Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

হযরত ইউসুফ (আ)… এর ঘটনা

হযরত ইউসুফ (আ)… এর ঘটনা

হযরত ইউসুফ (আ) ঘটনা

স্মরণ কর, ইউসুফ তার পিতা ৷কে বলেছিল, হে আমার পিতা ! আমি এগারটি নক্ষত্র, সুর্য ও
চন্দ্রকে দেখেছি-দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায় ৷ সে বলল, আমার পুত্র ৷
তোমার স্বপ্ন-বৃত্তান্ত তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না; করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্র করবে ৷ শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু ৷ এভাবে তোমার প্ৰতিপালক তোমাকে
মনোনীত করবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেবেন এবং তোমার প্ৰতি , ইয়াকুবের
পরিবার-পরিজনের প্রতি তার অনুগ্রহ পুর্ণ করবেন, যেভাবে তিনি এর পুর্বে পুর্ণ করেছিলেন
তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহড়াকের প্রতি ৷ তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ৷
( ১ ২ : ৪ ৬)

ইতিপুর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে , হযরত ইয়াকুব (আ)-এর বারজন পুত্র সন্তান ছিলেন ৷
তাদের নামও আমরা উল্লেখ করেছি ৷ বনী ইসরাঈলের সকলেই তার সাথে সম্পৃক্ত ৷ এই রায়
ভাইয়ের মধ্যে গুণ-গরিমায় ইউসুফ (আ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ৷ উলামাদের এক দলের মতে , বার
ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র ইউসুফ (আ) ছিলেন নবী ৷ অবশিষ্টদের মধ্যে কেউই নবী ছিলেন৷ না
ইউসুফ (আ) এর ঘটনায় তার ভাইদের যে সব কর্মকাণ্ড ও উক্তি উদ্ধৃত হয়েছে৩ তা থেকে এই
মতের সমর্থন পাওয়া যায় ৷ পক্ষ স্তরে কতিপয় আলিমের মতে , অন্য ভাইরাও নবী ছিলেন ৷
নিম্নোক্ত আয়াত থেকে তারা দলীল গ্রহণ করেন ৷ যথা ং

বল, আমরা আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল ,

ইসহড়াক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে ঈমান এসেছি ৷
(৩ : ৮৪)
এই আলিমগণ মনে করেন যে, ৬, ৷ ৷ বা বংশধর বলতে ইয়াকুব (আ)-এর বাকি এগার
পুত্রকে বুঝান হয়েছে ৷ কিন্তু তাদের এই দলীল মোটেই শক্তিশালী নয় ৷ কেননা ৬ ৷ ৷ শব্দ
দ্বারা বনী ইসরাঈলের বংশকে বুঝানো হয়েছে এবং তাদের মধ্যে হার৷ নবী ছিলেন ইা৷দের প্রতি
আসমান থেকে ওহী এসেছে, তাঙ্গুদররুকই বুঝানো হয়েছে ৷

ভ্রাতাদের মধ্যে হযরত ইউসুফ (আ)-ই যে কেবল নবী ছিলেন ইমাম আহমদ (র) বর্ণিত
ইবন উমর (রা)-এর রেওয়ায়ত থেকেও এর সমর্থন পাওয়া যায় ৷ যেমন রাসুল (সা) বলেছেন :

তিনি ছিলেন এক সম্মানিত পুরুষ যিনি আর এক সম্মানিত ’ পুরুষের পুত্র ৷ তিনিও আর এক
সম্মানিত পুরুষের পুত্র, আবার তিনি আর এক সম্মানিত পুরুষের পুত্র-ষ্ইনি হলেন ইউসুফ
(আ), যিনি ইয়াকুব নবীর পুত্র ৷ আর তিনি ইসহাকের পুত্র এবং তিনি হযরত ইবরাহীমের
পুত্র ৷ ’

ইমাম বুখারী (র) আবদুল ওয়ারিছের সুত্রে এককভাবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷
ইবরাহীম (আ) এর কাহিনী আলোচনায় আমরা এ হাদীসের বিভিন্ন সুত্র উল্লেখ করেছি ৷ এখানে
তার পুনরুল্লেখ প্রয়োজন নেই ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই ৷ মুফাসৃসিরিনে কিরাম ও আলিমগণ
বলেন, ইউসুফ (আ) যখন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক মাত্র, তখন একদাপ্নে দেখেন যেন এপাবটি
নক্ষত্র যার দ্বারা ইৎগিত করা হয়েছে৩ তার এগার ভাইয়ের প্রতি এবং
সুর্য ও চন্দ্র ( ট্রুপুর্মুষ্৷ এ মোঃ ও) অর্থাৎ তার পিতা মাতা তাকে সিজদ৷ করছেন ৷াপ্ন দেখে
তিনি শংকিত হন ৷ ঘুম থেকে জেগে ওঠে পিতার কাছোপ্নটি বর্ণনা করেন ৷ পিতা ৷ৰুঝতে
পারলেন যে, অচিরেই তিনি উচ্চমর্যাদায় আসীন হবেন, দুনিয়া ও আখিরাতের উচ্চ মর্যাদার
ভুষিত হবেন; আর তার পিতা-মাতা এবং ভাইগণ ৷তার অনুগত হবেন ৷ পিতা তাকে এাপ্নের
কথা গোপন রাখতে বলেন এবং তা ভাইদের কাছে বর্ণনা করতে নিষেধ করেন ৷ যাতে তারা
ছিলো না করে এবং ষড়যস্তের জাল বিস্তার করতে না পারে ৷ ইয়াকুব (আ)-এর এই আশংকা
আমাদের উপরের বক্তব্যকে সমর্থন করে ৷ এ জন্যে কোন কোন বর্ণনায় আছে :

অর্থাৎ-তোমরা তোমাদের প্রয়োজন পুরণে গোপনীয়তার সাহায্য গ্রহণ কর, কেননা
প্রাত্যক নিয়াম৩ প্রাপ্ত ব্যচ্ছি হিংসাব শিক কার হয়ে থাকে ৷ ’ আহলি কিতাবদের মতে, হযরত
ইউসুফ (আ)াপ্নের বৃত্তান্ত পিতা ও ভাইদের সাক্ষাতে একত্রে ব্যক্ত করেছিলেন ৷ কিস্তু তাদের
এ মত ভুল ৷এভাবেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে
মনোনীত করবেন ৷) অর্থাৎ যেভাবেব্ব আমাকে এই তাৎপর্যবহাপ্ন দেখান হয়েছে যখন তুমি
একে গোপন করে রাখবে তখন তোমার প্রনিপ লক তোমাকে এর জন্যে মনে নীত করবেন ৷
অর্থাৎ বিভিন্ন রকম অনুগ্রহ ও রহমত (ভাষাকে বিশেষভাবে দান করবেন ৷
(আর তোমাকোপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন) অর্থাৎ কথার

পুঢ়তত্ত্ব ওাপ্নের ব্যাখ্য৷ বােঝবার শক্তি দান করবেন-যা অন্য লোকের পক্ষে বোঝা সম্ভব হবে

নিয়ামত তোমাকে দান করবেন ৷ (আর ইয়াকুবের পরিবারবর্গের উপর)

অর্থাৎ তোমার ওসীলায় ইয়াকুবের পরিবারবর্গ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণপ্রাপ্ত হবে ৷

(যেমনিভাবে এর পুর্বে তোমার পিতৃ পুরুষ ও ইব্রাহীম ও ইসহাকের উপর তা পুর্ণ
করেছিলেন) অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে নিয়ামতে পুর্ণ করবেন ও নবুওত দান করবেন ৷ যেভাবে
তা দান করেছেন তোমার পিতা ইয়াকুবকে, পিতামহ ইসহাককে ও প্ৰ পিতামহ ইব্রাহীম
খলীলুল্লাহকে (নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্ৰজ্ঞাময়) ৷ অন্যত্র
আল্লাহ বলেছেন, ৷ (আ ৷ল্লাহই ভাল জানেন যে, রিসালাতের
দায়িত্ব তিনি কাকে অর্পণ করবেন ৷)

এ কারণে রসুলুল্লাহ (সা)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয় কোন ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা সম্মানিত?
উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ইউসুফ-যিনি নিজে আল্লাহর নবী, আর এক আল্লাহর নবীর পুত্র ৷
তিনিও আল্লাহর নবীর পুত্র এবং তিনি আল্লাহ্র খলীলের পুত্র ৷ ইবন জারীর ও ইবন আবী
হাভিম (র) তাদের তাফসীরে এবং আবু ইয়ালা ও বায্য়ার তাদের মুসনাদে জাবির (রা) সুত্রে
বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ (সা)-এর নিকট একবার এক ইহুদী আগমন করে-ণ্তাকে
বুসতানাতুল ইহুদী বলে অভিহিত করা হতো ৷ সে বলল, হে মুহাম্মদ ! সেই নক্ষত্রগুলোর নাম
কি, যেগুলোকে ইউসুফ (আ) সিজদাবনত দেখেছিলেন? রসুলুল্লাহ (সা) কোন প্রকার উত্তর না
দিয়ে নীরব থাকলেন ৷ কিছুক্ষণ পর জিবরাঈল (আ) ঐ নামগুলোসহ অবতরণ করেন ৷
রসুলুল্লাহ (সা) তখন লোকটিকে ডেকে আসেন ও জিজ্ঞেস করেন ৷ আমি যদি ঐ নামগুলো
তোমাকে বলতে পারি তাহলে কি তুমি ঈমান আনবে? সে বলল , ইক্ল৷ ৷ রসুলুল্লাহ (সা) বললেন,
এগুলোর নাম হল জিরয়ান, তারিক, পিয়াল, যুল কাতিফান, কাবিস, উছাব, উমরদান,
ফায়লাক, মুসৰিহ, দারুহ, যুল-ফারা’, দিয়া ও নুর ৷ ইহুদী লোকটি বলল, আল্লাহর কসম,
এগুলোই সেই নক্ষত্রসমুহের নাম ৷ এ বর্ণনায় একজন রাবী হাকাম ইবন যুহায়রকে মুহাদ্দিসগণ
যঈফ বলে অভিহিত করেছেন ৷

আবু ইয়ালার বংনািয় আছে যে, ইউসুফ (আ) যখন তার স্বপ্নের কথা পিতাকে শোনান
তখন পিতা বলেছিলেন, এ বিষয়টি বিক্ষিপ্ত, আল্লাহ একে সমন্বিত করে বাস্তবে রুপ দান
করবেন ৷ রাবী বলেন, সুর্য বলতে এখানে তার পিতাকে এবং চন্দ্র বলতে তার মাতাকে বুঝানো
হয়েছে ৷

ইউসুফ এবং তার ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে ৷ স্মরণ কর, তারা
বলেছিল, ইউসুফ ও তার তাই আমাদের পিতার নিকট আমাদের অপেক্ষা অধিক প্রিয় ৷ অথচ
আমরা একটি সুসংহত দল; আমাদের পিতা তো স্পষ্ট বিভ্রড়াস্তিতেই আছেন ৷ ইউসুফকে হত্যা
কর অথবা তাকে কোন স্থানে ফেলে আস ৷ ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই
নিবিষ্ট থাকবে ৷ এরপর তোমরা ভাল লোক হয়ে যাবে ৷ তাদের মধ্যে একজন বলল, ইউসুফকে
হত্যা করো না এবং তোমরা যদি কিছু করতেই চাও তাকে কোন গভীর কুপে নিক্ষেপ কর ৷
যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে ৷ (১২ : ৭ ১ : )

এ বাহিনীতে যেসব নির্দশন, হিকমত, ইশারা-ইৎগিত, উপদেশ ও স্পষ্ট দলিল-প্রমাণ
রয়েছে আল্লাহ তা অবহিত করেছেন ৷ এরপর ইউসুফ ও তার সহােদর ভইি বিন-য়ামীনের প্রতি
পিতার স্নেহ-মমতার ব্যাপারে অন্য ভাইদের হিংসার কথা উল্লেখ করেছেন ৷ এ হিংসার কারণ
ছিল তারা একটি সংহত দল হওয়া সত্বেও পিতা ইউসুফ ও বিন-য়ামীনকে অধিক তালবাসেন ৷
তাদের দাবি এই যে, আমরা একটি সংহত দল হিসাবে ঐ দৃ ’জনের চেয়ে আমব ই অধিক
ভালবাসা পাওয়ার হকদার ৷ (আমাদের পিতা স্পষ্ট বিভ্রাস্তিতে

রয়েছেন) তিনি আমাদের থেকে ঐ দৃ জনকে বেশি ভালবাসেন ৷ অতঃপর তারা পরামর্শ করল,
ইউসুফকে হত্যা করবে নাকি দুরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসবে, যেখান থােক আর কোন দিন
যে ফিরে আসতে পারবে না ৷ এতে পিতার পুর্ণ স্নেহ-মমতা কেবল তাদের প্রতিই নিবদ্ধ
থাকবে ৷ অবশ্য পরবর্তীতে তারা তওবা করে নেয়ারও গোপন ইচ্ছা ৷পােষণ করেছিল ৷ এই
সিদ্ধান্তের উপর যখন তারা ঐক্যবদ্ধ হল তখন তাদের মধ্যে একজন
বলল, মুজাহিদের মতে সেই ব্যক্তির নাম শামউন; সুর্দীর মতে য়াহুযা এবং কাতাদা ও ইবন

ইসহাকের মতে রার্বীল-যে ছিল তাদের মধ্যে বয়সে বড় ৷

(ইউসুফকে হত্যা কর না বরং র্চুকান গভীর কুপে নিক্ষেপ কর ৷ হয়ত কোন পথিক তাকে

উঠিয়ে নিয়ে যাবে)(যদি তোমরা কিছু করতেই চাও) অর্থাৎ তোমরা যা

বলছ তা যদি একান্তই করতে চাও তবে আমার দেয়া প্রস্তাব গ্রহণ কর ৷ তাকে হত্যা করা বা
দুরে ফেলে আমার চাইতে এটা করাই উত্তম ৷ ফলে তারা সবাই এ প্রস্তাবে একমত হয় ৷

অতঃপর তারা বলল, হে আমাদের পিতা ৷ ইউসুফের ব্যাপারে তুমি আমাদেরকে বিশ্বাস
করহু না কেন? যদিও আমরা তার শুভাকাত্তক্ষী ? আগাযীকাল তুমি তাকে আমাদের সঙ্গে প্রেরণ
কর, সে ফল-মুল পারে ও খেলাধুলা করবে ৷ আমরা তার রক্ষণাবেক্ষণ করব ৷ যে বলল, এটা
আমাকে কষ্ট দিয়ে যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমি আশংকা করি, তোমরা তার

প্রতি অমনােযোগী হলে তাকে নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলবে ৷ত তারা বলল, আমরা একটি সৎহ
দল হওয়া সত্বেও যদি নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলে, তবে তো আমরা ক্ষতিঘস্তই হয় ৷
( ১ ২ : ১ ১ ১ : )

পুত্ররড়া পিতার কাছে আবদার করল যে, তিনি যেনত তাদের সাথে ভাই ইউসুফকে যেতে
দেন ৷ তাদের উদ্দেশ্য জানাল যে, সে তাদের সাথে পশু চরাবে, খেলাধুলা ও আনন্দ-কুর্তি
করবে ৷ তারা অন্তবে এমন কথা গোপন করে বাখল, যে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত ছিলেন ৷
বৃদ্ধ পিতা তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর দিলেন, হে পুত্রগণ! আমার কাছ থেকে সামান্য
সময়ের জন্যেও তার বিচ্ছিন্ন হওয়া আমাকে বড়ই পীড়া দেয় ৷ এছাড়া আমার আরও আশংকা
হয় যে, তোমরা থেলাধুলায় মত্ত হয়ে পড়লে সেই সুযোগে নেকড়ে বাঘ এসে তাকে খেয়ে
যাবে ৷ আর তোমরা তা প্রতিহত করতে পারবে না অসতর্ক থাকার কারণে এবং সেও পারবে না
তার বয়স্ক হওয়ার

(তারা বলল, যদি নেকড়ে বাঘে তাকে খেয়ে ফেলে, অথচ আমরা একটা সৎহত দল,
তাহলে তো আমরা বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হব ৷) অর্থাৎ বাঘ যদি তার উপর আক্রমণ করে ও আমাদের
মাঝ থেকে নিয়ে খেয়ে ফেলে কিৎবা আমাদের অসতর্ক থাকার কারণে এরুপ ঘটনা ঘটে যার
অথচ আমরা একটি স ৎহত দল তথায় বিদ্যমান, তা হলেত তা আমরা অক্ষম ও দুর্ভাগা বলে
পরিগণিত হব ৷

আহলি কিতাবদের মতে, হযরত ইয়াকুব (আ) পুত্র ইউসুফকে তার ভাইদের পেছনে-
পেছনে প্রেরণ করেন ৷ কিত্তু ইউসুফ পথ হারিয়ে ফেলেন ৷ পরে অন্য এক ব্যক্তি তাকে তার
ভাইদের কাছে পৌছিয়ে দেয়৷ কিত্তু এটি তাদের একটি ভ্রান্তি বিশেষ ৷ কেননা, ইয়াকুব (আ)
ইউসুফকে এতই বেশি ভালবাসতেন যে, তিনি তবে তাদের সাথে পঠােতেই চাচ্ছিলেন না,
সুতরাৎ৩ তিনি তাকে একা পাঠাবেন কি করে?

অতঃপর ওরা যখন তাকে নিয়ে গেল এবৎ তাকে গভীর কুপে নিক্ষেপ করতে একমত হল,
এমতাবস্থায় আমি তাকে জানিয়ে দিলাম, তুমি ওদেরকে ওদের এই কর্মের কথা অবশ্যই বলে
দিবে যখন ওরা তে তামাকে চিনবে না ৷ ওরা রাতে কাদতে র্কাদতে পিতার নিকট আসল ৷ তারা
বলল, হে আমাদের পিতা ! আমরা দৌড়ে প্রতিযোগিতা করছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের

মালপত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম, অতংপর নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলেছে; কিভৃত

তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবে না, যদিও আমরা সতবােদী ৷ ওরা তার জামায় মিথ্যা রক্ত
করে এনেছিল ৷ সে বলল, না, তোমাদের মন তোমাদের জন্যে একটি কাহিনী সাজিয়ে
দিয়েছে ৷ সুতরাং পুর্ণ ধৈর্যই প্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার
সাহায্যস্থুল ৷ (সুরা ইউসুফৰু ১ ৫ ১৮)

ইউসুফের ভইিয়েরা পিতাকে পীড়াপীড়ি করতে থাকলে তিনি ইউসুফ (আ)কে তাদের

সাথে পাঠিয়ে দেন ৷ পিতার দৃষ্টিব আড়াল হয়ে গেলে তারা ইউসুফকে মুখে গালাগালি করতে
থাকে এবং হাতের দ্বারা লাঞ্চুনা-গঞ্জনা দিতে থাকে ৷ অবশেষে এক গভীর কুপে নিক্ষেপ করার
ব্যাপারে একমত হয় এবং কুপের মুখে যে পাথরের ওপর দাড়িয়ে পানি তোলা হয় সেই
পাথরের ওপর দাড়িয়ে তারা ইউসুফ (আ)-কে কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করে দেয় ৷ তখন আল্লাহ
ওহীর মাধ্যমে তাকে জানিয়ে দেয় যে, তোমাকে এ দুরবস্থা থেকে অবশ্যই উদ্ধার করা হবে
এবং তাদের এই দুষ্কর্মের কথা এমন এক অবস্থায় তাদেরকে তুমি জানাবার সুযে ৷গ পাবে, যখন
তুমি হবে ক্ষমতাশালী আর তারা হবে তোমার মুখাপেক্ষী এবং ভীত ৩সস্ত্রস্ত ৷ কিন্তু তারা টেরও
পাবে না ৷

মুজাহিদ ও কাতাদ৷ (র)-এব মতে, (তারা জানবে না) অর্থাৎ আল্লাহ ইউসুফ
(আ)-কে ওহীর মাধ্যমে এ বিষয়ে যা বলবেন তা তার ভইিয়েরা জ নবে না ৷ ইবন আব্বাস
(রা)-এর মতে ১৷ অর্থ হল, তুমি তাদেরকে এমন এক সময়ে তাদের এ কর্মকাণ্ড
সম্পর্কে জানাবে যখন তারা তোমাকে চিনবে না ৷ ইবন জারীব (র) এটা বর্ণনা করেছেন ৷
ইউসুফ (আ)-কে কুপে নিক্ষেপ করে তারা তার আমার কিছু রক্ত যেখে রাত্রিকালে কাদতে
কাদতে পিতার কাছে ফিরে এল ৷ এ জন্যে কোন কোন প্রাচীন বিজ্ঞজন বলেছেন, অত্যাচারের
অভিযোগকা রীর কান্নড়াকাটিতে প্রত৷ রিত হয়াে না ৷ কেননা, বহু অত্যাচারীও এমন আছে যায়া
প্রতারণাপুর্ণ কান্নাকাটি করে থাকে ৷ এ প্রসঙ্গে তারা ইউসুফ (আ) এর ভাইদের কান্নাকাঢির
কথা উল্লেখ করেন ৷ ইউসুফ (আ) এর ভইিয়েরা রাত্রিকালে অন্ধকারের মধ্যে কড়াদতে কাদতে
পিতার কাছে হাযির হয় ৷ অন্ধকার রাত্রে আমার উদ্দেশ্য ছিল তাদের বিশ্বাস ঘাতকতাকে
আড়ালে রেখে প্রতারণাব চেষ্টা করা, ওজর প্রকাশ করা নয় ৷

(তারা আরজ করল, হে পিতা! আমরা দৌড়ে প্রতিযোগিতা করছিলাম এবং ইউসুফকে
আমাদের মালামাল অর্থাৎ কাপড় চােপড়ের কাছে রেখে গিয়েছিলড়াম) ৰু১পু৷ ছুপুর্বুএে (তখন
তাকে ণ্নকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলে) অর্থাৎ দৌড় প্রতিযোগিতার সময় যখন আমরা তার থেকে
দুরে চলে যইি তখন তাকে বাঘে খেয়ে ফেলে ৷
(কিত্তু আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না ৷ যদিও আমরা সত্য কথ ই বলছি) অর্থাৎ
ইউসুফ (আ )-কে বাঘে থেয়েছে আমাদের এ স বাদ আপনি বিশ্বাস করবেন না ৷ আপনার কাছে
ইতিপুর্বে আমরা কোন বিশ্বাসঘাতক৩ ৷র অভিযোগে অভিযুক্ত হইনি, তবে এ ব্যাপারে
আমাদেরকে কিভাবে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত করবেন ৷ কারণ বাঘে খাওয়ার ব্যাপারে

