রাসূলুল্লাহ (সা) সকাশে প্রতিনিধি দলসমূহের আগমন

বর্ণনাকারীর নিজস্ব অভিমত মাত্রণ্ষ্ যার সম্ভাবনা ক্ষীণ (কেননা, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী উছমান
(রা) এর কবরে অবতরণের প্রশ্নই নেই) ৷

কেননা, রাসুলদৃহিতা উম্মু কুলছুম ব্যতীত উছমান (রা)-এর অন্য কোন শ্রী থাকার তেমন
সম্ভাবনা নেই ৷ এ বছরই আয়লার রাজা, জারব৷ আর রুহবড়াসীরা এবং দুমাতুল জানদাল-এর
অধিকর্তারা সন্ধিবদ্ধ হয়, যথাস্থানে এ সরের বিবরণ প্রদত্ত হয়েছে ৷ এ বছরই একটি যুনাফিক
উপদলের নির্মিত মসজিদরুপী ষড়যস্তের আখড়া বিরার মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হয় এবং
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নির্দেশে তা ভশ্মীতুত করা হয় ৷ এ বছরের রমযানে ছার্কীফের প্রতিনিধি
দল এসে স্বগােত্রের পক্ষে সন্ধিপত্র সাক্ষর করে নিরাপত্তার সনদ নিয়ে ফিরে যায় এবং লাত’
বিগহ ভেঙ্গে চুরমড়ার করা হয় ৷ একটু আগেই এর বিবরণ দেয়া হয়েছে ৷ এ বছরের শেষ ভাগে
ধরাপৃষ্ঠ থেকে বিদায় নেয় মুনাফিক প্রধান অতিশপ্ত’ আবদুল্লাহ ইবন উবাই ৷ এর কয়েক মাস
আগে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর তাবুক অবস্থানকালে (এ বিষয় সম্পৃক্ত হাদীস ও বর্ণনার প্রামাণ্যতা
সাপেক্ষে) মৃত্যুবরণ করেন ৷ মুআবিয়া ইবন মুআবিয়া আললায়হী কিৎবা আল ঘৃযানী (বা)
এবং রাসুলুল্লাহ্ (না) তার জানাযার ইমড়ামতি করেন ৷ এ বছরই আবু বকর (বা) রাসুল (সা)-
এর নির্দেশে মুসলিম জনতাকে নিয়ে (প্রথমবারের মত নিয়মিত) হল সম্পাদন করেন ৷

আর এ বছরই আরবের বিভিন্ন গাত্রউপগােত্রের প্রতিনিধি দলসমুহের ব্যাপক আগমন
ঘটে ৷ যে কারণে “প্রতিনিধি দল বর্ষ’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে ৷ আমরা ইমাম বুখাৰী
(র) প্রমুখ-এর পদাঙ্ক অনুসরণে তাই এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনার জন্য একটি পুর্ণাঙ্গ ও
স্বতন্ত্র অধ্যায় সন্নিবেশিত করছি ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না) সকাশে প্রতিনিধি দলসমুহের আগমন

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কা বিজয় সম্পন্ন করলেন, তাবুক
অভিযান থেকে অবসর হলেন, ছাকীফ গোত্রীয়রা আনুগত্যের বায়আত করল; তারপর শুরু হল
চারদিক থেকে আরবীয় প্রতিনিধি দলের আগমন ৷ ইবন হিশাম (র) বলেন, আবু উরায়দা
আমাকে বলেছেন যে, এসব ছিল নবম বর্ষে এবং এ বছরটিকে সানাতুল উফুদ’ বা
প্রতিনিধিদল বর্ষ’ নামে অভিহিত করা হয় ৷ ইবন ইসহাক (র) বলেন, আরব জাতি তাদের
ইসলামে দীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে এ কুরায়শ গোত্রটির পটপরিবর্তানর প্রতীক্ষায় ছিল ৷ কেননা,
কৃরড়ায়শই ছিল সকল গোত্রের পুরােধাও নিয়ন্ত্রক, হারাম শরীফ ও বায়তুল্লাহর সান্নিধ্যে
বসবাসকারী ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (আ)-এর প্রত্যক্ষ বংশধর ৷ আরব নেতৃত্বের এ
সত্যটিকে অস্বীকার করার জো ছিল না ৷ ওদিকে কৃরায়শীরাই রাসুলুল্লাহ (সা) এর বিকদ্ধাচরণ
ও তার সাথে লাগাতার সংঘর্ষের সুচনা করেছিল ৷ সুতরাং মক্কা বিজয় ও কুরায়শীদের জর
নিকট আত্মসমর্থ্যণর ফলে ও মক্কাবড়াসীরা ইসলামের পদানত হলে অন্যান্য আরবর৷ উপলব্ধি
করলো যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)ন্এর সাথে শত্রুতা পোষণ এবং ৎঘাত ও যুদ্ধ জিইয়ে রাখার
সামর্থ্য আর তাদের নেই ৷ ফলে তারা দলে দলে (যেমন মহীয়ান আল্লাহ স্বয়ং ইরশাদ
করেছেন) আল্লাহর দীনে দাখিল হতে লাগল এবং চতুল্কি থেকে এ দীনের কেন্দ্রাতিমুখে
কাফেলাসমুহের আগমন শুরু হলো ৷ যেমনটি আল্লাহ তাআলা তার নবীর কাছে বিষয়টির
অবতারণা করেছেন-

