রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

মূসা (আ)… এর সাথে কারূনের ঘটনা

মূসা (আ)… এর সাথে কারূনের ঘটনা

মুসা (আ) এয় সাথে কারুনের ঘটনা

আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেনঃ

কারুন ছিল মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল ৷ আমি
তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভাণ্ডার যার চাবিগুলো বহন করা একদল বলবান লোকের

পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল ৷ স্মরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করবে না, নিশ্চয় আল্লাহ
দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না ৷ আল্লাহ্ যা তোমাকে দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের আবাস

পৃষ্ঠা ৬৮৭ঠিক করুন

অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলবে না ৷ তুমি অনুগ্রহ কর যেমনটি আল্লাহ

তোমার প্রতি অনুগ্নহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়োনা ৷ আল্লাহ্ বিপর্যয়
সৃষ্টিকারীকে তালবাসেন না ৷ যে বলল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি ৷ সে কি
জানত না আল্লাহ তার পুর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানবগােষ্ঠীকে, যারা তার চাতেই শক্তিতে ছিল
প্রবল, জনসংখায় ছিল অধিক ৷ অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না ৷
কারণ, তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে ৷ যারা পার্থিব জীবন
কামনা করত তারা বলল, আহা কারুনকে যেরুপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি তা দেয়া
হত ! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান ৷ এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক
তােমাদেরকে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং
ধৈর্যশীল ব্যতীত এটা কেউ পাবে না ৷ তারপর আমি কারুনকে তার প্রাসাদসহ ভুগর্ভে প্রোথিত
করলাম ৷ তার স্বপহ্মে এমন কোন দল ছিল না, যে আল্লাহর শাস্তি থেকে তাকে সাহায্য
করতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না ৷ আগের দিন যারা তার মত হবার
কামনা করেছিল তারা বলতে লাগল, “দেখলে তো আল্লাহ্ তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য
ইচ্ছে, তার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছে হ্রাস করেন ৷ যদি আল্লাহ আমাদের
প্রতি সদয় না হতেন তবে আমদেরকেও তিনি ভুগর্ভে প্রোথিত করতেন ৷ দেখলে তো কাফিররা
সফলকাম হয় না ৷ এটা আখিরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য, যারা
এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না ৷ শুভ পরিণাম মুত্তা ৷র্কীদের জন্য ৷
(সুরা ক মাস ৭৬ ৮৩)

আমাশ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, কারুন ছিল

মুসা (আ)এর চাচাতেো ভাই ৷ অনুরুপভাবে ইবরাহীম নাখয়ী আবদুল্লাহ ইবন হাবিস ইবন
নওফল (র) সিমাক ইবন হরব (র) কাতাদা (র) মালিক ইবন দীনার (র) ও ইবন জুরাইজ (র)
বলেছেন, তবে তারা মুসা (আ) ও কারুনের বংশপরম্পর৷ নিম্নরুপ বর্ণনা করেন ৷ কারুন ইবন
ইয়াসহড়ার ইবন কাহিস; মুসা (আ) ইবন ইমরান ইবন হাফিছ ৷ ইবন জুরইিজ ও অধিকাৎশ
উলামায়ে কিরামের মতে কারুন ছিল মুসা (আ) এর চাচাতে৷ ভাই ৷

’ ইবন ইসহাক (র) তাকে মুসা (আ)-এর চাচা বলে মনে করেন, কিন্তু জুরাইজ (র) তা
প্রত্যাখ্যান করেন ৷ কাতাদা (র) বলেছেন, সুমধুর কণ্ঠে তাওরাত পাঠের জন্যে তাকে নুর বলে
আখ্যায়িত করা হতো ৷ কিন্তু আল্লাহর শত্রু মুনাফিক হয়ে গিয়েছিল, যেমনি সামিরী হয়েছিল ৷
অতঃপর তার ধন দৌলতের কারণে তার দাম্ভিকতা ৷তাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল ৷ শাহর ইবন
হাওশ (র) বলেন, নিজ সম্প্রদায়ের উপর গর্ব করার উদ্দেশ্যে কারুন তার পবিধেয় কাপড়ের
দৈর্ঘ এক বিঘত লম্বা করে দিয়েছিল ৷