আপনি আশংকা প্রকাশ করেছিলেন ৷ আর আমরা তাকে নিজেদের দায়িত্বে গ্রহণ করেছিলাম

যে, আমরা থাকতে তাকে রড়াঘে খেতে পারবে না ৷ কেননা, আমরা সংখ্যায় অধিক ৷ সুতরাং
আমরা সত্যবাদী হিসেবে আপনার কাছে প্রমাণিত হতে পারিনি ৷ সে কারণে আমাদেরকে
সত্যবাদী না ভাবাটইি স্বাভাবিক ৷ কিন্তু আসল ঘটনা তো এরুপই ৷ ,
(তারা ইউসুফের আমার মিথ্যা রক্ত মাখিয়ে আসল) তারা একটি বকরীর বাচ্চা
যবেহ করে আমার রক্ত মাখিয়ে আসে ৷ যাতে এই ধারণা দিতে পারে যে তাকে বাঘে খেয়ে
ফেলেছে ৷ তারা রক্ত মাখিয়েছিল রটে কিস্তু জামা ছিড়তেণ্ডু ব্লু লে গিয়েছিল ৷ রন্তুত মিথ্যার
সমস্যা ই হল ভুলে যাওয়া তাদের ণ্ডুউপর সন্দেহের লক্ষণাদি যখন
স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন তাদের এ কাজ পিতাকে আর প্রভাবিত করতে পারেনি ৷ কেননা,
ইউসুফের মধ্যে শিশুকান্সেই যেসব মহৎ গুণড়ারলী ও নর্বীসুলড লক্ষণাদি ফুটে উঠেছিল এবং যার
দরুন পিতা তাকে অন্যদের তুলনায় অধিক তালৰাসতেন, এ কারণে ইউসুফের প্রতি অন্য
ভাইদের হিংসা ও শত্রুতার ব্যাপারে তিনি অবহিত ছিলেন ৷ পিতার কাছ থেকে কুসলিয়ে নিয়ে
তার চোখের আড়ালে নিয়ে তারা ইউসুফকে গায়ের করে দেয় এবং আসল ঘটনা ঢাকা দেওয়ার

জন্য তারা কান্নার ডান করে পিতার কাছে আসলে পিতা রললেনং :

ববং তোমরা নিজেরাই একটা বিষয় সাজিয়ে নিয়েছ সুতরাং আমি পুর্ণ ধৈর্য ধারণ করছি ৷
তোমরা যা কিছু রলছ সে বিষয়ে আল্লাহর কাংইে আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি ৷
আহলি কিতাবদের মতে, রুবীল পরামর্শ দিয়েছিল যে, ইউসুফকে কুপের মধ্যে রাখা
হোক ৷ তার উদ্দেশ্য ছিল যে, অন্য ভাইদের অজাত্তে তাকে পিতার কাছে ফিরিয়ে দিবে ৷ কিন্তু
ভাইয়েরা রুবীলকে ফীকি দিয়ে কাফেলার নিকট তাকে বিক্রি করে দেয় ৷ দিনের শেষে যখন
রুবীল ইউসুফ (আ)-কে উঠিয়ে আনতে যান, তখন তাকে কুপের মধ্যে পেলেন না ৷ তখন
তিনি চিৎকার করে উঠেন এবং নিজের জামা ছিড়ে ফেলেন ৷ আর অন্য ভাইয়েরা একটা রকরী
যবেহ্ করে ইউসুফ (আ)-এর আমার রক্ত মাখিয়ে আসে ৷ হযরত ইয়াকুব (আ) ইউসুফের খবর
শুনে নিজের কাপড় ছিড়ে ফেলেন ও কাল লুঙ্গি পরে নিলেন এবং দীর্ঘ দিন যাবত পুত্র-শোকে
বিহহুল থাকেন ৷৩ তাদের এ ব্যাখ্যা ত্রুটিপুর্ণ এবং এ চিত্রায়ন ভ্রান্তি-প্রসুত ৷
আল্লাহ বলেন :
এক মাত্রীদল আসল, তারা তাদের পানি সফ্যাহককে প্রেরণ করল; সে তার পানির ভোল
নামিয়ে দিল ৷ সে বসে উঠল, কী সুখবর ! এ যে এক কিশোর ! ওরা তাকে পণ্যরুপে লুকিয়ে
রাখল; ওরা যা করছিল সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত ছিলেন ৷ ওরা তাকে বিক্রি করল
স্বল্পমুল্যে মাত্র কয়েক দিরহ্ড়ামের বিনিময়ে ৷ মিসরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার
শ্রীকে বলল, সষ্মন্সেজনকভড়াবে এর থাকার ব্যবস্থা কর, সৰ্বত সে আমাদের উপকাংর আসবে
অথবা আমরা ওকে পুত্ররুপেও গ্রহণ করতে পারি ৷ ’ এবং এভাবে আমি ইসুফকে সে দেশে
প্রতিষ্ঠিত করশাম তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্যে ৷ আল্লাহ তার কার্য সম্পড়াদনে
অপ্রতিহত; কিত্তু অধিকাংশ মানুষ তা অবগত নয় ৷ সে যখন পুর্ণ যৌবনে উপনীত হল, তখন
আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম ৷ এবং এভাবেই আমি সৎকর্ম পরড়ারণদেরষ্কে পুরস্কৃত
করি ৷ (১২ : ১৯২২)

এখানে আল্লাহ তাআদা ইউসুফ (আ)-ক্ষে যখন কুপে যেম্পড়া হয় তখনকার ঘটনা বর্ণনা
করছেন যে, তিনি আল্লাহ্র তরফ থেকে বিপদমুক্তি ও তার করম্পার প্রতীহ্মা করছিলেন ৷ তখন
একটি মাত্রীদল এসে উপস্থিত হলো ৷

আহলি কিতড়াবগণ বলেন, পমনকারী ঐ কাফেসার সাথে মালামাল ছিল পেস্তা, খেজুর ও
তাবপিন ৷ তারা সিরিয়া থেকে মিলবে যাজ্জি ৷ ঐ স্থানে এসে তারা একজনকে উ ক্ত কুয়া থেকে
পানি আমার জানা পাঠায় ৷ সে করার মধ্যে বালতি ফেললে ইউসুফ তা আকড়ে ধরেন ৷
নােকটি তাকে দেখেই বলে উঠল (কী আনন্দের ব্যাপার !) ন্র্সদ্বু fl (এতো
একটি কিশোর)(এবং তারা তাকে পণ্যদ্রব্য হিসেবে লুকিয়ে রাখল) ৷

অর্থাৎ তাদের অনান্য ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে একেও একটি পণ্য বলে দেথালো টু
(তারা বা কিছু করছিল আল্লাহ তা ভালরুপুেই জানেন) অর্থাৎ ইউসুফের
সাথে তার ভাইদের আচরণ এবং কাফেলা কর্তৃক পণ্যের মান হিসেবে লুকিয়ে রাখা সবই
আল্লাহ দেখছিলেন ৷ কিন্তু তা সত্বেও তিনি এর পরিবর্তন করছিলেন না ৷ কেননা এর মধ্যেই
নিহিত ছিল ৰিরটি তাৎপর্য এবং এটা ছিল পুর্ব নির্ধারিত ৷ আর মিসয়ীয়দের জন্যে এই কিশোর
ছিলেন রহমতস্বরুপ, যে কিশোর আজ সেখানে প্রবেশ করছেন বন্দী কৃতদাস রুপে, পরবর্তীতে
ঐ কিশোরই হবে সে দেশের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী ৷ এই কিশোরের সাহায্যেই তারা
দুনিয়ার ও আথিরাতে সীমা-সংথ্যাহীন কল্যাণ লাভ করবে ৷ ইউসুফ (আ)-এব ডাইয়েরা যখন
জানল যে, একটি কাফেলা ইউসুফ (আ)-কে কুয়া থেকে তুলে নিয়েছে, তখন তারা কাফেলার
সাথে সাক্ষাৎ করল এবং বলল, এ ছেলেটি আমাদের গোলাম, পালিয়ে এসেছে ৷ তখন তারা
ইসৃফ (আ)-কে ভাইদের কাছ থেকে কিনে নিল ৷ ৮;হ্রশু (স্বল্প মুল্যে) স্বল্পমুল্যে মানে
কম মুল্য, কেউ কেউ এর অর্থ মের্কী ড্রো বলেছেন ৷ ’ ’ ’

(মাত্র কয়েকটি দিরহামের বিনিময়ে
এবং এ ব্যাপারে তারা ছিল নির্লোভ) ইবন মড়াসউদ, ইবন আব্বাস (রা) নাওফুল বাকালী, সুদ্দী,
আল-যিদায়া ওয়ান নিহড়ায়া (১ম খণ্ড) ৫৭-

কাতাদা ও আতিয়্যাতুল আওফী (র) বলেন, তারা বিশ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে ৷
ইউসুফ (আ) এর প্রত্যেক ভাইভ ৷গে দুই দুই দিরহাম করে পায় ৷ মুজাহিদের মতে, তারা
বাইশ দিরহামে এবং ইকরাম৷ ও মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের মতে চল্লিশ দিরহামে বিক্রি করে ৷
আল্পাহই সর্বজ্ঞ ৷

(মিসরের যে লোকটি তাকে ক্রয় করেছিল সে৩ তার ত্রীকে বলেছিল, একে উত্তম ভাবে
থাকার ব্যবস্থা কর ৷) অর্থাৎ যত্ন সহকারে রাখ ৷ ৷
(সম্ভবত এ আমাদের কল্যাণে আসবে কিৎব৷ আমরা একে পুত্র বানিয়ে রাখব ৷) এটা ছিল
আল্লাহর বিশেষ রহমত, করুণা ও অনুঘহ যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি তাকে উপযুক্ত করে

গড়ে তুলতে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করতে চেয়েছিলেন ৷

আহণি কিতাবরা বলে , মিসরের যে ব্যক্তি ইউসুফ (আ)-কে খরীদ করেছিলেন তিনি ছিলেন
মিসরের আযিয’ অর্থাৎ অর্থমন্তী ৷ ইবন ইসহাকের মতে, তার নাম আতফীব ইবন রুহায়ব ৷ ঐ
সময় মিসরের বাদশাহ ছিলেন রায়্যান ইবন ওলীদ, তিনি ছিলেন আমালিক বং রু শোদ্ভুত ৷ ইবন
ইসহাকের মতে, আযীযের ত্রীর নাম রাঈল বিনত রা ৷ ))
অন্যদের মতে যুলায়খ৷ ৷ বলাবাহুল্য, যুলায়খা তার উপাধি ছিল ৷ ছালাবী আবু হিশাম রিফাই
(র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আযীযের স্তীর নাম ফাকা বিন্ত য়ানুস ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক
(র) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি ইউসুফ (আ)-কে মিসরে নিয়ে বিক্রি
করেছিল তার নাম মালিক ইবন যাআর ইবন নুওয়ায়ব ইবন আফাকা ইবন মাদয়ান ইবন
ইব্রাহীম ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

ইবন ইসহাক (র) ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন : মানব জাতির মধ্যে তিনজন
লোক সব চাইতে দুরদর্শী: (১) মিসরের আযীয যখন তিনি তার শ্রীকে বলেছিলেন একে সযত্নে
রাৰু; (২) সেই বালিকা ৷যে চুৰুার পি৩ ৷কে মুসা (আ) সম্পর্কে বলেছিস
তাকে কাজে নিযুক্ত করুন ৷
কারণ আপনার মজুর হিসেবে সে ব্যক্তিই উত্তম হবে যে হবে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত ৷ (২৮
কাসাস : ২৬) (৩) হযরত আবু বকর (রা), যখন তিনি হযরত উমর (রা ) কে খলীফ৷ নিযুক্ত

করেন ৷

কথিত আছে, আযীয’ ইউসুফ (আ)-কে বিশ দীনারের বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন ৷ কিত্তু
কেউ কেউ বলেছেন, তার সম ওজনের মিশক, সম ওজনের রেশম ও সম ওজনের রৌপাের

বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন ৷ আল্লাহ্ই সম্যক জ্ঞাত ৷

আল্লাহর বাণী: )১৷ (এভাবে আমি ইউসুফকে সে
দেশে ৷প্রতিষ্ঠিত করলাম) যেমন এই আযীয ও তার শ্ৰীকে ইউসুফ (আ) এর সেবাযত্নে ও
সাহায্য-সহযোগিত্ষ্ ৷র জন্য নির্ধারণ করার মাধ্যমে মিসরের বুকে৩ তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম ৷
(এবং ত ৷কে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিলাম) অর্থাৎ স্বপ্নের

অর্থাৎ আল্লাহ যখন কোন সিদ্ধান্ত নেন, তখন তা বাস্তবায়িত হয়েই থাকে ৷ কেননা, তিনিত
বাস্তবায়নের জন্যে এমন উপায় নির্ধারণ করে দেন, যা মানুষের কল্পনড়ার বাইরে ৷ এ কারণেই
আল্লাহ বলেছেন (কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা অবগত
নয় ৷)

যে যখন পুর্ণ যৌবনে উপনীত হল তখন আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম এবং
এভাবেই আমি সৎকর্ম পরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি ৷

এ কথা থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইতিপুর্বের সমস্ত ঘটনা হযরত ইউসুফ (আ)-এর পুর্ণ
যৌবন প্রাপ্তির পুর্বে সংঘটিত হয়েছিল ৷ অর্থাৎ ৪০ বছর বয়সের পুর্বে ৷ কেননা, চল্লিশ বছর
বয়সকালে নবীদের প্রতি ওহী প্রেরিত হয় ৷

কত বছর বয়সে পুর্ণ যৌবন প্রাপ্তি ঘটে, সে ব্যাপারে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ আছে ৷
ইমাম মালিক, রাবীআ, যড়ায়দ ইবন আসলাম ও শড়াবী বলেন, পুর্ণ যৌবন প্রাপ্তি বলতে বালেগ
হওয়া বুঝায় ৷ সাঈদ ইবন জুবায়রের মতে, তা আঠার বছর ৷ দাহ্হাকের মতে বিশ বছর,
ইকরিমার মতে পচিশ বছর; সুদ্দীর মতে ত্রিশ বছর; ইবন আব্বাস, মুজাহিদ ও কাতড়াদা
(রা) এর মতে তেত্রিশ বছর এবং হাসান বসরী (র) এর মতে চল্লিশ বছর ৷ কুরআনের নিম্নোক্ত
আয়াত হাসান বসরী (র) এর মত তকে সমর্থন করে ৷

যথা (যখন সে যৌবন প্রাপ্ত হল এবং
চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হল) ৷ আল্লাহ বলেন ং

সে যে ত্রীলোকের ঘরে ছিল সে তার থেকে অসৎকর্ম কামনা করল এবং দরজাগুলাে বন্ধ
করে দিল ও বলল, এসো’ ৷ সে বলল, “আমি আল্লাহর শরণ নিচ্ছি ৷ তিনি আমার প্রভু; তিনি
আমাকে সম্মানজনকভাবে থাকতে দিয়েছিল, সীমালংঘনকারীরা সফলকাম হয় না ৷ ’ সে রমণী
তো তার প্রতি আসক্ত হয়েছিল এবং সেও ওর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ত যদি না সে তার
প্ৰতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করত ৷৩ তাকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলত৷ থেকে বিরত রাখার জন্যে
এভাবে নিদর্শন দেখিয়েছিলাম ৷ সে ৫৩ ৷ ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত বান্দ৷ দের অন্তর্ভুক্ত ৷ ওরা উভয়ে
দৌড়ে দরজার দিকে গেল এবং ত্রীলোকটি পেছন থেকে তার জামা ছিড়ে ফেলল ৷ তারা
ত্রীলােকটির স্বামীকে দরজার কাছে পেল ৷ শ্ৰীলোকটি বলল, যে তোমার পরিবারের সাথে কুকর্ম
কামনা করে তাকে কারাগারে প্রেরণ অথবা অন্য কোন মর্মভুদ শাস্তি ব্যতীত আর কি দণ্ড হতে
পারে?’ ইউসুফ (আ) বলল, সেই আসা থেকে অসৎকর্ম কামনা করেছিল ৷ ত্রীলোকটির
পরিবারের একজ্যা সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, যদি ওর আমার সম্মুখ দিক ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তবে
ন্তীলোকটি সত্য কথা বলেছে এবং পুরুষটি মিথ্যাবাদী ৷ কিন্তু ওর জামা যদি পেছন দিক হতে
ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তবে শ্রী লোকটি মিথ্যা বলেছে এবং পুরুষটি সত ৷রাদী ৷ গৃহস্বামী যখন
দেখল যে, তার জামা পেছন দিক হতে ছিন্ন করা হয়েছে, তখন সে বলল, এটি তোমাদের
নারীদের ছলনা, ভীষণ তোমাদের ছলনা ! হে ইউসুফ ! তুমি এটি উপেক্ষা কর এবং হে নারী !
তোমার অপরাধের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তুমি অপরাধী ৷ (১২ ও ২৩ ২৯)

আযীযের শ্রী হযরত ইউসুফের প্রতি আসক্ত হয়ে নিজ কামনা চরিতার্থ করার জন্যে কিভাবে
যে ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিল এখানে আল্লাহ তা উল্লেখ করেছেন ৷ আযীযের শ্রী ছিলেন
অত্যন্ত রুপসী, ঐশ্বর্যশালী, উচ্চ সামাজিক মর্যাদার এবং ভরা যৌবনের অধিকারিণী ৷ তিনি
মুল্যবান জলুসপুর্ণ পোশাক পরিধান ও অঙ্গ-সজ্জা করে ইউসুফ (আ )-কে আপন কক্ষে রেখে
ভবনের সমস্ত দরজা বন্ধ করে তাকে আহ্বান জানান ৷ সর্বোপরি তিনি ছিলেন মগ্রীর শ্রী ৷ ইবন
ইসহাকের মতে, এই মহিলাটি ছিলেন মিসরের বাদশাহ রায়্যান ইবনুল ওলীদের ভান্নী ৷
অপরদিকে হযরত ইউসুফ (আ) ছিলেন অত্যধিক রুপ সৌন্দর্যে দীপ্তিমান নওজোয়ান ৷ কিভু
তিনি ছিলেন নবী বংশোদ্ভুত একজন নবী ৷ তাই আল্লাহ তাকে এই অশ্লীল কাজ থেকে হেফাজত
করেন এবং নারীদের ছলনা থেকে রক্ষা করেন ৷ এর ফলে তিনি সহীহায়নের হাদীসে বর্ণিত
সর্বাপেক্ষা মুত্তাকী সাত শ্রেণীর লোকের অন্যতম সর্দার বলে প্রতিপন্ন হন ৷

রাসুলুল্পাহ (সা) বলেন, যে দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে
না, সে দিন৷ সাত ৩শ্রেণীর লোককে আল্লাহ তার ছায়া দান করবেন ং

(১) ন্যায়পরায়ণ শাসক (২) যে ব্যক্তি নির্জ্যন আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু ঝরায় (৩) যে
ব্যক্তি সালাত শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসার পর পুনরায় মসজিদে না যাওয়া পর্যন্ত তার
অন্তর মসজিদের সাথে বীধা থাকে (৪) সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সত্তুষ্টির উদ্দেশ্যে
পরস্পরে মহব্বত করে ৷ আল্লাহর উদ্দেশেই তারা একত্র হয় এবং আল্লাহর উদ্দেশেই তারা
বিচ্ছিন্ন হয় (৫) যে ব্যক্তি এমন গোপনীয়তার সাথে সাদক৷ করে যে, তার ডান হাত কি দিল
বাম হতে তার খবর রাখে না (৬) ঐ যুবক যেত তার উঠতি বয়স আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে
কাটায় ৷ (৭) ঐ পুরুষ যাকে কোন সুন্দরী ও সম্রান্ত মহিলা কু-কর্মের প্রতি আহ্বান করে কিত্তু
সে বলে আমি আল্লাহকে ভয় করি ৷ (বৃখারী ও মুসলিম)

মােটকথা, আযীয়েব শ্রী ইউসুফ (আ) এর প্রতি আসক্ত হয়ে ও অত্যধিক সােভাতুর হয়ে
আপন কামনা চবিত ৷র্থ করার জন্যে আহ্বান জ যায় ৷ ইউসুফ (আ) বললেন
(আল্লাহর পানাহ্ চাই) ^শু ৷ (তিনি৫ তা আমার মনিব) অর্থাৎ মহিলার স্বামী-এ বাড়ির
মালিক আমার মনিব ৷
অর্থাৎ তিনি আমার প্রতি সদয় ব্যবহার করেছেন ও
আমাকে মর্যাদার সাথে তার কাছে থাকার বন্দোবস্ত করেছেন
(জালিমরা কখনও সফলকাম হয় না) র্দুাৰুপুদ্বু
(মহিলাটি ইউসুফের প্ৰতি আসক্ত হয়েছিল এবং সেও তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তাে যদি না
সে আপন প্রতিপ৷ ৷লকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করত ৷) তাফসীরে আমরা এ আয়াত সম্পর্কে বিস্তারিত

আলোকপাত করেছি ৷ ?

মুফাসসিবপণ এ স্থলে যত কথা বলেছেন, তার অধিকাংশই আহলি কিতাবদের প্ৰন্থাদি
থেকে গৃহীত ৷ সুতরাং সেগুলো উপেক্ষা করাই গ্রেয় ৷ এখানে যে কথাটি বিশ্বাস করা প্রয়োজন
তা এই যে, আল্লাহ হযরত ইউসুফ (আ)-কে এ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে হিফাজত করেন
ও পবিত্র রাখেন এবং ঐ মহিলার কবল থেকে তাকে রক্ষা করুন ৷

তাই তিনি বলেছেনং :

তাকে মন্দকর্ম ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রা ৷খার জন্য এভাবে নিদর্শন দেখিয়েছিলাম সে

তো ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ৷(তার৷ উভয়ে দৌড়ে

দরজার দিকে গেল) অর্থাৎ হযরত তইউসুফ (আ) মহিলার কবল থেকে রাচার জন্য ঘর থেকে
বেরিয়ে দরজার দিকে ছুটে গেলেন এবং মহিলা তার পেছনে পেছনে গেল

এ (তারা উভয়ে মহিলার স্বড়ামীকে দরজার কাছে পেল) তখন চট

করে মহিলাটি কথা বলতে আরম্ভ কবল এবং তা কে ইউসুফের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা
মহিলাটি বলল, যে তোমার পরিবারের সাথে কুকর্ম কামনা করে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ
কিৎবা কোন কঠিন শাস্তি ব্যতীত আর কি দও হতে পারে? ’

মহিলা নিজেই অপরাধী অথচ সে অভিযুক্ত করছে ইউসুফ (আ) কে এবং নিজের পুতচরিত্র
ও কলুষমুক্ত হওয়ার কথা বলছে ৷ এ কা ৷রণে ইউসুফ বললেন:
(এ মইিল ই আমাকে ফুসলাতে চেষ্টা করেছে) প্রয়োজনের মুহুর্তে তনি সত্য কথা বলতে বাধ্য

হয়েছেন ৷ (মহিলাব পরিবা ৷রের জনৈক সাক্ষী সাক্ষ্য দিল) ৷

ইবন আব্বাস (রা ) বলেন, যে সাক্ষ্য দিয়েছিল সে ছিল একান্তই দোলনার এক শিশু ৷ আবু
হুরায়রা (রা), হিলাল ইবন আসাফ, হাসান বসরী, সাঈদ ইবন জুবায়ব ও যাহ্হাক থেকে
অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷ ইবন জারীরও এ মতই গ্রহণ করেছেন ৷ হযরত ইবন আব্বাস (বা)
থেকে এ ব্যাপারে মাবকু হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং অন্যরা তা মওকুফরুপে বর্ণনা করেছেন ৷

কেউ কেউ বলেছেন, সাক্ষ্যদাত৷ ছিল মহিলার স্বামীর নিকটআত্মীয় একজন পুরুষ ৷ আবার
কেউ বলেছেন, যে ছিল মহিলার নিবন্টাত্মীয় একজন পুরুষ ৷ সাক্ষ্যদাতা পুরুষ বলে অভিমত
পোষণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইবন আব্বাস (রা), ইকবিমা, মুজাহিদ হাসান, কা তাদা, সুদ্দী,

