buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

রাসূলুল্পাহ্ (না)-এর মক্কায় প্রবেশ

নিয়ে হাযির !” আবু সুফিয়ান (রা) বললেন, “আল্লাহর শপথ, কুরায়শদের ধ্বংস অনিবার্য ৷ তোমার
উপর আমার মাতা পিতা কুরবান হোন! তাহলে এখন উপায় কী ?” আব্বাস (রা) বলেন, আমি
বললড়াম, “যদি কেউ তোমাকে কাবুতে পেয়ে যায়, সে তোমাকে নিশ্চয়ই হত্যা করবে ৷ কাজেই
এ খচ্চরের পিঠে চড়ে রস ৷ আমি তোমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (স্য)-ন্এর কাছে যার এবং তার
কাছে (তামার নিরাপত্তার আবেদন করব ৷ ” আব্বাস (বা) বলেন, তারপর সে আমার পিছনে
সওয়ার হলো ও তার দু’জন সাথী ফিরে চলে গেলো ৷ উরওয়া (ণ্রা) বলেন, বরং তারা দু’জন
সাথীও রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে আগমন করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ আর রড়াসৃলুল্লাহ্
(সা) তাদের দু’জনের কাছ থেকে মক্কারাসীদের সম্বন্ধে খবরাখবর ৰুরুনন ৷” ইমাম যুহ্রী (বা এবং
মুসা ইবন উকবা বলেন, “বরং তারা হযরত আব্বাস (রা)এর সাথে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর
খিদমতে হাযির হয়েছিলেন ৷”

ইবন ইসহাক বলেন, আব্বাস (বা) বলেন, “তারপর আমি তাকে নিয়ে যখন মুসলমানদের
কোন তাবুর আওতায় পাশ দিয়ে যাই, উপস্থিত লোকজন জিরু স করে , ইনি কে ? যখন তারা
রাসুলুল্লাহ্ (না) এর খচ্চর ও আমাকে তার উপর সওয়ার দেখতে পেতে৷ , তখন তারা বলরুতা ,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর চাচা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর খচ্চরের উপর সওয়ার ৷” এমনকি যখন আমি উমর
(রা) এর আগুনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন “ইনি কে ?” আমার প্ৰতি
লক্ষ্য করে যখন আবু সুফিয়ান (রা) কে খচ্চরের পিঠে আমার পিছনে দেখতে পেলেন, তখন
বলে উঠলেন, আল্লাহ্র দুশমন আবু সুফিয়ান ! আল্লাহর অসংখ্য প্রশংসা যে কোন চুক্তি ও
ৎপীকার ব্যতিরেকেই আল্লাহ তোমাকে আমাদের হাতের মুঠােয় এনে দিয়েছেন !” উরওয়া
ইবন যুবায়র (রা) বলেন, উমর (রা) আবু সুফিয়ান (বা) এর ঘাড়ে আঘাত করেন এবং হত্যা
করার মনস্থ করেন; জ্যি আব্বাস (রা) তাকে ধারণ করেন ৷

অনুরুপভাবে মুসা ইবন উববাে ইমাম যুহ্রী হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর গুপ্তচরেরা তাদের উটের রশি ধরে ফেলেন এবং জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কে ?’ তারা
বলেন, “রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে প্রেরিত প্রতিনিধি ৷” এরপর আব্বাস (রা) তাদের সাথে
মুলাকাত করেন এবং তাদেরকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) দরবারে প্রবেশ করেন ৷ এরপর আব্বাস
(বা) তাদের সাথে সারা রাত কথা বলেন এবং ভোর বেলায় তাদেরকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু
কালিমার দাওয়াত দিলেন ৷ তারা সাক্ষ্য দিলেন ৷ “আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ
(সা) আল্লাহ্র রাসুল ৷” হাকীম এবং বুদায়লও অনুরুপ সাক্ষ্য দিলেন ৷ আবু সুফিয়ান (রা) রাতে
বলেছিলেন, “আমি এসব জানিনা, কিন্তু ভোরবেলা ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ তারা তিনজন মিলে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে কুরায়শদের জন্যে নিরাপত্তার আবেদন করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঘোষণা
করেন, “যে আবু সুফিয়ান (রা)-এর ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ !” আর আবু সুফিয়ান
(রা) এর ঘর ছিল মক্কার উচ্চ ভুমিতে ৷ “যে হাকীম ইবন হিযড়াম (রা) এর ঘরে প্রবেশ করবে সে
নিরাপদ ৷” হাকীম ইবন হিযড়াম (রা)-এর ঘর ছিল মক্কার নিম্ন ভুমিতে ৷ “আর যে ব্যক্তি নিজের
ঘরের দরজা বন্ধ করে দেবে সেও নিরাপদ !” এগুলো ছিল রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) এর ঘোষণা ৷ আব্বাস
(বা) বলেন, “এরপর উমর (রা) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে পৌছার জন্যে দ্রুত রওয়ান৷ হলেন ৷
আমিও খচ্চরে সওয়ার হয়ে খচ্চরকে দ্রুত ইকোতে লাগলাম ৷ আমি তার আগে পৌছে গেলাম ৷

