Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর ইহরাম ও তালবিয়ড়া পাঠের স্থান নির্ণয় এবং বর্ণনাকাবীদের মতবিরোধ ও তার মীমাংসা

রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর ইহরাম ও তালবিয়ড়া পাঠের স্থান নির্ণয় এবং বর্ণনাকাবীদের মতবিরোধ ও তার মীমাংসা

বুখারী (র) আরো বলেছেন, অনুচ্ছেদ : বাহন সোজা হয়ে র্দাড়াবার পর যারা তালবিয়া
উচ্চারণ করেন আবু আসিম (র), ইবন উমর (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, নবী করীম
(সা)কে নিয়ে তার বাহন সোজা হয়ে র্দাড়াৰার সময় তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করলেন ৷ মুসলিম
ও নাসাঈ (র) এ হাদীসটি (উল্লিখিত সনদে) ইবন জুরায়জ (র) হতে রিওয়ারাত করেছেন ৷
মুসলিম (র) আরো বলেছেন, আবু বকর ইবন আবু শায়বা (র), ইবন উনার (বা) থেকে তিনি
বলেন ৷ রাসুলুল্পাহ্ (না) যখন বাহনের পা দানীতে তার পা রাখলেন এবং তার বাহন তাকে নিয়ে
উঠে র্দাড়াল তখন ঘুল-হলায়ফায় তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করলেন ৷ এ বর্ণনা সুত্র একাকী
মুসলিম (র)-এর ৷ বুখারী মুসলিম (র) অন্য একটি সুত্রে উবায়দুল্পাহ্ ইবন উমর (র) , ইবন উমর
(রা) সনদে হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন ৷

বুখারী (র)-এর পরবর্তী বর্ণনা ও কিবলামুখী হয়ে তালবিয়া উচ্চারণ প্ৰসংগে, আবু মামার
(র) বলেছেন, নাফি (র) হতে ৷ তিনি বলেন, ইবন উমর (রা) যুল-হুলায়ফায় ফজরের সলোত
আদায় করার পর তার বাহন প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন, তখন তাতে ণদী আটা হলে তিনি তাতে
আরোহণ করতেন ৷ বাহন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে র্দাড়ালে তিনি কিংলামুখী হয়ে র্দাড়াতেন,
পরে তালবিয়া পাঠ করতে থাকতেন ৷ হারাম শরীফ উপনীত হওয়া পর্যন্ত এভাবে চলতো ৷
তারপর তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন ৷ অবশেষে ঘু-তুওয়ায় উপনীত হলে সেখানে রাত
কাটাতেন ৷ ফজরের সলোত আদায়ের পরে গোসল করতেন এবং বলতেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (না)
এমন করেছেন ৷ তারপর বুখারী (র) বলেছেন, গোসল করার বিষয় ইসমাঈল (র) , আয়ুৰে (র)
সুত্রে সমার্থক রিওয়ায়াত রয়েছে ৷ মুসলিম এবং আবু দাউদও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

তারপর বুখারী (র) বলেছেন, সুলায়মান আবুর-রাবী (র), নাফি (র) হতে ৷ তিনি বলেন,
ইবন উমার (বা) মক্কা অভিমুখে সফর করার নিয়ত করলে, এমন তেল মাখতেন যাতে কোন
সুঘ্রাণ থাকতো না ৷ তারপর যুল-হুলায়ফার মসজিদে পৌছে সালাত আদায় করতেন ৷ তারপর
বাহনে চড়তেন ৷ তার বাহন তাকে নিয়ে সোজা হয়ে র্দাড়ালে ইহরাম বাধ্তেনঃ ৷ তারপর
বলতেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে আমি এভাবেই করতে দেখেছি ৷ এ সুত্রে বুখারী (র) এ হাদীসটি
একাকী বর্ণনা করেছেন ৷ আর মুসলিম (র) রিওয়ায়াত করেছেন কুতায়বা (র) ইবন উমর
(রা) সুত্রে তিনি বলেন, তোমাদের এ খােলা প্রাতর যেখানে (ইহরাম করা)-এর কথা বলে
তোমরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নামে মিথ্যা আরোপ করে থাক, আল্লাহর কলম; রাসুলুল্পাহ্ (না)
(ঐ) গাছঢির কাছে ছাড়া অন্য কোন স্থান হতে ইহরাম ৰীধেন নি ৷ তিনি ইহরাম বেধেছিলেন,
যখন তার উট তাকে নিয়ে র্দাড়িয়েছিল ৷ এ হাদীসটি ইবন উমর (রা)-এর পুর্বোল্পিখিত
রিওয়ায়াত ও এখানকার রিওয়ায়াতগুলির মাঝে সমন্বয় সাধন করে ৷ তা এভাবে যে, ইইরাম
হয়েছিল (পরবর্তী সময় নির্মিত) মসজিদের কাছ থেকেই ৷ তবে তা ছিল তার আরোহণ এবং
বাহন তাকে নিয়ে বায়দা প্রাম্ভরে অর্থাৎ সমতল ভুমিতে সোজা হয়ে র্দাড়াবার পরে ৷ আর তা
ছিল বায়দা প্ৰম্ভেরে (ইহরামের স্থানরুপে জনতার মাঝে) পরিচিত স্থানটির কাছে পৌছার
আগেই ৷

