৷

-ট্রট্রুট্রুএ ৷
তাদের ধর্মযাজকপণ তাদেরকে ধৈর্যধাবণে উৎসাহিত করছিল ৷ অথচতারা ভীত সন্ত্রস্ত
বকরী পালের ন্যায় তা৷ ভ্যা করছিল ৷

এ প্রসংপে আবু সালত রাবীআ ইবন আবী রাবীআ ওয়াহব ইবন ইলাজ ছাকাকীর
কবিতাগুলো প্রণিধানযোগ্য ৷ ইবন হিশাম বলেন, এ কবিতাগুলাে উমাইয়া ইবন আবী সালত
এর বলেও কেউ কেউ বলেছেন ৷ সেগুলো ছিল এরুপ :

আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাদি সুস্পষ্ট ও সমুজ্জ্বল ৷ কা ৷ফির ব্যতীত অন্য কেউ এগুলোর
ব্যাপারে সন্দেহ্ পোষণ করে না ৷

তিনি সৃজন করেছেন দিবস ও রাত্রিকে ৷ এর প্ৰত ৷কটি সুস্পষ্ট এগুলোর হিসাব সুনির্দিষ্ট ৷

এরপর দয়াময় প্রভু দিবসকে আলোকময় করেন বিশাল বিন্তুত পৃথিবী জুড়ে ৷ সেটির
আলো ও কিরণ ছড়িয়ে পড়ে ৷

তিনি রুখে দিয়েছেন হাতিকে মুগাম্মাস নামক স্থানে ৷ এরপর সেটি ঘোড়৷ ও আহত পশুর
ন্যায় হাত পা গুটিয়ে ওখানে বসে পড়ে ৷
খু

যেন হাতিটি তার গর্দানের অ্যাভাগ গুটিয়ে রেখেছিল ৷ যেন সেটি পর্বতচুড়ার প্রস্তররাশি
থেকে বিচ্ছিন্ন নীচের দিকে গড়িয়ে পড়া একখগু পাথর ৷
তার চতুষ্পার্শে রয়েছে কিন্দা গোত্রের উৎসাহ দানকারী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যুদ্ধে যারা
বা জ পাখির ন্যায় দৃর্ধর্ষ আক্রমণকারী ৷

তারা সকলে হাতিকে পেছনে ছেড়ে এসেছে ৷ তারপর ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সবাই পলায়ন করেছে ৷
পালিয়েছে বোড়াতে খোড়াতে যেন প্রত্যেকের পায়ের নলা ভাঙ্গা ৷

কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্র নিকট একমাত্র দীন হানীফ তথ৷ দীন ই ইসলাম ব্যতীত অন্য
সকল দীন বিলুপ্ত হয়ে ৷ এ প্রসংগে আবু কায়স ইবন আসলাত বলেন :

উঠো, তোমাদের প্ৰতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং পর্বত সমুহের মাঝে
অবস্থিত এই ঘরের বরকতময় রুকন সমুহ স্পর্শ কর ৷


কারণ তার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সত্যিই একটি পরীক্ষা এসেছিল ৷ সেটি ছিল
সেনাপতি আবু ইয়াকসুমের (আবরাহার) অভিযান পরিচালনা দিবসে ৷
মোঃও

তার ঘোড় সওয়ারগণ সমতল পথে হেটে চলেছে আর তার পদাতিক বাহিনী অবস্থান
নিয়েছে পর্বত শৃঙ্গে ৷

তোমাদের প্রতি যা এসেছে তা হল আরশ অধিপতির সাহায্য ৷ পরম পরাক্রমশীল মহান
মালিকের (আল্লাহ তাআলা) সেনাবাহিনী প্রচণ্ড বায়ু ও কঙ্কর নিয়ে এসে ওদেরকে তাড়িয়ে
দিয়েছে ৷

অতঃপর তারা দ্রুত পলায়ন করল ৷ হাবশীদের মাত্র কয়েকদল লোক ছাড়া অন্য কেউ
নিজ নিজ পরিবারের নিকট ফিরে যেতে পারেনি ৷

কারা শরীফ ধ্বংসের অপচেষ্টার হাত থেকে সেটিকে রক্ষা করা এবং বাবা শরীফের মান
মর্যাদা সম্পর্কে উবায়দৃল্লাহ ইবন কায়স যে কবিতা রচনা করেছে তাও এ প্রসংগে উল্লেখ করা
যায় :

হাতি বাহিনী নিয়ে আসা ব্যক্তির আশরাম এই পবিত্র গৃহ সম্পর্কে ষড়যন্ত্র করেছিল ৷
অতঃপর যে পেছনের দিকে পালিয়ে গেল, তার সৈন্যরাও হল পরাজিত ৷

বড় বড় পাথর নিয়ে পাখি বাহিনী তাদের উপর জমায়েত হল ৷ অবশেষে সেই আশরাম হল
পাথর নিক্ষেপে জর্জরিত ও ক্ষতবিক্ষত

এটি এজন্যে হল যে, যে ব্যক্তিই এ পৃহের বিরুদ্ধে ড়েতে ৩যাবে সে নিশ্চিতভারে ফিরে
যাবে এমতাবস্থায় যে, সে পরাজিত সৈনিক এবং নিন্দিত ৷

ইবন ইসহাক ও অন্যরা বলেন যে, আবরাহার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়ড়াকসুম রাজা হয় ৷
তারপর আসে তার ভইি মাসরুক ইবন আবরাহা ৷ সে ছিল তাদের বংশের শেষ রাজা ৷ পারস্য
সম্রাট নওশেরাওয়ী-এর প্রেরিত সৈনক্যেহিনী নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে সায়ক ইবন
ইয়ড়াযনে হিময়ারী মড়াসরুকের হাত থেকেই রাজত্ব ছিনিয়ে নেয় ৷ এ বিষয়ে পরে আলোচনা হবে ৷

হাতি বাহিনীর এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল রোমান ইতিহাস খ্যাত সম্রাট দ্বিতীয় ইসকান্দার
ইবন ফিলিপস মড়াকদৃনী ওরফে সম্রাট যুলকারনাইনের যুগ থেকে ৮৮৬ তম বছরের মুহাররাম
মাসে ৷

আবরাহা ও তার দুপুত্রের মৃত্যু এবং হড়াবশা থেকে রাজত্ব ইয়ামানে স্থানান্তরিত হওয়ার পর
আবরাহার নির্মিত উপাসনালয় কুলায়স পরিত্যক্ত গৃহে পরিণত হয় ৷ অতঃপর তার আর কোন
উক্ত অনুরক্ত থাকল না ৷ অথচ নির্বুদ্ধিতা ও মুর্থতার কারণে আবরাহা সেটিকে তৈরী করেছিল
আরবদের হজ্জকে কাবা শরীফ থেকে ঐ কৃলায়সে সরিয়ে আনার জন্যে ৷

আবরাহা সেটি তৈরী করেছিল দৃ’টো মুর্ডিং উপর ৷ মুর্তি দৃ’টো হল কুআয়ব ও তার শ্ৰীর ৷
এ দু’টো ছিল কাঠের তৈরী ৷ প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য উচ্চতায় ৬০ গজ ৷ এগুলো মুলত দৃ’টো নিজের
প্রতিকৃতি ৷ এ জন্যেই কেউ কুলায়স গীর্জায় কোন সম্পদ খুলে নিতে চেষ্টা করলে জিনেরা তাকে
আক্রমণ করত ৷ অতঃপর এটি প্রথম আব্বাসী খলীফা সাফ্ফাহ-এ খিলোফতকাল পর্যন্ত
এভাবেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে ৷ তাকে কুলায়স তার মধ্যে রক্ষিত ধনসম্পদ ও বহুমুল্য
শ্বেতপাথর সম্পর্কে জানানো হয় ৷ এগুলো আবরাহা রাণী বিলকীসের প্রাসাদ থেকে এনে
কুলায়সে স্থাপন করেছিল ৷

অতঃপর খলীফা সাফ্ফাহ এটি ভাঙ্গার জন্যে লোক প্রেরণ করলেন ৷ তারা একটি একটি
করে সকল পাথর খুলে নেয় এবং তার সকল ধনসম্পদ নিয়ে আসে ৷ সুহায়লী এরুপই উল্লেখ
করেছেন ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷

হাবশীদের হাত থেকে রাজত্ব সায়ফ্ ইৰ্ন ষুইয়াযীনের
হাতে রাজত্ব স্থানান্তর

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, আবরাহার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়ড়াকসুম রাজত্ব লাভ
করে ৷ ইয়ড়াকসুমের দিকে সম্পৃক্ত করে আবরাহড়াকে আবু ইয়াকসুম বলা হয় ৷ ইয়ড়াকসুমের মৃত্যুর
পর তার তইি মাসরুক হাবশী ইয়ামানের রাজত্ব গ্রহণ করেন ৷

ইয়ামামাবাসীদের উপর যখন নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী হতে থাকে তখন সায়ফ ইবন যু-উয়াযান
হিময়ারী আবির্ভুত হন ৷ ইনি হলেন সায়ফ ইবন যুআযীন (ইবন যীইসৃবাহ ইবন মালিক ইবন
যায়দ ইবন সাহ্ল ইবন আমর ইবন কায়স ইবন মু’আবিয়া ইবন জাশম ইবন আবন ওয়ায়েল
ইবন গাওছ ইবন কুতুন ইবনআরদ শামস ইবন আযমান ইবন হুমড়ায়সা ইবন আবীর ইবন
যুহায়ব ইবন আযমান ইবন হুমায়সা ইবন আরবাহাজ আরবাহাজ হচ্ছে সাবার পুত্র ৷ হিময়ায়ের
সাঙ্গ ৷ সায়ফ এর উপনাম ছিল আবু মুররা ৷

সায়ফ রোমান সম্রাট কায়সারের নিকট গিয়ে নিজেদের দুরবস্থার কথা জানিয়ে তার
সাহায্য কামনা করেন ৷ তিনি প্রস্তাব করেন যেন কায়সার তিনি নিজে বা অন্য কাউকে পাঠিয়ে
আবিসিনীয়দেরকে তাড়িয়ে দিয়ে ইয়ামান বাসীদেরকে তার শাসনাধীনে নিয়ে নেন ৷ কিন্তু রোম
সম্রাট তার প্রস্তাবে সাড়া দিলেন না ৷

সায়ফ সেখান থেকে বেরিয়ে নুমড়ান ইবন মুনযিরের দরবারে পৌছেন ৷ নুমান তখন পারস্য
সম্রাটের পক্ষ থেকে হীরা ও তৎসংলগ্ন ইরাকী অঞ্চলের প্রশাসক তিনি হাবশীদের অত্যাচার
নির্যাতনের কথা নুমানকে অবহিত করেন ৷ নুমান বলেন, বছরে ণ্াকবার করে আমি একটি
প্রতিনিধি দল নিয়ে পারস্য সম্রাট কিসরার দরবারে হাজির হয়ে থাকি ৷ আপনি যে সময় পর্যন্ত
অপেক্ষা করুন ৷ সায়ফ তা-ই করেন ৷ যথাসময়ে তাকে নিয়ে নুমান কিসরার দরবারে হাজির
হন ৷ দরবারের যেখানে রাজমুকুট স্থাপিত কিসরা সেখানেই স্নান গ্রহণ করতেন ৷ তার মুকুট
ছিল বৃহদাকার পাত্রের ন্যায় ৷ সেটি ছিল মনি-মুক্তা, ইয়াকুত ও স্বর্ণ-রৌপ্য খচিত ৷ সেটি
থাকত তার সিংহড়াসনের উপরে স্বর্ণের শিকল দ্বারা একটি তাকের সাথে ঝুলম্ভ ৷ সেটি এত
ভারী ছিল যে, রাজার ঘাড় তা বহন করতে পারত না ৷ আসন গ্রহণের সময় তার চারিদিকে
কাপড়ের বেষ্টনী তৈরী করা হত ৷ ণ্লাকচক্ষুর অস্তরালে তিনি ঐ আসনে বসতেন এবং ঝুলম্ভ
মুকুটে মাথা ঢুকিয়ে দিতেন ৷ যথাযথভাবে আসন গ্রহণ করার পর কাপড়ের বেষ্টনী তুলে নেয়া
হত ৷ অতঃপর ইতিপুর্বে তাকে দেখেনি এমন কেউ তার এ পাম্বীর্যপুর্ণ অবস্থান দেখলে ভয়ে
উপুড় হয়ে পড়ে যেত ৷

সায়ফ যখন রাজার দরবারে প্রবেশ করেন তখন তিনি ও মাথা অবনত করে ফেলেন ৷
সম্রাট বলেলেন, এই নির্বোধটি এত উচু দরজা দিয়ে আমার নিকট প্রবেশ করার সময়ও
নিজের মাথা নুইয়ে রাখছে কেন? সম্রাটের এ মন্তব্য সড়ায়ফকে জানানো হয় ৷ উত্তরে তিনি
বলেন, আমার দুশ্চিন্তার কারণে আমি এরুপ করেছি ৷ কারণ আমার দুশ্চিন্তার সম্মুখে সব কিছুই
সংর্কীর্ণ মনে হয় ৷ এরপর তিনি বললেন : মহারাজা পশ্চিমা বিদেশীরা আমার দেশ দখল করে
রেখেছে ৷ কিসরা প্রশ্ন করেন, কারা সেই বিদেশী ৷ হাবশীরা, নাকি সিন্ধীরা ? তিনি বললেন :
বরং হাবশীরা আমি আপনার নিকট এসেছি সাহায্যপ্রাথী হয়ে ৷ অতঃপর আপনি বিজয়ী হলে
আমাদের দেশ আপনার অধীন হবে ৷ সম্রাট বললেন, তোমাদের দেশ তো অনেক দুরে ৷
তদুপরি তাতে কোন সম্পদ নেই আমি সেই দুর দুরাস্তের আরব দেশে আমার পারসিক সৈন্য

প্রেরণ করতে আগ্রহী নই ৷ ঐ দেশটির অধীনে আনার আমার কোন প্রয়োজনও সেই ৷ সম্রাট
তাকে দশ হাজার দিরহড়ামের আর্থিক অনুদান এবং চমৎকার একজােড়া পোশাক দান করেন ৷
অনুদান গ্রহণ করে সায়ফ সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ঐ অর্থ লোকজনকে অকাতরে
বিলিয়ে দেন ৷ এ সংবাদ সম্রাটের পােচরীভুত হয় ৷

