রাসূলুল্লাহ (না)-এর নবুওত লাভ এবং এতদসম্পর্কিত কয়েকটি পৃর্বাভাস

য়াসুলুস্নাহ (না)-এর নবুওত লাভ এবং
এতদ্সস্পার্কিত কঃরকটি পুরতািস

মুহষ্মেদ ইবন ইসহাক বলেন, অনেক ইহুদী পণ্ডিত, নাসারা গণক এবং আরবের অনেকে
আবির্ভাবের আগেই রাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে বলাবলি করতেন যে, তীর আগমনের সময় ঘনিয়ে
এসেছে ৷ ইহুদী ও নাসারা পণ্ডিতপণ তাদের কি৩ তাবসমুহে বর্ণিত রাসল (সা) এর গুণারলী ও
তার আগমন কালের বিবরণ এবং তাদের নযীদের প্রতিশ্রুতি থেকে রষয়টির ব্যাপারে অবহিত
হতে পেয়েছিলেন ৷ যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :

অর্থাৎ যারা অনুসরণ করে বা৩ ড়াবাহক উন্নী নবীর, যার উল্লেখ তাওরাত ও ইনৃজীল যা
তাদ্যেষ্ক নিকট আছে তাতে লিপিবদ্ধ পায়; (৭ আ রাফং ১৫৭)

আল্লাহ তা আলা অন্যত্র বলেন :

স্মরণ কর, যখন ঈসা ইবন মরিয়ম বলল, হে বনী ইসরাঈল আমি তোমাদের প্ৰতি প্রেরিত
আল্লাহ্র রাসুল, আমার আগমন পুর্বের তাওরাতের সত্যায়নকারী রুপে এবং এমন এক রড়াসুলের
সুসংবাদ দানকারী রুপে যিনি আমার পরে আগমন করবেন, যার নাম হবে আহমদ ৷

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন

মুহাম্মদ আল্লাহ্র রাসুল ৷ তার সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে
পরস্পরের প্রতি সহড়ানুতুতিশীল; আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য়

সিজদায় অবনত দেখবে ৷ তাদের লক্ষণ তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন পরিস্ফুটিত থাকবে;
তাওরাতে তাদের বর্ণনা এইরুপ এবং ইনজীলেও এইরুপই ৷ (৪৮ ফাতহ : ২৯)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

অর্থাৎ স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে , তােমাদেরকে কিতাব ও
হিকমত যা কিছু দিয়েছি অতপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থকরুপে যখন একজন
রাসুল আসবে তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে ৷ তিনি
বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলো এবং এ সম্পর্কে আমার অঙ্গীক ন্ র কি তোমরা গ্রহণ করলো

তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম ৷ তিনি বললেন, তবে তোমরা নাক্ষী থাক এবং আমিও
তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম ৷ (৩ আলে ইমরান : ৮১)

সহীহ বুখারীতে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আল্লাহ যত নবী
প্রেরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, যদি মুহাম্মদের
আবির্ভাব ঘটে আর তখন তিনি জীবিত থাকেন, যেন অবশ্যই তিনি মুহাম্মদ (না)-এর প্রতি
ঈমান আনয়ন করেন এবং তাকে সাহায্য করেন ৷ আর প্রত্যেক নবীকে আল্লাহ এই নির্দেশ
দিয়েছেন, যেন তারা নিজ নিজ উম্মত থেকে এই অঙ্গীকার নিয়ে রাখেন যে, যদি মুহাম্মদের
আবির্ভাব ঘটে আর৩ রা৷ তখন জীবিত তাকে যেন তারা তার প্রতি ঈমান আনে এব০ তাকে
সাহায্য করে এবং৩ ৷ ওার অনুসরণ করে ৷

এই হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, প্রত্যেক নবীই মুহাম্মদ (সা) এর ব্যাপারে সুস০ বাদ প্রদান
করেছেন এবং তার আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন ৷

হযরত ইব্রাহীম (আ) মক্কাবাসীদের জন্য যে দোয়া করেছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন হ্র

অর্থাৎ হে আমাদের প্রতিপালক আপনি তাদের মধ্য হতে ৩তাদের নিকট এক রাসুল প্রেরণ
করবেন, যিনি আপনার আয়াতসমুহ৩ ৷দের নিকট তিলাওয়াত করবেন ৷ (২ বাকার :১২৯)
ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু উমাম৷ (রা) বলেছেন, আমি বাংলায়, ইয়া
রাসুলাল্লাহ! আপনার মিশনের সুচনা কি ছিল? জবাবে নবী করীম (সা) বললেন :

আমার মিশনের সুচনা আমার পিতা ইবরাহীমের দোয়া, ঈসার সুসংবাদ আর আমার মা
দেখেছিলেন যে, তার ভিতর থেকে এমন একটি আলো বের হচ্ছে, যার ফলে শামের

রাজ-প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গিয়েছিল ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক অন্যান্য সাহাবী সুত্রেও
অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷

অর্থাৎ সাহাবী হযরত আবু উমামা (বা) জানতে চেয়েছিলেন যে, মানুষের মাঝে রাসুল
(না)-এর মিশনের সুচনা এবং তার প্রচার প্রসার কিভাবে হয়েছিলঃ তড়াই নবীজী (সা) সেই
ইবরাহীমের দােয়ার কথা উল্লেখ করলেন, যিনি গোটা আরবের মধ্যমণি হিসেবে স্বীকৃত ৷
তারপর ঈসা (আ)-এর সুসংবাদের কথা বললেন, যিনি বনী ইসরঈলেব নবীদের সর্বশেষ নবী ৷
উপরে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে ৷ এতে প্রমাণিত হয় যে, এই দুই নবীর মাঝে আরো যে
সব নবী ছিলেন, র্তারাও মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করে গেছেন ৷ পক্ষাম্ভরে
উর্ধ্বজগতে হযরত আদম (আ)-এব সৃষ্টির পুর্ব থেকেই রাসুল (সা) এর মিশন প্রসিদ্ধ,
আলোচনার বিষয় এবং জ্ঞাত বিষয় ছিল ৷ যেমন ইমাম আহমদ (র) ইরবাজ ইবন মারিয়া (বা)
থেকে বর্ণনা করেন যে, ইরবাজ (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (না) বলেছেন :

আমি আল্লাহ্র বন্দো, সর্বশেষ নবী ৷ অথচ আদম তখন তার কাদামাটিতে লুটোপুটি

খাচ্ছেন ৷ আর আমি তোমাদেরকে এর সুচনা সম্পর্কে অবহিত করব ৷ এটি ইবরাহীমের দোয়া,
আমার ব্যাপারে ঈসড়ার সুসংবাদ এবং আমার মায়ের দেখা স্বপ্ন ৷ ড্ডাপ মৃমিনদের মাগণেরও ৷ ’

লায়ছ মুআবিয়া ইবন সালিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, মুআবিয়া ইবন সালিহ বলেন,
রাসুলুল্পাহ (না)-এর যা তাকে প্রসব করার সময় একটি আলো দেখতে পান যার ফলে শামের
রাজপ্রাসাদসমুহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল ৷

ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন যে, মায়সারা আল-ফাজর (রা) বলেন, আমি বললাম , ইয়া
রাসুলাল্লাহ! আপনি কখন থেকে নবী ছিলেন ? জবাবে তিনি বললেন :

আদম যখন রুহ আর দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় (আমি তখনও নবী) ৷

উমর ইবন আহমদ ইবন শাহীন দালায়িলুনুবুয়ব্রড়াতে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আবু
হুরায়রা (রা) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (না)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনার জন্য নবুওত
সাব্যস্ত হয় কখন ? জবাবে নবী করীম (সা) বললেন :

আদম-এর সৃষ্টি এবং তীর মধ্যে রুপ কুকে দেয়ার সময়ও আমি নবী ছিলাম ৷

১ এটা সম্ভবত ছাপার ত্নল ৷ ইমাম আহমদের মুল বর্ণনায় আছে ৷
অর্থাৎ নবীগণের মাগণই এরুপ স্বপ্লই দেখে থাকেন ৷ মাওযাহেব

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি রল্যেছন৪ ,
আদম তখন তার সৃষ্টির উপাদান কাদাণ্যাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন ৷

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
পবিত্র কুরআনের আয়াত

এর ব্যাখ্যার বণেছেম্ং :

সৃষ্টির বেলায় আমি সর্বপ্রথম নবী আর আবির্ভাবের দিক থেকে সকলের শেষ নবী ৷

এককালে জিন শয়তানরা আড়ি পেতে আসমড়ানের সংবাদ ন্স ৎগ্রহ করত ৷ এভাবে তারা
ফেরেশতাদের আলোচনা শুনে তা তাদের গণকদের ক নে দিত ৷ ভ্রখনও তারকা নিক্ষেপের
মাধ্যমে তাদের বিতাড়িত করা হতো না ৷ এভাবে রাসুলুল্পাহ্ (স্যা এর আবির্ভাব সংক্রান্ত কিছু
তথ্যও তারা সংগ্রহ করে আরবের পণকদের শোনার ৷ ফলে আরবের মানুষ তা জেনে যায় ৷
রাসুল (না)-এর নবুওত প্রাপ্তির প্রাক্কালে শয়তানদের আকাশের সংবাদ শ্রবণের সে পথ রুদ্ধ
করা হয় এবং শয়তান ও তারা যে সব স্থানে বসে সংবাদ শ্রবণ করত, তার মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি
করা হয় ৷ তাদের প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হয় ৷ তাতে শয়তানরা বুঝে নেয় যে, আল্লাহর
আদেশে নতুন কিছু একটা ঘটেছে বলেই এমন হচ্ছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ
তাআলা তীর রাসুলের প্রতি নাযিল করেন :

বল, আমার প্ৰতি ওহী প্রেরিত হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্ররণ
করেছে এবং রলেছে আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি, যা সঠিক পথ-নিদের্শ

করে; ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি ৷ আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন
শরীক স্থির করব না ৷ (৭২ জিন : ১ ২)

আমি আমা র তাফসীর গ্রন্থে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছি ৷
আল্লাহ তা আলা অন্যত্র বলেন :

