টাকা-পয়সা হচ্ছে স্বাধীনতা কেনার উপায়

এক বন্ধু আক্ষেপ করে বলেছিল, নতুন বাড়ি দেখলেই তার মনে হয়, এই যে ফ্ল্যাটগুলো হচ্ছে, এত এত ফ্ল্যাট, এগুলোর মালিকেরা তার চেয়ে বড়লোক।

বললাম, আমি ফ্ল্যাট দেখি না। আমি স্কুটার চালিয়ে যেতে যেতে যাদের হাঁটতে দেখি, তাদের চেয়ে আরামে আছি এই বিশ্বাস রাখি। আলহামদুলিল্লাহ।

অনেক মানুষের অনেক টাকা পয়সা। কিন্তু টাকাপয়সা আসলে কী?

টাকা পয়সা হচ্ছে স্বাধীনতা কেনার উপায়।

ধরেন, আপনার কাছে ১০০০ টাকা আছে। আপনি ইচ্ছা করলে ২০০ টাকার কাচ্চি বিরিয়ানি খেতে পারেন আবার ২০ টাকার কলা পাউরুটিও।

কিন্তু আপনার কাছে ২০ টাকা থাকলে আপনার বেছে নেয়ার সুযোগ সীমিত।

খাবার থেকে শুরু করে কাপড়, আপনার বাচ্চাকে কোন স্কুলে পড়াবেন –
টাকা পয়সা বেশি থাকলে আপনার বেছে নেয়ার সুযোগ বেশি থাকে।

একটা হাসপাতালে দেখলাম, ওয়ার্ড এ বিছানার সংখ্যা ছাপিয়ে, মেঝে ছাড়িয়ে, ওয়ার্ডের বারান্দা উপচে পড়ার পর কিছু রোগী সিড়িতে শুয়ে আছে। এদের ইউনাইটেড হসপিটাল কিংবা ল্যাব এইডে যাওয়ার সামর্থ্য, মানে স্বাধীনতা নেই।

তবে টাকা পয়সা কম থাকলেই যে সে পরাধীন তা নয়।
আবার টাকা পয়সা বেশি থাকলেই যে সে স্বাধীন তাও নয়।

আমি এমন মানুষকে চিনি যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলে। অসুস্থ হয় কম, হলেও আল্লাহকে ডাকে। আল্লাহ সুস্থ করে দেন। টাকা-পয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারলাম না – এমন গ্লানিতে তাকে ভুগতে হয় না।

আবার এমন মানুষকেও চিনি যার অনেক টাকা। ডায়াবেটিক রোগী। ডাক্তার তাকে বলেছে হাঁটতে। কিন্তু সে মাস্তান এবং চাঁদাবাজদের ভয়ে বাড়ি থেকে গাড়ি ছাড়া বের হতে পারে না। সন্ধ্যায় চট করে একটু হাঁটবে বা আযান দিলে মাসজিদে যাবে – সেটা সে পারে না।

টাকা তাকে স্বাধীনতা দেয়নি, বন্দী করে ফেলেছে।

আমরা বিশ্বাস করি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়লোক হচ্ছে তারা যারা আজ সকালে ফজরের সলাত মাসজিদে গিয়ে পড়েছে।

ফজরের ফরজের আগের দুই রাকাত সুন্নাতের দাম পৃথিবী এবং আকাশের মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে বেশি দামী। তাহলে জামাতের সাথে পড়া ফজরের দুই রাকাত ফরজ সলাতের দাম কত?

ভোরে যখন মাসজিদ থেকে ফিরি তখন আকাশ অনেক ফরসা। হোটেলগুলোর ঝাঁপ উঠেছে। পরাটা বানানো চলছে। এরা সকালে উঠেছে কিন্তু ফজরের সলাতটা পড়তে পারেনি।

বড় বড় লোহার গেট পাথরের মত স্তব্ধ। এদের বাসিন্দাদের অনেকেই অনেক টাকার মালিক। কিন্তু সেও ফজরের সলাতটা পড়তে পারেনি। ঘুমাচ্ছে।

কারো টাকার প্রাচুর্য তাকে মাসজিদে নিতে পারেনি। কারো অভাব তাকে আল্লাহর সামনে মাথা নত করাতে পারিনি। আল্লাহর অবাধ্যতায় ধনী-নির্ধন সবাই এখানে সমান।

আর যারা সলাত শেষ করে ফিরছে?

তাদের জিজ্ঞেস করে দেখেন। টাকা-পয়সা তাদের অনেকের কাছেই মূখ্য নয়।

তাদের বুকের ভেতর যে আনন্দ, যে নূর সেটা আপনি কয় টাকায় কিনবেন?

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.