Register Now

Login

Lost Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

সাকীফা (মজলিস ঘরে জমায়েত) দিবসে আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর ভাষণের যথার্থতা সম্পর্কে সা’দ ইব্ন ঊৰাদা (রা)-এব স্বীকৃতি

সাকীফা (মজলিস ঘরে জমায়েত) দিবসে আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর ভাষণের যথার্থতা সম্পর্কে সা’দ ইব্ন ঊৰাদা (রা)-এব স্বীকৃতি

সাকীফা (মজলিস ঘরেজমায়েত) দিবসে আবু বকর
সিদ্দীক (রা) এর ভাষণের যথার্থতা সম্পর্কে
সাদ ইবন উবাদা (রা) এর স্বীকৃতি

ইমাম আহ্মদ (র) বলেন, আফ্ফান (র) হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান (বা) হতে, তিনি
বলেন, রড়াসুলুল্লাহ (না)-এর ওফাত হয়ে গেল ৷ তখন আবু বকর (বা) ছিলেন তীর মদীনায়
(সুনৃহ মহল্লার গ্রীষ্ম) নিবাসে ৷ বর্ণনাকায়ী বলেন, তিনি এসে তার চেহারা অনাবৃত করে তাতে
চুমু খেলেন এবং বললেন, আমার মা-বাপ আপনার জন্য উৎসর্পিতা জীবনে ও মরণে আপনি
কতই না সুরভিতা কাবার মালিকের কলম! মুহাম্মদ (সা) ওফাত বরণ করেছেন (পুর্ণ হাদীস
উল্লেখ করেছেন) : বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবু বকর ও উমর (রা) দ্রুত গতিতে পথ চলে
তাদের (আনসার) কাছে পৌছলেন এবং আবু বকর (রা) কথা বললেন ৷ তার বক্তব্যে তিনি
আনসারদের প্রশংসায় নাযিলকৃত কুরআনের কোন আয়াত এবং এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (না)-এর
কোনও বাণীই তিনি বাদ দিলেন না ৷ তিনি একথাও বললেন, আপনারা অবশ্যই অবগত
রয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন,

দ্বু

“লোকেরা যদি একটি উপত্যকা দিয়ে চলে, আর আনসাররা অন্য একটি উপত্যকা দিয়ে
চলে তবে আমি (অবশ্যই) আনসারীদের পথ ধরে চলব ৷” (তিনি আরো বললেন) আর হে
সাদ আপনি ভাল করেই জানেন যে রড়াসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আপনিও তখন (মজলিসে)
উপবিষ্ট ছিলেন-

“কুরায়শ গোত্র এ দীনের (নেতৃতু) বিষয়টির যোগ্য পাত্র; সুতরাং মানব সমাজের ভাল
লোকেরা এ (কুরায়শী)-দের ভালদের অনুপামী আর মন্দ লোকেরা এদের মন্দদের অনুগাঘী ৷
ওখন সাদ (রা) বললেন, যথার্থ বলেছেন, আপনারা আমীর (খলীফা) , আমরা উযীব
(সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ী) ৷ ইমাম আহ্মদ (র) আরো বলেন, আলী ইবন আব্বাস (র)যা-
তুসৃ সালাসিল গাঘৃওয়ায় আবু বকর (রা)-এর সহযোদ্ধা রাফি আত-তাঈ (বা) হতে, তিনি
বলেন,-আমি তাদের বড়ায়আত সম্পর্কে কথিত বক্তব্য সম্বন্ধে র্তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম-
তখন আনসাররা যা বলাবলি করেছিল এবং তিনি তাদের সামনে যে কথা বলেছিলেন এবং
উমর (রা) আনসারদের জবাবে যা বলেছিলেন আমাকে এ সবের আগাগােড়া বিবরণ শুনিয়ে
তিনি বললেন যে, রাসুলুল্লাহ (না)-এর অসুস্থতা কালে র্তার নির্দেশে তাদের সকলের সালাতে
আমার ইমাম হওয়ার কথাও উমর (রা) উল্লেখ করলেন ৷ তখন তারা আমার হাতে বড়ায়আত
করল এবং আমিও তাদের বড়ায়আত গ্রহণ করলাম ৷ কারণ, আমার আশংকা হচ্ছিল যে, (তা
না করলে) পরে কোন ভয়াবহ বিশৃৎখলা ও ধর্মত্যাগের ফিতনা দেখা দিতে পারে ৷ ”

একটি সরল ও বেশ উত্তম সনদ ৷ এর মর্মার্থ হল, আবু বকর (রা) নেতৃতৃ গ্রহণে সম্মত
হয়েছিলেন শুধু এ আশংক্যয় যে তা গ্রহণ করার অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের ফলে কোন বড় ধরনের
ফিতনা ও জাতীয় দুর্যোগ মাথড়াচাড়া দিয়ে উঠতে পারে (আল্লাহ তার প্ৰতি তুষ্ট থাকুন এবং
তাকেও তুষ্ট করুন) ৷

গ্রস্থকারের মন্তব্য : এটা ছিল সােমবারে দিন শেষের ঘটনা ৷ পরের দিন মংগল বারের
সকাল হলে লোকেরা মসজিদে সমবেত হল এবং ঘুহাজির আনসার নির্বিশেষে সকলে
ৰায়আত গ্রহণ করলেন ৷ এ সবই হয়েছিল রাসুলুল্লাহ (না)-এর কড়াফন-দাফনের আগে ৷
বুখারী (র) বলেন, ইব্রাহীম ইবন মুসা (র)আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন যে, তিনি
উমর (রা)-এর শেষ বক্তৃতাটি শুনেছিলেন, যখন তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর ওফাতের পরবর্তী
দিন মিম্বরে বলেছিলেন ৷ আবু বকর (রা) তখন নিরব-নির্বাক বসে ছিলেন ৷ উমর (রা)
বললেন, আমার আশা ছিল রাসুলুল্লাহ (না) আমাদের মাঝে অবস্থান করে আমাদের তত্ত্ববধান
ও পরিচালনা করবেন-অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চাচ্ছিলেন যে, তিনি (নবী সা)-ই হবেন র্তাদের
সর্ব শেষ ব্যক্তি ৷ (তিনি বলে চললেন) এখন যদি মুহাম্মদ (সা) ইনতিকাল করে থাকেন, তবে
আল্লাহ তো আপনাদের মাঝে এমন একটি নুর রেখে দিয়েছেন যা দিয়ে আপনারা হিদায়তের
পথে বিদ্যমান থাকতে পারেন ৷ আল্লাহ্ সে নুর দিয়েই মুহাম্মদ (না)-কে হিদায়তের পথে
পরিচালিত করেছিলেন ৷ আর আবু বকর আল্লাহর রাসুলের সৎগী ও সাহাবী; (ছাত্তর গুহার)
দু’জনের দ্বিতীয় জন (অতএব, রাসুল (না)-এর ঘনিষ্ঠ ও একন্তি সহচর) এবং আপনাদের
জাতীয় বিষয়াবলীতে মুসলমানদের মাঝে তিনিই অগ্রণী ও শ্রেষ্ঠ ৷ সুতরাং এগিয়ে আসুন এবং
তীর হাতে বায়আত করুন ৷ এক দল লোক ইভােপুর্বেই বনু সাঈদার মজলিস ঘরে তার হাতে
ৰায়আত হয়েছিলেন ৷ আর এ সর্বব্যাপী বড়ায়আত হচ্ছিল মিম্বরের উপরে ৷

