মূসা (আ)… এর সাথে কারূনের ঘটনা

মুসা (আ) এয় সাথে কারুনের ঘটনা

আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেনঃ

কারুন ছিল মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল ৷ আমি
তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভাণ্ডার যার চাবিগুলো বহন করা একদল বলবান লোকের

পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল ৷ স্মরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করবে না, নিশ্চয় আল্লাহ
দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না ৷ আল্লাহ্ যা তোমাকে দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের আবাস

পৃষ্ঠা ৬৮৭ঠিক করুন

অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলবে না ৷ তুমি অনুগ্রহ কর যেমনটি আল্লাহ

তোমার প্রতি অনুগ্নহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়োনা ৷ আল্লাহ্ বিপর্যয়
সৃষ্টিকারীকে তালবাসেন না ৷ যে বলল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি ৷ সে কি
জানত না আল্লাহ তার পুর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানবগােষ্ঠীকে, যারা তার চাতেই শক্তিতে ছিল
প্রবল, জনসংখায় ছিল অধিক ৷ অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না ৷
কারণ, তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে ৷ যারা পার্থিব জীবন
কামনা করত তারা বলল, আহা কারুনকে যেরুপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি তা দেয়া
হত ! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান ৷ এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক
তােমাদেরকে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং
ধৈর্যশীল ব্যতীত এটা কেউ পাবে না ৷ তারপর আমি কারুনকে তার প্রাসাদসহ ভুগর্ভে প্রোথিত
করলাম ৷ তার স্বপহ্মে এমন কোন দল ছিল না, যে আল্লাহর শাস্তি থেকে তাকে সাহায্য
করতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না ৷ আগের দিন যারা তার মত হবার
কামনা করেছিল তারা বলতে লাগল, “দেখলে তো আল্লাহ্ তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য
ইচ্ছে, তার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছে হ্রাস করেন ৷ যদি আল্লাহ আমাদের
প্রতি সদয় না হতেন তবে আমদেরকেও তিনি ভুগর্ভে প্রোথিত করতেন ৷ দেখলে তো কাফিররা
সফলকাম হয় না ৷ এটা আখিরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য, যারা
এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না ৷ শুভ পরিণাম মুত্তা ৷র্কীদের জন্য ৷
(সুরা ক মাস ৭৬ ৮৩)

আমাশ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, কারুন ছিল

মুসা (আ)এর চাচাতেো ভাই ৷ অনুরুপভাবে ইবরাহীম নাখয়ী আবদুল্লাহ ইবন হাবিস ইবন
নওফল (র) সিমাক ইবন হরব (র) কাতাদা (র) মালিক ইবন দীনার (র) ও ইবন জুরাইজ (র)
বলেছেন, তবে তারা মুসা (আ) ও কারুনের বংশপরম্পর৷ নিম্নরুপ বর্ণনা করেন ৷ কারুন ইবন
ইয়াসহড়ার ইবন কাহিস; মুসা (আ) ইবন ইমরান ইবন হাফিছ ৷ ইবন জুরইিজ ও অধিকাৎশ
উলামায়ে কিরামের মতে কারুন ছিল মুসা (আ) এর চাচাতে৷ ভাই ৷

’ ইবন ইসহাক (র) তাকে মুসা (আ)-এর চাচা বলে মনে করেন, কিন্তু জুরাইজ (র) তা
প্রত্যাখ্যান করেন ৷ কাতাদা (র) বলেছেন, সুমধুর কণ্ঠে তাওরাত পাঠের জন্যে তাকে নুর বলে
আখ্যায়িত করা হতো ৷ কিন্তু আল্লাহর শত্রু মুনাফিক হয়ে গিয়েছিল, যেমনি সামিরী হয়েছিল ৷
অতঃপর তার ধন দৌলতের কারণে তার দাম্ভিকতা ৷তাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল ৷ শাহর ইবন
হাওশ (র) বলেন, নিজ সম্প্রদায়ের উপর গর্ব করার উদ্দেশ্যে কারুন তার পবিধেয় কাপড়ের
দৈর্ঘ এক বিঘত লম্বা করে দিয়েছিল ৷

