রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারের লিখকবৃন্দ ও অন্যান্য কর্তব্য পালনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ

দীর্ঘস্মিন আমি করে ফেলেছি এমন কোন কিছুর ব্যাপারে তিনি (সা) আমাকে বলেননি ৷ কেন
ম্নো? আমার কোন কিছু আমি করিনি, (সে জন্য বলেননি) কেন করলে না ? একটি
রিওরান্নাত রয়েছে, আমি দশ অথবা পনের বছর যাবত তার খিদমত করেছি ৷

অঠোর : অন্যতম খাদিম আবুস সামহ (রা) ৷ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ছাকাফী
(র) বলেন, মুজাহিদ ইবন মুসা (র) মাহিল ইবন খালীফা (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, আবুসৃ সামহ (বা) বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর খিদমত করতাম ৷ তিনি বলেন,
নবী করীম (না) যখন গোসল করতে মনস্থ করতেন তখন আমাকে বলতেন, আমার (পানির)
পাত্রটি আমাকে এগিয়ে দাও ৷ আবুসৃ সামহ (বা) বলেন, আমি তাকে পাত্র এগিয়ে দিতাম এবং
র্তীকে আড়াল করে রাখতাম ৷ একবার হাসান বা হুসায়ন (রা)কে নিয়ে আসা হল ৷ তিনি
নবীজী (না)-এর বুবেন্ম উপর পেশার করে দিলেন ৷ আমি তা ধুয়ে দেয়ার জন্য এগিয়ে আসলে
তিনি বললেন, ণ্ “মেয়ের পেশার (পর্যপ্ত
পরিমাণে) ধুতে হয়; আর ছেলের পেশারে পানি ছিটিয়ে (হাল্কা) দিতে হয় ৷ ” আবু দাউদ, নাসাঈ
ও ইবন মাজ৷ (র)-ও মুজাহিদ ইবন মুসা (র) সুত্রে অনুরুপই ব্রিওয়ায়াত করেছেন ৷
উনিশ : খাদিম তালিকায় অন্যতমসর্ব বিচারে গ্রেষ্ঠতম সাহাবী আবু বকর (বা) ৷
হিজরতের সফরে, বিশেষত (হাওর) গুহায় অবস্থান কালে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে মদীনায়
উপনীত হওয়া পর্যন্ত তিনি স্বহন্থে নবীজী (না)-এর যাবতীয় খিদমত আনজাম দিয়েছেন ৷
বিশদ বিবরণ যথাস্থানে বিবৃত হয়েছে ৷ আল্লাহর জন্য সব হামদ এবং সব অনুকম্পা র্তারই ৷

ৱাসুলুরহে (না)-এর দরবারের লিখকবৃন্দ
ও অন্যান্য কর্তব্য পালনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ

এক-চার ওহী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় লেখকবৃন্দের মাঝে রয়েছেন, খলীফা চতুষ্টয়
আবু বকর, উনার, উসমান ও আলী ইবন আবু তালিব (বা) ৷ তাদের প্রত্যেকে খিলাফত যুগের
বর্ণনায় তাদের জীবনী আলোচিত হবে ৷ ইনশাআল্লাহ!

পাচ : এ তালিকার অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন আবান ইবন সাঈদ ইবনুল আন ইবন
উমায়্যা ইবন আবদ শামছ ইবন আবদ মানাফ ইবন কুসার-উমাৰী (বা) ৷ তার দুই ভাই
খালিদ ও আমৱ (রা)-এর পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ জার-ইসলাম গ্রহণের সময়টি ছিল
হুদায়ৰিয়া সন্ধির পরে ৷ ক্যেনা, চ্দায়ৰিয়া সত্যি মোঃ রসুলুল্লাহ (না) যখন উছমান (রা)-
কে দুতরুপে মক্কার পাঠিয়েছিলেন তখন এ অবােন (রা)-ই উহুম্লে (না)-কে হিফাযত
করেছিলেন ৷ তবে কারো কারো মতে, তিনি বারবার অতিবাৰ্নর প্রাক্কালে ইসলাম গ্রহণ
করেছিলেন ৷ কেননা, খায়বারের গণীমত বন্টন মোঃ সহীহ বুখারীতে আবু হুরায়রা (রা)
বর্ণিত হাদীসে তার নমােল্লেখ রয়েছে ৷ তার ইনদাম্ গ্রহণের কারণরুপে বিবৃত হয়েছে যে,
সিরিয়ার তেজারতী সফরে এক বুস্টান ধ্র্যযাক্রো ঝো তার সাক্ষাত হয়েছিল ৷ তার কাছে
তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর বিষয় আলোনো কালে তিনি তাকে বলেন, তার নাম কি? তিনি

১ বর্ণ ক্রমিকে অনুচ্ছেদের শেষাংশে তাদের খ্যাঃ জ্যো ররেহে

বলেন, মুহাম্মদ ৷ যাজক বললেন, তবে আমি তোমাকে তীর বিবরণ দিচ্ছি ৷ তিনি অবিকল র্তার
হুলিয়া আকৃতিপ্রকৃতির বিবরণ দিয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি যখন স্বদেশে ফিরে যাবে
তখন র্তাকে (আমার) সালাম বলবে ৷ এ সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পরই তিনি মুসলমান হয়ে
গেলেন ৷ তিনিই সে আমর ইবন সাঈদ আল আশৃদাক (রড়া)-এর ভাই, আবদুল মালিক ইবন
মড়ারওয়ানের আদেশে যাকে হত্যা করা হয়েছিল ৷

আবু বকর ইবন শায়বা (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর দরবারে সর্ব প্রথম ওহী-লেখক
ছিলেন উবড়ায় ইবন কাব (রা) ৷ তিনি উপস্থিত না থাকলে লিখতেন যায়দ ইবন ছাৰিত (রা) ৷
এ ছাড়া উছমড়ান, খালিদ ইবন সাঈদ ও আবড়ান ইবনে সাঈদ (রা) ও নবী করীম (না)-এর
জন্য লিপিকারের কাজ করেছেন ৷ ইবন শায়বা (রা) অনুরুপই বলেছেন ৷ তবে এ ব্যবস্থা ছিল
মদীনায় ৷ অন্যথায় মক্কায় অবতীর্ণ সুরাসমুহের অবতরণকাংল তাে আর উবড়ায় (বা) সেখানে
ছিলেন না ৷ অথচ অন্যান্য লেখক সাহাবীগণ (রা) তো মক্কায় তা লিখেছেন ৷

আবড়ান ইবন সাঈদ (রড়া) এর নৃত্যুকাল সম্পর্কে মতবিরোধ রয়েছে ৷ মুসা ইবন উকবড়া,
ঘুসআব ইবনুব যুবায়র ও যুবায়র ইবন বড়াক্কার (র) এবং অন্যান্য বংশাবলী বিশারদগণের
মতে আজনড়াদীন যুদ্ধে তিনি শাহড়াদাত বরণ করেন ৷ অর্থাৎ দ্বাদশ হিজরীর জ্বমড়াদাল-উলা
মাসে ৷ অন্যরা বলেছেন, চর্তুদশ হিজরীতে মড়ারজুস সুফার যুদ্ধে তিনি শাহাদাত প্রাপ্ত হন ৷
মুহাম্মদ ইবন ইসহড়াক (র) বলেছেন, আবান ও তীর ভাই আমর (রা) পনের হিজরীর রজব
মাসের পাচ তারিখে ইয়ারমুক যুদ্ধে শাহড়াদাত সুধা পান করেন ৷ কারো কারো মতে তিনি
উছমড়ান (রা) এর খিলাফাত কাল পর্যন্ত বেচে ছিলেন এবং তিনি যায়দ ইবন ছাৰিত (আঃ কে
মুসহড়াফুল ইমাম (মুল কপি) এ র শ্রুতি লিখন (করিয়ে অনৃলিপি তৈরি) করাতেন ৷ তারপর
উনত্রিশ হিজরীতে তিনি নৈতিকাল করেন ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

হয় : কড়াতিব ওহী উবড়ায় ইবন কাব ইবন কায়স ইবন উবায়দ আনঃসারী খড়াযরাব্জী (বা) ৷
কুনিয়াত আবুল যুনৃযির ৷ তাকে আবৃত তৃফায়লও বলা হত ৷ তিনি হািলন সাব্লিদুল কুব্রর,
হাফিযগণেরও প্রধান ৷ দ্বিতীয় আকাবা চুক্তি১ ও বদরসহ পরবর্তী সব অভিযানে তিনি অংশ্যাহণ
করেছেন ৷ তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির শীর্ণকায় মানুষ এবং নানা মাথা ও সাদা দাড়ির
অধিকারী ৷ খিযাব ব্যবহার করে চুলের সাদা বর্ণ পরিবর্তন করতেন না ৷ আনাস (বা) বলেন,
চার ব্যক্তি কুরআন সংগ্রহ ৎকলন করেছেন ৷ অর্থাৎ আনসারীদের মধ্য হতে উবড়ায় ইবন
কাব, মুআয ইবন জাবল, যায়দ ইবন ছাৰিত এবং অন্য একজন আনসারী ব্যক্তি যিনি আবু
ইয়াষীদ (বা) নামে অভিহিত হতেন ৷ বুখড়ারী-ঘুসলিম (র) এ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন ৷ সহীহ
গ্রন্থদ্বয়ে আনাস (বা) সুত্রে আরো রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) উবড়ায় (রা)-বললেন,
এরু “তোমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাবার জন্য আল্পহে আমাকে
হুকুম করেছেন ৷ উবড়ায় (রা) বললেন, তিনি কি আপনার কাছে আমার নামও বলেছেন, ইয়া
রড়াসুলল্লোহ! তিনি বললেন, হী ৷ বর্ণনাকারী (আনান) বলেন, তখন তার চোখ দুটি আনন্দের

১ হিজরাতের পুর্বে হচ্ছে আগত ৭২ সদস্য বিশিষ্ট মদীনাবাসীদের নবী কৰীম (সা)কে সহায়তা ও
আনুগত্য দানের গোপন ঢুক্তি-দ্বিতীয়বার ৷-অনৃবদ্দেক

অশ্রু বর্ষণ করতে লাগল ৷ তবে এখানে পড়ে গোনাবার অর্থ শুধু গােনানাে এবং পৌছানাে ৷
শিক্ষকের কাছে ছাত্রের পাঠ শোনানাে নয় ৷ বিদ্বান বুদ্ধিমানদের কারো জন্য এ কথা বলে
দেয়ার প্রয়োজন নেই ঘটে ৷

তবুও কেউ যাতে অন্য রকম ধারণা না করে বলেন, যে উদ্দেশ্যেই আমাদের এই
সতর্কীকরণ প্রয়াস ৷ অন্যত্র আমরা এরুপ পাঠ করে গােনাবার একটি কারণ উল্লেখ করেছি ৷ তা
হল-নবী কৰীম (সা) উবায় (বা) কে পড়ে শোনান ৷ আর কা ৷রণটি এই
যে উবায় (বা) এ সুরাটি যে কিরআতে ৩(ও পঠন পদ্ধতিতে ৩) তিলাওয়াত করতেন অন্য এক
ব্যক্তিকে তা ভিন্নভাবে তিলাওয়াত করতে শুনে তিনি তার প্রতিবাদ করলেন ৷ পরে উবায় (বা)
বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (না) এর সমীপে তুললে তিনি বললেন ,ৰু এা৷ন্৷ ৰু)গ্র৷ “উবায় পড়ে শ্যেনাও ৷”
তিনি পড়ে শুনালে, নবী করীম (সা) বললেন, “এ রুপেও নাযিল করা হয়েছে ৷ ”
তারপর ঐ লোকটিকে বললেন, ৰু)ৰু৷ “পড়ে গােনাও ৷ ” সেও পড়ে শোনালে নবী করীম (সা)
বললেন, “এরুপেই নাযিল করা হয়েছে ৷” উবায় (বা) বলেন, এ ঘটনায় আমি (দীনের
ব্যাপারে) এ ইে সন্দিহান হলাম যে, জা ৷হিলিয়াতে র যুগেও আমি তেমন সন্দেহবাদী ছিলাম না ৷
উবায় (বা) বলেন, তখন নবী করীম (সা) আমার বুকে হাত রাখলেন, যাতে আমি ঘামে সিক্ত
হয়ে গেলাম এবং ভয়ে আমার অবস্থা এমন হল যে, আ ৷মি যেন তা ৷ল্লাহকে দেখতে পাচ্ছিলাম ৷
এরপর কুরআনের বাস্তবতা ও সত্যতাকে সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় করার মানন্সে রাসুলুল্লাহ (সা) নিজে
এ সুরাটি (সুরা বায়িনাে) বান্দাদের প্ৰতি দয়া ও করুণাবশতঃ আল্লাহ পাক কুরআন একাধিক
পঠন ভঙ্গিতে নাযিল করেছেন ৷

ইবন আবু খায়ছামা (র) বলেছেন, তিনিই (উবায়) রাসুলুল্লাহ (সা) এর সমীপে প্রথম ওহী
লেখক ব্যক্তি ৷ তার মৃভ্যুকাল মতবিরোধ পুর্ণ ৷ কেউ বলেছেন, উনিশ হিজরীতে ৷ কারো মতে
বিশ হিজরীতে এবং কারো মতে তেইশ হিজরীতে ৩৷ এমন কি কেউ কেউ উছমান (রা) এর
শাহাদাত লাভের এক সপ্তাহ আগে হওয়ার কথাও বলেছেন ৷ আ ৷ল্লাইে সমধিক অবগত ৷

সাত : অন্যতম লিখক আরকাম ইবন আবুল আরকাম (বা) ৷ তার নাম ও বংশ সুত্র-মানাফ

ইবন আসাদ ইবন জুলদৃব ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন মাখযুম ৷ সুতরাং তিনি ম খঘুমী ৷

প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম ৷ সাফা-র নিকটবর্তী তার বা ৷ড়িতেই৷ রা সুলুল্লাহ
(সা) আত্মগােপন করে রয়েছিলেন ৷

এর পর হতে বাড়িটি খায়যুরা ৷ন’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে ৷ তিনি হিজরত করেন এবং বদর ও
পরবর্তী সমরাভিযান সমুহে অং শপহণ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) আবদুল্লাহ ইবন উনায়স ও তার
মাঝে ভ্রাতৃ-বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন ৷ আজীম ইবনুল হ রিছ আ ল মুহারিবী-র জন্য ফাখ’ ও
ৎলগ্ন অঞ্চলের জমিদাবীর দলীল রাসুলুল্লাহ (না)-এর হুকুমে তিনিই লিখে দিয়েছিলেন ৷ আভীক
ইবন ইয়াকুব আয় যুবায়রী (র) সুত্রে (আবুল মালিক ইবন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর
ইবন হাযমপিতাষ্দাদা) আমর ইবন হাযম (বা) সনদে হাফিয ইবন আসাকির (র) বর্ণিত

২ কিতাৰীদেৱ মধ্যে যারা কুবৰী করেছিল তারা এবং মুশরিকরা আপন অবিচল ছিল তাদের নিকট সুস্পষ্ট
প্রমাণ না জানা পর্যন্ত ৷ আল্লাহর ৰিকা হতে এক রাসুল যে আবৃত্তি করে পবিত্র গ্রন্থ ৷ (বাব্যিনা : ১ ২)

