ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া সমূহ
একজন ব্যক্তি রোযা অবস্থায় ভুলবশত পানি পান করেছিল। এরপর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পানাহার করেছে। জানার বিষয় হল, এখন তাকে কী করতে হবে?
রোজা-ইতিকাফ
রোযা রেখে ভুলবশত (অর্থাৎ রোযার কথা স্মরণ না থাকায়) পানাহার করলে রোযা ভঙ্গ হয় না। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ভুলে...
আমার একটি দাঁত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার দাঁতে ক্যাপ ব্যবহার করতে বলেন। আমার জিজ্ঞাসা হল, আমি দাঁতে সোনার ক্যাপ ব্যবহার করতে পারব কি না?
চিকিৎসা
হ্যাঁ, দাঁত নষ্ট হয়ে গেলে দাঁতে স্বর্ণের ক্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। এটি নাজায়েয নয়। -মাজমাউয যাওয়ায়েদ হাদীস : ৮৭১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫১;বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩১৬; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৮৬৷ মুফতী মেরাজ তা...
যদি কোনো ব্যক্তি ফরয গোসলে নাকের ভেতরে পানি প্রবেশ না করিয়ে শুধু আঙ্গুল ভিজিয়ে নাকের ভিতরটা তিনবার ভিজিয়ে নেয় তাহলে তার গোসল হবে কি না? এবং নাকের ভিতরে পানি প্রবেশ করানো ও তা পরিষ্কার করার পদ্ধতি কি?
বিবিধ
ফরয গোসলে নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরয। শুধু আঙ্গুল দ্বারা নাকের ভিতরটা ভিজিয়ে নেয়া যথেষ্ট নয়। এর দ্বারা নাকে পানি পৌঁছানোর ফরয আদায় হবে না। আর নাকে প্রথমে পানি পৌঁছাবে। এরপর বাম হাতে...
আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআন মজীদে বলেছেন- واعبد ربك حتى يأتيك اليقين. উক্ত আয়াতে ‘আলইয়াকীন’ শব্দের অর্থ কী? কেউ কেউ এই শব্দের অর্থ মারেফত দ্বারা করে তদানুযায়ী আয়াতের ব্যাখ্যা করে থাকে। তাই হযরত মুফতী সাহেবের নিকট নিবেদন যে, নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থের আলোকে আয়াতের অর্থসহ সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।
আদব-ব্যবহার
আয়াতের অর্থ : আপনি মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনার প্রতিপালকের ইবাদত করুন।-সূরা হিজর : ৯৯ আয়াতের ‘আলইয়াকীন’ বলে মৃত্যুকেই বোঝানো হয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কিত কিছু দলিল পেশ করা হল : واعبد ربك حتى يأتيك اليق...
লোকমুখ শুনেছি, মুসা আ. আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার জন্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেননি। এ কথা ঠিক কি না জানালে খুশি হব।
বিবিধ
প্রশ্নোক্ত কথাটির যথেষ্ট জনশ্রুতি থাকলেও তা সঠিক নয়। বিখ্যাত হাদীস শাস্ত্রজ্ঞ হাফেয যাহাবী রাহ.সহ একাধিক হাদীস বিশারদ এ সংক্রান্ত বর্ণনাটিকে জাল আখ্যা দিয়েছেন। -মীযানুল ইতিদাল ২/১৫২; লিসানুল মীযান...
অনেক সময় জানাযায় নামাযে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার কারণে এক বা একাধিক তাকবীর ছুটে যায়। এ অবস্থায় ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হওয়ার পর দুআ পড়ার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে যাই। শুরু থেকে পড়ব নাকি ইমামের অনুসরণ করব? কখনো কখনো ইমাম কোন তাকবীরে রয়েছে জানা যায় না। মেহেরবানি করে সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে বাধিত করবেন।
আদব-ব্যবহার
জানাযার নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পর কেউ জামাতে শরিক হলে নিয়ম হল, ইমাম সাহেব সর্বশেষ যে তাকবীর বলেছেন নবাগত ব্যক্তি ঐ সময়ের দুআই পড়বে। আর ইমাম কোন তাকবীর বলেছেন তা জানা না গেলে সানা থেকে শুরু করে ধা...