আল্লাহ্ তাআলা কারুনের প্রচুর সম্পদের কথা কুরআনুল করীমে উল্লেখ করেছেন ৩ তার
চাবিগুলো শক্তিশালী লোকদের একটি দলের জন্যে কষ্টকর বোঝা হয়ে যেতে ৷ ৷ কেউ কেউ
বলেন, এ চাবিগুলে৷ ছিল চামড়ার তৈরি আর এগুলো বহন করতে ষাটটি খচ্চরের প্রয়োজন
হতো ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা আলাই সমধিক জ্ঞাত। তার সম্প্রদা য়ের উপদেশ দাতাগণ তাকে
উপদেশ দিয়েছিলেন ৷ তারা তাকে বলেছিলেন, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে গর্ব করো
না এবং অন্যের উপর দর্প করোনা ৷ কেননা, আল্লাহ তা আলা দান্তিক লোকদের পছন্দ করেন

পৃষ্ঠা ৬৮৮ঠিক করুন

৬৮৮ আল-বিদায়া ওয়ান নিহড়াযাত্ন্শু

না ৷ আল্লাহ্ যা তোমাকে দিয়েছেন, তা দিয়ে আখিরাতের আবাস অম্বেষণ কর ৷ অর্থাৎ তারা
বলেছিলেন, হে কারুন আখিরাতে আল্লাহ তাআলা থেকে যাবতীয় ছওয়াব অর্জন করার প্রচেষ্টা
তোমার অব্যাহত থাকা প্রয়োজন ৷ কেননা, এটা৫ আমার জন্যে উত্তম ও অধিক৩ র স্থায়ী ৷
এতদসত্বেও তুমি দুনিয়া থেকেণ্ আমার অৎশ ভুলবে না অর্থাৎ বৈধভাবে অর্জন ও ব্যয় করবে

বংহালাল পবিত্র বস্তুসমুহ উপভোগ করবে ৷ তবে আল্লাহ্ তা আলার সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ
করবে, যেমনটি তাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ তা আলা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ আল্লাহ্র
য়মীনে ফিৎনা-ফাসাদ করবে না ৷ আমার নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও
ঝগড়াঝাটি করবে না ৷ অন্যথায় তোমাকে শাস্তি দেয়৷ হবে এবং তোমাকে যা দেয়৷ হয়েছে তা
কেড়ে নেয়া হবে ৷ কেননা, আল্লাহ্ তাআলা ফিৎনা সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না ৷

তার সম্প্রদায়ের এরুপ স্পষ্ট নসীহতের জবাবে তার একমাত্র উত্তর ছিল , আমার জ্ঞানের
জন্যে আমাকে এসব দেয়া হয়েছে ৷ তোমরা আমাকে যেসব নসীহত করলে এগুলো মান্য করার
আমার কোন প্রয়োজন নেই ৷ কেননা, এগুলো আল্লাহ্ তাআলা আমার দান করেছেন এ জন্য
যে, তিনি আমাকে এসব বস্তুর উপযুক্ত বলে মনে করেছেন ৷ যদি আমি তার অস্তরঙ্গ না হতাম
কিংবা তার কাছে আমার কোন প্রাপ্য না থাকত তাহলে কখনও তিনি আমাকে যা দিয়েছেন তা
দিতেন না ৷ তার এ বক্তব্য খণ্ডন করে আল্লাহ্ তাআলা বলেন০ ং
’ ;fi” , ৷
“সে কি জানত না, আল্লাহ্ তার পুর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানব গোষ্ঠীকে, যারা তার
চাইতে শক্তিতে ছিল প্রবল, জনসংখ্যার ছিল অধিক ৷ অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে
প্রশ্ন করা হবে না ৷ (সুরা কাসাস০ ং ৭৮)
অর্থাৎ তার পুর্বে বহু উম্মতকে তাদের পাপ ও অপরাধের জন্যে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা
কারুন অপেক্ষা শক্তিতে অধিক প্রবল ছিল, ধনবলে, জনবহুল তার চাইতে আংগামী ছিল ৷ যদি
কারুনের বক্তব্য যথার্থ হত তাহলে তার চাইতে অধিক শক্তিশালী ও সম্পদশালী কাউকে শাস্তি
দিতাম না ৷ সুতরাং তার সম্পদ আমার প্রিয়পাত্র বা অনুযহভাজন হওয়ার প্রমাণ নয় ৷ যেমন
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
,াছুও র্চু,থ্রে ৷ ট্রু, হ্ শুা৷ ’ ঢ়দুাঠুৎ ণ্ছুপুষ্ট্রর্দুগু প্রুব্লি ৮ ন্ছুঝুর্বু,৷ হুা,ন্হ্রর্দুাদ্বু,ঠুর্ব ঢুপ্দ্বু
“তোমাদের ধ্ন-সম্পদ ও সন্তান-সভতি এমন কিছু নয় যা তােমাদেরকে আমার নিকটবর্তী
করে দেবে ৷ তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আসে ও সৎকর্ম করে ৷ (সুরা যারা : ৩৭)