তাছাড়া বুখারী (র) অন্যত্র বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আল মুকাদ্দাযী (র),
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে তিনি বলেন, নবী করীম (সা) মাথা আচড়ানাে, তেল

লাগানো এবং লুঙ্গি ও চাদর গায়ে দেয়ার পর তিনি ও তার সাহাবীণণ মদীনা থেকে চলতে
লাগলেন ৷ কোনও ধরনের চাদর-লুঙ্গি পরিধান নিষেধ করলেন না ৷ তবে জাফরানী বংকৃত
কাপড় যা দেহ-ত্ককে রং গিয়ে দেয়, তা ছাড়া তারপর যুল হুলায়ফায় সকাল করলেন এবং
তার বাহনে আরোহণ করলেন ৷ বাহন প্রাতরের বুকে সোজা হয়ে র্দাড়ালেগু তিনি ও তার
সহচরণণ তালবিয়৷ উচ্চারণ করলেন এবং তিনি কুরবানীর উটকে মালা পরালেন ৷ এটা ছিল
জিলকদ মাসের পাচ দিন বাকী থাকতে ৷ তারপর (মক্কায় পৌছে) তিনি বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ
করলেন এবং সাফাওয়া-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন ৷ কিন্তু, কুরবানীর পশু সাথে থাকার
করেংণ তিনি হালাল হলেন না ৷ কেননা, তিনি হাদীকে মালা পবিয়েছিলেন ৷ হাদীর উট
মক্কার চড়৷ ৷ই অঞ্চলে হ জ্জান রক্ষিত ছিল ৷ তিনি হরুজ্জর ইহরাম-ত ৷লবিয়৷ শুরু করলেন ৷
তবে ইতো ৩াপুর্বের তাওয়াফের পরে তিনি আরাফাত থেকে ফিরেঅ অসা৷ পর্যন্ত পুনরায়
(তাওয়াফের উদ্দেশ্যে) বা বা শরীফের নিকটবর্তী হলেন না ৷

