নবী করীম(সা) কর্তৃক বায়তুল্লাহর ফরয তাওয়াফ প্রসংগ

বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ না করা পর্যন্ত পুর্বের ন্যায় ইহরাম অবস্থায়ই রয়ে যাবে ৷” আবু দাউদ (র)
ও আহমদ ইবন হাবল ও ইয়াহ্য়৷ ইবন মাঈন (র) ইবন ইসহাক (র) সনদে হাদীসটি
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ বায়হাকী (বা) হাদীসটি ভিন্ন সুত্রে উদ্ধৃত করেছেন ৷ তবে তাতে
অতিরিক্ত রয়েছে আবু উবায়দা (র) বলেছেন, এবং কায়স বিনৃত মিহ্সান (রা) আমাকে হাদীস
শুনিঃযছেন, তিনি বলেছেন, দশতারিখের বিকেলে (আমার ভ ই) উকাশা ইবন মিহসান বনু
আমাদের একটি দলের সাথে সকলে জামা-কামীস পরে আমার এখান হতে বেরিয়ে গেলেন ৷
পরে রাতের বেলা (ইশার সময়) তারা ফিরে এলেন যার জামা হাতে বহন করে ৷ তখন উন্মু
কায়স তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা তাকে অবহিত করলেন ৷ যেমন রাসুলুল্লাহ (সা)
ওয়াহ্ব ইবন যামআ (রা) ও তার সংগীকে বলেছিলেন ৷

এ হাদীসটি অতি বিরল ও অসমর্থিত ৷ আলিমপণের কেউ অভিমত গ্রহণ করেছেন বলে
আমাদের জানা নেই ৷

নবী কয়ীম (সা) কর্জ্য বায়তুল্পাহ্ব ফরয তাওয়ড়াফ প্রসৎগ

জাবির (রা) বলেছেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ অভিমুখে
চললেন এবং মক্কায় যুহ্র সালাত আদায় করে বনু আবদুল ঘুত্ত৷ ৷লিরের কাছে গিয়ে যারা তখন
যামযম পাড়ে (লোকদের পানি পান করাচ্ছিলেন তাদেরকে বললেন, “হে বনু আছেল মুত্তালিব ৷
পানি তুলতে থাক, তোমাদের পান করানোর কাজে লোকদের প্রভাব ও ঝামেলা সৃষ্টির আশংকা
না থাকলে অবশ্যই আমিও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম ৷ তখন তারা তাকে একটি রালতি
এগিয়ে দিলে তিনি তা থেকে পান করলেন (-ঘুসলিম) ৷ এ বর্ণনায় এমন তথ্য রয়েছে যা
প্রতীয়মান করে যে, নবী করীম (সা) দৃপুরের আগেই সওয়ারীতে চড়ে মক্কা শরীফ পৌছে
ছিলেন এবং বাযতুল্লাহ্ তাওয়াফ করছিলেন ৷
তারপর তওয়াফ শেষে সেখানেই যুহ্র সালাত আদায় করলেন ৷ আবার মুসলিম (র)-এর অন্য
একটি বংনাি-মুহাম্মদ ইবন বা ফ্রি (র) (নাফি ) ইবন উমার (রা) সুত্রে এমর্মে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ
(সা) দশ তা ৷রিখে ইফ৷ যা-ফরয তাওয়াফ করার বপরে মিনায় ফিরে এসে যুহ্র সাচ্ন্ ৷ত আদায়
করলেন ৷” এ হাদীসটি জা ৷বির (রা) এর হাদীসের পরিপন্থী এবং উভয় রিওয়ায়৷ ত-ই মুসলিমের ৷

এখন এ দুই হাদীসের মধ্যে সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, নবী কবীম (সা) মক্কায় যুহ্র
সালাত আদায় করার পরে মিনায় ফিরে এসে লোকদের তীর জন্য প্রর্তীক্ষারত দেখতে পেয়ে
তাদের নিয়ে (আবার) সালাত আদায় করলেন ৷-আল্লাহই সমধিক অবগত ৷ আর যুহ্রের
ওয়াক্ত বিদ্যমান থাকা কালে নবী করীম (সা)এর মিনার ফিরে আসা সম্ভব ছিল ৷ কেননা,
সময়টি গ্রীষ্মকাল ছিল বিধায় দিন ছিল দীর্ঘ ৷

