হযরত দউদ (আ)-এর কিংরণ

হযরত দাউদ (আ) এর বিবরণ

তার ফযীলত, কর্মকাণ্ড, নবুওতের দলীল-প্ৰমাণ ও ঘটনাপঞ্জি

নবী হযরত দ উদ (আ) এর বংশতালিকা নিম্নরুপ৪ দ উদ ইবন ঈশা ইবন আবীদ
ইবন আবির (প্রুা ) ইবন সালমুন ইবন নাহ্শুন ইবন আবীনাযিব
ইবন ইরাম ইবন হাসীরুন ইবন ফারিয ইবন য়াহযা ইবন ইয়া কুব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম
খলীলুল্পাহ (আ) ৷ হযরত দাউদ (আ) ছিলেন আল্লাহর বান্দা তার নবী এবং বায়তুল মুকাদ্দাস
এলাকায় তার খলীফা ৷ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক কতিপয় আলিংমর সুত্রে ওহাব ইবন মুনাব্বিহ
থেকে বর্ণনা করেছেন ;; হযরত দাউদ (আ) ছিলেন ঘেটেঙ্গু তার চক্ষুদ্বয় ছিল নীলাত ৷ তিনি
ছিলেনাল্প কেশ বিশিষ্ট এবং পুত-পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী ৷ ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে
হযরত দাউদ (আ) জালুত বাদশাহকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে হত্যা করেন ৷ ইবন আসাকিবের বর্ণনা মতে ,
এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল মারাজুস সাফার নামক এলাকার সন্নিকটে উম্মে হাকীমের
প্রাসাদের কাছে ৷ এর ফলে বনী ইসরাঈলের লোকজন দাউদ (আ)-এর প্রতি আকৃষ্ট এবং তাকে
ভালবাসতে থাকে এবং তাকে শাসকরুপে পাওয়ার আকাক্ষো প্রকাশ করতে থাকে ৷ ফলে তালুত
যে ভুমিকা গ্রহণ করেন, একটু আগেই তা উল্লেখ করা হয়েছে ৷ রাজ্যের নেতৃতৃ ও কর্তৃতৃ হযরত
দাউদ (আ) এর উপর ন্যস্ত হয় ৷ এতা বে আল্লাহ তাআলা দ উদ (আ) এর ক্ষেত্রে বাদশাহী ও
নবুওত তথা দুনিয়া ও আখিরাবুত তর কল্যাণ একত্রিত করে দেন ৷ ইতিপুর্বে বাদশাহী থাকত
বনী ইসরাঈলের এক শাখার হাতে আর নবুওত থাকত অন্য আর এক শাখার মধ্যে ৷ কিন্তু
আল্লাহ তাআলা এখন উভয়টিই হযরত দাউদ (আ)-এর মধ্যে একত্রিত করে দিলেন ৷ যেমন

আল্লাহ তাআলা বলেন০ ং

দাউদ জালুতকে সংহার করল; আল্লাহ তাকে রাজতৃ ও হিকমত দান করলেন; এবং যা
তিনি ইচ্ছে করলেন তা তাকে শিক্ষা দিলেন ৷ আল্লাহ যাদি মানব জাতির এক দলকে অন্য দল
দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত ৷ কিস্তু আল্লাহ জগতসমুহের প্রতি
অনুগ্নহশীল ৷ (২ বাকারাষ্ ং ২৫১)
অর্থাৎ যদি শাসনকতা রুপে বাদশাহ নিযুক্তির ব্যবস্থা না থাকত তাহলে সমাজের শক্তিশালী
লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিত ৷ এ জন্যে কোন কোন বর্ণনায় রছেছে
ধ্৯ ) এে১ ৫া ! এা; গ্লু,াণ্া ৷ অর্থাৎ আল্লাহর যমীনে শাসনকর্তা তীর ছায়ারুপ ৷
আমীরুল মু’মিনীন হযরত উছমান ইবন আফ্ফান (রা) বলেছেন ?

অর্থাং আল্লাহ শাসনকর্তা দ্বারা এমন অনেক কিছু দমন করেন, যা কুরআন দ্বারা করেন না
ইবন জ বীর তার ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখে করেন, বাদশাহ জালুত রণ ক্ষেত্রে সৈন্য ব্যুহ থেকে
বেরিয়ে এসে মল্লষুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্যে ত লু-তকে আহ্বান জানায় ৷ কিন্তু তালুত নিজে
অংশগ্রহণ না করে জালুতের মুকারিলা করার জন্য আপন সৈন্যদের প্রতি আহ্বান জানায় ৷
দাউদ (আ) সে আহ্বাদুন সাড়া দিয়ে জালুতকে হত্যা করেন ৷ ওহাব ইবন মুনড়াব্বিহ বলেন
ফলে লোকজন দাউদের প্রতি ঝুকে পড়ে এমনকি শেষ পর্যন্ত তালুতের কথা কেউ মুদুখই
আনতে৷ না ৷ তারা তালুতকে পরিত্যাগ করে দাউদের দুনতৃতু বরণ করে নেয় ৷ কেউ কেউ
বলেছেন, নেতৃত্বের এ পরিবর্তন শামুয়েল নবীর আমলে হয়েছিল ৷ কারও কারও মতে জালুতের
সাথে যুদ্ধের ঘটনার পুর্বেই শামুয়েল (আ) হযরত দাউদদুক শাসক নিযুক্ত করেন ৷ ইবন জারীর
অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মত বর্ণনা করে লিখেছেন যে, জালুত বাদশাহ নিহত হওয়ার পরেই
হযরত দাউদ (আ)-এর হাতে নেতৃতু আসে ৷ ইবন আসাকির সাঈম ইব ন আবদুল আযীয সুত্রে
বর্ণনা করেছেন যে, হযরত দাউদ (আ) কাসৃরে উম্পেয হাকীদুমর নিকট জালুতকে হত্যা
করেছিলেন ৷ ঐ স্থানে যে নদীটি অবস্থিত তার উল্লেখ স্বয়ৎ কুরআনের আয়াদু৩ ই বিদ্যমান
আছে ৷ দাউদ (আ) প্রসৎদুগ কুরআনের অন্যত্র আল্লাহর বাণীং :

আমি নিট্চয় দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং আদেশ করেছিলাম, হে পর্বতমালা !
তোমরা দাউদের সৎদু দুগ আমার পবিত্রত৷ ঘোষণা কর এবং বিহৎগকুলদুকও, তার জন্যে নমনীয়
করেছিলাম লোহা, যাতে তুমি পুর্ণ মাপের বর্ম ভৈত বি করতে এবং বৃননে পরিমাণ রক্ষা করতে
পার এবং তোমরা সৎকর্ম কর ৷ দুতামর৷ যা কিছু কর, আমি তার সম্যক দ্রষ্ট৷ (৩৪ সারা
৪১ :-১ ১ ) ৷ আল্লাহ অন্যত্র বলেনং :
আমি পর্বত ও বিহৎগকুলের জন্যে নিয়ম করে দিয়েছিলাম যেন ত ৷রা দা ৷উদের সং গে আমার
পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা করে; এ সবের কর্তা আমিই ছিলাম ৷ আমি তাকে তোমাদের জন্যে
বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে তােমাদেরকে রক্ষা করে; সুতরাং
তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না? (২১ : আন্বিয়৷ : ৭৯-৮০)
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর আক্রমণ থােক আত্মরক্ষার জন্যে আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-দুক লোহা
দ্বারা বর্ম তৈরি করতে সাহায্য করেন এবং তাকে তা তৈরি করার নিয়ম-পদ্ধতিও শিক্ষা দেন ৷
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেনা,পু ! ষ্প্ এাহুএ এবৎ বুনন কাজে পরিমাণ রক্ষা কর

-অথাৎ বুননটা এত সুক্ষ্ম হবে না যাতে র্ফাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আ র এতটা মাে ৷৷ট ৷ও হবে
না যাতে ভেঙ্গে যেতে পারে ৷ মুজা ৷হিদ, ক ৷তাদা, হাকাম ও ইকরীমা এ তাফসীরই করেছেন ৷

