যুলকারনায়ন

“ওরা তোমাকে যুল-কারনায়ন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে ৷ বল, আমি তোমাদের নিকট তার
বিষয় বর্ণনা করব ৷ আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃতু দিয়েছিলাম এবং প্রতোক বিষয়ের
উপায়-উপকরণ দান করেছিলাম ৷ অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করল ৷ চলতে চলতে সে
যখন সুর্যের অস্তগমন স্থানে পৌছল তখন সে সুর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তপমন করতে
দেখল এবং যে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল ৷ আমি বললড়াম, হে যুল কারনায়না

তুমি এদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা এদের ব্যাপার সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার ৷ সে বলল,
যে কেউ সীমালহুযন করবে, আমি তাকে শান্তি দিব, অতঃপর সে তার প্ৰতিপালকের নিকট
প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শান্তি দিবেন ৷৩ তবে যে ঈমান আসে এবং সৎকর্ম করে
তার জন্যে প্ৰতিদানারুপ আছে কল্যাণ এবং তার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলব ৷

আবার সে এক পথ ধরল ৷ চলতে চলতে যখন সে সুর্যোদয় স্থলে পৌছল , তখন সে দেখল
তা’ এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হচ্ছে যাদের জন্যে সুর্যতাপ হতে কোন অস্তরাল আমি
সৃষ্টি করিনি ৷ প্রকৃত ঘটনা এটাই, তার বৃত্তাম্ভ আমি সম্যক অবগত আছি ৷ আবার সে এক পথ
ধরল ৷ চলতে চলতে সে যখন দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌছল, তখন সেখানে সে
এক সম্প্রদায়কে পেল যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পন্রছিল না ৷ তারা বলল, হে
যুলশ্কারনায়না ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে অশাস্তি সৃষ্টি করছে; আমরা কি তোমাকে কর দিব
এই শর্তে যে, তুমি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দিবাে’ সে বলল, আমার
প্ৰতিপালক আমাকে যে ক্ষম৩া দিয়েছেন তা ই উৎকৃষ্ট; সুরু;রাহু তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে
সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে এক মজবৃত প্রাচীর গড়ে দিব ৷ তোমরা
আমার নিকট লৌহ পিণ্ডসমুহ আনয়নকর, অতঃপর মধ্যবর্তী ফাকা স্থান পুর্ণ হয়ে যখন
লৌহন্তুপ দুই পর্বতের সমান হল তখন সে বলল তে তামরা হাপরে দম দিতে থাক ৷ যখন তা
আগুনের মত উত্তপ্ত হল, তখন সে বলল, তোমরা গলিত তামা আনয়ন কর, আমি তা ঢেলে
দিই এর উপর ৷ এরপর তারা তা’ অতিক্রম করতে পারল না বা ভেদ করতেও পারল না ৷ সে
বলল, এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ ৷ যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পুর্ণ হবে তখন
এটাকে চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেবেন এবং আমার প্ৰতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য ৷ (১৮ কাহ্ফ :
৮৩ ৯৮)

আল্লাহ এখানে যুল-কারনায়নের বর্ণনা দিয়েছেন ৷ তাকে তিনি ন্যায়-পরায়ণ বলে প্রশংসা
করেছেন ৷ প্রাচ্য ও প্রভীচ্যের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তিনি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন ৷ সমস্ত
ভু খণ্ডের উপর তিনি বিজয় লাভ করেছিলেন ৷ সকল দেশের অধিবাসীরা তার আনুগত তাীকার
করেছিল ৷ তাদের মধ্যে তিনি পুর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ৷ বন্তুত তিনি আল্লাহর
সাহায্যপ্ৰাপ্ত এক সফল ও বিজয়ী বীর এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী বাদশাহ্ ৷ তার সম্পর্কে বিশুদ্ধ
কথা হল, তিনি একজন ন্যায়-পরায়ণ বাদশাহ ৷ অবশ্য কারো কারো মতে, তিনি নবী, কারো
কারো মতে, রাসুল ৷ তার সম্পর্কে একটি বিরল মত হচ্ছে, তিনি ছিলেন ফেরেশতা ৷ এই
শেষোক্ত মতটি আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে দ্রুত হয়ে বর্ণিত
হয়েছে ৷ কেননা, হযরত উমর (রা) একদিন শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি অপর একজনকে
বলছে হে যুল-কারনায়ন তখন তিনি বললেন থাম, যে কোন একজন নবীর নামে নাম রাখাই
যথেষ্ট, ফেরেশ৩ার নামে নাম রাখার কী প্রযোজনা সুহায়লী এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷

ওকী’ মুজাহিদের সুত্রে আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
যুল-কারনায়ন নবী ছিলেন ৷ হাফিজ ইবন আসাকির আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা
করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন৪ আমি জানি না, তুব্বা বাদশাহ অভিশপ্ত ছিল কি না, আমি

এটাও জানি না যে, শরয়ী শাস্তি দ্বারা দণ্ডপ্রাপ্তের গুনাহ্ মাফ হবে কি না; আমি জানি না ,
যুল-কারনায়ন নবী ছিলেন কি না ! এ হাদীস উপরোক্ত সনদে গরীব ৷

ইসহাক ইবন বিশ্ব ইবন আব্বাস (না) থেকে বণ্নাি করেন যে, যুল-কারনায়ন
ছিলেন একজন ধার্মিক বাদশাহ ৷ আল্লাহ তার কাজ-কর্মে সন্তুষ্ট ছিলেন নিজ কিভাবে তিনি তার

