হযরত আলীর কবিতা

আর মন্তক ছোদ্নকারী অলংকার খচিত ঝকঝকে সাদা ধারাল তরবারি দ্বারা আঘাত করা
ব্যতীত কোন উপায় ছিল না ৷

আর পখভ্রপথভ্রষ্ট উত যাকে আমরা মাটির সাথে মিশিয়ে দিই এবং শায়বাকে অন্ধকুপের
মধ্যে নিহত দের মাঝে উপুড় করে নিক্ষেপ করি ৷

তাদের যে সব মিত্রর৷ মাটির সাথে মিশে গিয়েছে, আমরও সেই সাথে মাটির সাথে মিশে
গিয়েছে ৷ ফলে বিলাপকারিণীদের আমার আন্তীন আমরের শোকে ছিড়ে-ফেটে গিয়েছে ৷

আস্তীন বিদীর্ণকারী এসব মহিলা হচ্ছে ফিহ্র গোত্রের শাখা লু-আই ইবন পানির-এর স্ল্লাম্ভ
মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত ৷

এরা এমন এক সম্প্রদায়ের লোক, যারা নিজেদের ভ্রান্তপথে চলর কারণে নিহত হয়েছে ৷
তারা শেষ পর্যন্ত ঝাণ্ডা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে এবং পরাজয়বরণ করা পর্যন্ত তাদের
সাহায্যার্থে কেউ এগিয়ে আসেনি ৷

তাদের সে ঝাণ্ডা ছিল ভ্রষ্টতা ৷র প্রতীক ৷ আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল স্বয়ং ইবলীস ৷ অবশেষে
সে তাদের সাথে বিশ্ব৷ সঘাতকতা করে ৷ যে খবীছ, বিশ্বাসঘ৷ ৷তকতা করা তার নীতি ৷

যখন সে মুসলমানদের সাহায্যার্থে ফেরেশত ৷দের অবতরণ স্পষ্টভাবে দেখতে পেল, তখন
সে বলল, আমি তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলাম, আজ আর ধৈর্য-ধারণ করার ক্ষমত ৷
আমার সেই ৷

কেননা, আমি যা দেখতে পা ৷চ্ছি তােমরা তা দেখছো না ৷ আমি আল্লাহর শা ৷স্তির ভয় করছি,
কারণ, আল্লাহ পরাক্রমশালী ৷

সে তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, আর তারা তাতে আটকা পড়েছে ৷ সে যে
কথাটি তাদেরকে জানায়নি, ঐ কথাটি সে ভাল করেই জানতে৷ ৷

যে প্ৰভাতকালে তারা বদরের ক্যুপ পৌছায়, তখন তাদের সংখ্যা ছিল এক হাযার ৷ অন্য
দিকে আমাদের দলে ছিল শুভ্র রং বিশিষ্ট নব উটের ন্যায় তেজােদীপ্ত তিনশ’ যোদ্ধ৷ ৷

আর আমাদের মাঝে ছিল আল্লাহর প্রেরিত সৈনিকগণ ৷ র্তার৷ বদরে আমাদেরকে শত্রুদের
মুকাবিলায় সাহায্য করছিলেন ৷ এরপর এ কথা সর্বত্র আলোচিত হতে থাকে ৷

জিবরাঈল ফেরেশতা আমাদের পতাকড়াতলে থেকে তাদেরকে এক সংকীর্ণ স্থানে এমন
কঠে৷ ৷র আঘা ৷ত হানেন যে, তাদের উপর দিয়ে মৃতু ভ্যুর হিম শীতল বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে ৷

এই কবিত ৷র জবাবে রচিত হারিছ ইবন হিশামের কবিতার কথা ইবন ইসহাক উল্লেখ
করেছেন ৷ আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে তা বাদ দিয়েছি ৷

হযরত আলী (না)-এর কবিতা

বদর যুদ্ধ সম্পর্কে আ ৷লী ইবন আবৃত তালিব নিম্নলিখিত কবিতা রচনা করেন ৷ অবশ্য ইবন

হিশাম একে অস্বীকার করেছেন ৷

অর্থ : তুমি কি লক্ষ্য করনি, আল্লাহ্ তার রাসুলের কত কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন ? যেমন
কঠিন পরীক্ষা নেয়া হয় উচ্চ পদাধিকারী ও উচ্চ মর্যাদার আসীন ব্যক্তির ৷

যে পরীক্ষার দ্বারা কাফিরদের নামিয়ে দেয়া হয়েছে লাইনার স্থলেৰু ৷ তাই যারা বন্দী হয়েছে
ও নিহত হয়েছে তারা লাঞ্চুনার সম্মুখীন হয়েছে ৷

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ্র প্রতি আল্লাহর সাহায্য মহীয়ান রুপ লাভ করেছে ৷ আর
রাসুলুল্লাহ্ তৌ ইনসাফের সাথেই প্রেরিত হয়েছেন ৷

তিনি আল্লাহ্র পক্ষ হতে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছেন, যা হক ও বাতিলের মধ্যে
পার্থক্য করে দেয় এবং জ্ঞানী লোকদের নিকট তার আয়াতগুলাে অতি সুস্পষ্ট ৷

কিছু লোক এই কিতাবের উপর ঈমান এন্যেছ ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে ৷ এর ফলে
আল্লাহ্র রহমতে তারা তাদের শক্তিকে সংহত করতে সক্ষম হয়েছে ৷