রিওয়ারড়াত সমুহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এ জমিদাবীর দলীল ৷ তিপ্পা ৷ন্ন হিজবীতে এবং মতাতরে পঞ্চান্ন
হিজবীতে পচাশি বছর বয়সে তিনি ইনৃতিক৷ ল করেন ৷

ইমাম আহমদ (র) তার সুত্রে বর্ণিত দু’টি হাদীস রিওয়ায়া ত করেছেন ৷

এক : অহেমদ ও হাসান ইবন আরফা (র) বলেন, (শব্দ ভাষ্য আহমদের) আববাদ ইবন
আব্বাদ আল মুহাল্লাবী (র)উছমান ইবন আরকাম ইবন আবুল আরকাম (বা) তার পিতা
থেকে-যিনি নবী করীম (সা)এর অন্যতম সাহাবী ছিলেন-বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা)
বলছেন,
“জুযুআর দিন (খুতবার জন্য) ইমামের আগমনের পরে যে ব্যক্তি মানুষের ঘাড় টপকিয়ে

সামনে যায় এবং (পাশাপাশি বসা) দু’জনের মাঝে ব্যবধান সৃষ্টি করে সে জাহান্নামে নাড়ী-ভুড়ী
টেনে হিচড়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যস্ত ব্যক্তির ন্যায় ৷

দুই : আহমদ (র) বলেন, ইমাম ইবন খালিদ (র) (আবদুল্লাহ ইবন উছমান ইবনুল
আরকাম তার দাদা) আরকাম (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকটে
গেলে তিনি বললেন, “ কোথায় যেতে ইচ্ছা করহ?” তিনি বলণেন, আমি ইচ্ছা
করছিইয়া রাসুলাল্লাহ৷ রাসুলুল্লাহ৷ এ দিকে-তিনি হাত দিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের অবস্থান
ক্ষেত্রের দিকে ইংগিত করলেন ৷ নবী কবীম (সা) বললেন,
বিনয় তোমাকে যে দিকে নিয়ে যাচ্ছে? ব্যবসার কি ? তিনি বললেন, না, তবে আমি সেখানে
সালাত আদায় করার ইরাদ৷ করেছি ৷ তিনি বললেন, ৷“এ দিকে সালাত ৷ তিনি
নিজের হাত দিয়ে মক্কার দিকে ইংগিত করলেন ও১া: রু-শ্রা ণ্ডে ) শ্ হাজার সালাতের
চাইতে উত্তম ৷ ” এ সময় তিনি (উত্তরে) সিরিয়ার দিকে (বারতুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশ্যে) ইংগিত
করলেন ৷ এ বর্ণনা একাকী আহমদ (র) এর ৷
অটিং অন্যতম (ওহী) নিবন্ধক ছাৰিত ইবন কায়স ইবন শ্া৷মমাস আনসাবী খাযরাত্তী
(র৷ ) ৷ কুনিরতষ্ আবু আবদুর রহমান ৷ তার নাম আবু মুহাম্মদ আল-মড়াদানী ও বলা হয়েছে ৷
তিনি ছিলেন আনসাবদের মুখপাত্র ৷ তবে খাভীবুন নাবী-নবী কৰীম (সা) এর মুখপাত্র নামেও
অতিহিতরু হব্ব তন ৷ মুহাম্মদ ইবন সা দ (র) বলেন, আ ৷লী ইবন মুহাম্মদ আ ল্ মাদ৷ ইনী (র) তার
শায়খবর্গের সনদ সুত্র রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট আগত আরবী প্রতিনিধিদল সমুহের বিবরণ
প্রসংগে অবহিত করেছেন ৷ তারা বলেছেন, মক্কা বিজয়ের পরে আবদুল্লাহ ইবন আবাস
ইরামানী ও মাসলামা ইবন হড়ারান আলু হাদ্দাবী (আ ল হিদাঈ) (রা) তাদের স্বগােত্রীয় একটি
দলের সং গে রড়াসুলুল্লাহ (সা) এর দরবারে উপস্থিত হলেন ৷ দলটি ইসলাম গ্রহণ করে তাদের
গোত্রের পক্ষে বার আত গ্রহণ করেন ৷ নবী কবীম (সা)ত তাদের জন্য একটি সনদপত্র লিখিম্নে
দিলেন যাতে তাদের সদকা সম্পর্কে লিখেছেন ৷ তাদের উপর ফরমকৃত মাকাতের বিবরণ
ছিল ৷ সনদটির লিখক ছিলেন ছাৰিত ইবন কড়ারস ইবন শাম মাস এবং সব্জী ছিলেন সাদ ইবন
মুআম ও মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) ৷ সহীহ মুসলিমে উদ্ধৃত প্রামাণ্য বর্ণনা মতে রড়াসুলুল্লাহ

(স!) কর্তৃক জ!ন্থ!ল্ডের আগাম সুসংব!দ প্রদত্তদের মধ্যে ইনিও ছিলেন একজন ৷ তিরমিযী, (র)
তার ল্পাষি গ্রন্থে ষ্কৃষলিম (র)-এর শর্ত!নুকুল সনদে আবু হুর!য়র! (র!) সুত্রে রিওয়!য়!ত
করেছেন যে, র!সুলুল্পাহ (স!) বললেন,

“কতই ভাল মানুষ আবু বকর! কতস্টু ভাল মানুষ উনার! কতইভ ল মানুষ আবু উব!য়দা
ইবনুল জ!রর!হ ! কতই ভাল মানুষ উস!য়দ ইবন হুযায়ব! কতইত! !ল মানুষ ছাবিত ইবন! কা য়স
ইবন শামৃমাস ! ক ণ্ধ্ ভ !ল মানুষ মু অ!য ইবন অ!মর ইবনুল জ!মুহ (র!) ! বার হিজরীতে
আবু বকর (র!)-এর খিলাফতকালে ইয়!ম!মার যুদ্ধে ছাৰিত (র!) শহীদ হন ৷ ঐ প্রসংগে তার

একটি ঘটনা রয়েছে-য! আমরা যথ!স্থ!নে (ইয়!মামা যুদ্ধের বর্ণনায়) উপস্থাপন করব-
ইনশাআল্পাহ ৷

য : (ওহী) লেখক তালিকায় অন্যতম সাহ!বী হানজালা (ইবনুর র!বী ইবন সায়ফী ইবন
রাবাহ্ ইবনুল হ বিছ ইবন মুখ! !শিন ইবন মুঅ! !বিয়! ইবন শরীফ ইবন জ !রওয়! ইবন উস!য়দ
ইবন অ!মর ইবন ত!মীম) (র!) ইনি বনু ত!মীমের উস!য়দী উপগােত্রের লোক !ত তার ভাই! বার
(রা) ও অন্যতম সাহাবীত ! তার চাচা অ !কছাম ইবন সায়ফী ছিলেন হ!!কীমুল অ! রব’ অ!রবের
ধী-মান বলে খ্যাত ৷ ওয়! !কিদী (র) বলেন, হ! নজা !ল! (র!) নবী করীম (সা) এর জন্য একটি পত্র
লিখে দিয়েছিলেন! অন্যদের বক্তব্যে রয়েছে র!সুলুল্লাহ (স!) তাকে ত!ওয়!য়িফ’ (ক্ষুদ্র রাজ্য
অঞ্চল) ব!সীদের সংগে সন্ধি স্থাপনের উদ্যেশ্য প!ঠিয়েছিলেন ! ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে খ!লিদ
(র!)-এর পরিচালিত ষুদ্ধসমুহে তার সংগে ছিলেন ! তিনি আলী (র!)-এর খিল!ফতকাল
পেয়েছিলেন; তবে জমল’ (উটের যুদ্ধ) ও অন্যান্য যুদ্ধে তার সংগে তিনি অংশগ্রহণ করেন নি !
পরবর্তী কালে কুফ!য় উছম!ন (র!)-কে গাল!প!লি কর! শুরু হলে তিনি স্থান!ন্তরে গমন করেন
এবং আলী (রা)-এর আমলের পরে তিনি ইনৃতিক!ল করেন !

উসদুল গ!ব! গ্রন্থে ইবনুল অ!হীর (র) উল্লেখ করেছেন ! হ !নজ!লা (র!) এর ইনতিক! !লে
তার ত্রী তার জন্য শোক!র্ত অন্থিরত! প্রকাশ করলে তার পড়শিনীর! তাকে তিরস্কার করল !
তখন তিনি বললেন,

যদি তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা কর, আমার উপর কেমন দুরবস্থ! আপতিত হয়েছে,ত তবে আমি
তোমাকে এমন একটা কথা অবহিত করব য! মিথ্যে নয় কতিব হনজ ল!র জন্যরী দুঃখ-

ক্ষো নিনশে করেই দিয়েছে আমার চোখের মণিকে ৷ আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ আর রাকর্কী
(ৰ্া) বদ্যেছন, হানজালা (রা) মুসলমানদের ফিতনা কােন্দল থেকে সযত্ন দুরে অবস্থান করে
আলী (না)-এর আমলের পরে ইনৃতিকাল করেন ৷

হানজালা (বা) সুত্রে দুটি হাদীস বণিতি হয়েছে ৷ (গ্রন্থকারের মতে) বরং তিনটি হাদীস ৷
(এক) ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুস সামাদ ও আফফান (র)(ওহী লেখক) হানজালা
(রা) থেকে বণ্নাি করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ (না)-কে আমি বলতে ওনেছি-

“যে ব্যক্তি পড়াচ (ওয়াক্ত) সালাতে নিয়মানুবর্তিতা পালন করে লেবে, তার রুকু, তার
সিজদা এবং তার উয়ু ও সময়ের প্রতি লক্ষ্যসহকারে এবং যে বিশ্বাস করে যে এগুলি আল্লাহ্ব
পক্ষ হতে যথার্থ ৷ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে-কিত্বা তিনি বলেছিলেন (জান্নাত) তার স্লো
অবধারিত হবে ৷ হাদীসটি আহমদ (ব) একাকী রিওয়ায়াত করেছেন এবং কাতাদা (বা) ও
হানজালা (রা)-এর মাঝে এর সনদ বিচ্ছিন্ন ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

দ্বিতীয় হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন আহমদ, মুসলিম, তিরমিযী ও ইবন মাজা (র) সাঈদ
আল জুরায়রী (র) হতে হানজালা (রা) থেকে ৷ তিনি বলেন, নবী করীম (সা) বলেছেন,
“তোমরা আমার কাছে যেমন থাক সব সময় তেমন থাকলে অবশ্যই ফিরিশতাৱা তোমাদের
মজলিসসমুহে এবং তোমাদের পথেঘাটে ও তোমাদের ৰিছানায়, তোমাদের সংগে ঘুসাফাহা
করতেন ৷ তবে কখনো কখনো তিরমিযী ও আহমদ (র) হাদীসটি ইমরান ইবন দাউদ আল
কাত্তান (র) সুত্রেহানজালা (রা)এরবরাতেও রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তৃতীয় (হাদীসটি)
রিওয়ায়াত করেছেন আহমদ, নসােঈ ও ইবন মাজা (র) সুফিয়ড়ান ছাওয়ী (র) থেকে ৷ হানজালা
(রা) থেকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারী হত্যা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসংগে ৷ কিন্তু এ হাদীসে আহমদ (র) এরই
অন্য একটি রিওয়ায়াতে আবদুর রাযযাক (র)হানজালা (রা)এর ভইি রাবাহ থেকে-ঐ
হাদীসটি উল্লেখ করেছেন ৷ আহমদ (র)এর আরো একটি রিওয়ায়াত- সায়ন ইবন মুহাম্মদ ও
ইবরাহীম ইবন আবুল আব্বাস (র)এবং সাঈদ ইবন মানসুর ও আবু আমির আল আকদী (ব)
(চার জনই ঘুগীরা সুত্রে) রাবাহ (বা) থেকে ৷ এ ঘুগীরা (র) সুত্রে নাসাঈ ও ইবন মাজা (রও
অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আমার আবু দাউদ ও নাসাঈ (র)-ও উমর ইবন মুরাব্বা (ব)
সুত্রেরড়াবাহ (রা) সনদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ সুতরাং হাদীসটি রাবাহ (বা) স্যুফৌ
বর্ণিত হয়েছে ৷ হানজালা (রা) সুত্রে নয় এবং এ কারণেই আবু বকর ইবন আবু স্ফো (র)
বলতেন, সুফিয়ড়ান ছাওয়ী (র) এ হাদীসের বর্ণনায় ৰিচ্যুতির শিকার হয়েছেন ৷

গ্রন্থকারের মন্তব্য : এখন ইবনুর রাক্কী (র)-এর এ দাবী যথার্থ প্রমাণিত হল যে, দুনিঃ
অধিক হাদীস তিনি রিওয়ায়াত করেননি ৷ আল্লাহ সম্যক অবগত ৷

দশ : কড়াতিব তালিকায় রয়েছেন অন্যতম বিশিষ্ট সাহাবী থালিদ ইবন সাঈদ (রা) (ইবনুল
আস ইবন উমায়্যা ইবন আবদ শামস ইবন আবদ মড়ানাফ) ৷ তার কুনিয়াত ছিল-আবু সাঈদ ৷
তিনি ছিলেন বনী উমড়ায়্যার লোক ৷ ইসলাম গ্রহণে প্ৰৰীণদের তালিকায় তিনি সিদ্দীক (আবু
বকর) (রড়া)এর পরে তৃতীয় বা চতুর্থ, মতাম্ভরে পঞ্চম ৷ বংনািকারীগণ তার ইসলাম গ্রহ্যণর
কারণস্বরুপ উল্লেখ করেছেন তার একটি স্বপ্নের ঘটনা ৷ ঘুমের মধ্যে একদিন তিনি দেখতে
পেলেন যে, তিনি যেন জাহান্নামের কিনারায় দাড়িয়ে আছেন ৷ তিনি জাহান্নামের এমন সুৰিশাল
পরিধির কথা উল্লেখ করেছেন যা আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ তিনি বলেছেন যে, (তিনি দেখলেন)
যেন তার পিতা তাকে জাহান্নামে ঠেলে দিচ্ছেন ৷ আর যেন রাসুলুল্লাহ (না) তার পড়ে যাওয়া
ঠেকাবার জন্য তার হাত ধরে রয়েছেন ৷ তিনি এ স্বপ্ন আবু বকর (রা)এর নিকট বর্ণনা করলে
তিনি তাকে বললেন, তোমার প্রতি মঙ্গলের ফায়সালা হয়েছে ৷ এই যে, আল্লাহর রাসুল (সা) ;
তার অনুগ্যান কর ৷ তোমার আশংকার ৱম্পোক্ল হতে ঢুযি ব্লেহ্!ই পেয়ে যাবে তখন রাবৃলুল্পাহ
(না)-এর নিকট গিয়ে তিনি ঘুসলামন হয়ে গেলেন ৷ তার পিতার কাছে তার ইসলাম গ্রহণের
খবর পৌছলে সে তার উপর রেগে গেল এবং তার হাতের লাঠি দিয়ে তাকে (পটাতে লাগল ৷
এমন কি লাঠিটি তার মাথা ফাঢিয়েই দিন এবং তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তার খাবার
বন্ধ করে দিল এবং তার অন্যান্য ডইিদের তার সংগে কথা বলতেও বারণ করে দিল ৷ তখন
থেকে থালিদ (বা) দিন-রাত ৰিরতিহীনভাবে রাসুলুল্লাহ (না)-এর সংগে থাকতে লাগলেন ৷
পরে তার ভাই আমরও ইসলাম গ্রহণ করলেন ৷ পরে লোকেরা হড়াবশা দেশে হিজরত করলে
এদৃ’ ভাই-ও হিজরত করলেন ৷ পরে রাসুলুল্লাহ (না)-এর সংগে উম্মু হড়াৰীবা (ৱা)-এর বিবাহ
সম্পাদনে এ খালিদ (না)-ই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ৷ যে কথাটি পুর্বেই
আলোচিত হয়েছে, পরে দুই ভাই জাফর (না)-এর সংগে হাবশা দেশ থেকে (মদীনায়
উদ্দেশ্যে) হিজরত করলেন ৷ তারা রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট পৌছলেন থায়বার অভিযান
কালে ৷ ততক্ষণে নবী করীম (সা) কর্ত্য থায়ৰার ৰিজিত হয়ে গেছে ৷ নবী করীম (সা)
মুসলমানদের সংগে পরামর্শের ভিত্তিতে এ দৃজনকেও গনীমতের অংশ দিলেন ৷ তাদের অন্য
এক ভাই আবড়ান ইবন সাঈদ (রা)-ও (মুসলমান হয়ে) আগমন করে খড়ায়বারের বিজয়
অভিযানে অংশ নেন যেমন আমরা পুর্বেই বলে এসেছি ৷ এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা)
তাদেরকে বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ করতে থাকেন ৷ আবু কবর (রা) এর খিলাফত
আমলে তারা সমরাতিযানে সিরিয়া অভিমুখে বের হলেন এবং থালিদ ইবন সাঈদ (বা)
আজনাদায়ন’-এর যুদ্ধে শহীদ হন ৷ মতাস্তরে মড়ারজুস সুফার যুদ্ধে ৷ আল্লাহই সমধিক
অবগত ৷

