গাযওয়া প্রসংগ

গাঘৃওয়৷ ও সমরাভিযানসমুহ এবং তার প্রেরিত পত্রাবলী ও দুতপণের বিষয় মুহাম্মদ ইবন
ইসহাক ইবন ইয়াসার, আবু জাফর ইবন জারীর ও আবু বক্র বায়হার্কী প্রমুখ (র) ইমামপণের
ওফাত পুর্ববর্তী শিরোনামে উপস্থাপিত আলোচনার সার সংক্ষেপ পাঠক সমীপে পেশ করব ৷
তারপর মুল বিষয় ওফাতুন্নড়াবী (সা) এর বিশদ আলোচনা করব ৷

সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে যায়দ ইবন আরকাম (বা) হতে আগত আবু ইসহড়াক আস-সৃবায়ঈ (র)-এর
হাদীসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) উনিশটি পাঘৃওয়া’১ পরিচালনা করেছেন এবং হিজরাতের
পরে একবার, অর্থাৎ বিদায় হজ্জ পালন করেছেন ৷ এর পরে আর কোন হজ্জ করেন নি ৷ আবু
ইসহাক বলেছেন, আর একটি ( (হজ্জ) মক্কায় থাকাকালে ৷ এরুপ বর্পনইি দিয়েছেন আবু
ইস্হাক আপ সুবায়ঈ (র) ৷ যায়দ ইবনুল হুবাব (রা) বলেছেন, সুফিয়ান ছাওরী (র) জাবির
(বা) হতে, এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) তিনবার হজ্জ পালন করেছেন, দুটি হজ্জ
হিজরাতের আগে এবং একটি হিজরাতের পরে ৷ যার সাথে উমরাও ছিল এবং ছিষট্টটি উট
নিয়ে গিয়েছিলেন ৷ আর আলী (রা) ইয়ামড়ান হতে নিয়ে এসেছিলেন একশটি পুর্ণ হওয়ার
অবশিষ্টগুলি ৷ এ ছাড়া, সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ের বরাতে আনাস ইবন মালিক (রা) প্রমুখ একাধিক
সাহাৰী হতে ইতোপুর্বে উল্লেখ করে এসেছি যে, নবী করীম (সা) চার বার উমর৷ পালন
করেছিলেন ৷ হুদায়বিয়ার উমরা, কাযা উমরা, জিঈবৃরানা হতে (ইহরাম)কৃত উমরা এবং
বিদায় হজের সাথে আদায়কৃত উমরা ৷

পায্ওয়া প্রসংগ : বুখারী (র) আবু আসিম অনৃ-নুবায়ল (র)সালামা ইবনুল আক্ওয়া
(বা) সনদে রিওয়ায়াত করেছেন ৷ তিনি (সালামা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর সাথে আমি
সাতটি গাঘৃওয়৷ অভিযানে অংশ গ্রহণ করেছি ৷ আর যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর সাথে নয়টি
অভিযানে রাসুলুল্লাহ (সা) তাকে আমাদের আমীর নিয়োগ করতেন ৷ সহীহ্ গ্রন্থদ্বয়ে কুতায়বড়া
(র) সালাম৷ (বা) সনদে বিবৃত হয়েছে ৷ সালামড়া (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর সংগে
সাতটি গাবৃওয়া অভিযানে আমি অংশ্যাহণ করেছি; আর তিনি যে সব বাহিনী পাঠাতেন তার
নয়টি অভিযানে ৷ কখনো আমাদের আমীর হতেন আবু বকর (যা) আবার কখনো আমীর
হতেন উসাম৷ ইবন যায়দ (বা) ৷ সহীহ্ ৰুখাবীতে ইসরাঈল (র)বারা (রা) সনদের হাদীস ৷
যারা (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) পনরটি পাঘৃওয়৷ অভিযান পরিচালনা করেছেন ৷ বুখারী-
মুসলিমেশুবা (র) , যারা (রা)-এর হাদীস, রাসুলুল্লাহ (সা) উনিশটি পাঘৃওয়া অভিযান
পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে সতেরটিতে তিনি (বারা ) নবী করীম (সা)-এর সাথে উপস্থিত
ছিলেন, যার প্রথমটি ছিল আল উশায়রস্ফো’ চ),১গ্রা কিৎবা আলু উসায়র ( স্পে’) ৷
মুসলিম (র) আহমদ ইবন হাবল (র) সুত্রে ইবন বুরায়দ৷ তার পিতা হতে সনদে
রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি (বুরায়দা) রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ষোলটি পাঘৃওয়ায় অংশ
গ্রহণ করেছেন ৷ মুসলিম (র)-এর অন্য একটি রিওয়াযাতে হুসায়ন ইবন ওয়াকিদ (র)
বুরায়দা (বা) হতে এ মর্মে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে উনিশটি গাঘৃওয়া অভিযানে

১ পাঘৃওয়৷ ও বড় ধরনের নমরাভিযান এবং সারিয়্যা ছোট ধরনের সমরাভিযান ৷ তবে হাদীস ও ইসলামী
ইতিহাসের পরিভাষায় স্বয়ং নবী করীম (না)-এর অংশ্যাহণকৃত সমরাভিযান গায ওয়৷ নামে এবং নবী কৰীম
(সা) কর্তৃক অন্য কাউকে আমীর করে প্রেরিত অভিযানকে সারিয়ব্রুা নামে অভিহিত করা হয় ৷ অনুবাদক ৷

ৎশঃাহণ করেছেন, যার মাঝে আটঢিদুত তক্ষে সং ঘর্ষ হয়েছে ৷ এ সনদুদ তার আর একটি
রিওয়ায়াদুত আরো রয়েছে যে, নবী করীম (সা) চব্বিশটি সারিয়্যা বাহিনী পাঠিদুয়দুছন এবং
লড়াই করেছেন বদর, উহুদ, আহ্যাব (খন্দক) , মুরায়সী, খায়বার, মক্কা বিজয় ও হুনায়ন-এর
অভিযানসমুহে ৷ সহীহ্ ঘুসলিদুম জাৰির (বা) হতে আবুবৃ-ষুবায়র (র) এর হাদীস ৷ এ মর্মে
যে, রাসুলুল্লাহ (সা) একুশটি সমরাভিযান পরিচালনা করেছেন, যার মাঝে উনিশটি অভিযানে
আমি তীর সাথে অৎশ্যাহণ করেছি ৷ বদর এবং উহুদুদ আমি আমার পিতার ধারণ করার কারণে

ৎশ নিতে পারিনি ৷ উহুদুদর যুদ্ধে আমার আব্বা শহীদ হয়ে যাওয়ার পর হতে নবী করীম
(না)-এর পরিচালিত কোন পাঘৃওয়া-অভিযাদুন আমি অনুপস্থিত থাকি নি ৷

আবদুর রাঘৃযাক (র) বলেন, মামার (র) যুহ্রী (র) সুত্রে বলেছেন যে তিনি বলেন, সাঈদ

ইবনুল মুসায়্যাব (র)-দুক আমি বলতে শুদুনছি রাসুলুল্লাহ (সা) আঠারটি পাঘৃওয়৷ অভিযান
পরিচালনা করেছেন ৷ যুহ্রী (র) বলেন, কখনো তাদুক চব্বিশঢি পাঘৃওয়া”ও বলতে শুদুনছি ৷
তাই, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে, ব্যাপারটিদুত আমার স্মৃতি বিভ্রাট ঘটেছে কিৎবা
তা পরবর্তী সময়ে তারই কাছে শ্রুত কোন বিষয় ৷ কড়া৩াদ৷ (র) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা)
াউনিশ্ টি সমরাভিযান করেছেন, যার মাঝে আটটিদুত প্ৰতক্ষে লড়৷ ই হয়েছে এবংচ চব্বিশটি

বাহিনী (অন্যদের পরিচ৷ ৷লনায়) পাঠিদুয়দুছন৷ ৷সুতরাং তার গায্ওয়া ও সারিয়্যার সমষ্টি হবে
দুততাল্লিশ ৷ সং শ্লিষ্ট বিবয়াভিজ্ঞ ইমামগণ এবং মাঝে রাবীপদুণর উরওয়৷ ইব নৃষ্ যুবায়র, যুহ্রী
ও মুসা ইবন উক্ব৷ এবং মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার (র) প্রমুখ উল্লেখ করেছেন যে,
নবী করীম (সা) দ্বিতীয় ইিজরী সনের রামাযাদুন বদর যুদ্ধ পরিচালনা করেন, তারপর তৃতীয়
ইিজরীর শাওয়াদুল উহুদ যুদ্ধ, চতুর্থ ইিজরীর মতান্তরে পঞ্চম ইিজরীর শাওয়াদুল খন্দক
(পরিথা) ও বনু কুরায়যা অভিযান, পঞ্চম ইিজরীর শাবান মাসে বনুল মুসতালিদুকর বিরুদ্ধে
মুরায়সী অভিযান, সপ্তম ইিজরীর সফর মাসে খায়বা র অভিযান তদুবষ্ কারো ক ৷দুর৷ মদুত ষষ্ঠ
হিজরীদুত এবং তথ্য বিশ্লেষদুণ ষষ্ঠ ইিজরীর শেষ ভাগ এবং সপ্তম ইিজরীর সুচনা য় খড়ায়বার
অভিযা ৷ন সং ঘটিত হয় ৷ তারপর আট ইিজরীর রামাযাদুন মক্কা ৷বাসীদুদর বিরুদ্ধে (মক্কা বিজয়),

হাওয়াযিন অভিয৷ ৷ন ও তা ৷ইফ অবরোধ যথাক্রমে অষ্টম ইিজরীর শাওয়৷ ল ও যিলহজ্জ মাসের
কোন অং শে (বিশদ বর্ণনা পুর্ববর্তী অনুদুচ্ছদসমুহে দ্রষ্টব্য) ৷ অষ্টম হিজরীতে মক্কা র না ৷ইব
প্রশাসক আত্তাব ইবন আসাদ (বা) লোকদের নিয়ে হজ্জ সম্পাদন করেন ৷ তারপর নবম
হিজরীদুত হজ্জ পরিচালনা করেন আবু বকর সিদ্দীক (বা) ৷ তারপর দশম হিজরীতে দুখাদ
রাসুলুল্লাহ (সা) মুসলমানদের সাথে নিয়ে হজ্জ সম্পাদন করেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) আরো বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর বরকতময় সত্তার
উপস্থিতি ধন্য পাঘৃওয়ার সং খ্যা সমষ্টি সাতাশ ৷ ( ১ ) ৷৷য্ওয়৷ ওয়াদ্দান, যা পাযুওয়া-আব ওয়া’
নামে পরিচিত; (২) রাঘৃওয়৷ পর্বতমালার কাছে পাঘৃওয়া বুয়াত , (৩) ইয়ামবু
সমতল ভুমিতে পাঘৃওয়৷ আলু উশায়রা; (৪) প্রথম বদর অভিযান কুরয ইবন জাবিরদুক
দমদুনর উদ্দেশ্যে; (৫) বিখ্যাত বদর যুদ্ধ বা বড় বদর যাতে কুরায়শী সর্দারর৷ নিহত হয়;

১ বর্তমান সৌদী আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমে মক্কা ও ইয়ামবু এর মধ্যবর্তী একটি পর্বত শ্রেণী ৷ অনুবাদক

(৬) রনু সৃলায়ম অভিযান যা কৃদার১ জলাশয় পর্বত সম্প্রসারিত হয়েছিল; (৭) আবু সুফিয়ান
ইবন হড়াবব এর বিরুদ্ধে গাবওরা সাবীক (ছাতু অভিযান); (৮) গাত্ফান অভিযান, যাবু-
আমর অভিযান নামেও পরিচিত; (৯) নাজ্বরান অভিযান, হিজাব-এর একটি খনিজ এলাকা;
(১০) উহুদ যুদ্ধ; (১১) হামরড়াউলু আসাদ অভিযান; (১২) রনু নাযীর অভিযান; (১৩) নাখৃল
এলাকার যাতুররিকা অভিযান; (১৪) শেষ বদর; (১৫) দুযাতুলু-জানদাল অভিযান; (১৬)
খন্দক (পরিযা) বুদ্ধ; (১ ৭) বনু কৃরায়যা অভিযান; (১৮) হুযায়ল এর শাখা বনু লিহ্য়ড়ানের
বিরুদ্ধে অভিযান; (১৯) য়ু-করোদ অভিযান; (২০) খুযাআর অন্তর্গত বনু মুসৃতালিক অভিযান;
(২১) হুদায়বিরা অভিযান, এতে লড়াই উদ্দেশ্য ছিল না ৷ মুশরিকেরা র্তাকে উমরা পালনে বাধা
দিয়েছিল; (২২) খাররার অভিযান; (২৩) উমরাতুল কাযা; (২৪) মক্কা বিজয় অভিযান; (২৫)
হুনায়ন অভিযান; (২৬) তাইফ অভিযান এবং (২৭) তাবুক অভিযান ৷ ইবন ইসহাক (র)
বলেছেন, এগুলির মাঝে নয়টি গাবওরার তিনি (সা) লড়াই করেছেন ৷ বদর (বড়), উহুদ,
খন্দক , বনু কুরারযা, মুসৃতালিক, খড়াররার, ফাত্হ্ (মক্কা বিজয়), হুনায়ন ও তাইফ অভিযান ৷
অড়ানুবংগিক প্রমড়াণাদিসহ এসব অভিযান সম্পর্কিত যুক্তিসহ বিশদ আলোচনা আমরা ইতােপুর্বে
পরিবেশন করে এসেছি আল্পাহ্রই জন্য যাবতীয় হড়ামৃদ ৷

ইবন ইসহাক (র) বলেছেন, নবী করীম (সা) কর্তৃক প্রেরিত ক্ষুদ্র বাহিনী, প্রতিনিধি দল
এবং সাবিয়্যা সমুহের সংখ্যা ছিল আটত্রিশ ৷ তারপর তিনি এগুলির বিশদ বিবরণ দিয়েছেন ৷

