সাগর ও নদ-নদী

সাগর ও নদ-নদী
আল্লহ্ ত আলা বলেনং :

অর্থাৎ-তিনিই সমুদ্রকে অধীন করেছেন যাতে তোমরা তা থেকে তাজা মাছ খেতে পায়
এবং যাতে তা থেকে আহরণ করতে পার রত্নাবলী, যা তোমরা ভুষণরুপে পরতে পার এবং
তোমরা দেখতে পাও , তার বুক চিরে নৌযান চলাচল করে এবং তা এ জন্য যে , তোমরা যেন
তবে অনুগ্রহ সন্ধান করতে পড়ার এবং তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর;

এবং তিনি পৃথিবীতে সৃদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত
না হয় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথ, যাতে তোমরা তোমাদের গম্ভব্য স্থলে পৌছুতে
পার; এবং পথ নির্ণায়ক চিহ্নসমুহও ৷ আর তারা নক্ষত্রের সাহায্যেও পথের নির্দেশ পায় ৷

সুতরাং যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তারই মত, যে সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা
গ্রহণ করবে না ? তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ গণনা করলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না ৷
আল্লাহ্ অবশ্যই ক্ষমাপবাযণ পরম দয লু ৷ (১৬৪ ১৪ ১৮)

অর্থাৎ-সমুদ্র দুটো একরুপ নয় এর্কটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা,
খর ৷ প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত আহার কর এবং অলংকার যা তোমরা পরিধান
কর এবং রত্বাবলী আহরণ কর এবং তোমরা দেখ তার বুক চিরে নৌযান চলাচল করে যাতে
তোমরা তার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও ৷ (৩৫ : ১২)

আয়াত

অর্থাৎ-তিনিই দু,দরিয়াকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট সুপেয় এবং
অপরটি সোনা, খর; উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান ৷
(২৫ : ৫৩)
আয়াত
অর্থাৎ তিনি প্রবাহিত করেন দু’দরিয়া, যারা পরস্পর মিলিত হয়, কিন্তু তাদের মধ্যে
রয়েছে এক অম্ভরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না ৷ (৫৫ : ১৯ , ২০)

মােটকথা, দৃ’দরিয়া দ্বারা সোনা, খর দরিয়া এবং সুমিষ্ট দরিয়া বুঝানো হয়েছে ৷ ইবুনু
জুরায়জ প্রমুখ ইমাম বলেন, সুমিষ্ট দরিয়া হলো, সৃষ্টিকুলের স্বার্থে দেশের আনাচে-কানাচে যে
সব নদ-নদী প্রবহমান রয়েছে ৷ আল্লাহ তাআলা বলেনং

আয়াত
অর্থ্যৎ- তার অন্যতম নিদর্শন সমুদ্রে পর্বততুল্য চলমান নৌযানসমুহ ৷ তিনি ইচ্ছা করলে
বায়ুকে স্তব্ধ করে দিতে পারেন, ফলে নৌযানসমুহ নিশ্চল হয়ে পড়বে সমুদ্রপৃষ্ঠে ৷ নিশ্চয় তাতে
নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য ৷ অথবা তিনি তাদের কৃতকর্মের জন্য
সেগুলোকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারেন এবং অনেককে তিনি ক্ষমাও করেন ৷ (৪ ২ : ৩২ ৩৪)

আয়াত
অর্থাৎ-তুমি কি লক্ষ্য কর না যে , আল্লাহ্র অনুগ্রহে নৌযান গুলো সমুদ্রে বিচরণ করে, যা
দিয়ে তিনি তােমাদেরকে তার নিদর্শনাবলীর কিছুটা প্রদর্শন করেন ৷ এতে অবশ্যই নিদর্শন
রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য ৷

যখন তরঙ্গ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে মেঘের ছায়ার মত, তখন তারা আল্লাহ্কে তাকে তার
আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে ৷ কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে পৌছান, তখন তাদের
কেউ কেউ সরলপথে থাকে, কেবল বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিরাই তার নিদর্শনাবলী
অস্বীকার করে। (৩১ঃ ৩১-৩২)

অর্থাৎ-আকাশ মণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের পরিবর্তনে, যা মানুষের হিতসাধন
করে তা সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমুহে, আল্লাহ্ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা
পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীব জন্তুর
বিন্তারণে, বায়ুর দিক পবিবর্ত্যন, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্তিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান
জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে ৷ ( ২ ১৬৪ )

এসব আয়াতে আল্লাহ তা জানা বান্দাদের জন্য যে সাগরমালা ও নদ-নদী সৃষ্টি করেছেন,
তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ৷ মহাসাগর ও তার শাখা প্রশ ৷৷খ৷ সবই সোনা ও খর ৷
পরিবেশ দুষণমুক্ত রাখার ব্যাপারে এতে বিরাট হিকমত রয়েছে ৷ কারণ যদি তা মিঠ৷ হতো;
তাহলে তাতে যে সব প্রাণী আছে তা মরে পরিবেশ দুষিত এবং আবহাওয়া কলুষিত হয়ে যেত
এবং তা মানুষকে ধ্বং সের মুখে ঠেলে দিত ৷ তাই পবিপফু প্রজ্ঞার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানুষের
স্বার্থে তা এমন হয়েছে ৷ আর এ কারণেই রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে সমুদ্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে
তিনি বলেছিলেন : “তার পানি পাক, তার মৃত জীব হালাল ৷

