রাসুলুল্লাহ (সা)-এর বিদায় হজ্জে যাত্রা শুরু

তর্কাভীতত ৷বে যিলহ্যক্রো নয় তারিখে ৷ এখন যদি ধরে নেয়া হয় যে, যিলকদের চব্বিশ

তারিখ বৃহস্পতিবার নবী করীম (সা) সফর শুরু করেছিলেন তা হলে মাসের ছয় রাত অবশ্যই
বাকী থাকা জরুরী হয় ৷ রাত ছয়টি হল শুক্রবার, শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার ও
বুধবারের (পুর্ব) রাতসমুহ ৷ অথচ ইবন আব্বাস, আইশা ও জাবির (বা) সকলেই বলেছেন যে,
যিলকদের পাচদিন বাকী থাকার সময় তিনি রওনা করেছিলেন ৷ আর সে দিনটি আনাস (রা)
বর্ণিত হাদীসের আলোকে শুক্রাড়ার হওয়া অসম্ভব ৷

সুতরাং একমাত্র এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হতে হবে যে, নবী করীম (সা) মদীনা হতে বের
হয়েছিলেন শনিবার এবং তা ছিল যিলকদের পচিশ ৩ারিখ ৷৩ তাই স্বভাবত বর্ণনা কারীর৷ মাস
পুর্ণ ত্রিশ দিনে হওয়ার ধারণা করে পাচদিন অবশিষ্ট থাকা ৷র কথা বলেছেন ৷ কিন্তু৷ বা তবে সে
বছর ঐ নামে একদিন কম হয়েছিল বিধায় (উনত্রিশ তারিখ) বুধবারে মাস শেষ হয়ে গেল
এবং বৃহ স্পতিবারের (পুর্ববর্তী) সন্ধ্যায় যিলহদুজ্জর নতুন র্চাদ দেখা যায় ৷ জ৷ ৷বির (বা) এর
(দ্ব্যর্থভাবােধক) রিওয়ায়াত পড়াচ দিন বাকী থাকতে কিৎবা চারদিন আমাদের এ বক্তব্যকে
সমর্থন করে : ভাছড়াে সব দিক বিবেচনা করলে এ সমন্বয় বিবৃতি অনিবার্য যা প্রত্যাখ্যান
স্তোর হুকচ্ন উপায় নেই ৷-ন্সাল্লহ্বহ্ই সমধিক অবগত ৷

হজ্জ উপলক্ষে নবী বল্পীম (না)-এর মক্কার উদ্দেশ্যে

মদীনা ত্যাগের বিবরণ

বুখারী (র) বলেন, ইবরাহীম ইবৰুল ঘুনষির (র)আবদৃল্লাহ্ ইবন উমর (রা) হত এ
মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) পাছ১ এর (পার্শ্ববর্তী) পথে বের হয়ে যেতেন এবং
ঘুআররাস (রাত যাপনক্ষেত্র)-এর পথে ফিরে আসতেন এবং এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কা
অভিমুখে রওনা করলে গাছ এর কাছের (যুল-হুলায়ফা) মসজিদে সালাত আদায় করতেন
এবং ফিরতি পথে (ও) যুল-হুলায়ফার নিম্ন (সমতল) ভুমিতে সালাত আদায় করতেন (পরে যা
যুল-হুলায়ফা র মসজিদ হয়েছে) ৷ সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন ৷ এ সুত্রে হাদীসটি
বুখাবী (র) একাকী বর্ণনা করেছেন ৷

হাফিজ আবু বকর আল বায্যার (র) বলেন, আমার লিপিতে পেয়েছি আমর ইবন মালিক
(র)আনাস (বা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (না) একটি জীর্ণ গদী’তে বসে
হজ্জ (এর সফর) করেন, তার নীচে ৰিছানাে ছিল একটি মোটা চাদর এবং তিনি বলেছিলেন “এমন হজ্জ (আমরা করব) যাতে লোক দেখানো ও খ্যাতি
লাভের উদ্দেশ্য নেই ৷ ষুখারী (র) তার সহীহ্ গ্রন্থে হাদীসটি মুআল্লাকরুপে উল্লেখ
করেছেন৷ তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবু বকর (র) বলেছেন, ইয়াযীদ ইবন যুরায়
(র) ছুমাম৷ (র) সুত্রে তিনি বলেন, আবাস (বা) একটি জীর্ণ পদী ব্যবহার করে হজ্জ
করলেন, তিনি কিন্তু কৃপণ ছিলেন না, বরং তিনি সুন্নত পালনে এমন করেছিলেন, কারণ তিনি

১ যুল-হুলায়ফার মসজিদের এক প্রান্তে (মদীনায় বিপরীত দিকের প্রান্ত) একটি গাছ ছিল আর অন্য প্রান্তে
(মদীনায় দিকের প্রান্ত) সাধারণত ঘুসাফিররা অবকাশ যাপন করত ৷ এ প্রান্তদ্বয়কেই গাছ এর পথ ও
রাতযাপন ক্ষেত্রের পথ বলা হয়েছে ৷