মুহা ম্মদ ইবন ইসহাক ও যায়দ ইবন অ ৷সলাম (র) ৷

(যদি ওর আমার সম্মুখ দিকে ছেড়া হয়ে থাকে তবে মহিলাঢি সত্য কথা বলেছে এবং
পুরুষটি মিথ্যাবাদী) ৷ কারণ তখন বোঝা যাবে ইউসুফ (আ) মহিলাকে ধরতে নিয়েছেন; আর
মহিলা প্রতিরোধ করেছে যার ফলে আমার সম্মুখ দিকে ছিড়ে গেছে ৷ ৷ (আর তার জামা পিছন দিক থেকে ছেড়া
হয়ে থাকে তবে মহিলাঢি মিথ্যা বলেছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী) ৷ কারণ, তখন প্রমাণিত হবে
যে, ইউসুফ (আ) মহিলার কবল থেকে পালাতে চেয়েছেন এবং মহিলা তাকে ধরার জন্যে
পেছনে পেছনে ছুটেছে ও তার জামা টেনে ধরার কারণে পেছন দিকে ছিড়ে গেছে ৷ আর

বাস্তবেও তইি ঘটেছিল ৷ তাই অ ৷ল্পাহ্ তা আলা বলেছেন০ :
গৃহস্বামী যখন দেখল যে,৩ তার জামা পেছন দিক থেকে ছেড়৷ রয়েছে ৷ তখন সে বলল, এ
হল তোমাদের নারীদের ছলন৷ ৷ বন্তুত৩ ভীষণ ৷তােমাদের ছলন৷ ৷ ’ অর্থাৎ এ যা কিছু ঘটেছে তা
তোমাদের নারীদের কুট কৌশল তুমিই তাকে ফুসলিয়েছ এবং অনা৷য়তারে তার ওপর
দােষারােপ করছ ৷
এরপর মহিলার স্বামী এ ব্যাপারটির নিষ্পত্তিকল্পে বলেন :

(ইউসুফ! এ বিষয়টিকে তুমি উপেক্ষা কর) অর্থাৎ কারও নিকট এ বিষয় নিয়ে আলোচনা
করে৷ না ৷ কারণ, এ জাতীয় বিষয় গোপন ক্লরাই বাঞ্চুনীয় ও উত্তম ৷ অপর দিকে তিনি
মহিলাকে তার অপরাধের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করার নির্দেশ দেন ৷
কেননা, বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তওবা করে তখন আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন ৷ ঐ সময়
মিসরবাসী যদিও মুর্তিপুজা করত, কিন্তু তারা বিশ্বাস করত যে, যে সত্তা পাপ মােচন করেন
এবং পাপের শাস্তি দেন তিনি এক ও না শরীক আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নন ৷ এ জন্যে শ্রী
লোকঢিকে তার স্বামী ক্ষমা প্রার্থনা করত ৩বলেন; তবে কিছু কিছু কারণে তিনি মহিলার
অসহায়তৃ ও অক্ষমত৷ উপলব্ধি করেন ৷ কেননা, মহিলা এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছিল যা দেখে
মনকে দ বিয়ে রাখা খুবই কঠিন (অর্থাৎ ইউসুফ (আ) এ-র রুপ) ৷ তবে ইউসুফ (আ) ছিলেন

পাক পবিত্র ও নির্মল নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী ৷
তুমি তোমার অপরাধের জন্যে ক্ষমা ৷প্রার্থনা কর ৷ কারণ নিশ্চিততারে তুমিই অপরা ৷ধী ৷

নগরের কতিপয় নারী বলল, আযীযের ত্রী তার যুবক দাস থেকে অসৎকর্ম কামনা করছে;
প্রেম তাকে উন্মত্ত করেছে, আমরা৫ তা তাকে দেখছি স্পষ্ট বিভ্র ৷ন্তিতে ৷ শ্রীলোকটি যখন ওদের
ষড়যম্ভের কথা শুনল, তখন সে ওদেরকে ডেকে পাঠাল, ওদের জন্যে আসন প্রন্তুত করল,
ওদের প্রত্যেককে একটি করে ছবি দিল এবং ইউসুফ (আ) কে বলল, ওদের সম্মুখে বের হও ৷
তারপর ওরা যখন তাকে দেখল তখন তারা ওর গরিমায় অভিভুত হল এবং নিজেদের হাত
কেটে ফেলল ৷ ওরা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য! এতো মানুষ নয়, এতো এক মহিমাৰিত
ফেরেশতা ৷’

সে বলল, এ ই সে বা ব সম্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করেছ; আমি তো তা থেকে অসৎকর্ম
কামনা করেছি; কিত্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে, আমি তাকে যা আদেশ করেছি যে যদিত
না করে,৩ তবে সে কারারুদ্ধ হবেই এবং হীনদের অন্তর্ভুক্ত হবে ৷ ইউসুফ বলল, হে আমার
প্রতিপালক ! এই নারীগণ আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে তা অপেক্ষা কারাগার আমার কাছে
অধিক প্রিয় ৷ আপনি যদি ওদের ছলনা থেকে আমাকে রক্ষা না করেন তবে আমি ওদের প্ৰতি
আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব ৷ ’ তারপর তা ৷র প্ৰতিপালক তার আহ্বানে সাড়া
দিলেন এবং তাকে ওদের ছলনা থেকে রক্ষা করলেন ৷ তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ ৷ ( ১ ২
৩০ ৩৪ )

এখানে আল্লাহ উল্লেখ করছেন যে সব কথা, যা শহরের মহিলা সমাজ তথা আমীর,
ওমরাহ ও অভিজাত লোকদের ত্রী-কন্যাগণ আযীযের ত্রী সম্পর্কে নিন্দাবাদ করছিল ৷ নিজের
ক্রী৩ দাসের প্ৰতি প্রেমে উন্মত্ত হয়ে প্ৰবৃত্তি চবিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ছলনা করার জন্য তারা
তাকে ভৎসনা করছিল ৷ দাসের প্ৰতি এরুপ আসক্ত হওয়া তার মত অতিজা ৷ত মহিলার পক্ষে
ৰু মোটেই শ্যেভনীয় ছিল না ৷৩ তাই তারা ৷বলছিল (আমরা
তাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি) অর্থাৎ যে অপাত্রে প্রেম নিবেদন করছে ৷ এ্যার্দুন্ থ্রেন্
এেগ্লুহ্রগ্র (আষীষের ত্রী যখন তাদের চক্রাম্ভের কথা শুনল)
অর্থাৎ৩ ৷র প্রতি শহরের

মহিলাদের ভৎসনার কথা জ্ঞান এবং দাসের প্ৰতি প্রেম নিবেদন করার কারণে তাকে নিন্দাবাদ

করার কথা জানল ৷ কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে আযীয়ের শ্রী এ ব্যাপারে ছিল অক্ষম ৷ তাই সে ইচ্ছে
করল তার ওযর ঐ মহিলাদের সামনে প্রকাশ করতে ৷ তখন তারা ৰুঝবে যে, এই যুবক দাস
তেমন নয় যেমন তারা ধারণা করেছে এবং এ সেসব দাসের মত নয়, যেসব দাস তাদের কাছে
আছে সুতরাং সে শহরের মহিলাদের নিমন্ত্রণ করল এবং সকলকে বাড়িতে ডেকে আনল ৷ সে
একটি ভোজ সভার আয়োজন করল ৷ ভোজসডায় যে সব খাদ্যশুদ্বব্য পরিবেশন করা হয় তার
মধ্যে এমন কিছু দ্রব্য ছিল যা ছুব্রি দিয়ে কেটে যেতে হয়, যেমন লেবু ইতড়াদি ৷ উপস্থিত
প্রত্যেককে একটি করে ছবি দেয়া হল ৷ আযীষের শ্রী পুর্বেই ইউসুফ (আ)-কে উৎকৃষ্ট পোশাক
পরিয়ে প্ৰন্তুত রেখেছিল ৷ তখন তিনি ছিলেন পুর্ণ যৌবনে দীপ্তিমান ৷ এ অবস্থায়মহিলাটি
ইউসুফ (আ)-কে তাদের সম্মুখে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিলে তিনি বের হয়ে আসেন ৷ ইউসুফ
(আ)-কে তখন পুর্ণিমার চীদের চাইতেও অধিকতর সুন্দর দেখাচ্ছিল
(যখন তারা তাকে দেখল তখন ওরা তার গৰিমায় অভিতুত হলো) অর্থাৎ তারা ইউসুফ
(আ)-এর সৌন্দর্য-দর্শনে বিস্মিত হয়ে ডাবল, কোন আদম সন্তান তো এ রকম রুপ-লাবনাের
অধিকারী হতে পারে না ৷ ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্যের দীপ্তিতে অডিভুত হয়ে তারা চেতনা
হারিয়ে ফেলে ৷ এমনকি আপন আপন হাতে রক্ষিত ছুরি দ্বারা নিজেদের হাত কেটে ফেলে ৷

অথচ যখমের কোন অনুভুতিই তাদের ছিল না ৷

মহিলারা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য ! এতো মানুষ নয়, এ তো মহিমাষিত ফেরেশত৷ !

মিৱাজ সংক্রান্ত হাদীসে এসেছে, আমি ইউসুফের কাছ দিয়ে গেলাম , দেখলাম সৌন্দর্যের
অর্ধেকই তাকে দেওয়া হয়েছে ৷

সুহায়লী (র) ও অন্যান্য ইমাম বলেছেন, হযরত ইউসুফ (আ)কে অর্ধেক সৌন্দর্য দেয়া
হয়েছিল-এ কথার অর্থ হল আদম (আ)-এর যে সৌন্দর্য ছিল তার অর্ধেক ইউসুফ (আ)-কে
দেয়া হয়েছিল ৷ কারণ আল্লাহ নিজ হাতে আদম (আ)-কে সৃষ্টি করে তার মধ্যে রুহ কুকে
দিয়েছেন ৷ সুতরাং তিনিই ছিলেন সবার চাইতে বেশি সুন্দর ৷ এ জন্যে জান্নাতবাসী আদম
(আ)-এর দৈহিক মাপ ও সৌন্দর্য নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে ৷ আর ইউসুফ (আ )-এর সৌন্দর্য
ছিল আদম (আ)-এর সৌন্দর্যের অর্ধেক ৷ এ দৃ’জ্যনর মাঝখানে আর কোন সৌন্দর্যবান ব্যক্তি
হবে না ৷ যেমন হযরত হাওয়া (আ)-এর পরে হযরত ইবরাহীম খলীল (আ ) এর শ্রী সারাহ্ ভিন্ন
আর কেউ হাওয়ার সাথে অধিক সাদৃশ্যপুর্ণ নয় ৷ ইবন মাসউদ (বা) বলেন, হযরত ইউসুফ
(আ)-এর চেহারায় ৰিদুর্টতের ন্যায় উজ্জ্বল দ্যুতি ছিল ৷ যখন কোন মহিলা কোন কাজে তার
কাছে আসত তখন তিনি নিজের চেহারা ঢেকে রাখতেন ৷ অন্যরা বলেছেন, লোকজন যাতে
চেহারা দেখতে না পড়ায়, সে জন্যে হযরত ইউসুফ (আ) বোরকা পরিহিত থাকতেন ৷ এ
কারণেই যখন আযীযের শ্রী ইউসুফ (আ)-এর প্রেমে আসত হয় এবং অন্যান্য মহিলা তার
রুপ-দর্শসে আৎগুল ফ্লুাটার নন্নুয় ঘটনা ঘটায় ও হড়ভম্ব হয়ে যায়, তখন আযীষের শ্রী
বলেছিল :৷ (এই হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার জন্যে তোমরা আমাকে
তিরস্কার করছ ৷) অতঃপর মর্হিলাটি হযরত ইউসুফ (আ)-এর পুত-চরিত্র হওয়ার কথা স্বীকার

করে (আমি তা থেকে অসৎকর্ম কামনা
করেছি কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র ৫রখেছে অর্থাৎ রক্ষা করেছে) ৷ :
মোঃ (এ যদি আমার কথা না শুনে তবে তাকে কয়েদ
করা হবে এবং লাঞ্ছিত করা হবে) এ সময় অন্যান্য মহিলা ইউসুফ (আ) কে তার মনিব পত্নীর
প্রস্তাব মেনে নিতে উৎসাহ যোগায়; ৰিন্তু তিনি তা কঠােরভাৰে প্রত্যাখ্যান করেন ৷ কারণ, তার

দেহে নবুওতের ধমনী প্রবাহিত ছিল ৷ তিনি রাবৰুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করেন :

হে আমার রব৷ তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহ্বান জানায় তার চাইতে কারাগারই
বরং আমার কাছে অধিক প্রিয় ৷ আপনি যদি ওদের ছলনা থেকে আমাকে রক্ষা না করেন, তবে
আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং তখন তো আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ব ৷ ’
( ১২ : ৩৩)
আপনি যদি আমার উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেন, তাহলে আমি অক্ষম দুর্বল ৷ নিজের
কল্যাণ-অকল্যাণ কােনটির উপরই আমার কোন হাত নেই আল্লাহ যা চান তইি হয় ৷ আমি
দুর্বল , তবে আপনি যতটুকু শক্তি-সামর্থ্য দেন এবং আপনার পক্ষ থেকে যতটুকু হিফাজত দান
করেন তইি আমি পেয়ে থাকি ৷ এ জনােই আল্লাহ বলেন ং
া১
আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করলেন ৷ তার উপর থেকে মহিলাদের চক্রাম্ভ প্রতিহত করলেন ৷
নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ ৷ (১২ং ৩৪)

নিদর্শনাবলী দেখার পর তাদের মনে হল যে, তাকে কিছুকালের জন্যে কারারুদ্ধ করতে
হবে ৷ তার সাথে দু’জন যুবক কারাগারে প্রবেশ করল ৷ ওদের একজন বলল, আমি স্বপ্নে
দেখলাম, আমি আৎগুর নিংড়িয়ে রস বের করছি এবং অপরজন বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম,
আমি আমার মাথার উপর রুটি বহন করছি এবং পাখি তা থেকে খাচ্ছে ৷ আমাদেরকে ব্মি এর
তাৎপর্য জানিয়ে দাও, আমরা তোমাকে সৎকর্মপরায়ণ দেখেছি ৷ ’

ইউসুফ বলল, তোমাদেরকে যে খাদ্য দেয়া হয় তা আমার পুর্বে আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের
তাৎপর্য জানিয়ে দেব ৷ আমি যা তোমাদেরকে বলব তা আমার প্রতিপালক আমাকে যা শিক্ষা
দিয়েছেন, তা হতে বলব ৷ যে সম্প্রদায় আল্লাহে বিশ্বাস করে না ও পরলোকে অবিশ্বড়াসী আমি
তাদের মতবাদ বর্জন করেছি; আমি আমার পিতুপুরুষ ইব্রাহীম , ইসহাক এবং ইয়াকুবের
মতবাদ অনুসরণ করি ৷ আল্লাহর সাথে কোন বন্তুকে শরীক করা আমাদের কাজ নয় ৷ এটা
আমাদের ও সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহ; কিত্তু অধিকাৎশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করে না ৷

হে কারাসঙ্গীরা ! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তাকে
ছেড়ে তোমরা কেবল কতকগুলো নামের ইবাদত করছ, যে নাম তোমাদের পিতৃপুরুষ ও
তোমরা রেখেছ; এগুলোর কোন প্রমাণ আল্লাহ্ পাঠাননি ৷ বিধান দেবার অধিকার কেবল
আল্লাহ্র ৷ তিনি আদেশ দিয়েছেন অন্য কারও ইবাদত না করতে, কেবল তার ব্যতীত; এটাই
সরল দীন কিত্তু অধিকা ৷ৎশ মানুষ তা অবগত নয় ৷

হে কা ৷রাসঙ্গী দ্বয়! তোমাদের একজন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে তার মনিবকে মদ্য পান
করাবে এবং অপরজন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে শুলবিদ্ধ হবে; তারপর তার মাথা
থেকে পাখি আহার করবে ৷ যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে ! ( সুরা
ইউসুফ : ৩৫ : ১ )

আযীয ও তার শ্রী সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেছেন, ইউসুফের পবিত্রতা প্রকাশ পাওয়ার পর
কিছুদিনের জন্যে তাকে জেলে রাখা তাদের কাছে সংগত বলে মনে হল ৷ কারণ, এতে ঐ
ব্যাপারে লোকজনের চর্চা কমে যাবে এবং এটাও বোঝা যাবে যে, ইউসুফ (আ)-ই অপরাধী
যার কারণে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে ৷ এভাবে অন্যায়ভাবে তাকে জেলখানায়
পাঠান হল ৷ অবশ্য ইউসুফ (আ) এর জন্যে আল্লাহ্ এটা ই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন ৷ এর দ্বারা

আল্পাহ্ তাকে রক্ষা করলেন ৷ কেননা, জেলে থাকায় তিনি তাদের সংসর্গ ও সংম্পর্শ থেকে দুরে
থাকা র সুযোগ পা ন ৷

ইমাম শাফিঈর বর্ণনা মতে, সুফী সম্প্রদায়ের কেউ কেউ এ ঘটনা থেকে দলীল গ্রহণ করে
বলেছেন : না পাওয়াটাই এক প্রকার হিফাজত ৷

আল্লাহর বাণী :’ (াব্লুর্দু (তার সাথে আরও দুই যুবক
জেলখানায় প্রবেশ করল ৷ ) এদের মধ্যে একজন ছিল বাদশার দরবারের সাকী, তার নাম বানু
বলে কথিত আছে ৷ অপরজন বাদশার রুটি প্রন্তুতকারী অর্থাৎ খাদ্যের দায়ি হ্শীল-তুর্কী
ভাষায় যাকে বলে আলজাশেনর্কীর ৷ কথিত আছে তার নাম ছিল মাজলাছ ৷ বাদশাহ এ
দু’জনকে কোন এক ব্যাপারে অভিযুক্ত করে কারাগারে আবদ্ধ করেন ৷ জেলখানায় ইউসুফ
(আ)-এর আচার-আচরণ্,াভাবচরিত্র, সাধুতা, নীতি আদর্শ, ইবাদত বন্দেগী ও সৃষ্টির প্রতি
করুণ৷ দেখে তারা দুজনেই বিস্ময়ে অভিভু৩ ৩হয়ে যায় ৷ এ দৃই ক বাবন্দী যুবক৩ তাদের নিজ
নিজ অবস্থান অনুযায়ীাপ্ন দেখে ৷ মুফাসৃসিরগণ বলেছেন, ত ৷র৷ একই রাত্রে এাপ্ন দেখেছিল ৷
সাকী দেখে, পাকা আৎগুরে ভর্তি তিনটি গোছা, সেখান থেকে সে আৎগুর ছিড়ে রস নিংড়িয়ে
পেয়ালা ভরে বাদশাহ্কে পরিবেশন করছে ৷ অপর দিকে রুটি প্রন্তুতকারী দেখে, তার মাথার
উপর রুটি ভরা তিনটি ঝুড়ি রয়েছে ৷ আর পাখির৷ এসে উপরের ঝুডি থেকে রুটি ঠুকরিয়ে
খাচ্ছে ৷াপ্ন দেখার পর দুজনেই নিজ নিজাপ্নের বৃত্তান্ত ইউসুফ (আ) এর কাছে ব্যক্ত করে
তারা এর ব্যাখ্যা জানতে চাইল এবং বলল : স্পো ৷ এএ এ ৷ এ ৷র্দু ৷ (আমরা আপনাকে
সৎকর্মপরাযপ দেখছি ৷) ইউসুফ তা ৷দেরকে জানালেন যে,াপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে তিনি সম্যক
অবহিত ও অভিজ্ঞ ৷

(ইউসুফ বলল, তোমরা প্রতাহ নিয়মিত যে খাদ্য খাও তা আমার পুর্বেই আমি
ণ্তামাদেরকে এর তাৎপর্য জানিয়ে দেব ৷) এ আঘাতের অর্থ কেউ এভাবে করেছেন যে, তোমরা
দুজনে যখনই কোনাপ্ন দেখবে, তা বাস্তবে পরিণত হবার পুবেই আমি তার ব্যাখ্যা বলে
দেব ৷ এবং যেভাবে আমি ব্যাখ্যা দেব সেভাবেই তা বাস্তবায়িত হবে ৷ আবার কেউ এর অর্থ
বলেছেন যে, তােমাদেরকে যে খাদ্য দেয়৷ হয় তা পরিবেশন হওয়ার আগেই আমি বলে দেব
কি খাদ্য আসছে, তা মিষ্টি না টক ৷

যেমন হযরত ঈস৷ (আ) বলেছিলেন
(আমি তােমাদেরকে বলে দেব কি খাদ্য তোমরা খেয়েছ এবং বাড়িতে কি রেখে এসেছ)

হযরত ইউসুফ (আ) তাদেরকে জানালেন যে, এ জ্ঞান আল্লাহ আমাকে দান করেছেন ৷ কেননা,
আমি তাকে এক আল্লাহ বলে বিশ্বাস করি ও আমার পুর্ব পুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের
ধর্মাদর্শ অনুসরণ করি এ৷ এে ট্রুএাদ্বুড্রুএ (আল্লাহর সাথে অন্য
কাউকে শবীক করা আমাদের কাজ নয়) ৷ এ (এটা আমাদের
উপর অ ৷ল্লাহ্র অনুগ্রহ) কেননা তিনিই আমাদেরকে এ পথ প্রদর্শন করেছেন ৷
(এবং মানুষের উপরও) কেননা, আল্লাহ্ আমাদেরকে আদেশ করেছেন, মানুষকে এদিকে
আহ্বান করার ৷ তাদেরকে সত্য পথে আনার চেষ্টা করার ও সত্য পথ প্রদর্শন করার ৷ আর এ

সত্য সৃষ্টিগতভাবে তাদের মধ্যে বিদ্যমান এবং তাদেরাভাবজাত ৷
(কিন্তু অধিকাৎশ লোকই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না) ৷
এরপর হযরত ইউসুফ (আ) তাদেরকে আল্লাহ্র একত্বের প্রতি ঈমান আনার জন্যে তাদেরকে
দাওয়াত দেন, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদতের নিন্দা করেন ৷ মুর্তির অসারতা, অক্ষমতা
ও হেয় হওয়ার কথা উল্লেখ করেন ৷
হে আমার কারাসঙ্গী দ্বয় ! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক প্রেয়, নাকি পরা ক্রমশ৷ ৷লী এক অ ৷ল্লাহ্?
তাকে ছেড়ে তোমরা কেবল কতকগুলাে নামের ইবাদত করছ-যে নামগুলো তোমরা ও

তোমাদের পিতৃ-পুরুষ রেরুখছ ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ্ কোন প্রমাণ নাজিল করেননি ৷ বিধান
দেবার অধিকার কেবল আল্পাহ্রই ৷

অর্থাৎ তিনি তার সৃষ্টিকুলের মধ্যে যেরুপ ইচ্ছা করেন ৫সৃরুপই বা ৷স্তবায়িত করেন ৷ যাকে
ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন ৷ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন ৷ (তিনি
হুকুম করেছেন৪ তাকে ব্যতীত কারও ইবাদত কর না) তিনি এক, তার কোন শরীক নেই ৷
পছুদ্বুা শুৰু ৷
অধিকাৎশ লোকই তা অবগত নয় ৷)
অর্থাৎ সঠিক পথ তাদের সম্মুখে প্রকাশিত ও স্পষ্ট হওয়ার পরও তারা যে পথে চলতে পারে
না ৷ কারাপারের এ দৃই যুবককে এমন একটি পরিবেশে দাওয়াত দান হযরত ইউসুফ (আ) এর
পুর্ণ কৃতিত্বেরই পরিচায়ক ৷ কেননা, তাদের অস্তরে ইউসুফ (আ)-এর প্রভাব ও মহত্ত্ব আসন
গেড়ে বসেছিল ৷ যা তিনি বলবেন, তা গ্রহণ করার জন্যে তারা ৷ছিল উদ্গীব ৷ সুতরাং ত ৷র৷ যে
বিষয়ে জা নতে চেয়েছেত তার চেয়ে অধিক গুরুতুপুর্ণ ও অধিক কল্যাণকর বিষয়ের প্রতি আহ্বান
জানানােই তিনি সঙ্গত মনে করেছেন ৷ তার প্রতি আরোপিত সে গুরুদায়িতু পালনের পর তিনি
স্বপ্নের ব্যাখ্যা দান করে বন্সেনং :

