সকল সাহাবী (রা) এর সালাতে ইমামতি করার জন্য আবূ বকর (রা)-এর প্রতি নবী করীম (সা) এর নির্দেশ দান প্রসংগ

বললে তখন আমি একমত্রে এ ধারণইি করেছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) এ ব্যাপারে আমাকে
হুকুম করেছেন, তা না হলে তো আমি সালাতে ইমামতি করতাম না ৷ বর্ণনাকারী (ইবন যামৃআ
বলেন, আমি বললাম, অল্লোহর কসম! রাসুলুল্লাহ্ (না) (সরাসরি আপনাকে বলার জন্য )
আমাকে হুকুম করেন নি, তবে আমি যখন আবু বকরকে দেখতে পেলাম না তখন সালাতে
ইমামতির জন্য উপন্থিতদের মাৰে৷ আপনাকে যােগ্যতম মনে করলাম ৷ আবু দাউদ (র)-ও
অনুরুপ ষুহ্রী (র) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেহ্নে৷ ৷ আর ইউনুস ইবন বুকায়র (র) হাদীসটি
অনুরুপ রিওায়ায়াত করেছেন ৷ ইবন ইস্হাক আবদুল্লাহ ইবন যামৃআ (বা) সুত্রে উল্লেখ
করেছেন ৷ আবু দাউদ (র) আরো বলেছেন, আহমদ ইবন সালিহ্ (র) আবদুল্লাহ ইবন যাম্আ
(বা) (উবায়দুল্লাহু ইবন আবদুল্লাহ ইবন উত্বাকে) খবর দিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, নবী করীম
(সা) যখন উমর (রা)-এর আওয়ায শুনলেন, ইবন যাম্আ বলেন, নবী করীম (সা) বের হয়ে
এলেন, (অর্থাৎ) হুজরা থেকে মাথা গলিয়ে দেখার পরে বললেন — শ্লো “না, না, ইবন আবু কুহড়াফা (আবু বকর) ব্যতীত অন্য কেউ লোকদের
সালাতে ইমামতি করবে না ৷ তিনি তা বলছিলেন অসম্ভষ্টির সাথে ৷

বুখারী (র) বলেন উমর ইবন হাফস (র) আসৃওয়াদ (র) হতে, তিনি বলেছেন, আমরা
আইশা (রা)-এর কাছে ছিলাম এবং আমরা সালাতে নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যাবসায় এবং তার
গুরুত্ব প্রদান বিষয় আলোচনা করছিলাম ৷ অইিশা (রা) বললেন, নবী করীম (না) যখন সে
অসুস্থতার আক্রান্ত হলেন যাতে তিনি ইন্তিকাল করেন তখন সালাত-এর সময় উপস্থিত হলে
ৰিলাল (রা) আযান দিলেন ৷ নবী করীম (সা) বললেন, “আবু বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত
আদায় করতে বল ৷ তখন র্তাকে বলা হল,আবু বকর একজন কোমল প্রাণ মানুষ, তিনি যখন
আপনার স্থানে র্দাড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে সমর্থ হবেন না ৷ নবী
করীম (না) তার আদেশের পুনরাবৃত্তি করলে র্তারাও তাদের কথার পুনরুক্তি করলেন ৷ নবী
করীম (সা) তৃতীয়বার তার হুকুমের পুনরুক্তি করলেন ৷ তিনি বললেন , :ম্রা
»» “তোমরা তাে দেখছি ইউসুফ (আ)-এর যুগে নারীদের মত ৷ ১
আবু বকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে ৷ তখন আবু বকর (রা) (সালাত
আদায়ের জন্য) বের হলেন ৷ পরে (কোন এক সালাতের সময়) নবী করীম (না) (রোগের
প্রকোপ কমে গিয়ে) একটু হাল্কা বোধ করলে দুজন লোকের র্কাধে ভর করে বের হলেন, আমি
ন্ যেন (এখনও) দেখছি র্তার পা দুখানি, রোগ ভাবে (মাটিতে) দাগ কোট যাচ্ছে ৷ নবী করীম
(সা) এর উপস্থিতি টের পেয়ে আবু বকর (বা) (ইমামের স্থান হতে) পিছনে সরে যেতে উদ্যত
হলে নবী করীম (সা) র্তাকে ইৎগিতে নিজ স্থানে থাকতে বললেন ৷ এভাবে তাকে নিয়ে আসা
হলে তিনি তার (আবু বকরের) পাশে বসে পড়লেন ৷ মধ্যবর্তী রাবী আমাস (র)-কে জিজ্ঞাসা
করা হল, তবে কি তখন নবী করীম (সা) সালাত আদায় করছিলেন এবং আবু বকর তাকে

১ ইউসুফ (আ)-এর সহচরী অর্থাৎ অযীয়ের শ্রীর চা-চহ্রক্রা আহবানে আগত শহরের সম্রাস্ত নারীগণ যেভাবে
উচ্চ প্ৰসংশার জালে আবদ্ধ করে ইউসুফ (আ)-কে সঠিক পন্থা হতে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল ৷ তােমরাও
তেমনি আমাকে আমার যথার্থ করণীয় হতে বিচ্যুত করতে সচেষ্ট হচ্ছে৷ ৷ অনুবাদক

অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিলেন, আর লোকেরা আবু বকরের সালাতের অনুকরণে
সালাত আদায় করছিল ? আমান (র) তার মাথা দিয়ে ইংগিত করলেন, হী ৷ এরপরে বুৰ্াৰী
(র) বলেছেন, আবু দাউদ (র) শুবড়া (র) হতে এ হাদীসের অংশবিশেষ রিওয়ায়াত করেছেন ৷
আর আমাশ (র) হতে গৃহীত রিওয়ায়াতে আবু ঘুআৰিয়ড়া (র) অধিক বলেছেন “নবী করীম
(সা) আবু বকর (রা) এর বাম দিকে উপবেশন করলেন এবং আবু বকর (বা) দাড়িয়ে সালাত
আদায় করছিলেন ৷ বুখড়ারী (র) র্তার গ্রন্থের একাধিক স্থানে এবং মুসলিম , নড়াসাঈ ও ইবন মজো
(র) আমান (র) হতে একাধিক সুত্রে ঐ সনদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ বুখারী (র)
আরো বলেন, অবেদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র) আইশা (বা) হতে, এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, তিনি
বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) তার অসুস্থতার সময় বললেন, আবু বকরকে লোকদের নিয়ে
সালাত আদায় করতে বল ! ইবন শিহড়াব (র) বলেন, উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ (র) আইশা
(রা) এর বরাতে আমাকে খবর’ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি এ বিষয় নবী কৰীম
(সা)কে বিকল্প প্রস্তাব দিলাম ৷ এ বিকল্প প্রস্তাব দানে আমাকে উদ্বুদ্ধ করছিল ৷ শুধু আমার এ
দৃশ্চিত্তা যে, লোকের আবু বকরকে (অপয়া) মনে করবে এবং শুধু আমার এ উপলব্ধি যে, যে
কেউ তীর স্থানে র্দড়োয়ে লোকেরা র্তাকে কুলক্ষ্যণ মনে করবেই ৷ তাই, আমি চাচ্ছিলাম যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবু বকরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বলুন ৷

আবদুর রাঘৃযাক (র) যুহ্রী (র) সনদে সহীহ্ যুসলিমে রয়েছে (যুহ্রী বলেন) হাঘৃযা
আবদুল্লাহ ইবন উমর (র) আইশা (বা) হতে আমাকে খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন, রড়াসুলুল্লাহ্
(না) যখন আমার ঘরে এলেন তখন বললেন, “আবু বকরকে বলে দাও, লোকদের নিয়ে
সালাত আদায় করতে ৷” “আইশা (রা) বলেন, আমি বললায়, ইয়ড়া রাসুলাল্লাহ্ ৷ আবু বকর
একজন কোমল প্রাণ মানুষ কুরআন পাঠ করতে লাগলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না ৷
তাই, আপনি যদি আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে আদেশ করতেন ! ” আইশা (রা ) বলেছেন,
(এরুপ বলার পিছনে) আমার মাঝে কাজ করছিল শুধু এই দুশ্চিন্তা যে, সর্বড়াগ্রে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর স্থানে র্দাড়ড়ানাে ব্যক্তিকে লোকেরা কুলক্ষাণ মনে করবে ৷ আইশা (রা) বলেন, তাই,
দুবার কিংবা তিন বার আমি তার কাছে পুনঃপুনঃ অড়াবদার জানড়ালাম ৷ তিনি বললেন ৷ আবু বকরই লোকদের নিয়ে (ইমামতি করে) স্যলাত
আদায় করবেন; তোমরা নিশ্চয় ইউসুফ (আ) এর যুগের নারীদের তুল্য ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে
আবদুল মালিক ইবন উমায়র (র)-এর বরাতে, আবু মুসার পিতা হতেও অনুরুপ রিওয়ায়াত
রয়েছে তাতে অতিরিক্ত আছে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর জীবদ্দশায়ই
আবু বকর (লোকদের ইমাম হয়ে) সালড়াত আদায় করলেন ৷

ইমাম আহমদ (র) আবদুর রহমান ইবন মাহ্দী (র) , উবড়ায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ (র)
হতে, তিনি বলেন, আইশা (রা)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে আমি বললাম , রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) এর
অসুস্থতা সম্পর্কে আপনি আমাকে হাদীস ণ্শানায়েন কি? তিনি বললেন, “কেন নয়? রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর অসুস্থতা প্রবল্ট হল ৷ তিনি বললেন, লোকরা কি সালাত আদায়
করেছে? আমরা বললাম, জী না ৷ র্তীরড়া আপনার প্রতীক্ষ্যয় রয়েছে ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা) ৷ তিনি

বললেন গামলায় আমার জন্য পানি ঢেলে দাও, আমরা তা
করলাম ৷ অইিশা (বা) বলেন, তিনি গোসল করার পরে উঠে র্দাড়াতে গেলে সংজ্ঞা হারিয়ে
ফেললেন ৷ পরে চেতনা ফিরে পেয়ে বললেন, গ্রাগ্রা এশ্া লোকেরা কি সালাত আদায়
করেছে? আমরা কালাম দ্বী না, তারা আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছে ইয়া বা সুল ৷ল্পাহ্ ! তিনি
বললেন, আমার জন্য গামলায় পানি চোল দাও ৷” আমরা তা করলাম ৷ তখন তিনি গোসল
করলেন ৷ পরে র্দড়ােডে উদ্যত হলে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেললেন ৷