আতীক ইবন ইয়াকুব (র) বলেন, আবদুল মালিক ইবন আবু বকর (র)আমর ইবন
হড়াযম (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, খড়ানিদ (রা) রাসুলুল্লাহ (সা)এর পক্ষে একটি সনদপত্র
লিখে দেন ৷

রাহমান রড়াহীম আল্লাহর নামে ৷ এ হল (সে দলীল) মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা) যা রাশিদ
ইবন আবদ রাব্ব আস-সুলামী-কে প্রদান করেছেন ৷ তিনি তাকে হিজর-রিহাত-এর দু’
আলওয়দ্বী দৈর্ঘও এক আলওয়া প্রস্থ দান করেছেন ৷ সুতরাং যারা তার বিরোধিতা করবে
তাদের তাতে কোন সংপত অধিকার নেই ৷ এবং তার হক ও অধিকারই যথার্থ ৷ লেখকঃ
খালিদ ইবন সাঈদ ৷

মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) বলেছেন, ওয়ড়াকিদী (র) সুত্রে-জাফার ইবন মুহাম্মদ ইবন খালিদ
(র) ষ্ঘুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উছমান ইবন আফফান (বা) সুত্রে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন, খালিদ ইবন সাঈদ (বা) হাবশা থেকে ফিরে আসার পরে মদীনায়ই অবস্থান
করতে থাকেন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর পক্ষ হতে লেখকের দায়িতৃ পালন করতেন ৷ তিনিই
তাইফবাসী ছাকীফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের জন্য সন্ধিপত্র লিখে দিয়েছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ
(না)-ও তাদের মাঝে সন্ধি সম্পাদনে কার্যকর ভুমিকা রেখেছিলেন ৷

এপার : নবী কয়ীম (না)-এর কাতিব তালিকায় রয়েছেন সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওলীদ
ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন মাখযুম আবু সৃলায়মান-মাখবুমী (বা) ৷ তিনি হলেন দিথিজয়ী
ইসলামী বাহিনী ও মুহাম্মদী সেনাদলের অধিনায়ক ঐতিহাসিক বিজয়সমুহ ও সোনালী
অতীতের সমরাধিপতি; সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ৰিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী আবু সুলায়মান মহান
খালিদ ইবনুল ওলীদ (বা) ৷ বর্ণিত হয়েছে যে, যে বাহিনীতে খালিদ থাকতেন তা কোন দিন
পরাজয়ের মুখোযুথী হয় নি-জাহিলী যুগেও নয়, ইসলামী যুগেও নয় ৷ যুবায়র ইবন বাব্কার
(ব) বলেন, কুরায়শের সেনা পরিচালনা ও অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়কত্ব ছিল তার হাতে ৷
খালিদ, আমর ইবনুল আস ও উছমান ইবন আবু তালহা (বা) হুদায়বিয়া সব্ধির পরে এবং
খায়বাৱ অভিযানের পুর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা) তার পা ঠানাে
বাহিনীগুলোতে তীকেই সেনাপতি করে পাঠাতেন ৷ পরে সিদ্দীকী খিলাফত যুগে তিনি সম্মিলিত
বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন ৷ পরে উমর ইবনুল থাত্তাব (বা) খলীফা মনোনীত হলে খালিদ
(বা)-কে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিলেন এবং অড়ামীনুল উম্মাহ আবু উবায়দা (বা) এ শর্তে
সেনাপতি পদে নিয়োগ প্রড়াপ্ত হলেন যে, তিনি আবু সুলায়মান (খালিদ) (বা)-এর মতামতের
ৰিরুদ্ধাচারণ করবেন না ৷ পরে উমর (রা)-এর খিলাফত কালেই খালিদ (বা) ইনৃতিকাল
করেন ৷ তার মৃত্যু সন একুশ হিজরী-মতান্তরে বাইশ হিজরী ৷ তবে প্রথমটি অধিক প্রড়ামাণ্য ৷
তার মৃত্যু হয়েছিল হিমাস থেকে মাইল খানেক দুরবর্তী এক জনপদে ৷ ওয়ড়াকিদী (র) বলেন,
আমি ঐ জনপদটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমাকে বলা হল, দাছরাত ( এ)ট্ট)) ৷ দৃহায়ম (র)
বলেছেন, তার মৃত্যু হয় মদীনায় ৷ তবে প্রথম তথ্যটি অধিকতর বিশুদ্ধ ৷ খালিদ (বা) অনেক
হাদীস রিওয়ড়ায়াত করেছেন ৷ সে সবের পুর্ণাঙ্গ ৰিবরণের জন্য বর্তমান পরিসর সৎকীর্ণ ৷

আতীক ইবন ইয়ড়াকুব (র) বলেন, আবদুল মালিক ইবন আবু বকর (র) (পিতা সুত্রে
তিনি দাদা) আমব ইবন হাযম (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন, এটি রাসুলুল্লাহ (সা) প্রদত্ত জমি
বন্দেড়াবস্তের সনদ-

১ সম্ভবতঃ শব্দটি গালওয়া (চ্চা ) তীর নিক্ষেপেব দৃরৎ পরিমাণ পরিধি ৷

রাহমান রাহীম আল্লাহর নামে ! মুহাম্মদৃর রাসুলুল্লাহ হতে মু’মিনদের প্রতি-সায়দুহ (র) ও
তার শিকার শিকার ৰিত’াড়ন করা যাবে না, হত্যা করা যাবে না ৷ এর কোন কিছু করতে জাকে
দেখা যাবে তাকে চাবুক লাগাংনা হবে এবং তার কাপড়-চোপড় ছিনিয়ে নেয়া হবে ৷ এ ব্যাপারে
কেউ আইন লংঘন করলে তাকে পাকড়াও করে নবী কবীম (না)-এর নিকট পৌছিয়ে দেয়া
হবে ৷ এ সনদ নবী মুহাম্মদ (না)-এর তরফ হতে ৷ লিখেছেন খালিদ ইবনৃল ওলীদ-আল্লাহর
রাসুল (সা)-এর নির্দেশে ৷ সুতরাং কেউ যেন তা লংঘন করে মুহাম্মদ (না)-এর জারীকৃত
আদেশের ব্যাপারে নিজেকে আপরাধী সাব্যস্ত না করে ৷ ”

যায় : নবী করীম (না)-এর দরবারে লেখক তালিকায় উল্লেখষেগ্যে নাম-আবু আবদুল্লাহ
যুবায়র ইবনুল আওয়াস্ম ইবন খুওয়ায়লিদ ইবন আসাদ ইবন আবদুল উযযা ইবন কুসায়
(রা) ৷ জান্নাতের আগাম সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজানর একজন, শুরা (পরামর্শক পরিষদ) সদস্যদের
সে ছয় জনের অন্যতম ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) যাদের প্রতি সন্তুষ্টি নিয়ে ওফাত বরণ করেন ৷
রাসুলুল্লাহ (না)-এর হড়াওয়াবী-(একান্ত ঘনিষ্ট সহযোগী), তার ফুফু সাফিয়্যা বিনত আবদুল
মুত্তালিবের পুত্র এবং আসমা বিনত আবু বকর (রা)এর স্বামী ৷ আতীক ইবন ইয়াকুব (র) তার
পুর্ব উল্লেখিত সনদে রিওয়ায়াত করেছেন যে, যুবায়র ইবনৃল আওয়াম্ম (রা-ই বনু মুআবিয়া
ইবন জারওয়ড়াল-এর জন্য সে সনদটি লিখে দিয়েছিলেন যা তাদেরকে লিখে দেয়ার জন্য
ৱাসুলুল্লাহ (সা) তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷

ইবন আসাকির (র)-ও আতীক (র)সনদে রিওয়ায়াত করেছেন, যুবায়র (রা) ইসলামের
প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন-সােল বছর বয়সে এবং মতাম্ভরে মাত্র আট বছর বয়সে ৷
দু’টি হিজরতই (হাবশা ও মদীনায়) তিনি করেছিলেন এবং সবগুলি যুদ্ধ অভিযানে তিনি
রাসুলুল্লাহ (না)-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন ৷ তিনিই আল্লাহর রাস্তায় সর্ব প্রথম তরবাবী
কােষসুক্ত করেছিলেন ৷ ইয়ারমুক যুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং তিনিই ছিলেন তাতে
ৎশ্যাহণকারীদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ৷ সেদিন তিনি প্রতিপক্ষ রােমকদের সেনা ব্যুহ ভেদ
করেছিলেন এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত পর্যন্ত দুই দুই বার এবং শেষ প্রান্তে পৌছে যাচ্ছিলেন
অক্ষত দেহে শুধু মাত্র গ্রীবার পিছন দিকে তরবারীর দুটি ঘা লেগেছিল ৷

খন্দকের যুদ্ধে রাসুলুল্পাহ (না) তার জন্য নিজের পিতা-মাতাকে একত্রিত’ (উৎসর্গ)১
করেছিলেন এবং বলেছিলেন,) “প্রত্যেক নবীর একজন

১ অর্থাৎ তিনি বলেছিলেন ষ্দুৰুাস্ ষ্গ্লুষ্ গ্রা১ব্ল “তোমার ত্তনাে আমার মা-বাপ কুরবান ৷

হাওয়ারী (একান্ত ও ঘনিষ্ট সহযোগী) থাকে; আমার হাওয়াবী হল যুৰায়র ৷ তিনি ছিলেন
অনেক অনেক সদ গুণ ও বৈশিষ্ট্য মাহাত্যের অধিকারী ৷ জামাল যুদ্ধে তিনি শহীদ হন ৷

ঘটনাটি ছিল নিম্নরুপ-তিনি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন ৷ পথিমধ্যে ওয়াদি আস
সিৰা নামক একটি স্থানে তামীম গোত্রের তিন ব্যক্তি আমর ইবন জুরমুয, ফাযালা ইবন
হাৰিস এবং তৃতীয় জন নুফায় নামে কথিত তার কাছে আসতে দেখা ণ্গল ৷ তিনি ঘুমিরে
থাকা অবস্থায় আমর ইবণু জুব্মুয অতর্কিংত আক্রমণে তাকে হত্যা করে ৷

এটা ছিল ছত্রিশ হিজরীর জ্বমাদাল উলা মাসের দশ তারিখে এবং তখন তার বয়স হয়েছিল
সাতষট্টি বছর ৷ মৃত্যুকালে যুবায়র (বা) এক বিশাল সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন ৷ পরিত্যক্ত
সম্পদ হতে বাইশ লাখ (দিরহাম) ঋণ গােধ করার পরে অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংণের
ওসিয়াত করে গিয়েছিলেন ৷

সুতরাং তার ঋণ পরিশোধ ও ওসিয়তের একতৃতীয়াংশ পৃথক করার পরে অবশিষ্ট সম্পদ
তার ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হল ৷ দেখা গেল, তার স্তীদের প্রত্যেকে যারা
ৎখ্যায় ছিলেন চারজন-বার লাখ দিরহাম করে ভাগে পেয়েছেন ৷

ণ্মাটকথা, (আমাদের উল্লেখিত হিসাবে) তার পরিত্যক্ত সমৃদয় অস্থাবর সম্পদের মুল্যমান ছিল
পড়াচ কোটি আটানব্বই লাখ (দিরহাম) ৷ ’ আর সম্পদের সবটাই সঞ্চিত হয়েছিল তার

জীবনে প্রাপ্ত বিভিন্ন বৈধ সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমেগনীমত ও ফায়’ সুত্রে এবং বৈধ ব্যবসার
বিভিন্ন পন্থায় ৷
আর এ সব ছিল যথা সময় সমুদয় সম্পদের পুর্ণাঙ্গ যাকাত আদায়ের সাথে সাথে অধিক
হারে বিভিন্ন প্রকারের দান, আত্মীয়দের সংগে সদ্ভাব রক্ষামুলক সহায়তা অনুদান এবং
অভাবগ্রস্থদের সাহায্য-সহযোগীতা প্রদানের পরেও ৷ আল্লাহ তার প্ৰতি রাযী থাকুন, র্তাকেও
তুষ্ট রাখুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তার আবাস নির্ণয় করুন-আর তা তো তিনি
করেছেনই কেননা, পুর্বাপর সর্ব যুগের মহান নেতা ও বিশ্বজপতের প্রতিপালকরাববুল
আলামীনের রাসুল (না) তো তার জন্য জ ন্ন্নাভের আগাম সুসং বাদ দিয়েই রেখেছিলেন ৷ হামদ
আল্লাহরই জন্য; অনুকম্পা তা ৷রই ৷
ইবনুল আহীর (র) তার আলপাবাতে উল্লেখ করেছেন যে, যুবায়র (না)-এর এক হাজার

গোলাম ছিল যারা তাকে খারাজ’ প্রদান করত এবং তিনি তার সবটা ই সাদকা করে দিতেন ৷
সাহাবী করি হাসসা ন ইবন ছাষিত (বা) যুবায়র (রা) এর মাহাত্ম্য ও প্রসংশা বর্ণনায়
বলেছিলেন (কবিতা)