ৰ্ৰ্ন ত্মসৰে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে
প্রবেশ করতে দেখরে; তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশ০ সাসহ পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা
করার এবং তার ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তিনি তো তাওবা কবুলকারী” (১১০ সুরা আন-নাসর) ৷

অর্থাৎ তোমার দীনের প্রতিষ্ঠা লাভের প্রেক্ষিতে আল্লাহর প্রশ০ সা করবে এবং তার কাছে
মাগফিরাত কামনা করবে ৷ কারণ (এমন করলে) তিনি বান্দার তাওবা কবুল করে থাকেন এবং
বান্দার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন ৷ এ প্রসঙ্গের বিন্তুত বিবরণ সম্বলিত আমুর ইবন মাসলামা
(বা) বর্ণিত হাদীস আমরা ইতােপুর্বে উল্লেখ করে এসেছি ৷ যার সংক্ষেপ হল গোটা আরব
পক্ষের বিজয়ের প্রতীক্ষায় ছিল; এটি ফায়সালা হয়ে গেলে তারা ইসলাম গ্রহণ করবে ৷ তারা
তো বলতেই থাকত এ লোকটাকে তার কওমের সাথে বুঝতে দাও; যদি ওদের৷ উপরে তার
প্রাধান্য জমাতে পারে, তাহলে সে সতই নবী সাব্যস্ত হবে ৷ সুতরাং মক্কা বিজয় বাস্তবায়িত
হলে প্রতিটি কওম অ্যাবর্তী হওয়ার প্রতিযােগীতার সাথে ইসলামে দাখিল হতে লাগল ৷ আমার
কওমও ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী ভুমিকায় ছিল ৷ আমাদের কওমের প্রতিনিধি ফিরে এসে যা
বলেছিল তা হল “আল্লাহর কসম! একজন সত্য নবীর সান্নিধ্যে থেকেই তোমাদের কাছে
আসছি; তিনি বলে থাকেন,

“অমুক সময় অমুক সালাত এবং অমুক সময় অমুক সালাত আদায় করবে ৷ সালাতের সময়

আগত হলে তোমাদের পক্ষে একজন আমান দেবে এবং তোমাদের মাঝে কুরআনের অধিকতর
জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি তোমাদের ইমামতি করবে ৷”

( আমৃর (বা) পুর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন) এ হাদীসের বিবরণ রয়েছে সহীহ্ বুখারী

ধস্কারের মন্তব্য : মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) এবং র্তার পরবভীচিদর মাঝে ওয়াকিদী ও
ৰুধ্রীি (র) এবং আরও পরে বায়হাকী (র) প্রমুখ এমন অনেক প্রতিনিধি দলের তালিকা ও
ৰিৰ্ৰ্ন দিয়েছেন যাদের আণমনকাল ছিল নবম হিজয়ী বর্ষে ৷

নৌ মক্কা ৰিজয়েরও আগে এর প্রমাণ থােদ আল্লাহর কালামেও ইরশাদ হয়েছে-

অেমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পুর্বে ব্যয় করেছে ও লড়াই করেছে তারা এবং

র্মো সমান নয় ৷ তারা মর্যাদার শ্রেষ্ঠ ওদের অপেক্ষা; যারা পরবভীকািলে ব্যয় করেছে ও
গ্ইেৰ্ৰ্রছে ৷ তবে আল্পাহ্ ভৈয় দলেরই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (৫৭ : ১০) এছাড়া

নবী করীম আলায়হিস সালামের এ বাণীও পুর্বে উদ্ধৃত হয়েছে মক্কা বিজয়ের দিন তিনি
বলেছিলেন “এখন থেকে (মক্কা হতে মদীনায় বিধিণ৩ ত) হিজরত
নেই; তবে জিহাদ ও নিয়ত এ আমল চিরক৷ ল অব্যাহত থাকবে ৷