সম্রাট বলেন, এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোন রহস্য আছে ৷ তিনি তাকে ডেকে পাঠান ৷ তারপর
বলেন, তুমি সম্রাটের দেয়া অনুদান লোকজনকে বিলিয়ে দিচ্ছ৪ ব্যাপার কী ? জবাবে তিনি
বলেনঃ আপনার অনুদান দিয়ে আমি কী করব ? আমার যে দেশ থেকে আমি এসেছি তার
পাহাড় পর্বত তো পুরোটাই স্বর্ণ রৌপে ভরপুর ৷ এটার প্রতিই মানুষ আসক্ত হয় ৷ একথা শুনে
সম্রাট তার অমাত্যেদেরকে ডেকে এ লোকের ব্যাপারে তাদের অভিমত জানতে চাইলেন ৷
একজন বলল, মহারাজা আপনার বন্দীখানায় কতক বন্দী লোক আছে যাদেরকে হত্যা করার
জন্যে আপনি আটকিয়ে রেখেছেন ৷ তাদেরকে যদি আপনি এ লোকের সাথে পাঠিয়ে দেন এবং
সেখানে যুদ্ধ করে তারা যদি মারা যায় ৷ তবে তাদেরস্থ:ক হত্যা করার আপনার যে ইচ্ছা ছিল তা
পুর্ণ হবে ৷ আর তারা যদি যুদ্ধে জয়লাভ করে তবে একটি অতিরিক্ত রাজ্য আপনার অধীনে
আসবে ৷ প্রস্তাবটি রাজার মনঃপুত হয় এবং কারারুদ্ধ ৮০০ ব্যক্তিকে তিনি সায়ফের সাথে
প্রেরণ করেন ৷ ওয়াহ্রিজ নামের একজনকে তিনি সেনাপতি নিযুক্ত করে দেন ৷ ওয়াহ্রিজ ছিল
তাদের মধ্যে বয়েড়াবৃদ্ধ এবং সর্বাধিক অভিজাত বংশীয় ৷ ৮টি নৌকায় তারা যাত্রা করে ৷ দৃ’টো
নৌকা ডুবে যায় এবং অবশিষ্ট ৬টি নৌকা এডেন উপকুলে গিয়ে পৌছে ৷ অতঃপর যথাসাধ্য
চেষ্টা চালিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের বহু লোককে সায়ফ এনে ওয়াহ্রিজের নেতৃত্বে দেন ৷
ওয়াহ্রিজের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সড়ায়ফ বলেন, সর্বক্ষণ আমার বাহিনী আপনার সাথে
থাকবে যতক্ষণ আমাদের সবার মৃত্যু হয় কিৎবা যতক্ষণ না আমরা সবাই বিজয় লাভ করি ৷
ওয়াহ্রিজ বললেন, আপনি ন্যায়ানুগ কথা বলেছেন ৷

এ দিকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে ইয়ামানের রাজ্য মাসরুক ইবন আবরাহা বেরিয়ে
আসে এবং সৈন্য সমাবেশ ঘটায় ৷ ওদের যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে প্রথমত
ওয়াহ্রিজ তার পুত্রকে যুদ্ধার্থে পাঠান ৷ যুদ্ধে তার পুত্রটি নিহত হয় ৷ এতে ওয়াহ্রিজ ওদের
প্রতি আরও ক্রুদ্ধ হন ৷ সৈন্যগণ যখন নিজ নিজ সারিতে সড়ারিবদ্ধ তখন ওয়াহ্রিজ বলেন যে,
ওদের রাজা কোন ব্যক্তি তা আমাকে দেখিয়ে দাও ! সৈন্যগণ বলল, ঐ যে ব্যক্তিটি হাতির পিঠে
অবস্থান করছে তার মাথায় মুকুট এবং দৃচক্ষুর মধ্যখানে রক্তিম ইয়াকুত পাথর রয়েছে তাকে
কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন ৷ তিনি বললেন, “ইক্তা, দেখতে পাচ্ছি ৷ লোকজন বলল, সে ব্যক্তিই
ওদের রাজা ৷ ওকে আমার জন্যে ছেড়ে দাও ৷ আমি দেখছি ৷ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি
আবার বললেন,এখন ঐ রাজা কিসে সওয়ার আহাে তারা বলল, সে এখন ঘোড়ার পিঠে
সওয়ার আছে ৷ তিনি বললেন, ঠিক আছে তোমরা ওকে থাকতে দাও ৷ আমি তাকে দেখছি ৷
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ওয়াহ্রিজ আবার বললেন : এখন যে কিসের উপর সওয়ার আছে ?
তারা বললেড়া, এখন যে এক মাদী খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট আছে ৷ ওয়াহ্রিজ বললেন : পাবার

ইয়ড়াযিনকে অভিবাদন জানানোর জন্যে দলে দলে তার নিকট আসতে থাকে ৷ রাজ্য ক্ষমতায়
ফিরে আগমনকারী প্রতিনিধি দলসমুহের মধ্যে আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিমও ছিলেন ৷ তখন
সায়ফ ইবন ঘুইয়াষীন আবদুল মুত্তালিবকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (না)-এর আগমনের
সুসংবাদ এবং ৎশ্রিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করেন ৷ এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা
“রাসুলুল্লাহ (না)-এর আগমনের সৃসংবাদ” শিরোনামে আলোচিত হবে ৷

ইবন ইসহাকের মতে আবু সালত ইবন আবী রাবী’আ ছাকাফী এবং ইবন হিশামের মতে
উমাইয়া ইবন আবী সালত বলেছেন :

ইবন যী ইয়াযিনের ন্যায় সােকদেরই উচিত প্রতিশোধ গ্রহো: ণর এগিয়ে যাওয়া শোভা পড়ায়
যিনি প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে বছরের পর বছর ধরে সমুদ্রের পাড়ে লুকিয়ে থাকেন ৷

তার দেশ ত্যাগের সময় তিনি রোমান সম্রাট ক ৷য়সারের ড়ানকট গেলেন ৷ কিন্তু তার প্রার্থিত
সাহায্য সেখানে তিনি পেলেন না ৷

তারপর পারস্য সম্রাট কিসরার নিকট গেলেন ৷ দশ বছর পর তিনি নিজের ব্যক্তিত্ত্ব ও
ধন-সষ্পদকে তৃচ্ছ জ্ঞান করে ৷

অবশেষে তিনি এলেন বনি আহরার গোত্রের নিকট ৷ তিনিত তাদেরকে প্রতিশোধ গ্রহণের
জন্যে উত্তোজিত করেন ৷ আমার জীবনের শপথ আপনি খুব দ্রুত আন্দোলন সৃষ্টি করেছেন ৷

সেই বাহিনীঢি এক সময় বিস্ময়করভা ৷বে অভিযানে রেরোল যে, মানব সমাজে আমি তো
তাদের তুলা কাউকে দেখিনি ৷
তারা সদা ৷বিজয়ী রাজন্যবর্গ এবং স্বচ্ছ ঝলমলে কংকন পরিদানকারী ৷৩ তারা সেই সিংহ
গভীর জঙ্গলে যারা সিংহ শাবক লালন-পালন করে ৷ তারা প্রভাত আলোতে তীর নিক্ষেপ করে
ওগুলো দ্রুত লক্ষ্যভেদ করে ৷
তারা প্রভাত আলোতে তীর নিক্ষেপ করে ওগুলো দ্রুত লক্ষ্য ভেদ করে ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) :

আপনি কালো কুকুরদের প্রতি সিংহ লেলিয়ে দিয়েছেন ফলে৩ তাদের পলায়নপর বাহিনী ভুলষ্ঠিত
হয়েছে ৷

আপনি তৃপ্ত চিত্তে পানীয় পান করুন ৷ আপনার মাথায় রয়েছে রাজমুকুট ৷ আপনার
বিশ্রামস্থল গুমদান প্রাসাদ, এটি আপনার বৈধ ভবনে পরিণত হয়েছে ৷
ৰু৷ ৷ টু
আপনি তৃপ্তি সহকারে পান করুন ৷ শত্রুর৷ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ৷ এখন আপনি আপনার
চাদর জোড়া হেচড়িয়ে অহংকারী চালে পথ চলুন ৷
ৰুা

এগুলো মহৎ গৃণাবলী পানি মিশ্রিত দুধের তেমন দুটি পাত্র লোঃ১রুল৷ পরিণত হয় প্ৰস্রাবের
পাত্রে ৷

কথিত আছে যে, গুমদান হলো ইয়ামানের একটি রাজপ্রাসাদ ৷ ইয়ারুব ইবন কাহতান
সেটি নির্মাণ করেন ৷ পরবর্তী ওয়াইলা ইবন হিমইয়ার ইবন সারা কৌশলে সেটি করতলগত
করেন ৷ বলা হয়ে থাকে যে, এটি ছিল বিশ তলা বিশিষ্ট প্রাসাদ ৷ আ ৷ল্লাহ্ইভ ৷ল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন আদি ইবন যায়দ হিমইয়ারী বলেছেন, তিনি ছিলেন বনী তামীম
গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ৷

সান আর পওনের এটির কী হলো? যা গড়ে তুলে ছিলেন শাসকবর্গ যাদের দান দক্ষিণা
ছিল তারা ৷তরি

যে ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেছে সে এটিকে মেঘমালা পর্যন্ত উন্নীত করেছিলেন ৷ এটির
মেহরারগুলাে থেকে কন্তুরির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে ৷

এটি পর্বতরাজি দ্বারা পরিবেষ্টিত ৷ এটি চক্র ন্তকারীদের চক্রাস্ত থেকে নিরাপদ ৷ এ
প্রাসাদের চুড়ায় আরোহণ করা যায় না ৷

সান্ধ্যক৷ ৷লীন বজ্রনিনাদ ঐ প্রাসাদে কাঠ মিত্রীর শব্দের ন্যায় খঃটখট শব্দ করে ৷

নানা প্রকারের উপড়াদ ন বনী আহরড়ার গোত্রের সৈনিকদেরকে৩ তার দিকে টেনে এনেছে ৷
তাদের অশ্বারোহীগণ এসেছিল মিছিল সহকারে ৷

মৃতপ্রায় ভারবাহী খচ্চরগুল্যেকে পৃথক করে দেয়া হয়েছে ৷ তাদের সাথে ছুটে গেল তাদের
বাচ্চাগুলেড়া

বন্তুত হিমইয়ারী রড়াজাগণ দুর্গের উপর থেকে ওদের প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা অশ্বারােহী বাহিনীকে
দেখতে পেলেন ৷

যেদিন তারা বর্বর কা য়সুম বংশের ৫লাকদেরকে ডাকর্ট র্দয়েছিল ওদের পলড়ায়নক রী পালিয়ে
বীচতে পারবে না ৷
৫স দিবসের এ আলোচনাই শুধু অবশিষ্ট রয়েছে যে, মর্যাদা বোন ও শক্তিশালী একদল মানুষ
যে দিন নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ৷

সে দিন উত্তেজিত বাহিনী নিরীহ জিরড়াফে পরিণত হয়েছিল ৷ সেই দিনগুলাে বহু ঘটনার
সড়াক্ষীতে পরিণত হয়েছে ৷
সম্মানিত তৃব্বা সম্প্রদায়ের পর এ দৃর্গে পারস্যের সামম্ভগণ নিশ্চিম্ভে সেটির মালিকানা লাভ
করেন ৷

ইবন হিশাম বলেন, পুর্বোল্লেখিত ৫জ্যাতিষী সাভীহ্ তার বক্তব্য “তারপর ইরান যী ইয়ড়াযীন
তাদের নিকট আসবে আদন থেকে ৷ অতঃপর কড়াউকেই ইয়ড়ামড়ানে অবশিষ্ট রাখবে না” দ্বারা
এটাই বুঝিয়েছিল ৷ আর ৫জ্যাতিষী শিক “এমন একটি বালক যে , প্রামাও নয় শহুরেও নয় ৷
যীইয়ড়াযানের গোত্র থেকে সে বের হরে” দ্বড়ারাও এ দিকেই ইঙ্গিত করেছিল ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, ওয়াহ্রিয এবং পারসিকগণ ইয়ড়ামড়ানে বসবাস করতে থাকে ৷
এখনকার ইয়ড়ামড়ানের অধিবাসিগণ সেই পারসিকদের বংশধর ৷ অড়ারিয়াতের ইয়ড়ামড়ানে প্রবেশ
থেকে শুরু করে পারসিকদের হাতে মাসরুক ইবন অড়াবরড়াহা এর নিহত হওয়া এবং হাবশীদের
ইয়ামান থেকে বহিষ্কৃত হওয়া পর্যন্ত তাদের রড়াজতুকাল ছিল ৭২ বছর ৷ এই মেয়াদে পরপর
চারজন হাবশী রাজা রাজতৃ করে ৷ তারা হলো পর্যায়ক্রমে আরইয়াত, আবরাহা, ইয়াকসুম ইবন
আবরাহা এবং মাসরুক ইবন আবরাহা ৷

ইয়ামানে পারসিকদের শেষ পরিণতি

ইবন হিশাম বলেন, ওয়াহ্রিযের মৃত্যুর পর পারস্য সম্রাট কিসরা ওয়াহ্রিয়ের পুত্র
মারযুবানকে ইয়ামাংনর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে ৷ শ্মারযুবানের মৃত্যুর পর তদীয়পুত্র
তাইনুজানকে তারও মৃত্যুর পর তার পুত্রকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয় ৷ পরবর্তীতে
তাইনুজানের পুত্রকে বরখাস্ত করে বাযালকে ইয়ামানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয় ৷ বাযানের
শাসন আমলেই রাসুলুল্লাহ্ (সা) নবুওত প্রাপ্ত হন ৷

ইবন হিশাম বলেন, আমার নিকট সংবাদ পৌছেছে যে, পারস্য সম্রাট কিসরা ইয়ামানের
শাসনকর্তা বাযানের নিকট এই মর্মে পত্র লিখেছিল, আমার নিকট সংবাদ এসেছে, কুরায়শ
ৎশের জনৈক ব্যক্তি মক্কা নগরীতে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং সে নিজেকে নবী বলে দাবী
করছে ৷ তুমি তার কাছে যাও ৷ তাকে বল সে যেন ঐ দাবী ত্যাগ করে ৷ সে যদি তা ত্যাগ করে
তবে তো নতুবা তুমি তার ছিন্নমস্তক আমার নিকট পাঠাবে ৷ বাযাল্ তখন সম্রাটের পত্রটি
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট প্রেরণ করে ৷ উত্তরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) লিখেন, আল্লাহ তাআলা
আমার সাথে অঙ্গীকার করেছেন যে, অমুক মাসের অমুক তারিখে কিসরা নিহত হবে ৷
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর উত্তর পেয়ে শাসনকর্তা বাযান উল্লেখিত দিনের জন্যে অপেক্ষা করতে
থাকেন ৷ তিনি বলেন উক্ত ব্যক্তি যদি সত্যই নবী হয়ে থাকেন তিনি যা বলেছেন অচিরেই
ঘটবে ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) কিসরার নিহত হওয়ার যে তারিখ উল্লেখ করেছিলেন ঠিক সে তারিখেই
আল্লাহ তাআলা তাকে হত্যা করান ৷

ইবন হিশাম বলেন, কিসরা নিহত হয় তার পুত্র শের ওয়েহের এর হাতে ৷ কোন কোন
ঐতিহাসিক বলেন, তার সকল পুত্রই তার হত্যার জড়িত ছিল ৷ এই কিসরা হল পারভেয় ইবন
হরঘুয ইবন নওশেরাওয়া ইবন কুবায় ৷ সে-ই রোম সম্রাটকে পরাস্ত করেছিল :
শ্ আসিফ, লাম, মীম, রােমকগণ পরাজিত হয়েছে নিকটবর্তী অঞ্চলে আয়াতে সেই
রোম বিজয়ের উল্লেখ রয়েছে ৷ পরবর্তীতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে ৷ সুহাইলী
বলেন, নবম হিজরীর জুমাদাল উলা মাসের ১১ তারিখ বুধবারে সে নিহত হয় ৷ কথিত আছে
যে, তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে তার প্রতি রাসুলুল্লাহ্ (না) যে পত্র পাঠিয়েছিলেন সেটি
পেয়ে সে ভীষনণ ক্রুদ্ধ হয় এবং পত্রটি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে ৷ অতঃপর তার বক্তব্য
লিখে ইয়ামানের শাসনকর্তা বাযানের নিকট পত্র পাঠায় ৷
কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বাযানের প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, আমার
প্রতিপালক তাে এ রাতে তোমার রাজাকে হত্যা করেছেন ৷ পরে দেখা গেল, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যা
বলেছেন তা-ই হয়েছে ৷ ঠিক ঐ রাতেই সে নিহত হয়েছে ৷ প্রথম দিকে ন্যায়পরায়ণ থাকলেও
পরবর্তীতে সে অত্যাচারী হয়ে উঠে ৷ ফলে তার ছেলেরা তাকে সিংহাসনচ্যুত করে এবং হত্যা
করে ৷ তারা তার পুত্র শেরওয়েহকে সিংহাসনে বসায় ৷ পিতা নিহত হওয়ার ছয়মাস বা তারও
কম সময়ের মধ্যে শেরওয়েহ্র মৃত্যু হয় ৷ এ প্রসংগে কালিদ ইবন হক শায়বাণী বলেন :