ৎসা করেছেন ৷ তিনি ছিলেন আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত ৷ হযরত খিযির (আ) ছিলেন তার উযীর ৷
তিনি আরও বলেহ্নেরু যে , খিযির (আ) থাকতেন র্তার সেনাবাহিনীর অগ্রভাপে ৷ বর্তমান কালে
বাদশাহ্র নিকট উযীরের যেই স্থান, যুল-কারনায়নের নিকট হযরত খিযিরের ছিল ঠিক সেইরুপ
উপদেষ্টার মর্যাদা ৷ আযরকী প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন যে যুল-কারনায়ন হযরত
ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্ (আ)-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হযরত ইবরাহীমের সাথে তিনি
ও ইসমাঈল (আ) একত্রে কাবা তাওয়াফ করেন ৷ উবায়দ ইবন উসায়র তার পুত্র আবদুল্লাহ ও
অন্যান্য বর্ণনাকারী বলেছেন যে, যুল-কারনায়ন পদব্রজে হজ্জ পালন করেন ৷ ইব্রাহীম (আ)
র্তার আগমনের সংবাদ পেয়ে তীর সাথে সাক্ষাত করেন, তাকে দোয়া করেন ও তার উপর
সভুষ্টি প্রকাশ করেন ৷ আল্লাহ যেঘপুঞ্জকে ষুল-কারনায়নের অনুগত করে দিয়েছিলেন ৷ যেখানে
তিনি যেতে চাইতেন মেঘমালা তাকে সেখানে বহন করে নিয়ে যেত ৷

যুল-কারনায়ন নামকরণের ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন ৷ কারও
মতে, তার মাথায় দুইটি শিং-এর মত ছিল এ কারণে তাকে যুল-কারনায়নঃ (দুই শিৎওয়ালা)
বলা হয়েছে ৷ ওহব ইবন মুনাব্বিহ বলেন, তীর মাথায় তামার দুইটি শিং ছিল ৷ এটা দুর্বল মত ৷
কোন কোন আহলি-কিতড়াব বলেছেন, যেহেতু তিনি রোম ও পারস্য এই উভয় সাম্রাজেক্লর সম্রাট
ছিলেন তাই র্তাকে এরুপ উপাধি দেয়া হয়েছে ৷ কেউ বলেন, যেহেতু তিনি সুর্যের দুই প্রান্ত পুর্ব
ও পশ্চিম এবং এর মধ্যবর্তী সমস্ত জায়গার একচ্ছত্র বাদশাহ ছিলেন, তাই তাকে এই নামে
ভুষিত করা হয়েছে ৷ এই ব্যাখ্যা ইমাম যুহরীর এবং অন্যান্য মতের তুলনায় এ মতটিই অধিক
গ্রহণযোগ্য ৷ হাসান বসরী বলেন, তার মাথার চুলের দু’টি উচু ঝুকি ছিল যার কারণে তাকে এই
নাম দেয়া হয় ৷ ইসহাক ইবন বিশর শুআয়রের পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক
পরাক্রমশালী বাদশাহকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন ৷ এতে যে তার একটি শিং-এর উপর
আঘাত করে ভেৎগে চুরমার করে দেয় ৷ এ ঘটনার পর থেকে তাকে যুল-কারনায়ন বলে
আখ্যায়িত করা হয় ৷ ইমাম ছাওরী আলী ইবন আবি তালিব (রা) থেকে বর্ণনা করেন,
জনৈক ব্যক্তি হযরত আলী (রা)-কে যুল-কারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,
যুল-কারনায়ন আল্লাহর এক সৎ বান্দা ৷ আল্লাহ র্তাকে উপদেশ দেন ৷ তিনি উপদেশ কবৃল
করেন ৷ তিনি তার সম্প্রদায়কে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন ৷ র্তারা তার একটি সিং এর উপর
সজােরে আঘাত করে ৷ ফলে তিনি মারা যান ৷ আল্লাহ র্তাকে জীবিত করেন ৷ আবারও তিনি
তার সম্প্রদায়কে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন ৷ তখন তারা তার অপর সিং এর উপর আঘাত
করে ৷ এ আঘাতেও তিনি মারা যান ৷ এখান থেকে তাকে যুল-কারনায়ন বলা হয়ে থাকে ৷ শুবা
আল-কাসিমও হযরত আলী (বা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ আবৃত তুফায়ল হযরত
আলী (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, যুল-কারনায়ন নবী, রাসুল বা ফেরেশতা কােনটিই ছিলেন
না ৷ তিনি ছিলেন একজন পুণ্যবান ব্যক্তি ৷

যুল-কারনায়নের আসল নাম কি ছিল সে ব্যাপারে বিভিন্ন রকম বর্ণনা পাওয়া যায় ৷ যুবায়র
ইবন বাক্কার ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, র্তরে নাম আবদুল্লাহ ইবন যাহ্হাক
ইবন মাআদ ৷ কারও বর্ণনা মতে, মুসআব ইবন আবদুল্লাহ ইবন কিনান ইবন মানসুর ইবন
আবদুল্লাহ ইবন আঘৃদ ইবন আওন ইবন নাবাত ইবন মালিক ইবন যায়দ ইবন কাহলান ইবন
সাব৷ ইবন কাহ্তান ৷

একটি হাদীসের বর্ণনায় আছে যে, যুল-কারনায়ন হিমৃয়ার গোত্রভুক্ত ছিলেন ৷ তার মা
ছিলেন রোম দেশীয় ৷ প্রখর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় যুল-কারনায়নকে ইবনুল ফায়লাসুফ বা
মহাবিজ্ঞানী হলা হতো ৷ হিমৃয়ার গোত্রের জনৈক কবি তাদের পুর্ব পুরুষ যুল কারনায়নের

ৎসায় নিম্নরুপ গৌরবপাথা লিখেন

অর্থ৪ যুল-কারনায়ন ছিলেন আমার পিতামহ, মুসলমান ও এমন এক বাদশাহ ৷ অন্যান্য
রাজন্যবর্গ তীর বশ্যতা স্বীকার করে ও তার নিকট আত্মসমপণ করেন ৷ তিনি অভিযানের পর
অভিযান পরিচালনা করে পৃথিবীর পুর্ব ও পশ্চিম প্রা ও পর্যন্ত পৌছেন এবং মহাজ্ঞানী পথপ্ৰদর্শক
আল্লাহর প্রদত্ত উপায়-উপকরণ অনুসন্ধান করেন ৷ পশ্চিমে সুর্যের অস্তাচলে গিয়ে সেখানে সুর্যকে
এক কর্দমাক্ত কাল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখেন ৷ তার পরে আসেন সম্রাজী বিলকীস ৷ তিনি
ছিলেন আমার ফুফু ৷ বিশাল রাজ্যের অধিকারী হন তিনি ৷ সুলড়ায়মানের হুদৃহুদু পাখীর আগমন
পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত প্রতাপের সাথে রাজ্য পরিচালনা করেন ৷ ’