হযরত ফাতেমা রা.-এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু যর গিফারী রা. ফাতেমা রা.-এর কবরে নেমে বললেন, হে কবর! তুমি কি জান, আজ তোমার মাঝে কাকে রাখা হবে? তিনি হলেন খাতুনে জান্নাত, হাসান-হুসাইনের মা, নবীজীর কলিজার টুকরা। তিনি তিন বার এ কথাগুলো বললেন। পরে কবর আওয়াজ দিল, আমি এগুলো কিছুই চিনি না। আমল যদি ভালো হয় তাহলে আমি তার জন্য প্রশস্ত হয়ে যাব। আর আমল যদি খারাপ হয় তাহলে তাকে এমনভাবে চাপ দিব ...। এই ধরনের কোনো রেওয়ায়েত সহীহ কি না এবং তা কোথায় পাওয়া যাবে?
বিবিধ
রেওয়ায়েত সম্বন্ধে মাসিক আলকাউসার, মার্চ ২০০৭ ঈ. সংখ্যায় প্রচলিত ভুল বিভাগে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার সারসংক্ষেপ হল, এটি একটি ভিত্তিহীন কেচ্ছা। বাস্তবতার সাথে এর দূরবর্তী সম্পর্কও নেই। আমাদের জানামতে...
জনৈক ব্যক্তি একজন হিন্দু নারীকে বিয়ে করেছে এবং এখনো তারা বিবাহ বন্ধনে রয়েছে। এ অবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে সে কাফির না ফাসিক?
আদব-ব্যবহার
কোনো মুসলমানের জন্য কোনো হিন্দু নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়। কেউ বিবাহ করলৈও তা কার্যকর হবে না। শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের একত্রে বসবাস করা ব্যভিচার হিসাবে গণ্য হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন ‘‘মুশ...
ফাতেমা ও সামিয়া আপন বোন। ফাতেমা আমার দুধ বোন। সে আমার মায়ের দুধ পান করেছে। সামিয়ার সাথে আমার বিয়ের কথা হচ্ছে। আমি জানতে চাই, সামিয়ার সাথে আমার বিয়ে সহীহ হবে কি না?
বিবিধ
হ্যাঁ, সামিয়ার সাথে আপনার বিয়ে সহীহ হবে। কারণ তার সাথে আপনার আত্মীয়তার বা দুধের কোনো সম্পর্ক নেই। দুধের সম্পর্ক তার বোন ফাতেমার সাথে সামিয়ার সাথে নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০; রদ্দুল মুহতার ৩/২১...
গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার বাম হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত ক্ষত হয়। ডাক্তার ক্ষত অংশটুকুসহ আরো কিছু অংশ ব্যান্ডেজ করে দেন। কনুই পর্যন্ত বাকি অংশ খোলা আছে। অযুর সময় ব্যান্ডেজটি খুলে ক্ষত স্থানের আশপাশ ধৌত করাও বেশ কষ্টকর। অযুর সময় আমার করণীয় কী?
চিকিৎসা
এধরনের ক্ষেত্রে অযু-গোসলের নিয়ম হল, ব্যান্ডেজকৃত অংশের উপর মাসেহ করা। অর্থাৎ ভেজা হাত দিয়ে পুরো ব্যান্ডেজের উপর মুছে দেওয়া। ভালো অংশের ব্যান্ডেজের উপরও মাসেহ করবে। তা খোলার প্রয়োজন নেই। আর ঐ হাতে...
পৃষ্ঠা 1 / 266
পরবর্তী ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন
আপনার ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের ফর্ম পূরণ করুন।