তারপর চেতনা ফিরে পেয়ে বললেন, “লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে ?” আমরা
বললাম ল্লী, না ৷ র্তার৷ আপনার জন্য অপেক্ষা কাছে ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! তিনি বললেন, আমার
জন্য গামলায় পানির ব্যবস্থা কর ৷ আমরা তা করলে তিনি গোসল করলেন এবং পরে উঠে
র্দাড়াতে গেলে চেতনা হারিয়ে ফেললেন ৷ পরে চেতনা ফিরে পেয়ে বললেন, লোকেরা কি
সালাত আদায় করেছে ? আমরা বললাম, জী না, ইয়া রাসুলাল্পাহ ! তারা আপনার প্রভীক্ষায়
রয়েছে ৷” অইিশা বলেন, লোকেরা মসজিদে নিশ্চল হয়ে ইশার সালাতের জন্য রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর প্রভীক্ষা করছিল ৷

তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করার জন্য আবু বকর (রা)-এর
কাছে লোক পাঠালেন ৷ আবু বকর (বা) ছিলেন কোমল প্রাণ মানুষ ৷ তইি তিনি বললেন, হে
উমর! লোকদের সালাতে ইমামতি করুন !” তিনি বললেন, “এ বিষয় অগ্নগণ্য ৷ ” তখন তিনি
(আবু বকর) ঐ দিনগুলিতে তাদের সালাতে ইমামতি করলেন ৷ পরে (একদিন) রাসুলুল্লাহ্
(সা) খানিকটা সুস্থতা বোধ করলে দুইজন লোকের উপর (ভর দিয়ে) যুহ্র সালাতের জন্য
বের হলেন ৷ সে দুজনের একজন হলেন আব্বাস (রা) ৷ আবু বকর (রা) (সালাতে থেকে)
তাকৈ (আগমন উদ্যত) দেখতে পেয়ে পিছনে সরে যেতে লাগলে নবী করীম (সা) র্তাকে
ইৎগিত করলেন যেন, পিছনে সরে না যান এবং ঐ দৃজনকে বললে র্তারা তাকে তার (আবু
বকরের) পাশে বসিয়ে দিলেন ৷ তখন আবু বকর (বা) দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে থাকলেন
এবং রাসুলুল্পাহ্ (সা) বসে বসে সালাত আদায় করলেন ৷” (আইশার বর্ণনা সমান্ত) উবায়দৃল্লাহ
(র) বলেন, পরে আমি ইবন আব্বাস (রা)-এর কাছে গিয়ে তাকে বললাম, “ রাসুলুল্পাহ্ (সা)-
এর অসুস্থতা কালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে আইশা (বা) আমাকে যা শুনিয়েছেন তা আপনার
কাছে উপস্থাপন করব কি ? “তিনি বললেন, আচ্ছা তা করতে পার ৷ তখন আমি র্তাকে
(আনুপুর্বিক্) বিবরণ দিলে তিনি তার কিছুই অস্বীকার করলেন না ৷ তবে তিনি এতটুকু
বললেন, আব্বাসের সাথে অন্য যে লোকটি ছিলেন, তিনি (আইশা) কি তোমার কাছে তার
নাম বলেছেন ? আমি বললাম, জী না ৷ তিনি বললেন, তিনি হলেন আলী (বা) ৷ বুখারী ও
মুসলিম (র) উভয় আহমদ ইবন ইউনুস (র), (যাইদা) হতেও (ঐ সনদে) হাদীসটি রিওয়ায়াত
করেছেন ৷ একটি রিওয়ায়াতে রয়েছে,“তখন আবু বকর (বা) রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সালাতের
অনুসরনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন; আর লোকেরা আবু বকরের সালাতের
অনুসরণে সালাত আদায় করছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ছিলেন উপবিষ্ট ৷ বায়হাকী (র) বলেছেন,
এ বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে, এ সালাতে নবী করীম (সা) অ্যাবর্তী হয়ে (বসে) ছিলেন এবং
আবু বকর (বা) রাসুল (সা)-এর সালাতের সাথে নিজের সালাতকে সম্পৃক্ত করে দিয়েছিলেন ৷

আইশা (বা) হতে আসওয়ড়াদ ও উরওয়া (র) অনুরুপই রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তদ্রাপ , ইবন
আব্বাস (বা) হতে আরকাম ইবন শুরাহ্বীল (র)-এর রিওয়ড়ায়াতও , অর্থাৎ এখানে উদ্দিষ্ট বিষয়
হল আহমদ (র) এর রিওয়ায়াত ইয়াহ্যা ইবন যাকারিয়্যা ইবন আবু যাইদা (র) (আরকাম
ইবন শুরড়াহ ৰীল সুত্রে ) ইবন আব্বাস (বা) হতে তিনি বলেন, পুর্বানৃরুপ বর্ণনা করে তাতে
অতিরিক্ত যোগ করেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) গিয়ে আবু বকরের পাশে তার বাম দিকে বসে পড়লেন
এবং আবু বকর (বা) যে আয়াত পর্যন্ত পৌছেছিলেন সে আয়াত হতে তিলাওয়াত আরম্ভ
করলেন ৷ পরে আহমদ (র) ওয়ার্কী (র) আরকাম (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে আরো বিশদ
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ওয়াকী (র) তার বর্ণনায় কখনও বলতেন, “আবু বকর (রা) নবী করীম
(সা)এর ইকতিদা অনুগমন করছিলেন এবং লোকেরা আবু বকর (রা)-এর ইকতিদা অনুগমন
করছিল ৷ ” ইব ন মাজা (র) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন আলী ইবন মুহাম্মদ (র), ইবন
আব্বাস (বা) সুত্রে অনুরুপ ৷ পক্ষান্তরে; ইমাম আহ্ মদ (র) বলেছেন, শাবাব৷ ইবন যাওয়ার
(র) আইশা (রা) হতে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার যে অসুস্থতার ইন্তিকাল করেছিলেন
তাতে তিনি আবু বকরের পিছনে’ উপবিষ্ট হয়ে সালাত আদায় করেছেন ৷” তিরমিযী ও নাসাঈ
(র)ও হাদীসটি শুবা বরাতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিরমিযী (র) হাসান সাহীহ বলে মন্ত
যা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র ) আরো বলেন, বকর ইবন ঈসা (র) (শুবা) (মসবৃকৃক) আইশা
(র) হতে এ মর্মে যে, আবু বকর (রা) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, রাসুলুল্লাহ্
(মা) ছিলেন (ঘুক্তাদীদের) কাতারে ৷ বায়হাকী (র) বলেছেন, আবুল হুসায়ন ইবন ফাষ্ল
আল-কাত্তান (র) আইশা (বা) হতে এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবু বকরের পিছনে
(মুক্তড়াদী হয়ে) সালাত আদায় করেছেন ৷