সুহায়লী লিখেছেন, কেউ কেউ তার নাম বলেছেন মাবৃযুবান ইবন মারযুব৷ ৷ ইবন হিশাম এ

কথা উল্লেখ করেছেন ৷৩ তবে তিনি অন্যত্র যুল-কড়ারনায়নের নাম লিখেছেনঃঅ আসে না ব ইবন
যী-মারাইদ ৷ তুবব৷ বং শের ইনিই প্রথম বাদশাহ ৷ বীরুনৃ সাবা র ঘটনায় তিনি ইররাহীমের
পক্ষে ফয়সালা দিয়েছিলেন ৷ কেউ বলেছেন, যুল-কারনায়নের নাম আফরীদুন ইবন
আসফিয়ান-যিনি যাহ্হড়াককে হত্যা করেছিলেন ৷ আরবের বাশ্মী পুরুষ কুস তার এক ভাষণে
বলেছিলেন : হে আয়াদ ইবন সাব যুল-কারনায়নের বংশধর ৷ তোমাদের পুর্বপুরুষ
যুল-কারনায়ন যিনি পুর্ব ও পশ্চিমের বাদশাহ, জিন ও ইনসানের উপর ক্ষমতা প্ৰয়োগকারী এবং
দু’হাজার বছর যার বয়স ৷ এ সত্বেও তা যেন ছিল এক লহ্মার মত ৷ এ কথা উল্লেখ করার পর
ইবন হিশাম করি আশার নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন :

“অতঃপর সাব যুল-কারনায়ন মাটির নীচে কবরের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ীভারে অবস্থান গ্রহণ
করেন এবং সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় তার সুবাস নিতে থাকেন ৷ ”
আল-বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ২৬-

ইমাম দারাকুত্নী ও ইবন মাকুলা বলেছেন, যুল-কারনায়নের নাম হুরমুস ৷ র্তাকে বলা হত
হারবীস ইবন কায়তুন ইবন রামী ইবন লানৃতী ইবন কাশলুখীন ইবন ইউনান ইবন ইয়াফিছ
ইবন নু২ (আ) ৷ ইসহাক ইবন বিশ্ব কাতাদা (র) থেকে বর্ণনা করেন যে, বাদশাহ
ইস্কান্দর (আলেকজাণ্ডার)-ই হলেন যুল-কারনায়ন ৷ তার পিতা ছিলেন প্রথম কায়সার (রোম
সম্রাট) ৷ ইনি নাম ইবন নুহ (আ) এর বংশধর ৷ আর দ্বিতীয় যুল–কারনায়ন হচ্ছেন ইস্কানদার
ইবন ফিলিপস ইবন মুসবীম ইবন হুরযুস ইবন মড়ায়তুন ইবন রুমী ইবন লানৃতী ইবন ইউনান
ইবন ইয়াফিছ ইবন য়ুনাহ ইবন শারথুন ইবন রুমাহ্ ইবন শারফত ইবন তাওফীল ইবন রুমী
ইবন আসফার ইবন ইয়াকিয ইবন ঈস ইবন ইসহাক ইবন ইররাহীম আল-খালীল (আ) ৷
হাফিজ ইবন আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে এই নসরনাম৷ উল্লেখ করেছেন ৷ যুল-কারনায়ন
আল-মাকদুনী আল-ইউনানী আল মিসরী আলেকজাদ্রিয়া নগরীর প্রতিষ্ঠাতা, যিনি স্বীয়
শাসনামলে রোমের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ৷ প্রথম যুল-কারনায়ন থেকে এই দ্বিতীয়
যুল-কারনায়ন দীর্ঘকাল পরে হযরত ঈসা (আ)-এর তিনশ’ বছর পুর্বে জন্মগ্রহণ করেন ৷
দার্শনিক এরিক্টটল ছিলেন তীর উষীর ৷ তিনি দারার পুত্র দারাকে হত্যা করেন এবং পারস্য
সাম্রাজ্যকে পদানত করেন ৷ আমরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করলাম এজন্যে যে,
অনেকেই উভয় ইস্কান্দারকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন ৷ ফলে তারা এ বিশ্বাস করেন যে ,
কুরআনে যে যুল-কারনায়নের কথা বলা হয়েছে ভীরই উষীর ছিলেন এরিক্টটল ৷ এ বিশ্বাসের
ফলে বিরাট ভুল ও জটিলতার সৃষ্টি হয় ৷ কেননা প্রথম যুল-কারনায়ন ছিলেন মৃমিন সৎ,
আল্লাহভক্ত ও ন্যায়-পরায়ণ বাদশাহ ৷ হযরত খিযির (আ) তার উষীর ৷ অনেকের মতে , তিনি
ছিলেন নবী ৷

পক্ষাম্ভরে দ্বিতীয় যুল্ল-কারনায়ন ছিল ঘুশরিক ৷ তার উষীর একজন দার্শনিক ৷ তাছাড়া এ
দুজনের মধ্যে দু’হজাের বছরের চাইতেও অধিক সময়ের ব্যবধান ৷ সুতরাং কোথায় এর
অবস্থান, আর কোথায় তার অবস্থান ৷ উভয়ের মধ্যে বিরাট ব্যবধান, কোনই সামঞ্জস্য নেই ৷
অজ্ঞ ও নির্বোধ লোকেরইি দৃ’জনকে এক বলে ভাবতে পারে ৷ এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহর বাণী :
“ওরা তোমাকে যুল-কারনায়ন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে ৷ এর কারণ হচ্ছে ? কতিপয় কুরায়শের
কাফিরপণ ইহুদীদের কাছে গিয়ে বলে, তোমরা আমাদেরকে এমন কিছু কথা বলে দাও, যে
বিষয়ে আমরা মুহাম্মদ (না)-এর জ্ঞান পরীক্ষা করতে পারি ৷ ইহুদীরা এদেরকে শিখিয়ে দিল যে,
তোমরা তাকে এমন এক ব্যক্তির কথা জিজ্ঞেস কর, যে সমগ্র ভু-খণ্ড বিচরণ করেছে ৷ আর
কতিপয় ষুরকের পরিচয় জিজ্ঞেস কর, যারা তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে
গিয়েছিল, যাদের পরিণতি সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না ৷ কুরায়শরা ফিরে এসে রাসৃলুল্লাহ
(না)-কে এ প্রশ্ন করলে আল্লাহ তাআলা আসহাবে কাহ্ফ ও যুল-কারনায়নের ঘটনা সম্বলিত
আয়াতসমুহ নাযিল করেন ৷

