হযরাঃ দাউদ ও ইয়াহইয়া (আ)-এর মধ্যবর্তী ইসরাঈল বংশীয় নবীগনের ইতিহাস

হযরত দাউদ ও ইয়াহয়া (আ) এর মধ্যবর্তী
ইসরাঈল বংশীয় নবীগণের ইতিহাস

উপরোক্ত সময়ের মধ্যে আগমনকারী নবীদের মধ্যে হযরত শাইয়া ইবন আমসিয়া
( ৰু !) অন্যতম (বাইবেলের ভাষায় আমােসোর পুত্র যিশাইয়) মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের
মতে, তার আবির্ভাব হয়েছিল যাকারিয়া ও ইয়াহয়া (আ)-এর পুর্বে ৷ তিনি সেই সব নবীর
একজন, যারা হযরত ঈসা ও মুহাম্মদ (সা) এর আগমনের সুসংবাদ প্রচার করেছিলেন ৷ ঐ
সময়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে বনী ইসরাঈলের শাসক ছিলেন রাজা হিযকিয়া ৷ যে কোন সংস্কার ও
সংশোধনমুলক কাজে তিনি নবী শাইয়ার আদেশ-নিষেধ মেনে চলতেন ৷ বনী ইসরাঈলের মধ্যে
তখন ব্যাপক হারে দুর্নীতি , পাপাচার ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রাদুর্ভাব ঘটে ৷ তাদের রাজা অসুস্থ
হয়ে পড়েন এবং তার পারে একটি ক্ষত সৃষ্টি হয় ৷ এ সুযোগে ব্যাবিলনের রাজা সড়ানহড়ারীব
বায়তুল মুকাদ্দাস আক্রমণে উদ্যোগী হয় ৷ ইবন ইসহাক (র) বলেছেন, এ অভিযানে ছয় লক্ষ
পতাকাবাহী সৈন্য অংশগ্রহণ করে ৷ তাতে লোকজন অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে ৷ রাজা
হযরত শাইয়ার নিকট জিজ্ঞেস করেন যে, সড়ানহারীব ও তার সৈন্যবাহিনী সম্পর্কে আল্লাহ
তাআলা কী ওহী প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন, তাদের সম্পর্কে আমার নিকট কোন প্রকার
ওহী আসেনি ৷ কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর হযরত শাইয়ার নিকট এই মর্মে ওহী আসে যে
অল্প দিনের মধ্যে রাজার মৃত্যু হবে ৷ সুতরাং তিনি যেন তার পছন্দমত কাউকে স্থলাভিষিক্ত
করেন ৷ নবীর মাধ্যমে এ সংবাদ পেয়ে রাজা কিবলামুখী হয়ে সালাত ও তাসবীহ্ পাঠ করে
অত্যন্ত ভারাক্রাম্ভ হৃদয়ে আল্লাহর প্ৰতি পুর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সাথে কেদে কেদে এই দোয়া
করেন :

হে আল্লাহ, মহা প্রতিপালক, রাজাধিরাজ, দয়াময়, পরম দয়ালু হে ঐ সত্তা, র্যাকে তন্দ্র৷ বা
নিদ্রা স্পর্শ করে না ৷ আমার জ্ঞান, আমার কার্যাবলী ও বনী ইসরাঈলদের উপর আমার
ন্যায়-বিচারের দিকে লক্ষ্য করে আপনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন ৷ আমার এ যা কিছু কৃতিতৃ ,

সবই আপনার করুণার দান ৷ এ সম্পর্কে আপনি সর্বাধিক অবগত ৷ আমার ভিতর ও বাছির সব
আপনাতে ন্যস্ত ৷

আল্লাহ রাজার দোয়া কবুল করে তার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন এবং শাইয়ার (যীশাইও)
নিকট ওহীর মাধ্যমে সৃসংবড়াদ দেন যে, তার কান্নাতে আল্লাহ সদয় হয়েছেন ৷ তিনি তার আয়ু
পনের বছর বৃদ্ধি করেছেন এবং তার শত্রু সানৃহারীবের করল থেকে তাকে রক্ষা করেছেন ৷
নবীর নিকট থেকে এ সৃসংবড়াদ শুনে রাজার অন্তর থেকে তয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তা দুরীভুত হয় এবং
কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে সিজদাবনত হয়ে তিনি নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করেন :

হে আল্লাহ ! আপনি সেই মহান সত্তা , আপনি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান করেন এবং যার থেকে

ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নেন; যাকে ইচ্ছা মর্যাদা দান করেন, যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন ৷ দৃশ্যঅদৃশ্য

যাবতীয় বিষয়ে আপনি সম্যক অবগত ৷ আপনি আদি ও অম্ভ এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ৷
বিপদগ্রস্তদের আহ্বানে আপনিই সাড়া দেন ও অনুগ্রহ করেন ৷

সিজদা শেষ হলে আল্লাহ শাইয়ার নিকট ওহী প্রেরণ করেন এবং রাজাকে এ কথা জানিয়ে
দেয়ার নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন ডুঘুরের রস পায়ের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দেন , তাতে তিনি
আরেগ্যে লাভ করবেন ৷ রাজা এ নির্দেশ পালন করেন এবং আরোপ্য লাভ করেন ৷ এরপর
আল্লাহ সানহারীবের সৈন্য-বাহিনীকে ধ্বংস করে দেন ৷ ফলে সানহারীর ও তার পাচজন
সঙ্গী ব্যতীত তার গোটা সৈন্যবাহিনী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ৷ এই পড়াচজনের মধ্যে একজন
বুখত নসর ৷

বনী ইসরাঈলের রাজা লোক পাঠিয়ে এদেরকে ধরে এনে বেড়ি পরিয়ে সত্তর দিন পর্যন্ত
শহরের অলি-গলিতে ঘুরিয়ে লাঞ্ছিত করেন ৷ প্রত্যহ এদের প্রতি জনকে মাত্র দুটি করে যবের
রুটি খেতে দেয়া হতো ৷ এরপর তাদেরকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয় ৷ আল্লাহ তখন
শাইয়ার নিকট ওহী প্রেরণ করেন ৷ তিনি রাজাকে এদের ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন, যাতে এরা
আপন সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিজেদের শান্তি ও লাইনা ভোগের বিবরণ শ্যেনড়াতে পারে ৷
সানহারীর মুক্তি পেয়ে ফিরে গিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের লোকদেরকে সমবেত করে ঘটনার বিস্তারিত
বিবরণ দেয় ৷ প্রতি উত্তরে গণক ও যাদুকররা বলল, আমরা পুবেই আপনাকে ইস্রাঈলীদের
প্রতিপালক ও নবীগণ সম্পর্কে অবহিত করেছিলাম; কিন্তু আপনি আমাদের কথায় কান দেননি ৷
এরা এমন একটি জাতি, যাদের প্রতিপালকের মুকাবিলা করার ক্ষমতা কারও নেই ৷ এভাবে
সানহারীবের পরিণতি তাই হল, যে সম্পর্কে আল্লাহ পুর্বেই তাদেরকে সাবধান করেছিলেন ৷ এ
ঘটনার সাত বছর পর সানহড়ারীবের মৃত্যু হয় ৷ ইবন ইসহাক বলেন, বাদশাহ হিঘৃকিয়ড়ার মৃত্যুর
পর রনী ইসরাঈলের মধ্যে পাপ প্রবণতা, অপরাধ, বিশৃৎথলা ও সত্রাসী কার্যকলাপ অত্যধিক
বৃদ্ধি পায় ৷ হযরত শাইয়া তখন আল্লাহর প্রত্যাদেশ পেয়ে রনী ইসরাঈলের লোকদেরকে

টীকা একেই নেবুচাদ নেয়ার বা নেবুকাদ নেয়ার বলা হয়ে থাকে ৷

আহ্বান করলেন এবং আল্লাহর আদেশ পালনের জন্যে উপদেশ দান করলেন ৷ নবী তাদেরকে
সতর্ক করেছিলেন যে, আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করলে ও তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে তাদের
উপর শান্তি অবধারিত ৷ হযরত শাইয়ার বক্তব্য শেষ হলে উপস্থিত জনগণ তাকে আক্রমণ
করতে উদ্যত হল এবং হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার পশ্চাতে ধাওযা করল ৷ শাইয়৷ (আ)
আত্মরক্ষার জন্যে সেখান থেকে পালিয়ে যান ৷ এমন সময় তিনি সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে
পান ৷ বৃক্ষটি নবীকে শত্রুর কবল থেকে রক্ষার জন্যে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ৷ তিনি তাতে
প্রবেশ করেন এবং বৃক্ষের ফাটল বন্ধ হয়ে যায় ৷ কিন্তু শয়তান তার কাপড় টেনে ধরার তার
জাচল বাইরে থেকে যায় ৷ ইতিমধ্যে শত্রুর৷ সেখানে এসে উপস্থিত হয় ৷ তারা বৃক্ষের মধ্যে
কাপড় আটকা দেখে করাত দ্বারা বৃক্ষটি দ্বিখণ্ডিত করে ফেলে ৷ ফলে হযরত শাইয়ার দেহও
দ্বিখণ্ডির্ত হয়ে যায়–ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্ন৷ ইলায়হি রাজিউন ৷