পক্ষান্তরে নদীর পানি পানকারীর জন্যে সুমিষ্ট ও সৃপেয় ৷ আল্লাহ্ তাকে প্ৰবহমান করেছেন
এবং এক স্থানে তা উৎসারিত করে মানুষের জীবিকার সুবিধার্থে তা অন্যান্য স্থানে পরিচালিত
করেন ৷ মানুষের প্রয়োজন ও উপকারের চাহিদা অনুপাতে নদ-নদীর কোনটা বড়, আবার
কোনটা ছোট হয়ে থাকে ৷ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও তাফসীর বিশারদগণ সমুদ্র ও বড় বড় নদ-নদীর
ৎখ্যা, তার উৎস ও গত্তব্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন, যাতে মহান সৃষ্টিকর্তার

কুদরতের অনেক নিদর্শন রয়েছে এবং এ প্রমাণও রয়েছে যে, তিনি নিজ এখতিয়ার ও হিকমত
মোতাবেক কাজ করেন ৷

সুরা তৃর-এর ষষ্ঠ আয়াত :ও (এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের) সম্পর্কে
দু টি অভিমত রয়েছে ৷ প্রথমত, এর দ্বারা পাহাড়ী মেষ সং ক্রাত হাদীসে উল্লেখিত ঐ সমুদ্রই
বুঝানো হয়েছে, যা অ ৷রশের নিচে অবস্থিত এবং যা সপ্ত আকাশের উপরে রয়েছে এবং যার নিচ
ও উপরের মধ্যে এতটুকু ব্যবধান, যতটুকু এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের ৷ পুনরুথানের
পুর্বে আল্লাহ তাআলা এ সমুদ্র থেকেই বৃষ্টি বর্ষণ করবেন ৷ তাতে দেহসমুহ কবর থেকে
পুনর্জীবিত হয়ে উঠবে ৷ রবী ইবন আনাস এ অডিমতটিই গ্রহণ করেছেন ৷ দ্বিতীয়ত,
জাতিরাচক বিশেষ্য ৷ পৃথিবীর সব সমুদ্রই এর আওতাভুক্ত ৷ এটাই অধিকাংশ আলিমের
অভিমত ৷

এর অর্থ সম্পর্কে মত ভেদ রয়েছে ৷ কেউ কেউ বলেন৪ ওটুৰুপু ৷ অর্থ
পরিপুর্ণ ৷ কেউ বলেন, সমুদ্রটি কিয়ামতের দিন প্রজ্বলিত আগুনে পরিণত হয়ে হাশরের ময়দানে
উপস্থিত সকলকে পবিবেষ্টন করে রাখবে ৷ যেমনটি আলী, ইবন আব্বাস, সাঈদ ইবন জুবায়র
(বা) ও ইবন মুজাহিদ (র) প্রমুখ থেকে তাফসীর গ্রন্থে আমি উল্লেখ করেছি ৷ কারো কারো
মতে, টুট্রুন্ট্রুঠু দ্বারা নিয়ব্রিত, সংযত ও প্রহরাধীন বুঝানো হয়েছে ৷ যাতে তা উদ্বেলিত
হয়ে পৃথিবী ও তাতে বসবাসকারী প্রার্ণীদেরকে ডুবিয়ে মারতে না পারে ৷ ওয়ালিবী (র) তা ইবন
আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ এটাই সুদ্দী (র) প্রমুখেরও অভিমত ৷ নিচের হড়াদীসটিতে
এর সমর্থন মিলে ৷
ইমাম আহমদ (র) উমর ইবন খাত্তাব (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেন :

অর্থাৎ-“উদ্বেলিত হয়ে সবকিছু ডুবিয়ে দেয়ার জন্য সমুদ্র প্রতি রাতে তিনবার করে
আল্লাহ্র কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে ৷ কিন্তু আল্লাহ্ তাকে সংযত করে রাখেন ৷

ইসহাক ইবন রাহওয়ে (র) এক বয়ো৪বৃদ্ধ সীমান্ত প্রহরীর বরাতে বলেন, এক রাতে আমি
পাহারার জন্য বের হই ৷ তখন আমি ছাড়া আর কোন প্রহরী বের হয়নি ৷ এক সময়ে আমি
বন্দরে পৌছে উপরে উঠে তড়াকাতেই আমার কাছে মনে হচ্ছিলাে সহুড্র যেন পাহাড়ের চুড়ায় উচু
ঢেউ রুপে এগিয়ে আসছে ৷ কয়েকবারই এরুপ ঘটলো ৷ আমি তখন জাগ্রত ৷ তারপর হযরত
উমর (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু সালিহ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি বললেন, উমর
ইবন খাত্তাব (বা) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

অর্থাৎ উদ্বেলিত হয়ে সব তলিয়ে দেয়ার জন্য সমুদ্র প্ৰতি রাতে তিন বার আল্লাহ্র নিকট
অনুমতি প্রার্থনা করে কিন্তু আল্লাহ তাকে সংযত করে রাখেন ৷ এ সনদে একজন অজ্ঞাত পরিচয়
রাবী আছেন ৷ আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ ৷
এটা বান্দার প্রতি মহান আল্লাহ্র বিশেষ একটি অনুগ্রহ যে, তিনি তাদেরকে সমুদ্রের অনিষ্ট
থেকে রক্ষা করেছেন ৷ তাকে তাদের বশীভুত করে দিয়েছেন, ফলে নৌয়ড়ানে চড়ে তারা তার
উপর দিয়ে ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদির উদ্দেশ্যে দুর-দুরাম্ভ দেশে ভ্রমণ করে থাকে এবং আকাশ
ও পৃথিবীতে তার সৃষ্ট নক্ষত্ররাজি ও পর্বতমালা তাতে পথের দিশা লাভ করে থাকে ৷ আরো
তারা উপকৃত হয় সমুদ্রে সৃষ্ট অতি উত্তম ও মুল্যবান মণিমুক্তা দ্বারা যা তিনি সমুদ্রে সৃষ্টি করে
রেখেছেন এবং মানুষের জন্য হালাল করে দিয়েছেন, এমনকি তার মৃত প্রাণীগুলো পর্যন্ত ৷ যেমন
আল্লাহ্তাআলা বলেন :