কেননা, ধীরগতির মানুষকে ধীর গতির জানােয়ার অতিক্রম করে যায় ৷ ” আব্বাস (রা) বলেন,
“আমি খচ্চর থেকে অবতরণ করে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম সাথে সাথে উমর
(রা)-ও ঘরে প্রবেশ করলেন ৷ তিনি বললেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ এই আবু সুফিয়ান, আল্লাহ
তাআলা কোন চুক্তি ও অঙ্গীকার ব্যতিরেকেই তাকে আমাদের আয়ত্বে এনে দিয়েছেন ৷ তাকে
হত্যা করার জন্যে আমাকে অনুমতি দিন !” আব্বাস (বা) বলেন, “আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ!
আমি কিন্তু তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি ৷ এরপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বসলাম এবং তীর
মাথা ধরে বললাম, আল্লাহর শপথ, আজকের রাতে আমি ব্যতীত আর অন্য কোন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর সাথে কানে কানে কথা বলতে পারছে না ৷ যখন উমর (রা) আবু সুফিয়ান (বা) এর
সম্বন্ধে বেশী বেশী পীড়াপীড়ি করতে লাপলেন, তখন আমি বললাম, থামাে হে উমর (রা) !
আল্লাহর শপথ, যদি সে বনু আদী ইবন কাবের কোন ব্যক্তি হত তাহলে তুমি এরুপ বলতেনা,
কিন্তু তুমি জান যে, আবু সুফিয়ান (বা) হচ্ছে বনু আবদে মান্নাষেহ্ একজন তাই তুমি এরুপ
বলছ ৷ উমর (রা) বললেন, থামুন, হে আব্বাস ! আল্লাহর শপথ, যেদিন আপনি মুসলমান
হয়েছিলেন যদি সেদিন আমার পিতা খাত্তাবও মুসলমান হতেন তাহলে আপনার ইসলামই আমার
পিতার ইসলামের চাইতে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হত ৷ তার কারণ হচ্ছে, আমি জানি যে,
আপনার ইসলাম গ্রহণ খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের চাইতে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে অধিকতর
প্রিয় ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, হে আব্বাস ! একে নিয়ে আপনি এখন আপনার আবাস স্থলে চলে
যান ৷ ভোর বেলায় আপনি তাকে নিয়ে আসবেন ৷ আব্বাস (রা) বলেন, আমি তাকে নিয়ে আমার
আবাস স্থলে গেলাম ৷ সে আমার কাছে রাত যাপন করে ৷ পরদিন ভোরে আমি তাকে নিয়ে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরবারে হাযির হলড়াম ৷ তিনি তাকে দেখে বললেন, “হে আবু সুফিয়ান !
তোমার জন্যে দৃর্তোগ, এখনও কি তোমার সময় আসেনি যে, তুমি জানবে আল্লাহ ছাড়া কোন
মাবুদ নেই ?” উত্তরে তিনি বললেন, “আপনার উপর আমার মা-বাপ কুরবান হোন ৷ আপনি
কতইনা ধৈর্যশীল ! আপনি কতইনা সম্মানিত এবং আপনি কতই না আত্মীয়তার প্রতি লক্ষ্য রাখেন ৷
আল্লাহর শপথ, আমার বিশ্বাস, আল্লাহর সাথে যদি অন্য কোন মা’বুদ থাকত তাহলে সে আমাকে
কিছু না কিছু সাহায্য কর তে ৷” রা সুণুল্লা হ (সা) বললে ন , “তোমার দৃর্তোগ, এখনও কি তোমার
সময় আসেনি যে, তুমি আমাকে আল্লাহর রাসুল বলে জানবে ?” আবু সুফিয়ান বলল, আপনার
উপর আমার মা-বাপ কুরবান হোন ! আপনি কতইনা ধৈর্যশীল ! আপনি কতইনা সম্মানিত এবং
আপনি কতই না আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী ৷ তবে আল্লাহর শপথ, এখনও এ ব্যাপারে আমার
অন্তরে কিছু দ্বিধা রয়েছে ৷ আব্বাস (বা) তখন তাকে বললেন, “তোমার দুর্তোগ, তোমার গর্দান
কাটা যাওয়ার পুর্বেই ইসলাম গ্রহণ কর এবং সাক্ষ্য দাও আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং
মুহাম্মাদ নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসুল ৷ ” রাবী বলেন, “এরপর আবু সুফিয়ান এ সাক্ষ্য দেয়ার
মাধ্যমে মুসলমান হয়ে গেলেন ৷ আব্বাস (রা) বলেন, “এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ !
নিঃসন্দেহে আবু সুফিয়ান এমন একজন মানুষ যে গৌরব পসন্দ করে ৷ তাকে গৌরবজনক কিছু
একটা দান করুন ! রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে
নিরাপদ ৷ ” রাবী উরওয়া (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “ যে হাকীম ইবন হিযাম এর ঘরে
প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ ৷” মুসা ইবন উকবা, ইমাম যুহরী হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,

