রেজিস্টার

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

লগিন

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

নবী করীম (সা) এর হজ্জ র্কীরূপ ছিল ? ইফরাদ, তামাত্তু নাকি কিরান?

নবী করীম (সা) এর হজ্জ র্কীরূপ ছিল ? ইফরাদ, তামাত্তু নাকি কিরান?

হতজ্জর সাথে কিৎবা আগে বা পরে একেবারেই উমর৷ না করা বুঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে কোন
আলিম এহেন মত পোষণ করেছেন বলে আমার জানা নেই ৷ তা ছাড়া এ দাবী তখন আইশা
(রা) প্রমুখ হতে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত রিওয়ায়াত নবী করীম (সা) চারবার উমরা
করেছিলেন, বিদায় হদুজ্জর সাথে আদায়কৃত উমরাটি ব্যতীত যার প্রতিটি ছিল যিলকদ
মাসে ৷ ’-এর সাথে সরাসরি বিরােধপুর্ণ হবে (কিরান শীর্ষক অনুচ্ছেদে এ বিষয়ের বিশদ বর্ণনা
দেয়া হবে) ৷ আল্লাহই সমধিক অবগত ৷

অনুরুপ ইমাম আহমদ (র)-এর মুসনাদে বর্ণিত, তার আর একটি রিওয়ায়াত রাওহ (র)
নবী করীম (সা) এর সহধর্গিনীন্ আইশা (রা) সুত্রে বলেছেন, বিদায় হরুজ্জ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হজ্জ
ও উমরার (সমন্বিত) ইহরাম বীধলেন এবং সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) নিলেন; তীর সন্সের
কিছু লোক (শুধু) উমরার ইহরাম বাধলেন এবং হাদী সাথে নিলেন এবং অন্য কিছু লোক
উমরার ইহরাম বাধলেন, তবে তারা কো ন ৷হাদী সাথে নিলেন না ৷ আ ৷ইশা (রা) বলেন, আমি
ছিলাম সে দলে যারা উমরার ইহরাম বাধলেন, তবে আ ৷মি হাদী সাথে নিলাম না ৷ রাসুলুল্লাহ্
যখন মক্কায় উপনীত হলেন তখন বললেন-

“ তোমাদের মাঝে যারা উমরার ইহরাম বেধেছে এবং সাথে হাদী নিয়ে এসেছে তারা যেন
বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করে এবং সাফা-মারওয়ায় সাঈ করে, আর তাদের হজ্জ সমাধ৷ না করা
এবং দশ তারিখে তাদের হাদী কুরবানী না করা পর্যন্ত তাদের জন্য যা হারাম হয়েছিল তার
কিছুই হালাল হবে না ৷ আর তোমাদের মাঝে যার৷ উমরার ইহরাম বেধেছে তবে সাথে হাদী
নিয়ে আসে নি, তারা যেন বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করে এবং সাফা মারওয়ায় সাঈ করে,
তারপর চুল ভুাটে ও হালাল হয়ে যায় ৷ পরে যেন (যথাসময়) হত্তজ্জর ইহরাম করে এবং
হাদী কুরবানী করে; অবশ্য যারা তাতে সমর্থ না হয়ে তাদের জন্য হস্কজ্জর দিনগুল্যেতে
তিনটি এবং যখন বা ৷ড়িতে ফিরে যাবে তখন সাতটি (মো ৷ট দশটি) রােয৷ ৷ আ ৷ইশা (রা)
বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন হজ্জ যা ছুটে যাওয়ার আশং কা করছিলেন, আগে সমাধা
করলেন, পরে উমরা করলেন ৷ এ হাদীসটিও ইমাম আহমদ (র) এর একক বর্ণনা ৷ এর
কতক শব্দ অপরিচিতি দুষ্ট; তবে কতকের আবার বিশুদ্ধ বর্ণনার সমর্থক’ (শাহিদ)
রয়েছে৷ ৷ত৷ ছাড়া (সনদের দ্বিতীয়) রাৰী সালিহ ইবনুল আখযার (তার শায়খ ইব ন শি ৷হাব)
যুহরী (র) এর সেরা ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বিশেষত যখন অন্যান্য রা ৷বী তার প্রতিকুল
বিবরণ দেয় ৷ যেমন এ ক্ষেত্রে তার বর্ণিত কতক শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৷ তদুপরি হজ্জ যা
ছুটে যাওয়ার আশং কা করছিলেন, আগে আদায় করলেন এবং উমর৷ পিছিয়ে দিলেন ৷
উক্তিটি এ হাদীসের প্রথমাং শের হজ্জ ও উমরার (সমন্বিত) ইহরাম করলেন’ এর সাথে
সঙ্গভিপুর্ণ নয় ৷ কেননা, এ কথার উদ্দেশ্য যদি এমন হয় যে, যে ৷টামুটিভাবে হজ্জ ও উমরা
উভয়ের ইহরাম (অর্থাৎ নিয়াত) করেছিলেন এবং হরুজ্জর কার্যক্রম আগে সম্পন্ন করেন এবং

