Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

মূসা (আ)-এর ফযীলত স্বভাব গুণাবলী ও ওফাত

মূসা (আ)-এর ফযীলত স্বভাব গুণাবলী ও ওফাত

মুসা (আ)-এর ফযীলত স্বভাব গুণাবলী ও ওফাত

আল্লাহ্ত ৷অ ৷ল৷ ইরশাদ করেনং :

“স্মরণ কর, এই কিভাবে উল্লেখিত মুসার কথা, যে ছিল বিশুদ্ধচিও এবং সে ছিল রাসুল,
নবী ৷ তাকে আমি আহবান করেছিলাম তুর পর্বতে র দক্ষিণ দিক থেকে এবং আমি অম্ভরঙ্গ
আলাপে তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম ৷ আমি নিজ অনুগ্রহেত তাকে দিলাম তার তা ই হারুনকে
নবীরুপে ৷ (সুরা মারয়ামং ৫১ ৫৩)

আল্লাহ্ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশ ৷৷দ করেন :
আল্লাহ্ তা আলা বলেন, হে মুসা ৷ আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা

মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছি ৷ (সুরা আরাফ৪ ১৪৪)
সহীহ বুখারী ও ঘৃসলিমেব বরাতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেন০ ং
আমাকে তোমরা মুসা (আ) এর উপর গ্রেষ্ঠতৃ প্রদান করবে না ৷ কেননা, কিয়ামণ্ডে র দিন যখন
মানব জাতি সৎজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, তখন আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে সংজ্ঞা ৷ফিরে পারে৷ ৷ তখন
আমি মুসা (আ) কে আল্পাহ্ তাআলার আরশের একটি স্তম্ভ ধরে রয়েছে দেখতে পাব ৷ আমি
জানি না, তিনি কি অচে৩ ন হয়েছিলেন? অত ৩ঘ্রপর আমার পুর্বে৩ তিনি চেতনা ফিরে পেলেন
নাকি ভুরে অচেতন হওয়ার প্রতিদানে তিনি আদৌ অচে৩ নই হননি ৷ একথা আমরা পুর্বে উল্লেখ
করেছি যে, এ ধরনের উক্তি ছিল রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিনম্রত ৷ ও বিনয়ের প্রকাশ স্বরুপ ৷

কেননা, তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী, তিনি ছিলেন দুনিয়া ও আখিরাঃত নিং সন্দেহে আদম
সন্তানের সর্দার ৷ এর বিপরীত হওয়ার কোন অবকাশ নেই ৷

াল্লাহ ত ৷আলা ইবশাদ করেন

“আমি তো তে তামার কাছে ওহী প্রেরণ করেছি, যেমন নুহ ও তার পরবর্তী নবীদের কাছে
প্রেরণ করেছিলাম, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহড়াক, ইয়াকুব ও তার বং শধরগণ ঈসা, আইয়ুব,
ইউনুস, হারুন ও সুলায়মান এর নিকটও ওহী প্রেরণ করেছিলাম এবং দাউদকে যাবুর
দিয়েছিলাম ৷ অনেক রাসুল প্রেরণ করেছি যাদের কথা পুর্বে আমিণ্ তামাকে বলেছি এবং অনেক
রাসুল, যাদের কথা তোমাকে বলিনি এবং মুসার সাথে আল্লাহ্ সাক্ষাত বাক্যালাপ করেছিলেন ৷
(সুরা নিসা : ১৬৩ ১৬৪)

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন :

“হে মুমিনগণ! মুসাকে যারা ক্লেশ দিয়েছে, তোমরা তাদের মত হয়ো না ৷ ওরা ৷যা রটনা
করেছিল, আল্লাহ তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন এবং আল্লাহর নিকট সে মর্যাদাবান ৷
(সুরা আহযাব : ৬৯)

ইমাম বুখারী (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা)
ইরশাদ করেন; মুসা (আ) ছিলেন এক লজ্জাশীল ও পদা রক্ষাকারী ব্যক্তি ৷ শালীনতার কারণে
তার দেহের কোন অং শই দেখা যেতাে না ৷৩ তাই বনী ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক লোক তাকে
অপবাদ দিল ও বলতে লাগল, কোন রোগের কারণে তিনি নিজের পায়ের চামড়া কাউকে
দেখতে দেন না ৷ তিনি শ্বেত রোগ কিৎবা একশিরা অথবা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত রয়েছেন ৷

আল্পাহ্ তা আলা তাকে সে সব দোষ থেকে মুক্ত বলে প্রতিপন্ন করতে ইচ্ছে করলেন ৷ একদিন
মুসা (আ) এক নির্জন স্থানে গোসল করছিলেন ও পাথরের উপর কাপড় রেখেছিলেন ৷ যখন
তিনি গোসল সেরে কাপড় পরার জন্যে কাপড় ধরতে গেলেন, অমনি পাথর কাপড় নিয়ে
দৌড়াতে লাগল ৷ মুসা (আ) হাতে লাঠি ধারণ করলেন ও পাথরের পেছনে ছুটলেন এবং বলতে
লাগলেন, হে পাথর! আমার কাপড়, হে পাথর! আমার কাপড় ৷ এমনিভাবে তিনি দৌড়াতে
দৌড়াতে বনী ইসরাঈলের গণ্যমান্য লোকদের সামনে হাযির হয়ে গেলেন ৷ তখন তারা র্তাকে
ৰিবস্ত্র অবস্থায় দেখে নিল যে, আল্পাহ্ তাআলা র্তাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন ৷ এভাবে
আল্লাহ্ তাআলা তাদের অপবাদ থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন ৷ পাথরটি থেমে গেল, মুসা
(আ) আপন কাপড় তুলে নিয়ে পরে নিলেন আর পাথরকে তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করতে

লাগলেন ৷ তিনটি, চারটি কিৎবা পাচটি অাঘাতের কার ণে পাথরের উপর অৎশ ক্ষত-বিক্ষত হয়ে

গিয়েছিল ৷ এই তথ্যের প্রতি ইৎগিত করা হয়েছে নিম্নের আয়া তেং :

হে মুমিনগণ! তে তামরা ওদের মত হয়ো না, যারা মুসাকে কেশ দিয়েছিল ৷ ওরা যা রটনা
করেছিল, আল্লাহ্ তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন এবংঅাল্পাহ্র নিকট সে মযদািবান ৷
(সুরা আহযাব : ৬৯)

ইমাম আহমদ (র), ইমাম বুথারী (ব) ও মুসলিম (র) বিভিন্ন সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা
করেছেন ৷ প্রাচীন কালের আলিমগণের কেউ কেউ বলেন, মুসা (অ্যা-এর মাহাথ্যের একটি
ছিল-তিনি আল্লাহ তাআলড়ার সমীপে আপন ভাই-এর ব্যাপারে সুপারিশ করেছিলেন এবং
তাকে তার সাহায্যকারী হিসেবে পাওয়ার জন্যে দরখাস্ত করেছিলেন ৷ আল্লাহ তড়াআলা তার
দরখাস্ত কবুল করেছিলেন এবং তার ভাইকে নবীও করে দিয়েছিলেন ৷ যেমন আল্লাহ তড়াআলা
ইরশাদ করেন :আমি নিজ অৰুগ্নহে তাকে দিলাম তার ভাই হারুনকে নবীরুপে ! (সুরা মারয়াম : ৫৩)

ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা“ করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুল (সা) কিছু সম্পদ সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করেন ৷ তখন এক ব্যক্তি বলল, এই বণ্টনের
দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি ৷ বর্ণনাকড়ারী বলেন, তখন আমি
রাসুলুল্লাহ (না)-এর দরবারে এসে র্তাকে তা জানালাম ৷ তখন আমি তার ঢেহারায় ৫ক্রাধের
ভাব লক্ষ্য করলাম ৷ তখন তিনি ইরশাদ করেন, মুসা (আ) এর উপর আল্লাহ তা আলার রহমত
বর্ষিত হোক ৷ তাকে এর চাইতেও বেশি ক্লেশ দেয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ
করেছিলেন ৷ ইমাম মুসলিম (ব)-ও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম আহমদ (র)-ও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ তার সাহাবীগণকে সম্বোধন করে বলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন কারোর
দোষ সম্বন্ধে আমাকে অবহিত না করে ৷ কেননা আমি চাই, যেন তোমাদের মধ্যে পরিষ্কার মন
নিয়ে চলাফেরা করি ৷ অর্থাৎ আমার মনে যেন তোমাদের কারো ব্যাপারে বিরুপ ধারণা না
থাকে ৷ বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন, ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে কিছু সম্পদ এসে
পৌছল ৷ তখন তিনি এগুলো বিতরণ করলেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আমি দুই
ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম , তখন একজন অন্যজনকে বলছিল, আল্লাহর শপথ, এই বিরতণে
মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর সভুষ্টি কিৎবা আখিরাত কামনা করেন নি ৷ তখন আমি সেখানে র্দাড়ালাম
ও তাদের কথোপকথন শুনলাম ৷ এরপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে আগমন করলাম এবং
বললাম, হে আল্লাহর রাসুল ! আপনি বলেছেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্য হতে কেউ যেন
আমার কাছে কারোর দুর্ণাম না করে ৷ কিন্তু আমি অমুক ও অমুকের কাছ দিয়ে অতিক্রম
করছিলাম আর তারা এরুপ এরুপ বলছিল ৷ এতে রাসুলুল্লাহ (না)-এর চেহারা রক্তিম হয়ে
গেল ৷ তিনি এতে খুবই দুঃখ গেলেন এবং বললেন, “এসব বাদ দাও, মুসা (আ)-কে এর
চাইতেও অধিক দুঃখ-কষ্ট দেয়া হয়েছিল ৷ তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছিলেন ৷”

আবু দাউদ ও তিরমিযী (ব) ভিন্ন সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ সহীহ বুখারী ও সহীহ
মুসলিমের মিরাজের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসা (আ ) এর কবরের পাশ
দিয়ে অতিক্রম কালে দেখেন, তিনি তার কবরে সালাত আদায় করছেন ৷

সহীহায়নের অন্য হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, মিরাজের রাতে ষষ্ঠ আসমানে রাসুলুল্লাহ
(সা) মুসা (আ)-এব সাথে সাক্ষাত করেন ৷ জিবরাঈল (আ) বললেন, ইনিই মুসা, একে সালাম
করুন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, আমি তাকে সালাম করলাম ৷ উত্তরে তিনি বললেন, পুণ্যবান

নবী ও পুণ্যবান ভাইকে স্বাগতম ৷ ’ রাসুল (সা) বলেন, যখন আমি তাকে অতিক্রম করি তখন
তিনি র্কাদতে লাগলেন ৷ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনি র্কাদছেন কেন? তিনি বললেন,
“আমার পরে একজন যুবককে নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, যার বেহেশতে প্রবেশকারী
উম্মতের সংখ্যা আমার উস্মতের চাইতে বেশি হবে ৷” পক্ষান্তরে ইব্রাহীম (আ) সপ্তম আসমানে
অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ কোন কোন বর্ণনায় ইবরড়াহীম (আ) ষষ্ঠ আসমানে
এবং ঈসা (আ) সপ্তম আসমাংন অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে ৷ কিন্তু পুর্বোক্ত বর্ণনা
বিশুদ্ধতর ৷প্

বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের মতে, মুসা (আ) ষষ্ঠ আসমান এবং ইব্রাহীম (আ) সপ্তম আসমানে

বায়তুল মামুরের প্রতি পিঠ দিয়ে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন ৷ বায়তুল মামুরে প্রতিদিন সত্তর
হাজার ফেরেশতা যিয়ারত করেন এবং তারা আর কোনদিন সেখানে আসেন না ৷ তবে এ
ব্যাপারে সমস্ত বর্ণনাকায়ীই একমত যে, আল্লাহ্ তাআলা যখন মুহাম্মদ (সা) ও তার উম্মতের
প্রতি দিনে-রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসা (আ )-এর পাশ
দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ মুসা (আ) বললেন, আপনি আপনার প্ৰতিপালকের কাছে ফেরত যান এবং
তার কাছে আবেদন করুন, যেন তিনি আপনার উম্মতের জন্যে তা লাঘব করে দেন ৷ কেননা,
আমি আপনার পুর্বে বনী ইসরাঈলের আচরণে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি ৷ অথচ আপনার
উষ্মত চোখ, কান ও অন্তরের দিক থেকে বনী ইসরাঈল থেকে দৃর্বলতর ৷