আল্লাহ্ তাআলা কারুনের প্রচুর সম্পদের কথা কুরআনুল করীমে উল্লেখ করেছেন ৩ তার
চাবিগুলো শক্তিশালী লোকদের একটি দলের জন্যে কষ্টকর বোঝা হয়ে যেতে ৷ ৷ কেউ কেউ
বলেন, এ চাবিগুলে৷ ছিল চামড়ার তৈরি আর এগুলো বহন করতে ষাটটি খচ্চরের প্রয়োজন
হতো ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা আলাই সমধিক জ্ঞাত। তার সম্প্রদা য়ের উপদেশ দাতাগণ তাকে
উপদেশ দিয়েছিলেন ৷ তারা তাকে বলেছিলেন, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে গর্ব করো
না এবং অন্যের উপর দর্প করোনা ৷ কেননা, আল্লাহ তা আলা দান্তিক লোকদের পছন্দ করেন

পৃষ্ঠা ৬৮৮ঠিক করুন

৬৮৮ আল-বিদায়া ওয়ান নিহড়াযাত্ন্শু

না ৷ আল্লাহ্ যা তোমাকে দিয়েছেন, তা দিয়ে আখিরাতের আবাস অম্বেষণ কর ৷ অর্থাৎ তারা
বলেছিলেন, হে কারুন আখিরাতে আল্লাহ তাআলা থেকে যাবতীয় ছওয়াব অর্জন করার প্রচেষ্টা
তোমার অব্যাহত থাকা প্রয়োজন ৷ কেননা, এটা৫ আমার জন্যে উত্তম ও অধিক৩ র স্থায়ী ৷
এতদসত্বেও তুমি দুনিয়া থেকেণ্ আমার অৎশ ভুলবে না অর্থাৎ বৈধভাবে অর্জন ও ব্যয় করবে

বংহালাল পবিত্র বস্তুসমুহ উপভোগ করবে ৷ তবে আল্লাহ্ তা আলার সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ
করবে, যেমনটি তাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ তা আলা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ আল্লাহ্র
য়মীনে ফিৎনা-ফাসাদ করবে না ৷ আমার নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও
ঝগড়াঝাটি করবে না ৷ অন্যথায় তোমাকে শাস্তি দেয়৷ হবে এবং তোমাকে যা দেয়৷ হয়েছে তা
কেড়ে নেয়া হবে ৷ কেননা, আল্লাহ্ তাআলা ফিৎনা সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না ৷

তার সম্প্রদায়ের এরুপ স্পষ্ট নসীহতের জবাবে তার একমাত্র উত্তর ছিল , আমার জ্ঞানের
জন্যে আমাকে এসব দেয়া হয়েছে ৷ তোমরা আমাকে যেসব নসীহত করলে এগুলো মান্য করার
আমার কোন প্রয়োজন নেই ৷ কেননা, এগুলো আল্লাহ্ তাআলা আমার দান করেছেন এ জন্য
যে, তিনি আমাকে এসব বস্তুর উপযুক্ত বলে মনে করেছেন ৷ যদি আমি তার অস্তরঙ্গ না হতাম
কিংবা তার কাছে আমার কোন প্রাপ্য না থাকত তাহলে কখনও তিনি আমাকে যা দিয়েছেন তা
দিতেন না ৷ তার এ বক্তব্য খণ্ডন করে আল্লাহ্ তাআলা বলেন০ ং
’ ;fi” , ৷
“সে কি জানত না, আল্লাহ্ তার পুর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানব গোষ্ঠীকে, যারা তার
চাইতে শক্তিতে ছিল প্রবল, জনসংখ্যার ছিল অধিক ৷ অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে
প্রশ্ন করা হবে না ৷ (সুরা কাসাস০ ং ৭৮)
অর্থাৎ তার পুর্বে বহু উম্মতকে তাদের পাপ ও অপরাধের জন্যে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা
কারুন অপেক্ষা শক্তিতে অধিক প্রবল ছিল, ধনবলে, জনবহুল তার চাইতে আংগামী ছিল ৷ যদি
কারুনের বক্তব্য যথার্থ হত তাহলে তার চাইতে অধিক শক্তিশালী ও সম্পদশালী কাউকে শাস্তি
দিতাম না ৷ সুতরাং তার সম্পদ আমার প্রিয়পাত্র বা অনুযহভাজন হওয়ার প্রমাণ নয় ৷ যেমন
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
,াছুও র্চু,থ্রে ৷ ট্রু, হ্ শুা৷ ’ ঢ়দুাঠুৎ ণ্ছুপুষ্ট্রর্দুগু প্রুব্লি ৮ ন্ছুঝুর্বু,৷ হুা,ন্হ্রর্দুাদ্বু,ঠুর্ব ঢুপ্দ্বু
“তোমাদের ধ্ন-সম্পদ ও সন্তান-সভতি এমন কিছু নয় যা তােমাদেরকে আমার নিকটবর্তী
করে দেবে ৷ তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আসে ও সৎকর্ম করে ৷ (সুরা যারা : ৩৭)