অর্থাৎ তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তা তক্ষণ হালাল করা হয়েছে ৷ (৫ : ৯৬)
নবী করীম (সা) বলেছেন :
অর্থাৎ সমুদ্রের পানি পবিত্র ও মৃত জীব হালাল ৷
অন্য হাদীসে আছে :

অর্থাৎ আমাদের জন্য দুটো মৃত প্রাণী ও দুটো রক্ত হালাল করা হয়েছে ৷ মাছ ও
পঙ্গপাল এবং কলিজা ও প্রীহা ৷ এটি আহমদ ও ইবন মাজাহ্ (ব) বর্ণনা করেছেন ৷ কিন্তু এর
সনদ প্রশ্নাতীত নয় ৷

হাফিজ আবু বকর বায্যার তীর ঘুসনাদে বলেছেন যে, আমি মুহাম্মদ ইবন ঘুআবিয়া
আল-বাগদাদী (র) রচিত একটি কিতাবে পেয়েছি, আবু হুরায়রা (বা) বলেন যে, রাসুলুল্পাহ্
(সা ) বলেছেনহ্র; পশ্চিমের ও পুর্বের এ সমুদ্রগুলাের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন ৷ তিনি পশ্চিমের
সমুদ্রকে বলেন, তােমাতে আমি আমার কতিপয় বান্দাকে বহন করাতে চাই, তাদের সঙ্গে তুমি
কিরুপ আচরণ করবেঃ সমুদ্র বলল, আমি তাদেরকে ডুবিয়ে মারব ৷ আল্লাহ বললেন : তোমার
অকল্যাণ হোক এবং তাকে অলংকার ও শিকার থেকে তিনি বঞ্চিত করে দেন ৷ পক্ষাতরে
পুর্বের সমুদ্রকে যখন বললেন, “আমি তােমাতে আমার কতিপয় বান্দাকে বহন করাব, তাদের
সঙ্গে তুমি কিরুপ আচরণ করবেঃ তখন সে বলল, আমি তাদেরকে আমার নিজ হাতে করে
বহন করব এবং সন্তানের জন্য মায়ের মত হবো ৷ ফলে পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাকে অলংকার
ও শিকার সম্ভার দান করেন ৷ তারপর বলেছেন যে, একথা কাউকে জানতে দিও না ৷

এ হাদীসের সনদে এক পর্যায়ে এমন একজন রাবী এককভাবে রয়েছেন যিনি মুনৃকারুল
হাদীস ৷ ১ আবদুল্লাহ ইবন আমব (রা) সুত্রেও মওকুফ পদ্ধতিতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷ আমার
মতে, এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য ৷ কেননা, তিনিই ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিন আহলি কিতাবদের
কিতাব বোঝাই দুটো বাহন পেয়েছিলেন ৷ ফলে সেগুলো থেকে তিনি ইসরাঈলিয়াতের অনেক
তথ্য বর্ণনা করতেন, যার কতকটা সাধারণভাবে জ্ঞাত ও প্রসিদ্ধ এবং কতকটা প্রক্ষিপ্ত ও
প্রত্যাখ্যাত ৷ আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হাফ্স-ইবন আসিম ইবন উমর
ইবন খাত্তাব আবুল কাসিম আল-মাদানী এককভাবে তার গ্রহণযোগ্য অংশগুলো বর্ণনা
করেছেন ৷ তার সম্পর্কে ইমাম আহমদ (ব) বলেছেন, সোকঢি আদৌ নির্জ্যযােগ্য নয় ৷ আমি
তার থেকে হাদীস শুনেছিলাম ৷ কিন্তু পরে তা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলি ৷ সে ছিল
একজন তাহা মিথুদ্রক এবং তার হাদীছসমুহ মুনকার পর্যায়ের ৷ তদ্রাপ ইবন মাঈন, আবু যুর আ,
আবু হাতিম , জাওয়জানী, বুখারী, আবু দউিদ ও নাসাঈ তাকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন ৷
ইবন আদী বলেছেন, তার হাদীসগুলো মুনকার ৷ তন্মধ্যে দুর্বলতম হলো সমুদ্র সং ক্রাভ
হাদীসটি ৷

দৈর্ঘ্য-প্রস্ত, সমুদ্র, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, প্রাম্ভরাদি, পৃথিবীর শহর-বন্দর, বিজনভুমি ও
জনবসতিপুর্ণ এলাকাসমুহ, পারিভাষিক অর্থের সাত মহাদেশ, সুবিদিত দেশসমুহ এবং বিভিন্ন
দেশের প্রাকৃতিক উদ্ভিদজাত, খনিজ ও বাণিজ্যিক বিষয়াদি সম্পর্কে আলোকপাতকারী
তাফ্সীরবিদগণ বলেন, গোটা পৃথিবীর একভাপ হল এবং তিনভাগ পানি ৷ এ ভু-ডাগের
পরিমাপ হচ্ছে নব্বই ডিগ্রী ৷ আল্লাহ্ত তা আলা অনুগ্রহ করেই এ বিশাল পানি রাশিকে স যত ও
নিয়ত্রিত রেখেছেন যাতে করে প্রাণীকুল জীবন যাপন করতে পারে এবং শস্যাদি এব০ ফলমুল
উৎপন্ন হতে পারে ৷ যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :
১ মুনকারম্স হাদীস ঐ দুর্বল রাবীকে বলা হয়ে থাকে যার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না ৷