পক্ষান্তরে কিছু লোক তা অস্বীকার করেছে ৷ তাই তাদের অন্তর বক্র হয়ে গেছে ৷ ফলে
আরশের অধিপতি তাদের বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন ৷

তিনি বদরের দিন তার রাসুলকে শত্রুদের উপর বিজয়ী করেছিলেন ৷ আর বিজয়ী
করেছিলেন এমন এক ক্ষিপ্ত দলকে যাদের কাজকর্ম ছিল অতি উত্তম ৷

তাদের হাতে ছিল হালকা সাদা তরবারি, যা দিয়ে তারা শত্রুদের উপর হামলা চালায় ৷
তারা এ তরবারিণ্ডালা নতুনভাবে শানিয়ে ও ধার দিয়ে নিয়েছিল ৷

এ সব তরবারি দিয়ে তারা শত্রুপক্ষের বহু জড়াত্যাভিমানী বীর সেনা ও শৌর্য-বীর্যের
অধিকারী যুবকদেরকে ভুপাতিত করে ৷

তাদের শোকে বিলাপকারিণী মহিলারা অশ্রু বিসর্জন করেছে ৷ এ সব মহিলা ছোট ও বড়
আকারে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ন্যায় অশ্রুবন্যা প্রবাহিত করেছে ৷

বিলাপকারিণী মহিলারা পথভ্রষ্ট উতবা, তার পুত্র ও শায়বা এবং আবু জাহলের মৃত্যুবার্তা
ঘোষণা করে বিলাপ করে যাচ্ছে ৷

বিলাপকারিণীরা ঘোড়া লোকটির জন্যে বিলাপ করছে এবং ইবন জাদআনও তাদের
অন্তর্ভুক্ত ৷ এ সব মহিলা শোকের কাল পোশাক পরিহিতা এবং তাদের ভারাক্রাত হৃদয়ের চিহ্ন
সুস্পষ্ট ৷

শত্রুদের মধ্য থেকে এমন একটি দল তুমি বদরকুপে দেখতে পাবে, যারা ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে
রণ-কুশলী ও দুর্ডিংক্ষর সময় সাহায্যকারী ৷

কেউ তাদেরকে ভ্রষ্টপথের দিকে আহ্বান করেছে ৷ আর তারাও সে ডাকে সাড়া দিয়েছে ৷
ভ্রষ্টপথে চলার নানাবিধ সুত্র ও উপায়-উপকরণ আছে, যেগুলো সেদিকে যাওয়ার জন্যে খুবই
আকর্ষণীয় ৷

অবশেষে তারা সীমালংঘন করে ও আর্তনাদ করে জাহান্নামের অতল গহ্ববে তলিয়ে
গেছে ৷

এই কবিতার জবাবে লিখিত হারিছের কবিতা ইবন ইসহাক তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ৷
কিন্তু আমরা এখানে তার উল্লেখ থেকে বিরত থাকলাম ৷
কাআব ইবন মালিকের কবিতা
বদর যুদ্ধ সম্পর্কে কাব ইবন মালিক নিম্নলিখিত কবিতা রচনা করেন ৷
অর্থ : আমি আল্পাহ্র ফায়সড়ালায় চমৎকৃত ৷ তিনি যা ইচ্ছা করেন তা বাস্তবায়ন করতে
সক্ষম ৷ আল্পাহ্কে বাধ্য করার শক্তি কারও সেই ৷

বদরের দিনে তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সীমালংঘনকারী এক সম্প্রদায়ের মুকাবিলা
করি ৷ আর সীমালংঘনকারীরা মানুষের সাথে জুলুম-অত্যাচারের নীতি অবলম্বন করে থাকে ৷

তারা যে দিন সৈন্যসামন্ত একত্রিত করেছিল এবং আশ-পাশের লোকদেরও যুদ্ধে শরীক
হওয়ার জন্যে আহ্বান জানিয়েছিল ৷ ফলে তাদের দলে সৈন্যসংখ্যা অনেক বেশী হয়ে যায় ৷

বনু কাআব ও বনু আমির সহ সকলেই আমাদের দিকে এগিয়ে আসে ৷ আমরা ছাড়া আর
কেউ তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবন্তু ছিল না ৷

আর আমাদের মাঝে রয়েছেন আল্লাহ্র রাসুল তার চারপাশে আছে আওস গোত্রের লোক
-যারা ছিল রাসুলের জন্যে দুর্গের ন্যায় শক্তিশালী ও সাহায্যকারী ৷

তার পতাকা তলে রয়েছে বনু নাজ্জারের দল ৷ হালকা ও সাদা বর্ম পরিধান করে তারা ধুলি
উড়িয়ে সম্মুখে অগ্রসর হচ্ছে ৷

আমরা যখন তাদের মুখোমুখি হই, তখন আমাদের প্রতিটি মুজাহিদ তার সাথীকে উৎসাহ
যােপায় ও দৃঢ়পদে অবস্থান করে ৷

আমরা সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন প্রভু নেই এবং আল্লাহ্র রাসুল সত্য নিয়ে
জয়ী হন ৷

তখন সাদা ও হালকা তরবারি খাপ থেকে বের করা হল ৷ দেখে মনে হচ্ছিল তা যেন
অগ্নিশিখা ৷ উত্তোলনকারী যেন তোমার দৃই চোখের সামনে নড়াড়াচাড়া করে চোখ ঝলসে দিঙ্গে ৷

এসব তরবারি দিয়ে আমরা তাদের দলকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছি ৷ ফলে তারা ছত্রতংগ হয়ে
পড়ে এবং যারা তাদের মধ্যে উদ্ধত, তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>