আল্লাহ বলেনৰু “বল, আমি শীঘ্রই তােযাদেরকে এ বিষয়ে জানার ৷ অর্থাৎ এদের বচ্নাি ও
অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ৷ আয়াতে উল্লেখিত ৷ )ও ১ অর্থ৪ তার পরিচয়ের জন্যে যেটুকু
প্রয়োজন ও কল্যাণকর ততটুকু বলা হবে ৷ অতঃপর আল্লাহ বলেন : আমি তাকে পৃথিবীতে

কর্তৃতৃ দিয়েছিলাম ও প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণদ দান করেছিলাম ৷ অর্থাৎ তাকে বিরাট
রাজতু দিয়েছিলাম এবং রাইের এমন সব উপায়-উপকরণ ৷তার করায়ত্ত করে দিয়েছিলাম যার
সাহায্যে সে বিরাট বিরাট কাজ সমাধা করতে ও বড় বড় উদ্দেশ্য পুরণ করতে পারতো ৷
কুতায়বা হাবীব ইবন৷ হ ৷ম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন ৷ হাবীব বলেন, আমি হযরত আলী ইবন
আবি তালিবের কাছে বসা ছিলাম ৷ এমন সময় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, যুল কারনায়ন
কী উপায়ে পৃথিবীর পুর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত পৌছতে পারলেন? হযরত আলী (বা)
বললেন, যেঘমালাকে তার অনুগত করে দেয়া হয়েছিল, সকল উপকরণ তার হন্তপত করা
হয়েছিল এবং তার জন্যে আলো বিচ্ছুরিত করা হয়েছিল ৷ এ পর্যন্ত বলে জিজ্ঞেস করলেন,
আরও বলা লাগবে না কি? শুনে লোকটি চুপে হয়ে গেল, আর হযরত আলী (বা)ও থেমে
গেলেন ৷ আবু ইসহাক সাবীয়ী মুঅড়াবিয়৷ (বা) থেকে বর্ণনা করেন, সমগ্র পৃথিবীর বাদশাহী
করেছেন চারজন ও (১) সুলায়মান ইবন দাউদ (আ), ৷ ২) ষুল-কারনায়ন ( ৩) হুলপুওয়ানের
জনৈক অধিবাসী (৪) অন্য একজন ৷ জিজ্ঞেস করা হল, তিনি কি থিযিরন্ বললেন, না ৷
যুবায়র ইবন বাক্কার সুফিয়ান ছাওরী (বা) থেকে বর্ণনা করেন, সমগ্র পৃথিবীতে

রাজতু করেছেন এমন বাদশাহ ছিলেন চারজন, দুইজন মুমিন ( ১ ) নবী সুলায়মান (২)
যুল-কারনায়ন এবং দুইজন কাফির ৷ (৩) নমরুদ ও ( : ) বুখৃত নসর ৷ সাঈদ ইবন বশীরও
এইরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইসহাক ইবন বিশ্ব হাসন বসরী (র) থেকে বর্ণনা করেন যে
নমরুদের পরে যুল-কারনায়ন বাদশাহ হন ৷ তিনি একজন র্থীটি-নেককার মুসলমান ছিলেন ৷
তিনি প্রাচ্য ও প্ৰতীচ্যে অভিযান চালান ৷ আল্লাহ তার আযু বাড়িয়ে দেন ও তাকে সাহায্য
করেন ৷ ফলে সমস্ত জনপদ তিনি নিজের অধীনে আনেন, ধন-রতু করায়তু করেন, দেশের পর
দেশ জয় করেন এবং বহু কাফির নিধন করেন ৷ তিনি বিভিন্ন জনপদ, শহর ও কিল্লা অতিক্রম
করে চলতে চলতে পৃথিবীর পুর্ব সীমান্তে ও পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত পৌছে যান ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ্
বলেন০ ং “তারা তোমাকে যুল-কারনড়ায়ন সম্পর্কেজিজ্ঞেস করে ৷ বল, আমি তোমাদের কাছে

তার কিছু অবস্থা বর্ণনা করব ৷ আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্ৰতেকে
বিষয়ের কার্যোপকরণদ ৷ন করেছিলাম ৷” অর্থাৎ উপায় উপকরণ ৷অন্বেষণের জ্ঞান দান
করেছিলাম ৷

ঐতিহাসিক ইসহাক লিখেছেন, মুকাতিল বলেন যে, যুল-কারনায়ন দেশের পর দেশ জয়
করেন, ধ্নরত্ন সংগ্রহ করেন এবং যারা তার দীন গ্রহণ করত ও তা অনুসরণ করত তাদেরকে
ছেড়ে দিতেন, অন্যথায় হত্যা করতেন ৷ আমি তাকে
প্রতেদ্রক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দিয়েছিলাম ৷ এ আয়াতে ৷; এর অর্থ ইবন আব্বাস
মুজাহিদ, সাঈদ ইবন জুবায়র, ইকবিমা, উবায়দ ইবন ইয়া লা, সুদ্দী, ক তোলা ও যাহহ ক এর
মতে ইলম বা জ্ঞান ৷ কা৩ ৷দ৷ ও মাতা আল ওয়াররাকের মতে, ভু পৃষ্ঠের বিভিন্ন নিদর্শন
অবস্থান, অবস্থা ও প্রকৃতি ৷ আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন আসলামের মতে, বিভিন্ন ভাষার
জ্ঞান ৷ কেননা, যুল কারনায়ন যে জ বিব বিরুদ্ধেই লড়াই করতে ন সেই জ বিব ভাষায় তাদের

সাথে কথা বলতেন ৷ কিন্তু এর সঠিক অর্থ এই যে, এমন প্রতিটি উপকরণই এর অন্তর্ভুক্ত যার

সাহায্যে তিনি রাভৈষ্ট্রর মধ্যে ও বাইরে নিজ উদ্দেশ্য পুরণের জন্যে ব্যবহার করতেন ৷ কারণ,
তিনি প্রতিটি বিজিত দেশ থেকে প্রয়োজন পরিমাণ সম্পদ, খাদ্য-সামগ্রী ও পাখেয় গ্রহণ
করতেন-যা তার কাজে লাগত এবং অন্য দেশ জয়ের জন্যে সহায়ক হত ৷

