রাসূলুল্লাহ (সা) – এর জন্ম

রড়াসুলুল্পাহ (না)-এর জন্ম

রাসুঙ্গুল্লাহ (সা) সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেন ৷ ইমাম মুসলিম তার সহীহ মুসলিমে আবু
কাতাদা (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক বেদৃইন জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ৷ সোমবার
দিনের রােযা সম্পর্কে আপনি কী বলেন? জবাবে রাসুলুস্লাহ (সা) বনলেন : ঐ দিলেই তো
আমার জন্য এবং ঐ দিলেই আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয় ৷

ইমাম আহমদ (র) ইবন আব্বাস (রা)-এর বরাতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) জন্মগ্রহণ করেছেন সোমবার দিন, নবুওত পেয়েছেন সোমবার দিন, মদীনা
ইিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করেছেন সোমবার দিন, মদীনায় পৌছেছেন সোমবার দিন, তার
ওফাত হয়েছে সোমবার দিন এবং হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেছেন সোমবার দিন ৷ অপর এক
বর্ণনায় আছে, সুরা মায়িদাব আয়াত (আজ আমি তোমাদের
জা তোমাদের দীনকে পরিপুর্ণ করে দিলাম) এর অবতরণ এবং বদর যুদ্ধও এই সোমবার দিন
সংঘটিত হয়েছে ৷ কিস্তু এই অভিমতটি সঠিক নয় ৷ কারণ, ইবন আসাকিরের মতে নির্ভরযোগ্য
অভিমত হলো, বদর যুদ্ধ ও আলোচ্য আয়াতের অবতরণ শুক্রবার দিন হয়েছে ৷ তার
অভিমতটিই যথার্থ ৷ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) ইবন আব্বাস (না) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সোমবার দিনই ইন্তিকাল
করেছেন ৷ এভাবে ভিন্ন সুত্রে ইবনে আব্বাস (বা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্পাহ (সা)
সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সোমবার দিনই ইস্তিকাল করেছেন ৷ এভাবে ভিন্ন সুত্রে
ইবনে আব্বাস (বা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) সোমবার দিন জন্ম গ্রহণ করেছেন,
তার সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করার ব্যাপারে কারও কোন দ্বিমত নেই ৷ যিনি বলেছেন যে,
রাসুলুল্পাহ (সা) রবিউল আউয়াল মাসের সতের তারিখ শুক্রবার দিন জন্মগ্রহণ করেছেন, তিনি
মারাত্মক ভুল করেছেন ৷ হাফিজ ইবনে দিহইয়া জনৈক শিয়ারইলামুর রার্বী বি-ইসামিল হাদী
নামক গ্রন্থ থেকে এরুপ একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেন ৷ তিনি একে যয়ীফ বলে মন্তব্য করেছেন ৷
এটা আসলেও দুর্বল ৷

জমহুর আলিমণণের সর্বসষ্মত সিদ্ধান্ত যে, রাসুঙ্গুশাহ (সা) জন্মের মাসটি হলো রবিউল
আউয়াল মাস ৷ তারিখের ব্যাপারে নানা অভিমত রয়েছে ৷ ইবন আবদুস বার তার ইসতিরড়াব
গ্রন্থে রবিউল আউয়াল মাসের ২ তারিখের কথা উল্লেখ করেছেন ৷ ওয়াকির্দীও অনুরুপ বর্ণনা

হুমায়দী ইবন হাষম থেকে ৮ তারিখের কথা উল্লেখ করেছেন ৷ মালিক, আকীল ও ইউনুস
ইবন ইয়াযীদ প্রমুখ যুহরী মুহাম্মদ ইবন জুবায়র ইবন ঘুৎইম সুত্রে এই অভিমত বর্ণনা
করেছেন ৷ ইবন আবদুল বার বর্ণনা করেছেন যে , ঐতিহাসিকগণ এই অভিমতকে সঠিক বলে
সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ৷ হাফিয মুহাম্মদ ইবন মুসা আলখাওয়ারেযমী এই অভিমতটি অকাট্য বলে
দাবি করেছেন ৷ হাফিয আবুল খাত্তাব ইবন দিহইয়া তার অ্যাত তানভীর ফী মাওলিদিল
বাশীরিন নাযীর’ গ্রন্থে এই অভিমতকে প্রাধান্য দিয়েছেন ৷ কারও কারও মতে, রবিউল আউয়াল
মাসের দশ তারিখ ৷ ইবন দিহইয়া তার কিভাবে এই অভিমত উদ্ধৃত করেছেন ৷ ইবন আসাকির
আবু জাফর অড়াল-ৰাকির থেকে এবং মুজান্সিদ (র) শাবী থেকে এই অভিমত উদ্ধৃত করেছেন ৷
কারও কারও মতে রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখ ৷ ইবন ইসহাক এ অভিমতের পক্ষে
সুস্পষ্ট বক্তব্য পেশ করেছেন ৷