আল্লাহ্র ফযলে আমরা যথান্থানে এর প্রায় সবগুলির আলোচনা সন্নিবেশিত করে এসেছি ৷
আমরা এখানে ইবন ইসহাক (র) প্রদত্ত বিবরণের সার সংক্ষেপ উপস্থাপন করেছি (১)
ছানিয়্যাতুলমুররা (মুবরা গিরিপথ) এর নিকটে প্রেরিত উবায়দা ইবনুল হারিছ (রা) এর
অভিযান (২) ঈসএর উপকুলবর্তী এলাকার হামুযা ইবন আবদুল মুত্তালিব (রা) এর
অভিযান ৷ কোন কোন বর্ণনাকার এ দ্বিতীয়টিচক উবায়দার অভিযানের পুর্ববর্তী সাৰাস্ত
করেছেন ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত (পুর্বাল্যেচনড়া দ্রষ্টব্য) (৩) জিরার অভিমুখে সাদ ইবন
আবু ওয়াক্কাস (রড়া)-এর কাফেলা (৪) বাজীলা অভিমুখে আবদুল্লাহ ইবন জাহ শ (রা)-এর
অভিযান; (৫) কারাদা অভিমুখে যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর অভিযান; (৬) কাব ইবনুল
অম্পোরাফকে দমনে মুহাম্মদ ইবন যাসলামা (রা) এর নৈশ অভিযান; ( ৭ ) রাজী অভিমুখে
মড়ারছাদ ইবন আবু যারছাদ (রা )-এর অভিযান; (৮) ৰীরৈ মাউন৷ অভিমুখে মুবঘির ইবন
আমুর (রা) এর অভিযান; (৯) যুলপ্কাসৃসার উদ্দেশ্যে প্রেরিত আবু উবড়ায়দা (রা) অভিযান;
(১০) রনু আমির অঞ্চলের মরুবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত উমর ইবনৃল খন্ডোব (রড়া)এর
অভিযান; (১ ১) ইয়ামান অভিমুখে আলী (রা)এর অভিযান; ( ১ ২) কুদায়দ অভিমুখে গালিব
ইবন আবদুল্লাহ আলু-কত্বলবী (রড়া)-এর অভিযান ৷ এ বাহিনী ভৈনশ অভিযানে বনুল যালুহরুক
আক্রমণ করে তাদের পরাস্ত করে এবং তাদের কতককে নিহত করে তাদের পশুপাল তাড়িয়ে
নিয়ে আসলে তাদের একটি বাহিনী পশুপাল উদ্ধারের জন্য পাল্টা আক্রমণে উদ্বুদ্ধ হয় ৷ কিন্তু
তারা প্রতিপহ্মের কাছাকাছি পৌছলে চলে প্লাবিত একটি উপত্যকা তাদের গতি রুখে দেয় ৷ এ
অভিযানেই বন্দী হয়েছিলেন হারিছ ইবন মালিক ইবনুল রারসা ৷ ইবন ইসহাক এ প্রসৎগটি

এখানে লিপিবদ্ধ করেছে-৷ ৷ আমরা তা ইতােপুর্বে আলোচনা করে এসেছি; (১৩) ফাদাক
অভিমুখে আলী ইবন আবু তালিব (বা) এর অভিযান; (১৪ ) বনু সুলায়াদুমর বিরুদ্ধে আওজা
আসৃ সৃলাযী (না)-এর গোত্রের লোকদের অভিযান ৷ যাতে সহযোদ্ধাদেরসহ তিনি শাহলোত
লাভ করেন; (১৫) গামৃরড়া অভিমুখে উক্কাশা (রা) এর অভিযান; (১৬) কাতড়ান অভিমুখে
প্রেরিত আবু সালামা ইবনুল আসাদ (রা) এর অভিযান ৷ কতোন হল নাজদ এলাকায় আসাদ
গোত্রের একটি জলাশয়; (১ ৭) হাওযাযিন এর শাখা কারতার উদ্দেশ্যে প্রেরিত মুহাম্মদ ইবন
মাসৃলড়ামা (রা) এর অভিযান; (১৮) ফাদাক এর বনু মুবৃরা অভিমুখে বাশীর ইবন মাস (বা)
এর অভিযান; (১৯) হুনায়ন অভিমুখে প্রেরিত যাশীর ইবন সাদ (রা ) এর অভিযান; (২০) বনু
সুলায়ম অঞ্চলের জুমুম অভিমুখে যায়দ ইবন হারিছ৷ (রা)ণ্এর অভিযান; (২১) বনু থুশায়ন
অঞ্চলের জুযাম গোত্র অভিমুখে যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর অভিযান ৷ ইবন হিশাম (র)এর
মতে এ এলাকাটি ছিল হিসৃমার অধীন ৷

ইবন ইসহাক (র) প্রমুখের বর্ণনা মতে এ অজ্যিালোঃ কা রণ ছিল এই যে, দিহ্য়া ইবন
খড়ালীফা (না) যখন কায়সার (রোম সম্রাট সিজার)এব কাছে প্রেরিত আল্লাহর প্রতি
আহ্ৰানমুলক রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দাওয়াতী পত্র পৌছিয়ে দিলেন এবং কায়সার নবী করীম
(সা ) উপহৃত হড়াদিয়া ও উপহার সামগ্রী নিয়ে ৷ করতে লাণলেন তখন জুযামীদের
এলাকায় আশৃনার নামে পরিচিত উপত্যকায় উপনীত হলে হুনায়দ ইবন আওস সুলায়ঈ ও
তার ছেলে আওস ইবনুল হুনায়দ সুলড়ায়ঈ তাকে আক্রমণ করে তার সংগে বিদ্যমান
উপচৌকনাদি লুট করে নেয় ৷ সুলায়ে জ্বযাম এর একটি শাখা ৷

তখন সে গোত্রের একটি মুসলমান উপগােত্র পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দিহ্য়া (রা)-এব নিকট
হতে ছিনিরে নেয়া সামগ্রী পুনরুদ্ধার করে ৷ দিহ্য়া (যা) রাসুলুল্লাহ (সা) সকাশে প্রত্যাবর্তন
করলে তাকে এসব খবর অবহিত করেন এবং হুনায়দ ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্ৰতিশ্যেধ ব্যবস্থা
গ্রহণের আবেদন জানান ৷ তখন তাদের বিরুদ্ধে একটি বাহিনীসহ যায়দ ইবন হারিছা (রা) কে
পাঠানো হলে তিনি আওলাজ এলাকার পথ ধরে অ্যাসর হয়ে হাররার মাকির্পে তাদের উপর
আক্রমণ পরিচালনা করেন ৷ এ বাহিনী সফল আক্রমণ করে প্রাপ্ত সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী একত্রিত
করল এবং হুনায়দ , তার পুত্র ও বণুণ ৩৷ ৷ হন৷ ফের দুইওান লোক এবং বনু খুসায়ব এর
এ ওলোঃক ২৩ ৷ করল ৷ যায়দ ইবন হারিছা (বা) তাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং নারী ও শিশু
বন্দীদের সমবেত করলে প্রভিপক্ষের একটি দল রিফাআ ইবন যায়দ এ র কাছে জমারেত হল ৷
ওদিকে তখন রিফাআর কাছে আল্লাহ্র (দীনের) দিকে আহবান সম্বলিত রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর
একটি পত্র এসে পৌছেছিল ৷ রিফাআ (যা) সে চিঠি স্বগােত্রীয়দের পড়ে গােনালে তাদের
একটি দল এ চিঠিব আহবানে সাড়া দিল (এবং ইসলাম গ্রহণ করল) ৷ কিন্তু যায়দ ইবন হারিছা
(বা) এ চিঠিব বিষয় অবগত ছিলেন না ৷ আক্রাতদের একটি দল মাত্র তিন দিনে মদীনায় পথ
অতিক্রম করে রড়াসুলুল্লাহ (সা) সকাশে উপনীত হয়ে তার কাছে পত্রটি সমর্পণ করল ৷ তিনি
(সা ) তা উচচস্বরে লোকদের পড়ে পােনাবার নির্দেশ দিলেন ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ (সা)
বলভ্রুলন,নিহতদের বিব’য়টি আমি কীভাবে সমাধান করতে পারি ?

১ মাকিদ গ্রা ১র্ন্ত নামক স্থানে; যা ঐ অঞ্চলের কালো পাথুরে এলাকায় অবস্থিত ৷ অনুবাদক

তিনবার বললেন, তখন আবু যায়দ ইবন আম্র নামে আগন্তুক দলের এক ব্যক্তি বলল, ইয়া
রাসুলল্লাহৰু যারা জীবিত রয়েছে, আমাদের খাতিরে তাদের মুক্ত করে দিন; আর যারা নিহত
হয়েছে তাদের বিষয়টি আমার এ পদতলে (রহিত করার দায়-দায়িতু আমি গ্রহণ করব) ৷ তখন
রাসুলুল্লাহ (না) তাদের সাথে আলী ইবন আবু তালিব (রা)-কে পাঠাবার ঘোষণা দিলেন ৷
আলী (বা) বললেন, যায়দ তো আমার আনুগত্য মেনে নিতে স্বীকৃত হবে না ৷ ”

তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বিশেষ নির্দশন স্বরুপ স্বীয় তরবারী আলী (রা)-কে দিয়ে দিলেন ৷
আলী (বা) তাদেরই একটি উটে করে তাদের সাথে সফর শুরু করলেন এবং ফায়ফড়া’ আল-
ফাহ্লাতায়ন (দুই পাহাড়ের মরু প্রাম্ভর)-এ যায়দ (রা)-ও তার বাহিনীর সাক্ষাত গেলেন এবং
তাদের আহরিত যাবতীয় সামগ্রী ও বন্দীদের যথাযথ অবস্থায় পেয়ে গেলেন ৷ আলী (বা)
ন্ প্রতিনিধি দলের কাছে তাদের লুষ্ঠিত সব কিছুই প্রত্যার্পণ করলেন, একটা কিছুও তাদের
অপ্রাপ্ত রইল না (২২) ওয়াদি-ল কুরায় বসবাসরত বনু ফামারা অভিমুখে যায়দ ইবন হারিছা
(রা)এর আর একটি অভিযান ৷ এতে তার সহযোদ্ধাদের অনেবেইি শহীদ হন ৷ শহীদদের
মাঝে জকে (যায়দ) আঘাতে জর্জরিত অবস্থায় খুজে পাওয়া গেল ৷ তিনি ফিরে এলে শপথ
করলেন যে, পুনরায় ওদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা না করা পর্যন্ত তিনি ত্রী গমন করবেন
না ৷ জর যখম শুকিয়ে গিয়ে সুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) একটি বাহিনী দিয়ে পুনরায় র্তাকে
অভিযানে পাঠড়ালেন ৷ ওয়াদিল কুরায় তিনি শত্রুদের নিধন করলেন এবং উম্মু কারফা ফাতিমা
বিনৃত রাবীআ ইবন বদরকে বন্দী করলেন ৷ সে ছিল মালিক ইবন হুযায়ফড়া ইবন বদ্রএর
কাছে এবং তার সাথে র্তার একটি কন্যাও ছিল ৷

যায়দ ইবন হারিছা (বা) কায়স ইবনুল মিসহার আলু ইয়ামুয়ীকে হুকুম করলে তিনি উম্মু
কারফাকে হত্যা করলেন এবং তার কন্যাটিকে জীবিত রাখলেন ৷ উম্মু কারফা ছিল এক
অভিজাত পরিবারের নারী এবং আভিজাতা প্রকাশে তার নাম প্রবাদতুল্য প্রসিদ্ধ ছিল ৷ তার ঐ
কন্যাটি (গনীমতের বন্টিত অংশরুপে) সালামা ইবনুল আক্ওয়া (রা)-এর ভাগে পড়ে ৷
রাসুলুল্লাহ (না) তার কাছে কন্যাটিকে হেবা করে দিতে বললে সালামা (বা) তাকে নবী করীম
(সা) এর হাতে সমর্পণ করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তখন তাকে হেবা হিসাবে তার মামা হুয্ন
ইবন আবু ওয়াহব (রা)-এর হাতে তুলে দিলেন ৷ র্তীরই গর্ভে তার এক পুত্র আবদুর রহমানের
জন্ম হয়; (২৩) খায়বার অভিমুখে দুইবার প্রেরিত আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার অভিযান ৷ প্রথম
বারের ঘটনার বিবরণঃ এ অভিযানে ইউসায়র ইবন রিযামকে হত্যা করা হয় ৷ ইউসায়র
রড়াসুলুল্লাহ (না)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য গাত্ফানীদের সৎঘবদ্ধ করতো ৷ তাই,
রাসুলুল্লাহ (মা) (তাকে দমন করার লক্ষে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-এর অধীনে একটি
বাহিনী পাঠালেন ৷ এ বাহিনীর অন্যতম মুজাহিদ ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন উনায়স (বা) ৷ বাহিনী
ইউসায়র এ র এলাকায় পৌছে যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে বিভিন্ন উপায়ে তাকে রাসুলুল্লাহ (সা) এর
সমীপে উপস্থিত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে লাগল ৷ ফলে সে কড়াফেলার সাথে রওয়ড়ানা হয়ে
গেল ৷ কিন্তু খায়বার হতে হয় মাইল দুরবর্তী কারকারা-য় পৌছেই ইউসায়র তার এ সফর
সিদ্ধান্তে অণু৩াপ অণু৩ব করতে লাগল ৷ আবদুল্লাহ ইবন উনায়স (বা) তার এ মনােভাবের
কথা আচ করতে পারলেন, তাকে তরবারী ব্যবহারে উদ্যত দেখে আবদুল্লাহ তরবারীর আঘাতে

তার পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেললেন ৷ ইউসায়র ও শাওহাত’ কাঠের একটি বীক৷ লাঠি দিয়ে
আবদুল্লাহ (রা)-এর মাথায় সজােরে আঘাত করে তাকে গুরুতর যখন করে ৷ তখন মুসলিম
বাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভীদের প্রত্যেকের কাছের ইয়াহুদীর উপরে ঝাপিয়ে পড়ে তাদেরকে
হত্যা করেন ৷ তবে একজন লোক ৫কড়ানরকমে দৌড়ে পালাল ৷ আবদুল্লাহ ইবন উনায়সৃ (বা)
ফিরে এলে রাসুলুল্লাহ (সা) তার মাথায় লালা লাগিয়ে দিলেন, ফলে তীর য়খঃমের পচন
নিবারিত হল এবং কষ্টের উপশম হয় ৷