(হে আমার জেলখানার সাথীরা তোমাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যব্ হল তোমাদের দুজনের মধ্যে
একজন আপন মনিবকে মদ্য পান করাবে) সে লোকটি ছিল সাকী ৷
আর দ্বিতীয়জনবেছু শুলে চড়ান হবে, এবং পাখিরাতার মাথা থেকে আহার করবে ৷ সে
ব্যক্তিটি ছিল রুটি প্রন্তুতকা ৷রী ৷ (যে বিষয়ে তোমরা
জানতে চেয়েছিলে তার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে) অর্থাৎ যা বলে দেয়৷ হল তা অবশন্তোবীরুপে
কার্যকর হবে এবং যেভাবে বলা হল সেভাবেই হবে ৷ এ জন্যে হাদীসে এসেছে, স্বপ্নের ব্যাখ্যা
যতক্ষণ করা না হবে ততক্ষণ তা ঝুলম্ভ থাকে ৷ যখন ব্যাখ্যা করা হয় তখন তা বাস্তবায়িত হয় ৷

ইবন মাসউদ, মুজাহিদ ও আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন আসলাম (না) থেকে
বর্ণিতকয়েদী দু’জন স্বপ্নের কথা বলার পরেও ইউসুফ (আ) এর ব্যাখ্যা দানের পরে
বম্মেছিল, আসলে আমরা কোন স্বপ্নই দেখি নাই ৷ তখন হযরত ইউসুফ (আ) বলেছিলেন

(যে বিষয়ে তোমরা জিজ্ঞাসা করেছ সে বিষয়ের
ফয়সালা চুড়ান্ত হয়ে গেছে ৷)

(যে ব্যক্তি সম্পর্কে ইউসুফের ধারণা ছিল যে, যে মুক্তি পাবে ৷ তাকে সে বলে দিল :
তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলবে ৷ কিন্তু শয়তান তাকে প্রভুর কাছে তার বিষয় বলার
কথা র্তৃণিয়ে দিল ৷ ফলে ইউসুফ কয়েক বছর কারাগারে রইল ৷ (১২ ৪২)

আল্লাহ জানান যে, যে ব্যক্তির প্রতি ইউসুফ (আ) এর ধারণা হয়েহ্নিৰু যে, সে মুক্তিলাভ
করবে যে ব্যক্তি ছিল সাকী (তোমার মনিবের নিকট আমার কথা
বলবে ৷ )

অর্থাৎ আমি যে বিনা অপরাধে জেলখানায় আছি এ বিষয়ে বাদশাহর কাছে আলোচনা
করিও ৷ এ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা বৈধ এবং তা আল্লাহর
উপর তাওয়াক্কুলের পরিপহী নয় ৷

আল্লাহ
(শয়তান তাকে তার প্রভুর নিকট তার কথা বলার বিষয় ভুলিয়ে দিল) অর্থাৎ যে মুক্তি

লাভ করল তাকে ইউসুফ যে অনুরোধ করেছিলেন তা বাদশাহর কাছে আলোচনা করতে

শয়তান তাকে ভুশিয়ে দিল ৷ মুজাহিদ, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক প্রমুখ আলিম এ কথাই বলেহ্নেষ্ক ৷
এটাই সঠিক এবং এটাই আহলি কিতাবগণের বক্তব্য ৷

(ফলে ইউসুফ কয়েক বছর কারাগারে রইল) ব্লু;ৰু শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যার
জন্যে ব্যবহৃত হয়; কারও মতে সাত পর্যন্ত, কারও মতে পাচ পর্যন্ত ৷ কারও মতে দশের নিচে
যে কোন সংখ্যার জন্যে এর ব্যবহার হয় ৷ ছালাৰী এসব মতামত বর্ণনা করেছেন ৷ বলা হয়ে

থাকে ব্যাকরণবিদ ফাররার মতে, দশের নিচের স খ্যার
জন্যে গ্লুন্ এর ব্যবহার বৈধ নয় বরং তার জন্যে ণ্ শব্দ ব্যবহার করা হয় ৷

আল্লাহ সে কারাগারে কয়েক বছর রইল

উক্ত দু’খানা আয়াত দ্বারা ফাবরার মতামত রদ হয়ে যায় ৷ ফাররার মতে
ব্যবহার হবে এভাবে যথা ;; পর্যন্ত ৷ কিন্তু
এর
উত্তর্ধ্বর ক্ষেত্রে
ব্লু, প্রুপ্;প্রু বলা যাবে না ৷ জওহারীর এ মতও সঠিক নয় ৷ কেননা
হাদীসে এসেছে :
ঈমানের ষাটের উপরে, ভিন্ন ব্লেওয়ায়তে সত্তরের উপরে শাখা আছে; তন্মধ্যে সর্ব উপরের
শাখা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্নের শাখা পথের উপর থেকে কষ্টদায়ক জিনিস
সরিয়ে দেওয়া ৷ (সহীহ্ বুখারী) কেউ কেউ বলেছেনরু; ’এর
প্রু (সর্বনাম্) ইউসুফ নির্দেশ করেছে ৷ কিন্তু তাদের এ মত অত্যন্ত দুর্বল ৷ যদিও এ মত
ইবন আব্বাস (রা) ও ইকরিমার বলে বর্ণনা করা হউক না কেন ৷ ইবন জ বীর এ প্রসঙ্গে যে
হাদীসের উল্লেখ করেছেন তা সম্পুর্ণরুপে দুর্বল ও অগ্রহণযােগ্য ৷ ইব্রাহীম ইবন ইয়াযীদ
আল-খাওযী আল-মাক্কী (র) এ হাদীসের সনদে একক বর্ণনাকারী ৷ অথচ তার বর্ণনা
অপ্ৰহণযােগ্য ৷ অপর দিকে হাসান-ও কাতাদা (র)-এর মুরসাল বর্ণনা গ্রহণভৈযাগ্য নয় ৷ আর এ

২স্থুলে তো তা আরও বেশি অ্যাহণযােপ্য ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

সহীহ ইবন হিব্বানে হযরত ৩ইউসুফ (আ) এর কারাগারে অধিককাল পর্যন্ত আবদ্ধ থাক ৷র
কারণ সম্পর্কে এক হাদীস বর্ণিত ৩হয়েছে ৷ হাদীসটি আবুহুরায়রা (বা) থেকে বর্ণিত ৷ রাসুলুল্লাহ
(সা) বলেছেনং আল্লাহ ইউসুফের প্রতি রহম করুন, তিনি যদি এ
“তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলবে” কথাটি না বলতেন, তবে তাকে অতদিন কারাগারে
থাকতে হত না ৷ আল্লাহ তা জানা হযরত লুত (আ) এর প্ৰতিও রহম করুন; কারণ তিনি তব
কওমকে বলেছিলেন–তােযাদের মুক৷ ৷বিলায় আমার যদি আত্তৰুশক্তি যাকত ফিট্রুব৷ ৷কােন শক্ত
অবলম্বনের আশ্রয় পেতাম ৷ ৷ট্রুা) এরপর
আল্লাহ যত নবী প্রেরণ করেছেন তাদেরকে বিপুল সং খ্যক লোক বিশিষ্ট গোত্রেই প্রেরণ
করেছেন ৷

বিন্তু এ হাদীস এই সনদে ঘুনকার ৷ তাছাড় ৷মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন অ ৷লকামা সমালোচিত
রাবী ৷ তার বেশ কিছু একক বর্ণনায় বিভিন্ন রকম দৃর্বলতা রয়েছে ৷ বিশেষত এ শব্দগুলো
একান্তই মুনৃক৷ র ৷ ইমাম বুখারী ও মুসলিমের হাদীসও উক্ত হাদীসকে ভ্যুণ প্রতিপন্ন করে ৷

রাজা বলল, আমিাপ্নে দেখলাম, সাতটি স্থুলকায় গাভী ওদেরকে সাও টি শীর্ণকায় গাভী
ভক্ষণ করছে এবং দেখলাম সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক ৷ হে প্রধানগণ ৷ যদি তোমরা
াপ্নের ব্যাখ্যা করতে পার তবে আমারাপ্ন সম্বন্ধে অতিঃাত দাও ৷ ’ ওরা বলল, এটা অর্থহীন
াপ্ন এবং আমরা এরুপাপ্ন-ব্যাথ্যায় অভিজ্ঞ নই ৷ ’ দুজন ক রাবন্দীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল
এবং দীর্ঘকাল পরে যার স্মরণ হল, যে বলল, আামি এর তাৎপর্য তােমাদেরকে জানিয়ে দেব ৷
সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠাও ৷ সে বলল, হে ইউসুফ! হে সতাবাদী! সাতটি স্থুলকায় গাভী,
তাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ
সম্বন্ধে তুমি আমাদেরকে ব্যাখ্যা দাও ৷ যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে পারি ও যাতে
তারা অবগত হতে পারে ৷ ইউসুফ বলল, তােমরা সাত বছর একাদিক্রমে চাষ করবে ৷ তারপর
তোমরা যে শস্য সংগ্রহ করবে তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করবে, তা ব্যতীত
সমস্ত শীষ সমেত রেখে দিবে, এবং এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর, এ সাত বছর যা পুর্বে
সঞ্চয় করে রাখবে লোকে তা খাবে, কেবল সামান্য কিছু যা তোমরা সংরক্ষণ করবে তা
ব্যতীত ৷ এবং এরপর আসবে এক বছর, সে বছর মানুষের জন্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং সে
বছর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াবে ৷ (১২ : ৪৩-৪ ৯)

এখানে হযরত ইউসুফ (আ)-এর কারাগার থেকে সসম্মানে বের হওয়ার কারণ বর্ণনা করা
হয়েছে ৷ তা এভাবে যে, মিসরের বাদশাহ রায়্যান ইবন নুহ উপরোক্তাপ্নটি দেখেন ৷ তার বংশ
লতিকা হচ্ছে : রায়্যান ইবনুল ওলীদ ইবন ছারওয়ান ইবন আরাশাহ ইবন ফারান ইবন আমর
ইবন আমলাক ইবন লাউয ইবন সাম ৷ আহলি কিতাবগণ বলেনং বাদশাহাপ্নে দেখেন যে,
তিনি এক নদীর তীরে দাড়িয়ে আছেন ৷ হঠাৎ সেখান থেকে সাতটি মাোটা৩ জো পাভী উঠে এসে
নদী তীরের সবুজ বাপিচায় চরতে শুরু করে ৷ অতঃপর ঐ নদী থেকে আরও সাত টি দুর্বল ও
শীর্ণকায় পাভী উঠে এসে পুর্বের গাভীদের সাথে চরতে থাকে ৷ এরপর এ দুর্বল গাভীগুলো
মােটাতাজা গাভীদের কাছে গিয়ে সেগুলোকে খেয়ে ফেলে ৷ এ সময় তার বাদশাহর ঘুম ভেঙে
যায় ৷ কিছুক্ষণ পর বাদশাহ পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন ৷ এবার আবারাপ্নে দেখেন একটি ধান
গাছে সাতটি সবুজ শীষ ৷ আর অপর দিকে আছে সাত টি শুকনো ও শীর্ণ শীষ ৷ শুকনো
শীষগুলো সবুজ সতেজ শীষগুলোকে খেয়ে ফেলছে ৷ বাদশাহ এবারও ভয়ে ভীত হয়ে ঘুম

থেকে জেগে উঠেন ৷ পরে বাদশাহ পারিষদ ও সভাসদবর্ণের কাছোপ্নের বর্ণনা দিয়ে এর
ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলেন ৷ বিন্তু তারা কেউইাপ্নের ব্যাখ্যার পারদর্শী ছিল না ৷ বরং ৷(তারা বলল, এটা তো অর্থহীনাপ্ন) অর্থাৎ এটা হয়ত রাত্রিকালেরাপ্ন
বিভ্রাট ৷ এর কোন ব্যাখ্যা নেই ৷ এছাড়াপ্নের ব্যাখ্যা দানে আমরা পারদর্শীও নই ৷ তাই তারা
(আর আমরাপ্নের ব্যাখ্যা দড়ানে অভিজ্ঞ
নই ৷) এ সময় সেই কয়েদিটির ইউসুফ (আ) এর কথা স্মরণে পড়ল যে কারাগার থেকে মুক্তি
লাভ করেছিল এবং যাকে হযরত ইউসুফ (আ) অনুরোধ করেছিলেন তার মনিবের নিকট
ইউসুফ (আ)-এর কথা আলোচনা করতে ৷ কিন্তু এতদিন পর্যন্ত যে ঐ কথা তুলে রয়েছিল ৷
মুলত এটা ছিল আল্লাহ নির্ধারিত তকদীর এবং এর মধ্যে আল্লাহর নিশুঢ় রহস্য নিহিত ছিল ৷ ঐ

মুক্ত কয়েদী যখন বড়াদশাহরাপ্নের কথা শুনল ও এর ব্যাখ্যা প্রদানে সকলের অক্ষমত৷ (দখল,
তখন ইউসুফ (আ) এর কথা ও তার অনুরোধের কথা স্মরণ পড়ল ৷ আল্লাহ তাই বলেছেন :
(দু জন কারাবন্দীর মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি
লাভ করেছিল এবং দীর্ঘকা ৷ল পরে যার স্মরণ হয়েছিল, সে বলল ) ’ অর্থ প্রচুর সময়ের
পর অর্থাৎ কয়েক বছর পর ৷ ইবন আব্বাস (রা) ইকরিমা (রা) ও দাহ্হাক (র) এর কিরাআত
অনুযায়ী৷ ভুলে যাওয়ার পর স্মরণ হল,
মুজাহিদের হুপ্ ৷ ; মীমের উপর সাকিন; এর অর্থও ভুলে যাওয়া

অর্থ লোকটি ভুলে গেছে ৷ করি বলেছেন :
অর্থাৎ আমি ইদানীৎ অনেক কথা ভুলে যাই ৷ অথচ ভুলে যাওয়ার দোষ আমার মধ্যে
ছিল না ৷ এভাবেই যুগের বিবর্তন জ্ঞানকে ঠকলৎকিত করে দেয় ৷’ পারিষদবর্গ ও বাদশাহকে
উদ্দেশ করে সে বলল, ৷ (আমি আপনাদেরকে এাপ্নের
তাৎপর্য জানাতে পারব ৷ সুতরাৎ আমাকে প ঠিযে দিন) অর্থাৎ ইউসুফ (আ) এর কাছে ৷

তারপর ইউসুফ (আ) এর কাছেষ্ গিয়ে সে বলল০

হে ইউসুফ ৷ হে সত্যবাদী৷ সাতটি মােটড়াতাজা গাভী, তাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় পাভী
ভক্ষণ করছে এবং সাতটি সবুজ শীষকে অপর সাতটি শুষ্ক শীষ খেয়ে ফেলছে এাপ্নের
আপনি ব্যাখ্যা বলে দিন ৷ যাতে আমি লোকদের কাছে ফিরে গিয়ে বলতে পারি এবং তারাও
জানতে পারে ৷ ’ (১২ : ৪৬)
আহলি কিতাবদের মতে, বাদশাহর কাছে সাকী ইউসুফ (আ)-এর আলোচনা করে ৷
বাদশাহ ইউসুফ (আ)-কে দরবারে ডেকে এনোপ্নের বৃত্তান্ত তাকে জানান এবং ইউসুফ (আ)
তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শুনান ৷ এটা ভুল ৷ আহলি কিতাবদের পণ্ডিত ও রাব্বানীদের মনগড়া

কথা ৷ সঠিক সেটইি যা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন ৷ যা হোক, সাকীর কথার উত্তরে ইউসুফ
(আ) কোন শর্ত ছাড়াই এবং আশু মুক্তি দাবি না করেই তাৎক্ষণিকভাবে বাদশাহর স্বপ্নের
তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শুনালেন এবং বলে দিলেন, প্রথম সাত বছর স্বচ্ছন্দময় হবে এবং
তারপরের সাত বছর দুর্ভিক্ষ থাকবে ৷

(এরপর আসবে এক বছর ৷ সে বছরে মানুষের জন্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে) ফলে প্রচুর
ফসল ফলবে ও মানুষ সুখে-স্বাচ্ছন্দো থাকবে ৷ ;:;,£¢£fi ণ্খ্^ৰুদ্বু (সে বছরে তারা প্রচুর রস
নিংড়াবে) অর্থাৎ আখ, আব্দুর, যয়তৃন, তিল ইত্যাদির রস বের করবে তাদের অভ্যাস
অনুযায়ী ৷ স্বপ্নের ব্যাখ্যার সাথে হযরত ইউসুফ (আ) সচ্ছলত ৷র সময় ও দৃর্ভিফকালে তাদের
করণীয় সম্পর্কে পথনির্দেশ দিলেন ৷ তিনি বললেন, প্রথম সাত বছরের ফসলের প্রয়োজনের
অতিরিক্ত অংশ শীষসহ সঞ্চয় করে রাখবে ৷ পরের সাত বছরে সঞ্চিত ফসল অল্প অল্প করে
খরচ করবে ৷ কেননা এরপরে ফসলের জন্যে বীজ পাওয়া দৃষ্কর হতে পারে ৷ এ থেকে হযরত

ইউসুফ (আ) এর প্রজ্ঞ৷ দুরদর্শিত৷ ও বিচক্ষণত৷ ৷র পরিচয় পাওয়া যায় ৷

রাজা বলল, তোমরা ইউসুফকে আমার নিকট নিয়ে এস ৷ দুত যখন তার নিকট উপ ত
হল তখন সে বলল, তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, এবং যে
নারীগণ হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কী? আমার প্রতিপালক তাদের ছলনা সম্পর্কে
সম্যক অবগত ৷ রাজা ৷নারীগণকে বলল, যখন তোমরা ইউসুফ থেকে অসৎ কর্ম কামনা
করেছিলে, তখন তোমাদের কী হয়েছিল ৷ তারা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্যৰু আমরা ওর
মধ্যে কোন দোষ দেখিনি ৷ আযীযের শ্রী বলল, এক্ষণে সত্য প্রকাশ হল ৷ আমিই তার থেকে
অসৎ কর্ম কামনা করেছিলাম সে তো সত্যবাদী ৷ যে বললু আমি এটা বলেছিলাম যাতে সে
জানতে পারে যে, তার অনুপন্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকত ৷ কবিনি এবং আল্লাহ
বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না ৷ সে বলল, আমি আমাকে নির্দোষ মনে করি না ৷
মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্মপ্রবণ ৷ কিভু সে নয়, যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়৷ করেন ৷
আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল , পরম দয়ালু ৷ (১২ : ৫ :-৫৩)

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খমোঃ

বাদশাহ যখন হযরত ইউসুফ (আ)-এর প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, সঠিক সিদ্ধান্ত ও অনুধাবন
ক্ষমতার সম্যক পরিচয় পেলেন, তখন তাকে তার দরবারে উপ ত করার আদেশ দেন ৷ যাতে
করে৩ তিনি তাকে কোন দ য়ি তুপুর্ণ পদে নিয়োজিত করতে পারেন ৷ দুত যখন ইউসুফ (আ) এর
কাছে আসে তখন হযরত ইউসুফ (আ) সিদ্ধান্ত নিলেন যে,৩ তিনি জেলখান৷ থেকে ততক্ষণ
পর্যন্ত বের হবেন না, যতক্ষণ না প্ৰতেদ্রক ব্যক্তি জ নতে পারে যে তাকে অন্যায়ভাবেও
শত্রুতাবশত কারাগারে আবদ্ধ করা হয়েছিল এবং মহিলারা তার প্ৰতি যে দোষ আরোপ করেছে
তা সম্পুর্ণ অমুলক অপবাদ, তিনি তা থেকে সম্পুর্ণ মুক্ত ৷৩ তাই তিনি বললেনষ্ক ক্রো ৷

এ , (তুমি তোমার প্রভুর কাছে চলে যাও) অর্থাৎ বাদশাহর কাছে ৷

(এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যেসব মহিলা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা

কী? আমার প্রনিপ লক তাে তাদের ছলনা সম্পর্কে সম্যক অবগত ৷) কেউ কেউ এখানে
এর অর্থ মনিব ও প্রভু বলেছেন ৷ অর্থাৎ আমার মনিব আযীয আমার পবিত্রত৷ এবং
আমার প্ৰতি আরোপিত অপবাদ সম্পর্কে ভাল করেই জানেন ৷ সুতরাং বাদশাহকে গিয়ে বল,
তিনি ঐ মহিলাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখুন যে,৩ তারা যখন আমাকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজে
প্ররো ৷চিত করার চেষ্টা করেছিল, তখন আমি কত দৃঢ়ভাবে আত্মরক্ষ৷ করেছিলাম ৷ মহিলাদের

কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তারা ৷বৃঝৰে যে প্রকৃত ৩ঘটন৷ কি ছিল এবং আমিই বা কী ভাল কাজ
করেছিলাম? (,পুৰুদ্বু (তারা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর
মহিমা! আমরা ইউসুফের মধ্যে কোন দোব্লু দেখিনি) ঐ সময়
(আযীযের ত্রী বলল)৩ তিনি ছিলেন যুলায়খ৷ প্রকাশিত
হল) অর্থাৎ যেটা বা স্তছু ও সত্য তা প্রকা ৷শিত ও সুস্পষ্ট হয়ে গেল ৷ আর সতাই অনুসরণয়োগ্য ৷
৷ (আমিই তার থেকে অসৎকম কামনা
করেছিলাম ৷ বন্তুত সে ই সতবাে ৷দী ৷) অর্থাৎ যে দােষমুক্ত ৷ সে আমার কাছে অসৎকর্ম কামনা

করেনি এবং তাকে মিথ্যা, জুলুম, অন্যায় ও অপবাদ দিয়ে কা ৷রাবন্দী করা হয়েছে ৷

আমি এটি বলছিলাম যাতে সে জানতে পারে যে, তার অগােচরে আমি তার বিশ্বাসঘাতকতা
করিনি ৷ আর আল্লাহ্ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না ৷

কারো কারো মতে, এটা হযরত ইউসুফ (আ) এর কথা ৷ তখন অর্থ হবে৪ আমি এ বিষয়টি
যাচাই করতে চাই এ উদ্দেশ্যে, যাতে আযীয জানতে পারে যে, তার অনুপন্থিতিতে আমি তার
সাথে কে ন বিশ্বাসঘা৩ কতা করিনি ৷ আবার কারো কারো মতে, এটা যুলায়খার উক্তি ৷ তখন
অর্থ হবে এই যে, আমি একথা স্বীক৷ ৷র করছি এ উদ্দেশ্যে, যাতে আমার স্বামী জা নতে পারে যে,
আমি মুলত তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার কোন কাজ করিনি ৷ এটা অবশ্য তার উদ্দেশ্য ছিল ৷
কিন্তু আমার সাথে কোন অশ্লীল কাজ না ঘটি৩ হয়নি ৷ পরবর্তীকালের অনেক ইমামই এই
মতকে সমর্থন করেন ৷ ইবন জারির ও ইবন আবী হাতিম (র) প্রথম মত ব্যতীত অন্য কিছু
বর্ণনাই করেননি ৷

আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না ৷ মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্মপ্রবণ ৷ কিন্তু সে নয় যার
প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন ৷ নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল , পরম দয়ালু ৷
কেউ বলেছেন, এটা ইউসুফ (আ) এর উক্তি, আবার কেউ বলেছেন যুলায়খার উক্তি ৷