মুসা (আ)-এর পরামর্শে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আল্লাহ্ তাআলার দরবারে গিয়ে প্রতিবার হ্রাস
করাতে করাতে শেষ পর্যন্ত পাচ ওয়াক্তে পৌছলেন ৷ এবার আল্লাহ্ তাআলা বললেন, এই নাও
পাচ ওয়াক্ত কিন্তু সওয়াবের দিক থেকে তা হবে পঞ্চাশ ওযাক্তের সমান ৷ আল্লাহ তাআলা
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও মুসা (আ) উভয়কে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্ৰতিদান দিন ৷
ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুলুল্লাহ্ (না) আমাদের কাছে তাশরীফ আনেন এবং বলেন, “আমার সম্মুখে সকল উম্মতকে
পেশ করা হয় ৷ তখন আমি একটি বিরাট দল দেখতে পেলাম যা দিগন্ত জুড়ে রয়েছে ৷ ঘোষণা
করা হল যে, এই হচ্ছে মুসা (আ) ও তার উম্মত ৷ ইমাম বুখারী (র) সংক্ষিপ্ত আকারে এবং
ইমাম আহমদ (র) বিস্তারিতডাবে হাদীসটি বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, “একদিন হুসায়ন ইবন
আবদুর রহমান সাঈদ ইবন জুবায়র (বা) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন ৷ তিনি বললেন, তোমাদের
মধ্যে কে ঐ তারকাটি দেখেছ, যা গত রাতে বিধ্বস্ত হয়েছে?” হুসায়ন (বা) বলেন, আমি
দেখেছি ৷ এরপর তিনি আবার বলেন, আমি নামায়ে ছিলাম না ৷ কেননা আমাকে কিছু যা সাপ
ৎশন করেছিল ৷ তিনি বললেন, তখন তুমি কী করলে? তখন আমি বললাম , আমি ঝাড়-কুক
করাই ৷ তিনি বললেন, তৃমি কেন তা করতে গেলে?’ তখন আমি বললাম , বুরাইদাহ্
আসলামী (র) থেকে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে ৷ তিনি বলেন, ঝাড়-কুক করা হয় অন্যের কুদৃষ্টি
অথবা দত্শন থেকে রক্ষা পাবার জন্যে ৷

সাঈদ ইবন জুবায়র বলেন : শ্রুত হাদীসের উপর যিনি হুবহু আমল করে থাকেন, তিনি
উত্তম কাজই করে থাকেন ৷ অতঃপর তিনি বলেন : আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা ) রাসুলুল্পাহ

(সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেন : ”সকল উম্মতকে আমার সামনে পেশ
করা হলে আমি কোন নবীকে দেখলাম, তার সাথে একটি ক্ষুদ্র দল রয়েছে, আবার কোন
নবীকে দেখলাম তার সাথে কেবল একজন কি দুইজন ৷ আবার এমন নবীকেও দেখলাম যার
সাথে একজন লোকও নেই ৷ অতঃপর আমার কাছে একটি বিরাট জামাতকে উপস্থিত করা
হলো ৷ আমি বললাম , এরাই বুঝি আমার উন্মত ৷ তখন বলা হল, এ হচ্ছে মুসা (আ) ও তার
সম্প্রদায় ৷ আমাকে বলা হল, এবার দিগন্ত রেখার দিকে তাকান ৷ দেখতে পেলাম, একটি
বিশাল দল ৷ অতঃপর বলা হল, এদিকে একটু লক্ষ্য করুন ৷ দেখলাম, এ দিকেও একটি
বিশাল দল ৷ তখন বলা হল, এরাই হচ্ছে আপনার উম্মত ৷ তাদের সাথে রয়েছে এমন সত্তর
হাজার ব্যক্তি যারা বিনাহিসাবে এবং শান্তি ভোগ ব্যতীতই জান্নাতে প্রবেশ করবে ৷“

অতঃপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) উঠে র্দাড়ালেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন ৷ তখন সকলে এ
ব্যাপারে চিভা-ভাবনা করতে লাগলেন ৷ তখন তারা বলাবলি করতে লাগলেন , এরা কারা হতে
পারে, যারা বিনা হিসাবে ও আমার ভোগ ব্যতীতই জান্নড়াতে প্রবেশ করবেন? কেউ কেউ
বললেন, সম্ভবত তারা হচ্ছেন নবী করীম (না)-এর সাহাবীগণ ৷ আবার কেউ কেউ বললেন
সম্ভবত তারা হচ্ছেন ঐ সব ব্যক্তি র্ষড়ারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহ
তাআলার সাথে কখনো কাউকে শরীক করেন নি ৷ এ ধরনের অনেক কিছুই র্তারা উল্লেখ
করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) অতঃপর তাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, তোমরা
কাদের ব্যাপারে বলাবলি করছ? তখন তারা তাদের কথোপকথন সম্বন্ধে তাকে অবহিত
করলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “তারা হচ্ছে ঐ সব ব্যক্তি র্যারা কপটত৷ করে না,
যারা ঝাড়কুকের আশ্রয় নেয় না ৷ র্ষারা অশুভ নিয়ে কু-সংস্কারের আশ্রয় নেয় না এবং তারা
তাদের প্রতিপালকের প্রতি ভরসা রাখে ৷

এই হাদীস শুনে উক্কাশা ইবন মুহড়ায়সিন আল আসাদী (রা) বললেন, ইয়া রাসুলাল্পাহ্া
আমি তাদের একজন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, হীা, তুমি তাদের একজন ৷ অতঃপর অন্য এক
ব্যক্তি দীড়িয় বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল ! আমিও তাদের একজন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
উক্কাশা এ ব্যাপারে তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে ৷ এই হাদীসটি বিভিন্ন সুত্রে বিভিন্ন
গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে ৷ আমরাও কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা বর্ণনাকালে আবার এটার উল্লেখ
করব ৷ আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) সম্পর্কে কুরআনের বহু জায়গায় উল্লেখ করেছেন ও তার
প্রশংসা করেছেন এবং তার কালামে মজীদে মুসা (আ)-এব কাহিনী কোথাও বিস্তারিত আবার
কোথাও সংক্ষিপ্ত আকারে বহুবার উল্লেখ করেছেন ৷ কুরআনের বহু স্থানে মুহাম্মদ (সা ) ও তার
প্রতি প্রেরিত কিতাবের পাশাপাশি মুসা (আ) ও তার প্রতি প্রদত্ত কিতাব তাওরাত সম্বন্ধে উল্লেখ
করেছেন ৷ যেমন সুরা বাকারায় রয়েছে :

অর্খাৎ যখন আল্লাহ্র পক্ষ হতে তাদের নিকট রাসুল আসল, যে তাদের নিকট যা রয়েছে

তার সমর্থক, তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহ্র কিতাবটিকে
পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না ৷ (সুরা বাকারা : ১০১)

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৮-

অন্যত্র আল্লাহ্ ত৷ আল৷ বলেনং :

অর্থাৎ-আসিফ লাম মীম, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ :নট্ ৷ তিনি চিরঞ্জীব ও
সর্বসত্তার ধারক ৷ তিনি সত্যসহ ৫৩ ৷মার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পুর্বের
কি তারের সমর্থক ৷ আর তিনি অবতীর্ণ করেছিলেন ত ৷ওরাত ও ইঞ্জীল ইতিপুর্বে; মানব জাতির
সৎপথ প্রদর্শনের জন্য আর তিনি ফুরকানও অবতীর্ণ করেছেন ৷ যারা আল্লাহ্র নিদর্শনকে
প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে ৷ আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী দণ্ডদাতা ৷
(সুরা আল ইমরান ১ ৪)

সুরায়ে আনযামে আল্লাহ্ তা অ ৷লা ইরশাদ করেনং :
তারা আল্লাহ্ তাআলার যথার্থ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি; যখন তারা বলে, আল্লাহ মানুষের
নিকট কিছুই নাযিল করেন নি ৷ বল, কে নাযিল করেছেন মুসার আনীত কিতাব যা মানুষের
জন্য আলো ও পথনির্দেশ ছিল তা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করে কিছু প্রকাশ কর ও যার
অনেকাৎশ গোপন রাখ এবং যা তোমাদের পিতৃ পুরুষগণ ও তোমরা জানতে না তাও শিক্ষা
দেয়৷ হয়েছিল? বল, আল্লাহ্ই; তারপর তাদেরকে নিরর্থক আলোচনারুপ খেলায় মগ্ন হতে
দাও ৷ আমি এ কল্যাণময় কি৩ ৷ব নাযিল করেছি, যা এর পুর্বেকার কিতারের সমর্থক এবং যা
দ্বারা তুমি মক্কা ও এর চতুর্পার্গের লোকদেরকে সতর্ক কর, যারা আ ৷তখিরাত্তু বিশ্বাস করে তারা
ত বিশ্বাস করে এবং তারা তাদের সালাতের হেফাজত করে ৷ (সুরা আনআম : ৯ ১ ৯২)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাওবাতের প্রশংসা করেছেন ৷ অতঃপর কুরআনুল করীমের
ততোধিক প্রশংসা করেছেন ৷

এরপর আল্লাহ্ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেনং :

তারপর আমি মুসাকে দিয়েছিলাম কিতাব যা সৎকর্মপরায়ণের জন্য সম্পুর্ণ, যা সমস্ত কিছুর
বিশদ বিবরণ, পথ নির্দেশ এবং দয়াস্বরুপ, যাতে তারা তাদের প্রতিপালকেব সাক্ষাত সম্বন্ধে
বিশ্বাস করে ৷ এই কিতাব আমি নাযিল করেছি যা কল্যাণময় ৷ সুতরৎ এটার অনুসরণ কর এবং
সাবধান হও, হয়তো তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে ৷ (সুরা ৷আন আম : ১ ৫ : ১ ৫ ৫ আল্লাহ্ তা অ ৷লা সুরা ৷মায়িদায় ইরশাদ করেন ং

নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম; তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো; নবীগণ যারা
আল্লাহর অনুগত ছিল তারা ইহুদীদেব সে অনুসারে বিধান দিত, আরো বিধান দিত রাব্বানীগ ৷ণ
এবং বিদ্বানগণ, কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতা তারের রক্ষক করা হয়েছিল এবং তারা ছিল তার
সাক্ষী ৷ সুতরাং মানুষকে ভয় করবে না , ৷আমড়াকেই ভয় করবে এবং আমার আয়াতসমুহ তুচ্ছ
মুল্যে বিক্রি করবে না ৷ আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না তারাই
কাফির ৷

ইনজীল অনুসড়ারীগণ যেন আল্লাহ্ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুসারে বিধান দেয় ৷

আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই ফা ৷সিক ৷ আমি তোমার

প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি এর পুর্বে অবতীর্ণ কি৩ ৷বের সমর্থক ও স ×রক্ষক রুপে ৷
(সুরা ৷মায়িদাং : ৪৪, ৪৭ ও ৪৮)

উপরোক্ত আঘাতের মাধ্যমে আল্পাহ্ আ আলা কুরআনুল কবীমকে অন্যান্য কিতাবের
ব্যাপারে চুড়ান্ত ফয়সালাকাবী, এগুলোর সমর্থক অন্যান্য কিভাবে যা কিছু বিকৃতি ও পরিবর্তন
করা হয়েছে তার প্ৰক৷ শকারীরুপে গণ্য করেছেন ৷ কি৩ ৷বীদেরকে তাদের কিতাবসমুহের রক্ষক

নিযুক্ত করা ৷হয়েছিল, কিন্তু তারা এগুলোর হিফাজত করতে পারেনি ৷ এগুলো সংরক্ষণ ও
এগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করতে সমর্থ হয়নি ৷ এ জন্যই তাদের নির্বুদ্ধিতা, জ্ঞানের স্বল্পতা,

তাদের উপাস্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকত৷ ইত্যাদির কারণে ঐ সব কি৩ ৷বে বিভিন্ন ধরনের
পরিবর্ত্য৷ সাধিত হয়েছে ৷ আর তাদের প্রতিও কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ, তা জানার লা নত ৷ এ
জন্যেই তাদের কিতাবগুলোতে আল্লাহ তা আনা ও তার রাসুল সম্পর্কে এমন সব স্পষ্ট ভ্রান্তি
লক্ষ্য করা যায়, যেগুলোর কদর্যতা ভাষায় বর্ণনা করা যায় ন

সুরায়ে আম্বিয়ায় অ ৷ল্লাহ্ তাঅ লাইরশাদ করেন :

আমি তো মুসা ও হারুনকে দিয়েছিলাম কুরকান, জ্যোতি ও উপদেশ, মুত্তাকীদের জন্যে
যারা না দেখেও তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত সম্বন্ধে ভীত-সন্ত্রস্ত ৷ এটা
কল্যাণময় উপদেশ, আমি এটা অবতীর্ণ করেছি ৷ তবুও কি তোমরা এটাকে অস্বীকার কর?
(সুরা আম্বিয়া : ৪৮ ৫০)

সুরায়ে কাসাসে আল্লাহ্ তাআ ৷ল৷ ইরশাদ করেন০ :

(তারপর যখন আমার নিকট থেকে তাদের নিকট সত্য আসল, তারা বলতে লাগল, মুসাকে
যেরুপ দেয়া হয়েছিল, তাকে সেরুপ দেয়া হলো না কেন? কিন্তু পুর্বে মুসাকে যা দেয়া হয়েছিল
ত ৷কি তারা অস্বীকার করেনি? ওরা বলেছিল, দৃটিই জাদু, একে অপরকে সমর্থ্য৷ করে ৷ এবং
ওরা বলেছিল, আমরা সকলকে প্রত্যাখ্যান করি ৷ বল, তোমরা সতাবাদী হলে আল্লাহর নিকট
হতে এক কিতাব আনয়ন কর, যা ৷পথনিদ্যেশ এ দুটি থেকে উৎকৃষ্টতর হবে, আমি সেই কিতাব
অনুসরণ করব ৷ (সুরা কাসাস : ৪৮ ৪৯)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআ ৷লা উভয় কিতাব ও উভয় রাসুলের প্রশং যা করেছেন ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরকার হতে ফিরে গিয়ে জিনৃরা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলেন,
আমরা এমন একটি কিতাবের বাণী শুনেছি, যা মুসা (আ)-এর পরে অবতীর্ণ হয়েছে ৷

রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর প্রতি প্রথম ওহী নাযিল হয় নিম্নরুপ :

পাঠ কর, তোমার প্রতি পালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত হতে ৷
পাঠ কর, আর তামার প্রনিপ লক মহামহিমাষিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন
মানুষকে, শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না ৷ ( সুবা আলড়াক৪ ১ ৫ )

এই প্রথম ওহী নাযিল হবার প্রেক্ষিতে যে ঘটনা ঘটেছিলত ৷গোনার পর ওয়ারকা ইব ন
নওফল বলেছিল, পবিত্র, পবিত্র, ইনিই সেই জিববীল (নামুস) যিনি মুসা ইবন ইমরানের নিকট
ওহী নিয়ে এসেছিলেন ৷ মেটিকথা, মুসা (আ) এর শরীয়ত ছিল মহান, তার উম্মতের সং থ্যা
ছিল প্রচুর,ত তাদের মধ্যে ছিলেন বহু নবী, আলিম তইবাদ গােযার বন্দো, সাধুসন্তু, বুদ্ধিজীবী,
বাদশাহ, আমীর-সর্দার ও স্ক্সাত ব্যক্তি ৷ কিন্তু তারা যখন বিদায় নিলেন, তখন সে উন্মতের
মধ্যেও পরিবর্ভা দেখা দিল ৷ যেমন তাদের এবং তাদের শরীয়তেও বিকৃতি ঘটলো ৷ তারা নিজ
নিজ কর্মদোষে বানর ও শুকরে পরিণত হলো ৷ একের পর এক বিধান রহিত হতে লাগল এবং
তাদের উপর বিপদাপদ নেমে আসতে লাগল ৷ তাদের এই ঘটনাসমুহ খুবই দীর্ঘ ও
আলোচনা সাপেক্ষ ৷ তাই অতি সংক্ষেপে অবহিত হতে ইচ্ছুকদের জন্যেত তার কিঞ্চিত বর্ণনা
করা হবে ৷

মুস৷ (আ) এর বায়তৃল্লাহয় হজ্জ পালন

ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন একদিন রাসুলুল্লাছু
(সা) অল আযরাক উপত্যকায় গমন করেন এবং প্রশ্ন করেন এটা কে ন উপত্যকা? উপস্থিত
সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল আযরাক উপত্যকা ৷ তখন তিনি ইরশাদ করলেন, আমি যেন
মুসা (আ)-কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি যেন রাস্তার মোড় থেকে অবতরণ করছেন এবং তালবিয়া
সহকারে আল্লাহ্ তাআলাকে উভৈচ্চ৪স্বরে তাকছেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (না) হারশা মোড়ে
পৌছলেন এবং প্রশ্ন করলেন, এটা কোন মোড়? উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম বললেন, “এটা
হারশা মোড়” ৷ তখন রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, আমি যেন ইউনুস ইবন মাত্ত৷ (আ) কে দেখতে
পাচ্ছি ৷ তিনি একটি লাল রঙের উটের উপর সওয়ার রয়েছেন, তার পরনে পশমের একটি
জুব্বা এবং তার উটের নাকের দড়ি ছিল খেজুর গাছের ছালের ৷ তিনি তালবিয়া পড়ছেন ৷ এই
হাদীসটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন ৷

তাবারানী (র) ইবন আব্বাস (বা) থেকে মারফুরুপে হাদীস বর্ণনা করেন যে, মুসা (আ)
একটি লাল রঙের যীড়ে সওয়ার হয়ে হজ্জ করেছিলেন ৷ এ হাদীসঢি অত্যন্ত গরীব পর্যায়ের ৷

ইমাম আহমদ (র) মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা একদিন
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা )-এর নিকটে ছিলাম ৷ সকলে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করতে
লাগলেন ৷ কেউ একজন বললেন, দাজ্জালের কপালে দুই চক্ষুর মাঝে লিখা থাকবে ,-১-এ ৷
ইবন আব্বাস (রা) মৃজাহিদকে বলেন, তারা কি বলাবলি করছে?’ মুজাহিদ (র) বললেন, তারা
বলছেন, দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে লিখা প্ থাকবে ,- ১-এ ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস
(বা) বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে আমি এরুপ কথা বলতে শুনিনি ৷ তবে এই কথা বলতে
শুনেছি, ইবরাহীম (আ) সম্বন্ধে জানতে হলে তোমাদের সাথীর দিকে অর্থাৎ আমার দিকে লক্ষ্য
, কর ৷ আর মুসা (আ) ছিলেন ধুসর রংয়ের ব্যক্তি, তার ছিল কে ৷কড়ানাে চুল ৷ ৷ত নি লাল রঙের

উটের উপর সওয়ার ছিলেন ৷ উটের নাকের দড়ি ছিল খেজুর গাছের ছালের ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেন, আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি ৷ আর তিনি উপত্যকা থেকে তালবীয়া পড়ায় রত
অবস্থায় নেমে আসছেন ৷

ইমাম আহমদ (র) অন্য এক সুত্রে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, (মিরাজের রাতে) ঈসা ইবন মারয়াম, মুসা (আ) ও ইব্রাহীম
(আ)-কে দেখেছি ৷ তবে ঈসা (আ)-এর রঙ সাদা ৷ তিনি ছিলেন কেড়াকড়ানো চুল ও চওড়া
বুকধারী ৷ মুসা (আ) ছিলেন ধুসর রঙের এবং বিশালদেহী ৷ ’ সাহাবায়ে কিরাম বললেন,
ইব্রাহীম (আ) কেমন ছিলেন? তিনি বললেন, তোমাদের সাথী অর্থাৎ আমার দিকে তাকাও ৷ ’

ইমাম আহমদ (র) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
আল্লাহ্র নবী বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি মুসা (আ) ইবন ইমরানকে দেখেছি একজন
দীর্ঘদেহী ও কেড়াকড়ানাে চুলধারী ব্যক্তি হিসেবে, মনে হয় যেন তিনি শানুয়া গোত্রের লোক ৷
ঈসা ইবন মারয়ড়াম (আ)-কে দেখেছি মাঝারি গড়ন, লাল-সাদা মিশ্রিত রং ও লম্বাটে মাথার
অধিকারী ৷

ইমাম আহমদ (র) অন্য এক সুত্রে আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি মুসা (আ)-এর সাথে সাক্ষাত করেছি ৷
অতঃপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার শারীরিক গঠন বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, তিনি ছিলেন ঢেউ
খেলানাে চুলের অধিকারী, যেন তিনি শানুয়া গোত্রের একজন ৷ এরপর আমি ঈসা (আ )-এর
সাথে সাক্ষাত করলাম ৷ ’ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঈসা (আ)-এর শারীরিক গঠন বর্ণনা করেন এবং
বলেন, তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের ও গৌরবর্ণের অধিকারী ৷ মনে হয় তিনি যেন এইমাত্র
গোসলখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৷ তিনি বলেন, আমি ইব্রাহীম (আ)-কে দেখেছি ৷ তার
বংশধরের মধ্যে তার সাথে আমার অত্যধিক সামঞ্জস্য রয়েছে ৷ ইব্রাহীম (আ ) এর আলোচনায়
এই ধরনের অধিকাংশ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে ৷

মুসা (আ) এর ইস্তিকাল

ইমাম বুখারী (র) তার সহীহ বুখড়ারী’তে মুসা (আ)-এর ইস্তিকড়াল শিরোনামে আবু
হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন মৃত্যুর ফেরেশতা (অড়াযরাঈল)-কে মুসা
(আ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয় ৷ যখন তিনি মুসা (আ )-এর কাছে আসলেন , তখন তিনি তাকে
চপেটাঘাত করলেন ৷ ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার দরবারে ফিরে গিয়ে আরয করলেন,
আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে প্রেরণ করেছেন যিনি মৃত্যু চান না ৷ ’ আল্লাহ তা আলা
বললেন, তার কাছে পুনরায় যাও ও তাকে একটি র্ষাড়ের পিঠে হাত রাখতে বল এবং এ
কথাটিও বল যে, তার হাতের নিচে যতগুলাে চুল পড়বে তাকে তত বছরের আযু দেয়া হবে ৷ ’
মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক৷ তারপর কি হবে?’ আল্লাহ বললেন, তারপর
মৃত্যু ৷ ’ তখন তিনি বললেন, তাহলে এখনই তা হয়ে যাক ৷ ’

বর্ণনকোরী বলেন, তখন তিনি আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে আরব করলেন যেন তাকে একটি
ছিল নিক্ষেপের দুরত্বে পবিত্র ভুমি বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী করা হয় ৷ আবু হুরায়রা (রা )

বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, “যদি আমি সেখানে এখন থাকতাম, তাহলে ঐ
স্থানটিতে তার কবরটি তােমাদেরকে চিহ্নিত করে দেখাতাম ৷ এটা রাস্তার পার্শে লাল ঢিবির’
নিকটে অবিন্থত ৷” ভিন্ন সুত্রেও অনুরুপ বর্ণিত রয়েছে ৷ ইমাম মুসলিম (র) ও ইমাম আহমদ
(র) অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ তবে আহমদ (র) ও আবু হুরায়রা (রা) এর উক্তিরুপে
বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মৃত্যুর ফেরেশতা মুসা (আ) এর নিকট আগমন করে বললেন,
“আপনি আপনার প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিন ৷ তিনি তখন মৃত্যুর ফেরেশতাকে চপেটাঘাত
করে তার একটি চোখ নষ্ট করে দেন ৷ ফেরেশত ৷ তখন আল্লাহ্ তা আলার কাছে গিয়ে বললেন,
’আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার কাছে প্রেরণ করেছেন , যিনি মৃত্যু চান না ৷ তিনি
আমার চোখ নষ্ট করে দিয়েছেন ৷ ’ বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ্ তাআলা তার চোখ নিরাময়
করে দিলেন এবং বললেন, তুমি আমার বান্দার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বল, আপনি কি
দীর্ঘ্যযু চান? যদি আপনি দীর্যায়ু চান, তাহলে আপনি একটি র্ষাড়ের পিঠের উপর আপনার ৷ত
রাখুন এবং আপনার হাতের নিচে যতগুলাে নােম পড়বে তাঃ বছরের আয়ু আপনাকে প্রদান
করা হবে ৷ মুসা (আ) বললেন, তারপর কি হবে? আল্লাহ্ তাআল৷ বললেন, তারপর মৃত্যু ৷
মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক তাহলে অচিরেই মৃত্যু দেয়া হোক ৷ এ বর্ণনাটি শুধু
ইমাম আহমদ (র) এরই ৷

ইবন হিব্বান (র)-ও উপরোক্ত হাদীসটি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করে এ হড়াদীসে
কিছু জটিলতা রয়েছে বলে ইঙ্গিত করে এগুলোর যে উত্তর প্রদান করেছেন তার সারসংক্ষেপ
নিম্নরুপ

মৃত্যুর ফেরেশত৷ যখন মুসা (আ) কে মৃত্যুর কথা বললেন, তখন তিনি তাকে চিনতে
পারেননি ৷ কেননা,ত তিনি মুসা (আ) এর কাছে অপরিচিত অবয়বে আগমন করেছিলেন ৷ যেমন
একবার জিবরাঈল (আ) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকটে এক বেদৃঈনের অবয়বে আগমন
করেছিলেন ৷ ইবরাহীম (আ) ও লুত (আ)-এর নিকট ফেরেশতাগণ যুবকের অবয়বে
এসেছিলেন ৷ তাই তারা তাদেরকে প্রথমে চিনতে পারেননি ৷ অনুরুপভাবে মুসা (আ)-ও তাকে
সম্ভবত চিনতে পারেননি, তাই তাকে চপেটাঘাত করে তার চোখ নষ্ট করে দিয়েছিলেন ৷
কেননা, তিনি বিনা অনুমতিতে মুসা (আ) এর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন ৷ এই ব্যাথ্যাটি আমাদের
শরীয়ত সম্মত ৷ কেননা, যদি কেউ কারো ঘরের মধ্যে বিনা অনুমতিতে তা কায় তাহলে এভাবে
তার চোখ ফুটো করে দেয়ার বৈধতা রয়েছে ৷ অতঃপর তিনি হাদীসটি আ বু হুরায়রা (রা ) থেকে
বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, একদা মুসা (আ)-এর রুহ কবয করার জন্যে
মৃত্যুর ফেরেশতা মুসা (আ)-এর কাছে আগমন করে তাকে বলেন, আপনার প্রতিপালকের
ডাকে সাড়া দিন তখন মুসা (আ) মৃত্যুর ফেরেশতাকে চপেটাঘাত করলেন ৷ তাতে তার চোখ
বিনষ্ট হয়ে যায় ৷ এরপর তিনি সম্পুর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন, যেমন ইমাম বুখড়ারী (র)-ও এর
প্রতি ইঙ্গিত করেছেন ৷
অতঃপর তিনি তার ব্যাখ্যার বলেন, যখন মুসা (আ) মৃত্যুর ফেবেশ৩ ৷কে চপেটাঘাত
করার জন্যে হাত উঠালেন, তখন ফেরেশত৷ তাকে বললেনং এপ্রু , ! অর্থাৎ “আপনার

