রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

হাদীসে আদম (আ) – এর সৃষ্টি প্রসঙ্গ

হাদীসে আদম (আ) – এর সৃষ্টি প্রসঙ্গ

হড়াদীসে আদম (আ)-এর সৃষ্টি প্রসঙ্গ

আবু মুসা আশআরী (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : আল্লাহ্ তাআলা আদম
(আ)-কে সমগ্র পৃথিবী থেকে সংগৃহীত এক ঘুঠো মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেন ৷ তাই মাটি অনুপাতে
আদমের সন্তানদের কেউ হয় সাদা, কেউ হয় গৌরবর্ণ, কেউ হয় কালো, কেউ মাঝামাঝি
বর্ণের ৷ আবার কেউ হয় নােং রা, কেউ হয় পরিচ্ছন্ন, কেউ হয় কোমল, কেউ হয় পাষাণ ৷,কেউ
বা এগুলোর মাঝামাঝি ৷ ঈষৎ শাব্দিক পার্থক্যসহ তিনি ভিন্ন সুত্রে উক্ত হাদীসঢি বর্ণনা
করেছেন ৷

ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী এবং ইবন হিব্বান (র) আবু মুসা আশআরী (রা) যীর আসল

নাম আবদৃল্পাহ্ ইবন কায়েস (রা) সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি
হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন ৷

সুদ্দী (র) ইবন আব্বাস ও ইবন মাসউদ (না)-সহ কতিপয় সাহারা সুত্রে বর্ণনা করেন যে,
তারা বলেন : আল্লাহ্ তাআলা কিছু কাদামাটি নেয়ার জন্য জিবরাঈল (আ)-কে যমীনে প্রেরণ
করেন ৷ তিনি এসে মাটি নিতে চাইলে যমীন বলল, তুমি আমার অঙ্গহানি করবে যা আঘাতে

ত সৃষ্টি করবে; এ ব্যাপারে তোমার নিকট থেকে আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই ৷ ফলে
জিবরাঈল (আ) মাটি না নিয়ে ফিরে গিয়ে বললেন, হে আমার রব! যমীন তোমার আশ্রয়
প্রার্থনা করায় আমি তাকে ছেড়ে এসেছি ৷

এবার অ ৷ল্লাহ্ তা অ ৷লা মীকাঈল (আ) কে প্রেরণ করেন ৷ যমীন তার নিকট থেকেও আশ্রয়
প্রার্থনা করে বসে ৷ তাই তিনিও ফিরে গিয়ে জিবরাঈল (আ)-এর মতই বর্ণনা দেন ৷ এবার
আল্লাহ্ তাআলা মালাকুল মউত (আ) বা মৃত্যুর ফেরেশতাকে প্রেরণ করেন ৷ যমীন তার কাছ
থেকেও আশ্রয় প্রার্থনা করলে তিনি র্কীলেন, আর আমিও আল্লাহ্তাআলার আদেশ বাস্তবায়ন
না করে শুন্য হাতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তার পানাহ্ চাই ৷ এ কথা বলে তিনি পৃথিবীর
বিভিন্ন স্থান থেকে সাদা, লাল ও কালো রঙের কিছু মাটি সংগ্রহ করে মিশিয়ে নিয়ে চলে যান ৷
এ কারণেই আদম (আ)-এর সন্তানদের এক একজনের রঙ এক এক রকম হয়ে থাকে ৷

আজরাঈল (আ) মাটি নিয়ে উপস্থিত হলে আল্লাহ তাআলা মাটিগুলো ভিজ্যিয় নেন ৷ এতে

তা আটালো হয়ে যায় ৷ তারপর ফেরেশতাদের উদ্দেশে তিনি ঘোষণা দেন :

অর্থাৎ কাদামাটি দ্বারা আমি মানুষ সৃষ্টি করতে ৩যাচ্ছি ৷ যখন আমি তাকে সুঠাম করব
এবং তাতে আমার রুহ্ সঞ্চার করব; তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো ৷ ( ১ ৫ : ২৮)

তারপর আল্লাহ তাআল৷ আদম (আ)-কে নিজ হাতে সৃষ্টি করেন, যাতে ইবলীস তার
ব্যাপারে অহংকার করতে না পারে ৷ তারপর মাটির তৈরি এ মানব দেহটি থেকে চল্লিশ বছর
পর্যন্ত যা জুমআর দিনের অংশ বিশেষ ছিল১ একইভাবে পড়ে থাকে ৷ তা দেখে ফেরেশতাগণ
ঘাবড়ে যান ৷ সবচাইতে বেশি ভয় পায় ইবলীস ৷ সেত তার পাশ দিয়ে আনাগােনা করত এবং
তাকে আঘাত করত ৷ ফলে দেহটি ঠনঠনে পােড়া মাটির ন্যায় শব্দ করত ৷ এ কা ৷বণেই মানব
সৃষ্টির উপাদানকে এাষ্া৷ৎ ৰুমোঃ তথা পোড়ামাটির ন্যায় ঠনঠনে মাটি বলে অভিহিত
করা হয়েছে ৷ আর ইবলীস তাকে বলত, তুমি একটি বিশ্বে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্ট হয়েছ ৷

এক পর্যায়ে ইবলীস তার মুখ দিয়ে প্রবেশ করে পেছন দিয়ে বের হয়ে এসে
ফেরেশতাগণকে বলল, একে তোমাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই ৷ কেননা তোমাদের
বব হলেন সামাদ তথা অমুখাপেক্ষী আর এটি একটি শুন্যগর্ভ বন্তুমাত্র কাছে পেলে আমি একে