যুহ্রী (র) বলেছেন, আনাস ইবন মালিক (বা) হতে তিনি বলেন, ঐ দিন আমি আবু
বকরকে উদ্দেশ্য করে উমরকে বলতে শ্যুনছিমিম্ববে উঠে বলুন ! তার মিম্বরে না ওঠা পর্যন্ত
তিনি এভাবেই বলতে থাকলেন ৷ তখন উপস্থিত জনতা সকলেই তার হাতে বায়আত্ত করলেন ৷
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, যুহরী (র)-আনাস ইবন মালিক (বা) হতে বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেন, (বনু সাঈদার) মজলিস ঘরে ৰায়আত অনুষ্ঠানের পরের দিন আবু বকর
(রা) মিম্ববে আসন গ্রহণ করলেন এবং আবু বকরের আগে উমর (রা) দাড়িয়ে কথা বললেন ৷
তিনি আল্লাহর শানে যথোপযােগী হামদ ও ছানা পাঠ করার পর বললেন, লোক সকল! আমি
গতকাল আপনাদের সামনে এমন কিছু কথা বলেছিলাম তা যাই হোক-তা যথার্থ ছিলনা, সে
কথা আমি আল্লাহর কিতাবেও পাইনি, এবং তা এমন কোন অংপীকারও ছিল না যা রাসুলুল্লাহ
(সা) আমাকে বলে গিয়েছিলেন ৷ বরং আমি ভাবতাম যে, রাসুলুল্লাহ (না)-ই আমাদের
পরিচালনা করতে থাকবেন র্তার এ কথার উদ্দেশ্য ছিল, তিনিই হবেন আমাদের শেষ ব্যক্তি ৷
আল্লাহর কসম ! তিনি আপনাদের মাঝে তার যে কিতাব রেখে গিয়েছেন যা দিয়ে আল্লাহর
রাসুল (সা) হিদায়ত প্রাপ্ত হয়ে হিদায়ত বিস্তার করেছিলেন ৷ এখন আপনারা তা আকড়ে ধরে
থাকলে আল্লাহ আপনাদের হিদায়াত নসীব করবেন, যেভাবে আল্লাহ্ ঐ কিতাবকে নবীর জন্য
আলোক বর্ডিংগ বানিয়েছিলেন ৷ এখন আল্লাহ আপনাদের সংহত করেছেন এবং নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব
আপনাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির হাতে সমর্থিত করেছেন, যিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর সহচর এবং

পুহায় অবস্থান কালে দুজনের দ্বিতীয় জন (অর্থাৎ একান্ত ঘনিষ্ট জন) ৷ তাই, উঠুন এবং তীর
আনুগত্যের শপথ নিয়ে তার হাতে বায়আত করুন ৷” উমর (রা)-এর এ বক্তৃতার পরে লোকেরা
(গত দিনের) মজলিস ঘরের বায়আতের পরবর্তী ব্যাপক বায়আত করল ৷ তারপর আবু বকর
(বা) তার বক্তব্য পেশ করলেন ৷ তিনিও আল্লাহ পাকের শানে যথােপযোগী হামৃদ ও ছান৷ পাঠ
করার পরে বললেন, এরপর লোক সকল !

“আমাকে তোমাদের উপরে কতৃতু দেয়৷ হয়েছে অথচ আমি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি
নই! যদি আমি ভাল করি তবে তোমরা আমার সহযোগিতা করবে ৷ আর মন্দ করলে আমাকে
সোজা করে দিবে! সত্যবাদিত৷ হচ্ছে আমানত ও বিশ্বস্ত৩ ৷; মিথ্যাচার হচ্ছে খিয়ানত ও বিশ্বাস
ভৎগ ৷ তোমাদের মাঝের দুর্বল ব্যক্তি আমার কাছে সরল, যতক্ষণ, না তার দুর্বলত৷ ও সমস্যার
সমাধান করে দেই ইনশাআল্লাহ! আর তোমাদের মাঝের সরল ব্যক্তি আমার কাছে দুর্বল,
যতক্ষণ না তার নিকট হতে আমি হক ও প্রাপ্য উসুল করে দেই-ইনশাআল্লাহ! যখনই কোন
জাতি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা বর্জন করে তখনই আল্লাহ্ তাদের জন্য অপমান-লাঞ্চণা
অবধারিত করে দেন ৷ এবং কোন জাতি অশ্লীলতার বিস্তার যটালে আল্লাহ্ তাদেরকে ব্যাপক
দুর্যোগ ও মাহাবিপদে অবশ্যই আক্রান্ত করেন ৷ আমি যতক্ষণ আল্লাহ এবং তার রাসুলের
আনুগত্য করব তোমরা সে পর্যতই আমার অনুগত থাকবে ৷ আর যদি আমি আল্লাহ এবং তার
রাসুলের অবাধ্যত৷ করি তা হলে তোমাদের জন্য আমার আনুগত্যের অধিক৷ ৷র থাকবে না ৷ ”

অবধারিত করে দেন ৷ এবং কোন জা ৩অশ্লীল৩ ৷র বিস্তার যটালে আল্লাহ তাদের কে ব্যাপক
দুর্যোগ ও মাহাবিপদে অবশ্যই আক্রান্ত করেন ৷ আমি যতক্ষন আল্লাহ্ এবং তার রাসুলের
আনুগত্য করব তোমরা সে পর্যতই আমার অনুগত থাকবে ৷ আর যদি আমি আল্লাহ এবং তার
রাসুলের অবাধ্যত৷ করি তা হলে তোমাদের জন্য আমার আনুগত্যের থাকবে না ৷

এবার সালাতের জন্য উঠ!অ আল্লাহ তোমাদের রহম করুন এটি একটি বিশুদ্ধ সনদ ৷ তবে
আমাকে তো মাদের কর্তৃতৃ দেয়৷ হয়েছে অথচ আ ৷মি তোম রুাদর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নই” আ বু বকরের এ
উক্তিতে রয়েছে তার স্বভাবজাত বিনয় ও শিষ্টাচারের প্রকাশ ৷ অন্যথায় তিনিই যে সাহাবীকুলের
শ্রেষ্ঠ ও মহত্তম ব্যক্তি ছিলেন যে বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত ৷

হাফিজ বায়হাকী (র) বলেন, হাফিযুল হাদীস আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ আলু
ইসৃফরাঈনী (র) আবু সাঈদ খুদ্রী (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) এর ওফাত হয়ে গেলে লোকেরা সাদ ইবন উবাদ৷ (রা) এর বাড়ীতে সমবেত হল ৷ র্তাদের
মাঝে আবু বকর ও উমর (রা)-ও ছিলেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, তখন আনসারীদের খভীব দাড়িয়ে
বললেন, আপনারা কি অবগত নন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ছিলেন মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং

তার খলীফা ও স্থলভিষিক্তও হবেন যুহাজিরদের একজন ৷ আমরা ছিলাম আল্লাহর রাসুলের
আনসার ও সাহায্যকারী; সুতরাং আমরা এখনও তার খলীফার সাহায্যকারী থাকর, যেমন করে
আমরা তার সাহায্যকারী ছিলাম “বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় উমর (রা) দাড়িয়ে বললেন,
আপনাদের মুখপাত্র যথার্থই বলেছেন, তবে যদি আপনারা এর চাইতে অন্য কিছু বলে বসতেন
তবে আমরা আপনাদের হাতে বায়আেত হতাম না ৷ এ কথা বলে তিনি আবু বকরের হাত তুলে
ধরে বললেন, ইনিই আপনাদের নেতা, তার হাতে বায়আত করুন! তখন উমর (বা) তার হাতে
বায়আত করলেন এবং মুহাজির-আনসারগণও তার হাতে বায়আত হলেন ৷ বর্ণনাকাৰী বলেন,
তখন আবু বকর (রা) মিম্বরে উঠে বললেন এবং উপস্থিত জনতার দিকে দৃষ্টিপাত করে যুৰায়র
(রা) কে দেখতে পেলেন না ৷

বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি যুবায়র-এর নাম ধরে ডাকলেন ৷ তিনি এসে গেলে বললেন,
“ভাবলড়াম, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ফুফাত ভাই এবং তার হাওয়ারী’ , নিঃস্বার্থ নিবেদিত প্রাণ
সহযোগী; তা আপনি কি মুসলমানদের ঐক্যে ফটিল সৃষ্টির সুচনা করতে যাচ্ছেন? তিনি বললেন,
আল্লাহর রাসুলের খলীফা ! না কোন সমস্যা ও আপত্তি নেই ! তখন তিনিও দাড়িয়ে বায়আত গ্রহণ
করলেন ৷ পরে আবু বকর (রা) আবার জনতার মাঝে দৃষ্টি ঘুরিয়ে আলী (রা)-কে দেখতে
পেলেন না ৷ তাই আলী ইবন আবু তালিব (রা)-এর নাম ধরে তিনি ডাকলেন ৷ তিনি এসে
গেলে বললেন, আমি ভাবছিলাম, রড়াসুলুল্লাহ্ (না) এর চড়াচাত ভাই ও তার প্রিয়তমা কন্যা সুত্রে
তার জড়ামড়াতা; আপনি মুসলমানদের ঐক্যে ফটিল ধরাতে যাচ্ছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্র
রাসুল (সা) এর খলীফা ! কোন অভিযোগ নেই ! পরে তিনিও বায়আত করলেন ৷ হাদীসটি
অনুরুপ কিত্বা এর সমর্থক ৷ আবু আলী আলু হাফিজ (র) বলেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক
ইবন খুযায়মা (র)-কে আমি বলতে শুনেছি, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আমার কাছে এসে এ
হাদীসটি জিজ্ঞাসা করলে আমি তার জন্য এটি একটি চিরকুটে লিখে দিলাম এবং তাকে পড়ে
শুনিয়ে দিলাম ৷ এ হাদীসটি একটি উটের কিংবা এক থলে মুদ্রার সমমুল্যের ৷ বায়হাকী (র)-ও
ভিন্ন সনদে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তবে তিনি আনসড়াবী মুখ পাত্রের বক্তব্যের জবাব
দানকারী রুপে উমর (রা)-এর স্থানে আবু বকর (রা)-এর নাম উল্লেখ করেছেন ৷ তাতে আরো
রয়েছে যে, যায়দ ইবন ছাবিত (বা) আবু বকর (বা) এর হাত ধরে বললেন, ইনিই আপনাদের
যােগ্যতম নেতা; সুতরাং তার হাতে বায়আত করুন ৷ তারপর তারা রওয়ানা করলেন
(মসজিদের দিকে) এবং আবু বকর (রা) মিম্বরে উঠে বললে জনতার দিকে তাকিয়ে আলী
(রা)-কে দেখতে না পেয়ে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন ৷ তখন একদল আনসড়াবী লোক উঠে
গিয়ে তাকে নিয়ে আসলেন ৷ তারপর পুবস্থিরুপ উল্লেখ করেছেন এবং আলী (রা)-ও পরে
যুবায়র (রা) এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷ আলী ইবন আসিম (র)-
ও হাদীসটি আবু সাঈদ খুদরী (বা) হতে পুর্বানুরুপ রিওয়ায়াত করেছেন ৷ এ সনদটি আবু
সাঈদ সাদ ইবন মালিক ইবন সিনান আল থুদরী (বা) হতে গৃহীত হাদীসের ক্ষেত্রে একটি
ৎরক্ষিত এবং অতি উত্তম সনদ ৷ এতে একটি গুবুতু পুর্ণ তথ্য পাওয়া যায় ৷ তা হল নবী
করীম (সা) এর ওফাংতর প্রথম কিৎবা দ্বিতীয় দিলেই আবু বকর (রা)-এর হাতে আলী ইবন
আবু তালিব (রা) এর বায়আত গ্রহণ ৷ বাস্তব ব্যাপারও তাই কোননা, আলী (রা) কখনোই
আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন নি এবং তার পিছনে কোনও সালাতে

অনুপস্থিত থাকেন নি৷ বিশদ আলোচনা পরে আসছে ৷ রিদ্দা : ( ধর্যত্যাগী বিদ্রোহ) দমন
অভিযানে আবু বকর (রা)-কােষমুক্ত তরবারী নিয়ে অগ্রগামী হলে (দৃঢ় সংকল্পতা দেখালে)
যুল-কাস্সা অভিমুখে আলী (রা)-ও তার সহযোদ্ধা হয়েছিলেন ৷ তবে আবু বকর (রা)-এর
সাথে ফাতিমা (না)-এর মনােমালিন্য দেখা দিলে আলী (রা) নবী তনয়ার খাতিরে
সাময়িকভাবে বাহ্যত সম্পকহীনতার ভাব অবলম্বন করেছিলেন ৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ
ফাতিমা (রা)-এর ধারণা ছিল যে, তিনি কন্যা হিসাবে রাসুল (না)-এর (ব্যক্তি অধিকারে
সংরক্ষিত খাস ভুমির) মীরাছ পাওয়ার অধিকারীণী ৷ যেহেতু তিনি আবু বকর (রা) কর্তৃক
অবহিত করার পুর্ব পর্যন্ত নবী করীম শ্(সা)-এর এ বাণী সম্পর্কে অবগত ছিলেন না যে, নবী
করীম (সা) বলেছেন “আমরা (নবী-রাসুলরা) মীরাছরুপে কোন
কিছু রেখে যাই না; আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা ৷ “ফাতিমা (বা) তার নিজস্ব ধারণা সুত্রে“
ঘীরাছের অধিকার দাবী করলে আবু বকর (বা) উক্ত সুস্পষ্ঠ ভায্যের জোরে তা প্রদানে
অস্বীকৃত হলেন ৷ ঐ বিধান বলেই নবী করীম (না)-এর স্তীগণ ও তার চাচা (আব্বাস)-কেও
কােনরুপ অধিকার প্রদান এবং মীরাছ প্রদানে অস্বীকৃত হলেন (যথাস্থানে বর্ণনা আছে ৷ তখন
ফাতিমা (রা) খায়বার ও ফড়াদাকে অবস্থিত সাদাকার সম্পত্তিতে (আলী কে) তত্তুাবধায়ক রুপে
দায়িত্ব অর্পণের জন্য আবু বকর (রা)-এর কাছে আবেদন জানালেন ৷ কিন্তু আবু বকর (বা)
তার এ আবেদন গ্রহ্যণ সম্মত হলেন না ৷ র্তার যুক্তি ছিল এই যে, নবী করীম (না) যে সব
দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতেন এবং তিনি যে সব অধিকার সংরক্ষণ করতেন রাসুলের খলীফা
ও স্থলাভিষিক্তরুপে তার যে সব দায়িত্ব কতর্ব্যও অধিকার রয়েছে (মোট কথা ফাতিমা (রা)-
এর আবেদন, গ্রহণে সম্মত হলেন না) ৷ তিনি এ ক্ষেত্রে ছিলেন সত্য-ন্যায়ের অনুপামী
জনকল্যাণকামীও সততাপরায়ণ পুণ্যবান খলীফা ৷ ফলে ফাতিমা (রা)-এর মনে-যিনি অবশেষে
একজন নারীই এবং যিনি স্বভাবজাত চাহিদাঅনুভুতি দুর্বলতার উচর্ধ্ব নন উস্মা ও অসন্তোষের
সৃষ্টি হল এবং মৃত্যু পর্যন্ত সিদ্দীক (রা)-এর সাথে (পুনরায় কোন আলোচনা) কথাবার্তা বললেন
না ৷ এ সব কারণে আলী (বা) কতকাংশে তার মনোরঞ্জন প্রয়োজনীয় মনে করলেন ৷ নবী
করীম (না)-এর ওফাতের ছয় মাস পরে ফাতিমা (রা)-এর ইনতিকাল হল আলী (রা) আবু
বকর (রা)-এর হাতে বায়আতের নবায়ন সমীচীন মনে করলেন ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ের বরাতে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দাফনের পুর্বে আলী (রা)-এর বায়আত ও আনৃষৎগিক বিষয় আমরা
আলোচনা করব ৷ এ ছাড়া মাগাষীতে মুসা ইবন উকবা (র) এর উক্তি উল্লিখিত দাবীর বিশুদ্ধতা
প্ৰমাণে অন্যতম সহায়ক ৷ তিনি বলেছেন, সাদ ইবন ইবরাহীম (র) হতে, এ মর্মে যে,
ইব্রাহীম-এর পিতা আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা) ঘটনার সময় উমর (রা)-এর সঙ্গে
ছিলেন, এবং মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রা) যুবায়র (রা)-এর তরবারী ভেৎগে ফেলেছিলেন ৷
তারপর জনতার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে আবু বকর (বা) তার বাধ্যবাধকতার কথা বর্ণনা করে
বললেন, “আমি দিবা-রাত্রির কোন মুহুর্তে আমীর পদের প্রতি লালায়িত ছিলাম না এবং
প্রকাশ্যে কিৎবা গোপনে এর জন্য কোন তদবীর বা প্রাথর্নাও করি নি ৷” তখন ঘুহাজিরগণ ৷
তার এ বক্তব্যের স্বীকৃতি দিলেন ৷ ওদিকে আলী ও যুবায়র (রা) বললেন, আমাদের উম্মার
কারণ শুধু এতর্টুকু যে, পরামর্শ ক্ষেত্রে আমাদের পেছনে রাখা হয়েছিল ৷ এবং আমরা বিশ্বাস
করি যে, আবু বকরই এ বিষয়ে সর্বাধিক হকদার ব্যক্তি ৷ কেননা তিনি পুহার (একান্ত) সঙ্গী ৷

