মৃত্যুকালে তার বয়স

করলাম ৷ তিনি এক হড়াবশী কিশোরী (দাসী)-কে দেখিয়ে বললেন, এটি রড়াসুলুল্লাহ (না)-এর
পরিচারিকা , একে জিজ্ঞেস কর ৷ তখন সে বীদীটি বলল, আমি বিকেলে রাসুলুল্লাহ (সা) এর
জন্য একটি পড়াত্রে (মশকে) থুরমা তিজিয়ে সেটির মুখ বেধে রাখতাম ৷ সকাল হলে তিনি তা
থেকে গান করতেন ৷ মুসলিম ও নাসাঈ (র) হাদীসটি রিওয়ড়ায়াত করেছেন ৷ করেছেন কাসিম
ইবনৃল কাঘৃল (র) এর বরড়াতে, ঐ সনদে ৷ বংনািকারীগণ হাদীসটি এভাবে আইশা (রা)-এর
মুসনাদে’ উল্লেখ করেছেন ৷ কিন্তু তা নবী করীম (সা) এর খিদমতকারিণী অন্যতমা হড়াবশী
বীদীর মুসমাদরুগে উল্লেখিত হওয়াই অধিক সমীচীন ৷ তবে সে বীদী আমাদের উল্লেখিত
বীদীদের একজনও হতে পারেন ৷ আবার তাদের অতিরিক্ত অন্য কউও হতে পারেন ৷
আল্লাহই সর্বাধিক অবগত ৷

নবী করীম (না)-এর সেবার আত্মনিয়োজিত তার সাহাবী খাদিমপণ
(যারা £পালড়ামও মাওলাও নয়)

এক : এ তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আনড়াস ইবন মালিক (বা) ৷ তার বংশ সুত্র আনাস ইবন
মালিক ইবনৃয নড়ামর ইবন যমযম ইবন যায়দ ইবন হড়ারাম ইবন জুনদাব ইবন আসিম
ইবন পনম ইবন আদী ইবনুন নড়াজ্জার-নড়াজ্জার গোত্রের আনসাবী ৷ তার কুনিয়াত ছিল আবু
হামযা , বাসস্থান মদীনায়, পরে বসরায় বসতি স্থাপন করেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা)-এর মদীনায়
অবস্থানকাল দীর্ঘ দশ বছর পর্যন্ত তার খিদমত করেন ৷ এ ধীর্ঘ দিন নবী করীম (সা) কখনো
তাকে ভভুসনা করেননি এবং তিনি করেছেন এমন কোন কাজের ব্যাপারে বলেননি, তা
করলে কেন ? এবং তিনি করেননি এমন কোন বিষয়ে তিনি বলেননি, এটা করলে না কেন ?
তার মা হলেন উম্মু সুলায়ম বিনত মিলহান ইবন খালিদ ইবন মায়দ ইবন হারড়াম ৷ এ মা-ই
তাকে রড়াসুলুল্লাহ (সা ) এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং তিনি তা কবুল করেছিলেন ৷ যা তার
এ সন্তানের জন্য নবী করীম (না)-এর কাছে দুআর আবেদন করলে নবী করীম (সা)
বলেছিলেন,

“হে আল্লাহ ৷ তার বন-দৌলত ও সন্তান-সওতি বাড়িয়ে দিন এবং তাকে দীর্ঘ্যয়ু করুন এবং
তাকে জান্নড়াতে দাখিল করুন ৷” আনাস (বা) বলেন, এর দুটি ৰিবয় আমি দেখেছি এবং
ভৃভীয়টির (জান্নড়াতে প্রবেশ) প্ৰর্তীক্ষায় রয়েছি ৷ আল্লাহর কসমৰু আমার রয়েছে অবশ্যই অধিক
সম্পদ এবং আমার সন্তান ও সন্তানের সন্তান-সম্ভতির সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে ৷ ’ অন্য একটি
র্যণনড়ায় রয়েছেষ্আমার আৎগুর বাগান বছরে দদুবার করে ফল দেয় ৷ আর আমার ঔরবজাত
সন্তানের সংখ্যা একশ ছয় জন ৷

তার বদরে অংশ্যাহণ সসম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে ৷ আনসাবী (র) তার পিতা সুত্রে ছুমামা
(র) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিনি বলেন, আনড়াস (রা)-কে বলা হল, আপনি কি বদরে
উপস্থিত ছিলেন ? তিনি বললেন, মা-মরা কােথাকার, বদর হতে অনুপস্থিত থেকে আমি
কোথায় যাব ? তার প্রসিদ্ধ মতে তিনি বয়সের স্বল্পতার কারণে বদরে অংশ্যাহণ করেন নি
এবং একই কারণে উহুদেও অংশ্যাহণ করেননি ৷ তবে হুদড়ায়বিয়া, খ্যয়বর, উমরাতুল কাযা ,
মক্কা বিজয়, হুনায়ন ও তাঈফ এবং এর পরবর্তী অভিযান সমুহে অংশ্যাহণ করেছিলেন ৷

আবু হুরায়রা (বা) বলেন, রড়াসুলুল্পাহ (না)-এর সংগে অধিক সাদৃশ্যপুর্ণ সালাত আদায়কারী
ইবন উম্মু সুলায়ম অর্থাৎ আবাস ইবন মালিক (রা)-এর ন্যায় অন্য কাউকে আমি দেখিনি ৷
ইবন সীরীন (র) বলেন, সফরে ও বাড়িতে তিনি ছিলেন অতি সুন্দর সালাত আদায়কারী
মানুষ ৷ বসরায় তিনি ইনতিকাল করেন এবং সেখানে বিদ্যমান সাহাবীগণের মধ্যে তিনিই
সর্বশেষ ব্যক্তি ৷ এ তথ্য ব্যক্ত করেছেন আলী ইবনুল মাদীনী (র) ৷ তার মৃত্যু হয়েছিল নব্বই
হিজরীতে ৷ মতান্তরে একনিব্বই, বিরানব্বই ও তিরানববই হিজরীতে ৷ তবে শেষ মতর্টি অধিক
প্রসিদ্ধ এবং তা অধিকাংশের সমর্থিত ৷

মৃত্যুকালে তার বয়স : ইমাম আহমদ (র) তার ষুসনাদে রিওয়ায়াত করেছেন, মুতামির
ইবন সুলায়মান (র) হুমায়দ (র) সুত্রে এ মর্মে যে, আনন্দে (বা) এক কম একশ বছর আয়ু
পেয়েছিলেন ৷ সর্বনিম্ন কথিত বয়স ছিয়ানব্বই এবং সর্বাধিক কথিত হয়েছে একশ সাত বছর ৷
কেউ কেউ একশত ছয় এবং অন্যরা একশ তিন বছরের কথা বলেছেন ৷-আল্লাহই সৰ্বাধিক
অবগত ৷

দুই ৪আল আসলা ইবন শারীক ইবন আওফ আল অড়ারাজী (রা) ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ (র)
বলেন, তার নাম ছিল মায়মুন ইবন সামৃবায ৷ রাবী ইবন বদর আল আরাজী (র) বলেন, তার
পিতা ও দাদা সুত্রে আসলা (রা) থেকে ৷ তিনি বলেন, আমি নবী কৰীম (সা)এর খিদমত
করতড়াম এবং তার সংগে সংগে সফর করতাম (ও গান্ধীর দায়িত্ব পালন করতাম) ৷ এক রাতে
তিনি বললেন,আসলা! ওঠো এবং পাক্ষী নিয়ে চল ৷” আসলা (রা)
বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার গোসল ফরজ হয়েছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম (সা)
কিছু সময় নীরব থাকার পর জিবরীল (আ) তায়াম্মুম বিষয়ক আয়াত নিয়ে আগমন করলেন ৷
তখন নবী করীম (সা) বললেন, হে আসলা! তায়াম্মুম করে নাও
বর্ণনাকারী বলেন, আমি তায়াম্মুম করলাম এবং সালাত আদায় করলাম ৷ পরে পানির কাছে
পৌছলে তিনি বললেন, ওঠ হে আসলা ! এখন গোসল করে নাও ৷ ”
বর্ণনাকারী বলেন, নবী করীম (না) তখন আমাকে তায়াম্মুমের পদ্ধতি দেখিয়ে দিলেন ৷
রড়াসুলুল্লাহ (সা) তার দৃহাত মাটিতে রাখলেন, তারপর তা ণ্ঝড়ে নিলেন ৷ তারপর দু’হাত
দিয়ে নিজের চেহারা মাসেহ করলেন ৷ পরে আবার নিজের দুহড়াত মাটিতে লাগাবার পর তা
বোড়ে নিয়ে দৃহাত দিয়ে নিজের দুই হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করলেন ৷ ডান হাত দিয়ে বাম
হাত মুসলেন এবকং বাম হাত দিয়ে ডান হাত আইরের ও ভিতরের দিক মাসেহ করলেন ৷
রাবী (র) বলেন, আমার পিতা (বদর) আমাকে (তায়াম্মুমের নিয়ম) দেখিয়েছেন ৷ যেমন তার
পিতা তাকে দেখিরেহিংলন ৷ যেমন আসলা (মা) তাকে দেখিরেছিলেন ৷ যেমন রাসুলুল্লাহ
(সা) আসলা (রা)-কে দেখিরেছিলেন ৷ রাবী (র) বলেন, আমি এ হাদীসে বর্ণিত পদ্ধতি আওফ
ইবন আবু জামীলা (র)-কে সেখানে তিনি বললেন, আল্লাহর কলম ! আমি হাসীন (র)-াক
এভাবেই করতে দেখেছি ৷ ইবন মানদা ও বাপাৰী (র) তাদের ম্জাযুস সাহাবা’ গ্রন্থদ্বয়ে
হাদীসটি এ রাবী ইবন বদর (র) সুত্রেই রিওয়ায়াত করেছেন ৷ বাপাবী (র) বলেন, তিনি
ব্যতীত অন্য কোন রাবী হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমার জানা নেই ৷ ইব ন আসাকির