যদিও এ দিনটির প্রথম ভাগে নবী করীম (সা) অনেকগুলি কর্ম-সম্পাদন করেছিলেন ৷
যেমন, ফসা হওয়ার পরে তিনি মুঘৃদালিফ৷ হতে প্রস্থান করেছিলেন, তবে তা ছিল সুঘেদািয়ের
আগে ৷ এরপর মিনায় পৌছে প্রথমে জামরাতুল আকাবায় সাতটি কংকর মারলেন ৷ পরে ফিরে
এসে নিজ হাতে ৩(তষট্টিটি উট কুরবানী করলেন এবং এক শ ৷য়ুত র অবশিষ্ট গুলি হযরত আলী
(রা) জবা ৷ই করলেন ৷ পরে প্রতিটি উটের এক এক টুকর৷ নিয়ে তা একটি ডেগৃচীতে রেখে

রান্না করা হল ৷ পাক হয়ে গেলে সে থেড়াশত আহার করলেন এবং তার ঝোল পান করলেন ৷
ইত্যবসরে তিনি (যা) মাথা মুণ্ডালেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করলেন ৷

এ সব কিছু থেকে ফারিগ হয়ে তিনি বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে বাহনে আংরাহণ করলেন ৷
তদুপরি এ দিন নবী করীম একটি গুরুতুপুর্ণ অভিভাষণে জনতাকে সম্বোধন করেছিলেন ৷ তবে
তা তার বায়তুল্লাহ গমনের আগে ছিল নাকি সেখান থেকে মিনার প্রত্যাবর্তনের পরে ছিল তা
আমি সঠিক নির্ণয় করতে পারছি না ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

এ আলোচনার লক্ষ্য হলো নবী কয়ীম (সা) সওয়ারীতে আরোহী হয়ে বায়তুল্লাহ গমন করে
আরোহী অবস্থায় সেখানে সাত বার তাওয়ড়াফ করেছিলেন এবং সাফা-মড়ারওয়ায় সাঈ করেন নি
(যেমন সহীহ্ মুসলিম শরীফে জাবির ও আইশা (বা) হতে প্ৰতিপন্ন হয়েছে) ৷ তারপর যমযম
কুপের পানি এবং যমযমের পানিতে ভেজানাে খৃরমা তিজানাে পানি (নবী স) পান করলেন ৷
এ সব বর্ণনা নবী করীম (না)-এর মক্কায় যুহ্র সালাত আদায় করার অভিমত পােষণকারীদের
বক্তব্যকে জোরদার করে ৷ যেমনটি জাৰির (রা) রিওয়ায়াত করেছেন ৷

আবার এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, নবী করীম (সা) যুহ্রের ওয়াক্তের শেষ ভাগে মিনার
ফিরে এসে মিনার-ও তীর সাহাবীদের নিয়ে পুনরায় যুহ্র সালাত আদায় করেছিলেন ৷ আর এ
বিষয়টিই ইবন হড়ায্ম (র)-কে জটিলতায় ফেলে দিয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত
দিতে সমর্থ হন নি ৷ অবশ্য সহীহ্ রিওয়ায়াত সমুহের পরস্পর বিরোধী হওয়ার কারণে তার এ
অপরাগতা মেনে নেয়া যায় ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

আবু দাউদ (র) বলেন, আলী ইবন বঙ্কুহার ও আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ (র) আইশা (বা)
হতে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) সে দিনের (দশ তারিখ) শেষ যুহ্র সালাত আদায় করে
ইফড়াযা (ফরম তাওয়ড়াফ) করার উদ্দেশ্যে গমন করলেন ৷ তারপর মিনার প্রত্যাবর্তন করে
আইয়ামে তাশৃরীক’ (১১, ১২, ১৩ যিলহজ্জ)-এর রাতগুলি সেখানে অবস্থান করে (প্রতিদিন)
সুর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় জামরায় কংকর মড়ারলেন ৷ তিনি প্ৰতি জাম্রা সাত টি করে