অন্যত্র আল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ ????!?; :

(,)ট্রু,ইপু:ছুপ্রু ৰুা টুৰু

পৃষ্ঠা ৬৮৯ঠিক করুন

“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরুপ যে ধ্নৈশ্বর্য ও সর্ভান সম্ভতি
দান করি তা দিয়ে তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করেছি ? না, বরং তারা বুঝে
না ৷’ ’(সুরা ঘুমিনুন৪ ৫৫ ৫৬)

উপরোক্ত প্রতিউত্তর দ্বারা বোঝা যায় যে, আয়াতাৎশ ক্লোন্; ল্পিাছু ,াহ্রব্ ’ ^ (£ ৷
এর অর্থ আমরা যা বুঝেছি তা যথার্থ ৷ আর যারা মনে করেন কারুন যে জ্ঞানের পর্ব করতো তা
কি রসায়নশাত্রে তার পারদর্শিতা কিংবা তা ছিল৩ তার ইসমে আজমের জ্ঞান, যা প্রয়োগের
মাধ্যমে সম্পদ আহরণ করত, তাদের ধারণা সঠিক নয় ৷ কেননা রসায়নশাস্ত্র এমন একটি শিল্প
বা বস্তুর মৌলিক কোন পরিবতনিঃ সাধন করে না এবং এটা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নয় ৷
ইসমে আজম এর মাধ্যমে কা ৷ফিরের দু’আ উর্ধজগতে উথিত হয় না ৷ আর কারুন ছিল অন্তরে
কাফির এবং দৃশ্যত মুনাফিক ৷ এ ছাড়াও এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে৩ তার ৷উত্তরঢি সঠিক হয় না ৷
অধিকন্তু দুটি বাক্যের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কও বিরাজমান থাকে না ৷ এই সম্পর্কে তাফসীর
গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর ৷

অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ) গো ৭শ্রুও শুা; র্দুট্রু×র্চুপুণ্ধ্ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে
কারুন তার সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে ৷ (সুরা ক ৷সাস৪ ৭৯)

বহু তাফসীরকার উল্লেখ করেছেন যে, একদিন কারুন মুল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান
করে গাড়ি, ঘোড়া, বহু সংখ্যক লস্কর ও পরিচর্যাকারী নিয়ে শহরে বের হল ৷ যারা পার্থিব
সম্পদকে অত্যধিক গুরুতু দিয়ে থাকে, কারুনকে এরুপ শান-শওকতে দেখে তারা কামনা
করতে লাগল যদি তাদেরও এরুপ ধ্ন-সম্পদ থাকত ! তারা তার প্রতি ঈর্ষাষিত হলো ৷ তখনকর

বুদ্ধিমান পণ্ডিত ও সাধকগণ তাদের কথা শুনে তাদেরকে লক্ষ করে বলচুলনং :