(র) বলেন, হায়ছাম ইবন রুযায়ক মালিকী আল মিদলাজী (র)-ও হাদীসটি তার পিতা সুত্রে
আসলা ইবন শারীক (যা) থেকে রিওয়ড়ায়াত করেছেন ৷

তিন : আসমা ইবন হারিছা ইবন সাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাদ ইবন সাদ ইবন
আমর ইবন আমির ইবন ছালাবা ইবন মালিক ইবন আকসা আল আসলামী (রা) ৷ তিনি ছিলেন
আসহড়াবে সুফফার অন্যতম ৷ এ তথ্য দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) ৷ তিনি হিনদ ইবন
হারিছা (রা) এর ভাই ৷ এ দুভাই-ই নবী করীম (সা) এর থিদমত করতেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আফফান (র)ইয়াহয়া ইবন হিনদ ইবন হারিছা (রা)
থেকে-হিনদ (রা) হুদায়বিয়ায় অংশ্যাহণকড়ারীদের অন্যতম ছিলেন ৷ তীর ভাইকেই রাসুলুল্লাহ
(সা) পাঠিয়েছিলেন তার গোত্রকে আশুরা দিবসের সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়ে ৷ এ ভাইয়ের
নাম হল আসম৷ ইবন হারিছা (রা) ৷ ইয়াহয়া ইবন হিনদ (র) (তার চাচা) আসম৷ ইবন হারিছা
(রা) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) তাকে এই বলে পাঠালেন যে, “তোমার সম্প্রদায়কে এ দিনটির সওম পালন করতে বল ৷” তিনি বললেন,
আমি যদি তাদের দেখতে পাই যে, তারা ইতোমধ্যেই আহার করে ফেলেছে তবে আপনার কি
হুকুম ? নবী করীম (সা) বললেন, ণ্৫শঃ-এ )-গ্রা ন্স্পো “তবে যেন তারা দিনটি শেষ পর্যন্ত আর
আহার না করে ৷ ” আহমদ ইবন খালিদ ওয়াহবী (র) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন মুহাম্মদ
ইবন ইসহাক (র) সুত্রেহিনদ (রা) থেকে-তিনিঃ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে আসলাম
গোত্রের একটি দলের কাছে পাঠালেন ৷ তিনি বলে দিলেন,

“তোমার কওমকে আদেশ দিয়ে এস যেন তারা এ দিনটির সিয়াম পালন করে এবং তাদের
মধ্যে যাকে দেখবে যে, সে দিনের প্রথম ভাগেই আহার করে ফেলেছে সে যেন দিনের শেষ
পর্যন্ত সিয়ামের অবস্থায় থাকে ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) ওয়াকিদী (র) সুত্রে বলেছেন,
মুহাম্মদ ইবন নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল মুজমির (র) তার পিতা সুত্রে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা)-কে বলতে শুনেছি, হিনদ ও আসমাকে আমি রাসুলুল্লাহ
(সা) এর মালিকানাধীন গোলামই মনে করতড়াম ৷ ওয়ড়াকিদী বলেছেন, এ দুজন নবী করীম
(সা) এর খিদমত করতেন এবং এ দুজন ও আসাম ইবন মালিক (রা) নবী করীম (না)-এর
দুয়ারেই পড়ে থাকতেন ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) বলেন, আসমা ইবন হারিছা (রা) ছিষট্টি
হিজরীতে আশি বছর বয়সে বসরায় ইনতিকাল করেন ৷

চার : নবী কবীম (না)-এর খাদিম বুকায়র ইবনুশ শাদ্দাখ লায়হী (রা) ৷ ইবন মানদা (র)
উল্লেখ করেছেনন্আবু বকর আল হুযালী (র) সুত্রে আবদুল মালিক ইবন ইয়ালা আল লায়ন্থী
(র) থেকে এ মর্মে যে, বুকায়র ইবনুশ শাদ্দাখ আল লায়হী (রা) নবী করীম (সা) এর খিদমত
করতেন ৷ তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে এ ব্যাপারে তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-কে অবহিত করলেন এবং
বললেন, আমি তো আপনার পরিবারে (অন্দর মহলে) যাতায়াত করতাম; এখন আমি বালিগ
হয়ে গিয়েছি ৷ ইয়া রাসুলাল্লাহ! নবী করীম (সা) বললেন, “ইয়া
আল্লাহ তাকে সত্যভাষী করুন এবং সফলতা-ধন্য করুন ৷” পরে উমর (রা) এর যুগে এক

ইয়াহুদী ব্যক্তি নিহত হল ৷ উমর (রা) দাড়িয়ে ভাষণ দিলেন, এ বিষয় যার কোন অবণতি
রয়েছে তাকে আল্লাহর নামে কসম দিচ্ছি ৷ ” তখন বুকায়র (বা) দাড়িয়ে বললেন, আমীরুল
যুমিনীন! আমিই তাকে হত্যা করেছি ৷ উমর (রা) বললেন, তার খুনের দায় তো তুমি বহন
করলে, এখন পরিত্রানের উপায় কি ? বৃকায়র (রা) বললেন, আমীরুল যুমিনীন ! জনৈক গাজী
(মুজাহিদ) ব্যক্তি আমাকে তার পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিল ৷ একদিন আমি
এসে দেখলাম এ ইয়াহুদীট৷ ঐ যুজাহিদের ত্রীর কাছে রয়েছে আর যে একটা অশ্লীল কবিতা
আবৃত্তি করছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, বুকড়ায়র (রা)-এর জন্য রাসুলুল্লাহ (না)-এর পুর্বোল্লিখিত্ত
দৃআর কারণে উমর (বা) তার বক্তব্যের সত্যতা মােন নিলেন এবং ইয়াহুদীর খুনের দায়কে
বাতিল সাব্যস্ত করলেন ৷

পাচ : বিলাল ইবন রাবাহ আল হাবশী (রা) ৷ তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন ৷ তিনি ছিলেন
গোলাম এবং তার মনিব ছিল উমায়্যা ইবন খালফ ৷ তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে ধর্ম
ত্যাগে বাধ্য করার জন্য মনিব উমায়্যা তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালাত ৷ বিস্তু তিনি ছিলেন
ইসলামে অটল অবিচল ৷ তার এ অবস্থা দেখে আবু বকর (রা) অঢেল সম্পদের বিনিময়ে
তাকে খরিদ করলেন এবং আল্লাহর সম্ভষ্টি অন্বেষায় তাকে মুক্ত করে দিলেন ৷ লোকেরা যখন
হিজরত করল তখন তিনিও তাদের সং গে হিজর৩ করলেন ৷ রদ র উহ্দ ও পরবর্তী
অভিযানসমুহে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন ৷ তিনি তার মা হামামা-র পরিচয়ে বিলাল ইবন
হামামা নামে পরিচিত ছিলেন ৷ তিনি ছিলেন প্রাঞ্জল ভাষী বান্সী ৷