আমার (গ্রন্থকারের) ধারণা দ্বিতীয় অভিযানটি ছিল খায়বারে (ইয়ড়াহুদীদের কাছে বর্গা পত্তনী
দেয়া) খেজুয়ের উৎপাদন পরিমাণ সম্পর্কে আগাম পরিমাণ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ৷ আল্লাহই
সৰ্বাধিক অবগত; (২৪) খায়বড়ার অভিমুখে উবায়দুল্লাহ ইবন আতীক ও তার সংর্গীদের
অভিযান, এরা আবু রাফি ইয়াহুদীকে নিধনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন; (২৫) খালিদ ইবন
সুফিয়ান ইবন নুবড়ায়হ্কে দমনের লক্ষেক্ত প্রেরিত আবদুল্লাহ ইবন উনায়স (রা)-এর অভিযান
তারা প্ৰতিপক্ষ্যক আরফোতে হত্যা করেন ব্ল ইবন ইসহাক (র) এ ক্ষেত্রে তার ঘটনার দীর্ঘ
বিবৃতি দিয়েছেন ৷ (আমাদের গ্রন্থে পঞ্চম হিজবীর আলোচনায় তা বিবৃত হয়েছে ৷ আল্লাহই
সমধিক অবগত); (২৬) যায়দ ইবন হারিছা , আরব ও আবদুল্লাহ ইবন রাওয়ড়াহা (বা), তিন
সেনাধ্যক্ষের শাম (সিরিয়া) সীমান্তের ঘু’তা অভিযান যাতে তারা তিন জনই পরপর শাহাদাত
বরণ করেছিলেন (পুর্বে আলোচিত হয়েছে); (২৭) শাম (সিরিয়া) দেশের য়ড়াতু-আত্লাহ্
অভিমুখে কাব ইবন উমায়র (আসর) (রা)-এর অভিযান ৷ এতে এ বাহিনীর সকলেই শাহাদাত
বরণ করেন; (২৮) তাযীম-এর শাখা বনুলু “আমার অভিমুখে প্রেরিত উয়ায়না ইবন হিসৃন ইবন
হুযায়ফা ইবন বদর (বা)এর অভিযান ৷ এ বাহিনী প্রভিপক্ষের উপর অতর্কিত আক্রমণ
চালিয়ে তাদের অনেক লোককে হতাহত করে ৷ পরে তাদের প্রতিনিধিদল বন্দীদের ব্যাপারে
আলোচনার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা) সকাশে উপনীত হলে নবী কবীর (না) তাদের কতককে
সরাসরি যুক্তি দিয়ে দেন এবং অন্য কতককে ঘুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেন; (২৯) রনু
যুবরড়া-র অঞ্চলাভিমুখে গালিব ইবন আবদুল্লাহ (রা) এর আর একটি অভিযান ৷ এতে যুবরা-র
অন্যতম মিত্র জুহায়নড়ার শাখা হুরশো গোত্রের মিরদড়াস ইবন নড়াহীক নিহত হয় ৷ উসামা ইবন
যায়দ (বা) ও অন্য একজন আনসাবী ব্যক্তি তাকে হত্যা করেন ৷ ভীরত্ব দুজন তাকে নাগালে
পেয়ে গেলেন ৷ তারা র্তরবাবী উত্তোলন করলে মিরদাস বলে উঠল (এক আল্লাহ
ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই) ৷ তারা দুজন (উসামা ও আনসাবী) ফিরে এলে রাসুলুল্লাহ
(সা) তাদের শক্ত ভন্থসন৷ করলেন ৷ সে (তা শুধু জীবন রক্ষার উপায় হিসাবে কালিমা
বলেছিল’ ৷ এ কথা বলে ভীর৷ দুজন নিজেদের দোব স্থালনের যুক্তি পেশ করলেন ৷

তখন নবী কবীম (সা) উসামা (রা)-ফে বললেন, হ্যা “তুমি কি তার হৃদয়
চিরে দেখেছিলে এবং বার বার তিনি উসামা (রা)ফে বলতে লাগলেন কিয়ামতের দিন লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ্-এর জবড়ারে তোমার পক্ষে (ক দীড়ারে?”
উসামা (রা) বলেছেন, নবী কবীর (না) এ বাক্যটি এত অধিক পুনরুক্তি করতে লাপলেন যে,
আমার এমন বাসনাও হতে লাগল যে, যদি এ ঘটনার আগ পর্যন্ত আমি ঘুসলমানই না হতাম
(বা হাদীসটি পুরুকী আলোচিত হয়েছে); (৩০) বনু আয়র৷ অঞ্চলের যাতুসৃ সালাসিল অভিমুংখ

আমৃর ইবনুল আস (রা)-এর অভিযান ৷ এ গোত্রটি আরবদের সিরিয়া গমনে উদ্বুদ্ধ করত এবং
মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াত ৷ আমর (রা)-কে পাঠানোর পিছনে যুক্তি ছিল এই যে,
আস ইবন ওয়াইল-এর যা ছিল বালী’ গোত্রের যেয়ে ৷ এ কারণে তাদেরকে দলে ভিড়াবার
উদ্দেশ্যে অড়ামর (রা)-কে পাঠানো হল, যাতে আত্মীয়তার দাবীতে তার আহবান তাদের মাঝে
অধিক কার্যকর প্রতিপন্ন হয় ৷ আমর (রা) সালসাল নামে তাদের একটি কুপের কাছে পৌছলে
তীর মনে শত্রুদের ব্যাপারে ভীতির সঞ্চার হল ৷

তাই তিনি রাসুলুল্লাহ (না)-এর কাছে সাহায্যকারী বাহিনী চেয়ে পাঠালেন ৷ রড়াসুলুল্লাহ (না)
আবু উবায়দা ইবনুল জাবৃবাহ্ (রা)-এর পরিচালনাবীনে একটি বাহিনী পাঠিয়ে দিলেন ৷ আবু
বকর ও উমর (রা)-ও ছিলেন এ বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ৷ এরা সকলে তীর কাছে পৌছে পেলে
আম্র (বা) নিজেকে সম্মিলিত বাহিনীর আমীর ঘোষণা করে বললেন, আপনারা তাে আমার
সাহায্যকারী বাহিনীরুপে প্রেরিত হয়েছেন ৷ আবু উবায়দা (বা) এতে আপত্তি করলেন না ৷ তিনি
ছিলেন সহজ সরল ও পার্থিব বিষয়ে নিমেহি কোমল প্রকৃতির ৷ তাই তিনি আমর (রা)-এর
নেতৃত্বে মেনে নিলেন ৷ ফলে আমৃর (রা) র্তাদের সকলের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতেন
এবং ফিরে এ মে তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ “আপনার কাছে সর্বাধিক প্রিয় লোক কে? নবী
করীম (সা) বললেন, আইশা ৷ আমৃর (রা) বললেন, তবে পুরুষদের মাঝে? নবী করীম (সা)
বললেন, তার (আইশার) পিতা; (৩১) ঘাত্ন-আদম অভিমুখে আবদুল্লাহ ইবন আবু হাদ্রাদ
(রা)-এর অভিযান ৷ এ অভিযান ছিল মক্কা বিজয়ের আগে এবং এয়ুজী সংঘটিত হয়েছিল
মুহাল্লাম ইবন জাছুছাসার ঘটনা ৷

সপ্তম হিজবীর ঘটনাবলীর আওতায় এর বিশদ বিবরণ ইতোপুর্বেন্থ আলোচিত হয়েছে;
(৩২) পাবা অভিমুখে ইবন আবু হাদরাদ (রা)-এর অন্য একটি অভিযান; (৩৩) দুমাতুল-
জানৃদাল অভিমুখে আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা)-এর অভিযান ৷ এ অভিযানের প্রস্তুতি
পর্বের প্রাসংগিক ঘটনা বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, আমার কাছে অবিশ্বম্ভ নয়
এমন ব্যক্তিআতা’ ইবন আবু রাবাহ (র) হতে, তিনি বলেন, কোন মানুষ পাগড়ী বীধার
সময় পাগড়ী (শামলা) ঝুলিয়ে দেয়ার বিষয় জনৈক বসৃরাবাসী ব্যক্তিকে আমি আবদুল্লাহ ইবন
উমর (রা)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করতে শুনলাম ৷ আতা’ বলেন; জবাবে আবদুল্লাহ (বা)
বললেন, ইনৃশাআল্লাহ্ এ বিষয় আমি তোমাকে যথাযথ খবর’ দিচ্ছি ৷ তুমি জেনে নাও যে,
আমি নবী কবীম (সড়া)এর মসজিদে তার সাহাবীগণের দশ জনের একটি জামাআতে দশম
ব্যক্তিরুপে উপস্থিত ছিলাম ৷ (১) আবু বকর, (২) উমর, (৩) উছমান, (৪ ) আলী, (৫) আবদুর
রহমান ইবন আওফ, (৬) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, (৭) মুআয ইবন জাবাল, (৮) হুযায়ফা
ইবনৃল ইয়ামান, (৯) আবু সাঈদ খুদরী এবং (১০) আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর কাছে উপস্থিত
ছিলাম ৷ তখন এক আনসারী তরুণ উপস্থিত হয়ে রাসুলল্লাহ (সা)কে সালাম ছিল এবং বসে
পড়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! মু’মিনদের মাঝে শ্রেষ্ঠ কে? নবী করীম (সা) বললেন “যে তাদের মাঝে চরিত্রগুণে উত্তম ৷ ” অড়ানসারী বললো, তবে, ঘু’মিনদের মাঝে সর্বাধিক

ধীমান কে ? নবী কবীম (সা) বললেন-

“তাদের মাঝে মৃত্যুকে সবধিক স্মরণকারী এবং তা তার কাছে আপতিত হওয়ার আগে
হভৈত্ইে তার জন্য উত্তম প্রস্তুতি গ্রহণকারীষ্ ওরাই হল বুদ্ধিমান ৷ ” তরুণ আনসারী নিরব হলে
রাসুলল্লাহ (না) আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন-

হে মুহাজির সমাজ! পড়াচটি স্বতাব যখন তোমাদের মাঝে দেখা দেবে, তোমরা সেগুলিতে
লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি আল্লাহর অ্যাশ্রয় প্রার্থনা করছি; ( এক) কোন জাতির মাঝে
যখনই অশ্লীলতার প্রসার ঘটে, যদি না তারা তা দমিয়ে দেয়, তবে অবশ্যই তাদের মাঝে
প্লেগ-নহামারী এবং অন্যশ্যে এমন সব রোগ ব্যাধির বিস্তার ঘটে যা তাদের পুর্বপুরুষদের
মাঝে ছিল না; (দুই) যখনই কোন জাতি পরিমাণপরিমাপে কম দিতে শুরু করে, তখন তারা
দুর্তিক্ষ অজন্মা, জীবিকাসংকট ও শাসকের নিপীড়নের শিকার হবেই; (তিন) যখনই (কোন
জাতি) তাদের সম্পদের যাকাত দানে বিরত হবে, তখনই আসমান থেকে তাদের জন্য
বৃষ্টিবর্ষণ বন্ধ করে দেয় হবে; এমন কি পশুকুল ও জীব-জন্তু না থাকলে তাদের মোটেই বৃষ্টি
দেয়া হবে না; (চার) আর যখনই তারা আল্লাহ্র অংগীকার এবং তার রাসুলের অংগীকার
লঙ্ঘন করবে, তখনই তাদের বিজার্তীয় দৃশমনকে তাদের উপরে বিজয়ী করে দেবেন, ফলে
তারা তাদের মালিকানাধীর অনেক কিছু দখল করে নিবে এবং ( পড়াচ) যতক্ষণ তাদের
শাসকরা আল্লাহর কিতাব অনুসারে শাসন পরিচালনা করবে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত
বিষয়ে কার্যকরী করবে না, ততক্ষণ আল্লাহ তাদের অভ্যন্তরীন সংঘাত লাগিয়ে রাখবেন ৷”
বর্ণনড়াকারী (ইবন উমর) বলেন, তারপর আবদুর রহমান ইবন আওফ (বা) কে আমীর নিযুক্ত
করে তাকে একটি বাহিনী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন ৷ তিনি সকালে (মসজিদ নববীতে)
পৌছলেন কিরবাস (সুভী) কাপড়ের একটি কাল পাগড়ী মাথায় ৷ তখন রাসুলুল্লাহ (না)
তাকে কাছে ডেকে পাগড়ীঢি খুলে ফেললেন এবং পরে তিনি নিজে তা বেধে দিয়ে পিছন
থেকে নুন্যাধিক চার আৎগুল পরিমাণ ঝুলিয়ে দিলেন ৷

তারপর বললেন “ইবন আওফ ! এ
ভাবেই পাগড়ী র্বাধবে, কেননা এটাই সর্বাধিক সুন্দর ও মানানসই ৷ তারপর বিলাল (রা)-কে
আদেশ করলেন তার হাতে যুদ্ধ পতাকা এগিয়ে দিতে ; তিনি তা এগিয়ে দিলেন ৷ তখন নবী
করীম (সা) আল্লাহর হাম্দ এবং নিজের জন্য সালাত উচ্চারণ করার পরে বললেন-