এ ছাড়া তার মাহড়াত্ম্য ও প্রজ্ঞতার কথা তো আমাদের জানাই রয়েছে ৷ তদুপরি, রাসুলুল্লাহ্
(না) তার জীবদ্দশায়ই তো তাকে লোকদের সড়ালাতে ইমামতি করার নিদের্শ দিয়েছিলেন ৷ এ
সনছন্টি বেশ উত্তম ৷ সমস্ত প্রশৎ না ও অনৃকম্পা আ ল্লোহ্রই ৷

অনুচ্ছেদ : উল্লিখিত আলোচনাটি মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করলে যে কোন পাঠকের
দৃষ্টিতে আবু বকর (রা) কে অগ্রণী রাখার ব্যাপারে মুহা ৷জির ও আনসার ভারত সাহাবায়ে
কিরামের ইজমড়াও ঐকমত্য সুন্ংপ্ষ্টিরুগে প্ৰতিভাত হবে ৷ সে সাথে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
(আগাম) উক্তি “আল্লাহ এবং ঘু মিনগণ আবু বকর ব্যতীত অন্য যে কা ৷উকে প্রত্যাখ্যান করবে,
উক্তির যথার্থতা প্রতিভা ত হবে৷ এ ছাড়া এ কথারও প্রীতি জন্মাবে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
খিলাফতের ব্যাপারে কোন ব্যক্তিবিশেষের অনুকুলে সুনির্দিষ্টভা ভাষ্য রেখে যান নি ৷ আবু বকর
(রা) এর অনুকুলেও নয়-যদিও আহ্লে সুন্নাত জামাআতের একদল তেমন দাবী করেছেন এবং
আলী (বা) এর অনুকুলেও নয় ৷ যেমনটি একদল রাফেষী (খারেজী) বলে থাকে ৷

তবে, হী, তিনি সুস্পষ্ট আভাষ দিয়ে গিয়েছেন ৷ সে ইঙ্গিত এতই জোরালো যে, যে কোন
বুদ্ধিমত্তার অধিকারী জ্ঞানরান তা দিয়ে আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর প্রতি ইঙ্গিত অনুধাবন
করতে পারে আলোচনা র্শীঘই আসছে ৷ যেমন বুখারী-মুসলিমে, উদ্ধৃত হয়েছে, হিশাম ইবন
উয়ওয়া (র) ইবন উনার (রা) সুত্রে এ মর্মে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) কে আহত করা হলে
তাকে জিজ্ঞাসা করা হল ৷ আমীরুল ঘু’মিনীন ৷ আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করছেন না
কেন? তিনি বললেন, আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করে যাই, তবে (তা করতে পারি
কেননা) আমার চেয়ে যিনি উত্তম, (অর্থাৎ আবু বকর) তিনি খলীফা মনোনীত করে গিয়েছেন ৷
আর যদি আমি ব্যাপারটি অমীমাংসিত রেখে দিয়ে যাই, তবে (তাও করতে পারি কেননা),
আমার চাইতে যিনি উত্তম অর্থাৎ খােদ রাসুলুল্লাহ্ (না) ও বিষয়টি উন্মুক্ত রেখে দিয়ে
গিয়েছিলেন ৷ ইবন উমর (রা) বলেন তার এমত জবাবদানে যখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
নাম উল্লেখ করলেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি খঃলীফা মনোনীত করে যাচ্ছেন না ৷
“সুফিয়ান ছাওরী (র) বলেছেন, আসর ইবন কড়ায়স (র) আমৃর ইবন সুফিয়ান (বা) হতে, তিনি
বললেন, আলী (রা) যখন জনতার উপরে প্রাধান্য (ও বিজয়) লাভ করলেন তখন তিনি
বললেন, সমবেত জনতা! এ খিলাফত ও নেতৃত্বের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ্ (না) আমাদের কাছে
কোন আদেশ অঙ্গীকার রেখে যাননি ৷ আমরা অবশেষে আমাদের চিন্তা ও বিবেচনা দিয়ে এ
সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, আবু বকর (রা)-কেই খলীফা মনোনীত করা উচিত ৷ তিনি তার
কর্তব্য পালন করলেন এবং তাতে সঠিক পন্থা অনুসরণ করে অবশেষে তার পথে’ চলে
গেলেন ৷ আবু বকর (রা) তার সুচিন্তিত রায় অনুযায়ী উমর (রা)-কে খলীফা মনোনীত করে
যাওয়া সমীচীন মনে করলেন ৷ তিনিও র্তার কর্তব্য পালনে সঠিক পন্থা অবলম্বন করে চললেন
এবং তার পথে চলে গেলেন, কিৎবা বর্ণনাকারী বলেছেন তিনি দীন প্রতিষ্ঠায় তার সর্বশক্তি
নিয়োগ করে তা সর্বব্যাপী করে গেলেন ৷ ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু নুআয়ম (র) আমৃর
ইবন সুফিয়ান (বা) হতে, তিনি বলেন, আলী (রা)-এর প্রধান্য অর্জনের সময় বসৃরা দিবসে’
এক ব্যক্তি বক্তৃতা করছিলেন ৷ আলী (রা) বললেন, ওহে প্রাঞ্জল ভাষী বক্তা ! রাসুলুল্লাহ্ (না)
(তার রিসালাতের দায়িতু সুচ৷ কভা বে আঞ্জাম দিয়ে) আগেই চলে গেলেন ৷ আবু বকর ইমাম
হয়ে সালাত আদায় করলেন এবং উমর নিজেকে অধিষ্ঠিত করলেন তৃতীয় পর্যায়ে ৷ তারপর

আমাদের এসব বক্তৃতা বিবৃতি তাদের পরে উদ্ভুত ফিত্ন৷ ও বিশৃৎখলা বৈ কিছু নয় ৷ আল্লাহ্
তাতে যা ইচ্ছা তা করবেন ৷