স্মরণ কর, আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম একদল জিনকে যারা কুরআন পাঠ
শুনছিল ৷ যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হলো, তারা বলল, চুপ করে শ্রবণ কর ৷ যখন কুরআন
পাঠ সমাপ্ত হলো, তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল সতর্ককারীরুপে ৷ তারা বলল, হে
আমাদের সম্প্রদায় ! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শ্রবণ করেছি, যা অবতীর্ণ হয়েছে মুসার
পরে, এটা তার পুর্ববর্তী কিতাবকে সমর্থন করে এবং সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত
করে ৷ (৪৬ আহকাফ : ২৯৩০ )

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন যে, ইয়াকুব ইবন উতবা ইবন মুগীরা ইবন আখনাস
বলেন, উল্কা নিক্ষেপের ফলে সর্বপ্রথম ভয় পেয়েছিল সাকীফ গোত্রের একটি শাখা ৷ আমর ইবন
উমাইয়া নামক বনু ইলাজ-এর অতি তীক্ষ্ণধী ও ধুর্ত এক ব্যক্তি ছিল ৷ সাকীফ এর সেই
সােকগুলো তার নিকট গিয়ে বলল, হে আমরা এসব উল্কা নিক্ষেপের ফলে আকাশে কী ঘটেছে,
আপনি কী তা লক্ষ্য করছেন না ? লোকটি বলল, হ্যা, লক্ষ্য করছি বৈকি ৷ তোমরা খোজ নিয়ে
দেখ, এটি কোন তারকা ষ্ যদি এটি জলে-ন্থলে , শীভ্রুতগ্রীভ্রুষ্ম দিক নির্ণয়কারী সেই তারকা হয়,
তবে আল্লাহ্র শপথ, এই ঘটনা দুনিয়ার বিপর্যয় আর এই সৃষ্টি জগতের ধ্বংস বৈ নয় ৷ আর
যদি এটি অন্য তারকা হয়, সেই তারকা যদি আপন স্থানে বহাল থাকে, তবে বুঝতে হয়ে এটি
আল্লাহ্র বিশেষ কোন সিদ্ধান্তের ফলে হয়েছে ৷ তোমরা খোজ নিয়ে দেখ আসল ঘটনা কী ?

ইবন ইসহাক বলেন, কোন কোন আলিম বর্ণনা করেন যে, বনু সাহ্ম গোত্রের এক মহিলা
ছিল ৷ নাম ছিল তার ণাইতালাহ ৷ জাহেলী যুগে সে জ্যোতিষী ছিল ৷ এক রাতে তার জিন
সঙ্গীটি তার নিকট আসে ৷ এসে সে আওয়াজ দিয়ে বলে, অড়ামি যা জানবার জানি উৎসর্গের
দিন ৷ কুরায়শরা এ সংবাদ শুনে বলল, সে আসলে কী বলতে যাচ্ছে ? তারপর সে আরও এক
রাতে এসে অনুরুপ আওয়াজ দিয়ে বলল, ঘীটি, জান ঘাটি কী ? দক্ষিণের অভিজাত বাহিনী
তাতে ধরাশায়ী হবে ৷ এ সংবাদ পেয়েও কুরায়শরা বলল, লোকটি কী বলতে চায়ঃ কিছু একটা
ঘটতে যাচ্ছে বোধ হয় ৷ তোমরা লক্ষ্য রায় , কী ঘটে ৷ কিন্তু তখনো তারা কিছুই বুঝে উঠতে
পারল না ৷ যখন ঘীটির নিকট বদর ও উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হলো তখন তারা বুঝতে পারল যে,
জিনটি আসলে কী সংবাদ দিয়েছিল ৷

ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন, আলী ইবন নাফি আল-জুরাশী বলেন যে, জাহেলী যুগে
ইয়ামানের জামব গোত্রের একজন পণক ছিল ৷ যখন রাসুলুল্লাহ (না)-এর ব্যাপারে বলাবলি শুরু
হলো এবং তা গেটি৷ আরবে ছড়িয়ে পড়ল, তখন ঐ গোত্রের লোকেরা ঐ গণককে বলল, এই
লোকটির ব্যাপারে একটু ভেবে দেখুন ! তারা তার সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য এক পাহাড়ের
পাদদেশে সমবেত হলো ৷ সুর্য উদিত হলে সে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হয় ৷ তাদের নিকট
পৌছে সে তার ধনুকের ওপর ভর দিয়ে দাড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে ৷
তারপর মাথা দোলাতে দোলাতে বলে, লোক সকল ! আল্লাহ মুহাম্মদকে সম্মানিত করেছেন,
তাকে মনোনীত করেছেন ও তার অভরকে পবিত্র করেছেন ৷ লোক সকল ৷ তোমাদের মাঝে তার
অবস্থান ক’দিনের মাত্র ৷ এই বলে সে যেখান থেকে এসেছিল, দ্রুতপদে সেখানে চলে যায় ৷
ইবন ইসহাক এরপর সাওয়াদ ইবন কারিব-এর কাহিনী উল্লেখ করেন ৷ সেই আলোচনা আমরা
জিনদের অদৃশ্যবাণী’ অধ্যায়ের জন্য রেখে দিলাম ৷

অধ্যায়

ইবন ইসহড়াক বর্ণনা ৷করেন, আসিম ইবন আমর ইবন ক ৷তাদা’ব গোত্রের কতিপয় লোক
বলে, আমরা ছিলাম মুর্তিপুজারী মুশরিক আর ইহুদীরা ছিল আহলে কিতাব ৷৩ তাদের নিকট
এমন বিদ্যা ছিল, যা আমাদের নিকট ছিল না ৷ তাদের ও আমাদের মাঝে সর্বদা সং ঘাত লেগেই
থাকত ৷ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হলে তারা আমাদেরকে রলত , প্রতিশ্রুত একজন নবীর
আগমনের সময় ঘনিয়ে এস্যেছ ৷ আদ ও ইরাম জাত ৷তিকে হত্যা করার ন্যায় আমরা তার সঙ্গে
যোগ দিয়েও তামাদেরকে হত্যা করব ৷ তাদের মুখ থেকে এ কথাটি আমরা বহুবার শুনেছি ৷
কিন্তু রাসুলুল্পাহ (স ) আবির্ভুত হয়ে যখন আমাদেরকে আল্লাহর পথে আহ্বান করলেন, তখন
আমরা তার ডাকে স ৷ড়৷ দিলাম ৷ তারা আমাকে যার ভয় দেখাত, আমরা ৷র্তাকে চিনে ফেললাম
এবং তাদের আগে আমরা তার সঙ্গে যোগ দিলাম ৷ আমরাত পর প্রতি ঈমান আনয়ন করলাম
আর তারা তাকে অস্বীকা ৷র করল ৷৩ তাই আমাদের ও তাদের ব্যাপার এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ

তাদের নিকট যা আছে যখন তা ৷ল্লাহ্র নিকট হতেত তার সমর্থক কিতাব আসল; যদিও পুর্বে

সত্য প্রত্যাখ্যানবগরীদের বিরুদ্ধে তারা এর সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত তবুও তারা যা জ্ঞাত

ছিল, যখন তা তাদের নিকট আসল, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল ৷ সুতরাংক ফিকারদের প্রতি
আল্লাহ্র লা নত ৷ (২ বাক্য বা : ৮৯)

ইবন আবু নাজীহ সুত্রে আলী আল-আযদী থেকে ওয়ারাকা বর্ণনা করেন যে, আলী
আল-আয্দী বলেন, ইহুদীরা বলত, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আপনি এই নবীকে প্রেরণ
করুন! তিনি আমাদের ও লোকদের মাঝে মীমাৎসা করে দেবেন ৷ তারা নবীর উসীলা দিয়ে
বিজয় প্রার্থনা করত ৷

ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, ইহুদীরা খায়বা ৷রে পাতফানের সঙ্গে
লড়াইয়ে লিপ্ত হয় ৷ এক পর্যায়ে ইহুদীরা পরাজিত হয় ৷ তখন তারা এই দোয়া করে যে, হে
আল্লাহ! সেই উগী নবী মুহাম্মদের উসীলায় আমরা প্ৰতিপক্ষের ওপর বিজয় প্রার্থনা করছি, যাকে
শেষ যমানায় প্রেরণ করবেন বলে আপনি আমাদের নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৷ তারপর যখন
নবী কবীম (সা) প্রেরিত হন তখন তারা র্তাকে অস্বীকার করে ৷

ইবন ইসহাক বলেন, বদরী সাহাবী সালাম৷ ইবন সালাম ইবন ওকাশ (রা ) বলেন, বনু
আবদুল আশহালের জনৈকইহুদী আমাদের প্রতিবেশী ছিল ৷ একদিন সে তার ঘর থেকে বের
হয়ে আসে ৷ আমি তখন আমার ঘরের আঙিনায় কম্বল বিছিয়ে শুয়ে আছি ৷ আমি তখন সবেমাত্র
কিশোর ৷ যা হোক, লোকটি এসে কিয়ামত, পুনরুন্থান, হিসাব, যীযান ও জান্নাত-জাহান্নামের
কথা আলোচনা করে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, কথাটা সে মৃত্যুর পর পুনরুথানে বিশ্বাস করে মা-

এমন মুর্তিপুজারী মুশরিকদের নিকট ব্যক্ত করলে তারা বলে, ধ্যাৎ, এসবও আবার হবে নাকি ?
মৃত্যুর পর পুনরুথিত করে মানুষকে এমন জগতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে জান্নাত-জাহান্নড়াম
আছে এবং সেখানে তাদেরকে কর্মফল দেয়া হবে, এমন কথা তোমার ৷বশ্বাস হয় ? লোকটি
বলল, হ্যা, আমি এসবে বিশ্বাস করি ৷ লোকেরা বলল, তা হলে এর লক্ষণ কী? যে বলল, এর
লক্ষণ হলো, এই নগরী থেকে একজন নবী আবির্ভুত হবেন ৷ মক্কা ও ইয়ামানের প্রতি ইঙ্গিত
করে সে বলল ৷ লোকেরা জিজ্ঞেস করল, তাকে আমরা করে দেখব? বর্ণনাকারী বলেন, জবাবে
সে আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করল ৷ আমি তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ৷
সে বলল, এই বালকটি যদি পরিণত বয়স লাভ করে তাহলে সে তীকে দেখতে পাবে ৷ সালামা
বলেন, আমি আল্লাহ্র শপথ করে বলছি, এরপর একরাত একদিন অতিবাহিত হতে না হতে
আল্লাহ্ তার রাসুল (সা) কে প্রেরণ করেন ৷ ইহুদী লোকটি তখন আমান্থদর মাঝে জীবিত ৷ ফলে
আমরা তার প্রতি ঈমান আনয়ন করলাম, কিন্তু অবাধ্যতা ও হিংসাবশত সে তাকে অস্বীকার
করল ৷ আমরা তাকে বললাম, কী খবর ৷ তুমি না আমাদেরকে কী সব কথা-বার্তা বলতে ৷ সে
বলল, বলতাম তো ঠিক, কিন্তু ইনি তিনি নন ৷ আহমদ এবং বায়হাকী হাকিম সুত্রে এটি বর্ণনা
করেছেন ৷