ৎস করেই৷ ছা ড়ব ৷

এরপর তার মধ্যে রুহ্ সঞ্চার করার সময় হয়ে এলে আল্লাহ তাআল৷ ফেরেশতাগণকে
বললেন : আমি যখন এর মধ্যে রুহ সঞ্চার করব; তখন তার প্রতি তোমরা সিজদাবনত হয়ো ৷
যথাসময়ে আল্লাহ্ তাআলা তার মধ্যে রুহ্ সঞ্চার করলেন যখন রুহ্ তার মাথায় প্রবেশ করে,
তখন তিনি ইাচি দেন ৷ ফেরেশতাগণ বললেন, আপনি আল-হামদুলিল্লাহ্ বলুন ৷ তিনি
আলা-হামদুলিল্লাহ্’ বললেন ৷ জবাবে আল্লাহ তাআলা বললেন : প্র ন্র্চু (ণ্াহু১১ (তোমার বব
তোমাকে রহম করুন!) তারপর রুহ্ তার দুচোখে প্রবেশ করলে তিনি জান্নাতের ফল-ফলাদির
প্রতি ৩দৃষ্টিপাত করেন ৷ এবার রুহ্ তার পেটে প্রবেশ করলে তার মনে খাওয়ার আকাডক্ষা জাগে ৷
ফলে রুহ্ পা পর্যন্ত পৌছানের আগেই তড়িঘরি করে তিনি জান্নাতের ফল-ফলাদির প্রতি ছুটে
যান ৷ এ কারণেই আল্লাহ তা আলা বলেন৪ ষ্; ব্লুটু০ ষ্া১৷ ৷ এপুর্দু মানুষ সৃষ্টিপতভাবেই
তৃরাপ্রবণ ৷’ (২১০ : ৩৭)

এ্যা

অথাত্ তখন ইবলীস ব্যতীত ফেরেশত ৷রা সকলেই সিজদা করল ৷ সে সিজদাক৷ রীদের
অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করল ৷ ( ১ ৫ : ৩০)

সুদ্দী (র) এভাবে কাহিনীটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন ৷ এ কাহিনীর সমর্থনে আরো বেশ
কটি হাদীস পাওয়া যায় ৷ তবে তার বেশির ভাগই ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে গৃহীত

১ উর্ধ জগতের একদিন পৃথিবীর হাজার বছরের, বর্ণনাম্ভরে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান বলে কুরআনের বর্ণনায় পাওয়া
যায় ৷ (রিঃদ্ৰ৪ ২২ : ৪৭ ও ৭০ : ৪)

ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে, আনাস (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন :
“আল্লাহ্ তাআলা আদম (আ) কে সৃষ্টি করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কিছুদিন তাকে ফেলে রাখেন ৷
এ সুযোগে ইবলীস ৩ড়ার চতুষ্পড়াভৈর্শ্ব চক্কর দিতে শুরু করে ৷ অবশেষে তাকে শুন্যগর্ভ দেখতে
পেয়ে সে আচ করতে পারল যে, এটাতো এমন একটি সৃষ্টি যার সৎযম ক্ষমতা থাকবে না ৷”

ইবন হিব্বান (র)ত তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, আনাস (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছেন ং “আদম (আ) এর মধ্যে রুহ্ সঞ্চাবিত হওয়ার পর রুহ্৩ তার মাথায় পৌছুলে তিনি
হীচি দেন এবং আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ বলেন ৷ উত্তরে আল্লাহ তা জানা
বললেন : ইয়ারহামুকাল্লাহ’ ৷ ঈষৎ শাব্দিক পার্থক্যসহ হাফিজ আবু বকর বায্যার (র) (য়াহয়া
ইবন মুহাম্মদ ইবন সাকান)-ও হড়াদীসটি বর্ণনা করেন ৷

উমর ইবন আব্দুল আযীয (ব) বলেন, “আদম (আ)-কে সিজদা করার জন্য
ফেরেশতাগণকে আদেশ করা হলে সর্বপ্রথম হযরত ইসরাফীল (আ) সিজদড়াবনত হন ৷ এর
পুরস্কারস্বরুপ আল্লাহ্ তাআলা তীর ললড়াটে কুরআন অঙ্কিত করে দেন ৷ ইবনে আসাকিব এ
উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন ৷

হাফিজ আবু ইয়ালা (র) বর্ণনা করেন যে, আনাস (বা) বলেন, রাসুল (সা) বলেছেন :
আল্লাহ্ তাআলা হযরত আদম (আ)-কে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেন ৷ প্রথমে মাটিগুলোকে তিজিয়ে
অটিড়ালো করে কিছু দিন রেখে দেন ৷ এতে তা ছুড়াচে ঢড়ালা মাটিতে পরিণত হলে আদম
(আ) এর আকৃতি সৃষ্টি করে কিছুদিন এ অবস্থায় রেখে দেন ৷ এবার তা পোড়া মাটির মত
শুকনো ঠনঠনে মাটিতে রুপান্তরিত হয় ৷ বর্ণনাকারী বলেন, ইবলীস তখন তার কাছে গিয়ে
বলতে শুরু করে যে, তুমি এক মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্ট হয়েছ ৷ তারপর আল্লাহ তাআলা তার মধ্যে
রুহ্ সঞ্চার করেন ৷ রুহ্ সর্বপ্রথম তার চোখ ও নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করলে তিনি হাচি দেন ৷
হীচি শুনে আল্লাহ্ বললেন : তোমার বব তোমার প্রতি বহমত বর্যণ করুন

অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বললেন, হে আদম তুমি ঐ ফেরেশ্ তো দলের কাছে গিয়ে দেখ
তারা কী বলে? তখন তিনি ফেরেশত ৷ দলের কাছেগ্ গিয়ে তাদেরকে সালাম দেন ৷ আর তারা
বলে উত্তর দেন ৷ তখন আল্লাহ বললেন, হে
আদম এটা তোমার এবং তোমরা বংশধরের অভিবাদন ৷ আদম (আ) জিজ্ঞাসা করলেন, হে
আমার বব! আমার বংশধর আবার কি? আল্লাহ বললেনহ্র; আদম তুমি আমার দৃ হাতের যে
কোন একটি পছন্দ কর ৷ আদম (আ) বললেন, আমি আমার বরের ডান হাত পছন্দ করলাম ৷
আমার বর-এর উভয় হাতই তো ভাল হাত বরকতময় ৷