অবিচল ছিলেন তিনি নবী করীন (সা) এর অংগীকার ও তার আদর্শে; তার হাওয়ারী
(একান্ত ঘনিষ্ট সহযোগী) এ বক্তব্য তার মাহাল্কত্ম্যর (হুবহু) সমান্তরাল পর্যায়ের ৷ অবিচল
ছিলেন নবী করীম (সা) এর প্রর্দশিত পথ ও পন্থায় ৷ হক ও ন্যায়ের অধিকারীকে
সহযোগিতা দিয়ে যেতেন-হক ও ন্যায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য ৷ তিনি খ্যাতিমান অশ্বারোহী
এবং সে দুর্ধর্ষ বাহাদুর-তিনি বীর ৰিক্রাম ঝাপিয়ে পড়েন, যখন আগত হয় কোন সমুজ্জ্বল
বিখ্যাত দিন ৷ তিনি সেই ব্যক্তি, (নৰীজীর ফুফু) সাফিয়্যা হাড়ার জননী; আসাদ গোত্রের
অধংস্তন যে পরিবারে রয়েছেন প্রেরিত পুরুষ ৷ তার রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সংগে
নিকট আত্মীয়তা এবং ইসলামকে সহায়তা দান সুত্রে লব্ধ সুদৃঢ় মাহাত্ম্য ৷ কতই বিপদ-
সংকট যুবায়র (বা) ৰিদুরিত করেছেন তার তরবারী দিয়ে মুস্তাফা (সা) হতে-অল্লোহ
(বিনিময়) দান করবেন এবং অঢেল দিবেন ৷ যুদ্ধ যখন উলঙ্গ রুপ ধারণ করে তখন তিনি
দৃলতে দৃলতে ঢুকে পড়েন মৃত্যুর মুখে ঝলমলে সাদা (অলি) হাতে ৷ তাদের মাঝে কেউ নেই
তার তুল্য, ছিল না তার আগেও আর হবে না যুগ যুগ ধরেও যতদিন যুদ্ধের ঘোড়াগুলি দুর্বল
ক্ষীণকায় হতে থাকবে ৷

আগেই উল্লেখিত হয়েছে যে, ওয়াদি আস সিবা-এ ঘুমন্ত অবস্থায় আমর ইবন জুরমুয
তাষীমী যুবায়র (রা)-কে হত্যা করেছিল ৷ তবে কেউ কেউ বলেছেন, বরং তিনি ঘুমের প্রভাব
কাটিয়ে উঠেছিলেন মাত্র ৷ তখন অপ্রস্তুত ও হতভম্ব অবস্থায় তিনি বাহনে আরোহণ করলেন এবং
ইবন জুরমুয তাকে দ্বন্দ-যুদ্ধে আহ্বান জানলে ৷ যুবায়র (রা) তাকে চুড়ান্ত আঘাত হানলে তার
সংগীদ্বয়-ফাযালা ও আন নাআর তার সাহায্যে এগিয়ে এসে যুবায়র (বা)-কে হত্যা করে
ফেলল ৷ আমর ইবন জুরবুয র্তার মাথা ও তরবারী নিয়ে গেল ৷

সে যখন তা নিয়ে আলী (রা)-এর সামনে উপস্থিত হল তখন আলী (বা) যুবায়র (রা)-এর
তরবারী দেখতে পেয়ে বললেন, এ তরবারীই তো দীর্ঘকাল রাসুলুল্লাহ (না)-এর চেহারা হতে
বিপদ হটিয়ে দিয়েছে ৷ আলী (বা) এর সে সময়ের বক্তব্যের মধ্যে এ কথাও ছিল যে, সা ৷ফিয়্যা
(রা) এর পুত্রের হত্যাক৷ ৷রীকে জাহান্নামের দৃসংবাদ শুনিয়ে দাও ৷ কথিত আছে যে, ইবন জুরমুয
আলী (রা) এর বক্তব্য শুনতে পােয় আত্মহত্যা করে ৷

তবে প্রামাণ্য বর্ণনায় রয়েছে যে, আলী (রা)-এর পরেও ইবন জুরমুয বেচে ছিল ৷ অবশেষে
(আবদুল্লাহ) ইবনৃ যুবায়র (বা) (মক্কায়) খিলাফতের প্রতিষ্ঠা করলে তার ভাই মুসআব (ইবনৃয
যুবায়র) কে ইরাকে তার প্রতিনিধি নিয়োগ করে পাঠা ৷লেন ৷ তখন আমর ইবন জুরমুয সুসআব
(রা) এর প্ৰতিপত্তিতে ভীত হয়ে এবং পিতৃ হত্যার প্রতিশোধে তাকে হত্যা করা হবে এ
আশংকায় আত্মগােপন করে ৷

তখন যুসআ ব (রা) বললেন, তাকে জানিয়ে দাৰুণ্ও যে, সে নিরাপদ ৷ সে কি ধারনা করেছে
যে, আবু আবদুল্লাহ (যুবায়র) (রা)-এর ন্যায় লোকের বিনিময় তাকে আমি হত্যা করব ? কক্ষণো
নয়, আল্লাহর কসম ! এ দুই জন তো সমান নয় ৷ এটা ছিল যুসআব (রা)-এর সহনশীলতা,
বুদ্ধিমত্তা ও নেতৃতুসুলভ বিজ্ঞতার পরিচয় ৷ যুবায়র (বা) রাসুল্পাহ্ (না) থেকে অনেক হাদীস
রিওয়ায়াত করেছেন, যার বিবরণ আরো বিন্তুত পরিসর সাপেক্ষ ৷
ওয়াদিস সিবা এ যুবায়র (বা) নিহত হলে (পুর্ব বর্ণনা মতে) তার শ্রী আত্বিকৃ৷ ৰিনত ষায়দ
ইবন আমর ইবন নুফা য়ল (বা) স্বামীর গােকগাথা রুপে বললেন (কবিতা)

“ইবন জুরমুয বিশ্বাসঘাতকত৷ করেছে এক অপ্ৰতিরােধ্য অশ্বারোহীর সাথে; যুদ্ধকালীন
পরিস্থিতিতে ৷ সে তো কাপুরুষ পলায়নপর ছিল না ৷ হে আমরা তুমি যদিতাকে সতর্কতার
সুযোগ দিতে, অবশ্যই তুমি তাকে দেখতে পেতে হৃদকম্প বা বাহু র্কাপনে অস্থির সে নয় ৷

কতই ৰিপদ-সংকুল ক্ষেত্রে যে ঝাপ দিয়েছে; তা থেকে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি কোন
প্রতিরোধ-হানাহানি-ও (ঢিলার পাশের) ব্যাঙের ছাতার পাে৷ (গজিয়ে ওঠা বাহাদুর) ৷

ভোর মা পুত্রহারা হোক! ঐদি তুই খুজে পেতে পারিস তার তুলনা বিপতদের মাঝে; যারা
বেচে-বর্তে আছে তাদের মাঝে! তোর পালনকর্তা আল্লাহর কলম! অবশ্যই তুই একজন খড়াটি
ঘুসলিমকে খুন করেছিল; তোর জন্য সাব্যস্ত হয়েছে স্বেচ্ছাকৃত খুনের শাস্তি ৷

তেব : কতিবে ওহী তালিকায় বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহাবী যায়দ ইবন ছাবিত ইবনুয
যাহহাক ইবন যায়দ ইবন লুযান ইবন আমর ইবন উৰায়দ ইবন আওফ ইবন গুনম ইবন
মালিক ইবনুন নাজ্জার-আনসারী নাজ্জারী (বা) ৷ উপনাম আবু সাঈদ ৷ মতাস্তরে আবু খারিজা;
মতাম্ভার আবু আবদির রাহমান আল-মাদানী ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর মদীনায় শুভাপমনকালে
তিনি ছিলেন এ পার বছরের বালক ৷ এ কারণেই-বয়স কম হওয়ার কারণে তিনি বদরে
অংশ্যাহণ করতে পারেন নি ৷ অনেকের মতে-উহুদেও নয় ৷ সুতরাং তার প্রথম উপস্থিতি ছিল
খান্দাকে (পরিমার-র) যুদ্ধে ৷ পরবর্তী সবগুলিতে অংশ্যাহণ করেন ৷ তিনি ছিলেন হাফিযুল
কুরআন, সুবুদ্ধিমান ও নিজ আলিম ৷ সহীহুল বুখড়ারীতে তার বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে যে,
রাসুলুল্লাহ (সা) তাংক ইয়াহুদীদের কিতাব (ভাষা ও লিখন রীতি) শিখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন,
যাতে তারা নবী কৰীম (না)-কে কোন কিছু লিখে পাঠালে তিনি তাকে তা পড়ে দিতে পারেন ৷
তিনি মাত্র পনের দিলে তা শিখে নেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, সুলায়মান ইবন দাউদ (র) খাবিজা ইবন যায়দ (র) সুত্রে এ
মর্মে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা যায়দ (বা) র্তাকে অবহিষ্ঠ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা)
মদীনায় আগমন করলে যায়দ (বা) বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট নিয়ে যাওয়া
হল ৷ তিনি আমাকে দেখে মুগ্ধ হলেন ৷ তীরা (আমার স্বজনরা) বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহা এটি
নাজ্জার গোত্রের কিশোর ৷ আল্লাহ আপনার উপর যা নাযিল করেছেন, তা হতে দশের অধিক
সুরা তার মুখস্ত রয়েছে ৷ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (না)-কে আনন্দিত করল তিনি বললেন, “মায়দ! আমার হয়ে তুমি
ইয়াহুদীদের লিখন পদ্ধতি শিখে ফেল ৷ কেননা, আমি-, আল্লাহর কলম! আমার লেখার
ব্যাপারে ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি না ৷ যায়দ (বা) বলেন, আমি তার হয়ে
তাদের লেথ্য-তাষা শিখতে লাগলাম এবং পনের রাত যেতে না যেতে তাতে আমি বুৎপত্তি
অর্জন করে ফেললাম ৷ তারা নবী করীম (না)-এর কাছে কোন পত্র লিখলে আমি তা তাকে
পড়ে দিতাম এবং তিনি যখন লিখতে চাইতেন তখন আমি তীর হয়ে জবাব লিখে দিতাম ৷
আহমদ (র) তার পরবর্তী বর্ণনায় হাদীসটি রিওয়ড়ায়াত করেছেন শুরায়হ ইবনুন নুমান (র)
খারিজা-তার পিতা থেকে, সনদে (অনুরুপ উল্লেখ করেছেন) ৷ বৃখারী (র) তীর আহকাম’
(বিধি-বিধান) অধ্যায়ে খারিজা ইবন মাসুদ ইবন ছজ্যি (ৱা) সুত্রে তাসীক (সনদ বিহীন) রুপে
নিশ্চয়তা সুচক ভাষ্যে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, খারিজা ইবন যায়দ (র)
বলেছেন ৷ ( ঐ হাদীস উল্লেখ করেছেন ৷) আবু দাউদ (র) আহমদ ইবন ইউসুফ (র) সুত্রে
এবং তিরমিযী (র) আলী ইবন হুজর (র) সুত্রে (উভয় সনদ) খারিজার পিতা থেকে
অনুরুপতাবে হাদীসটি বিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিরমিযী (র) মন্তব্য করেছেন, হাদীসটি হাসান
সহীহ ৷ এটা অবশ্যই সুতীক্ষ্ণ ও প্রখর ধী শক্তি ৷ এছাড়া সহীহগ্রন্থদ্বয়ে আনাস (রা) সুত্রে যেমন

বর্ণিত হয়েছে যে, যায়দ (বা) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (না)-এর যুগে কুরআন সংগ্রহকারী কুররা
(হাফিযদের) অন্যতম ৷

আহমদ ও নাসাঈ (র) আবু কিলাবা (র) থেকে আনাস (রা) সুত্রে রাসুলুল্পাহ (সা) থেকে
রিওঘায়ত করেছেন যে, তিনি বলেছেন,

“আমার উন্মতের মধ্যে আমার উম্মতের প্রতি সর্বাধিক দয়াবান আবু বকর; আর আল্লাহর
দীনের ব্যাপারে তাদের মাঝে সর্বাধিক মযবুত উমর; আর তাদের মাঝে লজ্জাশীলতায় সর্বাগ্রে
উসমান; আর তাদের মাঝে সর্বাধিক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন আলী ইবন আবু তালিব; আর তাদের
মাঝে হালাল হারামে সর্বাধিক বিজ্ঞ ঘুআয ইবন জাবাল; আর তাদের মাঝে ফারাইয (মীরাস
সম্পর্কিত বিধি-ৰিধান) বিষয় সর্বাধিক বিজ্ঞ যায়দ ইবন ছাৰিত এবং প্রতি উম্মাতে থাকে
একজন আমীন বিশ্বস্ত ব্যক্তি এ উম্মতের আমীন (ও বিশ্বাস ভাজন) হচ্ছেন আবু উবায়দা
ইবনুল জারঘাহ (রাযিঘাল্লাহু আনহুম) ৷ হাফিয (হাদীস শাস্তীয়) রাবীগণের অনেকে এ
হাদীসকে মুরসাল’ সাব্যস্ত করেছেন ৷ তবে আবু উবায়দা (বা) সম্পর্কিত বাণীটুকু এ সনদেই
সহীহ বুখারীতে (মারকু রুপে) বর্ণিত হয়েছে ৷

যায়দ (বা) একাধিক ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা) সঘীপে ওহী লিখলে সৌতাগ্য অর্জন করেছেন ৷
এ সবের মাঝে অধিকতর প্ৰকাশমান ঘটনা বা যায়দ (বা) সুত্রেই সহীহ বুখারীতে উদ্ধৃত
হয়েছে ৷ তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তাআলার এ কালাম নাযিল হল ( মুমিনদের মধ্যে যায়া-ঘরে বসে থাকে ও বাবা আল্লাহর
পথে জিহাদ করে তারা সমান বয়স (৪ : ৯৫) ৷ তখন রড়াদৃলুল্পাহ (সা) আমাকে ডেকে
বললেন, ইতোমধ্যে ইবন উম্মু মাখতুম (বা) এসে তার
দৃষ্টিহীনতার অনুযোগ করতে লাগলেন ৷ তখন আবার ঘাসুলুল্লাহ (না)-এর উপরে ওহী নাযিল
হতে লাগল এবং তাতে তার উরু আমার উরুর উপর ভারী বোধ হতে লাগল; এমনকি যেন তা
চুর্ণ হয়ে ঘাচিছল ৷ তখন নাযিল হল এ আঘাতের মধ্যবর্তী ক্ষুদ্র অংশ ;
অক্ষম নয়’ তখন নবী করীম (সা) আমাকে হুকুম করলে আমি তা আঘাতের মাঝে সংযুক্ত
করে দিলাম ৷ যায়দ (বা) বলেন, আমি সম্মক আমি এ আঘাতের সংযুক্তি স্থান-সে হাড়ের
ফেটে যাওয়া স্থানে (পরে সংযুক্ত করেছিলাম) ৷ (পুর্ণ হাদীস)

