আত-তালাক

الطلاق

সূরা 65 মদীনা 12 আয়াত

কোরআন বুকমার্ক

এখনও কোনো আয়াত বুকমার্ক করা হয়নি।

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় মেহেরবান।

1
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا۟ ٱلْعِدَّةَ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنۢ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّآ أَن يَأْتِينَ بِفَـٰحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ ٱللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُۥ ۚ لَا تَدْرِى لَعَلَّ ٱللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
হে নবী, (বল), তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে, তখন তাদের ইদ্দত অনুসারে তাদের তালাক দাও এবং ‘ইদ্দত হিসাব করে রাখবে এবং তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা তাদেরকে তোমাদের বাড়ী-ঘর থেকে বের করে দিয়ো না এবং তারাও বের হবে না। যদি না তারা কোন স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমারেখাসমূহ অতিক্রম করে সে অবশ্যই তার নিজের ওপর যুলম করে। তুমি জান না, হয়তো এর পর আল্লাহ, (ফিরে আসার) কোন পথ তৈরী করে দিবেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
১. হে নবী! যখন আপনি কিংবা আপনার উম্মতের কেউ নিজ স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় তখন যেন সে তার প্রথম ইদ্দত তথা এমন পবিত্রতার সময় তালাক দেয় যাতে তাদের মিলন হয় নি। আর তোমরা ইদ্দতের হিসেব রাখো। যাতে তোমরা নিজেদের স্ত্রীদেরকে ফেরত নিতে চাইলে তা করতে পারো এবং তোমরা আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করো। তোমরা তালাকপ্রাপ্তাদেরকে নিজেদের আবাসন থেকে বের করে দিয়ো না। আর না তারা ইদ্দত পরিপূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সেখান থেকে বের হবে। তবে হ্যাঁ, যদি তারা স্পষ্ট অশ্লীল কাজ যেমন ব্যভিচার করে বসে। এ সব হলো আল্লাহ কর্তৃক বান্দার জন্য নির্ধারিত সীমারেখা। যে ব্যক্তি এগুলো অতিক্রম করবে সে স্বীয় রবের অবাধ্যতার কারণে নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে নিমজ্জিত করে নিজের উপর অবিচার করবে। হে তালাকদাতা! তুমি জানো না, হতে পারে পরবর্তীতে আল্লাহ উক্ত স্বামীর অন্তরে আগ্রহ সৃষ্টি করে দিতে পারেন। ফলে আপন স্ত্রীকে সে ফেরত নিবে।
2
فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا۟ ذَوَىْ عَدْلٍ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلشَّهَـٰدَةَ لِلَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছবে, তখন তোমরা তাদের ন্যায়ানুগ প‎ন্থায় রেখে দেবে অথবা ন্যায়ানুগ প‎ন্থায় তাদের পরিত্যাগ করবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ দুইজনকে সাক্ষী বানাবে। আর আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দেবে। তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনে এটি দ্বারা তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
২. যখন তাদের ইদ্দত পরিপূর্ণ হওয়ার সময় নিকটবর্তী হয়ে আসে তখন আগ্রহ ও সুন্দর আচরণ দ্বারা তাদেরকে ফেরত নাও। নচেৎ তাদের ইদ্দত পরিপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ফেরত না নিয়ে রেখে দাও। ফলে তারা নিজেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং ইদ্দত শেষে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দাও। যখন তোমরা ফেরত নিতে চাও কিংবা বিচ্ছেদ ঘটাতে চাও তখন বিবাদ ঠেকাতে এর উপর দু’জন সাক্ষী রাখো। হে সাক্ষ্যদাতারা! তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনান্তে সাক্ষ্য প্রদান করো। উপরোক্ত বিধান দ্বারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসীদেরকে উপদেশ প্রদান করা হবে। কেননা, কেবল সেই উপদেশ দ্বারা উপকৃত হয়ে থাকে। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার উদ্দেশ্যে সকল সংকীর্ণতা ও সমস্যার সমাধান বের করে দেন।
3
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَـٰلِغُ أَمْرِهِۦ ۚ قَدْ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَىْءٍ قَدْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৩. উপরন্তু তিনি তার জন্য অচিন্তনীয় পন্থায় জীবিকার ব্যবস্থা করেন। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি নিজ কার্যাবলীর ব্যাপারে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। অবশ্যই আল্লাহ আপন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী। তাকে কোন বস্তু অপারগ করতে পারে না। আর না তাঁর থেকে কোন বস্তু বাদ পড়তে পারে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকটি বস্তুর জন্য নির্ধারিত পরিমাণ রেখেছেন যে পর্যন্ত তা ক্ষান্ত হয়। তাই সুখের কিছু পরিমাণ রয়েছে যেমন দুঃখেরও পরিমাণ রয়েছে। মানুষের মধ্যে উভয়টির কোনটিই স্থায়ী হয় না।
4
