Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

রাসূলুল্লাহ্ (সা)- এর হজ্জ ও ঊমরার সংখ্যা প্রসঙ্গ

রাসূলুল্লাহ্ (সা)- এর হজ্জ ও ঊমরার সংখ্যা প্রসঙ্গ

তৃডীয়বারের একত্রিত হওয়ার ঘটনা ৷ এ এ ৷ রআওের শ্লেশ্রুত্যি৩ হিজরত সংঘটিত হল (যার
বিশদ বিবরণ যথাস্থানে আমরা প্রদান করে এসেছি) ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷

হযরত জাৰির ইবন আবদুল্লাহ (বা) সুত্রে জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবনুল হুসায়ন
(বা) এর রিওয়ায়াতে রয়েছে জাৰির (বা) বলেন, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) নয় বছর যাবত মদীনায়
অবস্থান করলেন ৷ তখনো তিনি হজ্জ করেন নি ৷ তারপর লোকদের মাঝে হজ্জ যাত্রার ঘোষণা
দিলেন ৷ ফলে মদীনায় বিশাল জনসমাগম হল ৷ যিলকদের পড়াচ দিন কিৎবা চারদিন বাকী
থাকাকালে রাসুলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলেন ৷ যুল হুলায়ফায় উপনীত হয়ে তিনি সালাত
আদায় করণেণ, তারপর ওার বাহনে আরোহণ করণোণ ৷ বাহন ওাফ্লো নিয়ে প্রাম্ভরের পথ
বয়সে তিনি তালবিয়ড়া (লাব্বায়কা ) পাঠ করলেন; আমরাও সাথে সাথে লাব্বায়ক উচোরণ
করলাম ৷ আমাদের তখন হজ্জ ব্যতিরেকে অন্য কিছুর নিয়ত ছিল না ৷ মুসলিম (র) বর্ণিত
সুদীর্ঘ হাদীসটি পরে বিবৃত হবে এ হাদীসের ভাষ্য ৷

আবু দুজানা সিমাক ইবন হারশা আর সাঈদী (বা) (মতাতরে) সিবা ইবন
উঃাকাতা আল গিফারী (বা)-কে মদীনায় স্থলাভিষিক্ত করে

রফ্তোহ্ (না)-এর বিদায় হহ্রজ্জ্ব যাত্রা শুরু

মুহাম্মদ ইবন ইগ্হাৰ (র) বলেন দশম হিকর্ভৰীর যিলকদ মাসে রাসুলুল্লাহ্ (সা) হহ্বজ্জ্বর
প্রস্তুতি নিতে লাগ্দ্যে এবং সেস্ফোকও প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিলেন ৷ এ বিষয় আবদুর
রহমান ইবনুল কাসিম (ইবন মুহাম্মদ) (র)ননী জ্জীম (না) সহধ্নীি হযরত স্রাইশা (রা)-
এর বরাতে আমাকে বলেছেন, অইিশা (বা) বলেন, ৰিলকদের পাচ রাত বাকী থাকতে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) হরুজ্জর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন ৷ এ সনদটি বেশ উত্তম ৷ ইমাম মালিক (র)
র্তার মুআত্তা গ্রন্থে ইয়াহ্য়ড়া ইবন সাঈদ আলআনসারী (র) হতেআইশা (বা)-এর বরাতে
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এ হাদীসটি সহীহ্ বুখারী-ঘৃসলিমসহ সুনানই নাসাঈ, ইবন মড়াজা ও
মুসান্নাফ ইবন আবু শায়বাতে ইয়াহ্য়ড়া ইবন সাঈদ আল-আনসারী (র) থেকে বিভিন্ন সুত্রে
আইশা (বা) হতে উল্লিখিত হয়েছে তিনি বলেন, আমরা বাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সঙ্গে বের হলাম
যিলকদ মাসের পড়াচদিন বাকী থাকতেই আমরা হজ্জ ব্যতিরেকে আর কিছু ভাবছিলাম না
(সুদীর্ঘ হাদীস) বুখারী (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আল-ঘুকড়াদ্দাঘী (র)ইবন
আববাস (বা) সুত্রে তিনি বলেন, নবী করীম (মা) বাবা আচড়িয়ে তেল লাগিয়ে সেলাইৰিহীন
লুঙ্গি পরে ও চাদর পায়ে দিয়ে মদীনা থেকে রওনা করলেন ৷ জাফরান দিয়ে রং করা কাপড়
যা গায়ের তুরেৰু হলদে রং মেখে দেয় তেমন কাপড় ব্যতীত কোন লুঙ্গি ও চাদর ব্যবহার করা
তিনি শিবের করলেন না ৷ যুল হুলায়ফায় সকাল বেলা তিনি নিজের বাহনে আরোহণ করলেন
এবং অবশেষে বায়দা প্রান্তরে উপস্থিত হলেন ৷ এটা ছিল যিলকদের পড়াচ দিন বাকী থাকাকালে
এবং যিলহক্রুজ্জর পড়াচ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তিনি মক্কায় এসে পৌছলেন ৷ বুবারী (র)
এককডাবে এ বংনাি দিয়েছেন ৷