লাবী ইবন ইয়াকুবের বংশধর:হযরত আরমিয়া ইবন হালকিয়া

যাহ্হাক (র) ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আরমিয়া ইবন হালকিয়া হচ্ছেন
হযরত খিযির (আ) ৷ কিন্তু এ বর্ণনাটি গরীব’ পর্যায়ের এবং তা বিশুদ্ধ নয় ৷ ইবন আসাকির
কোন কোন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, দামিশকে হযরত ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়া ( আ ) এর
রক্ত সদা প্রবহমান ছিল ৷ আ ৷রমিয়া ইবন হালকিয়া সেই রক্তের উপর র্দাড়িয়ে বলেছিলেন হে
রক্ত! তুমি তে ৷ বহু মানুষকে পরীক্ষায় ফেলেছ, এখন যায় ৷ তখন রক্ত থেমে যায় এবং অদৃশ্য
হয়ে যায় ৷ আবু বকর ইবন আবিদু দুনয়া আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা
করেন, হযরত আরমিয়া একদা আল্লাহ্র নিকট জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক!
আপনার নিকট প্রিয়তম বান্দ৷ কে? উত্তরে আল্লাহ বলেছিলেন, সৃষ্টিকুলের পরিবর্তে আমাকে
অধিক স্মরণ করে নশ্বরের ধোকায় সে পড়ে না এবং দুনিয়ার স্থায়ী থাকার বাসনাও করে না ৷
পার্থিব জীবনের সুখ শান্তিকে সে উপেক্ষা করে চলে এবং বিলাস-সামপ্রী থেকে বঞ্চিত হলে খুশী
হয় ৷ এ জাতীয় বান্দাদেরকে আমি আমার নৈকট্য দান করব এবং কল্পনাভীতভড়াবে পুরস্কৃত
করব ৷

বায়তুল মুকাদ্দাসের ধ্বংস

এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণী :

টীকা বাইবেলে তাকে লেবী বলা হয়েছে ৷

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড৷ ১পুে০-

-আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম ও তাকে করেছিলাম রনী ইসরাঈলের জন্যে পথ
নির্দোণক ৷ আমি আদেশ করেছিলাম “ ৫ ৷মরা আমাকে ব্যতীত অপর ক ৷উকেও কর্মবিধায়করুপে
গ্রহণ করে৷ ন৷ ৷ ” হে তাদের বংশধর ! যাদেরকে আমি নুহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম , সে
তো ছিল পরম কৃতজ্ঞ বান্দা ৷ এবং আমি কিভাবে প্রত্যাদেশ দ্বারা বনী ইসরাঈলকে
জানিয়েছিলাম, “নিশ্চয়ই তোমরা পৃথিবীতে দু’বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমরা অতিশয়
অহংকার-স্ফীত হবে ৷ ” তারপর এ দু যেব প্রথমটির নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হল, তখন
আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম আমার বান্দাদেরকে, যুদ্ধে অতিশয় শক্তিশালী; তারা
ঘরে ঘরে প্রবেশ করে সমস্ত ধ্বংস করেছিল ৷ আর প্রতিশ্রুতি কার্যকরী হয়েই থাকে ৷ তারপর
আমি তোমাদেরকে পুনরায় তাদের উপর প্রতিষ্ঠিত করলাম, তোমাদেরকে ধন ও সম্ভান-সম্ভতি
দ্বারা সাহায্য করলাম ও সংখ্যায় পরিষ্ঠ করলাম ৷ তোমরা সৎকর্য করলে সৎকর্ম নিজেদের জন্য
করবে এবং মন্দ কর্ম করলে তাও করবে নিজেদের জন্যে ৷ তারপর পরবর্তী নির্ধারিত কাল
উপস্থিত হলে আমি আমার বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম তোমাদের মুখমণ্ডল কালিমাচ্ছন্ন করবার
জন্যে, প্রথমবার তারা যেভাবে মসজিদে প্রবেশ ৷করেছিল পুনরায় সেভাবেই তাতে প্রবেশ
করবার জন্যে এবং তারা যা অধিকার করেছিল তা সম্পুর্ণভাবে ধ্ব স করবার জন্যে ৷ সম্ভবত
তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন; কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের পুর্ব
আচরণের পুনরাবৃত্তি কর তবে আমিও পুনরাবৃত্তি করব ৷ জাহান্নাময়ুক আমি করেছি কাফিরদের
জন্যে কারাগার ৷ (১৭ ইসরাং : ২ ৮)

ওহাব ইবন মুনাব্বিহ বলেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে যখন অনাচার ও পাপবৃত্তি সর্বগ্রাসীরদ্ প
লাভ করে তখন তাদের নবী আরমিয়ার নিকট আল্লাহ এই মর্মে ওহী প্রেরণ করেন যে, তুমি
তোমার সম্প্রদায়ের লোকদেরকে জানাও যে, তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না,
চক্ষু আছে কিন্তু দেখে না, কান আছে শুনে ন৷ ৷ আমি তাদের পুর্ব পুরুষদের উত্তম কর্যসমুহ
স্মরণ করেছি–ফলে তাঃদর সন্তানদের উপর আমার করুণাধার৷ বর্ধিত হয়েছে ৷ ওদেরকে

জিজ্ঞেস করে দেখ, আমার আনৃগত্যের সুফল তারা কিভ৷ ৷বে লাভ করেছে ৷ আমার অবাধ হয়ে
কেউ কি সৌভা ৷গ্যবান হয়েছে, কিৎবা আমার আনুগত্য করে কি কেউ দৃর্ভাপা হয়েছো সমস্ত
প্রাণীই নিজ নিজ বাসস্থানের কথা স্মরণ করে এবং সে দিবেইি ফিরে যায় ৷ আর এই সম্প্রদায়ের

লোকেরা আমার সেই সব আদেশ লংঘন করেছে, যা মেনে চলার কারণে আমি এদের পুর্ব
পুরুষদেরকে সম্মানিত করেছিলাম ৷ এরা ভিন্ন পথে চলে সম্মান লাভ করতে চেয়েছে ৷ তাদের
ধর্মযাজকরা আমার হক বিস্মৃত হয়েছে ৷ তাদের বিদ্বান ব্যক্তিরা আমার পরিবর্তে অন্যের ইবাদত
করেছে, তাদের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা নিজেদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়নি এবং তাদের শাসকরা
আমার ও আমার রাসুলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে ৷ তাদের অম্ভরে লুক্কায়িত আছে
গভীর ষড়যন্ত্র আর মুখে আছে মিথ্যা বুলি ৷ আমি আমার প্রতাপ ও মর্যাদার কসম করে বলছি,
আমি তাদের উপর এমন এক জাতিকে চাপিয়ে দিব, যারা বুঝবে না এদের ভাষা, চিনবে না
এদের চেহারা, ৰিগলিত হবে না তাদের অন্তর এদের কান্নড়ায় ৷ আমি তাদের মাঝে পাঠাব এমন
এক জালিম বাদশাহ, যার সৈন্য-রাহিনীর বহর হবে যেঘমালার ন্যায়, সৈন্যদের সারিগুলােকে
মনে হবে প্রশস্ত গিরিপথ, তাদের পতাকার শব্দ ধবনি শোনা যাবে শকুন পালের উড্ডয়নের
ধ্বনির ন্যায় ৷ তাদের অশ্ব বাহিনীর আক্রমণ হবে ঈগল পাথীর ছোবলের ন্যায় ৷ তারা
নগরসমুহকে ধ্বংসতুপে পরিণত করবে এবং পল্লীগুলোকে করবে বিরান ৷ হায় , কি দুর্ভাপ্য
ঈলিয়া ও তার অধিবাসীদের ৷ হত্যা ও বন্দীত্বের লাঞ্চুনা-রশ্যিত তাদেরকে আবদ্ধ করা হবে ৷
সইসাই পরিবর্তিত হয়ে যাবে বিবাহ অনুষ্ঠানের আনন্দ-কোলাহল বীভৎস চিৎকার ধ্বনিতে ৷