আর কিসরার ব্যাপারটি তার পুত্রগণ তাকে তলোয়ার দ্বারা টুকরো টুকরো করেছে যেমন

টুকরো করা হয় গােশত ৷
টু,

একদিন তার মৃত্যু এলো এবং প্রত্যেক জীবেরই মৃতু৷ আছে ৷

ঘুহরী (র) বলেন, এ সংবাদ অবগত হয়ে বাযান নিজের ইসলাম গ্রহণ এবং তার সাথী
পারসিকদ্যে৷ ইসলাম গ্রহণের বার্তা সহ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট প্রতিনিধি প্রেরণ করেন ৷
তখন প্রতিনিধিণণ বলেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ (সা)! আমরা কাদের সাথে যুক্ত হবো? রাসুলুল্লাহ
(সা) বললেন, তোমরা আমাদের পরিবারের সাথে ফুক্ত হবে ৷ এ প্ৰসংপে ষুহরী (র) বলেন, যে
দৃষ্টিকোণ থেকে রাসুলুল্পাহ্ (সা) হযরত ৩সালমান (রা) চম্পের্কে বলেছিলেন
সালমান রাসুল পরিবারের অম্ভঙুক্তি ৷ আমি বলি আলোচ্য বর্ণনা থেকে স্পক্ট বুঝা যায়
হীয, বাযানের ইসলাম গ্রহণের সম্পর্কিত ঘটনা সংঘটিত হয় রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মদীনায়
হিজরতের পর ৷ এ জন্যে ইয়ামড়ানের লোকজনকে ভাল কাজের শিক্ষা দেয়৷ এবং আল্লাহর পথে
দাওয়াত দেয়ার জন্যে তিনি প্রশাসকগণকে ইয়ামান প্রেরণ করেছিলেন ৷ সর্বপ্রথম প্রেরণ করেন
খালিদ ইবন ওলীদকে এরৎঅ আলী ইবন আবীতালিব (রা) কে ৷ তারপর প্রেরণ করেন আবু মুসা
আশআরী ও মু’আয ইবন জবল (রা) কে ৷ এ সময়ে ইয়ামানবাসীরা ইসলামের ছায়াতলে
আসে ৷ বাযানের মৃত্যু হলে তার পুত্র শাহর ইবন বাযান তার স্থলাভিষিক্ত হন ৷ ভণ্ড নবী
আসওয়াদ আনাসী যখন নবুওত দাবী করে তখন সে শাহর ইবন বাযানকে হত্যা করে এবং
তার ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ৷ সে ইয়ামানে নিযুক্ত রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর প্রতিনিধিকেও সেখান
থেকে বহিষ্কার করে ৷ এ বিষয়ে পরে আলোচনা আসবে ৷ আসওয়াদ আনাসী নিহত হওয়ার পর
সেখানে পুনরায় মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় ৷ ইবন হিশাম বলেন, জ্যোতিষী সাতীহ তার
বক্তব্য “পবিত্র নবী, উর্ধ্ব জগত থেকে র্ডার ওহী আসবে” দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত করেছিল এবং
জ্যোতিষী শিক তার বক্তব্য” “এবং ঐ রাজত্বে ছেদ পড়বে একজন রাসুলৌ৷ দ্বারা ৷ তিনি সত্য
ও ন্যায় সহকারে আসবেন, তিনি আসবেন দীনদার ও মর্যাদাবান লোকদের মধ্যে অতঃপর
কিয়ড়ামত দিবস পর্যন্ত রাজত্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকবে” দ্বারা এদিকেই ইঙ্গিত করেছে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ইয়ামান বাসীরা দাবী করে যে,সেখানকার একটি পাথরে যবুর
কিতাবের উক্তি লিখিত ছিল ৷ এটি প্রাচীন যুগের লিখিত হয়েছিল ৷ তাতে লেখা ছিল রাজত্বের
মালিক হবে শ্রেষ্ঠ হিময়ারীগণ ৷ রাজত্বে র মালিক হবে মন্দ লোক হড়াবশীণণ, রাজত্বের মালিক
হবে স্বাধীন পা ৷রসিকগণ ৷ রাজত্বের মালিক হবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় কুরায়শগণ ৷

একজন করি এই বিষয়টিকে কবিতায় সন্নিবোশিত করেছেন ৷ মাসউদীত ৷উল্লেখ করেছেন

যুদ্ধের প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন হল তখন বলা হল তুমি কার পক্ষে? তখন যে বলল শ্রেষ্ট
সম্প্রদায় হিমইয়৷ রীদের পক্ষে ৷

তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হল, এবার তুমি কার? তখন সে বলল , মন্দ ব্যক্তি হাবশীদের
পচুক্ষ
ব্লু ৷
তারপর তারা বলল, এবার তুমি কার পক্ষে ? সে বলল স্বাধীন ঢেতব্ পারসিকদের পক্ষে ৷
তারপর বলা হল এবার তুমি কার পক্ষে? সে বলল, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় কুরায়শদের পক্ষে ৷
কথিত আছে, যে, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা হযরত হুদ
(আ)-এর কবরের পাশে লিখিত পাওয়া গিয়েছিল ৷ বায়ু প্রবাহের ফলে ইয়ামানে অবস্থিত তার
কবরের মাটি সরে গেলে এটি পাওয়া যায় ৷ রাণী বিলকীসের শাসনামলের অল্প কিছুদিন পুর্বে
আমর যিলি ইযআ’বের ভাই মালিক যীল মানারের শাসনামলে এ র্ঘটনা ঘটে ৷ কেউ কেউ

বলেন, এটি হযরত হ্রদ (আ) এর কবরের উপরের লেখা ছিল এটি তারই বাণী ৷ শেষোক্ত
মন্তব্য করেছেন আল্লামা সুহায়লী (র) ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷

হাযর অধিপতি সাতিরুন-এর বিবরণ

আব্দুল মালিক ইবন হিশাম এ পর্যায়ে সাতিরুন-এর আলোচনার অবতারণা করেছেন ৷
কারণ ইয়ড়ামান রাজ্য পুনরুদ্ধারে সায়ক ইবন যী ইয়াযানের নু’মান ইবন মুনযিরের নিকট
সাহায্য প্রার্থনা গ্রসংগে যে নু’মানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কোন কোন কুলজী বিশারদ
বলেছেন যে, সেই নুমান হাযর অধিপতি সাতিরুন’ এর অধষ্কস্তন বংশধর ৷ ইতিপুর্বে ইবন
ইসহড়াক সুত্রে আমরা উল্লেখ রুরেছি যে, নু’মান ইবন মুনযির হচ্ছেন রাবীআ ইবন নাসর এর

শধর ৷ উপরন্তু জুবায়র ইবন মুতইম সুত্রে ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে নু মান হল
কায়সার ইবন ম র্দি ইবন আদনানের বংশধর ৷ বন্তুত নুমান ইবন মুনযিরের বংশ তালিকা
সম্পর্কে এ তিন প্রকারের বক্তব্য এসেছে ৷ এই সুত্রে ইবন হিশাম (র) হাযর অধিপতি
সাতিরুন’ এর আলোচনার অবতারণা করেছেন ৷ হাযর হল একটি বিশাল দুর্গ ৷ বাদশা
সাতিরুন ফোরাত নদীর তীরে এটি নির্মাণ করেন ৷ প্রাসাদটি গগনচুম্বী, সুউচ্চ, সুপ্রশস্ত ও
বিশালায়তনটি ৷ এটির চৌহদ্দী একটি বিরাট শহরের সমান ৷ দৃঢ়তা, সৌন্দর্য ও চমৎকারিত্বে
এটি তুলনাহীন ৷ চতুর্দিক থেকে সড়ক ও জনপথ সমুহ এখানে এসে থেমেছে ৷ সাতিরুনের নাম
দীবান ইবন মুআবিয়া ইবন উবায়দ ইবন আজরম ৷ আজরম হল সাতিহ ইবন হুলওয়ান ইবন
ইলহাফ ইবন কুযাআ এর বংশধর ৷ ইবন কুযাঅ৷ তার এ বংশ তালিকা উল্লেখ করেছেন ৷

অন্যান্য ৰুকুলজী বিশারদগণ বলেন, যে ছিল জারমুক বংশের অন্তর্ভুক্ত এবং একজন
আঞ্চলিক রাজা ৷ তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলে সাতিরুনকে সকলের সম্মুখে এগিয়ে
দেয়া হতো ৷ তার দুর্গ ছিল দিজল৷ ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী স্থানে ৷

ইবন হিশাম বলেন, পারস্য সম্রাট সাপুর যুল আকতাফ আলোচ্য হাযর অধিপতি
সাতিরুনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ৷ ইবন হিশাম ব্যতীত অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ বলেন, হাযর
অধিপতি সাতিরুনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল সাপুর ইবন আয়দশীর ইবন বাবক , সে সাসান
গোত্রের প্রথম রাজা ৷ সে আঞ্চলিক রাজাদেরকে পদানত করে পারস্য সাম্রাজেব্রর অধীনে
ফিরিয়ে এনেছিল ৷ পক্ষ ম্ভবে সাপুর যুল আকতাফ ইবন হরমুয সে পুর্বোক্ত সাপুর ইবন্
আরদশীরের বহুকাল পরের লোক ৷ আ ৷ল্লাহ্ইভ ল জ নেন ৷ এটি সুহায়লীর বর্ণনা ৷ ইবন হিশাম
বলেন, পারস্য সম্রাট সাপুর সাতিরুনকে দীর্ঘ দুই বছর পর্যন্ত দুর্গের মধ্যে অবরুদ্ধ করে
রাখে ৷ অন্যরা বলেন, এই অবরোধের মেয়াদ ছিল চার বছর ন্ আক্রমণের কারণ এই ছিল যে,
সম্রাট সাপুর ইরাক সফরে থাকার কারণে অনুপস্থিতির প্রাক্কালে সাতিরুন গিয়ে সাপুরে রাজ্য
আক্রমণ করে এবং সেখানে লুটপাট চালায় ৷ প্রতিশোধ স্বরুপ সাপুর তার উপর আক্রমণ করে
এবং অবরোধ সৃষ্টি করে ৷ অবরোধকালীন সময়ে এন্ন্ধন্দিন সাতিরুনের কন্যা দুদ্বর্গর ছাদে
আরোহণ করে ৷ তার নাম নাযীরা ৷ সম্রাট সাপুরকে দেখে খােয়টি আসক্ত হয় ৷ সাপুরের পরনে
ছিল রেশমী কা ৷পড় আর মাথায় ছিল মনি মুক্তা ও ইয়াফুত পাথর খচিত স্বর্ণ মুকুট ৷ সে ছিল
সুদর্শন ও রুপবান যুবক ৷ নাযীরা গোপনে সাপুরের নিকট বাত ৷ পাঠায় যে পিতার দুর্গের
ফটক খুলে দিলে তুমি কি আমাকে বিয়ে করবো সাপুর ইতিবাচক উত্তর দেয় ৷
সন্ধ্য৷ বেলা সাতিরুন প্রচুর মদপান করে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ৷ নেশাগ্রস্ত না হয়ে সে
ঘুমাতাে না ইত তাবসরে নাযীরা সাতিরুনের মাথার নীচ থেকে দুর্গের চাবি নিয়ে আসে এবং তার
এক ক্রীতদ৷ ৷সের মাধ্যমেও ৷ ৩াসাপুরের নিকট প৷ ৷ঠিয়ে দেয় ৷ সা পুর প্রাসাদের ফটক খুলে ফেলে ৷
কেউ কেউ বলেন, নাযীরা ওদেরকে একটি প্রশস্ত ঝর্নার কথা জানিয়ে দেয় ৷ সেটির মধ্য দিয়ে
প্রাসাদের ভেতরে পানি প্রবেশ করত ৷ অতঃপর ঐ ঝর্নার ভেতর দিয়ে তারা “হাযর দুর্গে
প্রবেশ করে ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, “হাযর প্রাসাদে অবস্থানরত একটি গুপ্তরহস্য সে
তাদেরকে জানিয়ে দেয় ৷ তাদের জানা ছিল যে, একটি নীল কবুতর ধরে তার পা দু’টি যতক্ষণ
না কুমারী বালিকার রজঃস্রাবের রক্তে রঞ্জিত না করা হবে এবং সেটিকে ছেড়ে না দেয়৷ হবে
ততক্ষণ ঐ ফটক খুলবে না ৷ ঐ কবুতর গিয়ে দুর্গের প্রাচীরে পতিত হলে ঐ যাদুকরী প্রভাব
বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং যল্টক খুলে যাবে ৷ সাপুর তাই করল এবং দরজা খুলে গেল ৷ সে তখন
ভিতরে ঢুকে সাতিরুনকে হত তাড়া করে হাযর প্রাসাদকে লুটতরাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় এবং
ৎস করে ফেলে ৷ তারপর নাযীরাকে দিয়ে বিয়ে করে ৷ একরাতে নাযীরা বিছ৷ ৷নায় ঘৃমুতে গিয়ে
অনিদ্র৷ ৷য় ছটফট করতে থাকে ৷ সাপুর একটি প্রদীপ আনিয়ে তার বিছানা পরীক্ষা করে বিছানায়
একটি ফুলের পাতা খুজে পায় ৷ সে নাযীরাকে বলে, এটা ই কি তোমার অজ্যিার ক ৷রণপ্ উত্তরে
সে বলে, হ্যা, সাপুর বলে তোমার পিত৷ তোমাকে নিয়ে কি করত? সে বলল, তিনি আমার
জন্যে মখমলের বিছ৷ ৷ন৷ বিছা ৷তেন ৷ আমাকে রেশমী ক৷ ৷পড় পড়াতেন ৷ হাড়ের মগজ খাওয়াতেন
এবং মদ পান করাতেন ৷ সাপুর বলে তুমি ওে ৷মার পিতার সাথে যে আচরণ করেছ এটি কি
ড্রার উচিত প্রতিদলোঃ আমার প্রতি তোমার বিশ্বাসঘাতকতা তা হলে আরো দ্রুততর হবে ৷
অতঃপর তার চুলের রেনীকে ঘোড়ার লেজের সাথে বেধে ঘোড়াটিকে ছুটিয়ে দেওয়া হয় ৷
এভাবে তার মৃত্যু হয় ৷ এ প্রসঙ্গে করি আ’শা ইবন কায়েছ ইবন ছালাবা বলেনঃ

তুমি কি দেখনি হাযর দৃশ্চেরি অধিবাসীদেরকে যখন তারা ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল ? কোন
নিয়ামত ও শান্তি কি চিরস্থায়ী?