অন্যত্র আল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ ????!?; :

(,)ট্রু,ইপু:ছুপ্রু ৰুা টুৰু

পৃষ্ঠা ৬৮৯ঠিক করুন

“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরুপ যে ধ্নৈশ্বর্য ও সর্ভান সম্ভতি
দান করি তা দিয়ে তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করেছি ? না, বরং তারা বুঝে
না ৷’ ’(সুরা ঘুমিনুন৪ ৫৫ ৫৬)

উপরোক্ত প্রতিউত্তর দ্বারা বোঝা যায় যে, আয়াতাৎশ ক্লোন্; ল্পিাছু ,াহ্রব্ ’ ^ (£ ৷
এর অর্থ আমরা যা বুঝেছি তা যথার্থ ৷ আর যারা মনে করেন কারুন যে জ্ঞানের পর্ব করতো তা
কি রসায়নশাত্রে তার পারদর্শিতা কিংবা তা ছিল৩ তার ইসমে আজমের জ্ঞান, যা প্রয়োগের
মাধ্যমে সম্পদ আহরণ করত, তাদের ধারণা সঠিক নয় ৷ কেননা রসায়নশাস্ত্র এমন একটি শিল্প
বা বস্তুর মৌলিক কোন পরিবতনিঃ সাধন করে না এবং এটা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নয় ৷
ইসমে আজম এর মাধ্যমে কা ৷ফিরের দু’আ উর্ধজগতে উথিত হয় না ৷ আর কারুন ছিল অন্তরে
কাফির এবং দৃশ্যত মুনাফিক ৷ এ ছাড়াও এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে৩ তার ৷উত্তরঢি সঠিক হয় না ৷
অধিকন্তু দুটি বাক্যের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কও বিরাজমান থাকে না ৷ এই সম্পর্কে তাফসীর
গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর ৷

অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ) গো ৭শ্রুও শুা; র্দুট্রু×র্চুপুণ্ধ্ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে
কারুন তার সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে ৷ (সুরা ক ৷সাস৪ ৭৯)

বহু তাফসীরকার উল্লেখ করেছেন যে, একদিন কারুন মুল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান
করে গাড়ি, ঘোড়া, বহু সংখ্যক লস্কর ও পরিচর্যাকারী নিয়ে শহরে বের হল ৷ যারা পার্থিব
সম্পদকে অত্যধিক গুরুতু দিয়ে থাকে, কারুনকে এরুপ শান-শওকতে দেখে তারা কামনা
করতে লাগল যদি তাদেরও এরুপ ধ্ন-সম্পদ থাকত ! তারা তার প্রতি ঈর্ষাষিত হলো ৷ তখনকর

বুদ্ধিমান পণ্ডিত ও সাধকগণ তাদের কথা শুনে তাদেরকে লক্ষ করে বলচুলনং :