এবার আল্লাহ্ তাঅড়ালা নিজের হাতেরত তালু প্রসারিত ৩করলে আদম (আ) কিয়ামত পর্যন্ত
আগমনকারী তার সকল সন্তানকে আল্পাহ্র হাতের তালুতে দেখেতে পান ৷ তন্মধ্যে
কিছুসংখ্যকেব মুখমণ্ডল ছিল নুরে সমুজ্জ্বল ৷ সহসা তাদের মধ্যে একজনের নুরে অধিক বিমুগ্ধ
হয়ে আদম (আ) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার বর! ইনি কে? আল্লাহ্ বললেন, ইনি তোমার
সন্তান দউিদ ৷ জিজ্ঞাসা করলেন, এর আবু কত নির্ধারণ করেছেন? আল্লাহ বললেন, ষাট বছর ৷
আদম (আ) বললেন, আমার থেকে নিয়ে এর আযু পুর্ণ একশ বছর করে দিন ৷ আল্লাহ তার

আবদার মঞ্জুর করেন এবং এ ব্যাপারে ৫ফরেশতাগণকে সাক্ষী রাখেন ৷ তারপর যখন আদম
(আ)-এর আযু শেষ হয়ে আসলাে তখন তার রুহ্ কবয করার জন্য আল্লাহ তাআলা আযরাঈল
(আ) কে প্রেরণ করেন ৷ তখন আদম (আ) বললেন, কেন, আমার আর তো আরো চল্লিশ বছর
বাকি আছে ৫ফরেশত ৷ বললেন, আপনি না আপনার আযুর চল্লিশ বছর আপনার সন্তান দাউদ
(আ)-কে দিয়ে দিয়েছিলেন! কিন্তু আদম (আ)৩ ত ৷অস্বীকার করে বলেন এবং পুর্বের কথা তুলে
যান ৷ ফলে তার সন্তানদের মধ্যে অস্বীকৃতি ও বিস্মৃতির প্রবণতা সৃষ্টি হয় ৷ হাফিজ আবু বকর
বাবৃযার (র) তিরমিষী ও নাসাঈ (র) তার ইয়াওম ওয়াল লাইলা’ কিতাবে আবু হুরায়রা সুত্রে
এ হাদীসটি বর্ণনা করেন ৷ তিরমিষী (র) হাদীসটি হাসান গরীব পর্যায়ের এবং ইমাম নাসাঈ
(র) ঘুনকার’ তথা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ৷

তিরমিষী (র) বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন :
“আদম (আ)-কে সৃষ্টি করে আল্লাহ্ তা আলা তার পিঠে হাত ৩বৃলান ৷ সাথে সাথে কিয়ড়ামত
পর্যন্ত আগমনকারী তার সবক টি সন্তান তার পিঠ থেকে ঝরে পড়ে ৷ আর আল্লাহ্ তা আলা
তাদের প্রত্যেকের দু’ চোখের মাঝে একটি করে নুরের দীপ্তি স্থাপন করে দিয়ে তাদেরকে আদম
(আ)-এর সামনে ৫পশ করেন ৷ তখন আদম (আ) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার রব! এরা
কারা? আল্লাহ্ বললেন, এরা তোমার সন্তান-সন্ততি ৷ তখন তাদের একজনের দুচােখের মাঝে
দীপ্তিতে বিমুগ্ধ হয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার রব! ইনি কে? আল্লাহ বললেন, যে
তোমার ভবিষ্যত বংশধরের দাউদ নামক এক ব্যক্তি ৷ তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এর আযু
কত নির্ধারণ করেছন? আল্লাহ বললেন : ষাট বছর ৷ আদম (আ) বললেন, হে আমার রব ৷
আমার আয়ু থেকে নিয়ে এর আযু আরো চল্লিশ বছর বৃদ্ধি করে দিন ৷ তারপর যখন আদম
(আ)-এর আয়ু শেষ হয়ে যায়; তখন জান কবয করার জন্য আযরাঈল (আ) তার কাছে
আগমন করেন ৷ তখন তিনি বললেন, আমার আযু না আরো চল্লিশ বছর বাকি আছে?
আযরাঈল (আ) বললেন, কেন আপনি না তা আপনার সন্তান দাউদ (আ)-কে দিয়ে
দিয়েছিলেন? কিন্ত আদম (আ) তা অস্বীকার করে বলেন ৷ এ কারণে তার সন্তানদের মধ্যে
অস্বীকৃতির প্রবণতা রয়েছে ৷ তিনি পুর্বের কথা তুলে যান ৷ ফলে তার সন্তানদের মধ্যেও
বিস্মৃতির প্রবণতা রয়েছে ৷ আদম (আ) ত্রুটি করেন, তাই তার সন্তানরাও ত্রুটি করে থাকে ৷

ইমাম তিরমিষী (র) হাদীসটি হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন ৷ আবু হুরায়রা (রা)
থেকে আরো একাধিক সুত্রে হ্াদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷ হাকিম (র) তীর মুস্তাদরাকে আবু নুআয়ম
(ফযল ইবনে দুকায়ন)-এর সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী
হাদীসটি সহীহ ৷ তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিমের কেউই হাদীসটি বর্ণনা করেননি ৷ আর ইবনে
আবু হড়াতিম (র) হড়াদীসটির যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে এও আছে যে আল্লাহ্ তাআলা আদম
(আ)-এর বংশধরকে তার সামনে পেশ করে বললেন, ৫হ আদম ! এরা তোমার সন্তান-সন্ততি ৷
তখন আদম (আ) তাদের মধ্যে কুষ্ঠ ও ৫শ্বভী ৫রাপী, অন্ধ এবং আরো নানা প্রকার ব্যাধিগ্নস্ত
লোক দেখতে পেয়ে বললেন, হে আমার বব ! আমার সন্তানদের আপনি এ দশা করলেন কেন ?
আল্লাহ বললেন, করেছি এ জন্য যাতে আমার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হয় ৷ এর পরে
বর্ণনঢিতে দাউদ (আ)-এর প্রসঙ্গও রয়েছে-যা ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে পরে আসছে ৷