কোন কোন অড়াহলি কিতাব উল্লেখ করেছেন, যুল-কারনড়ায়ন এক হাজার ছয় শ’ বছর আযু
পেয়েছিলেন ৷ তিনি গোটা বিশ্ব ভ্রমণ করেন এবং মানুষকে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতে
থাকেন ৷ কিন্তু তার বয়সকাল সম্পর্কে যে সব মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে, তাতে সন্দেহের
অবকাশ আছে ৷ “আমি তাকে প্রতোক বিষয়ের উপায়উপকরণ দিয়েছিলাম এ আয়াত
সম্পর্কে বায়হাকী ও ইবন আসাকির এক দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সে হাদীসটি অত্যন্ত
মুনকার পর্যায়ের ৷ ঐ হাদীসের জনৈক রাবী মুহাম্মদ ইবন ইউনুসের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারিতার
অভিযোগ রয়েছে ৷ এ কারণে আমরা এখানে যে হাদীস উল্লেখ করলাম না ৷ আল্লাহর বাণী৪
“অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করল ৷ চলতে চলতে সে যখন সৃাহ ৷র অস্তগমন স্থলে পৌছল ৷
অর্থাৎ চলতে চলতে পৃথিবীর পশ্চিম দিকে এমন এক স্থানে গিয়ে <;পীছলেন, যে স্থান অতিক্রম
করা কারও পক্ষে সম্ভব নয় ৷ এখানে এসে তিনি থেমে যান ৷ এই স্থানটি হল পশ্চিম আটলান্টিক
মহাসাগরের উপকুল ৷ এর মধ্যে ছিল কত গুলো দ্বীপ ৷ দ্বীপগুলােকে আরবীতে খালিদাত দ্বীপপুঞ্জ
বলা হয় ৷

মানচিত্রবিদদের কারও কারও মতে, এই দ্বীপ থেকেই ভু-ভাগ শুরু হয়েছে , কিভু অন্যদের
মতে উক্ত সাগরের উপকুল থেকে ভু পৃষ্ঠের সুচনা যা পুর্বেই উল্লেখিত হয়েছে ৷ যুল ক বনাযন
এখানে দাড়িয়ে সুর্যের অস্তণমন প্রত্যক্ষ করেন ৷ সে সুর্যকে এক পা কিল জলাশয়ে অস্তগমন
করতে (দখল ৷” পংকিল জলাশয় বলতে সাগরকে বৃঝান হয়েছে ৷ কেননা যে ব্যক্তি সাগর
থেকে বা তা ৷র উপকুল থেকে প্র৩ ত্যক্ষ করে সে দেখতে পায় সুর্য যেন সমুদ্রের মধ্য থেকে উদিত
হচ্ছে এবং সমুদ্রের মধ্যে অস্ত যাচ্ছে ৷ এ কার ণে আঘাতের মধ্যে ৮১া এ শব্দ বলা হয়েছে, যার
অর্থ সে দেখতে পেল ৷ একথা বলা হয়নি যে, সুর্য পংকিল জলাশয়ে অস্ত পেল ৷ কাব আল
আহবার বলেছেন মোঃ অর্থ কাল বর্ণের কাদা ৷ ধ্ণ্ ন্ কে কেউ কেউ য়ু ; পড়েছেন ৷
কারও মতে, উভয় ন্ছুাব্দের অর্থ একই অর্থাৎ প্াত্কিল্৷ জলাশয় ৷ আবারন্র্কউ কেউ বলেন
৷ কেননা সুর্যের কিরণ এখানে সােজাসুজি ও ভীর্যকভাবে পতিত ক্রয় ফলে
এখানকার পানি উষ্ণ থাকে ৷ ইমাম আহমদ আবদৃল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) একবার সুর্য অস্ত যাওয়ার সময় সেদিকে তাকড়ালেন এবং বললেন : এটা
আল্লাহর সৃষ্ট এক উষ্ণ অগ্নিপিণ্ড () ৷ আল্লাহ্র হুকুম দ্বারা যদি বাধা
প্রদান না করা হত তবে ভু পৃষ্ঠের সবকিছু জ্বা ৷লিয়ে পুড়িয়ে দিত ৷ এ হাদীস গরীব পর্যায়ের
সনদে জ্যানক অজ্ঞাত পরিচয় রাবী বলেছেন ৷ হাদীসটি মারফু পর্যায়ের হওয়ার ব্যাপারেও
সন্দেহ আছে ৷ এটা আবদুল্লাহ ইবন আমরের উক্তিও হতে পারে ৷ কেননা, ইয়ারমুকের যুদ্ধে
দুইটি প্রাচীন কিতাবর্ত ৷র হস্তগত হয় ৷ এই কিতাব থেকে তিনি অনেক কথা বর্ণনা করতেন ৷

কোন কোন কাহিনীকার বলেছেন যে, যুল-কারনায়ন সুর্যের অস্তগমন স্থান অতিক্রম করে
সেনাদল সহ দীর্ঘদিন পর্যন্ত অন্ধকারের মধ্যে সম্মুখপানে অগ্রসর হয়েছিলেন ৷ তাদের এ কথা
ভুল এবং যুক্তি ও রেওয়ায়ত এর পরিপন্থী ৷

