হযরত দউদ (আ)-এর কিংরণ

হযরত দাউদ (আ) এর বিবরণ

তার ফযীলত, কর্মকাণ্ড, নবুওতের দলীল-প্ৰমাণ ও ঘটনাপঞ্জি

নবী হযরত দ উদ (আ) এর বংশতালিকা নিম্নরুপ৪ দ উদ ইবন ঈশা ইবন আবীদ
ইবন আবির (প্রুা ) ইবন সালমুন ইবন নাহ্শুন ইবন আবীনাযিব
ইবন ইরাম ইবন হাসীরুন ইবন ফারিয ইবন য়াহযা ইবন ইয়া কুব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম
খলীলুল্পাহ (আ) ৷ হযরত দাউদ (আ) ছিলেন আল্লাহর বান্দা তার নবী এবং বায়তুল মুকাদ্দাস
এলাকায় তার খলীফা ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক কতিপয় আলিংমর সুত্রে ওহাব ইবন মুনাব্বিহ
থেকে বর্ণনা করেছেন ;; হযরত দাউদ (আ) ছিলেন ঘেটেঙ্গু তার চক্ষুদ্বয় ছিল নীলাত ৷ তিনি
ছিলেনাল্প কেশ বিশিষ্ট এবং পুত-পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী ৷ ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে
হযরত দাউদ (আ) জালুত বাদশাহকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে হত্যা করেন ৷ ইবন আসাকিবের বর্ণনা মতে ,
এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল মারাজুস সাফার নামক এলাকার সন্নিকটে উম্মে হাকীমের
প্রাসাদের কাছে ৷ এর ফলে বনী ইসরাঈলের লোকজন দাউদ (আ)-এর প্রতি আকৃষ্ট এবং তাকে
ভালবাসতে থাকে এবং তাকে শাসকরুপে পাওয়ার আকাক্ষো প্রকাশ করতে থাকে ৷ ফলে তালুত
যে ভুমিকা গ্রহণ করেন, একটু আগেই তা উল্লেখ করা হয়েছে ৷ রাজ্যের নেতৃতৃ ও কর্তৃতৃ হযরত
দাউদ (আ) এর উপর ন্যস্ত হয় ৷ এতা বে আল্লাহ তাআলা দ উদ (আ) এর ক্ষেত্রে বাদশাহী ও
নবুওত তথা দুনিয়া ও আখিরাবুত তর কল্যাণ একত্রিত করে দেন ৷ ইতিপুর্বে বাদশাহী থাকত
বনী ইসরাঈলের এক শাখার হাতে আর নবুওত থাকত অন্য আর এক শাখার মধ্যে ৷ কিন্তু
আল্লাহ তাআলা এখন উভয়টিই হযরত দাউদ (আ)-এর মধ্যে একত্রিত করে দিলেন ৷ যেমন

আল্লাহ তাআলা বলেন০ ং

দাউদ জালুতকে সংহার করল; আল্লাহ তাকে রাজতৃ ও হিকমত দান করলেন; এবং যা
তিনি ইচ্ছে করলেন তা তাকে শিক্ষা দিলেন ৷ আল্লাহ যাদি মানব জাতির এক দলকে অন্য দল
দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত ৷ কিস্তু আল্লাহ জগতসমুহের প্রতি
অনুগ্নহশীল ৷ (২ বাকারাষ্ ং ২৫১)
অর্থাৎ যদি শাসনকতা রুপে বাদশাহ নিযুক্তির ব্যবস্থা না থাকত তাহলে সমাজের শক্তিশালী
লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিত ৷ এ জন্যে কোন কোন বর্ণনায় রছেছে
ধ্৯ ) এে১ ৫া ! এা; গ্লু,াণ্া ৷ অর্থাৎ আল্লাহর যমীনে শাসনকর্তা তীর ছায়ারুপ ৷
আমীরুল মু’মিনীন হযরত উছমান ইবন আফ্ফান (রা) বলেছেন ?

অর্থাং আল্লাহ শাসনকর্তা দ্বারা এমন অনেক কিছু দমন করেন, যা কুরআন দ্বারা করেন না
ইবন জ বীর তার ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখে করেন, বাদশাহ জালুত রণ ক্ষেত্রে সৈন্য ব্যুহ থেকে
বেরিয়ে এসে মল্লষুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্যে ত লু-তকে আহ্বান জানায় ৷ কিন্তু তালুত নিজে
অংশগ্রহণ না করে জালুতের মুকারিলা করার জন্য আপন সৈন্যদের প্রতি আহ্বান জানায় ৷
দাউদ (আ) সে আহ্বাদুন সাড়া দিয়ে জালুতকে হত্যা করেন ৷ ওহাব ইবন মুনড়াব্বিহ বলেন
ফলে লোকজন দাউদের প্রতি ঝুকে পড়ে এমনকি শেষ পর্যন্ত তালুতের কথা কেউ মুদুখই
আনতে৷ না ৷ তারা তালুতকে পরিত্যাগ করে দাউদের দুনতৃতু বরণ করে নেয় ৷ কেউ কেউ
বলেছেন, নেতৃত্বের এ পরিবর্তন শামুয়েল নবীর আমলে হয়েছিল ৷ কারও কারও মতে জালুতের
সাথে যুদ্ধের ঘটনার পুর্বেই শামুয়েল (আ) হযরত দাউদদুক শাসক নিযুক্ত করেন ৷ ইবন জারীর
অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মত বর্ণনা করে লিখেছেন যে, জালুত বাদশাহ নিহত হওয়ার পরেই
হযরত দাউদ (আ)-এর হাতে নেতৃতু আসে ৷ ইবন আসাকির সাঈম ইব ন আবদুল আযীয সুত্রে
বর্ণনা করেছেন যে, হযরত দাউদ (আ) কাসৃরে উম্পেয হাকীদুমর নিকট জালুতকে হত্যা
করেছিলেন ৷ ঐ স্থানে যে নদীটি অবস্থিত তার উল্লেখ স্বয়ৎ কুরআনের আয়াদু৩ ই বিদ্যমান
আছে ৷ দাউদ (আ) প্রসৎদুগ কুরআনের অন্যত্র আল্লাহর বাণীং :

আমি নিট্চয় দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং আদেশ করেছিলাম, হে পর্বতমালা !
তোমরা দাউদের সৎদু দুগ আমার পবিত্রত৷ ঘোষণা কর এবং বিহৎগকুলদুকও, তার জন্যে নমনীয়
করেছিলাম লোহা, যাতে তুমি পুর্ণ মাপের বর্ম ভৈত বি করতে এবং বৃননে পরিমাণ রক্ষা করতে
পার এবং তোমরা সৎকর্ম কর ৷ দুতামর৷ যা কিছু কর, আমি তার সম্যক দ্রষ্ট৷ (৩৪ সারা
৪১ :-১ ১ ) ৷ আল্লাহ অন্যত্র বলেনং :
আমি পর্বত ও বিহৎগকুলের জন্যে নিয়ম করে দিয়েছিলাম যেন ত ৷রা দা ৷উদের সং গে আমার
পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা করে; এ সবের কর্তা আমিই ছিলাম ৷ আমি তাকে তোমাদের জন্যে
বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে তােমাদেরকে রক্ষা করে; সুতরাং
তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না? (২১ : আন্বিয়৷ : ৭৯-৮০)
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর আক্রমণ থােক আত্মরক্ষার জন্যে আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-দুক লোহা
দ্বারা বর্ম তৈরি করতে সাহায্য করেন এবং তাকে তা তৈরি করার নিয়ম-পদ্ধতিও শিক্ষা দেন ৷
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেনা,পু ! ষ্প্ এাহুএ এবৎ বুনন কাজে পরিমাণ রক্ষা কর

-অথাৎ বুননটা এত সুক্ষ্ম হবে না যাতে র্ফাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আ র এতটা মাে ৷৷ট ৷ও হবে
না যাতে ভেঙ্গে যেতে পারে ৷ মুজা ৷হিদ, ক ৷তাদা, হাকাম ও ইকরীমা এ তাফসীরই করেছেন ৷