পুর্বের আয়াতের দুই ধরনের মতামত থাকায় এ আয়াতেও দুই প্রকার মতে তর সৃষ্টি হয়েছে ৷ তবে
এটা যুলায়খার বক্তব্য হওয়াটাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও সঙ্গত ৷

আল্লাহর বাণী

রাজা বলল, ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো ৷ আমি তাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত
করব ৷ তারপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, আজ তুমি আমাদের কাছে
মর্যাদাশা নৌ ও বিশ্বাসভাজন হলে ৷ ইউসুফ বলল, আমাকে দেশের ধন সম্পদের উপর কর্তৃতৃ
প্রদান করুন! আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও সুবিজ্ঞ’ ৷ এভাবে ইউসুফ (আ) কে আমি যে দেশে
প্রতিষ্ঠিত করলাম ৷ সে সেদেশে যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারত ৷ আমি যাকে ইচ্ছা তার
প্রতি দয়া করি ; আমি সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করি না ৷ যারা মুমিন এবং যুত্তাকী তাদের
পরলোকের পুরস্কারই উত্তম ৷ (১২০ ং ৫৪ ৫ ৭ )
ইউসুফ (আ) এর উপর যে অপবাদ দেয়৷ হয়েছিল তা থেকে যখন তার মুক্ত ও পবিত্র
থাকার কথা বাদশাহর কাছে সুস্পষ্ট হল তখন তিনি বললেন
(ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি ত কে আমার একান্ত সহচর করে
রাখব) অর্থাৎ আমি তাকে আমার বিশ্বে যে পারিষদ ও রান্থীয় উচ্চমর্যাদা দিয়ে আমার পারিষদভুক্ত
করে রাখব ৷ তারপর বাদশাহ যখন ইউসুফ (আ) এর সাথে কথা বললেন, এবং তার কথাবার্তা
শুনে তার অবন্থ দি সম্যক জানলেন, তখন বললেনং এ; ৷
(আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাশীল ও বিশ্বাসভ৷ ৷জন হলে)

(ইউসুফ বলল : আমাকে রাজ্যের ধন সম্পদের উপর ক র্তৃতৃ প্রদান করুন; আমি বিশ্বস্ত

রক্ষক ও সুবিজ্ঞ ৷) হযরত ইউসুফ (আ) বাদশাহর কাছে ধন ভাণ্ডারের উপর তদারকির
দায়িত্বভার চাইলেন ৷ কারণ, প্রথম সাত ৩বছর পর দুর্ভিক্ষের কালে সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশংকা

ছিল ৷ সুতরাং সে সময় আল্লাহর পছন্দ অনুযায়ী মানুষের কল্যাণ সাধন ও তাদের প্রতি সদয়
আচরণ করার ব্যাপারে যাতে ত্রুটি না হয়, সে লক্ষো৩ তিনি এই পদ কামনা করেন ৷ বাদশাহকে
তিনি আশ্বস্ত করেন যে, তার দায়িত্বে যা দেয়৷ হবে৩ তা তিনি বিশ্বস্ততা ৷র সাথে সং রক্ষণ করবেন
এবং রাজস্ব বিষয়ে উন্নতি ও উৎকর্য বিধানে তিনি বিশেষ অভিজ্ঞতার পরিচয় দেবেন ৷ এতে
প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি নিজের আমানতদারী ও দায়িতু পালনের প্ৰতি দৃঢ় আস্থাশীল , সে
তার যোগ্য পদের জন্য আবেদন করতে পারে ৷

আহলি কিতাবদের মতে, ফিরআউন (মিসরের বাদশাহ) ইউসুফ (আ)-কে পরম মর্যাদা
দান করেন এবং সমগ্র মিসর দেশের কর্তৃতু তার হাতে তুলে দেন ৰু নিজের বিশেষ আত্টি ও
রশমী পোশাক তিনি তাকে পরিয়ে দেন, র্তাকে স্বর্পের হারে ভুষিত করে এবং মসনদের দ্বিতীয়
আসনে তাকে আসীন করেন ৷৩ তারপর বাদশাহর সম্মুখেই ঘোষণা করা হলোং : আজ থেকে
আপনিই দেশের প্রকৃত শাসক ৷ কেবল নিয়ম৩ ৷ন্তিক প্রধানরুপে রাজ সিংহাসনের অধিকারী
হওয়া ছাড়া অন্য কো ন দিক দিয়েই আমি আপনার চেয়ে অধিক ক্ষমতাশ৷ ৷লী নই ৷ তারা বলেন,
ইউসুফ (আ)-এর বয়স তখন ত্রিশ বছর এবং এক অভিজাত বংশীয়া মহিলা ছিলেন তার শ্রী ৷

বিখ্যাত তাফসীরবিদ ছালাবী বলেছেন, মিসরের বাদশাহ আষীযে মিসর কিতফীরকে
পদচ্যুত করে ইউসুফ (আ) কে সেই পদে বসান ৷ কথিত আছে, কিতফীরের মৃত্যুর পর তার শ্রী
ষুলায়খাকে বাদশাহ ইউসুফের সাথে বিবাহ দেন ৷ ইউসুফ (আ) যুলায়খাকে কুমারী অবস্থায়
পান ৷ কেননা, যুলায়খার স্বামী শ্রী সংসর্গে যেতেন না ৷ যুলায়খার গর্ভে ইউসুফ ( আ )-এর দুই
পুত্র সন্তানের জন্ম হয় ৷ তাদের নাম আফরাইম ও মানশ৷ ৷ এভাবে ইউসুফ (আ) মিসরের
কর্তৃতু লাভ করে সে দেশে ন্যায়বিচার কায়েম করেন এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের
কাছেই বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ৷

কথিত আছে, ইউসুফ (আ) যখন কারাগার থেকে বের হয়ে বাদশাহর সম্মুখে আসেন, তখন
তার বয়স হয়েছিল ত্রিশ বছর ৷ বাদশাহ সত্তুরটি ভাষায় তার সাথে কথা বলেন ৷ যখন যে
ভাষায় তিনি কথা বলেন, ইউসুফ (আ) তখন সেই ভাষায়ই তার উত্তর দিতে থাকেন ৷ অল্প

বয়স হওয়া সত্বেও তার এ অসাধারণ যোগ্যত৷ দেখে বাদশাহ মিলিত হন ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

আল্লাহর বাণী
(এতা যে আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করি ৷) অর্থাৎ কারাপারের সংকীর্ণ বন্দী জীবন

শেষে ত ৷কে মুক্ত করে মিসরের সর্বত্র স্বাধীনতা ৷বে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিই ৷
(সে তথায় যেখানে ইচ্ছা নিজের জন্যে স্থান করে নিতে পাব৩ ) অর্থাৎ মিসরের

যে কোন জায়পায় ন্থায়িতা ৷বে থাকার ইচ্ছা ৷করলে সম্মান ও মর্যাদার সাথে তা করার সুযোগ

ছিল

(আমি যাকে ইচ্ছা তাকে আমার রহমত দান করি এবং সৎ কর্মশীলদের বিনিময় আমি বিনষ্ট
করি না ৷) অর্থাৎ এই বা কিছু করা হল তা একজন মুমিনের প্ৰতি আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ
বিশেষ ৷ এ ছাড়াও মু’মিনের জন্যে রয়েছে পরকাসীন প্রভুত কল্যাণ ও উত্তম প্রতিদান ৷

কারণেই আল্লাহ তাআল৷ বলেছেন

(যারা মু’মিন এবং মুত্তা ৷কী তাদের আখিরাতের পুরষ্কা ৷রই উত্তম ) কথিত আছে, যুলায়খার
স্বামী ইতফীরের মৃত্যুর পর বাদশাহ ইউসুফ (আ)-কে তার পদে নিযুক্ত করেন এবং তার শ্রী
যুলায়খাকে ইউসুফ (আ) এর সাথে বিয়ে দেন ৷ ইউসুফ (আ) নিজেকে একজন স৩ বােদী ও
ন্যায়নিষ্ঠ উযীর হিসেবে প্রমাণিত করেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, মিসরের বাদশাহ ওলীদ ইবন রায়্যান ইউসুফ (আ)-এর
হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

জনৈক করি বলেছেন :
অর্থ : ভয়-ভীতির সং কীর্ণতার পরে থাকে নিরাপত্তার প্রশস্ত৩ ৷ আর আনন্দ স্ফুতির পুর্বে
থাকে চুড়ান্ত পেরেশানী ও চিন্তা ৷ অতএব,তু মি নিরাশ হয়াে না ৷ কেননা আল্লাহ হযরত ইউসুফ
(আ)-কে অন্ধ কারাগার থেকে মুক্ত করে তার ধন-ভাণ্ডারের মালিক করে দিয়েছিলেন ৷

মহান আল্লাহ বলেনং :

ইউসুফের ভাইয়ের৷ আসল এবং তার কাছে উপস্থিত ৩হল ৷ সে ওদেরকে চিনল ; কিন্তু ওরা
তাকে চিনতে পারল না এবং সে যখন ওদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে বলল,
তােমরা আমার কাছে তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে নিয়ে এসো ৷ তোমরা কি দেখছ না যে,
আমি মাপে পুর্ণ মাত্রায় দেই? আমি উত্তম যেযবান? কিন্তু তোমরা যদি তাকে আমার কাছে
নিয়ে না আস তবে আমার কাছে তোমাদের জন্যে কোন বরাদ্দ থাকবে না এবং তোমরা আমার
নিকটবর্তী হবে না ’ তারা বলল, তার বিষয়ে আমরা তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করব
এবং আমরা নিশ্চয়ই এটা করব ৷ ইউসুফ তার ভৃত্যদেরকে বলল, ওরা যে পণ্যমুল্য দিয়েছে
তা তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও–যাতে স্বজনদের কাছে প্রত্যাবতনের পর তা বাবুঝতে
পারে যে, এটা প্রত্যপর্ণ করা হয়েছে; তাহলে তারা পুনরায় আসতে পারে ৷ (সুরা ইউসুফং :
৫৮৬২ )

এখানে আল্লাহ হযরত ইউসুফ (আ) এর ভাইদের মিসরে আগমনের বিষয়ে জ ৷নাচ্ছেন যে,
দুর্ডিংক্ষর বছরগুলোতে যখন সমগ্র দেশ ও জাতি তার করাল গ্রাসে পতিত হয়, তখন খাদ্য
সংগ্রহের জন্যে তারা মিসরে আগমন করে ৷ ইউসুফ (আ) ঐ সময় মিসরের দীনী ও দৃনিয়াবী
সার্বিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ৷ ভাইয়েরা ইউসুফ (আ)-এর কাছে উপস্থিত হলে তিনি
তাদের চিহ্ন ফেলেন কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারল না ৷ কারণ ইউসুফ (আ) এত বড় উচ্চ
পদ-মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারেন এটা তাদের কল্পনারও অতীত ছিল ৷ তাই তিনি তাদেরকে
চিনলেও তারা তাকে চিনতে পারেনি ৷
আহলি কিতা ৷বদের মতে ইউসুফ (আ) এর ভাইয়েরা তার দরবারে উপ ত হয়ে তাকে
সিজদা করে ৷ এ সময় ইউসুফ (আ)ত তাদেরকে চিনে ফেলেন ৷ তবে তিনি চাচ্ছিলেন, তারা যেন
তাকে চিনতে না পারে ৷ সুতরাৎ৩ তিনি তাদের প্রতি কঠোর ভ ষা৷ ব্যবহার করেন এবং বলেন,
তোমরা গোয়েন্দা বাহিনীর লোক আমার দেশের গোপন তথ্য নেয়ার জন্যে তোমরা এখানে
এসেছ৷ তারা বলল, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই ৷ আমরা তো ক্ষুধা ও অভাবের তাড়নায়
পরিবারবর্গের জন্যে খাদ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছি ৷ আমরা একই পিতার সন্তান ৷
বাড়ি কিনআন ৷ আমরা মোট বার ডাই ৷ একজন আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, সর্ব কনিষ্ঠজন
পিতার কাছেই আছে ৷ এ কথা শুনে ইউসুফ (আ) বললেন, আমি তোমাদের বিষয়টি অবশ্যই
তদন্ত করে দেখব ৷ আহলি কিতাবরা আরও বলে যে, ইউসুফ (আ) ভাইদেরকে তিনদিন পর্যন্ত
বন্দী করে রাখেন ৷ তিনদিন পর তাদেরকে যুক্তি দেন, তবে শামউন নামক এক ভাইকে আটক
করে রাখেন ৷ যাতে তারা অপর ভাইটিকে পরবর্তীতে নিয়ে আসে ৷ আহলি কিতাবদের এ

বর্ণনার কোন কোন দিক আপত্তিকর ৷ অ ল্লাহব বাণীং :(ইউসুফ

যখন তাদের রসদের ব্যবস্থা করে দিলেন) অর্থাৎ তিনি কড়া ৷উকে এক উট বোঝাইর বেশি খাদ্য

রসদ প্রদান করতেন না ৷ সে নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রতে তাককে এক উট বোঝাই রসদ প্রদান
,
করলেন ৷ (তোমরা তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইটিকে

আমার কাছে নিয়ে এসো) ইউসুফ (অ) )তাদেরকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন ৷

তারা বলেছিল, আমরা বার ভাই ছিলাম ৷ আমাদের মধ্যকার একজন চলে গেছে ৷ তার
সহােদরটি পিতার কাছে রয়েছে ৷

ইউসুফ (আ) বললেন আগামী বছর^ যখন তোমরা আসবে তখন তাকে সাথে নিয়ে এসো ৷

(তোমরা ৷কি দেখছ না, আমি মাপে

পুর্ণ মাত্রায় দেই এবং মেহমানদেরকে ১সমাদর করি?) অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে উত্তমভাবে
যেহমানদারী করেছি, তোমাদের থাকার তা ৷ল ব্যবস্থা করেছি ৷ এ কথা দ্বারা তিনি অপর তা ৷ইকে
আনার জন্যে তাদেরকে উৎসাহিত করেন ৷ যদি তারা তাকে না আসে তবে তাদেরকে তার

পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেনং ,

যদি তাকে আমার কাছে নিয়ে না আস, তাহলে আমার কাছে তোমাদের কোন বরাদ্দ
থাকবে না এবং তোমরা আমার নিকটবর্তী হবে না ৷

অর্থাৎ আমি তােমাদেরকে বসদও দেব না ৷ আমার কাছে ঘেষতেও দেব না ৷ তাদেরকে
প্রথমে যেভাবে বলেছিলেন এটা তার সম্পুর্ণ বিপরীত ৷ সুতরাং উৎসাহ ও ডীতি প্রদর্শনের
মাধ্যমে তাকে হড়াযির করার জ্যন্য৩ তিনি এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ৷
(তারা বললং আমরা তার সম্পর্কে তার পিতা ৷কে সম্মত করার চেষ্টা করব ৷) অর্থাৎ আমাদের
সাথে তাকে আনার জন্যে এবং আপনার কাছে হ যির করার জন্যে সম্ভাব্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা
চালাব ৰু) পুহুঠো র্দুা ; (এবং আমরা তা অবশ্যই করব) অর্থাৎ তাকে আনতে আমরা অবশ্যই
সক্ষম হব ৷ তারপর হযরত ইউসুফ (আ) তাদের প্রদত্ত পণ্যমুল্য এমনভাবে তাদের মালামালের

মধ্যে রেখে দেয়ার জন্যে তৃত্যদেরকে নির্দেশ দেন যাতে তারা তা না পায়

যাতে স্বজনদের কাছে প্ৰতব্রুড়াবর্ত্যনর পরত ৷রা বুঝতে পারে যে তা প্রত্যর্পণ করা হয়েছে ৷
তাহলে তারা পুনরায় আসতে পারে ৷ মুল্য ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কেউ বলেছেন,
হযরত ইউসুফ (অড়া)-এর ইচ্ছা ছিল , যখন তারা দেশে গিয়ে তা লক্ষ্য করবে তখন তা ফিরিয়ে
নিয়ে আসবে ৷ অন্য কেউ বলেছেন, হযরত ৩ইউসুফ (আ) আশংকা করছিলেন যে, দ্বিতীয়বার
আমার মত অর্থ হয়তো থাকবে না ৷ কারও মতে, ভাইদের নিকট থেকে খাদ্য দ্রব্যের বিনিময়
গ্রহণ করা তার কাছে নিন্দনীয় বলে মনে হচ্ছিল ৷

তাদের পণ্যমুল্য কি জিনিস ছিল সে ব্যাপারে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে ৷ পড়ে
সে সম্পর্কে আলোচনা আসছে ৷ আহলি কিতাবদের মতে তা ছিল রৌপ্য ভর্তি থলে ৷ এ মত
যথার্থ মনে হয় ৷
তারপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে আসল তখন তারা বলল, হে আমাদের
পিতা আমাদের জন্যে বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে; সুতরাং আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে
পাঠিয়ে দিন; যাতে আমরা রসদ পেতে পারি ৷ আমরা অবশ্যই তার রক্ষণাবেক্ষণ করব ৷ সে
বলল, আমি কি তোমাদেরকে তার সম্বন্ধে সেরুপ বিশ্বাস করব, যেরুপ বিশ্বাস পুর্বে
তোমাদেরকে করেছিলাম তার ভাই সম্বন্ধে ? আল্লাহ্ই রক্ষণাবেক্ষণে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি দয়ালুদের
মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু ৷’ যখন ওরা ওদের মালপত্র খুলল তখন ওরা দেখতে পেল ওদের পণ্যমুল্য
ওদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে ৷

ওরা বলল, হে আমাদের পিতা ! আমরা আর কি প্রত্যাশা করতে পারি? এতো আমাদের
প্রদত্ত পণ্যমুল্য, আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে; পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে
খড়াদ্য-সামগ্রী এনে দেব এবং আমরা আমাদের ভ্রাতার রক্ষণাবেক্ষণ করব এবং আমরা অতিরিক্ত
আর এক উট বোঝইি পণ্য আনব; যা এনেছি তা পরিমাণে অল্প ৷ পিতা বলল, আমি ওকে
কখনই তোমাদের সাথে পাঠড়াব না, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার কর যে,
তোমরা ওকে আমার কাছে নিয়ে আসবেই, অবশ্য যদি তোমরা একান্ত অসহায় হয়ে না পড় ৷ ’
তারপর যখন ওরা তার কাছে প্রতিজ্ঞা করল, তখন সে বলল, আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি,
আল্লাহ্ তার বিধায়ক ৷ ’

সে বলল, হে আমার পুত্রপণ ! তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না ৷ ভিন্ন ভিন্ন দরজা
দিয়ে প্রবেশ করবে ৷ আল্লাহ্র বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্য কিছু করতে পারি না ৷
বিধান আল্লাহরই ৷ আমি তারই উপর নির্ভর করি এবং যারা নির্ভর করতে চায় তারা আল্লাহরই
উপর নির্ভর করুক এবং যখন তারা তাদের পিতা তাদেরকে যেভাবে আদেশ করেছিল
সে-ভাবেই প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের কোন কাজে আসল না;
ইয়াকুব কেবল তার মনের একটি অভিপ্রায় পুর্ণ করেছিল এবং সে অবশ্যই জ্ঞানী ছিল ৷ কারণ
আমি তাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম ৷ কিন্তু অধিকাৎশ মানুষ এটি অবগত নয় ৷ (১২ : ৬৩৬৮ ) ৷

মিসর থেকে তাদের পিতার কাছে ফিরে আসার পরের ঘটনা আল্লাহ্ তা আলা এখানে বংনাি
করছেন : পিতাকে তারা বলে : ৰু ষ্টুহ্র^৷ ৷দ্বুষ্টু র্মুদ্বু (আমাদের জন্যে বরাদ্দ নিযিদ্ধকরা
হয়েছে ৷) অর্থাৎ এ বছরের পরে আপনি যদি আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে না পাঠান তবে
আমাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে না ৷ আর যদি আমাদের সাথে পাঠান তাহলে বরাদ্দ বন্ধ করা
হবে না ৷

(যখন তারা তাদের মালপত্র থুলল, তখন দেখতে পেল তাদের পণ্যমুল্য ফেরত দেয়া
হয়েছে ৷ তারা বলল, পিতা আমরা আর কি চাইতে পারি?) অর্থাৎ আমাদের পণ্যমুলাটাও

ফেরত দেওয়া হয়েছে ৷ এরপর আমরা আর কি আশা করতে পারি? মোঃ! দ্বু হুন্ন্র্দুড্রু (পুনরায়
আমরা আমাদের পরিবারবর্গের জন্যে খড়াদ্য-সামগ্রী এনে দেবাে যাতে তাদের বছরের ও বাড়ি

ঘরের সংস্থান হতে পারো) : ১াএ (আমরা আমাদের তা ৷ইকে

রক্ষণাবেক্ষণ করব এবং অতিরিক্ত আনতে পারব) তার কারণে )^ৰু পুট্রুদ্বু (আর এক উট
বোঝ ই পণ্য ৷)

আল্লাহ্ বলেন :৷১ (যা এসেছি তা পরিমাণে ৷অল্প) অর্থাৎ অন্য সন্তানটি
গেলে যা পাওয়া যেতে৷ তার তুলনায় যা আনা হয়েছে তা অল্প ৷ হযরত ইয়াকুব (আ) আপন
পুত্র বিনয়ামীনের ব্যাপারে অত তান্ত কুষ্ঠিত ছিলেন ৷ কারণ তার মাঝে তিনি তার ভাই ইউসুফ
(আ)-এর ঘ্রাণ পেতেন, স ন্তুন৷ লাভ করতেন এবং তিনি থাকায় ইউসৃফকে কিছুটা ভুলে

থাকতেন ৷ তাই তিনি বললেন ং ,

(পিতা বললং আমি তাকে কখনই তোমাদের সাথে পাঠাব ন ৷ যতক্ষণ না তোমরা
আল্লাহর নামে অঙ্গীকার কর যে, তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবেই ৷ অবশ্য যদি
তোমরা বিপদে পরিবেষ্টিত হয়ে একান্ত অসহায় হয়ে না পড় ৷) অর্থাৎ৫ তামরা সকলেই যদি

তাকে আনতে অক্ষম হয়ে পড়, তবে ভিন্ন কথা ৷

(অতঃপর যখন তারা তার কাছে প্রতিজ্ঞা করল তখন তিনি বললেনং আমরা যে বিষয়ে
কথা বলছি আল্লাহ্ তার বিধায়ক) ৷ পিত ৷ ইয়াকুব (আ) পুত্রদের থেকে অঙ্গীকারনামা
পাকাপোক্ত করে নেন ৷ তাদের থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আদায় করেন এবং পুত্রের ব্যাপারে সম্ভাব্য
সাবধানতা অবলম্বন করেন ৷ কিন্তু কোন নসতর্কতাই তাদেরকে ঠেকাতে পারল না এ্ এ
এাষ্ট্র গ্র গ্লুা) ৷ হযরত ইয়াকুব (আ)ত তার নিজের ও তার পরিবার পরিজনের খ৷ দ্য সামগ্রীর
প্রয়োজন না হলে কখনও তার প্রিয় পুত্রকে পাঠাতেন না ৷ কিত্তু তক্দীরেরও কিছু বিধান
য়েছে ৷ আল্লাহ্ যা চান তাই নির্ধারণ করেন, যা ইচ্ছা তাই গ্রহণ করেন ৷ যে রকম ইচ্ছা সে
রকম আদেশ দেন ৷ তিনি প্রজ্ঞাময়, সুবিজ্ঞ ৷ অত০পর পিতা আপন পুত্রদেরকে শহরে প্রবেশের
সময় এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন বরং বিভিন্ন প্রবেশদ্বার দিয়ে যেতে বলেন ৷
এর কারণ হিসেবে ইবন আব্বাস (রা) , মুজাহিদ ইবন কা’ব, কাতাদা ও সুদ্দী (র ) বলেন, যাতে
তাদের উপর কারও কুছুষ্টি না পড়ে, সে জন্যে তিনি এরুপ নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেননা তাদের
অবয়ব ও চেহারা ছিল অত্যধিক আকর্ষণীয় ও সুশ্রী ৷ ইবরাহীম নাখৃঈ (র) বলেছেন, এরুপ
নির্দেশ দেওয়ার কারণ হল, তিনি তাদেরকে বিক্ষিপ্ত করে দিতে চেয়েছিলেন এ উদ্দেশ্যে যে,
হয়ত তারা কোথাও ইউসুফ (আ) এর সংবাদ পেয়ে যেতে পারে কিৎব৷ এভাবে তারা বেশি
ংখ্যক লোকের কাছে ইউসুফ (আ) এর সন্ধান জিজ্ঞেস করতে পারে ৷ কিন্তু প্রথম মত
প্রসিদ্ধ ৷ এ কারণেই তিনি বললেন, ব্লু দ্বু (আল্লাহর

বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্যে কিছুই করতে পারি না ৷)

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ( ১ম ত্বা

যখন তারা তাদের পি৩ ৷ যেভাবে আদেশ দিয়েছিলেন সে৩ ৷বেই প্রবেশ করল, তখন
আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের কােনই কাজে আসল না ৷ ইয়াকুব কেবল তার মনের
একটি অভিপ্রায় পুর্ণ করেছিল এবং সে অবশ্যই জ্ঞানী ছিল ৷ কারণ, আমি তাকে শিক্ষা
দিয়েছিলড়াম ৷ কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়ে অবগত নয় ৷ (সুরা ইউসুফ : ৬৮)
আহলি কিতাবদের মতে, হযরত ইয়াকুব (আ) পুত্রদের কাছে আযীযের উদ্দেশে
হাদিয়াস্বরুপ পেস্তা, বাদাম, অ খবোট ৩ারপিন তেল, মধু ই ৷৷দি প্রেরণ করেন ৷ এছাড়া প্রথম

বারের ফেরত পাওয়া দিরহাম ও আরও অর্থ সংগ্রহ করে৩ ৩ারা মিসরের উদ্দেশে যাত্রা করে ৷

ওরা যখন ইউসুফের সম্মুখে উপস্থিত হল, তখন ইউসুফ তার সহােদরকে নিজের কাছে
রাখল এবং বলল, আমিই তোমার সহােদর, সুতরাৎ৩ ৩ারা যা করত তার জন্যে দুঃখ করে৷ না

তারপর সে যখন ওদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে তার সহােদরের মালপত্রের
মধ্যে পানপাএ রেখে দিল৷ তারপর এক আহ্বায়ক চিৎকার করে বলল, হে যাত্রীদল ! তোমরা
নিশ্চয়ই চোর ৷ ’ তারা ওদের দিকে তাকিয়ে বলল, ৫তামরা কী হারিয়েছ?’ তারা বলল, আমরা
রাজার পানপাএ হারিয়েছি; যে ওটা এনে দেবে সে এক উট বোঝাই মাল পাবে এবং আমি এর
জামিন ৷’ তারা বলল, আল্লাহ্র শপথ! ৫তামরা তো জান, আমরা এ দেশে দুষ্কৃতি করতে
আসিনি এবং আমরা চােরও নই’ ৷ তারা বলল, য়দি তোমরা মিথ্যাবাদী হও তবে তার শাস্তি
কী ?’ তারা বলল, এর শাস্তি যার মালপত্রের মধ্যে পাএটি পাওয় যাবে, নেই তার বিনিময় ৷
এভাবে আমরা সীমালংঘনকা রীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি ৷

তারপর সে তার সহােদরের মালপত্র তল্লাশিয় পুর্বে তাদের মালপএ তল্লাশি করতে লাগল,
পরে তার সহােদরের মালপত্রের মধ্য হতে পা ৷ত্রটি বের করল ৷ এভাবে আমি ইউসুফের জন্যে
কৌশল করেছিলাম ৷ রাজার আইনে তার সহোদরকে সে আটক করতে পারত না, আল্লাহ ইচ্ছা
না করলে ৷ আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি ৷ প্রতোক জ্ঞানবান ব্যক্তির উপর আছে
তারা বলল, সে যদি চুরি করে থাকে তার সহােদর : তো পুর্বে চুরি করেছিল ৷ ’ কিন্তু
ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখল এবং তাদের কাছে প্রকাশ করল না, যে মনে
মনে বলল, তােমাদের অবস্থা ৫ত৷ ৷হীনতর এবং ৫তামরা যা বলছ সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ
অবহিত’ ৷ ওরা বলল, ৫হ আষীয এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ; সুতরাং এর স্থলে আপনি
আমাদের একজনকে রাখুন ৷ আমরা তো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন ৷ সে
বলল, যার কাছে আমরা আমাদের মাল পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে রাখার অপরাধ হতে
আমরা আল্লাহর শরণ নিচ্ছি ৷ এরুপ করলে আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হব ৷ ’ (১২ :
৬৯ ৭ ৯ )

এখানে আল্লাহ্ উল্লেখ করছেন যে সব অবস্থার কথা যখন ইউসুফ (আ) এর ভাইয়েরা তার
সহােদর বিনয়ামীনকে নিয়ে মিসরে তার কাছে উপস্থিত হয়েছিল ৷ ইউসুফ (আ) তাকে একান্তে
কাছে নিয়ে জানান যে, তিনি তার আপন সহােদর তা ৷ই ৷৩ তাকে তিনি এ কথা গোপন রাখতে
বলেন এবং ভাইদের দুর্ব্যবহারের ব্যাপারে সান্তুন৷ দেন এবং অন্য ভাইদের বাদ দিয়ে ৫কবল
বিনয়ামীনকে কাছে রাখার জন্যে ইউসুফ (আ) বাহানা অবলম্বন করেন ৷ সৃতরাৎ তিনি নিজের
পানপাএ বিনয়ামীনের মালপত্রের মধ্যে গোপনে ৫রখে দেয়ার জন্যে ভৃত্যদেরকে আদেশ দেন ৷
উক্ত পানপাএঢি পানি পান এবং ৫লাকজনকে তাদের খাদ্যদ্রব্য যোগ দেয়ার কাজে ব্যবহৃত
হত ৷ এরপর তাদের মধ্যে ঘোষণা দেয়৷ হয় যে, তারা বাদশাহর পানপাএ চুরি করেছে যে
ব্যক্তি তা ফিরিয়ে দেবে তার জন্যে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণাকারী তার জন্যে
যিম্মাদ ব হল ৷ কিন্তু তারা ঘোষণাকারীর দিকে তাকিয়ে এ কথা বলে তাদের প্ৰতি আরোপিত

(আল্লাহর কলম , তোমরা ৫তাজ জানাে, আমরা এদেশে দুষ্কৃতি করতে আসিনি এবং আমরা
চােরও নই ৷) অর্থাৎ আপনারা যে আমাদেরকে চুরির দােষে অভিযুক্ত করেছেন, আমরা যে

সেরুপ নই তা আপনারা খুব ভাল করেই জানেন ৷

তারা বলল, তোমরা যদি মিথ্যাবাদী হও৩ তা হলে এর কি শাস্তি হবে? তারা বলল, এর
শাস্তি যার মালপত্রের মধ্যে পা ৷ত্রটি পাওয়া যাবে সে-ই৩ তার বিনিময় ৷ আমরা এভাবেই
সীমা ৎঘনকা ৷রীদের শাস্তি দিয়ে থাকি ৷

এটা ছিল তাদের শরীয়তে ব বিধান যে, যার মাল চুরি করবে, তার কাছেই চোরকে অর্পণ
করা হবে ৷ ট্রু ণ্প্রুএে৷ ! $);; এ৷ ৷;াহ্র (এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারীদের শাস্তি দিয়ে
থাকি ৷) আল্লাহ বলেন:

(অতঃপর সে তার সহােদরের মালপত্র তল্লাশির পুর্বে ওদের মালপত্র তল্লাশি করতে
লাগল ৷ পরে তার সহােদরের মালপত্রের মধ্য হতে পাত্রটি বের করল) এরুপ করার কারণ হল,

অপবাদ থেকে বাচা এবং সন্দেহমুক্ত কৌশল অবলম্বন করা ৷ আল্লাহ বলেন :

(এ ভাবে আমি ইউসুফের জন্যে কৌশল করিয়ে দিয়েছিলাম ৷ অন্যথায় বাদশাহর আইনে
তার সহোদরকে সে আটক করতে পারত না ৷) অর্থাৎ৩ রা৷ যদি নিজেরা এ কথা স্বীক৷ ৷র না
করত যে, যার মালপত্রের মধ্যে পাওয়া যাবে, সে-ই তার বিনিময় হবে; তবে মিসরের

বাদশাহর প্রচলিত আইনে তাকে ইউসুফ (আ) আটকে রাখতে পারতেন না ৷

১া)

(তবে যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন৩ তণ্ডাহলে ভিন্ন কথা ৷ আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত কবি)
অর্থাৎ জ্ঞ৷ ৷নের ক্ষেত্রে ৷ণ্; ষ্ট্রণুব্লু é; র্চুর্ন্ত র্দুদ্বুপুশুর্চুাঠু (প্রত্যেক জ্ঞ নাবান ব্যক্তির উপরে রয়েছেন
সর্বজ্ঞ-ানী ৷) কেননা ইউস্মির্ঘছুম (আ )ছিলেন তাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ৷ মতামত ৩দান, সিদ্ধান্ত
গ্রহণ, দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতায়৩ তিনি ছিলেন অধিক প রঙ্গম ৷ আর এ ব্যাপারে তিনি যা কিছু
করেছেন তা আল্লাহর নির্দেশন্ ক্রমেই করেছেন ৷ কারণ, এর উপর ভিত্তি করেই সৃষ্ট পরিবেশে
পরবর্তীতে তার পিতা ৷ও পবিবারবর্গ এবং প্রতিনিধি দলের সেদেশে আগমনের সুযোগ হয় ৷ যা
হোক, ভাইয়েরা যখন বিনয়ামীহ্রনবুমালপত্রের মধ্য থেকে পানপাএ বের করা প্রত্যক্ষ করল
তখন তারা ৷ (সে যদি চুরি করে থাকে তবে
তার সহোদরও তো ইতিপুর্বে চুরি করেছিল ৷) সহোদয় বলতে তারা ইউসুফ (আ ) কেই
বৃঝাচ্ছিল ৷ কথিত আছে যে, হযরত ৩ইউসৃফ (আ ) একবার তার না না৷র একটি মুর্তি চুরি করে
এনে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন ৷ কেউ কেউ বলেছেন, ইউসুফ (আ) এর প্ৰতি অধিক স্নেহ-
ভালবাসার টানে তার ফুফু তার ছোটবেলায় নিজের কাছে রেখে লালন-পালন করার জন্যে
কৌশল হিসেবে ইসহাকের একটি কোমরবন্দ গোপনে ইউসুফ (আ)-এর কাপড়ের মধ্যে বেধে
রাখেন ৷ ইউসুফ (আ) তা টের পাননি ৷ পরে কোমরবন্দটির সন্ধান করা হলে ইউসুফের
কাপড়ের মধ্যে তা পাওয়া যায় ৷ তাদের কথায় এ দিকেই ইৎগিত ছিল ৷ কেউ কেউ বলেছেন :
ইউসুফ ঘর থেকে খাদ্য নিয়ে গোপনে ভিক্ষুকদেবকে আহার করাতেন ৷ এছাড়া এ প্রসঙ্গে আরও
বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্নজনে বলেছেন ৷ এজনােই :

(তারা বলল, যে যদি চুরি করে থাকে,ত তবে ইতিপুর্বেত তার সহােদরও তো চুরি করেছিল
কিত্তু প্রকৃত ব্যাপার ইউসুফ নিজের মনেরম মট্রুধ্য গোপন করে রাখল ৷) সেই গোপন কথাটি এই
৷ (তোমাদের অবস্থা তাে হীনতর এবং
আল্লাহ ঐ বিষয়ে খুবই অবহিত যা৫ তামরা ব্যক্ত করছ ৷) ইউসুফ (আ) এ কথা মনে মনে
বললেন, প্রকাশ করলেন ন ৷ তিনি সহনশীলতড়া র সাথে তাদেরকে ক্ষমা ও উপেক্ষা করেন এবং

সেই সুযোগে তারা দয়া ও করুণা লাভের উদ্দেশ্যে বলল ং

তারা বলল, হে আযীয! এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ ৷ সুতরাং এর স্থলে আপনি
আমাদের একজনকে রাখুন ৷ আমরা আপনাকে একজন মহানুভব ব্যক্তি হিসেবে দেখছি ৷ সে
বলল : যার কাছে আমাদের মাল পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে রাখার অপরাধ হতে আমরা
আল্লাহর কাছে পানড়াহ চাই ৷ এরুপ করলে আমরা অবশ্যই জালিমে পরিণত হব ৷ (১২ :
৭ ৮ ৭ ৯ )

অর্থাৎ আমরা যদি অপরাধীকে ছেড়ে দেই এবং নিরপরাধকে আটক রাখি তাহলে সেটা
হবে সীমালংঘন ৷ এটা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় ৷ বরং মাল যার কাছে পাওয়া গেছে
তাকেই আমরা আটকে রাখব ৷ আহলি কিতড়াবদের মতে, এই সময়ই ইউসুফ (আ) তাদের
কাছে নিজের পরিচয় ব্যক্ত করেন ৷ কিন্তু এটা তাদের মারাত্মক ভুল, প্রকৃত ব্যাপার তারা
মোটেই বুঝেনি ৷ আল্লাহ্ বলেনং

তারপর যখন তারা তার নিকট হতে সম্পুর্ণ নিরাশ হল, তখন তারা নির্জনে গিয়ে পরামর্শ
করতে লাগল ৷ ওদের মধ্যে যে বয়ােজ্যেষ্ঠ ছিল, সে বলল, তোমরা কি জান না যে, তোমাদের
পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং পুর্বেও তোমরা ইউসুফের
ব্যাপারে ত্রুটি করেছিলে ৷ সুতরাং আমি কিছুতেই এ দেশ ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না আমার
পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা আল্লাহ আমার জন্যে কোন ব্যবস্থা করেন এবং তিনিই
বিচারকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ৷ তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলবে, হে আমাদের
পিতা ! আপনার পুত্র চুরি করেছে এবং আমরা যা জানি তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম ৷ অদৃশ্যের
ব্যাপারে আমরা অবহিত ছিলাম না ৷ যে জনপদে আমরা ছিলাম তার অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা
করুন এবং যে যাত্রীদলের সাথে আমরা এসেছি তাদেরকেও ৷ আমরা অবশ্যই সত্য বলছি ৷

ইয়াকুব বলল, না, তোমাদের মন তোমাদের জন্যে একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে ৷
সুতরাং পুর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়; হয়তো আল্লাহ তাদেরকে এক সঙ্গে আমার কাছে এসে দিবেন ৷ তিনি
সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ৷ ’ সে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, আফসোস ইউসুফ এর
জন্যে ৷’ শোকে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল এবং সে ছিল অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট ৷ তারা
বলল, আল্লাহর শপথ ! আপনি তো ইউসুফ এর কথা ভুলবেন না যতক্ষণ না আপনি মুমুর্বু
হবেন, অথবা মৃত্যুবরণ করবেন ৷ ’ সে বলল, আমি আমার অসহনীয় বেদনা, আমার দুঃখ শুধু
আল্লাহর কাছে নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর কাছ থেকে আমি যা তোমরা জান না ৷ হে
আমার পুত্রগণ ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহােদরের অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহর আশিস
থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না ৷ কারণ আল্লাহর আশিস হতে কেউই নিরাশ হয় না, কাফিরগণ
ব্যতীত ৷ (১২ : ৮০-৮৭)

আল্লাহ ইউসুফ (আ)-এর ভাইদের সম্পর্কে জানাচ্ছেন যে, যখন তারা বিনয়ামীনকে
ইউসুফ (আ)-এর হাত থেকে ছাড়িয়ে আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেল, তখন পারস্পরিক
পরামর্শের জন্যে একটু দুরে সরে গিয়ে মিলিত হল ৷ তখন তাদের মধ্যে বয়ােজেষ্ঠে রুবীল বলল :

(তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার

নিয়েছেন এবং পুবেও তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে
ত্রুটি করেছিলে) অর্থাৎ অবশ্য বিৎ তোমরা সে অঙ্গীকার রক্ষা কর নাই ৷ বরং তাতে ত্রুটি

করেছ ৷ যেমন তোমরা ইতিপুর্বে তার ভাই ইউসুফের ব্যাপারেও ত্রুটি করেছিলে ৷ এখন আমার

সামনে এমন কোন উপায় নেই যা নিবুয় পিতার সামনে দাড়াব ৷
(সুতরাং আমি কিছুতেই এ দেশ ত্যাগ করব না) অর্থাৎ আমি এ দেশেই স্থায়িভাবে থেকে যাব
(যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন ৷) অর্থাৎ তার কাছে
যাওয়ার ৷ (অথবা আল্লাহ আমার জন্যে বুক ন ব্যবস্থা করেন ৷) যেমন

পিতার কাছে ভাইকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন উপায় যদি বের কবুর দেন ৷ §§;’ ;এে^;
(তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাদানকারী) (তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বল হে পিতা! আপনার
পুত্র চুরি করেছে ৷) অর্থাৎ তোমরা যা প্রত্যক্ষ কবুরছ৩ তাই পিতার কাছে গিয়ে বল ৷
যা জানি তারই
প্রত্যক্ষ বিবরণ্৷ দিলাম ৷ অদৃশ্যের ব্যাপারে আমরা অবহিত ছিলাম না ৷
৷ (যে জনপবুদ আমরা ছিলাম তার
অধিবাসীদের আপনি জিজ্ঞেস করুন এবং যে যাত্রীদলের সাথে আমরা এসেছি তাদেরকেও)

অর্থাৎ আমরা আপনাকে এই সংবাদ দিলাম যে, আমাদের তাই চুরি করে ধরা পড়েছে এটা
মিসরে সর্বত্র রবুট গেছে এবং যে কাফেলার সাথে আমরা এবুসছি৩াবুদর এ ঘটনাটি জানা
আছে ৷ কেননা তখন তারা সেখাবুন আমাদের সাথেই ছিল ৷ (আমরা
অবশ্যই সত্য বলছি (ইয়াকুব
বলল, না তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে ৷ সুতরাং পুর্ণ ধৈর্যই
প্রেয় ৷) অর্থাৎ তোমরা যা বলছ আসল ঘটনাত ৷নয় ৷ সে চুরি করেনি ৷ কেননা, তার
স্বভাব-চরিত্র এ রকম নয় ৷ বরং এটা তােমাদেরই একটা সাজান গল্প ৷ অতএব, ধৈর্য অবলম্বনই

ণ্শ্রয়

ইবন ইসহাক (র) প্রমুখ বলেছেন, ইউসুফ (আ) এর ব্যাপারে সীমালংঘবুনর পরে তার
ভাইয়ের৷ যখন বিনয়াযীবুনর সাথেও অসদ ব্যবহার করতে শুরু কবুর তখন পিতা ইয়াকুব (আ)
উপবুরাক্ত কথা বলেন ৷ প্রাচীনকালের কোন কোন পণ্ডিবুতর উক্তি ;১;; ব্লু;;;;
মন্দের পরবর্তী প্রতিফল মন্দই ৰুয়ে থাকে ৷ অতঃপর হযরত ইয়াকুব (আ ) বলেন:
৷ (হয়তো আল্লাহ তাদেরকে এক সঙ্গে আমার কাছে এসে
দেবেন ৷) অর্থাৎ ইউসুফ, বিনয়ামীন ও রুবীলবুক ৷ (নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ৷)
অর্থাৎ প্রিয়জনদের বিরবুহ আমি যে অবস্থায় পতিত হয়েছি তা তিনি সম্যক অবগত চুর্দুব্লুএ ৷
(প্রজ্ঞাময়) অর্থাৎ তিনি যা ফয়সাল৷ ও বাস্তবায়ন করবেন তা অত্যন্ত প্ৰজ্ঞার৷ সাথে করবেন ৷
চুড়ান্ত কৌশল ও অলং ঘনীয় দলীলের অধিকারী একমাত্র তিনিই ৷ ( এবং সে
তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ৷) অর্থাৎ ইয়াকুব (আ) পুত্রবুদর দিক থেকে মুখ ফিরিবুয়
নিয়ে বললেন(হায়! আফসোস ইউসুফের জন্যে ৷) পুবুর্বর
দুঃখের সাথে নতন দুঃখের উল্লেখ করছেন এবং যে ব্যথা ৷টি সুপ্ত ছিলত তা পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে
ওঠে ৷ জনৈক করি বলেছেন :

তুমি কামনার বশে তোমার হৃদয়কে যেথায় ইচ্ছা ফিরাতে পারে৷ ৷ কিন্তু প্রেমের বেলায়
প্রথম প্রেমিকই আসল ৷

অন্য এক করি বলেছেন :

গোরস্তানের কবরসমুহের কাছে গিয়ে আমার ত্রুন্দন ও অশ্রুপাত দেখে আমার বন্ধু
আমাকে তিরস্কার করল ৷ সে বলল : লিওয়া (বালির চিনি) ও দাকাদিকের (শক্তভুমির ) ম ধ্যবর্তী
যত কবর আছে তার মধ্যে যে কবরই নজরে পড়বে, সে কবরের পাশেই কি তুমি এভাবে
র্কাদতে থাকবে? আমি তাকে বললাম, দুঃখই দুঃথীজনকে পরিচালিত করে ৷ আমাকে আমার

কাজের উপর ছেড়ে দাও এখানে যত কবর আছে সবই আমার প্রেমাস্পদ মালিকের কবর

আল্লাহর বাণী: ষ্দ্বুছুপু ৷ ব্লু ৰুপ্লু ষ্£ ; ষ্দ্বু৷ (গােকে তার চোখ দু’টি সাদা হয়ে
দ্দোঅ-র্ঘ্যৎ মোঃকান্নাকাতিঃ ষদ্ল ৷ ,:,$, র্চু(এবং সে ছিল অসহনীয় মনস্তাপে
কাতর ৷) অর্থাৎ ইউসুফ (আ) এর জন্য অতিশয় শোক, তাপ ও অধীর আগ্নহে তিনি মুহ্যম)ন
হয়ে পড়েন ৷ পুত্রগণ যখন পিতাকে সন্তান হারাবার গােকে কাতর অবস্থায় দেখল তখন ৷ এ ও

(তারা বলল) অর্থাৎ পিতার প্ৰতি করুণারশে ও মমতাবােধে বলল০ ং

আপনি তো ইউসুফকে ভুলবেন না, যতক্ষণ না মুমুর্মু হবেন কিৎ বা বমৃত্যুবরণ করবেন ৷)
অর্থাৎ তারা বলছে, আপনি সর্বক্ষণ ইউসুফ (আ) কে স্মরণ করছেন ও শোক প্রকাশ করছেন ৷
ফলে দিন দিন আপনার শরীর শিথিল হয়ে যাচ্ছে ও শক্তি ক্ষয়ে যাচ্ছে ৷ এর চাইতে বরং নিজের

