buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

মক্কায় অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) -এর কতিপয় নির্দেশ

করতে দেখেছেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) যায় তুল্লাহ্র কবৃণ’ এর নিকট র্তাকে সম্মুখে
রেখে উপরেশন করেন ৷ এরপর লোকদের নিকট থেকে ইসলাম ও শাহাদণ্ডে র উপর বায়আত
গ্রহণ করেন ৷ রাবী ইবন জুরায়জ তার শায়খ আবদুল্লাহ ইবন উছমানের নিকট জিজ্ঞেস করেন
“কিসের শাহাদত ? জবাবে আবদুল্লাহ বলেন, মুহাম্মাদ ইবন আসওদ ইবন খালট্রুফ আমাকে
জানিয়েছেন যে তিনি লোকদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও
মোঃ এর উপর বায়আত গ্রহণ করেন ৷ আহমদএ পর্যন্ত এককভাবে বর্ণনা
করেছেন ৷ বায়হাকীর বর্ণনায় এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট ছোট ও বড়, নারী ও পুরুষ
নির্বিশেষে আগমন করে ৷ তখন তিনি তাদের থেকে ইসলাম ও শাহাদতেণ উপর বায়আত গ্রহণ
করেন ৷ ইবন জাবীর বর্ণনা করেনং : এরপর লোকজন রাসুলুল্লাহ্ (সা) )এর৷ ৷নকট ইসলামের উপর
বায়আত গ্রহণের উদ্দেশ্যে মক্কায় সমবেত হয় ৷ আমার জানা তথ্য মহ্বত রাসুলুল্লাহ্ (সা) সাফা
পাহাড়ের উপর অবস্থান নেন ৷ তার থেকে কিছু নীচে উমর ইবন খাত্তাব (রা) ছিলেন ৷ এরপর
তিনি লোকজনের কাছ থেকে আল্লাহ ও তার রাসুলের কথা শ্রবণ করা ও নাধ্যমত আনুগত্য করার
উপর বায়আত নেন ৷ পুরুষদের থেকে বায়আত নেয়ার পর তিনি মহিলাদের থেকে বায়আত গ্রহণ
করেন ৷ মহিলাদের দলে হিনদ বিনত উত্বাও ছিল ৷ হামযার প্রতি তার আচরণের ঘটনায় লজ্জিত
হয়ে অবগুণ্ঠন টেনে মুখমওল ঢেকে সে তথায় উপস্থিত হয় ৷ ঐ ঘটনার কারণে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
আজ তাকে পাকড়াও করতে পারেন বলে সে আশংকা করছিল ৷ বায়আতের উদ্দেশ্যে মহিলারা
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে আসলে তিনি বলেন : তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সাথে অন কিছুকে
শরীক করবে না ৷

হিনদ বললাে, আল্লাহর কসম ! আপনি আমাদের থেকে এমনঅ অংগীকার নিচ্ছেন যা
পুরুষদের থেকে নেননি ৷
তোমরা চুরি করবে না ৷

তখন হিনদ বললে৷ আল্লাহর কসম ! আমি যে প্রায়ই আবু সুফিয়ানের মাল-সম্পদ না বলে
নিয়েছি৷ (৩ আর কি হবে ? ) ৷ ঐ৷ মা ল আমার জন্যে বৈধ কি না তা আমি জ৷ ৷ন৩াম না ৷ আবু সুফিয়ান
তখন সেখানে উপ তছিলেন এবং হিনদের সব কথা শুনছিলেন ৷ তিনি বললেন, পুর্বে যা কিছু
তুমি নিয়েছো তা সব মাফ ৷ তার উপর আমার কো ন দাবী নেই ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
কি হে ! তুমি কি উত্বা ৷র কন্যা হিনদ নাকি ? সে জবাব দিল, হীা, তবে পুর্বে যা কিছু হয়েছে সে
জন্যে আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন ! অ ৷ল্লাহ্ আপনার মত্গল করবেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা )
বললেন :

হিনদ রললে৷ , ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ ৷ স্বাধীন (সৃম্ভাম্ভ) মহিলারা কি ব্যভিচার করতে পারে ? ১৷ ,
তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না ৷

হিনদ বললাে, আমরা৩ তাদেরকে শিশুক৷ ৷লে লালন পালন করেছি ৷ কিন্তু তারা বড় হবার পর
আপনি ও আপনার সাহাবীরা তাদেরকে বদর প্রান্তরে হত্যা করেছেন ৷ এ কথা ওনার পর উমার
ইবন খাত্ত ওাব উচ্চ৪স্বরে হাসলেন ৷

ইচ্ছাকৃততাবে কাউকে অপবাদ দেবে না ৷
হিন্দ বললাে, আল্লাহর কসম ! মিথ্যা অপবাদ দেওয়া তো ৷অতিশয নিন্দনীয় ব্যাপার ৷ কখনও
কখনও ক্ষমা করে দেওয়াটা অধিকতর উত্তম ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ্(স )বললেন :
আর ৷মহিলারা যেন আমার আদেশ লংঘন না করে ৷
তখন হিন্দ বললাে , অর্থাৎ ভাল কাজে লংঘন করবে না ৷