অর্থাৎ তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্ট জীবের জন্য, এতে আছে ফলমুল এবং খেজুর
গাছ, যার ফল আবরণযুক্ত এবং থেড়াসাবিশিষ্ট দানা ও সুগন্ধ গুল্ম ৷ অতএব, তোমরা (জিন ও
মানবজাতি) উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কে নৃ অনুগ্রহ অস্বীকা পর করবেঃ (৫ ৫ ১ : ১৩ )
তারা বলেন পৃথিবীর ন্থল৩ ভাগের তিন ভাগের দৃ’ভা গ বা তার পক্ষা একটু বেশিতে মানুষের
বসবাস রয়েছে ৷ এর পরিমাপ ৯৫ ডিগ্রী ৷
তারা আরো বলেন, সমুদ্রসমুহের মধ্যে একটি হলো, পশ্চিম মহাসাগর যাকে আটলান্টিক
মহাসাগরও বলা হয় ৷ এ মহাসাগরই পশ্চিমের দেশগুলােকে ঘিরে আছে ৷ এর পশ্চিম ভাগে
আছে ছটি দ্বীপ ৷ এ মহাসাগরও এর উপকুলের মাঝে প্রায় এক মাসের পথে দশটি ডিগ্রী
রয়েছে ৷ এটি এমন এক সাগর অধিক ঢেউ এবং আবহাওয়া ও তরঙ্গ সা ষ্ঘর্ষিক হওয়ার কারণে
এতে চলাচল করা অসম্ভব প্রায় ৷ তাতে কো ন শিকা ৷রও নেই এবংত থেকে কো ন কিছু আহরণও
করা হয় না এবং বাণিজ্য বা অন্য কো ন উদ্দেশ্যে তাতে ভ্রমণও করা যায় না ৷ দক্ষিণ দিক ঘেষে
এটি কামার পর্বতমালার দিকে চলে গেছে ৷ এ কামার পব৩মাল ই মিসরের নীল নদের
উৎসন্থল ৷ তারপর বিষুররেখা অতিক্রম করে তা চলে গেছে পুর্ব দিকে ৷ তারপর আরও পুর্ব
দিকে মহাসাগরটি অগ্রসর হয়ে তাই পৃথিবীর সর্বদক্ষিণ এলাকায় পরিণত হয়েছে ৷

সেখানে কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে যা আযযাবিজ দ্বীপপুঞ্জ নামে অভিহিত হয়ে থাকে ৷ এ মহাসাগরটির
উপকুল অঞ্চলে প্রচুর অনাবাদী এলাকা রয়েছে ৷ তারপর পুর্ব দিকে গিয়ে তা চীন সাগর ও
ভারত মহাসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে ৷৩ তারপর পুর্ব উত্তর দিকে গিয়ে পৃথিবীর পুর্ব দিকের
শেষ প্রান্তে গিয়ে ঠেকেছে ৷ সেখানেই চীন সাগরের অবস্থান ৷ তারপর চীনের পুর্বে মোড় নিয়ে
তা উত্তর দিকে চলে গিয়ে চীন দেশ অতিক্রম করে চলে গেছে য়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর পর্বত ৷
সেখান থেকে আবার এমন একদিকে মোড় নিয়েছে যার অবস্থা কারো জানা নেই ৷ তারপর
পৃথিবীর উত্তর-প্রান্তে পশ্চিম দিকে রাশিয়া পর্যন্ত গিয়ে পৌছে এবং তা অতিক্রম করে আবার
পশ্চিম-দক্ষিণে মোড় নিয়ে পৃথিবী ঘুরে এসে পুনরায় সোজা পশ্চিম দিকে গিয়ে পশ্চিম থেকে
প্রণালী২ অঞ্চলের দিকে চলে যায়, যার শেষ প্রান্ত সিরিয়ার দিকে গিয়ে ঠেকেছে ৷ তারপর
রোমের পথ ধরে তা কনন্টান্টিনিপল প্রভৃতি অঞ্চলে গিয়ে মিলিত হয়েছে ৷

পুর্ব মহাসাগর থেকে আরো কয়েকটি সমুদ্র প্রবাহিত হয়েছে ৷ সেগুলােতে অনেক দ্বীপ
আছে ৷ এমনকি কথিত আছে যে, কেবল ভারত সাগরেই জনশুন্য দ্বীপসমুহের কথা বাদ দিলেও
শহরবন্দর ও অট্টালিকাদি বিশিষ্ট দ্বীপের সং খ্যা এক হাজার সাতশ’ ৷ এই সাগরসমুহকে বাহরে
আখসারও বলা হয়ে থাকে ৷ এর পুর্বাৎশে চীন সাগর, পশ্চিমে ইয়ামান সাগর , উত্তরে ভারত ৷
সাগর এবং দক্ষিণে কী আছে তা অজ্ঞাত
১ মুল আরবীতে ৯৫ ডিগ্রী লিখিত আছে যা সম্ভবত মুদ্রণ প্ৰমাদ ৷ কেননা গোটা স্থলভাপই ৯০ ডিগ্রী বলে লেখক উল্লেখ
করেছেন ৷
২ লেখক এখানে জিব্রালটার প্রণালীর কথা বলেছেন ৷