হাসান বসরী, কাতাদা ও আ মাশ বলেছেন, আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-এর জন্যে
লােহাকে এমনভাবে নরম করে দিয়েছেন যে, তিনি হাত দ্বারা যেমন ইচ্ছা পেচাতে ও ভাজ
করতে পারতেন; এ জন্যে তার আগুন বা হাতুড়ির প্রয়োজন হত না ৷ কাতাদা বলেন,
হযরত দাউদ (আ) এই প্রথম মানুষ, যিনি মাপজে ক মত আং টা ব্যবহার করে লৌহ বর্ম
নির্মাণ করেন ৷ এর আগে লোহার পাত দ্বারা বর্মের কাজ চালান হত ৷ ইবন শাওযাব বলেন,
তিনি প্রতি দিন একটি করে বর্ম ভৈত বি করতেন এবং ছয় হাজার দিরহামের বিনিময়ে
বিক্রি করতেন ৷ হাদীসে এসেছে, মানুষের পবিত্রতম খাবার হল যা সে নিজে উপার্জন করে ৷
৷ ৷অ) আর আল্লাহর নবী হযরত দাউদ (আ) নিজের
হাতে উপার্জিত খাদ্য দ্বারা জীবিকা বিবাহ করতে ন ৷ আল্লাহর বাণী৪

এবং স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদের কথা; র্সে ছিল অতিশয় আল্লাহ
অভিমুখী ৷ আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে যেন এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে
আমার পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা করে এবং সমবেত ৰিহৎগকুলকেও; সকলেই ছিল তার
অনুগত ৷ আমি তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী
তা (৩৮ সাদ ১৭ ২০) ৷
ইবন আব্বাস (রা) ও মুজা ৷হিদ (র) বলেন, আয়াতে উল্লেখিত ১ ১৷ ৷ অর্থ ইবাদত করার
শক্তি ৷ অর্থাৎ তিনি ছিলেন ইবাদত ও অন্যান্য সৎকাজে অত তস্তে শক্তিশালী ৷ ক ৷তাদা (ব ) বলেন,
র্তাকে আল্লাহ ইবাদত করতে দিয়েছিলেন শক্তি এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে দিয়েছিলেন
গভীর জ্ঞান ৷ কাতাদা (র) আরও বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, দাউদ
(আ) রাতের বেলা র্দাড়িয়ে ইবাদত করতেন এবং বছরের অর্ধেক সময় রোয৷ বাখতেন ৷ বুখারী
ও মুসলিমে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুল (সা) বলেছেন : আল্লাহর নিকট ঐরুপ নামায
সবচেয়ে প্রিয় যেরুপ নামায হযরত দাউদ পড়তেন এবং আল্লাহর নিকট ঐরুপ রোযা সবচেয়ে
পছন্দনীয় যেরুপ রােয৷ হযরত দাউদ (আ) রাখতেন ৷ তিনি রাতের প্রথম অর্ধেক ঘুমাতেন
তারপরে এক তৃতীয়াংশ ৷নামাযে কাটাতেন এবং শেষে এক ষষ্ঠাংশ ৷পুনরায ঘুমিয়ে কাটাতেন ৷
তিনি এক দিন রােযা রাখতেন এবং একদিন রােয৷ থাকতেন না ৷ আর শত্রুর মুকাবিলা হলে
কখনও ভয়ে পালাতেন না ৷ ত ই আয়াতে বলা হয়েছে৪ “আমি পর্বত মালাকে নিয়োজিত
করছিলাম যেন তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রত৷ ঘোষণা করে ৷ আর পক্ষীকুলকেও,
যারা তার কাছে সমবেত হত ৷ সবাই ছিল তার অনুগত ৷ ” সুরা সাবায় যেমন বলা হয়েছে০
ঠুট্রণ্৷ ৷ টু ধ্ট্রঢ় ংমুেষ্টু৷ ৰুঢ় ট্রু হে পর্বতমালা ৷ তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা

ঘোষণা কর এবং বিহংগকুলকেও ৷ অর্থাৎ তার সাথে তাসবীহ পাঠ কর ৷ ইবন আব্বাস, মুজাহিদ
প্রমুখ এ আঘাতের তাফসীর এভাবেই করেছেন ৷ অর্থাৎ তারা দিনের সুচনা লগ্রে ও শেষ ভাগে

তাসবীহ পাঠ করত ৷ হযরত দাউদ (আ ) কে আল্লাহ এমন দরাজ কষ্ঠ ও সুর মাধুর্য দান
করেছিলেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে দান করেননি ৷ তিনি যখন তার প্রতি অবতীর্ণ যাবুর
কিতা ৷ব সুর দিয়ে পাঠ করতেন তখন আকাশে উডচীয়মান বিহ-ংগকুল সুরের মুছনায় থমকে
দাড়াত এবং দাউদের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে আবৃত্তি করত ও তার সাথে তাসবীহ পাঠ করত ৷
এভাবেই তিনি সকাল সন্ধ্যায় যখন তাসবীহ পাঠ করতেন তখন পান্ খ্াড়পর্বতও তার সাথে
তাসবীহ পাঠে শরীক হত ৷ আ ৷ওযাঈ বলেছেন, হযরত ৩দাউদ (আ)ণ্,ক এমন সুমধুর কণ্ঠস্বর
দান করা হয়েছিল যেমনটি আর কাউকে দান করা হয়নি ৷ তিনি যখন আল্লাহর কিতাব পাঠ
করতেন তখন আকাশের পাখী ও বনের পশু তার চার পাশে জড়ো হয়ে যেত ৷ এমনকি প্রচণ্ড
ক্ষুধায় ও তীব্র পিপাসায় তারা যে স্থানে মারা যেত কিভৃ নড়াচড়৷ করত না ৷ শুধু এরাই
নয়,নদীর পানির প্রবাহ পর্যন্ত থেমে যেত ৷ ওহাব ইবন মুনাব্বিহ বলেছেন, দাউদ (আ )-এর
কণ্ঠস্বর যেই শুনত লাফিয়ে উঠত এবং কণ্ঠের তালে তালে নাচতে গুরু করত ৷ তিনি যাবুর
এমন অভুতপুর্ব কণ্ঠে পাঠ করতেন যা ৷কােন দিন কেউ শুনেনি ৷ সে সুর শুনে জিন ইনস
পক্ষীও জীব জস্তু আপন আপন স্থানে দাড়িয়ে যেত ৷ দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকার ফলে তাদের
কেউ কেউ মারাও যেত ৷

আবুআওয়ানা বিভিন্ন সুত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত দাউদ (আ ) যাবুর

পড়া আরম্ভ করলে কিশোরী মেয়েদের কুমারীতু ছিন্ন হয়ে যেত ৷ তবে এ রণ্নািটি সমর্থাংযােপ্য
নয় ৷ আবদুল রায্যাক ইবন জুরায়জ সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি গানের সুরে কিরাআত পড়া যাবে
কি না এ সম্পর্কে আত৷ (রা) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, এতে দোষ কিং অতঃপর
তিনি বললেন, আমি শুনেছি, উবায়দ ইবন উমর বলেছেন, হযরত ৩দাউদ (আ) )বাজন৷ বাজাতেন
ও তার তালে তালে কিরাআত পড়তেন ৷ এতে সুরের মধ্যে লহর সৃষ্টি হত ৷ ফলে সুরের মুর্দুনায়

তিনিও র্কাদতেন এবং শ্রোতাদেরকেও র্কাদাতেন ৷ ইমাম আছমদ আবদুর রায্যাকের সুত্রে
আয়েশা (রা) থেকে বংনি৷ করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) একদাঅ আ৷বুমুস আশ আবীর কিরাআত পড়া
শুনে বলেছিলেন আবু মুসাকে আলে দাউদের সুর লহরী দা ৷ন করা হয়েছে ৷

বুখারী ও মুসলিমের শর্ভে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ অবশ্য এই সুত্রে এ হাদীস বুখারী

মুসলিমে নেই ৷ অন্যত্র ইমাম আহমদ হাসানের সুত্রে আবু হুরায়রা (যা) থেকে বংনাি করছেন,
রাসুল (সা) বলেছেন : আবু মুসাকে দাউদের বাদ্য প্রদান করা হয়েছে ৷ এ হাদীছটি মুসলিমের