অতএব, মদীনাভিঘুখী প্রতিনিধি দলসমুহের মাঝে স্তরৰিন্যাস ও পার্থক্য নির্ণয় জরুরী ৷ একটি
স্তব্র হল মক্কা বিজয়ের পুর্বে আগমনকারীদের, যাদের আগমন হিজরতরুপে স্বীকৃত ৷ অন্য স্তরটি
হল মক্কা বিজয়ের পরবর্তী সময় আগমনকাবী থোত্রীয় প্রতিনিধি দলসমুহের; যাদের জন্যও আল্লাহ্
কল্যাণ ও পুণ্যের ওয়াদ৷ করেছেন ৷ কিন্তু সময়ের পার্থক্য ও মাহাঅোর বিচারে এরা পুর্ববর্জীদর
সমতুল্য হতে পারে না ৷ আল্লা ইে সমধিক অবগত ৷ এ ছাড়া প্রতিনিধি দল বিষয়ক আলোচনায়
গুরুতৃারোপ সত্বেও পুর্ববর্তীদের আলোচনা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য বাদ পড়ে গিয়েছে ৷
আমরা শ্আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অপার অনৃখহে পুর্বসুরীদের আলোচনা সংেক্ষ্যপ উল্লেখ করার
সাথে সাথে সে বিষয় প্রয়োজনীয় ঢিকা-টিপ্পনী ও সংশোধন-সংযোজনসহ আমাদের প্রাপ্ত তথ্যাদি
র্তাদের পরিত্যক্ত বিষয়গুলোও সাধ্যমত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্!

ওয়াকিদী (র) বলেন, কাহীর ইবন আবদুল্লাহ আল মুযানী (র)র্তার দাদা থেকে বর্ণনা
করেন, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) সকাশে সর্বপ্রথম আগমনকারী প্রতিনিধি দল হল
মুযার’ গোত্রের শাখা মুযায়না’-র চারশ ৷’ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি কাফেলাঢি ৷ এদের আগমন
হয়েছিল পঞ্চম হিজরীর রজব মাসে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তাদের স্বদেশ ভুমিতে অবস্থান করাকেই

তাদের জন্য হিজরত তভুল্য’ সাব্যস্ত করে দিলেন ৷ তিনি বললেন,

“তোমরা তোমাদের বাড়ি-ঘরে থেকেই ন্মুহাজির সাব্যস্ত হবে ৷ সুতরাং তোমরা ণ্তামাদের
ধন-সম্পদের মাঝে ফিরে যাও” ৷ ফলে র্তার৷ ভীদের আবাসভুমিতে ফিরে গেল ৷ তারপর
ওয়াকিদী (র) হিশাম ইবনৃল কা ৷লবী (র) থেকে৩ারই সনদে উল্লেখ করেছেন যে, যুযায়ন৷ থেকে
সর্বাগ্রে আগমনকা ৷রী ব্যক্তি ছিলেন খুয৷ ৷ঈ ইবন আবৃদ নৃহুম এবং তার সাথে ছিল তার স্বগােত্রীয়
আরও দশজন ৷ তিনি তার কওমের পক্ষে রাসুলুল্লাহ্র হাতে ইসলামের বায়আত করলেন ৷ কিন্তু
কওমের কাছে ফিরে গেলে তাদের ব্যাপারে তার ধারণার ব্যতিক্রম দেখতে পেয়ে হতাশ হলেন ৷
কওম তীর প্রতি তেমন সাড়া দিল না ৷ এ অবস্থা জানতে পাের রাসুলুল্লাহ্ (সা) করি হাসৃসান
ইবন ছাবিত (রা) কে নির্দেশ দিলেন, থুযাঈর নিন্দা না হয়, এমনভাবে কটাক্ষ করে কবিতা
রচনা কর ৷ তিনি সে মত কয়েকটি পংক্তি রচনা করলেন ৷ এগুলো খুযাঈর কাছে পৌছলে তিনি
গোত্রের ণ্লাকদের কাছে এ ব্যাপারে অনৃযোগ করলেন ৷ তখন তারা সমবেত হয়ে ইসলাম গ্রহণ
করলে খুযাঈ তাদের নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর ৷খদমতে হ যিব হলেন ৷ মক্কা বিজয়ের দিন-
সেদিন পর্যন্ত তাদের সং খ্যা হাজ জারের ঘরে পৌছেছিলণ্প্ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুযায়না ৷কবীলার
পতাকাবাহী নিযুক্ত করেছিলেন এ খুয৷ ৷ঈকেই ৷ বর্ণনাক ৷রী বলেন, ইনি হলেন আবদুল্লাহ যুল-
বিজাদায়ন (দৃই কম্বলধারী অ ৷বদুল্লাহ্) এর ভাই ৷

অনুচ্ছেদ : তামীম প্রতিনিধি দলের আগমন প্রসঙ্গ

ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু নুআয়ম (র)ইমরান ইবন হুসায়ন (না) থেকে, তিনি
বলেন, একদল বনু তামীম নবী করীম (না)-এর কাছে এলে তিনি বললেন, “হে তামীষীরা ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Login