সুতরাং তিনি সীন’ (০৪) কে শীন (০উ) উচ্চারণ করতেন বলে যে প্রসিদ্ধি রয়েছে তা
আদৌ ঠিক নয় ৷ তিনি ছিলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-এর চার মৃয়ড়ায্যিনের অন্যতম, যেমনটি পুর্বে
বিবৃত হয়েছে ৷ তিনিই সর্ব প্রথম আমান দিয়েছিলেন ৷ তিনি নবী কবীম (সা)-এর পরিবারের
ব্যয় নিবাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ৷ সমস্ত সম্পদ তার হাতেই থাকত ৷ নবী কবীম (সা)-
এর ওফাত হয়ে গেলে তিনিও সিরিয়াগামী বা ৷হিনীর সং গে গিয়েছিলেন ৷ক কারো কারো মতে
আবু বকর (রা) এর খিলাফতকা ৷লে তার মুয়াবৃযিনরুপে তিনি (মদীনায়) অবস্থান করছিলেন ৷

তবে প্রথম অভিমত অধিক প্রসিদ্ধি ও তথ্য নির্ভর ৷ ওয়াকিদী (র) বলেন, বিশ হিজরীতে
তিনি দামিশকে ইনতিকা ৷ল করেন এবং তখন তার বয়স হয়েছিল যা ৷হ্বটর অধিক ৷ ফাল্লাস (র)-
এর বক্তব্য মতে দামিশকে এবং মতাতরে মারিয়া-য় তার সমাধি রয়েছে ৷ কেউ কেউ হ লাবে
তার মৃত্যু হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন ৷ তবে প্রামাণ্য তথ্য মতে হালাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন
তার ভাই খালিদ (রা) ৷ মাকহুল (র) বলেন, বিলাল (রা) কে দেখেছেন এমন এক ব্যক্তি
আমাকে বিবরণ দিয়েছেন যে, তিনি ছিলেন পুর্ণ শ্যামল বর্ণের, ক্ষীণকায় ও প্রশস্ত কপালধারী ৷
এবং তার মাথায় ছিল অনেক চুল ৷ তিনি সাদা চুল-দাড়িতে খিযাব ব্যবহার করতেন না ৷

ছয়-সাত : নববী দরবারের খাদিম হাব্বা ইবন খালিদ ও সাওয়৷ ইবন খালিদ (বা) দু’ভাই ৷
ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু মুআবিয়৷ (র)হাব্বা ইবন খালিদ ও সাওয়৷ ইবন খালিদ (রা)
থেকে বর্ণিত ৷ র্তার৷ বলেন, আমরা নবী কবীম (না)-এর নিকটে পৌছলাম-তিনি তখন কোন
কিছু যেবামতসংস্কার করছিলেন, যা তাকে ক্লাম্ভ-ক্লিষ্ট করে দিয়েছিল ৷ তিনি তখন বললেন,

“যতদিন তোমাদের মাথা দুটি স্পন্দিত হতে থাকবে ততদিন রিযক বিলম্বিত (স্থগিত)

রাখা হবে না ৷ কেননা, মানব সম্ভানকে তার মা জন্ম দেয় লালচে বর্ণে; তার থাকে না কোন
ছাল-বাকল ৷ পরে মহান মহীয়ান আল্লাহ তাকে (সব কিছু) রিযক দান করতে থাকেন ৷”

আট ? নবী কৰীম (না)-এর খাদিম বু-যুখন্মোর-মতান্তার ঘু-যুহাব্বার (রা) ৷ তিনি হাবশা
সম্রাট নাজাশী (রা)-এর ভাইয়ের ছেলে এবং মতান্তরে তীর বোনের ছেলে ৷ তবে প্রথম মতটি
যথার্থ ৷ সম্রাট নাজ্যশী নিজের নাইব ও প্রতিনিধিরুপে রাসুলুল্লাহ (সা)এর খিদমতের জন্য
ভীকে পাঠিয়েছিলেন ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবুন নযর (র) যু-মুখস্ফোর (রা) থেকে ৷
তিনি ছিলেন নবী করীম (সা) এর লেবার আত্মনিয়ােজিত জনৈক হাবশ ৷৷বাসী ৷ তিনি বলেন,
আমরা তার স গে সফরে ছিলাম ৷ তিনি দ্রুত পথ অতিক্রম করতে লাগলেন এমন কি কা ৷ফিলা
থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন ৷ তিনি এমন করছিলেন পাথেয় স্বল্পতার কারণে ৷ তখন কেউ তাকে
বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! লোকেরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী
করীম (সা) উপবেশন করলেন এবং ল্যেকেদের থামিয়ে রাখলেন ৷ সকলেই তার কাছে
সমবেত হলে তাদের তিনি বললেন, ^ একটু সময় আমরা ঘুমিয়ে নিৰ
কি ? কিংবা অন্য কেউ তীর কাছে এ আবেদন করেছিল ৷ তখন লোকেদের সহ তিনি
সেখানে অবস্থান নিলেন ৷ তারা বলল, এ রাতে আমাদের পাহারাদারী করবে কে ? আমি (যু-
মুখাম্মার) বললাম, আমি, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গীত করুন ৷ তিনি তখন তার
উশ্ৰীর লাগাম আমাকে দিয়ে দিলেন এবং বললেন, ৷-ঙ্গ-ত্এ ৷)ঐ১-ৰুম্র ১! এা১ “দেখ বোকা বসে
(থাকা না যেন ! বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর উটের লাপাম ও আমার
উটের লাগাম তুলে নিয়ে অনতি দুরে সরে গেলাম এবং সে দৃটিকে আপন ইচ্ছার চরতে
দিলাম ৷ আ ৷মি সে দুটির প্রতি ৩লক্ষ্য রাখছিলাম এ অবস্থায় ঘুম আমাকে পেয়ে বসল ৷

এরপর আমার চেহারায় সুর্য কিরণের প্ৰখরত৷ অনুভব করার আগ প্হৃন্স্ত আর কিছুরই
আমার বোজখবর ছিল না ৷ সুর্য তাণে আমি জেগে উঠে আমার ভাবে বামে তাকালাম ৷
দেখলাম, বাহন দুটি আমার অনতিদুরেই রয়েছে ৷ আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর উট ও আমার
উটের লাগাম ধরে সবচেয়ে কাছের লোকটির নিকট গেলাম এবং তাকে জাগিয়ে তুলে বললাম,
সালাত আদায় করেছ কি ? সে বলল, না ৷ তখন লোকেরা একে অন্যকে জ্যপাতে লাগল এবং
অবশেষে রাসুলুল্লাহ (সা) ও জেগে উঠলেন ৷ তিনি বললেন,
বিলাল! উয়ুর পাত্রে কি কিছু পানি আছে ? তিনি বললেন, হা, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য
উৎসর্গীত করুন ৷

পরে তিনি উয়ুর পানি নিয়ে এলেন যার মাটি পরিষ্কার করা হয়নি ৷ পরে বিলাল (বা) কে
হুকুম করলে তিনি আমান দিলেন ৷ পরে নবী করীম (সা) র্দ৷ ড়িয়ে ফজরের পুর্বেক৷ র দুই
রাকআত লালাত আদায় করলেন এবংও তাতে তাড়াহুড়া করলেন না ৷ পরে বিলাল (রা) কে
আদেশ করলে তিনি ইকামত বললেন এবং নবী করীম (সা) ত ৷ড়াহুড ড়া না করেই (ফরম)

সালাত আদায় করলেন ৷ তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, ইয়া রড়াসুলাল্লাহ! আমরা কি অবহেলার
অপরাধ করছি ? নবী করীম (সা)
আল্লাহ আমাদের রুহ (সাময়িকভাবে) তুলে নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত দিয়েছেন ৷ এবং
আমরাও তো সালাত আদায় করে নিয়েছি ৷”