প্রতিপাল্যকর ডাকে সাড়া দিন ৷ তীর এ ধরনের ব্যাখ্যা যথার্থ বলে মােন নেয়া যায় না,
কেননা মুল পাষ্ঠে তাকে চপেটাঘাত করার বিষয়টি প্ৰতিপালকের ডাকে সাড়া দিন বলার
পরের ঘটনা বলে উল্লেখিত হয়েছে ৷ তবে প্রথম ন্যাখ্যাটি মুল পাঠের সাথে সামঞ্জস্যর্শীল ৷
কেননা, মুসা (আ) মৃত্যুর ফেরেশতাকে চিনতে পারেন নি ৷ ঐ নির্দিষ্ট সমরটিতে ফেরেশতা রুহ
করব করার জন্যে আসবেন এরুপ ধারণা করাও হয়নি ৷ কেননা, মুসা (আ ) অনেক কিছু করার
আশা পোষণ করেছিলেন আর সেই সব কতো বাকি রয়ে গিয়েছিল ৷ যেমন মুসা (আ) ময়দানে
তীহ থেকে বের হয়ে পবিত্র ভুমি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করার প্রবল আকভেক্ষা পোষণ
করেছিলেন ৷ কিত্তু আল্লাহ্ তাআলা নির্ধারণ করে ব্লেখেছিলেন যে, তিনি হারুন ( আ )এর পর
ভীহ প্রাডরে ইনতিকাল করবেন ৷ অচিরেই এ সম্পর্কে বর্ণনা পেশ করা হবে ৷

কোন ৷কােন তাফসীরকার মনে করেন, মুসা (আ) বনী ইসরাঈলকে নিয়ে ভীহ ময়দান
থেকে বের হয়ে বায়তুন মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেছিলেন ৷ এই অভিতেঢি কিতাবীদের ও জমহুর
উলামার অভিমভের পব্লিপন্থী ৷ আর এটা মুসা (আ )-এর সেই দুভ্রার সাথেও সঙ্গতিপুর্ণ
যাতে তিনি বলেছিলেন হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি ঢিল নিক্ষেপের ডফাতে বারতুল
মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী করল ৷ যদি তিনি তথষ্মে গ্রবেশই করে ফেলডেন তাহলে তিনি এরুপ
দৃ’অন্ব করতেন না ৷ কিন্তু তিনি তার সম্প্রদায়ের সাথে ডীহ প্রান্তার ছিলেন ৷ যখন তীর মৃত্যু
সন্নিকট হল তখন তিনি যেই পবিত্র ভুমিতে হিজরত করার জন্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই
ভুমির নিকটবর্তী হবার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করলেন এবং নিজের সম্প্রদায়কে এই কাজে
অনৃপ্ৰর্শের্দীত করলেন, কিভু তাদের ও তাদের আকাজ্জিত পবিত্র ভুমির মাঝে ভাগ্য অস্তরয়ে হয়ে
দাড়ায় ৷ এই জন্যই সারা দুনিয়ার জন্যে প্রেরিত রাসুল ও মানব-কুল শিরােমনি মুহাম্মদ ( না)
ইরশাদ করেন, যদি আমি সেখানে যেতাম তাহলে তােমড়াদেরকে লাল ঢিবির কাছে মুসা
(আ)-এর কবর দেখাতাম ৷

ইমাম বুখারী (র) আনন্দে ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি রলেনপৃ রড়াসুলুল্লাহ্
(সা) ইরশাদ করেন মিরাজের রাতে যখন আমি মুসা (আ)-এর কাছে গমন করলাম তখন
আমি তাকে লাল ঢিৰির নিকট তার কবরে সালাত আদায় করতে দেখলাম ৷

ইমাম মুসলিম (র)-ও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ সুদ্দী (র) ইবন আব্বাস (রা), ইবন
মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবারে কিরাম (রা ) থেকে বর্ণনা করেন ৷ র্ডারা বলেন অতঃপর আল্লাহ
তাআলা মুসা ( আ)-এর কাছে ওহী প্রেরণ করলেন, আমি হারুন (আ)-£ক মৃত্যু দান কবর ৷
তাই র্তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে আর ৷ নির্দেশ ঘুতাবিক মুসা (আ) ও হড়ারুন (আ ) নির্দেশিত
পাহাড়ের দিকে রওয়ানা হলেন ৷ পথে র্তারা এমন একটি গাছ দেখতে পেলেন যেরুপ গাছ
কেউ ণ্কানদিন দেখেনি ৷ এরপর তারা একটি পাকা ঘর দেখতে পেলেন, সেখানে একটি থাট
রয়েছে এবং খাটে লুসজ্জিত ৰিছানাও রয়েছে ৷ আর ঘরে তখন সৃবাতাস খেলছে ৷

হড়ারুন (আ) যখন পাহাড় ও ঘরের দিকে তাকালেন তখন এগুলো তার কাছে খুবই ভাল
লাগল ৷ তাই তিনি বললেন : হে মুসা) আমি এই খাটে ঘুমাতে চাই ৷ মুসা (আ) বললেন
আপনার ভাল লাগলে আপনি এখানে ঘৃমিয়ে পড়ুন ৷ হড়ারুন (আ) বললেন তবে আমার ভর

হচ্ছে, ঘরের মালিক যদি এসে আমার উপর রাগাষিত হন ৷ মুসা (আ) বললেন, এ ব্যাপারে
আপনি কোন ভয় করবেন না, ঘরের মালিকের ব্যাপারটি আমিই দেখব ৷ আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন ৷
তিনি বললেন, হে মুসা ! তুমিও আমার সাথে ঘুমিয়ে পড় ৷ যদি ঘরের মালিক আসেন তাহলে
তিনি আমাদের দু জনের প্রতিই রাগাম্বিত হবেন ৷’ যখন তারা দৃজনই ঘুমিয়ে পড়লেন, হারুন
(আ)কে মৃত্যু স্পর্শ করল ৷ যখন তিনি ব্যাপারটি টের পেলেন, তখন বললেন, “হে মুসা ! তুমি
আমাকে র্ফড়াকি দিয়েছ ৷” হারুন (আ) যখন ইন্তিকাল করলেন, ঘর, গাছ ও খাট আসমানে
উঠিয়ে নেয়া হল ৷ অতঃপর মুসা (আ) যখন তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলেন, অথচ
হারুন (আ) ও তার সাথে নেই, তখন বনী ইসরাঈলরা বলতে ৩,লাগল নিশ্চয়ই মুসা হারুনকে
হত্যা করেছেন ৷ বনী ইসরাঈলরা৷ হ রুন (আ)-ফে যেহেতু অধিকতর ভ ৷লবাসে, সে জন্য মুসা
হিংসা করে হারুন (আ)-কে হত্যা করেছেন ৷ বন্তুত মুসা (আ) থেকে বনী ইসরাঈলের কাছে
হারুন (আ) ছিলেন অধিকতর নমনীয় ৷ পক্ষান্তরে মুসা (আ)-এর মধ্যে ছিল কিছুটা কঠােরতা ৷
”মুসা (আ) একথা শুনে তাদেরকে বললেন, “ তোমাদের জন্য আমাদের আফসােস তোমরা কি
জান না, তিনি ছিলেন আমার সহােদর ৷ ৫৩ ৷মরা কি করে ত ৷বলে যে, আমি তাকে হত্যা করতে
পারি? যখন তারা এ বিষয় নিয়ে মুসা (আ)-কে অধিক জ্বালাতন করতে লাগল, তখন তিনি
দাড়িয়ে দৃরাকাত সালাত আদায় করলেন ও আন্মাহ্ তাঅড়ালার কাছে প্রার্থনা করলেন ৷ তখন
খাটটি উপর থেকে নিচে নেমে আসল এবং তারা সকলে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী জায়গায়
হারুন (আ)-এর লাশঢি দেখতে পেল ৷

অতঃপর মুসা (আ) ও তার খাদেম ইউশা (আ) একদিন পায়চারী করছিলেন ৷ এমনি সময়
একটি কাল বাতাস বইতে, লাগল ৷ ইউশা (আ) সেদিকে তাকালেন এবং এটাকে কিয়ামতের
আলামত বলে ধারণা করলেন ৷ তখন তিনি মুসা (আ)-কে জড়িয়ে ধরলেন এবং বলতে
লাগলেন, কিয়ামত সমাগত আর আমি আল্লাহর নবী মুসা (আ)-কে জড়িয়ে ধরে আছি ৷ মুসা
(আ) তখন আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ইউশা (আ)-এর হাতে জামা রয়ে গেল ৷
ইউশা (আ) জামা নিয়ে যখন বনী ইসরাঈলের কাছে আসলেন, তখন তারা র্তাকে অভিযুক্ত
করে বলতে লাগল, “তুমি আল্লাহর নবীকে হত্যা করেছ ৷” তিনি বললেন, না, আল্লাহর শপথ,
আমি তাকে হত্যা করিনি ৷ বরং তিনি আমার হাত থেকে ছুটে চলে গেছেন ৷ তারা তার কথা
বিশ্বাস করল না এবং তাকে হত্যা করতে উদ্যত হল ৷ ইউশা (আ) বললেন, “যেহেতু তোমরা
আমাকে বিশ্বাস করছ না, সেহেতু আমাকে তিন দিনের অবকাশ দাও ৷” অতঃপর তিনি আল্লাহ্
তাআলার নিকট প্রার্থনা করেন ৷ ফলে যত জন ইউশা (আ)-কে পাহারা দিত সকলকে স্বপ্নে
দেখানো হল যে, ইউশা (আ) মুসা (আ)-কে হত্যা করেন নি বরং র্তাকে আল্লাহ্ তাআলা
উঠিয়ে নিয়ে গেছেন ৷ ফলে তারা ছেড়ে দিল ৷ অন্যদিকে মুসা (আ)-এর সাথে যারা দৃর্ধর্ষ
লোকদের করলিত পবিত্র শহর বায়তৃল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিল তাদের
কেউই এ শহরের বিজয়ের সময় অবশিষ্ট ছিল না ৷ সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল ৷ তবে
উপরোক্ত বর্ণনার সুত্রে কিছু দুর্বলত৷ রয়েছে ৷ আল্লাহ্ই অধিকতর জ্ঞাত ৷ পুর্বে আমরা বর্ণনা
করেছি যে, মুসা (আ)-এর সাথে যারা ছিলেন, তাদের মধ্য হতে ইউশা ইবন নুন (আ) ও
কালিব ইবন ইউকাল্লা (আ) ব্যতীত অন্য কেউ তীহ প্রান্তর থেকে বের হতে পারেনি ৷ কালিব

আল-বিদড়ায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৯-

ছিলেন মুসা (আ) ও হারুন (আ)-এর বোন মারয়ামের স্বামী ৷ র্তারা উল্লেখিত দুই ব্যক্তি
ইসরাঈলদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন ৷

ওহড়াব ইবন মুনাব্বিহ্ (র) উল্লেখ করেছেন যে, একদিন মুসা (আ) একদল ফেরেশতার
নিকট আগমন করলেন ৷ তারা তখন একটি কবর খুড়ছিলেন ৷ এই কবর থেকে উত্তম, সুন্দর ও
মনােরম কবর কখনও দেখা যায়নি ৷ তিনি ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা কার
জন্যে এই কবরটি খুড়ছেন? তারা বললেন, “এটা আল্লাহ্ তাআলার এক বান্দার জন্যে যিনি
খুবই সম্মানিত ৷ যদি আপনি এরুপ সম্মানিত বান্দা হতে চান তাহলে এ কবরে প্রবেশ করুন ৷
বহুক্ষণ এখানে সটান শুয়ে পড়ুন এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন এবং
আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস নিতে থাকুন ৷ তিনি তইি করলেন ও ইন্তিকাল করলেন ৷ ফেরেশতাগণ
তীর জানাযার নামায আদায় করেন এবং তাকে দাফন করেন ৷

কিতাবীরা ও অন্যান্য উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেন যে, মুসা (আ) যখন ইনৃতিকাল
করেন তখন তার বয়স ছিল একশ বিশ বছর ৷ ইমাম আহমদ (র) আবু হুরায়রা (বা ) থেকে
মারফু হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেন; পুর্বে মৃত্যুর ফেরেশতা
জনগণের কাছে প্রকাশ্যে আগমন করতেন ৷ তইি একদিন মুসা (আ)-এর কাছেও প্রকাশ্যে
আগমন করলেন ৷ অমনি মুসা (আ) তাকে চপেটাঘাত করে তার চোখ নষ্ট করে দেন ৷
ফেরেশতা প্রতিপালকের কাছে আগমন করলেন ও বললেন, হে আমার প্রতিপালক ৷ আপনার
বন্দো মুসা (আ) আমার চোখ বিনষ্ট করে দিয়েছেন ৷ তিনি যদি আপনার কাছে সম্মানিত না
হতেন তাহলে আমি তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতাম ৷

আল্লাহ তাআলা বললেন, “হে ফেরেশতা! তুমি আমার বান্দার কাছে ফিরে যাও এবং
তাকে বল যে, সে যেন একটি র্ষাড়ের পিঠের উপর তার হাত রাখে ৷ তাতে তার হাতের নিচে
যতটি লোম পড়বে তাকে ড্ড বছরের আয়ু দেয়া হবে ৷ মুসা (আ) বললেন, তারপর কী হবে?
তিনি বললেন, “তারপর মৃত্যু ৷” মুসা (আ) বললেন, “তাহলে তা এখনই হোক ৷” বর্ণনাকারী
বলেন, মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে একটি বস্তুর ঘ্রড়াণ নিতে দিলেন এবং এভাবে তার রুহ কবয
করলেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর ফেরেশতার চোখ নিরাময় করে
দিলেন ৷ এরপর থেকে মৃত্যুর ফেরেশতা লোকজনের কাছে গোপনে আসেন ৷ ইবন জারীর
তাবারী (র)-ও অনুরুপ হাদীস মাবফুভাবে বর্ণনা করেন ৷