হাসান বসরী, কাতাদা ও আ মাশ বলেছেন, আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-এর জন্যে
লােহাকে এমনভাবে নরম করে দিয়েছেন যে, তিনি হাত দ্বারা যেমন ইচ্ছা পেচাতে ও ভাজ
করতে পারতেন; এ জন্যে তার আগুন বা হাতুড়ির প্রয়োজন হত না ৷ কাতাদা বলেন,
হযরত দাউদ (আ) এই প্রথম মানুষ, যিনি মাপজে ক মত আং টা ব্যবহার করে লৌহ বর্ম
নির্মাণ করেন ৷ এর আগে লোহার পাত দ্বারা বর্মের কাজ চালান হত ৷ ইবন শাওযাব বলেন,
তিনি প্রতি দিন একটি করে বর্ম ভৈত বি করতেন এবং ছয় হাজার দিরহামের বিনিময়ে
বিক্রি করতেন ৷ হাদীসে এসেছে, মানুষের পবিত্রতম খাবার হল যা সে নিজে উপার্জন করে ৷
৷ ৷অ) আর আল্লাহর নবী হযরত দাউদ (আ) নিজের
হাতে উপার্জিত খাদ্য দ্বারা জীবিকা বিবাহ করতে ন ৷ আল্লাহর বাণী৪

এবং স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদের কথা; র্সে ছিল অতিশয় আল্লাহ
অভিমুখী ৷ আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে যেন এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে
আমার পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা করে এবং সমবেত ৰিহৎগকুলকেও; সকলেই ছিল তার
অনুগত ৷ আমি তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী
তা (৩৮ সাদ ১৭ ২০) ৷
ইবন আব্বাস (রা) ও মুজা ৷হিদ (র) বলেন, আয়াতে উল্লেখিত ১ ১৷ ৷ অর্থ ইবাদত করার
শক্তি ৷ অর্থাৎ তিনি ছিলেন ইবাদত ও অন্যান্য সৎকাজে অত তস্তে শক্তিশালী ৷ ক ৷তাদা (ব ) বলেন,
র্তাকে আল্লাহ ইবাদত করতে দিয়েছিলেন শক্তি এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে দিয়েছিলেন
গভীর জ্ঞান ৷ কাতাদা (র) আরও বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, দাউদ
(আ) রাতের বেলা র্দাড়িয়ে ইবাদত করতেন এবং বছরের অর্ধেক সময় রোয৷ বাখতেন ৷ বুখারী
ও মুসলিমে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুল (সা) বলেছেন : আল্লাহর নিকট ঐরুপ নামায
সবচেয়ে প্রিয় যেরুপ নামায হযরত দাউদ পড়তেন এবং আল্লাহর নিকট ঐরুপ রোযা সবচেয়ে
পছন্দনীয় যেরুপ রােয৷ হযরত দাউদ (আ) রাখতেন ৷ তিনি রাতের প্রথম অর্ধেক ঘুমাতেন
তারপরে এক তৃতীয়াংশ ৷নামাযে কাটাতেন এবং শেষে এক ষষ্ঠাংশ ৷পুনরায ঘুমিয়ে কাটাতেন ৷
তিনি এক দিন রােযা রাখতেন এবং একদিন রােয৷ থাকতেন না ৷ আর শত্রুর মুকাবিলা হলে
কখনও ভয়ে পালাতেন না ৷ ত ই আয়াতে বলা হয়েছে৪ “আমি পর্বত মালাকে নিয়োজিত
করছিলাম যেন তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রত৷ ঘোষণা করে ৷ আর পক্ষীকুলকেও,
যারা তার কাছে সমবেত হত ৷ সবাই ছিল তার অনুগত ৷ ” সুরা সাবায় যেমন বলা হয়েছে০
ঠুট্রণ্৷ ৷ টু ধ্ট্রঢ় ংমুেষ্টু৷ ৰুঢ় ট্রু হে পর্বতমালা ৷ তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা

ঘোষণা কর এবং বিহংগকুলকেও ৷ অর্থাৎ তার সাথে তাসবীহ পাঠ কর ৷ ইবন আব্বাস, মুজাহিদ
প্রমুখ এ আঘাতের তাফসীর এভাবেই করেছেন ৷ অর্থাৎ তারা দিনের সুচনা লগ্রে ও শেষ ভাগে

তাসবীহ পাঠ করত ৷ হযরত দাউদ (আ ) কে আল্লাহ এমন দরাজ কষ্ঠ ও সুর মাধুর্য দান
করেছিলেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে দান করেননি ৷ তিনি যখন তার প্রতি অবতীর্ণ যাবুর
কিতা ৷ব সুর দিয়ে পাঠ করতেন তখন আকাশে উডচীয়মান বিহ-ংগকুল সুরের মুছনায় থমকে
দাড়াত এবং দাউদের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে আবৃত্তি করত ও তার সাথে তাসবীহ পাঠ করত ৷
এভাবেই তিনি সকাল সন্ধ্যায় যখন তাসবীহ পাঠ করতেন তখন পান্ খ্াড়পর্বতও তার সাথে
তাসবীহ পাঠে শরীক হত ৷ আ ৷ওযাঈ বলেছেন, হযরত ৩দাউদ (আ)ণ্,ক এমন সুমধুর কণ্ঠস্বর
দান করা হয়েছিল যেমনটি আর কাউকে দান করা হয়নি ৷ তিনি যখন আল্লাহর কিতাব পাঠ
করতেন তখন আকাশের পাখী ও বনের পশু তার চার পাশে জড়ো হয়ে যেত ৷ এমনকি প্রচণ্ড
ক্ষুধায় ও তীব্র পিপাসায় তারা যে স্থানে মারা যেত কিভৃ নড়াচড়৷ করত না ৷ শুধু এরাই
নয়,নদীর পানির প্রবাহ পর্যন্ত থেমে যেত ৷ ওহাব ইবন মুনাব্বিহ বলেছেন, দাউদ (আ )-এর
কণ্ঠস্বর যেই শুনত লাফিয়ে উঠত এবং কণ্ঠের তালে তালে নাচতে গুরু করত ৷ তিনি যাবুর
এমন অভুতপুর্ব কণ্ঠে পাঠ করতেন যা ৷কােন দিন কেউ শুনেনি ৷ সে সুর শুনে জিন ইনস
পক্ষীও জীব জস্তু আপন আপন স্থানে দাড়িয়ে যেত ৷ দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকার ফলে তাদের
কেউ কেউ মারাও যেত ৷

আবুআওয়ানা বিভিন্ন সুত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত দাউদ (আ ) যাবুর

পড়া আরম্ভ করলে কিশোরী মেয়েদের কুমারীতু ছিন্ন হয়ে যেত ৷ তবে এ রণ্নািটি সমর্থাংযােপ্য
নয় ৷ আবদুল রায্যাক ইবন জুরায়জ সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি গানের সুরে কিরাআত পড়া যাবে
কি না এ সম্পর্কে আত৷ (রা) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, এতে দোষ কিং অতঃপর
তিনি বললেন, আমি শুনেছি, উবায়দ ইবন উমর বলেছেন, হযরত ৩দাউদ (আ) )বাজন৷ বাজাতেন
ও তার তালে তালে কিরাআত পড়তেন ৷ এতে সুরের মধ্যে লহর সৃষ্টি হত ৷ ফলে সুরের মুর্দুনায়

তিনিও র্কাদতেন এবং শ্রোতাদেরকেও র্কাদাতেন ৷ ইমাম আছমদ আবদুর রায্যাকের সুত্রে
আয়েশা (রা) থেকে বংনি৷ করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) একদাঅ আ৷বুমুস আশ আবীর কিরাআত পড়া
শুনে বলেছিলেন আবু মুসাকে আলে দাউদের সুর লহরী দা ৷ন করা হয়েছে ৷

বুখারী ও মুসলিমের শর্ভে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ অবশ্য এই সুত্রে এ হাদীস বুখারী

মুসলিমে নেই ৷ অন্যত্র ইমাম আহমদ হাসানের সুত্রে আবু হুরায়রা (যা) থেকে বংনাি করছেন,
রাসুল (সা) বলেছেন : আবু মুসাকে দাউদের বাদ্য প্রদান করা হয়েছে ৷ এ হাদীছটি মুসলিমের