রাসুলুল্পাহ্ (সা) তখন উমরকে বললেন : তুমি এদের থেকে বায়আত গ্রহণ কর এবং তাদের
জন্যে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও দয়াময় ৷ তারপর
উমর (বা) তাদের থেকে বায়আত গ্রহণ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের মধ্য থেকে কোন
মহিলার সাথে মুসাফাহ৷ করেননি এবং কাউকে স্পর্শও করেননি ৷ তবে যাদেরকে আল্লাহ তার
জন্যে হালাল করেছেন কিৎবা মুহরিম তাদের কথা ভিন্ন ৷ সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে এ
ব্যাপারে আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন , আল্লাহর কসম ! রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর
হাত কখনও কোন নারীর হাত স্পর্শ করেনি ৷ এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি কেবল মৌখিকতা ৷বে
কথার মাধ্যমে মহিলাদের বায়আত ৩করতেন ৷ তিনি বলংত তন, একজন মহিলার নিকট আমার কথা
বলা, একশ’ মহিলার সাথে কথা বলার সমান ৷ বুখারী ও মুসলিমে আইশা (বা) থেকে বর্ণিত ৷
আবু সুফিয়ানের শ্রী হিন্দ বিনত উতব৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে জামাল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ !
আবুসুফিয়ান একজন অতিশয় কৃপণ লোক ৷ সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ দেয়
না ৷ এ অবস্থায় আমি যদি তার অগোচরে তার মাল-সম্পদ থেকে কিছু সরিয়ে নেই, তাকে কি
আমার অন্যায় হবে ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : যতটুকু মাল-সম্পদে তোমার ও সন্তানের
প্রয়োজন পুরণ হবে, ততটুকু মাল তুমি সঙ্গত ভাবে নিতে পার ৷ (ইমাম বায়হাকী ইয়াহ্য়া ইবন
বুকায়রের সুত্রে — — অ ইশা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, হিন্দ বিনত তব৷ এসে বললােশু ং হে
আল্লাহর রাসুল ! ভু পৃষ্ঠে যত৩ ৩তাবুবাসী আছে সেগুলোর মধ্যে আপনা র তাবুর অধিবাসীদের যে
পরিমাণ অপমান ও অকল্যাণ আমি কামনা করত তাম, তেমনটি আর কােন তাবুবাসীর ক্ষেত্রে
করতাম না ৷ পক্ষাম্ভরে আজকের অবস্থা এই যে পৃথিবীতে আপনার তাবুর অধিবাসীদের সম্মা ন ও
কল্যাণ কামনার চেয়ে অধিকতর পসন্দনীয় তাবুবাসী আর নেই ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন৪ সেই
সত্তার কসম ! যার হাতে ঘুহাম্মাদের জীবন তুমি যথার্থাং বলেছ ৷ হিন্দ বললাে হে আল্লাহর
রাসুল ! আবু সুফিয়ান অত্যধিক কৃপণ ৷৩ তার সম্পদ থেকে আমি যদি কিছু নেইত ৷ তার কি কোন
দোষ হবে ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন ং সঙগত পরিমাণ নিলে কোন দো য নেই ৷ ইমাম বুখ৷ ৷রী এ
হাদীছটি ইয়াহ্য়া ইবন বুকায়র সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ আবু সুফিয়ানের ইসলাম গ্রহণ
সংক্রান্ত বর্ণনা ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ৷

আবু দাউদ বলেন : আমাদের নিকট উছমান ইবন আবু শায়ব৷ ইবন আব্বাস (যা)
থেকে বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঘোষণা দেন যে, এখন থেকে আর
হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত চালু থাকবে ৷ আর যখন তােমাদেরকে জিহাদে যাওয়ার
জন্যে আহ্বান করা হয় তখন তোমরা সে আহ্বানে সাড়া দেবে ৷ এ হাদীছ ইমাম বুখারী উছমান