যায়দ (বা) ইঘামামা যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন ৷ তাতে একটি তীর তাকে ৰিদ্ধ করেছিল ৷
তবে তা তার ক্ষতির কারণ হয়নি ৷ এ ঘটনার পরেই আবু বকর সিদ্দীক (রা) তাকে কুরআনের
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশগুলি অনুসন্ধান করে সংকলিত করার আদেশ করেছিলেন ৷ তিনি তাকে
বলেছিলেন, তুমি বয়সে তরুণ ও ধীমান এবং তোমার বিশ্বম্ভতায় আমাদের দ্বিধা নেই ৷ এ ছাড়া
তুমি তাে রাসুলুল্লাহ (না)-এর জন্য ওহী লিখে রাখার দায়িত্ব পালন করতে ৷ অতএব তুমি
কোরআনের আঘাতসমুহ খুজে খুজে তা সংকলিত কর ৷ তিনি সিদ্দীক (রা)-এর আদেশ যথাযথ

পালন করেছিলেন ৷ তা বয়ে এনেছিল অনেক সুফল ও কল্যাণ (সব হামদ আল্লাহ্রই এবং
অনুকম্পাও তার) ৷

উমর (বা) তার (খিলাফতকালে তার) দুই বার হজ্জ পালন কালে যায়দ (রা)-কে মদীনায়
তার প্রতিনিধি নিযুক্ত করে গিয়েছিলেন ৷ অনুরুপ তার সিরিয়া সফর কালেও তাকে প্রতিনিধি
করে গিয়েছিলেন ৷ অনুরুপভাবে উসমান (রা)-ও তাকে মদীনায় তার স্থলাভিষিক্ত করে
যেতেন ৷ আলী (রা) র্তাকে ভালৰাসতেন ৷ তিনিও আলী (না)-কে শ্রদ্ধা করতেন এবং তার
মর্যাদার স্বীকৃতি দিতেন ৷ তবে তার যুদ্ধসমুহের কোনটিতে তার সংগে অংশগ্রহণ করেন নি ৷
আলী (রা)-এব পরেও তিনি বেচে ছিলেন এবং পয়তাল্লিশ হিজরীতে-মতান্তরে একান্ন; মতাম্ভ
রে পঞ্চান্ন হিজরীতে তিনি ইনতিকাল করেন ৷ তিনিই আল কুরআনের মুল গ্রন্থের অনুলিপি
তৈরী করে দিতেন যা ইসলামী রাষ্ট্রর সর্বত্র প্রচলনের আদেশ জারী করেছিলেন উসমান (বা) ৷
এবং সে অনুলিপির লিখন রীতি অনুসারে তিলাওয়াত করার ব্যাপারে সর্বসস্মৃত সিদ্ধান্ত গৃহীত
হয়েছিল ৷ (আমার তাফসীর গ্রন্থের ভুমিকারুগে সংযোজিত ফাযাইলুল কুরআন এ বিষয়টির
বিশদ বিবরণ সন্নিবেশিত করা হয়েছে আল-হামদৃ লিল্পাহ) ৷

লিখক তালিকায় আর একটি নাম উদ্ধৃত হয়েছে আস সিজিল ৷ ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে
বর্ণিত হাদীস বিশুদ্ধতা সাপেক্ষে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে ৷ ফলে এর বিশৃদ্ধতা প্রশ্নের উর্ধে
নয় ৷ (হাদীসটি এই) আবু দাউদ (রা) বলেন, কুতড়ায়বা ইবন সাঈদ (র) ইবন আব্বাস
(বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, সিজিল হচ্ছেন নবী করীম (না)-এর কাতিব ৷ নাসাঈ ও
কুতায়ব৷ (র) ইবন আব্বাস (রা) সনদে অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন যে,
এ্যা আে , (যে দিন আমি গুঢিয়ে ফেলব আসমান কে যেমন গুঢিয়ে ফেলে সিজিল
অর্থাৎ ণত্রগুলিআম্বির৷ ১০৪) আয়াত সম্পর্কে ইবন আব্বাস (রা) বলেন, সিজিল হল এক
ব্যক্তি ৷ (নাসাঈ-র ভাষ্য এরুপই) অবু জাফর ইবন জারীর (তারাৰী) (র) তার তাফসীব গ্রন্থে
আল্লাহ পাকের কালাম প্ৰসংগে হাদীসটি রিওয়ড়ায়াত
করেছেননাসর ইবন আলী (র) সুত্রে ৷ তিনি (পুর্বোক্ত সনদের) নুহ ইবন কায়সসনদে ৷ এ
সনদের নুহ (ব) নির্ভরযোগ্য রাৰী ৷ মুসলিম শরীফের রাৰী তালিকাত্যুঃ ৷ তবে ইবন মাঈন (র)
তার একটি বর্ণনায় নুহ (র)-কে দুর্বন’ বলেছেন ৷ এ সনদে নুহ (র)-এর শায়খ যায়ীদ ইবন
কাব আল আওফী বিসরী যার নিকট থেকে নুহ ইবন কায়স ব্যতীত অন্য কেউ রিওয়ায়াত
গ্রহণ করেন নি ৷ এতদসক্কত্ত্বও ইবন হিব্বান (র) তাকে ছিকা নিভরিরুযান্া৷ তালিকাভুক্ত
করেছেন ৷

ন্ গ্রন্থকারের মন্তব্য : এ হাদীসটি আমি আমাদের শায়খ মহান হাফিয আবুল হাজ্জাজ আল
মিযযী (র) এর সামনে উপস্থাপন করেছিলাম ৷ তিনি এটিকে প্রত্যাখ্যান করলেন ৷ আমি তাকে
অবহিত করেছিলাম যে, আমাদের শায়খ আবুল আব্বাস ইবন তায়মিয়া (র) বলতেন, এটি
একটি মাওযু বর্ণনা ৷ যদিও তা আবু দাউদ (র)-এর সৃনান গ্রন্থে স্থান পেয়েছে ৷ তখন
আমাদের শায়খ আল মিযষী (র) বলেন, আমিও তাই বলেছি ৷ এ ছাড়া হাফিয ইবন আলী (র)
তার কামিল গ্রন্থে হাদীসটি মুহাম্মদ ইবন সুলড়ায়মান ওরফে বুম৷ (ব) সুত্রে ইবন আব্বাস
(বা) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ (সা)-এর একজন কাতিব ছিলেন

যাকে সিজিল নামে ডাকা হত ৷ তার কথাই বলা হয়েছে আল্লাহ পাকের কালাম ৷ অর্থাৎ সিজিল যেভাবে তার খাতাপত্র গুটিয়ে ফেলে সেভাবেই
আসমান গুটিয়ে ফেলা হবে ৷ অনুরুপ বড়ায়হাকী (র):ও হড়াদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ আবু
নাসর ইবন কাতাদা সুত্রেইয়াহয়া ইবন আমর ইবন মালিক সনদে ৷ এ ইয়ড়াহয়াও অতি
দুর্বল ৷ সুতরাং অনুগামী (তাৰি) হিসাবেও এটি গ্রহণযোগ্য নয় ৷ আল্লাহ সম্যক অবগত ৷ আর
আবু বকর আল খাভীব ও ইবন মানদা যা রিওয়ায়াত করেছেন তা আরো অদ্ভুত ও বিরল ৷ তা
হচ্ছে এই আহমদ ইবন সড়াঈদ বাপদাদী ওরফে হামদান ৷ ইবন উমার (রা) থেকে ৷ তিনি
বলেন, সিজিল নামে নবী করীম (না)-এর একজন কাতিব ছিলেন ৷ তাই, আল্লাহ নাযিল
করলেন, ; ইবন মানদা (র) নিত্তেইি মন্তব্য করেছেন
এটি একাকী হামদান বর্ণিত গরীব (বিরল) হাদীস ৷ বারকানী (র) আবুল ফাতহ আযদী (র)-
এর বরাতে বলেছেন, একাকী ইবন নুমায়র এ হড়াদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ যদি যথার্থ হয়ে
থাকে

প্রস্থুকারের মন্তব্য : ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনাটি যেমন মুনকার ও প্রত্যাথ্যাত ছিল,
ইবন উমর (রা)-এর এ র্বণনাটিও তেমনি মুনকার ৷ অথচ ইবন আব্বাস ও ইবন উমর (রা)
থেকে এর বিপরীত হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ ওয়ালিৰী ও আওফী (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে
রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি এ আঘাতের তাফসীরে বলেছেন, “যেমন পৃষ্ঠা লিবনীও প্রস্থকে
গুটিয়ে ধরে রাখে ৷ মুজাহিদ (র)-ও অনুরুপ বলেছেন ৷ ইবন জারীব (র) বলেছেন,
অতিধানেও এ অর্থটি প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ যে, আে হল পৃষ্ঠা (পাতা) ৷ তিনি বলেন,
সড়াহাবীপণের (রা) মাঝে সিজিল নামে কোন ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায় না ৷ এ ছাড়া সিজিল
কোন ফিরিশতার নাম হওয়ার ৰিবয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন ৷ যদিও আবু কুরায়ব (র)
ইবন ইয়ামানইবন উমর (রা) সনদে ণ্ক্রো ড্রুত্র ও ণ্ঙুহু আয়াত প্রসৎগে তেমন একটি হাদীস
উপস্থাপন করেছেন ৷ তিনি বলেন, সিজ্যি একজন ফিরিশতা ৷ তিনি যবন ইসতিপফার নিয়ে
আরোহণ করেন তখন আল্লাহ বলেন, এটিকে নুর রুপে লিখে রাখ ৷ বুনদাৱ (ব)ঠুসুদ্দী (র)
থেকে অনুরুপ উল্লেখ করেছেন ৷ অনুরুপ, আবু জাফর আল বাকির (র)-ও বলেছেন বলে
দাবী করা হয়েছে ৷ আবু কুরায়ব (র)আবু জাফর বাকিরের বরাতে বলেন, সিজিল হচ্ছেন
ফিরিশতা ৷

সিজিল কোন সড়াহাবী বা ফিরিশিতার নাম হওয়ার ব্যাপারে ইবন জারীর (র)-এর এ
প্রত্যাখ্যান অতিশয় সরল ৷ এ সম্পর্কিত রিওরায়ড়াত অতিশয় দুর্বল ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য ৷ আর
যারা তাকে সাহাবীদের (বা) নামের তালিকাভুক্ত করেছেন যেমন ইবন মানদা, আবু নুআয়ম
ইসপড়াহানী ও ইবনুল আহীর (র) তার আল গাবাতে এদের এ কার্যক্রম কেবল বর্ণিত
রিওয়ায়াতের প্রতি সুধারণা প্রসুত কিৎবা হাদীস বিশুদ্ধ প্রমাণিত হওয়ার শর্তে ৷ আল্লাহই
সমধিক অবগত ৷

এ কন্তিব তালিকায় আর একটি নাম রয়েছে-সাদ ইবন আবু সারহ (রা) ৷ এ বক্তব্য
খলীফা ইবন খায়্যাত (র)-এর ৷ জ্যি এতে তিনি বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন ৷ মুলত তিনি হলেন
সাদ (রা)-এর পুত্র আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন আবু সারহ (রা) ৷ তালিকার পরবর্তী ক্রমিকে
যথাস্থানে তার কথা আলোচনা করা হবে, ইনশা আল্লাহ ৷

চৌদ্দ ও অন্যতম কাতিব আমির ইবন ফুহায়রা আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর আযাদকৃত
গোলাম ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুর রাযযাক (র)সৃরাকা ইবন মালিকের ভাতিজা
আবদুল মালিককে তার পিতা অবহিত করেছেন যে, তিনি সুরাকাকে বলতে শুনেছেন, তিনি
নবী করীম (না)-এর হিজ্জাতর ঘটনা ৰিবৃত করেছেন ; তাতে তিনি বলেছেন, আমি নবী
করীম (না)-কে বললাম, আপনার কওম আপনার হত্যাকারীর জন্য পুরস্কারের ঘোষণা
দিয়েছে ৷ আমি তাদেরকে তাদের সফরের বিষয়াদি অবহিত করলাম এবং লোকেরা তাদের
ব্যাপারে কী কী পরিকল্পনা করছে তা“ ও অবহিত করলাম ৷ আমি তাদেরকে পাথেয় ও আসবাব
নিতে অনুরোধ করলাম ৷ কিন্তু তারা আমার কোন কিছুই গ্রহণ করল না এবং আমার কাছে
কিছুই চাইল না ৷ শুধু তারা তাদের কথা গোপন রাখার জন্য আমাকে অনুরোধ ব্বালন ৷ আমি
তাদেরকে আমার নিরাপত্তাসুচক একটি লিপি আমাকে লিখে দিতে আবেদন ক্রোাম ৷ তখন
নবী করীম (সা) আমির ইবন ফুহায়রাকে হুকুম করলে তিনি এক খণ্ড চামড়ার তা আমাকে
লিখে দিলেন ৷৩ তারপর তিনি সেখান থেকে প্ৰস্থান করলেন ৷

গ্রস্থুকারের মম্ভব্যং হিজরত প্রসং গে ইণ্ডে তাপুর্বে হাদীসটির পুর্ণাঙ্গ বিবরণ দেয়া হয়েছে ৷ ণ্কান
কোন বর্ণনায় রয়েছে যে, অবু বকর (রা) নিজেই সুরাক৷ (রা) কে পত্রটি লিখে দিয়েছিলেন ৷
অল্লোহই সমধিক অবগত ৷

আমির ইবন ফুহায়রা (রা)-যার উপনাম ছিল আবু আমর-তিনি ছিলেন আয্দ গোত্রের
কৃষ্ণকায় মিশ্র আরব শ্রেণীভুক্ত এবং প্রথমে তিনি ছিলেন আইশা (বা) এর (মা উম্মু রুমান সুত্রে
তন্র)বৈমাত্রেয় ভাই ভুফায়ল ইবনুল হারিছ-এর গোলাম ৷ রাসুলুল্পাহ (সা) আত্মগােপন করে
আরকাম ইবন আবুল আরকামের সাফা পাহাড়ের নিকটস্থ বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার আগেই তিনি
একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৷ এ কারণে মক্কার অন্যান্য দুর্বল-
অসহায়দের সংগে আমির (রা)-কেও নতুন ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার লক্ষে৷ নির্যাতন করা হত ৷
কিন্তু তিনি ছিলেন অটল-অৰিচল ৷

পরে আবু বকর (যা) তাকে ক্রয় করে যুক্তি দিয়ে দিলেন ৷ এরপর থেকে তিনি মক্কার
পাদদেশে আবু বকর (রা)-এয় ছাগপাল চরাতেন ৷ পরে আবু বকর (রা)-কে সংগে নিয়ে
রাসুলুল্লাহ (সা) ইিজরত করলে তিনিও তার সংগী হলেন এবং আবু বকর (রা) এর বাহনে
সহ-আরোহী হলেন ৷ তাদের স০ গে তখন আর ছিল দায়লী গোত্রের মরু পথ নির্দেশক, যার
বিশদ বিবরণ ইতােপুর্বে দেয়৷ হয়েছে ৷ তারা মদীনায় উপনীত হওয়ার পরে আমির (ইবন
ফুহায়রা) (বা) সাদ ইবন খায়ছামা (রা)-এর বাড়িতে অতিথি হলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা)
আওস ইবন ঘুআয (রা)-এর সংগে তার ভ্রাতৃ-বন্ধন রচনা করে দিলেন ৷ তিনি বদর ও উহুদে
অংশ্যাহণ করেন এবং বীর-ই-মাউনার ঘটনায় শাহড়াদাত বরণ করেন ৷ যেমনটি আমরা পুর্বে
বলে এসেছি ৷ এ ঘটনা হিজরী চতুর্থ সালের ৷ তখন তার বয়স ছিল চল্লিশ বছর ৷ আল্লাহ
সম্যক অবগত ৷ উরওয়া, ইবন ইসহাক, ওয়াকিদী (র) এবং আরো অনেকে উল্লেখ করেছেন,
বীর-ই-মাউনার ঘটনার আমির (রা)-কে শহীদ করেছিল বনু কিলাব গোত্রের জাব্বার ইবন
মালয় নামের এক ব্যক্তি ৷ জ্বাব্বার বল্লম দিয়ে র্তাকে আঘাত হানলে তিনি বলে উঠলেন,