নয় : নবী করীম (না)-এর খাদিম তালিকায় বিশেষ উল্লেখযোগ্য আবু ফিরাস রাবীআ
ইবন কাব আল-আসলামী (রা) ৷ আওযাঈ (র) বলেন, ইয়াহয়া ইবন আবু কাহীর (র) আবু
সালামা (র) সুত্রে রাবীআ ইবন কাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ
(সা)এর সংগে রাত্রি যাপন করতাম এবং তার উবুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনের সৃরাহা
করতাম ৷ তিনি রাতের বেলা জেগে উঠে বলতেন, (আমার প্ৰতিপালকের
পৰিত্রতা এবং তার প্রশংসা সহকারে ) দীর্ঘক্ষণ ৷ এবং :গ্রজগতসমুহের
প্রতিপালকের পবিত্রতা!) দীর্ঘক্ষণ ৷ একদিন রাসুলুল্পাহ (সা) আমাকে বললেন,তােমার কি চাওয়ার মত কিছু আছে ? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্পাহা
জান্নাতে আপনার সান্নিধ্য লাভ ৷ তিনি বললেন,-১স্পো৷ চগ্লুট্রব্লুগ্লু ঞা শুা ষ্ও;ঙ “তবে তুমি
নিজে অধিক সিজদা করে আমাকে সহায়তা কর” (অর্থাৎ অধিক সালাত আদায়ের অভ্যাস
কর) ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইয়াকুব ইবন ইব্রাহীম (র) রাবীআ ইবন কাব (বা)
থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি আমার সারটিড়া দিন রাসুলুল্পাহ (না)-এর সেবার
কাটিয়ে দিতাম ৷ অবশেষে ইশার সালাত আদায় করা হয়ে গেলে তিনি যখন তার ঘরে যেতেন
আমি তখন তার দরজায় বসে থাকতাম ৷ মনে মনে বলতাম, হতে পারে, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
,কান প্রয়োজন দেখ দেবে ৷ আমি তখন শুনতে থাকতাম যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলে
চলেছেন, (আল্লাহর পবিত্রত৷ তার হামদসহ) ৷ শুনতে শুনতে এক সময়
আমি ক্লান্ত হয়ে চলে আসতড়াম কিৎবা আমার দৃচােখ আমাকে পরাভুত করলে আমি ঘুমিয়ে
পড়তাম ৷ তীর প্রতি আমার অধীর মনযোগ ও আমার সাগ্রহ খিদমত দেখে একদিন তিনি
আমাকে বললেন, আমার কাছে
কিছু চাও ৷ আমি তোমাকে তা দিয়ে দেব ৷ রড়াৰীআ (বা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া
রাসুলাল্পাহ ! আমি নিজের ব্যাপারে একটু ভেবে নেই ৷ তড়ারপরে আমার চাহিদার কথা আপনাকে
অবহিত করব ৷ রড়াবীআ (রা) বলেন, আমি মনে মনে চিন্তা করতে থাকলাম ৷ আমার বোধদয়
হল যে, দুনিয়া এক সময় ফুরিয়ে যাবে ৷ আর এখানে আমার জন্য অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ
রিষক রয়েছে যা আমার কাছে আসতে থাকবে ৷ রাৰীআ (রা) বললেন, তাই আমি মনে মনে
বললাম, রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকটে আমার আখিরাতের বিষয় দরখাস্ত করব ৷

কেননা, তিনি তো আল্লাহর নিকট যথাযােগ্য মর্যাদার অধিষ্ঠিত রয়েছেন ৷ রাবীআ (বা)
বলেন, এ সব ভেবে-চিস্তে আমি তার কাছে গেলাম ৷ তিনি বললেন, “হে রড়াবীআ ৷ কী ঠিক
করলে?” আমি বললাম, জী হী ৷ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার কাছে আমি দরখাম্ভ করছি যে,
আপনি আমার প্রতিপালকের নিকটে আমার জন্য সুপারিশ করবেন যেন তিনি আমাকে
জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন ৷ রাবীআ (বা) বলেন, নবী করীম (সা) বললেন, “হে
রাবীআ ! একথা তোমাকে কে বলে দিয়েছে? রাবীআ (বা) বলেন, আমি বললাম, যিনি

আপনাকে সত্য ও ন্যায় সহকারে পাঠিয়েছেন তার কসম ৷ কেউ আমাকে এ কথা বলে দেযনি ৷
তবে আপনি যখন আমাকে বললেন, “আমার কাছে চাও , তোমাকে দিয়ে দেব ৷ ” আর আপনি
তো আল্লাহর নিকট অধিষ্ঠিত রয়েছেন আপনার যথাদুযাগ্য মর্যাদার ৷ তখন আমি, নিজের বিষয়
ভেবে দেখলাম ৷ আ ৷মি উপলব্ধি করলাম যে, দুনিয়া তো বিচ্ছিন্ন ও বিলীন হয়ে যাবে ৷ আর
এখানে আমার জন্য অবশ্য বিযক রয়েছে যা আমার কাছে আ ৷সবেই ৷ ত ই অমি তাবলাম যে,

আল্লাহর রাসুল (সা) এর কাছে আমার আ ৷খির৷ ৷দুত র বিষয় পেশ করব ৷ রাবী আ (রা) বলেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) দীর্ঘসময় নীরব হয়ে রইলেন ৷ পরে আমাকে বললেন,“আমি তা করব, তবে তুমি নিজে অধিক সিজদা দিয়ে আমাকে
সহায়তা করবে ৷”

হাফিয আবু ইয়ালা (র) বলেন, আবু খায়ছামা (র)আবু ইযরান আল জাওনী (র) সুত্রে
রাবীআ আসলামী (রা) থেকে বর্ণিত ৷ ইনি নবী করীয (না)-এর খিদমদুত নিয়োজিত ছিলেন ৷
তিনি বলেন, একদিন নবী করীম (সা) আমাকে বললেন, হে রাবীআ! বিয়ে করবে না ?” রাবীআ
(রা) বললেন, আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ৷ কোন কিছু আপনার খিদমত করা থেকে আমাকে
বিরত রাথুক তা আমি পসন্দ করি না ৷ তাছাড়া দ্রীকে দেবার মত কিছু আমার কাছে নেই ৷ রাবীআ
(রা) বলেন, এ জবাব দেয়ার পরে আমি মনে মনে বললায, আমার অবস্থা রাসুলুল্লাহ (সা) আমার
চাইতে অধিক জানেন ৷ তিনি আমাকে বিবাহ করার দিকে উদ্বুদ্ধ করছেন; এবার আমাকে উদ্বুদ্ধ
করলে আমি অবশ্যই তার আহ্বাদুন সাড়া দিব ৷ রাবীআ (রা) বলেন, তারপর একদা নবী করীম
(সা) আমাকে বললেন, রাবীআ! বিয়ে করবে না ?” আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহৰু আমার কাছে
আর কে যেয়ে বিয়ে দেবে ? তাছাড়া ত্রীকে দেয়ার মত কিছু তো আমার কাছে দুনই ৷ নবী করীম
(যা) আমাকে বললেন, “অমুক বংশের কাছে চলে যাও ৷ গিয়ে তা ৷দের বল, রাসুলুল্লাহ (সা)
তোমাদের আদু দশ করেছেন যে, তোমাদের অমুক তরুণীকে আমার মা দুগ বিয়ে দিয়ে দিয়ে ৷”
র রাবী আ (রা) বলেন, আ ৷যি ত ৷দের ওখানে গিয়ে বললাম, আল্লাহর রাসুল (সা) আমাকে
আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন যেন আপনারা আপনাদের কন্যা অযুককে আমার মা দুগ বিয়ে দিয়ে
দেন ৷ তারা বলল, অমুক কে ? রাবীআ (রা) বললেন, ইা’ ৷ তারা বলল, মারহাব ৷ ! স্বাগতম !
আল্লাহর রাসুল (না)-কে এবং স্বাগতম তার দুতকে ৷ তারা আমার সংগে (তাদের কন্যার) বিয়ে
দিয়ে দিল ৷ আ ৷মি র ৷সুলুল্লাহ (সা) এর নিকট গিয়ে বললাম, ইয়৷ বা মুল ৷ল্লাহা অমি একটি
কল্যাণময় পরিবারের নিকট হতে আপনার নিকট আসছি ৷ ত ৷রা আমাকে সত বােদী জোনছে এবং
আমার সংগে তাদুদর যেয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে ৷ এখন আ ৷মি এমন কিছু কোথায় পাব যা দিয়ে
মহরানাঅ আদায় করব ? তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বুরায়দা আসলাষী (রা)-কে বললেন, “রাবীআর জন্য তার মহররুদুপ থেজুদুরব এক আটি ওযন
পরিমাণ সোনা সংগ্রহ কর ৷ ” র্তার৷ তা সংগ্রহ করে আমাকে দিয়ে দিলে আমি তা নিয়ে তাদের
(শ্বশুরকুলের) কাছে গেলাম ৷ তারা তা (সানন্দে) গ্রহণ করল ৷ আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর
নিকটে এসে বললায, ইয়৷ রাসুলাল্লাহা র্তার৷ তা গ্রহণ করেছে ৷ এখন ওলীমা (বৌভাত)
করার মত কিছু আমি কোথায় পাব ? রাবীআ (বা) বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (না) বুরায়দা