ইবন আবু শায়রা থেকে এবং ইমাম মুসলিম ইয়াহ্য়৷ ইবন ইয়াহ্য়া, জারীর থেকে বর্ণনা
করেছেন ৷ ইমাম আহমদ বলেন, আমার নিকট আফ্ফান সাফওয়ান ইবন উমাইয়া সুত্রে
বর্ণিত হয়েছে, সাফওয়ান ইবন উমাইয়াকে র্জ্যনক ব্যক্তি বললাে, হিজরতকারী ব্যতীত অন্যরা
জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না ৷ সাফওয়ান বলেন, আমি তাকে বললাম , এ কথাটা রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত আমি নিজ গৃহে ফিরে যাব না ৷ এরপর আমি রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর নিকট এসে সে বিষয়টির উল্লেখ করলাম ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ ( স ) বললেন ং মক্কা
াবজয়ের পর হিজরহু তর আর প্রয়োজন নেই; বরং জিহাদ ও হিজরণ্ডে র নিয়ৰুত রাখার প্রয়োজন
আছে ২ আর যখন তােমা :দরকে জিহাদের জন্যে আহ্বান করা হয় তখন ( রু:ামর৷ জিহাদে গমন
করবে ৷ এ হাদীছ ইমাম আহমদ এককভ ৷বে বর্ণনা করেছেন ৷ বুখারী বলেন : মুহাম্মাদ ইবন তা ৷বু
বকর, ফুযায়ল ইবন সুলায়মান ইবন মাসউদ সনদে বর্ণিত, মুজাশি’ বলেন, আমি আবু
মা বাদকে হিজরভ্রু তর উপর বায়আত গ্রহণ করাবার উদ্দেশ্যে নবী করীম (সর্ব)এর নিকট নিয়ে
যাই ৷ তখন তিনি বললেনং : যারা ইতিপুর্বে হিজরত করেছে, তাদের মাযাষ্ম ইিজরতেব যুগ শেষ
হয়ে গেছে ৷ এখন আমি ইসলাম ও জিহাদের উপর তার বায়আত গ্রহণ করবো ৷ রাবী আবু
উছমান নাহদী বলেন : এরপরে আমি আবু মা’বাদের সাথে সাক্ষাত করে তাকে এ সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করি ৷ তিনি বললেন, মুজাশি’ সত্যই বলেছে ৷ অন্য সনদে খালিদ আবু উছমান সুত্রে
মুজাশি’ থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার ভাই মৃজালিদকে নিয়ে এসেছিলেন ৷ অপর এক বর্ণনায়
ইমাম বুখারী বলেন : আমর ইবন খালিদ মুজাশি’ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের
পর আমি আমার ভাইকে নিয়ে বাসুলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে বললামং ইয়৷ রাসুলা ল্লাহ্! আমি
আমার ভাইকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, যেন আপনি তার থেকে হিজরবু তর উপরে বায়আত
গ্রহণ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ হিজরতকা বিগণ হিজরভৈ৩ তর সমুদয় ছওয়াব লুটে নিয়েছেন,
সে সুযোগ আর নেই ৷ আমি বললাম, তা হলে কিসের উপর তার বায়আত গ্রহণ করবেন ষ্ তিনি
বললেন০ আমি তার কাছ থেকে বায়আত গ্রহণ করবো ইসলাম, ঈমান ও জিহাদের উপর ৷ রাবী
আবু উছমান বলেন, পরে আমি আবু৷ মা ’বাদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম ৷ তিনি ছিলেন তাদের
দুজনের মধ্যে বয়সে বড় ৷ র্তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, মুজাশি ঠিকই বর্ণনা করেছে ৷
বুখারী বলেন মুহাম্মাদ ইবন বাশৃশার মুজাহিদ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি ইবন
উমর (রা)-কে জ ৷নালাম যে আমি সিরিয়ার হিজরত করার সংকল্প করেছি ৷ তিনি বললেন, এখন
আর হিজরত নেই ৷ তবে ফিরে গিয়ে চিন্তা করে দেখ যদি গুরুতুপুর্ণ কিছু দেখতে পাও তাই
কর, নচেৎ ফিরে থাক ৷ অন্য সনদে আবুনাসর ঘৃজাহিদ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন
আমি ইবন উমরকে বললাম ৷ তিনি উত্তর দিলেনং এখন আর হিজরণ্ডে র প্রয়োজন নেই ৷ অথবা
তিনি বলেছেন৪ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর যুগের পর হিজরত তর প্রয়োজন নেই ৷ এরপর তিনি উল্লিখিত
হাদীছের অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ ইসহাক ইবন ইয়াযীদ আবদুল্লাহ ইবন উমার (বা) থেকে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন০ মক্কা বিজয়ের পর হিজরহ্ব: তর প্রয়োজন নেই ৷ বুখারী বলেন, ইসহাক ইবন
ইয়াযীদ আ তো ইবন আবুবাবাহ্ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি উবায়দ ইবন উমায়রকে
সাথে নিয়ে আইশা (রা) এর সাথে সাক্ষাত করি ৷ উবায়দ তীকে হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞেস
করেন ৷ তিনি বলেন, আজ আর হিজরণ্ডে র কোন প্রয়োজন নেই ৷ যেহেতু পুর্বে মু মিনদের এ

অবস্থা ছিল যে, ফিতনায় পড়ার আশংকায় তারা তাদের দীন-ঈমান রক্ষার জন্যে আল্লাহ ও তার
রাসুলের নিকট (মদীনায়) পালিয়ে যেত ৷ কিন্তু আজ অবস্থা এই যে আল্ল ল্লাহ ইসলামকে বিজয় দান ন
করেছেন ৷ তাই এখন একজন মু’মিন যেখানে ইচ্ছা করে সেখানেই তার প্রভুর ইবাদত করতে
পারে ৷ তবে বর্তমানে জিহাদ ও হিজরব্ব তর নিয়ত করা যেতে পারে ৷