অর্থাৎ ধিক তােমাদেরকে আখিরাতের জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্ক৷ ৷রই শ্রেষ্ঠ, অধিকতর
স্থায়ী ও উন্নতর ৷ অ ৷ল্লাহ্ তা জানা বলেনং : ৷ ১৷ , অর্থাৎ-এ পৃথিবীর চাকচিকোর
দিকে ভ্রাক্ষেপ না করে আখিরাঃত তর মহাকল্যাণ লাভের জন্য যে উপরোক্ত নসীহতকে গ্রহণ
করতে পারে একমাত্র ঐ ব্যক্তি যার অম্ভরে আল্লাহ্ তা জানা হিদায়ত প্রদান করেছেন, তাকে
দৃঢ়চিত্ত করেছেন, তার বুদ্ধি-বিবেক পােক্ত করেছেন এবং তার গন্তব্যস্থলে পৌছার তাকে
তাওফীক দান করেছেন ৷ কোন কোন বুযুগঢাি দীন কতই না উত্তম কথা বলেছেন, সন্দেহের
স্থলে দুরদৃষ্টি এবং ইদ্রিয়সুখ ভোগের ক্ষেত্রে পরিপুর্ণ বুদ্ধিমত্তা আল্লাহ্ তা জানার কাছে প্রিয় ৷

আল্লাহ তা জানা বলেনৰু ং

অর্থাৎ-আল্লাহ তাআলা যখন কারুনের জাকজমক ও দান্তিকতাসহ স্বীয় সম্প্রদায়ের উপর
পর্ব সহকারে তার শহর প্রদক্ষিণের কথা বর্ণনা করে তার পরিণতি সম্পর্কে বলেন, ত্যাকৃ তার
বাড়িঘরসহ আ ৷মি ভুগর্তে প্রো ৷থিত করলাম ৷ (সুরা কড়াসাস : ৮১)

আল বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া ( ১ম খণ্ড) ৮ ৭-

ইমাম বুখাবী (র) আবু সালিম (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন : তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাসুল
(সা) দেখতে পেলেন, সে তার পরিধেয় বস্ত্র হেচড়িয়ে চলছে ৷ সে ভুগর্ভে চলে যাচ্ছে ৷
কিয়ামতে র দিন পর্যন্ত যে এভ৷ রে ভুগভে ৩তলিয়ে যেতেই থাকবে ৷

ইমাম বুখাবী (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকেও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ ইবন আব্বাস
(রা) ও ইমাম সুদ্দী (ব) বর্ণনা করেছেন, একদিন কারুন একজন ব্যভিচাবী মহিলাকে এ শর্তে
কিছু অর্থ দিল যে, সে জনতার সামনে প্রকাশ্যে বলবে, হে মুসা! তুমি আমার সাথে ব্যভিচার
করেছ ৷ কথিত আছে যে, মহিলাটি জনসমক্ষে মুসা (আ) কে এরুপ বলেছিল ৷ মুসা (আ)
আৎকে উঠলেন এবং দৃ’রাকড়াত নামায আদায় করলেন ৷ অতঃপর মহিলাটির দিকে অগ্রসর হয়ে
শপথ সহকারে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তােমাকে এরুপ মিথ্যা অপবাদে কে প্ররোচিত
করেছে?’ মহিলাটি তখন উল্লেখ করল যে, ক রুনই তাকে এ কাজে প্ররােচিত করেছে ৷ সে
আল্লাহ তা আলার কাছে ক্ষমা চ ইল এবং তওব৷ করল ৷ তখন মুসা (আ ) সিজদাবনত হলেন
এবং কা রুনের বিরুদ্ধে বদৃ দুআ করলেন ৷ আল্লাহ তা জানা মুসা র্বঅ৷ ) এর কাছে এ মর্মে ওহী
প্রেরণ করলেন যে, ভুমিকে নির্দেশ ৷দেয়া হয়েছে৷ এ ব্যাপারে সে ৫৩ ৷মার যাবতীয় নির্দেশ মান্য
করবে ৷ তখন মুসা (আ) ক রুন ও তার ঘরবড়াড়ি গ্রাস করার জন্যে ভুমিকে নির্দেশ দিলেন ৷
ফ্লে তাই হয় ৷ আল্পাহ্ তাআলাই সর্বজ্ঞ ৷
এরুপও কথিত ৩আছে যে, একদিন ক রুন সাজসজ্জা করে সৈন্য সামম্ভ, ঘোড়া, খচ্চব ও
মুল্যবান পে শাক পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে তার সম্প্রদায়কে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শনার্থে মুসা
(আ)-এর মাহফিলের পাশ ৷দিয়ে যাচ্ছিল ৷ মুসা (আ ) তখন তার সম্প্রদায়কে তাৎপর্যপুর্ণ
ঘটনাবহুল দিনগুলো সম্বন্ধে নসীহত করছেন ৷ জনতা যখন কারুনকে দেখল , তখন মজলিসের
অনেকেই তার দিকে ফিরে৩ ৷ কাল ৷ মুসা (আ) তাকে ডাকালেন এবং তার এরুপ করার কারণ
জিজ্ঞেস করলেন ৷ কারুন বলল, হে মুসা যদিও তুমি নবুওত প্রাপ্ত হয়ে আমার উপর শ্রেষ্ঠতু
অত্তনি করেছ, কিন্তু মনে রেখো, আমিও বিত্ত-সম্পদের দিক থেকে ণ্৩ ৷মার উপর শ্রেষ্ঠতৃ অর্জন
করেছি ৷ যদি ইচ্ছে কর, তা তুলে তুমি ঘরের বের হয়ে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদু আ
করতে পার এবং আমিও তোমার বিরুদ্ধে বদ দুআ করব ৷