(রা)-কে বললেন, : রাবীআর জন্য একটা দৃশ্বার মুল্য পরিমাণ
সংগ্রহ কর ৷ ” রড়াবীআ (রা) বলেন, তারা তা সংগ্রহ করে দিলেন এবং নবী করীম (যা)
আমাকে বললেন, “যাও
আইশাকে গিয়ে বল, তার কাছে যে যব আছে তা যেন তোমাকে দিয়ে দেন ৷ ” রাবীআ (রা)
বলেন, আমি তার কাছে গেলে তিনি আমাকে তা দিয়ে দিলেন ৷ পরে আমি দুম্বা ও যব নিয়ে
(শ্বশুরালয়ে) চললাম ৷ তারা বললেন, বরের কাজটি (রুটি তৈরী করা) আমরা তোমাকে সমাধা
করে দিচ্ছি! আর দুম্বাটি ষ্তা তোমাদের সাথীদের বল ৷ তারা সেটা জবাই করুক ৷ তারা
জবাই করলেন ৷

ফলে আল্লাহর কলম! আমাদের কাছে রুচি ও গোশতের ব্যবস্থা হয়ে গেল ৷ এছাড়া
রাসুলুল্লাহ (না) তার একটি জমি আবু বকর (রা)-কে বন্দেড়াবস্ত করে দিয়েছিলেন ৷ আমরা
একটি খেজুর গাছের (কাদির) ব্যাপারে মতবিরোধ করলাম ৷ আমি বললাম, ওটা আমার
জমিতে রয়েছে ৷ আবু বকর বললেন, ওটা আমার জমিতে রয়েছে ৷ আমরা এ নিয়ে কলহে লিপ্ত
হলাম ৷ তখন আবু বকর (রা) আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যা আমাকে কষ্ট দিল ৷ পরে
তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং আমাকে ডেকে এনে বললেন, আমি তোমাকে যেমন বলেছি, তৃমিও
আমাকে তেমনটি বল ৷ রাবীআ (রা) বলেন, আমি বললাম, না ৷ আল্লাহর কসম৷ আপনি
আমাকে যেমন বলেছেন আমি আপনাকে তেমন কথা বলতে পারব না ৷ তিনি বললেন, তবে
আমি রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিকটে যাচ্ছি ৷ রাবীআ (রা) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)এর কাছে
যেতে লাগলেন ৷ আমিও তার পিছু নিলাম ৷ আমার গোত্রের লোকেরা আমার পিছনে পিছনে
আসতে লাগল ৷ তারা বলল, তিনিই না তোমাকে শক্ত কথা বলেছেন ৷ এখন তিনিই আবার
রাসুলুল্লাহ (সা)-এর কাছে যাচ্ছেন নালিশ করতে ৷ রাবীআ (রা) বলেন, আমি তাদের দিকে
তাকিয়ে বললাম, তোমরা জান ইনি কে? ইনি সিদ্দীক (নির্দিধ ও অকপট সত্যবাদী) এবং
মুসলমানদের মুরবৰী ৷ তোমরা ফিরে যাও ৷ এমন না হয় যে তিনি ফিরে তাকিয়ে তোমাদের
দেখতে পান এবং তোমরা তীর বিপক্ষে আমাকে সাহায্য করতে এসেছ এই ধারণায় তিনি না
আবার রেগে যান ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকটে গিয়ে তাকে অবহিত করেন এবং
রাবীআর কপাল পুড়ে যায় ৷ রড়াবীআ (বা) বলেন, তিনি নবী করীম (না)-এর নিকট পৌছে
বললেন, আমি রাবীআকে একটা কটু কথা বলেছিলাম ৷ তারপর আমি তাকে যেমন বলেছিলাম
আমাকেও তেমন বলার জন্য তাকে বললাম, কিন্তু যে তা অস্বীকার করল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা)
বললেন, রাবীআ তোমার ও সিদ্দীকের ব্যাপার কি ? রাবীআ (রা)
বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কলম! তিনি আমাকে যা বলেছেন, আমি তাকে তা বলতে
পারব না ৷ তখন রাসুলুল্লাহ (না)-ও বললেন, “(হী) তিনি যেমন তোমাকে বলেছেন তুমিও তাকে তেমনটি বল না ৷ বরং তুমি বল,
আবু বকর ! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন ৷

দশ : নবী দররারের অন্যতম খাদিম আবু বকর (রা)-এর মাওলা সাদ (রা) ৷ মতান্তরে
তিনি নবী করীম (না)-এর মাওলা ছিলেন ৷ আবু দাউদ, তড়ায়ালিসী (র) বলেন, আবু আমির

(র) হাসান (র) সুত্রে আবু বল সিদ্দীক (রা)-এর মাওলা সাদ (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে,
রাসুলুল্লাহ (সা) আবু ববত্র (না)-কে বললেন, সাদ (মা) ছিলেন আবু বকর (রা)-এর
আযাদকৃত গোলাম এবং তার খিদমত রাসুলুল্পাহ (না)-এর পসন্দনীয় ছিল ৷ নবী কবীম (সা)
বললেন সাদচক যুক্তি দিয়ে দাও ৷ আবু বকর (বা) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ!
আমাদের জন্য এখানে যে ব্যতীত অন্য কোন খাদিম নেই ৷ নবী কবীম (সা) বললেন, সাদকে যুক্তি দিয়ে দাও ৷ তোমার জন্য অনেক লোক
(খাদিম) আসছে ৷ তোমার জন্য অনেক লোক আসছে ৷” আহমদ (র)ও আবু দাউদ তায়ালিসী
(র) সুত্রে অনুরুপই রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আবু দাউদ তায়লিসী (র) আরো বলেছেন, আবু
আমির (র) হাসান (র) সুত্রে সাদ (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি নবী কবীম (সা)-
এর সামনে খুরমা পরিবেশন কালাম ৷ লোকেরা জোড়ায় জোড়ায় (অর্থাৎ দুটি দুটি) করে
যেতে লাগলে রাসুলুল্লাহ (সা) দুটি দুটি করে খাওয়া নিষেধ করলেন ৷ ইবন মাজার বুনৃদার
-আবু দাউদ (র) সুত্রে, হাদীসটি বিওয়ায়াত করেছেন ৷

এপার : অন্যতম খ্যদিম বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (বা) ৷ উমরাতুল কন্যা-র
দিন তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর বাহন ট্ন্থীর লাণাম টেনে নিয়ে চলেছিলেন এবং মক্কায় প্রবেশ
কালে আবৃত্তি করছিলেন-(কবিতা)

“কাফিরের পুতেরাং তার পথ ছেড়ে দাও ৷ আজ তোমাদের আঘাত হানব তার (আল
কুরআনের) ব্যাখ্যা বাস্ত-ঘায়নে ৷ —’ যেমন তোমাদের আঘাত হোনছিলাম তার অবতারণে ৷
এমন আঘাত যা মাথার খুলি বিচ্ছিন্ন করে দেয় তার স্থান থােকআর অস্তরত্গ বন্ধুকে নির্লিপ্ত
করে দেয় তার অতরংগ থেকে ৷” ইতােপুর্বে বিশদ বিবরণ দেয়া হয়েছে ৷ এর কয়েক মাস পরে
ঘুত৷ যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (বা) শাহাদাত বরণ করেন ৷ যেমনটি পুর্বেই বিবৃত
হয়েছে ৷

বার ও নবী কবীম (না)-এর ঘনিষ্ট খাদিম শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগ্ণের অন্যতম আবু আবদুর
রহমান আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ ইবন পাফিল ইবন হাৰীব ইবন শামখ আল হুযানী (বা) ৷ দুই
হিজরতের যুহাজির; বদর ও পরবর্তী অভিযানসমুহে অংশ গ্রহণকাবী ৷ নবী কবীম (না)-এর
পাদুকা বাহন এবং তার পবিত্রতা (উয়ু ইত্যাদি)-র দায়িত্ব পালন করতেন এবং নবী লীেম
(না)-এর বড়াহনে আরােহণের ইরাদা করলে তিনি হাওদা বসিয়ে দিতেন ৷ আল্লাহ্র কলোম
কুরআন শরীফের তড়াফসীরে তার ছিল সৃগভীর পাণ্ডিত্য এবং সেই সংগে বিশাল বিদ্যা ভাংমর,
মাহাত্ম্য ও জ্ঞান-গরিমার অধিকারী ৷ হাদীস শবীফে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাহ্যবীদের
বললেন-যখন তার! ইবন মাসউদ (না)-এর পায়ের গোছা দৃটির কৃস্ত৷ ৩ ক্ষীণতার ল্লি