এ সব হাদীছ ও সাহাবীগণের উক্তি এ কথাই প্রমাণ করে যে, পুর্ণাঙ্গ কিৎবা মোটামুটি যাকে
হিজরত বলা চলে, তা মক্কা বিজয়ের পর শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ কেননা, মানুষ দলে দলে ইসলামে
প্রবেশ করেছে ৷ আল্লাহর দীন বিজয় লাভ করেছে এবং ইসলামের রুকন ও ভিত্তিসমুহ প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে ৷ সে কারণে হিজরতের প্রয়োজনীয়তা আর অবশিষ্ট নেই ল্দো প্রতিবেশী অমুসলিম

শত্রুদের কারণে এবং তাদের নিকট দীন প্রকা শে শক্তিহীনতার কা বণে হাদি হিজরত করার প্রয়োজন
দেখা দেয় তবে যে অবস্থায় দা রুল ইসলামে হিজরত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে ৷ এ ব্যাপারে
আলিমগণের মধ্যে কোন ম৩ তভেদ নেই ৷ তবে এ হিজরত মর্ষাদ্বোর দিক দিয়ে কখনই মক্কা
বিজয়ের পুর্বেকার হিজরতের মতো হয়ে না ৷ যেমন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও অর্থ-ব্যয়ের
ব্যাপারে নির্দেশ ও কিয়ামত পর্যম্ভা চালু রাখার প্রতি উৎসাহ থাকা সত্বেও তা মক্কা বিজয়ের পুর্বের

জিহাদ ও অর্থ ব্যয়ের সম৩ তুলা কিছুণ্ডে ই হবে না ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণী নিম্নরুপ০ :

অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পুর্বে ব্যয় করেছে ও সংগ্রাম করেছে তারা এবং

পরবর্তীরা সমান নয় ; তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ ওদের অপেক্ষা যারা পরবভীকািলে ব্যয় করেছে ও
সংছাম করেছে ৷ তবে আল্লাহ উভয়েরই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৷ (৫ ৭-হাদীদ০ : ১০) ৷

ইমাম আহমদ বলেন৪ মুহাম্মাদ ইবন জাফর আ বু সাঈদ খুদরী (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন০ : যখন এ সুরাটি নাযিল হল (যখন তাল্লাহ্র সাহায্য
ও বিজয় আসলো) তখন রাসুলুল্পাহ্ (সা) সুরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করে বললেন৪ লোকজন বেশ
আছে, আর আামিও আমার সাহাবীরা বেশ আাছি ৷ এরপর তিনি আরো বললেন০ : মক্কা বিজয়ের পর
আর হিজরত নেই ৷৩ তবে জিহাদ ও নিয়াত আছে ৷ (এ কথা শুনে মারওয়ান তাকে বললাে, তুমি
মিথ্যা বলছো) ৷ এ সময় তার কাছে রাফি ইবন খাদীজ ও য়ায়দ ইবন ছাবিত এক সাথে খাটের
উপরে বসা ছিলেন ৷ অাবু সাঈদ বললেন, এ দু ব্যক্তি ইচ্ছা করলে এ বিষয়ে আপনাকে বলতে
পারবেন ৷ কিন্তু এ লোকের আশংকা আছে যে, সে কথা বললে আপনি তাকে সমাজের নেতৃত্ব
থেকে সরিয়ে দেবেন ৷ আর ঐ লোকের আশংা আছে যে, আপনি তাকে যাকাত উত্তোলনকারীর
পদ থেকে বরখাস্ত করবেন ৷ এ কথা শুনার পর মারওয়ান আবু সাঈদের উপর কােড়া উত্তোলন
করলো ৷ তখন তারা দু’জনে এ অবস্থা দেখে বলে ফেললেন আবু সাঈদ সত্যই বলেছেন ৷ এটা
ইমাম আহমদের একক বর্ণনা ৷

বুখারী বলেন, মুসা ইবন ইসমাঈল ইবন আব্বাস (রা ) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন :
উমর (রা) বদর যুদ্ধে অংশ্যাহণকারী প্রবীণগণের সাথে আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করতেন ৷ এ কারণে