রাসুলুল্লাহ্ (সা) আরো বলেছিলেন, “যে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেবে সেও নিরাপদ ৷
আর যে মসজিদে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ ৷” যখন তিনি বিদায় হবার আবেদন পেশ করলেন
তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “হে আব্বাস (বা) ৷ তাকে নিয়ে গিরিসংকটের নিকট সংকীর্ণ
জায়গায় রেখে এবন্টু থামারেন ৷ ওখান দিয়ে আল্লাহর লস্করসমুহ অতিক্রম করার সময় সে যেন
দেখতে পায় ৷

মুসা ইবন উকবা ইমাম যুহ্বী (র) হতে বর্ণা৷ করেন, তিনি বলেন “নিশ্চয়ই আবু সুফিয়ান
(বা) , বুদায়ল (রা) ও হাকীম ইবন হিযাম (রা) আব্বাস (রা)-এর সাথে গিরি সংকটে দওায়মান
ছিলেন ৷” তিনি আরো বলেন, “সা’দ (রা) যখন আবু সুফিয়ান (রা) কে লক্ষ্য করে বললেন,
“আজকের দিন যুদ্ধের দিন, আজকের দিনে হারামকে হালাল কর হবে ৷’ অ আবু সুফিয়ান (রা)
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে অনুযােগ করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (স ) এজন্য সা দকে আনসারের পতাকা
বহন থেকে অব্যাহতি দিলেন এবং যুবায়র ইবন আওয়াম (রা) কে আনসারের পতাকা অর্পণ
করেন ৷ তিনি তা নিয়ে মক্কার উচ্চ ভুমি হয়ে মক্কায় প্রবেশ হারেন এবং হাজ্জন নামক স্থানে
পতাকাটি স্থাপন করেন ৷ খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা ) নিম্নভুমি দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন ৷ তার
সাথে সাক্ষাত হয় বনু বকর ও হুযায়ল গোত্রদ্বয়ের ৷ বনু বকরের ২০ জন এবং হুযায়লের ৩৪
জনকে তিনি হত্যা করেন ৷ তাদেরকে তিনি পরাজিত করেন ও হাযুরায় তাদেরকে হত্যা করেন ৷
তাদের এ হত্যাকাণ্ড মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌছে ছিল ৷

আব্বাস (রা) বলেন, “আমি আবু সুফিয়ান (রা) কে নিয়ে অতিক্রম করার স ৎকীর্ণ জায়গায়
উপস্থিত হলাম যেখানে তাকে নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে নির্দেশ
দিয়েছিলেন ৷” তিনি আরো বলেন, “গোত্রসমুহত তাদের ঝাও৷ নিয়ে অতিক্রম করছিল ৷ যখনই
একটি গোত্র অতিক্রম করতে তা আবু সুফিয়ান (রা) আব্বাস (রা ) কে বললেন “হে আব্বাস (রা) !
এরা কারা ? ” তখন তিনি জবাব দিলেন, এরা বনু সুলায়ম ৷ আবু সুফিয়ান (রা ) বললেন, “আমারও
বনু সুলায়মের মধ্যেত কোন শত্রুতা নেই ৷ এরপর আরো একটি গোত্র অতিক্রম করল তখন সে
বললেন, (“হ আব্বাস ! এরা কারা ? আমি বললাম, “এরা মুযায়ন৷ গো ৷” আবু সুফিয়ান (রা)
বললেন, “আমরাও মুযায়নার মধ্যে কোন খারাপ সম্পর্ক (নই ৷” এরুপে অন্যান্য গোত্রগুলো
অতিক্রম করল ৷ আবুসুফিয়ান প্রশ্ন করতো এরা কারা ৷? আমিও তার উত্তর দিতাম ৷ সে বলতো
যে, আমার ও অমুক গোত্রের মধ্যে কোন প্রকার মনােমালিন্য নেই ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার
সবুজ বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন ৷ তাদের মধ্যে ছিলেন যুহাজির ও আনসারগণ ৷ র্তার৷ সকলে
বর্ম পরিহিত ছিলেন ৷ আবু সুফিয়ান (রা) বলল, “সুবহান৷ ল্লাহ্, হে আব্বাস (রা) ! এরা কারা ?”
তিনি বলেন, “আমি বললাম, ইনিণ্ডে ৷ মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ্, যিনি মুহাজির ও আনসারদের
পরিরেষ্টিত হয়ে আগমন করেছেন ৷” সে বলল, এদের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি কারোর নেই ৷
আল্লাহর শপথ, হে আবুল ফযল ৷ তোমার ভাইপো তো বড় বাদশা হয়ে গেছেন ৷ ’ আব্বাস (বা)
বললেন, আমি বললাম “হে আবু সুফিয়ান (রা) ! এটা নিঃসন্দেহে নৃবুওতের নিদর্শন ৷” সে
বলল, তাহলে তো এটা উত্তমই বলতে হয় ৷” তিনি বলেন, আমি বললাম, তােমা র সম্প্রদায়ের
মুক্তির ব্যবস্থা কর ৷ যখন আ বু সুফিয়ানের সম্প্রদায় কুরায়শদের প্রতি অগ্রসর হলো৩ তখন উচ্চস্বরে
ঘোষণা দিতে লাগলো , “হে কুরায়শের লোকেরা ! মুহাম্মাদ এসেছেন ৷ তার মুকা ৷বিলা করার শক্তি