পর্যালোচনা ০ং যিলকদের পড়াচদিন বাকী থাকাকালেশ্ এটা যুলশ্হুলায়ফায় অবস্থানের
সকাল বেলায় কথা হলে ইবন হাঘৃম (র) ইবন ইসহাক (র) এর বক্তব্য যথার্থ হবে ৷ তীর দাবী

হল নবী করীম (সা) বৃহস্পতিবার মদীনা হতে বের হয়ে জুমআর (পুর্ববর্তী) রাত যুল-
হুলায়ফায় অবস্থান করেন এবং জুমআর দিন সকাল সেখানেই হয় ৷ তা ছিল যিলকদের পচিশ
তারিখ ৷

আর যদি যিলকদের পাচদিন বাকী থাকাকালে বলে ইবন আব্বাস (বা) চুল আচড়ানাে,
তেল লাগানো ও ইয়ার-চাদর পরিবারের পর নবী করীম (না)-এর মদীনা হতে রওনা হওয়ার
দিন বুঝিয়ে থাকেন যেমন আইশা ও জাৰির (বা) বলেছেন যে, যিলকদের পা“চদিন বাকী
থাকতে র্তার৷ মদীনা’ হতে বের হয়েছিলেন ৷ তা হলে ইবন হাঘৃম (রা)-এর বক্তব্য অগ্রাহ্য
হয়ে যাবে এবং তা গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে ৷ তখন ভিন্নমতই গ্রহণীয় হবে ৷ কিন্তু
যিলকদকে পুর্ণ ত্রিশদিনের মাস ধরলে রওনা হওয়ার দিনটি শুক্রবার বলা ছাড়া ভিন্ন মতের
অবকাশ থাকবে না (কেননা, ঐ বছরের যিলহজ্জ মাস বৃহস্পতিবারে শুরু হওয়া নিশ্চিত ৷
অতএব, যিলকদ মাস পুর্ণ ত্রিশদিনের মাস হলে পাচদিন বাকী থাকতে অর্থাৎ পচিশ তারিখ
শুক্রবার হতে হয়) ৷ অথচ মদীনা থেকে নবী করীম (সা)-এর শুক্রবার রওনা হওয়াও স্বীকৃত
নয় ৷ কেননা, বুখারী (র)এর রিওয়ায়াতে রয়েছে, মুসা ইবন ইসমাঈল (র)আনাস ইবন
মালিক (বা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) আমাদের সাথে নিয়ে মদীনায়
চার বাকআত যুহরের সালাত আদায় করলেন, আর আসর আদায় করলেন যুলহুলায়ফায়
দু’রড়াকআত৷ তারপর সকাল হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন ৷ তারপর বাহনে আরোহণ
করে বায়দা প্রাতরেণ্ গিয়ে উপস্থিত হন ৷ তিনি মহা ড়ান-মহীয়ান আল্লাহর হাম্দ ও তাসবীহ্ পাঠ
করলেন,৩ তারপর হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাধলেন ৷ মুসলিম ও নাসাঈ (র) উভয় এ হাদীস
রিওয়ায়াত করেছেন, কুতায়বা (র)আনাস ইবন মালিক (বা) সুত্রে এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্
(সা) যুহর সালাত মদীনায় চার বাকঅড়াত আদায় করলেন আর আসর যুল-হুলায়ফায় দুই
রাকআত আদায় করলেন ৷ আহমদ (র) বলেছেন, আবদুর রহমান (র)আনড়াস ইবন মালিক
(বা) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যুহর মদীনায় চার রাকআত আদায়
করলেন আর আসর আদায় করলেন যুল-হুলায়ফাতে দুই রাকআত ৷ বুখারী (র) মুসলিম আবু
দাউদ, নাসাঈ (র) প্রমুখও বিভিন্ন সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷

আহমদ (র) আরো বলেছেন ইয়াকুব (ব)আনাস ইবন মালিক আল-অড়ানসাৰী (বা)
হতে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) আমাদের সাথে নিয়ে মদীনায় তার মসজিদে যুহর চার
রাকআত আদায় করলেন ৷ তারপর আমাদের নিয়ে আসর আদায় করলেন দুই রাকআত যুল-
হুলায়ফায় বিদায় হদুজ্জ্বর সময় শং কাহীন নিরাপত্তা কোলে (অর্থাৎ এটা সালাতুল খাওফ বা শত্রু

শ্ৎকায় কসর ছিল৷ না ) ৷ এ শেষ সনদে আহমদ (র) একাকী বর্ণনা করেছেন ৷৩ তবে সনদটি
বুখারী যুসলিমের শ ৷র্তড়ানৃরুপ ৷ এসব রিওয়ায়াত রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) এর সফর সুচনা শুক্রবারে
হওয়াকে নিশ্চি৩রব্পে নাব১া> করে দেয় এবং এগুলোর দৃষ্টিতে ইবন হাঘৃম (র)-এর
বক্তব্যানৃসারে বৃহস্পতিবারে সফর আরম্ভ হওয়াও সম্ভব নয় ৷ কেননা সে দিনটি ছিল
যিলকদের চব্বিশ তারিখ ৷ কেননা, সে বছরের যিলহৰ্জ্জর প্রথম তারিখ বৃহস্পতিবার হওয়াতে
কোন দ্বিমত নেই ৷ যেহেতু উপর্বুপরি অকাট্য (তাওয়াতুর) বর্ণনা ও ইজম৷ (সর্বসম্মত) সুত্রে

সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী করীম (সা) আৱাফা তে অবস্থান করেছিলেন শুক্রবার, আ র তা ছিল

তর্কাভীতত ৷বে যিলহ্যক্রো নয় তারিখে ৷ এখন যদি ধরে নেয়া হয় যে, যিলকদের চব্বিশ

তারিখ বৃহস্পতিবার নবী করীম (সা) সফর শুরু করেছিলেন তা হলে মাসের ছয় রাত অবশ্যই
বাকী থাকা জরুরী হয় ৷ রাত ছয়টি হল শুক্রবার, শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার ও
বুধবারের (পুর্ব) রাতসমুহ ৷ অথচ ইবন আব্বাস, আইশা ও জাবির (বা) সকলেই বলেছেন যে,
যিলকদের পাচদিন বাকী থাকার সময় তিনি রওনা করেছিলেন ৷ আর সে দিনটি আনাস (রা)
বর্ণিত হাদীসের আলোকে শুক্রাড়ার হওয়া অসম্ভব ৷

