ভালোবাসার বেহেশত-দোজখ

০১. দুনিয়াটা ভালো-মন্দ, পাপ-পূণ্য ও উত্তম-অধমের সমম্বয়ে গঠিত বা সৃজিত। মন্দ তথা কাফির (সকল মুশরিক ও মুনাফিকও কাফিরের অন্তর্ভূক্ত) মানুষের সংখ্যাই বর্তমান দুনিয়াতে বেশী। পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১৫০ কোটি মানুষই মুসলমান। আবার এসব মুসলমানের মধ্যে সমাজের নাস্তিক ও জিন্দীকেরাও গণনাভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন ছহীহ হাদীছ মতে মানুষের মধ্যে প্রতি হাজারে মাত্র একজন বেহেশতে যাবে। বাকীরা কাফির হিসেবে গণ্য হয়ে জাহান্নামের খোরাক হবে। তবে অনেকে জাহান্নামের স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। কিন্তু জান্নাতের স্থায়িত্ব নিয়ে কারো ভিন্নমত নেই। যাই হোক, হাদীছের উপর্যুক্ত তথ্য মতে বর্তমান দুনিয়ার সর্বোচ্চ ৭০ লাখ (৭ কোটির এক হাজার ভাগের এক ভাগ) মানুষ বেহেশতী হবে। এ হিসেবে ১৫০ কোটি মুসলমানের তথ্য সত্য হলে তাদের মধ্যকার ১% পার্সেন্ট মুসলিমও বেহেশতী তালিকায় পড়বে না। বরং তা হবে শূণ্য দশমিক পয়তাল্লিশ ভাগ ০.৪৫%।

০২. বেহেশী মানুষের মৌলিক গুণ হলো শিরক থেকে মুক্ত থাকা। তবে শিরক নিয়ে অনেক মানুষ বিভ্রান্তিতে ভূগেন। তারা শিরক বলতে শুধু মূর্তিপূজা বুঝে থাকেন। অথচ নফস পূজাও একটি শিরক। ইবলীস মূর্তি পূজা করে কাফির/মুশরিক হয়নি। একই অবস্থা মসিজদে জেরারের مسجد ضرار প্রতিষ্ঠাতা মুনাফিকদেরও। এরা মূর্তিপূজা না করলেও নফসপূজা করতো এবং তাদের নফসপূজা মূর্তিপূজার চেয়েও জঘন্য শিরক ছিল। তাই তারা জাহান্নামে মুশরিকদের আরো নীচে থাকবে। ছাহাবা কেরামের সমাজ যেমন মুনাফিকদের অস্তিত্ব থেকে মুক্ত ছিল না, তদ্রুপ আমাদের সালাফী, রেজভী, ইখওয়ানী ও দেওবন্দী সমাজও। সকল সমাজে কমবেশী মুনাফিক থাকে। মিথ্যা, ওয়াদা ভঙ্গ ও আমানতে খেয়ানতসহ মুনাফিকের অনেক আলামত রয়েছে। নামাজ, জিকির ও জিহাদ ত্যাগ মুনাফিকের আলামত নয়। বরং এসব কাজে অলসতা বা গড়িমসি করাই মুনাফিকের আলামত। ছাহাবা কেরামের যুগেও মুনাফিকরা নামাজে অনুপস্থিত থাকতে ভয় পেতো এবং এখনো পায়। কারণ, এতে সমাজে তাদের মান-ইজ্জত কমে যাবার সম্ভাবনা থাকে। মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ বিন উবাই মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে মাঝে-মধ্যে মাতব্বরি করে বলতো, ‘হে লোকজন! তোমাদের মাঝে মুহাম্মদ আছে। তাকে ইজ্জত-সম্মান করিও।’ ভাবখানা এমন, ছাহাবা কেরাম যেন নবীজিকে ছঃ অসম্মান করতো। মূলত সে এমন কথা বলে নবীজিকে صلى الله عليه وسلم অসম্মান ও নিজের বড়ত্ব জাহির করার চেষ্টাই করতো। মদীনাতে এ মুনাফিক সর্দারের কিছু মুসাহেব ছিল। তো ১৪৩৫ বছর এসে আমাদের বর্তমান মুসলিম সমাজে মুনাফিক সর্দার ও তাদের মুসাহিবদের সংখ্যা কত বেড়েছে, তা ভাবতে গেলেই গা শিউরে উঠে।