এ সনদটি বেশ উত্তম (জাব্যিদ) সনদ; তবে (ছয়) গ্রহকারগণ তা উদ্ধৃত করেন নি ৷
বায়হাকী (র) বলেছেন, অনুরুপ হুমায়দ (র) আনাস ইবন মালিক (বা) হতে এবং ইউনুস (র)
হাসান (রা) হতে হাদীসটি মুরসালরুপে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ পরে আবার হাদীসটি সনদযুক্ত
রিওয়ায়াত করেছেন, হুশায়ম (র) সুত্রে (হুশায়ম-ইউসুস-হসােন এবং হুশায়ন-হুময়েদ-আনাস
ইবন মালিক) এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বের হলেন, আবু বকর (বা) তখন লোকদের নিয়ে
সালাত আদায় করছিলেন ৷ তিনি (না) গিয়ে তার পাশে উপবেশন করলেন ৷ তখন তার পায়ে
ছিল একটি চাদব, যার দুপ্রান্ত তিনি বিপরীত যুথী করে (দু’র্কাধে ফেলে) রেখেছিলেন ৷ তিনি
তখন তার (আবু বকরের) সালাত অনুসারে (মুক্তাদী হয়ে) সালাত আদায় করলেন ৷
বায়হাকী (র) বলেন, আলী ইবন আহমদ ইবন আবদান (র) আনাস (বা) সুত্রে বলেছেন,
রাসৃলুল্লাহ্ (সা) শেষ যে সালাত জামাআতের সাথে আমার করেছেন তা তিনি আদায়
করেছিলেন আবু বকরের পিছনে এক কাপড়ে তা চাদরের ন্যায় জড়িয়ে ৷

ন্থকারের মন্তব্য : এটি একটি বেশ উত্তম সনদ, যা সহীহ্ (বৃখারী) গ্রন্থের শতইনৃকং
তবে (হয়) গ্রন্থকরগণ তা উ’জ্বও করেন নি ৷ এ ছড়ো মানুষের

করলেন ৷ একখানি কাপড়, চাদর পরিধান করে, তার দৃ’প্রান্ত বিপরীত সুখী করে (র্কাধের
উপর) রেখে, পরে যখন র্দাড়াবার ইচ্ছা ব্বলেন, তখন বললেন, “আমার জন্য উসামা ইবন
যড়ারদকে ডেকে আন ৷ উর্সামা এসে গেলে তিনি নিজের পিঠ তার বুকের সাথে লাগ্যালন
(এবং উঠে র্দাড়ালেন) ৷ এ সালাতই ছিল জব আদায় কৃত শেষ সালাত ৷ বায়হাকী বলেন, এ
বণ্নাি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ সালাত ছিল ওফাতের দিন সোমবারের ফজর সালাত ৷
কেননা, তা-ই হ্নি^৷ তার আদায়কৃত গেম সালাত ৷ কেননা, এ কথা প্রমাণিত যে, তিনি
সোমবার প্রথম প্রহরে ইন্তিকাপ্স করেছিলেন ৷

গ্রস্থুকারের কথা : বায়হাকী(র) তার কথিত এ বক্তবটি উদ্ধৃত করেছেন ৷ (সম্ভবত) মুসা
ইবন উক্বার মাপাযী’ গ্রন্থ থেকে হুবহু ৷ কেননা, মুসা (র) অনুরুপই উল্লেখ করেছেন, আবুল
আসৃওয়াদ (র) ও উরওয়া (র) হতে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ জ্যি এ বত্তল্যটি দুর্বল ও
অসমর্থিত, বরৎ এটি হবে জামাআতের সাথে আদায়কৃত নবী করীম (না)-এর শেষ সালাত ৷
যেমন পুর্বোল্লিখিত্ত একটি রিওয়ারাতে এরুর্পবিবৃত হয়েছে ৷ আর মুল হাদীস যেহেতু এক
ও অত্যি ৷ সুতরাং নির্গয়বিহীন ও উন্মুক্ত (সুত্লাক) বর্ণনাকে নির্ণয়যুক্ত বিশিষ্ট (ষুকায়াদ)
বর্ণনার অধীন বস্মা হবে ৷ সুজ্ঞাৎ এ কথা বলার অবকাশ থাকছে না যে, তা ওফাত দিবস
ণ্সামবারের ফজরের সালাত ছিল ৷ কেননা, সে সালাত তিনি জামাআতের সাথে আদায়
করেন নি, বরৎ দৃর্বলতার কারণে নবী কবীম (সা) সে সালাত আদায় করেছিলেন তীর
হুজরায় ৷ এ ব্যাপারে আমার কাছে প্রমাণ হল সহীহ্ গ্রন্থে বুখারী (র)-এর বিবৃতি আবুল
ইয়ামান (র) আনাস ইবন মালিক (রা)-এর বরাতে খবর দিয়েছেন, তিনি ছিলেন নবী কবীম
(না)-এর সার্বক্ষণিক খাদিম ও বিশ্বত সহচর, এ মর্মে যে নবী করীম (সা) যে অসুস্থতার
ইন্তিকাল করলেন, যে সময় আবু বকর (রা) তাদের (ইমাম) হয়ে সালাত আদায় বম্মতেন ৷
এভাবে সোমবার (সকালে) তারা সালাতে সারিবদ্ধ ছিলেন ৷