কারও কারও অম্ভরে ক্ষোভের উদ্রেক হল ৷ একজন৫ তা বলেই ফেললো, আপনি কেন তাকে
আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন ? তারমত তো আমাদের ছেলেরাও রয়েছে ৷ উমর (রা) বললেন, যে
কেমন লোকদের মধ্য থেকে তা তো তোমরাও জান ৷ সুতরাং এক দিন তিনি তাদেরকে ডাকলেন
এবং ইবন আব্বাসকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করলেন ৷ ইবন আব্বাস বলেন, আমি বুঝতে পারলাম ৷
আজকে তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এ জন্যে যে তিনি তাদেরকে (আমার
বিদ্যা বুদ্ধি ) দেখাবেন ৷ তিনি তাদেরকে বললেন, আল্লাহর বাণী৷
এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে তোমরা কী বল ? তখন তাদের মধ্যে কেউ ,বললাে : আল্লাহর সাহায্য ও
বিজয় আসলে আল্লাহর প্রশংসা করতে ও তার কাছে সাহায্য চাইতে আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে ৷ অন্যরা চুপ থাকলেন, কিছুই বললেন না ৷ এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে ইবন
আব্বাস ! তুমিও কি তাই বল ? আমি বললাম, জী না ৷ তিনি বললেন, তা হলে তুমি কী বলতে
চাও ? আমি বললাম, এটা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর মৃত্যু স০ বাদ ৷ আল্লাহ তাকে এ সুরার মাধ্যমে তা
জানিয়ে দিয়েছেন ৷ আল্লাহ বলেছেন০ আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়
আসলে” এটিই হবে তােমার মৃত্যুর আলামত ৷ “তখন তুমিণ্ তামার প্ৰতিপ৷ ৷লকের প্রশং সাসহ
তার পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ৷ তিনি তো তওবা
কবুলক৷ ৷রী” তখন উমাব (রা) বললেন, “এ আয়াত তর ব্যাখ্যার সে যা বলেছে, আমিও তার বা ৷ইরে
কিছু জানি না ৷ এটা বুখারীর একক বর্ণনা ৷ এ ছাড়া আরও একাধিক সুত্রে ইবন আব্বাস (না)
থেকে অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (স৷ ) ইনতিকালের সময়ের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি
উল্লিখিত ঘটনা বর্ণনা করেন ৷ ইবন আব্বাস ও উমর ইবন খাত্তাবের ন্যায় মুজাহিদ ৷ আবুল আ ৷লিয়া
যাহহ ক প্রমুখও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ত তবে ইমাম আহমদ কর্তক বর্ণিত হাদীছটি এ ক্ষেত্রে
সঠিক নয় ৷ তিনি যুহ ম্মা৷দ ইবন ফুয়ায়ল আত৷ সাঈদ ইবন ঘুবায়র সনদে ইবন আব্বাস থেকে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন০ যখন প্লু ৷ ৷ এ প্া৷ ৷ ৰু১ ষ্টু ৷ এ ৷ সুরা নাযিল হল, তখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন০ এর মধ্যে আমার মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, আমি এ বছরের
মধ্যে যারা যাব ৷ এ হাদীছটি ইমাম আহমদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন ৷৩ তার সনদে উল্লিখিত
াত৷ ইবন আবু মুসলিম খুরাসানী একজন দুর্বল রাবী ৷ হাদীছ শাস্তের একাধিক ইমাম তার
ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন ৷ হাদীছের মুল বক্তব্যও একান্তই ড্ডাহণযােগ্য ৷ বলা হয়েছে
তিনি ঐ বছরের মধ্যে ইনতিকাল করবেন ৷ এ কথাটি সম্পুর্ণ ভুল ও বাতিল ৷ কেননা, মক্কা বিজয়
হয়েছিল অষ্টম হিজরীর রমযান মাসে ৷ এ ব্যাপারে কারও কোন দ্বিমত নেই ৷ পক্ষাম্ভরে রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এব ইনতিকাল হয়েছিল একাদশ হিজরীর রবিউল আওয়াল মাসে ৷ এ ব্যাপারেও কারও
কো ন ৷বিরাে ৷ধ নেই ৷ হ ফিয আবুল কাসিম তাবারানী কর্তৃক বর্ণিত হাদীছটিও সমালোচিত হয়েছে ৷
তিনি ইব্রাহীম ইবন আহমদ ইবন উমর ওকীঈ সুত্রে ইবন আব্বাস সুত্রে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেন, গোটা কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ সুরা হল০
হাদীছের বক্তব্যও অগ্রহণৱযাগ্য ৷ এর সনদও সমালোচিত ৷ তবে এরুপ ব্যাখ্যাও হতে পারে যে,
পুর্ণাত্গ সুরা হিসাবে এটাই সর্বশেষ অবতীর্ণ সুরা ৷ তাফসীর গ্রন্থে এ সুরার ব্যাখ্যার আমরা
বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ বুখারী বলেন, সুলায়মান ইবন হারব, আমর ইবন সালামা সুত্রে
বর্ণিত ৷ আইয়ুব বলেন, আবু কিলাব৷ আমাকে বললেন : তুমি আমর ইবন সালামার সাথে সাক্ষাৎ