বাদশাহ সাপুর দৃ’ বছর দুর্গের চা ৷বিদিকে তার সৈনিক দ্ব ৷র৷ অববাে ধ করে রেখেছিল ৷ তাতে
তারা কুঠারাঘা ৷ত করত ৷
যখন তার প্রতিপালক ডাক দিল ৷ তখন সে তার দিকে ফিরে গেল ৷ প্রতিশোধ গ্রহণ করল
না ৷

তার প্রতিপালক কি তার কো ন শক্তি বৃদ্ধি করেছেঃ ঐরুপ আশ্রয়দাতা কোন সাহায্য করতে
পারে না ৷

যে তার সম্প্রদায়কে ডা ৷ক দিয়েছিল ৷ এই বলে যে, তোমরা এগিয়ে আস এমন এক কর্মের
প্রতি যা চুড়ান্ত হয়ে গিয়েছে

তোমরা তরবারী ধারণ করে মর্যড়াদার সাথে মৃত্যুবরণ কর ৷ আমি মনি কবি, যে ব্যক্তি কষ্ট
সইিষ্ণু মৃত্যু সহজে তার নিকট আসে না ৷

এ প্রসঙ্গে আদী ইবন যায়দেরও দীর্ঘ কবিতা রয়েছে যার শেষ কয়টি পংক্তি এরুপঃ

তুমি স্মরণ কর থাওরানাক১ প্রাসাদের মালিকের কথা ৷ একদিন সে প্রাসাদের ছাদে
উঠেছিল ৷৩ তার জীবনে হেদ যা প্রার্থীদের জন্যে চিন্তার খােরাক রয়েছে ৷

তার ধন সম্পদ ও মালিকানাধীন বন্তুসমুহ, তাকে আনন্দ দান করেছিল ৷

অবশেষে তার অন্তর সুপথ প্রাপ্ত হল এবং সে বলল, কো ন জীবিত ব্যক্তির ঈর্ষণীয় কীই বা
আছেঃ সে তো মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে ৷

অবশেষে তারা হয়ে গেল শুকনো পাতায় ন্যায় ৷ পুবাল ও পশ্চিমী বায়ু সেটিকে
ওলট পালট করে দেয় ৷

১ রুৰু৮ৰু টুএ১এ প্রথম ৰুমান কর্তৃক নির্মিত রাজপ্রাসাদ

আমি বলি কবিতায় উল্লেখিত খাওরানড়াক প্রসারের মালিক হলো প্রাচীন যুগের অন্যত
খ্যাতিমান রাজা ৷ তার অপচয়, সতাদ্রোহিতা সীমালংঘন, গৌড়াযী, কু প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং
আপন প্ৰতিপালকের অবাধ্যতার জন্যে সে যুগের জনৈক আলেম তাকে উপদেশ দেন ৷ তার
পুর্ববর্তীরাজা বাদশাহ ও রাজ্য রাজত্বের কথা উল্লেখ করে তনি তাকে উপদেশ দেন যে, কেমন
করে ওরা সবাই ধ্বংস হয়ে গেল এবং তা ৩াদের কেউই অবশিষ্ট থাকল না ৷ তিনি আরো বললেন
অন্যের নিকট থেকে যে রাজত্ব হস্ত৷ ৷ম্ভরিত হয়ে আপনার ৷ন্ ম্কট এল আপনার মৃতু ভ্যুর পর সেটি
হস্তা ৷ন্তরিত হয়ে অন্যের নিকট চলে যাবে ৷ উক্ত আলেমের উপদেশ তার মনে গভীর রেখা ৷পাত
করে এবং চুড়ান্ত ভাবাবেগের জন্ম দেয় ৷ ফলে৩ার অন্তর ইিদায়ান্ব৩ র দিকে ফিরে আসে ৷ সে
একদিন একরাত চিন্তা করে ৷ সংকীর্ণ কবরের ভয় তার অম্ভরে জ ৷গে ৷ অতঃপর সে তাওবা করে
এবং ইতিপুর্বেকার সকল অপকর্ম থেকে নিবৃত হয় ৷ সে রাজতু ত্যাগ করে ৷ ফর্কীর বেশে মাঠে
প্রাম্ভরে ঘোরা ফেরা করে এবং নির্জ্যাতাপ্রিয় হত্তে উঠে ৷ প্রবৃত্তির অনুসরণ ও বিশ্ব
প্ৰতিপা ৷লকের অবাধ্য৩ ৷ থেকে নিজেকে নিবৃত রাখে ৷

শায়খ ইমাম মুওয়ড়াফ্ফিক ইবন কুদাসা মুকাদ্দিসী (র) তার আত তাউয়াবীন’ কিভাবে
এই ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন ৷ মজবৃত সনদে সুহাইলী তার সৃৰিন্যস্ত কিতাব
আররাওযুল উনুফ কিভাবে এটি উল্লেখ করেছেন ৷

আঞ্চলিক রাজাদের বিবরণ

ইতিপুর্বে আলোচিত হয়েছে যে হাযর অধিপতি সাতিরুন ছিলআিঞ্চলিক রাজাদের মধ্যে
শ্রেষ্ঠ ৷ তার মেসিডোনিয়ার ফিলিপৃস৩ তনয় গ্রীকসম্র৷ ট আলেকজা ভোরের যুগ ৷ কারণ তিনি যখন
পারস্য সম্র৷ ৷ট দা ৷রা ইবন৷ দ ৷রার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন, তার সম্রাজ্য পদানত করেন এবং তার
শহর নগর বিধ্বস্ত করে দিয়ে তার কােষাগারসমুহ লুট করে, পারসিকদের শক্তিকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন
করে যেন তখন তিনি এই স০কল্পও করেন যে, অতঃপর তারা যেন কোন প্রকারেই ঐক্যবদ্ধ
হতে না পারে ৷ এজন্যে তিনি তাদের এক একজন লোককে আরব-অনারব অঞ্চলের এক একটা
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজের জনগণের জন্য রাজা রুপে মনোনীত করেন ৷ এদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ
এলাকার নিরাপত্তা বিধান করে ৷ বহিরাক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষা ৷র ব্যবস্থা করত এবং কর আদায়
করত ৷ সংশ্লিষ্ট কোন রাজার মৃত্যু হলে তারই কোন পুত্র কিৎবা ঐ সাম্প্রদায়ের অন্য কাউকে
তার স্থলে রাজা রুপে নিয়োগ করা হতো ৷ প্রায় ৫০০ বছর এভাবেই অতিবাহিত হয় ৷ তারপর ’
আবির্ভাব হয় সম্র৷ ৷ট “ আরদশীর” ইবন বাবকের ৷ তিনি ছিলেন সাসান (ইবন বাহমান ইবন
ইসকান দিয়ার ইবন ইয়াশ৩াসিব ইবন লাহরাসিব) এর অন্যতম পুত্র ৷ তিনি পারস্য রাজ্য
পুনরুদ্ধার করে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয় ৷ তিনি সকল আঞ্চলিক রাজ্য তার অধীনে নিয়ে
আসেন আঞ্চলিক সকল রাজার রাজ্যের তিনি বিলুপ্তি ঘোষণা করেন ৷ তাদের কোন ধন সম্পদ
তিনি অক্ষুন্ন রাখেননি ৷ তাদের সংশ্লিষ্ট রাজ্য হাযর পুনর্দখল হয় অনেক দেরীতে ৷ আরদশীরের
মৃত্যুর পর তার পুত্র সাপুর তা অবরোধ করেন এবং তা দখল করে নেন ৷ ইতিপুর্বে এ ঘটনা
আলোচনা হয়েছে ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়৷ (২য় খণ্ড) ৪৫

ইসমাঈল (আ)-এর বংশধরগণে এবং জাহেলী যুগ থেকে নবুওয়াত
প্রাপ্তিকাল পর্যন্ত ঘটনাবলী

নবীগণের আলোচনা প্রসংগে হযরত, ইসমাঈল (আ)-এর কথা আলোচিত হয়েছে৷ তার
মা হাজেরাসহ র্তাকে সাথে নিয়ে পিতা ইবরাহীম (আ) মক্কায় যে অণমন আলোচনা করেছিলেন
এবং ফারান পর্বতের পাদদেশে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করে ছিলেন তাও আলোচিত হয়েছে ৷

সেখানে তার না ছিল কোন বন্ধু-বড়ান্ধব আর না ছিল কোন সহানৃভুতিশীল লোক ৷ তখন
হযরত ইসমাঈল (আ) দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন ৷ আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহীম (আ)
তাদেরকে সেখানে রেখে চলে যান ৷ এক থলে খেজুর ও এক মাত্র পানি ছাড়া হাজেরা (আ ) এর
নিকট তখন অন্য কিছু ছিল না ৷ তা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ্ তাআলা হযরত হাজেরা
(আ) এর জন্যে যমযম কুয়ো উৎসারিত করে দেন ৷ এটির পড়ানি ছিল একই সাথে সৃমিষ্ট খাদ্য
স্বরুপ ও রোগের প্রতিষেধক ৷ ইমাম বুখারী (র) বর্ণিত হযরত ইবন আব্বাস (বা)-এর দীর্ঘ
হাদীসটিতে তা আলোচিত হয়েছে ৷ এরপর মক্কায় হাজিরা (আ)-এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগমন
করে জুরহুম গোত্র ৷ এ কুয়াে থেকে তাদের শুধুমাত্র পানি পান করার ও প্রয়োজনীয় কার্যাদি
সমাধার অনুমতি ছিল ৷

সঙ্গীরুপে তাদেরকে পেয়ে হযরত হাজেরা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন ৷ হযরত ইবরাহীম (আ)
নিয়মিত তাদের খোজখবর নিতে আসতেন ৷ কথিত আছে যে, বায়তুল মুকাদ্দস ও মক্কা
যাতায়াতে তিনি বুরাকে আরোহন করতেন ৷ হযরত ইসমাঈল যখন দৌড়াদৌড়ি করার মত
বয়সে পৌছলেন এবং পিতার সাথে কাজ করার মত তরুণে পরিণত হলেন তখন তার কুরবানী
বিষয়ক ঘটনাটি সংঘটিত হল ৷ ইতিপুর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে, বিশুদ্ধ মতানুযায়ী হযরত
ইসমাঈল (আ)-কেই কুরবানীর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ৷ হযরত ইসমাইল (আ) বয়ঃপ্রাপ্ত হলে
জুরহুম গোত্রের এক মহিলার সাথে তার বিবাহ হয় ৷ পরে ঐ ত্রীর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়
এবং তিনি অন্য মহিলাকে বিবাহ করেন ৷ এবার তিনি বিবাহ করেন মৃদাদ ইবন আমর
জুরহুমীর কন্যা সাইয়েদাকে ৷ তার গর্ভে ১২ জন পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন ৷ ইতিপুর্বে তাদের
কথাও, আলোচিত হয়েছে ৷ এ পুত্রগণ হলেন নাবিত, কায়যার, মানশা, মিসমা, মাশী, দিম্বা,
আযরট্রু ইয়াতৃর, নায়শী, তাইমা এবং কায়যুমা ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ও অন্যরা কিতাবীদের
গ্রন্থ সুত্রে এরুপই উল্লেখ করেছেন ৷ হযরত ইসমাঈল (আ) এর একজন মাত্র কন্যা সন্তান
ছিলেন ৷ তার নাম ছিল নাসিমা ৷ তার ভ্রাতুম্পুত্র ঈসু ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীমের নিকট
তাকে বিবাহ দেন ৷ এ কন্যার গর্ভে রুম ও কারিমের জন্ম হয় ৷ এক বর্ণনা মুতাবিক আশৃবানও
;,র্তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন ৷

হেজাজী আরবগণ বিভিন্ন গোত্র ও উপগােত্রে বিভক্ত হলেও বংশগত উৎসের দিক থেকে
তারা হযরত ইসমাঈল (আ)-এর দু’পুত্র নাবিত ও কায়যার-এর বংশধর ৷ হযরত ইসমাঈল
(আ) এরপর তার পুত্র নাবিত কাবা শরীফ ও যমযমের তত্ত্বাবধায়ক, মক্কা ষুকাররমার প্রশাসক
হন এবং ঐ অঞ্চলের নেতৃতৃ গ্রহণ করেন ৷ তিনি জুরহুমীদের ভাগ্রেও বটে ৷ এরপর ভাগ্নেদের
হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে জুরহুমীগণ কাবা শরীফের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে ৷ অতঃপর

ইসমাঈল বং শীয়দের স্থলে৩ তারাই দীর্ঘদিন মক্কা যুক৷ ররমা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা শাসন করে ৷
নাবিত এরপর জুরহুমীদের মধ্যে সর্বপ্রথম শাসনভার গ্রহণ করে মুদাদ ইবন আমার ইবন সাদ
ইবন রাকীব ইবন আবীর ইবন নাবৃত ইবন জুরহুম ৷ জুরহুম ছিলেন কাহতানের পুত্র ৷

কেউ কেউ বলেন, জুরহুমের বংশ তালিকা হল জুরহুম ইবন ইয়াকতান ইবন আবীর ইবন
শালিখ ইবন আরফাখশায ইবন নাম ইবন নুহ্ ৷ তিনি বসতি স্থাপন করেছিলেন মক্কার উচু
অঞ্চল ক ইকা আল নামক স্থানে ৷ কাতৃরা সম্প্রদায়ের ( ন ৷ সামীদা তার সম্প্রদায়কে নিয়ে
বসতি স্থাপন করেন মক্কার নিম্নাঞ্চলে ৷ তাদের উভয়ে নিজ নিজ এলাকা দিয়ে মক্কায়
যাতায়ড়াতকারী কাফেলা থেকে কর উশুল করত ৷ পরবর্তীতে জুরহুম ও কাতৃরা সম্প্রদায়ের মধ্যে
মতবিরোধ সৃষ্টি’ হয় এবং তারা যুদ্ধে লিপ্ত হয় ৷ যুদ্ধে সামীদা নিহত হয় ৷ মুদাদের ক্ষমতা
অধিকতর দৃঢ় হয় ৷ তিনি মক্কা মুকাররমা ও বায়তুল্লাহর একচ্ছত্র শাসকরুপে আবির্ভুত হন ৷
ইসমাঈল বংশীয় লোকজন তখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মর্যাদাবান এবং মক্কায় ও অন্যান্য স্থানে প্রভাব
বিস্তা ৷রক৷ ৷রী ছিল ৷ কিন্তু মুদাদ তাদের মাতুল হওয়ার কারণে এবং বায়তৃল্লাহ্ শরীফের সম্মানের
খাতিরে ইসমাঈল বং শীয় কেউ তার বিরুদ্ধাচারণ করেনান ৷ মুদাদের পর তার পুত্র হাবিছ
কর্তৃতৃ লাভ করে ৷ তারপর ক্ষমতা লাভ করেন হারিছের পুত্র আমর ৷ এরপর জুরহুম গো ল
মক্কায় সত্যদ্রোহিতা ও অনাচারে লিপ্ত হয় ৷ তারা চরম অশা ৷স্তি সৃষ্টি করে ৷ মসজিদুল হারামুে
পাপ কার্য সংঘটিত করে ৷
কথিত আছে যে, আসাক ইবন বুপ৷ নামক জনৈক পুরুষ এবং নাইলা বিনত ওয়ায়িল নাস্বী
এক মহিলা কাবা শরীফে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় ৷ আল্লাহ তড়াআলা তাদের দৃজনকে পাথরে
পরিণত করে দেন ৷ তাদের দৃজনকে দেখে মানুষ যেন শিক্ষা গ্রহণ করে এ উদ্দেশ্যে তাদের
প্র স্তরমুর্তি বায় তুল্লাহ শরীফের অদুরে এক জায়গায় স্থাপন করা হয় ৷ দীর্ঘদিন পর খুযাআ
গোত্রের শাসনামলে মানুষ আল্লাহ্কে ছেড়ে এ দু টি মুর্তির উপাসনা শুরু করে ৷ শেষ পর্যন্ত
তারা আসাফ ও নাইলা নামের দেব-ক্কুদবীতে পরিণত হয় ৷