তখন নবী কবীম (সা) তীর হুড্ডার পদা তুলে আমাদের দিকে তাকালেন; তিনি তখন
র্দাড়িয়েছিলেন এবং তার চেহারা যুবারক ছিল হাসিতে উদ্ভাসিত ৷ যেন তা পবিত্র গ্রন্থের
পাতা ৷ নবী করীম (না)-কে দেখার কারণে আমাদের আনন্দাতিশয্যে বিশৃৎখল ও আত্মহারা
হওয়ার উপক্রম হয়েছিল ৷ আবু বকর (রা) কাতারে নাযিল হওয়ার উদ্দেশ্যে পিছু হট্তে
উদ্যত হলেন ৷ কারণ তিনি ভেবেছিলেন যে, নবী করীম (সা) সালাতের জন্য বেরিয়ে
আসছেন ৷ তখন নবী করীম (সা) আমাদের ইংগিত করলেন যে, তোমরা তোমাদের
সালাত পুর্ণ করে নাও ৷ পরে তিনি পর্দা ছেড়ে দিলেন এবং ঐ দিনই ইস্তিকাল বম্মলেন ৷
“মুসলিম (র) এ হাদীসটি জ্যি সুত্রের রিওয়ায়াত করেছেন ৷ বুখারী (র) পরবর্তী রিওরায়াত

১ অর্থ উসুন (মুলনীতি) শাক্সের বিধান মতে কোন অতিরিক্ত বর্ণনা বিহীন ভাষ্য (যাকে পরিভাষায়
মুত্লাক ফ্লো শ্ উন্মুক্ত বলা হয়) অতিরিক্ত বর্ণনা যুক্ত ভাষ্যের (পরিভাষার মুকায়্যাদাও সীমিত ও সৎকীর্ণ)
সমান্তরালে প্রয়োগ করা হবে ৷ এটাই অজ্জি বিষয় পরস্পর বিরোধী বর্ণনাসমুহের ভৈবপয়ীত্য নিরসনের স্বীকৃত
পন্থা ৷-অনুৰাদক

আবু মামার (র) , আনাস ইবন মালিক (বা) হতে, তিনি বলেন, নবী করীম (সা) তিন দিন
বের হলেন না ৷ এদিকে সালাতের ইমামাত বলা হলে আবু বকর (বা) (যথারীতি) ড্ডাবভী
হয়ে গেলেন ৷ ওদিকে নবী করীম (না) বললেন, পদা তুলে দাও ৷ পর্দা তুলে দিলে তীর
ঘুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল ৷ তার চেহারা যখন উদ্ভাসিত হল তখন আমাদের মনে হল যে,
আমরা নবী কবীম (না)-এর ঢেহারার চাইতে অধিকতর মােহনীয় কোন দৃশ্য আমরা কোন
দিন দেখি নি ৷” নবী কবীম (না) তখন তার হাত দিয়ে আবু বকরকে অগ্নবর্তী থাকার
ইংগিত করলেন ৷ তিনি পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন ৷

তারপর ওফাত পর্বত আর মসজিদে আগমন করতে সমর্থ হলেন না ৷” মৃসলিম (র)
ভিন্ন সনদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন ৷ সুতরাং এ হাদীসটি পুর্বোল্লির্থিত দাবীর স্পষ্ট
প্রমাণ যে, নবী করীম (সা) সোমবারের ফজর সালাত জনতার সাথে আদায় করেন নি এবং
তিনি তাদের কাছে থেকে (পেয়ে বারের মত) চলে যাওয়ার পর তিন দিন যাবত তাদের
কাছে আর আলেননি ৷ সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, শেব যে সালাত তিনি র্তাদের সাথে
আদায় করেছিলেন তা হবে যুহর সালড়াত ৷ যেমন, আইশা (না)-এর পুর্বোল্লিখিত হাদীসে
স্পষ্ট বিবৃত হয়েছে এবং তা হবে বৃহস্পতিবারের ঘটনা ৷ শনিবারেরও নয় £রাববারেরও
নয় যা নাকি মুসা ইবন উকবার মাগাযীর দুর্বল সুত্রে বড়ায়হড়াকী (র) উদ্ধৃত করেছেন ৷ এ
ছাড়াও আমাদের অনৃকুলে রয়েছে আমাদের পুর্বোল্লিখিত বৃহস্পতিবার যুহর সালাতের পরে
প্রদত্ত নবী করীম (না)-এর ভাষণ এবং তিন দিন জামাআত হতে তীর বিচ্ছিন্ন থাকার
বিবরণ ৷ দিন তিনটি হল শুক্র, শনি ও রবিবার, পুর্ণ তিন দিন ৷ যুহ্বী (র) আবু বকর: ইবন
আবু সড়াবরড়া (রা) এর ররাতে বলেছেন, “আবু বকর (রা) র্তাদের নিয়ে সতের ওয়াক্ত
সালাত আদায় করেছিলেন ৷ অন্যান্যরা বলেছেন, বিশ ওয়াক্ত সালাত ৷” আল্লাহই সমধিক
অবগত ৷ তারপর সোমবারের প্রত্যুষে তাদের দিকে শেষবারের মত তাকিয়ে তাদের নিকট
থেকে বিদায় (নন ৷ তীর সে মােহনীয় দৃষ্টিপাতে আনন্দে আত্মহারা হওয়ার দরুন তাদের
সালাতে বিঘ্র সৃষ্টির উপক্রম হয়েছিল ৷ এ দর্শনই ছিল প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়ড়াসাল্লমোঃক সাহাবী জনতার শেষ দর্শন এবং র্তাদের অবস্থা থেকে এ অভিব্যতিঃ৷ প্রকাশ
ঘটছিল ৷ (কবির ভাষায়)-