হাফিয বায়হাকী (র) বলেন, হাফিযুল হাদীস আবু আবদুল্লাহ (র) এবং আবদুল্লাহ ইবন
রাওহ আল মাদাইনী (র) আবু ওয়াইল (র) হতে, তিনি বলেন, আলী ইবন আবু তালিব (রা)-
কে জিজ্ঞেস করা হল ৷ আপনি আমাদের জন্য কি খলীফ৷ মনোনীত করবেন না ? তিনি
বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) তো খলীফা মনোনীত করে মান নি, তা হলে তো আমি খলীফা
মনোনীত করতাম ৷ তবে আল্লাহ যদি জনমানবের কল্যাণ পসন্দ করেন তা হলে আমার পরে
তাদেরকে তাদের মাঝের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ব্যাপারে একতড়াবদ্ধ করে দিবেন ৷ যেমন র্তাদের নবীর
পরে তাদেরকে তাদের (শ্রষ্ঠ ব্যক্তির ব্যাপারে একমত করে দিয়েছিলেন ৷ সনদটি বেশ উত্তম;
তবে সিহাহ্ সিত্তা র গ্রস্থুকারগ ৷ণ তা উদ্ধৃত করেনি ৷ এ ছাড়া যুহ্রী (র) ইবন আব্বাস (রা)
সনদে, বুখারী (র) এর আহরিত হা ৷দীসটি আমরা ইতে তাপুর্বে উল্লেখ করে এসেছি ৷ যাতে বলা
হয়েছে যে আব্বাস ও আলী (রা) রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর (অসুস্থতা কড়ালে৩ তার) নিকট হতে বের
হয়ে এলে জনৈক ব্যক্তি বলল, রাসুলুল্লাহ্ (না) এখন কেমন রয়েছেন ? আলী (বা) বললেন,
আলহামদুলিল্লাহ্ ! তিনি আজ সকালে সুস্থই আছেন ৷ তখন আব্বাস (বা) বললেন, তুমি
আল্লাহ্র কলম! তিন দিন পরেই (অন্যের) লাঠির গোলাম হবে ! হাশির্মীদের ঢেহারায় মৃত্যুর
আলামত চিনতে ”আমি পারদর্শী ৷ আমি তো রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর ঢেহারায় মৃত্যুর আলামত
দেখতে পাচ্ছি ৷ তাই, চলো, তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি এ (নেতৃত্বের) বিষয়টি কাদের
মাঝে থাকবেঃ যদি আমাদের মাঝেই থাকে তবে তা আমরা জেনে নিলাম ৷ আর আমাদের
ব্যতীত অন্যদের মাঝে হলে আমরা তাকে বলব ৷ তিনি তার কাছে আমাদের জন্য অসিয়ত
করে যাবেন ৷” তখন আলী (বা) বললেন, আমি কখনো তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করব না ৷
আল্লাহর কলম! তিনি আমাদের জন্য নিষেধ করলে তার পরে লোকেরা কখনো তা
আমাদেরকে দিতে সম্মত হবে না ৷ ” মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) এ হাদীসটি যুহ্রী (র) হতে
সনদে উল্লেখ করেছেন ৷ তাতে তিনি বলেছেন, র্তার৷ দুজন র্তা ৷র (সা) ওফা ৷ত হয়ে যাওয়ার
দিন তার কাছে গেলেন ৷ এ রিওয়ায়াতের শেষ ভাগে রয়েছে এ দিনের প্রথম প্রহরের বেলা
যে ( দ পেলে রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) ইনতিকাল করলেন ৷

গ্রস্থকারের ওম্ভেব্যষ্ সুতরাং ঘটনাটি ছিল ওফাত দিবস সােমবড়ারে ৷ এ বর্ণনা প্রমাণ করে
যে, নবী করীম (সা) ইমাম বা আমীর মনোনয়ন বিষয়ে কো ন অসিয়ত না করেই ইনতিকাল
করেছিলেনা ৷ (অনুরুপ) সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে ইবন আব্বাস (রা)এর উক্তি রয়েছে সংকট মহা
ৎবল্ট, যা প্ৰতিবন্ধক হয়েছিল রাসুলুল্লাহ্ (না) এবং তার ঐ লিখনী লিখে দেয়ার মাঝে ৷”
আগে আমরা উল্লেখ করে এসেছি যে, নবী করীম (না) তাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখে
দেয়ার বড়াসন৷ প্রকাশ করেছিলেন য়ার পরে তারা বিভ্রান্ত হবে না ৷” কিন্তু তারা তার কাছে হৈচৈ
ও মাতানৈক্য শুরু করলে তিনি বলেছিলেন “আমার এ খড়ান হতে ৩উঠে যাও ৷ কেননা আ ৷মি য়ার
মাঝে রয়েছি, তা তে তামরা মার দিকে আমাকে আহ্বান করছ তার চ৷ ৷ইতে উত্তম ৷” আমরা এ
কথার উল্লেখ করে এসেছি যে, নবী করীম (না)-এর পরে বলেছিলেন,৷ অ ৷ল্লাহ্ এবং ঈমানদারগ ণ্া৷
আবু বকর ব্যতীত অন্য যে কাউকে অ্যাহ্য করবে ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে আবদুল্লাহ ইবন আওন (র) ,

আসৃওয়াদ (র) হতে, তিনি বলেন, আইশা (রা)-কে বলা হল, এরা তাে বলে বেড়াচ্ছে যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) আলী (না)-এর কাছে ওসিয়ত করে গিয়েছেন ৷ আইশা (রা) বললেন, (কখন)
কোন বিষয় তার কাছে অসিয়ত করে পেলেন? (শেষ সময় তাে ) তিনি পেশার করার জন্য
একটা পাত্র আনতে বললেন; আমি তাকে আমার বুকের সাথে হেলান দেয়া অবস্থায়
রেখেছিলাম ৷ তিনি কাত হয়ে পড়লেন এবং ইনতিকাল করলেন ৷ অথচ আমি তা অনুভব
করতেও পারলাম না ৷ তা হলে এরা কোন সুত্রে দাবী করছে যে তিনি আলী (রা)-এর কাছে
ওসিয়ত করে গিয়েছেন?

সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে মালিক ইবন মিগৃওয়াল (র) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তাল্হা ইবন
ঘুসাররিফ (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কি কোন অসিয়ত করে নিয়েছেন? তিনি বললেন, না ৷ আমি বললাম, তবে
আমাদের অসিয়ত করার আদেশ দেয়া হল কেন? তখন তিনি বললেন, হী তিনি মহান-মহীয়ান
আল্লাহ্র কিতাব (আকড়ে থাকা)-এর অসিয়ত করে গিয়েছেন ৷ তাল্হড়া ইবন যুসাররিফ (র)
আরো বলেন, হুযায়ল ইবন শুরাহ্বীল বলেছেন, “আবু বকর নাকি রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর
মনোনীত ওসী-র উপরে সদরীি-মাতববরী ফালাতে গিয়েছেন ৷ আবু বকরের বাসনড়া, তিনি
ব্লাসুলুল্লাহ্ (সা) হতে একটি অংগীকার ঘোষণা পেয়ে গিয়েছিলেন, আর তিনি নিজের নাকের
ডগাটা ভেত্গে দিয়েছিলেন ৷” সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে আরো রয়েছে আমাশ (র) ইবরাহীম (র)
সনদের হাদীস ৷ ইব্রাহীম তায়মী (র)-এর পিতা বলেন, আলী ইবন আবু তালিব (রা)
আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন ৷ তিনি বললেন, যারা বলে বেড়ায় যে, আমার কাছে আল্লাহ্র
কিতাব এবং এ সহীফা (পুস্তিকা) ৷ তার তরবারীর খাপের সাথে ঝুলানাে কতকগুলি পৃষ্ঠা যাতে
রয়েছে (যাকাতের উট সম্পর্কিত বয়সের বিবরণ এবং বিভিন্ন ধরনের যখন সম্পর্কিত কতক
দণ্ডবিধির আলোচনা) ব্যতীত অন্য কিছু রয়েছে যা আমরা (কুরআন রুপে) পাঠ করে থাকি,
তারা কি মিথ্যা বলেছে ৷ সে সহীফায় এ বিষয়টিও ছিল ৷ আলী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছেন-

“মদীনা অড়ায়র (পবর্ত) হতে ছাওর (পবর্ত সীমা)পর্যম্ভ হারাম’ (হেরেম-সম্মানিত ও)
নিষিদ্ধ’ এলাকা ৷ যে এখানে কোন ৰিদআত (নতুন মতবাদ) উদ্ভাবন করবে, কিংবা কোন
বিদআতীকে আশ্রয় দেবে তার উপরে আল্লাহ্ এবং ফিরশৃতাকুল ও মানবকুলের সকলের
লানত ৷ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার ফরয-নফল কোন ইবাদতই করল করবেন না ৷ যে