করে তার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না কেন ? আবু কিলাবা বলেন, এরপর আমি আমর ইবন
সালামার সাথে সাক্ষাৎ করে তার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, উত্তরে আমর বললেন, আমরা
মানুষের যাতায়াতের পথে এক ঝর্ণার নিকট বসবাস করতাম ৷ আমাদের পাশ দিয়ে আরেড়াহীরা
অতিক্রম কররুতা ৷ আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম, লোকজাহ্রনর কী হয়েছে ? ঐ সব
লোকদের কী অবস্থা ? আর ঐ লোকটিরই বা অবস্থা কী ? তারা বলভাে, সে দাবী করছে যে,
তাকে নাকি আল্লাহর রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং এ জাতীয় ওহী প্রেরণ করেছেন ৷ আমি
তাদের মুখ থেকে শুনে ওহীব সে সব বাণী মুখস্ত করে ফেলতাম ৷ সেগুলো আমার দিলে যেন
পেথে থাকতো ৷ আরবরা তাদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটি বিজয়ের উপর ছেড়ে দিয়েছিল ৷ তারা
বলতো, তাকে তার গোত্রের লোকদের সাথে বৃঝাপড়া করার জন্যে ছেড়ে দাও ৷ তিনি যদি তাদের
উপর জয়ী হন তবে প্রমাণিত হবে যে তিনি সত্য নবী ৷ এরপর যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা
ঘটলাে, তখন প্রতিটি ণ্;গাত্র ইসলাম গ্রহণের জন্যে এগিয়ে অন্দে:লা ৷ আমার গোত্রের লোকজন
ইসলাম গ্রহণ করার পুর্বেই আমার পিতা অগ্রগামী হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ ইসলাম গ্রহণ
করে বাড়ী ফিরে এসে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম আমি একজন সত্য নবীর কাছ থেকে
তোমাদের নিকট এসেছি ৷ তিনি বলে দিয়েছেন যে, অমুক সময়ে অমুক নামায এবং অমুক
সময়ে অমুক নামায আদায় করবে ৷ যখন নামাষের সময় হবে তখন তোমাদের একজন আযান
দেবে এবং যার অধিক পরিমাণ কুরআন মুখন্থ আছে সে ইমামতি করবে ৷ তারা উপযুক্ত ইমাম
খুজতে লাগলো ৷ কিন্তু দেখা গেলো, আমার চেয়ে অধিক কুরআন মুখস্তকারী আর কেউ নেই ৷
কারণ, আমি পুর্বেই বিভিন্ন কাফেলার থেকে কুরআন মুখস্ত করেছিলাম ৷ সুতরাং তারা আমাবেইি
ইমামতির জন্যে আগে বাড়িয়ে দিল ৷ অথচ আমি তখন মাত্র ছয় কি সাত বছরের বালক ৷ আমার
পরিধানে ছিল একটি চাদর মাত্র ৷ যখন সিজদায় যেতাম তখন চাদরটি উপরে উঠে যেত ৷ এ
দেশে গোত্রের এক মহিলা বললো, তোমরা তোমাদের ইমামের পশ্চাৎতাগ আমাদের দৃষ্টি থেকে
আবৃত করে রাখনা কেন ? তখন তারা কাপড় কিনে আমাকে একটি জামা তৈরি করে দিল ৷ ঐ
জামা পেয়ে আমি এতটা খুশী হলাম, যত ৷ খুশী অন্য কিছুতে হইনি ৷ এ হাদীছ শুধু বুখড়ারীতে
আছে, মুসলিমে নেই ৷

হাওয়াযিন বা হুনায়নের যুদ্ধ

আল্লাহর বাণী :

অর্থ : আল্লাহ তোমাদের তো সাহায্য করেছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে যখন
তােমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সৎখ্যাধিক্য ৷ কিন্তু তা ৫তামাদের কোন কাজে আসেনি
এবং বিন্তুত তহওয়৷ সত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্যে সংকুচিত হয়েছিল ও পরে তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন
করে পলায়ন করেছিলে ৷ এরপর আল্লাহ্ত তার নিকট হতে ততার রাসুল ও মু’মিনদের উপর প্রশান্তি
বর্ষণ করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করেন যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি
কাফিরদেরকে শান্তি প্রদান করেন ; এটাই কাফিরদের কর্মফল ৷ এরপরও যার প্ৰতি ইচ্ছা আল্লাহ্
ক্ষমা পরায়ণ হবেন ; আল্লাহ্ অতি ক্ষমাশীল , পরাম দয়ালু (৯-তাওবা : ২৫ ২৭) ৷

মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার তার কিভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অষ্টম হিজরীতে মক্কা
বিজয়ের পর ৫ই শাওয়াল রাসুলুল্লাহ্ (সা) হাওয়াযিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন ৷ তিনি
বলেন, মক্কা বিজয় হয়েছিল রমযানের দশ দিন বাকী থাকতে এবং হাওয়াযিনের বিরুদ্ধে অভিযানে
বের হওয়ার পনের দিন পুর্বে ৷ ইবন মাসউদ থেকেও এরুপ বর্ণিত হয়েছে ৷ উরওয়৷ ইবন
যুবায়রও এ মত পোষণ করেন ৷ ইমাম আহমদ এবং ইবন জা ৷রীর তার ইতিহাস গ্রন্থে এ মত
সমর্থন করেছেন ৷ ওয়াকিদী লিখেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) যা ওয়াল মাসের ছয়ত তারিখের পর
হাওয়াযিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং দশ তারিখে হুনায়ন পৌছেন ৷ আবু বকর সিদ্দীক (বা)
বলেন, ঐ দিন আমরা সংখ্যায় স্বল্পতার দরুন পরাজিত হইনি ৷ সং খ্যায় অধিক হওয়া সত্বেও তা রা৷
পলায়ন করে ৷ সর্ব প্রথম পলায়ন করে বনু সুলায়ম , তারপরে মক্কাবাসীপণ, তারপরে অন্যান্য
সবাই ৷