তা সম্পন্ন করার পরে উমরার ইহরাম করলেন ৷ যেমনপ্শ্ ইফরাদের অভিমত পােবণকারিগণ
বলে থাকেন,তবে সেটাই তো আমাদের প্রতিপাদ্য ৷ আর যদি এমন উদ্দেশ্য হয় যে, আগে
থেকেই উমরার ইহরাম করা সত্বেও তার কার্যক্রম পুরোপুরি পিছিয়ে দিয়েছেন তবে,
আলিমগণের মাঝে এহেন অভিমত পােবণকারী এমন কেউ আছেন বলে আমার জানা নেই ৷
আর যদি এ কথার উদ্দেশ্য এমন হয় যে, হয়ুজ্জর কার্যক্রম আদায়ের উমরার কার্যক্রম আদায়
হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ উমরাটি হরুজ্জ্বর মাঝে অনুপ্রবিষ্ট’ হয়ে গিয়েছে (বিধায় উমরার জন্য
স্বতন্ত্র তাওরাফ ইত্যাদি কার্যক্রম প্রয়োজনীয় নয়) ৷ তবে, তা তো তাদের বক্তব্য যারা (নবী
করীম (সা) এর হজ্জ) কিরান ধরনের হওয়ার অভিমত পােবণ করেছেন ৷ তবে এ অভিমত
পােবণকারিগণ সে সব হাদীস যাতে এরুপ বর্ণনা রয়েছে যে, নবী কবীম (সরু) ইফরাদ (অর্থাৎ
স্বতন্ত্র ) হজ্জ করেছিলেন এ গুলোর ব্যাখ্যা এভাবে দিয়ে থাকেন যে, তিনি হরুজ্জর জন্যই
(শুধু) স্বতন্ত্র আমল ও কার্যক্রম সমাধা করেছিলেন, যদিও হত্তজ্জর সাথে উমরারও নিয়ত
করেছিলেন (যেহেতু উমরা হসুজ্জর মাঝে অনুপ্রৰিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলে) ৷ তাদের এ ব্যাখ্যার
পিছনে যুক্তি হল এই যে, (র্তীরা বলেন) যে সব বর্ণনাকারী কিরান’ হজ্জ হওয়ার রিওয়ায়ড়াত
করেছেন, র্তীরাই সকলে ইফরাদ হজ্জ হওয়ারও রিওয়ায়াত করেছেন ৷ বর্ণনা সামনে আসছে
অর্থাৎ র্তীদের দৃষ্টিতে কিরান ও ইফরাদ মুলত অভিন্ন বিষয় ৷ নিয়তের বিচারে কিরান এবং
কার্যক্রমের বিচারে তাই ইফরাদ ৷ আল্লাহ্ই সম্যক অবগত ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু ঘুআবিয়া (র) জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) হতে, তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সৰু) তীর হৰুজ্জ শুধু হভ্রুজ্জর ইহরাম করেছিলেন ৷ এ হাদীসের সনদ মুসলিম,
(র)-এব শর্তানুরুপ উত্তম ৷ বায়হাকী (র) এ হাদীস রিওয়ায়ড়াত করেছেন হাকিম (র)
প্রযুখজাবির (রা) থেকে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) তীর হব্জ্জ (শুধু) হরুজ্জর ইহরাম
করলেন, যার সাথে উমরা ছিল না ৷ এ শেষের বর্ধিত অংশটুকু একান্ত বিরল ধরনের এবং
আহমদ ইবন হাবল (র) এর রিওরায়াত অধিক বিশুদ্ধ ৷ আল্লাহ্ই সমধিক অবগত ৷ সহীহ্
মুসলিমে জাফর ইবন মুহাম্মদ (র) জাৰির (রা) সুত্রে তিনি বলেন, আমরা হভ্রুজ্জর ইহরাম
বীধলড়াম, আমরা হভৈপুজ্জর সময় উমরাও যে করা যায় তা জানতাম না ৷ ইবন মজ্যে রিওয়ায়ড়াত
করেছেন, হিশাম ইবন অস্ফোর (র) জাৰির (রা) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সৰু)
ইফরাদ হজ্জ করেছেন ৷ এটি একটি উত্তম’ সনদ ৷ ইমাম আহমদ (র) আরো বলেছেন, আবদুল
ওয়াহ্হড়াব আছ-ছাকাফী (র) জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সরু) নিজে এবং তার সাহাবীগণ হত্তজ্জর ইহরাম র্যড়াধলেন; নবী কবীম (সরু) এবং
তালহা (রা) ব্যতীত র্তাদের কারো সাথে হাদী ছিল না (এরপর হাদীসটি আনুপুর্বিক উল্লেখ
করেছেন) ৷ এ দীর্ঘ হাদীস বুখায়ী (র)এর সহীহ্ গ্রন্থে রয়েছে যা পরে আসবে ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, ইসমাঈল ইবন ঘৃহাম্মদ (র) ইবন্ উমর (রা)-এর বরাতে
বলেন, আমরা নবী করীম (সা) এর সাথে ইফরাদ হয়ুজ্জর ইহরাম র্যড়াবলাম ৷ মুসলিম (র)
তার সহীহ্ গ্রন্থে এ হাদীসখানড়া ভিন্ন সনদে রিওয়ায়ড়াত করেছেন ৷