“ইবন আওফ ! এ (পতাকা)-টি নাও, সম্মিলিত শক্তিতে আল্লাহর রাহে লড়াই করবে,
তোমরা লড়বে তাদের সাথে যারা আল্লাহর সাথে কুফবী করে; খিয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা
করবে না; নিহত ব্যক্তিকে নাক কান কেটে বিকৃত করবে না, কোন শিশুকে হত্যা করবে না ৷ এ
হচ্ছে আল্লাহর অংপীকার এবং তোমাদের জন্য তোমাদের নবীর আদর্শ ৷ এ সময় আবদুর
রহমান ইবন আওফ (বা) পতাকা হাতে নিলেন ৷ ইবন হিশাম (র) বলেছেন, তখন ইবন
আওফ দুমাতুল জানৃদাল অভিমুখে যাত্রা করলেন; (৩৪) আবু উবায়দা ইবনুল জাররাস্থ (রা)
এর বাহিনী, তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় তিনশত অশ্বারােহী এবং র্তাদের গন্তব্য ছিল সমুদ্র
উপকুলবর্তী এলাকা ৷ নবী করীম (সা) এ বাহিনীকে এক বস্তা খুরমা পাথেয়রুপে দিয়েছিলেন ৷
এ অভিযানেই আমার মাছের ঘট না ঘটেছিল ৷ সাগরের তরংগ এক বিশাল মাছ তাদের জন্য
সৈকত ঠেলে দিয়েছিল এবং তারা সকলে মিলে প্রায় এক মাস যাবত মাছ খেয়ে খেয়ে হৃষ্ট-পুষ্ট
হয়ে গিয়েছিলেন ৷ তারা মাছটির অনেকগুলি টুকরা কেটে নিয়ে নিজেদের সাথে করে রাসুলল্লাহ
(না)-এর কাছে ফিরে এসেছিলেন এবং তাকে তা হতে পাবার জন্য হাদিয়া দিলে তিনি তা
থেয়েও ছিলেন ৷ যেমনটি পুর্বেই আলোচিত হয়েছে ৷ ইবন হিশাম (র) বলেছেন, ইবন ইসহাক
(র) এ স্থানে একটি অভিযানের কথা উল্লেখ করেন নি ৷ তাহল যুবায়র ইবন আলী ও তার
সংগীদের (বা) শহীদ করার পরে আবু সুফিয়ান সাখৃর ইবন হাবৃবকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে
প্রেরিত আম্র ইবন উমায়ব্রুড়া আঘৃ যামারী (রা)-এর বাহিনী ৷ এ সম্পর্কিত ঘটনা আমরা
ইতোপুর্বে উল্লেখ করে এসেছি ৷ আম্র ইবন উমায়ার অন্যতম সংগী ছিলেন জাববার ইবন
সাখৃর (বা) ৷ তবে তারা দু’জন আবু সুফিয়ানকে হত্যা করার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন নি ৷
বরং অন্য এক ব্যক্তিকে হত্যা করে খুবায়ব (রা)-কে শুলী কাষ্ঠ হতে নামিয়ে নিয়ে এসেছিলেন;
(৩৫) সালিস ইবন উমায়র বাককাঈর (রা) অভিযান যা বনু আম্র ইবন আওফের অন্যতম
আবু ইফ্ক এর বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়েছিল ৷ রাসুলল্লাহ (সা) হারিছ ইবন সুওয়য়দ ইবনুস্
সামিতকে হত্যার নির্দেশ প্রদান করলে (পুবদ্রিলাচনা দ্র ) ইবন ইফ্ক এর মুনাফিকী ও কপটতা
প্রকাশ পেয়ে যায় ৷ হারিহ এর জন্য শোক পাথা এবং নতুন ধর্ম গ্রহণের নিন্দাবাদ করে সে
কবিতা রচনা করেছিল ৷ আল্পাহ্ তাকে কুশ্ৰী করুন ৷ দীর্ঘকাল ধরে জীবন-যাপন করছি ৷ কোন
পরিবার বা কোন সমাজ দেখিনি যারা চুক্তিবদ্ধ মিত্রের আহ্বানে অভিজাত ও বাহাদুর কায়লা-র
সন্তানদের চেয়ে, অধিক অংগীকার পুরণকারী ও বিশ্বস্ত ৷

যারা পাহাড় বসিয়ে দেয় কিন্তু নিজেরা বিনীত হতে জানে না ৷ তাদের দ্বিধা বিভক্ত করল
এক আরোহী হড়ালাল, হারাম ও বৈধ-অরৈধ যার কাছে একাকার ৷ হায় ! যদি তোমার ইজ্জত,
আভিজাত্যের মান রক্ষা করতে ৷ কিৎবা রাজকীয় মর্যাদার অধিকড়ারীদের আনুগত্য করতে ৷”
রাসুলুল্লাহ (সা) এ কবিতার বিষয় অবগত হয়ে বললেন ৷ ” কে আছে
আমার পক্ষ থেকে এ উক্তির জবাব দিবে ? তখন সালিম ইবন উমায়র নবী করীম (সা) এর
আহবানে সাড়া দিয়ে আবু ইফ্ক কে হত্যা করে আসলেন ৷ এ প্রসংগে উমামা আলু মাযীদিয়্যা
কবিতা রচনা করেছিলেন-

আল্লাহর দীন এবং মহান মানব মুহাম্মদ (সা) কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ ! কসম ! যে
তোমাকে বীর্যপাত করেছে কতই নিকৃষ্ট যে বীর্যপ!ত করেছে একজন৩ তাওহীদ বাদী তোমাকে
শেষ রাতে একটি বল্লমের আঘাত উপহার দিয়েছে; আবু ইফ্ক বুড়াে বয়সে নিয়ে নাও ওটি !

(৩৬) বনু উম!য়্যা ইবন য!য়দ-এর মহিলা কবি আসৃম!’ বিনত ম!রওয়!নকে হত্যার
উদ্দেশ্যে প্রেরিত উম!য়র ইবন অ!দী অ!ল্-খিত মী (রা) এর অভিযান এ অ!সমড়া ইসলাম ও
মুসলমানদের সম্পর্কে বাংগ কবিতা রচনা করত ! পুর্বোল্লিখিত অ৩!বু ইফ্ক নিহত হলে আসম!
তার মুনাফিকী ও কপটতা !র পর্দা উন্মো চিত করে দেয় এবং এ প্ৰস০ গে কবিতা রচনা করে !

চরম দুর্দশা! বনু ম! !লিক, বনুন না !বীত ও আওফ গোষ্ঠীর জন্য; চরম দুর্দশা বনুল খ!যর!জ
৫গ!ষ্ঠীর! তোমরা অনুগ৩ ! স্বীকা !র করে নিয়েছে! এক বিজ! র্তীয় ভিনদেশীর যে লোকটি ঘুর!দ
গোষ্ঠীরও নয় ম!যহিজ্জ গোষ্ঠীরও নয় !৫ তোমাদের ম!থাগুলোর (৫নতৃবর্গের) নিধন যজ্ঞের পরেও
তাকে আশা ভরস!র পাত্র বানিয়ে রেখেছো, এ যে মর! গাছে নতুন পাতা গজ!ব!র দুর!শা !

হায় ! নেই কী আত্মমর্য!দ!বােধে উদ্বুদ্ধ কোন বাহাদুর যে, সুযে!গের সদ্বব্যহ!র করে এ
আশাব!দের রশি ছিড়ে দিতে ৩প!রে এর জবাবে হ!সৃসান ইবন ছ! !বিত (রা) পাল্টা কবিতা
রচনা করলেন বনু ওয়া !ইল, বনু ওয়া !কিফ ও খি৩ যীর!, বনুল-খ!যব!জ ব্যতিরেকে ! যখন
কপ!ল গোড়ার! নির্বৃদ্ধি৩ !র দরুন নিজেদের চরম সর্বন!শ ডেকে অ!নে ! অ!ন্দে!লিত করে
ঐতিহ্যময় অধিকারী এক তরুণকে; ভেতরে ব! !ইরে স্বভ!বে-অ!চরণে
অভিজাত ! সে তরুণ ধুলা লুষ্ঠিত করে দিল ঐ অভিজাতপর্বী সুপথ বিদ্বেষী অপদ!র্থদের,
তাতে সে কোন অন্যায় করেনি !

ৰিনৃত
এ “বিনত ম!রওয়!নের ব্যবস্থা করে দিয়ে আমাকে শান্ত করবে কী কেউ ?” উম!য়র ইবন
আদী (বা) তা’ শুনেছিলেন ! সন্ধ্য! ঘনিয়ে এলে ঐ রাতেই তিনি বিনত ম!রওয়!নের বাড়ীতে
ভৈনশ অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যা করলেন ৷ তার পর সকালে এসে বললেন, ইয়! র!সুল!ল্লাহ !
তাকে খতম করে দিয়েছি! র!সুলুল্লাহ্ “উম!য়র
তুমি আল্লাহ এবং তার র!সুলকে সহায়তা করেছ !” উম!য়র বললেন, ইয়! র!সুলুল্লাহ্ ! তা
ব্যাপারে কি আমার উপর কে
ওতে তুমি দু ’ তার স্বগােত্রে ফিরে
গেলেন ! গোত্রের লে!করা তখন বিনত ম!রওয়!নের হত্যার ব্যাপারে তর্ক বিতর্ক ও মতবিরোধ
করছিল! বিনত ম!রওয়!নের ছিল প!চ পুত্র ! উম!য়র (র!) বললেন, “আমিই তাকে খুন
করেছি; এখন তোমরা সদলবলে আমার বিরুদ্বে চক্র!ন্ত কর এব০ তাতে আমাকে কোন
অবকাশ দেয়ার প্রয়োজন নেই ! এটাই ছিল প্রথম দিন, যে দিন খি৩ মীদের ম!ঝে ইসলাম
সগৌরবে অ!৩ তা প্রকাশ করল ! ফলে ইসলামের প্ৰতিপত্তি দর্শনে সেদিন গোত্রের অনেক লোক
ইসলামের ছ!য়!৩ তলে আশ্রয় নিল !

অভিযান তালিকায় এর পরে রয়েছে (৩৭) ছুম!ম! ইবন উঃছ!ল আলু হ!ন!ফী (রা)-কে
পাকড়!ওকারী বাহিনীর কথা এবং তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী! সহীহ্ হ!দীসসমুহের

উদ্ধৃতিতে এ সম্পন্ধীয়ি আলোচনা আমরা ইতোপুর্বে পেশ করে এসেছি ৷ ইবন হিশাম (র)
উল্লেখ করেছেন যে, এ ছুমামা (রা)-ই হচ্ছেন যে ব্যক্তি যার প্রসংগে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেছিলেন-“ঈমানদার এক
আতে খায় আর কাফির খায় সাত আতে ৷ কেননা ইসলাম গ্রহণের পর ছুমড়ামা (রা)-এর
খাবারের পরিমাণ কমে গিয়েছিল ৷ আরো উল্লেখ করেছেন, ছুমড়ামা (রা) মদীনা হতে প্ৰস্থান
করে উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় উপনীত হলেন এবং তালবিয়া উচ্চারণ করলেন ৷ মক্কাবাসীরা
তাকে তাতে বাধা দিতে আসলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং ইয়ড়ামামা থেকে
মক্কাবাসীদের জন্য আগত রসদ বন্ধ করে দেয়ার পাল্টা হুমকি দিলেন ৷ ইয়ামামড়ায় ফিরে গিয়ে
সত্যসত্যই তিনি মক্কাগাযী শস্য চালানোর রসদ বন্ধ করে দিলেন ৷ শেষ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তার কাছে পত্র লিখে পাঠালে পুনরায় তিনি রসদ পাঠানোর অনুমতি দিলেন ৷ বনু হানীফার
জনৈক রাবির ভাষায়-

“সে বাহাদুর আমাদেরই লোক যিনি পবিত্র মাসে ইহরাম করে মক্কাতে আবু সুফিয়ানের

নাকের ডপায় তালবিয়া ধ্বনি উচ্চারণ করেছিলেন ৷ ”

(৩৮) ভ্রাতৃ হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আলকড়ামা ইবন মুজাঘৃযায আলু মিদলাজী (না)-এর
অভিযান ৷ ঘু-কারাদ অভিযানে ওয়াক্কাস ইবন মুজায্যায শাহাদত বরণ করলে আলকড়ামা
(বা) দুশমনের পশ্চদ্বাবনের অনুমতি চাইলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) জকে একটি বাহিনীর আমীর
নিযুক্ত করে অভিযানের অনুমতি দিলেন ৷ অভিযানে রওয়ানা হওয়ার পর আলকাম৷ একটি
ছোট্ট দলকে অ্যাবর্তী অভিযানের অনুমতি দিয়ে আবদুল্লাহ ইবন হুযাফ৷ (রা)-কে তাদের নেতা
মনোনীত করলেন ৷ আবদুল্লাহ (রা) ছিলেন কৌতুক প্রবণ ও মারাত্মক ধরনের রসিকতায়
অভ্যস্ত লোক ৷ তিনি আগুন জ্বালাবার হুকুম দিলেন এবং তার অধীনস্ত বাহিনীকে তাতে ঝাপ
দিতে আদেশ করলেন ৷ তাদের কেউ কেউ (দল নেতার আদেশ মেনে নিয়ে) ঝাপ দিতে
উদ্যত হলে আবদুল্লাহ (রা) বললেন, আমি তো রসিকতা করছিলাম ৷ নবী কৰীম (না)-এর
কাছে এ ঘটনার খবর পৌছলে তিনি বললেন- “আল্লাহর
অবাধ্যতার কোন আদেশ কেউ তোমাদের করলে তোমরা তার আনুগত্য করবে না ৷” এ
সম্পর্কিত হাদীস বিবৃত হয়েছে, ইবন হিশাম (র) , দারওয়ারদী (র) আবু সাঈদ খুদরী (রা)
সনদে ৷ কুরঘৃ ইবন জাবির (রা) এর বাহিনী একদল ৰিদ্রোহীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাজীলার শাখা
কায়স গোত্রের একদল লোক মদীনায় এসেছিল ৷ মদীনায় আবহাওয়া তাদের সাস্থোর প্রতিকুল
হল এবং তারা ব্যধিগ্রস্ত হয়ে পড়ন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে তার (সাদাকার) উট পালের
বিচরণ ক্ষেত্রে গিয়ে তার পেশার ও দুধ ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন ৷ তাতে তারা সুস্থ হয়ে উঠলে
পালের যিম্মাদার রাখলে, তারা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর গোলাম ইয়াসার (রা)-কে হত্যা করল ৷
তারা প্রথমে তাকে যবাই করে তার দু’চোখে র্কাটা বিধিয়ে রাখল (এবং অংণপ্ৰতাংণ কেটে
বিকৃত করল) এবং (দুগ্ধবতী) উটগুলি তাড়িয়ে নিয়ে গেল ৷ তখন নবী করীম (সা) সাহাবীদের
একটি দলসহ কুবৃয ইবন জাবির (রা)-কে তাদের পাকড়াও করার জন্য পাঠালেন ৷ রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর ঘু-কারাদ ণড়াযওয়া থেকে প্রত্যাবর্তন কালে এ বাহিনী বাজীলার ঐ বিদ্রোহী দলটিকে ন্