এ সময় বর্ণনা করেন যে, রড়াসুলুল্লাহ্ (না) একটি গদীতে বসেই হজ্জ করেছিলেন ৷ ’ আর
সেটিও ছিল তার আসবাবপত্রবড়াহী উট ৷ এভাবেই বড়াঘৃযার (র) ও বুখারী (র) হাদীসটি সনদের
শেষ অংশ য়ুআল্লাকরুপে উল্লেখ করেছেন ৷ তবে বড়ায়হাকী (র) তার সুনড়ান গ্রন্থে হাদীসটি পুর্ণ
সংযুক্ত সনদে উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী
আল-ঘুক্রী (র)ইয়াষীদ ইবন যুরড়ায় (র) (অনুরুপ) ৷

হাফিজ আবু ইয়াল৷ আল মাওসিলী (র) তীর যুসনড়াদ গ্রন্থে আনড়াস ইবন মালিক (বা) হতে
অন্য একটি সুত্রে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিনি ব ণে ণ্৷ , আলী ইবনুল জাদ
(র)আনাস (বা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুপুরাহু (সা) একটি জীর্ণ গদীতে এবং
চার দিরহামের সমমুল্য (কিংবা বর্ণনা ব্যতিক্রম সমমুল্যও নয়) এমন একটি চাদরে বসে হজ্জ
পালন করেছিলেন ৷ তিনি বলছিলেন হে আল্লাহ্! হজ্জ যাতে রিয়া
নেই ৷ ”

শামাইল গ্রন্থে তিরযিষী (র) আবু দাউদ ভায়ালিসী ও সুফিয়ড়ান ছড়াওবী (র) এর বরড়াতে
এবং ইবন মাজা (র) ও ওয়াকী ইবনুল জার্রাহ (র) সুত্রে (তিনজনই) একটি দুর্বল সনদে এ
হাদীস রিওয়ারড়াত করেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, হাশিম (র) (সাঈদ) সুত্রে বলেন, আমি ইবন উমর (রা )
এর সাথে সফরে রের হলড়াম ৷ আমাদের পাশ দিয়ে একটি ইয়ামানী কাফেলা চলে গেল ৷
যাদের (উটের পিঠের) গদীগুলো ছিল চামড়ার এবং তাদের উটগুল্যের লাগান ছিল সাধারণ
ইয়স্ফোনী রশির তৈরি ৷

আবদৃল্লাহ্ ইবন উমর (রা) বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) ও তার সাহাৰীগণ যখন বিদায় হরুজ্জ
আগমন করেছিলেন, তাদের (অবস্থার) সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপুর্ণ এ বছরে আগত কাফে লড়া
সমুহের মাঝে কোন কাফেলা কেউ দেখতে চাইলে সে যেন এ (ইয়ামানী) কাফেলাটিকে দেখে
নেয় ৷ আবু দাউদ (র) এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন হানৃনড়াদ (র) ইবন উমর (রা ) সুত্রে ৷

হাফিজ আবু বকর বড়ায়হাকী (র) বলেন, আবু আবদুল্লাহ আলগুহাফিজ, আবু তাহির আল-
ফকীহ্, আবু যাকড়ারিয়্যা ইবন আবু ইসহাক, আবু বকর ইবনুল হাসান ও আবু সাঈদ ইবন আবু
আঘৃর (র) (সকলে) ৰিশৃর ইবন কুদড়ামাহ আবৃ-যাবাবী (রা) হতে ৷ তিনি বলেন, “আমার
দু’চােখ আমার প্রিয়তম রাসুলুল্লাহ্ (সা)ফে দেখেছে জনতার সাথে আরাফাতে অবস্থানরত,
তীর কড়াসৃওয়া নামের লাল উটনীর পিঠে তীর নীচে ছিল একটি বাওলানী’ চাদর ৷ তিনি তখন

“হে আল্লাহ্! এটিকে রিয়াবিহীন, ( ?) এবং খ্যাতি লিন্সাৰিহীন হরুজ্জ পরিণত করুন ৷ ”
লোকেরা তখন পরস্পরে বলাবলি করছিল, ইনি আল্লাহ্র রাসুল (সা) ৷ ইমাম আহমদ (র)
বণে ণ্৷ , আরধুস্লাহু ইবন ইদরীস (র)আসমড়া ৰিনৃত আবু বকর (রা) সুত্রে বলেছেন, আমরা

১ অর্থাৎ দুরদুরাম্ভের সফর হওয়া সত্বেও পান্ধী (হাওদা)-তে বসেন নি ৷ শুধু শক্ত নদী ব্যবহার করেছেন :