তামাদের (নই; সুতরাং আত্মসমর্পণ কর ৷ যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে, সে
নিরাপদ ৷” তার ত্রী হিন্দা বিন্ত উতবা তার সামনে এসে দাড়াল এবং রাগে তার পৌফ ধরে
বলল, “এ ভুড়িওয৷ লা হতভাগাকে তোমরা হত্যা কর ৷ সে কতই না মন্দ প্রতিনিধি ! আবু সুফিয়ান
(বা ) বললেন, “তোমাদের জন্যে দুর্তোগ, তোমরা নিজেকে নিয়ে আর অহংকার করােনা ৷
কেননা, তিনি এসেছেন৩ তার বিশাল বাহিনী নিয়ে আজকের দিন তার মৃকাবিল৷ করার ক্ষমতা
তোমাদের মধ্যে (নই ৷৩ তাই যে আবু সুফিয়ান (রা) এর ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ’ ৷
জনগণ বলল, আল্লাহ্ তোমায় ধ্ব০ স করুক তোমার ঘর আমাদের কতদর কাজে লাগবে ?” সে
বলল, “যে তার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেবে, সে নিরাপদ ৷ আর যে মসজিদে প্রবেশ করবে সেও
নিরাপদ ৷ লোকজন তাদের ঘরে ও মসজিদে চলে গেল ৷

উরওয৷ ইবন যুবায়র (রা) উল্লেখ করেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন আবু সুফিয়ান (বা) এর কাছ
দিয়ে অন্যান্য গোত্র সহকারে অতিক্রম করছিলেন তখন তিনি রাসুলুহুা৷হ্ (সা) কে বললেন, “আমি
অনেক লোককেই দেখছি যাদেরকে চিনতে পারছি না ৷ এসব লোক আমাদের জন্যে অতিরিক্ত
বলেই মনে হয় ৷” জবাবে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “ভুমি ও তোমার সম্প্রদায় বহু কিছু করেছ ৷
তোমরা যখন আমাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছ ৷ এ লোকগুলো তখন আমাকে স৩ বাদী বলে বরণ
করেছে ৷ তোমরা যখন আমাকে দেশছাড়৷ করেছ ৷ তখন তারা আমাকে সাহায্য করেছে ৷”

যখন আবু সুফিয়ান (বা) সাদ ইবন উবাদা (রা)-এর কথা নিয়ে অভিযোগ করেন ৷ সাদ ইবন
উবাদ৷ (বা ) যখন আবু সুফিয়ান (বা ) এর সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তখন তিনি
বলেছিলেন, “হে আবু সুফিয়া ন ! আজকের দিন যুদ্ধের দিন, আজকের দিনে৷ হ৷ রামকে হালাল করা
হবে ৷ অর্থাৎ বায়তুল্লাহ্র হুরমত আজ আর মানা হবে না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেন , “সা দ মিথ্যা
বলেছে বরং আজকের দিন, এমন একটি দিন যে দিনে আল্লাহ তাআলা কা’বাকে ইযযত দান
করবেন ৷ আর আজকের দিনে কা’বাকে গিলাফ পরানাে হবে ৷

উরওয৷ (বা) উল্লেখ করেন, যে রাতে আবুসুফিয়ান (বা) আব্বাস (রা)শ্এর কাছে ছিলেন,
পরদিন ভোরে তিনি লোকজনকে দেখতে পান যে, তারা সালাত আদায়ের দিকে মনােযোপী
হয়েছেন এবং পবিত্রতা অর্জনের জন্যে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়েছেন এতে তিনি ভীত হয়ে
পড়েন এবং আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করেন “তাদের কী হয়েছে ?’ আব্বাস (বা) বললেন,
“তারা আযানের ধ্বনি শুনেছেন এবং তারা সাল ৷ত আদায়ের জন্যে ছড়িয়ে পড়েছেন ৷” তারপর
যখন সালাত শুরু হল তখন তিনি তাদেরকে দেখলেন যে, তা রা৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর ককুর সাথে
ককু করছেন এবং তার সিজদার সাথে তারাও সিজদা করছেন ৷ তখন তিনি বললেন, “হে
আব্বাস ! তিনি যেই কাজেরই৩ ৷ তাদেরকে আদেশ করেন সেই কা ৷জই কি ত ৷র৷ করেন ষ্ ” আব্বাস
(রা ) বললেন, “হ্যা, আল্লাহর শপথ, যদি তিনি তাদেরকে খাবার বও পানীয় ছেড়ে দিতে বলেন,
তাহলেও তারা অবশ্যই তার আনুগত্য করবে ৷