তবে সাথীদের হুকুম দিয়েছিলেন, তারা যেন বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ায়
দৌড়াবার পরে মাথা ছেটে নেয় এবং (উমরার ইহরাম হতে) হালাল হয়ে যায় ৷ এ নির্দেশ ছিল
তাদের জন্য যাদের সাথে মালা পরানো হাদীর উট ছিল না ৷ এদের মাঝে যার যার সাথে
তাদের শ্ৰীর৷ ছিল, সে ত্রী এবং সুগন্ধি ও কাপড় তাদের জন্য হালাল হল ৷
একাকী বুখারী (র) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ আর ইমাম আহমদ (র) রিওয়ায়াত করেছেন,
বাহ্য ইবন আসাদ, হাজ্জাজ, রাওহ্ ইবন উবাদ৷ ও আফ্ফান ইবন মুসলিম (র) সকলে ইবন
আব্বাস (বা) সুত্রে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যুল-হুলায়ফায় (পরের দিনের) যুহর সালাত
আদায় করলেন, তারপর তার হাদীর উটটি নিয়ে আসতে বললেন ৷ তারপর তার কুজের ডান
পাশে যখম করে তার রক্ত লেপটে দিলেন এবং তাকে দুটি চপ্পলের মালা পবিয়ে দিলেন ৷
তারপর র্তার রাহর্ননিয়ে আসতে বললেন ৷ বাহনটি (তাকে নিয়ে) খোলা মাঠে সোজা হয়ে
র্দাড়ালে তিনি হরুজ্জর তালবিয়৷ ষ্ উচ্চারণ করলেন ৷ আহমদ (র), মুসলিম (র) এবং সুনান
সংকলকবৃন্দ তাদের সংকলনসমুহেও হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইবন আব্বাস (বা) হতে
বিভিন্ন সুত্রে আহরিত এ বিওয়ায়াতসমুহের ভাষ্য হল নবী করীম (না)-এর বাহন তাকে নিয়ে
সোজা হয়ে র্দাড়াবার পরে তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করেছিলেন ৷ সনদের বিচারে এ
রিওয়ায়াতগুলাে সাঈদ ইবন ষুবায়র সুত্রে ইবন আব্বাস (বা) হতে আহরিত থুসায়ফ আল-
জাবারী (র)-এর বিওয়ায়াতের তুলনায় অধিকতর প্রামাণ্য ও বিশুদ্ধ ৷ আল্লাহ্ই সমধিক
অবগত ৷ অনুরুপ বাহন তাকে নিয়ে সোজা দীড়ালে তা ৷র ইহরাম ত ৷লবিয়৷ ৷র বিশদ রর্ণনাযুক্ত
রিওয়ায়াত গুলাে অন্যান্য বিওয়ায়াতের চেয়ে অ্যাধিক৷ ৷রযােগ্য হবে ৷ কেননা, বাহন তাকে নিয়ে
স্থির হলে মসজিদের কাছ হতেই তার ইহরাম বাধার মজবুত সম্ভাবনা বিদ্যমান ৷ অতএব,
বাহনে আরোহণ সম্বলিত বিওয়ায়াতে অতিবিক্ত ইল্ম’ ও বিষয় থাকা ৷র যুক্তিতে তা অন্যান্য
বিওয়ায়াতের তুলনায় অগ্ৰাধিকার পাবে ৷ আল্লাহ্ইত৷াল জানেন ৷

মােটকথা , এ প্রসঙ্গে আনাস (রা) থেকে প্রাপ্ত রিওয়ায়াত পরস্পর ৰিরােধিতামুক্ত ৷ অনুরুপ,
সহীহ্ মুসলিমে জাফর সাদিক (র) সুত্রীয়জাবির ইবন’ আবদুল্লাহ্ (রা)-এর সুদীর্ঘ
রিওয়ায়াত (পরবর্তীতে উল্লিখিত হবে) (নবী করীম (না)-এর বাহন তাকে নিয়ে সোজা হলে
তিনি তালবিয়৷ উচ্চারণ করলেন)-ও দ্বন্দ্ব ও দ্ব্যর্থতামুক্ত ৷ জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা) হতে

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইহ্রাম ও তালবিয়া পাঠের স্থান নির্ণয়
এবং বচ্নািকারীদের মতবিরোধ ও তার মীমাংসা