বন্দী করে নিয়ে আসে ৷ তিনি তাদের বিষয় নির্দেশ জারী করলেন ৷ তাদের হাত পা ফেটে দেয়া
হল এবং তাদের ণ্চাখে গরম লৌহ শলাকা পুরে দেয়া হল ৷” এখন এ বিদ্রোহী দলটি এবং
বুখারী মুসলিমে উদ্ধৃত আনাস (রা)-এর হাদীসে উল্লিখিত উক্ল’ কিৎরা উরায়না’ গোত্রের আট
সদস্যের মদীনা আগমনকারী দলটি যদি অভিন্ন হয় এবং রাহ্যত: এরা ওরাই অর্থাৎ অভিন্ন দল
হয় তবে এদের ঘটনা ইতোপুর্বে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে (এ কারণে ৎখ্যা তালিকায় এটিকে
স্বতন্ত্র ধরা হয় নি) ৷ আর এরা স্বতন্ত্র দল হলেও এদের বিষয় ইবন হিশাম (র)-এর মুখ্য
আলোচনা এখানে উপস্থাপন করলাম ৷ আল্লাহ সমাধিক অবগত ৷

ইবন হিশাম (র) বলেন, এবং আলী (রা)-এর অভিযান যা তিনি দুবার পরিচালনা
করেছিলেন ৷ আবু অড়াম্র আল-মড়াদনী (র) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আলী (রা)-কে ইয়ামানে
পাঠালেন এবং খালিদ (রা)-কে পাঠালেন একটি স্বতন্ত্র বাহিনী সহ ৷ তিনি র্তাদের বলে
দিলেন তোমরা (কখনো) এক সাথে যুদ্ধ করলে
আমীর হবে আলী ইবন আবু তালিব” ৷ ইবন হিশাম (র) বলেন, ইবন ইসহাক (র) ও খালিদ
(রা) এর বাহিনীর কথা উল্লেখ করেছেন ৷ তবে তিনি এটিকে সারিয়্যাসমুহ ও প্রেরিত বাহিনী
অভিযানসঘুহের তালিকায় সন্নিবেশিত করেননি ৷ সুতরাং তার উক্তি মতে সংখ্যাটি হওয়া
উচিত উনচল্লিশ ৷

ইবন ইসহাক (র) আরো বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) (তার ওফাতের স্বল্প আগে) উসাম৷ ইবন
যায়দ ইবন হারিছা (রা)ষ্কে সিরিয়ার পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং র্তীকে ফিলিন্তীনের
দারুম ও (র্বতঘান র্জদানের অন্তর্গত) বালকা সীমান্ত অঞ্চলে অশ্ব বাহিনীর টহল অভিযান
চালাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ লোকেরা এ অভিযানের প্রস্তুতি নিল এবং প্রবীণ মুহাজিরপণের
প্রায় সকলেই উসামা (রা)-এর বাহিনীতে তালিকাভুক্ত হলেন ৷ ইবন হিশাম (র) বলেছেন ৷
এটাই ছিল রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পাঠানো শেষ অভিযান ৷ এ প্রসংগে বুখারী (র) বলেন, ইসমাঈল
(র) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) একটি
বাহিনী গঠন করলেন এবং উসামা ইবন যায়দ (রা)-কে বাহিনীর আমীর মনোনীত করলেন ৷
লোকেরা র্তার অধিনায়কত্বের বিরুপ সমালোচনা করল ৷ তখন নবী করীম (সা) (মিম্বার)
দাড়িয়ে বললেন

“তার আমীর হওয়াতে তোমরা সমালোচনা করছো, তোমরা ইতোপুর্বে তার পিতার আমীর
নিযুক্তিতেও সমালোচনা করেছ, আল্লাহর কসম ! সে অবশ্যই আমীর হওয়ায় উপযোগী ছিল
এবং সে ছিল আমার কাছে অধিকতর পসন্দনীয়; আর তার পরে এ উসামাও আমার কাছে
অধিকতর প্রিয়তর ৷ “তিরমিযী (র) এ হাদীসখানা রিওয়ায়াত করেছেন মালিক (র)এর
বরাতে এবং তিনি একে হাসান সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন ৷ প্রথম যুগের ঘুহাজির ও
অনাসারপণের অনেক প্রবীণ সাহাবী (বা) তার এ বাহিনীতে তালিকাবদ্ধ হয়েছিলেন ৷ র্যাদের
মাঝে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ৷ তবে যারা আবু বকর

(রা)-৫কও ঐ বাহিনীর অর্ন্তভুক্ত হওয়ার দাবী করেছেন তারা ৰিভ্রাস্তির শিকার হয়েছেন ৷
কেননা, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর অসুস্থতা যখন কঠিন আকার ধারণ করে তখন উসামা বাহিনী
জুরুফে’ ভীবুতে অবস্থান করছিল ৷

ওদিকে নবী করীম (সা) আবু বকর (রা)-কে লােকেদের সালাতে ইমামতি করার নিদের্শ
দিয়েছিলেন, যা’ পরে আসছে ৷ তা হলে বিশ্ব জগতের প্রতিপালক রাববুল আলামীনের দুত ও
রাসুলের অনুমোদনক্রমে ইমামুল ঘুসলিমীনরুপে বরিত হওয়্যা সত্বেও তিনি কি করে বাহিনীর
তালিকাভুক্ত হবেন? আর তর্কের খাতিরে বহিনীর সাথে তার তালিকাভুক্তি মেনে নেয়া হলেও
খােদ শরীআত প্রবর্তক নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামই তো তীকে ব্যতিক্রম সাব্যস্ত
করেছেন এবং তা-ও করেছেন ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বপ্রধান করুন ও স্তম্ভ সালাতে ইমাম
নিযুক্তির সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে ৷ ’

পরে নবী করীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস্সালামএর ওফাত হয়ে গেল (আবু বকর)
সিদ্দীক (বা) উসামা (রা)কে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)কে রেখে যাওয়ার অনুরোধ করলে
তিনি তাকে থলীফাতুল মুসলিযীন সিদ্দীক (রা)-এর কাছে অবস্থান করার অনুমতি দেন এবং
খলীফা আবু বকর সিদ্দীক (বা) উসামা বাহিনীর অভিযানের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করেন ৷ বিশদ
বর্ণনা যথাস্থানে আসছে ইনৃশাআল্লাহ ৷

রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ওফাতের পুৰ্বাভাষ সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসসমুহ : রাসুলুল্লাহ্ (সা)
এর ওফাত পুর্বকালীন অসুস্থতার সুচনা প্রসংগ : অড়াল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন-

তুমি তো মৃত্যু পথযাত্রী এবং ওরাও মৃত্যুপথ যাত্রী ৷ তারপর কিয়ামতের দিন ৫তড়ামরা
পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সামনে বাকবিতণ্ডা করবে (৩৯ : ৩০-৩ ১ ) ৷ আল্লাহ তাআলা
আরো বলেন, “আমি তোমার আগে আর কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিমি; সুতরাং

তোমার মৃত্যু হলেই ওরা কি চিরজীবি হয়ে থাকবে ?” জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার, আমি
ভাল ও মন্দ দিয়ে তোমাদের বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই নিকট তোমরা

১ সিরিয়া অভিমুথী উসামা বাহিনী গঠিত হয়েছিল আবু বকর (রা)-কে সালাতে ইমামতি করার নির্দেশ
প্রদানের আগে ৷ সুতরাং অন্যান্য প্রবীণ মুহাজিরদের সাথে র্তড়ারও তালিকাভুক্তি অসম্ভব ব্যাপার নয় ৷ এ ছাড়া
প্ৰমাণ্য বর্ণনায় এমনও পাওয়া যায় যে, উমর (রা)-কে রেখে যাওয়ার ব্যাপারে যেমন অনুরোধ করেছিলেন ৷
খিলাফতের দায়িত্ব পালনের যুক্তিতে তিনি নিজের জন্যও নৈতিকভাবে অনুমতি নিয়ে তালিকা মুক্ত হয়েছিলেন ৷
দ্র মাওলানা তফাজ্জ্বল হুসায়ন হযরত মুহাম্মদ মুম্ভফা পৃ ৯২৪ ৷

পুনআেনীত হবে (২১ : ৩৪-৩৫) ৷ তিনি আরো ইরশাদ করেন (জীব মাত্রই মৃত্যুস্বাদ গ্রহণ
করবে), কিবামত্যে৷ দিন তােমাদেরকে ণ্তড়ামাদের কর্মফল পুর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে ৷ যাকে আগুন
হতে দুরে রাখা হল এবং জান্নাতে দাখিল করা হল সে-ই সফলকাম এবং পার্থিব জীবন ছলনড়াময়
ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়”(৩ : ১৮৫) ৷ অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন ৷ “মুহাম্মাদ একজন রাসুল
বৈ নন ৷ তার পুর্বে অনেক রাসুল গত হয়েছেন ৷

সুতরাং যদি তিনি মারা যান অথবা তাকে হত্যা করা হয় তবে তোমরা কি পৃষ্ঠপ্ৰদর্শন
করবে ? এবং কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনােও আল্লাহর ক্ষতি করবে না ৷ বরং আল্লাহ
শীঘ্রই শুক্র আদায়কারীদের পুরস্কৃত করবেন (৩ : ১৪৪) ৷ এই শেষের আয়াতটিই সে
আয়াত, যা আবু বকর (রা) তিলড়াওয়াত করেছিলেন, রাসুল (সা) এর ওফাত দিবসে মসজ্যিদ
সমবেত সাহাবীগণের সামনে ৷ ল্যেকেদের তা শুনে মনে হতে লাগল যেন ইতেড়াপুর্টব তারা
আয়ড়াতটি শুনে নি ৷

এ ছাড়াও আল্লাহ তাআলড়া বলেছেন ,

“যখন এসে যাবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়, এবং তুমি দেখবে মানুষকে দলে দলে আল্লাহর
দীনে প্রবেশ করতে ৷ তখন তুমি তোমার প্ৰতিপালকের প্রসংশাসহ তার পৰিত্রতা ঘোষণা করতে
থাকবে ৷ তিনি তো তাওবা কবুলকারী ৷ এ সুরা সম্পর্কে উমর ইবনৃল খাত্তাব ও
ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, এ হচ্ছে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মৃত্যু ঘোষণা, যা তাকে আগাম
পরিবেশন করা হয়েছে ৷ ইবন উমর (রা) বল্যেছন, বিদায় হভৈজ্জ আইয়্যামে তড়াশরীকের মধ্যম
(মধ্যবর্তী) দিনে এ সুরাটি নাযিল হয়েছিল ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) অনুধাবন করছিলেন যে, এ হচ্ছে বিদায় রাতা ৷ তাই তিনি লোকদের সামনে
ভাষন দিলেন এবং তাতে প্রয়োজনীয় আদেশ-নিষেধ বর্ণনা করলেন ৷ যেমনটি পুর্বে আলোচিত
হয়েছে ৷ জাৰির (রা) বলেছেন, আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ্ (সা) জামরাগুলিতে কংকর মারার পর
থেমে র্দাড়ালেন এবং বললেন, “তোমরা আমার নিকট হতে তোমাদের হজ্জ-উমরার নিয়মাবলী
লিখে নাও ৷ কেননা সম্ভবত আমার এ বছরের পরে আমি আর হজ্জ করব না ৷ ” নবী করীম (না)
তার কন্যা ফাতিমা (রা) কে বলেছিলে (বিশদ বর্ণনা পরে আসছে) ৷

“জিবরীল (আ) প্ৰতি বছর আমাকে একবার করে কুরআন শরীফ শুনাতেন ৷ কিন্তু এ বার তিনি
আমাকে তা দৃবার শুনালেন ৷ আমার ধারণা, আমার শেষ সময়ের নিকটবর্তীতাই এর কারণ ৷”
সহীহ্ বুখারীতে আবু বক্র ইবন আয়্যাশ (র) আবু হুরায়রা (রা) সনদের হাদীসে রয়েছে তিনি
(আবু হুরায়রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) প্ৰতি রমযান মাসে (শেষ) দশ দিনের ইতিকাফ করতেন ৷
কিন্তু তার ওফাতের বছর বিশ দিন ইতিকাফ করলেন ৷ প্ৰতি বছর এক বার র্তাকে (পুর্ণ) কুরআন
শুনানাে হতো ৷ আর তার ওফাতের বছর র্তাকে দু’বার কুরআন শুনানাে হয় ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেছেন, জিলহজ মালেই রাসুলুল্লাহ্ (সা) বিদায় হজ্জ থেকে
ফিরে এলেন ৷ মাসের অবশিষ্ট দিনগুলিসহ ঘুহাররম ও সফর মাস মদীনায় অবস্থান করলেন
এবং উসামা ইবন যায়দ (রা) কে অভিযানে পাঠাবার ঘোষণা দিলেন ৷ লোকজন যখন এ
অবস্থায় (অভিযানের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত) ছিল তখন সফর মাসের শে য রা৩ গুলিতে ৎবা
রবীউল আওয়াল মাসের প্রথম তা ৷গে রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর সে অসুস্থতার সুচনা হল যাতে
আল্লাহ তাকে তুলে নিয়েছিলেন, তার পসন্দের রহমত ও মর্যাদার জগতে ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সড়া)-এর এ অসুস্থতার সুচনা সম্পর্কে আমি যে বিবরণ পেয়েছি তা হল নবী
করীয় (সা) মধ্য রাতে বাকী পােরম্ভানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন এবং সেখানে
কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করলেন, তারপর নিজের পরিজনদের কাছে ফিরে
গেলেন ৷ পরবর্তী সকাল হতে তার অসুস্থতার সুচনা হল ৷ ইবন ইসহাক (র) আরো বলেন,
আবদুল্লাহ ইবন জাফর (র) রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু মুওয়াহিবা (বা)
হতে বংনাি করেন তিনি বলেন, মাঝরাতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে জাগিয়ে তুলে দিয়ে