ব্যক্তি তার পিতা ব্যতীত অন্য কারো সাথে জন্ম (ও বংশ) সুত্রের দাবী করবে কিংবা যে

৪১৮ আল-বিদায়া ওয়ান নিহারাংমােজ্যো৪
(গোলাম) তার মনির ব্যতীত অন্য কারো সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করবে তার উপরে আল্লাহর
লাট্রুনাত এবং ফিরিশতাকুল ও মানবকুলের সকলের অভিশাপ ! কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার
কোন ফরয-নফল কবুল করবেন না ৷ মুসলমানদের যিম্মা’ (নিরাপত্তা দানের অংগীকার) এক
ও অভিন্ন তা সম্পাদনে তাদের বিশিষ্ট হতে সাধারণ পর্যন্ত সকলে যথাসাধ্য করবে ৷ সুতরাং যে
ব্যক্তি কোন মুসলমানের (দেয়া অংগীকারের ব্যাপারে তার) সাথে খিয়ানভ ও ৰিশ্বাসঘাতকতা
করবে তার উপরে আল্লাহ্ এবং ফিবিশতাকুল ও মানবকুলের সকলের লানত ৷ কিয়ামত দিবসে
আল্লাহ তার ফরযও গ্রহণ করবেন না, নফলও না ৷ ” সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়সহ অন্যান্য গ্রন্থে উদ্ধৃত এ
বিশুদ্ধ হাদীসখানি, যা থােদ আলী (বা) হতে বর্ণিত, রাফিযী উপদলের তথাকথিত দাবী
প্রত্যাখ্যান করে (যাতে বলা হয়েছে) যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আলী (না)-এর কাছে (তারই
অনুকুলে) খিলাফতের অসিয়ত করে গিয়েছিলেন ৷ কেননা, বাস্তব ব্যাপার তাদের দাবীর
অনুরুপ হলে অবশ্যই একজন সাহাৰীও তা রদ করতেন না ৷ কেননা, আল্লাহ্ এবং তার রাসুল
(সা) এর প্রতি তার হারাতে এবং তার ওফাংতর পরেও সাহাবীপণের আনুগত্য ছিল নিঃশর্ত ও
নিরংকুশ এবং সব সন্দেহও দ্বিধার উধের্ব ৷ সুতরাং রাসুল (সা) এর সুস্পষ্ট আদেশ লঙ্ঘন করে
এবং স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে তারই মনোনীত ব্যক্তিকে পিছনে হটিয়ে দিয়ে অন্য কাউকে
অগ্নবর্তী করা তাদের পক্ষে কল্পনাভীত ব্যাপার ৷ এমন হতেই পরে না ৷ কিছুতে না ! কখনো
না৷ ৷ বরং সাহাবাই কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে যে কেউ এহেন হীন ধারণা পোষণ
করবে তাদের সকলকেই ফাসির্কী ও শরীআতের সীমা লংঘন এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
আদেশও স্পষ্ট ভাষ্যের সাথে হটকারিতা ও বিরুদ্ধবাদীতার আচরণে অভিযুক্ত করবে ৷

আর কোন লোকের দুঃসাহসের মাত্রা এ চরম সীমড়ায় পৌছে গেলে যে নিজের গর্দান থেকে
ইসলামের র্বাধন ছিড়ে ফেলার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে এবং মহান বিদ্বান ইমামপণের
সর্বসম্মত অভিমতে কাফির হয়ে যাবে ৷ ফলে তার খুন প্রবাহিত করা মদ ঢেলে ফেলে দেয়ার
চেয়ে অধিকতর হালাল ও পবিত্রতর কাজ সাব্যস্ত হবে ৷ অপর দিকে, আলী (রা)-র কাছে যদি
এ ধরনের কোন দ্ব্যর্থহীন ও স্পষ্ট নির্দেশ থেকে থাকতো তবে তিনি কেন সাহাবীপণের উপরে
তার নেতৃতৃ-কতৃতু ইমামাত সাব্যস্ত করার প্রমাণরুপে তা তাদের সামনে উপস্থাপন করলেন
না ? যদি বলা হয় যে, তার কাছে বিদ্যমান ভাষ্য ও নির্দেশ বাস্তবায়নে তিনি সক্ষম ছিলেন না;
তবে তো তিনি একজন অক্ষম অপারগ ৷ আর কোন অক্ষম ব্যক্তি নেতৃত্বের জন্য উপযোগী
পাত্র হতে পারেন না ৷

আর যদি (বেলা হয় যে) সক্ষম হওয়া সত্বেও তিনি তা করতে যান নি, তবে তো তিনি
খিয়ানতের অপরাধে অভিযুক্ত ৷ আর খিয়ানাত কড়ারী ফাসিককে তো নেতৃৎ হতে পদচ্যুতও
অপসারিত করা কর্তব্য ৷ আর যদি এ ভাষ্য সম্বন্ধে তার কোন অবগতিই না থেকে থাকে তবে
তো তিনি অজ্ঞ ৷ আবার কিছু দিন পরে সেই তিনিই কি তা জানলেন এবং অন্যদের অবগত
করলেন! অসম্ভব ! বানােয়টি ! অকাট মুর্থতা৷ বিভ্রান্তি ! ! এহেন ফুধারণা ও কুযুক্তির উৎপাদন
ক্ষেত্রে হল ইতর ও গণ্ড-মুর্থদের উর্বর মস্তিষ্ক এবং তা কেউ চিনে না এমন বিশেষজ্ঞদের
মেধাপ্রসুত, যা কোন যুক্তি প্রমাণ ব্যতািরকে শয়তান তাদের দৃষ্টিতে সৃসজ্জিত করে তোলে ৷
না, বরং এ হচ্ছে পায়ের জোরে বাগাড়ম্বর ও প্ৰলাপ, তাহা মিথ্যা ও অপবাদ ৷ ওদের এ জাল

ও তেজাল মিশ্রণ এবং রাতকান!র হড়াতড়ানাে কৃতজ্ঞতা হতে আল্লাহ্ রক্ষা করুন ! অ!ল্লাহ্ আশ্রয়
দান করুন কুরআন সুন্ন!হ জ!কড়ে থাকার সুদৃঢ় নীতি অনুসরণে, ঈমান ও ইসলামের সাথে
মৃত্যু বরণ করাতে, পরম বিশ্বাস ও অবিচলত!র সাথে জীবনপাত করে মীযান ও লেক আমলের
পাল্লা ভারী করতে এবং জাহ!ন্নামের আগুন হতে নাজাত লাভ করে জান্ন!তের বাগানের
সফলতা লাণ্ডে ! তিনি তে! করীম ও মহান, অনুকম্পাময় ও কৃপাবান, রাহীম ও রহমান!

সহীহ্ প্রন্থদ্বয়ের বরাতে আলী (র!) হতে আমাদের পুর্বে!দ্ধৃত হাদীসে তথাকথিত
তরীকতপন্থী, বহু বাণড়াম্বর কারী (ম!রফর্তী চাপাবাজ) ও অশিক্ষিত পেশাদার ওয়ায়েজ-
বক্তাদের মিথ্যা দাৰীরও খণ্ডন রয়েছে ! এ ভণ্ডদের দাবী হল, রাসুলুল্লাহ্ (স!) আলী (রা)-কে
বহুবিধ বিষয় অসিয়ত করে গিয়েছেন ৷ তাদের কথিত এ অসিয়তের নমুনা হল হে আলী !
এরুপ করবে ! হে আলী ! এরুপ করবে ন! ! হে আলী ! যে এমন করবে তার এমন এমন
হবে এক দীর্ঘ ফিরিস্তি এবং এ সবের তার ও তা যে! অতি নিম্ন ম! নেয় এবং এগুলির
অধিকাং ×শের বিষয়বস্তু এমন হালকা ও বাজে প্রকৃতির যার উদ্ধৃতি ৩দিয়ে কো ন ভ !ল গ্রন্থের পৃষ্ঠ!
কলংকিত কর! সযীচীন নয় ! আল্ল!হ্ই সমধিক অবগত