বিশেযজ্ঞগণ বলেন, ভারত সাগর ও চীন সাগরের মধ্যখানে দুয়ের মাঝে ব্যবধান সৃষ্টিকারী
কয়েকটি পাহাড় আছে এবং তাতে স্থলপথের ন্যায় কয়েকটি প্রশস্ত পথ আছে যা দিয়ে
নৌযানসমুহ চলাচল করতে পারে ৷ যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন০

অর্থাৎ এবং আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী৩ তাদেরকে নিয়ে
এদিক-ওদিক চলে না যায় এবং আমি তাতে করেছি প্রশস্ত পথ যাতে তারা গম্ভব্যস্থলে পৌছুতে
পারে ৷ (২১ : ৩১)

ভারত উপমহাদেশে ৷র বা৩ লীমুস নামক জনৈক রাজা তার মিজেসভী নামক গ্রন্থে খলীফা
মামুনের আমলে যা আরবীতে ৩অনুদিত হয়েছিল, বা এ সং ক্রান্ত বিদ্যার উৎস বলে পরিগণিত-
তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিম, পুর্ব, দক্ষিণ ও উত্তর মহাসাগর থেকে প্ৰবহমান
সমুদ্রের সংখ্যা অনেক ৷ এগুলোর মধ্যে এমনও রয়েছে যা আসলে একই সাগর, তবে পার্শ্ববর্তী
জনপদের নামানুসারে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে অভিহিত হয়েছে ৷ তন্মধ্যে একটি হলো , বাহরে
কুলযুম বা লোহিত সাগর ৷ কুলযুম হচ্ছে আয়লার কাছাকাছি সমুদ্রের উপকুলবর্তী একটি গ্রাম ৷
আরো আছে পারস্য সাগর, কাস্পিয়ান সাগর, অরনক সাগর, রোম সাগর, বানতাশ সাগর ও
আযরাক সাগর ৷ আযরাক উপকুলবর্তী একটি শহরের নাম ৷ একে কারম সাগরও বলা হয় ৷
এটি সং কীর্ণ হয়ে দক্ষিণ কনক্টান্টিনিপলের নিকট ভুমধ্যসাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে ৷ এটি
কনক্টান্টিনিপলের উপসাগর ৷ আর এ কারণেই কারম সাগর থেকে ভুমধ্যসাগরে গিয়ে পতিত
হয়েছে ৷ আর এ কার ৷ব্যণই কারম সাগর থেকে ভুমধ্যসাগরে আসার সময় নৌযানসমুহ দ্রুত চলে
কিন্তু পানির বিপরীতে প্রবাহের কারণে আলেকজান্ডিয়া থেকে কারমে আসার সময় চলে ধীর
গতিতে ৷ আর এটি পৃথিবীর একটি অত্যাশ্চর্য ব্যাপার ৷ কারণ, যত প্ৰবহমান পানি আছে সবই
মিষ্ট, কিন্তু এটি তার ব্যতিক্রম আর সকল স্থির সমুদ্রের পানি সোনা, খর ৷ কিন্তু কাস্পিয়ান
সাগর তা ৷র ব্যতিক্রম ৷ একে জুরজা ন সাগর ও তাবারিন্তান সাগরও বলা হয় ৷ পর্যটকদের বর্ণনা,
এর বিরাট এক অংকৃ শের পানি সুমিষ্ট ও সুপেয় ৷

জ্যোতির্বিদগণ বলেন, এ সাগরটি প্রায় গোলাকার ৷ কেউ কেউ বলেন, তা নৌকার পালের
ন্যায় ত্রিকোণ৷ বিশিষ্ট ৷ মহাসাগরের কোন অংশের সঙ্গে তার সংযোগ নেই ববং৩ তা সম্পুর্ণ
আলাদা ৷ তার দৈর্ঘ্য আটশ’ মাইল ও প্রস্থ ছয়শ’ মাইল ৷ কেউ কেউ এর বেশিও বলেছেন ৷
াল্পাহ সর্বজ্ঞ ৷

ঐ সমুদ্রগুলোর আরেকটি হলো বসরার নিকটবর্তী সাগর, যাতে জোরার-ভাট৷ হয় ৷
সাগরের এলাকার দেশগুলােতেও১ এর অনুরুপ সাগর রয়েছে ৷ চান্দ্র মাসের শুরু থেকে পানি
বাড়তে শুরু করে এবং পুর্ণিমা রাতের শেষ পর্যন্ত, তা অব্যাহত থাকে ৷ এ হলো জোয়ার ৷
তারপর কমতে শুরু করে মাসের শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে ৷ এ হলো ডাটা ৷ বিশেষজ্ঞগণ
এসব সাগরের সীমারেখা এবং এগুলোর উৎস ও ণ্মাহনাসমুহের উল্লেখ করেছেন এবং পৃথিবীর

১ মরক্কো-তিউনিসিয়া অঞ্চল ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খগু)

ছোট ছে ট নদ নদী এবং খাল-নালার আলোচনাও তারা করেছেন ৷ আবার বড় বড় প্রসিদ্ধ
নদ-নদী এবং সেগুলোর উৎস ও মোহনাসমুহের কথাও তারা উল্লেখ করেছেন ৷ আমরা এসব
বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না আমরা কেবলমাত্র হাদীসে বর্ণিত নদীসমুহ সম্পর্কেই
আলোকপাত করব ৷
আল্লাহ্তড়াআলা বলেনং :

অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ্ যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, যিনি আকাশ থেকে পানি
বর্ষণ করে তা দিয়ে ৫৩ ৷মাদের জীবিকার জন্য ফল মুল উৎপাদন করেন যিনি নৌযানকে
তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তার বিধানে তা সমুদ্রে বিচরণ করে এবং যিনি তোমাদের
কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন নদীসমুহকে ৷

তিনি৫ তামাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সুর্য ও চন্দ্রকে যারা অবিরাম একই নিয়মের
অনুবর্তী এবং ৫৩ ৷মাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে ৷ এবং তিনি তোমাদেরকে
দিয়েছেন তোমরা তার নিকট যা ঢেয়েছ তা থেকে ৷ তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে তার

সহীহ্ বুখাবী ও মুসলিয়ে কাত দো (র) সুত্রে আনাস ইবন মালিক ও মালিক ইবন সা সাআ
থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) সিদরাতুল মুনৃ ৷হড়ার আলোচনাকালে বলেছিলেন০ :

অর্থাৎ-আমি দেখতে পেলাম যে, তার মুলদেশ থেকে দৃটো অদৃশ্য নদী ও দৃটো দৃশ্যমান
নদী বেরিয়ে যাচ্ছে ৷ অদৃশ্য দুটো জান্নাতে আর দৃশ্যমান দৃটো হলো নীল ও ফোরাত ৷
সহীহ্ মুসলিমে আবুহুরায়রা (বা) সুত্রে বর্ণিত হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা ) বলেছেন :
অর্থাৎ আমু দরিয়া ও শির দরিয়া ফোরাত ও নীল সব কটিই জান্নাতের নদী ৷
ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে, আবুহুরায়রা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
অর্থাৎ জান্নাত থেকে চারটি নদী প্রবাহিত করা হয়েছে ৷ ফোরাত নীল, আমু দরিয়া ও
শির দরিয়া ৷ ইমাম ঘুসলিমের শর্ত মোতাবেক এ হাদীসেব সনদ সহীহ্ /

সম্ভবত এর দ্বারা পরিচ্ছন্নতা,াদ ও প্রবাহের ক্ষেত্রে এ নদীগুলাে জান্নাণ্ডে তর নদ নদীর সাথে
সাদৃশ্য রাখে বলে বুঝানো হয়েছে ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷ এ ব্যাখ্যার যৌক্তিকতা আবু হুরায়রা সুত্রে
ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণিত ওত তার দ্বারা সহীহ বলে আখ্যায়িত হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা ) এর
সেই হাদীসে রয়েছে যাতে তিনি বলেছেন ও

“আজওয়া (উন্নতমানের এক প্রকার খেজুর) জান্নাতী খেজুর এবং তাতে বিষ-এর উপশম
রয়েছে ৷” অর্থাৎআজওয়া জ ন্নাতের ফল-ফলাদির সাথে সাদৃশ্য রাখে ৷ এর অর্থ এ নয় যে
এটি জান্নাত থেকে আহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছে কেননা, বাস্তবে এর বিপরীত টিই
পরিলক্ষিত হয় ৷ সুতরাং এটা যে শাব্দিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, তা স্পষ্ট ৷ অনুরুপ অন্য হাদীসে
তিনি বলেছেন ও

অর্থাৎ জ্বর হলো জাহান্নামেরত তাপ ৷ কাজেই তাকে তোমরাপানি দ্বারা ঠাণ্ডা কর ৷
অপর একটি হাদীসে আছে :

অর্থাৎ জ্বর তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে তোমরা পানি দ্বারা ঠাণ্ডা করে নিও ৷ কেননা
গরমের তীব্রতা জাহান্নামের তাপ বিশেষ ৷
তন্ধ্রপ এসব নদ নদীর মুল উৎসও পৃথিবীতেই ৷
নীল নদ৪ স্রোতের ভীব্রা, পানিরাচ্ছতা এরং পতিপথের ভৈদর্যের দিক থেকে গোটা
পৃথিবীতে এটি অ তুলনীয় নদী ৷ এর শুরু হলো জিরালুল কামার বা শুভ্র পর্বতমালা থেকে ৷
কারো কারো মতে, জিবালুল কামার দ্বারা চদ্রের পাহাড় বুঝানো হয়েছে ৷ এটি পৃথিবীর
পশ্চিমাৎশে বিষুররেখার পেছনে দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ৷ কারো কারো মতে, তাহলো যার মধ্য
থেকে উৎসারিত হয়েছে একাধিক ঝরনা ৷ তারপর দুরে দুরে অবস্থিত দশটি স্রোতধারার সম্মিলন
ঘটেছে ৷ তারপর তার প্রতি পাচটিষ্ গিয়ে একত্রিত হয় একটি সাগরে ৷ তারপর তা থেকে বেরিয়ে
আংস ছ টি নদী ৷ তারপর তার প্রতিটি গিয়ে মিলিত হয় অন এক হ্রদে ৷ তারপর তা থেকে
বেরিয়ে আসে আরেকটি নদী ৷ এটাই হলো নীল নদ ৷ এ নদটি সুদান, নওবা ও আসওয়ান হয়ে
অবশেষে মিসরে গিয়ে উপনীত হয়েছে ৷ নওবার প্রধান শহর হচ্ছে দামকালা ৷ হাবশার বৃষ্টির
অতিরিক্ত পানি এবং তার পলিমাটি মিসরে গড়িয়ে আসে ৷ ঘিসরের এ দুটো বস্তুরই প্রয়োজন
রয়েছে ৷ কারণ মিসরে বৃষ্টি এত কম হয় যে, তা ফসলাদি ও গাছ-পাছালির জন্য যথেষ্ট নয় ৷
আর তব মাটি হলো বালুময় ৷ যাতে কোন ফসলই উৎপন্ন হয় না ৷ নীল নদ হয়ে যে পানি ও
মাটি আ সে তা থেকেই মিসরবাসীর প্রয়োজনীয় ফসলাদি উৎপন্ন হয় ৷