তখন তারা উভয়েই জনতার সামনে হাযির হলেন ৷ মুসা (আ ) বললেন, তুমি দুআ করবে,

না কি আমি দু আ করব? “অভ পর কারুন দু অ করল কিন্তু মুসা (আ ) এর বিরুদ্ধে তার দু আ
কবুল হলো না ৷ মুসা ৷ “হে আল্লাহ্ৰু ভুমিকে নির্দেশ দাও, যাতে (আ) বললেন, এবার আমি দু আ করব কি? ক রুন বলল, হ্যা ৷ মুসা
(আ) বললেন,
যে আজ আমার নির্দেশ মান্য করে ৷ ’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ ) কে ওহীর মাধ্যমে
জানালেন, আমি ভুমিকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি ৷ ’ তখন মুসা (আ) বললেন, হে ভুমি ৷ তাদেরকে
পাকড়াও কর !’ ভুমি তাদেরকে তাদের পা পর্যন্ত গ্রাস করল ৷ এরপর মুসা (আ ) বললেন হে
ভুমি তাদেরকে আরো পাকড়াও কর ৷ ভুমি তাদেরকে হাটু পর্যন্ত গ্রাস করল ৷ তারপর কাধ
পর্যত ৷ পুনরায় মুসা (আ) বললেন, তাদের পুঞ্জীভুত ধন-দৌলতের দিকে অগ্রসর হও ৷ ভুমি

এগুলোর দিকে অগ্রসর হল এবং তারা সে দিকে তাকাল ৷ মুসা (আ) আপন হাতে ইংগিত
করলেন এবং বললেন, বনু লাওয়ী নিপাত যাওা’ সাথে সাথে ভুমি তাদেরকে গ্রাস করে
ফেলল ৷

কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন কারুন ও তার সম্প্রদায় কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিদিন

একটি মানব দেহের পরিমাণ তলিয়ে যেতে থাকবে ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে

বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, সপ্ত যমীন পর্যন্ত ভুমি তাদেরকে ভুগর্ভস্থ করেছিল ৷ এই প্রসঙ্গে বহু
তাফসীরকার বহু ইসরাঈলী বর্ণনা পেশ করেছেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো পবিহার