অর্থাৎ ধিক তােমাদেরকে আখিরাতের জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্ক৷ ৷রই শ্রেষ্ঠ, অধিকতর
স্থায়ী ও উন্নতর ৷ অ ৷ল্লাহ্ তা জানা বলেনং : ৷ ১৷ , অর্থাৎ-এ পৃথিবীর চাকচিকোর
দিকে ভ্রাক্ষেপ না করে আখিরাঃত তর মহাকল্যাণ লাভের জন্য যে উপরোক্ত নসীহতকে গ্রহণ
করতে পারে একমাত্র ঐ ব্যক্তি যার অম্ভরে আল্লাহ্ তা জানা হিদায়ত প্রদান করেছেন, তাকে
দৃঢ়চিত্ত করেছেন, তার বুদ্ধি-বিবেক পােক্ত করেছেন এবং তার গন্তব্যস্থলে পৌছার তাকে
তাওফীক দান করেছেন ৷ কোন কোন বুযুগঢাি দীন কতই না উত্তম কথা বলেছেন, সন্দেহের
স্থলে দুরদৃষ্টি এবং ইদ্রিয়সুখ ভোগের ক্ষেত্রে পরিপুর্ণ বুদ্ধিমত্তা আল্লাহ্ তা জানার কাছে প্রিয় ৷

আল্লাহ তা জানা বলেনৰু ং

অর্থাৎ-আল্লাহ তাআলা যখন কারুনের জাকজমক ও দান্তিকতাসহ স্বীয় সম্প্রদায়ের উপর
পর্ব সহকারে তার শহর প্রদক্ষিণের কথা বর্ণনা করে তার পরিণতি সম্পর্কে বলেন, ত্যাকৃ তার
বাড়িঘরসহ আ ৷মি ভুগর্তে প্রো ৷থিত করলাম ৷ (সুরা কড়াসাস : ৮১)

আল বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া ( ১ম খণ্ড) ৮ ৭-

ইমাম বুখাবী (র) আবু সালিম (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন : তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাসুল
(সা) দেখতে পেলেন, সে তার পরিধেয় বস্ত্র হেচড়িয়ে চলছে ৷ সে ভুগর্ভে চলে যাচ্ছে ৷
কিয়ামতে র দিন পর্যন্ত যে এভ৷ রে ভুগভে ৩তলিয়ে যেতেই থাকবে ৷

ইমাম বুখাবী (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকেও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ ইবন আব্বাস
(রা) ও ইমাম সুদ্দী (ব) বর্ণনা করেছেন, একদিন কারুন একজন ব্যভিচাবী মহিলাকে এ শর্তে
কিছু অর্থ দিল যে, সে জনতার সামনে প্রকাশ্যে বলবে, হে মুসা! তুমি আমার সাথে ব্যভিচার
করেছ ৷ কথিত আছে যে, মহিলাটি জনসমক্ষে মুসা (আ) কে এরুপ বলেছিল ৷ মুসা (আ)
আৎকে উঠলেন এবং দৃ’রাকড়াত নামায আদায় করলেন ৷ অতঃপর মহিলাটির দিকে অগ্রসর হয়ে
শপথ সহকারে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তােমাকে এরুপ মিথ্যা অপবাদে কে প্ররোচিত
করেছে?’ মহিলাটি তখন উল্লেখ করল যে, ক রুনই তাকে এ কাজে প্ররােচিত করেছে ৷ সে
আল্লাহ তা আলার কাছে ক্ষমা চ ইল এবং তওব৷ করল ৷ তখন মুসা (আ ) সিজদাবনত হলেন
এবং কা রুনের বিরুদ্ধে বদৃ দুআ করলেন ৷ আল্লাহ তা জানা মুসা র্বঅ৷ ) এর কাছে এ মর্মে ওহী
প্রেরণ করলেন যে, ভুমিকে নির্দেশ ৷দেয়া হয়েছে৷ এ ব্যাপারে সে ৫৩ ৷মার যাবতীয় নির্দেশ মান্য
করবে ৷ তখন মুসা (আ) ক রুন ও তার ঘরবড়াড়ি গ্রাস করার জন্যে ভুমিকে নির্দেশ দিলেন ৷
ফ্লে তাই হয় ৷ আল্পাহ্ তাআলাই সর্বজ্ঞ ৷
এরুপও কথিত ৩আছে যে, একদিন ক রুন সাজসজ্জা করে সৈন্য সামম্ভ, ঘোড়া, খচ্চব ও
মুল্যবান পে শাক পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে তার সম্প্রদায়কে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শনার্থে মুসা
(আ)-এর মাহফিলের পাশ ৷দিয়ে যাচ্ছিল ৷ মুসা (আ ) তখন তার সম্প্রদায়কে তাৎপর্যপুর্ণ
ঘটনাবহুল দিনগুলো সম্বন্ধে নসীহত করছেন ৷ জনতা যখন কারুনকে দেখল , তখন মজলিসের
অনেকেই তার দিকে ফিরে৩ ৷ কাল ৷ মুসা (আ) তাকে ডাকালেন এবং তার এরুপ করার কারণ
জিজ্ঞেস করলেন ৷ কারুন বলল, হে মুসা যদিও তুমি নবুওত প্রাপ্ত হয়ে আমার উপর শ্রেষ্ঠতু
অত্তনি করেছ, কিন্তু মনে রেখো, আমিও বিত্ত-সম্পদের দিক থেকে ণ্৩ ৷মার উপর শ্রেষ্ঠতৃ অর্জন
করেছি ৷ যদি ইচ্ছে কর, তা তুলে তুমি ঘরের বের হয়ে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদু আ
করতে পার এবং আমিও তোমার বিরুদ্ধে বদ দুআ করব ৷