কা বার মালিকের শপথ! আমি সফলকাম হয়েছি” ৷ আমির (রা) এর লাশ

টঠিম্নে নেয়া হয় এবং তিনি অদৃশ্য হয়ে যান ৷ এমনকি হত্যাকা ৷রীদের আমির ইবনুত তুফায়ল
বলেন, র্ভাকে এত উচুতে তুলে (নয়৷ হল যে, আমি তাকে আসমানের আড়াল হতে দেখলাম ৷

আমর ইবন উমায়্যা (রা)-কে তার সম্বন্ধে জিজ্ঞাস ৷করা হলে তিনি বললেন, যে ছিল আমাদের
গ্রেষ্ঠদের একজন এবং আমাদের নবী করীম (না)-এর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত প্রথম শহীদ ৷ জাব্বার
বলেন, আমি যাহ্হাক ইবন সুফিয়ানকে আমিরের উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তার অর্থ কী
? জংা৷বে তিনি বললেন, জান্নাত ৷ যাহ্হাক আমাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলে আমিও
মুসলমান হয়ে ণ্গলাম ৷ কারণ আমি আমির ইবন ফুহায়রার হত্যার পরবর্তী ঘটনা প্রত্যক্ষ
কারছিলাম ৷ তখন যাহহ ক (বা) আমার ইসলাম গ্রহণের সংব বাদে এবং আমির (রা)এর ঘটা
রাসুলুল্লাহ (সা) কে লিখে জ না৷লেন ৷ তিনি বললেন, মোঃ এ্যা, এ্যা ব্লুদ্দ্বু, ফিব্রিশতাগণ
তাকে অম্ভর্হিত করেন এবৎতাকে পুণ্যবা নদের অবস্থা ন ক্ষেত্রে (ইল্লিল্টীন-এ) নিয়ে রাখা হয় ৷
সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে আনাস (বা) সুত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, তাদের (বীর-ই-মা উনার
শহীদগণের) সম্পর্কে আমরা কুরআনের আয়াতরুপে তিলাওয়াত ক্যরছি যে ক্রো “আমাদের স্বজাতিকে আমাদের তরফ হতে পৌছিয়ে দাও
যে, আমরা আমাদের প্ৰতিপালকের সাক্ষাত লাভ করেছি; তিনি আমাদের প্রতি রাষী হয়েছেন
এবং আমাদের সন্তুষ্ট করে দিয়েছেন ৷ (বীর-ই-মা উন৷ ঘটনা এবং গে আমরা বিশদ বিবরণ
ইতোপুর্বে দিয়ে এসেছি) মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেছেন, হিশাম ইবন উরওয়া (র) তার
পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আযির ইবনুত তুফায়ল বলতাে তোমাদের মধ্যে কে সেই লোক
যাকে হত্যা করে, আ ৷মি তাকে দেখতে পেলাম যে, আ সম ৷ন যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে (শুন্যে)
তাকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে-এমন কি আমি তাকে কাশকে তার নীচে দেখতে পেলাম ৷ লোকেরা
বলল, তিনি হচ্ছেন আমির ইবন ফুহায়রা (রা)৷ ৷ওয়াকিদী (র) বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন
আবদুল্লাহ (র) আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমির ইবন ফুহায়রা (রা)
কে আকাশে তুলে নেয়া হল ৷ ফলে তার লাশ পাওয়া গেল না ৷ লোকের ধারণা যে,
ফিরিশতাগণ তাকে অন্তর্হিত করে ফেলেছেন ৷

পনের : কাতিব তালিকায় অন্যতম সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন আরকাম ইবন অবুল আরকাম
মাখঃযুমী (বা) ৷ মক্কা বিজয়কালে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী করীম (না)-এর পক্ষ থেকে
লিখকের দায়িত্ব পালন করেন ৷ ইমাম মালিক (র) বলেন, তিনি যা কিছু করতেন সুষ্ঠভাবে
করতেন ৷ সালামা (র) বলেন, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র
(বা) সুত্রে যে, রাসুলুল্লাহ্ (না) আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম ইবন আবদ ইয়াগুছকে কাতিৰের
দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন ৷ তিনি নবী করীম (না)-এর পক্ষ থেকে রাজা-বাদশাহদের জবাব
লিখতেন ৷ তার আমানতদাবী ও বিশ্বস্ততা এ পর্যায়ের ছিল যে, নবী করীম (সা) এর হুকুমে,
তিনি কে ৷ন রাজা-বাদশাহর বরাবরে লিখতেন এবং তা ত ৷র দৃষ্টিতে আমানত সাব্যস্ত হওয়ার
কারণে যে পর্যন্ত পাঠ করে শে ৷নাতেন সে স্থানেই মোহর মেরে দিতেন ৷ তিনি আবু বকর (রা)-
এর জন্যও লিখকের (সচিবের) দায়িত্ব পালন করেন এবং বায়তুল মাল (রম্ভীয় কােষাগার)
তার হাতে ন্যস্ত করা হয় ৷ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) ও তাকে উভয়ৰিধ দায়িত্বে বহাল
রাখেন ৷ উসমান (রা) খলীফ৷ হয়ে তাকে উভয় দায়িতৃ হতে অব্যাহতি দেন ৷

১ অর্থাৎ আধুনিক রষ্ট্রযত্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেদ্রীয় ব্যাৎ এর দায়িত্ব ৷

গ্রন্মোরর মষ্ব্য : আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম (রা) তাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন
করার পরেই উসমান (বা) তা মনবুর করেছিলেন ৷ বর্ণিত হয়েছে যে, উসমড়ান (বা) তার কর্তব্য
পালনের বিনিময়ে তিন লাখ দিরহাম দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন ৷ তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি
জানিয়ে বললেন, আমি তো আল্লাহর জন্য কাজ করেছি, সুতরাং আমার বিনিময় মহান মহীয়ড়ান
আল্লাহর কাছে ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেন, যায়দ ইবন ছাবিত (রা)-ও রাসুলুল্লাহ (না)-এর কাতিবের
দায়িত্ব পালন করতেন ৷ কখনো ইবনুল অরকাম ও যায়দ ইবন ছাবিত (রা) দু’জনই অনুপস্থিত
থাকলে উপস্থিত লোকদের কেউ দায়িতু পালন করতেন ৷ উমর, আলী, যায়দ, মুগীরা ইবন
শুবা, ঘুআবিয়া, খালিদ ইবন সাঈদ ইবনুল আস (রা) এরা সকলে এবং অন্যান্য অনেকেই
(যাদের নামের উল্লেখ রয়েছে) লিখার কাজ করতেন ৷ আমাশ (র) বলেন, আমি শাকীক ইবন
সালামাকে বললড়াম, নবী করীম (সা)-এর কাতিব (সচিব)-কে ছিলেন ? তিনি বললেন,
আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম (রা) ৷ কাদিসিয়া-য় আমাদের কাছে উমর (রা)এর ফরমান
এসেছিল ৷ তার নীচে লেখা ছিল, লিখক আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম ৷ বড়ায়হড়াকী (র) বলেন,
হাফিয আবু আবদুল্লাহ (র)ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নবী
করীম (না)-এর নিকট এক ব্যক্তির এক পত্র এল ৷ তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল আরকামকে
বললেন,১৷ “আমার পক্ষ হতে জবাব দাও ৷” তিনি জবাব লিখে তা নবী করীম (সা)-
কে পড়ে গােনালেন ৷ তিনি বললেন, “যথার্থ করেছ ৷ সুন্দর
করেছ ৷ হে আল্লাহ ৷ তাকে তাওফীক দান কর ৷ বর্ণনাকারী বলেন, পরে উমর (রা) যখন
খলীফা মনোনীত হলেন তখন তিনি প্রয়োজনীয় বিষয় তার পরামর্শ গ্রহণ করতেন ৷ উমর
ইবনুল খাত্তাব (বা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর প্রতি তার চেয়ে অধিক
ভীত-অর্খাৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে আর কাউকে আমি দেখিনি ৷ মৃত্যুর পুর্বে তিনি
দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন ৷

সােল : কাতিব তালিকার অন্যতম সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ইবন আবদি রাব্বিহী
-আনসাৰী-খাযরাব্জী (বা) ৷ আষানের ঘটনার জন্য বিখ্যাত ৷ শুরুর দিকের মুসলমান; সত্তর
সদস্যের (দ্বিতীয়) আকাৰা চুক্তিতে অংশ্যাহণকারী ৷ বদর ও পরবর্তী সব যুদ্ধ অভিযানে
অংশ্যাহণকারী ৷ তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাহাত্ম্য স্বপ্ন যােগে আযান ও ইকামাতের পাঠ লাভ করা ৷
রাসুলুল্লাহ (না)-এর নিকট তা উপস্থাপনের পরে তাতে তার অনুমোদন লাভ ৷ নবী করীম (সা)
তখন বলেছিলেন, “এটা অবশ্যই
সত্য স্বপ্ন ৷ সুতরাং তা বিলালকে শুনিয়ে দাও ৷ কেননা, সে তোমার চেয়ে উচু আওয়াজের
অধিকারী ৷” আমরা যথাস্থানে হাদীসটি বিশদ বিবৃত করেছি ৷ ওয়াকিদী (র) ইবন আব্বাস
(বা) পর্যন্ত সম্পৃক্ত তার বিভিন্ন হাদীসে রিওয়ায়াত করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা)
জারাশ গোত্রের ইসলাম গ্রহণকারীদের জন্য একটি সনদ লিখে দিয়েছিলেন যাতে তাদের প্রতি
সালাত প্রতিষ্ঠা, যাকাত প্রদান ও গনীমাতের পঞ্চমাংশ আদায়ের নির্দেশ ছিল ৷ বত্রিশ
হিজরীতে চৌষট্টি বছর বয়সে এ আবদুল্লাহ (রা) ইনতিকাল করেন ৷ উসমড়ান ইবন আফ্ফছন
(বা) তার জানাযার সলােতে ইমামতি করেন ৷

সতের : বিশিষ্ট সাহাবী কাতিব আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন আবু সারহ কুরায়শী, অমিরী
(বা) ৷ উসমান (রা) এর দুধ ভাই ৷ উসমান (রা)-এর মা তাকে স্তন্য দান করেছিলেন ৷ প্রথমে
ওহী লিখক ছিলেন ৷ পরে মুরতাদ (ধর্মত্যাপী) হয়ে মক্কার ঘুশরিকদের দলে ভিড়ে যান ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) যখন মক্কা জয় করলেন-যাদেরকে পাওয়া মাত্র হত্যা করা হবে বলে ঘোষিত
হয়েছিল সেই তালিকায় তিনিও একজন ছিলেন ৷ তখন তিনি উসমান (না)-এর কাছে গেলে
তিনি তার জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে রাসুলুল্লাহ (সা) তা মনয়ুর করলেন ৷ মক্কা বিজয়
প্রসংগে আমরা তা বিশদভাবে আলোচনা করে এসেছি ৷ পরে আবদুল্লাহ ইবন সাদ (রা) উত্তম
নিষ্ঠাবান মুসলামনের জীবন-যাপন করেন ৷ আবু দাউদ (র) বলেন, আহমদ ইবন মুহাম্মদ
মারওয়াষী (র) ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (ইবন সাদ) ইবন
আবু সারহ নবী কৰীম (সা) এর জন্য লিথকের দায়িত্ব পালন করতেন ৷ শয়তান তাকে স্থালিত
করলে তিনি কাফিরদের সংগে মিলিত হন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তাকে হত্যা করার আদেশ জারী
করলেন ৷ উসমান ইবন আফফান (বা) তার জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে রাসুলুল্লাহ (সা) তার
নিরাপত্তা মনযুর করলেন ৷ নাসাঈ (র) বিষয়টি রিওয়ায়াত করেছেন আলী ইবনুল হুসারন ইবন
ওয়াকিদ (র) সুত্রে ৷

গ্রস্থকারের মন্তব্য : উমর (রা)-এর খিলাফতকালে বিশ হিজরীতে যখন আমর ইবনুল
আস (রা) মিশর জয় করেন তখন আবদুল্লাহ ইবন সাদ (বা) আমর (রা)-এর বাহিনীর
দক্ষিণ ভাগের অধিনায়ক ছিলেন ৷ উমর ইবনুল খাত্তাব (বা) বিজয়ী সেনাপতািক (আমবকে)
মিশরে তার প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন ৷ উসমড়ান (রা) খলীফা হওয়ার পর আমর ইবনুল আস
(রা)-কে মিশরের শাসনকর্তার পদ হতে অব্যাহতি দিয়ে পচিশ হিজরী সনে তার স্থানে
আবদুল্লাহ ইবন সাদ (রা) কে মিশরের শাসনকর্তা নিয়োগ করলেন ৷

উসমান (বা) তাকে আফ্রিকিয়া অঞ্চলসমুহে অভিযানের নির্দেশ দিলে তিনি তা পালন
করলেন এবং বিজয়ী হলেন ৷ এ সব অভিযানে মুসলিম বাহিনী প্রভুত গনীমাত হাসিল করেন
এবং বাহিনীর অশ্বারোহীরা প্রত্যেকে তিন হাজার মিছকাল সোনা ও পদাতিক বাহিনীর
প্রত্যেকে এক হাজার মিছকাল সোনা গনীমাতরুপে পান ৷১ তার সংগে এ বাহিনীতে ছিলেন
তিন জন আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র, আবদুল্লাহ ইবন উমর ও আবদুল্লাহ ইবন
আমর (বা) ৷ তারপর আবদুল্লাহ ইবন সাদ (রা) আফ্রিকার পর তার অভিযানের মোড় ঘুরিয়ে
দিলেন নুরাঃ অঞ্চলের আসাবিদ অভিমুখে ৷ তাদের সংগে যুদ্ধ নয় চুক্তি বা সন্ধি হল ৷ সে
চুক্তি আজ পর্যন্ত বহাল আছে ৷ এ ঘটনা ছিল একত্রিশ হিজরী সনের ৷ এরপর তিনি রোমানদের
বিরুদ্ধে সুওয়ারা-র বিখ্যাত নৌ যুদ্ধ পরিচালনা করেন ৷ সে ছিল এক ভীষণ ও গুরুত্বপুর্ণ
লড়াই ৷ যথাস্থানে বর্ণনা দেয়া হবে-ইনশাআল্লাহ্! পরে উসমান (রা) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু
হলে তিনি মিশরে নিজের একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করে উসমড়ান (না)-কে সাহায্য করার
উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন ৷ উসমড়ান (রা)-কে শহীদ করে দেয়া হলে তিনি আসকালানে এবং
মতাভরে রামাল্লায় অবস্থান করলেন এবং আল্লাহর নিকট এ দুআ করলেন যে, আল্লাহ যেন
তাকে সালাত আদায় কালে মৃত্যু দান করেন ৷ একদিন তিনি ফজর সালাত আদায়