ইউশা (আ) এর নবুওত লাভ এবং বনী ইসরাঈলের দায়িত্ব গ্রহণ

তিনি হলেন ইউশা ইবন নুন ইবন আফরাসীম ইবন ইউসুফ (আ), ইবন ইয়াকুব (আ),
ইবন ইসহড়াক (আ), ইবন ইবরাহীম খলীল (আ) ৷ কিতাবীরা বলেন, “ইউশা হলেন হুদ
(আ)-এর চাচাভাে ভাই ৷ আল্পাহ্ তাআলা কুরআন শরীফে খিযির (আ)-এর ঘটনা প্রসঙ্গে
ইউশা (আ)-এর নাম উল্লেখ না করে তার বর্ণনা দিয়েছেন ৷ আল্লাহ্ তাআলা বলেন : কর, যখন মুসা তার খাদেমকে বলেছিল’ ৷ বুখারী শরীফেও উবায়

ইবন কাব (বা) থেকে নাম ধরে তার বর্ণনা এসেছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন যে, তিনি
হলেন ইউশা ইবন নুন (আ) ৷ কিতাবীদের মধ্যে তার নবুওত সম্পর্কে ঐকমত্য রয়েছে ৷ তাদের
একটি দল যারা সামিরাহ বলে বিখ্যাত, তারা মুসা (আ) এর পর ইউশা ইবন নুন (আ) ব্যতীত
কারো নবুওত স্বীকার করে না ৷ তাওরাতে ইউশা (আ) এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷
তাই তারা ইউশা (আ) ব্যতীত অন্যের নবুওতকে অস্বীকার করে ৷ অথচ অন্যদের নবুওত
প্রতিপালকের তরফ থেকে সত্য ও যথার্থ ৷ তাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার
লা’নত বর্নিত হতে থাকবে ৷

ইবন জারীর প্রমুখ তাফসীরকার, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন; মুসা (আ ) এর
শেষ জীবনে মুসা (আ) হতে ইউশা (আ)-এর দিকে নবুওত স্থানান্তরিত হয় ৷ মুসা (আ) ইউশা
(আ)-এর সাথে সাক্ষাত করে প্রশ্ন করতেন যে, কি কি নতুন আদেশ নিষে ধ অবতীর্ণ হয়েছে ৷
একদিন ইউশা (আ) বল্লেন, “হে কালীমুল্লাহ্! আমি আপনাকে কোন দিনও প্রশ্ন করিনি যে,
আপনার কাছে আল্লাহ তড়াআলা কী ওহী প্রেরণ করেছেন, আপনিই বরং প্রয়োজনে আমাকে
নিজের পক্ষ থেকে ওহী সম্পর্কে রক্তে করতেন ৷ তখন মুসা (আ) বেচে থাকাকে অপছন্দ
করলেন এবং মৃত্যুকেই শ্রেয় বিবেচনা করলেন ৷ উপরোক্ত বর্ণনায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে ৷
কেননা মুসা (আ)-এর কাছে মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত সর্বদাই আল্লাহর আদেশ, ওহী, শরয়ী নির্দেশ ও
কথাবার্তা অবতীর্ণ হত এবং তিনি আল্লাহ্ তাআলার নিকট আজীবন সম্মানিত, যোগ্য,
মর্যাদাবান ও দক্ষতাসম্পন্ন নবী রুপেই ছিলেন ৷ বুখারী শরীফে মুসা (আ) কর্তৃক মৃত্যুর
ফেরেশতার চােখবিনষ্ট করা সম্পর্কিত হাদীসটি ইতিপুর্বে উদ্ধৃত হয়েছে ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (ব)-এব উপরোক্ত বর্ণনাটি যদি তিনি আহলি কিতাবদের কিতাব
থেকে বর্ণনা করে থাকেন তাহলে জেনে রাখা দরকার যে, তাদের তাওরাত নামী কিভাবে
উল্লেখ রয়েছে যে, মুসা (আ)-এর জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বনী ইসরাঈলের প্রয়োজন
মুতাবিক আল্লাহ তাআলা মুসা (আ)-এর প্রতি আদেশ-নিষেধ সংক্রান্ত ওহী অবতীর্ণ করেছেন ৷
র্তাবু আকৃতির গম্বুজে স্থাপিত সাক্ষ্যদানে তাবুত সম্বন্ধে তাদের কিভাবে উল্লেখিত তথ্যাদি
পর্যালোচনা করলে তা সহণ্ডেইি প্রতীয়মান হয় ৷ বনী ইসরাঈলের তৃতীয় যাত্রা পুস্তকে উল্লেখ
রয়েছে যে, বনী ইসরাঈলকে ১২টি গোত্রে বিভক্ত করার জন্যে আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ) ও
হারুন (আ)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ আবার প্রতিটি গোত্রের একজন আমীর নির্ধারণ করার
জন্যে হুকুম দিয়েছিলেন ৷ আমীরকে বলা হতো নকীব ৷ ভীহ ময়দান থেকে বের হবার পর দৃর্ধর্ষ
জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি হিসেবে তাদেরকে এরুপ বিভক্ত করার হুকুম দেয়া হয়েছিল ৷
আর এ নির্দেশটি ছিল চল্লিশ বছর অতিক্রাত্ত হবার শেষের দিকে ৷ এ জন্যই কেউ কেউ
বলেছেন, মুসা (আ) মৃত্যুর ফেরেশতার চোখ বিনষ্ট করে দিয়েছিলেন ৷ কারণ, তিনি তাকে
তার ঐ সময়ের অবয়বে চেনেননি ৷ অধিকত্তু আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে এমন একটি
কাজের নির্দেশ দিয়েছিলেন তার যমানায় যেটা সংঘটিত হবার তিনি আশা পোষণ করছিলেন
কিন্তু তার আমলে এটা সংঘটিত হওয়া তকদীরের ফয়সালা ছিল না ৷ বরং এটা তার খাদেম
ইউশা ইবন নুনের ভাগ্যেই নির্ধারিত ছিল ৷

যেমন রাসুলুল্লাহ্ (স) সিরিয়ার রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছে করেছিলেন এবং
এজন্য নবম হিজরীতে তিনি তাবুকে পৌছেও ছিলেন ৷ কিন্তু ঐ বছর তিনি যুদ্ধ না করে ফিরে
আসেন ৷ অতং পর দশম হিজরীতে তিনি হজ আদায় করেন ও মদীনায় ফিরে এসে উসামা
(রা) কে আমীর নিযুক্ত করেন ৷৩ তার জীবদ্দশায় সিরিয়ার উদ্দেশে একটি সেনাদল প্রেরণের
প্রন্তুতির নির্দেশ দেন এবং নিম্ন বর্ণিত আঘাতের মর্মানুযায়ী স্বয়ং যুদ্ধে য ৷বার প্রন্তুতি নেন ৷

যাতে আল্লাহ তাআলা বলেন ং

যাদের প্ৰতি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে৩ তাদের মধ্যে যারা আল্লাহে ঈমান আসে না শেষ
দিলেও নয় ৷ এবং আল্লাহ ও তার রাসুল যা হারাম করেছেন, তা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য
দীন অনুসরণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা নত হয়ে স্বহন্তে জিযিয়া
দেয় ৷ (সুরা তওবা : ২৯)

রাসুলুল্লাহ (সা) উসামা বাহিনী প্ৰন্তুত করার সাথে সাথেই ইনতিকাল করেন ৷ তখন উসামা
জুরাফ নামক স্থানে স্থাপিত র্তাবুতে অবস্থান করছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর ইনতিকালের পর
তার খলীফা আবু বকর সিদ্দিক (বা) উসামা বাহিনী প্রেরণের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করেন ৷ অতঃপর
যখন আরব উপদ্বীপের অবস্থা স্বাভাবিক হয় ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অবসান ঘটে
এবং সত্য তার নিজস্ব পথে অগ্রসর হয়, পুর্ব-পশ্চিমে ইরাক-সিরিয়ার এবং পারস্য সম্রাট
কিসরাৱ সাথী-সংগীও রোম সম্রাট কায়সরের বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসলামী বাহিনী প্রেরণ করা হয়
এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিজয় দান করেন এবং শত্রু পক্ষের জানমালের অধিকারী
করে দেন ৷ এ সম্বন্ধে ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ৷ অনুরুপ আল্লাহ
তাআলা মুসা (আ) কে বনী ইসরা ঈল থেকে সৈন্য সত্থাহর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের

মধ্যে নকীব নির্ধারণ করতে হুকুম দিয়েছিলেন ৷ আল্লাহ্ তা জানা বলেন :
ণ্ৰ্এে ৷ র্দুাব্লু ”ঠোদ্বু

আল্পাহ্ তা আলা বনী ইসরাঈলের অংপীকারষ্ গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের মধ্য হতে

বারজন নেতা নিযুক্ত করেছিলেন ৷ (সুরা মায়েদা০ ং ১২)

এঠাও

আর আল্লাহ বলেছিলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; তোমরা যদি সালাত কায়েম কর,
যাকাত দাও, আমার রাসুলগণে ঈমান আন ও তাদেরকে সম্মান কর এবং অ ৷ল্লাহকে উত্তম ঋণ
প্রদান কর, তবে তোমাদের পাপ অবশ্যই মােচন করব এবং নিশ্চয় তোমাদেরকে দাখিল করব
জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; এর পরও কেউ কুফরী করলে সে সরল পথ হারাবে ৷
(সুরা মায়েদা : ১২)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা বনী ইসরাঈলকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমাদের প্রতি আমি যা
বাধ্যতামুলক করেছি তা যদি তোমরা যথাযথ পালন কর এবং যুদ্ধ থেকে বিরত না
থাক-যেমন পুর্বে বিরত ছিলে তাহলে এটার সওয়াবকে আমি তোমাদের উপর পতিত গযব ও
শাস্তির কাফফারা রুপে গণ্য করব ৷ এ প্রসঙ্গে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে যে সব বেদুঈন রাসুলুল্লাহ
(স^া) থেকে পিছু হটে রয়েছিল তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ তাআ ৷ল৷ ইরশা দ করেন :

যে সব আরব মরুবাসী পশ্চ৷ তে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বল, তোমরা আহুত হয়ে এক

প্রবল পরাক্রাম্ভ জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, তে তামরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না

তারা আত্মসমর্পণ করে ৷ তোমরা এ নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ৫ তামাদেরকে উত্তম পুরস্কার

দান করবেন ৷ আর তোমরা যদি পুর্বের মত পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর,৩ তিনি তোমাদেরকে মর্মত্তুদ শ৷ ৷স্তি
দেবেন ৷ (সুরা ফাত্হ : ১৬)

অনুরুপভাবে আল্লাহ্ তাআলা বনী ইসরাঈলের ক্ষেত্রেও বলেছেন:; :

এরপরও তোমাদের কেউ কুফরী করলে সে সরল পথ হারাবে ৷’ অতংপর আল্লাহ্ তা আলা
তাদের দৃষ্কর্মের ও ওয়াদাভঙ্গের জন্য নিবন্ধ ব করেন ৷ যেমন তাদের পর খৃন্টানদের ধস্বীয়ি
ব্যাপারে মতবিরোধের জন্য আল্লাহ্ তা জানা তাদেরকে তিরস্কার করেন ৷ এ সম্পর্কে তাফসীরের
কিভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷

বন্তুত আল্লাহ্ তাআল৷ মুসা (আ)-কে বনী ইসরাঈলেব ঐসব যােদ্ধার নাম লিপিবদ্ধ করার
জন্যে নির্দেশ দেন যারা অস্ত্রধারণ করতে পারে, যুদ্ধ করতে পারে এবং বিশ বছর কিৎব৷ তার
অধিক বয়সে পৌছেছে আর তাদের প্রতিটি দলের জন্যে একজন নকীব তথা নে৩ তা নির্ধারণেরও
তিনি হুকুম দেন ৷

প্রথম গোত্রটি ছিল রুবীল-এর গোত্র ৷ রুবীল ছিলেন ইয়াকুব (আ)-এর প্রথম সন্তান ৷ এ
গোত্রে যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৫শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন আল ইয়াসুর ইবন শাদ
ইয়াসুরা ৷

দ্বিতীয় গোত্রটি ছিল শামউন-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৩শ’ ৷ তাদের
নেতা ছিলেন শালে৷ মীঈল ইবন হুরইয়৷ শুদাই ৷

তৃভীয়টি ছিল ইয়াহুদা-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬শ ৷ তাদের নেতা
ছিলেন নাহশুন ইবন ওমায়না দাব ৷

চতুর্থ ছিল ঈশাখার-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৪ হাজার ৪শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন
নড়াশাঈল ইবন সাওপার ৷

পঞ্চম গোত্রটি ছিল ইউসুফ (আ)-এর ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৫শ’ ৷ তাদের নেতা
ছিলেন ইউশা ইবন সুন (আ) ৷

