রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম

যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম

লেখকঃ মুহাম্মাদ নাসীল শাহরুখ بسم الله الرحمن الرحيم আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম৷ আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, সে-ই প্রকৃত হিজরতকারী৷ হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন৷ ইমাম মুসলিম এর প্রথম অংশ বর্ণনা করেছেন৷ অর্থাৎ একজন মুসলিম তার কথা কিংবা কাজের দ্বারা অপর মুসলিমকে কষ্ট দেয় না৷ যে নিন্দা করা, গালমন্দ করা, দোষ বর্ণনা করা, অপবাদ দেয়া, আক্রমণ করা কিংবা উপহাস করার মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেয়, তার জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ নয়৷ তেমনি যে কাউকে আঘাত করা, হত্যা করা, কারও সম্পদ হরণ করা ইত্যাদির মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দেয়, তার হাত থেকে মানুষ নিরাপদ নয়৷ অবশ্য জিহ্বা বা হাতের দ্বারা কষ্ট দেয়ার বিষয়টি আরও ব্যাপক হতে পারে, যেমন কাউকে জিহ্বা কিংবা হাতের অঙ্গভঙ্গির দ্বারা কষ্ট দেয়া৷ আবার কখনও মানুষ পরোক্ষভাবে অন্যের কষ্টের কারণ হয় – তারাও এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে৷ যেমন কোন মজলিসে কেউ একজন ব্যক্তিকে উল্লেখ করে যেন অন্যরা তার দোষ আলোচনা করতে পারে৷ কেউ লোক ভাড়া করে কাউকে হত্যা করায়, কারও জমি দখল করে নেয়, কারও সম্পদের ক্ষতি করে ইত্যাদি৷ এই হাদীসে মানুষকে কষ্ট না দেয়ার বৈশিষ্ট্যকে সরাসরি ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে: এই বৈশিষ্ট্য যার নেই, তার যেন ইসলামই নেই! যদিও এখানে ইসলাম সম্পূর্ণ না থাকা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য ইসলামের পূর্ণতা না থাকা তথা ঘাটতি থাকা৷ অর্থাৎ ইসলামের অন্যান্য বিধান পালনের পাশাপাশি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ হবে, তার ইসলাম পরিপূর্ণ হবে, নতুবা তার ইসলামে অপূর্ণতা থেকে যাবে৷ এজন্য হাদীসের কোন কোন ভাষ্যে এসেছে, নবীকে প্রশ্ন করা হল: أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ কোন ইসলাম সর্বোত্তম? অথবা أَىُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ মুসলিমদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? এর জবাবে তিনি এই কথাটি বলেছিলেন৷ এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে একজন মুসলিমের জান, মাল ও সম্মান অলংঘনীয়। এজন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে বলেছিলেন: إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا নিশ্চয়ই তোমাদের পরস্পরের জান, মাল ও সম্মান ঠিক তেমনি অলংঘনীয় যেমনিভাবে তোমাদের এই নগরীতে [অর্থাৎ মক্কা নগরী] এই মাসের এই দিনটি [অর্থাৎ যিলহজ্জের ১০ তারিখ] পবিত্র৷১ অপর হাদীসে তিনি বলেন: كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের জীবন, সম্পদ ও সম্মান অলংঘনীয়৷২ আজ মুসলিমদের মধ্যে সালাত, সাওম, যাকাত, হজ্জ্ব জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনের গুরুত্ব যতটা আলোচিত ও উপলুব্ধ হয়; মানুষের জান, মাল ও সম্মানের নিরাপত্তার গুরুত্ব ততটা আলোচিত কিংবা উপলুব্ধ হয় না৷ এজন্য মানুষ অপরের গীবত বা পরচর্চা, অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে কার্টুন আঁকা, পত্র-পত্রিকায় কিংবা বক্তৃতার মঞ্চে কাউকে প্রকাশ্যে নিন্দা, গালমন্দ করা – এগুলোকে কোন অপরাধই মনে করে না। অন্যের জান-মাল হরণ করে, অন্যের ক্ষতি করেও একজন মানুষ নামায-রোযা-হজ্জ্ব পালন করে তসবী হাতে নিয়ে সমাজে ভাল মানুষ সাজতে পারে৷ ঘুষ খেয়ে, দুর্নীতি করে, জনগণের সম্পদ হরণ কিংবা ধ্বংস করেও মানুষ ভাল মুসলিম থাকতে পারে! উপরোক্ত হাদীসটি তাই আমাদের অনেকের জন্যই ইসলামের মহান শিক্ষার এক নতুন দুয়ার ও অদেখা দিগন্তকে খুলে দেয়৷ ইসলামের শিক্ষা ব্যাপক, আর এর ব্যাপক শিক্ষার একটা বড় দিক জুড়ে রয়েছে মানুষের অধিকার, তাদের জান-মাল ও সম্মানের নিরাপত্তার বিষয়টি৷ এর সাথে সংশ্লিষ্ট বহু আয়াত ও হাদীস মানুষকে কষ্ট দেয়ার ফলে দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তি ও পরিণতি বর্ণনা করেছে এবং যারা তা থেকে বিরত থাকে, তাদের প্রতিদান বর্ণনা করেছে৷ কারও দোষত্রুটি তালাশ করা, আক্রমণ করা, গালমন্দ করা, কিংবা আঘাত করা, নির্যাতন করা, সম্পদ হরণ করা থেকে যারা সতর্ক – এটি তাদের অন্তরের পরিচ্ছন্নতার প্রমাণ৷ যারা আল্লাহর ভয়ে মানুষকে তাদের জিহ্বা ও হাতের আঘাত থেকে রেহাই দেয়, তারা ইসলামের অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোও যথাযথভাবে পালন করবে – এটাই অধিক সম্ভাব্য৷ এর বিপরীতে, ইসলামের বাহ্যিক অনুষ্ঠানগুলো পালন করাই অন্তরের পরিচ্ছন্নতার প্রমাণ নয়৷ এই হাদীসটিতে আরও রয়েছে প্রকৃত হিজরতের পরিচয়৷ হিজরত বলতে সাধারণভাবে আল্লাহর রাস্তায় দেশত্যাগ করাকে বোঝায়৷ অর্থাৎ হিজরত হল দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য অবিশ্বাসীদের ভূমি ত্যাগ করে মুসলিমদের ভূমিতে বসতি-স্থাপন৷ যে হিজরত করে, তাকে মুহাজির বলা হয়৷ এই হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন এক প্রকার হিজরতের পরিচয় তুলে ধরেছেন, যা আরও ব্যাপক – যা প্রতিনিয়ত সকলকেই করতে হয় – আর তা হল আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে ত্যাগ করা৷ যে আল্লাহর অবাধ্যতাকে ত্যাগ করে তাঁর আনুগত্যের গণ্ডীতে প্রবেশ করে – সে-ই প্রকৃত মুহাজির৷ পাপ পরিত্যাগ করা হল সেই হিজরত যা সবাই সবসময় করতে পারে, বরং তা করতে তারা আদিষ্ট৷ এই হাদীস থেকে আমরা যে শিক্ষাগুলো পাই তা সংক্ষেপে এই: ১. ইসলাম ও ঈমানের স্তরের তারতম্য হয়৷ কারও ইসলাম পূর্ণ, কারও অপূর্ণ৷ কারও ইসলাম অপরের থেকে উত্তম৷ ২. ভাল কাজের তারতম্য অনুসারে ইসলামের স্তরের তারতম্য হয়৷ ৩. ইসলাম শুধু বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইসলামের শিক্ষা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও লেনদেনের গভীরতম বিষয়গুলোকে স্পর্শ করেছে৷ ৪. কথা কিংবা কাজের দ্বারা মুসলিমদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা ইসলামের একটি অন্যতম শিক্ষা৷ যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য নেই, তার ইসলাম অপূর্ণ৷ ৫. কথার ব্যাপারে খুব সতর্ক ও সচেতন হওয়া উচিৎ৷ ৬. পাপকাজ পরিত্যাগ করাই প্রকৃত হিজরত৷ ৭. দ্বীনের বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানকে যথার্থভাবে আদায়ের চেষ্টার পাশাপাশি অন্তরের অবস্থার দিকেও আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিৎ৷ ……………………… ১বুখারী, মুসলিম৷ ২মুসলিম৷

Related Posts