হাফিজ আবু বকর আলবাবযড়ার (র) বলেছেন, হাসান ইবন আবদুল আষীয ও মুহাম্মদ
ইবন যিসকীন (র) ইবন উমর (রা) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সন্ব) হয়ুজ্জর

অর্থাৎ ইকরাদ ইহরড়াম করলেন ৷ এ হাদীসের সনদ বেশ উত্তম ৷ তবে ছয় গ্রন্থকড়ারপণ তা
আহরণ করেন নি ৷

হাফিজ বায়হাকী (র) রিওয়ায়াত করেছেন, রাওহ্ ইবন উবড়াদা (র) ইবন আব্বাস (রা)
সুত্রে তিনি বলেছেন, রড়াসুলুল্লাহ্ (না) শুধু হভ্রুজ্জর ইহরাম বাধলেন ৷ যিলহয়ুজ্জর চারদিন
অতিক্রাম্ভ হলে তিনি মক্কায় পৌছলেন এবং আমাদের নিয়ে বার্তৃহড়ায়’ (ৰায়তুল্লাহ্র কাছে
কৎকরময় ভুমিতে) ফজরের সালাত আদায় করলেন ৷ তারপর বললেন ৰু৬ৰুপ্রু () এে (,এে
শ্শ্লে ট)এং “যে এটিকে উমরা বানাতে চার যে তা করতে পারে ৷ ” পরে তিনি (বায়হড়াকী)
বলেছেন যে, মুসলিম (র) ও এ হাদীসখানা রিওয়ায়ড়াত করেছেন ৷ আর ইবন আব্বাস (বা)
হতে কাতাদা (র) এর এ রিওয়ায়াত পুর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) যুল হুলায়ফায়
যুহরের সড়ালড়াত আদায় করলেন, পরে তার হাদীর উট নিয়ে আসা হলে সেটির কুজের ডান
পাশে যখম করলেন ৷ পরে তার বাহন নিয়ে আসা হলে তাতে আরোহণ করলেন ৷ তারপর
বাহন তাকে নিয়ে প্রাতরে স্থির হয়ে র্দাড়ালে তিনি হব্লুজ্জর ইহরাম বীবলেন ৷ সহীহ্ যুসলিমে এ
রিওয়ড়ায়াত রয়েছে ৷