১ এক হাজার মিছকাল প্রায় সাড়ে তিন কিলেগ্রোম; তিন সের দশ ছটাকের অধিক ৷ অনুবাদক
করছিলেন-প্রথম রাকআতে তিনি সুরা ফাতিহার পরে সুরা ওয়াল আদিয়াত পাঠ করলেন এবং
দ্বিতীয় রাকআতে সুরা ফাতিহার সংগে অন্য একটি সুরা মিলালেন ৷ তশোহহুদ পাঠ সমাপ্ত করে
যখন তিনি প্রথম (ডান দিকের) সালাম ফিরালেন এবং দ্বিতীয় সালাম ফিরান্মের জন্য উদ্যত
হলেন ঠিক এ মুহুর্তে দুই সালামের মধ্যবর্তী ক্ষণে তিনি ইনতিকাল করলেন ৷ (রাষিরল্লোহ
আনহু) এ ঘটনা ছিল ছত্রিশ হিজরী, মতাম্ভরে সাইত্রিশ হিজরী সনের ৷ আর কাংৰা কারো মতে
তিনি উনষটি হিজরী পর্যন্ত বেচে ছিলেন ৷ তবে প্রথম অভিমতটিই সঠিক ৷

গ্রন্থকারের মন্তব্য : হয় গ্রন্থ এবং ইমাম আহমদ (র)-এর ঘুসনড়াদ গ্রন্থের (অ্যাংও অর
সুত্রে কোন হাদীস বর্ণিত হয়নি ৷

(কাতিব তালিকায় এক, তিন, চার ও দুই নম্বর মনীষী-চার খলীফার সংক্ষিপ্ত ৰিপ্লো
, ত্রুমিকের পরিবেশিত হল ৷)

একঃ আবু বকর সিদ্দীক (বা) আবদুল্লাহ ইবন উসমান (রা) (আগেই অংপীকার ব্যাং fl
হয়েছে যে, তার খিলাফতের র্বণনায় তার জীবন চরিত আংলাচনা করা হবে-মহান জিং
আল্লাহর) মর্ষী সাপেক্ষে এবং র্তারই উপরে ভরসা করে ৷ তার জীবন চরিত এবং তার ফ্ল
বর্ণিত হাদীসসমুহ ও তীর বাণীমালা সং হ করে আমি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছি ৷ মোঃ
রুপে র্তার দায়িত্ব পালনের প্রমাণ যুহরী (র) সৃত্রেসৃরাকা ইবন মালিক হতে মুসা ইৰ্ ন
মৈং! (বা) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও আবু বকর (বা) হিজরত কালে ফ্ফা
(হাওর) গুহা থেকে বের হয়ে সুরাকাদের এলাকা অতিক্রম করছিলেন এবং সুরাকা র্তীদের
অনুসন্ধানে ব্যপৃত ছিলেন সুরাকা তাদের পথ রোধ করলেন এবং তখন তার ঘোড়ার দৃরৰহ্য

(মাটিতে পা পেড়ে যাওয়া) ইত্যাদি ৷ অবশেষে সুরাকা তাদের কাছে একটি নিরাপত্তা কা
লিখে দেয়ার আবেদন জানালে নবী করীম (সা) আবু বকর (রা)-কে হুকুম করলেন ৷ তিনি
একটি সনদপত্র লিখে র্তাকে দিয়ে দিলেন ৷ তবে ইমাম আহমদ (র) যুহয়ী (র) সুত্রে এ
সনদেই রিওয়ায়াত করেছেন যে, আমির ইবন ফুহায়রা (র) এ পত্রটি লিখে দিয়েছিলেন ৷
সুতরাং এমন হতে পারে যে, আবু বকর (রা) নিজে পত্রটির অংশবিশেষ লিখে তন্র মম্ভেলা
আমির (রা) কে হুকুম করলে তিনি তার অবশিষ্টটুকু লিথলেন ৷ আল্পাহ্ই সমধিক অবগত ৷

তিন ও অন্যতম কড়াতিব আমীরুল যুমিনীন উছমান ইবন আফ্ফান (বা) তার জীবন চরিত
ও তার খিলাফত কালের বংনাি প্রসঙ্গে সন্নিবেশিত হবে ৷ নবী কৰীম (না)-এর দরবারে তার
লিখকরুপে কর্তব্য সম্পাদনের বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ ৷ (যেমন,) ওয়াকিদী (র) তার বিভিন্ন সনদে
রিওয়ায়াত করেছেন যে, নাহ্শান ইবন মালিক আল-ওয়াইলী রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ধিদমভে
আগমন করলে তিনি উছমান ইবন আফ্ফান (রা)কে ইসলামী শরীআভের বিধান সম্বলিত
একটি পত্র নাহ্শানকে লিখে দেয়ার আদেশ করেন এবং সে মতে তিনি পত্রৰানি লিখে দেন ৷

চার : আযীরুল মু’মিনীন আলী ইবন আবু তালিব (বা) তার জীবন চরিত্র ও তার আিফ্তে
যুগ প্রসঙ্গে আলোচিত হ্যব ৷ আগেই ৰিবৃত হয়েছে যে, দশ বছরের জন্য যুদ্ধ ষিরাষ্ট ও সংঘর্ষ
নয়, প্রতারণা নয় এ ধরনের শর্ত সম্বলিত রাসুলুল্লাহ্ (না) ও কুরারশীদের ষ্যবে মোঃ
হ্লারৰিরা সন্ধিত্রে আলী (রা)-ই লিধেহিঃলন ৷ এছাড়াও, নবী কৰীম (না)-এর মোঃ স্টিং

আরো একাধিক পত্র লিখেছেন ৷ তবে খায়বারের একটি ইয়াহুদী দলের এ দাবী যে, তাদের
জিঘৃয়া রহিতকরণ সম্বলিত নবী কবীম (সা)এর একটি সনদ তাদের কাছে রয়েছে ৷ যার শেষে
রয়েছে, লিখেছে আলী ইবন তালিব এবং তাতে সাদ ইবন মুআয, মুআবিয়া ইবন আবু
সুফিয়ান (রা) সহ এক জামাআত সাহাবীর সাক্ষী হওয়ার কথাও রয়েছে এটি একটি সম্পুর্ণ
মিথ্যা ও জলজ্যাস্ত জালিয়াতি ৷ এক দল আলিম এটি মিথ্যা হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন ৷ তবে
পুর্বসুবী ফকীহ্দের কেউ কেউ তাদের এ জালিয়াতির রহস্য উদ্মাটনে সমর্থ না হওয়ার কারণে
তাদের জিষ্য়া রহিত হওয়ার অভিমত পোষণ করতেন ৷ কিন্তু তাদের এ অভিমত ছিল অভিনয়
দুর্বল ৷ এ বিষয় আমি একটি স্বতন্ত্র পুস্তক রচনা করেছি এবং তাতে ইমামগণের ৰিজ্যি
অভিমত সমন্বিত করেছি ও সে সৰের আলোচনা পর্যালোচনা করেছি ৷ সেই সাথে এ
ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের জালিয়াতির স্বরুপ উদঘাটন করেছি ৷ আমি প্রমাণ করে দিয়েছি যে ,
উল্লিখিত দলীল বড়ানােয়াট এবং তা প্রতারণা ও জালিয়াতিতে অভ্যস্ত দুর্তাগা চক্রাস্তবাজ
ইয়াহুদীদের পুরুমানুক্রমিক নদ-অভ্যাসেরই একটি নমুনা মাত্র ৷ আল্লাহ্রই জন্য হাম্দ
এবং অনুকস্পা র্তারই ৷

দুই : নবী কবীম (না)-এর দরবারের অন্যতম কাতিব আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল
খাত্তাব (রা) ৷ যথাস্থানে তার জীবন চরিত আলোচিত হবে (এ বিষয়ে আমি একটি স্বতন্ত্র পুস্তক
ৎকলন করেছি ৷ অনুরুপ, রাসুলুল্লাহ্ (না) হতে রিওয়ায়াত কৃত তার হাদীসসমুহ এবং তার
সিদ্ধাস্তসমুহ ও ৰাণীমালা সংকলিত করে আরো একটি বৃহৎ খণ্ড আমি তৈরী করেছি) ৷ আর
কাতিব হিসাবে তার কর্তব্য পালনের বিবরণ আবদুল্লাহ্ ইবনুল আরকাম (না)-এর জীবনী
আলোচনায় উদ্ধৃত হয়েছে ৷

আঠার : নবী করমি (না)-এর দরবারের বিশিষ্ট কাতিব আলা ইবৰুল হাযরামী (বা) ৷
হাযরামীর প্রকৃত নাম ছিল আব্বাস ৷ মতান্তরে, আবদুল্পাহ্ ইবন আব্বাদ ইবন আকবর ইবন
রাবীআ ইবন আবীকাং ইবন মালিক ইবনুল খাযরাজ ইবন ইয়াদ ইবনুস সিদ্ক ইবন ষারদ
ইবন মুকান্না ইবন হামরমােওত ইবন কাহতান ৷ তার বংশসুত্রের অন্য রকম বর্গনাও দেয়া
হয়েছে ৷ তিনি ছিলেন বনু উমায়্যার অন্যতম মিত্র ৷ আৰান ইবনসড়াঈনইৰ্সুষ্! আস (রা)-এর
আলোচনায় তার কাতিবরুপে কর্তব্য পালনের বিষয় উল্লিখিত হয়েছে৷ তিনি ব্যতিরেকে তার
আরো দশজন ভাই ছিলেন ৷ এদের মাঝে রয়েছেন আমর ইবনুল হাযরামী, মুসলামানদের
হাতে মুশরিকদের প্রথম নিহত ব্যক্তি ৷ আবদুল্লাহ্ ইবন জাহান (রা)এর বাহিনীর মুসলমান
সৈনিকরা তাকে হত্যা করে৷ আগেই ৰিবৃত হয়েছে যে, এটা ছিল মুসলমানদের প্রথম
সমরাভিযান ৷ তার এক তইিয়ের নাম ছিল আমির ইবনুল হাযরামী আবু জাহল (তার উপরে
আল্পাহ্র লানতণ্ডু) তাকে বললে সে তার কাপড় খুলে ফেলে দিয়ে একেবারে বিবস্ত্র হয়ে
গিয়েছিল ৷ বদর যুদ্ধে মুসলমান ও মুশরিকরা ব্যুহ রচনা করলে আবু জাহল ওয়া উমরা-হ
(ওয়া আমিরা) বলে চীৎকার করে উঠলে সড়ইি উত্তের্জনা মুখর হয়ে উঠল এবং ৎঘর্ষ তার
চুড়ান্ত রপ পকািহ করল (পরবর্তী ঘটনাবালীর বিবরণ আমরা বথাস্থড়ানে উপস্থাপন করে
এসেছি) ৷ আশা (রা)-এর অনাতম ডাই শুরায়হ ইবনুষ্৷ হাযরামী (বা) ৷ ইনি ছিলেন শ্রোঠ
সাহাৰীদের অ্যাংতম ৷ রাসুক্রুরাহ্ (না) তার সম্পর্কেই বলেছিলেন যে,এই
“ঐ (লোক) হল এমন এক লোক যে কুরআনকে বালিশ বানিয়ে রাখে না ৷” অর্থাৎ তা
পরিহার করে ঘুমিয়ে থাকে না; বরং দিন-রাতের মুহুর্তগুলােতে তা নিয়েই মগ্ন থাকে ৷ আর
এপা র তা ই সকলের ছিল একটি মাত্র বোন ৷ তার নাম ছিল সারা বিনতুল হাযরামী তালহা
ইবন উবায়দুল্লাহ্র মা ৷

নবী করীম (সা) অ ল্যে ইবনুল হাযরামী (রা)-কে বাহরায়নের রাজা আল-যুনযির ইবন
সাওয়া-র সকাশে (দুত রুপে) পাঠিয়েছিলেন ৷ পরে বাহরায়ন বিজিত হলে তাকেই নবী করীম
(সা) সেখানকারও আমীর নিযুক্ত করেন ৷ পরে সিদ্দীক (বা) (প্রথম খলীফা) এবং তার পরে
উমর ইবনুল খাত্তাব (মা) তাকে ঐ পদে বহাল রাখেন ৷ উমর ইবনুল থাত্তাব (যা) তাকে
সেখান হতে সরিয়ে বসরার শাসনকর্তা পদে নিয়োগ করা পর্যন্ত তিনি এ পদেই বহাল ছিলেন ৷
কিন্তু বসরা পৌছার পথে পথিমধ্যেই তিনি আখিরাতের পথে যাত্রা করেন ৷ এ ছিল একুশ
হিজরীর ঘটনা ৷

বায়হাকী (র) প্রমুখ তার অনেক কারামত’-এর বিবরণ দিয়েছেন ৷ সে সবের মাঝে
উল্লেখযেগ্যে কয়েকটি একবার তিনি তার বাহিনী নিয়ে সাগরের (পানির) উপরে লোর গতি
অব্যাহত রাখেন ৷ অথচ পানি তার বাহিনীর ঘোড়াগুলাের হীর্টু পর্যন্ত ভোবাল না ৷ বেউি কেউ
বলেছেন, ঘোড়াগুলাের পায়ের নাল-এর তলাও তিজল না ৷ তিনি বাহিনীর সকলকে হুকুম
করলে তারা বলতে থাকল (হে সহনশীল! হে মহান ও বিশাল! আল্লাহ্ ৷) ৷
আর একবার তিনি বাহিনী নিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ বাহিনীর পানির প্রয়োজন দেখা দিল ৷ তিনি
আল্লাহর নিকট দুআ করলেন ৷ আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টি দিয়ে দিলেন ৷ তীর
মৃত্যু হয়ে গেলে তার লা ব্!র কোন সন্ধান পাওয়া গেল না ৷ বলা বাহুল্য এ বিষয় তিনি
আল্লাহ্র দরবারে দু আ করেছিলেন ৷াদাল ইলুন নুবুওয়াহ্ (নবুয়তের নিদর্শনাবলী) অধ্যায়ে এ
প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হবে ইনশাআল্লাহ্ ৷