১ বারভ্যুাহ তলোঃ কর! লোঃ নদী কবীম (না)-এর

হচ্ছিলেনশ্তিনি বললেন, “বীর হাতে আমার
প্রাণ তীর কসম৷ অবশ্য ঐ পা দৃখানি মীযানে উহুদ পাহাড়ের চাইতে অধিক ভারী প্রতিপন্ন
হবে ৷” উমর ইবনুল খাত্তাব (বা) ইবন মাসউদ (বা) সম্বন্ধে বলেছেন, তিনি তো ইল্ম ভর্তি
একটা ঘর ৷ বণ্নিাদাতাণণ উল্লেখ করেছেন যে, অবয়রে তিনি ছিলেন কৃশকায় কিন্তু স্বভাব-
চরিত্রে উত্তম ৷ কথিত আছে যে, তিনি হটিবার সময় বসে থাকা লোকের মত মনে হয় ৷ তিনি
আচার আচরণ ও ধরন ধারণে নবী করীম (সা) এর সৎগে সাদৃশ্যপুর্ণ ছিলেন ৷ অর্থাৎ তার
চলাফেরা, উঠা বসা কথাবার্তায় এবং ইবাদতের মথাসাধ্য তিনি নবী করীম (সা ) এর স গে
সাযুজ্য রক্ষা করতেন ৷ তেবট্টি বছর বয়সে বত্রিশ অথবা তেত্রিশ হিজবীতে উছমান (রা) এর
খিলড়াকত আমলে তিনি মদীনায় ইনতিকাল করেন ৷ কেউ কেউ তীর ইনতিকাল কুফায় হওয়ার
কথা বলেছেন ৷ তবে প্রথমােক্ত মতটি অধিকতর প্রামাণ্য ৷

তেব ৎ অন্যতম খাদিম সাহাবী উকব৷ ইবন আমির আল জুহানী (রা ) ৷ ইমাম আহমদ
(র) বলেন, ওলীদ ইবন ঘুসলিমউকবড়া ইবন আমির (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, যে
পার্বত্য পণনঘুহের কোন একটিতে (সম্ভবতঃ খায়বার থেকে প্রত্যাবর্তন কালে) আমি
রাসুলুল্লাহ (না)-এর বাহনকে টেনে নিয়ে চলছিলেন ৷ হঠাৎ তিনি আমাকে বললেন, ৷ “উকব৷ ! তুমি কি সওয়ার হবে না? উকব৷ (বা) বলেছেন, আমার আশংকা হল
যে, (এখন তার কথা না ওনলে) অবাধ্যতার পাপ হতে পারে ৷ উকব৷ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ
(সা ) নেমে পড়লেন এবং আমি ক্কিছুক্ষ্যণর জন্য নওয়াব হলাম ৷ তারপর তিনি আরোহণ
করলেন এবং পরে বললেন, গ্রাশ্রো স্ফোৰু)ৰু
“হে উকবা! আমি কি তোমাকে এমন দুটি সুরা শিখিয়ে দ্যেবা না যা মানুষের পঠিত
উত্তম সুরা ? আমি বললাম, অবশ্যই, ইয়া রাসুলাল্লাহৰু তখন তিনি আমাকে সুরা আল ফালাক
ও সুরা আন নান পড়িয়ে দিলেন ৷

পরে সালাতের জামা আত শুরু হয়ে গেলে র ৷সুলুল্লাহ (সা) ইমাম হয়ে ঐ দুই সুরা দিয়ে
(সা লাভের) কিরা৷ আ ত পাঠ করলেন ৷ পরে আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি
বললেন, ঞা মোঃ) ৷ “যখনই তুমি ঘুম্রে এবং যখনই তুমি তখনই এ
দুটি পাঠ করবে ৷ ” নাসাঈ (র) ও ওলীদ ইবন মুসলিম ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (র) থেকে
হাদীসটি অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এ ছাড়া আবু দাউদ ও নাসাঈ (র) উভয় ইবন ওয়াহব
(র)-এর সৎগ্নহ হতেউকব৷ (বা) থেকেও হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷

চৌদ্দ ও অন্যতম খাদিম কারন ইবন সাদ ইবন উবাদ৷ আনসারী খাযরাজী (রা) ৷ বুখারী
(র) আনড়াস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন, কায়স ইবন সাদ (রা) নবী কবীম (সা )
এর জন্য ছিলেন শাসনকর্তড়ার পক্ষে “প্রতিরক্ষা সচিবের’ ন্যায় ৷ এ কম্নেস (বা) ছিলেন অতি
দীর্যকায় মানুষ এবং তার চিবুকে অল্প একটু দাড়ি ছিল ৷ কথিত আছে যে, কায়স (রা) এর পা-
জামা কোন দীর্ঘকায় ব্যক্তি তার নাকের উপরে বীধলেও পাজামার পা দুটি মাটিতে পৌছে
যেত ৷ মপুআবিয়৷ (বা) কারন (রা)-এর পা-জামা রোমান সম্রাটের কাছে পাঠিয়েছিলেন এই
বলে যে, আপনাদের ওখানে এমন কোন লোক আছে কি যার জন্য এ পা-জাম৷ দৈর্যে তার
মাপমত হবে ? রোম সম্রাট তা দেখে বিস্মায়াভিভুত হয়েছিলেন ৷

বর্গনাকারীদের মতে, তিনি ছিলেন মহানুতং, সম্রান্ত, প্ৰশংসইি এবং প্ৰখর বুদ্ধি ও কুশলতা
সম্পন্ন ৷ সিফফীন যুদ্ধকালে তিনি ছিলেন আলী (রা)এর পক্ষে ৷ যিসআর (র) মাবাদ ইবন
খালিদ থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, কায়স ইবন সাদ (রা) তীর তত্তনীি ভুলে রাখতেন এবং
দৃআ করতে থাকতেন ৷ (আল্লাহ তার প্ৰতি রাবী থাকুন এবং র্তাকেও সন্তুষ্ট করুন) ওয়াকিদী
ও খালীফ৷ ইবন খ্যয়্যাত (র) প্রমুখ বলেছেন, যুআবিয়৷ (রা) যুগের শেষ দিকে করেন (বা)
মদীনায় ইনতিকাল করেন ৷ হাফিয আবু বকর আল বাবৃযার (র) বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব
সিজিসতানী (র)আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আনসারীদের মধ্যকার বিশ
জন তরুণ রাসুলুল্পাহ (সা) এর দরকায়ী কাজের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে তার নিকটে উপস্থিত
থাকতেন ৷ কোন কাজ সম্পাদনের সং কল্প করলে নবী করীম (সা) তাদের সে কাজে পাঠিয়ে
দিতেন ৷

পনের : নবী কয়ীম (না)-এর বিশিষ্ট খাদিম ঘুগীর৷ ইবন শুবা ছাকাফী (রা) ৷ রাসুলুল্লাহ
(না)-এর দরবারে তিনি যেন ছিলেন সিলাহদার’-রক্ষীদল প্ৰ ধান ৷ যেমন-তাকে দেখা যাচ্ছে
হুদায়ৰিয়া সন্ধিকালে তাবুতে নবী করীম (না)-এর মাথার কাছে স্থির দাড়িয়ে রয়েছেন হাতে
তরবারী উচিয়ে অতস্ত্রপ্ৰহয়ী রুপে ৷ সেখানে সন্ধি আলোচনায় আগত মক্কার প্রতিনিধিদলের
অন্যতম সদস্য উরওয়৷ ইবন মাসউদ ছাকাফী তৎকালীন আরবের প্ৰথানুযায়ী বার বার তার
হাত দিয়ে রাসুলুল্লাহ (না)-এর দাড়ি (চিবুক) স্পর্শ করতে যাচ্ছিল ৷ আর যতবারই যে তা
করছিল, ততৰারই ঘুগীরা (রা) তরবাবীর ৰ্বাট দিয়ে উরওয়ার হাতে ঠোক৷ লাগিয়ে বলছিলেন,
এ (তরবাবীটি) তোমার (গর্দান) পর্যন্ত পৌছার আগেই রাসুলুল্লাহ (না)-এর পবিত্র দাড়ি হতে
তোমার হাত সরিয়ে ফেল ৷ পুর্ণ হাদীস পুর্বে বিবৃত হয়েছে ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) প্রমুখ
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর সংগে সব গুলো যুত্তুইে তিনি অংশ্গৃহণ করেন ৷ তায়েকবাসীদের
ৰিগ্রহ য৷ রাব্ব৷ নামে অভিহিত হত এবং এটিই প্রসিদ্ধ প্রতীমা লাত ধ্বং স করার কাজে
আবু সুফিয়ান (রা)-এর সং গে ঘুগীর৷ (রা)-কেও নবী লীেম (না) দল নেতা নিয়োগ
করেছিলেন ৷