ইবন আবু শায়বা তার মুসান্নাফ গ্রন্থে হযরত জাবির (রা) এবং ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে
বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) হাতির ঘটনার বহর রবিউল আউয়াল মাসের
আঠার তারিখ সােমবারে জন্মগ্রহণ করেন ৷ এই দিলেই তিনি নবুওত লাভ করেন ৷ এই দিলেই
তার মিরাজের ঘটনা সংঘটিত হয়, এই দিলেই তিনি হিজরত করেন এবং এই দিলেই র্তার
ওফাত হয় ৷ জমহুরের নিকট এই অভিমতই প্রসিদ্ধ ৷ আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত ৷

কারও কারও মতে , রবিউল আউয়ড়ান্সের সতের তারিখ ৷ ইবন দিহইয়া কোন কোন শিয়া
আলিম থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ কেউ কেউ বলেন, রবিউল আউয়ালের ৮ দিন বাকী
থাকতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ৷ ইবন দিহইয়া ইবন হাষম থেকে এই অভিমত উদ্ধৃত করেছেন ৷
তবে ইবন হাষম থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত দুটি মতের বিশুদ্ধতর প্রথমটি হচ্ছে নবী করীম
(না)-এর জন্ম রবিউল আউয়ালের আট তারিখে ৷ তা থােক বর্ণিত দ্বিতীয় অভিমতটি হচ্ছে এই
যে, রাসুলুল্পাহ (সা) রমযান সালে জন্মগ্রহণ করেছেন ৷ এটি অত্যন্ত গরীব পর্যায়ের বর্ণনা ৷ এই
অভিমতের ভিত্তি এই যে, যেহেতু সর্বসষ্মত মতে কোনও এক রমযান মাসে নবী করীম
(সা)-এর প্ৰতি প্রথম ওহী নাযিল হয় আর তা ছিল তার চল্লিশ বছর বয়সে, কাজেই তার জন্মও
রমযান মাসেই হয়ে থাকবে ৷ তবে এই অভিমতটিতে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে ৷

খায়হামা ইবন সুশায়মান ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুন্নাহ (সা)
রবিউস্ মাসে সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেন ৷ রৰিউস্ আউয়াল মাসের শুরুর দিকে সোমবার
তিনি নৰুওত লাভ করেন এবং ঐ মাসেবহ সোমবার তার প্ৰতি সুরা বাকারা নাযিল হয় ৷ ইবন
আসাক্কিন্নেব এ বর্ণনা অত্যত গন্নীব পর্যায়ের ৷ য়ুবন্মেৱ ইবন বলেন, নর্ষী করীম (না)-যে
তার মা আর্বী তাণিচ্বব পিরিসশ্ক্টে ৰিতাব দামবাব নিকটে আ’হ্মামে তাপ্যাষ্কে পর্বে ধারণ
করেন এবং রমযান মস্কো বাব তারিখে তিনি সেই বাত্রীত্বেই স্থুমিষ্ঠ যা, যা পরবর্তীতে মোঃ
ইবন মৈং ডাই শোব রৈব জ্যো-এব বাড়ি বসে মোঃ হয় ৷

যআি ইবন আনাকাি৷ বর্ণনা করেন যে, ৰাসুলুক্সাহ (না) ন্তোক্রোব দশ তারিঃখ মোঃ
প্র্তে প্লো এবং মোঃ মস্কো বাব তান্ধিথে সোমবার মোঃ অ্যাং ৷ এটি ছিল যতীন
ম্পো ২৩তম বছরে ৷ বথিং আছে যে, লীেহ্মা স্ফো রশীদ এর মা মোঃ শ্লে হস্কো

হাফিজ বায়হাকী বর্ণনা করেন যে, আবুল হওয়ায়রিছ বলেন, আমি শ্যুনছি যে, আবদু

করেন ৷ এর পরের বছর পর অনুষ্ঠিত হয় উকায মেলা ৷ পচিশ বছর পর কাবা পুনঃনির্মিত
হয় ৷ চল্লিশ বছরের মাথায় নবী করীম (সা) নবৃওত লাভ করেন ৷

সারকথা, জমহুর-এর অভিমত অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা) হস্তির ঘটনার বছর জন্মগ্রহণ
করেছেন ৷ কারও মতে হস্তির ঘটনার একমাস পরে ৷ কারও মতে চল্লিশব্ক্ত দিন পরে, অপর কারও
মতে পঞ্চাশ দিন পরে ৷ পঞ্চাশ দিনের অভিমতই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ৷