ষষ্ঠ ছিল মীশা-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ২শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন
জামলীঈল ইবন ফাদাহ সুর ৷

সপ্তম গোত্রটি ছিল বিন ইয়ামীন-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৪শ’ ৷ তাদের
নেতা ছিলেন আবীদান ইবন জাদউন ৷

অষ্টম গোত্রটি ছিল হাদ-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৬শ ৫০ জন ৷ তাদের
নেতা ছিলেন আল ইয়াসাফ ইবন ৱাউঈল

নবমটি ছিল আশীরএর ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৫শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন
ফাজ-ঈল ইবন আকরান ৷

দশম গোত্রঢি ছিল দান-এর ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৭শ’ ৷ নেতা ছিলেন আথী
আমার ইবন আম শুদাই ৷

একাদশতম গোত্রটি ছিল নাফতালী-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৪শ ৷
তাদের নেতা ছিলেন আখীরা ইবন আইন ৷

দ্বাদশতম গোত্রটি ছিল যাবুলুন-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৪শ’ ৷ তাদের
নেতা ছিলেন আলবাব ইবন হইিলুন ৷ উপরোক্ত বর্ণনাটি ইহুদীদের কিভাবে উল্লেখিত রয়েছে ৷
আল্লাহ্ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত ৷

বনু লাওয়ী উপরোক্ত বনী ইসরাঈলের আঃভুক্ত নয় ৷ তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বনী
ইসরাঈলের সাথে যোদ্ধা হিসাবে গণ্য করতে নিষেধ করেছেন ৷ কেননা; তারা ছিল র্তাবু-
পম্বুজের বহন, খাটানাে ও গুটড়ানাের দায়িত্বে নিয়োজিত ৷ তারা ছিল মুসা (আ) ও হারদ্বন
(আ)-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৷ এ সংখ্যার মধ্যে ১ মাস বা তদুর্ধ বয়সের
শিশুদেরকেও ধরা হয়েছে ৷ তারা আবার নিজেরা বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল ৷ প্রতিটি ছোট ছোট
গোত্র, র্তাবু গম্বুজের বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল ৷ একদল এটাকে পাহারা দিত, অন্য
একদল এটার যাবতীয় মেরামতের কাজে নিয়োজিত থাকত ৷ যখন বনী ইসরাঈলরা অন্যত্র
গমন করত , তখন একটি দল র্তাবু পরিবহন ও খাটড়ানাের কাজে নিয়োজিত থাকত ৷ তারা
সকলেই র্তাবু গম্বুজের আশেপাশে, সামনে, পেছনে, ভানে ও নামে হেফাজতে নিয়োজিত
থাকত ৷

বসু লাওয়ী ব্যতীত বনী ইসরাঈলের যােদ্ধাদের মোট সংখ্যা যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে
তা হচ্ছে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬শ ৫৬; কিত্তু তারা বলে ২০ বছর বয়স্ক ও তদুর্ধের অস্ত্র
ধারণকারী বনী ইসরাঈলের যােদ্ধাদের সংখ্যা হচ্ছে (তা অবশ্য বনু লাওয়ীকে বাদ দিয়ে) ৬

লাখ ৩ হাজার ৫শ’ ৫৫ জন ৷ এরুপ বর্ণনায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে ৷ কেননা, তাদের
কিতাবে উল্লেখিত উপরোক্ত সৈন্যদের মোট সংখ্যার সাথে তাদের উল্লেখিত সৈন্য সংখ্যার মিল
নেই ৷ আল্লাহ্ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত ৷

চলার সময় র্তাবু ৷ম্বুজের হেফাজতে নিযুক্ত বনু লাওয়ীরা বনী ইসবাঈলের মধ্যভাগে
অবস্থান করতেন ৷ আর ডান পাশের শীর্ষে থাকতেন বনু রুবীল ও বাম পার্শের শীর্ষে থাকতেন
বনুৰান ৷ বনু নাফতালী হতে ন পশ্চাৎবর্তী দলে অন্তর্ভুক্ত ৷ আল্লাহ তাআ ৷লার নির্দোশ মুসা (আ)
বনু হারুন (আ) কে ইমাম নির্ধারণ ৷করলেন ৷ তাদের পুর্বে তাদের পিত ৷রাও এরুপ ইমাম
ছিলেন ৷ তারা ছিলেন নাদাব; হুবকারাহ, আবীহু, আল আযির ও ইয়াসমার ৷

বন্তুত বনী ইসরাঈলের যারা মুসা (আ)-কে বলেছিল, তু ও ণ্তামার প্রতিপালক শত্রুর
সাথে গিয়ে যুদ্ধ কর, আমরা এখানেই বসে রইলাম ৷ অর্থাৎ যারা দুর্দাম্ভ লোকজন অধ্যুষিত
শহর বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছিল তাদের একজনও তখন
জীবিত ছিল না ৷

এটা সাওবী (র)-এর অভিমত ৷ তিনি ইবন আব্বাস (রা) থেকে এরুপ বর্ণনা করেন ৷
অনুরুপভাবে কাতাদা (র) , ইকরিম৷ (র) ও সুদ্দী (র) , ইবন আব্বাস (রা) , ইবন মাসউদ (রা)

প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণনা করেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা ) সহ পুর্ব ও পরের

উলামায়ে কিরাম বলছেন, হারুন (আ) ও মুসা (আ) উভয়েই ইণ্ডে তাপুর্বে তীহের প্রান্তরে
ইননিক ল করেছিলেন৩ ৷ তবে ইবন ইসহাক (ব) মনে করেন যে, যিনি বায়তুল মুকাদ্দাস জয়
করেছেন, তিনি হচ্ছেন মুসা (আ) আর ইউশা (আ) ছিলেন তার অগ্রগামী দলের প্রধান ৷ তিনি
আবার এ প্রসঙ্গে বালআম ইবন বাউর এর ঘটনাও বর্ণনা করেন ৷

আল্লাহ্ তা জানা ইরশ ৷৷দ করেন ং

তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও যাকে আ ৷মি দিয়েছিলাম নিদর্শন, অতঃপর সে ওটা
বর্জন করে ও শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয় ৷ আমি
ইচ্ছে করলে এটার দ্বারা তাকে উচ্চমর্যাদা দান করতাম কিত্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুকে পড়ে
ওতার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ৷ তার অবস্থা কুকুরের মত যার ওপর তুমি বোঝা চাপালে সে
হীপাতে থাকে এ ৎ ন্ ছুমি বোঝা না চ ৷পালেও হাপায় ৷ যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান
করে তাদের অবস্থা ও এরুপ;ত তুমি বৃত্তান্ত বিবৃত কর যাতে তারা চিন্তা করে ৷ যে সম্প্রদায় আমার
নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের প্রতি জুলুম করে তাদের অবস্থা কত মন্দ! (সুরা
১৭৭)

বালয়াম ইবন বাওর-এর ঘটনা তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে ৷ ইবন আব্বাস (বা ) প্রমুখ
উল্লেখ করেছেন যে, সে ইসমে আযম জানত ৷ তার সম্প্রদায় তাকে মুসা (আ) ও তার
সম্প্রদায়ের উপর অভিশাপ দিতে অনুরোধ করেছিল ৷ প্রথমত সে বিরত ছিল কিন্তু যখন তারা
তাকে পুনঃ পুনঃ অনুরোধ করল, তখন সে তার একটি পাধার উপর আরোহণ করল ৷ এরপর
বনী ইসরাঈলের শিবিরের দিকে অগ্রসর হল ৷ যখন সে তাদের নিকটবর্তী হল, তখন গাধাটি
তাকে নিয়ে বসে পড়ল ৷ সে গাধাটিকে মারধর করতে লাগল ৷ গড়াধাটি দাড়িয়ে কিছু দুর চলার
পর আবার বসে পড়ল ৷ তখন সে পাধাটিকে আগের চইিতে অধিক মার দিল ৷ পাধাটি দীড়াল ,
পরে আবার বসে পড়ল ৷ তখন সে আবার পার্ধাটিকে অধিক জোরে পিটাতে লাগল ৷ তখন
পাধাটির মুখে ভাষা ফুটল ৷ সে বালয়ামকে বলতে লাগল, হে বালয়াম ! তুমি কোথায় যড়াচ্ছ?
তুমি কি ফেরেশতাদের দেখছ না-র্তারা আমার সামনে দাড়িয়ে আমাকে ভীব্রতাবে বাধা
দিচ্ছেন? তুমি কি আল্লাহর নবী ও ষু’মিনদের অভিশাপ দেওয়ার জন্য যাচ্ছ? তবু সে বিরত
রইল না, সে আবার গাধাটিকে মার দিল ৷

পাধাটি অগ্রসর হল এবং হাসবড়ান পাহাড়ের চুড়ার নিকটবর্তী হল ৷ বালয়াম মুসা (আ )-এর
শিবির ও নদী ইসরাঈলের দিকে তাকালো এবং তাদেরকে অভিশাপ দিতে লাগল ৷ তবে তার
জিহবা তার এখতিয়ায়ে ছিল না ৷ সে মুসা (আ) ও তার সম্প্রদায়ের জন্যে আশীর্বাদ করতে
লাগল এবং তার নিজের সম্প্রদায়ের উপর অভিশাপ দিতে লাগল ৷ তার সম্প্রদায় তাকে এ জন্য
তিরস্কার করতে লাগল ৷ তখন সে তার সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং বলল যে, সে
তার জিহ্াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ৷ তার জিহবা ক্রমেই ঝুলে পড়ছিল এবং তা শেষ পর্যন্ত
বুকের উপর গিয়ে পড়ল ৷ সে তার সম্প্রদায়কে বলতে লাগল, আমার দুনিয়া ও আখিরাত
বরবাদ হয়ে গেল ৷ প্রতারণা ও ধৌকাবাজি ব্যতীত আমার জন্যে আর কোন পথই বাকি রইলাে
না ৷ তারপর সে তার সম্প্রদায়কে নির্দেশ দিল তারা যেন তাদের নারীদেরকে বিশেষ সাজে
সজ্জিত করে পণ্য বিক্রয়ের ছলে মুসা (আ)-এর সৈন্যদের কাছে পাঠায় ৷ তারা তাদের কাছে
মালপত্র বিক্রয় করবে ও নিজেদেরকে তাদের কাছে সমর্পণ করবে যাতে তারা তাদের সাথে
ব্যভিচারে লিপ্ত হয় ৷ কেননা, তাদের মধ্য হতে যদি একজনও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাহলে এটা
তাদের সকলের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট ৷ তারা এরুপ করল ৷ তাদের নারীদের বিশেষভাবে সজ্জিত
করল এবং তাদেরকে বনী ইসরাঈল শিবিরে পাঠাল ৷ তাদের মধ্যকার কুস্তি নান্নী একজন নারী
বনী ইসরাঈলের একজন সরদারের কাছে গেল ৷ তার নাম ছিল যামরী ইবন শালুম ৷ কথিত
আছে যে, সে ছিল বনু শামাউন ইবন ইয়াকুব (আ)-এর গোত্রের সরদার ৷ সে তখনই এই
নারীটিকে নিয়ে তার র্তাবুতে প্রবেশ করল ও তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হল ৷ আল্লাহ্ তাআলা
বনী ইসরাইলের প্ৰতি প্লেগ রোগ পাঠালেন ৷ এ রোগ তাদের মধ্যে ছড়াতে লাগল ৷ এই সংবাদ
যখন ফিনহাস ইবন আমার ইবন হারুন-এর কাছে পৌছল , তখন তিনি তার লোহার বর্শ৷ হাতে
ঐ র্তীবুতে ঢুকে তাদের দুইজনকেই বিদ্ধ করলেন ৷ অতঃপর তাদেরকে নিয়ে ঘরের বের হয়ে
জনসমক্ষে আসলেন ৷ তখন তার হাতে ঐ হাতিয়ারটিও ছিল ৷ পুরুষ ও মহিলা উভয়ের লাশ
তিনি ঘরের বাইরে নিয়ে আসেন এবং আকাশের দিকে লাশ দুটি তুলে ধরে বললেন, হে

আল্লাহ ! আপনার অবাধ্যের সাথে আপনি এরুপ আচরণই করে থাকেন ৷ এরপর ংপ্লগের প্রকোপ
প্রশমিত হয়ে যায় ৷ ঐ প্লেগ মহামারীতে সত্তর হাজার লোক মারা গিয়েছিল ৷ যারা এ সংখ্যা কম
, করে বলেন, তারাও বিশ হাজার লোক মারা গিয়েছিল বলে থাকেন ৷