জুরহুম গোত্র যখন হারাম শরীফ ও সম্মানিত নগরীতে ব্যাপক হারে পাপাচার ও
সীমালংঘন শুরু করে তখন খুযাআ গোত্র তাদের বিরুদ্ধে রুখে দীড়ায় ৷ খুযাআ গোত্র ইতিপুর্বে
হারাম শরীফ এলাকায় বসবাস করছিল ৷ তারা ছিল আমর ইবন আমির-এর বংশধর ৷
ইয়ামানের বীধ ভাঙ্গ৷ প্লাবনের ঘটনায় সে ইয়ামান ত্যাগ করে এ অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন
করেছিল ৷ কেউ কেউ বলেন যে, খুযাআ ছিল হযরত ইসমাঈল (আ )-এর বংশধর ৷ আল্লাহ
ভাল জানেন ৷

রন্তুত জুরহুমীদের অনাচারের প্রেক্ষিতে খুযাআ গোত্র ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে সংঘবদ্ধ
হয় এবং ওদেরকে যুদ্ধের আহবান জানায় ৷ উভয় পক্ষে যুদ্ধ হয় ৷ এ সময়ে ইসমাঈল বংশীয়গণ
নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে ৷ যুদ্ধে খুযাআ গোত্রের জয় হয় ৷ তারা বনু বকর ইবন আবদ
মানাত গোত্র ও পাবশান গোত্র, তারা জুরহুমীদেরকে বায়তৃল্লাহ শরীফ ও তৎসংলপ্ন এলাকা
থেকে বহিষ্কার করে ৷ তখন তাদের নেতা আমর ইবন হারিছ ইবন মুদাদ জুরহুমী বায়তৃল্লাহ
শরীফের দৃই প্রধান ও প্রিয় বস্তু রুকন ও হাজরে আসওয়াদ খুলে নেয় ৷ সাথে অলংকৃত

তরবারীগুলো এবং অন্য কতক বন্তু কাব৷ শরীফ থেকে খুলে নিয়ে সবগুলো যমযম কুপের মধ্যে
পুতে ফেলে এবং যমযম কুপে একটি চিহ্ন স্থাপন করে ৷ অবশেষে নিজের সম্প্রদায়ের
লোকজনসহ সে ইয়ামানে ফিরে যায় ৷
এ উপলক্ষে দলনেত৷ আমর ইবন হ ৷রিছ ইবন মুদা দ বলেন ং
এ সব প্ৰত্যাবতনিঃকারী কাফেলা তাদের অশ্রুরাশি ৷দ্রুত গড়িয়ে পড়ছে ৷ এদিকে চোখের
অশ্রু ঝড়ি য়ে মক্কার হ তীম ও সম্মানিত ৩স্থানগুলােও পুর্বদিকে যাত্রা করেছে ৷
যেন সুদুর সাফা পর্বত পর্যন্ত পাহাড়ে পর্বতে তার কে ন বন্ধু ছিল না এবং ছিল না মক্কা
ভুমে রাত্রে একান্ত কথা বলার কো ন সুজন ৷

প্রিয়ভুমি মক্কার উদ্দেশ্যে আমি বললাম তখন আমার হৃদয় এমন অস্থির ছিল, যেমন থাকে
দু’ পাখা র মাঝখানে মাথা আছড়ানাে পাখি ৷

হী৷ আমব ই তার উপযুক্ত অধিবাসী ছিলাম, অত ংপর যুগচক্র ও বদনসীবী আমাদেরকে
সেখান থেকেও ৷ড়িয়ে দিল ৷

নাবিতের পর আমরাই আল্লাহর পৃহের তত্ত্বাবধায়ক ছিলাম, সেই সুত্রে আমরা ঐ পৃহের
তাওয়াফ করতাম ৷ এতে কল্যাণ ও লাভ তো সুস্পষ্ট ৷

নাবিতের পর আমরা অত্যন্ত সম্মান ও গৌরবের সাথে ঐ পৃহের তত্ত্বাবধান করেছি ৷ ফলে
পরম ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিও আমাদের ন্যায় সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেনি ৷
আমরা রাজত্ব লাভ করেছি, আমরা সম্মানের অধিকারী হয়েছি আমাদের রাজতু ছিল পরম

গৌরবের ৷ সেখানে আমরা ব্যতীত অন্য কৈান গোত্র ও সম্প্রদায়ের জন্যে অহংকার প্রদর্শনের
অবকাশ ছিল না ৷

তোমরা কি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করনিঃ নিশ্চয়ই আমি তো তা
জা ৷নি ৷ সুতরাং সে ব্যক্তির ছেলেমেয়ে আমাদেরই রক্ত সম্পর্কিত এবং আমরা শ্বশুর গোষ্ঠী ৷

পৃথিবী যদি তার পুর্বাবস্থা সহকারে পুনরায় আমাদের নিকট ফিরে আসে তবে তখন তার
একটা স্মবণযােগ্য অবস্থা সৃষ্টি হবে এবং তাতে পরস্পর প্রতিদ্বন্দিতা ও মুক৷ ৷বিল৷ হবে ৷

মহান মালিক ও প্রভু আপন কুদরতে আমাদেরকে ওখান থেকে বের করে দিলেন ৷ হায়
ভাবেই মানুষের জন্যে অদৃষ্টের লিখন কার্যকর থাকে ৷

উদ্বেগ উৎকণ্ঠাহীন ব্যক্তিবর্গ যখন নিশ্চিস্তে ঘুমায় তখনও আমি ঘুমাই না , আমি জেগে
জেগে বলি, হায় আরশ যেন সুহায়ল ও আমিরকে বিতাড়িত না করে ৷

শেষ পর্যন্ত আমার পরিবর্তে এমন কতক লোককে স্থান দেয়৷ হয় আমি যাদেরকে তা ৷লবাসি
না৷ তারা হল হিমযার ও ইউহাবির গো ত্র ৷

অনম্ভর আমরা হয়ে গেলাম কাহিনীর বিষয়বস্তু ও ইতিহাসের উপাদান ৷ অথচ আমরা
ছিলাম অন্যের ঈষৰি কারণ ৷ অনাগতৃ কাল পরিক্রমা আমাদেরকে দৎশন করেছে ৷

চোখে অশ্রু নির্গত হল অবিরাম, সেই শহরের জন্যে ক্রন্দনের কারণে যে শহরে রয়েছে
হারাম শরীফ এবং যেখানে রয়েছে কুদরতের নিদর্শনাবলী ৷

চক্ষু ক্রন্দন করছিল সেই মহান গৃহের জন্যে যেখানে কবু৩ তর কষ্ট পায় না ৷ বরং যেখানে
এসে নিরাপদে ছায়া ভোগ করে , যেখানে রয়েছে নিরুদ্বিগ্ন চড়ুই পাখির দল ৷
সেখানে রয়ের্দুছ বন্য পশু পাখি; সেগুলোকে (পড়ায় মানানোর প্রয়াস চাওয়া হয় না সেগুলো
সেখান থেকে একবার বেরিয়ে গেলেও স্থায়ীভাবে সে স্থান ছেড়ে যায় না ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, জুরহুমীদের পরে মক্কার কৃর্তৃতু গ্রহণকারী বনু বকর ও গাবশান
গোত্রের কথা উল্লেখ করে আমর ইবন হারিছ ইবন মুদাদ আরও বলেছেন :

হে লোক সকল (বনু বকর ও গাবশান) ভ্রমণ কর যাও কারণ

তোমাদের শেষ সীমানা এ৩ তটুকু যে, এমন একদিন আসবে যখন তোমরা আর চলাচল করতে
পারবে না

উটকে উত্তেজিত কর, উদ্বেলিত কর এবং তার লাগাম শিথিল করে দাও মৃত্যু আমার পুর্বেই
এবং যা করতে চাও মৃত্যুর পুর্বেই তা করে না ও ৷

তোমরা এখন যেমন আমরাও একসময় তেমন ছিলাম ৷ কা লচক্র আমাদেরকে পরিবর্তিত ও
স্থানান্তরিত করে দিয়েছে ৷ আমরা যেরুপ হয়েছি আমাদের যে পরিণতি হয়েছে তােমরাও যেরুপ
হবে ৷

ইবন হিশাম্ (র) বলেন, আমর ইবন হারিছের কবিতাগুলাের মধ্যে এগুলোই আমরা বিশুদ্ধ
সুত্রে পেয়েছি কতক কবিতা বিশেষজ্ঞ আমাকে জানিয়েছেন যে, এগুলেইি আদি আরবী কবিতা ৷
ইয়ামড়ান দেশে পাথরে লিখিত অবস্থায় এগুলো পাওয়া গেছে ৷ এগুলো রনো করেছে কোন ব্যক্তি
তার অবশ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি ৷ সুহায়লী (র) এগুলোর সম পর্যায়ের অনুরুপ আরো কতক
কবিতা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে এক অদ্ভুত ঘটনা ৷ও বর্ণনা করেছেন এগুলো অন্য ভাষা
থেকে আরবীতে রুপ৷ ৷ন্তরিত বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন ৷

তিনি বলেন, আবুল ওলীদ আযরাকী তার ফাযায়েলে মক্কা গ্রন্থে আমর ইবন হারিছের
উপরোল্পেখিত কবিতা ৷র সাথে নিম্বো ৷ক্ত কবিতাগুলো সংযোজন করেছেন ৷

কালচক্র আমাদেরকে আঘাত করেছে অত০পর আমাদের মধ্যে সত্যদ্রোহীতা ৷সৃষ্টি করে
আমাদেরকে ধ্বংস করেছে ৷ অথচ মানুষের মধ্যে সাহসী ও দক্ষ যোদ্ধা ৷ছিল আমাদের
লোকগুলাে ৷

তোমাদের পুর্বে যায়৷ ছিল তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোজ খবর নাও, তবে জানতে পারবে
যে, আমাদের জন্যে সত্য পথ যেমন উন্মুক্ত হয়েছিল শেষ পর্যন্ত অপমান ও লাঞ্চুনাও তেমনি
এসেছে ৷

তোমাদের পুর্বে দীর্ঘক৷ ৷ল আমরা মানুষের উপর রাজত্ব করেছি আল্লাহ তাআলার সম্মানিত
স্থান হ ৷রাম শরীফে বসবাস করেছি আমরা ৷

খুযাআ গোত্র, আমর ইবন লুহাই এবং আরবদের মুর্তি পুজার সুচনা

ইবন ইসহাক (র) বলেন, বনু বকর ইবন আব্দ মানাতকে বাদ দিয়ে থুযাআ গোত্রের
পাবশান উপগােত্র কাবা শরীফের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয় ৷ আমর ইবন হারিছ পাবশানী উক্ত
উপগোত্রের দলপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে ৷ কুরায়শ গোত্র তখন পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও বনী কিনানার
বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল ৷

ঐতিহড়াসিকগণ বলেন, ইয়ামান ত্যাগ করে লিবিয়া অভিমুখে যাত্রা কালে আমরা আমর
ইবন আমিরের বংশধরদের মধ্য থেকে ত রা বিচ্ছিন্ন ও পৃথক হয়ে যাওয়ার কারণে এদেরকে
খুযাআ (বিচ্ছিন্নত৷ দল) বলা হয়? মাররুয় মাহরান নামক স্থানে এসে তারা বসবাস করতে
থাকে ৷

আওন ইবন অ৷ ৷ইয়ুব আনসারী খায়রাজী (বা) এ প্রস্ ৎগে বলেন ং

আমরা যখন মরু অঞ্চলে অবতরণ করি তখন খুযা আ ৰুা৷ত্র দলবদ্ধডাবে আমাদের থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ৷

৩ারা তিহাম৷ অঞ্চলের সকল উপত্যকা ৎরক্ষণ করেছে এবং সুকঠিন বর্শ৷ ও সুর্তীক্ষ্ণ ধার
তরবারী৷ দ্ব ৷রা নিজেদেরকে রক্ষ৷ করেছে

আবুল মুতাহ্হার ইসমাঈল ইবন রাফি আনসারী আওসী বলেন ৪-
আমরা যখন মক্কার জমিতে অবতরণ করলাম তখন খুযাঅ৷ ঐ বৃক্ষ ভর্তি থেজুরের দেশের
প্ৰশ্৷ ৎস৷ করল ৷

অতঃপর তারা দলবদ্ধভাবে সেখানে নেমে পড়ল আর ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে
নাজদের উচ্চ ভুমি ও সমুদ্র তীরের মধ্যবর্তী সকল গোত্রের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল ৷

তারা মক্কা ভুমি থেকে জুরুহুম গোত্রীয় লোকদেরকে বিতাড়িত করে এবং সুঠামদেহী
খুযা আ গো ৷ত্রীয় সম্মানের পােশাকত রা৷ পরিধান করেছে ৷

বন্তুত খুযাআ গোত্র তখন বায়তুল্লাহ শরীফের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয় ৷ পুরুষানুক্রমে
একের পর এক তার৷ ঐ দায়িতৃ পালন করে ৷ এই পর্যায়ে তাদের শেষ ব্যক্তি ছিল খলীল ইবন
হাবিশিয়্যা ইবন সালুর্ল ইবন বা ব ইবন আমর ইবন রষী আ খুযাঈ ৷ কৃস ই ইবন কিলাব
খলীলের কন্যা হিরীকে বিবাহ করে ৷ এই শ্ৰীর ঘরে তিনি ৪টি পুত্র সন্তান লাভ করেন ৷ তারা
হল আবদুদ্দার, আবৃদ মানাফ, আবদুল উঘৃযা ও আবৃদ নামে অপর একজন ৷ অতঃপর
বায়তুল্লাহ শরীফের তত্ত্বাবধানের দায়িতৃ আসে কুসাই ইবন কিলাবের ৷তে ৷ এ বিষয়ে
বিস্তারিত আলোচনা য়থাস্থানে আসবে ইনশাআল্লাহ ৷

খুযাআ গোত্র এক ধিক্রমে প্রায় ৩০০ বছর মতাম্ভার ৫০০ বছর বায়তুল্লাহ শরীফ দেখা
শোনা র দ ৷য়িতৃ পালন করে ৷ আল্পাহইভ ৷ল জানেন ৷ তাদের সময়কালে তারা জঘন্য অনাচারে

লিপ্ত হয় ৷ কারণ তাদের শাসনামলেই হেজাযে সর্বপ্রথম মুর্তি পুজার প্রচলন ঘটে ৷ এ অপকর্মের
মুল হোতা ছিল তাদের নেতা আমর ইবন লুহ ই ৷ তার প্রতি ৩আল্লাহ্র লা’নত হোক কেননা
সেই সর্বপ্রথম তাদেরকে মুর্তি পুজার দিকে আহ্বান করে ৷ সে অপাধ ধন সম্পত্তির অধিকারী ৷
কথিত ৩আছে যে, যে ২০টি উটের চোখ বিদ্ধ করেছিল ৷ অর্থাৎ যে ২ ণ্) হাজার উটের মালিক
হয়েছিল ৷ আরব দেশে প্রথা ছিল যে, কেউ এক হাজার উটের মালিক হলে সে একটি উটের
চোখ বিদ্ধ করতো ৷ এটি দ্বারা তারা অবশিষ্ট উটগুলোর প্রতি রদনজর প্রতিরোধের ধারণা
পোষণ করত ৷ আযরকী এরুপ বলেছেন ৷