ইমাম আহমদ (র) তার মুসনাদে বর্ণনা করেন যে, আবুদ্ দড়ারদা (রা) বলেন, রাসুলুল্পাহ
(সা) বলেছেন : যথা সময়ে অল্লোহ্ তাআলা আদম (আ)-কে সৃষ্টি করে তার ডান কাধে
আঘাত করে মুক্তার ন্যায় ধবধবে সাদা তার একদল সন্তানকে বের করেন ৷ আবার তার বাম
কাধে আঘাত করে কয়লার ন্যায় মিশমিশে কালো একদল সন্তানকে বের করে আনেন ৷ তারপর
ডান পাশের গুলোকে বললেন, তোমরা জান্নড়াতপামী, আমি কারো পরোয়া করি না ৷ আর বাম
র্কাধের গুলোকে বললেন, তোমরা জাহান্নামগড়ামী , আমি কারো পরোয়া করি না ৷

ইবনে আবুদ্ দুনিয়া (র) বর্ণনা করেন যে, হাসান (ব) বলেন, “আদম (আ)-কে সৃষ্টি করে
আল্লাহ তাআলা তার ডান পার্শ্বদেশ থেকে জান্নাতীদের আর বাম পার্শ্বদেশ থেকে জাহান্নড়ামীদের
বের করে এনে তাদেরকে যমীনে নিক্ষেপ করেন ৷ এদের মধ্যে কিছু লোককে অন্ধ, বধির ও
অন্যান্য রোগে আক্রান্ত দেখে আদম (আ) বললেন, হে আমার রব! আমার সন্তানদের সকলকে
এক সমান করে সৃষ্টি যে করলেন না তার হেতৃ কি ? আল্লাহ বললেন, “আমি চাই যে , আমার
শুকরিয়া আদায় হোক ৷ আব্দুর রাঘৃযাক অনুরুপ রিওয়ায়ত বর্ণনা করেছেন ৷

ইবন হিব্বানের এ সংক্রান্ত বর্ণনার শেষ দিকে আছে আল্পাহ্র মর্জি মোতাবেক আদম
(আ) কিছুকাল জান্নাতে বসবাস করেন ৷ তারপর সেখান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন ৷
অবশেষে এক সময় আযরড়াঈল (আ) তার নিবটি আগমন করলে তিনি বললেন, আমার আযু
তাে এক হাজার বছর ৷ আপনি নির্ধারিত সময়ের আগেই এসে পড়েছেন ৷ আযরাঈল (আ)
বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন ৷ কিন্তু আপনি না আপনার আবু থেকে চল্লিশ বছর আপনার
সন্তান দাউদকে দিয়ে দিয়েছিলেন ৷ বিক্ষ্ম আদম (আ) তা অস্বীকার করে বলেন ৷ ফলে তার
সন্তানদের মধ্যেও অস্বীকার করার প্রবণতা সৃষ্টি হয় ৷ তিনি পুর্বের কথা ভুলে যান ৷ ফলে তার
সন্তানদের মধ্যে বিস্মৃতির প্রবণতা দেখা দেয় ৷ সেদিন থেকেই পারস্পরিক লেন-দেন লিপিবদ্ধ
করে রাখার এবং সাক্ষী রাখার আদেশ জারি হয় ৷

ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন :
“আল্লড়াহ্ তাআলা হযরত আদম (আ)-কে ষাট হাত দীর্ঘ করে সৃষ্টি করেন ৷ তারপর বললেন,
ঐ ফেরেশতা দলের কাছে গিয়ে তুমি তাদের সালাম কর এবং লক্ষ্য করে শোন, তারা তোমাকে
কি উত্তর দেয় ৷ কারণ এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তান-সস্ততির অভিবড়াদন ৷ আদেশ
মত্হু গিয়ে তিনি ন্হ্র ণুপুণ্ ’হ্রাট্রুএে ৷ বলে সালাম করেন, আর তারা
বলে উত্তর দেন ৷ উল্লেখ্য যে, আদমের সন্তানদের যারইি
জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা সকলেই আদম (আ) এর আকৃতিসম্পন্ন হবে ৷ ধীরে ধীরে হ্রাস

পেতে পেতে মানুষের উচ্চতা এখন এ পর্যায়ে এসে পৌছেছে ৷
অনুরুপ ইমাম বুখারী (র) কিতাবুল ইস্তিয়ানে’ আর ইমাম মুসলিম (র) তার গ্রন্থে ভিন্ন
ভিন্ন সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে , আবু হুরায়রা (বা)
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন : আদম (আ)-এর উচ্চতা ছিল ষাট হাত আর প্রস্থ সাত হাত ৷
ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন, ইবন আব্বাস (রা) বলেন, বকেয়া লেন দেন লিপিবদ্ধ
করে রাখার আদেশ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, সর্বপ্রথম যিনি
আল বিদড়ায়া ওয়ান নিহড়ায়া ( ১ম খণ্ড)প্তেমোঃা-

অস্বীকার করেন; তিনি হলেন আদম (আ), সর্বপ্রথম যিনি অস্বীকার করেন, তিনি হলেন আদম
(আ), সর্বপ্রথম যিনি অস্বীকার করেন, তিনি হলেন আদম (আ) ৷ ঘটনা হলো-আল্লাহ্
তাআলা আদম (আ)-কে সৃষ্টি করে তার পৃষ্ঠদেশে হাত বুলিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী
সকল মানুষকে বের করে এনে তাদের তার সামনে পেশ করেন ৷ তাদের মধ্যে তিনি উজ্জ্বল
এক ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে বললেন, হে আমার বব! ইনি কে? আল্লাহ বলেন, যে তোমার
সন্তান দাউদ ৷ আদম (আ) জিজ্ঞেস করলেন, এর আযু কত? আল্লাহ বললেন, ষাট বছর ৷
আদম (আ) বললেন, এর আবু আরো বাড়িয়ে দিন ৷ আল্লাহ্ বলেন না তা হবে না ৷ তবে
তোমার আযু থেকে কর্তন করে বাড়াতে পারি ৷ উল্লেখ্য যে, আদম (আ)এর আযু ছিল এক
হাজার বছর ৷ তার থেকে কর্তা করে আল্লাহ্ তাআলা দাউদ-এর আবু চল্লিশ বছর বৃদ্ধি
করেন ৷