ৎকর মারেন এবং প্রতি কংকরের সাথে তাকবীর ধ্বনি দেন ৷ ইবন হাঘৃম (র) বলেন, এতে
দেখা যাচ্ছে যে, জাবির ও আইশা (বা) এ বিষয় একমত যে, নবী করীম (সা) দশ তারিখের
যুহ্র সালাত মক্কায় আদায় করেছিলেন ৷ আর এরা দু’জন আল্লাহই সমধিক অবগত ইবন
উমর (রড়া)-এর তুলনায় অধিকতর নির্ভরযোগ্য স্মৃতি শক্তির অধিকারী” এ হচ্ছে ইবন হাঘৃম
(র) এর বক্তব্য ৷ তবে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয় ৷

কেননা, আইশা (রা) এর এ রিওয়ায়াতটি নবী করীম (সা)এর মক্কায় যুহ্র সালাত আদায়
করার সুস্প্ষ্টি বর্ণনা নয় ৷ কেননা, উল্লিখিত রিওয়ায়াত টি দু’তাবে উদ্ধৃত হয়েছে ৷ যুহ্র সালাত
আদায় করার সময়’ (অথবা যখন’ জুহ্র সালাত আদায় করলেন) এবং
যুহ্র সালাত আদায় করা পযম্ভ’ প্রথমটি যা রিওয়ায়াত হিসাবে
অধিকতর গ্রহণযোগ্য বায়তুল্লাহ গমনুের আগে মিনার যুহ্র সালাত আদায় করা প্রমাণ করে
এবং তার সম্ভাব্যতা অস্বীকার করা যায় না ৷ আর দ্বিতীয়টি যদি তা রিওয়ায়াত রুপে সংরক্ষিত
সড়াব্যস্ত হয় মক্কায় যুহ্র সালাত অড়াদড়ায়ুর্জীছুব্লুৰু,দ্বুন্নুলোঃড্রুৰু,ফ্লুররুত পারে ৷ যা ইবন হাঘৃম (র)এর

অভিমত ৷ কিন্তু এ রুপ সম্ভাবনা যুক্ত দলীল দিয়ে কো ন বি৩ র্কের সুষ্ঠু নিম্পত্তি করা যায়না
আল্লাহ পাকই সমধিক অবগত

যােটকথা প্রথম সম্ভাবনার বিচারে এ হাদীসটি জাবির (রা)-এর হাদীসের পরিপন্থী ৷ কেননা,
এ হাদীসের প্রতিপাদ্য হল, নবী কবীম (সা) বায়তুল্লাহ্র উদ্দেশ্যে সওয়ারীতে আংরাহনের আগে
মিনায় যুহ্র সালাত আদায় করে ছিলেন ৷ আর জাবির (রা)-এর হাদীসের দাবী হল যুহ্র
সালাতের আদায়ের আগে নবী করীম (সা) বায়তৃল্লাহ্র উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং যুহ্র
সালাত সেখানেই আদায় করেছিলেন ৷