সুহায়লী বলেন, আমর ইবন লুহাই কোন কোন সময়ে হজ্জ উপলক্ষে দশ হাজার উট জবাই
করত, প্রতিবছর দশ হাজার জোড়া বস্ত্র দান করত ৷ আরবদের জন্যে ভোজের আয়োজন
করত ৷ ঘি , মধু এবং ছাত্র দিয়ে হালুয়া তৈরি করত ৷ ঐতিহাসিকগণ বলেন, আরবদের মাঝে
তার কথা ও কাজ শরীয়তের মত অনুসরণ করতো ৷ এটি ছিল তার মর্যাদা, অবস্থান ও তাদের
প্রতি৩ ৷ ৷র অকা তর বদান্যতড়ার ফল ৷

ইবন হিশাম (র) বলেন, কতক বিত্তজন আমাকে জানিয়েছেন যে, একদা আমর ইবন
লুহাই কোন এক কাজে মক্কা থেকে সিরিয়া গমন করে ৷ বালকা অঞ্চলে মাআব নামক স্থানে
গিয়ে সে দেখতে পায় যে, সেখানকার লোকজন প্রতিমা পুজা করছে ৷ এ অঞ্চলে তখন বসবাস
করত আমালীক সম্প্রদায় ৷৩ তারা ইসলাক এর বংশধর ৷

কেউ কেউ বলেন, তারা হল আমালীক ইবন লাওয ইবন সাম ইবন নুহ (আ)-এর
ৎশধর ৷ প্রতিমা পুজায় লিপ্ত দেখে সে বলল, এগুলো কেমন প্রতিমা যে তোমরা এগুলোর
উপাসনা করছ? তারা বললেন, আমরা এ সকল প্ৰতিমার উপাসনা করি, অতঃপর আমরা
ওগুলাের নিকট বৃষ্টি চাইলে ওরা আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ করে ৷ আমরা ওগুলোর নিকট
সাহায্য কামনা করলে ওরা আমাদেরকে সাহায্য করে ৷ আমর বলল, তোমরা কি আমাকে একটি
প্রতিমা দািব যে, আমি সেটি নিয়ে আরব অঞ্চলে যাব এবং আরবগণ এটির উপাসনা করবেঃ
ওরা তাকে হুবল নামের একটি প্রতিমা দান করে এবং লোকজনকে সেটির উপাসনা করার এবং
সেটির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেয় ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, হযরত ইসমাঈল (আ)-এর বংশধরদের মধ্যে সর্বপ্রথম মুর্তি
পুজা প্রচলনের সুচনা সম্পর্কে ঐতিহড়াসিকদের ধারণা এই যে, মক্কায় জনজীবন সংকুচিত ও
সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাদের কোন কাফেলা তা থেকে মুক্তিলাভ ও স্বচ্ছত৷ অর্জনের আশায়
অন্য এলাকায় সফর করত ৷ তখন তারা হারাম শরীফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও বরকত লাভের
আশায় হারাম শরীফের এক একটি পাথর সাথে নিয়ে যেত ৷ তারা যেখানে র্তাবু ফেলত সেখানে
ঐ পাথর রাখত এবং বাবা শরীফের তাওয়াফের ন্যায় সেটির চারিদিকে তাওয়ড়াফ করত ৷
এভাবেই তাদের রীতি চলে আসছিল ৷ এক সময় তারা তাদের প্রিয় ও পছন্দের পাথর পেলেই
তারা উপাসনা শুরু করে দেয় ৷ অবশেষে আগমন ঘটে তাদের উত্তরসুরীদের ৷ এরা সরাসরি
মুর্তি পুজায় লিপ্ত হয় এবং সুচনা পর্বের রীতি ও উদ্দেশ্যের কথা ভুলে যায় ৷

আল সাহীহ গ্রন্থে আবু রাজা আ৩ ৷রদী থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, জাহেলী যুগে
,আমর৷ এমন ছিলাম যে, কোন পাথর না পেলে আমার মাটির দ্ভুগ তৈরি করতাম ৷ সেখানে
একটি বকরী এনে দুধ দােহন করে ঐ মাটিতে নজরান৷ দিতাম, অতঃপর সেটির চারিদিকে
তাওয়াফ করতড়াম ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, এভাবে তারা হযরত ইবরাহীম (আ) ও ইসমাঈল (আ)-এর দীন
বিকৃত করে প্রতিমা পুজায় লিপ্ত হয় এবং তাদের পুর্ববর্তী ণ্পুগামরাহ ও বিভ্রান্তি উম্মতদের ন্যায়
একই উম্মতে পরিণত হয় ৷ হযরত ইব্রাহীম (আ) এর দীনে ছিল না এমন বহু কিছু তার মধ্যে
সংযোজন করা সত্বেও তার দীনের কতক নিদশ্নি ও রীতিনীতি তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল ৷
তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সেগুলো ধরে রেখেছিল ৷ যেমন বায় তুল্লাহ শরীফকে সম্ম ড়ান করা
সেটির তাওয়াফ করা ও ওমরাহ করা, আরাফাত ময়দান ও মুযদ লিফ তে অবস্থান করা উট
কুরবানী করা ৷ হজ্জ ও উমরাহ করার জন্যে ইহরাম রাধা৷

কিনান৷ ও কুরায়শ গোত্র ইহরাম বাধার সময় উচ্চস্বরে বলত :

হে আল্লাহ্র বান্দা হাজির বান্দা হাজির ৷ বান্দা হাজির হে আল্লাহ ! আপনার কোন শরীক
নেই, তবে একটি শরীক আছে যে আপনারই ৷ আপনি তার এবং তার মালিকানাধীন সবকিছুর
মালিক ৷ সে কোন কিছুর মালিক নয় ৷

তালবিয়্যা উচ্চারণে তারা প্রথম পর্যায়ে আল্লাহর একতবাদের স্বীকৃতি দেয় এরপর তার
সাথে তাদের মুর্তিগুলোর কথা উল্লেখ করে এবং সেগুলোর মালিকানা ৷আল্লাহ্র হাতে ন্যস্ত
করে ৷ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন :

তাদের অধিকাৎশ আল্লাহকে স্বীকার করে কিন্তু তার শরীক করে ৷ (১২ ইউসুফ : ১০৬)
অর্থাৎ আমার যথাযথ পরিচিতি জানার প্রেক্ষাপটে তারা আমার একতবাদের ঘোষণা দেয় আর
সেই সাথে আমারই সৃষ্টি জগতের কাউকে আমার শরীক সাব্যস্ত করে ৷

সুহায়লী প্রমুখ বলেন, উপরোক্তত ৷লবিয়াহ সর্বপ্রথম পাঠ করেছে আমর ইবন লুহ ই ৷
একদিন একজন বুযুর্গ লোকের রুপ ধরে ইবলীস এসেত তার নিকট হাজির হয় ৷ ইবলীস উচ্চস্বরে
এই তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকে এবং আমর ইবন লুহাই তা শুনতে থাকে এবং অনুরুপ প ঠ
করতে থাকে ৷ অবশেষে মুশরিক আরবগণ আমর ইবন লুহাইর পাঠ অনুসরণে ণ্ন্ তালবিয়াহ
উচ্চারণ করে ৷ বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে উদ্ধৃত রয়েছে যে

আল-বিদায়া ওয়ান নিহ্ায়৷ (২য় খণ্ড) ৪৬-

অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (স) যখন তাদের তালৰিয়াহ পাঠ শুনতেন এবং যখন তারা ৷ ১ ১
৷ (বান্দা ৷হাজির আপনার কোন শরীক নেই) পর্যন্ত পাঠ করত তখন রাসুলুল্লাহ
(স) বলতেন, থাম , থাম , যথেষ্ট হয়েছে ৷

ইমাম বুখারী (র) বলেন, হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, যে নবী করীম (সা)
বলেছেন :

সর্বপ্রথম দেবতার নামে পশু উৎসর্গ করেছে এবং মুর্তি পুজা চালু করেছে আবু খুযাআ

আমর ইবন আমির ৷ আমি তাকে দেখেছি যে, জ্বাহান্নামে সে৩ তার নাড়িভুড়ি হেচড়িয়ে নিয়ে

যাচ্ছে ৷” আলোচ্য বর্ণনা দ্ব ৷রা বুঝা যায় যে, আমর ইবন লুহ ই হল রুপটি খুযাআ গোত্রের আদি
পুরুষ ৷ তার নাম অনুসারেই খুযাআ গোত্রের নামকরণ করা হয় ৷

ইবন ইসহাক ও অন্যান্যদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, কতবণ্ বংশ বিশারদ এরুপ
বলেছেনও বটে ৷ আমরা যদি এতটুকুতেই সীমিত থাকি তবে এটি একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে
চিহ্নিত হয় ৷ কিন্তু কোন কোন বর্ণনা এর বিপরীত এসেছে ৷

যেমন ইমাম বুখারী (র) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রা ) সুত্রে বলেছেন, “বাহীরা হল সেই প্রাণী
যার স্তনকে তাগুত বা দেবতার জন্যে সংরক্ষিত রাখা হয় ৷ অতঃপর কেউই তার দুধ দােহন
করে না ৷ ” সাইবা হল সেই প্রাণী যা তারা তাদের দেবতার নামে ছেড়ে দেয়, অতঃপর তার
পিঠে কিছুই চড়াপানাে হয় না ৷

ইমাম বুখারী (র) আরো বলেন, হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা)
ফরমান :

আমি আমর ইবন আমির খুযাঈকে দেখেছি জাহান্নড়ামে সে৩ তার নাড়িভুড়ি হেচড়িয়ে পথ
চলছে ৷ সেই সর্বপ্রথম স ঈবা প্রাণী ছেড়ে দেয়ার রেওয়াজ চালু করে ৷ ইমাম মুসলিম (র)-ও
ভিন্ন সুত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন ৷

সর্বপ্রথম ইমাম আহমদের এ সছুক্রাম্ভ বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে বাহীরা প্রাণী রেওয়াজও সেই
চ ৷লু করেছে ৷

উপরোক্ত বর্ণনড়াসমুহে উল্লিখিত ৩“থুযাই” শব্দ দ্বারা বুঝা যায় যে, আমর ইবন আমির খুযাআ
গোত্রের আদি ব্যক্তি নয় বরং সেও ঐ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল ৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সে বর্ণনায়
তাকে আবু খুযাআ বলা হয়েছে সেটি বর্ণনাকারীর ভ্রমপ্ৰমাদ হতে পারে যে, তিনি আবু খুযাআ
বলতে গিয়ে আবু খুযাআ বলে ফেলেছেন ৷ অথবা এমন ও হতে পারে যে, সে মুলত খুযাআ

গোত্রের একজন ছিল এবং তার উপনাম ছিল আবু থুয আ ৷ এবং তাকে থুযাআ গোত্রের মুল
ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়৷ ঐ বর্ণনায় উদ্দিষ্ট ছিল না ৷ আল্লাহই৩াল জা নেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহীম হযরত আবু হুরায়রা (রা) সুত্রে
বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি তিনি আকছাম ইবন জাওন খুবাইকে উদ্দেশ্য
করে বলছিলেন “হে আকছাম ৷ আমি আমর ইবন লুহাই ইবন কামআ ইবন খিনদাককে দেখেছি
জাহান্নামে সে তার নাড়িভুড়ি হেচড়িয়ে চলছে ৷ তারসাছু£য তোমার যে সদৃশ এবং তোমার
সাথে তার যে সাদৃশ্য এমন আমি অন্য কাউকে দেখিনি ৷ তখন আক্ছাম বলল, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ
(না)! তার সাথে আমার যে সাদৃশ্য তাতে আমার কি কোন ক্ষতি হবো রাসুলুল্লাহ (সা)
বললেন, না, কোন ক্ষতি হবে না ৷ করণ তুমি ঈমানদার আর (স কাফির ৷ সেই সর্বপ্রথম
ইসমাঈল (আ)-এর ধর্মের বিকৃতি সাধন করেছে, মুর্তি ণ্প্রতিমা ,ন্থাপন করেছে, বাহীরা স ইবা,
ওসীলা প্রাণী হামী ’ প্রাণীকে দেবতার জন্যে সং রক্ষিত রা হা৷র রেওয়া জ চ ৷লু করেছে ৷

অবশ্য বিশুদ্ধ কিতাবসমুহে এরুপে বর্ণনাটি নেই ; ববং ইবন জারীর (র) আবু হুরায়রা
(রা)-এর সনদে এরুপ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন ৷

বুখারী তাবারানী (র) ভিন্ন ভিন্ন সুত্রে রাসুলুল্লাহ (সা ) থেকে প্রায় একই মর্মের হাদীস উদ্ধৃত
করেছেন ৷

বন্তুত আমর ইবন লুহাই আরবদের জন্যে ধর্মের মধ্যে কতক নতুন বিষয়ের প্রচলন
ঘটিয়েছে যা দ্বারা সে দীন-ই ইবরাহীমকে বিকৃত করে দিয়েছে ৷ এসব বিষয়ে আরবগণ তার
অনুসরণ করেছে ৷ ফলে তারা ন্যক্কারজনক জঘন্যভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছো আল্লাহ তাআলা
কুরআন করীমের একাধিক আয়াতে এর নিন্দা করেছেন ৷ আল্লাহ তাআলা বলেছেন ৪

তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করার জন্যে
তোমরা বলো না এটি৷ হ লাল এবং এটি হ রাম ৷ আল্লাহ তা আলা অন্যত্র বলেন ও

“বাহীরা, সাইবা, ওসীলা, ও স্থান আল্লাহ স্থির করেন নি ৷ কিন্তু কাফিরর৷ আল্লাহর প্রতি
মিথ্যা আরোপ করে এবং তাদের অধিকাংশই উপলর্কিং করে না ৷ (৫ মায়িদা : ১০৩)

বাহীরা ও অন্যান্য প্রাণী সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং এ নামের
প্রাণীগুলোর ব্যাখ্যা সম্পর্কে তাফসীবকারদের বিভিন্ন অভিমত বর্ণনা করে এসেছি ৷

আল্লাহ তাআলা বলেন ং

আমি ওদেরকে যে রিযক দান করি তারা ত র একাৎশ্ ৷নির্ধারিত করে তাদের জন্যে যাদের
সম্বন্ধে ওরা কিছুই জানে না ৷ (১৬ নাহলং ৫৬)

আল্লাহ যে শস্য ও গবাদিপণ্ড সৃষ্টি করেছেন তা থেকে তারা আল্লাহর জন্যে এক অংশ
নির্ধারিত করে এবং নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বলে, “এটি আল্লাহর জন্যে এবং এটি আমাদের
দেবতাদের জন্যে যা তাদের দেবতাদের অংশ তা আল্লাহর কাছে পৌছয না এবং যা আল্লাহ্র
অংশ তা তাদের দেবতার কাছে পৌছায় তারা য ৷মীমংসা করে তা নিকৃষ্ট ৷

এভাবে তাদের দেবতারা বহু মুশরিকের দৃষ্টিতে সন্তান হত্যাকে শে ড়াভন করেছে তাদের
ধ্বংস সাধনের জন্যে এবং তাদের ধর্ম সম্বন্ধে তাদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির জান্য ৷ আল্লাহ ইচ্ছা করলে
তারা তা করত না ৷ সুতরাং তাদেরকে তাদের মিথ্যা নিয়ে থাকতে দাও ৷ (৬ আনআয :
১৩৬ ১৩ ৭)