আবু নুআয়ম দালায়িল’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে সালামা বলেন, বনু
আব্দুল আশৃহড়ালে একজন ছাড়া আর কোন ইহুদী ছিল না ৷ নাম তার ইউশা ৷ আমি তখন
বালক, সবেমাত্র লুঙ্গিপরা শুরু করেছি, তাকে বলতে শুনেছি, একজন নবী তোমাদের মাথায়
ছায়া পাত করে রেখেছেন ৷ এই ঘরের দিক থেকে তিনি আবির্ভুত হবেন ৷ তারপর সে
বায়তুল্লাহর দিকে ইশারা করে ৷ বলে, যে ব্যক্তি র্তাকে পারে সে যেন অবশ্যই তার প্রতি ঈমান
আনয়ন করে ৷ এক সময় রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবিত্যুঃ হলেন ৷ আমরা তার প্রতি ঈমান আনয়ন
করলাম ৷ আর সেই ইহুদী লোকটি আমাদের মাঝে উপস্থিত ৷ কিন্তু বিদ্বেষ ও অবাধ্যতাবশত সে
ঈমান আনল না ৷

ইতিপুর্বে আমরা রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর আবির্ভাব ও র্তার গুণ-পরিচয় প্রদানকারী এই ইউশা
এবং রাসুলুল্লাহ (না)-এর জন্ম-তারকার আত্মপ্রকাশ সংক্রান্ত যুবায়র ইবনে বাতা-এর আলোচনা
করে এসেছি ৷ ইবনে ইসহাক বলেন, আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদা বর্ণনা করেছেন যে , বনু
কুরায়জার জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, আপনি বনু কুরায়জার জাতি-গোষ্ঠী বনু
হাদাল-এর লোক ছালাবা ইবনে সা’য়া, উসায়দ ইবনে সা’য়া ও আসাদ ইবনে উবায়দ-এর
ইসলাম গ্রহণের পটভুমি জানেন কি ? এরা জাহেলী যুগে বনু কুরায়জার সঙ্গে ছিল ৷ তারপর
ইসলামের যুগেও তারা বনু কুরায়জার নেতৃতু প্রদান করে ৷ আমি বললাম , না, জানি না ৷

তিনি বললেন ;; সিরিয়ার অধিবাসী ইবনে হড়ায়বান নামক এক ইহুদী ইসলামের আবির্ভাবের
কয়েক বছর আগে আমাদের নিকট আসে ৷ এসে লোকটি আমাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করে ৷
আল্লাহর শপথ ! তার অপেক্ষা উত্তম পড়াচ ওয়াক্ত নামায আদায়কারী আর কাউকে আমি দেখিনি ৷
লোকটি আমাদের নিকট ন্থায়িভাবে অবস্থান করতে শুরু করে ৷ আমাদের অঞ্চলে কখনো
অনাবৃষ্টি দেখা দিলে আমরা তাকে বলতাম, হে ইবনে হায়বান৷ আসুন আমাদের জন্য বৃষ্টির

প্রার্থনা করুন ৷ জবাবে তিনি বলতেন, না, আল্লাহর শপথ ! আগে সাদাকা পেশ না করলে আমি
এ কাজ করতে পারব না ৷ আমরা বলতড়াম, কত দিতে হবে বলুন ৷ তিনি বলতেন, একসা
খেজুর কিৎবা ইে যুদ্দ য়ব ৷ আমরা উক্ত পরিমাণ সদােকা পেশ করতাম এরপর তিনি আমাদের
নিয়ে ফসলের মাঠে গিয়ে আমাদের জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করেন ৷ আল্লাহর শপথ ! তার সেই
দোয়ার অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতে আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টিপাত শুরু হতো ৷ এভাবে দৃবার
তিনবার নয় তিনি বহুবার এরুপ দোয়া করেছেন ৷ তারপর আমাদের নিকট থাকাবন্থড়ায়ই তার
মৃত্যুর সময় হয় ৷ যখন তিনি আচ করতে পারলেন যে, তার আর র্বাচা হবে না, তখন তিনি
বললেন, হে ইহুদী সম্প্রদায় ! তোমরা কি জান, কিসে আমাকে প্রাচুর্যের দেশ থেকে এই
অভাবের দেশে বের করে এনেছে ? আমরা বললাম, আপনি ভালো জানেন ৷ তিনি বললেন,
আমি এমন এক নবীর আবির্তাবের অপেক্ষায় এ দেশে এসেছি, যার আবির্তাবকাল অতি
নিকটে ৷ এই নগরী তার হিজরত ভুমি ৷ আমি আশা করতড়াম নে , তিনি আবির্ভুত হবেন আর
আমি তার অনুসরণ করব ৷ তবে তার সময় কিন্তু নিকটে ৷ কাজেই হে ইহুদী সম্প্রদায় ও
তোমাদের আগে যেন অন্য কেউ তার সঙ্গী হতে না পারে ৷ আবির্ভুত হমোঃ পর যারা তার
বিরুদ্ধাচরণ করবে, তাদের সঙ্গে তার রক্তারক্তি হবে এবং বন্দীকরণ ও দাস বানানোর ঘটনা
ঘটবে ৷ অতএব কোন কিছু যেন তােমাদেরকে তার অনুসরণ থেকে বিরত না রাখে ৷ তারপর
যখন রাসুল (সা) আবির্ভুত হলেন এবং বনু কুরায়জাকে অবরোধ করলেন, তখন যুবকরা
বলল এখন তারা টগবগে যুবক হে বনু কুরায়জা সম্প্রদায়ের লোকজন! আল্লাহর কসম!
ইনিই সেই নবী, ইবনে হায়বান তােমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ৷ তারা বলল, না ইনি
সেই ব্যক্তি নন ৷ যুবকরা বলল, হ্যা, আল্লাহর কলম, তিনি যেসব গুণাগুণের বিবরণ
দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী ইনিই সেই ব্যক্তি ৷ এরপর তারা দুর্গ থেকে নেমে এসে ইসলাম গ্রহণ
করে নিজেদের রক্ত, সম্পদ ও পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করে ৷ ইবনে ইসহাক বলেন, ইহুদীদের
ব্যাপারে আমি বা জানতে পেয়েছি, এই হলো তার বিবরণ ৷

আমরা উপরে উল্লেখ করে এসেছি যে, তুব্বা আল-ইয়ামানী যার উপনাম আবু কারব
তৃব্বান আসআদ মদীনা অবরোধ করতে এসেছিলেন ৷ তখন দুইজন ইহদী পণ্ডিত তার নিকট
উপস্থিত হয়ে বললেন, এ কাজে সফলতা অর্জন করা আপনার পক্ষে সষ্ম নয় ৷ কারণ এটি
এমন আখেরী নবীর হিজরত ভুমি, যিনি শেষ যষানায় আগমন করার কথা ৷ এ কথা শুনে তুব্বা
তার সংকল্প থেকে বিরত হন ৷ আবু নুআইম তার দালায়িল’ গ্র;ড়োত্তণ্উল্লেধ্ করেছেন যে,
আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন যায়দ ইবনে সাইঃাকে হেদায়ত দান
করার ইচ্ছা করলেন, যায়দ বললেন, দু’টি ব্যতীত নবুয়তের সব কটি লক্ষণই আমি প্রথম
দর্শনে রাসুলুল্লাহ (না)-এর চেহারায় প্রত্যক্ষ করি ৷ যে দুটি লক্ষণ প্রথম দর্শনে দেখতে পাইনি,
তা হলো তার সহনশীলতা অজ্ঞতার ওপর প্রবল থাকবে এবং তার সঙ্গে স্কোড়াসুলভ আচরণ
যত বেশি করা হবে, তার সহনশীলতা ততই বৃদ্ধি পাবে ৷ যায়দ ইবনে স্কো৷ বসে , ফলে আমি
একান্ত ঘনিষ্ঠতা লাভ করে তার সহনশীলতা ও অজ্ঞতা যাচাইৰুন্নাৰ্ প্রচেষ্টার লেগে যাই ৷
তারপর তিনি নবী করীম (না)-এর নিকট ধারে মাস বিক্রন্নের ৰুলোঃ ট্যাংখ করেন এবং

বলেন, যখন সেই ঋণ পরিশোধ করার দিন তারিখ এসে গেল, আমি তার নিকট গিয়ে র্তার
আমার কলার এবং চাদর টেনে ধরি ৷ তিনি তখন তার সাহাবীগণের সঙ্গে এক জানাযায়
উপস্থিত ছিলেন ৷ আমি তার প্রতি উগ্র মুর্তিতে দৃষ্টিপাত করি এবং বলি, মুহাম্মদ৷ তুমি কি
আমার পাওনা আদায় করবে না? আল্লাহর শপথ, আমি জানি, আব্দুল মুত্তালিবের বংশটাই
লেনদেনে এভাবে টালবাহানা করতে অভ্যস্ত ৷” যায়দ বলেন, একথা শুনে উমর (বা) আমার
প্রতি চোখ তুলে তাকালেন ৷ তার চোখ দৃ’টো যেন ভাটার মত জ্বলছে ৷ তা ৷রপর তিনি বললেন,
ওহে আল্লাহর দৃশমনা তুই আল্লাহর রাসুলকে কী বলছিস আর তার সঙ্গে কী আচরণ করছিল
সবই আমি শুনৃছি, দেখছি ৷ সেই আল্লাহ্র শপথ, যিনি তাকে সত্যসহ ৷;প্রর ৷ করেছেন আমি
যদি ত ৷র ভৎসনার ভয় না করতাম, তা হলে৩ তলোয়ার দিয়ে তোর গদান উড়িয়ে দিতাম ৷ রাসুল
(না) তখন শান্ত ও হাসিমুখে উমর (রা) এর প্রতি তাকিয়ে আছেন ৷৩ তারপর তিনি বললেন :