আল্লাহ তা আলার বাণীং

অর্থাৎ তারা কি লক্ষ্য করে না, আমি উষর ভুমির উপর পানি প্রবাহিত করে তার সাহায্যে
উদগত কবিশাস্য যা হতে খাদ্য গ্রহণ করে তাদের গবাদি পশু এবং তারাও ?৩ তারা কি লক্ষ্য
করে না? (সাজদা০ ২৭)

মিসরের ক্ষেত্রেই সর্বাধিক প্রযোজ্য ৷ তারপর মিসরের কিছু অংশ অতিক্রম করে
উপকুলবর্তী শা৩ তনুফ নামক একটি গ্রামের নিকটন্ গিয়ে নীল নদ দু৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে তার
পশ্চিমের শাখাটি রশীদ অঞ্চল অতিক্রম করে কোনো সমুদ্রে পড়েছে, অপরদিকে পুর্ব দিকের

শাখাটি জাওজার এর নিকট গিয়ে দু’ভাপ হয়ে শাখাদ্বয়ের পশ্চিম ভাগ দৃমিয়াত হয়ে সাগরে

গিয়ে পড়েছে ৷ আর পুর্বভাপ আশমুন৩ান্নাহ হয়ে দুমিয়াতের পুর্বে অবস্থিত তান্নীসহ্রদ ও
দুমিয়াত হদে পড়েছে ৷ নীল নদের উৎপত্তিহুল ও সঙ্গম স্থলের মধ্যে এভাবে বিরাট দুরতৃ
রয়েছে ৷ আর এ কারণেই এর পানি অত্যন্তাচ্ছ ৷

ইবন সীনা বলেন, নীল নদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা পৃথিবীর অন্য কোন নদ-নদীব
নেই ৷ প্রথমত, উৎপত্তিন্থল থেকে শেষ প্রাস্তের মাঝে এর দুরতু সর্বাধিক ৷ দ্বিতীয়ত, তা প্রবা ত
হয় বড় বড় পাথর ও বালুময় প্রান্তরের উপর দিয়ে, যাতে কোন শ্যাওলা ও ময়লা-আবর্জনা
নেই ৷ তৃডীয়ত, তার মধ্যে কোন পাথর বা কংকর সবুজ হয় না ৷ বলা বাহুল্য যে, নদীটির
পানিরাচ্ছতার কারণেই এরুপ হয়ে থাকে ৷ চতুর্থত , আর সব নদ-নদীর পানি যখনহ্রাস পায়,
এর পানি তখন বৃদ্ধি পায় আর অন্যসব নদীর পানি যখন বৃদ্ধি পায় , এর পানি তখনহ্রাস পায় ৷
পক্ষান্তরে কেউ কেউ বলে যে, নীল নদের উৎস হলো কোন এক উচু ন্থান, কেউ কেউ যার
সন্ধান পেয়েছেন এবং তাতে ভীষণ এক ভয়ানক বস্তু কতিপয় রুপসী নারী এবং আরো অনেক
অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেয়েছেন; এর সবই ঐতিহাসিকদের ভিত্তিহীন বর্ণনা এবং মিথ্যাচারীদের
কল্পকাহিনী মাত্র ৷

কায়স ইবন হাজ্জাজ সুত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে আবদুল্লাহ ইবন লাহীয়া বর্ণনা করেন যে,
জনৈক ব্যক্তি বলেন, মিসর জয় করে আমর ইবন আস (বা) যখন অনারব কিবডী ক্যালেন্ডারের
বু না নামক মাসে তাতে প্রবেশ করেন তখন মিসরের লোকজন তার নিকট এসে বলল মাননীয়
আমীর! আমাদের এ নীল নদের একটি প্রথাআছে, যা পালন না করলে তা প্রবাহিত হয় না ৷
তিনি রললেন৪ কী যে প্রথাটি? তারা বলল, এ মাসের বার তারিখের রাত শেষ হলে আমরা
বাবা-মার নিকট থেকে তাদের সম্মতিক্রমে একটি কুমারী যেয়ে নিয়ে আমি এবং উন্নতমানের

অলংকারাদি ও পোশাক-পরিচ্ছদ পরিয়ে তাকে এ নীল নদে ফেলে দেই ৷ শুনে আমর ইবন আস
(বা) তাদেরকে বললেন :

অর্থাৎ ইসলামে এটা চলবে না ৷ পুর্বের সব কুস০ স্কারকে ইসলাম নির্মুল করে দেয় ৷
অগত্যা বু না মাসটা তারা এভা রুাবই ক টিয়ে দেয় ৷ কিন্তু নীল নদে কোন পানি আসলো না ৷
অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তারা বুনা, আবীর ও মাসরা এ তিন মাস অপেক্ষা করলো কিন্তু
নীল আর প্রবাহিত হয় না ৷ এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা দেশ ত্যাগ করতে মনস্থু করে ৷ অবশেষে
আমর (রা) খলীফা উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর নিকট এ ব্যাপারে পত্র লিখেন ৷ জবাবে উমর
(রা) লিখে পাঠান যে, তুমি যা’ করেছ ঠিকই করেছ ৷ আর তোমার নিকট একটি লিপি প্রেরণ