তখন তারা উভয়েই জনতার সামনে হাযির হলেন ৷ মুসা (আ ) বললেন, তুমি দুআ করবে,

না কি আমি দু আ করব? “অভ পর কারুন দু অ করল কিন্তু মুসা (আ ) এর বিরুদ্ধে তার দু আ
কবুল হলো না ৷ মুসা ৷ “হে আল্লাহ্ৰু ভুমিকে নির্দেশ দাও, যাতে (আ) বললেন, এবার আমি দু আ করব কি? ক রুন বলল, হ্যা ৷ মুসা
(আ) বললেন,
যে আজ আমার নির্দেশ মান্য করে ৷ ’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ ) কে ওহীর মাধ্যমে
জানালেন, আমি ভুমিকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি ৷ ’ তখন মুসা (আ) বললেন, হে ভুমি ৷ তাদেরকে
পাকড়াও কর !’ ভুমি তাদেরকে তাদের পা পর্যন্ত গ্রাস করল ৷ এরপর মুসা (আ ) বললেন হে
ভুমি তাদেরকে আরো পাকড়াও কর ৷ ভুমি তাদেরকে হাটু পর্যন্ত গ্রাস করল ৷ তারপর কাধ
পর্যত ৷ পুনরায় মুসা (আ) বললেন, তাদের পুঞ্জীভুত ধন-দৌলতের দিকে অগ্রসর হও ৷ ভুমি

এগুলোর দিকে অগ্রসর হল এবং তারা সে দিকে তাকাল ৷ মুসা (আ) আপন হাতে ইংগিত
করলেন এবং বললেন, বনু লাওয়ী নিপাত যাওা’ সাথে সাথে ভুমি তাদেরকে গ্রাস করে
ফেলল ৷

কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন কারুন ও তার সম্প্রদায় কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিদিন

একটি মানব দেহের পরিমাণ তলিয়ে যেতে থাকবে ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে

বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, সপ্ত যমীন পর্যন্ত ভুমি তাদেরকে ভুগর্ভস্থ করেছিল ৷ এই প্রসঙ্গে বহু
তাফসীরকার বহু ইসরাঈলী বর্ণনা পেশ করেছেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো পবিহার