وَٱلَّـٰٓـِٔى يَئِسْنَ مِنَ ٱلْمَحِيضِ مِن نِّسَآئِكُمْ إِنِ ٱرْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَـٰثَةُ أَشْهُرٍ وَٱلَّـٰٓـِٔى لَمْ يَحِضْنَ ۚ وَأُو۟لَـٰتُ ٱلْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مِنْ أَمْرِهِۦ يُسْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক এবং যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদের ইদ্দতকালও হবে তিন মাস। আর গর্ভধারিনীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৪. যে সব তালাকপ্রাপ্তারা বয়সের কারণে মাসিক থেকে নিরাশ হয়েছে তাদের ইদ্দতের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও তাহলে তাদের মেয়াদ তিন মাস বলে গণ্য হবে। তেমনিভাবে যারা ছোট থাকার ফলে মাসিকের বয়সে উপনীত হয় নি তাদের ইদ্দতও তিন মাস। আর গর্ভবতীদের তালাক কিংবা স্বামীর মরণোত্তর ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করে তিনি তার সকল বিষয় ও সমস্যা সহজ করে দেন।
5
ذَٰلِكَ أَمْرُ ٱللَّهِ أَنزَلَهُۥٓ إِلَيْكُمْ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّـَٔاتِهِۦ وَيُعْظِمْ لَهُۥٓ أَجْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
এটি আল্লাহর নির্দেশ, তিনি তা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তার প্রতিদানকে মহান করে দেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৫. হে মু’মিনগণ! উপরোক্ত তালাক, ফেরত নেয়া ও ইদ্দত সম্পর্কে উল্লিখিত বিধানসমূহ হলো তোমাদের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ আল্লাহর বিধান। যাতে করে তোমরা এর উপর আমল করতে পারো। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করে তিনি তার কৃত পাপসমূহ মোচন করেন এবং পরকালে তাকে মহা প্রতিদান দেন। আর তা হলো জান্নাতে প্রবেশ এবং অফুরন্ত নিয়ামত হাসিল করা।
6
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَآرُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا۟ عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُو۟لَـٰتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا۟ عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ۚ فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَـَٔاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ ۖ وَأْتَمِرُوا۟ بَيْنَكُم بِمَعْرُوفٍ ۖ وَإِن تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُۥٓ أُخْرَىٰ
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস কর সেখানে তাদেরকেও বাস করতে দাও, তাদেরকে সঙ্কটে ফেলার জন্য কষ্ট দিয়ো না। আর তারা গর্ভবতী হলে তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের জন্য তোমরা ব্যয় কর; আর তারা তোমাদের জন্য সন্তানকে দুধ পান করালে তাদের পাওনা তাদেরকে দিয়ে দাও এবং (সন্তানের কল্যাণের জন্য) সংগতভাবে তোমাদের মাঝে পরস্পর পরামর্শ কর। আর যদি তোমরা পরস্পর কঠোর হও তবে পিতার পক্ষে অন্য কোন নারী দুধপান করাবে।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৬. হে স্বামীরা! তোমরা তাদেরকে সাধ্যানুযায়ী নিজেদের সুবিধা মতো আবাসে থাকতে দাও। আল্লাহ তোমাদের উপর এতদপেক্ষা বেশী কিছু আরোপ করেন না। সুতরাং তোমরা তাদের উপর ভরণ-পোষণ কিংবা অন্য কিছুতে সংকীর্ণতা করে তাদের ক্ষতি সাধন করো না। যদি তালাকপ্রাপ্তারা গর্ভবতী হয় তাহলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত তাদের ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাও। আর যদি তারা তোমাদের সন্তানদেরকে দুগ্ধ পান করায় তাহলে তোমরা তাদেরকে মজুরী প্রদান করো এবং মজুরীর ব্যাপারে ভালোভাবে বুঝা পড়া করো। যদি স্বামী মজুরী দিতে কার্পণ্য করে এবং স্ত্রী তার দাবি মানা ব্যতিরেকে দুগ্ধদানে অমত পোষণ করে তাহলে পিতা যেন তার সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য দুধমা নিযুক্ত করে।
7
لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِۦ ۖ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُۥ فَلْيُنفِقْ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ۚ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَآ ءَاتَىٰهَا ۚ سَيَجْعَلُ ٱللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
সামর্থ্যবান যেন নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে আর যার রিয্ক সংকীর্ণ করা হয়েছে সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা হতে ব্যয় করে। আল্লাহ কারো ওপর বোঝা চাপাতে চান না তিনি তাকে যা দিয়েছেন তার চাইতে বেশী। আল্লাহ কঠিন অবস্থার পর সহজতা দান করবেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৭. সাবলম্বী যেন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ও তার সন্তানের উপর তার সাবলম্বিতা অনুযায়ী ব্যয় করে। আর যার জীবিকা সংকীর্ণ করা হয়েছে সেও যেন তার সাধ্যানুযায়ী ব্যয় করে। বস্তুতঃ আল্লাহ কোন ব্যক্তির উপর তাকে প্রদত্ত সম্পদের বাইরে কোন দায়ভার চাপিয়ে দেন না। তাই তিনি তার সাধ্যের উপরের কিংবা সাধ্যাতীত কোন কিছু চাপিয়ে দেন না। অচিরেই তিনি তার সংকট ও দুর্যোগের পর প্রশস্ততা ও ধনাঢ্যতার ব্যবস্থা করবেন।
8
وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ عَتَتْ عَنْ أَمْرِ رَبِّهَا وَرُسُلِهِۦ فَحَاسَبْنَـٰهَا حِسَابًا شَدِيدًا وَعَذَّبْنَـٰهَا عَذَابًا نُّكْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