প্রতি কিছুটা লক্ষ্য রাখলেই আপনার জন্য ভাল হতো৷

ইয়৷ কুব বলল, আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর নিকট নিবেদন
করছি এবং আমি আল্লাহর নিকট থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জান না ৷ ’ অর্থাৎ পিতা
তার পুএদেরকে বলছেন : আমি যে দুঃখ-যাতনার মধ্যে আছি তার অনুযােগ না তোমাদের
কাছে করছি, না অন্য কারও কাছে বরং আমার অনুযােগ আল্লাহর কাছেই ব্যক্ত করছি আর
আমি জানি যে, আল্লাহ্ আমাকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দেবেন ও উদ্ধার করবেন ৷ আমি আরও
জানি যে, ইউসুফ (আ) এর স্বপ অবশ্যই৷ বাস্তবে পরিণত হয়ে এবং স্বপ্ন অনুযায়ী আমি ও
তোমরা তার উদ্দেশে সিজদারনত হবে৷ ৷ তা ৷ই তিনি বলেন: ১৷
’ মোঃ; (আমি আল্লাহর কাছ থেকে জানি যা তােমর৷ জান না ৷ ) তারপর তিনি পুত্রগণকে

ইউসুফ (আ) ও তার ভাইকে সন্ধান করার জন্যেও জনসমাজে তাদের ব্যাপারে আলোচনা
করার জন্যে উৎসাহিত করেন :

হে পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তা ৷র সহােদরের অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহর রহমত
থেকে নিরাশ হয়ো না ৷ কেননা আল্লাহর রহমত থেকে কাফির ব্যতীত কেউ নিরাশ হয় না ৷

অর্থাৎ কঠিন অবস্থার পর মুক্তি পাওয়ার আশা থেকে নিরাশ হয়ো না ৷ কেননা, বিপদ ও
সংকটের পর তা থেকে আল্লাহর রহমতে উদ্ধার পাওয়ার ব্যাপারে কেবলমাত্র কাফিরর৷ ই নিরাশ
হতে পারে ৷

যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হল তখন বলল, হে আষীয ! আমরা ও আমাদের
পরিবার-পরিজন বিপন্ন হয়ে পড়েছি এবং আমরা তুচ্ছ পণ্য নিয়ে এসেছি ৷ আপনি আমাদের
রসদ পুর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদেরকে দান করুন; আল্লাহ দাতাগণকে পুরস্কৃত করে থাকেন ৷
সে বলল, তোমরা কি জান, তোমরা ইউসুফ ও তার সহােদরের প্রতি কিরুপ আচরণ
করেছিলে ? যখন তোমরা ছিলে অজ্ঞ? ওরা বলল , তবে কি তুমিই ইউসুফ? সে বলল, আমিই
ইউসুফ এবং এ আমার সহােদর: আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ যে ব্যক্তি মুত্তাকী
এবং ধৈর্যশীল, আল্লাহ সেরুপ সত্কর্ম পরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না ৷ ওরা বলল, আল্লাহর
শপথ ! আল্লাহ নিশ্চয় তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আমরা নিশ্চয়ই অপরাধী
ছিলাম ৷ সে বলল, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই ৷ আল্লাহ তােমাদেরকে ক্ষমা
করুন এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু ৷ ওে ৷মরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও এবং এটি
আমার পিতার মুখমণ্ডলের উপর রাখবে ৷ তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন ৷ আর তোমাদের
পরিবারবর্গের সবাইকে আমার কাছে নিয়ে এস ৷’ ( ১ ২ ৮৮ ৯৩)

এখানে আল্লাহ ইউসুফ (আ) এর ভাইদের পুনরায় ইউসুফ (আ) এর কাছে গমন এবং
খাদ্যের বরাদ্দ ও অনুদান পাওয়ার আবেদন ও সেই সাথে বিনয়ামীনকে তাদের কাছে প্র৩ ৷র্পণর
অনুরোধ সম্পর্কে আলোচনা করছেন ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৬১-

(যখন তারা ইউসুফের৷ ক ৷ছে উপস্থিত হল তখন বলল, হে আযীয ! আমরা ও আমাদের
পরিবার-পবিজন বিপন্ন হয়ে পড়েছি ৷) বিপন্ন হওয়ার কারণ দৃর্ভিক্ষ, দুরবস্থু৷ ও সন্তানাদির
সংখ্যাধিক্য ৷এবং আমরা সামান্য কিছু পণ্য নিয়ে এসেছি ৷)
অর্থাৎ অতি নগণ্য পণ্যমুল্য-র্য৷ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি ছাড়া আমাদের থেকে গ্রহণ করার মত নয় ৷
নগণ্যের ব্যাথ্যায় কেউ বলেছেন, রদ্দী মুদ্রা; কেউ বলেছেন, কম পরিমাণ মুদ্র৷ আবার কেউ
বলেছেন, বাদাম, কফি বীজ ইত্যাদি ৷ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণিত, তা ছিল কয়েকটি
খড়ের বস্তা ও রশি এবং এ রকম আরও কিছু ৷

(আপনি আমাদের বরাদ্দ পুর্ণমাত্রায়এ দিন এবং আমাদেরকে দান করুন ৷ আল্লাহ
দাতাদেরকে পুরস্কৃত করে থাকেন ৷)

সুদ্দী বলেছেন, এখানে দান বলতে তাদের নগণ্য পণ্যমুল্য গ্রহণ করা বুঝানো হয়েছে ৷
ইবন জুরায়জ বলেন, এখানে দান করুন বলতে বুঝানো হয়েছে, আমাদের ভাইকে আমাদের
কাছে ফিরিয়ে দিন ৷ সুফয়ান ইবন উওয়ায়ন৷ বলেন, আমাদের নবীর জন্যে সাদকা গ্রহণ যে
হারাম করা হয়েছে, তার দলীল নেয়া হয়েছে এই আয়াত থেকে ৷ ইবন জারীর (বা) এটি বর্ণনা
করেছেন ৷ শেষে হযরত ইউসুফ (আ) যখন দেখলেন, তাদের অবস্থা এই; যা কিছু তারা নিয়ে
এস্যেছ তা ছাড়া আর কিছুই তাদের কাছে নেই, তখন তিনি নিজের পরিচয় দিলেন, তাদের
প্রতি দয়া প্রদর্শন করলেন এবং৩ তাদের ও নিজের প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা ৷উল্লেখ করেন ৷
এ সময় হযরত ইউসুফ (আ)-এর কপালের একদিকে যে তিল ছিল তা আনাবৃত করে
দেখড়ালেন, যাতে তারা তা ৷কে সনাক্ত করতে পারে ৷ তিনি বললেন:

(তোমরা কি জন, তোমরা ইউসুফ ও তার সহোদরের প্ৰতি কিরুপ আচরণ করেছিলে?
যখন তোমরা ছিলে অজ্ঞ ৷ তারা বলল,) এ কথা শুনে তারা অতি আশ্চর্যানিত হয়ে গেল এবং
বারবার ইউসুফের প্ৰতি তাকাতে থাকে ৷ কিন্তু তারা বুঝে উঠতে পারছিল৷ না যে, এ ব্যক্তিই
সে ৷ ঠুাট্র ৷ ন্ (তবে কি তুমিই ইউসুফ? সে
বলল, আমিই ইউসুফ এবং এই আমার সহোদর ভাই ৷) অর্থাৎ আমি সেই ইউসুফ যার সাথে
তোমরা ঐ আচরণ করেছিলে এবং পুর্বে যার প্ৰতি অত্যাচার করেছিলে ৷ ( এই
আমার ভাই) কথাটি পুর্বের কথাকে জোরালো করার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে এবং এদের দুই
ভাইয়ের প্ৰতি তাদের মনে যে হিং স৷ লুক্কায়িত ছিল আর যেসব ষড়যন্ত্র
বিরুদ্ধে পাকিয়েছিল যে দিকে এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে ৷৩ তাই তিনি বলেছেন: ,দ্বু ৰু;
এে£ এ৷ ৷ (আল্লাহ আমাদের প্রতি ৩অনুগ্রহ করেছেন ৷) অর্থাৎ আমাদের প্ৰতি আল্লাহর কৃপা,
দান, অনুকম্পা বর্ষিত হয়েছে ৷ আমাদেরকে তিনি সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ৷ আর
এটা আমাদেরকে দিয়েছেন তার প্ৰতি আমাদের আনুগত্য, তোমাদের নিপীড়নে ধৈর্যধারণ,
পিতার সাথে সদাচরণ ও আমাদের প্রতি পিতার মহব্বত ও স্নেহের বদৌলতে ৷

(যে ব্যক্তি মুত্তাকী ও ধৈর্যশীল ৷ আল্লাহ সেরুপ সৎকর্ম পরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন
না ৷ তারা বলল, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন ৷)

অর্থাৎ আল্লাহ তােমা৫ক মর্যাদা দান করেছেন, অনুগ্রহ করেছেন যা আমাদের প্রতি করেন (আমরা নিশ্চয়ই অপরাধী ছিলাম ৷) অর্থাৎ পুর্বে তোমার সাথে যা
করেছি তাতে আমরাই ছিলাম অপরাধী ৷ আর এখন তো তোমার সম্মু৫খই আমরা আসামীর

কাঠগড়ায় হাযির ৷ র্মুএে (সে বলল, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে
কোন অভিযোগ ৫নই ৷) অর্থাৎ তোমরা যা কিছু করেছ তার কোন প্ৰতিশো ৷ধ আমি ৫নব না ৷

এরপর আরও বাড়িয়ে বললেন (আল্লাহ

তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু) ৷ কারও কারও মতে
১৷ এর উপর ওয়াকফ (অর্থাৎ তোমাদের উপর কোন অভিযোগ নেই) এবং
আলাদা বাক্য (অর্থাৎ আল্লাহ আজ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন),

কিত্তু এ মত দুর্বল ৷ প্রথম মতই সঠিক ৷

তখন হযরত ইউসুফ (আ) নিজের পায়ের জামা তাদের কাছে দিয়ে বললেন, এটা অন্ধ
পিত ৷র চোখের ওপর রেখে দিও ৷ এতে আল্লাহর ইচ্ছায় তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে ৷ এ ছিল
প্রকৃতির সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম, নবুওতের আলামত ও বিরাট এক মুজিযা ৷ শেষে তিনি
ভাই৫দরকে তাদের পরিবার পরিজনসহ সসম্মা৫ন মিসরে চলে আসার জন্যে বলে দেন ৷

তারপর যাত্রীদল যখন বের হয়ে পড়ল তখন তাদের পিত ৷ বলল, তোমরা যদি আমাকে
অপ্রকৃতিস্থু মনে না কর তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি ৷ তারা বলল, আল্লাহর শপথ
আপনি তো আপনার পুর্ব বিভ্রাস্তি৫ইে রয়েছেন ৷ তারপর যখন সুসংবাদবাহক উপ ত হল
এবং তার মুখমণ্ড৫লর উপর জামাটি রাখল তখন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে পেল ৷ সে বলল, আমি
কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আল্লাহর কাছ থেকে জানি, যা তোমরা জান না? ওরা বলল
৫হ আমাদের পিত ৷ আমাদের পাপের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন ৷ আমরা ৫৩ ৷ অপরাধী ৷ ৫স
বলল , আমি আমার প্রতিপা ৷লকের কাছে তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব ৷ তিনি তো অতি
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷ (১২ : ৯৪ ৯৮)

আবদুর রাজ্জাক (র) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ওরু৷
-এর ব্যাখ্যার বলেছেন, কাফেলা যখন মিসর থেকে যাত্রা করে তখন একটি প্রবল বায়ু-প্রবাহ
ইউসুফ (আ)-এর আমার ঘ্রাণ ইয়াকুব (আ) এর কাছে নিয়ে পৌছায় ৷

(সে বলল, আ ৷মি অবশ্যই ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি যদি৫ তামর৷ আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না কর )
ছাওরী, শুবা (র) প্রমুখ বলেছেন, আট দিনের পথের দুরতৃ থেকেই তিনি এই ঘ্রাণ পান ৷
হাসান বসরী (র) ও ইবন জুরায়জ মকী (র) বলেছেন, ইয়াকুব (আ) ও কাফেলার মধ্যকার
দুরতৃ ছিল আশি ফারসাখের১ এব×ন্ ইউসুফ ৰুআ) এ-র নির্থোজকাল থেকে ঘ্রাণ পাওয়া পর্যন্ত
সময়ের ব্যবধান আশি বছর অর্থাৎ তোমরা ৷যদি বল যে, অতি বৃদ্ধ
হওয়ার ফলে আমি প্রলাপােক্তি করছি ৷ ইবন আব্বাস (রা ), আতা, মুজাহিদ, সাঈদ ইবন
জুবায়র ও কাতাদ৷ (র) বলেছেন : তোমরা আমাকে নির্বোধ
সাব্যস্ত করো ৷ মুজাহিদ ও হাসান (র) বলেছেনং অর্থ ণুপ্রুপ্রুও তোমরা ৷যদি

আমাকে অতিশয় বৃদ্ধ সাব্যস্ত করো ৷

তারা বলল, আল্পাহর শ্ পথ আপনি ৫৩ ৷ আপনার পুরনো বিভ্রাস্তির মধ্যেই রয়েছেন ৷’
কাতাদ৷ ও সুদ্দী (র) বলেন,৩ তারা এ কথা দ্বারা একটি শক্ত কথা ৷ই বলেছে ৷ আল্লাহ বলেন :

( তারপর যখন সুস ×বাদবাহক উপস্থিত হল এবং তার মুখঃমণ্ডলের উপর জামাটি রাখল
তখন তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন ৷) অর্থাৎ অতি স্বাভ৷ ৷বিকভ ৷বেই কেবল মুখমওলের উপর
ইউসুফ (আ) এর জামাটি৷ র ৷যার সাথেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে ৷ অথচ তিনি তখন ছিলেন অন্ধ ৷

ঐ সময় তিনি তাদেরকে বললেনঃ
(আমি কি তােমাদেরকে বলিনি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি, না তোমরা
জান না ৷) অর্থাৎ আমি জানি যে, আল্লাহ ইউসুফকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেবেন, আমার চক্ষু
তার দ্বারা ভাল হয়ে যাবে এবং করবেন ৷

(তারা বলল, হে পিতা৷ আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ৷করুন ৷ কেননা অবশ্যই
আমরা ছিলাম অপরাধী ৷ ) ৩ার৷ অপরাধমুলক যেসব কা জ ইতিপুর্বে করেছে এবং পিতা ও তার
পুত্র ইউসুফ (আ) এর কাছ থেকে তার মুকাবিলায় যে ব্যবহার পেয়েছে এবং ইউসুফ (আ) কে
তারা যা করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেসব ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার জন্যে
তারা পিতার কাছে আবেদন জানায় ৷৩ তাদের নিয়ত যখন তওবা করা অথচ তখনো তা কার্যকর
হয়নি তখন আল্লাহ তাদেরকে তও ৷ করার৩ তাওফীক্কু দান করেন এবং পিতা তাদের আবেদনে
সাড়া দেন এবং বলেন : আমি
আমার প্রতিপালকের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব ৷ তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু ৷

১ ফারসাখ বলতে প্রায় আট কিলোমিটার বোঝায় ৷
ইবন মাসউদ (রা) , ইবরাহীম আত্তায়মী, আমর ইবন কায়স, ইবন জুরায়জ (র) প্রমুখ
বলেছেন-হযরত ইয়াকুব (আ) পুত্রদের পক্ষে ইসতিপফার করার জন্যে শেষ রাত পর্যন্ত
অপেক্ষা করেন ৷ ইবন জারীর মুহারিব ইবন দীছার (র) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ;;
হযরত উমর (রা) মসজিদে নববীতে এসে জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনেন :

হে আল্লাহ আপনি আমাকে আহ্বান করেছেন, আমি সাড়া দিয়েছি; আপনি আমাকে
হুকুম করেছেন, অমি তা মেনে নিয়েছি ৷ এখন রাতের শেষ প্রহব; অতএব আপনি আমাকে
ক্ষমা করুন ৷ হযরত উমর (রা) গভীরভাবে উক্ত শব্দের প্রতি ৩লক্ষ্য করে বুঝতে পারলেন যে,
আওয়াজটি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর ঘর থেকে আসছে ৷ তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ
(রা) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন ৷ আবদুল্লাহ বলেনং হযরত ইয়াকুব (আ) পুত্রদের পক্ষে
প্রার্থনা করার জন্যে শেষ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন- তিনি বলেছিলেন: (আমি অচিরেই তোমাদের জন্যে আমার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব ৷)
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:৷ এ (যারা শেষ রাতে ক্ষমা
প্রার্থনা করে ৷ )

সহীহ হাদীসে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা ) বলেছেন: আমাদের প্রতিপালক প্রতিরাতে দুনিয়ার
আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন কে আছে তওবাক৷ রী? আমি তার তওব৷ কবুল
করব ৷ কোন প্রাঘাআছে কি? অমি তাকে দান করব ৷ আছে কোন প্রার্থনাকারী? অমি তার
প্রার্থনা মঞ্জুব্ করব ৷

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত ইয়াকুব (আ) তার পুত্রদের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনার
জন্যে জুমআর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন ৷ ইবন জারীর (বা) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন, রসুলুল্পাহ (সা ) বলেন : এটি আমার ভাই ইয়াকুব (আ) এর তার ছেলেদের উদ্দেশে
বলেছিলেন যতক্ষণ
না জুমআর রাত আসে ৷ উক্ত সনদে এ হাদীসটি খুবই অপরিচিত ৷ হাদীসটি মারকু হওয়ার
ব্যাপারেও বিতর্ক রয়েছে ৷ বরং এটা ইবন আব্বাস (রা ) এর মওকুফ হাদীস বা ৷নিজস্ব উক্তি
হওয়ার সন্তাবনাই অধিক ৷

তারপর ত ৷রা যখন ইউসুফের নিকট উপস্থিত হল, তখন সে তার পিতা-মাতাকে আলিঙ্গন করল
এবং বলল, আপনারা আল্লাহর ইচ্ছার নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন ৷ এবং ইউসুফ তার
পিতা-মাতাকে উচ্চাসনে বসাল এবং তারা সকলে তার সম্মানে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল ৷ সে
বলল, হে আমার পিতা ৷ এ হচ্ছে আমার পুর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা; আমার প্রতিপালক একে
সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেন এবং শয়তান আমার
ও আমার ভাইদের সম্পর্ক নষ্ট করবার পরও আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে এনে
দিয়ে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ আমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তা নিপুণতার সাথে করেন ৷
তিনি তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ৷ হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজ্য দান করেছ এবং
স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দািয়ছ ৷ হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা ৷ তুমিই ইহলােক ও পরলোকে
আমার অক্তিভ্রাবক ৷ তুমি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দাও এবং আমাকে সৎকর্য পরায়ণদের
অন্তর্ভুক্তকর ৷ (১২৪ ৯৯ ১০১)

এখানে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর প্রিয়জনদের সাথে পুন৪মিলনের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে ৷
বিচ্ছেদের সময়সীমা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত আছে ৷ কারও মতে ,আশি বছর ৷ কারও মতে,
তিরাশি বছর ৷ এ দুটি মতে র কথা হাসান (র) থেকে বর্ণিত হয়েছে ৷ কাতাদ৷ (র) এর মতে
পয়ত্রিশ বছর ৷ কিন্তু মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের মতে, বিচ্ছেদের কাল মাত্র আঠ৷ ৷র বছর ৷ আহলি
কিতাবদের মতে, এই সময় ছিল চল্লিশ বছর ৷ তবে ঘটনার উপর দৃষ্টিপাত করলে বিচ্ছেদকাল
খুব বেশি বলে মনে হয় না ৷ কেননা, মহিলাটি যখন ইউসুফকে ছলনা দিয়েছিল তখন
অনেকের মতে তিনি মাত্র সংত র বছরের যুবক ৷ তিনি আত্মরক্ষা করলেন ৷ ফলে কয়েক বছর
জেলখানায় থাকেন ৷ ইকরিমা প্রমুখের মতে, জেলখানায় থাকার সময়সীমা সাত বছর ৷ এরপর
প্রাচুর্যের সাত বছর অতিক্রান্ত হয় ৷ তারপর মানুষ দৃর্ভিক্ষের সাত বছরে পতিত হয় ৷ এর প্রথম
বছরে ইউসুফ (আ)-এর ভাইয়েরা খাদ্যের জন্য মিসরে আসে ৷ দ্বিতীয় বছরে তারা
বিনয়ামীনকে নিয়ে আসে ৷ আর তৃতীয় বছরে ইউসুফ (আ) নিজের পরিচয় দেন এবং
পরিবার পরিজনকে নিয়ে আসতে বলেন ৷ ফলে সে বছরেই ইউসুফ (আ) এর গোটা পরিবার
মিসরে তার কাছে চলে আছে ৷ এ হিসেবে মিলনকালে বয়স হয়েছিল ১ ৭ ৭ ৭ ৩-৩৪
বছর ৷ (তা ৷রপর যখন তারা ইউসুফের
কাছে উপস্থিত হল তখন সে তার পিতা-মাত ৷কে আলিঙ্গন করল ৷

অর্থাৎ ভাইদের থেকে আলাদা হয়ে ইউসুফ (আ) কেবল তার পিতা মাত ৷র সাথে একান্তে মিলিত হন ৷(এবং বলল৪ আপনারা আল্লাহর ইচ্ছায়
নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন ৷) কারো কারো মতে, এখানে বর্ণনা ঘটনানুক্রমিক নয় ৷ ঘটনা
ছিল, প্রথমে তিনি তাদেরকে মিসরে প্রবেশের জন্য স্বাগত সম্ভাষণ জানান, তারপর তাদেরকে
আলিঙ্গন করেন ৷ ইবন জ বীর (বা) এ বা৷থ্যাকে দুর্বল বলেছেন ৷৩ তার এ মম্ভবাকে উড়িয়ে
দেয়৷ যায় না ৷ ইমাম সুদ্দী (র) বলেছেন, যে, ইউসুফ (আ ) নিজে অগ্রসর হয়ে পিতা-মাতার
সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং পথে যেখানে তারা অবতরণ করেছিলেন সেখানে তাদের তাবুতে
গিয়ে তাদের আলিঙ্গন করেন ৷ তারপর সেখান থেকে যাত্রা ৷করে মিসরের প্রবেশ দ্বারের
সন্নিকটে পৌছলে ইউসুফ (আ) বললেন ৷ (আল্লাহর
ইচ্ছার আপনারা নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন ৷) তবে বলা যেতে পারে যে এ আঘাতের

ব্যাখ্যয়ে উক্তরুপ কথা সংযোজন না করেও পারা যায় এবং এর কোন প্রয়োজনও নেই ৷ যেমন

অর্থ প্রুন্শ্রো ৷প্রুদ্বু৷ বা ৷ অর্থাৎ আপনারা মিসরে বসবাস করুন
কিৎবা মিসরে অবস্থান করুন ৷ (আল্লাহ চাহেন তো নিরাপদ অবস্থায়
থাকবেন ৷) এ ব্যাখ্যা খুবই সঠিক ও সুন্দর ৷
আহলি কিতাবদের মতে, হযরত ইয়াকুব (আ) যখন বিলবীস এলাকায় জাশির নামক
স্থানে পৌছেন, তখন হযরত ইউসুফ (আ) তার সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে
আসেন ৷ ইয়াকুব (আ) নিজের আগমনবার্তা পৌছানাের জন্যে য়াহুয়াকে আগেই পাঠিয়ে দেন ৷