আবু মুওয়ায়হিবা এ বার্কীবাসীদের জন্য ইসৃতিগফার করতে আমি অদিষ্ট হয়েছি ৷৩ তা,ই
আমার সাথে চল ৷” ৩া৷মি তার সাথে চলমান ৷ যখন তিনি তাদের মাঝে গিয়ে দাড়ালেন, তখন

বললেন-

“কবর বাসীর৷ ! তােমদের উপর শান্তি বর্ধিত হোক ! লোকজন যার মাঝে রয়েছে তার
তুলনায় তোমরা যার মাঝে রয়েছে তা তোমাদের জন্য সুখবর হোক ! ফিতনা যেয়ে আসছে
তাধার রাতের টুকরাগুলির মত, যার পরবর্তীটি পুর্ববর্তীটির সাথে লেগে রয়েছে; পরেরটি
আগের টির চাইতে নিকৃষ্ট ৷” এরপর আমার দিকে লক্ষ্য করে বললেন,
এ্যাএ
“আবু মুওয়ায়াহিবা ! পৃথিবীর তাণ্ডারসমুহের চাবিংওচ্ছ ও তাতে স্থায়ী থাকার এবং তার
পরে জান্নাত (এর প্রভাব) আমাকে দেয়া হয়েছে ৷ তারপর আমাকে ঐ সব বিষয় এবং আমার
প্ৰতিপালকের সাক্ষাত সান্নিধ্য ও জ ৷ন্নাত ৩এ দুয়ের মাঝে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে ৷ ” বর্ণনাকারী
বলেন, আ ৷মি বললাম, আমার মা বাবা আপনার জন্য উৎসগীতি ! তা হলে আপনি পৃথিবীর
তাণ্ডারসমুহের চাবিগুচ্ছ ও তাতে স্থায়িতৃ এবং তার পরে জান্নাত গ্রহণ করুন না ! তিনি
বললেন না; আল্লাহর কসম! হে আবু
মুওয়ায়হিবা “আ মি আমার প্ৰতিপড়ালকের সাক্ষাত সান্নিধ্য ও জ ৷ন্নাত বেছে নিয়েছি ৷ তারপর
তিনি বার্কীবাসীদের জন্য ইস্তিগৃফা র করে ফিরে চললেন ৷ এরপরেই রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর সে
অসুস্থতার সুচনা হল যাতে আল্লাহ জকে তুলে নিলেন ৷ প্রসিদ্ধ (ছয়) গ্রন্থসমুহের সংকলকপণ
এ হাদীসটি উদ্ধৃত করেন নি ৷

তবে আহমদ (র) ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (র) যুহম্মেদ ইবন ইসহাক (র) হতে ঐ সনদে
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) আরো বলেন, আবৃন নাঘৃব (র) আবুম্ ওয়ায়হিবা (বা)
হতে, তিনি বলেন, রত্ত্বসুলুল্লাহ্ (সা) বাকী (গোরন্তান) বড়াসীদের জন্য দুআ-ইসতিপফার করতে
অদিষ্ট হলেন ৷ তখন তিনি তাদের জন্য তিনবার দুআইসৃতিপফার করলেন ৷ তৃতীয়বারের সময়
তিনি বললেন “আবু ঘুওয়ায়হিবা ৷ আমার জন্য আমার বড়াহনে
জিন লাগাও !” তারপর তিনি আরোহণ করলেন এবং আমি হেটে চললাম ৷ কবববড়াসীদের কাছে
পৌছে তিনি নেমে পড়লেন এবং আমি বড়াহনটি থামিরে রন্বখলাম ৷ তিনি সেখানে থামলেন ৷ কিৎবদ্ব
(বর্ণনার রয়েছে) তাদের সামনে দাড়িয়ে বললেন ৷ লোকজন যার মাঝে রয়েছে তার তুলনায়
তোমরা যার মাঝে ররেছেড়া ৷ তা তোমাদের জন্য সৃখকর হোক ! ফিতনা ও দুর্যোগ এসে পড়ল
আমার রাতের অংশগুলির ন্যায়, যার একটি আর একটির অনৃপামী, শেবটি প্রথমটির চাইতে
কঠোরতর ! ত লোকজন যার মাঝে রয়েছে তার তুলনায় তোমাদের জন্য সৃখবর হোক সে
অবস্থা যাতে তোমরা বয়েছে৷ ৷

তারপর ফিরে এসে বললেন, যে আবু ঘুওয়ায়হিবড়া আমি প্রদত্ত হয়েছি, কিংবা (বর্ণনা সন্দেহ)
তিনি বলেছিলেন আমাকে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে আমার পরে আমার উম্মতের জন্য যে অঢেল
পরিমাণ উন্মুক্ত করে (ফতুহাত) দেয়া হবে তার চাবিগুচ্ছ ও জান্নড়াত কিংবা আমার প্ৰতিপালকের
সাক্ষাত সান্নিধ্য এ দুরের মাঝে ৷ “বংনািকাবী বলেন, আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার
জন্য উৎসর্গীত ৷ তা হলে আপনি আমাদের (পৃথিবীতে অবস্থান) ইখৃতিয়ার করুন না ? তিনি
“আল্লাহ যেমন ইচ্ছা করবেন
তা তার পরিণতিতে উপনীত হবে, তাই আমি আমার প্ৰতিপালকের সান্নিধ্যে গমনকে
ইখৃতিয়াব করেছি ৷ ” এরপরে সাত কিৎবড়া আট দিন যেতে না যেতেই তাকে তুলে দেয়া হল ৷
আবদুর য়াঘৃযাক (র) মামার (র) ইবন তাউস এবং তিনি তার পিতার বরড়াতে চলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেছেন-

“প্রভাব দ্বারা আমি সাহায্য প্রাপ্ত হয়েছি, বনতাণ্ডারসমুহ প্রদত্ত হয়েছি এবং আমার উম্মতকে
যে বিজয় ধারা দেয় হবে তা দেখা পবর্ন্ত আমার বেচে থাকা এবং দ্রুত প্ৰস্থান করা এ দুইরের
মাঝে আমাকে ইখৃতিয়ার দেয়া হয়েছে ৷ দ্রুত প্রস্থানকেই ইখতিয়ার করেছি ৷” বড়ায়হাকী (র)
বলেছেন, এটি যুরসাল হাদীস এবং এটি আবু মুওয়ায়ইিবা (বা) হতে বর্ণিত হাদীসের শাহিদ
(সমর্থক) হাদীস ৷

ইবন ইসহাক (র) আরো বলেন, ইয়াকুব ইবন উত্বা আইশা (বা) হতে, তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বাকী হতে ফিরে এসে আমাকে দেখলেন যে, আমি মাথা বয়ায় কাতরাচ্ছি ৷
বলে চলছি আর আমার মাথা, নবী করীম (সা) বললেন “বরং
আমিই, হে আইশা ! হয়ে আমার মাথা ! আইশা (বা) বলেন, পরে তিনি বললেন, “ তোমার
অসুবিধা কি, তুমি যদি আমার আগে মায়া যাও তা হলে আমি তোমার সব ব্যবস্থাপনা করব

(আমাকে কাফন পরার, তামার জানাযা সালাত আদায় করব এবং (আমাকে দাফন করব ৷

আইশা (বা) বলেন আমি বললাম, আল্লাহর কলম! আমার তো নিশ্চি৩ মনে হয় যেন, এমন
করলে তো আপনি আমার ঘরে ফিরে এসেই সেখানে আপনার (অন্য) কোন শ্ৰীকে নিয়ে বাসর
করবেন ৷ ” আইশা (রা) বলেন তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) মৃদু হাসলেন এবং তার অসুস্থতা নিয়েই
তিনি সহধর্মিনীগণের ঘরে ঘরে পালা রক্ষা করতে লাপলেন ৷ অবশেষে মায়মুনা (রা)ঘরে
তীর অসুস্থতা কঠিন আকার ধারণ করলে তিনি সহধর্মিনীগণকে সেখানে ডাকলেন এবং আমার
ঘরে সেবা ড্ডাষা পওেয়ন্র ওার৷ সকলে অণুমতি দিয়ে
দিলেন ৷ আ ৷ইশা ৷৷(রা) বলেনঃ তখন বাসুলুল্লাহ্ (সা ) তার হুন্দালের দুজন লোকের উপর ভর
দিয়ে বের হয়ে আসলেন্ ইবন অব্বর্চস এবং ভ্রন্যে একন্ধ্রন লোক ৷ তার মাথায়

ছিল পট্টি বাধা এবং

এভাবে তিনি আমার বৰ্র < বব ট্টনায়ধুপ্লা ২ (র) বলেন, আমি তখন
ইবন আব্বাস (বহ্ব ) ব্লুক কহু ম্পি বললেন ৩াম কি জান, দ্বিতীয় ল্যেকটি কে ?
তিনি হলেনঅ ল ইবন অকৃবু তৰুলিব (রা) এ হাদড়াসের অনেক সমর্থক রিওয়ায়াত রয়েছে ৷ যা
পরে আসছে ৷ বায়হফী (র) হাড়াকম (র) নাইশা (রা) সুত্রে প্রায় অনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷
আমার মনে হচ্ছে রাসু ল্লাহ্ (না) নিউযোনিয়া জাতীয় ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছেন;৩ ৩ইি তাকে
মুখে ওষুধের ফৌটা দেয়ার ব্যবস্থা কর ৷ তারা তাকে মুখে ওযুধের কে টা দিলে রাসুলুল্লাহ্ (সা)
চেতনা ফিরে পেয়ে বললেন, “এ কাজ কে করেছে?” ৷ননন আপনার চাচা
আব্বাস; তার আশঙ্কা হয়েছিল যে, নিউমে ৷নিয়া আপনাকে আক্রমণ করেছে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা) বললেন “ওটা তো হয়ে থাকে শয়তানের পক্ষ হতে, আল্লাহ্ তাকে আমার উপরে
প্রতিপত্তি দিবেন না; আমার চাচা আব্বাস ব্য৩ তীত ঘরের কাউকে বাদ না দিয়ে প্রত্যেকের মুখে
ওষুধ ঢেলে দিতে হবে ৷ তখন ঘরের সকলের মুখে ওষুধ ঢেলে দেয়া হল ৷ মায়মুনা
(রা) রোযাদাব ছিলেন, তাকেও বাদ দেয়া হল না এবং এসব করা হল বস্নেধ্ এর
দৃষ্টির সামনে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন আমার ঘরে অসৃস্থতাকাল ৷ন লেক : বার জন্য
তীর সহধর্মিণীগণের কাছে অনুমতি
পুবন্থিরুপ ৷ তবে সেখানে ফযল ইবন ত ৷ব্বাসেব স্থলে আব্বাস (বা ) এ ব নাম রয়েছে

বুখারী (র) সাঈদ ইবন উকায়র আবদুল্লাহ ইবন উৎবা সুত্রে খবর দিয়েছেন যে, নবী
করীম (সা) এর সহধর্মিণী আ ৷ইশা (রা) বলেছেন, বা’সুলুল্লাহ্ (না) যখন রােপভারে শ্ৰুয্যাশায়ী
হলেন এবং তীর বব্রা’ধি প্রকট আকার ধারণ করল (বাকী অংশ পুবন্থিরুপ) ৷

পরবউকািলে নবী সহধর্মিনী আইশা (রা) বলতেন যে , রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন আমার ঘরে
আগমন করলেন এবং তীর অসুস্থতা আরো প্রকট হল তখন তিনি বললেন

ও তাদের অৎগীকার নেবাে ৷” আইশা (রা) বলেন, আমরা তখন তাকে নবী সহধর্মির্নী হড়াফ্সা
(রা)-এর একটি মামলায় বসালাম এবং তার উপর বর্ণিত পাত্র হতে পানি ঢালতে লাগলড়াম
এমনকি তিনি তার হাত দিয়ে আমাদের দিকে ইংগিত করে বুঝালেন যে, তোমরা যথেষ্ট
করেছ ৷ আইশা (রা) বলেন, পরে তিনি লোকদের কাছে (মসজিদে) বেরিয়ে গিয়ে তাদের
নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাদের সামনে ভাষণ দিলেন ৷ বুখারী (র) তার সহীহ্-এর
একাধিক অনুচ্ছেদে এবং মুসলিম (র) ও যুহ্রী (র) হতে ঐ সনদে হাদীসঢি রিওয়ায়াত
করেছেন ৷
বুখারী (র) আরো বলেছেন, ইসমাঈল (র) আইশা (বা) হতে এ মর্মে বর্ণনা করেছে যে, যে
অসুস্থতার রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ওফাত হলো, যে অসুস্থতা কালে তিনি (বার বার) জিজ্ঞাসা
করতেন ৷ “আগামী কাল আমি কার ঘরে থাকর ? আগামী কাল আমি
কার ঘরে থাকর? উদ্দেশ্য ছিল আইশা (রা)-এর ঘরে থাকার দিন করে হবে? তখন তার
সহধর্মিনীপণ জর যেখানে মর্জি সেখানে থাকার ব্যাপরে সম্মতি জানালেন ৷ তখন তিনি
আইশার ঘরে থাকতে লাপলেন এবং সেখানেই ওফাত বরণ করলেন ৷ আইশা (বা) বলেছেন,
পালার হিসাব মতে যে দিন তার আমার ঘরে থাকার কথা ছিল সেদিনই আমার ঘরে তীর
ওফাত হল ৷ আল্লাহ্ র্তাকে তুলে নিলেন যখন তার মাথা ছিল আমার বুকের উপর এবং আমার
লালা মিশে গিয়েছিল (আমার চাবিয়ে দেয়৷ মিসওয়াক ব্যবহার করার কারণে) তার লালার
ৎগে ৷ আইশা ম্(রা) বলেন, আবদুর রহমান ইবনঃ আবু বকর (রা) মরে ঢুকলেন, তার কাছে
একটি মিসৃওয়াক ছিল যা দিয়ে তিনি মিসৃওয়াক করছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার দিকে দৃষ্টি
দিলে আমি তাকে বললাম, আবদুর রহমান, আমাকে এ মিসৃওয়াকটি দিন ! তিনি সেটি আমাকে
এগিয়ে দিলে আমি তা চিৰিয়ে নরম করে দিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে এগিয়ে দিলাম ৷ তিনি
আমার বুকে হেলান দিয়ে মিসৃওয়াক করলেন ৷” এ সুত্রে হাদীসটি বুখারী (র)-এর একক
বর্ণনা ৷ বুখারী (র) আরো বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (র)আইশা (বা) হতে, তিনি
বলেন, নবী করীম (সা) ওফাতবরণ করলেন, তখন তিনি ছিলেন আমার চিবুক ও কণ্ঠার
মাঝে ৷ সুতরাং নবী কবীম (না)-এর ওফাতকালীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করার পরে আমি আর কারো
জন্য মৃত্যু যাতনাকে অপসন্দনীয় মনে করি না ৷