অশ্বের ৫হসা ধ্বনির স্থলে শ্রুত হবে হিংস্র শ্বাপদের তর্জন-গর্জন ৷ সুরমব্র ভবনাদি ঘেরা
মনােরম শহর পরিণত হবে বন্য জীব-জভুর আবাস ভুমিতে ৷ রাত্রিবেলা যে স্থান থাকত আলোর
দীপ্তিতে সদা ঝলমল, সেখানে নেমে আসবে অমানিশার ঘোর অন্ধকার ৷ এদের ভাগ্যে জুটরে
সম্মানের পরিবর্তে লাঞ্চুনা, ঐশ্বর্যের পরিবর্তে দাসতৃ ৷ তাদের শ্রীরা সুরভিত হওয়ার স্থলে হবে
ধুলি ধুসরিত ৷ উপাধান-আয়েশের স্থলে তারা চলবে নপ্নপদ উটের মত ৷ তাদের দেহগুলাে হবে
মাটির খাদ্য, পরিণত হবে জঞ্জালে এবং সুর্যের তাপে হাভিদ্রগুলাে চকচক করবে ৷ এগুলো
ব্যতীত আরও বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দ্বারা আমি তাদেরকে নিম্পেষিত করব ৷ এরপর আমি
আকাশকে হুকুম দিব ৷ ফলে আকাশ লৌহস্তরে পরিণত হভ্রুব এবং যমীন বিণলিত ভাষায়
পরিণত হবে ৷ এমতাবস্থায় বৃষ্টি হলেও ফসল উৎপাদিত হবে না, যদি অল্প কিছু উৎপাদিত হয়ও
তবে বন্য জীবজন্তুর প্রতি আমার অনুগ্রহের কারণে হবে ৷ ফসল উৎপন্ন হওয়ার সময় আমি
বৃষ্টিপাত বন্ধ রাখবদিএবং ফসল উঠাবার সময় বৃষ্টিপাত ঘটড়াবাে ৷ এ সময়ের মধ্যে সামান্য
পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে যদি তারা সক্ষমও হয় তবে ফসল নষ্ট করার বিভিন্ন দুর্যোগ
আমি চাপিয়ে দেব ৷ সে দুর্যোগ থেকে কিছু অংশ যদি বক্ষাও পায়, তা থেকে আমি বরকত
উঠিয়ে নেব ৷ যদি তারা আমার নিকট ফরিয়াদও করে আমি তাতে সাড়া দেব না তারা আমার
অনুগ্রহ কামনা করলেও আমি কিছুই দান করব না ৷ তাদের কান্নকােটিতেও আমি সদয় হব
না ৷ তাদের কাকুতি-মিনতি সত্বেও আমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব ৷ এটি ইবন
আসাকিরের বর্ণনা ৷

ইসহাক ইবন বিশৃর ওহাব ইবন মুনাব্বিহ্ থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেন, আল্লাহ
নবী আরমিয়াকে বনী ইসরাঈলের মাঝে প্রেরণ করেন ৷ তখন তাদের পাপের মাত্রা , অপরাধ
প্রবণতা চরম পর্যায়ে পৌছে গিয়েছিল ৷ এমনকি বহু নবীকে তারা হত্যা করেছিল ৷ তখন আল্লাহ

বুথ্ত নসরের অম্ভরে বনী ইসরাঈলের উপর হামলা করার ইচ্ছে জাগিয়ে দেন ৷ তাই বুথ্ত নসর
তাদেরকে আক্রমণ করার উদ্যোপ নেন ৷ এ সময় আল্লাহ আরমিয়ার নিকট ওহী পাঠান ৷ তিনি
জানান, আমি বনী ইসরাঈলকে ধ্বংস করব; তাদের পাপের সমুচিত৷ ৷৷স্তি দেরে৷ ৷ তুমি বায়তুল
মুকাদ্দ ৷সে সংরক্ষিত শুভ্র পাথরের উপর দাড়াও ৷ সেখানে ওে আমার নিকট আমার ওহী ও নিন্দোণ
আসবে ৷ আরমিয়া সেখানে গিয়ে দাড়ালেন এবং পবিধানের জামা ৷ছড়ে ফেললেন ৷ আপন
মাথায় ছ ই মাখলেন ৷৩ তারপরে সিজদায় গেলেন ৷ সিজদায় পড়ে তিনি বলতে লাগলেন হে
আমার প্ৰনিপালক ! কত ভাল হত যদি আমার যা আমাকে প্ৰসব না করতেন ৷ কেননা আপনি
আমাকে বনী ইসরাঈলের শেষ যুগের নবী বানিয়েছেন; আর আমার কারণেই বায়তুল যুকাদ্দাস
ধ্বংস হয়ে এবং বনী ইসরাঈল নির্মুল হবে ৷ আল্লাহ তাকে বললেন, সিজদ৷ থেকে মাথা উঠাও ৷
তিনি ম ৷থ৷ উঠালেন এবং র্কাদতে র্কাদতে বললেন হে আমার প্রতিপাল্ক বনী ইসরাঈলকে
পরাভুত করবে কে? আল্লাহ জানালেন, তারা এক অগ্নিপুজারী সম্প্রদায়ত তারা না আমার শান্তির
ভয় করে, না পুরস্কার কামনা করে ৷ আরমিয়া! তুমি উঠে দাড়াও এবং ওহী শ্ররণ কর! আমি
তোমাকে তোমার নিজের ও বনী ইসরাঈলের সংবাদ দেবাে ৷ আমি তামান্ক সৃষ্টি করার পুবেই

তোমাকে মনোনীত করেছি ৷ তে তামার মায়ের পেটে তে তামার আকৃতি দেওয়ার পুর্বেই তোমাকে
পবিত্র করেছি, ভুমিষ্ঠ হওয়ার পুর্বেই তোমাকে নিষ্কলুষ বানিয়েছি ৷ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পুবেই
তোমাকে নবুওত দান করেছি, পুর্ণ যৌবনে উপনীত ৩হওয়ার পুবেই তে ৷মাকে মনোনীত করেছি
এবং এক বিরাট গুরুতৃপুর্ণ বিষয়ের জন্যে তোমাকে আমি বাছাই করেছি ৷ তুমি দেশের রাজার
সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে সরল সঠিক পথ দেখাও ৷ এ আদেশ পেয়ে নবী রাজার সাথে মিলিত
হন ও সঠিক পথ প্রদর্শন করতে থাকেন ৷ আল্লাহর নিকট থেকে নবীর নিকট প্রয়োজনীয় ওহী
আসতে থাকে ৷

এরপর বনী ইসরাঈলর৷ ক্রমান্বয়ে জঘন৷ পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে ৷ তাদের শত্রু সানহা জীব ও

তার সৈন্য বাহিনীর কবল থেকে আল্লাহ তাদেরকে যে রক্ষা করেছিলেন যে কথাও তারা
বেমালুম ভুলে যায় ৷ তখন আল্লাহ নবীকে ওহীর মাধ্যমে জানান; আমি তোমাকে যে নির্দেশ
দিই তা তাদের নিকট ব্যক্ত কর ৷ আমার অনুগ্নহের কথ৷ তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দা ও ; তারা যে
সব পাপাচার ও রেদআতে লিপ্ত হয়েছে তা তাদেরকে দেখিয়ে “দাও ৷ আরমিয়া নিবেদন করল :
“হে আমার প্ৰতিপালক! আমি দুর্বল, যদি আপনি শক্তি না দেন; আমি অক্ষয়, যদি আপনি
ক্ষমতা প্রদান না করেন; আমি ভুল করব, যদি আপনি সঠিক পথে পরিচালিত না করেন, আমি
অসহায় যদি আপনি সাহায্য না করেন; আমি লাঞ্ছিত যদি আপনি ইজ্জত না দেন ৷ ”

আল্লাহ তাকে জানালেন, হে আ ৷রমিয়া,৫ তামার কি জানা নেই যে, যাবতীয় ঘটনা আমারই
ইচ্ছার বহিঃ প্ৰাকাশ্ ,সৃষ্টি ও নির্দেশ সবই আমার এখতিয়ারে ৷ সকলের অন্তর ও জিহ্বা আমারই
হাতে, যেমন ইচ্ছা আমি তা পরিবর্তন করি সুতরাৎঅ আমারই আনুগত্য কর ৷ আমার কোন
সমকক্ষ নেই ৷ আমার নিদোশ আসমান, যমীন ও এ দৃয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু অস্তিত্ব লাভ
করেছে ৷ একক সত্তা কেবল আমিই এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আমিই ৷ আমার
নিকট যা কিছু আছে সে সম্পর্কে আমি ব্যতীত আর কেউই অবগত নয় ৷ আমি এমন সত্তা যে ,

সমুদ্রকে সম্বোধন করে বাক্যাল প করেছি ৷ যে তা বুঝতেও পেরেছে ৷ আমি তাকে নির্দেশ
দিয়েছি, যে সেই নির্দেশ পালনও করেছে ৷ আমি তাকে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি ৷ যে ঐ
সীমানা অতিক্রম করেনি ৷ সে পর্বতের ন্যায় সু উচ্চ তরঙ্গমালা উখিত করে ৷ তবে যখনই
আমার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত পৌছে যায় তখনই আমার আনুগত্য ও নির্দেশ পালনার্থেত
শংকিত হয়েত তা গুটিয়ে ফেলে ৷ আমি তোমার সাথেই আছি ৷ আমি যখন আছি তখন কোন
কিছুইণ্ তামাকে স্পর্শ করতে পারবে না ৷ তোমাকে এক গুরুতৃপুর্ণ জ বিব নিকট প্রেরণ করা
হয়েছে ৷ তাদের নিকট তুমি আমার বাণী পৌছিয়ে দৰু ও ৷ যার৷ তোমার অনুসরণ করবে তাদের
সমপরিমাণ ছওয়াব তুমিও লাভ করবে ৷ এতে তাদের ছওয়াব থেকে কিল্ কমানো হবে না ৷
তুমি সম্প্রদায়ের নিকট যাও ৷ তাদেরকে সম্বোধন করে বল আল্লাহ তোমাদের পুর্ব পুরুষের
উত্তম গুণাবলীর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ৷ তোমরা নবী রাসুলগ ণের বংশধর ৷ তাদের উত্তম
কার্যাবলীর কারণেই তিনি তোমাদের অস্তিতু টিকিয়ে রেখেছেন ৷