করেছি ৷ আয়াতাৎশ
তার জন্যে নিজের থেকে কিৎব৷ অপর থেকে কোন

সাহায্যকারী ছিল না ৷

যেমন আল্লাহ তা আলা বলেছেন০ ং৷০১ অর্থাৎ তার শক্তিও নেই
ৎব৷ তার সাহায্যকারীও নেই ৷ যখন ক রুন ভুগর্ভে চলে গেল তার বাড়িঘর জ ন মাল
পরিবার পরিজন, জমি-জম৷ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ৷ কারুনের ন্যায় যারা সম্পদ কামনা করেছিল
তারা লজ্জিত হল এবং আল্লাহ্ তাআলার দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল ৷ আল্লাহ্ তাআলা

মানুষের জন্যে উত্তম ব্যবস্থাপনা করে থাকেন ৷ এ জন্যেই তারা বলল০ :
(
“যদি অ ল্লা৷হ্ তা আলা আমাদের প্রতি সদয় না হতেন, তবে আমাদেরকেও তিনিভু গর্ভে
প্রোথিত করতেন ৷ দেখলে তো , কাফিররা সফলকাম হয় না ৷ (সুরা কাসাস : ৮২)

আয়াতে উল্লেখিত : , শব্দটি সম্পর্কে তাফসীরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷
কাত৷ দা (র) বলেছেনং : এর অর্থ হচ্ছেপ্ অর্থাৎ তুমি কি দেখনি? ও অর্থের
দিক দিয়ে এটি একটি চমৎকার উক্তি ৷

অতঃপর আল্লাহ তাআলা জ নিয়ে দেন৪

আখিরাতের আবাস অর্থাৎ স্থায়ী আবাস ৷ এটা এমন একটি আবাস যাকে দেয়৷ হয় সে
ঈর্যার পাত্র হয় ৷ আর যাকে বঞ্চিত করা হয় সে করুণার পাত্র হয় ৷ এরুপ আবাসস্থল এমন
লোকদের জন্যে তৈরি করে রাখা হয়েছে, যারা পৃথিবীতে টুদ্ধত হতে চায় না কিংবা কোন
প্রকার বিপর্যয়ও সৃষ্টি করতে চায় না ৷ আয়াতে উল্লেখিত দ্বুর্বৃদ্বু কথাটির অর্থ হচ্ছে ঔদ্ধত্য
অহংকার ও গর্ব র্দুা৷পুণ্ রা বিপর্যয়ের অর্থ হচ্ছে পাপের কাজ যা পাপী ব্যক্তির নিজের মধ্যে
হোক বা অন্যের সাথে সম্পৃক্ত হোক ৷ যেমন লোকের সম্পদ আত্মসাৎ করা ও তাদের জীবিকা
অর্জনের পথে বিব্ল সৃষ্টি করা, তাদের প্রতি ৩দৃর্বাবহার করা এবং তাদের অকল্যাণ কামনা করা ৷
অতঃপর আল্লাহ্ তা আলা বলেন “শুভ পরিণতি তাক্ওয়া
অবলম্বনকারীদের জন্যে ৷ ” কারুনের ঘটনাটি হয়ত ৩রা তাদের মিসর থেকে বের হবার পুর্বেই
সংঘটিত হয়েছিল ৷

কেননা, আল্লাহ তা আল৷ বলেছেন৪ তাকে ও তার
প্রাসাদ ভুগ র্ভে প্রোথিত করলাম ৷ এ ৷া-এর প্রকাশ্য অর্থ প্রাসাদই হয়ে থাকে ৷ আবার এটা হয়ত
বা ভীহের ময়দানেই হয়েছিল ৷ তাহলে এখানে ) এর অর্থ হবে এমন একটি স্থান যেখানে
র্তাবু নির্মাণ করা হয়ে থাকে ৷ যেমন প্রসিদ্ধ করি আনতারাহ্ বলেছেন

এখানে ) ৷ ১ শব্দটি স্থান অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে ৷ আল্লাহ্ তাআলা কারুনের অপকীর্তির
কথা একাধিক আয়াতে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেনঃ

“আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মুসাকে প্রেরণ একরেছিলাম ফিরআউন হামান
ও কারুনে র নিকট, কিন্তু৩ তারা বলেছিল এ তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী ৷ (সুরা মু মিন
৪ ২৩ ২৪)