আলা (রা) সুত্রে রাসুলুল্লাহ্ (না) থেকে তিনটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ এক ইমাম আহমদ
(র) বলেন, সুফিয়ান ইবন উয়ায়না (র) আলা ইবনুল হাযরামী (রা) সুত্রে বর্ণিত ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) বলেছেন “ঘুহাজির ব্যক্তি তার হত্তজ্জর কাজ
সম্পাদনের পরে (মক্কায়) তিন দিন অবস্থান করবে ৷ বিশিষ্ট ছয় গ্রন্থকার আলা (রা) সুত্রে এ
হাদীসঢি আহরণ করেছেন ৷ দুই আহমদ (ব) বলেন, হুশায়ম (র)আলা ইবনুল হাযরামী
(রা)এর পুত্র হতে এ মর্মে যে, তার পিতা নবী করীম (না)-এর বরাবরে একটি পত্র
লিখেছিলেন ৷ তাতে তিনি নিজের নাম দিয়ে সুচনা করেছিলেন ৷ আবু দাউদ (র) ও আহমদ
ইবন হাম্বল (র) সুত্রে হাদীসটি অনুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিন আহমদ ও ইবন মজাে (র )
মুহাম্মদ ইবন য’ায়দ সুত্রে আলা (বা) হতে এ মর্মে যে, তিনি বাহরায়ন হতে রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর নিকট লিখে পাঠালেনষ্ কয়েক ভাইয়ের শরীকানড়াভুক্ত বাগানের ব্যাপারে যে, তাদের
একজন ইসলাম গ্রহণ করলে ? নবী করীম (না) তাকে হুকুম পাঠালেন ইসলাম গ্রহণকারীর
নিকট হতে উশর (উৎপন্ন ফসলের দশমাংশ) নিতে এবং অযুসলিমের অংশে (নির্ধারিত
পরিমাণ) খারাজ (রাজস্ব) নিতে ৷

উনিশ ও অন্যতম কাতিব আলা ইবন উকবা (বা) ৷ হাফিয ইবন আসাকির (র) বলেন,
তিনিও নবী করীম (সা) এর অন্যতম কাতিব ছিলেন ৷ তবে আমাদের উল্লিখিত খবর’ ব্যতীত
অন্য কা ৷উকে আ ৷মি র্তা র কথা উল্লেখ করতে দেখিনি ৷ তারপর তিনি আতীক ইবন ইয়াকুব
(র) এর সাথে স যুক্ত তা র সনদে উল্লেখ করেছেনঅড়াবদুল মালিক ইবন আবু বকর ইবন
মুহাম্মদ ইবন আম্র ইবন হাযম (র) তার পিতা-র্তা ৷র দাদা (আমৃর ইবন হাযম) সুত্রে বর্ণনা
দিয়েছেন “এ হচ্ছে জাগীর, যা রাসুলুল্পাহ্ (না) এ সম্প্রদায়কে বন্দোবস্ত দিয়েছেন এবং
তাতে উল্লেখ আছে
“রাহমান রাহীম আল্লাহ্র নামে, এ হল (সে দলীল) যা নবী মুহাম্মদ (সা) প্রদান করেছেন
আব্বাস ইবন মিরদাস সুলামী (রা) কে; র্তাকে মাদমুর’ (মাযমুর) প্রদান করেছেন ৷ সুতরাং
এতে যে তার সাথে প্রতিকুল দাবী-দাওয়া উত্থাপন করবে (সং ঘাত করবে) তার এতে কোন
অধিকা ৷র থাকবে না ৷ বরং তার (আব্বাস-এর) অধিকা বই হবে প্রকৃত অধিকার ৷ লিখেছে আলা
ইবন উকবা এবং সাক্ষী হয়েছে ৷
তারপর বংনািক ড়ারী (ইবন আসা ড়ামির ইবন হাযম সুত্রে) বলেছেন-

রাহ্মান রড়াহীম আল্পাহ্র নামে এ হল (সে দলীল) যা প্রদান করেছেন আল্পাহ্র রাসুল
মুহাম্মদ (সা) আওসাজা ইবন হারমালা জুহানীকে; ঘুল-মড়ারওয়ড়া হতে চৌহদ্দী বালকছছা হতে
জাবয়া পর্যন্ত, সেখান থেকে জিইল্লাত পর্যন্ত, সেখান থেকে কাবলিয়া পর্বত পর্যন্ত ৷ সুতরাং যে
তার সাথে স০ ঘাত-সৎবল্ট করবে তার কোন সঙ্গত অধিকার নেই; তার (আওসাজার)
অধিকা বই সঙ্গত অধিকার এবং লিখেছে আলা ইবন উকবা ৷ :
ওয়াকিদী (র) তার বিভিন্ন সনদে উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) জুহায়নার শাখা
গোত্র বনু সায়হ-কেও জাগীর দিয়েছিলেন এবং আলা ইবন উকবা (বা) এ সম্পর্কিত র্তাদের
দলীল লিখে দিয়েছিলেন এবং সাক্ষী হয়েছিলেন ৷ ইবনুল আহীর (র) র্তার উসদুল পাবা গ্রন্থে
এ মনীষীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, আলা ইবন উকবা (বা) নবী কবীম
(না)-এর তরফে কাত্যিবর দায়িতৃ আঞ্জাম দিয়েছেন ৷ র্তার উল্লেখ রয়েছে আমৃর ইবন হাযম
(রা)-এর বর্ণিত হাদীসে ৷ এ কথা উল্লেখ করেছেন জাফর (র) এবং তা নিজের কিভাবে উদ্ধৃত
করেছেন আবু মুসা আল-মদােনী (র) ৷
বিশ ও অন্যতম কাতিব সাহাবী মুহাম্মদ ইবন মাসলামা ইবন জ্বরায়স (হুৱায়শ) ইবন
খালিদ ইবন আদী ইবন মাজদাআ ইবন হারিছা ইবনুল হারিছ ইবনুল খাযরাজ (বা) আনসারী
হারিন্থী ৷ কুনিয়াত আবু আবদিল্লাহ্; মতান্তরে আবু আবদির রহমান; মতান্তরে আবু সাঈদ
শ্ আল-মাদানী; বনু আবদিল আশহাল-এর মিত্র ৷ যুসআব ইবন উমায়র (রা)-এর হাতে এবং

মতান্তরে সাদ ইবন মুআয ও উসায়দ ইবন হুযায়র (না)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷
রড়াসুলুল্পাহ্ (সা) তীর মদীনা আগমনের পরে তার সঙ্গে আবু উবায়দা ইবনুল জারুরাহ (রা)-এর
সঙ্গে ভাই সম্পর্ক স্থাপন করে দেন ৷ বদর ও পরবর্তী অতিযানসমুহে তিনি অংশ নিয়েছিলেন ৷
তাবুক অভিযান কালে রাসুলুল্লাহ্ (না) তাকে মদীনায় তার স্থলাভিষিক্ত (ভারপ্রাপ্ত) করে
গিয়েছিলেন ৷ ইবন আবদিল বাবুর (র) তার আল-ইসভীআব’ষ্এ বলেছেন, তিনি ছিলেন
প্রকট বাদামী বর্ণের, দীর্ঘকায়, ঢাক-মাথা (বড় কপড়াল) বিশাল দেহী ৷ তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ
সাহাবীগণের অন্যতম ৷ তিনি মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ কােন্দল ও গৃহযুদ্ধে নির্জ্য৷ নিরপেক্ষতা
অবলম্বন করেছিলেন এবং এ সময় একটি কাঠের তরৰারি তৈরী করে রেখেহিলেন ৷ ’

আপামর বর্ণনাকাবীদের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুসারে তেতাল্লিশ হিজবী সনে মদীনায় তিনি
ইনতিকাল করেন ৷ মারওয়ান ইবন হাকাম তার জানাযায় ইমামতি করেন ৷ নবী করীম (না)
হতে তিনি অনেকগুলো হাদীস ৰিওয়ড়ায়ড়াত করেছেন ৷ মুহাম্মদ ইবন সাদ (র) আলী ইবন
মুহাম্মদ আল-মাদাইনী (র)-এর একাধিক সনদে উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবন মাসলামা
(রা)-ই রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নির্দোশ বনু মুর্রা প্রতিনিধি দলের জন্য একটি সনদপত্র লিখে
দিয়েছিলেন ৷

একুশ : কাতিব তালিকায় বিশিষ্ট নাম মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান সাখর ইবন হারব
ইবন উমায়্যা উমড়াবী (বা) ৷ তার শাসন কালের আলোচনায় তার জীবন চরিত বিবৃত হবে-
ইনশাআল্লাহ্ তাআলা ৷ মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (র) তার গ্রন্থে (কাতিব তালিকায়) মুআবিয়া
(রা)-এর নাম উল্লেখ করেছেন ৷ মুসলিম (র) তার সহীহতে রিওয়ড়ায়ড়াত করেছেন ৷ ইকরিমা
ইবন আত্মার (র)ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আবু সুফিয়ান (বা) বললেন,
ইয়৷ রাসুলাল্লাহ্! তিনটি বিষয় আমাকে দিয়ে দিন ৷ নবী করীম (সা) বললেন, ঠিক আছে; আবু
সুফিয়ান (রা) বললেন, আমাকে আমীর ও সেনাপতি নিয়োগ করবেন যাতে আমি কাফিরদের
মুকাবিলায় সেভাবে লড়ইি করতে পারি যেভাবে লড়ইি করতাম মুসলমানদের মুকাৰিলড়ায় ! নবী
করীম (সা) বললেন, ঠিক আছে (তইি হবে) ৷ আবু সুফিয়ান (রা) বললেন, আর মুআবিয়াকে
আপনার দফ্তরে কাতিব (সচিব) নিয়োগ করবেন! নবী করীম (সা) বললেন, হী (তাই

এ হাদীসটি নিয়ে আমি একটি পৃথক পুস্তিক৷ তৈরী করেছি ৷ তার পেছনে কারণ হল এ
হাদীসে আবু সুফিয়ান (রা) কর্তৃক (তার কন্যা) উম্মু হড়াবীবড়াকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সঙ্গে
বিবাহ দানের দাবীর উল্লেখ ৷ অথচ (বাস্তবতা এর অনুকুল নয় যেহেতু) এ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত
বিবরণ হল আবু সুফিয়ান (রা)-£ক সেনাপতি নিয়োগ এবং মুআৰিয়া (রা)-কে নবী করীম
(সা)এর সমীপে কাতিবের পদ-মর্যাদায় নিয়োগের আবেদন এবং এতটুকুই এ ক্ষেত্রে
আলিমগণের সর্বজন সম্মত মত ৷ আর প্রাসঙ্গিক হাদীসটি এরুপ হাফিয ইবন আসাকির (র)
তার তাবীখ’ গ্রন্থের এ ক্ষেত্রে এসে মুআবিয়া (রা)-এর জীবনী আলোচনার বলেছেন ৷ আবু
গালিব ইবনুল বানৃনাজাবির (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, মুআৰিয়া (রা)-কে কাতিব পদে

১ কােন্দলের প্ৰতি ৰিতৃষ্ণা ও পুর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ৷ অনুবাদক

নিয়েড়াগের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ্ (না) জিববীল (আ)-এর সঙ্গে পরামর্শ করলেন ৷ জিববীল (আ)
বললেন, তাকে কাতিব নিয়েপে করতে পারেন ৷ কেননা, সে বিশ্বস্ত ৷ এ বিবরণটি বিরল
প্রকৃতির; বরং মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) ৷ কেননা অন্যতম রাবী সরীি ইবন আসিম ও তার
উর্ধ্বতন রাবীদের সম্পর্কে মুহাদ্দিছগণ বিরুপ মন্তব্য করেছেন ৷

মোটকথা, এ বর্ণনাটি প্রড়ামাণ্য নয় এবং তা দিয়ে প্রভাবিত হওয়ার অবকাশ নেই ৷ কিন্তু
বিস্ময়ের ব্যাপার হল হাফিয ইবন আসাকির (র)-এর আচরণ ৷ তার অৰিস্মরণীয় মাহাত্ম্য ও
বিদ্যাবত্তা এবং সমকালীন হাদীস বিশারদবর্গষ্ববং তার পুর্বসুবী অনেকের তৃলনায়ও হাদীস
শাস্তে তার অভিজ্ঞতার বিশাল পরিধি সত্বেও কিভাবে তিনি তার তারীখ (ইতিহাস) গ্রন্থে এ
হাদীসটি এবং এ প্রকৃতির আরো অনেক হাদীস আহরণ করেছেন; অথচ সেগুলোর দৃর্বলতার
বিবরণ প্রদান জরুরী মনে করেন নি ৷ তার মত বিগ্রিষ্টি মনীষীর এ ধরনের আচরণ
সমালোচনাযোগ্য এবং তা সমর্থনয্যেগ্য নয় ৷-অল্লোহ্ সম্যক অবগত ৷

বইিশ : কড়াতিব তালিকায় অন্যতম রয়েছেন বিগ্রিষ্টি সাহাবী ঘুগীরা ইবন শুবা আছ ছাকাফী
(রা) ৷ নবী কবীম (না)-এর মাওলা নন তার এমন সাহাবী খাদিমগণের তালিকায় তার সংক্ষিপ্ত
জীবনী আলোচনা করে এসেছি ৷ (সেখানে উল্লিখিত হয়েছে যে) তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা)-
এর মাথার নিকটে উন্মুক্ত তরবাবি হাতে দণ্ডায়মান অতন্দ্র দেহরক্ষী প্রহরী ৷ ইতোপুর্বে
একাধিকবার উল্লিখিত আতীক ইবন ইয়াকুব (র)এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সনদে ইবন আসাকাি
(র) রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) হুসায়ন ইবন ন্যযলা আল-অস্যেদী (রা)-ন্নে
জায়গীর প্রদান করেছিলেন তার দলীলপত্রটি নবী কবীম (না)-এর হুকুমে মুগীরা ইবন ণ্ডবা
(রা)-ই লিখে দিয়েছিলেন ৷

এরা হলেন নবী কবীম (না)-এর কতিব ও সচিববৃন্দ মারা তীর দফতরে তীর সকাশে তীর
নির্দোশ বিভিন্ন সনদপত্র ও দলীল-দন্তাবেজ লিখনের কর্তব্য পালন করতেন ৷

নববী দরবারের আমীন’ (একান্ত সচিংবৃন্দ)

নবী কবীম (না)-এর আমীন’ (বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিগত ও একান্ত সচিব) তালিকায় ইবন
আসাকির (র) উল্লেখ করেছেন (প্রথমত) আল আশরাতুল ঘুবাশশারা’ (জান্নাতের আগাম
সুসংবাদ প্রাপ্ত দশ জন)-এর অন্যতম (এক) আবু উবায়দা আমির ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল
জারুরাহ কুরায়শী ফিহরী (মা) ও (দুই) আবদুর রহমান ইবন আওফ ঘুহরী (রা)এর নাম ৷
আবু উবায়দা (রা) আনাস (বা) থেকে আবু কিলাবা (র)-এর হাদীস সুত্রে বুখাবী (র)
রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (যা) বলেছেন,

“প্রতিটি উম্মাহ্র একজন আযীন (বিশ্বাসভাজন) থাকে; এ উম্মাহ্র আযীন হচ্ছেন আবু
উবায়দা ইৰ্নুল জাবৃরাহ (রা) ৷ অন্য একটি ভাষ্য রয়েছে যে, নাজরড়ান থােক আগত আবদুল
কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন :
“অবশ্যই তোমাদের মাঝে পাঠাচ্ছি একজ্যা আমীন’ (বিশ্বস্ত)-কে; যিনি যথার্থই আযীন ৷ ”
পরে তাদের সঙ্গে আবুউবায়দা (রা)-কে নিয়োগ দিয়ে পাঠালেন ৷

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.