০৩. হ্যা! ভাই এটা মুমিনদের জন্য খুবই কঠিন যুগ। ঘরে-বাইরে সবখানে ফেরআউন, ইবনে উবাই (ইবনে সালূল) ও স্বৈরাচারী এজিদ এবং তাদের মুসাহিবদের দৌরাত্ম্য। ইসলামতো দূরের কথা, প্রথম জাহেলী যুগের الجاهلية الأولي কাফিরদের মধ্যে যেসব মানবিক গুণাবলী ছিল, সেগুলোও এখন আমাদের অনেক মুসলিমদের মাঝে নেই। ছহীহ বোখারীর শুরুতে একটি ঘটনাতে উল্লেখ আছে যে, মক্কার কাফিরদের তৎকালীন শীর্ষ নেতা আবু সুফিয়ান সিরিয়াতে রোমান স¤্রাট হিরক্লিয়াসের নবী মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم সম্পর্কিত একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে নবীজি সম্পর্কে শুধুমাত্র এ কারণে মিথ্যা কথা বলেনি যে, এতে লোকজন তাকে লজ্জা দিবে। ভাই! ইসলাম অনেক সুন্দর ও মানবিক ধর্ম। কিন্তু আজকের শেষ জাহেলী যুগের মুসলমানেরা রুচি, সাহস ও মানবিকতায় প্রথম জাহেলী যুগের কাফিরদের চেয়েও অনেক পিছিয়ে গেছে। ফলে পতিতারাও এখানে #স্টার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। জেনা ও সমকামিতাকে ঘৃণার দৃষ্টিতে না দেখার জন্য আন্দোলন চলছে। সূর্যাস্তের পশ্চিমের লাল চামড়ার নির্লজ্জ কাফিরদের তাঁবেদার ও অনুকরণকামী মুসলিম দেশগুলোতে ইউনিলিভারের (সাবেক লিভার ব্রাদার্স) মত মাল্টিন্যাশনাল দাজ্জালী কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ‘প্রাণ’র মত আরো হাজারো কর্পোরেট শোষক প্রতিষ্ঠান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। আর তাদের কাজ হলো সুন্দরী নারীদের ফিগারকে পণ্য বানিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা। বর্তমান দাজ্জালী বিশ^, রাষ্ট্রীয় ও কর্পোরেট ব্যবস্থার মূল কথা হলো ‘দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাওদাও ফূর্তি করো।’ এসবের সাথে যুক্ত অনেকেই গড, ঈশ^র, আল্লাহ ও ধর্মে আস্থা রাখলেও মূলত তা শিরকযুক্ত। শিরক মানে আল্লাহকে অস্বীকার করা নয়; আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করা। মক্কার আবু জাহলেরা নাস্তিক ছিল না; মুশরিক ছিল। আর মদীনার ইবনে উবাইরাতো বাহ্যিকভাবে মুশরিকও ছিল না; বরং মসজিদে নববীর মুছল্লী ছিল। কিন্তু এ মুনাফিকরা মদীনাতে গোপনে বান্দীদের দিয়ে পতিতা বাণিজ্য চালাতো। আবার তারাই নবীজির صلى الله عليه وسلم পূত স্ত্রী হযরত আয়েশার বিরুদ্ধে জেনার অপবাদ ছড়িয়েছিল। সূরা নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে তাদেরকে মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসারকামী বলে ইঙ্গিত করে দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