করেছি ৷ আয়াতাৎশ
তার জন্যে নিজের থেকে কিৎব৷ অপর থেকে কোন

সাহায্যকারী ছিল না ৷

যেমন আল্লাহ তা আলা বলেছেন০ ং৷০১ অর্থাৎ তার শক্তিও নেই
ৎব৷ তার সাহায্যকারীও নেই ৷ যখন ক রুন ভুগর্ভে চলে গেল তার বাড়িঘর জ ন মাল
পরিবার পরিজন, জমি-জম৷ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ৷ কারুনের ন্যায় যারা সম্পদ কামনা করেছিল
তারা লজ্জিত হল এবং আল্লাহ্ তাআলার দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল ৷ আল্লাহ্ তাআলা

মানুষের জন্যে উত্তম ব্যবস্থাপনা করে থাকেন ৷ এ জন্যেই তারা বলল০ :
(
“যদি অ ল্লা৷হ্ তা আলা আমাদের প্রতি সদয় না হতেন, তবে আমাদেরকেও তিনিভু গর্ভে
প্রোথিত করতেন ৷ দেখলে তো , কাফিররা সফলকাম হয় না ৷ (সুরা কাসাস : ৮২)

আয়াতে উল্লেখিত : , শব্দটি সম্পর্কে তাফসীরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷
কাত৷ দা (র) বলেছেনং : এর অর্থ হচ্ছেপ্ অর্থাৎ তুমি কি দেখনি? ও অর্থের
দিক দিয়ে এটি একটি চমৎকার উক্তি ৷

অতঃপর আল্লাহ তাআলা জ নিয়ে দেন৪

আখিরাতের আবাস অর্থাৎ স্থায়ী আবাস ৷ এটা এমন একটি আবাস যাকে দেয়৷ হয় সে
ঈর্যার পাত্র হয় ৷ আর যাকে বঞ্চিত করা হয় সে করুণার পাত্র হয় ৷ এরুপ আবাসস্থল এমন
লোকদের জন্যে তৈরি করে রাখা হয়েছে, যারা পৃথিবীতে টুদ্ধত হতে চায় না কিংবা কোন
প্রকার বিপর্যয়ও সৃষ্টি করতে চায় না ৷ আয়াতে উল্লেখিত দ্বুর্বৃদ্বু কথাটির অর্থ হচ্ছে ঔদ্ধত্য
অহংকার ও গর্ব র্দুা৷পুণ্ রা বিপর্যয়ের অর্থ হচ্ছে পাপের কাজ যা পাপী ব্যক্তির নিজের মধ্যে
হোক বা অন্যের সাথে সম্পৃক্ত হোক ৷ যেমন লোকের সম্পদ আত্মসাৎ করা ও তাদের জীবিকা
অর্জনের পথে বিব্ল সৃষ্টি করা, তাদের প্রতি ৩দৃর্বাবহার করা এবং তাদের অকল্যাণ কামনা করা ৷
অতঃপর আল্লাহ্ তা আলা বলেন “শুভ পরিণতি তাক্ওয়া
অবলম্বনকারীদের জন্যে ৷ ” কারুনের ঘটনাটি হয়ত ৩রা তাদের মিসর থেকে বের হবার পুর্বেই
সংঘটিত হয়েছিল ৷

কেননা, আল্লাহ তা আল৷ বলেছেন৪ তাকে ও তার
প্রাসাদ ভুগ র্ভে প্রোথিত করলাম ৷ এ ৷া-এর প্রকাশ্য অর্থ প্রাসাদই হয়ে থাকে ৷ আবার এটা হয়ত
বা ভীহের ময়দানেই হয়েছিল ৷ তাহলে এখানে ) এর অর্থ হবে এমন একটি স্থান যেখানে
র্তাবু নির্মাণ করা হয়ে থাকে ৷ যেমন প্রসিদ্ধ করি আনতারাহ্ বলেছেন

এখানে ) ৷ ১ শব্দটি স্থান অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে ৷ আল্লাহ্ তাআলা কারুনের অপকীর্তির
কথা একাধিক আয়াতে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেনঃ

“আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মুসাকে প্রেরণ একরেছিলাম ফিরআউন হামান
ও কারুনে র নিকট, কিন্তু৩ তারা বলেছিল এ তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী ৷ (সুরা মু মিন
৪ ২৩ ২৪)