হাফিজ আবুল হাসান দারড়া কুতনী’ (র) বলেছেন, হুসায়ন ইবন ইসমাঈল (র)
আসওয়াদ (র) সুত্রে তিনি বলেন, আমি আবু বকর (রা)-এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনি শুধু
হজ্জ করেছেন; উমর (রা)-এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনিও শুধু হজ্জ করেছেন এবং উছমান
(রা)-এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনিও শুধু হজ্জ করেছেন ৷ ’ ছাওবী (র) আবু হুসড়ায়ন (র) সুত্রে
এ হাদীসের অনুপড়ামী (ভাবি) হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ এখানে (খলীফাপণের আমলের) এ
বিষয়টি উল্লেখ করার যুক্তি এই যে, বড়াহ্যত ইসলামের এ পুরােধা ব্যক্তিবর্গ (রা) এ আমল
তাওফীকী (অর্থাৎ শরীআত প্রবর্তক নবী করীম (সা) এর অনুসরণের) পদ্ধতিতেই করে
থাকবেন ৷ এ বনািয় শুধু হজ্জ বলতে ইফরাদ হজ্জ বুঝানো হয়েছে ৷ দড়ারা কুতনী (র) আরো
বলেছেন, আবু উবায়দুল্লাহ্ কাসিম ইবন ইসমাঈল ও মুহাম্মদ ইবন মাখলাদ (র) ইবন উমর
(রা) সুত্রে এ মর্মে বর্ণনা করেন যে, নবী কৰীম (সা) আত্তাব ইবন আসীদ (র) কে হরুজ্জর
আমীর নিয়োগ করলেন, তিনি ইফরাদ হজ্জ করলেন ৷

তারপর নবম হিজরীতে আবু বকর (রা)£ক আষীরুল হজ্জ নিয়োগ করলেন, তিনিও
ইফরাদ হজ্জ করলেন ৷ তারপর দশম হিজরীতে নবী করীম (সা) (নিজে) হজ্জ করলেন ৷
তিনিও ইফরড়াদ হজ্জ করলেন ৷ তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর ওফাত হয়ে গেল এবং আবু বকর
(বা) খলীফা মনোনীত হলেন ৷ তিনি উমর (রা)-কে আমীকল হজ্জরুপে পাঠালেন ৷ তিনিও
ইফরাদ হজ্জ করলেন ৷ তারপর আবু বকর (বা) (নিজে) হজ্জ করতে ৷:পলেন ৷ তিনিও ইফরড়াদ
হজ্জ করলেন ৷ তারপর আবু বকর (রা) এর ওফাত হল এবং উমর (রা) খলীফা মনোনীত
হলেন; তিনি আবদুর রহমান ইবন আওক (রা)-ক্লে হরুজ্জ পাঠালেন, তিনিও ইফরড়াদ হজ্জ
করলেন ৷

তারপর তিনি নিজে হজ্জ করলেন এবং ইফরাদ হজ্জ করলেন ৷ তারপর উছমড়ান (রা)
অবরুদ্ধ হলে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রন্ব)-ভ্রুক জনতার জন্য প্রতিনিধি বানড়ালেন ৷ তিনিও
ইফরড়াদ হজ্জ করলেন ৷ এ সনদে অন্যতম রাৰী রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন উমর আল-উময়ী

(র) ৷ যিনি দুর্বল ৷ তবে হাফিজ বায়হাকী (র) বলেছেন যে, বিশুদ্ধ সনদে এ হাদীসের সমর্থক
(শাহিদ) রিওয়ায়াত রয়েছে ৷

নবী করীম (না) আশা ত্তু হজ্জ পালন করেছিলেন বলে অভিমত

পোষণকা ৷রিগণের প্রসঙ্গ

ইমাম আহমদ (র) বলেন, হাজ্জাজ (র) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) সুত্রে বলেন, বিদায়
হৰ্জ্জ রাসুলুল্পাহ্ (সা) হকজ্জর সাথে উমর৷ মিলিয়ে তামাত্তু করেছিলেন ৷ তিনি যুলহুলায়ফায়
ইহরাম বেধে হাদী সঙ্গে নিলেন ৷ রাসুলুল্পাহ (সা) সুচনায় উমরার ইহরাম করলেন, তারপর
হরুজ্জর ইহরাম র্বীধলেন ৷ লোকদের মাঝে কিছু এমন ছিলেন যারা হাদী সাথে নিয়েছিলেন,
তারা যুলহুলায়ফা হতে হাদী সঙ্গে নিলেন এবং তাদের মাঝে এমন কিছু ছিলেন যারা হাদী
সাথে নিলেন না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় পৌছলে লোকদের বললেন, “তোমাদের মাঝে যারা
হাদী নিয়ে এসেছে তারা হজ্জ সম্পাদন না করা পর্যন্ত তাদের জন্য যা হারাম হয়েছিল তার
কিছুই হালাল হবে না ৷ আর যারা হাদী নিয়ে আসে নি, তারা যেন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে ও
সাফা মারওয়৷ সাঈ করে এবং চুল ছেটে হালাল হয়ে যায়; তারপর (যথাসময়) হজ্জ করে
(তড়ামড়াডু হভ্রুজ্জর) দম’ কুরবানী করে ৷ দম’ কুরবানী করতে যারা সমর্থ না হয়ে তারা যেন
(হহুজ্জর দিনণ্ডলােতে) তিন দিন এবং যখন বাড়িতে ফিরে যাবে তখন সাত দিন সিয়াম পালন
করে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফ করলেন ৷ প্রথমত হাজ়য়ে আসওয়াদ চুম্বন
করলেন৷ ,
তারপর সাত চক্করের তিনটিতে দ্রুতগতিতে এবং হোলদুলে (বমল করে) চললেন এবং
চার চক্করে স্বাভাবিকভাবে ইাটলেন ৷ বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ শেষ করে মাকামে ইবরাহীমে
দু’রাকআত নামায আদায় করলেন এবং সালাম ফিরিয়ে সাফায় পৌছে সাফা-মারওয়ায় সাঈ
করলেন ৷ তারপর যা কিছু হারাম হয়েছিল তার কিছুই তীর জন্য হালাল হল না যতক্ষণ না
তিনি তার হজ্জ সম্পাদন করলেন এবং দশ তারিখে তীর হাদী কুরবানী করলেন এবং
আরাফাত-মুযদড়ালিফা হতে চলে এসে রায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ (তাওয়াফে যিয়ারত বা ইফায়া)
করলেন ৷ লোকদের মাঝে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন, জরাও রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর
আমলের অনুরুপ আমল করলেন ৷