শর্তে বর্ণিত ৷ আবু উছমান তিরমিযী (র) বলেন, বাদ্য ও র্বাশরী শুনেছি, কিন্তু আবু মুসা
আশ আবীর কণ্ঠের চেয়ে তা অধিক শ্রুতি ৩মধুর নয় ৷ এ রকম মধুর সুর হওয়া সত্বেও দ উদ
(আ) অতি ৩দ্রুত যাবুর পাঠ করতেন ৷ এ সম্পর্কে ইমাম আহমদ আবু হুরায়রা (বা ) থেকে
বংনাি করেন ৷ রাসুলুল্লাহ (যা) বলেছেন : তে তামর৷ দাউদ অপেক্ষা ধীরে কিরাআত পড় ৷ কেননা
তিনি বাহনের উপর জিন লাগাবার আদেশ করে কুরআন (বাবুর) পড়তেন এবং জিন লাগান
শেষ হবার আগেই তার যাবুর পড়া শেষ হয়ে যেত ৷ আর তিনি স্বহস্তে উপার্জন করেই জীবিকা
নির্বাহ করতে ন ৷ ইমাম বুখ৷ ৷রীও আবদুর রাঘৃযাক সুত্রে এ হাদীস প্রায় অনুরুপ শব্দে বর্ণনা

করেছেন ৷ এরপর বুখাবী (র) বলেছেন, এ হাদীস মুসা ইবন উকব৷ আবু হুরায়রা (রা)
থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে দাউদ (আ) এর আলোচনায় বিভিন্ন
সুত্রে এ হাদীছখানা বর্ণনা করছেন ৷

হাদীসে উল্লেখিত কুরআন অর্থ এখানে যাবুর যা হযরত দাউদ (আ)-এর উপর অবতীর্ণ
হয়েছিল ৷ এর বর্ণনাগুলাে ছিল সং রক্ষিত ৷ কেননা তিনি ছিলেন একজন বাদশাহ ৷৩ তার ছিল বহু
অনুসারী ৷ তাই বাহব্লুনর উপর জিন লাগাব্লুত যতটুকু সময় লাগে সে সময় পর্যন্ত তিনি যাবুর পাঠ
করতেন ৷ ভক্তিসহ নিবিষ্ট চিত্তে ও সুর প্রব্লুয়াগে পড়া সত্তেও৩ তার তিলাওয়াত ছিল অত্যন্ত দ্রুত ৷

ল্লাহর বাণীং , আমি দাউদকে য়াবুর প্রদান করেছি ৷ (১৭ ইসরা;
৫৫ ) এ আয়াতের তাফসীরে আমার তাফসীর গ্রন্থে ইমাম আহমদ ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদীস
উদ্ধৃত করেছি যে, এ প্রসিদ্ধ আসমানী কিতাবখানা রমজান মাসে অবতীর্ণ হয় ৷ গভীরভাবে
অধ্যয়ন করলে দেখা যাবে যে, এতে বিভিন্ন উপদেশ ও প্রজ্ঞাপৃর্ণ উক্তি রয়েছে ৷ আল্লাহর বাণী :

আমি তার রাজাকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিব্লুয়ছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগিাতা
(৩৮ সাদঃ ১৭) অর্থাৎ তাকে আমি দিব্লুযছিলাম বিশাল রাজতু ও কার্যকর শাসন কৌশল ৷
ইবন জারীর ও ইবন আবী হাতিম হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক
গাভী সংক্রান্ত বিচারে দৃ’ব্যক্তি দাউদ (আ)-এর শরণাপন্ন হয় ৷ এদের একজন অপর জনের
বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, সে তার গা ৷তী জোরপুর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে ৷ কিন্তু বিবাদী অভিযোগ
অস্বীকার করল ৷ হযরত দাউদ (আ)ত তাদের ফয়সালা রাত পর্যন্ত স্থগিত রাখব্লুলন ৷ আল্লাহ ঐ
রাতে ওহীর মাধ্যমে নবীকে নির্দেশ দিলেন যে, বাদীকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে ৷ সকাল হলে নবী
বাদীকে ডেকে আল্লাহর নির্দেশ জানিয়ে দেন এবং বলেন, আমি অবশ্যই তোমার উপর মৃতুদন্ড
কার্যকর করব ৷ এখন বল, তােমা ৷র দাবীর মুলে আসল ঘটনা কি? বাদী বলল, হে আল্লাহর নবী
আমি কসম করে বলছি, আমার দ বী যথার্থ ৷ তবে এ ঘটনার পুর্বে আমি বিবাদীর পিতাকে
হত্যা করেছিলাম ৷ তখন হযরত দাউদ (আ)ত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাথে
সাথে তা কার্যকর হয় ৷ এ ঘটনার পরে বনী ইসরাঈব্লুলর মধ্যে দাউদ (আ) এর মর্যাদা ৷বৃদ্ধি পায়
এবং তার প্রতি তাদের আনুগত ৷ বৃদ্ধি পায় ৷
ইবন আব্বাস (বা) বলেন, এ কথাটাই বাক্যাৎশে ব্যক্ত করা হয়েছে ৷
,,শুরায়হ্, শ৷ ৷’বী, ক ৷৷তাদ হ্, আবু আবদুর রহমান প্রমুখের মব্লু৩ ব্লু ফাসুলাল খিতাব’ অর্থ সাক্ষী ও
শপথ অর্থাৎ বিচার কার্যের মুলনীতি হিসেবে বাদীর জন্যে সাক্ষী প্রমাণ আর বিবাদীর জন্যে
শপথ গ্রহণ ৷ ) ৷ তাদের মতে, আল্লাহ
হযরত দাউদ (আ)-কে এই মুলনীতি দান করেছিলেন ৷ মুজাহিদ ও সৃদ্দীর মতে , ফাস্লাল
খিতাব’ অর্থ বিচার কাজের প্রজ্ঞা ও সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ৷ মুজাহিদ বলেন, বাক্য
প্রয়োগ ও সিদ্ধান্ত দাব্লুন স্পষ্টবাদিতা ৷ ইবন জারীরও এই ব্যাখ্যাকে অগ্ৰাধিকার দিয়েছেন ৷ আবু

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৫

মুসা বলেছেন, ফাসলড়াল খিতাব হচ্ছে (হামদ ও সালাতের পরে) শ্ৰুগ্ ণুণ্ ৷ বলা অর্থাৎ হযরত
দাউদ-ই প্রথমে ৰু ক্রো শব্দ ব্যবহার করেন, তার সাথে এ ব্যাখ্যার কোন বিরোধ নেই ৷

ওহাব ইবন মুনাব্বিহ লিখেছেন, বনী ইসরাঈল জাতির মধ্যে পাপাচার ও মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার
প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে হযরত দাউদ (আ)-কে একটি ফয়সালাকারী শিকল দেওয়া
হয় ৷ এই শিকলটি আসমান থেকে বায়তৃল মুকাদ্দাসের পার্শে রক্ষিত সাখরা’ পাথর খণ্ড পর্যন্ত
ঝুলম্ভ ছিল ৷

শিকলটি ছিল স্বর্ণের ৷ ফয়সালা এভাবে হত যে, বিবদমান দৃ ব্যক্তির মধে যে সাত ৷র উপর
প্রতিষ্ঠিত সেই ঐ শিকলটি নাগাল পেতো! আর অপরজন তা পেতে ৷ না ৷ দীর্ঘদিন যাবত
এভাবে চলতে থাকে ৷ অবশেষে এক ঘটনা ঘটে ৷ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির নিকট একটা
মুক্তা গচ্ছিত রাখে ৷ যখন সে তার মুক্তাটি ফিরিয়ে আনতে যায় তখন ঐ ব্যক্তি তার দাবি
প্রত্যাখ্যান করে ৷ সে একটি লাঠি দিয়ে তার মধ্যে মুক্তাটি রেখে দেয় ৷ অতঃপর তাদের বিবাদ
মীমাংসার জন্যে সাখরা পাথরের কাছে উপস্থিত ৩হলে বাদী শিকলষ্টি ষ্ নাগাল পায় ৷ বিবাদীকেত
ধরতে বলা হলে যে উক্ত যুক্ত৷ সম্বলিত লাঠিটি বাদীর কাছে দিয়ে দেয় ৷ এরপর সে আল্লাহর
নিকট প্রার্থনা জা ৷নিয়ে বলে, হে আল্লাহ আপনি অবশ্যই অবগত আছেন যে আমি তাকে তার
মুক্তাটি প্র৩ ৷র্পণ করেছি ৷ প্রার্থনার পর সে শিকলটি ধরতে সক্ষম হয় ৷ এভাবে উক্ত শিকলঢির
দরুন বনী-ইসরাঈলরা যুশকিলে পড়ে যায় ৷ ফলে অল্প দিনের মধ্যেই শিকলটি উঠিয়ে নেয়া
হয় ৷ অনেক মুফাস্সিরই এ যটনাটিই উল্লেখ করেছেন ৷ ইসহাক ইবন বিশর ও ওহাব ইবন
ঘুনাব্বিহ সুত্রে প্রায় এরুপেই বর্ণনা করেছেন ৷ আল্লাহর বাণী :

-তােমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌছেছে কি? যখন তারা প্রাচীর ডিংগিয়ে
ইবাদত থানায় আসল এবং দাউদের নিকট পৌছল, তখন সে তাদের কারণে ভীত হয়ে পড়ল ৷
তারা বলল, ভীত হবেন না, আমরা দৃ’বিবদমড়ান পক্ষ; আমাদের একে অপরের উপর জুলুম
করেছে; অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করুন; অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে
সঠিক পথ নির্দেশ করুন ৷ এ আমার ভাই, এর আছে নিরানব্বইটা দৃদ্ব৷ এবং আমার আছে মাত্র
একটি দুম্বা; তবুও সে বলে, আমার যিম্মায় একটা দিয়ে দাও; এবং কথায় সে আমার প্রতি

কঠোরতাে প্রদর্শন করেছে ৷ দাউদ বলল, তোমার দুম্বড়াটিকে তার দুম্বাগুলাের সৎগে যুক্ত করার
দাবি করে সে তে ৷মার প্রতি ৩জুলুম করেছে ৷ শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর অৰিচার করে
থাকে ৷ করে না কেবল যু মিন ও সৎ কর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ এবং তারা সং খ্যড়ায় স্বল্প ৷ দাউদ
বুঝতে পারল, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি ৷ আর সে তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা
করল এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়ল ও তার অভিমুখী হল ৷ তারপর আমি তার ত্রুটি ক্ষমা
করলাম ৷ আমার নিকট তার জন্যে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম ৷ (৩৮ সাদ : ২১ ২৫)

উপরোক্ত আয়াতে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রাচীন ও আধুনিক বহু

ৎখ্যক মুফাস্সির অনেক কিসৃসা-কাহিনীর অবতারণা করেছেন ৷ কিন্তু তার অধিকাৎশই
ইসরাঈলী বর্ণনা এবং এর মধ্যে সম্পুর্ণ মিথ্যা-বানােয়াট বর্ণনাও রয়েছে ৷ আমরা এখানে যে
সবের কিছুই উল্লেখ করছি না; শুধু কুরআনে বর্ণিত ঘটনড়াটির উল্লেখ করাই যথেষ্ট বিবেচনা
করছি ৷ সুরা সাদ-এর সিজদার আয়াত সম্পর্কে ইমামগণের মধ্যে দহ্ ধরনের মত পাওয়া যায় ৷
কেউ কেউ বলেছেন, এ সিজদা অপরিহার্য; আবার অন্য কেউ কেউ বলেছেন, এটা অপরিহার্য
নয়, বরং এটা শোকরানা সিজদা ৷ এ প্রসংগে ইমাম বুখারী (র) মৃজাহিদের সুত্রে বর্ণনা করেছেন
যে, তিনি একদা ইবন আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন : সুরা সাদ তিলাওয়াতকালে
আপনি কেন সিজদা দেনা তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনে পড় না

দাউদ, সুলায়মান আর আমি তাহাকে দান করিয়াছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুব, ইইাদের
প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম; পুর্বে নুহ্ফেও সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম
এবং তাহার বংশধর দাউদ, সুলায়মান ও আইউব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকেও ; আর এইভাবেই
সংকর্মপরায়ণদিগকে পুরস্কৃত করি; এবং যাকারিয়া, ইয়াহ্য়া, ঈসা এবং ইলরাসকেও সৎপথে
পরিচালিত করিয়াছিলাম ৷ ইহারা সকলে সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত; আরও সৎপথে পরিচালিত
করিয়াছিলাম ইসৃমাঈল, আল্-য়াসাআ, ইউনুসৃ ও লুতকে; এবং শ্রেষ্ঠতু দান করিয়াছিলাম
বিশ্বজগতের উপর প্ৰত্যেতকে এবং ইহাদের পিতৃ-পুরুষ, বংশধর ও ভ্রাতৃবৃন্দের কতককে ৷
আমি তাহাদিগকে মনোনীত করিয়াছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত করিয়াছিলাম ৷ ইহা

আল্পাহ্র হিদায়াত, স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দ্বারা সৎপথে পরিচালিত
করেন ৷ তড়াহারা যদি শিবৃক করিত তবে তাহাদের কৃতকর্ম নিম্ফল হইত ৷ আমি উহাদিপকেই
কিতাব, কর্তৃত্ব ও নুবুওয়াত দান করিয়াছি, অতঃপর যদি ইহারা৪ ১ ৭ এইগুলিকে প্রত্যাখ্যানও
করে তবে আমি তো এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি এইগুলির তার অর্পণ করিয়াছি যাহারা এইগুলি
প্রত্যাখ্যান করিবে না ৷ উহাদিগকেই আল্পাহ্ সৎপথে পরিচালিত করিয়াছেন, সুতরাং তুমি
তড়াহাদের পথের অনুসরণ কর ৷ বল, আহাির জন্য আমি তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চাহি না ,
ইহা তো শুধু বিশ্বজপতের জন্য উপদেশ ৷ ’ (৬ আনআম : ৮৪ ও ৯০ )

এ থেকে স্পক্ট বুঝা যায় যে, দাউদ (আ) নবীপণের অন্যতম র্যাদের অনুসরণ করার জন্য
আমাদের নবী (না)-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ৷ সুরা সাদ-এর আয়াতে দাউদ (আ)-এর সিজদার
কথা উল্লেখিত হয়েছে ৷ সে অনুযায়ী রাসুল (স)-ও সিজদা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ
ইকরমাের সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন: সুরা সাদ এর সিজদা অড়াবশ্যিক
সিজদার অন্তর্ভুক্ত নয় ৷ তবে আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে এ সিজদা করতে দেখেছি ৷ ইমাম
বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী একে হাসান
ও সহীহ বলেছেন ৷ ইমাম নড়াসাঈ (র) সাঈদ ইবন জুবায়রের সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে
বর্ণনা করেন ৷ নবী করীম (সা) সুরা সাদ এ সিজদা করেছেন তওবা স্বরুপ, আর আমরা সিজদা
করব শোকরিয়া স্বরুপ ৷ শেষের কথাটি কেবল আহ্মদের বর্ণনায় আছে ৷ তবে এর রাবীপণ
সবাই নির্ভরযোগ্য ৷

আবু দাউদ আবু সাঈদ খুদবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা) একবার
মসজিদের মিম্বিরে বসে সুরা সাদ তিলাওয়াত করেন ৷ সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌছে তিনি মিম্বর
থেকে নেমে সিজদা আদায় করেন ৷ উপস্থিত লোকজনও তার সাথে সিজদা আদায় করেন ৷
অন্য এক দিন তিনি অনুরুপ মিম্বরে বসে সুরা সাদ পাঠ করেন ৷ যখন সিজদার আয়াত পড়েন,
তখন উপস্থিত লোকেরা সিজদা করতে উদ্যত হন ৷ এ অবস্থা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন,
এটা হচ্ছে জনৈক নবীর তওবা বিশেষ (সিজদার সাধারণ নির্দেশ নয়), তবে দেখছি তোমরা
সিজদা করতে উদ্যত হয়েছ ৷ তারপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে সিজদা আদায় করেন ৷ এ
হাদীছখড়ানা কেবল আবু দাউদই বর্ণনা করেছেন ৷ তবে এর সনদ সহীছের শর্ত অনুযায়ী আছে ৷
ইমাম আহমদ আবু সাঈদ খুদবী (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি একদা স্বপ্নে দেখেন যে,
তিনি সুরা সাদ লিখছেন ৷ সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌছে তিনি, দােয়াত , কলম ও অন্য যা কিছু
সেখানে ছিল, সবই সিজদার লুঠিয়ে পড়েছে দেখতে পান ৷ এ ঘটনা তিনি নবী করীম (সা ) এর
নিকট ব্যক্ত করেন ৷ তারপর থেকে তিনি সর্বদা এ সুরার সিজদা আদায় করতেন ৷ এ
, হড়াদীসখানা কেবল ইমাম আহমদা বর্ণনা করেছেন ৷

তিরমিযী ও ইবন মাজাহ্ মুহাম্মদ ইবন ইয়াযীদের সুত্রে হযরত ইবন আব্বাস (রা)
থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট এসে বলল ইয়া রাসুলাল্লাহ! মানুষ
যেমন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে, আমিও তেমনি সালাত আদায় করছি ৷ সালাতে আমি সিজদার
আয়াত তিলাওয়াত করি এবং সিজদার যাই ৷ বৃক্ষটিও আমার সাথে সিজদা করে ৷ আমি শুনলাম
সে সিজদা অবস্থায় এরুপ দোয়া করছে : “হে আল্লাহ! এর ওসীলায় আপনার নিকট আমার

জুন্যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন, আপনার নিকট আমার জন্যে এর ছওয়াব সঞ্চিত রাখুন, এর
ওসীলায় আমার দােষ-ত্রুটি দুর করে দিন এবং আমার এ সিজদা আপনি কবুল করুন, যেমন
কবুল করেছিলেন আপনার লেক বান্দ৷ দাউদ (আ) থেকে ৷ ইবন আব্বাস (রা ) বলেন, আমার
এ কথা শেষ হতেই দেখলাম, রাসুল (সা) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদায় যান এবং
লোকটি বৃক্ষের যে দােয়ার উল্লেখ করেছিল, শুনলাম তিনি সিজদায় সেই দােয়াটিই পড়ছেন ৷
ইমাম তিরমিযী এ হাদীস বর্ণনা করার পরে লিখেছেন যে, এটা গরীব পর্যায়ের হাদীসএই
একটি সুত্র ব্যতীত এর অন্য কোন সুত্র আমার জানা নেই ৷

কোন কোন মুফাসৃসির বলেছেন, হযরত দাউদ (আ) তার এ সিজদায় একটানা চল্লিশ দিন
অতিবাহিত করেন ৷ মুজাহিদ, হাসান প্রমুখ এ কথা উল্লেখ করেছেন ৷ এ প্রসংপে একটি মড়ারকু’
হড়াদীছও বর্ণিত হয়েছে ৷ কিন্তু এর বর্ণনাকয়ী ইয়াষীদ রুক্কাশী হাদীস বর্ণনায় দুর্বল ও
পরিত্যক্ত ৷ আল্লাহর বাণী :

অৰুমি তবে সে অপরাধ ক্ষমা করলাম নিশ্চয় আমার কাছে তার জনে রয়েছে উচ্চ

মর্তবা ও সুন্দর বাসস্থান ৷ (৩৮ সাদং : ২৫) ৷ অর্থাৎ কিয়ামা৩ র দিন তিনি আাল্লাহর নিকট উচ্চ
মর্যাদা পাবেন ৷ , এ অর্থ বিশেষ নৈকট্য; এবং তাহল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে আল্লাহ
দাউদ (আ)-কে এ নৈকট্য দান করবেন ৷ এ ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে :

-অর্থাং যায়৷ ন্যায় বিচার করে ও ন্যায়ের বিধান চালু করে, এবং তবে পরিবারে ফয়সালায়
এবং কর্তৃতু প্র য়োপে তারা মেহেরবান আল্লাহ্র দক্ষিণ হস্তের কাছে প্রতিষ্ঠিত নুরের মিম্বরের
উপরে অধিষ্ঠিত থাকবে ৷ আর আল্লাহর উভয় হস্তই দক্ষিণ হস্ত) ৷ মুসনাদে ইমাম আহমদে
আবু সাঈদ খুদরী (বা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন৪ কিয়ড়ামরুত র দিন
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও নৈকট্যপ্রাপ্ত হল ন্যায় বিচারক শাসক; পক্ষাম্ভরে আল্লাহর
নিকট কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ঘৃণিত ও কঠিন শাস্তিযােগ্য ব্যক্তি হল জালিম বাদশাহ ৷
তিরিমিষী অনুরুপ বংনাি করে বলেছেন, এই একটি সুত্র ব্যতীত অন্য কোন সুত্রে এ হাদীছখানা
সম্পুর্ণরুপে বর্ণিত হয়নি ৷ ইবন আবী হাতিম জা ফর ইবন সুলায়মান থেকে বংনাি করেন ৷
তিনি মালিক ইবন দীনারকে পু, এ আঘাতের ব্যাথ্যায়
বলতে শুনেছেন যে, হযরত দাউদ (আ) কিয়ামণ্ডে র দিন আরশে আষীমের স্তন্তের কাছে
দণ্ডায়মান থাকবেন, আল্লাহ তখন বলবেন, হে দাউদ দৃনিয়ায়তু নি যে মধুর সুরে আমার

ৎস৷ ও মহতু প্রকাশ করতে, সেইরুপ মধুর সুরে আজ আমার প্রশংসা ও মহতৃ প্রকাশ কর ৷
দাউদ (আ) বলবেন, হে আল্লাহ ! আপনি তাে তা আমার থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন, এখন কিরুপে
তা করব? আল্লাহ বলবেন, আজ আমি তা তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি ৷ অতঃপর দাউদ (আ) এমন
মধুর আওয়াজে আল্লাহর প্রশংসা গাইবেন, যার প্রতি সমস্ত জান্নাতবাসী আকৃষ্ট হয়ে পড়বে ৷

আল্লাহর বাণী

-হে দ উদ আমিণ্ তোমাকে পৃথিবীতে ৩প্রতিনিধি করেছি তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার
কর এবং থেয়াল-থুশীর অনুসরণ করো না, কেননা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত
করবে ৷ যারা আল্লাহর পথ হতে ভ্রষ্ট হয় তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শান্তি , কারণ তারা বিচার
দিবসকে বিস্মৃত হয়ে আছে ৷ (৩৮ মাস : ২৬) ৷

আলোচ্য আয়াতে হযরত দাউদ (আ)-কে সম্বোধন করা হলেও এর দ্বারা শাসক ও বিচারক
মণ্ডলীকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাদেরকে মানুষের মাঝে তার পক্ষ থেকে নির্দেশিত
ন্যায় বিচার ও সত্যের অনুসরণ করার আদেশ করেছেন ৷ নিজেদের থেয়াল খুশীর অনুসরণ
করতে নিষেধ করেছেন ৷ যারা সত্য পথ পবি৩ ৷৷গ করে নিজের খেয়াল খুশীর পথ অনুসরণ
করবে তাদেরকে আল্লাহ সতর্ক করে দিয়েছেন ৷ সে যুগে হযরত দ উদ (আ) ছিলেন ন্যায়
বিচার প্রতিষ্ঠা, প্রচুর ইবাদত ও অন্যান্য লেক কাজের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় আদর্শ ৷ কথিত আছে,
রাত্র ও দিনের মধ্যে এমন একটি সময় অতিবাহিত হত না, যে সময় তার পরিবারবর্গের কোন
না কোন সদস্য ইবাদতে মশগুল না থাকত ৷ আল্লাহ বলেছেন :

-হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও ৷ আমার বান্দাদের
মধ্যে অল্প সৎখ্যকই কৃতজ্ঞ ( ৩৪ং : সাবাং : ১৩) ৷ আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া আবুল
জালদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি দাউদ (আ)-এর ঘটনাবলী অধ্যয়ন
করেছি ৷ তাতে এ কথা পেয়েছি যে, তিনি আরজ করলেন, “হে আমার পালনকর্তা! আমি
আপনার শুকরিয়া কিভাবে আদায় করব? আপনার নিয়ামত ব্যতীত তো আপনার শোকর
আদায়ে আমি সামর্থ হব না ৷” অতঃপর দাউদ (আ)-এর নিকট ওহী আসে : “হে দাউদ!
তুমি কি জান না যে, যে সব নিয়ামত তোমার কাছে রয়েছে, তা আমারই দেওয়া?” জবাবে
দাউদ (আ) বললেন, “হ্যা তাই, হে আমার বব! আল্লাহ বললেন, “তোমার এ
স্বীকারােক্তিচেইে আমি সন্তুষ্ট ৷” বায়হাকী ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত দাউদ
(আ) বলেছিলেন ৷ আল্লাহর জন্যে
এমন যাবতীয় প্রশংসা নির্দিষ্ট, যেমন প্রশংসা ত ব সত্ত্ব৷ ও মহত্বের জন্যে উপযোগী ৷ আল্লাহ
বললেন, হে দাউদঃ তুমি তো হেফাজতকারী ফিরিশতাদের মতই দোয়া করলে ৷ ’আবু বকর
ইবন আবিদ দুনিয়া সৃফিয়ান ছাওরী থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন মুবারক
তার কিতড়াবুয যুহ্দে ওহাব ইবন মুনাবৃবিহ থেকে বর্ণনা করেন : দাউদের বংশধরদের
হিকমতের মধ্যে ছিল ( ১) কোন জ্ঞানী লোকের পক্ষে চারটি বিশেষ সময়ে গাফিল থাকা উচিত
নয়, (ক) একটি সময় নিল্টি করবে, যে সময়ে যে একাস্তে আল্লাহর ইবাদত করবে ৷ (খ)
একটি নির্দিষ্ট সময়ে আত্ম-সমাংলাচনায় প্রবৃত্ত হবে ৷ (গ) একটি সময় নির্ধারণ করবে, যে
সময়ে যে ঐ সব অস্তরংগ বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়ে, বাবা তাকে ভালবাসে এবং তার
ক্রটিবিচ্যুতি ধরিয়ে দেয় ৷ (ঘ) আর একটি সময় বেছে নিয়ে হালাল ও বৈধ বিনোদনের জন্যে ৷
এই শেষোক্ত সময়টা তার অন্যান্য সময়ের কাজের সহায়ক হবে এবং অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি
করবে ৷ (২) একজন জ্ঞানী লোকের উচিৎ সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা, রসনাকে সংযত রাখা
এবং আপন অবস্থাকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেওয়া ৷ (৩) একজন জ্ঞানী লোকের কর্তব্য-তিনটি
বিষয়ের যে কোন একটি ছাড়া যেন সে কোথাও যাত্রা না করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে,
দুনিয়ার জীবন যাপনের উপাদান অম্বেষণে কিংবা বৈধ আনন্দ ব্যিনাদনে ৷

ইবন আবিদ দুনিয়া ও ইবন আসাকির অন্য সুত্রে ওহাব ইবন ঘুনাব্বিহ থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ হাফিজ ইবন আসাকির হযরত দাউদ (আ)-এর কতগুলো শিক্ষামুলক উপদেশ বাণী
তার জীবনী আলোচনায় উল্লেখ করেছেন ৷ তার কয়েকটি হল : (১) ইয়াতীমের সাথে দয়ালু
পিতার মত আচরণ কর (২) স্মরণ রেখ, যেমন বীজ বুনরে,
তেমন ফলন পাবে ৷ ( ৷ এ) (৩) একটি গরীব’
পর্যায়ের মারকু হড়াদীসে বর্ণিত আছে, হযরত দাউদ (আ) বলেছিলেন : হে পাপের চাষকারী!
ফসলরুপে তুমি কেবল কাটা আর খােসাই পাবে ৷ ( ৷ মৈ ৷ ১াৰু
(৪) কোন মজলিসের নির্বোধ বক্তা হচ্ছে মৃতের শিয়রে গায়কের তুলা ৷

(৫) ধনী থাকার পরে দরিদ্র হওয়ার মত দৃর্ভাগ্য আর নেই ৷ কিন্তু তার চেয়ে অধিক দুর্ভাগ্য হল
হিদায়াত লাভের পরে পথভ্রষ্ট হওয়া ৷ @,
প্রুএেগ্র !া ণ্এে ক্রো ! (৬) প্রকাশ্য সভায় তোমার সমালোচনা না হোক-এ যদি তোমার
কাম্য হয় তবে ঐ কাজটি তুমি নির্জনেও করবে না ৷
৷ও ৷ ৭) তুমি কাউকে এমন কিছুর প্রতিশ্রুতি দিও না,
যা তুমি পুর্ণ করতে পারবে না ৷ কেননা এতে তোমার ও তার মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হবে ৷
র্মী মুহাম্মাদ
ইবন সাদ আফরার মওলা উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, ইয়াহুদীরা রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
একাধিক সহধর্মিণী দেখে লোকজনকে বলল, “তোমরা এ লোকটির প্রতি লক্ষ্য কর, সে
আহারে পরিতৃপ্ত হয় না; আল্লাহর কসম সে নারী ছাড়া কিছু বুঝে না ৷” সমাজে তার একাধিক
সহধর্মিণী থাকায় তারা তার প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে এবং তার প্রতি দােষারােপ করে ৷ তাদের
মন্তব্য হল, যদি ইনি নবী হতেন, তাহলে ন বীদেব প্ৰতি এতে ৷ লিপ্স৷ থাকতো না ৷ এ কুৎসা
রটনায় সবচেয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন ক র হুয়াই ইবন আখ৩ ৷ব ৷ কিন্ত আল্লাহ তাদেরকে
মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেন এবং নবী করীম (সা) এর প্রতি তার দান ও অনুগ্রহের কথা উল্লেখ
করেন (অথবা আল্লাহ নিজ
অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, যে জন্যে কি তারা তাদেরকে ৷ইৎস৷ করো) এখানে , বা
মানুষ অর্থ রাসুল (সা)
£এণ্ তাহলে ইবরাহীমের বংশধরকেও তে৷ আ ৷মি কিত৷ ৷বও হিকমত প্রদান করেছিলাম
এবং তাদেরবকে বিশাল রাজ্য দান করেছিলাম ৷ (৪ নিস৷ : ৫৪) ৷ ইবরাহীমের বংশধর বলতে
এখানে হযরত সুলায়মান (আ)-কে বুঝানো হয়েছে ৷ তার ছিলেন এক হাজার শ্রী, তাদের মধ্যে
সাত শ’ স্বাধীন এবং তিন শ’ র্বীদী ৷ আর হযরত দাউদ (আ)-এর ছিলেন একশ’ জন শ্রী
তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হযরত সুলায়মান (আ) এর মা যিনি ইতিপুর্বে উরিয়ার শ্রী
ছিলেন ৷ পরে তাকে বিবাহ করেছিলেন ৷ দেখা যাচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ত্রী সংখ্যার
তুলনায় তাদের সংখ্যা অনেকগুণ ৷বেশী ৷ কালবী ও ঠিক এইরুপ বর্ণনা করেছেন ৷
হাফিজ ইবন আসাকির তীর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন : এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রা ) কে
(নকল) রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার নিকট সংরক্ষিত একটি
হাদীস আছে ৷ আপনি যদি শুনতে চান তবে আ ৷মি আপনাকে দাউদ (আ) এর বোয৷ সম্পর্কে
বলতে পারি ৷ কেননা তিনি অত্যন্ত বেশী রোযা রাখতেন এবং নামায আদায় করতেন ৷ তিনি
ছিলেন অ৩ ৩ন্ত বীর পুরুষ, দুশমনের বিরুদ্ধে মুকাবিলা কালে তিনি কখনও পলায়ন করতেন
না ৷ তিনি একদিন অন্তর অন্তর বোয৷ রাখতে ন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম
রোয৷ হল দাউদ (আ)-এর রোযা ৷ তিনি সত্তরটি সুরে যাবুর৩ তিলাওয়ড়াত করতেন ৷ এগুলো তার
নিজেবই উদ্ভাবিত স্বর ৷ রাত্রে যখন নামাযে র্দাড়াতেন তখন নিজেও র্কাদতেন এবং তাতে অন্য
সবকিছুও র্কাদতে৷ ৷ তার মধুর সুরে সকল দৃশ্চিন্ত৷ ও ক্লান্তি দুর হয়ে যেত ৷ তুমি আরও শুনতে
চাইলে আমি তীর পুত্র হযরত সুলায়মান (আ )-এর রোযা সম্পর্কে জানাতে পারি ৷ কেননা, তিনি
প্রতি মাসের প্রথম তিন দিন, মাঝের তিন দিন ও শেষের তিন দিন রোযা রাখতেন ৷ এভাবে
তার নাম শুরু হত রােযার মাধ্যমে ৷ মধ্য-মাস অতিবাহিত হত রোযা রাখা অবস্থায় এবং নাম
শেষ হত রোযা পালনের মাধ্যমে ৷ তুমি যদি আরও শুনতে চাও তবে আমি তে ৷মাকে মহিয়ষী
কুমারী মা৩ ৷ মরিয়ম (আ) এর পুত্র হযরত ৩ঈসা (আ) এর রোযা সম্পর্কেও জানাতে পারি ৷
তিনি সারা বছর ধরে বোযা রাখতেন, যবের ছাতৃ যেতেন, পশমী ক পাড় পরতেন, যা পেতেন
তাই যেতেন, যা পেতেন না, তা চাইতেন না ৷ তার কোন পুত্র ছিল না যে, মারা যাবার
আশংকা থাকবে কিৎব৷ কোন ঘরবাড়ি ছিল না যে, নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকবে ৷ যেখানেই রাত
হত সেখানেই নামাযে দাড়িয়ে যেতেন এবং ভোর পর্যন্ত নামাযে রত থাকতেন ৷ তিনি একজন
ভাল ভীরান্দা ৷য ছিলেন ৷ কোন শিকা ৷রকে লক্ষ্য করে তীর ছুডলে কখনও তা ব্যর্থ হত না ৷ বনী

ইসরাঈলের কোন সমাবেশ অতিক্রম করার সময় তাদের অভিযোগ শুনতেন ও প্রয়োজন পুরণ
করে দিতেন ৷ যদি তুমি আগ্রহী হও তবে আমি তোমাকে হযরত ঈসা (আ)-এর মা মারয়াম
বিনতে ইমরানের রোযা সস্পর্কেও জানাতে পারি ৷ কেননা তিনি একদিন রােযা রাখতেন এবং
দুই দিন বাদ দিতেন ৷ তুমি যদি জানতে চাও তবে আমি তোমাকে নবী উগী আরাবী হযরত
মুহাম্মদ (না)-এর রোযা সম্পর্কেও জানাতে পারি ৷ তিনি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন
এবং বলতেন, এটাই গোটা বছর রোযা রাখার শামিল ৷ ইমাম আহমদ আব্বাস (বা) থেকে
হযরত দাউদ (আ) এর রোযার বৃত্তান্ত মারফুরুপে বর্ণনা করেছেন ৷

হযরত দাউদ (আ)-এর ইনতিকাল

হযরত আদম (আ)-এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা প্ৰসংগে পুর্বোল্লেখিত হাদীসে রংনি৷ করা
হয়েছে যে, আল্লাহ যখন আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তীর সন্তানদের বের করেন তখন হযরত
আদম (আ) তাদের মধ্যে সকল নবীকে দেখতে পান ৷ র্তাদুদর মধ্যে একজনকে অত্যন্ত উজ্জ্বল
চেহারা বিশিষ্ট দেখে তিনি বলেন, হে আল্লাহ ! ইনি কো আল্লাহ জানালেন, এ তোমার সন্তান
দাউদ ৷ আদম (আ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার প্রতিপালক ! তার আবু কত ? আল্লাহ তাআলা
জানালেন, ষাট বছর ৷ আদম (আ) বললেন, হে পরােয়ারদিগার৷ তার অড়াযু বাড়িয়ে দিন ৷
আল্লাহ জানালেন, বৃদ্ধি করা যাবে না; তবে তোমার নিজের আযু থেকে নিয়ে বাড়িয়ে দিতে
পারি ৷ হযরত আদমের নির্ধারিত অড়াযু ছিল এক হাজার বছর ৷ তা থেকে নিয়ে দাউদ (আ ) এর
আয়ু আরও চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দেয়া হল ৷ যখন হযরত আদমের আযু শেষ হয়ে আসে তখন
মৃত্যুর ফিরিশতা আসেন ৷ আদম (আ) বললেন, আমার আয়ুর (তা এখনও চল্লিশ বছর বাকী ৷
দাউদ (আ)-কে দেয়া বয়সের কথা তিনি সম্পুর্ণ তুলে গিয়েছিলেন ৷ এভাবে আল্লাহ আদম
(আ)-এর আয়ু এক হাজার বছর এবং দাউদ (আ)এর আয়ু একশ পুর্ণ করে দেন ৷ এ হাদীসটি
ইমাম আহমদ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী, ইবন
থুযায়মা, ইবন হিব্বান ও হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তিরমিযী একে সহীহ বলে মন্তব্য
করেছেন এবং হাকিম একে মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী আছে বলে উল্লেখ করেছেন ৷ আদম (আ)
-এর আলোচনা প্রসঙ্গে এ সম্পর্কে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ ইবন জারীর লিখেছেন,
কোন কোন আহলে কিতারের মতে হযরত দাউদ (আ)-এর আবু ছিল সাতাত্তর বছর ৷ কিন্তু
এটা ভুল ও প্রত্যাখ্যাত ৷ তাদের মতে হযরত দাউদের রাজত্বের মেয়াদ ছিল চল্লিশ বছর ৷

র্তাদের এ মত গ্রহণযোগ্য ৷ কেননা আমাদের কাছে এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোন প্রমাণ নেই ৷

হযরত দাউদ (আ)-এর ইনতিকাল সম্পর্কে ইমাম আহমদ তার যুসনাদ গ্রন্থে আবু হুরায়রা
(বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা ) বলেছেন : দাউদ (আ) ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিতু ও
আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ৷ যখন তিনি বাইরে যেতেন তখন ঘরের দরজা বন্ধ করে যেতেন, যাতে তিনি
ফিরে আসা পর্যন্ত অন্য কেউ তার ঘরে প্রবেশ করতে না পারে ৷ এভাবে একদিন তিনি ঘর

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড) ৬-

থেকে বেরিয়ে গেলেন ৷ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হল ৷ এ সময় তার শ্রী উকি দিয়ে দেখলেন
যে, একজন পুরুষ লোক ঘরের মধ্যখানে দাড়িয়ে আছেন ৷ তিনি প্রহরীকে জিজ্ঞেস করলেন :
এ লােকটি কো তালাবদ্ধ ঘরে কিভাবে প্রবেশ করল? কসম আল্লাহর! নবী দাউদ (আ)-এর
কাছে আমরা লজ্জায় পড়ব এমনি সময় হযরত দউিদ (আ) ফিরে এলেন এবং দেখলেন ঘরের
মধ্যখানে একজন পুরুষ লোক দাড়িয়ে আছে ৷ দাউদ (আ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? লোকঢি
বলল, আমি সেইজন, যে কোন রাজা বাদশাহকে তােয়াক্ক, করে না এবং কোন আড়ালই তাকে
আটকাতে পারে না ৷ দাউদ (আ) বললেন, আল্লাহর কসম ! তা হলে আপনি নিশ্চয়ই মলোকুল
মওতঃ আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্যে আপনাকে স্বাগতম! এর অল্পক্ষণ পরেই তার রুহ কবয়
করা হল ৷ অতঃপর তাকে গোসল দেয়া হল ও কাফন পরান হলো ৷ ইতিমব্বধ্য সুর্য উদিত হল ৷
তখন সুলায়মান (আ) পাখীদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা দাউদ ( আ)-এর উপর ছায়া করে
রাখ ৷ পাখীরা তাই করল ৷ সন্ধ্য৷ হলে হযরত সুলায়মান (আ) পাখীদেরকে বললেন, তোমরা
এখন পাখা সংকুচিত করে নাও ৷ আবু হুরায়রা (রা) বলেন, পাখীরা কিভাবে তাদের পাখা
যেলেছিল এবং কিভাবে বন্ধ করেছিল, তা তিনি নিজের হাত দিয়ে আমাদেরকে দেখাতে
লাগলেন ৷ দাউদ (আ)-এর উপর ঐদিন ছায়াদানে দীর্ঘ ডানা বিশিষ্ট রায় পাখীর ভুমিকাই প্রধান
ছিল ৷ ইমাম আহমদ একাই এ হাদীসঢি বর্ণনা করেছেন ৷ তবে এর সনদ উত্তম এবং
বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ৷ সুদ্দী ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, দাউদ (আ)
আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন তার মৃত্যুর দিন ছিল শনিবার ৷ পাখীরা তার দেহের উপর
ছায়া দান করে ৷
ইসহড়াক ইবন বিশর হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, দাউদ (আ) একশ বছর বয়সে
হঠাৎ এক বুধবারে ইনতিকাল করেন ৷ আবুল সাকান আল-হাজারী বলেছেন, হযরত ইবরাহীম
খলীল, হযরত দাউদ ও তদীয় পুত্র হযরত সুলায়মান (আ) তিন জনেরই মৃত্যু আকস্মিক ভাবে
হয়েছিল ৷ এ বর্ণনাটি ইবন আসাকিরের ৷ কারো কারো বর্ণনায় আছে যে, একদা হযরত দাউদ
(আ) মিহ্রাব থেকে নীচে অবতরণ করছিলেন, এমন সময় মৃত্যুর ফিরিশতা র্তীর সম্মুখে এসে
উপস্থিত হন ৷ হযরত দাউদ (আ) তাকে বললেন, আমাকে নীচে নামতে বা উপরে উঠতে দিন !
তখন ফিরিশভা বললেন, হে আল্লাহর নবী আপনার জন্যে নির্ধারিত বছর, মাস, দিন ও রিযিক
শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ এ কথা শুনেই দাউদ (আ) সেখানেই একটি সিড়ির উপরে সিজদায় লুটিয়ে
পড়েন এবং সিজদারত অবস্থায়ই তীর রুহ কবয করা হয় ৷ ইসহাক ইবন বিশর ওহাব ইবন
মুনাব্বিহ সুত্রে বর্ণনা করেন, গ্রীষ্মকালে রৌদ্রতাপের মধ্যে লোকজন হযরত দাউদ (আ)-এর
জানাযায় শরীক হয় ৷ সে দিন তার জানাযায় এত বেশী লোক সমাগম হয় যে, সাধারণ লোক
ছাড়া কেবল যাজকদের সংখ্যইি ছিল চল্লিশ হাজার ৷ এরা সবাই ছিল লম্বাটুপী (বুরনুস টুপী )
পরিহিত ৷ মুসা ও হারুন (আ)-এর পরে বনী ইসরাঈলের মধ্যে কারো জন্যে দাউদ (আ) এর
জন্যে যে গােক-তাপ প্রকাশ করা হয়, তা আর কারো জন্যে করা হয়নি ৷ জানাযায় উপস্থিত
লোকজন রৌদ্র তাপে কষ্ট পাচ্ছিল ৷ তাই রৌদ্র থেকে র্বাচার জন্যে তারা সুলায়মান (আ )-কে

ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায় ৷ সুলায়মান (আ) বের হয়ে পক্ষীকুলকে আহ্বান করেন ৷
পক্ষীকুল তার আহ্বানে সাড়া দেয় ৷ তিনি লোকদেরকে ছায়া দানের জন্যে তাদেরকে নির্দেশ
দেন ৷ ফলে পক্ষীকুল পরস্পর মিলিত হয়ে পাখা মেলে চারদিকে এমনভাবে ঘিরে দীড়াল যে,
যে স্থানে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ৷ এমনকি লোকজন শ্বত্ত্বসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম
হয় ৷ তারা এ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্যে চিৎকার করে সুলায়ঘান (আ)-কে ফরিয়াদ
জানাল ৷ সুলায়মান (আ) বের হয়ে পাখীদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা সুর্যের তাপ যে দিক
থেকে আসছে যে দিকে ছায়া দাও, আর যে দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে সে দিক থেকে সরে
যাও ৷ পাখীরা তাই করল ৷ তখন লোকজন এক দিকে ছায়ার নীচে থাকে এবং অন্য দিকে
তাদের উপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে ৷ এটাকেই মানুষ সুলায়মান (আ) এর কর্তৃত্বের
প্রথম নিদর্শন হিসেবে দেখতে পায় ৷ হাফিজ আবু ইয়ালা অড়াবুদ দারদা (বা) থেকে বর্ণনা
করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-কে তার সংপীদের মাঝ
থেকে তুলে নেন, তারা কোন ফিৎনায় পতিত হয়নি এবং দাউদের দীনকেও পরিবর্তন করেনি ৷
আর মাসীহ্র শিষ্যরা তার বিধান ও প্রদর্শিত পথের উপর দুশ বছর বহাল ছিল ৷ এ হাদীস
গরীব পর্যায়ের ৷ এটা মারকু’ কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে ৷ এর সনদে ওয়াদীন ইবন আতা
হাদীস বর্ণনায় দুর্বল ৷

হযরত সুলায়মান (আ)

হাফিজ ইবন আসাকিরের বর্ণনা মতে, হযরত সুলায়মান (আ)-এর নসবনামা নিঃনম্নরুপ :
সুলায়মান ইবন দাউদ ইবন ঈশা ( ৷) ইবন আবীদ ( ; প্রু প্রু; ) ইবন আবির ইবন সালমুন
ইবন নাহ্শুন ইবন আমীনাদাব ইবন ইরাম ইবন হাসিরুন ইবন ফারিস ইবন ইয়াহুযা ইবন
ইয়াকুব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম ৷ সুলায়মান (আ) ছিলেন নবীর পুত্র নবী ৷ ইতিহাসের
কোন কোন বর্ণনায় এস্যেছ যে, তিনি দামিশৃকে গিয়েছিলেন এবং ইবন খাবৃলাও অনুরুপ নসব
বর্ণনা করেন ৷ সুলায়মান (আ) প্রসংগে আল্লাহ বলেন :

সুলায়মান হয়েছিল দ উদেব উত্তরাধিকারী এবং সে বলেছিল, “হে মানুষ আমাকে
পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়৷ হয়েছে এবং আমাকে সকল কিছু দেয়৷ হয়েছে ৷ এটা অবশ্যই
সুস্পষ্ট অনুগ্রহ” ৷ (২৭ নামল : ১৭) অর্থাৎ তিনি পিতা দাউদেব নবুওয়াত ও রাজত্বের
উত্তরাধিকারী হন ৷ এখানে সম্পদের উত্তরাধিকারী অর্থে বলা হয়নি ৷ কেননা, সুলায়মান
(আ) ব্যতীত হযরত দাউদ (আ)-এর আরও অনেক পুত্র ছিলেন, তাদেরকে বাদ দিয়ে
শুধু সুলায়মানের নামে সম্পদের উল্লেখ করার কোন অর্থ হয় না ৷ তা ছাড়া সহীহ
হাদীসে বিভিন্ন সুত্রে একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন ;;
ন্রগ্রা গ্রাগ্ এেপ্রুও ৷০ :প্রুপ্রু; ১! অর্থাৎ আমরা উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা
কিছু রেখে যাই তা সাদৃক৷ ৷ আমরা বলতে এখানে নবীদের জামাআত বুঝানো হয়েছে ৷ এ
বাক্যে রাসুলুল্লাহ (সা) মানুষকে জা ৷নিয়েছেন যে, নবীদের রেখে যাওয়া বৈষয়িক সম্পদের কেউ
উত্তরাধিকারী হয় না, যেমন অন্যদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ৷ এর দাবীদার নয়, বরং তা
সাদকা-দৃস্থু৪ ও গরীবদেবই প্রাপ্য ৷ কেননা, দুনিয়ার সহায়-সম্পদ যেমন আল্লাহর নিকট তৃচ্ছ ও
নগণ্য, তেমনি তার মনোনীত নবীগণের নিকটও তা’ মুল্যহীন ও গুরুতুহীন ৷ হযরত
সুলায়মানের উক্তি মানুষ! আমাকে
পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়৷ হয়েছে ৷ অর্থাৎ হযরত সুলায়মান (আ) পাখীদের ভাষা বুঝতেন
তারা শব্দ করে কি বুঝাতে চায়, তিনি মানুষকে তার ব্যাখ্যা বলতে ন ৷ হাফিজ আবু বকর
ায়হাকী আবু মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন সুলায়মান (আ) কো থা৷ও যাচ্ছিলেন,

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>