শর্তে বর্ণিত ৷ আবু উছমান তিরমিযী (র) বলেন, বাদ্য ও র্বাশরী শুনেছি, কিন্তু আবু মুসা
আশ আবীর কণ্ঠের চেয়ে তা অধিক শ্রুতি ৩মধুর নয় ৷ এ রকম মধুর সুর হওয়া সত্বেও দ উদ
(আ) অতি ৩দ্রুত যাবুর পাঠ করতেন ৷ এ সম্পর্কে ইমাম আহমদ আবু হুরায়রা (বা ) থেকে
বংনাি করেন ৷ রাসুলুল্লাহ (যা) বলেছেন : তে তামর৷ দাউদ অপেক্ষা ধীরে কিরাআত পড় ৷ কেননা
তিনি বাহনের উপর জিন লাগাবার আদেশ করে কুরআন (বাবুর) পড়তেন এবং জিন লাগান
শেষ হবার আগেই তার যাবুর পড়া শেষ হয়ে যেত ৷ আর তিনি স্বহস্তে উপার্জন করেই জীবিকা
নির্বাহ করতে ন ৷ ইমাম বুখ৷ ৷রীও আবদুর রাঘৃযাক সুত্রে এ হাদীস প্রায় অনুরুপ শব্দে বর্ণনা

করেছেন ৷ এরপর বুখাবী (র) বলেছেন, এ হাদীস মুসা ইবন উকব৷ আবু হুরায়রা (রা)
থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে দাউদ (আ) এর আলোচনায় বিভিন্ন
সুত্রে এ হাদীছখানা বর্ণনা করছেন ৷

হাদীসে উল্লেখিত কুরআন অর্থ এখানে যাবুর যা হযরত দাউদ (আ)-এর উপর অবতীর্ণ
হয়েছিল ৷ এর বর্ণনাগুলাে ছিল সং রক্ষিত ৷ কেননা তিনি ছিলেন একজন বাদশাহ ৷৩ তার ছিল বহু
অনুসারী ৷ তাই বাহব্লুনর উপর জিন লাগাব্লুত যতটুকু সময় লাগে সে সময় পর্যন্ত তিনি যাবুর পাঠ
করতেন ৷ ভক্তিসহ নিবিষ্ট চিত্তে ও সুর প্রব্লুয়াগে পড়া সত্তেও৩ তার তিলাওয়াত ছিল অত্যন্ত দ্রুত ৷

ল্লাহর বাণীং , আমি দাউদকে য়াবুর প্রদান করেছি ৷ (১৭ ইসরা;
৫৫ ) এ আয়াতের তাফসীরে আমার তাফসীর গ্রন্থে ইমাম আহমদ ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদীস
উদ্ধৃত করেছি যে, এ প্রসিদ্ধ আসমানী কিতাবখানা রমজান মাসে অবতীর্ণ হয় ৷ গভীরভাবে
অধ্যয়ন করলে দেখা যাবে যে, এতে বিভিন্ন উপদেশ ও প্রজ্ঞাপৃর্ণ উক্তি রয়েছে ৷ আল্লাহর বাণী :

আমি তার রাজাকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিব্লুয়ছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগিাতা
(৩৮ সাদঃ ১৭) অর্থাৎ তাকে আমি দিব্লুযছিলাম বিশাল রাজতু ও কার্যকর শাসন কৌশল ৷
ইবন জারীর ও ইবন আবী হাতিম হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক
গাভী সংক্রান্ত বিচারে দৃ’ব্যক্তি দাউদ (আ)-এর শরণাপন্ন হয় ৷ এদের একজন অপর জনের
বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, সে তার গা ৷তী জোরপুর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে ৷ কিন্তু বিবাদী অভিযোগ
অস্বীকার করল ৷ হযরত দাউদ (আ)ত তাদের ফয়সালা রাত পর্যন্ত স্থগিত রাখব্লুলন ৷ আল্লাহ ঐ
রাতে ওহীর মাধ্যমে নবীকে নির্দেশ দিলেন যে, বাদীকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে ৷ সকাল হলে নবী
বাদীকে ডেকে আল্লাহর নির্দেশ জানিয়ে দেন এবং বলেন, আমি অবশ্যই তোমার উপর মৃতুদন্ড
কার্যকর করব ৷ এখন বল, তােমা ৷র দাবীর মুলে আসল ঘটনা কি? বাদী বলল, হে আল্লাহর নবী
আমি কসম করে বলছি, আমার দ বী যথার্থ ৷ তবে এ ঘটনার পুর্বে আমি বিবাদীর পিতাকে
হত্যা করেছিলাম ৷ তখন হযরত দাউদ (আ)ত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাথে
সাথে তা কার্যকর হয় ৷ এ ঘটনার পরে বনী ইসরাঈব্লুলর মধ্যে দাউদ (আ) এর মর্যাদা ৷বৃদ্ধি পায়
এবং তার প্রতি তাদের আনুগত ৷ বৃদ্ধি পায় ৷
ইবন আব্বাস (বা) বলেন, এ কথাটাই বাক্যাৎশে ব্যক্ত করা হয়েছে ৷
,,শুরায়হ্, শ৷ ৷’বী, ক ৷৷তাদ হ্, আবু আবদুর রহমান প্রমুখের মব্লু৩ ব্লু ফাসুলাল খিতাব’ অর্থ সাক্ষী ও
শপথ অর্থাৎ বিচার কার্যের মুলনীতি হিসেবে বাদীর জন্যে সাক্ষী প্রমাণ আর বিবাদীর জন্যে
শপথ গ্রহণ ৷ ) ৷ তাদের মতে, আল্লাহ
হযরত দাউদ (আ)-কে এই মুলনীতি দান করেছিলেন ৷ মুজাহিদ ও সৃদ্দীর মতে , ফাস্লাল
খিতাব’ অর্থ বিচার কাজের প্রজ্ঞা ও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ৷ মুজাহিদ বলেন, বাক্য
প্রয়োগ ও সিদ্ধান্ত দাব্লুন স্পষ্টবাদিতা ৷ ইবন জারীরও এই ব্যাখ্যাকে অগ্ৰাধিকার দিয়েছেন ৷ আবু

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৫

মুসা বলেছেন, ফাসলড়াল খিতাব হচ্ছে (হামদ ও সালাতের পরে) শ্ৰুগ্ ণুণ্ ৷ বলা অর্থাৎ হযরত
দাউদ-ই প্রথমে ৰু ক্রো শব্দ ব্যবহার করেন, তার সাথে এ ব্যাখ্যার কোন বিরোধ নেই ৷

ওহাব ইবন মুনাব্বিহ লিখেছেন, বনী ইসরাঈল জাতির মধ্যে পাপাচার ও মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার
প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে হযরত দাউদ (আ)-কে একটি ফয়সালাকারী শিকল দেওয়া
হয় ৷ এই শিকলটি আসমান থেকে বায়তৃল মুকাদ্দাসের পার্শে রক্ষিত সাখরা’ পাথর খণ্ড পর্যন্ত
ঝুলম্ভ ছিল ৷

শিকলটি ছিল স্বর্ণের ৷ ফয়সালা এভাবে হত যে, বিবদমান দৃ ব্যক্তির মধে যে সাত ৷র উপর
প্রতিষ্ঠিত সেই ঐ শিকলটি নাগাল পেতো! আর অপরজন তা পেতে ৷ না ৷ দীর্ঘদিন যাবত
এভাবে চলতে থাকে ৷ অবশেষে এক ঘটনা ঘটে ৷ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির নিকট একটা
মুক্তা গচ্ছিত রাখে ৷ যখন সে তার মুক্তাটি ফিরিয়ে আনতে যায় তখন ঐ ব্যক্তি তার দাবি
প্রত্যাখ্যান করে ৷ সে একটি লাঠি দিয়ে তার মধ্যে মুক্তাটি রেখে দেয় ৷ অতঃপর তাদের বিবাদ
মীমাংসার জন্যে সাখরা পাথরের কাছে উপস্থিত ৩হলে বাদী শিকলষ্টি ষ্ নাগাল পায় ৷ বিবাদীকেত
ধরতে বলা হলে যে উক্ত যুক্ত৷ সম্বলিত লাঠিটি বাদীর কাছে দিয়ে দেয় ৷ এরপর সে আল্লাহর
নিকট প্রার্থনা জা ৷নিয়ে বলে, হে আল্লাহ আপনি অবশ্যই অবগত আছেন যে আমি তাকে তার
মুক্তাটি প্র৩ ৷র্পণ করেছি ৷ প্রার্থনার পর সে শিকলটি ধরতে সক্ষম হয় ৷ এভাবে উক্ত শিকলঢির
দরুন বনী-ইসরাঈলরা যুশকিলে পড়ে যায় ৷ ফলে অল্প দিনের মধ্যেই শিকলটি উঠিয়ে নেয়া
হয় ৷ অনেক মুফাস্সিরই এ যটনাটিই উল্লেখ করেছেন ৷ ইসহাক ইবন বিশর ও ওহাব ইবন
ঘুনাব্বিহ সুত্রে প্রায় এরুপেই বর্ণনা করেছেন ৷ আল্লাহর বাণী :

-তােমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌছেছে কি? যখন তারা প্রাচীর ডিংগিয়ে
ইবাদত থানায় আসল এবং দাউদের নিকট পৌছল, তখন সে তাদের কারণে ভীত হয়ে পড়ল ৷
তারা বলল, ভীত হবেন না, আমরা দৃ’বিবদমড়ান পক্ষ; আমাদের একে অপরের উপর জুলুম
করেছে; অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করুন; অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে
সঠিক পথ নির্দেশ করুন ৷ এ আমার ভাই, এর আছে নিরানব্বইটা দৃদ্ব৷ এবং আমার আছে মাত্র
একটি দুম্বা; তবুও সে বলে, আমার যিম্মায় একটা দিয়ে দাও; এবং কথায় সে আমার প্রতি

কঠোরতাে প্রদর্শন করেছে ৷ দাউদ বলল, তোমার দুম্বড়াটিকে তার দুম্বাগুলাের সৎগে যুক্ত করার
দাবি করে সে তে ৷মার প্রতি ৩জুলুম করেছে ৷ শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর অৰিচার করে
থাকে ৷ করে না কেবল যু মিন ও সৎ কর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ এবং তারা সং খ্যড়ায় স্বল্প ৷ দাউদ
বুঝতে পারল, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি ৷ আর সে তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা
করল এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়ল ও তার অভিমুখী হল ৷ তারপর আমি তার ত্রুটি ক্ষমা
করলাম ৷ আমার নিকট তার জন্যে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম ৷ (৩৮ সাদ : ২১ ২৫)

উপরোক্ত আয়াতে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রাচীন ও আধুনিক বহু

ৎখ্যক মুফাস্সির অনেক কিসৃসা-কাহিনীর অবতারণা করেছেন ৷ কিন্তু তার অধিকাৎশই
ইসরাঈলী বর্ণনা এবং এর মধ্যে সম্পুর্ণ মিথ্যা-বানােয়াট বর্ণনাও রয়েছে ৷ আমরা এখানে যে
সবের কিছুই উল্লেখ করছি না; শুধু কুরআনে বর্ণিত ঘটনড়াটির উল্লেখ করাই যথেষ্ট বিবেচনা
করছি ৷ সুরা সাদ-এর সিজদার আয়াত সম্পর্কে ইমামগণের মধ্যে দহ্ ধরনের মত পাওয়া যায় ৷
কেউ কেউ বলেছেন, এ সিজদা অপরিহার্য; আবার অন্য কেউ কেউ বলেছেন, এটা অপরিহার্য
নয়, বরং এটা শোকরানা সিজদা ৷ এ প্রসংগে ইমাম বুখারী (র) মৃজাহিদের সুত্রে বর্ণনা করেছেন
যে, তিনি একদা ইবন আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন : সুরা সাদ তিলাওয়াতকালে
আপনি কেন সিজদা দেনা তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনে পড় না

দাউদ, সুলায়মান আর আমি তাহাকে দান করিয়াছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব, ইইাদের
প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম; পুর্বে নুহ্ফেও সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম
এবং তাহার বংশধর দাউদ, সুলায়মান ও আইউব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকেও ; আর এইভাবেই
সংকর্মপরায়ণদিগকে পুরস্কৃত করি; এবং যাকারিয়া, ইয়াহ্য়া, ঈসা এবং ইলরাসকেও সৎপথে
পরিচালিত করিয়াছিলাম ৷ ইহারা সকলে সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত; আরও সৎপথে পরিচালিত
করিয়াছিলাম ইসৃমাঈল, আল্-য়াসাআ, ইউনুসৃ ও লুতকে; এবং শ্রেষ্ঠতু দান করিয়াছিলাম
বিশ্বজগতের উপর প্ৰত্যেতকে এবং ইহাদের পিতৃ-পুরুষ, বংশধর ও ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে ৷
আমি তাহাদিগকে মনোনীত করিয়াছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করিয়াছিলাম ৷ ইহা

আল্পাহ্র হিদায়াত, স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দ্বারা সৎপথে পরিচালিত
করেন ৷ তড়াহারা যদি শিবৃক করিত তবে তাহাদের কৃতকর্ম নিম্ফল হইত ৷ আমি উহাদিপকেই
কিতাব, কর্তৃত্ব ও নুবুওয়াত দান করিয়াছি, অতঃপর যদি ইহারা৪ ১ ৭ এইগুলিকে প্রত্যাখ্যানও
করে তবে আমি তো এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি এইগুলির তার অর্পণ করিয়াছি যাহারা এইগুলি
প্রত্যাখ্যান করিবে না ৷ উহাদিগকেই আল্পাহ্ সৎপথে পরিচালিত করিয়াছেন, সুতরাং তুমি
তড়াহাদের পথের অনুসরণ কর ৷ বল, আহাির জন্য আমি তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চাহি না ,
ইহা তো শুধু বিশ্বজপতের জন্য উপদেশ ৷ ’ (৬ আনআম : ৮৪ ও ৯০ )

এ থেকে স্পক্ট বুঝা যায় যে, দাউদ (আ) নবীপণের অন্যতম র্যাদের অনুসরণ করার জন্য
আমাদের নবী (না)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ৷ সুরা সাদ-এর আয়াতে দাউদ (আ)-এর সিজদার
কথা উল্লেখিত হয়েছে ৷ সে অনুযায়ী রাসুল (স)-ও সিজদা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ
ইকরমাের সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: সুরা সাদ এর সিজদা অড়াবশ্যিক
সিজদার অন্তর্ভুক্ত নয় ৷ তবে আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে এ সিজদা করতে দেখেছি ৷ ইমাম
বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী একে হাসান
ও সহীহ বলেছেন ৷ ইমাম নড়াসাঈ (র) সাঈদ ইবন জুবায়রের সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে
বর্ণনা করেন ৷ নবী করীম (সা) সুরা সাদ এ সিজদা করেছেন তওবা স্বরুপ, আর আমরা সিজদা
করব শোকরিয়া স্বরুপ ৷ শেষের কথাটি কেবল আহ্মদের বর্ণনায় আছে ৷ তবে এর রাবীপণ
সবাই নির্ভরযোগ্য ৷

আবু দাউদ আবু সাঈদ খুদবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) একবার
মসজিদের মিম্বিরে বসে সুরা সাদ তিলাওয়াত করেন ৷ সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌছে তিনি মিম্বর
থেকে নেমে সিজদা আদায় করেন ৷ উপস্থিত লোকজনও তার সাথে সিজদা আদায় করেন ৷
অন্য এক দিন তিনি অনুরুপ মিম্বরে বসে সুরা সাদ পাঠ করেন ৷ যখন সিজদার আয়াত পড়েন,
তখন উপস্থিত লোকেরা সিজদা করতে উদ্যত হন ৷ এ অবস্থা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন,
এটা হচ্ছে জনৈক নবীর তওবা বিশেষ (সিজদার সাধারণ নির্দেশ নয়), তবে দেখছি তোমরা
সিজদা করতে উদ্যত হয়েছ ৷ তারপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে সিজদা আদায় করেন ৷ এ
হাদীছখড়ানা কেবল আবু দাউদই বর্ণনা করেছেন ৷ তবে এর সনদ সহীছের শর্ত অনুযায়ী আছে ৷
ইমাম আহমদ আবু সাঈদ খুদবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি একদা স্বপ্নে দেখেন যে,
তিনি সুরা সাদ লিখছেন ৷ সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌছে তিনি, দােয়াত , কলম ও অন্য যা কিছু
সেখানে ছিল, সবই সিজদার লুঠিয়ে পড়েছে দেখতে পান ৷ এ ঘটনা তিনি নবী করীম (সা ) এর
নিকট ব্যক্ত করেন ৷ তারপর থেকে তিনি সর্বদা এ সুরার সিজদা আদায় করতেন ৷ এ
, হড়াদীসখানা কেবল ইমাম আহমদা বর্ণনা করেছেন ৷