০৪. ইসলাম একটি মানবিক ধর্ম। এতে কোনো অমানিবকতার প্রশ্রয় নেই। হ্যা! যৌনকর্ম মানবদেহ ও সমাজের একটি মৌলিক অপরিহার্য বিষয়। এটি ছাড়া মানব বংশের বিস্তার হয় না এবং মানব সমাজের অস্তিত্বও রক্ষা করা যায় না। উপরন্তু এটি ছাড়া সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। এটি সুস্থ মানুষের একটি জৈবিক চাহিদা। ইসলাম মানুষের এ চাহিদাকে স্বীকৃতি দিয়ে তা পূরণের পর্যাপ্ত সুযোগ রেখেছে। ইসলাম একজ সক্ষম মানুষকে একই সাথে চারটি নারীকে বিয়ে এবং আনলিমিটেড #বান্দী রাখার সুযোগ দিয়েছে (মালিকের জন্য বান্দীর সাথে যৌনমিলন ইসলামে জায়েয। তবে এর বিপরীতে নারী মালিকের জন্য গোলামের সাথে যৌন মিলন কিংবা স্বামী রেখে তাকে বিয়ে করা জায়েয নেই)। আর কেউ বান্দীর সাথে যৌনমিলনে সঙ্কোচবোধ করলে তাকে বান্দীর বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। একই ভাবে বিয়ে উপযুক্ত গোলামের বিয়ের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ এসেছে পবিত্র কোরআন মজীদে (সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াত দ্রষ্টব্য)। যৌন অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো পুরুষ বা নারীকে কোনো অপরাধের জন্য দীর্ঘকাল পর্যন্ত কারাগারে আবদ্ধ করে রাখার কোনো নিয়মও ইসলামে নেই। এগুলো বৃটিশ ইবলীস ও স্বৈরাচার শাসকদের সৃষ্ট নিয়ম। অন্যদিকে নারী-পুরুষের বিয়ে বহির্ভূত মেলামেশাকে নিষিদ্ধ করে ইসলাম মূলত মানুষের যৌনকর্মকে একটি সুস্থ, যৌক্তিক ও উপকারী নিয়ম-শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করেছে। কিন্তু পূর্ব-পশ্চিমের নব্য জাহেলী ও দাজ্জালী শিক্ষা-সংস্কৃতি যৌনকর্মকে একটি পাশবিক তথা পশুদের মত অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। পর্ণগ্রাফির মত ঘৃণ্য একটি বিষয় এখন হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ব্যাপার। এই বাইরে কথিত নৃত্যশিল্প, নাটক ও সিনেমা ইত্যাদির বাণিজ্যতো আরো অনেক বিশাল। আর এ বস্তু ও নাস্তিক্যবাদী রাষ্ট্রচিন্তা ও শোষণ-লুণ্ঠণ প্রবণ ব্যবসা-বাণিজ্যের দুঃসময়ে পৃথিবীতে সবচেয়ে বঞ্চিত ও কষ্টের জীবন যাপন করছে প্রকৃত মুমিনেরা। কারণ, তারা না এ আখেরী জাহেলিয়তের সাথে একাত্ম হতে পারছে, না তারা ঈমান ও আমলের উপর টিকে থেকে সহজে জীবিকা অর্জন করতে পারছে। সম্ভবত এ কারণেই সুনানে তিরমযীসহ বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদীছে নবীজি ছঃ বলেছেন, يأتى على الناس زمان الصابر فيهم على دينه كالقابض على الجمر “মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন ঈমানের উপর ধৈর্য্যধারণ করে বেঁচে থাকা জ¦লন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মতই কষ্ট হবে।” [সুনানে তিরমিযী (২২৬০)]।