“যুহুর্তের বিরহে মরমে পশিল বিচ্ছেদের অসহ জ্বালড়া , হাশর অবধি সে বিচ্ছেদ জ্বালা সইব
কেমনে বল ৷”

বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, হাফিজ বায়হাফী (র)এর ন্যায় ভীক্ষ্ণবী হাদীস বিশারদ এ
হাদীসটি উল্লিখিত দুই সুত্রেই বর্ণনা করেছেন এবং বৈপরীতা নিরসনে তিনি যা বলেছেন তার
সড়ার কথা হল সম্ভবত নবী করীম (সা) প্রথম রাকড়াআতের সময় পর্দায় আড়ালে ছিলেন; পরে
দ্বিতীয় রাকআতের সময় বেরিয়ে এসে আবু বকর (রড়া)-এর পিছনে সালাত আদায়
করেছিলেন ৷ যেমন উরওয়৷ (র)-ও মুসা ইবন উক্বা (র) বলেছেন এবং বিষয়টি আনাস ইবন

মালিক (রা) এর কাছে অজ্ঞাত ৷ কিত্ৰা তিনি হাদীসের অংশবিশেষ উল্লেখ করেছেন এবং তার ,
শেষ অংশের উল্লেখ থেকে বিরত থেকেছেন ৷ (আমার মতে ) বায়হাকী (র)-এর এ সমন্বয়
প্রয়াস বাস্তবতা হতে যথেষ্ট দুরের ৷ কেননা, আনাস (বা) পরিস্কার বলেছেন যে, “ইনতিকাল
পর্যন্ত তিনি আর তাতে (অর্থাৎ আমাআতে হাবিব হতে) সমর্থ হন নি ৷” অন্য এক বিওয়ায়াতে

তিনি বলেছেন, “এটাই ছিল তার শেষ দর্শন ৷ আর এ ধরনের ক্ষেত্রে সাহাবীর উক্তি তাবিঈ
উক্তির তুলনায় অগ্রপণ্য ৷ আল্লাহ্ব সমধিক অবগত ৷

এ আলোচনায় আমাদের লক্ষ্য হল ইসলামের সর্ব প্রধান আমলী রুক্ন ও প্রধান কর্মসুচী
সালাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুল (সা) আবু বকর সিদ্দীক (না)-কেই সকল সাহাবীর ইমাম
রুপে অগবর্তী করে দিয়েছিলেন ৷ শায়খ আবুল হাসান আশআবী (র) বলেছেন, স্বয়ং রাসুলুল্লাহ্
(সা) কর্তৃক তাকে ইমাম নিযুক্ত করা দীন-ইসলামের একটি সর্বজন স্বীকৃত ব্যাপার ৷” তিনি
আরো বলেছেন, এবং তাকে অগ্নবর্তী করে দেয়া এ কথারও প্রমাণ বহন করে যে, তিনি
সাহারা-ই কিরামের মাঝে সৰ্বাধিক প্রজ্ঞে ও শ্রেষ্ঠ কুরআনবিদ ছিলেন ৷ কেননা, সকল
আলিমের কাছে সর্বসম্মত বিশুদ্ধ বলে স্বীকৃত হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেস্ফো

“কওমের ইমামত করবে আল্লাহর কিতাবের সম্পর্কে সৰ্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ৷ কুরআনের
ইলুমে র্তারা সম পযায়ের হলে র্তাদেব মাঝে শ্রেষ্ঠ হাদীসবিশারদ; সুন্নাহ্র ইলুমে জরা সম
পর্যায়ের হলে তার তাদের মাঝে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বয়সে সকলে সমান হলে তাদের মাঝে
ইসলাম গ্রহণ প্রবীণ ও অগ্রবর্তী ব্যক্তি ৷ (আমার মতে) আশআরী (র)-এর এ অভিমতটি
স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার উপযুক্ত ৷ এ ছাড়া এখানে লক্ষণীয় যে, উল্লিখিত সব কটি বিশেমণই
সমবেত হয়েছে মহান সিদ্দীকের মাঝে (আল্লাহ তার প্রতি রাষী থাকুন এবং র্তাকে তুষ্ট
করুন) ৷