বুথারী (র) আরো বলেন, হায়্যান (র) আইশা (না) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
অসুস্থতা বোধ করলে যুআবৃ ৰিযাত’ (সুরা ফালাক ও সুরা নড়াস)-এ পাঠ করে নিজের পায়ে কু
দিতেন এবং হাত দিয়ে পা মুছে নিতেন ৷ পরে যখন তিনি তার যে অসুস্থতার আক্রান্ত হলেন,
যাতে তার ওফাত হল তখন আমি যে ঘুআবৃবিযাত পড়ে তাকে ফু দিতে লাগলাম যেগুলি
দিয়ে তিনি নিজে কু দিতেন ৷ নবী করীম (না)-এর হাত দিয়েই তার দেহ মুছিয়ে দিতে
লাগলাম, মুসলিম (র) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন, ইবন ওয়াহ্ব (র)যুহ্রী সনদের এবং
ফাল্লাস (র) ও মুসলিম (র) মুহাম্মদ ইবন হাতিম (র) সুত্রে

সহীহ্ গ্রস্থদ্বয়ে আবু আওয়ানা (র) আইশা (বা) সমদে উদ্ধৃত হয়েছে, তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর পরিবারের নারীগণ তার কাছে সমবেত হলেন ৷ তাদের একজনও বাদ
থাকলেন না ৷ কাতিমা (রা)-ও হেটে হেটে আসলেন ৷ তার হীটার ধরন তীর পিতার হীটার

ধরন হতে একটু ও ভিন্ন ছিল না ৷ নবী করীম (সা) বললেন “স্বাগতম ৷ আমার
কন্যা ! পরে তাকে নিজের ডান কিৎব৷ বাম পাশে বসালেন ৷ পরে তার কানে কানে কিছু
বললে তিনি কেধে কানেকা নে কিছু বললে ফাতিমা (বা) হেসে উঠলেন ৷

আমি (আ ৷ইশ ৷৷)৩ তখন তাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ্ (না) নিলে ৷ষ করে তে আমার সাথেই কানে কানে
কথা বলেলন তবুও তুমি কাং ছে৷ ? পরে ফড়া ৷তিম৷ (রা) চলে যেতে ৬ প্য৩ হলে আমি তাকে
বললাম, রাসুলুল্লাহ্ (না) তোমাকে গোপনে কী বলেছেন তা আমার বলো না ? ফাতিমা (বা)
বললেন, “ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর রহস্য ফাস করতে আমি প্রস্তুত নই ৷ ”

পরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর ওফাত হয়ে গেলে আমি তাকে (ফাতিমাকে) বললাম, তোমার
উপরে আমার যে হক ও অধিকার রয়েছে তার দাবীতে তোমাকে আমি জিজ্ঞাসা করছি;
আমাকে তোমার বলতেই হবে ৷” সে বলল, অবশ্য এ রন (বলা যেতে পারে) সে বলতে
লাগল-প্ৰথম বারে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকে কানে কত্ত্বক্রুন বললেন, জিবয়ীল (আ) প্রতি বছর
আমাকে একবার কুরআন শরীফ শুনাতেন অথচ এ বছর :ি০ি আমাকে দু’বার তা শুনিরেছেন ৷
“এবং আমি মনে করি যে, হওয়া ব্যতীত এর অন্য কোন কারণ
নেই ৷ তাই, করে ভোরে এবং সবর অবলম্বন করএে ৷ তোমার ওশ্যে আমি
কতইনড়া উত্তম পুর্বসুরী’ ! “গুার একথা শুনে আমি কেদেছিলাম ৷ আবার তিনি কানে কানে
আমাশো বললেন ৷ আ ধ্ন্ ৷ র মৃত্যুর পর তুমিই সবার আগে আমার সাথে মিলিত হবে-

তুমি কি এতে তুষ্ট হতে পড়ার না যে, তুমিই জান্নাতের ঈমানদার নাৰীকুলের কিংবা (তিনি
বলেছিলেন) এ উম্মতের নারীকুলের সর্দার হবে ৷ ” এ কথা শৃনে আমি (হলেছিলাম ৷ আইশা
(বা) হতে এ হাদীসের আরো একাধিক বর্ণনা সুত্র রয়েছে ৷

আলী ইবন আবদুল্লাহ (র) , আইশা (রা) সনদে বুখাবী (র) রিওয়ায়াত করেছেন, আইশা
(রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর অসুস্থতা কালে আমরা তার মুখে ওষুধ ঢেলে দিলাম ৷ তিনি
আমাদের ইংগিত করতে লাপলেন যে “আমাকে মুখে ওষুধ ঢেলে দিও না ৷ ” আমরা বলাবলি
করলাম, ” ওষুধের প্ৰতি রোগীর স্বভাবজাত অনীহা ৷ পরে তিনি চেতনা ফিরে পেয়ে বললেন,
“আমি কি তোমাদের নিষেধ করি নি যে, আমার মুখে ওষুধ ঢেলে দিও না ! ? আমরা বললাম,
আমরা মনে করেছিলাম এটা বুঝি ওষুধের প্রতি অসুস্থ ব্যক্তির অনীহা ৷ তখন তিনি বললেন,
ঘরের (কউ বাকী থাকবে না, যায় মুখে ওষুধ ঢেলে দেয় না হবে; আর আমি (তা) দেখতে
থাকর; তবে আব্বাসকে নয়, কেননা তিনি তে আমাদের মধ্যে ছিলেন না ৷ বুখারী (র)
বলেছেন, ইবন আবুঘৃ যিনাদ (র) আাইং ৷৷ (রা) ননদে নবী করীম (না) হতে হাদীসটি
রিওয়ায়াত করেছেন ৷

বুখায়ী (র) বলেন, ইউনুস (র) আইশা (রা) সুত্রে বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) যে অসুস্থতার
ওফা৩ পা৩ করলেন ৩া৷৩ তিনি বলওেন,

“আইশা ! খায়বড়ারে আমি যে বিষমিশ্রিত খাবার থেয়েছিলাম সব সময় আমি তার যন্ত্রণা
ভোগ করছি; আর এ হচ্ছে বিয়ের ক্রিয়ার আমার গ্রীবড়া ধমনী ৰিচিছুন হয়ে যাওয়ার উপলব্ধি
করার সময় ৷” বুখারী (র) হড়াদীসটি এভাবে তালীক (সনদ ৰিহীন)-রুগে উল্লেখ করেছেন ৷
হাফিজ বারহাকী (র) অবশ্য হাদীসটি হাকিম (র) আবু বকর ইব ন মুহাম্মদ ইবন আহমদ
ইবন ইয়াহয়া আল-আশৃকার (র) যুহরী (র)হত্তত পরবর্তী ঐ সনদে সনদয়ুক্ত করে
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ বারহাকী (র) বলেছেন হাকিম (র)আবদৃল্লাহ ইবন মাসউদ (র)
হতে, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম ! রাসুলুল্লাহ্ (না) প্রতক্ষে শহীদ হয়েছেন এ বিষয় নয় বার
হলফ করা তিনিঃ নিহত (শহীদ) হন নি বহুল এক বার হলফ করার চেয়ে আমার নিকট
অধিকতর পসন্দনীয় ৷ ’ এর কারণ হল আল্লাহ্ পাক তো (আল কুরআনের ভাষ্য মতে ) র্তাকে
নবী এবং শহীদরুপে মনোনীত করো<ন ৷

বুখারী (র) বলেন, ইসহাক ইবন ৰিশর (র)আবদৃল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) আবদুল্লাহ
ইবন কাব ইবন মালিক আনসারী (রা)-কে খবর দিয়েছেন, কাব (বা) হলেন তাবুক অভিযান
অনুপস্থিতদের মাঝে সতবােদিতার কারনে তাওবা কবুলকৃত তিন ভাগ্যবান সাহাৰীর অন্যতম,
এ মর্মে যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) যে অসুস্থতার ইন্তিকাল করেছিলেন যে অসুস্থতার সময় আলী
ইবন আবু তালিব (রা) র্তার নিকট হতে বের হয়ে এলে লোকেরা তাকে বলল, হে আবুল
হাসান ! রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে (কমন দেখলেন? তিনি বললেন, আলহড়ামদু লিল্লাহ ! তিনি রোগ
যুক্তির পথেপ্ষ্ আজ সকাল থেকে সুস্থ বোধ করছেন ৷ তখন আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব
(বা) তার হাত ধরে তাকে বললেন, আল্লাহর কসম!, তিন দিন পরেই তুমি অন্যের লাঠির
গোলাম হবে ৷ ১ আল্লাহর কসম ! আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার
অসুস্থতার অচিরেই ইন্তিকাল করবেন ; মৃত্যুর আগে আবদুল মুত্তালিব গোত্রীয় লোকদের
ঢেহারার অবস্থা আমি ভাল করেই জানি ৷ ’ চলো, আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে গিয়ে র্তাকে
জিজ্ঞাসা করি, (তারপর) এ (নেতৃত্বের) বিষয়টি কাদের হাতে থাকবে ? যদি আমাদের মাঝে
থাকে তবে তা-ও আমরা জেনে নেবাে, আর যদি আমাদের ব্যতীত অন্যদের জন্য হয় তবে
তাও আমরা জেনে নবেড়া এবং তিনি আমাদের ব্যাপারে অসিয়ত করে যাবেন ৷ তখন আলী
(বা) বললেন, আল্লাহর কসম ! যদি আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে বিষয়টির জন্য আবেদন
করি ৷ আর তিনি তা আমাদের প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন তবে জর পরে লোকেরা আর
তা আমাদের দেবে না ৷ অতএব, আমি তো আল্লাহর কসম ! রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে ঐ
বিষয়টি চেয়ে নেবাে না ৷ এ হাদীস একাকী বুখড়ারী (র) বর্ণিত ৷

বুখারী (র) বলেন, কুতারবা (র) , সাঈদ ইবন জুবায়র (র) হতে, তিনি বলেন, ইবনঃ আববাস
(বা) বলেছেন, বৃহস্পতিবার ! সে কী ভয়াবহ বৃহস্পতিবার ! রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর অসুস্থতা প্রকট
রুপ ধারণ করলো ৷ তিনি বললেন, : “আমার কাছে (কাগজ
কলম) নিয়ে এসো, তোমাদের জন্য একটি লিপি লিখিয়ে দিয়ে যাই, যার পরে তোমরা কখনো

১ অর্থাৎ তিন দিনের ব্যবধ্যনেই নবী করীম (সা)এর ওফাত হবে, আর তোমাদের কোন কর্তৃতু নেতৃতু
থাকবে না :

পথহার৷ হবে না ৷ ” তখন তারা (উপস্থিত লোকজন) মতবিরোধ করল ৷ কেউ বলল, লিখিয়ে
নাও ৷ কেউ বলল, এ অসুস্থতার সময় কষ্ট দেয়ার প্রয়োজন নেই ! অ ৷ল্লাহ্র কিতাব আমাদের
জন্য যথেষ্ট হবে ৷ অথচ নবীর সাক্ষাতে কলহ বিরোধ লযীচীন নয় ৷ তার৷ (কেউ কেউ) বলল,
তার অবস্থা কি, তিনি (কি তার অসুস্থতার প্রচণ্ডতায়) আসংলগ্ন কথা বলছেন? আচ্ছা, তাকে
জিজ্ঞাসা করে নাও ৷ তখন তারা পুনরায় তীর কাছে জিজ্ঞাস্য করতে গেলে তিনি বললেন ৷
“আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও ৷ কেননা,
আমি যার মধ্যে রয়েছি তা তোমরা যে দিকে আমাকে আহ্বান করছ তার চাইতে উওম
এরপর তিনি তাদের তিনটি বিষয়ের

“(এক) আরব উপদ্বীপ হতে মুশারকওদর
উপচৌকনাদি দেবে ৷ যেমনটি আমি তাদের দিতাম এবং ( নৈ ) তৃত্তীয়টি বলার ব্যাপারে তিনি
নীরর৩ ৷ অবলম্বন করলেন ৷ কিৎব৷ তিনি তা বলো <ৰুলন তবে আনি তা ভুলে গিয়েছি’ ৷ বুখারী
(র) এ হাদীসটি তার গ্রন্থের অন্য একটি স্থানে এবং মুসলিম (র) ও সুফিয়ান ইবন উয়ায়না
(র) সুত্রে ঐ লনধে রি ওহ্ৰু ৷ র৷ ৩ কণ্,রহুছুন ৷ পরবর্তী বংনািয় বুখারী (র) বলেছেন, আলী ইবন
আবদুল্লাহ, ইবন আব্বাস (র) হাত, তিনি বলেন, বাসুলুল্লাহ্ (না)-এর ওফাত যখন লন্নিকট
হল মরে তখন অনেক ৷লাক ছিল তখন নবী করীম (সা) বললেন, “ এসো তোমাদের একটি লিপি লিখে দিয়ে যা ৷ই, যার পরে তোমরা কখনো
বিএা৷ওর শি৷ কার হয়ে না ৷ ” তখন উপস্থিতরুদর কেউ কেউ বলল, ব্যাধির প্ৰকােপ রাসুলুল্লাহ্
(সা) কে পরাভুত করে ফেলেছে, আর তোমাদের কাছে তো (দীনের পুর্ণতা প্ৰদও ) আল
কুরআন রয়েছে ; আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট ৷