হাফিজ বায়হ!কী (র) অন্যতম জাল হাদীস প্রণেত! ও যিখুকে হ!ম্ম!দ ইবন আসর আন্-
ন!সীবী সুত্রে, আলী (বা) এর নামে উদ্ধৃত করেছেন যে, আলী (র! ) বলেন, নবী করীম (স!)
বলেছেন, “হে আলী ! তোমাকে একটি (বিশেষ) অসিয়ত করছি, ত! তুমি সংরক্ষণ করবে,
ণ্কনন! যতদিন তুমি ত! সংরক্ষণ করে বা !খবে ততদিন তুমি মংণলের সাথে থাকাবে ! হে অ লী!
ষু মিনের তিনটি অ !ল!মত রয়েছে, স!লাত, সিয়!ম ও যাকাত ! বায়হ!কী (র) বলেছেন এভাবে
হাম্মাদ পসন্দনীয় ও আকর্ষণীয় এবং আদাব ও গ্রিষ্টি!চ!রের বিবরণ সম্বলিত এক সুদীর্ঘ হাদীসের
অবতারণা করেছে ! এটি একটি মাওযু (জাল) হাদীস এবং আমি প্রস্থ সুচন!য় শর্ত ও অংপীক!র
করে এসেছি যে, আমার জানামতে কোন মাওঘু (জাল) হাদীস এতে উদ্ধৃত করব ন! ! পরে তিনি
এ হ!ম্মাদ ইবন আম্র সুত্রে, ম!ক্হুল শামী হতে আর একটি রিওরায়াত উল্লেখ করেছেন !
ম!ক্হুল বলেন, এ হচ্ছে সে বাণী য! হুন!য়ন (যুদ্ধ) হতে প্রত্যাবর্তন কালে, যখন সুর! ন!সর
নাযিল হয়েছিল তখন র!সুলুল্পাহ্ (স!) আলী ইবন আবু ত!লিব (র!)-কে বলেছিলেনবায়হড়াকী
(র) বলেছেন, ফিতনা ও দুর্যোগ সম্পর্কিত একটি দীর্ঘ হাদীসের অবতারণা করেছেন ! এটিও
একটি প্রত্যাথ্যাত হাদীস, এর কোনভিত্তি নেই ! সহীহ্ হ!দীসসমুহই আমাদের আলোচ্য বিষয়ের
জন্য যথেষ্ট ৷ আল্লাহ্ই ত!ওফীক দাত! !

তবে, এখানে প্রসংপত আমরা আবু ইসম!ঈল হ!ম্মাদ ইবন আমৃর আন ন!সীবী, ভদ্রলোকের
পরিচিতি তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি ! হাম্ম!দ ন!স!বী আম!শ (র) প্রমুখ হতে রিওয়!য়!ত গ্রহণ
করেছে ! অর্থাৎ তার শায়খ ও উসত!দ তালিকায় রয়েছেন আমাশ (র) প্রমুখ প্রখ্যাত
মুহাদ্দিসগণ ! তার অধস্তন র!বী ও শাণরিদ তালিকায় রয়েছে ইবর!হীম ইবন মুসা, মুহাম্মদ
ইবন মিহর!ন ও মুল! ইবন আয়ুব্রব প্রমুখ ! বিশিষ্ট হাদীস পর্যালোচনা ৰিষ্!!রদ ইয়!হ্য়ড়া ইবন
ম!ঈন (র) বলেছেন, এ (হ!ম্মাদ) লোকটি হ!দীস জালক!রী ও মিথুব্রুকদের অন্যতম ! অ!মর
ইবন আ !লী আলু ফ !ল্লাস ও অ! বু হ! !তিম (র) বলেছেন, লে!কটির বর্ণিত বর্ণন!সমুহ প্রত্যাথ্যাত
ও অভিনয় দুর্বল ! ইব্রাহীম ইবন ইয়াকুব অল !ল-জাওয়জানী (র) বলেছেন, হ!ম্ম!দ মিথ্যা

বলতে অভ্যস্ত ছিল ৷ বুখারী (র) বলেছেন, হাদীস বর্ণনক্যেরী হিসাবে সে প্রত্যাথ্যাত ৷ আবু
যুরআ (র) বলেছেন, বাজে বর্ণনাকারী ৷ নাসাঈ (র) বলেছেন, পরিত্যক্ত ৷ ইবন হাব্বান (র)
বলেছেন, চরম জালিয়াত ! ইবন আদী (র) বলেছেন, তার প্রায় সবগুলি হড়াদীসই এমন যে

নির্ভরযোগ্য রাবীগণের কেউ তার অনুগামী (ভাবি) রিওয়ায়াত বর্ণনা করেনি ! দারা কুত্নী (র) ৰু
বলেন দুর্বল ৷ আবু আবদুল্লাহ হাকিম (র) বলেছেন এ সােকটি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য রাৰীদের

নামে জাল হাদীস রিওয়ায়াত করে থাকে ৷ সে সম্পুইি পরিত্যাজ্য ৷

তবে হাফিজ বায়হাকী (র) আহরিত একটি হাদীস নিয়ে এখানে আলোচনা করা যেতে

পারে ! আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আলু হাফিজ (র) সাল্লিম ইবন সুলায়ম আত্

তাৰীল (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর অসুস্থতা ন্

প্রকট হয়ে গেলে আমরা আইশা (র)-র ঘরে সমবেত হলাম ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদের
দিকে তাকালেন ফলে তীর চোখ দুটি অশ্রু সজল হল ৷ পরে তিনি আমাদের বললেন

াব্লপৌ “বিচ্ছেদ আসন্ন এভাবে তিনি নিজেই আমাদের কাছে তার মৃত্যু সংবাদ জ্ঞাপন

করলেন ! এরপর বললেন

“তোমাদের প্রতি শুভেচ্ছা আল্লাহ্ তোমাদের দীর্ঘজিবী করুন! আল্লাহ্ তোমাদের হিদায়াতের
উপৰুয় রাখুন! অন্ল্লৰুহ্ তেমােদের সাহায্য করুন! অন্ল্লৰুহ ণ্তামাদের মংগল করুনা অন্ল্লন্হ

তোমাদের তাওফীক দান করুন! আল্লাহ তোমাদের সরল-সঠিক পন্থায় রাখুন! আল্লাহ তোমাদের

রক্ষা করুন! আল্লাহ ণ্তামাদের সহায়তা করুন! আল্লাহ তোমাদের কবুল করুন! আমি
তোমাদেরকে আল্লাহ্কে ভয় করে লেতে ওসিয়াত করছি! আর আল্লাহ্কে (তত্ত্বমাদের ওসী

বানিয়ে যাচ্ছি এবং তার তত্াবধানে তোমাদের সােপর্দ করে যাচ্ছি ৷ আমি তোমাদের জন্য

প্রকাশ্য সতর্ককারী এ ব্যাপারে যে, আল্লাহর বান্দাদের এবং জনপদসমুহের ব্যাপারে তার উপরে

ঔদ্ধত্য করো না ৷ কেননা, আল্লাহ আমাকে এবং তোমাদেরকে বলেছেন (আয়াত) ! “এ হচ্ছে ং

আখিরাতের সে আবাস যা আমি নির্ধারিত করে রেখেছি ! তাদের জন্য যারা এ পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য

হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না ! শুভ পরিণড়াম মুত্তাকীদের জন্য (২৮ : ৮৩) ৷ “ ঔদ্ধত্যদের ন্

জন্য কি জাহান্নামের কোন ঠাই (আবাস স্থল) নেই ? (৩৯ : ৬০) ৷
আমরা বললাম, “তবে আপনার নির্ধারিত সময় কখন? তিনি বললেন,
“সময় তো নিকটেই এসে গিয়েছে; এবং আল্লাহর নিকটে সিদুরাতুল ঘুনৃতাহা-র কাছে এবং
পুর্ণ পেয়ালা ও উন্নততর বিছানার দিকে প্রত্যাবর্তন (আসন্ন) ৷ আমরা বললাম, “তবে কে
আপনাকে যেড়াসল দেবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন,

“আমার পরিবার পরিজনের কিছু (পুরুষ) লোকেরা, ভৈনকট্য ও ঘনিষ্টতার ক্রম অনুসারে১
অনেক ফিরিশতার সং গে যারা তোমাদের দেখতে পান এমন ক্ষেত্র হতে যে তোমরা তাদের
দেখতে পাও না ৷ “আমরা বললাম, তা হলে আমরা আপনাকে কী কাপড়ে কাফন পরাব ইয়া
রাসুলাল্লাহ ? তিনি বললেন “আমার পরিধানের এ কাপড়েই তোমাদের মনঃপুত হলে কিত্বা
ইয়ামানী বরুস্ত্র, কিৎব৷ মিশরী সাদা বস্তে ৷” আমরা বললাম, তবে আপনার জানাযা সালাত
(এর ইমাম হয়ে) কে আদায় করবে ইয়া রাসুলাল্লাহ ? তখন তিনি কাদলেন; আমরাও র্কাদলাম
এবং তিনি বললেন,