তিরমিযী ও ইবন মাজাহ্ মুহাম্মদ ইবন ইয়াযীদের সুত্রে হযরত ইবন আব্বাস (রা)
থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট এসে বলল ইয়া রাসুলাল্লাহ! মানুষ
যেমন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে, আমিও তেমনি সালাত আদায় করছি ৷ সালাতে আমি সিজদার
আয়াত তিলাওয়াত করি এবং সিজদার যাই ৷ বৃক্ষটিও আমার সাথে সিজদা করে ৷ আমি শুনলাম
সে সিজদা অবস্থায় এরুপ দোয়া করছে : “হে আল্লাহ! এর ওসীলায় আপনার নিকট আমার

জুন্যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন, আপনার নিকট আমার জন্যে এর ছওয়াব সঞ্চিত রাখুন, এর
ওসীলায় আমার দােষ-ত্রুটি দুর করে দিন এবং আমার এ সিজদা আপনি কবুল করুন, যেমন
কবুল করেছিলেন আপনার লেক বান্দ৷ দাউদ (আ) থেকে ৷ ইবন আব্বাস (রা ) বলেন, আমার
এ কথা শেষ হতেই দেখলাম, রাসুল (সা) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদায় যান এবং
লোকটি বৃক্ষের যে দােয়ার উল্লেখ করেছিল, শুনলাম তিনি সিজদায় সেই দােয়াটিই পড়ছেন ৷
ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করার পরে লিখেছেন যে, এটা গরীব পর্যায়ের হাদীসএই
একটি সুত্র ব্যতীত এর অন্য কোন সুত্র আমার জানা নেই ৷

কোন কোন মুফাসৃসির বলেছেন, হযরত দাউদ (আ) তার এ সিজদায় একটানা চল্লিশ দিন
অতিবাহিত করেন ৷ মুজাহিদ, হাসান প্রমুখ এ কথা উল্লেখ করেছেন ৷ এ প্রসংপে একটি মড়ারকু’
হড়াদীছও বর্ণিত হয়েছে ৷ কিন্তু এর বর্ণনাকয়ী ইয়াষীদ রুক্কাশী হাদীস বর্ণনায় দুর্বল ও
পরিত্যক্ত ৷ আল্লাহর বাণী :

অৰুমি তবে সে অপরাধ ক্ষমা করলাম নিশ্চয় আমার কাছে তার জনে রয়েছে উচ্চ

মর্তবা ও সুন্দর বাসস্থান ৷ (৩৮ সাদং : ২৫) ৷ অর্থাৎ কিয়ামা৩ র দিন তিনি আাল্লাহর নিকট উচ্চ
মর্যাদা পাবেন ৷ , এ অর্থ বিশেষ নৈকট্য; এবং তাহল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে আল্লাহ
দাউদ (আ)-কে এ নৈকট্য দান করবেন ৷ এ ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে :

-অর্থাং যায়৷ ন্যায় বিচার করে ও ন্যায়ের বিধান চালু করে, এবং তবে পরিবারে ফয়সালায়
এবং কর্তৃতু প্র য়োপে তারা মেহেরবান আল্লাহ্র দক্ষিণ হস্তের কাছে প্রতিষ্ঠিত নুরের মিম্বরের
উপরে অধিষ্ঠিত থাকবে ৷ আর আল্লাহর উভয় হস্তই দক্ষিণ হস্ত) ৷ মুসনাদে ইমাম আহমদে
আবু সাঈদ খুদরী (বা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন৪ কিয়ড়ামরুত র দিন
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও নৈকট্যপ্রাপ্ত হল ন্যায় বিচারক শাসক; পক্ষাম্ভরে আল্লাহর
নিকট কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ঘৃণিত ও কঠিন শাস্তিযােগ্য ব্যক্তি হল জালিম বাদশাহ ৷
তিরিমিষী অনুরুপ বংনাি করে বলেছেন, এই একটি সুত্র ব্যতীত অন্য কোন সুত্রে এ হাদীছখানা
সম্পুর্ণরুপে বর্ণিত হয়নি ৷ ইবন আবী হাতিম জা ফর ইবন সুলায়মান থেকে বংনাি করেন ৷
তিনি মালিক ইবন দীনারকে পু, এ আঘাতের ব্যাথ্যায়
বলতে শুনেছেন যে, হযরত দাউদ (আ) কিয়ামণ্ডে র দিন আরশে আষীমের স্তন্তের কাছে
দণ্ডায়মান থাকবেন, আল্লাহ তখন বলবেন, হে দাউদ দৃনিয়ায়তু নি যে মধুর সুরে আমার

ৎস৷ ও মহতু প্রকাশ করতে, সেইরুপ মধুর সুরে আজ আমার প্রশংসা ও মহতৃ প্রকাশ কর ৷
দাউদ (আ) বলবেন, হে আল্লাহ ! আপনি তাে তা আমার থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন, এখন কিরুপে
তা করব? আল্লাহ বলবেন, আজ আমি তা তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি ৷ অতঃপর দাউদ (আ) এমন
মধুর আওয়াজে আল্লাহর প্রশংসা গাইবেন, যার প্রতি সমস্ত জান্নাতবাসী আকৃষ্ট হয়ে পড়বে ৷

আল্লাহর বাণী

-হে দ উদ আমিণ্ তোমাকে পৃথিবীতে ৩প্রতিনিধি করেছি তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার
কর এবং থেয়াল-থুশীর অনুসরণ করো না, কেননা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত
করবে ৷ যারা আল্লাহর পথ হতে ভ্রষ্ট হয় তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শান্তি , কারণ তারা বিচার
দিবসকে বিস্মৃত হয়ে আছে ৷ (৩৮ মাস : ২৬) ৷

আলোচ্য আয়াতে হযরত দাউদ (আ)-কে সম্বোধন করা হলেও এর দ্বারা শাসক ও বিচারক
মণ্ডলীকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাদেরকে মানুষের মাঝে তার পক্ষ থেকে নির্দেশিত
ন্যায় বিচার ও সত্যের অনুসরণ করার আদেশ করেছেন ৷ নিজেদের থেয়াল খুশীর অনুসরণ
করতে নিষেধ করেছেন ৷ যারা সত্য পথ পবি৩ ৷৷গ করে নিজের খেয়াল খুশীর পথ অনুসরণ
করবে তাদেরকে আল্লাহ সতর্ক করে দিয়েছেন ৷ সে যুগে হযরত দ উদ (আ) ছিলেন ন্যায়
বিচার প্রতিষ্ঠা, প্রচুর ইবাদত ও অন্যান্য লেক কাজের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় আদর্শ ৷ কথিত আছে,
রাত্র ও দিনের মধ্যে এমন একটি সময় অতিবাহিত হত না, যে সময় তার পরিবারবর্গের কোন
না কোন সদস্য ইবাদতে মশগুল না থাকত ৷ আল্লাহ বলেছেন :

-হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও ৷ আমার বান্দাদের
মধ্যে অল্প সৎখ্যকই কৃতজ্ঞ ( ৩৪ং : সাবাং : ১৩) ৷ আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া আবুল
জালদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি দাউদ (আ)-এর ঘটনাবলী অধ্যয়ন
করেছি ৷ তাতে এ কথা পেয়েছি যে, তিনি আরজ করলেন, “হে আমার পালনকর্তা! আমি
আপনার শুকরিয়া কিভাবে আদায় করব? আপনার নিয়ামত ব্যতীত তো আপনার শোকর
আদায়ে আমি সামর্থ হব না ৷” অতঃপর দাউদ (আ)-এর নিকট ওহী আসে : “হে দাউদ!
তুমি কি জান না যে, যে সব নিয়ামত তোমার কাছে রয়েছে, তা আমারই দেওয়া?” জবাবে
দাউদ (আ) বললেন, “হ্যা তাই, হে আমার বব! আল্লাহ বললেন, “তোমার এ
স্বীকারােক্তিচেইে আমি সন্তুষ্ট ৷” বায়হাকী ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত দাউদ
(আ) বলেছিলেন ৷ আল্লাহর জন্যে
এমন যাবতীয় প্রশংসা নির্দিষ্ট, যেমন প্রশংসা ত ব সত্ত্ব৷ ও মহত্বের জন্যে উপযোগী ৷ আল্লাহ
বললেন, হে দাউদঃ তুমি তো হেফাজতকারী ফিরিশতাদের মতই দোয়া করলে ৷ ’আবু বকর
ইবন আবিদ দুনিয়া সৃফিয়ান ছাওরী থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন মুবারক
তার কিতড়াবুয যুহ্দে ওহাব ইবন মুনাবৃবিহ থেকে বর্ণনা করেন : দাউদের বংশধরদের
হিকমতের মধ্যে ছিল ( ১) কোন জ্ঞানী লোকের পক্ষে চারটি বিশেষ সময়ে গাফিল থাকা উচিত
নয়, (ক) একটি সময় নিল্টি করবে, যে সময়ে যে একাস্তে আল্লাহর ইবাদত করবে ৷ (খ)
একটি নির্দিষ্ট সময়ে আত্ম-সমাংলাচনায় প্রবৃত্ত হবে ৷ (গ) একটি সময় নির্ধারণ করবে, যে
সময়ে যে ঐ সব অস্তরংগ বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়ে, বাবা তাকে ভালবাসে এবং তার
ক্রটিবিচ্যুতি ধরিয়ে দেয় ৷ (ঘ) আর একটি সময় বেছে নিয়ে হালাল ও বৈধ বিনোদনের জন্যে ৷
এই শেষোক্ত সময়টা তার অন্যান্য সময়ের কাজের সহায়ক হবে এবং অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি
করবে ৷ (২) একজন জ্ঞানী লোকের উচিৎ সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা, রসনাকে সংযত রাখা
এবং আপন অবস্থাকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেওয়া ৷ (৩) একজন জ্ঞানী লোকের কর্তব্য-তিনটি
বিষয়ের যে কোন একটি ছাড়া যেন সে কোথাও যাত্রা না করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে,
দুনিয়ার জীবন যাপনের উপাদান অম্বেষণে কিংবা বৈধ আনন্দ ব্যিনাদনে ৷

ইবন আবিদ দুনিয়া ও ইবন আসাকির অন্য সুত্রে ওহাব ইবন ঘুনাব্বিহ থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ হাফিজ ইবন আসাকির হযরত দাউদ (আ)-এর কতগুলো শিক্ষামুলক উপদেশ বাণী
তার জীবনী আলোচনায় উল্লেখ করেছেন ৷ তার কয়েকটি হল : (১) ইয়াতীমের সাথে দয়ালু
পিতার মত আচরণ কর (২) স্মরণ রেখ, যেমন বীজ বুনরে,
তেমন ফলন পাবে ৷ ( ৷ এ) (৩) একটি গরীব’
পর্যায়ের মারকু হড়াদীসে বর্ণিত আছে, হযরত দাউদ (আ) বলেছিলেন : হে পাপের চাষকারী!
ফসলরুপে তুমি কেবল কাটা আর খােসাই পাবে ৷ ( ৷ মৈ ৷ ১াৰু
(৪) কোন মজলিসের নির্বোধ বক্তা হচ্ছে মৃতের শিয়রে গায়কের তুলা ৷

(৫) ধনী থাকার পরে দরিদ্র হওয়ার মত দৃর্ভাগ্য আর নেই ৷ কিন্তু তার চেয়ে অধিক দুর্ভাগ্য হল
হিদায়াত লাভের পরে পথভ্রষ্ট হওয়া ৷ @,
প্রুএেগ্র !া ণ্এে ক্রো ! (৬) প্রকাশ্য সভায় তোমার সমালোচনা না হোক-এ যদি তোমার
কাম্য হয় তবে ঐ কাজটি তুমি নির্জনেও করবে না ৷
৷ও ৷ ৭) তুমি কাউকে এমন কিছুর প্রতিশ্রুতি দিও না,
যা তুমি পুর্ণ করতে পারবে না ৷ কেননা এতে তোমার ও তার মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হবে ৷
র্মী মুহাম্মাদ
ইবন সাদ আফরার মওলা উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, ইয়াহুদীরা রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
একাধিক সহধর্মিণী দেখে লোকজনকে বলল, “তোমরা এ লোকটির প্রতি লক্ষ্য কর, সে
আহারে পরিতৃপ্ত হয় না; আল্লাহর কসম সে নারী ছাড়া কিছু বুঝে না ৷” সমাজে তার একাধিক
সহধর্মিণী থাকায় তারা তার প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে এবং তার প্রতি দােষারােপ করে ৷ তাদের
মন্তব্য হল, যদি ইনি নবী হতেন, তাহলে ন বীদেব প্ৰতি এতে ৷ লিপ্স৷ থাকতো না ৷ এ কুৎসা
রটনায় সবচেয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন ক র হুয়াই ইবন আখ৩ ৷ব ৷ কিন্ত আল্লাহ তাদেরকে
মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেন এবং নবী করীম (সা) এর প্রতি তার দান ও অনুগ্রহের কথা উল্লেখ
করেন (অথবা আল্লাহ নিজ
অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, যে জন্যে কি তারা তাদেরকে ৷ইৎস৷ করো) এখানে , বা
মানুষ অর্থ রাসুল (সা)
£এণ্ তাহলে ইবরাহীমের বংশধরকেও তে৷ আ ৷মি কিত৷ ৷বও হিকমত প্রদান করেছিলাম
এবং তাদেরবকে বিশাল রাজ্য দান করেছিলাম ৷ (৪ নিস৷ : ৫৪) ৷ ইবরাহীমের বংশধর বলতে
এখানে হযরত সুলায়মান (আ)-কে বুঝানো হয়েছে ৷ তার ছিলেন এক হাজার শ্রী, তাদের মধ্যে
সাত শ’ স্বাধীন এবং তিন শ’ র্বীদী ৷ আর হযরত দাউদ (আ)-এর ছিলেন একশ’ জন শ্রী
তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হযরত সুলায়মান (আ) এর মা যিনি ইতিপুর্বে উরিয়ার শ্রী
ছিলেন ৷ পরে তাকে বিবাহ করেছিলেন ৷ দেখা যাচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ত্রী সংখ্যার
তুলনায় তাদের সংখ্যা অনেকগুণ ৷বেশী ৷ কালবী ও ঠিক এইরুপ বর্ণনা করেছেন ৷
হাফিজ ইবন আসাকির তীর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন : এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রা ) কে
(নকল) রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার নিকট সংরক্ষিত একটি
হাদীস আছে ৷ আপনি যদি শুনতে চান তবে আ ৷মি আপনাকে দাউদ (আ) এর বোয৷ সম্পর্কে
বলতে পারি ৷ কেননা তিনি অত্যন্ত বেশী রোযা রাখতেন এবং নামায আদায় করতেন ৷ তিনি
ছিলেন অ৩ ৩ন্ত বীর পুরুষ, দুশমনের বিরুদ্ধে মুকাবিলা কালে তিনি কখনও পলায়ন করতেন
না ৷ তিনি একদিন অন্তর অন্তর বোয৷ রাখতে ন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম
রোয৷ হল দাউদ (আ)-এর রোযা ৷ তিনি সত্তরটি সুরে যাবুর৩ তিলাওয়ড়াত করতেন ৷ এগুলো তার
নিজেবই উদ্ভাবিত স্বর ৷ রাত্রে যখন নামাযে র্দাড়াতেন তখন নিজেও র্কাদতেন এবং তাতে অন্য
সবকিছুও র্কাদতে৷ ৷ তার মধুর সুরে সকল দৃশ্চিন্ত৷ ও ক্লান্তি দুর হয়ে যেত ৷ তুমি আরও শুনতে
চাইলে আমি তীর পুত্র হযরত সুলায়মান (আ )-এর রোযা সম্পর্কে জানাতে পারি ৷ কেননা, তিনি
প্রতি মাসের প্রথম তিন দিন, মাঝের তিন দিন ও শেষের তিন দিন রোযা রাখতেন ৷ এভাবে
তার নাম শুরু হত রােযার মাধ্যমে ৷ মধ্য-মাস অতিবাহিত হত রোযা রাখা অবস্থায় এবং নাম
শেষ হত রোযা পালনের মাধ্যমে ৷ তুমি যদি আরও শুনতে চাও তবে আমি তে ৷মাকে মহিয়ষী
কুমারী মা৩ ৷ মরিয়ম (আ) এর পুত্র হযরত ৩ঈসা (আ) এর রোযা সম্পর্কেও জানাতে পারি ৷
তিনি সারা বছর ধরে বোযা রাখতেন, যবের ছাতৃ যেতেন, পশমী ক পাড় পরতেন, যা পেতেন
তাই যেতেন, যা পেতেন না, তা চাইতেন না ৷ তার কোন পুত্র ছিল না যে, মারা যাবার
আশংকা থাকবে কিৎব৷ কোন ঘরবাড়ি ছিল না যে, নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকবে ৷ যেখানেই রাত
হত সেখানেই নামাযে দাড়িয়ে যেতেন এবং ভোর পর্যন্ত নামাযে রত থাকতেন ৷ তিনি একজন
ভাল ভীরান্দা ৷য ছিলেন ৷ কোন শিকা ৷রকে লক্ষ্য করে তীর ছুডলে কখনও তা ব্যর্থ হত না ৷ বনী