এভাবে ঘরের লোকেরা মতভেদ করল এবং বিতণ্ডায় লিপ্ত হল ৷ তাদের কেউ বলছিল,
(তার) কাছে (কাগজ কলম) এগিয়ে দাও, তিনি তোমাদের জন্য একটি লিপি লিখিয়ে দিয়ে
যাবেন ৷ যার পরে তোমরা পথ হার৷ হবে না ৷ অন্য কেউ অন্য কিছু বলছিল ৷ যখন র্তারা
মতবিরােধের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এ খনি থেকে)
উঠে যাও ৷ ” রাৰী বলেন, এ পর্যায়ে ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, বিপদ ! মহা বিপদ ৷ !
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এবং উপস্থিত লে৷ করুদ র জ়ন৷ তার একটি পত্র লিখে দেয়ার মাঝে তাদের
ৰিরোধ্ ও বিতণ্ডা ৷র করণে যে প্ৰতিবন্ধকত৷ সৃষ্টি হল৩ তা চিরদিলের জন্য এক সমাধানবিহীন
সমস্যা হয়ে রয়েছে ৷ মুসলিম (র) হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন মুহাম্মদ ইবন রাফি ও
আবদুল্লাহ ইবন হুমায়দ৷ (র) (আবদুর রাঘৃযাক) হতে অনুরুপ ৷ বুখঃাবী (র) মামার ও ইউনুস
(র) সুত্রে ঐ সনদে হাদীসটি তার সহীহ্ গ্রন্থের আরো একাধিক স্থানে সন্নিবেশিত করেছেন ৷
শীঅ৷ তিলপন্থী ক৩ক হ্ল মেধার পণ্ডিত এ হাদীসের সুত্র ধরে কল্পনার
বিচরণ করতে শুরু করেছে ৷ ৩াপের প্ৰওোওকর দাবী হল নবী কয়ীম (ল) ঐ পত্রে এমন
একটি বিষয় লিখে দিতে চেয়েছিলেন যা তাদের ট্টরর তাদের
নিজেদের পসন্দ মাফিক তার৷ নবী করীম (সা) এর নামে সব

মুতাশাবিহ১ দিয়ে প্রামাণীকরণ এবং মুহকঘে’ বর্জনের প্রয়াস মাত্র
আহ্লে সুন্নাত ক্তামড়াঅর্ষভ ও গবেযকবর্ণ) মহকত্ত্বম’ কে
গ্রহণ করে করে থাকেন এবং

নামী দামী বা তল পন্থী ও বিভ্রান্ত
সত্য ও ন্যৰুয় পথেও অনুসরণ করা এবং
থাকা (

রাসুপুল্লাহ্ (সা) যা লিদ্যোয শের র ইচ্ছে তা তার
উদ্দেশ্যের স্পষ্ট অভিব্যক্তি সহ বিভিন্ন সহীহ্ হাদীলে প্রাঞ্জল ভাষায়
ইমাম আহমদ (র) বলেছেন, ঘুআস্মিল (র) (ইবন আবু যুলায়কা) আইশ্ (রা) হতে, তিনি
বলেন, “যখন সে অসুস্থতা দেখা দিল যাতে রপুিলুল্লাহ্ (সা)৫ক তুলে নেয়া হল তখন ৰু তিনি
বললেন,

আবু বকর ও তার ছেলে (আবদুর রহমান) কে আমার কাছে ডেকে আন যাতে কোন
লালসাকারী আবু বকরের বিষয়টিতে লালায়িত না হয় এবং কোন বাসনা পােষণকারী তাতে
বাসনা পােযন না করে ৷

“তারপর বললেন (আচ্ছা ঠিক আছে) আল্লাহ এবং
ঈমানদারগণ তা প্ৰচ্যাথ্যান করবেন ৷” দু’বাৱ
বললেন ) আইশা (ব ) বলেন (বাস্তবেও হল তাই) আল্লাহ তা রহিত করলেন এবং
ঈমানদারগণ ণ্ন্ তা প্ন্ত্যাখ্যান করলেন ৷ এ সুত্রে আহমদ (র) হাদীসটি একাকী বর্ণনা
করেছেন ন্ আহমদ (ব ) আরো বলেছেন, আবু ঘুআবিয়া (র) আইশা (রা) হতে, তিনি বলেন,
রড়াসুলুল্লাহ্ (না)-এর অসুস্থতা ভারী ও প্রকট হয়ে গোল তিনি আবদুর রহমান ইণ্হুন আবু বকর
(রা)-ফে বললেন

“ভ্রশদ্শ্র কাছে কোন হাড় বা (কাঠ, হড়ে বাপ্ শেথরের ) পাত নিয়ে আল, আমি আবু বকর
সম্পর্কে কএং ) ন্ল্লী ;ল লিখে দিয়ে যাব, যাতে তার সাথে কেউ বিবাে ধ করতে না আসে ৷ ”
তখন ত্ত্ববনুর রন্ মান উঠতে উদ্যত হলে নবী করীম (সা) বললেন, ( “আল্লাহ এবং ঈমানপারগণ এম্বীকার করবেন তোমার সাথে কোন
ব্যিরত্ত্বধে লিপ্ত হওয়াকে “হে আবু বকর !” এ সুত্রেও হাদীসটি একাকী ইমাম আহমদ (র)

১ কুরআন ও হাদীসে যে সব আয়াত ও বাণীমলা ড়ার অর্থ ও ভাষা দ্ব্যর্থত বিহীন ও সুস্পষ্ট প্রা ঞ্জল সেগুলিকে
কাম সুদৃঢ়তা সম্পন্ন) বলে আর দ্ব্যর্থতা সম্পন্ন ও সাদৃ ত্বদ্রপুর্ণ ভ
সাদৃশ্য পুর্ণ অস্পষ্ট ) ৷ শরীআতে তর উসুল ও মুলনীতি অনুসারে মুতাশাবীহএর আয়াত ও হাদীলের সে অংইি
গ্রহণযোগ্য যা সংশ্লিষ্ট বিষয় ঘুহকাম আয়াত ও হাদীস প্রতিপন্ন করে থাকে ৷ অনৃবাদক

বর্ণিত ৷ বুখারী (র) রিওয়ায়াত করেছে ইয়াহয়া ইবন ইয়াহ্য়া (ব) আইশা (বা) হতে, তিনি
বলেন, রড়াসুলুল্লাহ (সা) বললেন,
“আমি ইচ্ছা করছি যে, আবু বকর ও তীর ছেলের কাছে সংবাদ পাঠিয়ে অংপীকার ঘোষণা
করে যাব-এ আশংকায় যে, দাবীদাররা দাবী করে বলবে কিৎবা বাসনা পোষণকাবীবা বাসনা
করতে শুরু করবে ৷ পরে বললেন১
“আল্লাহ প্রত্যাখ্যান করবেন এবং মু’মিনগণ প্রতিরোধ করবেন ৷ কিৎবা নবী

কবীম (সা) বলেছিলেন, আল্লাহ্ প্রত্যিবাধ করবেন এবং মুমিনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন” (অর্থাৎ
আবু বকর ব্যতীত অন্য কারো ( তৃতৃ) ৷

সহীহ্ বুখারী ও মুসলিম শরীফে রয়েছে ইবরড়াহীম ইবন সাদ (র) মুহম্মেদ (ইবন জুবায়র
ইবন মুত্ইম)-এর পিতা (জুবায়র) (বা) হতে, তিনি বলেন, একটি মেয়েলোক রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর কাছে এসে (কোন কিছু পাওয়ার আবেদন জানিয়ে) ছিল ৷ নবী করীম (না) তাকে
আবার আসতে বললে সে বলল দেখুন (বলে দিন) হৃদি আমি এসে আপনাকে না পাই (সে
যেন নবী কবীম (সা)-এব ওফাত হয়ে যাওয়ার কথা বলতে চাচ্ছিল) তখন আমি কী করব?
নবী করীম (সা) বললেন, )র্ন্তআে,- “আমাকে না পেলে তুমি আবু বকরের
কাছে যাবে ৷” বাহ্যত (ময়েলোকটি নবী করীম (সা)কে এ কথা বলেছিল তার যে অসুস্থতার
সময় যাতে তিনি ওফাত বরণ করেছিলেন ৷ তবে আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷

এ ছাড়া নবী করীম (সা) তার ওফাতের পাচ দিন আগে বৃহস্পতিবার একটি অভীব
গুবুতুপুর্ণ ভাষণ দিয়েছিলেন যাতে তিনি সকল সাহাৰীর তুলনায় (আবু বকর) সিদ্দীক (রা)-এর
মড়াহাত্ম্য শ্রেষ্ঠতৃ ৰিবৃত করে দিয়েছিলেন ৷ সেই সাথে রয়েছে সকল সাহাৰীর উপস্থিতিতে
তাদের সকলের ইমামত করার ব্যাপারে নবী করীম (সা)-এর সুস্পষ্ট নিদের্শ ৷ বর্ণনা পরে
আসছে ৷ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি তার লিপিতে যা লিখে দেয়ার ইচ্ছা করেছিলেন, তার
এ ভাষণটি ছিল তারই বিকল্প ৷ এ মড়াহান অভিভড়াষণের আগে নবী করমী (সা) গোসল
করেছিলেন ৷ ঘরের লোকেরা এমন সাতটি মশক হতে তীর প’ায়ে পানি ঢাললেন, যেগুলোর
মুখের বাবন’ খোলা হয়নি ৷ এ বিষয়টি সাত’ সংখ্যা যােগে নিরাময় লাভ সম্পর্কিত ৷ অন্যত্র
এ বিষয় অনেক হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে ৷ মোট কথা, বাসুলুল্লাহ্ (সা) গোসল করার পরে বের
হয়ে এসে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন; তারপর তাদের সামনে ভাষণ দিলেন ৷
আইশা (বা) বর্ণিত পুভ্রুবল্লিখিত হাদীসে যেমন বলা হয়েছে ৷

১ বুখারী, খলীফা মনোনয়ন অনুচ্ছেদে ( ২য় খণ্ড ১০৭১ পৃ) রয়েছে “এরপর আমি মনে মনে)
বললাম অর্থাৎ নবী করীম (না) যখন আবু বকরকে ডাকার ইচ্ছা করেছিলেন তখনই তার মনে পরবর্তী
কথাটির উদয় হয়েছিল ; অনুবাদক

ওফাত পুর্বকালীন নবী করীম (সা) এর ভাষণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে

বায়হার্কী (র) বলেন, হাকিম (র) আয়ুব্রব ইবন বাশীর (রা ) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন

যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা ) তার (অন্তিম) অসুস্থতা কালে বললেন,

সাতটি ভিন্ন ভিন্ন কুয়েড়ার সাত মশক হতে আমার উপরে পানি ঢেলে দাও; যাতে আমি বের
হতে পারি এবং লোকদের অংপীকার নিতে ও উপদেশ দিতে পারি ৷” র্তার৷ তা পালন করলেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে এসে যিস্বরে উপদেশ ৷ন করলেন ৷ তখন অশ্নোহুর হ্ামৃদ ও তা র
ছানার পদুর নবী করীম (না) প্রথম যে বিষয়টি আলোচনা করলেন৩ তা ছিল উহুদের তিনি: ৷ ণ্শ্ র ওম্পো মাগফিরতে প্রার্থনা করলেন এবং তাদের জন্য দুআ করলেন ৷
তারপর তিন বলহ্বল্প,

“ মুহাজির জানন্মোতা ভোরো বৃদ্ধি শুংভৈর আর আনসায়ীর৷ তাদের ন্থিতাবস্থায়
রয়েছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে না ৷ ওরা আমার যে ( স্রক্ষি ) ৷ আমি অশ্রের গিয়েছি ৷৩ তাই
তাদের মধ্যকার সজ্জনদের সম্মান করবে এবং ররুন্যারকরািদের মার্জনা করবেঃ ৷ তারপর
রাসুলুল্লাহ্ (সা) র ন ণে ন , ণো ৷ ক সরম্পো আ র ৷ হু পা র্তার বান্দাদে র মাঝে এক বান্দাকে দুনিয়া
এবং আল্লাহর কাছে যা রয়েছে এ দৃয়ের মাঝে একটি বেছে নেয়ার ইখতিয়ড়ার দিলেন, সে
রল্দো আল্লাহর কাছে যা রয়েছে’ তাই ইখতিয়ার করল ৷ ” জনতার মাঝে আবু বকর রড়াযিয়াল্লাহু
আনহু এ কথার লাপলেন এবং রললেন,“বরং আমরা আমাদের
জীবন, আম্যাদর সতানশ্সম্ভতি ও সম্পদ-সম্পত্তি আপনার জন্য উৎসর্পিত করছি ৷ রাসুলুল্লাহ্
( সা) বললেন ,

ধীরে আবু বকর! (ব্যস্ত হয়াে না !)নসজিদ মুখী এ দরমাগুলাের দিকে লক্ষ্য কর !
এ গুলো বন্ধ করে দেবে আবু রকয়ের ঘর হতে যেটি রয়েছে সেটি বাদে ৷ কেননা সঙ্গী
হিসাবে আমার কাছেও তার চাইতে শ্রোঠ কাউকে আমি জানি না ৷ এ হাদীসটি মৃরসাল (সনদ
বিযুওও ) তবে এর অনেক শাইিদ (সমর্থক) রিওয়য়োত ৩রয়েছে ৷ ওয়াকিদী (র) বলেন তার ণ্ন্হ্ব
ইবন যুরড়ারদ নবী কবীর (সা) সহধর্মিনী উম্মু সালামা (রা) হতে বর্ণনা কারন বক্রু ন্ন

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.