আওযাঈ (র)উমর (বা) থেকে বর্ণিত, বুখড়ারীর হাদীস ইতোপুর্ধে উল্লিখিত হয়েছে ৷
যাতে উমার (রা ) বলেছেন, ওমাদিল আকীকে আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা)কে বলতে ওনেছি, আমার
প্রতিপালকের নিকট হতে একজন আগন্তুক আমার কাছে এসে বললেন, এ বরকতময়
উপত্যকায় সড়ালাত আদায় করুন এবং বলুন হৰুজ্জর সাথে উমরা ৷ বৃখারী (র) আরো
বলেছেন অনুচ্ছেদ : যুল-হুলায়ফা মসজিদের কাছে ইহরাম ও তালৰিয়া পাঠ ও আলী ইবন
আবদুল্লাহ (র)আবদৃল্লাহ্ ইবন উমার (রা) বলেন বড়াসুলুল্লাহ্ (সা) মসজিদ অর্থাৎ যুল-
হুলায়ফার মসজিদএর নিকট ব্যতীত অন্য কোথাও ইহরাম ৰীধেন নি ৷ ইবন মড়াজা ব্যতিরেকে
সিহাহ সিত্তার ইমামণণ সকলেই এ হাদীস (উল্লিখিত সনদের মধ্যবর্তী রড়াবী) মুসা ইবন
উকবা (র) হতে বিভিন্ন সুত্রে বিওয়ায়াত করেছেন ৷ মুসলিম (র)-এর অন্য একটি বিওরয়োতে
অতিরিক্ত রয়েছে ৷ তিনি (নবী করীম সা) তখন বললেন, লাব্বায়েক ৷ বৃখারী মুসলিমের অন্য
একটি রিওয়য়োতে (মালিক, মুসা, সালিম) রয়েছে যে, সালিম (র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন
উমর (রা) বলেছেন, তোমাদের এ খোলা মাঠ, যাতে ৷তােমরা (ইহরাম বিষয়ে) রাসুলুল্লাহ্
(সা)এব নামে মিথ্যা আরোপ করে থাক ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইহরাম করেছিলেন মসজিদের
কাছে থেকে ৷ আবার এই ইবন উমর (রা) হতেই এর বিপরীত বচ্নাি রয়েছে ৷ যেমন
প্রতিপক্ষে আলোচনা করা হবেণ্ যা বৃখারী, ফুসলিম (ব) তাদের সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে মালিক (র)
ইবন উমর (রা) সুত্রে বংনাি করেছেন যে, আবদুল্লাহ (ইবন উমর রা ) বললেন, তবে ইহরাম ও
তালবিয়া পাঠের বিষয়টি তা আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে ইহরাম-তালবিয়া পাঠ করতে প্রত্যক্ষ
করি নি যতক্ষণ না তীর বাহন তাকে নিয়ে দ্রুত চলতে শুরু করল ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইয়াকুব (র)সাঈদ ইবন জুৰায়র (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)কে আমি বললড়াম , হে আবুল আব্বাস ! বাসুলুল্লাহ্
(সা) এর ইহরড়াম-তালবিয়া ব্যাপারে যে, কখন তিনি তা সম্পাদন করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
এর সড়াহড়াবীণণেব পরস্পর বিরোধী বর্ণনায় আমরা তাজ্জব যাচ্ছি ৷ তিনি বললেন, আমি-ই এ
বিষয়ে সর্বাধিক অবগত ব্যক্তি ৷ রাসুলুল্লট্রুহ্ (সা) যেহেতু (মদীনা থেকে) মাত্র একবার-ই হজ্জ
করেছিলেন ৷ তাই তাদের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে ৷ রড়াসুলুল্লাহ্ (না) হত্তজ্জ্বর উদ্দেশ্যে বের
হলেন ৷ পরে যখন যুল-হুলায়ফায় তার সালাতের স্থানে ইহরাম বীধার উদ্দেশ্যে দু’রাকআত
নামায আদায় করলেন এবং ঐ বসা অবস্থায় তার হত্তজ্জর ইহরামের নিয়ত করলেন ৷ তখন
কিছু লোক জর কাছে তা শুনতে গেল এবং তারা তাই স্মরণ রড়াখল ৷ তারপর তিনি বড়াহনে
আরোহণ করলেন; পরে যখন তার বাহন র্তাকে নিয়ে স্থির হয়ে র্দাড়াল তখন তিনি তালবিমা
উচ্চারণ করলেন এবং অন্য কিছু লোক তখন র্তার নিকট হতে তা স্মরণ রাখল্যে, এর কারণ
হল এই যে, লোকেরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আসছিল, তাই তাদের এক দল শুনতে পেল

আওযাঈ (র) সুত্রে বুখারী (র) রিওয়ায়৷ ত করেছেন যে, যুল হুলায়ফায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
ইহরামতালবিয়া পাঠের সময় ছিল, যখন তার বাহন৩ তাকে নিয়ে স্থির দাড়িয়েছিল (এ সব
রিওয়ায়াত বাহনা ৷রোহী হওয়ার পরে ইহরাম-তা লবিয়া পাঠফেই প্রমাণ করে) তবে আইশা
বিনৃত সাদ (র) হতে বর্ণিত মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার (র)-এর হাদীস সাদ
বলেছেন, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) আল ফার’-এর পথ ধরে চললে তালবিয়ড়া উচ্চারণ করতেন, যখন
তার বাহন তাকে নিয়ে স্থির হত ৷ আর অন্য কোন পথ ধরে চড়লে প্রাম্ভরের চড়াইয়ে উঠার
পরে তালবিয়া উচ্চারণ করতেন ৷ আবু দ ৷উদ (র), বায়হাকী (র) ও ইবন ইসহাক (র) সুত্রে এ
হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এ হাদীস ৰিৱলতা ও অপ্রামাণ্যতা দোষযুক্তৃ ৷ আল্লাহ্ই সমধিক
অবগত ৷