ঘুর্গীর৷ (বা) ছিলেন আরবের চৌকষ কুশলীদের একজন ৷ বলেন, আমি তাকে
বলতে শুনেছি, কেউ কখনও আমাকে পরাতুত করতে পারেনি ৷ গ্ৰী (র) আরো বলেন,
কাবীসা ইবন জাৰির (রা)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি মুনীর! ইবুন মাে (ৰা৷)-এর সান্নিধ্যে
অবস্থান করেছি ৷ তাতে (আমি বলতে পারি যে) যদি কোন নগরীর আটটি মোঃ থাকে যার
কোনটি দিয়েই কৌশল ব্যতিরেকে বের হয়ে আনা যায় না তবুও মুর্গীব৷ (রা) করে যে কোন
তােরণ দিয়েই বের হয়ে আসতে পারবেন ৷ শাবী (র) আরো বলেন, কাবী (বিচারপতি)
হ্নিলন চার জন, আবু বকর, উমর ইবন মাসউদ ও আবু মুসা (বা) ৷ কুশলী বুদ্ধিমান ছিলেন
মোঃ-মুসৌং আমর ইবনুল আন, যুণীরা ও যিয়াদ (বা) ৷ ঘুহবী (র) বলেছেন, কুশলী
প্লি ঠম-যুআৰিরা আসর অ্যাংমোঃর্মোলকঅন্সী (রা)-এর সংগে,
ইবন রৈাদা ৩ আবদুল্লাহ ইবন বুদারল ইবন ওরারকা (রা) ৷

ইমাম মালিক (র) বলেছেন, মুপীর৷ ইবন শুবা (বা) ছিলেন বহু বিবাহে অভ্যস্ত ৷ তিনি
বলতেন, একক ভার্যাধারীর শ্রী ঋভুবর্তী হলে বেচারা স্বামীও তার স গে ঋতুপালনে বাধ্য হয় ৷
আর স্তী অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামীও অসুস্থ হয়ে পড়ে ৷ আর দুই ত্রীর স্বামী দুই লেলিহান
অগ্নিশিখার মাঝে ৷ বর্ণনাকারী (মালিক) বলেন, তাই তিনি চারজনকে বিয়ে করতেন এবং
তাদের এক সংগে তালাক দিয়ে দিতেন ৷ অন্যদের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি সর্বমোট আশিজন
নারীর পানি গ্রহণ করেছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেছেন, তিনশত নারীকে ৷ আবার কেউ তো
বলেছেন, এক হাজার নারীকে তিনি বিবাহ করেছিলেন ৷ তার মৃত্যু সম্পর্কে বেশ মতবিরোধ
রয়েছে ৷ তবে খতীব বাগদাদীর দাবীকৃত ঐকমত্য সম্পন্ন, অধিক প্রামাণ্য ও প্রসিদ্ধ মতে তিনি
পঞ্চাশ হিজরীতে ইনতিকাল করেন ৷

সােল : নবৃবী দরবারের অন্যতম খাদিম আবু মাবাদ মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ আল-
কিনদী (রা)বনু যুহরার মিত্র ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, আফফান (র) মিকদাদ ইবনুল
আসওয়াদ (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, দুই জন সৎগীসহ আমি মদীনায় উপনীত
হলাম এবং লোকদের কাছে নিজেদের (অবস্থা) তুলে ধরলাম ৷ কিন্তু কেউ আমাদের অতিথি
(জাগীর)-রুপে গ্রহণ করল না ৷ আমরা নবী কবীম (না)-এর নিকটে গিয়ে তীর কাছে অবস্থা
উল্লেখ করলাম ৷ তিনি আমাদের তীর বয়ে নিয়ে গেলেন ৷ তীর কাছে তখন চারটি বকরী ছিল ৷
তিনি বললেন, “মিকদাদা
এগুলিকে দােহন করবে এবং সেগুলি (-র দুধ)-কে চার ভাগে ভাগ করে প্রতিজনকে এক এক
ভাগ দেবে ৷ সুতরাং আমি অনুরুপ করতে লাগলাম ৷ এক রাতে আমি নবী কবীম (না)-এর
জন্য (তার অংশ) তুলে রাখলাম ৷ তিনি আসতে দেরী করলেন এবং আমি আমার বিছানায়
শুয়ে পড়লাম ৷ তখন আমার প্ৰবৃত্তি আমাকে মন্ত্রণা দিল, নবী কবীম (সা) নিশ্চয়ই কোন
আনসারী পরিবারে গিয়ে থাকবেন (এবং স্বতাবতই তারা তীকে মেহমানদীবী করবে) ৷

সুতরাং তুমি যদি এখন উঠে এ পানীয় অংশটুকু পান করে ফেল প্রবৃত্তি এভাবে ফুসলাতে
থাকলে অবশেষে আমি উঠে নবী কবীম (না)-এর জন্য রেখে দেয়৷ অংশ পান করে কেললাম ৷
কিন্তু তা আমার উদরে ও আতুড়ীতে প্রবেশ করা মাত্র আমাকে অস্থির করে তুলল ৷ এখন আমি
ভাবতে লাগলাম, নবী কবীম (না) এখন ক্ষুধার্ত গিপাসার্ত হয়ে আগমন করবেন এবং পাত্র
শুন্য দেখতে পাবেন ৷ আমি আমার মুখের উপর একটি কাপড় ঘুড়ি দিয়ে শুয়ে রইলাম ৷
ওদিকে নবী কবীম (সা) আগমন করলেন এবং এমনভাবে সালাম করলেন যা জাগ্রতকে শুনানী
দেয় এবং ঘুমম্ভকে জাগিয়ে দেয় না ৷ তিনি পাত্র অনাবৃত করে তাতে কিছুই দেখতে পেলেন
না ৷ তিনি তখন নিজের মাথা আসমানের দিকে তুলে বললেন,
স্পো৷ “ইয়া আল্লাহা যে আমাকে পান করাবে তাকে আপনি পান করান এবং যে আমাকে
খাওয়াবে তবে আপনি খাওয়ান ৷ ” আমি তার দু আকে নিজের জন্য সৌভাদ্র দ্বু করে উঠে
পড়লাম এবং ছুরী নিয়ে বকরীগুলির কাছে গেলাম ৷ আমি তাদের ছুছুয় দেখতে লাগলাম যে
কোনটি যে টা তাজা, যাতে আমি সেটি জবা ৷ই করতে পারি ৷ আমার হাত তাদের একটির
দুধের থনে পড়লে দেখতে পেলাম যে তা দুধে পুর্ণ রয়েছে ৷ পরে অন্য একটিকে লক্ষ্য করে
দেখলাম সেটির থনও দুধে পুর্ণ হয়ে গিয়েছে ৷ পরে দেখি সবগুলির ওলান দুধে পুর্ণ ৷ তখন