মুসা ইবন উকব৷ ইমাম যুহ্রী হতে বর্ণনা করেন ৷ যখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঐদিন উয়ু করলেন ,
তখন তারা উয়ুর পানি হাতে হাতে নিয়ে নিলেন ৷ আবু সুফিয়ান (বা) বললেন, হে আব্বাস (বা) ৷
গত রাতের ঘটনার ন্যায় আমি কিসৃরা ও কায়সারের দরবারেও কখনো দেখিনি ৷

ইমাম বায়হাকী (ব) ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আবু
সুফিয়ান (বা) কে নিয়ে আব্বাস (রা) রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে আগমন করলেন ৷ এরপর রাবী
সম্পুর্ণ ঘটনা বর্থাং৷ করেন, তবে একথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে
যেদিন ভোরে তিনি আগমন করেন তার পুর্ব রাতেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ আবার এ কথাও
উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন তাকে বললেন, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ
করবে সে নিরাপদ ৷ আবু সুফিয়ান (বা) বললেন, আমার ঘরতে৷ অতটা প্রশস্ত নয় ৷ ’ রাসুলুল্লাহ্
(সা) বললেন, “যে ব্যক্তি কাব৷ ঘরে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ ৷’ তখন তিনি বলেন, “কাবা
ঘরওতে৷ অভ প্রশস্ত নয় ৷ ” রাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন বললেন, “যে ব্যক্তি মাসজিদৃল হারামে প্রবেশ
করবে সেও নিরাপদ ৷” তখনও তিনি বললেন, “মসজিদও তাে অত প্রশস্ত নয় ৷” তখন তিনি
বললেন, “যে ব্যক্তি নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেবে, সেও নিরাপদ ! আবু সুফিয়ান (বা) বলেন,
“হ্যা, এতে স্থান সঙ্কুলান হতে পারে ৷”

ইমাম বুখারী (র) হিশামের পিতা হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
যখন মক্কা বিজয়ের বছর উক্ত অভিযানে বের হন ও এ খবর কুরায়শদের কাছে পৌছে ৷ তখন
রাসুলুল্পাহ্ (সা) সম্বন্ধে বিস্তারিত সংবাদ সংগ্রহের জন্যে আবু সুফিয়ান ইবন হারব , হাকীম ইবন
হিযাম ও বুদায়ল ইবন ওরাক৷ ঘর থেকে বের হলেন ৷ তারা সামনে অগ্রসর হয়ে মার্কয যাহ্রান
পৌছেন, তখন তারা সেখানে অভ বেশী পরিমাণে অগ্নি লক্ষ্য করলেন, যেমনটা আরাফাতের
ময়দানে দেখা যায় ৷ আবু সুফিয়ান (রা) বললেন, এগুলাে কি ? মনে হয় যেন আরাফাত ময়দানের
আগুন ৷ ’ বুদায়ল ইবন ওরাক৷ (রা) বললেন, এগুলো সম্ভবতঃ বনু আমরের প্রজ্বলিত আগুন ৷ আবু
সুফিয়ান (বা) বললেন, তারা সংখ্যায় এর চেয়ে অনেক কম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কয়েকজন
প্রহরী তাদেরকে দেখে ফেলেন এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে ফেলেন ৷ তাদেরকে নিয়ে তখন
র্তারা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরবারে উপস্থিত হন ৷ তখন আবু সুফিয়ান (বা) ইসলাম গ্রহণ করেন ৷
এরপর যখন তিনি চলে যাবার অনুমতি চাইলেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) আব্বাস (রা)-কে
বললেন, “আবু সুফিয়ানকে পাহাড়ের প্রবেশ মুখে সংকীর্ণ স্থানে নিয়ে যাও, যাতে সে মুসলিম
সৈন্যদের প্রতি লক্ষ্য করতে পারে ৷ আব্বাস (বা) তাকে ওখানে নিয়ে গেলেন ৷ পােত্রসমুহ
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে দলে দলে আবু সুফিয়ানের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন ৷ একটি
গোত্র যখন অতিক্রম করল তখন আবু সুফিয়ান (রা) আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “এরা
কারা ?” তিনি উত্তরে বললেন “এরা পিফার গোত্র ৷” তখন তিনি বললেন, “আমার ও শিক্ষার
গোত্রের মধ্যে কী সম্পর্ক ?” অর্থাৎ তারাতে৷ আমাদের শত্রু নয় ৷ এরপর জুহায়ন৷ গোত্র
অতিক্রম করে ৷ তাদের ক্ষেত্রেও অনুরুপ কথোপকথন হয় ৷ এরপর সাদ ইবন হুযায়ম গোত্র
অতিক্রম করে ৷ তাদের সম্পর্কেও অনুরুপ কথোপকথন হয় ৷ তারপর সুলায়ম গোত্রের ব্যাপারে
অনুরুপ কথোপকথন হয় ৷ তারপর এমন একটি সৈন্যদল আসল যাদের ন্যায় পুর্বে আর কখনও
দেখা যায়নি ৷ আবু সুফিয়ান (বা) বললেন, “এরা কারা ? আব্বাস (বা) বললেন, “এরা
আনসার যাদের আমীর হলেন সাদ ইবন উবাদ৷ (বা) যার সাথে রয়েছে পতাকা ৷ সাদ ইবন
উবাদ৷ (রা ) বললেন, “হে আবু সুফিয়ান ! আজকের দিন যুদ্ধের দিন, আজকের দিনে কা’বাকে
নিষেধমুক্ত গণ্য করা হবে ৷” তারপর আবুসুফিয়ান (রা) বলেন, “হে আব্বাস (বা) ! সামনে