অন্য দিকে বুখারী (র) বলেছেন, অ৷ ইশ৷ ও ইবন আব্বাস (রা) হতে আবুয যুবায়র (র)
বলেছেন, নবী করীম (সা) রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করলেন অর্থাৎ তাওয়াফে যিয়ারত বুখারী (র)-
র এ সনদৰিহীন হাদীসটি অন্য অনেকে ইয়াহ্য়৷ ইবন স৷ ৷ঈদ আবদুর রহমান ইবন গান্ধী ও
ফারজ ইবন মায়মুন (র) (সুফিয়ান আবুয্ যুবায়র) আইশা ও ইবন আব্বাস (রা)-এর সনদ
যুক্ত করে রিওয়ায়াত করেছেন এ মর্মে যে, “নবী করীম (সা) কুরবানীর দিন (দশ তারীখের)
তাওয়াফ রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করেছিলেন ৷ চার সৃনান গ্রন্থ স০ কলক এ হাদীসটি রিওয়ায়াত
করেছেন সুফিয়ান (র) হতে ঐ সনদে ৷ তিরমিযী (র) মন্তব্য করেছেন এটি হাসান হাদীস ৷
ইমাম আহমদ (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আইশা ও ইবন উমর (বা) হতে এ মর্মে
যে, রাসুলুল্লাহ (সা) রাতের বেলা (তাওয়াফ) যিয়ারত’ করেছেন ৷” এখন যদি রাত কে
দুপুরের পরের দিকে’ অর্থে প্রয়োগ করা হয়, অর্থাৎ যেন বলা হল বিকেলে ও দিনের শেষাৎশে
তবে তা সঠিক ভিত্তি পেয়ে যাবে ৷ আর যদি সুর্যাস্তের পরের (প্রকৃত রাত) অর্থে প্রয়োগ করা
হয় তবে তা হবে খুবই অবান্তব এবং এ সম্পর্কিত বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ হাদীসসমুহের পরিপন্থী ৷
কেননা, সেওলোতে বলা হয়েছে যে, “নবী করীম (সা) দশ তারিখে দিনের বেলা তাওয়াফ
করেছেন এবং যমযমের পানপাত্র হতে পান করেছেন ৷ ” আর যে তাওয়াফের উদ্দেশ্যে রাতের
বেলা তিনি বায়তৃল্পাহ্ গিয়েছিলেন তা হল বিদায়ী তাওয়াফ ৷ তবে রাবীদের অনেকে সে
তাওয়াফকেও যিয়ারাত তাওয়াফ’ নামে ব্যক্ত করে থাকেন (পরবর্তী আলোচনা দ্ৰ) ৷ কিৎব৷
(রাতের তাওয়াফ হবে) বিদায়ী তাওয়াফের আগে এবং তাওয়াফুসৃ সাদ্র (প্রধান তাওয়াফ)
অর্থাৎ ফরয তাওয়াফের পরে শুধু যিয়ারত ও আল্লাহর ঘরের সাক্ষাতসান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে
আদায়কৃত সাধারণ ও নফল তাওয়াফ (এ বিষয় সম্বলিত হাদীসে আমরা যথাস্থানে উল্লেখ
করব যে, রাসুলুল্লাহ (সা) মিন৷ ৷র রাত সমুহের প্রতি রাতে বায়তুল্লাহ যিয়ারতে গমন করতেন ৷
যা প্রায় অব ৷স্তব) ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত

হাফিয বায়হাকী (র) রিওয়ায়াত করেছেন, আমৃর ইবন কায়স (র) আ ৷ইশা (রা) হতে এ
মমে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) তার সহচর বৃন্দকে অনুমতি দিলে তারা দশ তারিখের দুপুরে
বাযতুল্লাহর তাওয়াফে যিয়ারত করলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) নিজে তার ত্রীগগকে নিয়ে রাতে
তাওয়াফ যিয়ারত করলেন ৷ এটি একটি অভিনয় বিরল হাদীস এবং তাউস ও উরওয়া ইবনৃঘৃ
যুবায়র (র) এ অভিমত পোষণ করতেন যে, নবী করীম (সা) দশ তারিখের (ফরয) তাওয়াফ
রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করেছিলেন ৷ তবে বিশুদ্ধ রিওয়ায়াত সমুহ এবং জমহুরের অভিমতের দাবী
হল নবী কৰীম (সা) দশ তারিখের তাওয়াফ দিনে করেছিলেন এবং তা দুপুরের আগে হওয়াই

অধিকতর সংগতি পুর্ণ ৷ তবে দুপুরের পরে হওয়ার প্রমাণগত সম্ভাব্যতার বিদ্যমান ৷ আল্লাহই
সমধিক অবগত ৷