“হে উমর! আমার আর তার তোমার থেকে এর স্থলে অন্যরুপ ব্যবহার প্রাপ্য ছিল ৷
তোমার উচিত ছিল, আমাকে ঋণ আদায়ে উত্তম পন্থা অবলম্বন করার এবং তাকে আমার সঙ্গে
উত্তম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া ৷ যাও হে উমর ৷ লোকটার পাওন৷ পরিশোধ করে দাও ৷ আর
ৰিশসা (প্রায় দেড় মণ) খেজুর বেশি দিয়ে দাও ৷,

এ ঘটনা দেখে যায়দ ইবনে সাইয়৷ মুসলমান হয়ে যান এবং তার পরবর্তীকালের সকল
জিহাদে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন ৷ তাবুকের বছর তিনি ইনতিকা ৷ল করেন ৷
আল্লাহ ত ৷র ৷প্রতি স৩দয় হোনা তারপর ইবনে ইসহাক হযরত সালমান ফ৷ ৷রসী (বা ) এর ইসলাম
গ্রহণের কাহিনী বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন :

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, সালমান ফারসী (বা) নিজের মুখে আমাকে
বলেছেন যে, আমি ছিলাম ই’ংপাহানের অধিবাসী এবং পারসিক ধর্মাবলম্বী ৷ যে গ্রামে আমার
বাস ছিল৩ তার নাম জাই ৷ আমার পিতা ছিলেন সেই গ্রামের প্রধান ৷ আমি ছিলাম পিতার
সর্বাধিক প্রিয় পা ৷ত্র ৷ স্নেহের আতিশয্যে তিনি আমাকে ত ৷র গৃহে আবদ্ধ করে রাখতেন, যেমন
দাসীদের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে ৷ মজুসী ধর্ম আমি অ৩ তান্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করতাম ৷ এক
পর্যায়ে আমিই হলাম সেই অগ্নিকুণ্ডের রক্ষণাবেক্ষণক ৷রী, যা সর্বদা প্রজ্বলিত রাখা হতো, এক
মুহ্রর্তের জন্যও নিভতে দেয়৷ হতো না ৷

তিনি বলেন, আমার পিতা বিপুল জমি জমার মালিক ছিলেন ৷ তিনি নিজেই তার
জমি জমার দেখাশুনা করতেন ৷ একদিন তিনি কোন এক নিম ণ কাজে হাত দেন ৷ ফলে
আমাকে তিনি বলেন, নির্মাণ কাজের ব্যস্ততার কারণে আজকের মত আমি জমিজমা দেখাশুনা
করতে পারছি না ৷ আজকের মত তুমি গিয়ে একটু তদারকি কর ৷ তিনি আমাকে এ সং ক্রম্ভা
কিছু নির্দেশও দেন ৷ তারপর তিনি আমাকে বলেন, ফিরতে বিলম্ব করে৷ না ৷ কারণ তুমি আমার
চোখের আড়ালে চলে গেলে জমিজমার চাইতে তৃমিই আমার বেশি ভ ৷বনার কারণ হয়ে পাতা ও ৷
তখন আমি কোন কাজই করতে পারি না ৷

আল-বিদায়৷ ওয়ান নিহায়৷ (২য খণ্ড) ৭ ৭-

সালমান ফ৷ ৷বসী (বা) বলেন৪ আমি আমার পিতার জমি দেখার জন্য রওয়ানা হলাম ৷
খৃক্টানদের একটি গির্জার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় গির্জার ভি৩ তার খৃক্টানদের আওয়াজ
পেলাম ৷ তখন তারা উপাসনা করছিল ৷ উল্লেখ্য যে, আমাকে ঘরে আটকে রাখার জন্য
লোকজন যে আমার পিতাকে পরামর্শ দিয়েছিল, এতদিন আমি তা জানতাম না ৷ যা হোক, শব্দ
শুনে তাদের কর্মকাণ্ড দেখার জন্য আমি গির্জায় প্রবেশ করলাম ৷ তাদের উপাসনা আমাকে মৃগ্ধ
করল এবং আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি ৷ আমি মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ,
আমরা যে ধর্মে আছি এই ধর্য তার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর ৷ আল্লাহর কসম, তখন থেকে আমি তথায়
সুর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত ঠায় দাড়িয়ে রইলাম ৷ পিত ড়ার জমিজমার কথা একদম ভুলেই গেলাম,
ওখানে যাওয়া আর হলো না ৷ তারপর আমি তাদেরকে বললাম, এই দীন আমি পা কে কোথায়
তারা বলল, সিরিয়ার ৷ আমি পি৩ ৷র নিকট ফিরে গেলাম ৷৩ ততক্ষাণ পিতা আমার অনুসন্ধানে
লোক পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং আমার চিন্তায় তার সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে ৷ আমি উপস্থিত হলে
তিনি বললেন বৎস৷ তুমি ছিলে কােথায়ঃ আমি কি তোমাকে শ্া৷হ্র৷ ফিরে আসার কথা বলে
দেইনি ? সালমান ফারসী (বা) বলেন, আমি বললাম, আব্বাজান যাওয়ার পথে আমি দেখলাম,
কিছু লোক তাদের গির্জায় উপাসনারত ৷ তাদের উপাসনা আমাকে মুগ্ধ করে ৷ আমি আল্লাহর
শপথ করে বলছি, সুর্যাস্ত পর্যন্ত আমি তাদের নিকট সেখানেই দাড়িয়ে থাকি ৷ পিতা বললেন,
বৎস৷ ঐ ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই ৷ তারচেয়ে তোমার ও তোমার পুর্বপুরুষদের ধর্যই উত্তম ৷
আমি বললাম, কখনো নয়, আল্লাহর কলম! ঐ ধর্যই আমাদের ধর্ম অপেক্ষা ৷গ্রেষ্ঠ ৷ সালমান
ফারসী বলেন, এতে পিতা আমাকে ভয় ভীতি দেখান এবং পায়ে শিকল পরিয়ে আমাকে ঘরে
আটকে রাখেন ৷ আমি খৃক্ট নদের নিকট খবর পাঠ লাম যে, তোমাদের নিকট সিরিয়ার কোনো
কাফেলা আগমন করলে আমাকে যেন অবহিত করা হয় ৷ এক সময় একটি কাফেল৷ আগমন
করে ৷ খৃন্টানরা আমার কাছে সংবাদ পাঠায় ৷ আমি বললাম, কাজ শেষ করে যখন তাদের
স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সময় হবে, তখন আমাকে একটু জানিয়ো ৷ তিনি বলেন, তাদের স্বদেশ
প্রত্যাবর্তনের সয়ম হলে খৃক্টানরা আমাকে তা অবহিত করে ৷ আমি পায়ের শিকল ভেঙে তাদের
সঙ্গে রওয়ানা হলাম ৷ এক সময়ে আমি সিরিয়া এসে পৌছলাম ৷

সিরিয়া এসে আমি সেখানকার অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করলাম এই ধর্মের অনুসারীদের শ্রেষ্ঠ
বিদ্বান কে? তারা বলল, গির্জার অবস্থানকারী প্রধান যাজক ৷ আমি তার নিকট গিয়ে বললাম,
আমি এই ধর্মের প্রতি আগ্রহী এবং আমি আপনার সাহচর্যে থাকতে চাই, গির্জায় আপনার সেবা
করতে চাই এবং আপনার নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করে আপনার সঙ্গে উপাসনা করতে চাই ৷
তিনি বললেন, ভিতরে প্রবেশ কর ৷ আমি তার সঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করলাম ৷ কিন্তু পরে বুঝতে
পারলাম, লোকটি আসলে অসৎ৷ সে তার অনুসারীদের সাদক৷ দানের আদেশ দেয় ও সেজন্য
উৎস হি করে, কিন্তু প্রদত্ত সব সাদক৷ যে নিজের জন্য কুক্ষিগত করে রাখে এবং পরীব
মিসকীনদের কিছুই দেয় না ৷ এভাবে সে সাত মটকা ৷সােনা-রুপা সঞ্চয় করে ৷ সালমান ফা ৷রসী
বলেন, এসব আচরণ দেখে লোকটির প্রতি আমার মনে ভীব্রে ঘৃণা র সঞ্চার হয় ৷৩ তারপর লোকটি
৷ ৷যায় ৷ খৃক্টানর৷ তাকে দাফন করার উদ্দেশ্যে সমবেত ৩হলে আমি তাদেরকে বললাম, ইনি
তো অসৎ লোক ছিলেন ৷ ইনি আপনাদেরকে সাদক৷ দেয়ার আদেশ দিতেন এবং এজন্য

উৎসাহিত করতেন বটে; কিন্তু আপনারা সাদকা নিয়ে আসলে তিনি৩ ৷মিসকীনদের না দিয়ে
সব নিজের জন্য রেখে দিতেন ৷ তারা আমাকে বলল, আপনি তা জ নলেন কী করে? আমি
বললাম, আমি আপনাদেরকে তার গোপন ধন তা ভেবে দেখিয়ে দিচ্ছে ৷ তারা বলল, ঠিক আছে,
দেখান ৷ সালমান ফারসী বলেন, আমি তাদেরকে তার গুপ্ত তাণ্ডারের স্থানটি দেখিয়ে দিলাম ৷
সেখান থেকে তারা সাত মটক৷ ভর্তি সােনা-রুপা উদ্ধার করে ৷ দেখে তারা বলে , একে আমরা
দাফনই করব না ৷ তারা তাকে শুলে চড়ায় এবং প্রস্তরাঘাত করে ৷ তারপর তারা অপর এক
ব্যক্তিকে এসে তার স্থলে বসায় ৷