প্রসংগত বিভিন্ন সহীহ্ রিওয়ড়ায়াত সুত্রে প্রমাণিত কোন কোন সলােতে আবু বকর (রা)-এর
পিছনে নবী করীম (না)-এর সলোত আদায় এবং অন্যান্য বিশুদ্ধ বিওয়ড়াতের বর্ণনামতে নবী
করীম (না)-এর অনুগামী যুক্তাদী হয়ে সালাত আদায়, এ দৃয়ের মাঝে মুলত কোন বিরোধ
নেই ৷ কেননা, এ দুটি ভিন্ন ভিন্ন সময় ও ভিন্ন ভিন্ন সলােতের ঘটনা ৷ যেমন ইমাম শাফিঈ (র)
প্রমুখ হাদীস বিশারদ ও বিদ্বানবর্গ স্পষ্ট ব্যক্ত করেছেন ৷

প্রন্সংণিক আলোনাে : নবী কবীম (না)-এর উপবিষ্ট হয়ে সালাত আদায় এবং আবু বকর
(রা)-এর র্দাড়ানাে অবস্থায় নবী কয়ীম (না)-এর ইক্তিদা এবং অন্যান্য মুসল্লীপণেরও দাড়িয়ে
আবু বকর (রা)-এর ইক্তিদা (যা আলোচ্য হাদীসের উপজীব্য) ৷ এ ঘটনার সুত্রে ইমাম
মালিক, শাফিঈ ও অন্যান্য বিশিষ্ট আলিমগণ বিশেষত ইমাম বুখারী (র) এ বিষয়ের পুর্ববর্তী
বিধান রহিত হওয়ার অভিমত রক্তে করেছেন এবং নবী করীম (সা) ওফাত-পুর্ব অসুস্থতাকালীন
এ আমলকে র্তাদের এ অভিমতের দলীলরুপে উপস্থাপন করেছেন ৷ পুর্ববর্তী বিধান সাব্যস্ত
হয়েছে বুখারী যুসলিমের সমন্বিত রিওয়ড়ায়াত সুত্রে ৷ বর্ণনা মতে নবী কবীম (সা) একবার

উপবিষ্ট অবস্থায় র্তার কতক সাহাৰীকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন ৷ কারণ তিনি একটি
ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে যাওয়ার কারণে তার পাজরে আঘাত পেয়েছিলেন ৷ সাহাবীগণ তার
পিছনে (দাড়িয়ে) সালাত আদায় করতে শুরু করলে, তিনি তাদের বলে পড়ার ইৎগিত
করলেন ৷ সালাত সমাপনাতে তিনি বললেন-

“এণ্ডাবেই তো যার হাতে আমার জীবন তার কন্যা তোমরা করে থাক পারসিক ও
রোমানদের ন্যায় আচরণ ৷ ওরা ওদের প্রধানদের সামনে দাড়িয়ে থাকে আর নেতারা থাকে
উপবিষ্ট (না, এমন করো না)৷ ৷তিনি আরো বললেন ইএড়াম গ্রহণের উদ্দেশ্যই হল, তার
অনৃণমন করা ৷ তাই ইমাম তাক্বীর বললে তোমরা তহ্বকবীর বলবে ৷ তিনি রুকু করলে
তোমরা রুকু করবে, তিনি রুকু হতে মাথা তৃললে তােমরাও মাথা তুলবে; তিনি সিজদা
করলে তােমরাও সিজদায় যাবে এবং ইমাম বসে বসে সালাত আদায় করলে তোমরাও
সকলেই বসে বসে সালাত আদায় করবে ৷ বিদ্বান ও ঘুজতাহিদ আলিমগণ বলেছেন,
পরবর্তীতে ওফা৩ তপুর্ব অসুস্থতাকালে নবী করীম (সা) বসে বলে তাদের ইমড়ামত করেছেন এবং
তারা র্দাড়৷ ৷নাে ছিলেন ৷ সুতরাং পুর্ববর্তী বিধান রহিত হওয়া প্রমাণিত হল ৷ আল্লাহ্ই সমধিক
অবগত ৷
তবে এ অভিমতের প্রতিকুল অভিমত পােযণকারীগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ হতে এর বিভিন্ন জবাব
উপস্থাপন করেছেন ৷ (কিতাবুল আহ্কাম আলকাবীর এ প্রসৎগে বিশদ আলোচনার উপযোগী
ণ্ক্ষাত্র সে সব জবাবের সারসংক্ষেণ হল (ক) কারো কারো মতে এ শেষোক্ত সালাতে সাহাবীগণ
উপবিষ্ট ছিলেন, নবী করীম (না)-এর পুর্ববর্তী নির্দো৷ অনুসরণে ৷ শুধু আবু বকর (রা) একাকী
দীড়িয়েছিলেন বিশেষ প্রয়োজনে, অর্থাৎ নবী কয়ীম (না)-এর অবস্থা ঘুসল্লীদের পােচবীভুত করার
উদ্দেশ্যে; (খ) কারো কারো মতে প্রকৃতপক্ষে এ সালাতে আবু বকর (রা)-ই ইমাম ছিলেন (যেমন
পুর্ববর্তী কোন কোন রিওয়ায়াতে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে) ৷ তবে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি আবু বকর
(রা)-এর পরম আদর ও গ্রিষ্টিাচার রোধের কারনে তিনি অগ্রবর্তী না হয়ে বরং বাহ্যত তীর মুক্তাদী
ও অনৃগামী রুপে আচরণ করছিলেন ৷ তা হলে এখন বলা যায়, নবী করীম (সা) ইমামের জন্য
ইমাম ছিলেন ৷ সাধারণ ঘুসল্লীদের ইমাম ছিলেন না ৷ সাধারণ ঘুসল্লীরা যেহেতু আবু বকর (রা)-
এর পিছনে মুক্তাদী ছিলেন এবং র্তীদের ইমাম (আবু বকর) যেহেতু দাড়িয়ে ছিলেন, তইি
ঘুসল্লীগণ ও র্দ৷ ড়িয়ে স ৷লাত আদায় করেছেন ৷ অপরদিকেড়া র ৷সুলুল্লাহ্ (সা) এর অনুকরণে সিদ্দীক
(রা)ন নাবস৷ র কারণ হল৩ তিনিই ছিলেন মুলত কওমের ইমাম এবং তদুপরি তিনি কওমের কাছে
নবী করীম ( সা) এর কর্ম ধারা, আচার-আচরণ, উঠা-বসা ইত্যাদি পৌছে দেয়ার দায়িতৃ পালন
করছিলেন ৷ আল্লাহ্ই সমাধিক অবগত; (গ) কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে ইমাম যখন
দাড়িয়ে সালাত শুরু করেন এবং কোন কারণবশত সালাতের মাঝে বসে পহ শ্ন্ সে ;
পিছনে সালাত আদায় করা যেমন উল্লিখিত ঘটনা ঘটেজ্জি এবং শুরু হতে ঝস বমুন্ সালাত
আদায়কারী ইমামের পিছনে সালাত অদ্দোয় বলা, এ দৃয়ের স্চ্ক বিবরন পার্থক্য রয়েছে ক্ষ্ মোঃ