ইমাম আহমদ (র) আরো বলেছেন, হাজ্জ ৷জ (র) উরওয়৷ ইবনুম যুরায়র (র) থেকে এ ময়ে
বর্ণনা করেন যে, আ ৷ইশা (রা) তাকে র ৷সুলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে হরুজ্জর সাথে উমরা মিলিয়ে
তামাত্তু’ করার এবং র্তার সাথে অন্য লোকদের তামা ত্তু করার কথা অবগত করেছেন ৷ যেমন
সালিম ইবন আব,দুল্লাহ্ (র) আবদুল্লাহ (ইবন উমর) সুত্রে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে আমাকে
(উরওয়াকে) অবগত করেছেন ৷ বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ (র) ও নাসাঈ (র)ও
(সকলে) এ হাদীস উরওয়া আইশা (বা) সুত্রে ইমাম আহমদ (রা)এর বর্ণনার অনুরুপ
রিওয়ায়াত করেছেন ৷ নবী করীম (না)-এর হল্কজ্জর প্ৰকরণ সম্পর্কিত তিনটি অভিমতের
-প্ৰতিটির প্রেক্ষিতেই হাদীসটি জটিল ৷ ইফরাদ অভিমত পােষণক৷ রীদের জন্য জটিল এ কারণে
যে, এতে উমরার কথা রয়েছে হভুজ্জর পুর্বে কিৎব৷ তার সাথেই (অর্থাৎ পরে নয়) ৷ আর বিশেষ

ধরনের তামাত্তু১-এর অভিমত পােষণকড়ারীদের জানা জটিল এ কারা;ণ যে, এখানে উল্লেখ করা
হয়েছে যে, তিনি (সা) সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার পরেও তীর ইহরাম হতে হালাল হন নি ৷
অথচ এটা তামাত্তু হজ্জ পালনকারীর অবস্থা নয় ৷ তবে এ ক্ষেত্রে যারা এ দাবী করেছেন যে,
(বিশেষ তামাতু হওয়া সত্বেও) সাথে হাদী নিয়ে যাওয়া তার হালাল হওয়ার ব্যাপারে অম্ভরায়
সৃষ্টি করেছিল যা হযরত হাফসা (বা) হতে (ইবন উমর রা ) সুত্রে হাদীসের মর্ম; যাতে তিনি
বলেছিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! ব্যাপারটি কী, লোকেরা তাদের উমরা হতে হালাল হয়ে গেল,
আপনি আপনার উমরা হতে হালাল হলেন না ? তখন তিনি বলেছিলেন, আমি আমার মাথায়
আঠাল দ্রব্য জড়িরেছি এবং আমার হাদীকে মল্দো’ পরিয়েছি; অতএব, কুরবানী না করা পত্তি
আমি হড়ালাল হচ্ছি না ৷ এ বক্তব্যও যুক্তিসিদ্ধ নয় ৷ কেননা, কিরান’ সম্পর্কিত হাদীসসমুহ এ
বক্তব্য নাকচ করে দেয় এবং তা নবী করীম (সা) প্রথম উমরার ইহরাম করেছিলেন, পরে
সাফা-মড়ারওয়ড়ায় সাঈর পরে পুনরায় হব্পুজ্জর ইহরাম বেধেছিলেন ৷ এ বর্ণনাকেও নাকচ করে
দেয় ৷ কেননা, বিশুদ্ধ সনদে, বরং উত্তম (হাসান) সনদে, এমনকি দুর্বল সনদেও কোন
বর্ণনাকারী এক্ষেত্রে এ ধরনের ইহরাম, উমরা ও হরুজ্জর কথা উদ্ধৃত করেন নি ৷