এ ব্যাপারে চুক্তিনামা লিপিবদ্ধ করে নেন এবং ফেরেশতাদের সাক্ষী রাখেন ৷ অবশেষে
আদম (আ)-এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে তার জান কবয করার জন্য একদিন আযরাইল
(আ) তার কাছে আগমন করেন ৷ তখন তিনি বললেন, আমার আযুর তো আরো চল্লিশ বছর
বাকি আছে ৷ উত্তরে বলা হলো, কেন আপনি না তা আপনার সন্তান দাউদকে দিয়ে দিয়েছিলেন!
আদম (আ) তা অস্বীকার করে বললেন, আমি তো এমনটি করিনি৷ তখন প্রমাণস্বরুপ আল্লাহ
তাআলা পুর্বের লিখিত চুক্তিনামা তার সামনে তুলে ধরেন এবং ফেরেশতাগণ এ ব্যাপারে সাক্ষ্য
প্রদান করেন ৷”

ইমাম আহমদের অনুরুপ আরেকটি বর্ণনার শেবাংশে আছে : “অবশেষে আল্লাহ দাউদের
বয়স একশ বছর আর আদম (আ)-এর এক হাজার বছর পুর্ণ করে দেন ৷ ” তাবারানী (র)ও
অনুরুপ একটি রিওয়ায়ত বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম মালিক ইবনে আনাস (র) বর্ণনা করেন যে, মুসলিম ইবনে য়াসার (র) বলেন, উমর
ইবনে খাত্তাব (রা)-কে ব্লু৷ ৷ প্রপুর্চু পুর্ষী ^১)দ্বু এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি
বললেন, এ আয়াত সস্পবিতি এক প্রশ্নের জবাবে আমি রাসুলুল্লাহ (না)-কে বলতে শুনেছি যে,
তিনি বলেন : আল্লাহ তাআলা আদম (আ)-কে সৃষ্টি করে তার পিঠে নিজের ডান হাত বুলিয়ে
তার সন্তানদের একদল বের করে এনে বললেন, এদেরকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করলাম ৷
এরা জান্নাভীদের আমলই করবে ৷ তারপর পুনরায় হাত বুলিয়ে আরেক দল সন্তানকে বের করে
এনে বললেন, এদের আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি ৷ এরা জাহান্নড়ামীদেরই আমল করবে ৷
এ কথা শুনে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে আমল করার প্রয়োজন
কি? জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, আল্লাহ যাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তার থেকে
তিনি জান্নাতীদেরই আমল করান ৷ আমৃত্যু জান্নড়াতীদের আমল করতে করতেই শের পর্যন্ত যে
জান্নড়াতে চলে যাবে ৷ পক্ষাম্ভার যাকে তিনি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন; তার দ্বারা তিনি
জাহড়ান্নামীদের আমলই করান ৷ আমৃত্যু জাহান্নামীদের আমল করতে করতেই শেষ পর্যন্ত যে

জ্বাহান্নামে পৌছেযাবে ৷

ইমাম আহমদ আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে জারীর ও ইবনে আবু হাতিম ও আবু
হাতিম ইবন হিব্বান (ব) বিভিন্ন সুত্রে ইমাম মড়ালেক (ব) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷
ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন ৷ তবে উমর (রা) নিকট
থেকে মুসলিম ইবন ইয়াসার (র) সরাসরি হাদীসটি শুনেননি ৷ আবু হাতিম ও আবু যুরআ (র)
এ অভিমত পেশ করেছেন ৷ আবু হাতিম (র) আরো বলেছেন যে, এ দুজনের মাঝে আরেক
রাবী নুয়ায়ম ইবনে রবীয়া রয়েছেন ৷ ইমাম আবু দাউদ হড়াদীসটির সুত্রে ইবনে যায়েদ ইবনে
খাত্তাব, মধ্যবর্তী রাবী নুয়ায়ম ইবন রবীয়ার নামও উল্লেখ করেছেন ৷ দারা কুতনী বলেন,
“উপরোক্ত সব কটি হাদীস এ কথা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ্ তাআলা আদম (আ)-এর
সন্তানদের তারই পিঠ থেকে ছোট ছোট পিপড়ার মত বের করে এসেছেন এবং তাদেরকে ডান
ও বাম এ দৃ’দলে বিভক্ত করে ডান দলকে বলেছেন, তোমরা জান্নাতী, আমি কাউকে পরোয়া
করি না ৷ আর বাম দলকে বলেছেন, তোমরা জাহান্নড়ামী, আমার কারো পরোয়া নেই ৷”
পক্ষাস্তরে তাদের নিকট থেকে সাক্ষ্য এবং আল্লাহর একতু সম্পর্কে তাদের থেকে স্বীকারোক্তি
নেয়ার কথা প্রামাণ্য কোন হাদীস পাওয়া যায় না ৷ সুরা আরাফের একটি আয়াতকে এ অর্থে
প্রয়োগ করার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে ৷ যথান্থানে এ বিষয়ে আমি সবিস্তার আলোচনা করেছি ৷
তবে এ মর্মে ইমাম আহমদ (র) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীস আছে ৷ ইমাম মুসলিমের
শর্তানুযায়ী যার সনদ উত্তম ও শক্তিশালী ৷ হাদীসটি হলো :