০৫. ভালোবাসা! অনেক মধুর শব্দ। আরবীতে হুব্ব حُب ও মহব্বত مَحبَّة বলা হয়। ভালোবাসার সমার্থবোধক শব্দ হলো ইশক عِشق। ইশক শব্দটা কোরআন ও হাদীছে নেই। তবে শাগাফ شَغَفٌ (আসক্তি ও মোহ) শব্দটি সূরা ইউসুফে এসেছে। বাক্যটি হলো قد شغفها حُبَّا (তিনি তাকে ভালোবাসায় আসক্ত করে ফেললেন)। প্রসঙ্গত, হযরত ইউসুফ আঃ তার মালিকের স্ত্রী জুলেখার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। জুলায়খা তাঁর প্রতি একতরফা ভাবে আকৃষ্ট ছিল। “তিনি তাকে ভালোবাসায় আসক্ত করে ফেললেন” কথাটি জুলেখার প্রতিবেশী নারীদের ছিল। তারা ভেবেছিল, হযরত ইউসুফও জুলেখার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। অথবা কথাটি তারা রুপক অর্থে বলেছিলেন (হযরত ইউসুফ আঃ এর প্রতি ইঙ্গিত করে তার সৌন্দর্যকে বুঝাতে চেয়েছিলেন)। যাই হোক, বর্তমানে বিশ^ ভালোবাসা দিবস নামে যে অপসংস্কৃতি বিশ^ব্যাপী চালু হয়েছে, তা তরুণ ও তরুণীদের বিয়ে বহির্ভূত হারাম মেলামেশাকে স্বাভাবিক করার দাজ্জালী অপচেষ্টাকেই এগিয়ে নিচ্ছে। এমন ভালোবাসা দিবস মুসলিম তরুণ ও তরুণীদেরকে #বেহেশতের পরিবর্তে #দোজখের দিকেই ধাবিত করছে। শুধু আখেরাতের দোজখ নয়। অনৈতিক ও বস্তুচিন্তা নির্ভর এ ভালোবাসা ভেঙ্গে গিয়ে এক সময় তাদের জীবনে হতাশা ঢেকে আনছে এবং তাদের মাঝে মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি সৃষ্টি করছে। বরং অনেককে আত্মহত্যায়ও প্ররোচিত করছে। আমাদের সমাজে অনেকে আছেন যারা বিয়ের পূর্বে বর-কনের পারস্পরিক জানাশোনার জন্য বন্ধুত্ব বা প্রেমের পক্ষে কথা বলেন। আমার মতে তাদের এ কথাটা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, পরস্পরকে জানার জন্য বন্ধুত্ব বা প্রেমের কোনো প্রয়োজন নেই। এর জন্য বিয়ের আগে প্রথমে ছেলের নিজের মাতা ও বোনসহ অপরাপর নারী আত্মীয়কে কাঙ্খিত পাত্রীকে দেখে আসার জন্য পাঠানো এবং পরে তাদের মতামতের ভিত্তিতে নিজে গিয়ে সরাসরি দেখে ও কথা বলে আসাই যথেষ্ট। অনুরুপ পাত্র দেখতে হলে পাত্রীর পিতা ও ভাইসহ পাত্রীর পক্ষের লোকজন প্রথমে পাত্রকে দেখে এসে মেয়েকে জানাবে এবং এতে সে অমত না হলে পাত্রকে দাওয়াত দিয়ে সরাসরি তাকে দেখতে ও কথা বলতে দিবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমান দাজ্জালী বিশ^ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষকে এতই স্বার্থপর করে তুলছে যে, তারা অমানবিক হারাম পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে কথা বলছে এবং অন্যদিকে বৈধ বহুবিবাহকে অবৈধ ও অসম্ভব করে তুলছে। একই চিন্তা থেকে তারা তরুণ ও তরুণীদের পারস্পরিক প্রম ও বন্ধুত্বকে উৎসাহিত করছে এবং ১৮ বছর পূরণ হবার আগে মেয়েদের বিয়ে বে-আইনী ঘোষণা করছে।

সার কথা, হে যুবক! তুমি যদি বেহেশতের চিরযৌবনা জীবন ও ডাগর চোখের হূর পেতে চাও, তাহলে দুনিয়াতে তোমাকে ধৈর্য্য ও শৃঙ্খলিত জীবন যাপন করতে হবে। তুমি যদি আজ তোমার জীবনের ভিত ‘তারুণ্য’কে শাহওয়াত চর্চার পিছনে ক্ষয় করো, তাহলে শত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তুমি আগামীতে কখনো সবল ঈমানের মুসলিম ও প্রকৃত আলেম হতে পারবে না।

আর অভিভাবকদের উচিত, ছেলে-মেয়েদের সাথে মন খুলে কথা বলা, তাদের চলাফেরা খেয়াল করা এবং দরদ দিয়ে বুঝিয়ে তাদেরকে সতর্ক করা ও পরিমাণ মত চাপ দেওয়া। অতি দরদ ও অতি চাপ হিতে বিপরীত হয়। তাছাড়া ছেলে-মেয়ে যে কারো বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী পাওয়া গেলে দেরি না করে বিয়ের ব্যবস্থা করা এবং কথিত ‘প্রতিষ্ঠিত’ হবার জন্য অপেক্ষা না করা। কারণ, বিয়ে করলে মানুষের দায়িত্ববোধ ও সংযম বৃদ্ধি পায়।

মহান রব সকল মুমিনকে ক্ষমা এবং রহম করুন।
লেখক,আবুল হুসাইন আলেগাজী

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>