আবু জাফর বাকের (র) থেকে বর্ণিত যে, হস্তি বাহিনীর আগমনের ঘটনা ঘুহাববমের মধ্য
ভাগে ঘটেছিল আর রাসুসুল্লাহ (না)-এর জন্মের ঘটনা ঘটে তার পঞ্চান্ন দিন পরে ৷ অন্যরা
বলেন, না বরং হন্তির ঘটনা ঘটেছে রাসুলুল্লাহ (না)-এর জন্মের দশ বছর আগে ৷ ইবন আবৃযা
এরুপ বলেছেন ৷ কারও কারও মতে, ৫তইশ বছর আগে ৷ কেউ কেউ বলেছেন, ত্রিশ বছর
পরে ৷ মুসা ইবন উকবা যুহরী থেকে এই অভিমত ব্যক্ত করেন এবং তিনি ওই অভিমত সমর্থনও
করেছেন ৷ আবু যড়াকড়ারিয়া আজলানী বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-এর জন্ম হস্তির ঘটনার চল্লিশ বছর
পরের ঘটনা ৷ ইবন আসাকিরের এই বন্নাি অত্যন্ত পরীব পর্যায়ের ৷ ইবন আব্বাস (না) থেকে
একটি বর্ণনা আছে যে, তিনি বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা) হস্তির ঘটনার পনের বছর আগে
জন্মগ্রহণ করেন ৷ তবে এই বর্ণনাটি গরীব, মুনকড়ার ও দুর্বল ৷ তবে রড়াসুলুল্লাহ (সা) এর জন্ম
হস্তির ঘটনার বছরে হওয়ার বিষয়টি প্রায় সর্বসষ্মত ৷

রন্সুলুন্নাহ (সা) এর জন্মের বিবরণ

আমরা পুর্বে উল্লেখ করে এসেছি যে, আবদুস মুত্তাশির পুত্র আবদুরাহকে মরেহ করার
মান্নত করে পরে আরঘোই ৰ্স্খান্ব তার পরিবর্তে একপত উট যৰেহ করেন ৷ কারণ, মহান
অল্লেস্ফো আঅপাে নির্ধারণ মোতাবেক আশুয়াংর মৈং সমগ্র আদম সঙ্কানের সরদার সর্বশেম
রাসুদ ও fl! নর্ষীর আর্বিঙ্কার পুর্বেই নির্ধারিত করে ন্নেখেহিদেন ৷ এরপর আবদুস মুতাসিম
র্তাৰে ষুৰাইশের এক মাড়াষ্ পরিবারে ষুব্দিমষ্ঠী ৰিচক্ষণ কন্য আযিনা ৰিনতে ওহৰ্ (ইবন
আরদে মড়ানড়াফ্ ইবন বাহবা)-এর সঙ্গে বিবাহ দেন ৷ তাদের মিপন্মো পর রড়াসুসুল্লাহ (সা)
আমিনার পর্তে আসেন ৷ বনাবাহন্য, ওরকো ইবন নজ্যো বোন উত্তর কিতাব রকৌকা ৰিনতে
নওফ্স আমিনার সঙ্গে মিলনের পুর্বে আব্দুল্লাহর লশাটে নুর দেখতে পেয়েছিলেন ৷ ফলে তিনি
উক্ত নুরের হেয়াে লাভ করতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন ৷ কারণ তিনি তার ডাই-এর নিকট শুনতে
পেয়েছিলেন যে, মুহাম্মদ নামক একজন নবী আবির্ভুত হবেন এবং সে সময়টি আসন্ন ৷ তাই
তিনি আবদুল্লাহর সাথে মিলনের জন্য, মতাস্তরে বিবাহের জন্য নিজেকে পেশ করেন ৷ বিবাহের
প্রস্তাবের কথাই সমধিক প্রসিদ্ধ ৷ কিস্তু আবদুল্লাহ সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ৷ পরবর্তীতে সেই
নুর আমিনার মধ্যে স্থানান্তরিত হলে ওরাকা ইবন নওফলের বোনের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করার জন্য
আবদুল্লাহ অনেকটা বিরত বোধ করেন ৷ এবার তিনি নিজে অনুরুপ প্রস্তাব দিলে মহিলাটি বলে
এখন আর তোমাকে দিয়ে আমার কোন প্রয়োজন নেই ৷ তখন সে সৌভাপ্য থেকে বঞ্চিত
হওয়ায় অড়াক্ষেপ করে এবং অত্যন্ত উচুমানেব কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করে ৷ উল্লেখ যে, এভাবে
চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারটি রাসুলুল্লাহ (না)-এর কারণেই ঘৰুটছিল, আব্দুল্লাহর জন্য
নয় ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন :

“রাসুল কাকে বানাবেন, আল্লাহ নিজেই তা ভালো জানেন ৷ ”

ইতিপুর্বে এ মর্মে একটি হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন যে, অবৈধ
মিলনে নয় বৈবাহিক বন্ধন থেকেই তিনি জন্মলাভ করেছেন ৷

রাসুলুল্লাহ (সা) মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় তার পিতা আবদুল্লাহ ইস্তিকাল করেন ৷ এটাই
প্রসিদ্ধ অভিমত ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ বর্ণনা করেন যে, আইয়ুব বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবদুল
মুত্তাণিব কুরায়শ-এর এক বণিক কাফেলার সঙ্গে সিরিয়ার গাজা অঞ্চলে যান ৷ বাণিজ্য শেষে
ফেরার পথে মদীনা পৌছলে আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ ফলে তিনি তার মাতুলগােষ্ঠী বনী
আদী ইবন নাজ্জার-এর কাছে থেকে যান এবং তাদের নিকট অসুস্থ অবস্থায় এক মাস অবস্থান
করেন ৷ সঙ্গীরা মক্কা পৌছলে আবদুল মুত্তাসিব পুত্রের কথা জানতে চাইলে তারা বলে, র্তাকে

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>