ইবন আব্বাস (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : আল্লাহ তাআলা জিলহভ্রুজ্জর নয়
তারিখে নু’মান নামক স্থানে আদম (আ)-এব পিঠ থেকে অঙ্গীকার নেন ৷ তারপর তার যেরুদণ্ড
থেকে (কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী) তার সকল সন্তানকে বের করে এসে তার সম্মুখে ছড়িয়ে
দেন ৷ তারপর তাদের সাথে সামনা-সামনি কথা বলেন ৷ তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমি কি
তোমাদের বব নই? তারা বলল, নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষী থাকলাম ৷ এ স্বীকৃতি গ্রহণ এ জন্য যে,
তোমরা যেন কিয়ামতের দিন বলতে না পারো আমরা তো এ ব্যাপারে অনবহিত ছিলাম ৷ কিংবা
তোমরা যেন বলতে না পায় যে, আমাদের পুর্ব-পুরুষগংইি তো আমাদের পুর্বে শিবক করে ৷
আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর, তবে কি পথভ্রষ্টদের কৃত-কর্মের জন্য তুমি আমাদের
ধ্বংস করবে ? (৭ : ১৭২ ১৭৩) ’

ইমাম নাসাঈ, ইবন জারীর ও হাকিম (র) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ হাকিম (র)
হাদীসটির সনদ সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন ৷ প্রামাণ্য কথা হলো , বর্ণিত হাদীসটি আসলে ইবন
আব্বাস (রা)-এর উক্তি ৷ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকেও মওকুফ, মরকু উভয় সুত্রেই
হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷ তবে মওফুক সুত্রটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ ৷ তবে অধিকাৎশ আলিমেব
মতে, সেদিন আদম (আ)-এর সন্তানদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে ৷ তাদের দলীল
হলো, ইমাম আহমদ (র) বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসটি ৷ যাতে আছে

আনড়াস (রা) বলেন, রসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন : “কিয়ামতের দিন কোন এক জাহান্নামীকে
বলা হবে আচ্ছা, যদি তুমি পৃথিবীর সমুদয় বন্তু-স্যারের মালিক হতে; তাহলে এখন
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তার সমস্ত কিছু ঘুক্তিপণ রুপে দিতে প্রস্তুত থাকতে ? উত্তরে

সে বলবে, জী হী৷ ৷ তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তো তোমার নিকট থেকে এর চাইতে আরো
সহজটাই চেয়েছিলাম ৷ আদম (আ)-এর পিঠে থাকা অবস্থায় আমি তোমার নিকট থেকে
অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, আমার সাথে তুমি কাউকে শরীক করবে না ৷ কিত্তু তা প্রত্যাখ্যান
করে তুমি শরীক না করে ছাড়ােনি ৷ শুবার বরাতে বুখারী (র) এবং মুসলিম (র) হাদীসটি
বর্ণনা করেছেন ৷

আবু জ ফব রাযী (র) বর্ণনা করেন যে উবাই ইবন কাব (বা)

আয়াত এবং এর পরবর্তী আয়াতে তর ব্যাখ্যার বলেন কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষ
সৃষ্টি করে আল্লাহ্ ত৷ আলা তাদের এক স্থানে সমবেত করেন ৷ তারপর তাদের সাথে কথা
বলেন ও তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন এবং তাদের নিজেদেরকেই তাদের
সাক্ষীরুপে রেখে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “আমি কি তোমাদের রব নই? র্তারা বলল, জী হী৷ ৷
আল্লাহ্ বললেন, এ ব্যাপারে আমি সাত আসমান, সাত যমীন এবং তোমাদের পিতা আদমকে
সাক্ষী রাখলাম, যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা এ কথা বলতে না পার যে, এ ব্যাপারে তো
আমরা কিছুই জানতাম না ৷ তোমরা জেনে রাখ যে, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই , আমি ব্যতীত
কোন বব নেই ৷ আর আমার সাথে তোমরা কাউকে শরীক করে৷ না ৷ তোমাদের নিকট
পর্যায়ক্রমে আমি রাসুল পাঠাব, তারা তোমাদেৱকে আমার এ অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে
সতর্ক করবেন ৷ আর তোমাদের কাছে আমি আমার কিতাব নাযিল করব ৷” তারা বলল, আমরা
সাক্ষ্য দিলাম যে, আপনি আমাদের বর ও ইলাহ ৷ আপনি ব্যতীত আমাদের কোন বর বা ইলাহ
নেই ৷ মােটকথা, সেদিন তারা আল্লাহর আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল ৷

এরপর উপর থেকে দৃষ্টিপাত করে আদম (আ) তাদের মধ্যে ধনী-পরীব ও সুশ্রী-ক্শ্ৰী
সকল ধরনের লোক দেখতে পেয়ে বললেন, হে আমার বব! আপনার বান্দাদের সকলকে যদি
সমান করে সৃষ্টি করতে ন আল্পাহ্ বললেন, আমি চাই আমার শুকরিয়৷ আদায় করা হোক ৷
এরপর আদম (আ) নবীগণকে তাদের মধ্যে প্রদীপের ন্যায় দীপ্তিমান দেখতে পান ৷ আল্লাহ
তা আল৷ তাদের নিকট থেকে বিসালাত ও নবুওতের বিশেষ অঙ্গীকার গ্রহণ করেন ৷ এ প্রসঙ্গেই
আল্লাহ তাআলা বলেন

অর্থাৎ স্মরণ কর, যখন আমি নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকা ৷র গ্রহণ করেছিলাম এবং
তোমার নিকট থেকেও এবং নুহ, ইব্রাহীম, মুসা ও মারয়াম তনয় ঈসার নিকট থেকে-এদের
নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার ৷ (৩৩০ ৭)

অর্থাৎ-তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দীনে প্রতিষ্ঠিত কর ৷ আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর,

যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন ৷ আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই ৷
(৩০ং : ৩০ )

অর্থাৎ-অতীতের সতককারীদের ন্যায় এ নবীও একজন
সতবকিারী ৷ (৫৩ : ৫৭)