তাছাড়া উল্লিখিত হাদীসে বিদায় হরুজ্জ্ব রাসুলুল্লাহ্ (সা) হল্কজ্জর সাথে উমরা মিলিয়ে
তামাত্তু করেছিলেন এ উক্তির উদ্দেশ্য যদি ৰিণেষ তামাক্কু’ হয়; যাতে সাঈর পরে হালাল
হওয়া যায়; তা হলে ; তা গ্রহণযোগ্য নয় ৷ ৰুণ্ কেননা, হাদীসের পুর্বাপর , বর্ণনা এ ব্যাখ্যা
অস্বীকার করে ৷ তদুপরি রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর হরুজ্জর সাথে উমরা মিলানাের প্রমাণ্যতাও এ
দাবীকে প্রত্যাখ্যান করে ৷ আর যদি এ তামাভু দ্বারা ব্যাপক অর্থের (আভিধানিক) তামাতু
উপকার ও সুযোগ লাভ বুঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে তাতে তে ৷ বক্ষমান আলোচ্য বিষয়ের
উদ্দেশ্য কিরানও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে ৷

, পরবর্তী উক্তি, রড়াসক্ট্র-বুল্যুহ্ (না) প্রথমে উমর র ইহরাম বাধলেন, পরে হরুজ্জর ইহরাম
বাধলেন ৷ এ উক্তির উদ্দেশ্য যদি এ কথা বুঝা নো হয় যে, প্রথমে উযরা’ শব্দ এবং তার পরে
হজ্জ’ শব্দ উচ্চারণ করে এভাবে বলেছেন যে, ইয়া আল্লাহ! উমরা ও
হরুজ্জ্বর উদ্দেশ্য আপনার সকাশে হাযির হচ্ছি! তবে এ ব্যাখ্যা সহজ এবং তা কিরান-এর
প্রতিকুল নয় ৷ আর যদি এ কথা বুঝানো উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি প্রথমে উমরার ইহরাম
করেছেন, তারপর বিলস্বে তার সাথে হজ্জকেও শামিল করেছেন তবে তাওয়াফ শুরু করার
আগে; তবে সে ক্ষেত্রেও কিরান’ সাব্যস্ত হবে৷ আর যদি উদ্দেশ্য এমন হয় যে, প্রথমে তিনি
উমরার ইহরাম বেধে তার কার্যক্রম সমাধা করেছেন ৷ তারপর হালাল হয়েছেন কিংবা হাদী
নিয়ে আসার কারণে হড়ালাল হতে পারেন নি (যেমন কেউ কেউ দাবী করেছেন) ৷ এভাবে

১ তামাভু দৃপ্রকার; বিশেষত তামাত্তু অর্থাৎ বিশেষ অর্থে তথা পারিভাষিক অর্থে তামাত্তু যাতে প্রথমে
উমরার ইহরাম করা হয় এবং বায়তুল্লাহ্ তাওয়ষ্কে ও সাফা-যারওয়ায় সৌড়াবার পরে মুহরিম হালাল হয়ে যায় ৷
পরে হহ্বজ্জয় তার আগে (৭ তারিখে) মক্কায় হরুজ্জর ইহরাম করে হজ্জ সম্পাদন করা হয় ৷ আর একটি তামাভু
ব্যাপক অর্থে অর্থাৎ আভিধানিক (একই সফরে একাধিক আমলের) উপকার ও সুযোগ লাভ ৷ এ তামাতু মুলত
কিরান (এক সাথে হজ্জ ও উমরার নিয়তে করে প্রথমে উমরা পালন করে হালাল না হয়ে যথাসময় হজ্জ পালন
করা) এর সমর্থক ৷ আলোচ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থের তামাভু হতে পারে না ৷ যেহেতু ন্

Related Posts

Leave a comment

You must login to add a new comment.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.