হজ্জযাত্রী হয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে বের হলাম ৷ আমরা আরজে’ উপনীত হলে
রাসৃলুল্লাহ্ (না) সেখানে অবতরণ করলেন ৷ আইশা (রা) গিয়ে রড়াসুলুল্লাহ্ (সা)এর পাশে
বদল; আমি আমার আব্বার কাছে বমলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও আবু বকর (পরিবারের)
আসবড়াবপত্রবাহী উট ছিল একটিই; যা আবু বকরের গোলড়ামের দায়িত্বে ছিল ৷ আবু বকর (রা)
বসে বসে গোলায়ের এসে পৌছার অপেক্ষা করতে লাপলেন ৷ এক সময় সে এসে পৌছল,
কিন্তু তার সাথে কোন উট ছিল না ৷ আবু বকর বললেন, তে তামার উট ৫কাথায়? গোলামটি
বলল, গত রাতে আমি তা হারিয়ে ফেলেছি ৷ আবু বকর (রড়া ) বললেন, একটি মাত্র উট, তাও
হারিয়ে ফেলেছ, একথা বলে তিনি গোলামকে পেটাতে লাপলেন ৷ রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) মৃদু
হড়াসছিলেন আর বলছিলেন গ্লু১এা শু ণ্)এেএট এিএ 😉 ট্টগ্রএ শ্ঐষ্ হজ্যের ইহরড়ামধাবী এ
ল্যেকটি এবং তার কাণ্ড সেখ ৷ আবু দাউদ (র) ইবন মজ্যে (র) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷
কিন্তু আবু বকর আলবড়াঘৃযার (র) তার মুসনাদে যে হাদীস রিওয়ড়ায়াত করেছেন এভাবে-
ইসমাঈল ইবন হাফ্স (র)আবু সাঈদ (বা) হতে, তিনি বলেন, নবী করীম (সা ) ও তার
সাহাবীগণ মদীনা হতে মক্কা পর্যন্ত পায়ে হেটে হজ্যের সফর করেছিলেন; তারা নিজেদের
কােমর বেধে নিয়েছিলেন এবং তাদের চলার গতি ছিল হড়ারওয়ালা’ হালকা দৌড়ের মত ৷ এটি
একটি দুর্বল সনদের মুনকড়ার হাদীস ৷ কারণ, এ সনদের ম ধ্যবর্তী রাবী হড়ামযড়া ইব ন হড়াবীর
ত্মাঘৃ-যায়ব্রড়াত দৃর্বল’ অনির্তরযোগ্য এবং তার শায়খ (হুমরান) ও পরিত্যক্ত রাবী ৷ বাবৃয়ড়ার
(র) নিজেও মন্তব্য করেছেন যে এ সুত্র ছাড়া অন্য কোন সুত্রে এ বর্ণনা পাওয়া যায় না;
যদিও আমার মতে সনদটি উত্তম ৷ ( তার মতে) হড়াদীসটি যদি সাবম্ভে হয়, তবে তার অর্থ এমন
হতে পারে যে, তারা পদব্রজে কোন উমরা আদায় করেছিলেন ৷ ৫কননা, নবী কবীম (সা)
মদীনান্ <ন্ষ্ ভএকবার মন্ত্র হজ্জ করেছিলেন এবং তিনি তখন আরােহী ছিলেন ও সাহাবীদের
মাঝে কেউ কেউ পদ্ব্ৰজেও গিয়েছিলেন ৷

গ্রন্থকারের মন্তব্য : নবী করীম (সা) পদব্রজে কোন উমরা পালন করেন নি ৷ হুদায়রিয়ড়াতে
নয়, উমরড়াতুল কড়াযাতেও নয় ৷ জিইররানার উমরাতে নয় এবং বিদায় হজ্যেও নয় ৷ নবী কবীম
(সা) এর অবস্থা ও কার্যক্রম সুপরিচিত ও সর্বজনরিদিত ছিল ৷ জনতার কাছে তা গোপন
থাকার অবকাশ কোথায়? বরং হাদীনটি নির্ত্যৰুযোগ্য বর্ণনার বিরোধী এবং সুরকার পর্যায়ের যা
কিছুতেই স্বীকৃত হতে পারে না ৷ অল্লোহ্ই সমধিক অবগত

যুল-হলায়ফায় অবস্থান ও আনুসাংগিক প্রসংপ

পুর্বেই বিবৃত হয়েছে যে, নবী করীম (সা) মদীনায় চার রাকআত জুহর সালতে আদায়
করেছিলেন,৩ তারপর সেখান থেকে যুল হুলায়ফায় গিয়েছিলেন এটি হল আর্কীক উপত্যকা ৷
সেখানে আরবের নামায দু’ রড়াকড়াত আদায় করেছিলেন ৷ এতে বুঝা যায় যে, তিনি দিনের
বেলায় আসরের সময় যুল-হুলড়ায়ফার পৌছে ছিলেন এবং সেখানে “কসর’ করে আসন্বরব
সালড়াত আদায় করেছিলেন ৷ স্থানটি মদীনা থেকে তিন মাইলের দুরত্বে অবস্থিত ৷ তারপর-
সেখানে মাগরিব ও ইশা আদায় করে সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন এবং সহ্রহশ্বদুষ্ন্র
দিয়ে ফজর সালাত আদায় করে তাদের এ মর্মে খবর দেন যে রহ্বত্তত তার কাছে ইহব্রক্ষুমৰ-
প্রয়োজনীয় হুদ্র্দেশ সম্বলিত ওহী এসেছে ৷ যেমন ইমাম হরুহজ্জ্ব (র) বলেন ইস্কো ইৰ্ ৰ

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.