এ আলোচনার সার কথা হল নবী করীম (সা) (মিনা হতে) মক্কায় উপনীত হয়ে সওয়ারীতে
আরোহণ করে বড়ায়তুল্লাহ্ এ সাতবার তাওয়াফ করলেন ৷ তারপর যমযম কুপের কাছে গেলেন;
বমু মুত্তালিবে লোকেরা কুয়ো থেকে পানি তুলছিল এবং লোকদের পান করাচ্ছিল ৷ নবী করীম
সেখান হতে একটি রালতি নিলেন এবং তা থেকে পান করলেন ও নিজের গায়ে ঢাললেন ৷ ”
যেমন মুসলিম (র) বর্ণনা করেন মুহাম্মদ ইবন মিনহাল আদষ্দা’রীর (র) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে
তখন তাকে বলতে ণ্ডনােছন নবী করীম (সা) তার বাহনে করে আগমন করলেন, তার পিছনে
ছিলেন উসামা ৷ আমরা তার কাছে একটা পাত্র নিয়ে এলাম যাতে নাবীয ছিল ৷ তিনি পান
করলেন এবং তার অবগ্রিষ্টিটুকু উসামা কে পান করতে দিলেন এবং বললেন, “সুন্দর করেছো,
উত্তম করেছে৷ ! এ ভাবেই করতে থাকবে ৷ ” ইবন আব্বাস (রা) বলেন, “তাই, রাসুলুল্লাহ (সা)
যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা আমরা পরিবর্তন করতে চাই না ৷” বাকর (র)-এর আর একটি
রিওয়ায়াত রয়েছে, যে, জনৈক যেদুঈন ইবন আব্বাস (রা)-কে বললেন, “কী ব্যাপার,
আপনাদের চাচাত ভাইদের দেখছি, লোকদের মধু আর দুধ পান করারুচ্ছন আর আপনারা
নিজেরা নাবীয পান করাচ্ছেন তা কি অভাবের কারণে নাকি কার্পণের কারণে ? তখন ইবন
আব্বাস (রা) ঐ বেদুইনের কাছে এ হড়াদীসঢি উল্লেখ করলেন ৷ আহমদ (র) আরো বলেন, রাওহ
(র)বাক্র ইবন আবদুল্লাহ (র) হতে এ মর্মে যে, এক ণ্বদুইন এসে ইবন আব্বাস (রা)-কে
বলল, কী ব্যাপার যুআবিয়া পরিবারের লোকেরা পানি ও মধু পান করাচ্ছে; অঘুকরা দুধ পান
করাচ্ছে আর আপনারা নাবীয পানি করাচ্ছেন! তা কি আপনাদের কৃপণতাও জন্যে, নাকি
অনটনেও জন্য? তখন ইবন আব্বাস (রা) বললেন, কৃপণতার আমাদের পায় সি আর অভাবে
অনটনর নয় ৷

তবে, (বিদায় হজ্জ) রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের কাছে এলেন, তার সহ-আরোহী ছিলেন
উসামা ইবন যায়দ (রা) তিনি পানীয় দিতে বললে আমরা এ জিনিস অর্থাৎ নাৰীয পান করতে
দিলাম ৷ তিনি তা থেকে পান করলেন এবং বললেন, “উত্তম করেছে৷ ! এ ভাবেই কর চলবে ৷
আহমদ (র) এ হাদীস রাওহ্ বড়াকও একাধিক সুত্রে ইবন আব্বাস (রা) হতে (অনুরুপ
রিওয়ায়াত করেছেন) ৷ বুখারী (র) রিওয়ায়াত করেছেন, ইসহাক ইবন সুলায়মান (র) ইবন
আব্বাস (রা) হতে এমর্মে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) পান ণ্কল্কন্দ্র যমযম (থেকে তোলা পানির
আধারে) এসে পানীয় চাইলেন ৷

তখন আব্বাস (রা) বললেন, হে ফায্ল৷ তোমরা আম্মার কাছে গিয়ে তার নিকট হতে
রাসুলুল্লাহ (সা) এর জন্য পানীয় নিয়ে এসো ! নবী করীম (সা) তখন (আবার) বললেন,
“আমাকে ( এখান থেকেই) পান করিয়ে দিন ! তখন আব্বাস (রা) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ !
“এরা তো এ পানিতে তাদের হাত ঢুকিয়ে দেয় ৷ নবী করীম (সা) বললেন, আমাকে পান
করতে দিন ! তখন তিনি সেখান থেকে পান করার পরে যমযম এর কাছে গেলেন ৷ তখন তারা
পানি পান করাচ্ছিলেন এবং কাজে লিপ্ত ছিলেন ৷ নবী করীম (সা) বললেন-