“একটু ধীরে ! আল্লাহ তোমাদের মাগফিরাত করুন এবং তোমাদেরকে তোমাদের নবীর
তরফ হতে উত্তম বিনিময় দান করুন ! যখন তোমরা আমাকে গোসল দািব; আমাকে হানুত-
সুগন্ধি মাখাবে এবং আমাকে কাফন পরাবে তখন আমাকে আমার কবরের পাড়ে রেখে দিয়ে
তোমরা আমার কাছ থেকে কিছু সময়ের জন্য বের হয়ে যাবে ৷ কেননা, আমার জানাযার
সালাত সবার আগে আদায় করবেন আমার দৃইবন্ধু ও দুই সং গী জিবরীল ও মিকাঈল (আ) ৷
তারপর ইসরাফীল, তারপর মৃত্যুর ফিরিশতা ফিরিশ ৷তাদের একটি বা ৷হিনী সহ তাদের উপরে
শাস্তি বর্ষিত হোক ! আর (মানুষের মাঝে) আমার জানাযা সালাতের সুচনা করবে আমার
পরিবারের পুরুষেরা, এরপর তাদের নারীরা ৷ (এরপর) তোমরা আমার কাছে প্রবেশ করবে
ছোট ছোট দলে এবং এক একজন করে ৷ আর তোমরা ক্রন্দকারিনী দের দিয়ে এবং ইনিয়ে
বিনিয়ে মাতম ও আর্ত চিৎকার দিয়ে আমাকে কষ্ট দেবে না ৷ আর আমার সাহাবী (সহচর)-
দের মাঝে যারা অনুপস্থিত থাকবে তাদের কাছে আমার তরফ থেকে সালাম পৌছিয়ে দািব ৷
তোমাদের আমি সাক্ষী করলাম যে, যারা ইসলামে প্রবেশ করবে এবং আজ হতে কিয়ামতের
দিন পর্যন্ত আমার এ দীনের ক্ষেত্রে আমার অনুপমন করবে তাদের আমি সালাম জানাচ্ছি ৷ ”
আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহা আপনাকে আপনার কবরে রাখবে কে? তিনি বললেন,

“আমার পরিজনের পুরুষেরা নৈকট্য ও আত্মীয়তার ক্রম অনুসারে ফিরিশতাদের সংগে, যারা
তোমাদের দেখতে পান এমন স্থান হতে যে তোমরা তাদের দেখতে পাও না ৷” এ বংনি৷ শেষে

১ যে যত অধিক ঘনিষ্ঠ তার অধিকার ততবেশী এই নিয়মে ৷ অনুবাদক

বায়হাকী (র) বলেছেন, সাল্লাম আত্তাবীল (র) হতে হাদীসটি উদ্ধৃত করলে মুহাম্মদ ইবন
আবদুল্লাহ্র অনুগামী (তাৰি রিওয়ায়াত বর্ণনাকারী) হয়েছেন আহমদ ইবন ইউনুস (র) ৷ তবে
সাল্লাম আত্-তাবীল (র) হাদীসটি একাকী রিওয়ায়াত করেছেন ৷

গ্রন্থকারের মন্তব্য : ইনি হলেন, সাল্লাম ইবন মুসলিম, মতাম্ভরে ইবন সুলায়ম মতান্তয়ে
সুলায়মান তবে প্রথম অভিমতটি অধিক বিশুদ্ধ ৷ (ইনি) তামীম গোত্রের সাদী শাখার লোক ৷
আত্-তাবীল (দীর্ঘকায়) ৷ তীর উর্ধতন রাবী (ও শায়খ ) তালিকায় উল্লেখযোগ্য মনীষী রয়েছেন ৷
জাফার সাদিক, হুমায়দ আত্-তাবীল, যায়দ আলু আশী (র) প্রমুখ এবং আরো অনেকে ৷ তার
অধস্তন রাবী ও শাগরিদ তালিকায়ও রয়েছেন অনেকে ৷ যাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য আহমদ ইবন
আবদুল্লাহ ইবন ইউনুস, আসাদ ইবন মুসা, খালাফ ইবন হিশাম, আলু বাঘৃযার, আলী ইবনুল
জা’দ, কাবীস৷ ইবন উক্বান (র) প্রমুখ ৷ তবে হাদীস ৰিশারদগণের মাঝে আলী ইবনুল মাদীনী,
আহমদ ইবন হাম্বড়াল, ইয়াহ্য়া ইবন মাঈন, বুখারী, আবু হাতিম, আবু যুরআ আল-জাওযজানী,
াসাঈ (র) এবং আরো অনেকে তাকে দুর্বল বলেছেন ৷ কোন কোন ইমাম তো তাকে মিথুকেও
বলেছেন এবং অন্য অনেকে তাকে বর্জন’ করেছেন ৷ কিন্তু হাফিজ আবু বাক্র আলু-বাঘৃযার এ
হাদীসটি অনুরুপ দীঘ বর্ণনা সহকারে এই সাল্লাম (র) ব্যতীত অন্য একটি সুত্রেও রিওয়ায়াত
করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল আহমাসী (র) আবদুল্লাহ (ইবন
মাসউদ) হতে দীর্ঘ হাদীসটি আনুপুর্বিক উল্লেখ করেছেন ৷ এরপর বাবৃযার (র) বলেছেন, মুর রা
হতে পরস্পর কাছাকাছি একাধিক সনদে একাধিক পন্থায় হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷ তবে আবদুর
রহমান (ইবন) আল্-ইস্পাহানী (র ) মুররা (র) হতে সরাসরি এ হাদীস শুনেন নি ৷ বরং ঘুরবৃা’
হতে খবর দাত৷ জনৈক ব্যক্তির কাছে তিনি শুনেছেন ৷ কিন্তু আবদুল্লাহ সুত্রে ঘুবৃর৷ হতে অন্য
কেউ এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই ৷

অনুচ্ছেদ : রাসুলুল্পাহ (না)-এর ওফাতের তারীখ ও সময় ওফাত কালে তার বয়স তার
গোসল ও কাফন দাফনের বিবরণ তার সমাধির স্থান নির্ধারণ

নবী করীম (না)-এর ওফাত সোমবারে হওয়ার বিষয়টি সর্ব সম্মত, ইবন আব্বাস (বা)
বলেন, তোমাদের নবী করীম (সা) জন্মগ্রহণ করেছেন সোমবারে; নবুয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন
সোমবারে; হিজরাত করে মক্কা ত্যাগ করেছেন সোমবারে; মদীনায় উপনীত হয়েছেন সোমবারে
এবং ইনতিকাল করেছেন সোমবারে ৷ এ রিওয়ায়াত আহমদ ও বায়হাকী (র) এর সুফিয়ান
ছাওরী (র) আ ৷ইশা (বা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন, আ ৷ইশা (বা) বলেন, আবু বকর (বা) আমাকে
বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা) কোন দিন ওফাত বরণ করেছিলেন? আমি বললাম, সোমবারে ৷ আবু
বকর (রা) বললেন, আমি আশা করছি যে আমিও ঐ দিনে মারা যাব ৷ তিনি ঐ দিনেই
ইনতিকাল করলেন ৷ ছাওরী (র) এর এ রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন বায়হাকী (র) ৷

ইমাম আহমাদ (র) বলেন, আসওয়াদ ইবন আমির আইশা (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইনতিকাল করেছেন ৷ সোমবার এবং সমাহিত হয়েছেন (মংগলবার
দিবাগত) বুধবারের রাতে ৷ এ বর্ণনা একাকী আহমদ (র)-এর ৷ উরওয়৷ ইবনুয্ যুবায়ের তার
মাগাষী’-তে এবং মুসা ইবন উক্বা (র) ইবন শিহাব (র) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ রাসুলুল্লাহ

Leave a reply