লক্ষ্য কর, তোমাদের পুর্বপুরুষগণ আমার আনুগত্য কৰুা৷র কি সুফল লাভ করেছে ; আর
আমার অবাধ্য হয়ে তোমাদের কি পরিণতি হয়েছেঃ ওদেরকে জিজ্ঞেস কর , তারা কি দেখেছে
কোন লোক আমার অবাধ্য হয়ে সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছে? কিৎ ৷তারা কি জানে কেউ
আমার আনুগত্য করে দৃর্ভ ৷গ্যের শিকা ৷র হয়েছে? বনের পগুরাও যখন তাদের উত্তম বাসস্থানের
কথা স্মরণ করে তখন তথায় যাওয়ার জন্যে উদগ্রীব হয়ে পড়ে ৷ অথচ এই সম্প্রদায়টি অতি
উৎফুল্ল চিত্তে ধ্বংসের গহবরেব দিকে ধাবিত হচ্ছে ৷ত তাদের পুর্ব পুরুষদেরকে যেসব গুণাবলীর
জন্যে সম্মানে ভুষিত করেছিলাম এরা সেগুলো পরিহার করে ভিন্ন পথে মর্যাদা লাভে প্ৰয়াসী ৷
তাদের ধর্মযাজকর৷ আমার বন্দো দেরকে নিজেদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে ৷ আমার কিতাবের
শিক্ষা উপেক্ষা করে তারা জনগণকে নিজেদের ইচ্ছামত পরিচালিত করছে ৷ সাধারণ মানুষকে
অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবিয়ে রেখেছে এবৎঅ ৷মার কর্মনীতি ও স্মরণ থেকে তাদেরকে গাফিল করে
রেখেছে ৷ এরা জনসাধারণকে আমার থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছে ৷ ফলে তারা আমার বান্দা
হয়েও তাদের আনুগত্য করছে ও তাদের ভৈনকট্য লাভের প্ৰয়াসী হচ্ছে ৷ অথচ এ ধরনের
আনুগত্য পাওয়ার হক কেবল আমারই ৷ এভাবে আমার অবাধ্য হয়ে লোকজন ধর্মযাজকদের
আনুগত্য করছে ৷
তাদের শাসকবর্গ আমার অনুগ্রহ লাভ করে কৃত জ্ঞতার পরিবর্তে দা ৷ন্তিকত ৷ প্রদর্শন করছে ৷
এবং আমার নীতি কৌশলের পরিণতি থেকে নিশ্চিত নিরাপদ থাকবে বলে ধারণা করছে ৷
পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারণার ঘুর্ণাবর্তে নিক্ষেপ করেছে ৷ ফলে তারা আমার প্রেরিত
কিত৷ ৷বকে পরিত্যাগ করেছে ৷ আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা ভুলে গিয়েছে ৷ আমার কিতাবের মধ্যে
পরিবর্তন করেছে, আমার প্রতি ও আমার রাসুলের প্ৰতি মিথ্যা আরোপের দুঃসাহস দেখিয়েছে ৷
আমার পবিত্র সত্তা, সুউচ্চ মর্যাদা ও মহা প্র৩ তা-প প্রতিপত্তির জন্যে আমার রাজোর মধ্যে কারও
অৎশীদারিত হু থাকা কি কখনও যুক্তিসংগত হতে পারে? আমার নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্যের
আনুগত্য করা কি কোন মানুষের পক্ষে বাঞ্চুনীয় হতে পারে? আমার পক্ষে কি কোন বান্দাকে
মানুষের পুজনীয় করা কিৎরা কাউকে কোন মানুষের পুজা করার অনুমতি দেওয়া শোভা পায়?
নিরঙ্কুশ আনুগত্য তো কেবল আমারই প্রাপ্য ৷

এদের মধ্যে আলিম-ফকীহ ও শিক্ষিত শ্রেণীর অবস্থা এই যে, তারা তাদের পার্থিবার্থ
সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে পড়াশুনা করে, শাসকবর্গের অনুগত হয়ে থাকে ৷ ফলে শাসকদল
যেসব বেদআতী কাজে লিপ্ত হয় এরা সভুষ্টচিত্তে তা-ই অনুসরণ করে চরু ল আমার সাথে দেয়া
অঙ্গীকা র ভঙ্গ করে৩ তারা শাসকদেরকে দেয়া অঙ্গীকা র রক্ষা করে ৷ এভাবে আলিম হয়েও তারা
মুর্থের ভুমিকা পালন করছে ৷ আমার কিতড়াবের যে জ্ঞান তারা অর্জন করেছিল তা থেকে তারা
কােনভাবে উপকৃত হয়নি ৷

অপরদিকে নবীগণের ,বংশধরদের অবস্থা এমন শোচনীয় পর্যায়ে পৌছেছে যে, তারা অন্য
শক্তির নিকট পরাজিত, বিভিন্ন প্রকার সমস্যায় জর্জরিত ৷ বিভ্রাস্তিমুলক আলাপ-আলোচনায়
তারা লিপ্ত, তাদের পুর্ব-পুরুষদেরকে আমি যেভাবে সাহায্য ও সম্মান দান করেছি এরাও
সেইরুপ সাহায্য ও সম্মান পাওয়ার প্রতাশা করে ৷ তাদের ধারণা আমার অনুগ্রহ পা ওযাব যোগ্য
অধিকারী কেবলত তারাই, অন্য কেউ নয় ৷ কিন্তু তাদের মধ্যে সততা ও সৎ চিন্তা নেই ৷ তারা
স্মরণ করে না তাদের পুর্ব-পুরুষ কিভাবে ধৈর্যধারণ করেছিল এবং অনােরা যখন প্রতারণার
জালে আবদ্ধ হচ্ছিল তখন কত দৃঢ়তার সাথে তারা আমার নির্দেশ মেনে চলেছিল , কী পরিমাণ
আঅোৎসর্গ তারা করেছিল এবং রক্ত ঝরিয়েছিল ৷ তারা ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল এবং
ঈমানের দাবিকে সত্য প্রমাণিত করেছিল ৷ ফলে আমার বিধান মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়
এবং আমার দীন বিজয় লাভ করে ৷ তাদের বদৌলতেই এ জাতিকে আমি অবকাশ দিয়েছিলাম ৷
আশা ছিল এরা লজ্জিত হয়ে আমার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে ৷

এদেরকে আমি অবকাশ দিয়েছি৩ ৷৩াদের ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিয়েছি তাদের সং খ্যা
ও আয়ু বৃদ্ধি করে দিয়েছি ৷৩ তাদের কাকুতি মিনতি কবুল করেছি–যড়াতে তারা উপদেশ গ্রহণ
করে ৷ ফলে আকাশ তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেছে ৷ যমীন খাদ্য উৎপাদন করেছে, সুস্থ দেহ ও
াচ্ছন্দ জীবন তারা উপভোগ করেছে, শত্রুদের উপর জয়লাভ করেছে ৷ কিন্তু তা সত্বেও তারা
আরও বেশি পাপাসক্ত হয়েছে ৷ অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং আমার নৈকট্য থেকে বহু
দুরে চলে গিয়েছে ৷ এ অবস্থা আর কতদিন চলতে দেয়া যায়? এরা কি আমার সাথে উপহাস
করছে, নাকি আমার সাথে ঘোকাবাজী করছে ? তারা আমার সাথে প্রতারণা করছে, নাকি স্পর্ধা
দেখাচ্ছেক্ট আমার মর্যাদার কসম, তাদের জন্যে এমন এক ভয়াবহ বিপর্যয় আমি নির্ধারণ করে
রেখেছি–যার প্রচণ্ডতায় বিজ্ঞ জ্ঞানী লোকও উদ্ভ্রান্ত হয়ে যাবে, দার্শনিকের৩ তত্ত্বজ্ঞান ও বিবেক
সম্পন্ন লোকের বিবেক-শক্তি লোপ পাবে ৷৩ তাদের উপর এক প্রতাপ,শালী পাষাণ হৃদয় নির্দয়
শাসক চাপিয়ে দেব ৷ ভয়ংকর তার চেহারা, দয়া মায়া শুন্য তার অন্তর ৷ আধার রাতের ন্যায়
বিশাল সৈন্য-বাহিনী অনুগামী হবে৩ তার ৷ সৈন্য-বাহিনীর ব্যুহগুলো হবে যেঘমালার ন্যায় ৷

ধোয়ার ন্যায় আচ্ছাদন করে চলবে সৈন্যদের খণ্ড খণ্ড মিছিলগুলো ৷ বাহিনীতে ব্যবহৃত
পতাকার শব্দ হবে শকুনপালের উড্ডয়নের শব্দের মত ৷ অশ্বারোহীদের ধাবমান গতি হবে ঈগল
পাথীর বাকের ন্যায় গতিশীল ৷ তারা সমস্ত শহর ধ্বংস করবে , গ্রাম উজাড় করবে এবং যা-ই
হাতের কাছে পারে, তাই বিনাশ করে ছাড়বে ৷ তাদের অন্তর হবে কঠিন, কোন কিছুই পরােয়া
করবে না, কারও অপেক্ষা করবে না , কারও প্রতি অনুগ্রহ দেখাবে না, কোন দিকে তাকাবে না,