আর অনেক জনপদ তাদের রব ও তাঁর রাসূলগণের নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়েছে। ফলে আমি তাদের কাছ থেকে কঠোর হিসাব নিয়েছি এবং তাদেরকে আমি কঠিন আযাব দিয়েছি।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৮. এমন অনেক এলাকা রয়েছে যারা নিজেদের প্রতিপালক ও তদীয় রাসূলের নির্দেশ লঙ্ঘন করার ফলে আমি তাদের কুকর্মের কঠিন হিসাব নিয়েছি এবং তাদেরকে ইহকাল ও পরকালে অপমানজনক শাস্তি প্রদান করেছি।
9
فَذَاقَتْ وَبَالَ أَمْرِهَا وَكَانَ عَـٰقِبَةُ أَمْرِهَا خُسْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
অতএব তারা নিজদের কৃতকর্মের আযাব আস্বাদন করেছে আর ক্ষতিই ছিল তাদের কাজের পরিণতি।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
৯. ফলে তারা নিজেদের অপকর্মের কুফল আস্বাদন করলো। বস্তুতঃ তাদের শেষ পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতিগ্রস্ততাই ছিলো।
10
أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا ۖ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ يَـٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَـٰبِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ قَدْ أَنزَلَ ٱللَّهُ إِلَيْكُمْ ذِكْرًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
আল্লাহ তাদের জন্য কঠিন আযাব প্রস্তুত রেখেছেন; সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, হে বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা, যারা ঈমান এনেছে; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন একটি উপদেশ।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
১০. আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। তাই হে জ্ঞানীরা! তোমরা যারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান এনেছো তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। যাতে তোমাদের উপর তা আরোপিত না হয় যা হয়েছিল তাদের উপর। আল্লাহ তোমাদের উপর এমন উপদেশ অবতীর্ণ করেছেন যা তোমাদেরকে তাঁর অবাধ্যতার কুফল এবং তাঁর আনুগত্যের উত্তম পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
11
رَّسُولًا يَتْلُوا۟ عَلَيْكُمْ ءَايَـٰتِ ٱللَّهِ مُبَيِّنَـٰتٍ لِّيُخْرِجَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ مِنَ ٱلظُّلُمَـٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ ۚ وَمَن يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ وَيَعْمَلْ صَـٰلِحًا يُدْخِلْهُ جَنَّـٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا ۖ قَدْ أَحْسَنَ ٱللَّهُ لَهُۥ رِزْقًا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
একজন রাসূল, যে তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে; যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে যাতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোতে বের করে আনতে পারেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আল্লাহ তো তাকে অতি উত্তম রিয্ক দেবেন।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
১১. উক্ত স্মারক হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। যিনি তোমাদের সামনে আল্লাহর এমন সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনান যাতে কোনরূপ অস্পষ্টতা নেই। যাতে করে তিনি তাঁর উপর ঈমান আনয়নকারী, তদীয় রাসূলকে সত্যায়নকারী ও নেক আমলকারীদেরকে ভ্রষ্টতার অন্ধকার থেকে হিদায়েতের আলোর দিকে বের করে নিয়ে আসেন। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে আল্লাহ তাকে এমন সব জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন যেগুলোর অট্টালিকা ও বৃক্ষরাজির তলদেশ দিয়ে নদ-নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য উত্তম জীবিকা রেখেছেন। যেহেতু তিনি তাকে এমন এক জান্নাতে প্রবিষ্ট করেছেন যার জীবিকা অফুরন্ত।
12
ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ سَبْعَ سَمَـٰوَٰتٍ وَمِنَ ٱلْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ ٱلْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ ٱللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَىْءٍ عِلْمًۢا
পূর্ণ বাংলা অনুবাদ (Rawai Al-bayan)
তিনি আল্লাহ, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ যমীন সৃষ্টি করেছেন; এগুলির মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞানতো সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে।
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
১২. আল্লাহই সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং সাত আসমানের মতো সাত যমীনও সৃষ্টি করেছেন। তাতে আল্লাহর জাগতিক ও শরীয়তগত আদেশ অবতীর্ণ হয়। এ আশায় যে, যেন তোমরা জানতে পারো, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান; তাঁকে কোন বস্তু অপারগ করতে পারে না। তিনি নিজ জ্ঞান দ্বারা সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। তাই তাঁর নিকট আসমান ও যমীনের কোন কিছুই গোপন থাকে না।