সালমান ফারসী (বা) বলেন, এই নতুন পাদ্রী রীতিমত উপাসনা ৷কভ্রুরন ৷ তার মত দুনিয়ার
প্রতি নিমে হ আখেরাতের প্রতি উৎসাহী এবংব বাতদিন ইবাদ৩ গুজার আর কাউকে আমি
দেখিনি ৷ আমি তাকে ভালোবাসলাম, যেমন ইতিপুর্বে আর কাউকে আমি তা ৷লোবড়াসিনি ৷ বেশ
কিছুদিন আমি তার সাহচর্যে অতিবাহিত করলাম ৷ তারপর তার মৃত্দ্বুার সময় নিকটবর্তী হলে
আমি তাকে বললাম, আমি আপনার সাহচর্যে ছিলাম এবং আপনাকে আমি সর্বাধিক ভালো
বাসতাম ৷ এখন আল্লাহ্র নির্দেশে আপনার মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়েছে ৷ কাজেই আপনি
আমাকে কার নিকট যাওয়ার ওসীয়ত করছেন এবং আমাকে কী আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন
আল্লাহ্র শপথ! আমি যে ধর্মের অনুস৷ ৷রী ছিলাম আজ সে ধর্মে ৫৩ মন কেউ আছেন বলে আমি
জানি না ৷ মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং৩ তারা আদর্শ পরিবর্তন করে ফেলেছে ৷ তবে মুরুসলে
অমুক নামের একজন লোক আছেন ৷ তিনিও আমার দীনের অনুসারী ৷ তুমি তার সঙ্গে গিয়ে
মিলিত হও ৷
সালমান ফারসী (রা) বলেন, তার ইস্তিকাল ও দাফন-কাফনের পর আমি মুসেলের
উপরোল্লিখিত লোকটির সঙ্গে গিয়ে মিলিত হলাম ৷ বললাম, জনাব ! অমুক ব্যক্তি মৃত্যুর সময়
আমাকে আপনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার ওসীয়ত করে গেছেন এবং আমাকে অবহিত করেছেন
যে আপনি তারই ধর্মের অনুসারী ৷ তিনি বললেন, ঠিক আছে তুমি আমার নিকট অবস্থান
কর ৷ আমি তার নিকট অবস্থান করলাম ৷ তাকে আমি তার সঙ্গীর ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত উত্তম
ব্যক্তিরুপে পেয়েছি ৷ কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে ৷ মৃতু ত্যুকালে আমি তাকে
বললাম , জনাব ! অমুক (তা আপনার সান্নিধ্যে আসা র জন্য আমাকে ওসীয়ত করেছিলেন ৷ এখন
আল্লাহর হুকুমে আপনার মৃতুব্রকাল উপস্থিত, আপনি আমাকে কার কাছে যাওয়ার উপদেশ
দিচ্ছেন এবং আমাকে কী আদেশ করছেন? তিনি বললেন, বৎস, আমি আল্লাহ্র শপথ করে
বলছি, আমরা যে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলাম সে দীনের অনুসারী আর একজন লোকও
আছে বলে আমি জানি না ৷৩ তবে নাসীবীনে অমুক নামের একজন লোক আছেন, তুমি তার
, নিকট গিয়ে মিলিত হও ৷ তারপর যখন তিনি৷ ম ৷র৷ গেলেন এবং তার দাফন-কাফন সম্পন্ন হলো
তখন আমি নাসীবীনের লোকটির সঙ্গে মিলিত হলাম এবং তাকে আমার নিজের ইতিবৃত্ত ও
আমার দুই সঙ্গী আমাকে যা আদেশ করেছেন তা তার নিকট ব্যক্ত করলাম ৷ তিনি বললেন
ঠিক আছে, তুমি আমার নিকট অবস্থান কর ৷ আমি তার নিকট অবস্থান করলাম ৷ তাকেও আমি
তার দুই পুর্বসুরির ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত পেয়েছি ৷ এবারও আমি একজন শ্রেষ্ঠ মানুষের সাহচর্মে

কাটালাম ৷ কিন্তু আল্লাহ্র শপথ করে বলছি, কিছু দিন যেতে না যেতেই তারও মৃত্যু ঘনিয়ে
আসে ৷ মৃত্যুর আগে আমি তাকে বললাম , জনাব ! অমুক ব্যক্তি আমাকে অযুকের নিকট যাওয়ার
ওসীয়ত করেন ৷ তারপর দ্বিভীয়জন তৃতীয় আরেকজনের নিকট যাওয়ার ওসীয়ত করেন ৷
সবশেষে তৃতীয়জন আমাকে ওসীয়ত করেন আপনার নিকট আগমন করার জন্যে ৷ এখন
আপনি আমাকে কার সান্নিধ্য অবলম্বনের উপদেশ দেবেন এবং আমাকে কী আদেশ দেবেন?
বললেন, বৎস ৷ আমি আল্লাহ্র শপথ করে বলছি, আমাদের ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত এমন একজন
লোকও বেচে নেই; যার নিকট যাওয়ার জন্য আমি তোমাকে আদেশ করতে পারি ৷ তবে
রোমের আমুরিয়াহ নামক স্থানে একজন লোক আছেন, তিনি আমাদের ধর্মাবলম্বী ৷ ইচ্ছে করলে
তুমি তার নিকট যেতে পার ৷ কারণ, তিনিও আমাদের অভিন্ন পথের যাত্রী ৷

যখন তিনি মারা গেলেন এবং তার দাফনকাফন সম্পন্ন হলো; আমি আমুরিয়ার সেই
ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত করলাম এবং আমার বৃত্তান্ত শোনালাম ৷ তিনি বললেন ঠিক আছে তুমি
আমার নিকট থাক ৷ আমি এবারও এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে অবস্থান করতে তশুরু করলাম যিনি
আমার পুর্বের গুরুদেরই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ৷ সালমান ফারসী (রা ) বলেন,
এসময়ে আমি কিছু উপার্জনও করি ৷ কয়েকটি গাডী ও ছাপল আমার মালিকানায় আসে !
কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তারও মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে ৷ তখন আমি তাকে রললাম,
জনাব ! আমি প্রথমে অমুকের সাহচর্যে ছিলাম ৷ তারপর তিনি আমাকে অযুকের নিকট যাওয়ার
ওসীয়ত করেন ৷ এরপর তিনি অমুকের নিকট যাওয়ার ওসিয়ত করেন ৷ অতঃপর তিনি আমাকে
অমুকের নিকট যাওয়ার ওসীয়ত করেন ৷ সর্বশেষ ব্যক্তি আমাকে ওসীয়ত করেন আপনার
সান্নিধ্য অবলম্বন করতে ৷ এখন আপনি আমাকে কার সাহচর্য অবলম্বনের ওসীয়ত করবেন এবং
আমাকে কী আদেশ দেবেন ? তিনি বললেন, বাংলা আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমার

জানা মতে আমাদের পথের যাত্রী এমন একজন লোকও বেচে নেই, আমি তোমাকে যার নিকট

যাওয়ার আদেশ করতে পারি ৷ তবে এমন একজন নবীর আবির্তাবকাল ঘনিয়ে এসেছে, যিনি
দীনে ইবরাহীমসহ প্রেরিত হবেন ৷ আরব ভুমিতে তার আবিভাব ঘটবে ৷ এবং খেজুর বীথি
বেষ্টিত ভুমি হবে৩ তার হিজরত স্থল ৷ তার প্রকাশ্য কিছু লক্ষণ থাকবে তিনি হ দিয়া গ্রহণ
করবেন, সাদক৷ খাবেন না ৷ তার দুই কাধের মাঝে থাকবে নবুওতে তর মােহর ৷ সম্ভব হলে সেই
দেশে প্রায় ভুমি তার সঙ্গে মিলিত হও ৷

সালমান ফারসী (রা) বলেন, তারপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন ও তার দাফন-কাফন
সম্পন্ন হয় ৷ আমি আরো কিছুকাল আমুরিয়ায় অবস্থান করি৷ তারপর আমি একটি বণিক
কাফেলার সাক্ষাত পেয়ে তাদেরকে বললাম, তোমরা আমাকে আরব ভুমিতে নিয়ে যাও,
বিনিময়ে আমি আমাদেরকে আমার এই গাডী ও ছাগলগুলো দিয়ে দেব ৷৩ তারা বলল, ঠিক
আছে, চল ৷ আমি তাদেরকে আমার গাডী আর ছাগলগুলাে দিয়ে নেই আর তারা আমাকে সঙ্গে
করে নিয়ে যায় ৷ কিন্তু ওয়াদীল কুরায় পৌছে তারা আমার প্রতি জুলুম করে ৷ আমাকে তারা এক
ইহুদীর নিকট দাসরুপে বিক্রি করে দেয় ৷ আমি তার নিকট থাকতে শুরু করি ৷ এ জায়গায়
খেজুর বৃক্ষ দেখে আমি আশাষিত হলাম যে, আমার গুরু আমাকে যে নগরীর কথা বলেছেন,
এটাই সম্ভবত সেই নগরী ৷

মদীনা থেকে তার নিকট আগমন করে আমার মনিবের নিকট থেকে সে আমাকে কিনে মদীনায়
নিয়ে যায় ৷ আল্লাহ্র কসম ! মদীনাকে দেখামাত্র আমি বুঝে ফেললাম , এটাই সেই নগরী আমার
গুরু আমাকে যার কথা বলেছিলেন ৷ আমি মদীনায় অবস্থান করতে থাকি ৷

ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ (না)-এর আবির্ভার ঘটে গেছে ৷ তিনি কিছুকাল মক্কায় অবস্থান
করেন ৷ গোলামি জীবনের ব্যস্ততার কারণে তার কোনো আলোচনা আমি শুনতে পারছিলাম না ৷
তারপর তিনি মদীনায় হিজরত করেন ৷ আমি আল্লাহ্র শপথ করে বলছি, একদিন আমি আমার
মনিরের খেজুর গাছের র্কাদি কাটার কাজ করছিলাম ৷ মনিব তখন নিচে উপবিষ্ট ৷ এমন সময়ে
তার এক চাচতো ভাই এসে তার নিকট থমকে দীড়ায় এবং বলে, আল্লাহ, বনু কায়লার অমঙ্গল
করুন ৷ তারা এখন কুবায় এমন এক ব্যক্তিকে দেখার জন্য ভিড় জমিয়ে আছে, যিনি আজই
মক্কা থেকে এসেছেন এবং তিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করেন ৷ সালমান ফারসী (রা) বলেন
এ কথা শোনামাত্র আমার সমস্ত শরীরে র্কাপন ধরে যায় ৷ আমার মনে ব্র২চ্ছিল যেন আমি গাছ
থেকে মনিরের পায়ের ওপর পড়ে যার ৷ আমি থেজুর গাছ থেকে নিচে ক্রম্বমে মনিরের চাচাতো
ভাইকে বললাম , আপনি কী কী যেন বলছিলেন? সালমান ফারসী (বা ) বলেন, আমার
ফৌতুহলপুর্ণ প্রশ্ন শুনে মনিব আমার পালে কশে এক চড় বসিয়ে দেয় এবং বলে : কী বলছে,
তাতে তোর কী? যা, তুই তোর কাজ করগে ৷ আমি বললাম , না, এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম ৷
মনে একটা কৌতুহল জাপল কি না তাই ৷