করছি, তুমি তা নীল নদে ফেলে দিও ৷ পত্রটি এসে পৌছুলে আমর (বা) লিপিটি খুলে দেখতে
পেলেন যে, তাতে লিখা রয়েছে :

অর্থাৎ “আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমর-এর পক্ষ থেকে মিসরের নীল নদের প্ৰতি-
হামদ ও সালাতের পর :

যদি তুমি নিজ ক্ষমতায় প্রবাহিত হয়ে থাকো, তাহলে তুমি প্রবাহিত হয়ে৷ না ৷ আর যদি
পরাক্রমশালী এক অদ্বিতীয় আল্লাহ তোমাকে প্রবাহিত করে থাকেন, তাহলে তারই কাছে আমরা
প্রার্থনা করছি যেন তিনি তোমাকে প্রবাহিত করেন ৷

আমর (রা)-এর চিঠিটি নীল নদে ফেলে দিলে শনিবার দিন সকালে দেখা গেল যে, আল্লাহ
তাআলা নীল নদকে এমনভাবে প্রবাহিত করে দিয়েছেন যে, এক রাতে ষোল হাত পানি বৃদ্ধি
পেয়েছে ৷ এভাবে আল্লাহ মিসরবাসী থেকে সে কুপ্রথা চিরতরে বন্ধ করে দেন ৷

ফোরাত : বাইজানটাইন সাম্রাজেদ্রর উত্তর সীমান্ত হলো এর উৎপত্তিন্থল ৷ সেখান থেকে
মালতিয়ার নিকট দিয়ে অতিক্রম করে শমীশাত ও বয়রা হয়ে তারপর পুর্ব দিকে মোড় নিয়ে
বালেস ও আবার কেল্লায় চলে গেছে ৷ তারপর রিক্কা, রহ্বা, আনা, হায়ত ও কুফা হয়ে
ইরাকের দিকে গিয়ে সমুদ্রে পড়েছে ৷ এ নদীটির অনেক প্রসিদ্ধ উপনদী, শাখা নদী রয়েছে ৷

সায়হান (অড়ামু দরিয়া) : একে সায়হুনও বলা হয় ৷ বাইজানটাইন এলাকা থেকে এর
উৎপত্তি ৷ উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পুর্ব দিকে এর প্রবাহ ৷ জায়হানের পশ্চিমে এর অবস্থান
এবং আকারে তারচেয়ে ছোট ৷ যে ভুখণ্ডে এর অবস্থান, বর্তমানে তা সীস নামে পরিচিত ৷
ইসলামী রাজত্বের প্রথমে তা মুসলমানদের হাতে ছিল ৷ তারপর ফাতেমীপণ যখন মিসরের
ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং সিরিয়া ও তার আশপাশের অধিকার লাভ করেন, তখন তারা
তাকে শত্রুদের থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় ৷ ফলে তিনশ হিজরীর গোড়ার দিকে
আর্মেনিয়ার অধিবাসী তাককুর এ সীস নগরী দখল করে নেয় ৷ এখন পর্যন্ত তা তাদের
দখলেই রয়েছে ৷ আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা, যেন আপন ক্ষমতাবলে তিনি আবার
আমাদের হাতে তা ফিরিয়ে দেন ৷ তারপর সায়হান ও জায়হান উযনার নিকট মিলিত হয়ে একই
স্রোতধারায় পরিণত হয়েছে ৷ অবশেষে আবাস ও তার সুস-এর মধ্যবর্তী স্থানে তা সাগরে
পতিত হয়েছে ৷

জায়হড়ান (শির দরিয়া) : একে জায়হুনও বলা হয়, সাধারণ্যে এর নাম হলো জাহান ৷ এর
উৎস হলো বাইজানটাইন এলাকা এবং সীস নগরীতে তা উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবা ত
হয়েছে ৷ এটি আকারেও প্রায় ফোরাতের সমান ৷ তারপর একটি সায়হান উযনার নিকট মিলিত

হয়ে দুটো এক স্রোতধারায় পরিণত হয়েছে ৷ আয়াস ও তারসুস-এর মধ্যবর্তী স্থানে সাগরে
গিয়ে পড়েছে ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

পরিচ্ছেদ

আল্লাহ তাআলা বলেন ৮ ১’

অর্থাৎ — আল্লাহই উর্ধ্বদেশে অড়াকম্পোমণ্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ন্য৩া৩ তো ৷র৷ তা
দেখতে পাও ৷ তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন এবং সুর্য ও চন্দ্রকে নিয়ম ধীন করেন ; প্ৰতোক
নির্দিষ্টকাল পর্যত অবের্তন করে ৷ তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমুহ বিশদভাবে
বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন
করতে পার ৷

তিনি ভুতলকে বিন্তুত করেছেন এবং তাতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতেষ্কে
প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় ৷ তিনি দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন ৷ এতে
অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য

পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভুখণ্ড তাতে তাঙ্গুর বাগনে শস্য (,ক্ষত্র একাধিক
শিরবিশিষ্ট অথবা এক শিরবিশিষ্ট থেজ্বর গাছ সিঞ্চিত একই পানিতে এবং ফল হিসেবে
এগুলোর কতক কতকের উপর আমি গ্রেষ্ঠতৃ দিয়ে থাকি ৷ অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের
জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন ৷ ( ১৩ : ২-৪ )

আল্লাহ তাআলা বলেন

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.