তারা আরও বলেছেন, মিসরের বাদশাহ ইয়াকুব (আ)-এর পরিবারকে অবস্থান গ্রহণ এবং
তাদের গৃহপালিত সমস্ত পশু ও মালপত্র নিয়ে থাকার জন্যে সম্পুর্ণ জাশির এলাকা তাদেরকে
ছেড়ে দেন ৷ একদল মুফাসৃসির উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ইউসুফ (আ) যখন হযরত ইয়াকুব
(আ) তথা ইসরাঈল-এর অন্যান্য সংবাদ শুনলেন, তখন তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্যে দ্রুত
বের হয়ে আসেন ৷ সেই সাথে ইউসুফ (আ) এর সহযোগিতা ও আল্লাহর নবী ইসরাঈলের
সম্মা ৷নার্থে বাদশাহ ও তার সৈন্যরা এগিয়ে আসে ৷ ইসরা ঈল বাদশাহর জন্যে দ্আ করেন ৷ নবী
ইয়াকুব (আ) এর আগমনের বরকতে আল্লাহ মিসরবাসীর উপর থেকে অবশিষ্ট বছরগুল্যের
দুর্তিক্ষ তুলে নেন ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

ইয়াকুব নবীর সাথে তার পুত্রগণ ও পুএদের সন্তান ও পরিজনসহ মোট কত লোক মিসরে

এসেছিলেন সে ব্যাপারে বিভিন্ন মত পাওয়া যায় ৷ আবু ইসহড়াক সাবিঈ (র) ইবন মাসউদ
(বা) এর বরাতে বলেন, এদের সংখ্যা ছিল তেষট্টি ৷ মুসা ইবন উবায়দ৷ (বা) আবদুল্লাহ ইবন
শাদ্দার বরাতে বলেছেন, তিরাশিজন ৷ আবু ইসহড়াক মাসরুক (বা) সুত্রে উল্লেখ করেছেন যে,
এরা যখন মিসরে প্রবেশ করেন তখন এদের সংখ্যা ছিল তিনশ’ নব্বই ৷ কিন্তু এরা যখন মুসা
(আ) এর নেতৃত্বে মিসর থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন তাদের যুদ্ধক্ষম যুবকের সংখ্যা ৷ই ছিল ছয়
লক্ষের উপরে ৷ আহলি কিতাবদের মতে, তারা সংখ্যায় ছিল সত্তরজন ৷ তারা এদের নামও
উল্লেখ করেছে ৷ আল্লাহর (এবং ইউসুফ তার
পিতা-মাতাকে উচ্চাসনে বসাল ৷) কেউ কেউ বলেছেন, ইউসুফের যা ঐ সময় জীবিত ছিলেন
না ৷ তাওরাতের পণ্ডিতগণের মতওত ৷ই ৷ কে ন কে ন মুফাসৃসির বলেছেন, ঐ সময় আল্লাহ
তাকে জীবিত করে দেন ৷ অপর এক দলের মতে, ইউসুফ (আ) এর খালার নাম ছিল না ইিলী ৷
খালাকে মায়ের স্থানে গণ্য করা হয়েছে ৷ ইবন জারীর (র) ও অন্যরা বলেছেন, কুরআনের
সুস্পষ্ট দাবি হল, ঐ সময় তার মা জীবিত ছিলেন ৷ সুতরাং এর বিরুদ্ধে আহলি কিতাবদের
মতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটাই শক্তিশালী মত ৷ আল্লাহ্ই
সর্বজ্ঞ ৷ পিতা-মাতাকে উচ্চাসনে উঠানাের অর্থ তাদেরকে নিজের কাছে সিৎহাসনে বসান ৷

এবং তারা সকলে তার সম্মানে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল) ৷ অর্থাৎ তার
পিতা-মাত ৷ ও আমার ভাই ইউসুফ (আ) এর সম্মানার্থে সিজদা ৷করেন ৷ এ রকম সিজদা করা
তাদের শরীয়তে ও পরবর্তী নবীদের শরীয়তে বৈধ ছিল: কিন্তু আমাদের শরীয়তে এটা নিষিদ্ধ
ঘো ৷ষিত হয়েছে ৷(সে বলল, হে আমার পিতা! এটাই আমার
পুর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা ৷) অর্থাৎ এটা সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা যা পুর্বে আমি আপনাকে শুনিঃয়েছিলাম
যে, এগারটি নক্ষত্র এবং সুর্য ও চন্দ্র আমাকে সিজদা করছে ৷ আপনি আমাকে এ স্বপ্ন গোপন
রাখার জন্যে বলেছিলেন এবং তখন আমাকে কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ৷

আমার প্রতিপালক তা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমার প্ৰতি অনুগ্রহ করেছেন ৷
কেননা, তিনি আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন ৷ ’

অর্থাৎ দুঃখ-বষ্টি ও সংকীর্ণতার পরে আমাকে শাসক বানিয়েছেন ৷ মিসরের যেখানে ইচ্ছা
সেখানেই আদেশ কার্যকরী করার ক্ষমতা দান করেছেন ৷
(আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে এসে দিয়েছেন ৷)

অর্থাৎ গ্রাম থেকে তারা ইবরাহীম খলীলুল্লাহর দেশের আরদ্বাত নামক এক নিভৃত মরু
পল্লীতে বসবাস করতেন ৷ ,ট্রন্ (শয়তান
আমার ও ভাইদের মাঝে সম্পর্ক নষ্ট করার পর ৷) অর্থাৎ তারা যেসব নিযাতনমুলক আচরণ
করেছিল যার বর্ণনা পুর্বে দেয়া হয়েছে তারপর নিশ্চয়
আমার প্ৰতিপালক যা ইচ্ছা করেন তা নিপুণতড়ার সাথেই সম্পন্ন করেন ৷) অর্থাৎ তিনি যখন
কোন কিছু করার ইচ্ছা করেন তখন তা বাস্তবায়নের উপায় বের করেন ও এমন সহজ সরল
পদ্ধতিতে সম্পন্ন করেন যা মানুষের ধরা ছোয়ার বাইরে ৷ বরং তিনি নিজেই তা নির্ধারণ করেন
এবং তার নিজ কুদরতে সুক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করেন ৷ (তিনিই তাে সর্বজ্ঞ ৷)
সকল বিষয়ে অবগত(প্রজ্ঞাময) ৷ অর্থাৎ পরিকল্পনা গ্রহণে, পদ্ধতি নির্ধারণে ও
বাস্তবায়নে তিনি প্রজ্ঞাশীল ৷

আহলি কিতাবদের মতে, হযরত ইউসুফ (আ)-এর কর্তৃত্বে যত খাদ্য রসদ ছিল তা তিনি
মিসরবানী ও অন্যদের কাছে সকল প্রকার জিনিসের বিনিময়ে বিক্রি করেন ৷ যেমন স্বর্ণ, রৌপ্য,
যমীন, আসবাবপত্র ইত্যাদি; এমনকি তাদের জীবনের বিনিময়েও বিক্রি করেছেন ৷ ফলে তারা
সবাই ক্রীতদাসে পরিণত হয় ৷ এরপর তিনি তাদের ব্যবহারের জন্যে তাদের জমি-জিরাত
ছেড়ে দেন এবং তাদেরকে এই শর্তে যুক্তি দেন যে, তারা যে সব ফসল ও ফল উৎপন্ন করবে
তার এক-পঞ্চমাংশ রাজস্ব দেবে ৷ এটাই পরবর্তীকালে মিসরের স্থায়ী প্রথার পরিণত হয় ৷

সালাবী (র) বলেছেন, দুর্তিক্ষের সময়ে হযরত ইউসুফ (আ) ক্ষুধার্ত্যদর কথা তুলতে
পারতেন না ৷ দুর্তিক্ষকালে তিনি কখনও পেট, ভরে খেতেন না ৷ প্রভ্যহ দুপুরে তিনি মাত্র এক
লুকমা খাবার থেতেন ৷ তার দেখড়াদেখি ঐ সময়ে অন্যান্য দেশের রাজরাজড়ারা-ও এই নীতি
অনুসরণ করেন ৷ আমি বলি, আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর (না)-ও তার আমলে দৃর্ডিক্ষের
বছরে পেট ভরে আহার করেন নি ৷ দৃর্ভিক্ষের পর সক্ষ্মতো ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি এ নিয়ম
পালন করেছেন ৷ ইমাম শাফিঈ (র) বলেন, দৃর্ডিক্ষ কেটে যাওয়ার পর জনৈক বেদুঈন হযরত
উমর (রা)-কে জানায় যে, দুর্তিক্ষ দুর হয়েছে ৷ আপনি এখন মুক্ত স্বাধীন ৷

এরপর হযরত ইউসুফ (আ) যখন দেখলেন যে, তার প্ৰতি আল্লাহর অনুগ্রহ পরিপুর্ণ
হয়েছে, তার আশা-আকাঙক্ষা পুর্ণ হয়ে গেছে, তখন উপলব্ধি করলেন যে, এই পৃথিবীর কােনই
স্থায়িৎ নেই ৷ এর উপরে যা কিছু আছে সবই ধ্বংস হয়ে ৷ আর পুর্ণতার পরেই আসে ক্ষয়ের
পালা তখন তিনি আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন ৷
আল্লাহর অনেক অনুগ্রহ ও করুপার কথা স্বীকার করলেন এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান এবং
সৎলােকদের অন্তর্ভুক্ত রাখার জন্য দুআ করেন ৷ তার এ দৃআ ছিল এমন পর্যায়ের, যেমন অন্যান্য সময় (হে
আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলিমরুপে জীবিত রাখুন এবং মুসলিমরুপে মৃত্যু দান করুন) অর্থাৎ
যখন আপনি আমাদেরকে মৃত্যু দিবেন, তখন যেন আমরা মুসলমান থাকি ৷ এমনও বলা যায়
যে, তিনি এ দুআ করেছিলেন মৃত্যু-শয্যায় থাকা অবস্থায় ৷ যেমনিভাবে রসুলুল্লাহ (সা) তার
মৃত্যু-শয্যায় থেকে প্রার্থনা করেছিলেন ৷ তার রুহকে উর্ধ জগতে উঠিয়ে নিতে ও নবী-রাসুল ও
সালিহীনদের অন্তর্ভুক্ত করতে ৷ রসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন
এ দুআ তিনবার বলার পর তিনি ইনতিকাল করেন ৷

এমনও হতে পারে, হযরত ইউসুফ (আ) শরীর ও দেহের সুস্থ থাকা অবস্থায় উপর
ইসলামের সাথে মৃত্যু কামনা করেছিলেন ৷ আর এটা তাদের শরীয়তে বৈধ ছিল ৷ হযরত ইবন
আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত : অর্থাৎ হযরত
ইউসুফ (আ)-এর পুর্বে কোন নবী মৃত্যু কামনা করেননি ৷ কিংন্থ আমাদের শরীয়তে মৃত্যু কামনা
করতে নিষেধ করা হয়েছে ৷ তবে, ফিৎনাফাসাদের সময় তা জায়েয আছে ৷ যেমন ইমাম
আহমদ (র) হযরত মুআয (রা)এর দুআ সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন : হে আল্লাহ!
আপনি যখন কোন সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলতে চান তখন ঐ পরীক্ষায় আমাকে না (ফলেই
আপনার কাছে উঠিয়ে নিন ৷
অন্য এক হাদীসে আছে ; হে আদম সন্তান! ফিৎনায় জড়িয়ে পড়ার চেয়ে মৃত্যুই তোমার জন্যে
ণ্শ্রয় ৷

হযরত মারয়াম (আ) বলেছিলেন :

(হায়, আমি যদি এর পুর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতড়াম ৷
(সুরা মারয়াম ও ২৩) হযরত আলী (রা) ইবন আবি তালিবও মৃত্যু কামনা করেছিলেন তখন,
যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে ওঠে, ফিৎনা-ফাসাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, হত্যা সস্ত্রড়াস বিস্তার
লাভ করে এবং সর্বত্র সমালোচনার চর্চা হতে থাকে ৷ সহীহ্ বুখারী সংকলক ইমাম আবু
আবদুল্লাহ বুখারী (র)ও মৃত্যু কামনা করেছিলেন, যখন তার ৰিরোধীরা সর্বত্র বিরোধিতার
বিভীষিকা ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং তিনি অত্যধিক মানসিক যাতনায় ভুগছিলেন ৷

স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যু কামনা সম্পর্কে ইমাম বুখারী (র) ও ইমাম মুসলিম (র) র্তাদের

সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে আছে
রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :

বিপদে ও দুঃখে পড়ে তোমরা মৃত্যু কামনা করো না ৷ কেননা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যদি
নেককার হয়, তাহলে তার নেকী বেড়ে যাবে ৷ আর যদি সে পড়াপিষ্ঠ হয় তাহলে তার পাপ কমে
যাবে ৷ বরং এ রকম বলা উচিত যে, হে আল্লাহ! যতদিন বেচে থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর

অলেবিদায়া ওয়ান নিহায়া মোঃত্তোখাে০ওেয়াে

হয় ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন ! আর মৃত্যু যখন আমার জন্যে মঙ্গলময় হয় তখন আমাকে
মৃত্যু দান করুন ৷

এখানে ,×১ বলতে মানুষের দেহের রোগ বা অনুরুপ অবস্থা বোঝান হয়েছে, দীন
সম্পফীয়ি নয় ৷ এটা স্পষ্ট যে, হযরত ইউসুফ (আ) মৃত্যু কামনা করেছিলেন তখন, যখন তিনি
মৃত্যু-শয্যায় শায়িত কিৎব৷ তার নিকটবর্তী হয়েছিলেন ৷ ইবন ইসহাক (র) আহলি কিতাবদের
উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে, হযরত ইয়াকুব (আ) মিসরে পুত্র ইউসুফ (আ)-এর কাছে সতের
বছর থাকার পর ইনতিকাল করেন ৷ মৃত্যুকালে তিনি ইউসুফ (আ) এর কাছে ওসীয়ত করে য়ান
যে, তাকে যেন তার পিতৃ-পুরুষ ইবরাহীম (আ) ও ইসহাক (আ) এর পাশে দাফন করা হয় ৷
সুদ্দী (র) লিখেন যে, হযরত ইউসুফ (আ) ধৈর্যের সাথে এ ওসীয়ত পালন করেন ৷ পিতার
মৃতদেহ তিনি সিরিয়ার পাঠিয়ে দেন এবং পিতা ইসহাক (আ) ও পিতামহ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ
(আ)-র কবরের পাশে একই গুহায় তাকে দাফন করা হয় ৷

আহলি কিতাবদের মতে, হযরত ইয়াকুব (আ) যখন মিসরে যান তখন তার বয়স ছিল
একশ ত্রিশ বছর ৷ তাদের মতে, তিনি মিসরে সতের বছর জীবিত থাকেন ৷ ( ১৩০ ১ ৭ ১৪ ৭
বছর) ৷ কিত্তু এতদসত্বেও তারা হযরত ইয়াকুব (আ)-এর বয়স লিখেছে সর্বমোট এফশ’ চল্লিশ
বছর ৷ এ কথা তাদের কিভাবে লিখিত আছে ৷ নিঃসন্দেহে এটা তাদের ভুল ৷ এটা হয় লিপিগত
ভুল কিৎব৷ তাদের হিসােবর ভুল অথবা তারা চল্লিরুশর উপরের যুচরা বছরগুলোকে ছেড়ে
দিয়েছে ৷ কিন্তু এ রকম করা তাদের নীতি নয় ৷ কেননা, অনেক স্থানে তারা খুচরা সংখ্যাসহ
উল্লেখ করেছে ৷ এখানে কিভাবে এর ব্যতিক্রম করল তা বোধগম্য নয় ৷

আল্লাহ কুরআনে বলেন :

তবে কি তোমরা উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের
বলল : আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলল : আমরা আপনার পিতৃপুরুয
ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদত করব ৷ তিনি একক উপাস্য ৷ আর আমরা
সবা তার কাছে আত্মসমর্পণকারী ৷ (সুরা বাকারা : ১৩৩)

হযরত ইয়াকুব (আ) আপন সম্ভানদেরকে যে খালিস দীনের প্রতি ওসীয়ত করেন, তা হল
দীন ইসলাম ৷ যে দীনসহ সমস্ত নবীকে তিনি প্রেরণ করেছেন ৷ আহলি কিতাবরা উল্লেখ করে,
হযরত ইয়াকুব (আ)৩ তার পুত্রদেরকে একজন একজন করে ওসীয়ত করেন এবং তাদের
অবস্থা ভবিষ্যতে কেমন হবে সে সম্পর্কে অবহিত করেন ৷ পুত্র ইয়াহুযাকে তিনি তার বংশ
থেকে এক মহান নবীর আগমনের সু-সংবাদ দেন ৷ বংশের সবাই তার আনুগত্য করবে ৷ তিনি
হলেন সায়িদ্রদিন৷ ঈসা ইবন মারয়াম (আ) ৷ আ ৷ল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

আহলি কিতাবদের বর্ণনা মতে, হযরত ইয়াকুব (আ) এর মৃত্যুতে মিসরৰাসী সত্তর দিন
পর্যন্ত শোক পালন করে ৷ হযরত ইউসুফ (আ) চিকিৎসা বিদ দেরকে উৎকৃষ্ট সুগন্ধি দ্বারা পিতার

মরদেহকে অক্ষুগ্ন রাখতে আদেশ দিলে তারা তাই করে ৷ এভাবে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয় ৷
অতঃপর হযরত ইউসুফ (আ) মিসরের বাদশাহব কাছে এই মর্মে মিসরের বাইরে যাওয়ার
অনুমতি চান যে, তিনি পিতাকে পিভু-পুরুষদের পাশে দাফন করবেন ৷ বাদশাহ অনুমতি
দিলেন ৷ ইউসুফ (আ)-এর সাথে মিসরের গণ্যমান্য ও প্রভাবশালী লোকদের এক বিরাট দল
গমন করে ৷ হিবরুন (হেব্রন) নামক স্থানে পৌছে পিতাকে সেই গুহায় দাফন করেন, যে গুহাটি
হযরত ইব্রাহীম (আ) ইফরুন ইবন সাখার-এর কাছ থেকে খরীদ করে নিয়েছিলেন ৷ সাতদিন
তথায় অবস্থান করার পর সকলেই স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন ৷ পিতার মৃত্যুতে ইউসুফ
(আ)-এর ভাইগণ ইউসুফ (আ)-কে অত্যধিক সান্তুনা দেন ও সম্মান দেখান ৷ ইউসুফ (আ)-ও
তাদেরকে সম্মানিত করেন এবং প্রত্যাবর্তনের পর উত্তমভাবে তাদেরকে মিসরে থাকার ব্যবস্থা
করেন ৷ এরপর আসে হযরত ইউসুফ (আ)-এর অন্তিমকাল ৷ মৃত্যুকালে তিনি স্ব-বংশীয়দেরকে
ওসীয়ত করে যান যে, তারা যখন মিসর থেকে বের হয়ে যাবেন তখন যেন তার লাশও মিসর
থেকে সাথে করে নিয়ে যান এবং বাপ-দাদার কবরের পাশে র্তাকেও যেন দাফন করা হয় ৷
ফলে মৃত্যুর পরে হযরত ইউসুফ (আ)-এর লাশ সুপন্ধি দ্বারা আবৃত করে একটি সিন্দুকে পুরে
মিসরে রেখে দেওয়া হয় ৷ হযরত মুসা (আ) যখন বনী ইসরাঈলকে নিয়ে মিসর থেকে বেরিয়ে
আসেন, তখন ঐ সিন্দুকও নিয়ে আসেন এবং তার পিতৃ-পুরুষদের পাশে দাফন করেন ৷ পরে এ
সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ৷ অড়াহলি কিতাবদের মতে, মৃত্যুকড়ালে হযরত ইউসুফ (আ)-এর
বয়স হয়েছিল একশ’ দশ বছর ৷ আহলি কিতাবদের এই লেখাটি আমি দেখেছি এবং ইবন
জারীর (র)ও তা নকল করেছেন ৷ মুবারক ইবন ফুযালা হাসান সুত্রে বর্ণনা করেছেন : ইউসুফ
(আ)-কে যখন কুয়ায় নিক্ষেপ করা হয়, তখন তার বয়স ছিল সতের বছর ৷ পিতার কাছ থেকে
অনুপ ত ছিলেন আশি বছর এবং পিতার সাথে মিলনের পরে জীবিত ছিলেন তেইশ বছর ৷
সুতরাং মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ( ১ ৭৮০২৩) একশ বিশ বছর ৷ অন্যদের মতে ,
মৃত্যুকালে তিনি তার ভাই ইয়াহুযাকে ওসীয়ত করে যান ৷

হযরত আইয়ুব (আ) এর ঘটনা

ইবন ইসহাক (র) বলেন, হযরত আইয়ুব (আ) ছিলেন রোমের বাসিন্দা ৷ তার বংশপঞ্জি
নিম্নরুপ : আইয়ুব ইবন মুস, ইবন যারাহ ইবনুল ঈস ইবন ইসহাক ইবন ইব্রাহীম আল-খলীল
(আ) ৷ কেউ কেউ বলেছেন, তার বংশ তালিকা এভাবে : আইয়ুব ইবন মুস ইবন রাবীল
ইবনুল ঈস ইবন ইসহাক ইবন ইয়াকুব (আ) ৷ কোন কোন ঐতিহাসিক অন্যরুপ লিখেছেন ৷
ইবন আসাকির (র) লিখেছেন, আইয়ুব নবীর মা ছিলেন হযরত লুত ৷ আ)-এর কন্যা ৷ কেউ
কেউ বলেছেন, হযরত আইয়ুব (আ)-এর পিতা সেই ঈমানদারদের একজন যারা হযরত
ইব্রাহীম (আ) কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের দিন ঈমান এসেছিলেন ৷ কিস্তু প্রথম মতটাই অধিক
৷ প্রসিদ্ধ ৷ কেননা, তিনি ছিলেন ইব্রাহীম (আ) এর অধংস্তন বংশধর ৷ এ বিষয়ে আমরা নিম্নোক্ত
আয়াতের তাফসীরে বিস্তারিত লিখেছি ৷ যথাং :

আর তার (ইব্রাহীমের) বংশ ধরদের মধ্যে রয়েছে দাউদ, সুলায়মড়ান, আইয়ুব, ইউসুফ,
মুসা ও হারুন ৷ (৬ : ৮৪)
সঠিক মত এই যে গ্লু৷ বলতে ইব্রাহীম (আ)-এর বংশধরদের বোঝানো হয়েছে; নুহ

(আ)-এর বংশধর নয় ৷ হযরত আইয়ুব (আ) সেসব নবীর অন্যতম যাদের নিকট ওহী পাঠানো

হয়েছে বলে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ যেমন ং

তোমার কাছে ওহী প্রেরণ করেছি যেমন নুহ ও তার পরবর্তী নবীগণের কাছে প্রেরণ
করেছিলাম ৷ ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও ত ৷র বংশ ধরণ ণ, ঈস৷ , অ ৷ইয়ুব, হারুন
এবং সুলায়মানের কাছে ওহী প্রেরণ করেছিলাম ৷ (৪ : ১৬৩)
অতএব, বিশুদ্ধ মত এই যে, হযরত আইয়ুব (আ) ছিলেন ঈসা ইবন ইসহাক (আ )-এর
বংশধর ৷ তার ত্রীর নামের ব্যাপারেও বিভিন্ন মত পাওয়া যায় ৷ কারও মতে, লায়্যা বিনত
ইয়াকুব ৷ কারও মতে, রুহমাহ বা রাহিমাহ বিনত আফরাইম ৷ কারও মতে, মানশা বিনত
ইউসুফ ইবন ইয়াকুব ৷ শেষোক্ত মতা২ বেশি প্রসিদ্ধ ৷ এই কারণে আমরা এখানে এই মতেরই
উল্লেখ করেছি ৷ হযরত আইয়ুব (আ)-এর ঘটনা বলার পর আমরা বনী ইসরাঈলের অন্যান্য

Leave a reply