ইসরাঈলের কোন সমাবেশ অতিক্রম করার সময় তাদের অভিযোগ শুনতেন ও প্রয়োজন পুরণ
করে দিতেন ৷ যদি তুমি আগ্রহী হও তবে আমি তোমাকে হযরত ঈসা (আ)-এর মা মারয়াম
বিনতে ইমরানের রোযা সস্পর্কেও জানাতে পারি ৷ কেননা তিনি একদিন রােযা রাখতেন এবং
দুই দিন বাদ দিতেন ৷ তুমি যদি জানতে চাও তবে আমি তোমাকে নবী উগী আরাবী হযরত
মুহাম্মদ (না)-এর রোযা সম্পর্কেও জানাতে পারি ৷ তিনি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন
এবং বলতেন, এটাই গোটা বছর রোযা রাখার শামিল ৷ ইমাম আহমদ আব্বাস (বা) থেকে
হযরত দাউদ (আ) এর রোযার বৃত্তান্ত মারফুরুপে বর্ণনা করেছেন ৷

হযরত দাউদ (আ)-এর ইনতিকাল

হযরত আদম (আ)-এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা প্ৰসংগে পুর্বোল্লেখিত হাদীসে রংনি৷ করা
হয়েছে যে, আল্লাহ যখন আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তীর সন্তানদের বের করেন তখন হযরত
আদম (আ) তাদের মধ্যে সকল নবীকে দেখতে পান ৷ র্তাদুদর মধ্যে একজনকে অত্যন্ত উজ্জ্বল
চেহারা বিশিষ্ট দেখে তিনি বলেন, হে আল্লাহ ! ইনি কো আল্লাহ জানালেন, এ তোমার সন্তান
দাউদ ৷ আদম (আ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার প্রতিপালক ! তার আবু কত ? আল্লাহ তাআলা
জানালেন, ষাট বছর ৷ আদম (আ) বললেন, হে পরােয়ারদিগার৷ তার অড়াযু বাড়িয়ে দিন ৷
আল্লাহ জানালেন, বৃদ্ধি করা যাবে না; তবে তোমার নিজের আযু থেকে নিয়ে বাড়িয়ে দিতে
পারি ৷ হযরত আদমের নির্ধারিত অড়াযু ছিল এক হাজার বছর ৷ তা থেকে নিয়ে দাউদ (আ ) এর
আয়ু আরও চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দেয়া হল ৷ যখন হযরত আদমের আযু শেষ হয়ে আসে তখন
মৃত্যুর ফিরিশতা আসেন ৷ আদম (আ) বললেন, আমার আয়ুর (তা এখনও চল্লিশ বছর বাকী ৷
দাউদ (আ)-কে দেয়া বয়সের কথা তিনি সম্পুর্ণ তুলে গিয়েছিলেন ৷ এভাবে আল্লাহ আদম
(আ)-এর আয়ু এক হাজার বছর এবং দাউদ (আ)এর আয়ু একশ পুর্ণ করে দেন ৷ এ হাদীসটি
ইমাম আহমদ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী, ইবন
থুযায়মা, ইবন হিব্বান ও হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তিরমিযী একে সহীহ বলে মন্তব্য
করেছেন এবং হাকিম একে মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী আছে বলে উল্লেখ করেছেন ৷ আদম (আ)
-এর আলোচনা প্রসঙ্গে এ সম্পর্কে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ ইবন জারীর লিখেছেন,
কোন কোন আহলে কিতারের মতে হযরত দাউদ (আ)-এর আবু ছিল সাতাত্তর বছর ৷ কিন্তু
এটা ভুল ও প্রত্যাখ্যাত ৷ তাদের মতে হযরত দাউদের রাজত্বের মেয়াদ ছিল চল্লিশ বছর ৷

র্তাদের এ মত গ্রহণযোগ্য ৷ কেননা আমাদের কাছে এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোন প্রমাণ নেই ৷

হযরত দাউদ (আ)-এর ইনতিকাল সম্পর্কে ইমাম আহমদ তার যুসনাদ গ্রন্থে আবু হুরায়রা
(বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা ) বলেছেন : দাউদ (আ) ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিতু ও
আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ৷ যখন তিনি বাইরে যেতেন তখন ঘরের দরজা বন্ধ করে যেতেন, যাতে তিনি
ফিরে আসা পর্যন্ত অন্য কেউ তার ঘরে প্রবেশ করতে না পারে ৷ এভাবে একদিন তিনি ঘর