ফিনহাস ছিলেন তার পিতার প্রথম সন্তান ৷ তার পিতা আল আযার ছিলেন হারুন (আ ) এর
পুত্র ৷ এ জন্য বনী ইসরাঈলরা কুরবানীর পশুর নিতম্ব, বাহু ও চোয়াল ফিনহাস বংশীয়দের
প্রাপ্য বলে মনে করত ৷ অনুরুপভাবে তাদের সবকিছুর প্রথমটি তাদের প্রাপ্য বলে মনে করত ৷
বালয়ামের উপরোক্ত ঘটনাটি ইবন ইসহাক (র) বর্ণনা করেন ৷ আর তা যথাঃইি বলে বুযুর্গানে
দীনের অনেকেই মন্তব্য করেছেন ৷ তবে হয়ত মিসর থেকে প্রথমবার বায়তুল মুকাদ্দাস
প্রবেশের জন্যে মুসা (আ) যে উদ্যেম্পো গ্রহণ করেন তিনি তা বোঝাতে চেয়েছেন ৷ কিন্তু কোন
কোন বর্ণনাকারী তা অনুধাবনে সক্ষম হননি ৷ ইতিপুর্বেও এ সম্বন্ধে কিছু বর্ণনা তাওরাতের
বরাতে উদ্ধৃত করা হয়েছে ৷ আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত ৷ আবার এ ঘটনাটি ভীহ ময়দানে
ভ্রমণকালে সংঘটিত একটি ভিন্ন ঘটনাও হতে পারে ৷ কেননা এ ঘটনার বর্ণনায় হাসবান
পাহাড়ের উল্লেখ রয়েছে ৷ তা বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে বহু দুরে অবস্থিত ৷ অথবা এ ঘটনা ছিল
মুসা (আ)-এর বাহিনীর যারা ইউশা ইবন নুন (আ)-এর নেতৃত্বে বায়তুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশে
তীহ ময়দান থেকে বের হয়ে এসেছিল তাদের-যেমন সুদ্দী (র) বলেছেন ৷

উপরোক্ত বিভিন্ন মতামতের প্রেক্ষিতে জমহুর উলামড়ায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে,
হারুন (আ) তার ডইি মুসা (আ)-এর প্রায় দু’বছর পুর্বে র্তীহ প্রান্তরে ইনতিকাল করেন ৷
তারপর মুসা (আ)ও সেখানেই ইনতিকাল করেন ৷ একথা আমরা পুর্বেই উল্লেখ করেছি যে, মুসা
(আ) তার প্রতিপালকের কাছে বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য
দ,ট্রুআ করেছিলেন এবং তা কবুলও হয়েছিল ৷

বনী ইসরাঈল বীর সাথে তীহ ময়দান থেকে বের হয়েছিল এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের
উদ্দেশে যাত্রা করেছিল, তিনি ছিলেন ইউশা ইবন নুন (আ) ৷ কিতাবীরা ও অন্যান্য
ইতিহাসবেত্তা উল্লেখ করেন যে, ইউশা ইবন নুন (আ) বনী ইসরাঈল্যক নিয়ে জর্দড়ান নদী
অতিক্রম করে উরায়হায় পৌছলেন ৷ উরায়হা ছিল ময়দানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মজবুত
প্রাচীরঘেরা দুর্গ, সুউচ্চ অট্টালিকাপুর্ণ জনবহুল শহর ৷ তিনি এ শহরটিকে ছয় মাস অবরোধ
করে রাখেন ৷ অতঃপর একদিন ইউশা (আ)-এর সৈন্যরা শহরটি আক্রমণ করলেন এবং যুদ্ধের
শিংগায় কুক এবং সমস্বরে তাকবীর দিতে লাগলেন, শহরের প্রাচীরগুলােতে ফাটল সৃষ্টি হল
এবং প্রাচীরের একটি বিধ্বস্ত অংশ দিয়ে ইউশা (আ)-এর সৈন্য দৃর্গে ঢুকে গেলেন ৷ তারা প্রচুর
গণিমত লাভ করলেন এবং যার হাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করলেন ৷ এভাবে তারা বহু
রাজরাজড়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন ৷

এরুপও কথিত আছে যে, ইউশা (আ) সিরিয়ার একত্রিশজন রজাের বিরুদ্ধে জয়লাভ
করেছিলেন আবার এরুপও বর্ণিত রয়েছে যে, উপরোক্ত শহরটির অবরোধ জুমআর দিন
আসরের পর পর্যন্ত দীর্ঘ্যয়িত হয় ৷ যখন সুর্য অস্ত যায় কিৎবা অস্ত্র যাওয়ার উপক্রম হয় ও
তাদের জন্য তাদের শরীয়তে নিষিদ্ধ শনিবার প্রায় আগত, তখন ইউশা (আ) সুর্যকে লক্ষ্য করে
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খনীিগ্যেরু

বললেন, তুমি অস্ত যাবার জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ প্রাপ্ত, আর আমিও এই শহরকে
জয় করার জন্য নির্দেশ প্রাপ্ত ৷ হে আল্লাহ ! সুর্যকে আমার জন্যে ঠেকিয়ে রাখুন ৷ শহরটি
জয়লাভ করা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা সুর্যকে ইউশা (আ) এর জন্য ঠেকিয়ে রাখলেন ৷ অন্যদিকে
আলাহ্ তাআলা চীদকে হুকুম দিলেন-যেন উদয় হতে বিলম্ব করে ৷ এতে প্রতীয়মান হয় যে,
উক্ত রাতটি ছিল পুর্গিমার রাত ৷ সুর্যের ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর হাদীসে উল্লেখিত রয়েছে
যা একটু পরেই আমরা আলোচনা করছি ৷ তবে চাদের ব্যাপারটি কিতাবীদের দ্বারা বর্ণিত এবং
তা হাদীসের পরিপন্থী নয়; বরং এটা অতিরিক্ত ৷ এ বর্ধিত অংশকে সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না ৷
তারা আরো উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনাটি ঘটেছিল উরায়হা বিজয়কালে ন্ তবে এতে সন্দেহের
অবকাশ রয়েছে ৷ আল্লাহ তাআলা অধিক পরিজ্ঞাত ৷ অধিকতর গ্রহণযেগ্যে মতামত হচ্ছে এ
ঘটনাটি ঘটেছিল রায়তুল ঘুকাদ্দাস বিজয়কালে ৷ মুল লক্ষ্য ছিল রায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় আর
উরায়হা বিজয় ছিল তার উপায় মাত্র ৷

ইমাম আহমদ (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা ) ইরশাদ
করেন-ইউশা (আ) ব্যতীত অন্য কারোর জন্যে সুর্যকে নিশ্চল করে রাখা হয়নি ৷ এ বংনািটি
শুধু ইমাম আহমদ (র) থেকেই বর্ণিত ৷ তবে এটা ইমাম বুখারী (র)-এর শর্ত অনুযায়ী সুত্রে
বর্ণিত ৷ এ হড়াদীসের দ্বারা বোঝা যায়, রায়তুল মুকাদ্দাস নির্মিত হয় ইউশা ইবন নুন (আ )-এর
হাতে, মুসা (আ)-এব হাতে নয় ৷ আর সুর্যের নিশ্চলতা ছিল রায়তুল মৃকাদ্দাস বিজয়কালে ,
উরায়হা বিজয় করার সময় নয় ৷ এ কথা আমরা পুর্বেই বর্ণনা করেছি ৷ আবার এটাও বোঝা
যায় যে, সুর্যকে নিশ্চল করে রাখা ছিল ইউশা (আ)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ৷ এই বর্ণনার দ্বারা
নিম্নোক্ত হাদীসের দুর্বলতাও বোঝা যায়, যাতে বলা হয়েছে যে, একদা রাসুলুল্লাহ (সা ) আলী
(রা)-এর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন ৷ সে জন্য আলী (রা) আসরের নামায আদায় করতে
পারেননি ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)এর নিকট আবেদন করলেন, যেন সুর্যকে তার জন্য ফিরিয়ে
দেয়া হয় যাতে তিনি আসরের নামায আদায় করতে পারেন ৷ তখন সুর্যকে ফিরিয়ে দেয়া
হয় ৷ উপরোক্ত হাদীস আলী ইবন সালেহ আল মিসরী (র) বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন ৷
কিন্তু এটা মৃনকার হাদীস যার মধ্যে বিশুদ্ধতার লেশমাত্র নেই ৷ এমনকি এটাকে হাসান পর্যায়ের
হাদীসও বলা যায় না ৷ এ ঘটনাটি বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত হওয়াই ছিল স্বাভাবিক
অথচ এক পর্যায়ে আহলে বায়তের কোন একজন মাত্র অপরিচিত মহিলা হাদীসটি বর্ণনা
করেছেন ৷
ইমাম আহমদ (ব) আবুহুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন একজন নবী যুদ্ধের প্রন্তুতি নেন ৷
তখন তিনি তার সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলেন, যে ব্যক্তি নব বিবাহিত, এখনও বাসর রাত
যাপন করেনি, সে যেন আমার সৈন্যদলের অন্তর্ভুক্ত না হয়, আর এমন ব্যক্তিও যেন অন্তর্ভুক্ত না
হয়-যে ঘরের ভিত্তি পত্তন করেছে কিত্তু এখনও তার ছাদ দিতে পারেনি ৷ আবার এমন ব্যক্তিও
যেন অন্তর্ভুক্ত না হয়, যে বকরী কিৎরা মেষ খরিদ করেছে ও শাবক জন্মের অপেক্ষায় রয়েছে ৷
অতঃপর তিনি যুদ্ধ করতে করতে এমন সময় শহরের নিকটবর্তী হলেন, যখন আসরের সালাত

আদায় করা হয় কিৎরা তিনি বলেন, আসরের ওয়!ক্তের নিকটবর্তী হন ৷ তখন তিনি সুর্যকে
লক্ষ্য করে বলেন, দ্মি যেমন নির্দেশপ্রাপ্ত তেমনি আমিও নির্দেশপ্রাপ্ত ৷ হে আল্লাহ! এটাকে
ক্ষণকাল আমার জন্যে নিশ্চল করে রাখুন! অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বিজয় দান পর্যন্ত সুর্যকে
নিশ্চল করে রাখেন ৷ নবীর সৈন্যগণ গনীমতের ম!ল এক স্থানে জড়ো করলেন এবং আগুন
এগুলোকে গ্রাস করার জন্যে আসল কিভু গ্রাস করতে অস্বীকার করল ৷ তখন তিনি বললেন, হে
আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেউ এ গনীমতের মাল হতে কিছু সালে খিয়ানত করেছ, কাজেই
তোমাদের প্রতি গোত্র থেকে একজন করে আমার কাছে বায়আত কর ৷ তার! ব!য়আত
করলো ৷ একজনের হাত নবীর হাতের সাথে আটকে গেল ৷ তখন তিনি বললেন, তোমাদের
গোত্রের সােইে গনীমতের মাল আত্মসাৎ করেছে ৷ কাজেই তোমাদের গোত্রের লোকজনকে
বল, আমার বায়আত গ্রহণ করতে ৷ গোত্রের সকলে তার হাতে ব!য়আত হল, কিত্তু দুই বা
তিনজনের হাত নবীর হাতের সাথে আটকিয়ে গেল ৷ তখন নবী বললেন, তোমাদের কাছে চ্রির
ম!ল রয়েছে ৷ তােমর!ই আত্মস!ৎকারী ৷ তখন তার! একটি গরুর মাথা পরিমাণ স্বর্ণ বের করে
দিল ৷ বর্ণনাকায়ী বলেন, তার! তা গনীমতে র ম!লের সাথে রেখে !দল ৷ ম!ল ময়দানে রাখা
ছিল ৷ এরপর আগুন অগ্রসর হয়ে আসল এবং মালগুলােকে গ্রাস করে নিল ৷ আমাদের উম্মতের
পুর্বে কারোর জন্য গনীমতের ম!ল বৈধ ছিল না ৷ আল্লাহ্ তাআল! আমাদের দৃর্বলত! ও
অক্ষমতার দিকে লক্ষ্য করে গনীমতের ম!ল আমাদের জন্য বৈধ করে দিলেন ৷ উপরোক্ত সুত্রে
শুধু ইমাম মুসলিম (র)-ই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

ব!যযায (র)ও অন্য সুত্রে আবু হুরায়র! (রা)-এর বরাতে র!সুলুল্লাহ (স!) থেকে অনুরুপ
বর্ণনা করেছেন ! মোদ্দাকথা, যখন ইউশ! (অ!) বনী ইসরাঈলকে নিয়ে শহরের দরজায়
পৌছেন তখন তাদেরকে বিনীতভ! !বে শহরে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়! হয় ৷ অর্থাৎ যেহেতু
আল্লাহ্ তা আল! তার প্রতিশ্রুতি তমতে মহান বিজয় দা ন করে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন,
সেজন্য তাদেরকে অনুনয়-বিনয়ের সাথে শোকর গোযার হয়ে ও রুকু অবস্থায় প্রবেশ করতে
হুকুম দেয়! হল ৷ তাদেরকে আরো হুকুম দেয়! হল, যেন তার! প্রবেশ করার সময় মুখে উচ্চারণ
করে অর্থাৎ পুর্বে ব!য়তুল মুক!দ্দাসে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে আমর! ও আমাদের
পুর্ব পুরুষের! যে ভুল করেছিলাম সেই ভুল ক্ষমা কর ৷ আর এজন্যই মক্কা বিজয়ের সময় যখন
রাসুলুল্লাহ (স!) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি উটের উপর আরোহণ করে অত্যন্ত
বিনীতভাবে আল্লাহর শোকর গোযার ও প্রশংস!কারী রুপে প্রবেশ করেন ৷ তিনি মাথা এতই নিচু
করেছিলেন যে, তার পবিত্র দ ডি জিনের গদি স্পর্শ করছিল ৷ আর তার সাথে ছিল এমন
সৈন্য স!মন্ত যাদের মাথানত থাকার কারণে শুধু চোখের কাল অং শই দেখ! যাচ্ছিল ৷ বিশেষ
করে র!সুলুল্লাহ (স!) যে সবুজ বাহিনীতে অবস্থান করছিলেনত তাদের অবস্থা এরুপ ছিল ৷
রাসুলুল্লাহ্ (স!) মক্কায় পৌছে গোসল করেন ও আট বাক! !ত স!ল!ত আদায় করেন ৷ এই স! !ল!ত
সম্পর্কে উল!ম!য়ে কিরামের দুইটি মতামত রয়েছে ৷ কেউ কেউ বলেন, এট! ছিল শোকরান!
স!ল!ত ৷ যেহেতু আল্লাহ্ তাআল! তাকে মহ! বিজয় দান করেছিলেন ৷ আবার কেউ কেউ
বলেন, এট! ছিল চ!শতের স!ল!ত ৷ কেননা, রাসুলুল্লাহ্ (স!) চ!শতের ওয়!ক্তে এই স!ল!ত টি
আদায় করেন ৷ বনী ইসরা ঈল কথায় ও কাজে আল্লাহ্ তা“ অ !লার নিদ্যেশর বিরে!ধিত ! করেছিল