আল্লাহ তাআলা সুরায়ে আনকাবুতে অড়াদ, ছামুদ, কারন, ফিরআউন ও হামানের কথা

উল্পেখের পর বলেন০ ং

“মুসা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল ৷ তখন তারা দেশে দম্ভ করত, কিন্তু তারা
আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি ৷ তাদের প্রতেককেই আমি তার অপরাধের জন্যে শাস্তি
দিয়েছিলাম ৷ তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড ঝড় ৷ তাদের কাউকে আঘাত
করেছিল মহানাদ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছিলাম তুগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম
নিমজ্জিত ৷ আল্লাহ তাদের প্রতি কে ন জুলুম করেননি ৷৩ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম
করেছিল ৷ (সুরা আনকাবুত৪ ৩৯ ৪০)

যাকে ভুগর্ভে প্রোথিত করা হয়েছিল সে ছিল কারুন, যার কথা পুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৷
যাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছিল, তারা ছিল ফিরআউন, হামান ও তাদের সৈন্য-সামন্ত ৷ তারা
ছিল অপরাধী ৷

ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) সালড়াত সম্বন্ধে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনং : যে ব্যক্তি সালাত নিয়মিত আদায়
করে, কিয়ামতের দিন এই স ৷লাত তার জন্যে হবে নুর, দলীল ও পবিত্রাণের উপকরণ আর যে
ব্যক্তি সালড়াত নিয়মিত আদায় করবে না তার জন্যে কে ন নুর, দলীল ও নাজাত হবে না এবং
কিয়ামতের দিন যে কারন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবন খালফের সঙ্গী হবে ৷ এটি ইমাম
আহমদ-এর একক বর্ণনা ৷

মুসা (আ)-এর ফযীলত স্বভাব গুণাবলী ও ওফাত

আল্লাহ্ত ৷অ ৷ল৷ ইরশাদ করেনং :

“স্মরণ কর, এই কিভাবে উল্লেখিত মুসার কথা, যে ছিল বিশুদ্ধচিও এবং সে ছিল রাসুল,
নবী ৷ তাকে আমি আহবান করেছিলাম তুর পর্বতে র দক্ষিণ দিক থেকে এবং আমি অম্ভরঙ্গ
আলাপে তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম ৷ আমি নিজ অনুগ্রহেত তাকে দিলাম তার তা ই হারুনকে
নবীরুপে ৷ (সুরা মারয়ামং ৫১ ৫৩)

আল্লাহ্ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশ ৷৷দ করেন :

আল্লাহ্ তা আলা বলেন, হে মুসা ৷ আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা

মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছি ৷ (সুরা আরাফ৪ ১৪৪)
সহীহ বুখারী ও ঘৃসলিমেব বরাতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেন০ ং
আমাকে তোমরা মুসা (আ) এর উপর গ্রেষ্ঠতৃ প্রদান করবে না ৷ কেননা, কিয়ামণ্ডে র দিন যখন
মানব জাতি সৎজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, তখন আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে সংজ্ঞা ৷ফিরে পারে৷ ৷ তখন
আমি মুসা (আ) কে আল্পাহ্ তাআলার আরশের একটি স্তম্ভ ধরে রয়েছে দেখতে পাব ৷ আমি
জানি না, তিনি কি অচে৩ ন হয়েছিলেন? অত ৩ঘ্রপর আমার পুর্বে৩ তিনি চেতনা ফিরে পেলেন
নাকি ভুরে অচেতন হওয়ার প্রতিদানে তিনি আদৌ অচে৩ নই হননি ৷ একথা আমরা পুর্বে উল্লেখ
করেছি যে, এ ধরনের উক্তি ছিল রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিনম্রত ৷ ও বিনয়ের প্রকাশ স্বরুপ ৷

কেননা, তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী, তিনি ছিলেন দুনিয়া ও আখিরাঃত নিং সন্দেহে আদম
সন্তানের সর্দার ৷ এর বিপরীত হওয়ার কোন অবকাশ নেই ৷

াল্লাহ ত ৷আলা ইবশাদ করেন ং

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.