ইবন ইসহাক বলেন : হাওয়াযিন গোত্রের লোকজন যখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর আগমন ও
মক্কা বিজয়ের সংবাদ জানতে পারলাে, তখন তাদের নেত৷ মালিক ইবন আওফ নাসরী তার
গোত্রের লোকদের একত্রিত করলো ৷ হাওয়াযিনদের সাথে ছাকীফ গোত্রের সকলেই এসে তার

কাছে সমবেত হল ৷ মালয় ও জুশাম গোত্রদ্বয়েরও সবাই এসে হাযির হয় ৷ আরও উপস্থিত হয়
সা’দ ইবন বকর গোত্র এবং বনু হিলাল গোত্রের অল্প সংখ্যক লোক, এর ছিল সংখ্যায় নগণ ৷ ৷
মােটকথা, কায়েস আয়লানের উপরোক্ত লোকজন ব্যতীত আর কেউ আসেনি ৷ হাওয়াযিন গোত্রের
কা’ব ও কিলাব শাখাদ্বয় এ গণজমায়েতে অনুপস্থিত থাকে ৷ তাদের মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য
কেউ সেখানে আসেনি ৷ বনু জুশাম গোত্রের দৃরায়দ ইবন সস্ফো ১ দিন অতিশয় বৃদ্ধ ৷ তার দৈহিক
শক্তি ছিল না বটে, তবে তার মতামত যুদ্ধের কলাকৌশল ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা
করা হতো ৷ সে ছিল যুদ্ধের ময়দানের এক প্রবীন অভিজ্ঞ ব্যক্তি ৷ ছাকীফ গোত্রের সর্দার ছিল
দু’জন ৷ আহলাফ গোত্রের নেতা ছিল কারিব ইবন আসওদ ইবন মাসউদ ইবন ঘুআত্তাব ৷ আর বনু
মালিক গোত্রের সর্দার ছিল যুল খিমার সুবায় ইবন হারিছ এবং তার ভাই আহমদ ইবন হারিছৰু ৷
তবে সামগ্রিকভাবে সবার উপরে নেতৃতৃ ছিল মালিক ইবন আওফ নাসরীর হাতে ৷ এরপর যখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হল, তখন সে সকলকে
নিজেদের ধন-সম্পদ ও ত্রী-পুত্র সাথে নিয়ে গমন করার নির্দেশ দল ৷ যখন তারা আওতাস নামক
স্থানে গিয়ে উপনীত হল, তখন লোকজন তার কাছে এসে সমবেত হল ৷ তাদের মাঝে ছিল
দুরায়দ ইবন সাম্মা ৷ একটি হাওদার মধ্যে বসিয়ে তাকে সেখানে টেনে নেয়া হয় ৷ হাওদা থেকে
অবতরণ করে সে জিজ্ঞেস করলো, তোমরা এখন কোন প্রান্তয়ে রয়েছ ? জবাবে তারা বললো :
আওতাস প্রাম্ভরে ৷ সে বললো :

বাহ : ঘোড়ার চক্কর কাটার কতই না সুন্দর জায়গা ৷ এমন উচা ও কঠিন মাটি নয় যে,
চলাচলে কষ্ট হবে ; আবার এমন নীচু ও নরম মাটি নয় যে, পা দেবে যাবে ৷
সে অবেবেঃ বলালা :

কি ব্যাপার ? এ যে শুনতে পাচ্ছি উটেৱ গোৎগানী ? গা ধার বিকট আওয়ায ? শিশুদের কান্না ?
ছাগলের র্ডা৷ ভী৷ শব্দ ?

লোকজন জবাবে বললো , মালিক ইবন আওফ তো লোকজনের সাথে তাদের ধন-সম্পদ ও
তাদের ত্রী-পুত্রদেরও সংগে নিয়ে এসেছে ৷ তখন দৃরায়দ বললো, মালিক কোথায় ? লোকেরা
তাকে ডেকে এনে বললো এই যে মালিক ৷ তখন সে তাকে বললো : হে মালিক ! তুমি
তোমার গোত্রের নেতা হয়েছে৷ ৷ আজকের এ দিনটি এমন যে, এর প্রভাব পড়বে আগামী
দিনগুলাের উপর ৷ বল, আমি উটের গোৎগানী, গাধার বিকট আওয়ায, গ্রিণ্ডেদের কান্নড়াকাটি এবং
ছাগলের ভী৷ জ৷ শব্দ কেন শুনতে পাচ্ছি ? সে উত্তর দিল, আমি তো লোকজনের সাথে তাদের
ত্রী-পুত্র ও ধন-সম্পদ নিয়ে এসেছি ৷ সে বললো, ওগুলো কেন নিয়ে এসেছো ? সে জবাব দিল,
আমি মনে করেছি যে, এদের প্রতিটি যােদ্ধার পশ্চাতে তার সম্পদ ও পরিবার রেখে দেব ৷ যাতে
১ আর জ্জল মাখতৃমে’ (উন্৷ সংস্করণ ১৯৯৮ লাহোর) নামটি দৃরায়দ ইবন সাম্মা এবং মদীনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ আকরম যিয়া উমরীর আসৃসীরতৃন নববীর আস-সাহীছা (আরবী) গ্রন্থে দৃরায়দ ইবন
সিম্মা বলে উল্লিখিত হয়েছে ৷ — সম্পাদক