কারও কথা শুনবে না ৷ সিংহের মত গর্জন করতে করতে এক বজাের থেকে অন্য বাজারে ঘুরে
বেড়াবে ৷ তাদের ভয়ংকর রুপ দেখে শরীর শিউরে উঠবে ৷ তাদের কথা শুনে জ্ঞানীর জ্ঞান
লোপ পেয়ে যাবে ৷ এমন ভাষায় কথা বলবে, যা কেউ বুঝরে ন, এমন চেহারায় প্রকাশিত হবে,
যা কেউ চিনবে না৷ আমার ইজ্জতের কসম, এরপরে আমি তাদের বাড়ি-ঘর আমার পবিত্র
কিতাব থেকে বঞ্চিত করে দেব ৷ তাদের সভা-সমিতি ও ভৈবঠকাদিতে কিতাবের পাঠ ও
আলোচনা বন্ধ করে দেব, তাদের মসজিদগুলাে ঐসব আপভুক ও পরিচর্যাকারী থেকে শুনা করে
ফেলব, যারা অন্যের উদ্দেশ্যে এগুলোকে সুসজ্জিত করে রাখত, এর মধ্যে শয়ন করত ৷ পুণ্য
লাভের পরিবর্তে পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা ইবাদত করত, এখানে বসে দীনের
পরিপন্থী চিন্তা-গবেষণা করত এবং এ মসজিদগুলােতে বসেই আমলবিহীন শিক্ষা গ্রহণ করত ৷

তাদের অবস্থার আমুল পরিবর্জা সাধন করব–শাসক শ্রেণীর সম্মানের পরিবর্তে লাঞ্চুনা,
নিরাপত্তার পরিবর্তে ভয়-ভীতি ঐশ্বর্যের পরিবর্তে দারিদ্র, স্বচ্ছলতার পরিবর্তে অনাহার,
অনাবিল সুখ-শান্তির পরিবর্তে বিভিন্ন প্রকার সংকটসমন্ন্শে, রেশমী পোশাকের পরিবর্তে
জীর্ণশীর্ণ পশমী জামা, তেল-সুপন্ধি যুক্ত সংগীদের পরিবর্তে নিহত মানুষের লাশ এবং মাথায়
রাজ-মুকুটের পরিবর্তে গলায় লোহার রেড়ি ও পায়ে শৃৎখল পরিধানের দ্বার৷ আমি তাদের ভাগ্য
পরিবর্ত্য৷ করব ৷ তাদের সুরম্য অট্টালিকা ও দুর্ভেদ্য দুর্গকে ধ্বংসন্তুপে, নিচ্ছিদ্র গম্বুজ বিশিষ্ট
শয়ন-কক্ষকে হিংস্র শ্বড়াপদের আবাস স্থলে, অশ্ব হ্নেসার স্থলে নেকড়ের গর্জন, প্ৰদীপের আলোর
স্থলে আগুনের ধোয়া এবং কোলাহল-কলরবের স্থলে নীরব-নিস্তব্ধ পরিবেশে রুপান্তরিত করব ৷
তাদের ত্রীদের হাতে চুড়ির বদলে বেড়ি, গলায় স্বর্ণ ও মুক্তার হারের বদলে লোহার শিকল,
সৃগন্ধি ও সুবাসিত তেলের বদলে ধুলি-বালি ৷ কোমল বিছানায় উচু বালিশে হেলান দিয়ে থাকার
বদলে বাজার-ঘাটে রড়াত্রি-দিনে ঘুরে বেড়ানাের এবং অন্দর মহলে ঘোমটা দিয়ে থাকার বদলে
অনাবৃত চেহারায় থর-তাপের মধ্যে ভবঘুরে জীবন যাপনে বাধ্য করব ৷

এরপর আমি এদেরকে বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দিয়ে নিম্পেযিত করব ৷ কেউ যদি সু-উচ্চ কোন
স্থানে আশ্রয় নেয়, তা হলে আমার শাস্তিও সেখানে গিয়ে পৌছরে ৷ যে আমাকে সমীহ করবে
আমি তার প্রতি অনুগ্রহ দেখার, আর যার দ্বারা আমার নির্দেশ পদদলিত হবে, আমি তাকে
লাঞ্ছিত করব ৷ এরপর আমার নির্দেশে আকাশ ত ৷ দের উপরে লোহার ঢাকনায় পরিণত হয়ে
এবং মাটি গলিত তামার মত কঠিন হবে ৷ ফলে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ধিত হবে না এবং মাটি
থেকে কিছুই উৎপন্ন হয়ে না ৷ যদি অল্প কিছু বৃষ্টি হয়ও এবং তাতে যৎসামানা ফসলও উৎপন্ন
হয় তা হলে তা নষ্ট করার উপ্দ্বেব সৃষ্টি করব ৷ যদি কিছু ফসল রক্ষা পেয়ে যায় তবে তার থেকে
আমি বরকত উঠিয়ে নেব ৷ আমার নিকট প্রার্থনা করলে সাড়া দেব না, কিছু পাওয়ার আবেদন
করলে দান করব না, কান্নাকাটি করলে দয়া দেখার না, করজােড়ে অনুনয়-রিনয় করলে তাদের
থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখব ৷ তারা যদি এভাবে প্রার্থনা করে, হে আল্লাহ ! আপনি আমাদের
পুর্ব-পুরুষদের উপর আপনারবহমত ও কৃপা দান করেছেন এবং আমাদের উপরেও প্রথম দিকে
তা অব্যাহত রেখেছেন আমাদেরকে আপনার ভৈনকট্য দানের জন্যে বাছাই করেছেন, আমাদের
মধ্যে বহু নবী প্রেরণ করেছেন, আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ

আমাদেরকে দিয়েছেন, আমাদেরকে শক্তিশালী করেছেন ও রাদ্রীয় ক্ষমতা দান করেছেন ৷
আমাদেরকে ও আমাদের পুর্ব-পুরুষদেরকে শিশুকালে আপন অনুগ্নহে লালন-পালন করেছেন
এবং যৌবনকালে আপন রহমত দিয়ে সব রকম ক্ষতি থেকে হেফাজত করেছেন ৷ আমরাই
আপনার অনুগ্নহপ্রাপ্ত লোকজন ৷ সুতরাং আমরা যদি ৰিপখগামী হয়েও থাকি তবুও আপনার
অনুগ্রহ আমাদের উপর অব্যাহত রাখুন, আমরা যদি বদলে গিয়েও থাকি আপনি বদলে যাবেন
না, বরং আপনার অনুগ্রহ, ইহ্সান, কথা ও দান পুরোপুরি আমাদের প্রতি বর্ষণ করুন ৷ তারা
যদি ঐভাবে প্রার্থনা করে তবে আমি বলবো, আমার বান্দাদের উপরে প্রথমে আমি দয়া ও
রহমত দেখিয়ে থাকি ৷ এরপর যদি তারা আমার দাসৎ কবুল করে নেয়, তা হলে আমি আমার
দান পুর্ণ করে দেই ৷ যদি তারা তা’ বৃদ্ধি করে আমিও আমার দান বৃদ্ধি করি ৷ যদি তারা
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আমি তখন আমার দান দ্বিগুণ করে দেই ৷ যদি তারা পরিবর্তিত হয়ে যায়
এবং বিপখগামী হয় তখন আমিও আমার কার্যধারা পরিবর্তন করি ৷ তারা ৰিপথগামী হলে
আমি ক্রুদ্ধ হই ৷ আমি ক্রুদ্ধ হলে শান্তি দান করি ৷ আর আমার রুক্রাধের সামনে কিছুই টিকে
থাকতে পারে না ৷

কা’ব বর্ণনা করেন, তখন নবী আরমিয়া (আ) বললেন, হে আল্লাহ ! আমি তো আপনার
কৃপায় বেচে আছি, যা আমার তা আপনার থেকেই জানছি ৷ আমি দুর্বল ও অসহায়, আপনার
দরবারে কথা বলা আমার সাজে না ৷ আজকের এই দিন পর্যন্ত আপনি নিজ রহমতে আমাকে
জীবিত রেখেছেন ৷ এ আমার ও শাস্তির ঘোষণাকে আমার চেয়ে অধিক ভয় পাওয়ার আর কেউ
নেই ৷ দীর্ঘদিন যাবত আমি এসব পাপী লোকদের মধ্যে অবস্থান করে আসছি ৷ আমার পাশে
থেকেই এরা আপনার অবাধ্য হয়ে চলেছে ৷ আমি কোন প্রতিবাদ ও পরিবর্তন করতে পারিনি ৷
এখন যদি আপনি আমাকে শান্তি দেন, তা হলে সে শান্তি আমার ত্রুটির জন্যেই ভোগ করব;
আর যদি আমাকে ক্ষমা করে দেন, তা হলে আপনার দরবারে আমার প্রত্যাশা ৷

এরপর নবী আরমিয়া (আ) বলেন, হে আমার প্রতিপালক ! আপনি পবিত্র, যাবতীয় প্রশংসা
আপনার; হে আমার প্রতিপালক ! আপনি বরকতময় ও সুমহান ৷ আপনি কি এ জনপদ ও
পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ধ্বংস করে দেবেন, এটা তো আপনার প্রেরিত অসংখ্য নবীর বাসস্থান এবং
আপনার ওহীর অবতারণ স্থল ৷ হে আমার প্রতিপালক৷ আপনি পবিত্র, প্রশংসার অধিকারী, হে
আমার প্রতিপালক ! আপনি বরকতময়, মহান ৷ এ মসজিদ (বায়তুল মুকড়াদ্দাস) ধ্বংসের
প্রাক্কালে আমার ফরিয়াদ এ মসজিদের চতুর্ম্পার্শে আরও বহু মসজিদ ও বাড়ি-ঘর আছে,
যেগুলো আপনার যিক্র ও স্মরণ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে ৷ হে আমার রব! আপনি
পবিত্র, প্রশংসনীয় , কল্যাণময় ও মহান, এ জাতিকে আপনি হত্যা ও শান্তি দিতে যাচ্ছেন, এরা
তো আপনার খলীল ইবরাহীম (আ)-এর বংশধর; আপনার সাথে একাভে সংলাপকারী মুসা
(আ)-এর অনুসারী এবং আপনার মনোনীত নবী দাউদ (আ)-এর সম্প্রদায় ৷ হে আমার
প্রতিপালক ! ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্র বংশধর, মুসা নাজীউল্লাহ্র উস্মত এবং দাউদ খলীফাতৃল্লাহ্র
সম্প্রদায়, যাদেরকে শায়েস্তা করার জন্যে আপনি অগ্নি পুজারীদেরকে চাপিয়ে দেবেন এরপর
আর কােনৃ জনপদটি অবিশষ্ট থাকবে, যারা আপনার শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে ?

আল্লাহ বলেন, “হে আরমিয়া ৷ যে কেউ আমার অবাধ্য হয় সে আমার শাস্তি থেকে আদৌ
অনবহিত থাকে না ৷ ঐসব লোকদেরকে আমি সম্মানিত করেছিলাম, কারণ তারা আমার
আনুগত্য করেছিল ৷ যদি তারা আমার অবাধ্য হত, তবে অবশ্যই আমি তাদেরকে
অবাধ্যদের অন্তর্ভুক্ত করতাম ৷ তবে আমি তাদের প্রতি সদয় হলে নিজ দয়ায় তাদেরকে
সংশোধন করে থাকি ৷

আরমিয়া (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! আপনি নবী ইবরাহীমকে আপন
খলীলরুপে গ্রহণ করেছেন এবং তার বদৌলতে আমাদেরকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন ৷ নবী
মুসাকে আপনি একান্তে ডেকে নিয়ে সংলাপ করেছেন ৷ সুতরাং আমাদের প্রার্থনা, তার ওসীলায়
আমাদেরকে রক্ষা করুন এবং আমাদের শত্রুদেরকে আমাদের উপরে চাপিয়ে দেবেন না ৷ তখন
আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ওহী নাযিল করলেন : হে আরমিয়া! তুমি যখন মায়ের উদরে ছিলে
তখন থেকেই আমি তোমাকে পবিত্র রেখেছি এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবিত রেখেছি ৷ তোমার
সম্প্রদায় যদি ইয়াতীম, বিধবা, মিসর্কীন ও পখিক লোকদের সাহায্য-সহযোগিতা করত তবে
আমি তাদেরকে আপন আশ্রয়ে রাখতাম ৷ তারা আমার নিকট এমন একটি উদ্যানের ন্যায়
সমাদৃত হত, যার বৃক্ষগুলি সতেজ এবং পানি স্বচ্ছ-পবিত্র এবং যার পানি কখনও শুকিয়ে যায়
না ৷ ফল নষ্ট হয় না এবং শেষও হয় না ৷ কিন্তু তোমার সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলের অবস্থাটা কী ?
তাদের ব্যাপারে আমার অনুযোগ হচ্ছে আমি তাদেরকে দয়ালু আহ্বানকারীর মত আমার দিকে
আহ্বান করেছি, সকল প্রকার দুর্যোগ ও দৃর্ভিক্ষ থেকে নিরাপদে রেখেছি ৷ সালে ও সজীব জীবন
তারা উপভোগ করেছে ৷ কিভু আমার এ নিয়ামত ভোগ করে তারা মােটা-তাজা মেয়ের মত
পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে ৷ তাদের জন্যে শত আক্ষেপ , আমি (তা কেবল ঐসব
সোকদেরকে সম্মানিত করি , যারা আমার প্রতি সম্মান দেখায় ৷ পক্ষান্তরে যারা আমার বিধানকে
পদদলিত করে আমি তাদেরকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ি ৷ বনী ইসরাঈলের পুর্বে যে সব জাতি
এসেছে, তারা পাপাচারে লিপ্ত হতো গোপনে, আর এরা পাপ কাজ করে প্রকাশ্যে ৷ এরা পাপ
করে মসজিদে, বাজারঘাটে, পর্বত শিখরে এবং বৃক্ষের ছায়ায় ৷ ওদের ঘৃণা পাপাচারে অতিষ্ঠ
হয়ে আসমান-যমীন ও পাহাড় পর্বত চিৎকার করে আমার নিকট ফরিয়াদ করেছে;
বন্য-জীবত্তস্থে ও কীট-পতৎগ এলাকা ত্যাগ করে দুর-দুরাম্ভে পালিয়ে গিয়েছে ৷ এর পরেও তারা
পাপাচার থেকে নিবৃত্ত হচ্ছে না এবং আমার কিতড়াবের যে জ্ঞান তারা লাভ করেছে তা থেকে
কোন উপকার লাভ করছে না ৷

তারপর আরমিয়া যখন বনী ইসরাঈলের নিকট গিয়ে এসব কথা জানালেন এবং সবকিছু
খুলে বললেন, তখন তারা এ শান্তি ও আযাবের কথা শুনে নবীর অবাধ্য হয়ে নবীকে বলল, তুমি
মিথ্যা বলছ এবং আল্লাহ্র উপরে মিথ্যা আরোপ করছ! তুমি কি মনে করছ যে, আল্লাহ তার
এ যমীনকে ও মসজিদসমুহকে নিজের কিতাব, তার ইবাদত ও তাওহীদ থেকে শুন্য করে
দেবেন ? এ সব চলে যাওয়ার পর তিনি এ পৃথিবীতে আর কাকে পাবেন ? তুমি আল্লাহর উপর
জঘন্য মিথ্যা আরোপ করেছ, আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারছি তুমি পাগল হয়েছ ৷ এ কথা বলে তারা
নবীকে ধরে বন্দী করল এবং জেলখানায় আবদ্ধ করল ৷ আল্লাহ এ সময় তাদের বিরুদ্ধে বুখৃত

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য খণ্ড) ১ ১-

৮২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া

নসরদুক প্রেরণ করেন ৷ বৃঘৃত নসর সসৈন্যে বনী ইসরাঈদুলর এলাকায় উপনীত হয় এবং
সকলকে অবরোধ করে রাখে ৷ এ অবস্থায় কথাই আল্লাহ তা“আলা কুরআনে বদুলদুছন
এাা ,১া াপ্রুদু১১ তারপর তারা ঘরে ঘরে প্রবেশ করে সবকিছু ধ্বংস করেছিল ৷
(বনী ইসবাঈল ং ৫) ৷ দীঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর বাধ্য হয়ে তারা বুখৃত নসদুরর নিকট
আত্মসমর্পণ করল এবং শহরের দুতারণ খুদুল দিল ৷ সাথে সাথে বুহ্াত নসরের সৈনাবাস্থিনী
শহরের অলিদুত-গলিদুত এবং ঘরে ঘরে প্রবেশ করল ৷ বৃহুাত নসর তাদের ব্যাপারে নিষ্ঠুর
জাহিলী নীতি অবলম্বন করে এবং অতাচারী শাসকসুলভ কঠিন নিদুর্দন্া জারী করে ; ফলে বনী
ইসরাঈদুলর মোট জনসংখ্যার এক তৃভীয়াৎশদুক হত্যা করা হয় ৷ এ ব তভীয়া ৎশদুক বন্দী করা
হয় এবং পঙ্গু, বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদেরদুক ছেড়ে দেয়া হয় ৷ তারপর নিহতদুদর মৃত দেদুহর উপর ঘোড়া
চালিয়ে দুসগুদুলাদুক দলিত-মথিত করে ৷ বুখৃত নসর বায়তুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করে ,
শিশু-বালকদেরদুক ধরে নিয়ে যায়, নাবীদেরদুক ঘোমটামুক্ত করে বাজারে উঠায় ঘুদ্ধক্ষম
পুরুষদেরদুক হত্যা করে, দুর্পসমুহ গুড়িদুয় ফেলে, মসজিদগুদুলা বিধ্বস্ত করে , তা ওরতে কিতাব
জ্বালিদুয় দেয় এবং দ র্মিযাল (আ) দুক খোজ করে, যারানধ্;ট্ন্ বুখৃত নসর প্ার্বেই পত্র
লিখেছিল ৷ কিভু দেখা ৷ গল তিনি ইতিপুর্বেই ইনদুতকাল করেছেন ৷ দানিয়াষ্ লর পারবারবর্গ সে
পত্রটি বের করে দিল ৷ নিহত দানিয়াদুলর পরিবারে যারা জীবিত ছিলেন তারা হলেন
হিযকীল-তনয় ছোট দানিয়াল, মিশাঈল, আযরাঈল ও মিখাঈল ৷ উক্ত চিাঠর নর্ম আবুয়ান্নী
তাদের প্রতি আচরণ করা হয় ৷ দানিয়াল ইবন হিযর্কীল (ছোট দানিয়াল ) বড় দানিয়াদুলর
স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ৷

বুখত নসর তার সৈনব্রবাহিনীসহ বায়তু ল ঘুকাদ্দাদুস প্রবেশ করে, সমগ্র সিরিয়ার ধ্বংসযজ্ঞ
চালায় এবং বনী ইসরা ঈলদুক সমুদুল ৰিনাশ করে ৷ ধ্বংসলীলাসম্পন্ন করে বুখৃত নসর স ×গৃহীত
ধন-সম্পদও বন্দীদেরকে নিয়োদেদুশ ফিরে যায় ৷ বন্দীদের মধ্যে কেবল ধর্ম যাজক ও শাসক
শ্রেণীর পরিরারভুক্ত শিশু বালকদের সং ×থ্যা ছিাল নব্বই হাজার ৷ বায়তুল ঘৃকাদ্দাদুস অবস্থিত
উপাসনালয়গুদুলা পাথর ছুড়ে ধুলিসাৎ করে দেয়া হয় এবং মসজিদের অভ্যন্তরে শুকর য়দুবহ্
করা হয় ৷ বন্দী বালকদের মধ্যে সাত হাজার ছিল দাউদ পরিবারের , এপার হাজার ইউসুফ ইবন
ইয়াকুব ও র্তার ভাই বিনয়ামীন এর বংশধর, আট হাজার ঈশ্া ইবন ইয়াকুব এর বংশের চৌদ্দ
হাজার হযরত ইয়াকুদুবর দ ’পুত্র য়াবালুণ্া ও নাফতালী এর বংশের চৌদ্দ হাজার দরুা ইবন
ইয়াকুরুবর বংশের অটি হ জাব ইয়াস৩াখির ইবন ইয়াকুদুবর বংশ, দু হাজার যাবালুন ইবন
ইয়াকুবের অন্য এক শাখার, চার হা জাব রুবেলও দুলবীয় বংশের এব×ব বার হাজার ছিল বনী
ইসরাঈদুলর অনান্য শাখার ৷ এসব কিছু সৎ ,গ নিয়ে বুখৃত নাসর বাবিল শহরে গিয়ে ৷ পাদুছ ৷

ন্ ইসহাক ইবন বিশ্ব বলেন, ওহাব ইবন মুনাববিহ্ বলেছেন, বায়তৃল ঘৃকাদ্দাস ও নদী
ইসরাঈদুলর ধ্বংস কার্য সম্পন্ন হওয়ার পর বুখৃত নসরদুক বলা হয় যে বনী ইসরাঈদুলর মধ্যে
এক ব্যক্তি তাদুদরদুক এই পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করবেন, আপনার বৈশিষ্ট্যাবলী তাদুদর নিকট
তলে ধরদুবন এবং এই কথা ও শুনাদুত ন যে আপনি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করবেন, শিশু
সন্তানদের বন্দী করবেন, মসজিদসমুহ ধ্বংস করবেন এবং উপাসনালয়সমুহ জ্বালিয়ে দেবেন ৷

কিন্তু এরা তার কথা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়, তাকে অপবাদ দেয়, প্রহড়ার করে বন্দী করে ও
জেলে আবদ্ধ করে রাখে ৷ তখন বুখত নসর সেই ণ্যত্তিংওে হাজির করার নির্দেশ দেয় ৷ ফলে
আরমিয়াকে জেলখানা থেকে মুক্তি দেয়া হয় ৷ বুখত নসর তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি এই
পরিণতি সম্পর্কে ঐ সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলেন ? আরমিয়া বললেন, হ্যা ৷

বুখত নসর জিজ্ঞেস করল, আপনি তা কিভাবে জানতে পারলেন ? আরমিয়া (আ) বললেন,
আল্লাহ আমাকে তাদের নিকট রাসুলরুপে পাঠিয়েছেন ৷ তিনিই আমাকে তা জানিয়েছিলেন ৷
বুখৃত নসর জিজ্ঞেস করল, তারা কি আপনাকে মিথ্যারাদী বলে প্রহার করে তোলে আবদ্ধ
করেছে ? আরমিয়া বললেন, ই৷ , তাই করেছে ৷ বুখত নসর বলল, ঐ জাতি বড়ই দুর্ভাপা, যারা
তাদের নবীকে মিথ্যাবাদী বলে, আল্লাহর রাসুলকে অস্বীকার করে ৷ তখন বুখৃত নসর
আরমিয়াকে বলল, আপনি যদি আমাদের সাথে যেতে চান, তবে চলুন , আমি আপনাকে সম্মান
করব, সহযোগিতা করব; আর যদি নিজ শহরে থাকতে চান তা হলে থাকুন, আমি আপনাকে
পুর্ণ নিরাপত্তা দান করব ৷ এ প্রস্তাবের উত্তরে আরমিয়া বুখত নসরকে জানালেন, আমি সর্বদা
আল্লাহর নিরাপত্তায় আছি, এক মুহুর্ভের জন্যেও তার নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে আসিনি ৷ বনী
ইসরাঈলও যদি তার নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে না আসত তা হলে তারা আপনাকে বা অন্য
কাউকে ভয় করত না এবং আপনিও তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারতেন না ৷

আরমিয়ার মুখে এ বক্তব্য শুনার পর বুখত নসর তাকে তার স্ব-ন্থানে রেখে চলে গেল ৷
আরমিয়া নিজ শহর ঈলিয়ড়ায় বসবাস করতে থাকেন ৷ এ বর্ণনাটি পরীব পর্যায়ের ৷ তবে এর
মধ্যে উপদেশ ও সুক্ষ্ম তাৎপর্য নিহিত আছে ৷ এ বর্ণনার আরবী ভাষা শৈলী নেহাৎ দুর্বল ৷

হিশাম ইবন মুহাম্মদ আল-কালবী বলেছেন, বুখত নসর ছিল পারস্য সম্রাটের অধীনে
আহ্ওয়ড়াজ ও রোমের মধ্যবর্তী অঞ্চলের শাসনকর্তা ৷ সম্রাটের নাম ছিল লাহ্রাসব ৷ তিনি বলট্রুখ
শহর নির্মাণ করেন, যা খানসা নামে অভিহিত ৷ তিনি তৃর্কদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে
তাদেরকে কােণঠাসা করে ফেলেন ৷ পারস্য সম্রাট বুখত নসরকে সিরিয়ার বনী ইসরাঈলের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে প্রেরণ করেন ৷ তিনি যখন সিরিয়ার পৌচছন তখন দামেশৃকের
অধিবাসীগণ তার সাথে সন্ধি করে ৷ কোন কোন ঐতিহাসিক লিখেছেন, পারস্যের যে সম্রাট
বুখৃত নসরকে যুদ্ধে প্রেরণ করেছিলেন, তার নাম ছিল বাহ্মন ৷ তিনি লাহ্রাসবের পুত্র
বাশতাসবের পরে পারস্যের সম্রাট হন ৷ বাহ্মন কর্তৃক প্রেরিত দুতকে লাঞ্ছিত করার প্ৰতিশোধ
গ্রহণের জন্যে বনী ইসরাঈলের বিরুদ্ধে এ অভিযান প্রেরিত হয়েছিল ৷

ইবন জারীর সাঈদ ইবনুল মুসাব্যিব (বা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বুখত নসর
দামেশৃকে এসে একটি আবর্জনাতুপের মধ্য থেকে অবিরাম রক্ত উথিত হতে দেখে লোকের
নিকট এর কারণ জিজ্ঞেস করে ৷ তারা জানায়, আমাদের পুর্ব-পুরুষদের আমল থেকেই এ
অবস্থা চলে আসছে এবং আমরা এ রকমই সর্বদা দেখে আসছি ৷ এ রক্তের উপর যখনই
অড়াবর্জনা ফেলে ঢেকে দেয়া হয় তখনই তা আবর্জনার উপরে উঠে আসে ৷ আর বুখত নসর ঐ
স্থানে সত্তর হাজার লোক হত্যা করে ৷ ফলে রক্ত ওঠা বন্ধ হয়ে যায় ৷ উপরোক্ত ঘটনা সাঈদ
ইবনুল-মুসাব্যিব(রা) থেকে বিশুদ্ধ সুত্রে বর্ণিত হয়েছে ৷ এটা হযরত ইয়াহ্য়া ইবন যাকারিয়ার