মাে,টকথা উল্লিখিত সব সুত্রেই সুনিশ্চিত কিৎবা প্রায় সুমিশ্চিতভা রে প্রতীয়মান হয় যে, নবী
করীম আলা ৷ইহিস সালাম সালাং৩ তর পরেই এবং তার বাহনে আরোহণ করার পরে বাহন তাকে
নিয়ে চলতে শুরু করার পরেই তিনি ইহরাম রেধেছিলেন ৷ সেই সাথে ইবন উমর (রা)-এর
তার রিওয়ড়ায়াতে অধিক তথ্য প্রদান করেছেন যে, তিনি (সা) তখন কিবলামুথী ছিলেন ৷

নবী করীম (সা) এর হজ্জ র্কীরুপ ছিল? ইফরাদ, তামাত্তু নাকি কিরলোঃ

এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনীন আইশা (রা)-এর রিওয়ায়াত আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন
ইদরীস ইমাম শ্ ৷ড়াফিঈ (র) বলেন, মালিক (র)অ আইশা (বা) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে,
রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) ইফরাদ (উমরাবিহীন শুধু) হজ্জ করেছিলেন ৷ মুসলিম (র) ইমাম আহমদ,
ইবন মাজা ও নাসাঈ (র) বিভিন্ন সনদে তা রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আহমদ (র) আরো বলেন,
ইসহাক ইবন ঈসা (র)আ ড়াড়াইশ ড়া(রা) হতে এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ হ(সা) ইফরাদ হজ্জ
করেছিলেন ৷ আহমদ (র) আরো বলেছেন, আবদুর রহমান (র) আইশা (রা) সুত্রে৩ তিনি
বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বের হলাম ৷ আমাদের মাঝে কেউ কেউ হহ্বজ্জর
ইহরাম বাধলো এবং আমাদের কেউ (কউ উমরার ইহরাম বী ধলাে ৷ আমাদের কেউ কেউ হজ্জ
ও উমরা উভয়টির ইহরাম রীধালা ৷ রাসুলুল্লাহ্শ্ (না) (শুধু) হরুজ্জর ইহরাম বাধলেন ৷ যারা
উমরার ইহরাম বেধেছিলেন, র্তারা বায়তুল্লাহ্র তাওয়াক ও সাফা-মারওয়ড়ায় সাঈ করার পর
হালাল হয়ে গেলেন ৷ আর র্যারা হজ্জ কিংবা হজ্জ ও উমরার ইহরাম বেধেছিলেন ৷ র্তারা দশ

তারিখ’ পর্যন্ত হালাল হল না ৷ বুখারী (র), মুসলিম (র) ও আহমদ (র)৩ ভিন্ন ভিন্ন সুত্রে
হাদীসখানা রিওয়ায়াত করেছেন ৷

তবে আহমদ (র) অন্য এক বর্ণনায় কুতায়বা ইব ন সাঈদ (র) আইশা (রা) ’ সুত্রে এ মর্মে
বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বিদায় হহুজ্জ লোকদের নির্দেশ দিয়ে বললেন, যে ব্যক্তি
হরুজ্জর আগে উমরা দিয়ে শুরু করতে চায় সে তাই করুক, আর রাসুলুল্লাহ্ (সা) নিজে শুধু
হৰজ্জর নিয়ব্রুত করলেন, উমরার নিয়াত করলেন না ৷ এটি অতিশয় বিরল একটি হাদীস যা
আহমদ ইবন হাম্বল (র) এককভাবে বর্ণনা করেছেন ৷ তবে এর সনদে কোন ত্রুটি নেই ৷ কিন্তু
এর কোন কোন শব্দ একান্তই আঃহণযােগ্য, তা হল এবং তিনি উমরা করেন নি ( ,
কেননা, এ কথার উদ্দেশ্য যদি হ্যজ্জর সাথে বা তার আগে উঃমরা না করা বুঝানো হয়, তবে
তা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ইফরাদ হত্তজ্জর অভিমত পােষণকারীদের অনুকুল হবে ৷ আর যদি

হতজ্জর সাথে কিৎবা আগে বা পরে একেবারেই উমর৷ না করা বুঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে কোন
আলিম এহেন মত পোষণ করেছেন বলে আমার জানা নেই ৷ তা ছাড়া এ দাবী তখন আইশা
(রা) প্রমুখ হতে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত রিওয়ায়াত নবী করীম (সা) চারবার উমরা
করেছিলেন, বিদায় হদুজ্জর সাথে আদায়কৃত উমরাটি ব্যতীত যার প্রতিটি ছিল যিলকদ
মাসে ৷ ’-এর সাথে সরাসরি বিরােধপুর্ণ হবে (কিরান শীর্ষক অনুচ্ছেদে এ বিষয়ের বিশদ বর্ণনা
দেয়া হবে) ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

অনুরুপ ইমাম আহমদ (র)-এর মুসনাদে বর্ণিত, তার আর একটি রিওয়ায়াত রাওহ (র)
নবী করীম (সা) এর সহধর্গিনীন্ আইশা (রা) সুত্রে বলেছেন, বিদায় হরুজ্জ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হজ্জ
ও উমরার (সমন্বিত) ইহরাম বীধলেন এবং সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) নিলেন; তীর সন্সের
কিছু লোক (শুধু) উমরার ইহরাম বাধলেন এবং হাদী সাথে নিলেন এবং অন্য কিছু লোক
উমরার ইহরাম বাধলেন, তবে তারা কো ন ৷হাদী সাথে নিলেন না ৷ আ ৷ইশা (রা) বলেন, আমি
ছিলাম সে দলে যারা উমরার ইহরাম বাধলেন, তবে আ ৷মি হাদী সাথে নিলাম না ৷ রাসুলুল্লাহ্
যখন মক্কায় উপনীত হলেন তখন বললেন-

“ তোমাদের মাঝে যারা উমরার ইহরাম বেধেছে এবং সাথে হাদী নিয়ে এসেছে তারা যেন
বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করে এবং সাফা-মারওয়ায় সাঈ করে, আর তাদের হজ্জ সমাধ৷ না করা
এবং দশ তারিখে তাদের হাদী কুরবানী না করা পর্যন্ত তাদের জন্য যা হারাম হয়েছিল তার
কিছুই হালাল হবে না ৷ আর তোমাদের মাঝে যার৷ উমরার ইহরাম বেধেছে তবে সাথে হাদী
নিয়ে আসে নি, তারা যেন বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করে এবং সাফা মারওয়ায় সাঈ করে,
তারপর চুল ভুাটে ও হালাল হয়ে যায় ৷ পরে যেন (যথাসময়) হত্তজ্জর ইহরাম করে এবং
হাদী কুরবানী করে; অবশ্য যারা তাতে সমর্থ না হয়ে তাদের জন্য হস্কজ্জর দিনগুল্যেতে
তিনটি এবং যখন বা ৷ড়িতে ফিরে যাবে তখন সাতটি (মো ৷ট দশটি) রােয৷ ৷ আ ৷ইশা (রা)
বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন হজ্জ যা ছুটে যাওয়ার আশং কা করছিলেন, আগে সমাধা
করলেন, পরে উমরা করলেন ৷ এ হাদীসটিও ইমাম আহমদ (র) এর একক বর্ণনা ৷ এর
কতক শব্দ অপরিচিতি দুষ্ট; তবে কতকের আবার বিশুদ্ধ বর্ণনার সমর্থক’ (শাহিদ)
রয়েছে৷ ৷ত৷ ছাড়া (সনদের দ্বিতীয়) রাৰী সালিহ ইবনুল আখযার (তার শায়খ ইব ন শি ৷হাব)
যুহরী (র) এর সেরা ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বিশেষত যখন অন্যান্য রা ৷বী তার প্রতিকুল
বিবরণ দেয় ৷ যেমন এ ক্ষেত্রে তার বর্ণিত কতক শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৷ তদুপরি হজ্জ যা
ছুটে যাওয়ার আশং কা করছিলেন, আগে আদায় করলেন এবং উমর৷ পিছিয়ে দিলেন ৷
উক্তিটি এ হাদীসের প্রথমাং শের হজ্জ ও উমরার (সমন্বিত) ইহরাম করলেন’ এর সাথে
সঙ্গভিপুর্ণ নয় ৷ কেননা, এ কথার উদ্দেশ্য যদি এমন হয় যে, যে ৷টামুটিভাবে হজ্জ ও উমরা
উভয়ের ইহরাম (অর্থাৎ নিয়াত) করেছিলেন এবং হরুজ্জর কার্যক্রম আগে সম্পন্ন করেন এবং

Leave a reply