আমি পাত্রে করে দুধ দুরে নিলাম এবং তা নবী কবীম (সা) এর নিকট নিয়ে গিয়ে বললড়াম,
পান করুন ৷ তিনি বললেন,“মিকদাদ ! ব্যাপার কি?” আমি বললাম, আগে
পান করুন তারপরে ব্যাপার ৷ তিনি বললেন, “মিকদাদ! এ তোমার
দুষ্টুমীর একটি ৷ ” তিনি পান করলেন ৷ পরে বললেন, তুমি পান কর ৷ আমি বললাম,
ইয়া নাৰিয়্যাল্লাহা আপনি পান করুন ৷ তিনি পেট পুড়ে পান করলেন ৷ পরে আমি তা নিলাম
এবং পান করলাম ৷ এরপর আমি তাকে সব ব্যাপার অবহিত করলে নবী কবীম (সা) বললেন,
“এ হচুচ্ছ আসমান হতে
নাযিলকৃত বরকত ৷ তুমি আগেই আমাকে অবহিত করগে না কন ? ৩এে তো তোমার সংগী
দু’জনকেও পান করড়াতাম ৷” আমি বললাম, বরকত যখন আমি এবং আপনি পান করে ফেলেছি
এখন আর (ক গেল না পেল সে পরেড়ায়া আমার সেই ৷ ইমাম আহমদ (র)-ও হাদীসটি
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আবুন-নাযর (র)নিকদড়াদ (বা) থেকে পুর্বোক্ত বিবরণ উল্লেখ
করেছেন ৷ তাতে আরো রয়েছে যে, তিনি এমন পড়াত্রে দুধ দৃইয়েছিলেন যাতে অন্য সময় তারা
দুইতে সমর্থ হতেন না ৷ তিনি এত দুইলেন যে, তার উপর ফেনা ভেসে উঠল ৷ তিনি যখন তা
নিয়ে আসলেন তখন রড়াসুলুল্লাহ (না) বললেন,
আজ রাত্রে তোমাদের পানীয় (দুধ) তোমরা পান করনি?” আমি বললাম, ইয়া রাস্ফুা৷ল্লাহন্ত্র
আপনি পান করুন! পরে তিনি (পাত্র) আমার দিকে এগিয়ে দিলে আমি অবগ্রিষ্টিটুকু নিয়ে
নিলাম এবং পরে তা পান করলাম ৷

পরে, যখন আমি বুঝতে পারলাম যে, রড়াসুলুল্লাহ (সা) পরিতৃপ্ত হয়েছেন এবং তার দৃআ
আমি পেয়ে গিয়েছি তখন আমি হাসির তোড়ে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলাম ৷ রাসুলুল্লাহ
(সা) বললেন, “এ তোমার দৃর্মতির একটি হে মিকদাদ! আমি
বললাম, ইয়ড়া রাসুলাল্লাহা আমার ব্যাপার হ্নি! এই এইআষি এরুপ ঘটিয়ে স্মিন্ম ৷ তিনি
বললেন,

“এটা আল্লাহর বরকত বৈ আর কিছু ছিল না ৷ তুমি কেন আমাকে (আগে) অবগত করলে
না, তোমার সংগীদ্বয়কে জাগিয়ে দিলে তারাও তা থেকে অংশ (পরে যেত ৷ মিকদাদ (রা)
বলেন, আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্য-ন্যায় সহকারে পাঠিয়েছেন তীর কলম! যখন
আপনি তা পেয়েছেন এবং আপনার সংগে আমিও তা পেরে গেলাম তখন আর কে কে তা
গেল না পেল তা নিয়ে আমার কোন মাথাবথ্যে নেই ৷” মুসলিম, তিরযিযী ও নাসাঈ (র)-ও
হাদীসটি সুলায়মান ইবনুল যুগীরা (র) হতে রিওয়ায়াত করেছেন ৷

সতের : নবী কবীম (সা)এর সাহাবী-খাদিম তালিকায় অন্যতম-উম্মু সালমা (রড়া)-এর
আযাদকৃত গোলাম সৃহাজির (বা) ৷ তাবারানী (র) বলেন, আবুয যড়ামরা রাওহ্ ইবনুল ফাবৃজ
(র) বুকায়র (র)-এর সুত্রে বর্ণনা করেন তিনি বলেন উম্মু সালামা (রা)-এর মাওলা ঘৃহাজির
(রা)-ক আমি বলতে শুনেছি, আমি অনেক বছর রড়াসুলুল্লাহ (সা) এর খিদমত করেছি ৷ এ

দীর্ঘস্মিন আমি করে ফেলেছি এমন কোন কিছুর ব্যাপারে তিনি (সা) আমাকে বলেননি ৷ কেন
ম্নো? আমার কোন কিছু আমি করিনি, (সে জন্য বলেননি) কেন করলে না ? একটি
রিওরান্নাত রয়েছে, আমি দশ অথবা পনের বছর যাবত তার খিদমত করেছি ৷

অঠোর : অন্যতম খাদিম আবুস সামহ (রা) ৷ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ছাকাফী
(র) বলেন, মুজাহিদ ইবন মুসা (র) মাহিল ইবন খালীফা (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, আবুসৃ সামহ (বা) বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর খিদমত করতাম ৷ তিনি বলেন,
নবী করীম (না) যখন গোসল করতে মনস্থ করতেন তখন আমাকে বলতেন, আমার (পানির)
পাত্রটি আমাকে এগিয়ে দাও ৷ আবুসৃ সামহ (বা) বলেন, আমি তাকে পাত্র এগিয়ে দিতাম এবং
র্তীকে আড়াল করে রাখতাম ৷ একবার হাসান বা হুসায়ন (রা)কে নিয়ে আসা হল ৷ তিনি
নবীজী (না)-এর বুবেন্ম উপর পেশার করে দিলেন ৷ আমি তা ধুয়ে দেয়ার জন্য এগিয়ে আসলে
তিনি বললেন, ণ্ “মেয়ের পেশার (পর্যপ্ত
পরিমাণে) ধুতে হয়; আর ছেলের পেশারে পানি ছিটিয়ে (হাল্কা) দিতে হয় ৷ ” আবু দাউদ, নাসাঈ
ও ইবন মাজ৷ (র)-ও মুজাহিদ ইবন মুসা (র) সুত্রে অনুরুপই ব্রিওয়ায়াত করেছেন ৷
উনিশ : খাদিম তালিকায় অন্যতমসর্ব বিচারে গ্রেষ্ঠতম সাহাবী আবু বকর (বা) ৷
হিজরতের সফরে, বিশেষত (হাওর) গুহায় অবস্থান কালে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে মদীনায়
উপনীত হওয়া পর্যন্ত তিনি স্বহন্থে নবীজী (না)-এর যাবতীয় খিদমত আনজাম দিয়েছেন ৷
বিশদ বিবরণ যথাস্থানে বিবৃত হয়েছে ৷ আল্লাহর জন্য সব হামদ এবং সব অনুকম্পা র্তারই ৷

ৱাসুলুরহে (না)-এর দরবারের লিখকবৃন্দ
ও অন্যান্য কর্তব্য পালনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ

এক-চার ৪১ ওহী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় লেখকবৃন্দের মাঝে রয়েছেন, খলীফা চতুষ্টয়
আবু বকর, উনার, উসমান ও আলী ইবন আবু তালিব (বা) ৷ তাদের প্রত্যেকে খিলাফত যুগের
বর্ণনায় তাদের জীবনী আলোচিত হবে ৷ ইনশাআল্লাহ!

পাচ : এ তালিকার অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন আবান ইবন সাঈদ ইবনুল আন ইবন
উমায়্যা ইবন আবদ শামছ ইবন আবদ মানাফ ইবন কুসার-উমাৰী (বা) ৷ তার দুই ভাই
খালিদ ও আমৱ (রা)-এর পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ জার-ইসলাম গ্রহণের সময়টি ছিল
হুদায়ৰিয়া সন্ধির পরে ৷ ক্যেনা, চ্দায়ৰিয়া সত্যি মোঃ রসুলুল্লাহ (না) যখন উছমান (রা)-
কে দুতরুপে মক্কার পাঠিয়েছিলেন তখন এ অবােন (রা)-ই উহুম্লে (না)-কে হিফাযত
করেছিলেন ৷ তবে কারো কারো মতে, তিনি বারবার অতিবাৰ্নর প্রাক্কালে ইসলাম গ্রহণ
করেছিলেন ৷ কেননা, খায়বারের গণীমত বন্টন মোঃ সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা (রা)
বর্ণিত হাদীসে তার নমােল্লেখ রয়েছে ৷ তার ইনদাম্ গ্রহণের কারণরুপে বিবৃত হয়েছে যে,
সিরিয়ার তেজারতী সফরে এক বুস্টান ধ্র্যযাক্রো ঝো তার সাক্ষাত হয়েছিল ৷ তার কাছে
তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর বিষয় আলোনো কালে তিনি তাকে বলেন, তার নাম কি? তিনি

১ বর্ণ ক্রমিকে অনুচ্ছেদের শেষাংশে তাদের ররেহে ৷গ্অনুৰাদক

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.