আবে-হায়াতের সন্ধানে যুল-কারনায়ন

ইবন আসাকির ওকী (র) এর সুত্রে যায়নুল আবেদীন থেকে এক দীর্ঘ ঘটনা বর্ণনা
করেছেন ৷ ঘটনার সারমর্ম এই যে, যুল-কারনায়নের সাথে একজন ফেরেশতা থাকতেন ৷ তার
নাম ছিল রানাকীল ৷ একদিন যুল-কারনায়ন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, পৃথিবীতে একটি ঝর্ণা
আছে নাকি, যার নাম আইনুল হায়াত বা সঞ্জীবনী ঝর্ণাত্ন ফেরেশতা ঝর্ণাটির অবস্থান সম্পর্কে
বিস্তারিত জানালেন ৷ যুল-কারনায়ন তার সন্ধানে যাত্রা শুরু করলেন ৷ হযরত খিযির (আ ) কে
তিনি অগ্রবর্তী দলে রাখলেন ৷ যেতে যেতে এক অন্ধকার উপত্যকায় গিয়ে ঝর্ণার সন্ধান
পেলেন ৷ খিযির ঝর্ণার কাছে গিয়ে সেখান থেকে পানি পান করলেন ৷ কিন্তু যুল-কারনায়ন
ঝর্ণার কাছে যেতে পারলেন না ৷ তিনি সেখানে অবস্থিত একটি প্রাসাদে এক ফেরেশতার সাথে
মিলিত হলেন ৷ ফেরেশতা যুল-কারনায়নকে একটি পাথর দান করলেন ৷ পরে তিনি
সেনাবাহিনীর নিকট ফিরে এলে আলিমগণ পাথরটি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলেন ৷ তিনি
পাথটিকে ওজন করার জন্য এক পাল্লায় রাখলেন এবং অপর পাল্লায় অনুরুপ এক হাজার পাথর
রাথলেন ৷ কিন্তু ঐ পাথরটির পাল্লা ভারী হল ৷ তখন হয়রত খিযির (আ)-ও পাথরটির রহস্য
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন ৷ তখন তিনি তার বিপরীত পাল্লায় একটি পাথর উঠিয়ে তার উপর
এক মুষ্টি মাটি ছেড়ে দিলেন ৷ এবার পাল্লাটি ভারী হয়ে গেল ৷ তখন তিনি বললেন, এটা ঠিক
বনী আদমের উপমা যারা কবরের মাটি ছাড়া কোন কিছুতেই তৃপ্ত হয় না ৷ এ দৃশ্য দেখে
আলিমগণ ভক্তিভরে তার প্রতি নত হলেন ৷

এরপর আল্লাহ ঐ এলাকার অধিবসীদের ব্যাপারে ফয়সাল দেন ও “আমি বললাম হে
যুল-কারনায়ন! তুমি এদেরকে শান্তি দিতে পার অথবা এদের ব্যাপার সদয়ভাবে গ্রহণ করতে
পার ৷ সে বলল, যে কেউ সীমালংঘন করবে আমি তাকে শাস্তি দিব, অতঃপর সে তার
প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন ৷” সুতরাং তার উপর
দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের শাস্তি উভয়টিই কার্যকর হবে ৷ দুনিয়ার শাস্তির কথা আগে বলা
হয়েছে ৷ কেননা, কাফিরদের জন্যে এটা সাবধান ও সতর্কতাস্বরুপ ৷ “তবে যে ঈমান আসে
এবং সৎকর্য করে তার জন্যে প্রতিদানস্বরুপ আছে কল্যাণ এবং তার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র
কথা বলব ৷ এখানে অধিক মুল্যবান প্রতিদানের কথা প্রথমে বলা হয়েছে অর্থাৎ-আখিরাতের
পুরস্কার, তারপরে বলা হয়েছে তাদের প্রতি তার অনুগ্নহের কথা, এই অনুগ্রহ হলো ন্যায়-নীতি ,
জ্ঞান ও ঈমান “আবার সে এক পথ ধরল” ৷ অর্থাৎ তিনি পশ্চিম থেকে প্রত্যাবর্তন করে পুর্ব
দিকে যাওয়ার পথ ধরলেন ৷ কথিত আছে, পশ্চিম প্রান্ত থেকে পুর্ব প্রান্তে ফিরে আসতে তার
বার বহ্ব অতিবাহিত হয় ৷ “লেতে চলতে যখন সে সুর্যোদয়ন্থলে পৌছল, তখন সে দেখল তা’
এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে, যাদের জন্যে সুর্যতাপ থেকে কোন অম্ভরাল আমি সৃষ্টি
করি নি ৷ অর্থাৎ তাদের কোন ঘর-বাড়ি জ্জি না এবং সুর্যের তারু ৷ থেকে ৰ্বাচার কোন উপায়
জ্জিণ্না ৷ তবে অনেক আলিম বলেছেন যে, তারা মাটিতে কবরের ন্যায় এক প্রকার সুড়ৎগে
প্রচণ্ড তাপের সময় আশ্রয় নিত ৷ “প্রকৃত ঘটনা এটাই তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি” ৷
অর্থাৎ যুল-কারনায়নের সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমি অবহিত ৷ আমি তাকে হেফাজত
করেজ্জিমে এবং পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পুর্ব সীমান্ত পর্যন্ত সুদীর্ঘ যাত্রা পথে আমার প্রহর৷ তার
উপর কার্যকর ছিল ৷

উবায়দ ইবন উমায়র ও তার পুত্র আবদুল্লাহ প্রমুখ আলিমগণ বলেছেন যে, যুল কারনায়ন
পদব্রজে হজ্ব পালন করেন ৷ হযরত ইবরাহীম খলীল (আ) যুল-ক ৷রনায়নের আগমনের সংবাদ
পেয়ে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন ৷ উভয়ে একত্রে মিলিত হলে ইবরাহীম
খলীল (আ) তার জন্যে দোয়া করেন এবং কতিপয় উপদেশ দেন ৷ কথিত আছে , হযরত খলীল
একটি ঘোড়া নিয়ে এগিয়ে যান এবং যুল-কারনায়নকে তাতে আরোহণ করতে বলেন ৷ কিন্তু
যুল-কারনায়ন অস্বীকার করে বলেন, যে শহরে আল্লাহর খলীল বিদ্যমান আছেন সেই শহরে
আমি বাহনে আরোহণ করে প্রবেশ করব না ৷ তখন আল্লাহ মেঘমালাকে তার অনুগত করে দেন
এবং ইবরাহীম এ সুখবর তাকে জা ৷নিয়ে দেন ৷ তিনি যেখানে যাওয়ার ইচ্ছে করতেন মেঘমালা
তাকে সেখানে নিয়ে যেত ৷ আল্লাহর বাণী৪ ”আমার যে এক পথ চলতে চলতে সে যখন দুই
পর্বত প্রাচীরের মধ্যবটুর্তীন্থলে পৌছল, তখন সেখানে সে এক সম্প্রদায়কে পেল যারা তার কথা
একেবারেই বুঝতে প বছিল না ৷” এ সম্প্রদায় সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এরা হল তুর্কী জাতি-
ইয়াজুজ ও মাজুজের জ্ঞাতি ভাই ৷