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৬-

থেকে বেরিয়ে গেলেন ৷ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হল ৷ এ সময় তার শ্রী উকি দিয়ে দেখলেন
যে, একজন পুরুষ লোক ঘরের মধ্যখানে দাড়িয়ে আছেন ৷ তিনি প্রহরীকে জিজ্ঞেস করলেন :
এ লােকটি কো তালাবদ্ধ ঘরে কিভাবে প্রবেশ করল? কসম আল্লাহর! নবী দাউদ (আ)-এর
কাছে আমরা লজ্জায় পড়ব এমনি সময় হযরত দউিদ (আ) ফিরে এলেন এবং দেখলেন ঘরের
মধ্যখানে একজন পুরুষ লোক দাড়িয়ে আছে ৷ দাউদ (আ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? লোকঢি
বলল, আমি সেইজন, যে কোন রাজা বাদশাহকে তােয়াক্ক, করে না এবং কোন আড়ালই তাকে
আটকাতে পারে না ৷ দাউদ (আ) বললেন, আল্লাহর কসম ! তা হলে আপনি নিশ্চয়ই মলোকুল
মওতঃ আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্যে আপনাকে স্বাগতম! এর অল্পক্ষণ পরেই তার রুহ কবয়
করা হল ৷ অতঃপর তাকে গোসল দেয়া হল ও কাফন পরান হলো ৷ ইতিমব্বধ্য সুর্য উদিত হল ৷
তখন সুলায়মান (আ) পাখীদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা দাউদ ( আ)-এর উপর ছায়া করে
রাখ ৷ পাখীরা তাই করল ৷ সন্ধ্য৷ হলে হযরত সুলায়মান (আ) পাখীদেরকে বললেন, তোমরা
এখন পাখা সংকুচিত করে নাও ৷ আবু হুরায়রা (রা) বলেন, পাখীরা কিভাবে তাদের পাখা
যেলেছিল এবং কিভাবে বন্ধ করেছিল, তা তিনি নিজের হাত দিয়ে আমাদেরকে দেখাতে
লাগলেন ৷ দাউদ (আ)-এর উপর ঐদিন ছায়াদানে দীর্ঘ ডানা বিশিষ্ট রায় পাখীর ভুমিকাই প্রধান
ছিল ৷ ইমাম আহমদ একাই এ হাদীসঢি বর্ণনা করেছেন ৷ তবে এর সনদ উত্তম এবং
বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ৷ সুদ্দী ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, দাউদ (আ)
আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন তার মৃত্যুর দিন ছিল শনিবার ৷ পাখীরা তার দেহের উপর
ছায়া দান করে ৷
ইসহড়াক ইবন বিশর হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, দাউদ (আ) একশ বছর বয়সে
হঠাৎ এক বুধবারে ইনতিকাল করেন ৷ আবুল সাকান আল-হাজারী বলেছেন, হযরত ইবরাহীম
খলীল, হযরত দাউদ ও তদীয় পুত্র হযরত সুলায়মান (আ) তিন জনেরই মৃত্যু আকস্মিক ভাবে
হয়েছিল ৷ এ বর্ণনাটি ইবন আসাকিরের ৷ কারো কারো বর্ণনায় আছে যে, একদা হযরত দাউদ
(আ) মিহ্রাব থেকে নীচে অবতরণ করছিলেন, এমন সময় মৃত্যুর ফিরিশতা র্তীর সম্মুখে এসে
উপস্থিত হন ৷ হযরত দাউদ (আ) তাকে বললেন, আমাকে নীচে নামতে বা উপরে উঠতে দিন !
তখন ফিরিশভা বললেন, হে আল্লাহর নবী আপনার জন্যে নির্ধারিত বছর, মাস, দিন ও রিযিক
শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ এ কথা শুনেই দাউদ (আ) সেখানেই একটি সিড়ির উপরে সিজদায় লুটিয়ে
পড়েন এবং সিজদারত অবস্থায়ই তীর রুহ কবয করা হয় ৷ ইসহাক ইবন বিশর ওহাব ইবন
মুনাব্বিহ সুত্রে বর্ণনা করেন, গ্রীষ্মকালে রৌদ্রতাপের মধ্যে লোকজন হযরত দাউদ (আ)-এর
জানাযায় শরীক হয় ৷ সে দিন তার জানাযায় এত বেশী লোক সমাগম হয় যে, সাধারণ লোক
ছাড়া কেবল যাজকদের সংখ্যইি ছিল চল্লিশ হাজার ৷ এরা সবাই ছিল লম্বাটুপী (বুরনুস টুপী )
পরিহিত ৷ মুসা ও হারুন (আ)-এর পরে বনী ইসরাঈলের মধ্যে কারো জন্যে দাউদ (আ) এর
জন্যে যে গােক-তাপ প্রকাশ করা হয়, তা আর কারো জন্যে করা হয়নি ৷ জানাযায় উপস্থিত
লোকজন রৌদ্র তাপে কষ্ট পাচ্ছিল ৷ তাই রৌদ্র থেকে র্বাচার জন্যে তারা সুলায়মান (আ )-কে

ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায় ৷ সুলায়মান (আ) বের হয়ে পক্ষীকুলকে আহ্বান করেন ৷
পক্ষীকুল তার আহ্বানে সাড়া দেয় ৷ তিনি লোকদেরকে ছায়া দানের জন্যে তাদেরকে নির্দেশ
দেন ৷ ফলে পক্ষীকুল পরস্পর মিলিত হয়ে পাখা মেলে চারদিকে এমনভাবে ঘিরে দীড়াল যে,
যে স্থানে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ৷ এমনকি লোকজন শ্বত্ত্বসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম
হয় ৷ তারা এ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্যে চিৎকার করে সুলায়ঘান (আ)-কে ফরিয়াদ
জানাল ৷ সুলায়মান (আ) বের হয়ে পাখীদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা সুর্যের তাপ যে দিক
থেকে আসছে যে দিকে ছায়া দাও, আর যে দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে সে দিক থেকে সরে
যাও ৷ পাখীরা তাই করল ৷ তখন লোকজন এক দিকে ছায়ার নীচে থাকে এবং অন্য দিকে
তাদের উপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে ৷ এটাকেই মানুষ সুলায়মান (আ) এর কর্তৃত্বের
প্রথম নিদর্শন হিসেবে দেখতে পায় ৷ হাফিজ আবু ইয়ালা অড়াবুদ দারদা (বা) থেকে বর্ণনা
করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-কে তার সংপীদের মাঝ
থেকে তুলে নেন, তারা কোন ফিৎনায় পতিত হয়নি এবং দাউদের দীনকেও পরিবর্তন করেনি ৷
আর মাসীহ্র শিষ্যরা তার বিধান ও প্রদর্শিত পথের উপর দুশ বছর বহাল ছিল ৷ এ হাদীস
গরীব পর্যায়ের ৷ এটা মারকু’ কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে ৷ এর সনদে ওয়াদীন ইবন আতা
হাদীস বর্ণনায় দুর্বল ৷

হযরত সুলায়মান (আ)

হাফিজ ইবন আসাকিরের বর্ণনা মতে, হযরত সুলায়মান (আ)-এর নসবনামা নিঃনম্নরুপ :
সুলায়মান ইবন দাউদ ইবন ঈশা ( ৷) ইবন আবীদ ( ; প্রু প্রু; ) ইবন আবির ইবন সালমুন
ইবন নাহ্শুন ইবন আমীনাদাব ইবন ইরাম ইবন হাসিরুন ইবন ফারিস ইবন ইয়াহুযা ইবন
ইয়াকুব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম ৷ সুলায়মান (আ) ছিলেন নবীর পুত্র নবী ৷ ইতিহাসের
কোন কোন বর্ণনায় এস্যেছ যে, তিনি দামিশৃকে গিয়েছিলেন এবং ইবন খাবৃলাও অনুরুপ নসব
বর্ণনা করেন ৷ সুলায়মান (আ) প্রসংগে আল্লাহ বলেন :

সুলায়মান হয়েছিল দ উদেব উত্তরাধিকারী এবং সে বলেছিল, “হে মানুষ আমাকে
পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়৷ হয়েছে এবং আমাকে সকল কিছু দেয়৷ হয়েছে ৷ এটা অবশ্যই
সুস্পষ্ট অনুগ্রহ” ৷ (২৭ নামল : ১৭) অর্থাৎ তিনি পিতা দাউদেব নবুওয়াত ও রাজত্বের
উত্তরাধিকারী হন ৷ এখানে সম্পদের উত্তরাধিকারী অর্থে বলা হয়নি ৷ কেননা, সুলায়মান
(আ) ব্যতীত হযরত দাউদ (আ)-এর আরও অনেক পুত্র ছিলেন, তাদেরকে বাদ দিয়ে
শুধু সুলায়মানের নামে সম্পদের উল্লেখ করার কোন অর্থ হয় না ৷ তা ছাড়া সহীহ
হাদীসে বিভিন্ন সুত্রে একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন ;;
ন্রগ্রা গ্রাগ্ এেপ্রুও ৷০ :প্রুপ্রু; ১! অর্থাৎ আমরা উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা
কিছু রেখে যাই তা সাদৃক৷ ৷ আমরা বলতে এখানে নবীদের জামাআত বুঝানো হয়েছে ৷ এ
বাক্যে রাসুলুল্লাহ (সা) মানুষকে জা ৷নিয়েছেন যে, নবীদের রেখে যাওয়া বৈষয়িক সম্পদের কেউ
উত্তরাধিকারী হয় না, যেমন অন্যদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ৷ এর দাবীদার নয়, বরং তা
সাদকা-দৃস্থু৪ ও গরীবদেবই প্রাপ্য ৷ কেননা, দুনিয়ার সহায়-সম্পদ যেমন আল্লাহর নিকট তৃচ্ছ ও
নগণ্য, তেমনি তার মনোনীত নবীগণের নিকটও তা’ মুল্যহীন ও গুরুতুহীন ৷ হযরত
সুলায়মানের উক্তি মানুষ! আমাকে
পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়৷ হয়েছে ৷ অর্থাৎ হযরত সুলায়মান (আ) পাখীদের ভাষা বুঝতেন
তারা শব্দ করে কি বুঝাতে চায়, তিনি মানুষকে তার ব্যাখ্যা বলতে ন ৷ হাফিজ আবু বকর
ায়হাকী আবু মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন সুলায়মান (আ) কো থা৷ও যাচ্ছিলেন,

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.