বিরাট গণ্ডগােল মনে হচ্ছে ! এরপর একটি স্বল্প সংখ্যক সৈন্যের বাহিনী আসল, র্তাদের মধ্যে
ছিলেন আল্লাহর রাসুল (সা) ও তীর সাহাবীগণ ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পতাকাবাহী ছিলেন যুবায়র
ইবনুল আওয়াম (বা) ৷ রাসৃলুল্লাহ্ (সা) যখন আবু সুফিয়ান এর সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন
আবু সুফিয়ান রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে বলেন, “আপনি কি জানেন, সাদ ইবন উবাদা (বা) কী বলছেন
? ” তিনি বললেন, “কী বলেছে ?” তখন তিনি উত্তরে বললেন, এরুপ এরুপ ৷” রাসুলুল্লাহ্ (যা)
বললেন, সাদ (বা) সঠিক বলেনি, বরং আজকের দিনে আল্লাহ্ তাআল৷ কা ’বাকে সম্মান দান
করবেন, আজকের দিনে কা’বাকে গিলাফ পরানাে হবে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হাজুনে তীর ঝাণ্ডা স্থাপন
করার জন্যে আদেশ করলেন ৷

উরওয়া (বা) আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ আব্বাস (বা) ষুনায়র ইরনুল আওয়াম
(রা)-কে জিজ্ঞেস করেন, এখানে কি পতাকা স্থাপন করার জন্যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) নির্দেশ
দিয়েছেন ?” তিনি বললেন, হীা’ ৷ তিনি বললেন, “রাসুলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা)কে
মক্কার উচু ভুমি কাদা’ দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) থােদ প্রবেশ
করেছেন কুদা’ অঞ্চল দিয়ে ৷ খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা)-এর বাহিনীর দুই ব্যক্তি হুনায়শ ইবন
আল-আশআর ও কুবয ইবন জাবির আলফিহরী ঐ দিন শহীদ হন ৷

আবু দাউদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন ,
“মক্কা বিজয়ের বছর আবু সুফিয়ান ইবন হারব (রা)-কে নিয়ে আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রা)
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে আগমন করেন ৷ আবু সুফিয়ান মার্কয যাহ্রানে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে লক্ষ্য করে আব্বাস (রা) বলেন, ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্ ! নিশ্চয়ই আবু সুফিয়ান (বা )
এমন এক ব্যক্তি যিনি গৌরব পসন্দ করেন ৷ আপনি যদি তার জন্যে গৌরবের একটি কিছু
করতেন ! রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, “ঠিক আছে ৷ যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ান (রা ) এর ঘরে প্রবেশ
করবে, সে নিরাপদ ৷ আর যে ব্যক্তি আপন ঘরের দরজা বন্ধ করে দেবে , সেও নিরাপদ ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মক্কায় প্রবেশ

বুখারী ও মুসলিম শরীফে আনাস (রা) থেকে বর্ণিত ৷ রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ
পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন ৷ তিনি মাথা থেকে শিরস্ত্রাণ খৃলতেই এক ব্যক্তি এসে
বললাে , ইবন খাতাল কাবার গিলাফ ধরে দাড়িয়ে আছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তাকে হত্যা
কর ৷ ইমাম মালিক (র) বলেন, আমাদের ধারণা মতে সেদিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইহ্রাম পরা
অবস্থায় ছিলেন না ৷ ইমাম আহমদ আফ্ফান জাবির (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, মক্কা
বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) কাল পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন ৷ এ হাদীছটি
তিরমিযী নাসাঈ , আবু দাউদ ও ইবন মাজা হামমাদ ইবন সালড়ামা সুত্রে রিওয়ায়াত করেছেন এবং
তিরমিযী একে হাসান সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন ৷ ইমাম মুসলিম কুতায়বা ও ইয়াহ্য়৷ ইবন
ইয়াহ্য়৷ জাবির সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় প্ররেশকালে কাল পাগড়ী
পরিহিত ছিলেন ৷ তখন তিনি ইহ্রাম অবস্থায় ছিলেন না ৷ ইমাম মুসলিম আবু উসামা সুত্রে
আমর ইবন হুরায়ছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি, মক্কা
বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর মাথায় মোট কাল রং এর পাগড়ী পরা ছিল, যার শামলা দৃই