“কার যাও তোমরা একটা ভাল ও কল্যাণের কাজে
ওয়েছো ৷ পরে বললেন :“তোমরা
অন্যায় হস্তক্ষেপ ও ঝামেলার শিকার হওয়ার আশংকা না থাকলে আমি ও (পানি) তুলতাম
এবং সে জন্য এর উপরে রশি তুলে নিতাম ৷ ” বলে তিনি নিজের র্কাধের দিকে ইংগিত
করলেন ৷ বুখারী শরীভ্রুফ আরো রয়েছে আসিম (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে তিনি বলেন, নবী
করীম (না)-কে আমি যমযমের পানি পান করিরেছি, তিনি দাড়িয়ে দাড়িয়ে পান করলেন ৷
“আসিম (র) বলেন, ইকরিমা (র) হলফ করে বলেছেন যে, “ঐ দিন তিনি উটের পিঠেই’
ছিলেন ৷ অন্য একটি বর্ণনা মতে উটনীর পিঠে ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, হুশায়ম (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে,
রাসুলুল্লাহ (সা) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন, তিনি তখন একটি উটের উপরে ছিলেন ৷ তিনি
নিজের কাছের একটি বীকা লাঠি দিয়ে হাজারে আসওয়ড়াদ স্পর্শ করছিলেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন,
তিনি পানকেদ্রে এসে বললেন, “আমাকে পানীয় দাও! তখন তারা বলল, এ তে তেড়া
লোকজন তাদের হাত ঢুকিয়ে দেয়, বরং আমরা ঘর থেকে আপনার জন্য তা নিয়ে আসছি ৷
তিনি বললেন, আমার জন্য তার কোন প্রয়োজন নেই; সাধারন লোকেরা না পান করে আমাকে
তা হতে পান করাও ৷ আবু দাউদ (র)-ও প্রায় অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি ইমাম আহমদ
(র) বলেন, রাওহ্ র আফ্ফান (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে , তিনি ব লে ন , নবী করীম (না)
যমৃযম-এর কাছে এলে আমরা তার জন্য এক বালতি (পানি) তুললাম, তিনি পান করলেন
এবং বালতিতে কুলি ফেললেন ৷ পরে আমরা তা যম্যমে ঢেলে দিলাম ৷ পরে তিনি বললেন,
“তোমাদের পরাভুত হওয়ার আশংকা না থাকলে আমি নিজ হাতে (পানি) তুলতাম ৷ ” এ
রিওয়ায়াত একাকী আহমদ (র)-এর সনদ মুসলিম (র)-এর শর্তানৃরুপ ৷

সাফা-মারওয়ায় পুনঃ সাঈ প্রসংগ

তারপর নবী করীম (সা) সাফা-মারওয়ায় পুনঃ সাঈ করলেন না; বরং প্রথম বারের সাঈকে
যথেষ্ট মনে করলেন ৷ যেমন মুসলিম (র) তার সহীহ্তে রিওয়ায়াত করেছেনষ্ ইবন জুরায়জ
(র) জাৰির ইবন আবদুল্লাহ (বা) সুত্রে ৷ তিনি বলেন, নবী করীম (সা) এবং তার সাহাবীগণ
সাফা-মারওয়ড়ায় একবার মাত্র প্রদক্ষিণ করেছেন ৷ অর্থাৎ এখানে সাহাবী বলতে যে সকল
সাহাবী বুঝিয়েছেন যারা কুরবানীর পশু নিয়ে এসেছিলেন এবং (যেহেতু) কিরান হজ্জ
পালনকারী হয়েছিলেন ৷ যেমন মুসলিম শরীফের অন্য একটি রিওয়ায়াত মতে রাসুলুল্লাহ
(না) আইশা (রা)-কে বললেন, যখন তিনি উমর) (পুর্ণ না করতে পাের তা)-এর সাথে হজ্জ
অনুপ্ৰবিষ্ট কিরান হজ্জ পালন কারিনী হয়ে গিয়েছিলেন নবী কবীম (সা) বললেন

বায়তুল্লাহ্ এবং সাফা-মারওয়ড়ায় তোমার (এক বারের) তাওয়ড়াফ (ওসাঈ) তোমার হজ্জ ও
উমরা (উভয়ের)-এর জন্য যথেষ্ট ৷ ”

ইমাম আহমদ (র)-এর অনুগামীদের অভিমত হল যে, জাৰির (রা)-এর তার সহযােগীদের
এ অভিমত কিরান ও তামাত্তু এ উভয় প্রকার হজ্জ পালনকারীদের জন্য প্রযোজ্য ৷ এ জন্যই

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.