এ সম্প্রদায়ের লোকজন যুল-কারনায়নের নিবস্ট অভিযোগ করে যে, ইয়াজুজ ও মাজুজ
গোত্রদ্বয় তদের উপর অত্যাচার চালায় লুট তরাজ ও ধ্বং সাত্নক কার্যক্রমের দ্বারা শহরকে
বিপর্যস্ত করে ফেলে ৷৩ তারা যুল-ক ৷রনায়নকে কর দিতে আগ্নহ প্রকাশ করল যাতে তিনি তাদের
ও ইয়াজুজ-মাজুজের মাঝে একটি প্রাচীর তৈরী করে দেন ৷ যাতে করে তারা আর এদিকে উঠে
আসতে না পারে ৷ যুল-কারনায়ন তাদের থেকে কর নিতে অস্বীকার করেন এবং তাকে আল্লাহ
যে সম্পদ ও ক্ষমতা দিয়েছেন তাতেই সন্তোষ প্রকাশ করেন ৷ তিনি বললেন “আমার
প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা ই উৎকৃষ্ট ৷ ” তিনি তাদেরকে শ্রমিক ও উপকরণ
সরবরাহ করতে বললেন এবং উক্ত দুই পর্বতে র মধ্যবর্তী ফ কা স্থান ভরাট করে বীধ নির্মাণ
করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ৷ আর এ দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী স্থান ছাড়া ইয়াজুজমাজুজের
আমার অন্য কোন পথ ছিল না ৷ তাদের এক দিকে ছিল গভীর সমুদ্র অন্য দিকে সুউচ্চ
পর্বতমালা ৷ অতঃপর তিনি লোহা ও গলিত তামা, মতাম্ভরে সীসা দ্বারা উক্ত বাধ নির্মাণ করেন ৷
কিভু প্রথমোক্ত ম৩ইি সঠিক ৷ সে মতে এ রা ধ নির্মাণে তিনি ইটের পরিবর্তে লোহা এবং সুরকির
পরিবর্তে তামা ব্যবহার করেন ৷ আল্লাহ বলেন “এরপর তারা তা’ অতিক্রম করতে পারল না” ৷
অর্থাৎ সিড়ি কিৎবা অন্য কিছুর সাহায্যে বাধ পড়ার হয়ে আসতে পারল না ৷ “এবং ভেদ করতেও
পারল না” অর্থাৎ কুঠার বা শাবল দ্বারা ছিদ্র করতে পারল না ৷ সহজের মুকাবিলায় সহজ ও
কঠিনের মুকাবিলায় কঠিন নীতি অবলম্বন করা হল ৷ “সে বলল, এটা আমার প্রতিপালকের
অনুগ্রহ ৷ ” অর্থাৎ এ বীধ নির্মাণের ক্ষমতা আল্লাহ ই দান করেছেন ৷ এটা তারই অৰুগ্নহ ও
দয়া ৷ কেননা, এর দ্বারা উক্ত সীমালংঘনকারী জাতির অত্যাচার থেকে তাদের প্রতিবেশী
লোকদেরকে রক্ষা করতে পেরেছেন ৷ “যখন আমার প্রতািলকের প্রতিশ্রুতি পুর্ণ হবে” অর্থাৎ
শেষ যামানায় মানব জা ৷তির উপর তাদের বের হয়ে আসা র নির্ধারিত ৩সময় যখন উপস্থিত হবে ৷
“তখন তিনি একে চুর্ণ বিচুর্ণ করে দিবেন ৷” অর্থাৎ মাটির সাথে মিশিয়ে দিবেন ৷ কেননা,
তাদের বের হয়ে আমার জন্যে এ রকম হওয়া আবশ্যক ৷ এ কারণে আল্লাহ বলেন “এবং
আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য ৷”

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, “ইয়াজুজ-মাজুজকে যখন ছেড়ে দেয়া হবে তখন তারা ভু-পৃ পষ্ঠের উচু
স্থান দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকবে ৷ “আল্লাহর সত্য প্রাতশ্রুতি নিকটবর্তী৷ ” এজন্যে
এখানেও আল্লাহ বলেছেন, “সেদিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দিব এ অবস্থায় যে, একদল আর
এক দলের উপর তরংগের মত পতিত হবে ৷ ” সেদিন বলতে বিশুদ্ধ মতে ৰ্বাধ্ ভেৎগে দেয়ার
দিনকে বুঝান হয়েছে ৷ “এবং শি ৷ৎগায় কুৎকা র দেওয়া হবে ৷ অতঃপর আমি তাদের সকলাকই
একত্রিত করব ৷” (১৮ কাহফং ৯৯ ৷ ৷ ইয়াজুজ ও না জুজের :বর হওয়া সংক্রান্ত বর্ণিত হাদীস
সমুহ আমরা ত ৷ফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছি ৷ এই গ্রন্থের ফিতা ন ও মালাহিম’ অধ্যায়ে আমরা
সেগুলো উল্লেখ করব ৷

আবু দা ৷উদ আ তায়ালিসী (র) সুফিরান ছওবী (রা ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন সর্বপ্রথম
যিনি মুসাফাহার প্রবর্তন করল তিনি হলেন, বুল কারনায়ন ৰু কা ব আল আহবার থােক বর্ণিত ৷
তিনি মুআবিয়৷ (রা)-৫ক বলেছেন : যুল-কারনায়নের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তিনি তার
মাকে ওসিয়ত করেন যে, আমার মৃত্যু হয়ে গেলে আপনি ভোজের ব্যবস্থা করবেন এবং
নগরীতে সমস্ত মহিলাদেরকে ডাকবেন ৷ তারা আসলে তত্ত্বস্থদব সম্মুখে থানা বোখ সন্তান হ বা
মহিলারা ব্যতীত অন্যদেরকে আহার করতে বলবেন ৷ যে সব মহিলা সন্তান হারিয়েছে তা ৷রা
যেন উক্ত খাদ্য তক্ষণ না করে ৷ ওসিয়ত অনুযায়ী মা সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করে উক্তরুপে আহার
গ্রহণের আহ্বান জানালেন ৷ কিভু একজন মহিলাও খাবার স্পর্শ করল না ৷ যুল-কারনায়নের মা
আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন কী ব্যাপার তোমরা সকলেই কি সন্তান হারাঃ তারা বলল
আল্লাহর কসম, আমরা প্রত্যেকেই সন্তান হারিয়েছি ৷ তখন এ একই অবস্থা প্র৩ তাক্ষ করে তিনি
মনে সা৷ন্তুন লাভ করলেন ৷ ইসহাক ইবন ৰিশৃর আবদুল্লাহ ইবন যিনাদের মাধ্যমে জনৈক
আহলি কিতাব থেকে বর্ণনা করেন যে, যুল-কারনায়নের ওসিয়ত ও তার মায়ের উপদেশ একটি
সুদীর্ঘ মুল্যবান উপদেশ ৷ বহু-জ্ঞানপুর্ণ ও কল্যাণকর কথা তাতে আছে ৷ যুল-কারনায়ন যখন
ইস্তিকাল করেন, তখন তার বয়স হয়েছিল তিন হাজার বছর ৷ এ বর্ণনাটি গরীব’ পর্যায়ের ৷