র্কাধের মাঝখানে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন ৷ মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ গ্রন্থসমুহে হযরত জাবির
বর্ণিত হাদীছে আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কায় প্রবেশ করেন তখন তিনি কাল পাগড়ী
পরিহিত ছিলেন, ৷ সুনানে আরবাআ (অর্থাৎ তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ ও ইবন মাজার)
গ্রন্থকারগণ ইয়াহ্য়া ইবন আদম সুত্রে জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মক্কায়
প্রবেশকালে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর পতাকা ছিল সাদা ৷ ইবন ইসহাক হযরত আইশার হাদীছ উদ্ধৃত
করেছেন যে, মক্কা বিজয়কালে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পতাকার রং ছিল সাদা এবং ব্যানারের রং ছিল
কাল ৷ পতাকার নাম ছিল উকাব ৷ একটা পশমী চাদর কেটে এটা তৈরি করা হয়েছিল ৷ বৃখারী
শরীফে আবুল ওয়ালীদ সুত্রে আবদৃল্লা হ্ ইবন মুগাফফ৷ ল থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, মক্কা
বিজয়ের দিন আ ৷মি রাসুলুল্লাহ্ (সা) কেত তার উদ্রীব উপর নওয়াব অবস্থয় সুরা ফাতহ ত ৷রজী করে
(টেনে টেনে) পড়তে শুনেছি ৷ রর্ণনাকারী মুআৰিয়া ইবন কুবৃরাত৷ বলেন , আমার চারপাশে
লোকজন সমবেত হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকলে আবদুল্লাহ ইবন মুগ ৷ফ্ফাল যেভাবে রাসুলের
তারজী’ নকল করে আমাকে শুনিয়েছিলেন আমিও সেভাবে ত্;চারজী’ করে শুনাত ৷ম ৷ ইবন
ইসহ ক বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যী তৃয়া
পর্যন্ত পৌছে আপন বাহনের উপর থেমে যান ৷ তখন তিনি ছিলেন ইয়ামনী লাল বর্ণের চাদরের
পাপড়ী পরিহিত ৷ আল্লাহ তাকে বিজয় দান করে যে গৌরব দান করেছেন সে কথা স্মরণ করে
আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হয়ে মাথা এতই ঝুকিংয় দেন যে, তার দাড়ি মুবারক হাওদার সাথে প্রায়
লেগে যায় ৷ হাফিয বায়হাকী আবুআবদৃল্লাহ্ আল-হাফিয়ের একটি সুত্রে হযরত আনাস
(রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ মক্কা বিজয়ের দিনে শহরে প্রবেশ করার সময় বিনয়ভাবে রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর থুতনী মুবারক বাহনের পিঠের সাথে মিশে যায় ৷ তার আর একটি সুত্রে ইবন
মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন এক ব্যক্তি এসে রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে
আলাপ করছিল ৷ তখন (ভয়ে) তার দেহে র্কাপন ধরে যায় ৷ তিনি বললেন, স্বাভাবিক হও !
(ভরের কোন কারণ নেই ৷) কেননা, আমি এমন একজন কুরায়শী মহিলার সন্তান যিনি সং রক্ষিত
শুকনো গোশৃত যেয়ে জীবন ধারণ করতেন ৷ বায়হাকী বলেন এ হাদীছটি ইসমাঈল ইবন আবুল
হারিছ থেকে মুত্তাসিল এবং ইসমাঈল ইবন কায়স থেকে মুরসালভাবে বর্ণিত হয়েছে ৷ এখানে
লক্ষণীয় বিষয় হল, মক্কা বিজয় অভিযানে মক্কায় প্রবেশকালে এই বিশাল তেজদীপ্ত সৈন্য বাহিনীর

সাথে থেকে এ রকম বিনয় প্রকাশ করা, বনী ইসরাঈলেব নির্বে৷ ৷ধদের সেই ঘটনার সম্পুর্ণ বিপরীত
চিত্র যেখানে তাদেরকে নির্দেশ দেয়৷ হয়েছিল বায়তুল মুক ৷দ্দাসের প্রবেশ দ্বার অতিক্রমকা ৷লে
রুকু-সিজদা বত অবস্থায় মাথা নত করে যাওয়ার জন্যে এবং মুখে হিত্তা ৷তুন’ (ক্ষমা চাই) শব্দ
উচ্চারণ করতে ,কিন্তু তা রা৷ মাথা উচু রেখে নিতন্বের উপর ভর করে তা মাটিতে ঘেষতে যেষতে
প্রবেশ করে ৷ এবং হিত্তা ৷তুন শব্দ পরিবর্তন করে হিন৩ তাতুন ফী শাঈরাতিন’ (ঘরের মধ্যে গম)
বলতে থাকে ৷ বুথারী কাসিম ইবন খারিজ৷ আইশা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ মক্কা
বিজয়ের বছর নবী (সা) মক্কার উচু এলাকা কাদা এর দিক থেকে প্রবেশ করেন ৷ আবু উসামা
এবং ওহাবও তা ৷র পিছে পিছে কাদা এর দিক থেকে প্রবেশের কথা বর্ণনা ৷করেছেন ৷ উবায়দ
ইবন ইসমাঈল হিশাম৩ তার পিত ৷ থেকে বর্ণিত যে মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সা) মক্কার
উচু এলাকা অর্থাৎ কাদা’ নামক স্থান দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন ৷ মুরসাল হাদীছ যদি মুসনাদ হাদীছ