তিনি বলেন, আমার নিকট কিছু সঞ্চিত সম্পদ ছিল ৷ সল্যারেলা আমি সেগুলো নিয়ে
রড়াসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট গেলাম ৷ তিনি তখন কুবায় ৷ নিকটে গিয়ে আমি র্তাকে বললাম ,
আমি জানতে পেয়েছি যে, আপনি একজন পুণবােন ব্যক্তি ৷ আপনার সঙ্গে মারা আছেন, র্তারা
গরীব, অসহায় ৷ এই জিনিসগুলাে সাদকা দেয়ার উদ্দেশ্যে আমি সঞ্চয় করেছিলাম ৷ আমি
দেখলাম যে, অন্যদের তুলনায় আপনারাই এর অধিক হক্দার ৷ এই বলে আমি জিনিসগুলো
তার দিকে এগিয়ে দিলাম ৷ রাসুলুল্লাহ (না) তার সঙ্গীদের বললেন, তোমরা খাও এবং নিজে
হাত গুটিয়ে নিলেন, খেলেন না ৷ আমি মনে মনে বললাম, এই পেলাম একটি ৷

তারপর আমি ফিরে গেলাম এবং আরো কিছু জিনিস সংগ্রহ করলাম ততদিনে রাসুলুল্লাহ
(সা) মদীনায় চলে গেছেন ৷ আমি আবারও তার নিকট গেলাম এবং বললাম, আমি লক্ষ্য
করেছি যে, আপনি সাদকা যান না ৷ তাই আপনার সম্মানার্থে এগুলো আপনার জন্য হাদিয়া ৷
সালমান ফারসী (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) জিনিসগুলো হাতে নিয়ে নিজে কিছু খেলেন এবং
সাহাবীদের থেতে আদেশ দেন ৷ সাহাবীরাও তার সঙ্গে আহারে অংশ নেন ৷ তিনি বলেন, তখন
আমি মনে মনে বললাম , এই পেলাম দু’টো ৷

তিনি বলেন, এরপর আরেকদিন আমি রাসুলুল্লাহ (সা)-এরথেদমতে উপস্থিত হলাম ৷
তিনি তখন বার্কীউল পারকাদ গোরন্থানে জনৈক ব্যক্তির জানড়াযা উপলক্ষে সাহাবী পরিবেষ্টিত

অবস্থায় বসে আছেন ৷ পায়ে তার দুটি চাদর ৷ আমি তাকে সালাম দিয়ে তার পেছন দিকে গিয়ে
আমার সঙ্গীর বর্ণনা মোতাবেক তার পিঠে সােহর আছে কিনা দেখতে লাগলাম ৷ দেখে
রাসুলুল্লাহ (সা) বুঝে ফেললেন যে, আমি কিছু একটা অনুসন্ধান করছি ৷ ফলে তিনি নিজের পিঠ
থেকে চাদর সরিয়ে ফেললেন ৷ সােহবের প্ৰতি চোখ পড়া মাত্র আমি তা যে মােহরে নবুয়ত তা
চিনে ফেললড়াম ৷ দেখেই আমি তার ওপর বাপিয়ে পড়লাম এবং তাকে চুমু খেতে খেতে র্কাদতে
লাগলাম ৷ দেখে রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেন, এদিকে এস ৷ পেছন থেকে ফিরে আমি
রাসুলুল্লাহ (না)-এর সামনে আসলাম এবং আমি তাকে আমার কাহিনী শোনালাম, যেমন
শোনালাম তোমাকে হে ইবনে আব্বাস ! শুনে রাসুলুল্লাহ (সা) মুগ্ধ হলেন এবং সাহাবীগণও তা
শুনুন, তা তিনি চাইলেন ৷

তারপর সালমান গোলামির কাজে নিয়ােয়িত থাকেন ৷ এভাবে বদর গেল, উহুদ গেল
রাসুলুল্লাহ (না)-এর সঙ্গে সালমান (রা)-এর আর সাক্ষাত ঘটেনি ৷ সালমান (বা) বলেন,
এরপর একদিন রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেন : “সালমান ! তুমি তোমার মনিরের সঙ্গে

চল্লিশ উকিয়ার বিনিময়ে মুক্তির চুক্তি করলাম ৷ চুক্তি হলো খেজুর পাছগুলাের চারা রোপণ
করে ফলনশীল করে দিতে হবে ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাহাবীদের বললেন, তোমরা তোমাদের
ভাইয়ের সাহায্য কর ৷ খেজুর গাছের ব্যাপারে র্তড়ারা আমাকে সাহায্য করেন ৷ কেউ ত্রিশটি,
কেউ বিশটি, কেউ পনেরটি, আবার কেউ দশটি চারা দিয়ে আমাকে সাহায্য করেন ৷ র্তারা
প্রত্যেকে আমাকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করেন ৷ এভাবে আমার তিনশ’ চারার
ব্যবস্থা হয়ে যায় ৷ তারপর বাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেন, যাও হে সালমান ! গর্ত কর গিয়ে ৷
গর্ত করার কাজ শেষ হলে আমার নিকট এস; আমি নিজ হাতে গর্ভে চারা রোপণ করে দোবা ৷
হযরত সালমান ফারসী (বা) বলেন, আমি গর্ত করলাম ৷ আমার সঙ্গীরা একাজে আমাকে
সহযোগিতা করেন ৷ গর্ত করার কাজ শেষ হলে আমি রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট গিয়ে সংবাদ
দিলাম ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) আমার সঙ্গে বাগানে আসেন ৷ অমি তাকে একটি একটি করে চারা
এগিয়ে দিলাম আর তিনি নিজ হাতে তা গর্ভে রোপণ করলেন ৷ এভাবে সব কটি চারা রোপণের
কাজ শেষ হয় ৷ আমি সেই সত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে সালমানের জীবন, তার একটি
চারাও মরেনি ৷ এভাবে আমি খেজুর গাছ রোপণের চুক্তি বাস্তবায়ন করলাম ৷ বাকি থাকল মাল ৷
ইতিমধ্যে মুরগীর ডিমের ন্যায় এক টুকরো খনিজ সোনা রাসুলুল্লাহ (না)-এর হস্তগত হয় ৷

সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, মুক্তিপণের চুক্তিকারী ফারসী লেড়াকটি কোথায়ঃ সালমান
ফারসী (বা) বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট ডেকে নেয়া হয় ৷ নবী করীম (সা)
বললেন : এটাধ্ নাও, এবং তোমার ঋণ পরিশোধ কর ৷ আমি বললাম হ; এতে আর কী হবে?
তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, এর দ্বারা আল্লাহ তোমার মুক্তিপণ ও ঋণ আদায় করে দিবেন ৷
আমি সোনার টুকরাটি হাতে নিয়ে ওজন করলাম ৷ সালমানের জীবন যার হাতে, তার শপথ,
সোনার টুকরাটির ওজন চল্লিশ উকিয়াই হয়েছে ৷ আমি এর দ্বারা চুক্তি বাস্তবায়ন করলাম ৷
সালমান আযাদী লাভ করলেন ৷ এবার আমি স্বাধীন মানুষ হিসেবে রাসুলুল্লাহ (না)-এর সঙ্গে
খন্দকে অংশ নিলাম ৷ এরপর কোন একটি যুদ্ধেও আমি অনুপস্থিত থাকিনি ৷

ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, সালমান (রা) বলেন, আমি যখন বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহা এ
দিয়ে আমার দায় শোধ হবে কী করে ? তখন নবীজী (সা) জিনিসটি হাতে নিয়ে নিজের জিহবার
ওপর উলট-পালট করলেন ৷ তারপর বললেন : নাও, এটি দিয়েই সম্পুর্ণ দায় শোধ কর ! আমি
জিনিসটি হাতে নিলাম এবং তা দিয়েই আমি আমার চল্লিশ উকিয়ার দায় সম্পুর্ণ শোধ করলাম ৷

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আরো বলেন, সালমান (বা) আমাকে বলেছেন যে, তিনি যখন
রাসুলুল্লাহ (না)-কে অবহিত করলেন যে, আমুরিয়ার ল্যেকটি তাকে বলেছে যে, তুমি সিরিয়ার
অমুক স্থানে যাও, সেখানে গভীর জঙ্গলে এক ব্যক্তি বাস করে এবং প্রতিবছর সে একবার
জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে ৷ রোগগ্রস্ত মানুষেরা তার কাছে এসে আর্জি (গোল করে ৷ যে যার
জন্য দোয়া করে, সেই আরোপ লাভ করে ৷ তু তার নিকট যাও তুমি যে দীনের অনুসন্ধান
করছ, সে তোমাকে তার সন্ধান দেবে ৷ সালমান (বা) বলেন, আমি রওয়ানা হলাম এবং তার
নির্দেশনা মোতাবেক উক্ত স্থানে গিয়ে উপনীত হলাম ৷ দেখলাম, জনতা সমবেত হয়ে তার
আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে ৷ সেই রাত্রে তার আত্মপ্রকাশ করার কথা ৷ এক সময় তিনি
জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন ৷ জনতা তাকে ঘিরে ধরে ৷ যে রোগীর জন্য তিনি দোয়া করছেন,
সেই আরোপ্য লাভ করছে ৷ স্থানীয় জনতার ভিড়ের কারণে আমি তাকে একাম্ভে পেলাম না ৷
এক সময়ে তিনি ণ্লাকালয় ত্যাগ করে জঙ্গলে ঢুকে পড়লেন ৷ আমি সেখানে গিয়ে তাকে ধরে
বসি ৷ তখন তার র্কাধ ছাড়া গোটা দেহই জঙ্গলে ঢুকে গেছে ৷ আমি তাকে জাপটে ধরি ৷
আমাকে দেখে আমার প্রতি মুখ ফিরিয়ে তিনি বললেন, কে তুমি? আমি বললাম, আল্লাহ
আপনাকে রহম করুন! আমাকে আপনি সঠিক দীনে ইবরাহীমের সন্ধান দিন! তিনি বললেন,
তুমি আমাকে এমন একটি বিষয়ের কথা জিজ্ঞেস করেছ, যে বিষয়ে আজকাল মানুষ কিছু
জানতে চায় না ৷ তবে গােন, এই দীন নিয়ে যে নবীর আবির্ভাবের কথা, তার সময় ঘনিয়ে
এসেছে ৷ তিনি হবেন হারমের অধিবাসীদের একজন ৷ ন্মি তার নিকট যেও, তিনিই তোমাকে
দীনে ইবরাহীমের ওপর পরিচালিত করবেন ৷