ক্ষেত্রে মুকতড়াদিগণ দাড়িয়ে থাকবেন এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বসে পড়া ওয়াজিব ও অনিবার্য হবে; (ঘ)
তবে কেউ কেউ উভয় কুল রক্ষা করে সমন্বয় বিধান করেছেন ৷

তড়ারা বলেছেন, ইমাম বসে বসে সালাত আদায় করার সময় যুক্তড়াদীর জন্য দীড়ানাে

ত্বা বসা উভয়টি জাইয, প্ৰথমােক্ত ৰিধানের কারণে উপবিষ্ট ইমামের পিছনে উপবিষ্ট হয়ে
এবং শেষোক্ত ঘটনার প্রমানে উপৰিষ্ট ইমামের পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করা, উভয়
পদ্ধতি বৈধ ও শরীঅড়াত সম্মত ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ভ্র

নবী সাল্লাল্লাহু আলইিহি ওয়াসাল্লামের জীবন সায়াহ্ন ও ওফাত

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু মুআবিয়া (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (বা) হতে, তিনি
বলেন, আমি নবী করীম (না)-এর কাছে গেলাম, তখন তিনি ভীব্রে জ্বরে ভুগছিলেন ; আমি তার
গায়ে হাত বুলালাম এবং বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহা আপনি তো প্রচন্ড জ্বরে ভুগছেন ! তিনি
বললেন, ইশ্, তাই, আমি তোমাদের মত দৃ’জনের জ্বরের প্রচণ্ডতা ভোগ করে থাকি ৷ ” আমি
বললাম তাতে কি আপনার জন্য দ্বিগুণ ছাওয়াব ? তিনি বললেন-

“হী, যার হাতে আমার জীবন তার শপথ! পৃথিবীর বুকে কোনও মুসলমান কোন রোগ
ব্যাধি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয় না, যার দ্বারা আল্লাহ তার গোনড়াহগুলি ঝরিয়ে না দেন ৷ যেমনটি
গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয় ৷ বুখারী ও মুসলিম (র) হাদীসটি সুলায়মান আলু আমড়াল ইবন
মিহ্রান (র) হতে একাধিক সুত্রে উদ্ধৃত করেছেন ৷ হাফিজ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী (র)
তার মুসনাদে বলেছেন, ইসহাক ইবন আবু ইসরাঈল (জনৈক ব্যক্তি সুত্রে) আবু সাঈদ খুদরী
(বা) হতে, তিনি বলেন, তিনি নিজের হাত নবী করীম (না)-এর পায়ে রাখার পরে বললেন,
আল্লাহর কসম! আপনার জ্বরের প্রচণ্ডতায় আমি তো আপনার গায়ে হাত রাখতে পারছি না ৷ ”
তখন নবী করীম (না) বললেন-
শ্রো

“আমরা নবীগণের জামাআত ৰিপদড়াপদ ও পরীক্ষা আমাদের জন্য দ্বিগুন করা হয়, আবার
ছড়াওয়াবও আমাদের জন্য দ্বিগুণ হয় ৷ কোন নবী উকুন (দ্বার পোকা) ইত্যাদি দিয়ে বিপদগ্রস্ত
হতেন এমন কি তা তার জীবন নাশ করে দিত ৷ কোন নবী তীব্র শীতে বস্ত্রহীনতায় বিপদগ্রস্ত
হয়ে সাবাজুব্বা জড়িয়ে নিতে বাধ্য হতেন ৷ তবুও তারা নিশ্চিতই বিপদ ও পরীক্ষায় আনন্দিত
হতেন যেমন আনন্দিত হতেন সচ্ছলতায় ৷ এ সনদে জনৈক অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছেন,
যার আদৌ কোন পরিচয় পাওয়া যায় নি ৷ আল্লাহ সমাধিক অবগত ৷

বুখারী (র) সুফিয়ান ছাওরী ও শুরা ইবনুল হাজ্জাজ (র) হতে এবং মুসলিম (র) এ দুজন
সহ জারীর (র) হতে (তিনজনই আমড়াশ হতে) (মাসরুক সুত্রে) অইিশা (বা) হতে রিওয়ায়াত

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.