আল্লাহ তাআলার ঘোষণা

“তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, এসব গবা ৷দিপংম্ন ও শস্য ক্ষেত্র নিষিদ্ধ ৷ আমরা যাকে
ইচ্ছা করি যে ব্যতীত কেউ এসব আহার করতে পারবে না এবং কতক গবাদি পশুর পৃষ্ঠে
আরোহণ ৷নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কত ক পশু জবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় না ৷
এ সকলই তারা আল্লাহ সমন্ধে মিথ্যা রচনার উদ্দেশ্যে বলে, তা ৷দের এই মিথ্যা রচনার প্রতিফল
তিনি অবশ্যই তাদেরকে দিবেন ৷ (৬ আন আমং : ১৩৮)

তারা আরও বলে, এ সব গবাদি পশুর পর্ভে যা আছে তা আমাদের পুরুষদের জন্যে নির্দিষ্ট
এবং এটি আমাদের ত্রীদের জন্যে অবৈধ আর সেটি যদি মৃত হয়, তবে নারী-পুরুষ সকলে
সেটিতে অংশীদার ৷ তাদের এরুপ বলার প্রতিফল তিনি তাদেরকে দেবে ৷ তিনি প্ৰজ্ঞাময়,
সর্বজ্ঞ ৷ যায়৷ নির্বৃদ্ধিতার দরুন ও অজ্ঞানতাবশত নিজেদের সত্তানদেরহৃণ্ন্হ হত্যা করে এবং
আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকাকে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশ্য নিষিদ্ধ গণ্য করে তারা তো
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ তারা অবশ্যই ৰিপথগামী হয়েছে এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত ছিল না ৷ (৬ আন
আয ১৩৮-৩৯)

আরবদের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার

আবু নুমান ইবন আব্বাস (রা)-এর বরাতে বলেন, “তুমি যদি আরবদের অজ্ঞতা সম্পর্কে
জানতে চাও তবে সুরা আলআনামের ১৩০ ’ নং আয়াংতর পরবর্তী আয়াতগুলো পাঠ কর

“যারা নির্বুদ্ধিতার দরুন ও অজ্ঞানতা বশত নিজেদের সভানদেরকে হত্যা করে এবং আল্লাহ
প্রদত্ত জীবিকাকে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ গণ্য করে তারা তাে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ তারা অবশ্যই বিপথপামী হয়েছে এবং তারা সৎপথ প্রাপ্তও ছিল না ৷ (৬
আনআম ১৪০)

আমরা এ আঘাতের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি এবং তার যে অসত্য ও বাতিল দীন চালু
করেছে তাও উল্লেখ করে এসেছি ৷ তাদের গুরু আমর ইবন লুহাই অবশ্য এটিকে পশু প্রাণীর
প্রতি দয়া প্রদর্শন ও কল্যাণ সাধন বলে ধারণা করত এটা নিছক তার মিথ্যাচার ৷ তার এ
মুর্থতা ও ভ্রান্তি সত্বেও আরবের নির্বোধ লোকেরা তার অনুসরণ করে ৷ (১) (সুরা আনআম
আয়াত ১৪০ ) তাতে বরং তার চাইতেও জঘন্য-এর কাজেও তারা তার অনুসরণ করেছে ৷
আর তা হল আল্লাহর সাথে প্রতিমাদের পুজা করা ৷ আল্লাহ তাআলা শিরক ও অংশীবাদ হারায
করে এককভাবে তারই ইবাদতের নির্দেশ দিয়ে যে সরল পথও সুদৃঢ় ধর্ম সহকারে হযরত
ইব্রাহীম (আ) এ প্রেরণ করেছিলেন তারা তা পরিবর্তিত করে ফেলেছিল এবং সরল-দুর্বল (তা
দুরের কথা, এমনকি কোন দুর্বল দলীল প্রমাণ ব্যতীত দীনের বৈশিষ্ট্যসমুহ ও হরুজ্জর
নিদর্শনমুলক বিধানসমুহ বিকৃত করে ফেলেছিল ৷ তারা তাদের পুর্ববর্তী অংশীবাদী উম্মতসমুহের
পথ অনুসরণ করেছিল এবং নুহ (আ)-এর সম্প্রদায়ের মত হয়ে গিয়েছিল ৷ বন্তুত নুহ (আ) এর
সম্প্রদায়ই সর্বপ্রথম আল্লাহ্র সাথে শিরকের প্রথা চালু করেছিল এবং মুর্তি পুজায় লিপ্ত হয়েছিল ৷
এ জন্যে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি হযরত নুহ (আ)-ফে প্রেরণ করেছিলেন ৷ তিনি ছিলেন
সর্বপ্রথম প্রেরিত রাসুল যিনি লোকদেরকে মুর্তিপুজা থেকে নিষেধ করতেন ৷ হযরত নুহ
(আ)-এর আলোচনায় তা বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে ৷

এবং তারা বলেছিল, তোমরা কখনও পরিত্যাগ করো না তোর্মাদের দেব-দেবীকে,
পরিত্যাগ করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াপুছ, ইয়াউক ও নাসরকে ৷ তারা অনেককে বিভ্রান্ত
করেছে ৷ (৭১ নুহ ২৩) হযরত ইবন আব্বাস বলেন, ওয়াদ, সুওয়া ইয়াপুছ, ইয়াউক এরা
ছিলেন নুহ (আ)-এর সম্প্রদায়ের সৎকর্মশীল লোক ৷ এদের মৃত্যুর পর লোকজন এদের কবরে
অবস্থান করতো ৷ এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর লোকজন এদের পুজা শুরু করে
দেয় ৷ এদের এই উপাসনার রীতিনীতি সম্পর্কে আমরা ইতিপুর্বে আলোচনা করে এসেছি ৷
এখানে তা পুনরুল্লেখের প্রয়োজন নেই ৷

ইবন ইসহাক (র) ও অন্যরা বলেন, আরবের লোকেরা যখন হযরত ইসমাঈল (আ ) এর
দীনকে পরিবর্তিত করে ফেলল তখন উপরোল্লেখিত মুর্তিগুলো আরবদের উপাস্যতে পরিণত

হল ৷ তখন ওয়াদ প্রতিমা থাকল বনী ক৷ লব (ইবন মুররাহ ইবন তাগলিব ইবন হালওয়ান ইবন
ইমরান ইবন ইলহাফ ইবন কুযা আ) গোত্রের জন্যে ৷ এটি স্থাপিত ছিল দৃমাতৃল জ ৷ন্দাল নামক
স্থানে ৷ সুওয়া প্রতিমা জ্জি বনী হুযায়ল (ইবন ইলিয়াস ইবন ঘুদরিকাহ্ ইবন মুগরি ) গোত্রের
জন্যে ৷ এটি অবস্থিত ছিল রাহাত নামক স্থানে ইয়াণ্ডছ ছিল এই বংশের বনী আনউম ও
মিযহাজ বংশের জন্য এটি অবস্থিত জারশ এলাকায় ৷ ইয়াউক প্রতিমা ছিল ইয়ামানের হামদান
অঞ্চলে ৷ এটি ছিল হামদানের একটি উপগােত্র বনী খায়ওয়ান-এর তত্ত্বাবধানে ৷ নাসর প্রতিমা
স্থাপিত ছিল হিমইয়ার অঞ্চলে ৷ মুল কিলা গোত্র ছিল এর উপাসক ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, নিজেদের এলাকায় খাওলান গোত্রের একটি মুর্তি ছিল ৷ সেটির
নাম ছিল “আম্মে আনাস” (আনাসের চাচা) ৷ তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী চতৃস্পদ জন্তুও ফল
ফসল তার মাঝে ও আল্লাহ্র মাঝে বণ্টন করত ৷ বণ্টন আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত কোন অংশ
যদি আগে আনাসের’ ভাগে পড়ত, তবে তা তারা সেখানে রেখে দিত ৷ পক্ষান্তরে আগে
আমাদের জন্যে নির্ধারিত কোন অংশ যদি আল্লাহ্র ভাগে পড়ে যেত তবে তা সেখান থেকে
নিয়ে ঐ প্রতিমা ৷র ভাগে দিয়ে দিত ৷ তাদের এ অপকর্মে সম্পর্কে আল্লাহ তা আলা নাযিল করেনং
আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা আল্পাহ্র জন্যে এক অংশ

নির্দিষ্ট করে এবং নিজেদের ধারণানুযাযী বলে, এটি আল্লাহ্র জন্যে এবং এটি আমাদের
দেবতাদের জনে ৷ (আনআম ১৩৬)

ইবন ইসহাক বলেন, বনী মলাকান ইবন কিনানা ইবন খুযায়ম৷ ইবন মুদরিক৷ গোত্রের
একটি প্রতিমা ছিল ৷ তার নাম সাদ সাখরাহ’ ৷ এক উন্মুক্ত ও বিন্তুত প্রান্তরে ছিল এটির
অবস্থান ৷ এক ব্যক্তি তার উটের পাল নিয়ে এসেছিল এ উদ্দেশ্যে যে, উটণ্ডলেন্কে ওখানে দাড়
করিয়ে তার ধারণা অনুযায়ী ঐ প্রতিমার আর্শীবাদ নেবে ৷ আরােহীবিহীন ঐ উটণ্ডলে৷ ঘাস
থেতে-থেতে রক্তমাখ৷ প্রতিমা দেখে ভী৩ ত-সন্ত্রস্ত হয়ে যেটি যেদিক পেয়েছে ছুটে পালায় ৷ এতে
উটের মালিক ক্ষেপে যায় এবং একটি পাথর নিয়ে প্রতিমার দিকে ছুড়ে মারে ৷ সে বলে, আল্লাহ্
তােমাতে যেন বরকত ও আশীৰ্বাদ না দেন ৷ তুমি আমার উটণ্ডলােকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছ ৷
অতঃপর সে তার উট খুজতে বের হয় ৷ উটগুলে৷ একত্রিত করার পর সে বলে০ ং

আমরা এসেছিলাম সা দ এর নিকট এ মকসুদ নিয়ে যে, যে আমাদের অবস্থা সংহত করে

দিয়ে ৷ কিন্তু সে আমাদেরকে আরও বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে ৷ ফলে আমরা কোন কল্যাণ লাভে
সমর্থ হইনি ৷ সুতরাং আমরা তার কেউ নই ৷

সাদ তো ধু ধু মরু প্রাম্ভরে অবস্থিত একটি পাথর বৈ অন্য কিছু নয় ৷ সে ভাল বা মন্দ
কিছুর জন্যেই প্রার্থনা জানাতে পারে না ৷

ইবন ইসহাক বলেন, দাওস গোত্রের আমর ইবন হামামা দাওসীর একটি প্রতিমা ছিল ৷
কুরায়শরা কাবা শরীফের অভ্যন্তরে একটি কুপের মধ্যে একটি প্রতিমা রেখেছিল ৷ সেটির নাম

হুবল ৷ ইতিপুর্বে ইবন হিশাম (র)-এর বর্ণনায় এসেছে যে, এটি প্রথম প্রতিমা আমর ইবন লুহাই
স্থাপিত প্রথম প্রতিমা ৷

ইবন ইসহাক বলেন, তারা আসাফ ও নাইলা নামের দুটো প্রতিমা যমযমের স্থানে স্থাপন
করেছিল ৷ ওগুলাের সম্মুখে তারা পশু কুরবানী দিত ৷ এ প্রসংগে পুর্বেই উল্লেখিত হয়েছে ৷ কা“রা
শরীফের অভ্যন্তরে ব্যভিচড়ারে লিপ্ত হওয়ায় আল্লাহ্ তা’অজ্যো তাদের উভয়কে পাথরে রুপান্তরিত
করে দিয়েছিলেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর হযরত আয়েশা (রা) সুত্রে
বলেন, আমরা বরড়াবরই শুনে এসেছি যে, আসাফ ও নইিলা ছিল একজন পুরুষ লোক ও একজন
মহিলা ৷ তারা জুরহুম দ্বে ড়াশ্বত্রভুক্ত ৷ দৃজনে অশ্লীল কাজ করেছিল কাবা শরীফের অভ্যন্তরে ৷
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের দৃজনকে পাথরে পরিণত করে দেন ৷

কথিত আছে যে, আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে ঐ অপকর্ম করার অবকাশ দেননি বরং তার
পুর্বেই পাথরে পরিণত করে দেন ৷ এরপরে লোকজন এ দুটোকে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে
নিয়ে স্থাপন করে ৷ এরপর আমর ইবন লুহাইর সময়ে সেগুলোকে সেখান থেকে তুলে এনে
যমযম কুপের স্থানে স্থাপন করে এবং লোকজন এ দৃ’টোর তাওয়াফ করতে শুরু করে ৷

এ প্রসংগে আবু তালিব বলেন ং

যেখানে আশ আরী গোত্রের লোকজন তাদের সওয়ারী থামায় সেই প্লারনের প্রবাহ পথে
আসা ফ ও নাইলা রয়েছে ৷

ওয়াকিদী বলেন, মক্কা বিজয়ের দিবসে রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন নাইলা মুর্তিটি ভেঙ্গে ফেলার
নির্দেশ দেন, তখন দেখা যায় যে, সেটি থেকে জনৈকা সাদা কালো চুল বিশিষ্ট কুচকুচে কালো
মহিলা হায়রে দুঃখ, হায়রে ধ্বংস বলে বলে বিলাপ করত করতে মুখে খামচি মেরে মেরে
বেরিয়ে আসল ৷

সুহায়লী উল্লেখ করেছেন যে, অজাে ও সালমা হলো হেজাযের দুটো পাহাড় ৷ আজা নামের
একজন পুরক্ষ্ম এবং সালমা নামের একজন মহিলার নামে এ দুটো পাহাড়ের নামকরণ হয়েছে ৷
আজা ইবন আবদুল হাই নামের পুরুষ সােকটি সালমা বিনৃত হাম নামের মহিলাটির সাথে
পাপচারে লিপ্ত হয়েছিল ৷ তাদের দৃজনকেই এ দৃটো পাহাড়ের শুলিবিদ্ধ করা হয়েছিল ৷
অতঃপর তাদের নামানুসারে পাহাড় দৃটো পরিচিত ৩হয় ৷ তিনি বলেন, আজা এবং সালমা এ
দৃটোর মধ্যখাংন৩ ইি গোত্রের কুলস নামক একটি প্রতিমা ছিল ৷

ইবন ইসহাক বলেন, তখন প্রত্যেক গোত্রের পৃথক পৃথক প্রতিমা ছিল ৷ গোত্র তুক্ত সকল
লোক সেটির পুজা-অর্চনা করত ৷ তাদের কেউ সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করলে সওয়ারীতে
আরোহণ করার সময় ঐ প্রতিমার পায়ে হাত বুলিয়ে যেত ৷ যাত্রা প্রস্তুতির এটি ছিল শেষ ধাপ ৷

মুর্তি প্রতিমা ছুয়েই সে যাত্রা শুরু করত ৷ সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করে সে পুনরায় সেটির পায়ে
হাত বুলিয়ে দিত ৷ সফর শেষে গৃহে প্রবেশের পুর্বে প্রতিমা স্পর্শ করা হতো তার প্রথম কাজ ৷
অতঃপর আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ (সা)-কৃক যখন তাওহীকৃদর বাণী সহকারে প্রেরণ
করলেন তখন তারা বলে উকৃঠছিল :

“সে কি বহু ইলাকৃহর পরিবর্তে এক ইলাহ বা ৷নিকৃয় নিকৃয়ছ? এঢিকৃত৷ এক অতাশ্চর্য ব্যাপার ”