অপেক্ষা উৎকৃষ্ট হয় তা হলে প্রথম বর্ণনা থেকে দ্বিতীয় বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ ৷ নচেৎ প্রসিদ্ধতর ও
সঠিক মত অনুযায়ী মক্কার উচু এলাকাকে বলা হয় কাদা ( ন্ ৷ ($) এবং মক্কার নিম্ন ভুমিকে বলা হয়

( এোছু ) কুদা ৷ আমরা পুর্বে উল্লেখ করেছি এবং সহীহ্ বুখারীর বর্ণনায়ও এসেছে যে সে দিন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) খড়ালিদ ইবন ওয়ড়ালীদকে মক্কার উচু এলাকা (কাদা) দিয়ে প্রবেশ করার জন্যে
প্রেরণ করেন এবং নবী করীম (সা) নিজে মক্কার নিম্ন এলাকা কুদার দিক থেকে প্রবেশ করেন ৷
আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ বায়হাকী বলেন, আবুল হুসায়ন ইবন আবদান — ইবন উমর (রা)
থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন
মহিলারা এসে অশ্বগুলাের মুখের ধুলাবালি মুছে দিতে থাকে ৷ এ দৃশ্য দখে রাসৃলুল্লাহ্ (সা)
ঘুচকি হেসে আবু বকরকে বললেন, আবু বকর ! হাসৃসানেব কবিতাটা কী ? তখন আবু বকর (রা )
হাসৃসানের নিম্নোক্ত কবিতাৎশ আবৃত্তি করেন : ইয়াইেয়৷ ইয়াহ্ইয়া

অর্থ : তোমরা যদি লক্ষ্য না রাখ, তা হলে আমি আমার প্রিয় অশ্বগুলো হারাব ৷ যেগুলো কাদা
নামক স্থানের দুই প্রান্তের ধৃলাবালি উড়িয়ে চলছিল ৷ যীন পরান অবস্থায় সেগুলো লাগামের সাথে

প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল ৷ আর মহিলারা তাদের ওড়না দিয়ে সেগুলোর ধুলাবালি ঝেড়ে
দিচ্ছিল ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হাসৃসান যেভাবে বলেছে সেভাবে একে অন্তর্ভুক্ত কর ৷

ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াহ্য়া ইবন আববাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র তার পিতার সুত্রে,
তার দাদী আসমা বিনত আবু বকর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন যী
তৃওয়ড়ায় অবস্থান করেন, তখন আবু কুহাফ৷ তার কনিষ্ঠতম কন্যাকে ডেকে বললেন, হে আমার
কন্যা ! আমাকে আবু কুরায়স পাহাড়ে নিয়ে চলো ৷ আসৃমা বলেন, তখন তার দৃষ্টিশক্তি লোপ
পেয়ে গিয়েছিল ৷ সে অবস্থায় কন্যাটি তাকে নিয়ে পাহাড়ে আরোহণ করল ৷ আবু কুহাফা
বললেন, হে আমার কন্যা ! তুমি কি দেখতে পাচ্ছে৷ ? মেয়েটি বললো, আমি এক বিশাল
জনসমষ্টি দেখতে পাচ্ছি ৷ আবুকুহাফা বললেন, এরা অশ্বারোহী বাহিনী ৷ যেয়েটি আরো বললো,
আমি এক ব্যক্তিকে উক্ত জনসমষ্টির আগে পিছে অত্যন্ত তৎপর দেখতে পাচ্ছি ৷ আবু কুহাফা
বললেন, হে আমার কন্যা ঐ ব্যক্তিই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আগে আগে থাকছে ৷
তারপর যেয়েটি বললো, আল্লাহর কসম, জনতা এখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে ৷ আবু কুহাফা
বললেন, আল্লাহর কসম , তা হলে অশ্বারােহী বাহিনীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ৷ তুমি আমাকে
তাড়াতাড়ি বাড়ি নিয়ে চলো ৷ তখন যেয়েটি তাকে নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসে ৷ কিন্তু
বাড়িতে পৌছবার আগেই তিনি অশ্বারােহীদের সামনে পড়ে যান ৷ আসমা বলেন, যেয়েটির গলায়
স্বর্ণের একটি হার ছিল, এক ব্যক্তি অগ্রসর হয়ে তার গলা থেকে হারটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় ৷ আসমা
বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন মক্কায় আসেন এবং মসজিদে প্রবেশ করেন ৷ তখন আবু
বকর তার পিতাকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে দেখেই বললেন,

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It on Pinterest