আল্লাহ তাআলা সুরায়ে আনকাবুতে অড়াদ, ছামুদ, কারন, ফিরআউন ও হামানের কথা

উল্পেখের পর বলেন০ ং

“মুসা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল ৷ তখন তারা দেশে দম্ভ করত, কিন্তু তারা
আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি ৷ তাদের প্রতেককেই আমি তার অপরাধের জন্যে শাস্তি
দিয়েছিলাম ৷ তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড ঝড় ৷ তাদের কাউকে আঘাত
করেছিল মহানাদ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছিলাম তুগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম
নিমজ্জিত ৷ আল্লাহ তাদের প্রতি কে ন জুলুম করেননি ৷৩ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম
করেছিল ৷ (সুরা আনকাবুত৪ ৩৯ ৪০)

যাকে ভুগর্ভে প্রোথিত করা হয়েছিল সে ছিল কারুন, যার কথা পুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৷
যাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছিল, তারা ছিল ফিরআউন, হামান ও তাদের সৈন্য-সামন্ত ৷ তারা
ছিল অপরাধী ৷

ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) সালড়াত সম্বন্ধে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনং : যে ব্যক্তি সালাত নিয়মিত আদায়
করে, কিয়ামতের দিন এই স ৷লাত তার জন্যে হবে নুর, দলীল ও পবিত্রাণের উপকরণ আর যে
ব্যক্তি সালড়াত নিয়মিত আদায় করবে না তার জন্যে কে ন নুর, দলীল ও নাজাত হবে না এবং
কিয়ামতের দিন যে কারন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবন খালফের সঙ্গী হবে ৷ এটি ইমাম
আহমদ-এর একক বর্ণনা ৷

মুসা (আ)-এর ফযীলত স্বভাব গুণাবলী ও ওফাত

আল্লাহ্ত ৷অ ৷ল৷ ইরশাদ করেনং :

“স্মরণ কর, এই কিভাবে উল্লেখিত মুসার কথা, যে ছিল বিশুদ্ধচিও এবং সে ছিল রাসুল,
নবী ৷ তাকে আমি আহবান করেছিলাম তুর পর্বতে র দক্ষিণ দিক থেকে এবং আমি অম্ভরঙ্গ
আলাপে তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম ৷ আমি নিজ অনুগ্রহেত তাকে দিলাম তার তা ই হারুনকে
নবীরুপে ৷ (সুরা মারয়ামং ৫১ ৫৩)

আল্লাহ্ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশ ৷৷দ করেন :

আল্লাহ্ তা আলা বলেন, হে মুসা ৷ আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা

মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছি ৷ (সুরা আরাফ৪ ১৪৪)
সহীহ বুখারী ও ঘৃসলিমেব বরাতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেন০ ং
আমাকে তোমরা মুসা (আ) এর উপর গ্রেষ্ঠতৃ প্রদান করবে না ৷ কেননা, কিয়ামণ্ডে র দিন যখন
মানব জাতি সৎজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, তখন আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে সংজ্ঞা ৷ফিরে পারে৷ ৷ তখন
আমি মুসা (আ) কে আল্পাহ্ তাআলার আরশের একটি স্তম্ভ ধরে রয়েছে দেখতে পাব ৷ আমি
জানি না, তিনি কি অচে৩ ন হয়েছিলেন? অত ৩ঘ্রপর আমার পুর্বে৩ তিনি চেতনা ফিরে পেলেন
নাকি ভুরে অচেতন হওয়ার প্রতিদানে তিনি আদৌ অচে৩ নই হননি ৷ একথা আমরা পুর্বে উল্লেখ
করেছি যে, এ ধরনের উক্তি ছিল রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিনম্রত ৷ ও বিনয়ের প্রকাশ স্বরুপ ৷

কেননা, তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী, তিনি ছিলেন দুনিয়া ও আখিরাঃত নিং সন্দেহে আদম
সন্তানের সর্দার ৷ এর বিপরীত হওয়ার কোন অবকাশ নেই ৷

াল্লাহ ত ৷আলা ইবশাদ করেন ং

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.