ইবন ইসহাক বলেন, আরবর৷ কাব৷ শরীফের সমান্তরালে আরও বহু পুজামওপ ও আশ্রম
প্রতিষ্ঠা করেছিল ৷ এ পুজামওপ হল কতগুলো গৃহ, তারা সেগুলোকে কাবা শরীফের ন্যায়
সম্মান করত ৷ ঐ গৃহগুলোর জন্যে নির্দিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক এবং খাদিম ছিল ৷ কাব৷ শরীফের
উদ্দেশ্যে যেমন কুরবানীর পশু প্রেরণ করা হত, ঐ পুজামওপগুলোর উ দ্দেশ্যেও কৃসরব্প পশু
প্রেরণ করা হত এবং বাবা শরীফের তড়াওয়াফের ন্যায় ঐ গুলোর চরি দিকৃকও তড়াওয়াফ করা
হত এবংণ্ সেগুলোর সম্মুখে পশু যবাই করা হত ৷ত৷ সকৃত্ত্বও ঐ গৃহওলোর উপর কা বা শরীফের
অধিকতর সম্মান ও মর্যাদা ছিল সর্বজনস্বীকৃত ৷ কারণ সেটি ছিল হযরত ইবরাহীম (আ) এর
তৈরী এবং তীর মসজিদ ৷

কুরায়শ ও বনী কিনানা এর নির্ধারিত প্রতিমা ছিল নাখলা’কৃত অবস্থিত উযয৷ প্রতিমা ৷
সেটিরত তত্ত্বড়াবধায়ক ও খাদিম ছিল বনী হাশিম গোত্রের মিত্র সুলায়ম গোত্রের উপগােত্র বানু
শায়বান ৷ মক্কা বিজয়ের সময় হযরত খালিদ ইবন ওলীদ (বা) ঐ প্রতিমাটি ভেঙ্গে দিলে যেমন
রুপে আসছে বনু ছাফীক কৃগাত্রের নির্ধারিত প্রতিমা ছিল লাত ৷ এটির আবস্থান ছিল তাকৃয়ফে ৷
ছাকীফ গোত্রের বানু মুতার উপগােত্র ছিল ঐ পুজামণ্ডকৃপর তত্ত্বাবধায়ক ও খাদিম ৷
তড়াকৃয়ফবাসীকৃদর নিকট আগমনের পর আবু সুফিয়ান ও মুগীরা ইবন শুব৷ (বা) ঐ প্রতিমাঢি
ভেঙ্গে দিলেন ৷ এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তীতে আসবে ৷

তিনি বলেন, আওস ও খাযরাজ গোত্র এবং তাদের সাথে মতাদকৃর্শর অনুসারী মদীনাবাসী
যারা ছিল, তাদের জন্যে নির্ধারিত প্রতিমা ছিল মানাত’ ৷ কাদীদ অঞ্চলের মুশাল্লিল নামক
স্থানের পাশে ৷সমুদ্র তীরে এটি অবস্থিত ৷ এটিও ধ্বংস করে ছিলেন হযরত আবু সুফিয়ান (রা) ৷
মতম্ভেকৃর আলী ইবন আবী তালিব (বা) ৷ দাওস খাছআম বুজায়লা এবং এতদঞ্চকৃলর আরবকৃদর
মুর্তি ছিল যুলখুলাসাহ্ ৷ এটি ছিল তাবালা নামক স্থানে ৷ এটাকে কা বা-ই-ইয়ামানিয়্যা বা
ইয়ামাকৃনর কাব৷ বলা হতো আর মক্কা শরীফের কাবাকে বলা হত ৷ কাবায়ে শামীয়া বা শামী
কারা ৷ জা ৷রীর ইবন আবদুল্লাহ বাজ৷ ৷লী (রা) কর্তৃক যুলখুলাসার উপরোক্ত মুর্তিটি ধ্বংস করেন ৷
তাঈ গোত্র এবং তাঈ অঞ্চলের আজ৷ ও সালমা পাহাড়ের আশে পাশে যারা ছিল তাদের প্রতিমা
ছিল কুলসৃ ৷ এটির অবন্থ ন ছিল আজা ও সালমা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে ৷ এ দু টো মশহুর
পাহাড়ের কথা ইতিপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷ তিনি বলেন, রাআম ছিল হিমইয়ার গোত্র ও
ইয়ামান বাসীকৃদর উপাসনালয় ৷ হিমইয়ারী রাজা তুব্বার আলোচনা প্রসংকৃগ এর উল্লেখ করা
হয়েছে ৷ এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দৃ’ জন ইয়াহুদী ধর্মযাজক ঐ গৃহ ধ্বংস করেছে এবং

সেটি থেকে বেরিয়ে আসা একটি কালো কুকুর হও ত্যা করেছে বিয়া’ নামের উপাসনালয়টি ছিল
বনী রবী’ আ ইবন কার ইবন সাদ ইবন যায়দ মানাত ইবন তামীম গোত্রের ৷ ঐ উপাসনালয়
সম্পর্কে আর ইবন রাবীঅ৷ ইবন কাব ওরফে মুসত৷ ৷ওগির বন্সেন০ :

আমি প্রচণ্ড আক্রমণ করেছি রিযা’ পুজা মওপে, অতঃপর সেটিকে আমি সম৩ তল ভুমিতে
কালো ও শুন্য তিটেরুপে রেখে এসেছি ৷

এটি ঘৃণিত করতে আবদুল্লাহ সাহায্য করেছেন ৷ আবদুল্লাহর মতই আমি ঐ নিষিদ্ধ বস্তুকে
আচ্ছাদিত করে দিয়েছি ৷

কথিত আছে যে, উপরোল্লেখিত পংজ্যি রচয়ি ল্ক৷ মুসতাওপির ৩৩০ বছর কাল জীবিত
ছিলেন ৷ তিনি মুযার গোত্রের সবচাইতে দীর্ঘজীবি লোক ছিলেন ৷ তিনি আরও বলেছেন০ :

,
আমি সুদীর্ঘ জীবন কান্সেয় কষ্ট ডে ৷প করেছি এবং কয়েক শত৷ ৷ব্দীর আয়ু পেয়েছিা

একশত বছরের পর দু শো বছর এবং অতিরিক্ত আরো কয়েক বছর ৷

আমরা যে যুগ অতিক্রম করে এসেছি, যে রাত দিনের পৌণ পৌণিক আগমন, পরবর্তী যুগ
কি তদপেক্ষা ব্যতিক্রম অন্য কিছু?

ইবন হিশাম বলেন, এ পংক্তিগুলাে যুহায়র ইবন জানার ইবন হুবল-এর রচিত বলেও কেউ
কেউ বলেছেন ৷

সুহায়লী বলেন, দুশ তিন বছরের অধিক আযু যারা পেয়েছিলেন, আলোচ্য ঘু ৷য়র ছিলেন
তাদের অন্যতম ৷ উবায়দ ইবন শিরবাহ্, বংশ তালিকা বিশারর্দদাগফাল ইবন হানযালা , রাবী
ইবন দাবা কােযারী, যুল ইসৰা উদওয়ানী নাসর ইবন দাহমান ইবন আশাজ৷ ইবন রাবাছ ইবন
গা তফান প্রমুখ ব্যক্তিও এরুপ দীর্ঘাযু প্রাপ্ত লোক ছিলেন ৷ নাসর ইবন দাহ দাহমানের এবং তার
পিঠ কুজাে হওয়ার পর পুনরায় সোজা ৷হয়েছিল ৷

যুল কা বাত ছিল বকর, তাগলিব ইবন ওয়াইল ও আইয়াদ গোত্রের উপাসনালয় ৷ এটি
ছিল সিনদ৷ ৷ন অঞ্চলে ৷ এ সম্পর্কে করি আশা ইবন কায়স ইবন ছা ৷লাব৷ বলেন :

খাওরানাক, সাদীর বারিক ও সিনদাদে অবস্থিত সম্মানিত গৃহের মধ্যবর্তী স্থানে ৷ এ
পংক্তিমাল৷ ৷র আগে আরো কত প০ ক্তি রয়েছে ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) : ৭-
ণোণোণো(হ্রা৷ব্রা৷৪গাে০ওোড়া

সুহায়লী বলেন, খাওরানাক হল একটি নয়নাভিরাম প্রাসাদ ৷ নুমা:ন-ই আকবর এটি সম্রাট
সাবুরের জন্যে ভৈ৩ রী করেছিলেন ৷ সিনুেমার নামক একজন প্রকৌশলী দীর্ঘ ২০ বছর পরিশ্রম
করে এটি নির্মাণ করেন ৷ এর চাইতে সুন্দর কোন প্রাসাদ তখনকার দিনে দেখা যেত না ৷
সিনুেমার অন্য কোন ব্যক্তির জন্যে এরুপ প্রাসাদ যেন নির্মাণ করতে না পারেন, যে জন্যে
নুমানকে ঐ প্রাসাদের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে ৷ এ উদাহরণ উল্লেখ করে করি
বলেনঃ

আল্লাহ্ তাকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দান করুন যে আমাকে প্রতিদ৷ ৷ন দিয়েছে সিনুেমারের
প্রতিদা ৷নের ন্যায় ৷ মুলত সিনুেমারের কো ন দোষ ছিল না ৷

তার একটি মাত্র অপরাধ ছিল বিশ বছর ধরে যে ঐ প্রান্ছুাদ নির্তোণ্৷ করেছে ৷ পাথর কুচি
মােজাইক ও পানি ঢেলে ঢেলে অত্যন্ত যত্ন সহকারে যে এটি তৈ ৷ হৃ৯বেছিল ৷

অবশেষে একদিন যখন সেটির নির্মাণ চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছল এবং সুউচ্চ ও সুবিশাল টিলার
ন্যায় সেটি সুদৃঢ় ও মজবুত হল ৷

তখন সে ফেলে দিল সির্দুন্নমারকে ঐ প্রাসাদের চুড়৷ থেকে ৷ আল্লাহর কসম এটিব্লে জঘন্যতম
কাজ ৷

সুহায়লী বলেন, প্রখ্যাত৩ ৷ষাবিদ জা ৷হিয এই কবিতাটি আল মাইওয়ান ওয়ান সিমার মিন
আসমা ৷ইল কামার’ নামক গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন ৷

মুল কথা হল পুর্বোক্ত সকল প্রতিমা পুজার রুকন্দ্রগুলো ধ্বং স ও ৰিনষ্ট করে দেয়৷ হয় ৷
ইসলামের আবির্ভাবের পর র৷ ৷সুলুল্লাহ্ (সা) উপরােল্লেখিত প্রকৃ৩ ব্লকটি পুজামণ্ডপ ও প্রতিমা ধ্বংস
করার জন্যে লোক প্রেরণ করেন ৷ তারা ৷ঐ সবগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দেন ৷ শেষ পর্যন্ত

কাবা শরীফের প্রতিদ্বন্সী কে ন পৃহ্ই অবশিষ্ট থাকল না ৷ আর তখন ইবাদত নিবেদিত হতে
থাকল একক লা শরীক আল্ল ল্লাহ্র উদ্দেশ্যে ৷

হিজাযী আরবদের উর্ধ্বতন পুরুষ আদনান-এর বৃত্তান্ত

আদনান যে ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-এর বংশধর, সে
সম্পর্কে কোন মতভেদ নেই ৷ তবে তার এবং ইসমাঈলের মধ্যন্থলে কত পুরুষের ব্যবধান সে
বিষয়ে বহু মততেদ রয়েছে ৷ কথিত সর্বোচ্চ ব্যবধান হচ্ছে চল্লিশ পুরুষের ৷ আহলি কিতাবদের
মধ্যে এই উক্তিই প্রচলিত ৷ আরমিয়া ইবন হলিকিয়া এর লিপিকার রাখিরার লিপি থেকে আহলি
কিতাবরা এ মত গ্রহণ করেছে ৷ এ সম্পর্কে আমরা পরে আলোচনা করবো ৷ মতাতরে উভয়ের
মধ্যকার এ ব্যবধান ৩০, ২০ , ১ ৫ , ১ : , ৯, অথবা : পুরুষের ৷ মুসা ইবন ইয়া’কুব এ ব্যাপারে
উম্মু সালামা এর বরাতে বলেন যে, নবী করীম (সা) বগােছন, মাআদ ইবন আদনান ইবন
উদাদ ইবন যান্দ ইবনুল বারী ইবন আরাফ আস্-ছারা ৷ উম্মু সালামা (রড়া)-বলেন : যান্দ হচ্ছেন
হড়ামড়ায়সা আর নারী হচ্ছেন নাবিক , আর আ’রাত আস ছারা হচ্ছেন ইসমাঈল , আর ইসমাঈল
হচ্ছেন ইব্রাহীম (আ)-এর পুত্র ৷ আর আগুন ইব্রাহীম (আ)-কে দহ্ন করেনি, যেমন আগুন
দহ্ন করে না মাটিকে ৷ ছারা কুত্নী বলেন ৪ এ বর্ণনা ছাড়া (অন্য কোথাও) আমরা মন্দে
সম্পর্কে জানতে পারি না ৷ আর মান্দ ইবনুল জওন হচ্ছেন করি আবু দালামা ৷

হাফিজ আবুল কাসিম সুহাইলী প্রমুখ ইমাম বলেন : আদনান থেকে ইসমাঈল (আ) পর্যন্ত
সময়কাল : পুরুষ থেকে ১০ পুরুষ বা ২০ পুরুষের চেয়েও বেশী ৷ আর এটা এজন্য যে, বৃখৃত
নসরের শাসনকালে মাআদ ইবন আদনান এর বয়স ছিল ১২ বছর ৷ আবু জাফর তাবারী প্রমুখ
উল্লেখ করেন যে, আল্লাহ তাআলা এ সময়ে আরমিয়া ইবনু হালকিয়ার নিকট এ মর্মে ওহী
প্রেরণ করেন যে, তুমি বুখৃত নসর এর নিকট গিয়ে তাকে জানিয়ে দাও যে, আমি তাকে
আরবদের উপর শাসনকর্তা করেছি ৷ আর আল্লাহ তাআলা আরমিয়াকে নির্দেশ দান করেন যে
তিনি যেন তার সঙ্গে মাআদ ইবনু আদনানকেও বুরাকে আরোহন করিয়ে নিয়ে যান , যাতে
তাদের মধ্যে তাকে কোন কষ্ট পেতে না হয় ৷ কারণ, তীর বংশে আমি একজন মহান নবীর
আবির্ভাব ঘটাবাে র্যার মাধ্যমে আমি রিসালতের ধারার পরিসমড়াপ্তি ঘটাবাে ৷ আরমিয়া সে মতে
কাজ করেন এবং মাআদকে নিজের সঙ্গে বুরাকে আরোহণ করিয়ে শাম দেশ পর্যন্ত নিয়ে যান ৷
রায়তৃল মুকাদ্দাস ধ্বংসের পর সেখানে যেসব বনী ইসরাঈল অবশিষ্ট ছিল-তিনি তাদের মধ্যে
প্রতিপালিত হয়ে বেড়ে উঠেন ৷ স্বদেশ ভুমিতে ফিরে আসার পুর্বে তিনি সেখানে বহু দুর ইবনু
জুরহুম বংশে মুআনা বিনত জওশন নাসের এক মহিলাকে বিবাহ করেন ৷ আরব দেশে অশান্তি
দুর হয়ে শান্তি ফিরে এলে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন ৷ আরমিয়ার লিপিকার সচিব রাখইয়া
তার নিকট রক্ষিত একটা লিপিতে তার বংশধারা লিপিবদ্ধ করে রাখেন, যাতে তা আরমিয়ার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>