সে ওগুলো রক্ষার্থে প্রাণপণে যুদ্ধ করে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে দুরায়দ মড়ালিককে ধমক
দেয় ৷ সে তাকে আরও বলে , ওহে যেষ-পালক ! আল্লাহর কসম , যারা পরাজিত হয়, তাদেরকে
কিছু ফেরত দেওয়া হয় বলে কখনও শুনেছ কি ? যুদ্ধ যদি তোমার অনুকুলে আসে, তা হলে
তলােয়ার ও বল্লমধারী পুরুষ লোকই তোমার কাজে আসবে, অন্য কেউ নয় ৷ আর যদি যুদ্ধ
তোমার বিপক্ষে যায়, তবে তুমি তোমার পরিবার ও ধন-সম্পদসহ লাঞ্ছিত হবে ৷ তারপর সে
জিজ্ঞেস করলো ? আচ্ছা কা’ব ও কিলাব গোত্রের ভুমিকা কি ? মালিক বললাে, তাদের থেকে
কেউই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি ৷ দুরায়দ বললাে ও তা হলে তো ক্ষিপ্রতা ও বীরতৃই অনুপস্থিত ৷
আজকের এ দিনটা যদি মর্যাদা ও সুখ্যাতি বয়ে আনভাে তা হলে কড়া’ব ও কিলাব এ থেকে দুরে
থাকতো না ৷ আমার মনে হয়, তোমরাও যদি কা’ব ও কিলাবের পথ ধরতে, তবে কতই না ভাল
হতো ৷ বল তো, তা হলে কারা তোমরা যুদ্ধ করতে এসেছো ? লোকজন বললাে, আমর ইবন
আমির ও আওফ ইবন আমির গোত্রদ্বয় এসেছে ৷ সে বললাে, হায় এতেড়া আমির গোত্রের দুটো
যুদ্ধ-অনভিজ্ঞ শাখা ৷ এরা না কোন উপকার করতে পারবে, আর না কোন ক্ষতি করতে পারবে ৷
তারপরে সে বললাে, শুন হে মালিক তুমি হাওয়াযিনের দলকে ঘোড়ার সামনে আদৌ পেশ
করো না ৷ এরপর দুরায়দ মালিক ইবন অড়াওফকে বললাে : নিজের দেশের হিফাযতে ও নিজ
গোত্রের সম্মান রক্ষার্থে এদেরকে এ অবস্থান থেকে উঠিয়ে আন এবং ধর্মত্যাণীদের (অর্থাৎ
মুসলমানদের)-কে অশ্বারোহী বাহিনীর সম্মুখে করে দাও ৷ যদি যুদ্ধ তোমার অনুকুলে এসে যায়,
তবে পিছনের লোকজনও এসে তোমাদের সাথে মিলিত হয়ে ৷ আর যদি যুদ্ধ তোমার প্ৰতিকুলে
যায়, তাহলে এরা বাকী থাকবে এবং তোমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপদে থাকবে ৷
জবাবে মালিক বললাে ও আল্লাহর কসম ! আমি তা করবো না ৷ তুমি বুড়াে হয়েছে৷ ৷ সেই সাথে
তোমার জ্ঞান-বুদ্ধিও বৃড়াে হয়ে গিয়েছে ৷ এরপর মালিক তার দলবলকে সম্বোধন করে বললাে :
হে হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা আল্লাহ্র কসম ৷ হয় তোমরা আমার আনুগত্য করবে ; না হয়
আমি এই তলােয়ারের উপর উপুড় হয়ে পড়বাে, যাতে আমার পেট চিরে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায় ৷
যুদ্ধের ব্যাপারে সে দুরায়দের কথাবার্তা ও মতামতকে আদৌ আমল দিল না ৷ জবাবে সবাই
সমস্বরে বলে উঠলাে , আমরা তােমারই আনুগত্য করবো ৷ তখন দুরায়দ বললাে : এট৷ এমন একটা দিন যাতে আমি অন্তর্ভুক্ত হলাম না এবং এ থেকে
দুরেও থাকলাম না ৷

“হয়ে, যদি আমি আজ যুবক হতাম , তা’হলে এতে ঘোড়া ইাকিয়ে দিতাম ৷ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে
এগিয়ে যেতাম ৷ আর এদেরকে মেয়ের পাল বলেই মনে হতো ৷

তারপর মালিক সমবেত লোকজনের উদ্দেশ্যে বললাে : তোমরা যখন মুসলমানদের দেখতে
পারে, তখন তোমরা তোমাদের তরবারির কোষসমুহ ভেৎগে ফেলবে এবং একযোগে তাদের
উপর হামলা করবে ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest