রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

মদীনা মুনাওওয়ারায় প্রথম জুমুআর নামায

মদীনা মুনাওওয়ারায় প্রথম জুমুআর নামায

রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের মধ্যে আঠারো রাত্রি অবস্থান করেন ৷ প্রন্থকার বলেন : ইতেড়াপুর্বে যুহ্বী
সুত্রে উরওয়া থেকে ইমাম বুখারীর বর্ণনা উল্লেখিত হয়েছে যে, তিনি তাদের মধ্যে ১০ রাত্রির
কিছু বেশী সময় অবস্থান করেছিলেন ৷ আর মুসা ইবন উকবা মুজাম্মা’ ইবন ইয়াযীদ ইবন হারিছ
সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) কুবায় বনু আমর ইবন আওফের মধ্যে বাইশ রাত্রি
অবস্থান করেন ৷ আর ঐতিহাসিক ওয়াকিদী বলেন : কথিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদের
মধ্যে চৌদ্দ রাত্রি অবস্থান করেন ৷

মদীনা মুনাওওয়ড়ারায় প্রথম জুমুআর নামায

ইবন ইসহাক বলেন : বনু সালিম ইবন আওফে জুমুআর সময় হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বড়াতনে ওয়াদী-ওয়াদীয়ে রানুনায়-জুমুআর নামায আদায় করেন ৷ আর এটা ছিল মদীনায়
রড়াসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রথম জুমুআর নামায ৷ এরপর বনু সালিমের এক দল লোকের সঙ্গে
ইতবান ইবন মালিক এবং আব্বাস ইবন উবদো ইবন নাঘৃলা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর খিদমতে
হাযির হয়ে আরয করেন, ইয়া রড়াসুলাল্পাহ্ আপনি আমাদের মা;ধ্য অবস্থান করুন, আমরা

ৎখ্যায় অধিক, আমাদের প্রস্তুতি অনেক এবং আমরা প্রতিরোধ আর প্রতিরক্ষায়ও সক্ষম ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

“তোমরা উটনীটির পথ ছেড়ে দাও ৷ কারণ, সে (আল্লাহ্র পক্ষ থেকে) আদেশপ্রাপ্ত ৷
ফলে তারা উটনীটির পথ ছেড়ে দেয় ৷ উটনী চলতে থাকে ৷ শেষ পর্যন্ত বনু ৰিয়াযার মহল্লায়
পৌছলে যিয়াদ ইবন লাবীদ এবং ফারওয়া ইবন আমর একদল লোক নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর
সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদন জানান :

“ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আমাদের মধ্যে অবস্থান করুন, আমরা জনবল এবং অস্ত্র বলে অধিক
এবং প্রতিরোধ আর প্রতিরক্ষায় সক্ষম ৷” রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : “তোমরা তার পথ ছেড়ে
দাও, সে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আদিষ্ট ৷ ” তারা তার পথ ছেড়ে দেয় এবং সে চলতে থাকে ৷ বনু
সাইদার মহল্লা দিয়ে গমনকালে বনু সাইদার একদল লোকসহ সাআদ ইবন উবাদা এবং মুনষির
ইবন আমর রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর খিদমতে হাযির হয়ে আবেদন জানান :

“হে আল্লাহ্র রাসুল ৷ আমাদের মধ্যে অবস্থান করুন ৷ সংখ্যায় আমরা অধিক এবং
প্রতিরোধে আমরা সক্ষম ৷ ” রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমরা তার রাস্তা ছেড়ে দাও ৷ কারণ,
সে (আল্লাহ্র পক্ষে থেকে) আদেশপ্রাপ্ত আছে ৷ উটনীটি চলতে থাকে ৷ বনু হারিছ ইবন
খাযরড়াজ এর মহল্লা বরাবর পৌছলে সাআদ ইবন রাবী , থারিজা ইবন যায়দ এবং আবদুল্পাহ্
ইবন রাওয়াহা বনু হারিছ ইবন খাযরাজএর একদল লোক নিয়ে রড়াসুলুল্লাহ্ (না)-এর খিদমতে
উপস্থিত হয়ে আরয করেন :

“হে আল্লাহ্র রাসুল ৷ আমাদের মধ্যে আগমন করুন ৷ জনবল আর অস্ত্রবলে আমরা বেশী
এবং প্রতিরোধ আর প্রতিরক্ষায়ও আমরা সক্ষম ৷” রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

“তোমরা তার পথ ছেড়ে দাও, সে যে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) আদিষ্ট ৷ তারা পথ ছেড়ে
দিলে সে চলতে থাকে ৷ বনী আদী ইবন নাজ্জারের মহল্লা দিয়ে অতিক্রমকালে উম্মু আবদুল

মুত্তালিব তাদের বংশের অন্যতম নারী সালমা বিনত আম্র এরা দু’জন নিকটে আসে ৷ এরা
সালীত ইবন কায়স এবং আবু সালীত আসীরা ইবন খারিজা বনী আদী ইবন নাজ্জারের একদল
লোক নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরব করেন :

“হে আল্লাহ্র রাসুল (সা) ! আপনার মাতুলকুলে অবস্থান গ্রহণ করুন ৷ জনসংখ্যা আর
অস্ত্রবলে তারা বেশী এবং প্রতিরোধেও তারা সক্ষম ৷ ” রাসুলুল্লাহ্ (সা) এবারও বললেন :

“তোমরা তার পথ ছেড়ে দাও ৷ কারণ, সে তো আদিষ্ট আছে ৷ পথ ছেড়ে দিলে উটনীটি
আপন মনে চলতে থাকে ৷ শেষ পর্যন্ত বনু মালিক ইবন নাজ্জারের মহল্লার দরজায় এসে,
বর্তমানে যেখানে মসজিদে নববী অবস্থিত, সেখানে বসে পড়ে ৷ এ স্থানটি ছিল বনু মালিকের
দু’জন ইয়াতীম শিশু সহল এবং সুহায়লের খেজুর শুকাবার স্থান আর এ দু’জন ইয়াতীম
শিশু মুআয ইবন আফরার প্রতিপালনাধীন ছিলেন ৷

আমি অর্থাৎ (গ্রন্থকার) বলি, যুহ্রী সুত্রে উরওয়ার উদ্ধৃতিতে ইতােপুর্বে উল্লেখ করা
হয়েছে যে, ইয়ড়াতীমদ্বয় আসআদ ইবন যুৱারার প্রতিপালনাধীন ছিলেন হু আসল ব্যাপার আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷

মুসা ইবন উকবা উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) পথে আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই ইবন
সালুল;এর গৃহের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন আর সে তখন কাছেই উপস্থিত ছিল ৷ আর
রাসুলুল্পাহ্ (সা) তখন এ আশায় অপেক্ষা করেন যে, হয়তো তাকে র্তার বাড়ীতে আহ্বান করবে
আর সে ছিল তখন খড়াযরাজের গোত্রপতি ৷ তখন আবদুল্লাহ বলে , যারা আপনাকে ডেকেছে,
তাদের নিকট গিয়ে অবস্থান করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) একজন আনসারীকে একথা জানালে
সাআদ ইবন উবড়াদা তার পক্ষ থেকে ওযর পেশ করে বলেন :

“ইয়া রাসুলাল্পাহ্! আপনার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ আমাদের
ইচ্ছা ছিল, আমরা তার মাথায় মুকুট স্থাপন করবো এবং তাকে আমাদের রাজারুপে বরণ
করবো ৷” মুসা ইবন উকবা আরো বলেন :

রাসুলুল্লাহ্ (সা) বনু আমর ইবন অড়াওফ-এর গৃহ থেকে রওনা হওয়ার আগে আনসারগণ
একত্রিত হয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সওয়ারীর আগে-পিছে চলতে থাকেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এৱ
সম্মান আর মর্যাদা লাভের জন্যে কে তীর উটের রশি ধরবেন, এ নিয়ে কাড়াকাড়ি হয় ৷ কোন
আনসারীর গৃহের নিকট দিয়ে গমনকালে তারা রাসুলুল্পাহ্ (সা)-ফে আহ্বান জানাতেন ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলতেন : ৰু

“তাকে ছেড়ে দাও, সে (আল্পাহ্র পক্ষ থেকে) আদিষ্ট ৷ আল্লাহ্ যেখানে আমাকে অবতরণ
করান, সেখানেই সে অবতরণ করবে ৷ হযরত আবু আইউবের গৃহের কাছে গিয়ে উটনীঢি তার
গৃহের দরজায় বসে পড়ে ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) সেখানে অবরতণ করে হযরত আবু আইউবের গৃহে
প্রবেশ করেন এবং সেখানে মসজিদ ও বাসস্থান নির্মাণ করেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে নিয়ে (তার ) উটনী বসে পড়লে তিনি সঙ্গে সঙ্গে
উটনীর পিঠ থেকে অবতরণ করেননি; উটনীটি, আবার উঠে র্দড়াড়ায় এবং কিছু দুর চলে আর

রাসুলুল্পাহ্ (সা) উটনীর রশি ধারণ করে রাখেন, তাকে একেবারে ছেড়ে দেননি ৷ এরপর
উটনীটি কিছুটা পেছনে সরে আসে এবং তার বসার স্থানে এসে বসে পড়ে ৷ এরপর সে একটু
সরে যায় হনহন শব্দ করে এবং মাটিতে মাথা রাখে এবং তার পিঠ থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) নেমে
আসেন ৷ তখন আবু আইউব এবং খালিদ ইবন যায়দ (এগিয়ে এসে) উটের পালানটি বহন করে
ঘরে নিয়ে রাখেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার ঘরে অবতরণ করেন ৷ পুর্বেড়াক্ত খেজুর খলা সম্পর্কে
তিনি জানতে চান যে, এটা কার ? মুঅ্যায ইবন আফ্রা তাকে বলেন, ইয়া রড়াসুলাল্লাহ্! এটা
আম্র এর দৃইপুত্র সাহ্ল এবং সুহায়লের এবং তারা দুজন ইয়াভীম অবস্থায় আমার তত্ত্বড়াবধানে
রয়েছে ৷ আমি তাদের দৃ’জনকে রাযী করতে পারবো ৷ আপনি সেখানে মসজিদ বানিয়ে নিন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) সেখানে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন ৷ তিনি, আবু আইউবের গৃহেই অবস্থান
করেন ৷ মসজিদ আর বাসস্থান নির্মাণ না করা পর্যন্ত তিনি এখানেই অবস্থান করেন ৷ মসজিদ
নির্মাণের কাজে রাসুলুল্পাহ্ (সা) মুহড়াজির ও আনসারগণের সঙ্গে নিজেও অংশঃত্ত্বহণ করেন ৷
মসজিদ নির্মাণের কাহিনী একটু পরে আসছে ৷

ইমাম বায়হাকী দালাইলুন নবুওয়াত’ গ্রন্থে আবু আবদুল্লাহ্ সুত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণনা
করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করে শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আনসড়ার
নারী-পুরুষগণ উপস্থিত হয়ে তাদের ঘরে আহ্বান করেন ৷ জ্যি রাসুলুল্লাহ্ (সা ) পুর্বের মতই
জবাব দেন ৷

এ সময় বনু নাজ্জারের বালিকারা তাদের বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসে এবং দফ বাজাতে
বাজাতে বলতে থাকে :

আমরা নাজ্জার বংশের বালিকারা, মুহাম্মদ (সা) কতই না উত্তম প্রতিবেশী ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) গৃহ থেকে বের হয়ে তাদের উদ্দেশে বললেন : তোমরা কি আমাকে
ভালবাসা তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আল্লাহর কসমশ্, আমরা অবশ্যই আপনাকে ভালবাসি
তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) একে একে তিনবার বললেন :

“আল্লাহ্র কসম, আমিও ভোমাস্থদ্যাকে ভালবাসি ৷ ”

এ সুত্রে হাদীছটি গরীব ৷ সুনান গ্রন্থকারগণের মধ্যে কেউই হাদীছটি উদ্ধৃত করেননি ৷
অবশ্য হাকিম তার মুস্তাদরাকে’ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম বায়হাকী আবু আবদুর রহমান সুলড়ামী সুত্রে আনাস (বা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷

এতে বাড়তি এতটুকু আছে যে, তখন রাসুলুল্লড়াহ্ (সা) বললেন :
“আল্পাহ্ জানেন যে, আমার অন্তর তােমাদেরকে ভালবাসে ৷

ইমাম ইবন মাজা হিশাম ইবন আমার সুত্রে ঈসা ইবন ইউনুস থেকে হড়াদীছটি বর্ণনা
করেন ৷ ইমাম বুখারী মামার সুত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (না)
দেখতে পেলেন যে, নারী আর শিশুরা এগিয়ে আসছে ৷ রাবী বলেন যে, আমার ধারণা, আনাস
(রা) বলেছেন, তারা বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে আসছিল ৷ তখন নবী করীম (সা) সোজা
দাড়িয়ে বললেন : আল্লাহ জানেন, তোমরা আমার নিকট মানব জাতির মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় !
রাসুলুল্পাহ্ (সা) কথাটা তিনবার বললেন ৷

ইমাম আহমদ আবদুস সামাদ সুত্রে আনাস ইবন মালিক (রা ) থেকে বর্ণনা করে বলেন :

রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনা অভিমুখে রওনা করেন, আর তার সঙ্গে উটে নওয়াব ছিলেন আবু
বকর (রা) ! আবু বকর (রা)-কে বৃদ্ধ দেখাচ্ছিল এবং তিনি পরিচিত ছিলেন আর রাসুলুল্লাহ্
(না)-যুবক দেখাচ্ছিল, চেনা যাচ্ছিল না ৷ হযরত আনাস (বা ) বলেন আবু বকর (রা)-এর সঙ্গে
(রাস্তায়) কারো সাক্ষাত হলে জিজ্ঞাসা করতে! :

হে আবু বকর! তোমার সম্মুখে ইনি কে ? হযরত আবু বকর বলতেন : ইনি আমার
পথ-প্রদর্শক ৷ প্রশ্নকর্তা মনে করতে! যে, ইনি (মদীনায়) রাস্তা দেখাচ্ছেন ৷ আর হযরত আবু
বকর (বা) কল্যাণ আর মঙ্গলের পথশ্প্ৰদর্শক বলে বুঝাতেন ৷ আবু বকর (বা) ওদিকে তাকিয়ে
দেখেন যে, একজন অশ্বারোহী তাদের নিকটে এসে গেছে ৷ তিনি (আতংকিত হয়ে) বলে
উঠলেন :

হে আল্লাহর নবী! এ অশ্বারোহী তো একেবারে আমাদের কাছে এসে গেছে! রাসুলুল্লাহ্
(সা) সেদিকে ফিরে বললেন :

হে আল্লাহ্ ! তাকে নীচে নিক্ষেপ কর ৷ ঘোড়া তাকে নীচে নিক্ষেপ করে হনহন করতে শুরু
করে ৷ এরপর (লোকটি ঘোড়ার পিঠ থেকে পতিত হয়ে) বললো :

হে আল্লাহর নবী! আমাকে যা ইচ্ছা নির্দেশ করুন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন : এখানেই
থেমে যাও , আর কাউকে আমাদের দিকে আসতে দেবে না ৷ বর্ণনাকারী বলেন :

লোকটি দিনের শুরুতে ছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিরোধী, আর দিনের শেষে হয়ে যায় তার
সশস্ত্র রক্ষাকারী ৷ বর্ণনাকরী বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সা) হারবার দিকে অবতরণ করেন এবং
আনসারদের নিকট লোক প্রেরণ করেন তা এসে সালাম জানিয়ে বলেন : আপনারা দু’জন
শান্তিতে ও বরণীয়রুপে নওয়াব হোন! রাসুলুল্লাহ্ (সা) এবং আবু বকর (রা) সওয়ার হলেন
এবং আনসারগণ র্তাদেরকে সশস্ত্র অবস্থায় পরিবেষ্টন করে এগিয়ে নেয় ৷ ওদিকে মদীনায়
ত্বাদ রটে যায় যে, আল্লাহ্র নবী (সা) আগমন করেছেন ৷ তার! সকলে মাথা ভুলে তাকে
দেখে আর বলে : এসেছেন, আল্লাহর নবী এসেছেন ৷

বর্ণনাকাবী বলেন : নবী করীম (সা) এগিয়ে যান এবং আবু আইউবের গৃহের নিকটে গিয়ে
অবস্থান নেন ৷ বর্ণনাকারী আনাস (বা) বলেন : হযরত আবু আইউব তার গৃহে পরিবারের সঙ্গে
কথা বলছিলেন আর আবদুল্লাহ ইবন সালাম তা শুনতে পান ৷ তখন তিনি নিজের খেজুর বাগানে
পরিবারের লোকজনের জন্য খেজুর চয়ন করছিলেন ৷ খেজুর চয়ন রেখে দিয়ে যাতে চয়ন

করছিলেন সেই পাত্রটি সঙ্গে নিয়ে তিনি চলে আসেন এবং আল্লাহ্র কথা শুনে গৃহে ফিরে যান ৷
আর আল্লাহ্র নবী বললেন : কার ঘর আমাদের সবচাইতে কাছে ? আবু আইউব (রা) বললেন :
হে আল্লাহর নবী ৷ আমার ঘর ৷ এ আমার গৃহ, আর এ আমার গৃহের দরজা ৷ বললেন : যাও,
আমাদের বিশ্রামের আয়োজন কর ৷ তিনি যান এবং আয়োজন করে ফিরে এসে বলেন :

ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমি ব্যবস্থা করেছি ৷ আপনারা দু’জন চলুন এবং বিশ্রাম নিন ৷ আল্লাহর
নবী (সা) আগমন করলে আবদুল্লাহ ইবন সালাম খিদমতে হাযির হয়ে বলেন :

“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর সত্য নবী এবং আপনি আগমন করেছেন
সত্যসহ ৷” আর ইয়াহুদীরা আসে যে, আমি তাদের নেতার পুত্র নেতা এবং আমি তাদের মধ্যে
সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী এবং সবচেয়ে বেশী জ্ঞানীর সন্তান ৷ আপনি তাদের আহ্বান করুন এবং
জিজ্ঞেস করুন ৷ তারা এসে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে হাযির হলে রসৃলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে
বললেন :

হে ইয়াহুদী সমাজ! দুঃখ তোমাদের জন্য ৷ তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর ৷ সে আল্লাহর
কসম, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ্ সেই ৷ তোমরা তাে ভাল করেই জান যে, আমি সত্যি
সত্যিই আল্লাহ্র রাসুল ৷ তোমরা এটাও জান যে, সত্য নিয়েই আমার আবির্ভাব হয়েছে ৷
সুতরাং ইসলাম গ্রহণ করো ৷ তারা বললো, আমরা তা জানি না (অর্থাৎ আপনি যে আল্লাহর
রাসুল ৷ তাতো আমাদের জানা নেই) ৷ কথাটা তারা তিনবার উচ্চারণ করে ৷ অনুরুপভাবে ইমাম
বুথারী আব্দুস সামাদের দিকে সম্পৃক্ত না করে এককভাবে মুহাম্মদ সুত্রে হাদীছঢি বর্ণনা
করেছেন ৷

ইবন ইসহাকের আরো একটা বর্ণনা
ইবন ইসহাক ইয়াযীদ ইবন আবু হাবীব সুত্রে আবুআইউব (রা) থেকে বর্ণনা করেন :

রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন আমার গৃহে উঠেন, তখন তিনি নীচের তলায় অবস্থান করেন ৷ আমি
এবং উম্মু আইউব (অর্থাৎ আমার শ্রী) অবস্থান করি উপর তলায় ৷ তখন আমি বললাম, ইয়া
রাসুলাল্লাহ্ ৷ আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন ! আমি উপর তলায় থাকবাে আর
আপনি থাকবেন নীচতলায়, এটা আমার নিকট অসহ্য এবং জঘন্য বেয়াদবী ৷ তাই আমি চাই
যে, আপনি উপরে চলে আসুন এবং আমি নীচে নেমে যাই ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

হে আবু আইউব ! আমি ঘরের নীচতলায় অবস্থান করলে তাহবে আমি এবং যারা আমাদের
কাছে আসা-যাওয়া করবেন, তাদের জন্য সুবিধাজনক ৷ তাই রাসুলুল্লাহ্ (সা) গৃহের নীচতলায়
অবস্থান করলেন, আর আমরা অবস্থান করতে থাকি উপর তলায় ৷ একদিন একটা বড় পানির
পাত্র ভেঙ্গে গেল যাতে পানি ছিল ৷ তখন আমি এবং উম্মু আইউব এবন্টা চাদর বা লেপ নিয়ে
দাড়ায় ৷ আর আমাদের ঘরে কেবল একটা চাদর ছিল-যাতে চাদর পানি চুষে নেয়, যেন তা

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.