রক্ত বলে হাফিজ ইবন আসাকিরের যে মন্তব্য পুর্বেই উল্লেখিত হয়েছে,, তা যথার্থ নয় ৷
কেননা, ইয়াহ্য়া ইবন যাকারিয়ার আগমন হয় বুখৃত নসরের পর ৷ তবে এ কথা সত্য যে এটা
হয় কোন নবীর রক্ত, না হয় কোন পুণ্যবান লোকের রক্ত অথবা অন্য কারও রক্ত যা আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷

হিশাম ইবন কালবী বর্ণনা করেন, তারপর বুখৃত নসর বায়তুল মুকাদ্দাসে যায় এবং
সেখানকার শাসক তার সাথে সন্ধি করেন ৷ শাসক ছিলেন দাউদ (আ) এর বংশধর ৷ তিনি বনী
ইসরাঈলের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ৷ বুখৃত নসর উক্ত শাসকের নিকট থেকে
মুচলেকা স্বরুপ কিছু লোক সংগে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করে ৷ তিবরিয়া নামক স্থানে পৌছে বুখৃত
নসর সংবাদ পায় যে, সন্ধি করার কারণে ইসরাঈল বংশীয়রা তাদের শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
করে এবং তাকে হত্যা করে ৷ এ সংবাদ শুনামাত্র বুখৃত নসর মৃচলেকাস্বরুপ নেয়া লোকগুলােকে
হত্যা করে অতর্কিতে শহর আক্রমণ করে দখল করে নেয় এবং সকল সক্ষম লোকদেরকে হত্যা
করে এবং শিশু-বালকদেরকে বন্দী করে ৷

হিশাম আরও বলেছেন, বুখৃত নসর জেলখড়ানা থেকে নবী অবেঃমিয়াকে বের করে আনে ৷
নবী তার নিকট বনী ইসরাঈলকে এ পরিণতি থেকে সতর্ক করার জান্য যা যা করেছিলেন
সবকিছু খুলে বলেন; তারা নবীকে মিথ্যাবাদী বলে জেলে আটক করার কথাও তাকে তিনি
জানান ৷ বুখৃত নসর বলল, যারা আল্লাহ্র নবীকে অমান্য ও অবমাননা করে , তারা একটি নিকৃষ্ট
সম্প্রদায় ৷ বনীর সাথে উত্তম ব্যবহার করে বুখৃত নসর সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় ৷
এরপর নবী ইসরাঈলের অবশিষ্ট দুর্বল লোকজন আরমিয়ার নিকট এসে সমবেত হয় এবং
করুণ, কণ্ঠে ফরিয়াদ জানিয়ে বলে, আমরা অপরাধ করেছি, জুলুম করেছি, এখন আল্লাহর নিকট
নিজেদের কৃত অপকর্মের জন্যে তওবা করছি ৷ আপনি আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, যাতে তিনি
আমাদের তওবা কবুল করেন ৷ নবী আল্লাহর নিকট আবেদন করলে তিনি জানান, তুমি যা বলছ
তা’ হবার নয় ৷ দেখ, তারা যদি আন্তরিকভাবেই বলে থাকে, তবে তোমার সাথে যেন তারা এই
শহরে অবস্থান করে ৷ নবী তাদেরকে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে এ কথা জানালেন ৷ তারা বলল, এ
শহরে কীভাবে থাকা যায়, এখানকার অধিবাসীদের উপর আল্লাহ্র গযব পড়েছে ৷ শহর ধ্বংস
হয়েছে ৷” সুতরাং এখানে অবস্থান করতে তারা অস্বীকার করল ৷

ইবনৃল কালবী বলেন, তখন থেকে বনী ইসরাঈল বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে একদল যায়
হিজাযে, একদল ইয়াছরিবে, এক দল যায় ওয়াদিল করার এবং একটি ক্ষুদ্র দল যায় মিসরে ৷
তখন বুখৃত নসর নবী ইসরাঈলের বাদশাহর নিকট এই মর্মে পত্র লিখে যে, তাদের যে সব
লোক পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরকে যেন তার নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয় ৷
বাদশাহ এতে অস্বীকৃতি জানান ৷ তখন বুখৃত নসর সসৈন্যে উক্ত শহরে আক্রমণ চালিয়ে তাকে
শোচনীয়ভারে পরাজিত করে ৷ সে তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের ত্রীলোকদেরকে বন্দী
করে এবং সেখান থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয় ৷ এ অভিযান অব্যাহতভাবে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত
চালিয়ে মরক্কো, মিসর, মিসর, বায়তুল মুকাদ্দাস, ফিলিস্তীন ও জর্দান থেকে অসংখ্য বন্দী সাথে
নিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে ৷ উক্ত বন্দীদের মধ্যে দানিয়াল (আ) ও ছিলেন ৷ তবে ইনি হলেন
দানিয়াল ইবন হিয্কীল (ছোট দানিয়াল) , দানিয়াল আকারে (বড় দানিয়াল) নন ৷ এ বর্ণনাটি
ওহাব ইবন মুনাবৃবিহ্র ৷

হযরত দানিয়াল (আ)-এর বিবরণ

ইবন আবিদ দৃনৃয়া আবদুল্লাহ ইবন হুজায়ল থেকে বর্ণনা করেন যে, বুখৃত নসর
দু’টি সিংহ ধরে একটি কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করে এবং নবী দানিয়ালকে এনে এ দুটি সিংহের
মধ্যে ছেড়ে দেয় ৷ কিন্তু সিংহ দু’টি তার উপর কোনরুপ আক্রমণ করেনি ৷ তিনি দীর্ঘক্ষণ
সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই অবস্থান করার পর মানুষের জৈবিক চাহিদা অনুযায়ী তার খাদ্য
পানীয়ের প্রয়োজন দেখা দেয় ৷ তখন আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে নবী আরমিয়াকে দানিয়ালের জন্যে
খাদ্য পানীয় প্রস্তুত করতে বলেন ৷ তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! আমি থাকি রায়তুল
মুকাদ্দাস এলাকায়, আর দানিয়াল আছেন সুদুঢ় ইরাকের ববিল শহরে ৷ সেখানে আমি কিভাবে
খাদ্য পানীয় পৌছাব? আল্লাহ বললেন, হে আরমিয়া, আমি তোমাকে যা আদেশ করেছি, তুমি
তা-ই কর; প্রন্তুতকৃত খাদ্য সড়ামগ্রীসহ তোমাকে সেখানে পৌছিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা শীঘ্রই আমি
করছি ৷ আরমিয়া (আ) খাদ্য তৈরি করলেন ৷ তারপর এমন একজনকে প্রেরণ করা হলো, যিনি
খাদ্য পানীয়সহ আরমিয়াকে উক্ত কুপের পাড়ে পৌছিয়ে দিলেন ৷ দানিয়াল ভিতর থেকে
জ্যিজ্ঞস করলেন, এখানে কে? আরমিয়া (আ) নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন আমি আরমিয়া ৷
দানিয়াল (আ) বললেন, কেন আপনি এখানে এসেছেন? আরমিয়া (আ) জানালেন, আপনার প্রভু
আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন ৷ দানিয়াল (আ) বললেন, তা হলে আমার প্রভু আমাকে
স্মরণ করেছেন ? আরমিয়া বললেন, জী ছুব্রু৷ ৷ তখন বলে উঠলেন : সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্র
যীকে কেউ স্মরণ করলে তিনি তাকে ভুলেন না; সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, মাকে কেউ
আহ্বান করলে তিনি সে আহ্বানে সাড়া দেন; সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, র্যার প্রতি কেউ
নির্ভরশীল হলে তিনি তাকে অন্যের দিকে ঠেলে দেন না; সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি
উত্তম কাজের উত্তম বিনিময় দান করেন; সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি ধৈর্যের বিনিময়ে
মুক্তি দান করেন; সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন ?;
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাদের বিশ্বাস ও কর্মদ্যেড়াম শিথিল হয়ে পড়লে দৃঢ়তা দান
করেন; সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাদের সকল উপায় শেষ হবার পর একমাত্র
ভরসা স্থল ৷

ইউনুস ইবন বুকায়র আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমরা যখন
তুস্তর শহর জয় করি, তখন হরযুযানের বাড়িতে একটি খাটের উপর একটি মৃত দেহ দেখতে
পাই ৷ তার লাশের শিয়রের কাছে একটি আসমানী কিতাব ৷ আমরা তা’ নিয়ে আমি এবং
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবকে দেখাই ৷ তিনি হযরত কা’বকে ডেকে তার দ্বারা তা আরবীতে

অনুবাদ করান ৷ আবুল আলিয়া বলেন, আরবদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম ঐ কিতাবখানড়ার

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest

Hatay masaj salonu Diyarbakır masaj salonu Adana masaj salonu Aydın masaj salonu Kocaeli masaj salonu Muğla masaj salonu Yalova masaj salonu Gaziantep masaj salonu Kütahya masaj salonu Elazığ masaj salonu Bursa masaj salonu Konya masaj salonu Samsun masaj salonu Mersin masaj salonu Manisa masaj salonu Afyon masaj salonu Kütahya masaj salonu Çanakkale masaj salonu Edirne masaj salonu Yozgat masaj salonu Çorum masaj salonu>