সুতরাং একমাত্র এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হতে হবে যে, নবী করীম (সা) মদীনা হতে বের
হয়েছিলেন শনিবার এবং তা ছিল যিলকদের পচিশ ৩ারিখ ৷৩ তাই স্বভাবত বর্ণনা কারীর৷ মাস
পুর্ণ ত্রিশ দিনে হওয়ার ধারণা করে পাচদিন অবশিষ্ট থাকা ৷র কথা বলেছেন ৷ কিন্তু৷ বা তবে সে
বছর ঐ নামে একদিন কম হয়েছিল বিধায় (উনত্রিশ তারিখ) বুধবারে মাস শেষ হয়ে গেল
এবং বৃহ স্পতিবারের (পুর্ববর্তী) সন্ধ্যায় যিলহদুজ্জর নতুন র্চাদ দেখা যায় ৷ জ৷ ৷বির (বা) এর
(দ্ব্যর্থভাবােধক) রিওয়ায়াত পড়াচ দিন বাকী থাকতে কিৎবা চারদিন আমাদের এ বক্তব্যকে
সমর্থন করে : ভাছড়াে সব দিক বিবেচনা করলে এ সমন্বয় বিবৃতি অনিবার্য যা প্রত্যাখ্যান
স্তোর হুকচ্ন উপায় নেই ৷-ন্সাল্লহ্বহ্ই সমধিক অবগত ৷

হজ্জ উপলক্ষে নবী বল্পীম (না)-এর মক্কার উদ্দেশ্যে

মদীনা ত্যাগের বিবরণ

বুখারী (র) বলেন, ইবরাহীম ইবৰুল ঘুনষির (র)আবদৃল্লাহ্ ইবন উমর (রা) হত এ
মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) পাছ১ এর (পার্শ্ববর্তী) পথে বের হয়ে যেতেন এবং
ঘুআররাস (রাত যাপনক্ষেত্র)-এর পথে ফিরে আসতেন এবং এ মর্মে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কা
অভিমুখে রওনা করলে গাছ এর কাছের (যুল-হুলায়ফা) মসজিদে সালাত আদায় করতেন
এবং ফিরতি পথে (ও) যুল-হুলায়ফার নিম্ন (সমতল) ভুমিতে সালাত আদায় করতেন (পরে যা
যুল-হুলায়ফা র মসজিদ হয়েছে) ৷ সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন ৷ এ সুত্রে হাদীসটি
বুখাবী (র) একাকী বর্ণনা করেছেন ৷

হাফিজ আবু বকর আল বায্যার (র) বলেন, আমার লিপিতে পেয়েছি আমর ইবন মালিক
(র)আনাস (বা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (না) একটি জীর্ণ গদী’তে বসে
হজ্জ (এর সফর) করেন, তার নীচে ৰিছানাে ছিল একটি মোটা চাদর এবং তিনি বলেছিলেন-
১ “এমন হজ্জ (আমরা করব) যাতে লোক দেখানো ও খ্যাতি
লাভের উদ্দেশ্য নেই ৷ ষুখারী (র) তার সহীহ্ গ্রন্থে হাদীসটি মুআল্লাকরুপে উল্লেখ
করেছেন৷ তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবু বকর (র) বলেছেন, ইয়াযীদ ইবন যুরায়
(র) ছুমাম৷ (র) সুত্রে তিনি বলেন, আবাস (বা) একটি জীর্ণ পদী ব্যবহার করে হজ্জ
করলেন, তিনি কিন্তু কৃপণ ছিলেন না, বরং তিনি সুন্নত পালনে এমন করেছিলেন, কারণ তিনি

১ যুল-হুলায়ফার মসজিদের এক প্রান্তে (মদীনায় বিপরীত দিকের প্রান্ত) একটি গাছ ছিল আর অন্য প্রান্তে
(মদীনায় দিকের প্রান্ত) সাধারণত ঘুসাফিররা অবকাশ যাপন করত ৷ এ প্রান্তদ্বয়কেই গাছ এর পথ ও
রাতযাপন ক্ষেত্রের পথ বলা হয়েছে ৷

Leave a reply