এ কাহিনী শুনে রাসুলুল্লাহ (সা) সালমান (না)-কে বললেন : হে সালমান! ব্মি আমাকে যা
বলেছ, যদি তা সত্য বলে থাক, তাহলে তুমি ঈসা ইবনে মারয়াম এর সাক্ষাত লাভ করেছ ৷
এ বর্ণনার একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি, তা ছাড়াও বর্ণনার সুত্রে বিচ্ছিন্নতাও
রয়েছে ৷ তুমি ঈসা (আ)-এর সাক্ষাত লাভ করেছ বলে উল্লেখিত উক্তিটি শুধু গরীব পর্যায়েরই
নয় মুনকার অর্থাৎ অগ্রহণযােগ্যও বটে ৷ কেননা, হযরত ঈসা (আ)-এর ওফাত আর
রাসুলুল্লাহ (না)-এর নবুওত মধ্যবর্তী শুন্যতার মেয়াদ ছিল কমপক্ষে চারশ বছর ৷ করো
কারো মতে সৌর হিসেবে ছয়শ বছর ৷ আর হযরত সালমান ফারসী (রড়া)-এর আয়ু ছিল
বড়জাের সাড়ে তিনশ বছর ৷ শুধু তাই নয় আব্বাস ইবনে ইয়াযীদ আল-বুহরানী তো এ
মর্মে মাশায়িখদের মতৈক্য উল্লেখ করেছেন যে, সালমান ফারসী (বা) বেচেছিলেন মাত্র দুইশ
পঞ্চাশ বছর ৷ তিনশ পঞ্চাশ বছরের অর্ধেক হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য বিদ্যমান ৷

রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন, তুমি ঈসা ইবনে মারয়ামের ওসীয়ত প্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে
সাক্ষাত করেছ ৷ এটা সঠিক হওয়া অসত্মব নয় ৷

সুহায়লী বলেন, অজ্ঞাত পরিচয় বর্ণনাকারীর নাম হচ্ছে হাসান ইবন আমারা ৷ তিনি একজন
দুর্বল রাবী ৷ রর্ণনাটি বিশুদ্ধ হলে তা মুনকার’ হবে না ৷ কেননা ইবন জরীর উল্লেখ করেছেন
যে, ঈসা (আ)-কে আসমানে উঠানাের পর তিনি পুনরায় আবির্ভুত হয়েছিলেন এবং তার মা
এবং অন্য এক ত্রীলোককে ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তির লাশের নিকট কান্নাকাটি করছেন বলে দেখতে
পান ৷ তখন তিনি নিহত হননি বলে তাদের জানিয়ে দেন ৷ এরপর হৃওয়ড়ারীগণকে বিভিন্ন দিকে
প্রেরণ করেন ৷ সুহায়লী বলেন, একবার তার অবতরণ যখন সম্ভব হয়েছিল তখন একাধিকবার
অবতরণ করাও সম্ভবপর ৷ শেষবার তিনি প্রকাশ্যে অবতরণ করে ক্রুশ ধ্বংস করবেন, শুকর
নিধন করবেন এবং তখন বনী জুযামের এক মহিলাকে বিবাহ করবেন ৷ যখন তার ইনতিকাল
হবে তখন তাকে রড়াসুলুল্লাহ (সা) এর রওযা শরীফের হুজরায় দাফন করা হবে ৷

ইমাম বায়হড়াকী দালায়িলুন নুবুওয়াত’ গ্রন্থে অপর এক সুত্রে সালমান ফারসী (রা)-এর
ইসলাম গ্রহণের কাহিনী বর্ণনা করেছেন ৷ তাতে রয়েছে যে, ইয়াযীদ ইবনে সাওহান বলেন যে
তিনি শুনেছেন, সালমান ফারসী (বা) নিজে তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী বর্ণনা করেছেন যে ,
তিনি রামাহুরমুয’ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন ৷ তার এক বড় ভাই হিল অতিশয় বিত্তশালী ৷
সালমান (রা) ছিলেন দরিদ্র ৷ তিনি বিত্তশালী ভাইয়ের আশ্রয়ে থাকতেন ৷ গ্রাম প্রধানের ছেলে
ছিল তার সঙ্গী ৷ সে তার সঙ্গে তাদের এক শিক্ষা গুরুর নিকট যাওয়াঅসাে করত ৷ ঐ ছেলেটি
গুহায় অবস্থানকারী কতিপয় খৃন্টানের নিকটও যেত ৷ সালমান (রা) একদিন আবদার করলেন
তিনিও তাদের সঙ্গে গুহায় যাবেন ৷ জবাবে ছেলেটি তাকে বলল, তোমার বয়স কম ৷ আমার
আশংকা হয়, তুমি তাদের তথ্য ফীস করে দিবে আর তার ফলে আমার আব্বা তাদেরকে হত্যা
করে ফেলবেন ৷ বিন্দু সালমান ছিলেন নাছোড় বান্দা ৷ তিনি নিশ্চয়তা দিলেন যে , তার কারণে
তাদের কোন ক্ষতি হবে না ৷ অবশেষে সালমান (বা) তার সঙ্গে সেখানে গেলেন ৷ দেখলেন,
সেখানে ছয় কি সাতজন লোক, ইবাদত করতে করতে তাদের আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে
যাওয়ার মত অবস্থা ৷ তারা দিনে বোযা রাখেন আর সারারাত জেগে ইবাদত করেন ৷ তারা
লতাপাতা আর যাপান তাই খান ৷ ছেলেটি তাকে তাদের পরিচয় দিয়ে বলল, এরা পুর্ববর্তী
রাসুলগণের প্রতি ঈমান রাখেন এবং বিশ্বাস করেন যে, ঈসা আল্লাহর বান্দা , তার রাসুল এবং
তার এক দাসীর পুত্র ৷ বিভিন্ন মুজিযা দ্বারা তিনি তাকে সাহায্য করেছেন ৷ গুহড়ার লোকেরা
তাকে বলল, শোন বালক! নিশ্চয় তোমার একজন বব আছেন ৷ মৃত্যুর পর তুমি পুনরায়
জীবিত হবে ৷ তোমার সামনে রয়েছে জান্নাত ও জাহড়ান্নষ্মে ৷ আর এই যারা আগুন পুজা করে,
তারা কুফরের ধারক ও বিভ্রান্ত ৷ তাদের কর্মকাণ্ডে আল্লাহ সভুষ্ট নন ৷ তারা আল্লাহর দীনের
ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় ৷ তারপর থেকে সালমান (বা) ঐ ছেলের সঙ্গে তাদের কাছে যেতে থাকেন
এবং শেষ পর্যন্ত সম্পুর্ণরুপে তাদের সঙ্গে থেকে যান ৷ বিন্দু ক’দিন যেতে না যেতে সে দেশের
রাজা তাদেরকে ওখান থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয় ৷ সে রাজা ছিলেন
সেই বালকের পিতা, যার সঙ্গ ধরে সালমান (বা) সেখানে অড়াসা-যাওয়া করতেন ৷ রাজা তার
পুত্রকে নিজের কাছে আটকে রাখেন ৷ সালমান (বা) তার বড় ভাইয়ের নিকট তাদের দীনের
দাওয়াত পেশ করেন ৷ জবাবে সে বলে , আমি জীবিকা উপার্জনের কাজে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত ৷
সালমান তখন সে সব ইবাদতকারী সঙ্গীদের সাথে রওয়ানা হলেন ৷ এক সময় তারা মুসেলের

গির্জার গিয়ে প্রবেশ করে ৷ গির্জার লোকেরা তাদের সালাম করে ৷

সালমান (রা) বলেন, এরপর তারা আমাকে ওখানে ফেলে যেতে চান কিভু আমি তাদের
সঙ্গ ত্যাগ করতে অস্বীকার করি ৷ আমরা রওয়ানা হলাম এবং কয়েকটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী এক
উপত্যকায় গিয়ে উপনীত হলাম ৷ সেখানকার পাদ্রীগণ আমাদের দিকে এগিয়ে আসেন এবং
আমাদেরকে সালাম করেন ৷ আমাদের নিকট সমবেত হয়ে তারা কুশল বিনিময় করেন ৷
তাদের অনুপস্থিতির কারণ এবং আমার পরিচয় জানতে চায় ৷ সঙ্গীরা আমার পরিচয় দিতে
গিয়ে আমার প্রশংসা করেন ৷ তখন সেখানে অপর এক মহান ব্যক্তির আগমন ঘটে ৷ তিনি
উপস্থিত সকলের উদ্দেশে ভাষণ দেন ৷ তিনি আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করেন ৷ রাসুলগণ এবং
তাদের মিশনের কথা উল্লেখ করেন ৷ তিনি হযরত ঈস৷ (আ) এর কথা আলোচনা করেন এবং
বলেন যে, ঈস৷ (আ) ছিলেন আল্লাহর বান্দা ওত নর রাসুল ৷ লােকটি উপস্থিত জনতাকে
কল্যাণকর কাজ করার আদেশ এবং অন্যায় কাজ পরিহার করার উপদেশ দিয়ে তার ভাষণ
সমাপ্ত করেন ৷

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তারা বিদায় নিতে উদ্যত হলে সালমান ফারসী (বা)
ভাষণদানকারী ণ্লাকটিকে অনুসরণ করেন এবং তার সঙ্গ লাভ করেন ৷ সালমান ফারসী (রা)
বলেন, এই ল্যেকটি দিনে রােযা রাখতেন আর সারারাত জেগে ইবাদত করতেন ৷ সপ্তাহের
প্রতিটি দিন র্তার একইভাবে অতিবাহিত হতো ৷ সময়ে সময়ে জনতার মাঝে গিয়ে ওয়াজ
করতেন ও ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতেন ৷ এভাবে দীর্ঘদিন কেটে
যায় ৷ তারপর এক সময়ে তিনি বায়৩ চুল মুকাদ্দাস জিয়ারত করার ইচ্ছা করেন ৷ সালমান ফারসী
(রা)৩ তার সঙ্গী হন ৷ সালমান ফা ৷রসী (রা) বলেন, চলার পথে খঃ নিক পর পর তিনি আমার
প্রতি ৩দৃষ্টিপাত করতেন এবং আমার দিকে ফিরে আমাকে নসীহত করতেন ৷ তিনি বলতেন যে,
আমার একজন রব আছেন, আমার সামনে জান্নাত জাহান্নাম ও হিসাব নিকাশ রয়েছে ৷ তা

ডাপ্রতি শনিবার তিনিত ৷র সম্প্রদায়কে যেসব উপদেশ দিতেন আমাকেও সেসব বলতে
লাগলেন ৷ তিনি আমাকে যা বললেন তার মধ্যে গুরুতুপুর্ণ বক্তব্য হলো হে সালমান ! আল্লাহ
অনতিৰিলম্বে একজন রাসুল প্রেরণ করবেন, যার নাম হবে আহমদ ৷ আরবের কোন এক নিম্ন
অঞ্চল থেকে তার আবির্ভাব ঘটবে ৷ তিনি হাদিয়া গ্রহণ করবেন সাদকা খাবেন না তার দুই
কাধের মাঝে নবুওতের মােহর থাকবে ৷ এটাই৩ ৷ ৷র আবির্ডাবের সময়, আর বেশি দেরি নেই ৷
আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ৷ তাকে পেয়ে যেতে পারব বলে মনে হয় না ৷ তুমি যদি তাকে পাও,
তাহলে তাকে মেনে নেবে এবং তার অনুসরণ করবে ৷

সালমান ফারসী (রা) বলেন, আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি তিনি আমাকে
আপনার দীন, আপনার নীতি-আদর্শ ত্যাগ করতে বলেন, তখন আমি কি করব? জবাবে তিনি
বললেন, যদি তিনি তেমন কোন আদেশ করেন, তাহলে মনে রাখবে তিনি যা নিয়ে আসবেন,
তাই সত্য এবং তিনি যা বলবেন, তাতেই আল্লাহ তা আলার সত্তুষ্টি ৷

সালমান ফারসী (রা) তারপর তাদের দু’জনের বায়তুল মুকাদ্দাস গমন এবং তার সঙ্গী
সেখানে কোথায় কোথায় নামায আদায় করলেন তার কাহিনী বর্ণনা করেন ৷ তিনি আরও বর্ণনা

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৭৮-

করেন যে, বায়তুল মৃকাদ্দাস গিয়ে তার সঙ্গী এক সময়ে ঘুমিয়ে পড়েন ৷ ঘুমানাের আগে তাকে
বলে দেন যে, ছায়া যখন অমুক স্থানে পৌছবে তখন যেন তিনি তাকে জাগিয়ে দেন ৷ কিন্তু
সালমান ফারসী (বা) তার বিশ্রামে ব্যাঘাত না ঘটানোর জন্য আরও অনেক পরে তাকে ঘুম
থেকে ওঠান ৷ জেগে ওঠে তিনি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেন এবং সালমান (রা ) কে তিরস্কার
করেন ৷ তখন এক পঙ্গু ব্যক্তি তার কাছে যাঞ্চু৷ করে বলে, হে আল্লাহর বান্দ৷ ! আপনি এখানে
আসার পর আপনার কাছে কিছু চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে কিছু দেননি, এখন আবার
আপনার কাছে যাঞ্চু৷ করছি ৷ তিনি এদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলেন না, তখন পঙ্গু
লোকটির হাত ধরে বললেন, উঠে৷ দ ৷ড়াও আল্লাহর নাম নিয়ে ৷ সে তখন সম্পুর্ণ সুস্থ রুপে উঠে
র্দাড়ালো যেন সে দড়ির বা বন থেকে যুক্ত হয়েছে ৷

তারপর তারা দু’জন বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে বের হন ৷ লোকটি তখন আমাকে বলল, হে
আল্লাহর বান্দা! আমার সামান পত্র আমার মাথায় তুলে দাও ৷ আমি আমার পরিজনের নিকট
চলে যাই এবং তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করি ৷ আমি৩ ৷ই করল৷ হঠাৎ করে আমার সঙ্গী
কোন দিকে যেন উধাও হয়ে গেলেন, আমি টেরই পেলাম না ৷ আমি স ধুব্লুখ এগিয়ে গেলাম এবং
তাকে খোজ করতে লাগলাম ৷ একদল লোককে জিজ্ঞেস করলাম; তারা বলল, সামনে দেখ ৷
আমি আরও সামনে এগিয়ে গেলাম ৷ দেখা হলো আরবের বনু কালবের একটি কাফেলার সাথে ৷
তাদেরকেও জিজ্ঞেস করলাম ৷ তারা আমার ভাষা শুনে তাদের একজন উট থামিয়ে আমাকে
তার পিছনে চড়িয়ে নেয় তাদের দেশে নিয়ে এসে তারা আমাকে বিক্রি করে ফেলে ৷ এক
আনসারী মহিলা আমাকে কিনে নিয়ে তার একটি বাগান রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত
করে ৷ ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা) মদীনায় আগমন করেন ৷ তারপর সালমান ফারসী (বা) তার
সঙ্গীর বক্তব্য যাচাই করে দেখার উদ্দেশ্যে হাদিয়৷ ও সাদক৷ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট
গমন করার কথা উল্লেখ করেন ৷ সে সময়ে তিনি মোহরে নবুওত দেখারও চেষ্টা করেন ৷ সঙ্গীর
বর্ণনা মোতাবেক রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দুই র্কাধের মাঝে মোহরে নবুওত দেখে তত্ক্ষংা৷ৎ তিনি
ঈমান আনেন এবং নিজের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘটনার ইতিবৃত্ত শোনান ৷ রাসুলুল্লাহ
(না)-এর আদেশে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) তাকে তার মহিলা মনিবের নিকট থেকে
কিনে নিয়ে আযাদ করে দেন ৷

সালমান ফারসী (বা) বলেন, তারপর একদিন আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে খৃক্টধর্ম সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করলাম ৷ জবাবে তিনি বললেন : তাদের মধ্যে কোন মঙ্গল নেই ৷
সালমান ফারসী (রা ) বলেন, এতে ৩আমি এতদিন যাদের সাহচর্যে ছিলাম বিশেষত বায়তুল

মুকাদ্দাসে যে সাধু লোকটি আমার সঙ্গে ছিলেন তাদের ব্যাপারে আমার মন ভারী হয়ে যায় !
এক পর্যায়ে আল্লাহ তা আল৷ তার রাসুলের ওপর নিম্নো ৷ক্ত আয়াত টি নাযিল করেন :

অবশ্য মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদী ও মুশরিকদেরকেই তুমি সর্বাধিক
উঃ৷ দেখবে এবং যারা বলে আমরা খৃক্টান’ মানুষের মধ্যে তাদেরভ্রুইে তুমি মৃমিনদের নিকটতর
বন্ধুরুপে দেখবে ৷ কারণ, তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসারবিরাগী আছে, আর তারা
অহংকারও করে না ৷ (৫ মাযিদা : ৮২)

এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে ডেকে পাঠান ৷ আমি ভীত মনে
হাজির হয়ে তার সামনে বসলাম ৷ তিনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে

তিলাওয়াত করলেন তারপর বললেনং :

সালমান! তুমি যাদের সাহচর্ষে ছিলে তারা এবং তোমার সেই সঙ্গী নাসার৷ ছিল না ৷ তারা
ছিল মুসলিম ৷

আমি বললাম, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ! যে সত্তা আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ কারছেন, তার শপথ
আমার সঙ্গী লোকটি আমাকে আপনার আনুগত্য করার আদেশ করেছিলেন ৷ তখন আমি তাকে
বলেছিলাম, যদি তিনি আমাকে আপনার দীন ত্যাগ করতে বলেন তাহলে? জবাবে তিনি
বলেছিলেন হা, তাহলে তুমি আমার দীন বর্জন করে তাকেই অনুসরণ করবে ৷ কারণ তিনি
যা আদেশ করবেন সত্য এবং আল্লাহর সত্তুষ্টি তারই মধ্যে নিহিত

এই বর্ণনায় বহু বিষয় গরীব পর্যায়ের রয়েছে ৷ তাছাড়া এটা মুহাম্মদ ইবন ইসহ্াকের
বর্ণনার সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক ৷ ইবন ইসহাকের বর্ণনার সুত্র অধিক নির্ডাযোপ্য এবং বুখারীর
বর্ণনার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপুর্ণ ৷ বুখারীর এক সুত্রে সালমান ফারসী (রা ) থেকে বর্ণিত আছে
যে, তিনি পর্যায়ক্রমে তেরজন গুরুর শিষ্যতু গ্রহণ করেছিলেন ৷ এক গুরু তাকে অপর গুরুর
নিকট প্রেরণ করেছিলেন ৷

সুহায়লীর মতে তিনি ত্রিশজন মনিবের হাত বদল হয়েছিলেন ৷ এক মনিব তাকে অপর
মনিবের হাতে ত্যু ল দেয় ৷ হাফিজ আবু নু আয়মের দালায়িল গ্রন্থের এক বর্ণনায় আছে যে,
সালমান ফারসী (বা) যে মহিলা মনিবের সঙ্গে মুকা৩ ৷তা বা(মুক্তিপণ চুক্তি) করেছিলেন, তার নাম
ছিল হালবাসাহ ৷

এ সম্পর্কিত আরও কয়েকটি আশ্চর্য ঘটনা

আবু নুআয়ম তার দালাযিল গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, সাঈর ইবনে সাওয়াদ৷ আল আমেরী
বলেন, একটি উন্নত জাতের উট আমার অত্যন্ত প্রিয় ছিল ৷ সে উটের পিঠে চড়ে ব্যবসার
উদ্দেশ্যে আমি দুর-দুরান্ত সফর করতাম ৷ একবার আমি ব্যবসার পণ্য নিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কায়
আসি ৷ সফর শেষে কোন এক রাতে মক্কায় এসে উপনীত হই ৷ রাতের আধার কেটে জোাৎস্না
এলো ৷ হঠাৎ মাথা তুলে আমি দেখতে পেলাম , পাহাড়ের মত উচু কয়েকটি র্তাবু ৷ তাবুগুলাে
তায়েফের চামড়ায় ঢাকা ৷ তারই পার্শে কয়েকটি উট জবাই করা হলো আর কয়েকটি উট
কোথায় যেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ৷ সম্মুখের পাত্রে খাদ্যদ্রব্য রাখা ৷ কয়েকজন লোক বলছে,

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>