অর্থাৎ আমি তাদের অধিকাৎশকে প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি বরং তাদের
অধিকাংশকে তো সত্যত্যাগী পেয়েছি ৷ (৭ : ১০২)

ইমাম আব্দুল্লাহ্ ইবন আহমদ, ইবন আবু হাতিম, ইবন জারীর ও ইবন মারদুওয়েহ্ (র)
র্তাদের নিজ নিজ তাফসীর গ্রন্থে আবু জাফর (র) সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ মুজাহিদ,
ইকরিমা, সাঈদ ইবন জুবায়র, হাসান বসরী, কাতাদা ও সুদ্দী (র) প্রমুখ পুর্বসুরি আলিম
থেকেও এসব হাদীসের সমর্থনে বর্ণনা পাওয়া যায় ৷ আর পুর্বে আমরা এ কথাটি উল্লেখ করে
এসেছি যে, ফেরেশতাগণ আদম (আ)-কে সিজদা করার জন্যে আদিষ্ট হলে ইবলীস ব্যতীত
সকলেই সে থােদায়ী ফরমান পালন করেন ৷ ইবলীস হিংসা ও শত্রুতাবশত সিজদা করা থেকে
বিরত থাকে ৷ ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে আপন সান্নিধ্য থেকে বিতাড়িত করে অভিশপ্ত
শয়তান বানিয়ে পৃথিবীতে নিৰ্বাসন দেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে , আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
“আদমের সন্তানরা সিজদার আয়াত পাঠ করে যখন সিজদা করে; ইবলীস তখন একদিকে সরে
গিয়ে র্কাদতে শুরু করে এবং বলে, হায় কপাল ! আল্লাহর আদেশ পালনড়ার্থে সিজদা করে আদম
সন্তান জান্নাতী হলো আর সিজদার আদেশ অমান্য করে আমি হলাম জাহান্নড়ামী ৷” ইমাম
মুসলিমও হড়াদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷

যাহোক, আদম (আ) ও তার সহধর্মিনী হাওয়া (আ) জান্নাতে তা অড়াসমানেরই হোক,
বা যমীনেরই কোন উদ্যান হোক যে মতভেদের কথা পুর্বেই বিবৃত হয়েছে কিছুকাল
বসবাস করেন এবং অবাধে ও স্বচ্ছন্দে সেখানে আহারাদি করতে থাকেন ৷ অবশেষে নিষিদ্ধ
বৃক্ষের ফল আহার করার তাদের পরিধানের পোশাক ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং তাদেরকে
পৃথিবীতে নামিয়ে দেয়া হয় ৷ অবতরণের ক্ষেত্র সম্পর্কে মতভেদের কথা পুর্বেই উল্লেখ করা
হয়েছে ৷

জান্নাতে আদম (আ)-এর অবস্থানকাল সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে ৷ কারো মতে দুনিয়ার
হিসাবের একদিনের কিছু অংশ ৷ আবু হুরায়রা (রা) থেকে মরকু সুত্রে ইমাম মুসলিম (র) কর্তৃক
বর্ণিত একটি হাদীস উপরে উল্লেখ করে এসেছি যে, আদম (আ)-কে জুমআর দিনের শেষ
প্রহরে সৃষ্টি করা হয়েছে ৷ আরেক বংনািয় এও আছে যে, জুমআর দিন আদম (আ) কে সৃষ্টি
করা হয় আর এদিনেই তাকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করা হয় ৷ সুতরাং যদি এমন হয়ে থাকে
যে, যেদিন আদম (আ)-এর সৃষ্টি হয় ঠিক সেদিনই জান্নাত থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন, তাহলে
একথা বলা যায় যে, তিনি একদিনের মাত্র কিছু অংশ জান্নাতে অবস্থান করেছিলেন ৷ তবে এ
বক্তব্যটি বিতর্কের উর্ধে নয় ৷ পক্ষান্তরে যদি তার বহিষ্কার সৃষ্টির দিন থেকে ভিন্ন কোন দিনে
হয়ে থাকে কিৎবা ঐ ছয় দিনের সময়ের পরিমাণ ছয় হাজার বছর হয়ে থাকলে সেখানে তিনি

সুদীর্ঘ সময়ই অবস্থান করে থাকবেন ৷ যেমন ইবন আব্বাস (রা), মুজাহিদ ও যাহ্হাক (র)
থেকে বর্ণিত এবং ইবন জারীর (র) কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে বলে পুর্বেই উল্লেখিত হয়েছে ৷

ইবনে জারীর (র) বলেন, এটা জানা কথা যে, আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে জুমআ
দিবসের শেষ প্রহরে ৷ আর তথাকার এক প্রহর দুনিয়ার তিরাশি বছর চার মাসের সমান ৷ এতে
প্রমাণিত হয় যে, রুহ সঞ্চারের পুর্বে মাটির মুর্তিরুপে আদম (আ) চল্লিশ বছর এমনিতেই পড়ে
রয়েছিলেন ৷ আর পৃথিবীতে অবতরণের পুর্বে জান্নাতে অবস্থান করেছেন তেতাল্লিশ বছর চার
মাস কাল ৷ আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷

আবদুর রায্যাক (র) বর্ণনা করেন যে, ’আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) বলেন, আদম
(আ)-এর পদদ্বয় যখন পৃথিবী স্পর্শ করে তখনো তার মাথা ছিল আকাশে ৷ তারপর আল্লাহ তার
দৈর্ঘ্য ষটি হাতে কমিয়ে আনেন ৷ ইবন আ ব্বাস (রা) সুত্রেও এরুপ একটি বর্ণনা আছে ৷ তবে এ
তথ্যটি আপত্তিকর ৷ কারণ ইতিপুর্বে আবু হুরায়রা (রা) কতুকি সর্বজন স্বীকৃত বিশুদ্ধ হাদীস
উদ্ধৃত করে এসেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আদম (অড়া)-কে ষাট হাত
দীর্ঘ করে সৃষ্টি করেন ৷ এরপর তার সন্তানদের উচ্চতা কমতে কমতে এখন এ পর্যন্ত এসে
পৌছেছে ৷ এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আদম (আ)-কে সৃষ্টিই করা হয়েছে ষাট হাত দৈর্ঘ্য
দিয়ে তার বেশি নয় ৷ আর তার সন্তানদের উচ্চতড়াহ্রড়াস পেতে পেতে এখন এ পর্যায়ে এসে
উপনীত হয়েছে ৷