ইবন আসাকির (র) অন্য এক সুত্রে বলেছেন, যুল-কারনায়ন ছত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন ৷
কারও মতে তিনি বত্রিশ বছর বেচে ছিলেন ৷ হযরত দাউদ (আ)-এর সাতশ চল্লিশ বছর পর
এবং আদম (আ)এর পাচ হাজার একশ একাশি বছর পর তিনি দুনিয়ার আগমন করেন এবং
ষোল বছর রাজতৃ করেন ৷ ইবন আসাকিরের এ বক্তব্য দ্বিতীয় ইসকান্দারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়,
প্রথম ইসকান্দারের ক্ষেত্রে নয় ৷ তিনি ইে ইসকান্দারের মধ্যে প্রথম জন ও দ্বিতীয় জনের মধ্যে
তালগােল পাকিয়ে ফেলেছেন ৷ প্রকৃত পক্ষে ইসকান্দার দুইজন ৷ আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞজনের
উদ্ধৃতি দিয়ে এ আলোচনার শুরুতে সে বিষয়ে উল্লেখ করে এসেছি ৷ যারা দুই ইসকান্দরকে
একজন ভেবেছেন তাদের মধ্যে সীরাত লেখক আবদুল মালিক ইবন হিশাম অন্যতম ৷ হাফিজ
আবুল কাসিম সুহায়লী এর জোর প্রতিবা ৷দ করেছেন ও কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং উভয়
ইসকান্দারের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে পার্থক্য নির্ণয় করে দেখিয়েছেন ৷ সুহায়লী বলেছেন, সম্ভবত
প্রাচীন যুগের কতিপয় রাজা-বাদশাহ প্রথম ইসকান্দরের সাথে তুলনা করে দ্বিতীয় ইসকান্দরকেও
যুল-কারনায়ন নামে আখ্যায়িত করেছেন ৷

ইয়াজুজ-মাজুজ ও তাদের প্রাচীরের বিবরণ

ইয়াজুজ-মাজুজরা যে হযরত আদম (আ)-এর বংশধর, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত আছে
বলে আমাদের জানা নেই ৷ প্রমাণ হল সহীহ বুখারী ও ঘুসলিমে বর্ণিত হযরত আবু সাঈদ
(রা) এর হাদীস ৷

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন : কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা আদেশ
দিবেন, হে আদম ! উঠ, তোমার বৎশধরদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে
পাঠিয়ে দাও ৷ হযরত আদম (আ) বলবেন, হে প্রতিপালক ! জাহান্নামীদ্যো সংখ্যা কত? আল্লাহ
তাআলা বলবেন, প্রতি৷ হ জাবে ৯৯৯ জন জাহান্নামী আর একজন মাত্র জান্নাতী ৷ তখন শিশুগণ
বৃদ্ধে পরিণত হয়ে ৷ গর্ভ<াভী নারীদের গর্ভপাত যটবে এবৎ৩ ত তাদেরকে মাতালের মত
দেখতে পারে, যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয় ৷ বন্তুত আল্লাহর শাস্তি কঠিন ৷

সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে সে একজন কে হবে? জবাবে
রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, সুসৎবাদ গ্রহণ কর যে, তোমাদের থেকে হবে একজন আর ইয়াজুজ
মাজুজের মধ্য থেকে হবে এক হাজার জন ৷ অপর বর্ণনায় এসেছে যে, সুসৎবাদ গ্রহণ কর,
তোমাদের মধ্যে দৃ’টো দল রয়েছে; যে দৃ’দল যেখানে যাবে সেখানে সংখ্যাধিক্য হবে ৷ এটি
প্রমাণ করে যে, ইয়াজুজ মাজুজের সংখ্যা অত্যধিক এবং তারা সাধারণ মানুষের চাইতে
অনেকগুণ বেশি ৷

দ্বিতীয় কথা হল, তারা হযরত নুহ (আ) এর বংশধর ৷ কারণ জগতবাসীর উদ্দেশ্যে
হযরত নুহ হে আমার
প্রতিপালক, পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিবেন নাহু১)
আল্লাহ তা আলা কবুল করেছেন বলে জানিয়েছেন ৷ আবার আল্লাহ তা আলা বলেছেন ৮;

ক্রো তারপর আমি তাকে এবং নৌকায় আরোহনকারীদেরকে

রক্ষা র্করেছি ৷(২) তিনি অন্যত্র বলেহ্নে৷ তার বংশধরদেরকেই
আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরম্পরায় (ং)

মুসনাদ ও সুনাম-এর বরাতে ইতিপুর্বে আলোচিত হয়েছে যে, হযরত নুহ্ (আ)-এর তিন
পুত্র ছিলেন সাম, হাম ও ইয়াফিছ ৷ এদের মধ্যে সাম হচ্ছেন আবরদের পুর্বপুরুয, হাম
সৃদানীদের পুর্বপুরুষ এবং ইয়াফিছ তুর্কীৰ্দ্যা পুর্বপুরুষ ৷ সুতরাং ইয়াজুজ মাজুয ভুর্বীদেরই

১, ৭১ নুহ ২৬
২ ২৯ : আনকাবুত ১৫
৩ ৩৭ সাফফ্াত ৭৭ ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>