এবং নিতন্বের ওপর৬ ভর করে দ্বড়ারে প্রবেশ করেছিল ও বলতে ছিল ঙগ্লুর্দু ও ব অর্থাৎ
বীজ তার খােসায় ৷ অন্য বর্ণনা মতে, তারা বলেছিল ১প্রুধ্; : ষ্ ভ্র;১ অর্থাৎ গম তার
খােসায় ৷ মােটকথা,তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তারা তা পাল্টে দিয়েছিল ও এ নিয়ে
ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছিল ৷ মকী সুরা আল আরাফের উক্ত ঘটনার বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাআলা

ইরশাদকরেনং

স্মরণ কর, তাদেরকে বলা হয়েছিল, এ জনপদে বাস কর এবং যেখানে ইচ্ছা আহার কর
এবং বল, ক্ষমা চাই এবং ন৩ তশিরে দরজায় প্রবেশ কর ৷ আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব ৷
আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে আরও অধিক দান করব ৷ কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ লিম ছিল
তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে তারা অন্য কথা বলল ৷ সুতরাং আমি আকাশ
থেকে তাদের প্রতি শাস্তি প্রেরণ করলাম যেহেতু তারা সীমালৎঘন করেছিল ৷ (সুরা আরাফ ?;
১৬১ ১৬২) ,প্

মাদানী সুরা আলবাকারায় ইরশাদ হয়েছেং :

স্মরণ কর, যখন আমি বললাম, এ জনপদে প্রবেশ কর, যা ইচ্ছা এবৎ£ যেখানে ইচ্ছা
াচ্ছন্দে আহার কর, নতশিরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং বল, ক্ষমা চাই ৷ আমি তোমাদের
অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব ৷ কিন্তু যারা
অন্যায় করেছিল তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল ৷ সুতরাৎ
অনাচারীদের প্রতি আমি আকাশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করলাম , কারণ তারা সত্য ত্যাগ করেছিল ৷
(সুরা বাকড়ারা : ৫৮-৫৯)

সাওরীর (র) ইবন আব্বাস (রা) থেকে আয়াতৎশ্

তাফসীর বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি বলেছেন এটার অর্থ হচ্ছে ছোট দরজা দিয়ে ন৩ শিরে
প্রবেশ কর ৷ হাকিম (র), ইবন জ বীর (র), ইবন আবু হাতিম (র) এবং আওফী (র ) ইবন

আব্বাস (বা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন ৷ সাওরী (র) থেকে ভিন্ন সুত্রেও অনুরুপ বর্ণনা
রয়েছে ৷ মুজাহিদ, সুদ্দী ও যাহ্হাক (র) বলেন, উপরোক্ত দরজাটি ছিল বায়তুল মুকাদ্দাসের
বায়তে ঈলিয়ার বাবে হিত্তা ৷

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, তারা নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের মাথা উচিয়ে
প্রবেশ করে ৷ তবে এটি ইবন আব্বাস (রা)-এর মতের পরিপন্থী নয় ৷ ইবন আব্বাস (রা)
বলেছেন যে, তারা তাদের নিতন্বের উপর ভর দিয়ে প্রবেশ করেছিল ৷ তারা মাথা উচিয়ে

নিতন্বের ওপর ভর দিয়ে প্রবেশ করেছিল বলে একটি হাদীস পরবর্তীতে আসছে ৷

(
আয়াতাৎশে উল্লেখিত এ ওয়াও’ অক্ষরঢি অবস্থা জ্ঞাপক ৰুন্াণ্

সংযোজক অব্যয় নয় ৷ অর্থাৎ তোমরা (বা ) বলতে বলতে নতশিরে প্রবেশ
কর ৷ ইবন আব্বাস (রা), আতা, হাসান বসরী, কাতাদা, রড়াবী (ব) বলেন, তাদেরকে ক্ষমা
চাওয়ার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ৷

ইমাম বুখারী (ব) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন ;
বনী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিলে, নতশিরে দরজায় প্রবেশ কর, ভ্র বল কিন্তু তারা
তাদের নিতম্বের ওপর ভর করে প্রবেশ করেছিল ৷ এভাবে তারা ধ্! এর পরিবর্তে বলেছিল
অর্থাৎ চুলের মধ্যে বীজ রয়েছে ৷ অনুরুপভাবে নাসাঈ (র) মওকুফ রুপে
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

আবদুর রাজ্জাক (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন,
আল্লাহ্ তাআলড়া বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমরা নতশিরে বায়তুল মুকড়াদ্দাসের
দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল ব অর্থাৎ ক্ষমা চাই, তাহলে তোমাদের তাবৎ পাপ মাফ করে
দেব ৷ কিত্তু তারা আল্লাহ্ তাআলার নির্দেশ পরিবর্তন করে নিতম্বের ওপর ভর করে

১ বলতে বলতে বায়তুল ঘুকাদ্দাসে প্রবেশ করে ৷ ইমাম বৃখারী, মুসলিম ও

তিরমিযী (র) এ হাদীসটি বর্ণনা করেন ৷ তিরমিযী (র) হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ পর্যায়ের
বলে মন্তব্য করেছেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহড়াক (ব) আবু হুরায়রা ও ইবন আব্বাস (রা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ তবে সে বর্ণনায় বলেছিল
বলে উল্লেখ আছে ৷ যার অর্থ হচ্ছে যবের মধ্যে গম ৷

মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করে আসবাত (র) আয়াতাৎশ ;

৩ড়াফসীর প্রসঙ্গে বলেন,

নিজ ভাষায় বনী ইসরাঈল বলেছিল আরবী অর্থ হচ্ছে :
অর্থাৎ লাল গমের বীজ যার মধ্যে খচিত ছিল কাল দানা ৷ ’

আল্লাহ্ তাআলা কুরআনুল করীমে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ঐ বিরোধিতার জন্যে তিনি
আবার নাযিল করেছিলেন ৷ আর এই আমার হচ্ছে প্লেগ , যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে
উল্লেখ রয়েছে ৷ উসড়ামা ইবন যায়িদ (র) থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসুল (সা) ইরশাদ
করেন-এই ব্যথা কিৎবা রোগ (প্লেগ) একটি আযাব, তোমাদের পুর্বে কোন কোন সম্প্রদায়কে
এর মাধ্যমে শান্তি দেয়া হয়েছিল ৷

ইমাম নাসাঈ (র) ও ইবন আবু হড়াতিম (র) সাদ ইবন আবু ওয়াক্কড়াস (রা) উসড়ামা ইবন
যায়দ ও খুযায়ম (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, প্লেগ রোগটি একটি
আমার, তোমাদের পুর্বে যারা ছিল তাদেরকে এর মাধ্যমে আমার দেয়া হয়েছিল ৷ পাঠটি ইবন
আবু হড়াতিমের ৷ যাহহাক (র) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, গ্লু , শব্দটির অর্থ
হচ্ছে আমার ৷

অনুরুপভাবে মুজাহিদ, আবু মালিক , সুদ্দী, হাসা ন বসরী (র) ও কাতাদা (র ) বলেছেন :

আবুল আলীয়া (র) বলেন ঙু১ প্রু এর অর্থ গযব ৷ শাবী বলেন ব্লু প্রু শব্দটির অর্থ প্লেগ
কিৎবা তুষারপাত ৷ সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) বলেন, তা হচ্ছে প্লেগ ৷

যখন বনী ইসরাস্টা বায়তুল ঘুকাদ্দাসে আধিপত্য বিস্তার করে, তখন থেকেই তারা সেখানে
বসবাস করতে থাকে ৷ আর তাদের মধ্যে ছিলেন আল্লাহর নবী ইউশা (আ) ৷ আল্লাহর কিতাব
তাওরাতের নির্দেশ মুতড়াবিক তিনি তাদের প্রশাসন কার্য পরিচালনা করতেন ৷ অতঃপর তিনি
একশ’ সাতাশ বছর বয়সে ইস্তিকাল করেন ৷ তিনি মুসা (আ)-এর ইস্তিকালের পর সাতাশ

বছরকাল জীবিত ছিলেন ৷
নতুন নতুন বাংলায় ইসলামীক বই ডাউনলোড করতে ইসলামী বই ওয়েব সাইট ভিজিট করুণ

খিযির (আ) ও ইলিয়াস (আ)-এর ঘটনা

খিযির (আ) সম্পর্কে পুর্বে বংনাি করা হয়েছে যে, তার নিকট থেকে ইলমে লড়াদৃন্নী অর্জন করার জন্যে মুসা (আ) তার কাছে গমন করেছিলেন ৷ আল্লাহ তাআলা তাদের দৃ’জনের ঘটনা তার পবিত্র গ্রন্থের সুরা কাহাফে বংনাি করেছেন ৷ উল্লেখিত ঘটনা সম্পর্কে তাফসীরে বিস্তারিত বংনাি রয়েছে ৷ আমরা সেখানে ঐ হাদীসঢিরও উল্লেখ করেছি যাতে খিযির (আ)-এর নাম স্পষ্ট উল্লেখিত হয়েছে ৷ আর যিনি তার কাছে গমন করেছিলেন, তিনি ছিলেন বনী ইসরাঈলের নবী মুসা (আ) ইবন ইমরান, র্যার প্রতি তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল ৷

খিযির (আ)-এর নাম, বংশ পরিচয়, নবুওত ও অদ্যাবধি জীবিত থাকা সম্পর্কে উলামড়ায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে ৷ তার কিছু বর্ণনা নিম্নে পেশ করা হল:

হাফিজ ইবন আসাকির (র) বলেন, কথিত আছে যে, খিযির (আ) আদম (আ)-এর
ঔরসজ্যত সন্তান ৷

তিনি দারা কুতনীর বরাতে-ইবন আব্বাস (রা) থেকে বংনাি করেন, যে, খিযির (আ) আদম (আ)-এর ঔরসজাত সন্তান ৷ দাজ্জালকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার সময় পর্যন্ত তাকে আয়ু দান করা হয়েছে ৷ এই হাদীসটি মুনকাতে এবং গরীব পর্যায়ের ৷

আবু হাতিম (র) বলেন, আমার উস্তাদ আবু উবায়দাহ প্রমুখ বলেছেন, আদম সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘতম আয়ুর অধিকারী হচ্ছেন খিযির (আ) আর তার নাম হচ্ছে খড়াযরুন ৷ তিনি ছিলেন আদম (আ) এর পুত্র কাবীল এর সন্তান ৷ তিনি আরো বলেন, ইবন ইসহাক (র) উল্লেখ করেছেন, যখন আদম (আ)-এর মৃত্যুর সময় হল, তখন তিনি তার সন্তানদেরকে জানালেন যে, একটি প্নড়াবন আসন্ন ৷ তিনি তাদেরকে ওসীয়ত করলেন, তারা যেন তার মৃতদেহ তাদের সাথে নৌযানে উঠিয়ে নেয় এবং তার নির্দেশিত স্থানে তাকে দাফন করে ৷ যখন প্রাবন সংঘটিত হল, তখন তারা তার লাশ তাদের সাথে উঠিয়ে নিলেন আর যখন তারা অবতরণ করলেন, তখন নুহ (আ) তার পুত্রদের নির্দেশ দিলেন, যেন তারা তাকে তার ওসীয়ত মত নির্দিষ্ট স্থানে দাফন করেন ৷ তখন তারা বলতে লাগলেন, পৃথিবী এখনও বসবড়াসযোগ্য হয়ে উঠেনি ৷ এখনো তা নিভৃত নির্জ্য৷ ৷ তখন নুহ (আ) তাদেরকে দাফনের কাজে উৎসাহিত করলেন ৷ তিনি বললেন, আদম (আ)-এর দাফনের দায়িতু যিনি নেবেন, তাকে দীর্ঘায়ু করার জন্যে আদম (আ) আল্লাহর দরবারে দৃআ করেছিলেন ৷ ঐ সময় তারা দাফনের নির্দেশিত স্থানে যেতে ভীতিবােধ্ করলেন ৷ ফলে আদম (আ)-এর দেহ তাদের কাছেই রয়ে গেল ৷ শেষ পর্যন্ত খিযির (আ) আদম (আ)-এর দাফনের দায়িত্ব পালন করেন ৷ এবং আল্লাহ তাআলাও তার প্রতিশ্রুতি পুর্ণ করেন ৷ তাই আল্লাহ্ তাআলা যত দিন চান, খিযির (আ) ততদিন জীবিত থাকবেন ৷

Leave a reply