ইবনে জারীর (র) ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে , আল্লাহ তাআলা বলেন, হে
আদম ! আমার আরশ বরাবর পৃথিবীতে আমার একটি সম্মানিত স্থান আছে ৷ তুমি গিয়ে তথায়
আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে তা তড়াওয়াফ কর, যেমনটি ফেরেশতারা আমার আরশ
তড়াওয়াফ করে ৷ অতঃপর আল্পাহ্ তাআলড়া তার কাছে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন ৷ তিনি
আদম (আ)-কে জায়গাটি দেখিয়ে দেন এবং তাকে হরুজ্জর করণীয় কাজসমুহ শিখিয়ে দেন ৷
ইবনে জারীর (র) আরো উল্লেখ করেন যে, দুনিয়ার যেখানে সেখানে আদম (আ)-এর
পদচারণা হয়, পরবর্তীতে সেখানেই এক একটি জনবসতি গড়ে ওঠে ৷

ইবনে আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, পৃথিবীত আদম (আ)-এর প্রথম খাদ্য
ছিল গম ৷ জিবরাঈল (আ) তার কাছে সাতটি গমের বীজ নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা
করলেন, এগুলো কি? জিবরাঈল (আ) বললেন, এই তো আপনার সেই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল,
যা আপনি থেয়েছিলেন ৷ আদম (আ) জিজ্ঞাসা করলেন, এগুলো আমি কি করব? জিবরাঈল
(আ) বললেন, যমীনে বপন করবেন ৷ উল্লেখ্য যে, তার প্রতিটি বীজের ওজন ছিল দুনিয়ার এক
লক্ষ দানা অপেক্ষা বেশি ৷ বীজগুলো বোপণ করার পর ফসল উৎপন্ন হলে আদম (আ) তা
কেটে মাড়িয়ে পিষে আটা বানিয়ে খড়ামির করে রুটি বানিয়ে বহু ক্লেশ ও শ্রমের পর তা আহার
করেন ৷ এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তাআলা বলেন : প্লুপু প্রোপ্রুহু র্দু র্বু!ৰু সুতরাং সে যেন

তোমাদের কিছুতেই জান্নাত থেকে বের করে না দেয় ৷ দিলে তোমরা দুঃখ পাবে ৷ ’ ( ২০ ১ ১ ৭ )

আদম ও হাওয়া (আ) সর্বপ্রথম যে পেশোক পরিধান করেন, তা ছিল ভেড়ার পশমের
তৈরি ৷ প্রথমে চামড়া থেকে পশমগুলাে খসিয়ে তা দিয়ে সুতা তৈরি করেন ৷ তারপর আদম
(আ) নিজের জন্য একটি জুব্বা আর হাওয়ার জন্য একটি কামীজ ও একটি ওড়না তৈরি করে
নেন ৷
জান্নাতে থাকাবন্থায় তাদের কোন সন্তানাদি জন্যেছিল কিনা এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে ৷
কারো কারো মতে, পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও র্তাদের কোন সন্তান জন্মেনি ৷ কেউ বলেন,
জন্মেছে ৷ কাবীল ও তার বোনের জন্ম জান্নড়াতেই হয়েছিল ৷ আল্লাহ সর্বজ্ঞ ৷
উল্লেখ্য যে, প্রতি দফায় আদম (আ)-এর এক সঙ্গে একটি পুত্র সন্তান ও একটি কন্যা
, সন্তান জন্ম নিত ৷ আর এক গর্ভের পুত্রের সঙ্গে পরবর্তী গর্ডের কন্যার ও কন্যার সঙ্গে
পুত্রের বিবাহ দেওয়ার বিধান দেওয়া হয় ৷ পরবর্তীতে একই গর্তো৷ দৃভাই-ণ্বানের বিবাহ
নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ৷
কাৰীল ও হাবীলের কাহিনী
আল্লাহ্ তাআলা বলেন :

অর্থাৎ আদমের দৃ’ পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনাও , যখন তারা উভয়ে
কুরবানী করেছিল তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো, অন্য জনের কবুল হলো না ৷ তাদের
একজন বলল, আমি তোমাকে হত্যা করব-ই ৷ অপরজন বলল, আল্লাহ মুত্তাকীদের কুরবানী
কবুল করেন ৷

আমাকে হত্যা করার জন্য আমার প্রতি তুমি হাত বাড়ালেও তোমাকে হত্যা করার জন্য
আমি হাত বাড়ার না ৷ আমি তো জগতসমুহের রব আল্লাহকে ভয় করি ৷ আমি চাই যে, তুমি
আমার ও তোমার পাপের ভার বহন করে জাহান্নামী হও এবং এটা জালিমদের কর্মফল ৷
তারপর তার প্ৰর্বৃত্তি তাকে তার ভাইকে হত্যায় প্ৰরোচিত করল এবং সে তাকে হত্যা করল,
ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো ৷

তারপর আল্লাহ্ তাআলা একটি কাক পাঠালেন যে তার ভাই-এর লাশ কিভাবে গোপন
করা যায় তা দেখাবার জন্য মাটি খুড়তে লাগল ৷ সে বলল, হায় ! আমি কি এ কাকের মতও
হতে পারলাম না যাতে আমার ভাই-এর লাশ গোপন করতে পারি? তারপর সে অনুতপ্ত
হলো

তাফসীর গ্রন্থে আমরা সুরা মায়িদার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে এ কাহিনী সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনা
করেছি ৷ এখানে শুধু পুর্বসুরি ইমামগণ এ বিষয়ে যা বলেছেন তার সারাংশ উল্লেখ করব ৷

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.